রংপুর-৫ আসনে জামায়াত নেতা রব্বানীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে হাইকোর্টের নির্দেশ

0
117

রংপুর-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলার সাংগঠনিক আমির গোলাম রব্বানীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গোলাম রব্বানী করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গোলাম রব্বানীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এজেএম মোহাম্মদ আলী। শুনানিতে তাকে সহযোগিতা করেন আডভোকেট শিশির মনির ও ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী।

আদালত সূত্র জানায়, গত ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গেলে প্রস্তাবক ও আইনজীবীকে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিলে বাধার সৃষ্টি করে কালক্ষেপণ করতে থাকেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এক পর্যায়ে সময় উত্তীর্ণ অজুহাত দেখিয়ে মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়নি। এ অবস্থায় শনিবার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেয়া হয়।

কিন্তু নির্বাচন কমিশন থেকে সুস্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় রোববার হাইকোর্টে রিট করা হয়। আজ এর শুনানি হল। এতে পক্ষে রায় দেন হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, জামায়াত নেতা গোলাম রব্বানী বিগত মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেনকে পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সহিংস আন্দোলনের নানা মামলায় তিনি সাড়ে ৪ বছর জেলে থাকেন। এরপর তাকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করে কলঙ্কিত হতে চাই না: মাহবুব তালুকদার

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, আইন প্রয়োগ ঠিকভাবে না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, আর প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করে কলঙ্কিত হতে চাই না।

সোমবার সকালে নির্বাচন কমিশন ভবনে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করে মাহবুব তালুকদার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ধারাবাহিক কোনো প্রক্রিয়া নেই। তবে যে প্রক্রিয়ায়ই হোক না কেন, নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেবে না কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, দেশে নানা সময় নানা প্রক্রিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, কখনো সেনা–সমর্থিত সরকারের অধীন কিংবা কখনো দলীয় সরকারের অধীনে। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে প্রক্রিয়াই হোক না কেন, তাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হতে দেওয়া যাবে না। দেশে নির্বাচনের কোনো ধারাবাহিক রীতি গড়ে না উঠলেও একটি পূর্ণাঙ্গ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে এই ধারাবাহিকতা ও ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে যাচ্ছে কমিশন। এ জন্য জনমনে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

ইসি কমিশনার মাহবুব তালকুদার বলেন, সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রার্থী যেন নিশ্চিন্ত থাকতে পারে, সে ব্যবস্থা করবেন। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে চাওয়া খুবই সামান্য—একজন ভোটার যেন নির্ভয়ে পছন্দমতো তার প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সেই আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ থকে ১২ লাখ কর্মকর্তা যুক্ত হবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনিয়ম রোধ ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায়, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা জেনে নিতে তিনি নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কতটুকু ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে, তা জেনে নেবেন। পুলিশ বা সামরিক কর্মকর্তাদের চেয়ে আপনাদের ক্ষমতা কোনো অংশে কম নয়।’

নির্বাচনের দায়িত্বে এসব কর্মকর্তার শিথিলতা কমিশন বরদাশত করবে না বলেও জানান মাহবুব তালুকদার। নির্ভয়ে, সাহসিকতার সঙ্গে নির্বাচন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, ‘আপনারা ব্যর্থ হলে নির্বাচন ব্যর্থ হবে। আপনারা সফল হলে উদ্ভাসিত হবে পুরো জাতি। যুদ্ধক্ষেত্রে সম্মুখসমরের মতো নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সাফল্যের কোনো বিকল্প নেই।’

নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত করতে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দৃঢ় থাকারও নির্দেশ দেন মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, ‘আইন ঠিকমতো না চললে সমান সুযোগের পরিবেশ নিশ্চিত হবে না। আইন ঠিকভাবে না চললে সেটি আইন নয়, আইনের অপলাপ মাত্র। আইন প্রয়োগ ঠিকভাবে না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, আর প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করে কলঙ্কিত হতে চাই না।’

নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নির্বাচন কমিশনের শপথের অংশীদার উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমাদের শপথ আপনাদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে। আপনারাও মনে মনে শপথ গ্রহণ করুন, দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবেন। আপনাদের দায়িত্বশীল আচরণই দেশে এক সোনালি অধ্যায়ের রচনা করবে। মনে রাখতে হবে, আপনারা জাতির ক্রান্তিলগ্নে মহান দায়িত্ব পালন করছেন। আপনাদের সাফল্যে গৌরবদীপ্ত হবে, উদ্ভাসিত হবে দেশের জনগণ। বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদের আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখার সুযোগ এই নির্বাচন। আমরা বিশ্বের সামনে আমাদের সম্ভ্রম খোয়াতে পারি না।’

মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করে সবার প্রতি সমান প্রয়োগ করার আহ্বান জানান মাহবুব তালুকদার। বলেন, ‘আসুন, শুদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।’

অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, মনোনয়ন অবৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কমিশনে আপিলের সুযোগ পাবেন। ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর আপিলের বিষয়ে নিষ্পত্তি করবে কমিশন। এর আগে প্রার্থীদের মনোনয়ন জমাদান প্রক্রিয়া বেশ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন নির্বাচন কমিশন সচিব।

তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে ১৩ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্দেশনা দেওয়া হবে ওই বৈঠকে। ১৩ ডিসেম্বরের পর কমিশনাররা বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানান নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক। প্রশিক্ষণে কয়েক ধাপে অংশ নিচ্ছেন সারা দেশের মোট ২ হাজার ২৬ জন কর্মকর্তা। সোম ও মঙ্গলবার নয়টি জেলার মোট ৪০৮ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ পাল্টে গেল সব হিসেব-নিকেশ, চূড়ান্তের পথে ঐক্যফ্রন্টের আসন

সব হিসেব-নিকেশ শেষ, এবার আসন চূড়ান্ত করার পথে ঐক্যফ্রন্ট। সারাদেশে ২৯৫ আসনে বিএনপির ৬৯৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ২৫৭টিতেই ২-৫ জন করে প্রার্থী আছেন। একক প্রার্থী রয়েছে ৩৮ আসনে।বিএনপি ছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো ২৪০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।

আসন নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গে বিএনপির কোনো সমঝোতা হয়নি। শরিকদের মধ্যে নিবন্ধিত দলগুলো তাদের প্রতীকে প্রার্থিতা জমা দিয়েছে। যেসব দলের নিবন্ধন নেই, সেগুলো ধানের শীষের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ শরিকদের ৭০ আসনে ছাড় দেয়ায় বিএনপি শরিকদের চাহিদাও বড় হয়েছে। বিএনপি শুরুতে ২০ দলকে ৪০ আসনে ছাড় দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ১৫-২০ আসন দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।কিন্তু সমীকরণ পাল্টে যায় যখন, শেষ দিকে এসে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা লম্বা হয়।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে এখন পরিকল্পনামাফিক ১৫-২০ আসন দিয়ে সন্তুষ্ট রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ২০ দলকে কিছু আসনে কম দেয়ার কথা ভাবছে বিএনপি। যদিও দলটির নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে চাচ্ছেন না। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি দুই জোটের শরিকদের ৬০-৭০টির বেশি আসন দেবে না এটি মোটামুটি নিশ্চিত। দুদিন আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল এক সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০-দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টকে সর্বোচ্চ ৬০ আসন দেয়া হবে।বিএনপি নেতারা বলছেন-সে ক্ষেত্রে ২০ দলকে ৪০ আসন আর ঐক্যফ্রন্টের জন্য বরাদ্দ থাকছে ২০ আসন।

বিএনপি ছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো ২৪০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ১০০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে গণফোরাম।জেএসডি জমা দিয়েছে ৬০ আসনে। নাগরিক ঐক্য ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জমা দিয়েছে ৪০টি করে আসনে। ২৪০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বিএনপির কাছ থেকে সম্মানজনক আসন পেতে দরকষাকষি করছে ঐক্যফ্রন্টের শরিক চার দল।

ফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্য ৯টি আসনে ধানের শীষ নিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে এ দলটিকে সর্বোচ্চ দুটি আসনে ছাড় দেয়া হতে পারে।ওই দুটি আসন হচ্ছে-মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বগুড়া-২ আসন আর এসএম আকরামকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সারা দেশে দলীয়ভাবে ৪০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কাদের সিদ্দিকীর দলকে দুটি আসনে ছাড় দেয়া হতে পারে।কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তার মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকীকে টাঙ্গাইল-৪ কিংবা টাঙ্গাইল-৮ আসনে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। তার দলের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকীকে গাজীপুর-৩ আসনটি দেয়া হতে পারে।কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, দলীয়ভাবে আমরা ৪০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। তবে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপির সঙ্গে যেসব আসনে সমঝোতা হবে, সেগুলো রেখে বাকি প্রত্যাহার করা হবে।ফ্রন্টের আরেক শরিক জেএসডি দলীয়ভাবে ৬০টি মনোনয়পত্র জমা দিয়েছে। তবে তাদের সর্বোচ্চ দুটি বা তিনটি আসনে ধানের শীষ দেয়া হতে পারে।

জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবকে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আর তানিয়া রবকে ঢাকার একটি আসন দেয়া হতে পারে। দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতনকে কুমিল্লা-৪ আসনে ছাড় দিতে পারে বিএনপি।এ প্রসঙ্গে দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, ফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে বাকি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হবে।গণফোরামের পক্ষ থেকে সারা দেশে শতাধিক আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ১২-১৫ আসনে ছাড় দেয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।গণফোরাম ১৫ আসন পেলে দুই জোটের মধ্যে জামায়াতের ২৫ আসনের পর গণফোরামই সর্বোচ্চ আসন পাচ্ছে।

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল নির্বাচন করছেন না। তার দল থেকে যারা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারেন, তারা হলেন-মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, রেজা কিবরিয়া, আবু সাইয়িদ প্রমুখ।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি বিএনপি। একদিকে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল, অন্যদিকে আসন বণ্টন নিয়ে শরিকদের চাপ-সব মিলিয়ে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দলটির শীর্ষ নেতাদের।

বিএনপির নির্বাচনী সঙ্গী দুই জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোট (সম্প্রসারিত ২৩ দল)। এ দুটি জোটে রয়েছে ২৭টি রাজনৈতিক দল। দুই জোটের মধ্যে ২০ দলের প্রধান শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে বিএনপির এক ধরনের সমঝোতা হয়ে গেছে।

জামায়াত ও এলডিপিকে বিএনপির সর্বাধিক আসনে ছাড় দিচ্ছে। বাকিদের সঙ্গেও সমঝোতা হওয়ার পথে।এখন বাকি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির ফয়সালা। ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোকে আসন দেয়া নিয়ে বিএনপি এক ধরনের চাপ অনুভব করছে। এক ধরনের শঙ্কাও কাজ করছে।এ ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে। ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দলগুলো যেসব আসন দাবি করছে, সেই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। আবার ২০ দলকে যেসব আসনে ছাড় দিতে চাইছে, সেগুলোর কোনো কোনোটাও ঐক্যফ্রন্টের চাহিদার মধ্যে রয়েছে।

সব মিলিয়ে ঐক্যফ্রন্টভুক্ত চারটি দলকে বিএনপি কয়টি আসন দিয়ে সন্তষ্ট করতে পারে, সেটিই এখন নেতাদের মূল ভাবনায়।আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় বিএনপি জোটের দলগুলো নিজ নিজ দলের পক্ষে আবার কেউ ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।এদের কারও কারও মনোনয়নপত্র বাতিলও হয়ে গেছে।

আসন বণ্টন নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০-দলীয় জোটের শরিক ও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এ নিয়ে কোনো সংকট হবে না।তিনি আরও বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করা হয়নি। আশা করি প্রত্যাহারের আগে এ ব্যাপারে আমরা একটা সমঝোতায় আসতে পারব।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ যে আসন গুলোতে জামায়াতের প্রার্থীরা যাচাই-বাছাই শেষে টিকে রইল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জামায়াত জোটগতভাবে প্রার্থী দিয়েছে ২৫ আসনে। তবে জোট থেকে আরও বেশ ক’টি আসন বাগাতে আরও ৩০টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে নিবন্ধন হারানো এই দলটি।

অর্থাৎ ৫৫ আসনে নির্বাচন করার পরিকল্পনা ছিল জামায়াতের। তবে বাছাই পর্বেই ক্রটি ও বিভিন্ন অসঙ্গতির অভিযোগে ৫৫ প্রার্থীর মধ্যে ১৯ প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। আরও একজনের ব্যাপারে সঠিক কোনো তথ্য মেলেনি।

জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, জোটগতভাবে যে ২৫টি আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া হয়েছিল তার মধ্যে আয়কর দাখিল না করার অভিযোগে দিনাজপুর-১ আসনের জোটের প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ হানিফের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। অন্যদিকে রংপুর-৫ অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর মনোনয়নপত্র গ্রহণই করা হয়নি।

নির্ধারিত সময়েরও পরে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে যাওয়ায় রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীর মনোয়ন ফরম জমা নেয়নি সংশ্লিষ্ট জেলার রিটার্নিং অফিসার।

তবে জামায়াতের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে গিয়েও মনোনয়ন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। ইচ্ছেকৃত ও অন্যায়ভাবে মনোনয়ন ফরম জমা নেয়নি রিটার্নিং অফিসার। ওই আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দানের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে দলটির নের্তৃবৃন্দ।

জোটগতভাবে ধানের শীষ প্রতীকে যে ২৩ আসনে লড়বে জামায়াত:
ঠাকুরগাঁও-২ মাওলানা আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-৬ মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-২ মুক্তিযুদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ মাজেদুর রহমান সরকার, সিরাজগঞ্জ-৪ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-৫ মাওলানা ইকবাল হুসাইন, ঝিনাইদহ-৩ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, যশোর-২ আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন।

বাগেরহাট-৩ অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ অধ্যাপক আবদুল আলীম, খুলনা-৫ অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ মুফতি রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ আলহাজ্ব শামীম সাঈদী, ঢাকা-১৫ ডা. শফিকুর রহমান, সিলেট-৫ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬ মাওলানা হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-১১ ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, চট্টগ্রাম-১৫ আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আযাদ।

৩০ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তাদের:
নীলফামারী-১ মাওলানা আবদুস সাত্তার, লালমনিরহাট-১ আবু হেনা মো. এরশাদ হোসেন সাজু, কুড়িগ্রাম-৪ আসন থেকে আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান, গাইবান্ধা-৪ ডাক্তার আবদুর রহিম সরকার, বগুড়া-৪ মাওলানা তায়েব আলী, বগুড়া-৫ আলহাজ্ব দবিবুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ অধ্যাপক ইয়াহিয়া খালেদ, নওগাঁ-৪ খ ম আব্দুর রাকিব, রাজশাহী-১ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

রাজশাহী-৩ অধ্যাপক মাজিদুর রহমান, কুষ্টিয়া-২ আলহাজ্ব আব্দুল গফুর, চুয়াডাঙ্গা-২ মাওলানা রুহুল আমিন, যশোর-১ মাওলানা আজিজুর রহমান, পটুয়াখালী-২ ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মৌলভীবাজার-১ মাওলানা আমিনুল ইসলাম, কুমিল্লা-৯ এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী, লক্ষ্মীপুর-২ মাস্টার রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম-১৫ জাফর সাদেক। কারো স্বাক্ষর করার বিষয় অস্বীকার, কারো স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ, কেউ বা মামলার তথ্য গোপন করাসহ নানা অভিযোগে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করার অভিযোগ।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের টিকে রইলেন যারা:
জয়পুরহাট-১ ডা. ফজলুর রহমান সাঈদ, বগুড়া-২ অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ নুরুল ইসলাম বুলবুল, পাবনা-১ ব্যারিস্ট্রার নাজিব মোমেন, পাবনা-৪ অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, মেহেরপুর-১ তাজউদ্দিন, যশোর-৫ অ্যাভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ অধ্যাপক মুক্তার আলী, ময়মনসিংহ-৬ অধ্যাপক জসিম উদ্দিন সরকার, চট্টগ্রাম-১০ আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ মাওলানা জহিরুল ইসলাম।

তবে দিনাজপুর-৪ আসনের মাওলানা আফতাব উদ্দিন মোল্লার ব্যাপারে কোনো সঠিক তথ্য জানা যায়নি।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘আয়কর দাখিল না করার অভিযোগে দিনাজপুর-১ আসনের জোটের প্রার্থী মো. আবু হানিফের মনোয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। এটি ঠুনকো অভিযোগ। আমরা এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেব। আপিলে সব টিকে যাবে ইনশাআল্লাহ।’

যদিও জামায়াতের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এবার ২০ দলীয় জোট থেকে ২৫টি আসনে জামায়াতকে ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত হয়। বিএনপির সাথে এ নিয়ে কয়েক দফা দর কষাকষির পর ২৫ আসন পায় জামায়াত। তবে জামায়াতের অসন্তুষ্টি বাড়ে ওই আসনগুলোতে জামায়াতের বিপরীতে বিএনপির প্রার্থীকে প্রত্যাহার না করায়।

দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য জানান, সমঝোতায় জামায়াত ২৫ আসন মেনে নিলেও দাবি ছিল তাদের (বিএনপি) প্রার্থীদের যেন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। কিন্তু তারা করেনি। যদিও বলা হয়েছে প্রত্যাহারের সুযোগ হয়েছে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তাই বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে আরও ৩০ জন জামায়াত নেতাকে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র নিতে বলা হয়।

সূত্রে জানা গেছে, এক নারী স্বাক্ষর দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করার অভিযোগে নীলফামারী-১ এর স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস সাত্তারের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এ ব্যাপারে ওই প্রার্থী আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘যে নারী স্বাক্ষর নিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অভিযোগ তুলেছেন তাকে হাজির করা হলেও তারা তা মানেননি। আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। আমাদের আপিলে যেতে বলেছেন তারা। আমরা আপিল করবো।’

বগুড়া-৪ আসনের জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা তায়েব আলীর মনোয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ওই প্রার্থীর অভিযোগ, ‘উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। কিন্তু এখন তারা বলছেন- (পদত্যাগ) একসেপ্ট করেনি। এটা চাপে রাখার কৌশল। আমরা আপিল করবো।’

সেই হিসেবে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দিনই জামায়াতের ২৩ জন প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক পেলেন। আর দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থী টিকে রইলেন ১২ জন।

জামায়াতের অভিযোগ ‘ঠুনকো কারণে’ তাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আপিল করার কথা ভাবছে তারা। সেইসঙ্গে রয়েছে জোটের মধ্যে দর কষাকষির ভাবনাও।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‘অফিসারদের ‘ছোট রুম’ টিই এখন টক অব দি কান্ট্রি’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রিটার্নিং অফিসারদের কক্ষ সংলগ্ন ‘ছোট রুম’টিই এখন টক অব দি কান্ট্রি। বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হবে কি হবে না সেটি জানার জন্য বারবার রিটার্নিং অফিসার ঐ ছোট রুমে ছুটে যান।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপি’র অসংখ্য মনোনয়ন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। টার্গেট করে ৫০ জনের মতো দলের হেভিওয়েট জনপ্রিয় নেতা ও সাবেক এমপি’দের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে বগুড়া’র ডিসি কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল করার মাধ্যমে বেগম জিয়া আরও একটি আক্রোশের শিকার হলেন শেখ হাসিনার।

বিনা অজুহাতেই বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারদের কক্ষ সংলগ্ন ‘ছোট রুম’টিই এখন টক অব দি কান্ট্রি। বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হবে কি হবে না সেটি জানার জন্য বারবার রিটার্নিং অফিসার ঐ ছোট রুমে ছুটে যান। মূলত: সরকারের নির্দেশ শোনার জন্যই রিটার্নিং অফিসারকে বারবার ঐ রুমে যেতে হয়।

বিএনপি’র প্রার্থীদের অনেকেরই মনোনয়নপত্র নির্ভূল থাকার পরেও উক্ত ছোট রুম থেকে ফিরে এসে রিটার্নিং অফিসার (ডিসি) বলেন, উপরের নির্দেশ আছে বলেই এই মনোনয়নপত্রটি বাতিল করতে আমি বাধ্য হচ্ছি। এদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর একজনেরও মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়নি। কারণ তাদেরকে সাধু সন্যাসী বলে মনে করে নির্বাচন কমিশন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মনোনয়ন পত্রে স্বাক্ষর না করা সত্ত্বেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে-সৈয়দ আশরাফের মনোনয়ন পত্রে টিপসই দেয়া হয়েছে, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অচেতন হয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।

কেউ বিদেশে অবস্থান করলে তার স্বাক্ষর কিংবা টিপসই সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ এ্যাম্বেসি’র একজন ফার্ষ্ট সেক্রেটারি কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে, যার মর্যাদা হবে প্রথম শ্রেণির একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের সমমানের।

এধরণের কর্মকর্তার দ্বারা সত্যায়িত হয়নি সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র। তার মনোনয়নপত্র নোটারী করা হয়েছে বাংলাদেশে, যা আইনসিদ্ধ নয়। সৈয়দ আশরাফের নামে নির্বাচনী কোন ব্যাংক একাউন্ট নেই, যেখান থেকে নির্বাচনী খরচ চালানো হবে। তাহলে সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র বৈধ হলো কিভাবে? বিএনপি নেতা বলেন, লক্ষীপুর-৩

আসনে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য দাখিল না করলেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। এটি নিউজ করতে গেলে তিনি সাংবাদিকদেরকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের অনেক দন্ডিত নেতারও মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে।

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার ইচ্ছার প্রতি নির্বাচন কমিশনের ভালবাসা, প্রশ্রয়, সমর্থন প্রতিদিনই গভীর হচ্ছে। শেখ হাসিনা জনগণকে মনে করেন অনুকম্পার বস্তু। তাই আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন জনগণকে ধোঁকা দেয়ার জন্য আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিয়ে যতো পরিকল্পনা-মহাপরিকল্পনা আছে সেগুলো শেখ হাসিনার ইচ্ছানুযায়ী বাস্তবায়ন করছে।

কারণ বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী সরকার একই স্পিসিজ (প্রজাতি)’র। বর্তমান নির্বাচন কমিশন আওয়ামী গ্ল্যামারই ধারণ করে আছে। তারা প্লেয়িং ফিল্ড সমতল করা থেকে অনেক দুরে অবস্থান করছেন। নির্বাচনী প্লেয়িং ফিল্ড এখন বরেন্দ্র ভূমির ন্যায়।

গত ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে গণতন্ত্রকে হত্যার পর এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সেই লাশটির ময়নাতদন্তের রিপোর্টও গায়েব করে দিতে উদ্যোগী হয়েছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করছে নির্বাচন কমিশন। বিএনপি নেতাকর্মীদের শান্তি নেই, স্বস্তি নেই, ঘুম নেই।

নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত গুম আর গ্রেফতার হচ্ছে কিংবা গ্রেফতার ও গুম আতঙ্কে ভুগছে। আওয়ামী আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বন্য প্রাণীর মতো শুঁকে শুঁকে বিএনপি’র গন্ধ পেলেই শমনভবনে পাঠানোর জন্য হামলে পড়ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের পরিব্যাপ্ত ছায়া। সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন। প্রধানমন্ত্রীর প্রচ্ছন্ন নির্দেশেই ইসি সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকান্ডেই বোঝা যায় যে, তারা কোন জাতের। গণতন্ত্র ও সুষ্ঠূ নির্বাচনের নেতিবাচক চরিত্র হলেন এইচ টি ইমাম। তিনি নির্বাচনকে নিয়ে যত রকমের কারিগরি করা দরকার তাই করছেন।

আমরা বিশস্ত সূত্রে এও জানতে পারছি-ভোটের দিন ইন্টারনেট থ্রি-জি, ফোর-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া হবে। আজ থেকে মনিটরিং করা হবে ফেইসবুকসহ সামাাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। সরকারের সমালোচনা করলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেয়ার হুমকি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিব।

তবুও এদেশের অধিকারহারা জনগণ ও জাতীয়তাবাদী শক্তি ‘শিকল ভাঙ্গা পণ’ নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার নির্বাচনী প্রতিযোগিতার যুদ্ধে এগিয়ে যাবে। গণশক্তির ক্ষিপ্রগতি অশের হ্রেষাধ্বণিতে গণতন্ত্রের শত্রুদের বুকে কম্পন উঠেছে। আওয়ামী নেতারা গর্জাচ্ছেন, এটা শূন্যকুম্ভের বাজনা। জনগণকে সাথে নিয়ে লড়াই সংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করবোই।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ যেমন ছিল রাজনীতিতে শতভাগ সফল খালেদা জিয়ার অতীত নির্বাচনের ফলাফল!

২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন না বিষয়টি এখন অনেকটাই নিশ্চিত। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এ প্রথমবারের মতো তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হলেন। খবর: বিবিসি বাংলা।

বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরে আসার পর থেকে খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। খালেদা জিয়া নিজ দলের নেতৃত্বে যেমন দিয়েছেন, তেমনি নির্বাচনের মাঠেও তার সাফল্য শতভাগ।

বাংলাদেশে ১৯৯১ সাল থেকে যতগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সবগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি ।

গত প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনে খালেদা জিয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।

নির্বাচনে খালেদা জিয়া কখনোই পরাজিত হননি।

গত ২৮ বছরের মধ্যে এ প্রথমবারের মতো খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন।

খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না সেটি নিয়ে গত কয়েকমাস ধরেই বিতর্ক চলছিল।

কিন্তু তারপরেও বিএনপির তরফ থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে যে দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের বেশি সাজা হলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রতিবারই পাঁচটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন এবং সবগুলো আসনে তিনি জয়লাভ করেছেন।

এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত একতরফা নির্বাচনেও খালেদা জিয়া প্রার্থী ছিলেন।

এরপর ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতে জয়ী হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছিল বিএনপি।

সে নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসন পেলেও খালেদা জিয়া নির্বাচনে জয়লাভ করতে কোন অসুবিধা হয়নি।

২০১৮ সালের নির্বাচনেও খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন।

এসব আসন হচ্ছে – ফেনী ১. বগুড়া ৬ ও বগুড়া ৭। কিন্তু দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হবার কারণে নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েন তিনি।

খালেদা জিয়ার অতীত নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা দেখা যায়, তিনি বগুড়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং চট্টগ্রামের আসন থেকে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

এছাড়া ১৯৯১ সালে ঢাকার একটি আসন থেকে এবং ২০০১ সালে খুলনার একটি আসন থেকে ভোটে লড়েছেন তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুধু জয়লাভ করাই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে খালেদা জিয়ার ভোটের ব্যবধানও ছিল বেশি।

উৎসঃ বিবিসি বাংলা 

আরও পড়ুনঃ ঢাকার ২০টি আসনে আওয়ামীলীগের কোন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেনি!

ঢাকার ২০টি আসনে বিএনপির একাধিক বিকল্প প্রার্থী রেখে দলীয় মনোনয়ন দিলেও শেষ পর্যন্ত রিটার্নিং কার্যালয়ে জমা দেয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছায়ে অধিকাংশ বিকল্পই বাদ পড়েছে।

এছাড়া কয়েকটি আসনে মূল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। তবে ঢাকার এ ২০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রায় সকল প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রোববার সকালে ঢাকা বিভাগের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে বিএনপির মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এছাড়া ১টিতে ঐক্যফণ্টের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। ঢাকা-১ আসনে ধানের শীষের কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়নি।

এদিকে ঢাকার ১৬টিতে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী এবং ৩টিতে মহাজোটের প্রার্থীর মনোয়নয়ন বৈধ হয়েছে। নৌকার মার্কার কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাদ যায়নি।

ঢাকা-১ আসনে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নবাবগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান আবু আশফাক এবং সাবেক ছাত্রনেত্রী ফাহিমা হোসাইন জুবলি দলীয় মনোনয়ন পান। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপির এই দুই প্রার্থীকেই বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এ আসনে আওয়ামী লীগের সালমান এফ রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির এমপি সালমা ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-২ আসনে বিএনপির আমান উল্লাহ আমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তবে তার ছেলে ইরফান ইবনে আমান অমিতের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। এ আসনে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নসরুল হামিদ বিপুর মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-৪ আসনে সালাহউদ্দিন আহমেদ ও তার পুত্র তানভীর আহমেদ রবীনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোঘণা করা হয়েছে। এ আসনে মাহাজোটের প্রার্থী সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা (জাতীয় পার্টি) এর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির নবী উল্লাহ নবীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এ আসনের আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান মোল্লা।

ঋণ খেলাপি হওয়ায় কারণে ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে সকালে বাতিল ঘোষণার পর সন্ধ্যায় আবার তাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ আসনে বিএনপির কাজী আবুল বাশার ও জাতীয় ঐক্যফন্টের নেতা সুব্রত চৌধুরী (গণফোরাম) ও আহমেদ আলী শেখ (গণফোরাম) এর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া কাজী মনোওয়ার হোসেন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), কাজী ফিরোজ রশিদ (জাতীয় পার্টি), কাজী সালমা সুলতানা (জাসদ), সৈয়দ নাজমুল হুদা (জেপি), ববি হাজ্জাজ (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ), মোহাম্মদ আখতার হোসেন (এনপিপি) ও আবু তাহের হোসেন (সিপিবি) এর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির নাসিমা আক্তার কল্পনার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের নাজমুল হোসেনের মনোনয়নও বাতিল করা হয়।

তবে এ আসনে আওয়ামী লীগের হাজী সেলিমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঐক্যফ্যন্টের শরিক গণফোরামের মোস্তফা মহসীন মন্টুর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

ঢাকা-৮ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী রাশেদ খান মেননের মনোনয়পত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

ঋণ খেলাপি হওয়ায় ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবীবুর রশিদ হাবীবের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির আবদুল মান্নান ও ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিমের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের ফজলে নূর তাপসের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির শামীম আরা বেগম ও এজিএম শামসুল হকের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের একেএম রহমত উল্লাহ এর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া আমিনুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন), মোজাম্মেল হক বীরপ্রতীক (গণফোরাম), শরীফ মো. মিরাজ হোসেন (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ), মিজানুর রহমান (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি), এস এম ফয়সাল চিশতী (জাতীয় পার্টি), মেহেদী মাসুদ (বিএনএফ), আব্দুল বাতেন (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি) বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির সাইফুল আলম নিরবের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসাদুজ্জামান খান কামালের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

ঢাকা-১৩ আসনে আবদুস সালাম ও আতাউর রহমান ঢালি এবং সাবেক কমিশনার আতিকুর রহমান মতিনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের সাদেক খানের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক, বিএনপি নেতা মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জুর মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বিএনপির আবু বক্কর সিদ্দিকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আসলামুল হক, জাতীয় পার্টির মুস্তাকুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রিয়াজ উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু ইউসুফ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মো. আনোয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমানে কারাবন্দী মামুন হাসান ও দলটির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। একইভাবে এ আসনে জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল ড. সফিকুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ আসনে আওয়ামী লীগের কামাল মজুমদারের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

ঋণখেলাপির অভিযোগে ঢাকা-১৬ আসেন বিএনপি প্রার্থী একে মোয়াজ্জেম হোসেন ও আহসান উল্লাহ হাসানের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর আসনে আওয়ামী লীগের ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

এছাড়া এ আসনে আরো ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বাতিল করা প্রার্থীরা হলেন— খন্দকার ফরিদুল আকবর গণফোরাম (ঋণখেলাপি), আমানত হোসেন (জাতীয় পার্টি), ইসমাইল হোসেন (স্বতন্ত্র) (ভুয়া ভোটার স্বাক্ষর)।

এ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ প্রার্থীরা হলেন— মো. সিদ্দিকুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), আলী আহম্মেদ (জাকের পার্টি), ফরিদ উদ্দিন শেখ (এনপিপি), নাইমা খালেদ মনিকা (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি)।

ঢাকা- ১৭ আসনে বিএনপিও রুহুল আলম চৌধূরীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তবে শওকত আজিজের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এ আসনে জাতীয় পার্টির এএইচএম এরশাদ, বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, আওয়ামী লীগ নেতা নায়ক ফারুকের মনোনয়ন সকালে বাতিল ঘোষণার পর সন্ধ্যায় আবার তাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ আসনে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিএনপির আরেক প্রার্থী আ ন হ আকতার হোসেনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

এ আসনে আওয়ামী লীগের সাহারা খাতুনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ আসনে অন্য বৈধ প্রার্থীরা হলেন— মো. আনোয়ার হোসেন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), আব্দুল মোমেন (বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট), এসএম শাহজাদ (জাগপা), মাসুম বিল্লাহ (এনপিপি), রফিকুল ইসলাম (পিডিপি), আমিন আহমেদ আফসারী (গণফোরাম), শেখ শহিদুজ্জামান (বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট -বিএনএফ), রেজাউল ইসলাম স্বপন (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ), আতিকুর রহমান নাজিম (বিএনএফ)।

ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবুর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-২০ আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খানের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেনজির আহমেদের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, ঘোষিত পূন:তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর (রোববার) একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। গত ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দানের শেষ দিন ছিল, আজ ২ ডিসেম্বর বাছাই শেষ হলো । আগামীয় ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।

উৎসঃ বিডি টুডে

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here