যে কৌশলে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাংকের টাকা হাতিয়ে নিতো ওরা

0
374

‘হ্যালো স্যার পার্টি’। একটি ভয়ঙ্কর চক্র। প্রতারণার পদ্ধতি অভিনব। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যে লুটে নেয় ব্যাংকে সংরক্ষিত টাকা। এভাবে অল্প দিনে শত শত মানুষের সর্বস্ব লুটে নিয়েছে এই চক্র। চক্রটি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে আছে। ইতিমধ্যে এই চক্রের ফাঁদে পড়ে পথে বসেছেন অনেকেই। কেউ কেউ সহযোগিতা নিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে চক্রের সদস্যরা। তাদের প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৌশলের সঙ্গে সফল হতে পারছিল না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর চক্রের হোতাসহ কয়েক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জিজ্ঞাসাবাদে দিয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিদিনই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা লুটে নিতো তারা।

নিঃস্ব হতেন প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা। গত এক বছরে চার শতাধিক মানুষ এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সমির রঞ্জন বৈদ্য। তিনি রাজধানীর পশ্চিম ধানমণ্ডির নিরিবিলি হাউজিং সংলগ্ন শঙ্কর এলাকার বাসিন্দা। চাকরি করেন একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে। ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ১০ই অক্টোবরে। হঠাৎ সমিরের মোবাইলফোনে কল। ‘হ্যালো স্যার, আমি রাশেদ ডাচ্‌বাংলা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার থেকে বলছি…।’ তারপর লাইনটি কেটে যায়। নম্বরটি চেক করেন সমির রঞ্জন বৈদ্য। হ্যাঁ, নম্বর ঠিকই আছে। এই নম্বর থেকেই ব্যাংকের বিভিন্ন ক্ষুদেবার্তা আসে তার ফোনে। ভাবতে ভাবতেই আবার কল আসে। এবার একটি মোবাইলফোন নম্বর থেকে। আগের দেয়া পরিচয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ভরাট কণ্ঠে, সুন্দর উচ্চারণে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয় দানকারী ব্যক্তি জানান দুঃসংবাদটি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সার্ভারে সমস্যা হচ্ছে। আপনার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ থেকে কোনো টাকা হয়তো আর উত্তোলন করতে পারবেন না।’ কথা শুনে মাথা থেকে ঘাম ঝরছিল। অনেক কষ্টে কিছু টাকা জমিয়েছেন ব্যাংকে। এই টাকা খোয়া গেলে কী হবে তার। কিন্তু ভাবনার আর সময় দেন না ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয় দেয়া ওই ব্যক্তি। তিনি দ্রুত বলেন, ‘এটি আমরা এখনই সমাধানের চেষ্টা করছি। প্লিজ আপনার পাসওয়ার্ডটি বলুন। আশা করছি সমাধান হয়ে যাবে।’

কথা শুনে আশ্বস্ত হন সমির। পাসওয়ার্ড জানিয়ে দেন। এরপরই ঘটে মূল ঘটনা। মোবাইলফোনে ক্ষুদেবার্তা আসতে থাকে ব্যাংকের ব্যবহৃত নম্বর থেকে। একে একে ছয়টি ক্ষুদেবার্তা। ডাচ্‌বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস ডিজিটাল কার্ড থেকে অ্যাকাউন্টে থাকা ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫২ টাকা থেকে মোট ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পাঁচ কিস্তিতে ২০ হাজার টাকা করে ১ লাখ ও আরেক কিস্তিতে ১৪ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এটিএম কার্ডের ব্যালেন্স চেক করে সত্যতা পান। এভাবেই সর্বস্ব নিয়ে যায় প্রতারক চক্র। দীর্ঘদিন পর এ বিষয়ে গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি হাজারীবাগ থানায় মামলা করেছেন সমির বৈদ্য।

মামলাটি তদন্তে মাঠে নামেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। নেক্সাস পে ও রকেট নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত করলেও অপরাধীদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না কিছুতেই। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নানা প্রযুক্তি ও কৌশল ব্যবহার করে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করছিল চক্রটি। অবশেষে সন্ধান পাওয়া গেছে ভয়ঙ্কর এই চক্রের। চক্রের হোতা আরিফুল ইসলাম (২৬)। ফরিদপুরের মধুখালীর ডোমাইন পূর্বপাড়ার নিয়ামত আলীর পুত্র। এই চক্রে অন্তত আরো ১৫-২০ জন সম্পৃক্ত রয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়েই লেখাপড়ার ইতি টেনে সৌদি আরবে পারি দিয়েছিল আরিফুল ইসলাম। সেখানে পরিশ্রম করে টাকা রুজি করতে গিয়ে জানতে পারে সহজ উপায়ে নিজ এলাকাতেই লাখ লাখ টাকা আয় করছে তার পরিচিতজনরা। এই প্রতারণার পথে তখন থেকেই হাঁটতে শিখেছে একই এলাকার আবদুস সালাল খানের পুত্র ইমতিয়াজ খান অনিক (২৩)। সম্পর্কে আরিফুলের ভাতিজা। ইমতিয়াজের কাছ থেকে গল্প শুনে প্রলোবদ্ধ হয় আরিফুল। গত বছরের শুরুর দিকে দেশে ফিরে গড়ে তোলে এক বিশাল চক্র। চক্রটি ঢাকা, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লাসহ বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে আছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের কাজ হচ্ছে, রকেট, ইউক্যাশ, এমক্যাশ, ক্যাশ ইন, বিকাশসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করা। এজন্য সংশ্লিষ্ট এজেন্টের দোকানে গ্রাহকবেশে গিয়ে কৌশলে এন্টি খাতার ছবি ধারণ করে চক্রের সদস্যরা। তারপর এই ছবি পাঠানো হয় আরিফুল ইসলামের কাছে।

আরিফুল তার ফোনে ব্যবহার করতো একটি বিশেষ এ্যাপস। ওই এ্যাপসের সহযোগিতায় হুবুহু ব্যাংক, বিকাশসহ যেকোনো কাস্টমার কেয়ারের নম্বর সৃষ্টি করে কল দিতে পারে। হুবুহু নম্বর হওয়ার কারণে গ্রাহক সহজেই বিশ্বাস করে সংশ্লিষ্ট কাস্টমার কেয়ার থেকেই তাকে কল দেয়া হয়েছে। তারপর দ্রুত টাকা উত্তোলন করে একাধিক বেনামে নিবন্ধনকৃত নম্বর ব্যবহার করে তা ক্যাশ করতো। এসব কৌশলের কারণে দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল এই চক্র। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নিশাত রহমানের নেতৃত্বে তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয় চক্রের সদস্যদের। তারপর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে একাধিক অভিযান চালিয়ে গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি আরিফুল ইসলাম, ইমতিয়াজ খানসহ চারজনকে গ্রপ্তার করা হয়েছে। অন্যরা হচ্ছে- কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর বাঘৈর গ্রামের মৃত সৈয়দ খবির মীরের পুত্র সৈয়দ হৃদয় হোসেন, বরিশালের বাকেরগঞ্জের সুন্দরকাঠি গ্রামের সালাম হাওলাদারের পুত্র ইমরান হোসেন।

এ বিষয়ে এডিসি নিশাত রহমান মানবজমিনকে বলেন, এটি একটি ভয়ঙ্কর চক্র। তারা শত শত মানুষকে নিঃস্ব করেছে। আমরা প্রায়ই প্রতারকদের গ্রেপ্তার করছি। কিন্তু এই প্রতারকদের কৌশল, পদ্ধতি আমাদের কাছে নতুন। এই চক্রে আরো অনেকে জড়িত থাকতে পারে। এ বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে রিমান্ড প্রয়োজন। প্রতারণা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রতারক ছাড়া কেউ গোপন নম্বর জানতে চাইবে না। প্রতারকরা অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি পিন নম্বর না চেয়ে এটার পরে ওটা চাপুন- এসব বলেও প্রতারণা করে থাকে। এসব কোনো কথাতেই সাড়া দেয়া যাবে না। যদি কোনো কারণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সমস্যা হয় অফিসে সশরীরে গিয়ে অভিযোগ করতে হবে বলে জানান তিনি।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ সওজের প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা ৬ প্রকল্পের পরিচালক তিনি একাই!


সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা; ছয়টি প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

সিলেট থেকে: একটি নয়, দুটি নয়। একাধারে গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব একই পালন করছেন সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার নির্দেশনা দিয়েছেন, একব্যক্তিকে যেনো একাধিক প্রকল্পের পরিচালক করা না হয়।

কিন্তু সে নির্দেশনা ও সব আইন অমান্য করে একাই ছয়টি প্রকল্পের পরিচালকের (পিডি) দায়িত্ব পালন করছেন তুষার কান্তি। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা।

এগুলো হচ্ছে- বানিয়াচং-আজমিরিগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প (ব্যয় ১১৬ কোটি টাকা), সিলেট বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কের জাতীয় মহাসড়ক উন্নতকরণ প্রকল্প (ব্যয় ৬২৭ কোটি), সিলেট জোনের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথ মান ও প্রশস্ত উন্নীতকরণ প্রকল্প (ব্যয় ৫৬০ কোটি), সিলেট শহর বাইপাস-গ্যারিসন লিংক টু শাহ পরাণ সেতু ঘাট সড়ক চারলেনে মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প (ব্যয় ২৩৫ কোটি)।

এছাড়া ঢাকা-সিলেট-তামাবিল-জাফলং জাতীয় মহাসড়কের জৈন্তা থেকে জাফলং পযর্ন্ত উন্নয়ন প্রকল্পেরও পিডি তুষার কান্তি। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৯০ কোটি টাকা। আর ৫৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিলেট জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ত উন্নীতকরণ প্রকল্পেরও পরিচালক তিনি।

শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সিলেট সার্কিট হাউজে বিভাগের বাস্তবায়িত ৫৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্বয়ং পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানও।

এ সময় তুষার কান্তি সাহা একাই কীভাবে ছয়টি প্রকল্পের পরিচালক হলেন তা জানতে চান মন্ত্রী। তখন তুষার কান্তি বলেন, ‘স্যার, এভাবেই তো চলে আসছে। আমি প্রকল্পগুলোর দায়িত্ব পালন করছি। উপর থেকে আমাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘একব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। সেই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্প এলাকায় থাকতে হবে। সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই একব্যক্তি একের বেশি প্রকল্পের পরিচালক হতে পারবেন না! একব্যক্তি কীভাবে ছয় প্রকল্পের পরিচালক হতে পারেন?’

সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, প্রকল্পের গতি বাড়াতে হবে। প্রকল্প কাজে গতি বাড়াতে যথাসময়ে কাজ শেষ করতে হবে। অর্থের অপচয় কমাতে হবে।

সিলেট বিভাগে চলমান ৫৮ প্রকল্পের পরিচালকসহ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়েজউল্লাহ, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ আ.লীগ সরকারের আমলে গত ১০ বছরের আলোচিত কেলেঙ্কারি


গত ১০ বছরে ব্যাংকিং খাতে নানা আলোচিত কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) তাদের এক গবেষণায় দেখিয়েছে ১০ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে ওই টাকা আদায় করতে পারেনি ব্যাংকগুলো। অ্যাননটেক্স গ্রুপ এখন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় আলোচিত কেলেঙ্কারি অ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি। গ্রুপটি জনতা ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এ গ্রুপের কর্ণধার ইউনুস বাদল। ঋণের টাকা আদায়ে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও আদায় করতে পারেনি ব্যাংকটি।

ক্রিসেন্ট গ্রুপ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ক্রিসেন্ট গ্রুপ। ঋণের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে গ্রুপটি। এর মধ্যে প্রায় হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদের ও তার ভাই জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু ঋণের নামে ডাকাতি করেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে চেয়ারম্যান জালিয়াতি করেন।

প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বেহাত হয় বেসিক ব্যাংকের। বর্তমানে ব্যাংকটি নানা সংকটে ধুঁকছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারী সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে আত্মসাৎ হয়েছে ৩ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে এসব টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও এমডি জড়িত ছিলেন। গ্রুপটির এমডি তানভীর ও চেয়ারম্যান তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার জেলে রয়েছেন।

এসএ গ্রুপ কেলেঙ্কারি চট্টগ্রামভিত্তিক এসএ গ্রুপের কর্ণধার মো. শাহাবুদ্দিন আলম বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। এর মধ্যে বিদেশে পাচার করেছেন অর্থ। অগ্রণী, ন্যাশনাল, জনতা, ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, কৃষি, পূবালী ব্যাংক থেকে এই টাকা নিয়েছেন। বিসমিল্লাহ গ্রুপ রপ্তানির নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিসমিল্লাহ গ্রুপ।

এ টাকার পুরোটাই বিদেশে পাচার করা হয়েছে। জনতা, প্রাইম, শাহজালাল, যমুনা ও প্রাইম ব্যাংক থেকে এ টাকা নেওয়া হয়েছে। এনআরবিসি ব্যাংকের কেলেঙ্কারি সিপিডির তথ্যমতে নতুন প্রজন্মের এ ব্যাংক থেকে ৭০১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মালিকরা। রিজার্ভ চুরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুইফট সিস্টেম হ্যাক হয়ে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার আজও ফেরত পাওয়া যায়নি।

এতে দেশের ৬৮০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান যোগসাজোশ করে ব্যাংকটির ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এবি ব্যাংক কেলেঙ্কারি এবি ব্যাংকের ঋণের টাকা দিয়ে তা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এতে ব্যাংকটির ১৬৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উৎসঃ ‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ভুয়া কোম্পানি দেখিয়ে ৩৫০ কোটি টাকা লুটে লাপাত্তা মুজিবর রহমান শামিম


একই জমি একই ফ্ল্যাটের দলিল জামানত রেখে একাধিক ব্যাংক থেকে তুলেছেন ঋণ। ভুয়া কোম্পানি দেখিয়ে ঋণ নিতে জালিয়াতির অভিনব এ ঘটনা ঘটে সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকে।

একসময়ের ক্ষুদ্র স্টেশনারি সাপ্লাই ব্যবসায়ী এখন শত শত কোটি টাকার মালিক। বিত্ত-বৈভব গড়েছেন দেশ ও দেশের বাইরে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করে দিয়েছেন। কোম্পানি একই, শুধু নাম পাল্টিয়ে একই জমি, ফ্ল্যাট বন্ধক রেখে প্রায় সাড়ে তিন শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন লাপাত্তা মুজিবর রহমান শামিম নামে এক ব্যবসায়ী।

কখনো ট্রেডিং ব্যবসা, কখনো কারখানার নামে ব্যাংক ঋণ নিয়ে আর ফেরতও দিচ্ছেন না। সব ব্যাংকেই এখন খেলাপিতে পরিণত তার ঋণ। ঋণ নিতে তিনি নিজের একাধিক ঠিকানাও ব্যবহার করেছেন। এ ঠিকানায় রয়েছে ঢাকা ও খুলনায় অফিস ও নিজের স্থায়ী ঠিকানা। ব্যাংকগুলোর ঢাকা ও খুলনার শাখা থেকে এসব ঋণ নিয়েছেন সুবিধা অনুযায়ী।

নিজের নামের পাশাপাশি বেনামে ঋণ নেওয়ার পর এখন ব্যাংকগুলো তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। বিভিন্ন ব্যাংকসূত্রে জানা গেছে, মুজিবর রহমান শামিম সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছেন বেসরকারি একটি ব্যাংকের রাজধানীর নবাবপুর শাখা থেকে- প্রায় ১৯২ কোটি টাকা। চারটি কোম্পানির বিপরীতে এ ঋণ নিয়েছেন তিনি।

কোম্পানিগুলো হচ্ছে জয় পেট্রোলিয়াম, জয় এন্টারপ্রাইজ, জয় ফিড মিল, জয় জুট প্রসেসিং। প্রথম সারির ওই ব্যাংকটির ঋণগ্রহীতা জয় এন্টারপ্রাইজ জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়ে গেছে নিউ জয় এন্টারপ্রাইজ। এই নিউ জয় এন্টারপ্রাইজের বিপরীতে জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন ৪০ কোটি টাকা। ট্রাস্ট ব্যাংক খুলনা শাখায় রয়েছে দুটি কোম্পানির নামে ঋণ।

সাউথ হ্যাচারি ও এগ্রো এবং জয় শিপিং নামের কোম্পানির বিপরীতে ঋণ নিয়েছেন ২৩ কোটি টাকা। সাবেক ফারমার্স ব্যাংক বর্তমান পদ্মা ব্যাংক খুলনা শাখা থেকে ঋণ নিয়েছেন ২৫ কোটি টাকা। এর বাইরে বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংক থেকেও তিনি নামে-বেনামে ঋণ নিয়েছেন। ব্যাংকের কাগজপত্রে দেখা গেছে, মুজিবর রহমান শামিম ঋণ নিতে ব্যবহার করেছেন নিজের চারটি ঠিকানা। তিনটি অফিস ঠিকানা একটি রাজধানীর নিকেতন ডি ব্লকের ৪৬ নম্বর বাড়ি অ্যাপার্টমেন্ট বি-১, দ্বিতীয়টি ১৫ বড় মগবাজার পঞ্চম তলা, তৃতীয়টি খান টাওয়ার চতুর্থ তলা এ-৫০ মজিদ সরণি শিববাড়ী মোড় খুলনা এবং নিজের স্থায়ী ঠিকানা বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার উমাজুরি গ্রাম।

ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে যেসব বন্ধক দিয়েছেন ঘুরেফিরে তার সবই একই ফ্ল্যাট ও জমি। ট্রেডিং ব্যবসার নামে এই কোম্পানির বিপরীতে জনতা ব্যাংকের ৪০ কোটি টাকার ঋণের বন্ধক হিসেবে দিয়েছেন রাজধানীর নিকেতনে ১ হাজার ৪৪০ বর্গফুটের নজর অ্যালবাম হোল্ডিং-৩৬, রোড-১ একটি ফ্ল্যাট, মহাখালীতে সাড়ে ৮ ডেসিমেল জমি। এই একই স্থাপনা বন্ধক দিয়ে সিলভার ট্রেডিং কোম্পানির নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন সাবেক ফারমার্স ব্যাংক খুলনা শাখা থেকে। আরেক বেসরকারি ব্যাংকের রাজধানীর নবাবপুর শাখা থেকে কয়েকটি কোম্পানির বিপরীতে সর্বোচ্চ ঋণ নিয়েছেন প্রায় ১৯২ কোটি টাকা।

ওই ঋণের বিপরীতে বন্ধক হিসেবে রয়েছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ছোট কুমারখালী গ্রামের জমি, ইস্কাটনের ফ্ল্যাট ও কমার্শিয়াল স্পেস, খুলনার বটিয়াঘাটায় জমি। এ চার স্থানের জমি, ফ্ল্যাট ও কমার্শিয়াল স্পেস বন্ধক হিসেবে ব্যবহার করেছেন অন্য ব্যাংকের ঋণের ক্ষেত্রেও। জালিয়াতির নানা পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এসব ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে। ফারমার্স ব্যাংকের ঋণে সিলভার ট্রেডিং, নবাবপুর শাখার ওই ব্যাংকটির ঋণেও সিলভার ট্রেডিং এবং জনতা ব্যাংকে নিউ জয় এন্টারপ্রাইজ একই ট্রেডিং ব্যবসা। শুধু নাম পাল্টিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ তুলেছেন। এসব ঋণের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে একই বন্ধক।

এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৪৪০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, রাজধানীর নিকেতন রোড-১ হোল্ডিং-৩৬ এবং মহাখালীতে গুলশান মৌজার সাড়ে ৮ ডেসিমেল জমি। সিলভার ট্রেডিংয়ে ঋণ নিতে ফারমার্স ব্যাংক ও নবাবপুরের ব্যাংক শাখাটিতে আরও বন্ধক রয়েছে; যা দুই ব্যাংকে একই। এগুলো হলো ১ হাজার ৬৪৯ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্ট, খিলগাঁও ৭, বি-২ সপ্তম তলা ও দশমিক ২৪ ডেসিমেল জমি। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রুস্তমপুর মৌজার ৯৪ ডেসিমেল জমি।

এ জমিটি বন্ধক হিসেবে রয়েছে জনতা, ফারমার্স ও নবাবপুর শাখার সেই ব্যাংকেও। খুলনার মহেশ্বরপাড়া এসএ ১০ দাগ ৬১০২, ৬১০৩, ৬১০৪ দাগের ২ দশমিক ৮৯ ডেসিমেল জমি নবাবপুরের ব্যাংক শাখাটিতে জয় এন্টারপাইজ ও জনতা ব্যাংকে নিউ জয় এন্টারপ্রাইজের বন্ধক। ব্যাংকগুলোতে মোট দেড় হাজার ডেসিমেল জমি বন্ধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

ট্রাস্ট ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক, আইসিবি ইইএফ ফান্ড ও আরও একটি প্রধান সারির ব্যাংক ঋণ নিতে একই জমি বন্ধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ছোট কুমারখালী মৌজার ২৪৫/১, ২৪৫/৭ খতিয়ানের ১ হাজার ৫০ ডেসিমেল জমি রয়েছে। খুলনার বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা মৌজার পিএস-৫৫ হাল এসএ ২৫১, ২৫২ খতিয়ানের ৫০০ ডেসিমেল জমি নবাবপুর শাখার ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও ফারমার্স ব্যাংকে সিলভার ট্রেডিংয়ের জন্য বন্ধক দেওয়া।

খুলনার দৌলতপুর মৌজার ৬.৬০ ডেসিমেল জমি জনতা ব্যাংক ও আইসিসি ইইএফ ফান্ডের বন্ধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ঋণগ্রহীতার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল, টার্ম লোন, এলসি খুলতে এসব জমি বন্ধক হিসেবে রয়েছে। জনতা ব্যাংকের ঋণ নেওয়া হয় ২০১৬ সালে, নবাবপুর শাখার ব্যাংকটি থেকে নিয়েছেন ২০১৭ সালে, ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে নিয়েছেন ২০১৪ সালে, ফারমার্স ব্যাংক থেকে নিয়েছেন ২০১৬ সালে।

একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতা কারখানার যেসব ঠিকানা দিয়েছেন তার অনেকটি পুরোপুরি ভুয়া। জয় পেট্রোলিয়াম, সাউথ হ্যাচারি অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেড নামের কোম্পানির ঠিকানা পুুরোপুরি ভুয়া। শুধু কোম্পানির কাগজপত্র ব্যবহার করেই ঋণ তুলেছেন। ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় সাড়ে তিন শ কোটি টাকা হাতিয়ে এখন লাপাত্তা এই মুজিবর রহমান শামিম।

খেলাপিতে পরিণত হওয়া ঋণ আদায়ে ব্যাংকের কর্মকর্তারা খুঁজে পাচ্ছেন না তাকে। বেনামে ঋণ রয়েছে আরও একাধিক ব্যাংকে। আর বন্ধকের জমি দখল করতে গিয়ে ব্যাংকগুলো দেখছে আরও একাধিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা। এসব জটিলতায় এখন এই ঋণ আদায়ের সব সম্ভাবনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ঋণের প্রধান শর্ত সম্পত্তি বন্ধক। এ নিয়ে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। একই সম্পত্তি একাধিক ব্যাংকের ঋণের ক্ষেত্রে বন্ধক দেখানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ ছাড়া বন্ধক থাকা জমিতে ব্যাংকের সাইনবোর্ড থাকা জরুরি। অনেকে তা মানছেন না। এজন্য অনেকের যোগসাজশে এ রকম অনিয়ম ঘটে। যদি কেউ এমনটি করেন বুঝতে হবে এতে শুধু গ্রাহক নয়, ব্যাংকের কর্মকর্তারাও জড়িত। খেলাপি ঋণ বাড়ার একটি অন্যতম কারণ সঠিক বন্ধক আছে কিনা তার ওপর নির্ভর করে। ঋণের বিপরীতে বন্ধক দেখার দায়িত্ব ব্যাংক কর্মকর্তাদের।

আরেকটি ব্যাংকে বন্ধক রাখার পর আবার কেউ একই জমি বা সম্পদ দেখালে বুঝতে হবে সেটা সবার যোগসাজশে হয়েছে। এদের সবাইকে কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ঋণ জালিয়াতি অনিয়ম রোধে বন্ধক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষা করা উচিত। একই সম্পদ যখন একাধিক ব্যাংক ঋণে বন্ধক হিসেবে দেখানো হয় সেটা বড় ধরনের দুর্নীতি।

ঋণ নেওয়ার সময় জমির দলিল জমা রাখতে হয় ব্যাংকে। আরেক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সময় সেই দলিল দিতে হলে অবশ্যই ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। এসব দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধুু ব্যাংকিং বিষয় নয়, আমাদের সার্বিক আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে সব ধরনের ঋণ অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

উৎসঃ ‌বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ইয়াবাসহ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুশান্ত কুমার দাসকে আটক


ঝালকাঠির নলছিটিতে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুশান্ত কুমার দাস শান্তু (২৫) ও তার সহযোগী মাসুদ হাওলাদারকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা শহরের কলবাড়ি রোডের একটি বাসা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

সুশান্ত কুমার দাস শান্তু নলছিটি পৌর এলাকার কলবাড়ি রোডের ঝন্টু দাসের ছেলে এবং মাসুদ হাওলাদার উপজেলার দপদপিয়া গ্রামের বেলায়েত হাওলাদারের ছেলে।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই রাসেলসহ পুলিশের একটি টিম কলবাড়ি রোডের ঝন্টু দাসের বাসায় অভিযান চালায়। এসময় মাদক সেবনরত অবস্থায় সুশান্ত কুমার দাস শান্তু ও মাসুদ হাওলাদারকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেহ তল্লাশি করে ১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্ততি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উৎসঃ ‌পূর্বপশ্চিম

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here