জামিনে মুক্তি পেয়ে কারামুক্ত ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন

0
279
কারাগারের আমদানী সেলে ব্যারিস্টার মইনুলের প্রথম রাত - নয়া দিগন্ত

জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।

রবিবার রাতে তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কারাসেল থেকে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসেন বলে জানা গেছে।

১৩ জানুয়ারি মইনুলের পক্ষে করা জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ছয় মাসের জামিনের আদেশ দেন।

এর পর তার আইনজীবীরা সাংবাদিকদের জানান, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৫ মামলায় হাইকোর্ট তাকে ছয় মাসের জামিন দেওয়ায় মুক্তিতে বাধা নেই।

ওইদিন আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মাসুদ রানা।

পরে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘মানহানির অভিযোগে বিভিন্ন আদালতে দায়ের করা ১৫টি মামলায় ব্যারিস্টার মইনুলকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এখনও একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও তিনটি মামলা বিচারের প্রক্রিয়ায় না থাকায়, এসব মামলায় তার জামিনের প্রয়োজন নেই। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনও বাধা থাকছে না।’

প্রসঙ্গত, ১৬ অক্টোবর রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে উদ্দেশ্য করে ‘চরিত্রহীন’ মন্তব্য করেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। মাসুদা ভাট্টিসহ নারী সাংবাদিকরা মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। ঘটনার চার দিনেও ব্যারিস্টার মইনুল প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মানহানির মামলা করেন মাসুদা ভাট্টি।

মইনুলের মন্তব্যকে নারী সমাজের জন্য অবমাননাকর দাবি করে একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে জামালপুরের আদালতেও মামলা করেন একজন নারী। যদিও ওই দুটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন। তবে এছাড়াও একই ঘটনায় কুড়িগ্রাম ও রংপুরসহ একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে মামলা করা হয়। পরে রংপুরের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে ২৩ অক্টোবর মইনুলকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কায়সারুল ইসলাম। এরপর সেদিন বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যারিস্টার মইনুলকে। এরপর গত ৩ নভেম্বর ব্যারিস্টার মইনুলকে রংপুরের কারাগারে পাঠানো হয়।

০ নভেম্বর বিশেষায়িত হাসপাতালে ব্যারিস্টার মইনুলের চিকিৎসা ও রংপুর আদালতে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। মইনুল হোসেনের স্ত্রী সাজু হোসেন এ রিট দায়ের করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে রংপুর কারা কর্তৃপক্ষ ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মইনুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। যার ধারাবাহিকতায় ২৯ নভেম্বর বোর্ড গঠন করে মইনুলকে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

এরপর পুনরায় মইনুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাইকোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। আবেদনে তাকে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা জানান তার আইনজীবীরা। পরে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কারাসেলে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকেই তিনি আজ মুক্তি পান।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ মোসাদ্দেক আলী ফালু দম্পতির সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ


বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালু ও তার স্ত্রী মাহবুবা সুলতানার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদেশে তাদের সম্পত্তি জব্দ করা হয়।

রবিবার (২৭ জানুয়ারি) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য ব্রেকিংনিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে দায়ের করা পৃথক দুই মামলার তদন্তের স্বার্থে গত সেপ্টেম্বরে আদালত থেকে ওই সম্পত্তি জব্দের নির্দেশনা দেয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক সৈয়দ আহমেদের আবেদনের প্রক্ষিতে ওই আদেশ দেয়া হয়।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি প্রায় ২২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালু ও তার স্ত্রী মাহবুবা সুলতানার বিরুদ্ধে চার্জশিটের অনুমোদন দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ফালুর জব্দকৃত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে- রাজধানীর উত্তরখানে দু’টি স্থানে মোট ৬৭ শতাংশ জমি, বড় মগবাজারের পাঁচ স্থানে ৪৫ শতাংশ জমি, বঙ্গবন্ধু এভিউনিউতে দুইটি দোকান, কাকরাইলের দুই জায়গায় ১৮ শতাংশ জমি, বাউনিয়া সাড়ে ৮২ শতাংশ নিচু জমি, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় সাড়ে ছয় শতাংশ জমি ও দক্ষিণ শাহজাহানপুরে একটি ফ্ল্যাট।

এছাড়া তার মালিকানাধীন ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন চ্যানেল লিমিটেড (এনটিভি), রোজা এ্যাগ্রো লিমিটেড, রোজা প্রোপার্টিজ লিমিটেড ও স্টার পোরসিলিন প্রাইভেট লিমিটেডের শেয়ারও জব্দ করেছে দুদক।

অপরদিকে স্ত্রী মাহবুবা সুলতানার জব্দ করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে- গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় ছয়তলা বাড়ি এবং তার নামে থাকা ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন চ্যানেল লিমিটেড (এনটিভি), রোজা এ্যাগ্রো লিমিটেড ও এমএএইচ সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সকল শেয়ার।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, আদালতের এই আদেশের ফলে ফালু ও তার স্ত্রী এখন তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর করতে পারবেন না। তবে তারা চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মোসাদ্দেক আলী ফালুর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১৫ মে রমনা থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। ফালুর বিরুদ্ধে ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

অন্যদিকে একই বছরের ১০ আগস্ট ফালুর স্ত্রী মাহবুবা সুলতানার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

মাহবুবা সুলতানা সম্পদ বিবরণীতে আয়ের উৎস হিসেবে মৎস্য চাষ, গরুর খামার ও বাসা ভাড়া দেখালেও তিন কোটি ৯৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭২ টাকার ক্ষেত্রে মৎস্য ও পশুপালন অধিদফতরের কোনও নিবন্ধনসহ অন্যান্য দালিলিক প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ যশোরে রহস্যজনক সিরিজ বোমা হামলায় বিব্রত পুলিশ প্রশাসন


রহস্যজনক সিরিজ বোমা হামলায় কেঁপে উঠলো যশোর। রাতের নীরবতা ভেঙে ছড়িয়ে দেয় আতঙ্ক। দেখা দেয় নানা রহস্য। শনিবার গভীর রাতে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে যশোর-৩ আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদের বাসভবনের সামনে। একই সময়ে শহরের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বাদ যায়নি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন পাঁচ তারকা হোটেল জাবিল ইন্টারন্যাশনাল।

বোমা বিস্ফোরণের সময় এ হোটেলে অবস্থান করছিলেন চীন ও জাপানের ১৭ নাগরিক। সিরিজ এ বোমা হামলায় বিব্রত পুলিশ প্রশাসন।

যশোরে এ বোমা হামলার ঘটনাকে রহস্যজনক হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন সবাই। তবে গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিরিজ বোমা হামলার বিষয়ে থানায় কোন মামলা হয়নি। কোতোয়ালি থানা পুলিশ রহস্য উদঘাটনে অবশ্য মাঠে নেমেছে। অন্যদিকে এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের আটক ও শাস্তির দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাত দেড়টার দিকে যশোর শহরের কাজীপাড়া এলাকায় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের বাসভবন লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা তিনটি ককটেল ছুড়ে মারে। এর মধ্যে দুটি বিস্ফোরিত হয়; একটি অবিস্ফোরিত থেকে যায়।

জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুদ্দিন মিঠু ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, মধ্যরাতে কে বা কারা ককটেলগুলোর বিস্ফোরণ ঘটায়। রাতে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ যশোরের বাসায়ই ছিলেন। তবে, বিস্ফোরণে কারো কোনো ক্ষতি হয়নি।

এদিকে, ওইরাতেই যশোর শহর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি হাসান লালের ষষ্ঠিতলার বাসভবন, ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ফয়সাল খানের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাসভবনের ছাদে, জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শাহীন চাকলাদারের চাচাতোভাই তৌহিদ চাকলাদার ফন্টুর কাজীপাড়া কাঁঠালতলা এলাকার বাসভবন এবং শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন শহরের গাড়িখানা রোডের পাঁচ তারকাবিশিষ্ট হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল, চাকলাদার ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কিছু স্থানে সিরিজ বিস্ফোরণ ঘটে।

জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুদ্দিন মিঠু বলেন, এর আগে ২৫ জানুয়ারি রাতে জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মুনির হোসেন টগরের বারান্দীপাড়া কদমতলা এলাকার বাসভবন এবং যুবলীগনেতা রাজিবুল আলমের বাড়িতে সন্ত্রাসীরা একই কায়দায় কয়েকটি বোমা ছুড়ে মারে। সন্ত্রাসীরা রাজিবুলের বাড়িতে গুলিও করে।

এসব বিষয়ে যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিতকুমার নাথ বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’

ছাত্রলীগ যশোর জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমানে যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, অতিউৎসাহী সন্ত্রাসীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তৌহিদ চাকলাদার ফন্টুর বাসায় বোমা হামলার ভিডিও ফুটেজ আমি দেখেছি। ফুটেজ দেখলে বোঝা যাবে কারা এই ঘটনায় যুক্ত।’

একটি পক্ষের সন্ত্রাসীরা ভাগবাটোয়ারায় এগিয়ে থাকার লক্ষ্য নিয়ে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন শাহীন চাকলাদার অনুসারী নেতা হিসেবে পরিচিত জুয়েল।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন পাঁচ তারকা হোটেল জাবিল ইন্টারন্যাশনালের প্রবেশ মুখে রাত ৪টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা পর পর ২টি শক্তিশালী হাত বোমা নিক্ষেপ করে। এতে হোটেলের প্রবেশ মুখের একটি গ্লাস চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। অপর বোমার আঘাতে হোটেলের সামনের অংশের উপরের দিকে সামান্য ক্ষতি হয়েছে বলে জানান হোটেলের ইনচার্জ।

ওই ইনচার্জ বলেন, ঘটনাটি গভীর রাতে হওয়ায় বোর্ডাররা কিছু বুঝে উঠতে পারেননি। দুর্বৃত্তরা যে টার্গেট করে এই বোমা হামলা চালিয়েছে তা সিসিটিভির ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। অপর এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার রাতে হোটেলটিতে ১৭ জন বিদেশি মেহমান ছিলেন। যাদের ৮ জন জাপানি ও ৯ জন চীনা নাগরিক। এই বোমা হামলার ঘটনা তারা টের পেলে কেলেঙ্কারি হয়ে যেত। হয়তো এই ইন্টারন্যাশনাল মানের হোটেলটিই ওই দুই দেশের দূতাবাস কর্তৃপক্ষ ব্লাক লিস্ট করতে পারতেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি অপূর্ব হাসান বলেন, ‘এটি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়। ব্যক্তিগত শক্তি প্রদর্শনের জন্যে নিজেদের স্থাপনার উপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা জনগণ ও প্রশাসনকে অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে।’ শহরের ছয়টি স্থানে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ সংকট বিএনপির নয়, জাতির : ড. আসিফ নজরুল


ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘মহাজালিয়াতি, মহাধাপ্পাবাজি ও মহাপ্রহসনের যে নির্বাচন হয়েছে সে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে কেউ যদি অংশ না নেয় তাহলে তাদের দোষ না দিয়ে যারা এই নির্বাচনের আয়োজন করল- তাদেরকে দোষ দেওয়া উচিত।

তাই কেন বিএনপি পারল না, বা বিএনপি এখন কী করবে সে সব আলোচনা না করে উচিত জালিয়াত বা ধাপ্পাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলা। কিন্তু শুধু বিএনপি নয়, বাম দল থেকে শুরু করে গণমাধ্যম কেউই এর বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছে না। শুধু বিএনপির একলা দোষ দিলে চলবে না।’

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হলো তখন আওয়ামী লীগের কোনো মানুষ প্রতিবাদ করেনি কেন? কেউ কোনো মিছিল করেনি কেন? কেউ নামে নাই কেন রাস্তায়? ওয়ান-ইলেভেনে যখন দুই নেত্রীকেই গ্রেফতার করা হলো তখন সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তায় প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায় নাই কেন? নির্বাচিত সরকারকে যখন বন্দুক দিয়ে সড়িয়ে ক্ষমতায় আসে তখন কেউ প্রতিবাদ করতে পারে নাই কেন?

আসলে বাংলাদেশের জাতির ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে- যখন এমন ভীতি, এমন আতঙ্ক মানুষকে গ্রাস করে, তখন মানুষ সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ করতে পারে না। নিশ্চয়ই তেমন কোনো পরিস্থিতিই আবার এসেছিল। এখন রেডিও-টেলিভিশনে একটাই প্রশ্ন করা হয় যে, বিএনপি কেন সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ করতে পারল না। তাদের এই প্রশ্নটা করা দরকার যে বঙ্গবন্ধুর মতো ব্যক্তিত্ব যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার ঋণ বাংলাদেশ কোনো দিনই শোধ করতে পারবে না- তাকে তো মেরেই ফেলেছে।

তারপরও তার মৃত্যুর পর সঙ্গে সঙ্গে তো দূরের কথা, এক-দুই বছরের মধ্যেও কেউ কোনো প্রতিবাদ করতে পারল না কেন? তাহলে কি বঙ্গবন্ধু এক সেকেন্ডের মধ্যে প্রচন্ড অজনপ্রিয় হয়ে গেছে? তখন বা তারপর কি আওয়ামী লীগের সংগঠন উধাও হয়ে গেছে? আসলে ভয়াল আতঙ্ক বা ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে যার কারণে কেউ কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। সেই রকমই একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলেই এত বড় একটা জালিয়াতির নির্বাচনের পরও মানুষ চুপ থাকছে।

এটা শুধু বিএনপির সংকট নয়, এই সংকট বাংলাদেশের মানুষের, পুরো জাতির। কিন্তু সর্বত্রই এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন আওয়ামী লীগ ভার্সেস বিএনপি। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ যে এখানে একটি পক্ষথ- তা সবাই ভুলেই যাচ্ছে।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমার ছাত্রদের মধ্যে এমনও আছে যে তারা নৌকায় ভোট দিতে চেয়েও পারে নাই। সুলতানা কামাল পত্রিকায় ইন্টারভিউ দিয়ে বলেছে তার বাসার গৃহকর্মী নৌকায় ভোট দিতে চেয়েও পারেনি। এটা বাংলাদেশের মানুষকে চিট করা হয়েছে। এটা মানুষের বেদনা, মানুষের আর্তনাদকে মূল্য দিতে হবে।

বিএনপি প্রতিবাদ করতে পারল না, সিপিবি পেরেছে? তারা তো সরাসরিই বলেছে ভুয়া নির্বাচন। আর গণমাধ্যম তো সব সময়ই নির্বাচনের সময় নানান ধরনের রিপোর্ট করে, তাহলে এবার কেন হলো না? যে আসনে আওয়ামী লীগ ৮ হাজারের বেশি ভোট পায় না সেখানে কীভাবে আড়াই লাখের বেশি ভোট পড়ল? যেখানে ইভিএমে ভোট পড়ল ৫৩ শতাংশ তাহলে অন্য খানে কেন ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ল? যেখানে সবসময় মার্জিনাল ব্যবধান হয় সেখানে কেন এবার অস্বাভাবিক বেশি ব্যবধান হলো? কেন বিদেশি পর্যবেক্ষকদের রাখা হলো না? কেন মোবাইলের গতি স্লো করে রাখা হলো?

এসব প্রশ্ন গণমাধ্যম করতে পারে না, এসব কারণেই বিএনপি প্রতিবাদ করতে পারছে না, বিএনপি নির্বাচনে যেতে পারছে না বা তথাকথিত ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না, বা এখন তেমন কিছুই করতে পারছে না।’

উৎসঃ ‌বিডি প্রতিদিন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here