জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেঃ বিএনপি (ভিডিও সহ)

0
182

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘কোন যুদ্ধপরাধীকে আমরা ধানের শীষ প্রতিক দিবো না এটা আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে পারি। আর তাছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে অনেক মুক্তযোদ্ধাও আছে।’

বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করার জন্য দলের কিছু নেতা মনোনয়ন জমা দেননি বলেও জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান।

আজ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের দলের প্রধান খালেদা জিয়া এবার জেলে। নির্বাচনে সকলের জন্য কাজ করেন তিনি নিজেই। এবার সেই কাজটা আমাদের সকলকে মিলে করতে হবে। যারা জমা দেননি তারা প্রত্যেকে যোগ্য নেতা। আমি নিজে মনোনয়নের দরখাস্ত করিনি। রুহুল কবির রিজভী সাহেব দরখাস্ত করেননি।

বলতে পারেন এটা আমাদের নির্বাচনী কৌশল।

ভিডিওঃ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেঃ বিএনপি

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি কোন যুদ্ধাপরাধীকে আমরা প্রতীক দেব না। জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে শুধু যুদ্ধাপরাধী নয় অনেক মুক্তিযোদ্ধাও আছে। লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, তিন মাস আগে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারান্তরীণ তেজগাঁও ছাত্রদলের নেতা আব্দুল্লাহ আল তামিম গাজীপুর জেলে গতকাল মৃত্যুবরণ করেছে। কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও সরকারের নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার পর এবছর আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করতে বর্তমান আওয়ামী ভোটারবিহীন সরকার। এই জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারান্তরীণ করার মহাতৎপরতা চালাচ্ছে। ভীষণ অসুস্থ হলেও জেলখানায় তিলে তিলে শেষ করার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের কোন চিকিৎসা দেয়া হয় না। এভাবে চিকিৎসা না পাওয়ায় আওয়ামী শাসনামলে বিএনপির তৎকালীন ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুসহ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর জেলখানায় করুণ মৃত্যু হয়েছে। আর গতকাল গাজীপুর কারাগারে এই ধরণের নির্মম ও করুণ মৃত্যুর আরেকজন শিকার হলো তেজগাঁও ছাত্রদলের নেতা আব্দুল্লাহ আল তামিম। জেলখানায় আব্দুল্লাহ আল তামিমের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি, তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি ও শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।

তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এর শাহজাহানপুরস্থ বাসা সার্বক্ষনিক ঘিরে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। মির্জা আব্বাস এর বাসায় ঢোকা ও বেরুনোর সময় নেতাকর্মীদেরকে লাগাতার গ্রেপ্তার করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। গত পরশু থেকে এপর্যন্ত পল্টন থানা ১৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক মো: মুন্না, মো: বেলাল হোসেন, কামাল, শরীফ খান, মুগদা থানা যুবদল য্গ্মু আহবায়ক মেহরাজ উদ্দিন মিল্লাত, মিথুন মোল্লা, বাবু, শাহবাগ থানা প্রেসক্লাব ইউনিট বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শিপন, শাহবাগ থানা জাসাস এর সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শরীফ পাঠান, ঢাকা মেডিকেল ইউনিট ছাত্রদল সভাপতি মো: আজিম, পল্টন থানা ছাত্রদল নেতা নোমানসহ সারা এলাকা থেকে কমপক্ষে ৫০/৬০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক মির্জা আব্বাস সাহেবের বাসা সর্বক্ষণ ঘিরে রাখার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বাসার সামনে থেকে নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

ভিডিওঃ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন নজরুল ইসলাম খান

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ভোলা জেলার তজুমুদ্দিন উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এর পক্ষে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে ফিরে আসার সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডার’রা সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতা মামুন, যুবদল নেতা ইব্রাহিমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে প্রচন্ড মারধর করে। সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজন নেতাকর্মী স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এর পরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে এবং এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ ও আওয়ামী গুন্ডারা কয়েক ঘন্টাব্যাপী হামলা চালায় এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সমগ্র লালমোহন ও তজুমুদ্দিন উপজেলায় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আমি সন্ত্রাসীদের এধরণের বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি, ধিক্কার জানাচ্ছি। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। এছাড়া তজুমুদ্দিন থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত পাটোয়ারীকে গত মধ্যরাতে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি তার নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় নরসিংদীতেও নির্বাচনী আচরণবিধি তোয়াক্কা করছে না সরকার দলীয় প্রার্থীরা। বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপি’র সভাপতি খায়রুল কবির খোকন এর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে নির্বাচন থেকে দুরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে। জেলাব্যাপী পুলিশ প্রশাসন সরকারী দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছে। আমি এধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

গতকাল রাত ১০টায় আদাবর থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক কামালকে সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তার কোন হদিস দিচ্ছেনা তারা। এ বিষযে বারবার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কামালকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করছে। বিষয়টি চলমান গুম ও অদৃশ্য করারই ধারাবাহিকতা। আমরা অবিলম্বে কামালকে সুস্থ অবস্থায় তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

তেজগাঁও থানা ২৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি সাফিজ উদ্দিন ভুইয়া, সহ-সভাপতি মো: আবুল হাশেম, যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম পাটোয়ারী, বিএনপি নেতা নান্নু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইলিয়াস, শিল্পাঞ্চল থানা মহিলা দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আসমা আক্তারসহ আরও কয়েকজনকে গতকাল গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি তার নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন]

বিএনপি নেতা নান্নু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইলিয়াস, শিল্পাঞ্চল থানা মহিলা দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আসমা আক্তারসহ আরও কয়েকজনকে গতকাল গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি তার নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

হাতিরঝিল থানা মহিলা দলের সভাপতি সালমা কামালের বাসায় তল্লাশীর নামে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে পুলিশ। ঢাকা-১২ আসনে বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় প্রত্যেক নেতাকর্মীর বাড়ীতে বাড়ীতে তল্লাশীর নামে ব্যাপক তান্ডব চালাচ্ছে পুলিশ। আমি পুলিশের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তা বন্ধের আহবান জানাচ্ছি।

এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী মামুন এবং লালবাগের জাসাস নেতা শহীদুল ইসলাম শহীদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

সরকারের অবসরপ্রাপ্ত উপ-সচিব নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়াকে এক ঘন্টা কথা বলার নাম করে গত পরশু রাত ১০টায় র‌্যাব-২ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই দিন নিখোঁজ রাখার পর বর্তমানে তাকে আইসিটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। নিয়ামত উল্লাহ সাহেব বিএনপি’র নির্বাচনী টিমে কাজ করেন বলেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। আরেকটি একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের এটি আরও একটি নগ্ন বহি:প্রকাশ। আমি অবসরপ্রাপ্ত উপ-সচিব নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আইসিটি মামলা প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন]

কুমিল্লা-৬-আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থীর নোমিনেশন পেপার জমা দেয়ার সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে দুর্গাপুর (দক্ষিণ) ইউনিয়ন মহিলা মেম্বার ও ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম ও কোতোয়ালী থানা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান উপস্থিত থাকাকে অপরাধ মনে করে আওয়ামী ক্যাডাররা তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ককটেল চার্জ করে অনেককে গুরুতর আহত করে। সন্ত্রাসীদের হামলায় মনোয়ারা বেগম এবং বিএনপি নেতা রায়হানসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। কেন তারা ধানের শীষের প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার সময় মিছিলে অংশগ্রহণ করেছে, এজন্য দাম্ভিকতার সাথে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে ও বাড়ীতে ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়েছে। আমি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও সমুচিত শাস্তির জোর দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন – বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ প্রমুখ।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ লাশের নদী বুড়িগঙ্গা! এত লাশ কোত্থেকে বুড়িগঙ্গায় আসছে?

লাশের নদী বুড়িগঙ্গা। বুড়িগঙ্গায় এক সময় নানা জাতের মাছ পাওয়া গেলেও এখন আর তা মিলছে না। তবে প্রায়ই মিলছে লাশ। এর কোনোটি অজ্ঞাত, আর কোনোটির পরিচয় রয়েছে। এত লাশ কোত্থেকে বুড়িগঙ্গায় আসছে সে সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও জ্ঞাত নন। থানা ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত এক বছরে বুড়িগঙ্গা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৪২টি লাশ। এর মধ্যে ১৭টির পরিচয় মিলেছে আর অজ্ঞাত রয়ে গেছে ২৫টি। বেওয়ারিশ হিসেবেই এগুলো দাফন হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত একটি লাশ হাসপাতাল মর্গে পড়ে ছিল।

হাসপাতাল মর্গ ও পুলিশ সূত্র জানায়, বুড়িগঙ্গা থেকে উদ্ধারকৃত লাশের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এই লাশ নিয়ে অনেকেরই অনেক সন্দেহ-সংশয় রয়েছে। একের পর এক এভাবে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অনেকে আতঙ্কিতও। ওয়াইজঘাটের এক শ্রমিক সিরাজ উদ্দিন নয়া দিগন্তকে বলেন, আগে গোসল বুড়িগঙ্গা নদীতেই সারতেন। এখন পানিও যেমন নষ্ট হয়ে গেছে; আর প্রায়ই লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কও রয়েছে। ফলে এখন আর কেউ বুড়িগঙ্গায় গোসল করেন না। স্থানীয়দের ধারণা, অন্য কোনো এলাকায় মানুষ হত্যার পর লাশগুলো নিরাপদ স্থান বুড়িগঙ্গায় ফেলে রেখে যায়। নৌকা ডুবে কিংবা লঞ্চে উঠতে গিয়ে পড়ে নিহত হয়েও কিছু লোক লাশ হয়েছেন।

থানা সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বুড়িগঙ্গা থেকে উদ্ধার হয়েছে ২টি লাশ। ফেব্রুয়ারিতে ৩টি, মার্চে ৩টি, এপ্রিলে ৫টি, মে মাসে ৩টি, জুনে ৩টি, জুলাইয়ে ৫টি, আগস্টে ৫টি, সেপ্টেম্বরে ৭টি, অক্টোবরে ৫টি এবং নভেম্বরের ২৭ তারিখ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৫টি লাশ। যাদের লাশ উদ্ধার হয়েছে এবং পরিচয় জানা গেছে তার মধ্যে যশোরের কেশবপুর থানা বিএনপির নেতা আবু বকর সিদ্দিকও রয়েছেন। গত ১৯ নভেম্বর দুপুরে তার লাশ উদ্ধার হয়। স্থানীয়রা লাশটি ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরে তার পরিবারের সদস্যরা লাশটি মর্গে গিয়ে শনাক্ত করেন। তিনি ঢাকায় এসেছিলেন দলীয় মনোনয়নের জন্য। ঢাকায় এসে একটি আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন। ১৮ নভেম্বর তিনি হোটেল থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। ওই রাতে তার পরিবারের কাছ থেকে অপহরণকারীরা এক লাখ ৭০ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয়।

ঢাকার বুকে বুড়িগঙ্গা। আগে যেখানে মাছ পাওয়া যেতে এখন সেখানে লাশ পাওয়া যায়!

এর ৩ দিন পরে ২২ নভেম্বর অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার হয়। কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। নিহতের শরীরে অসংখ্য আঘাতের দাগ রয়েছে। তার হাত এবং পা ভাঙা। ধারণা করা হচ্ছে হাত-পা ভেঙে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশটি বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকে মারা যান। গত ১২ সেপ্টেম্বর একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পটুয়াখালী যাওয়ার জন্য তারা লঞ্চে উঠতে গিয়েছিলেন। নৌকা দিয়ে লঞ্চে উঠতে গিয়ে দু’টি নৌযানের মধ্যে পড়ে তাদের নৌকাটি ডুবে যায়। ঘটনার পরপরই দু’টি লাশ এবং পরদিন একটি লাশ উদ্ধার হয়।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের নয়া দিগন্তকে বলেন, স্থানীয় ছাড়াও বিভিন্ন লোকের তথ্যের ভিত্তিতে বুড়িগঙ্গার বিভিন্ন স্পট থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ইউডি মামলা নিলেও পরে অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। আবার কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর পুলিশই হত্যা মামলা দায়ের করে। অনেক মামলায় আসামিও গ্রেফতার হয়েছে।

মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গ ইন চার্জ শ্যামল গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, বুড়িগঙ্গা থেকে উদ্ধারকৃত লাশের বেশির ভাগই আসে অজ্ঞাত হিসেবে। গত ২২ নভেম্বর উদ্ধারকৃত লাশটি এখনো মর্গে পড়ে আছে অজ্ঞাত হিসেবে। শ্যামল বলেন, অজ্ঞাত লাশগুলো বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাতে তুলে দেয়া হয় দাফন বা সৎকারের জন্য।

উৎসঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ বিএনপির মনোনয়ন তালিকা নিয়ে তৃণমূলে কিছুটা ক্ষোভ-অসন্তোষ!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেয়া নিয়ে প্রশ্নের মুখে হাইকমান্ড। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন এমন অনেক নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

উল্টো যারা অতীতে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আয়েশে দিন কাটিয়েছেন তাদের অনেকেই বাগিয়ে নিয়েছেন মনোনয়ন। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

বিশেষ করে সংস্কারপন্থীদের শেষ সময়ে দলে সক্রিয় করেই মনোনয়নের চিঠি দেয়ার বিষয়টি তারা সহজে মেনে নিতে পারছেন না। আবার অনেক আসনে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে সিনিয়র-জুনিয়র মানা হয়নি। অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর আসনে একাধিক বিকল্প রাখা হয়েছে। আবার অনেক সাবেক এমপিকে দলীয় মনোনয়নের চিঠিই দেয়া হয়নি।

সূত্র জানায়, নানা কারণে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল মিন্টুসহ এক ডজন সিনিয়র নেতা এবার নির্বাচন করছেন না। কয়েকজন মনোনয়নপত্রই তোলেননি।

এর মধ্যে রয়েছেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী। মনোনয়নপত্র তুলেও নির্বাচন করছেন না যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল। আবার সাবেক এমপিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েক নেতাকে মনোনয়ই দেয়া হয়নি। নজরুল ইসলাম নির্বাচন না করলেও তাকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নির্বাচন না করা প্রসঙ্গে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আমার কখনই নির্বাচন করার শখ ছিল না। পরিবারের মধ্যে আমার বাবা-ভাই নির্বাচন করেছেন। অতীতে আমি কখনও নির্বাচনে অংশ নেইনি। এখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। দলের নেতাকর্মী-সমর্থকরা গ্রেফতার-মামলা-হয়রানির মুখে পড়ছেন প্রতিনিয়ত।

এরকম অবস্থায় আমি মনে করেছি, নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেয়ে নির্বাচন পরিচালনায় আমার সময় ও অবদান রাখা উচিত। সেজন্য দলের বৃহত্তর স্বার্থে আমি নির্বাচন না করে দলের নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

কারণ নির্বাচন পরিচালনায় দলে এখন পর্যাপ্ত ও অভিজ্ঞ লোকজনের অভাব রয়েছে। সেজন্য আমি মনে করছি, দলের এরকম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নির্বাচন করার চেয়ে নির্বাচনী কাজে সময় ও শ্রম দেয়া জরুরি। তিনি বলেন, দলও মনে করে যে নির্বাচন পরিচালনার কাজে আমি সম্পৃক্ত থাকি। আমর মনোনয়নপত্র দাখিল নিয়ে যেসব খবর গণমাধ্যমে আসছে তা সঠিক নয়। এ নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল।

সূত্র জানায়, পার্লামেন্টারি বোর্ড সম্ভাব্য প্রার্থীদের যে তালিকা করেছিল এর বাইরেও অনেককে বিকল্প হিসেবে চিঠি দেয়া হয়েছে। প্রতি আসনে একাধিক বিকল্প দেয়ার নামে গুলশান কার্যালয়ের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গণহারে চিঠি দেয়ায় নির্বাচন নিয়ে দলের একটি অংশের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, এদিকে প্রতি আসনে একাধিক বিকল্প থাকায় আসল প্রার্থীরাও রয়েছেন আতঙ্কে। লবিং-তদবির বা আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে বিকল্প প্রার্থীকে আসল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন এমন অনেক নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। ওই সব আসনে কথিত সংস্কারপন্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আবার অন্য দল থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়েই মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন কয়েকজন। অথচ এসব আসনে যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তারা দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়ভাবে আন্দোলন করেছেন। তাদের প্রত্যেকের নামে অসংখ্য মামলা রয়েছে। কয়েকবার কারাবরণও করেছেন।

পটুয়াখালী-৩ আসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুনের দলীয় মনোনয়ন মোটামুটি নিশ্চিত ছিল বলে জানান দলের একাধিক নেতা। তারা বলেন মামুন দীর্ঘদিন ধরেই দলে সক্রিয়। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

কিন্তু হঠাৎ করেই সোমবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে হাজির হন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগদান করে বাগিয়ে নেন পটুয়াখালী-৩ আসনের মনোনয়নের চিঠি। রনির হঠাৎ করে দলে আসা এবং মনোনয়ন বাগিয়ে নেয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। রনির কারণে হাসান মামুনের কপাল পুড়তে যাচ্ছে বলেও তারা মনে করছেন। যদি শেষ পর্যন্ত তাই হয় তাহলে কেউ ঝুঁকি নিয়ে আর রাজনীতি করবেন না বলে মনে করছেন তারা।

জানা গেছে, বিগত সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এমন অনেক নেতাই মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন। সংস্কারপন্থীদের দলে ভিড়িয়ে মনোনয়ন দেয়াতেই তাদের কপাল পুড়েছে। এ নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

যারা বিগত সময়ে দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন তাদের এনে এভাবে পুরস্কৃত করা কোনোভাবেই তারা মেনে নিতে পারছেন না। দলটির ত্যাগী নেতাকর্মীরা জানান, তারা যে অন্যায় করেছেন সর্বোচ্চ তাদের দলে ফিরিয়ে আনা যায় কিন্তু তাদের মনোনয়ন দেয়া মেনে যায় না। তাহলে কেউ দলের দুর্দিনে কাজ করবেন না।

জানা গেছে, বরিশাল-১ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে। মামলার কারণে তিনি এলাকায় যেতে পারেননি। অথচ চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় তার নাম নেই। ওয়ান-ইলেভেনের সংস্কারপন্থী জহিরউদ্দিন স্বপনকে এ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তা এলাকার বেশিরভাগ নেতাকর্মী মেনে নিতে পারছেন না।

কুদ্দুসের মতো একই পরিণতি হয়েছে হয়েছে মাহবুবুল হক নান্নুর ক্ষেত্রেও। নান্নু ওয়ান-ইলেভেনে খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথের পরিচিত মুখ তিনি। মামলার পাশাপাশি কারা ভোগও করেছেন কয়েকবার। বর্তমানেও তিনি কারাগারে। বরিশাল বিভাগের এ সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ঝালকাঠি-২ থেকে মনোয়ন পাচ্ছেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়ন পাননি।

সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত ইশরাত জাহান ইলেন ভুট্টোকে কয়েকদিন আগে দলে সক্রিয় করেই মনোনয়নের চিঠি ধরিয়ে দেয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয় নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। এভাবে যারা দীর্ঘদিন মামলা, হামলা ও নির্যাতন সহ্য করে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এমন অনেক নেতার কপাল পুড়েছে। সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত ১৩ নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে নান্নুর স্ত্রী যুগান্তরকে বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজনীতি করলেও দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। দলের জন্য পরিবার সবকিছু ছেড়ে দিয়েছেন। অনেক কষ্ট করে আমি দিন কাটাচ্ছি। তারপরও আশা ছিল উনি মনোনয়ন পাবেন। কিন্তু তাকে মনোনয়ন না দিয়ে ১২ বছর দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন এক নেতা যে সংস্কারপন্থী তাকে ডেকে এনে মনোনয়ন দেয়া হল।

সূত্র জানায়, অনেক আসনে সুবিধাবাদীদের বিকল্প প্রার্থী করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ত্যাগীরা। গোপালগঞ্জ-১ আসনে একক প্রার্থী ছিলেন ফরিদপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম। কিন্তু তার বিকল্প হিসেবে এফ ই সরফুজ্জামানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নিষ্ক্রিয়। কেন্দ্রীয় এক নেতার বন্ধু হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। আবার অনেক আসনে ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বিকল্প হিসেবে স্ত্রী ও সন্তানদের রাখা হয়েছে। এ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। ফরিদপুর সদর আসনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছিলেন যুবদল নেতা মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকু। উপজেলা নির্বাচনে সদর থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

কিন্তু এ আসনে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বিকল্প হিসেবে তার মেয়ে নায়াবা ইউসুফকে মনোনয়ন দেয়ায় চরম ক্ষুব্ধ পিংকুর সমর্থকরা। তারা জানান, চূড়ান্ত মনোনয়ন কামাল ইবনে ইউসুফকে দেয়া হলেও বিকল্প হিসেবে পিংকুকে চিঠি দেয়া যেতে পারত। কিন্তু সেটা করেনি। জানতে চাইলে মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকু যুগান্তরকে বলেন, দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি। তাদের বিপদে-আপদে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করেছি। আজ যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তারা কেউ তাদের খোঁজ নেননি।

তিনি বলেন, এভাবে সক্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে পরিবারকেন্দ্রিক মনোনয়ন দেয়া তৃণমূল নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। বিষয়টি হাইকমান্ডকে অনুধাবন করতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে কেউ দলের জন্য ঝুঁকি নেবেন না।

একই অবস্থা কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে। ওই আসনে শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন ছাত্রদল নেতা ইশতিয়াক আহম্মেদ নাসির। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে প্রতিটি ইউনিয়নে প্রতিবাদ সভা করেছেন। কিন্তু তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এ আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ও মাহমুদুর রহমান উজ্জ্বলকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ইশতিয়াক যুগান্তরকে বলেন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন একজনকে দলের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাত করে রাজনীতি করার কারণে ওই নেতার নামে একটি মামলাও হয়নি। অথচ রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকবার কারাবরণ করেছি।

তিনি বলেন, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদীদের মনোনয়ন দেয়ায় নির্বাচনে কতটা সুবিধা করতে পারবে এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আলাল বরিশাল-৫ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিলেও তাকে বরিশাল-২ আসনে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। আলাল যুগান্তরকে বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচন করা নিয়ে যেখানে অনিশ্চয়তা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। এ কারণে আমিও নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এছাড়া যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী সোহেলকে দলীয় মনোনয়নপত্রই দেয়া হয়নি। ২০০৮ সালে তিনি ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষে নির্বাচন করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে সোহেলের কন্যা জান্নাতুল ইলমি সূচনা এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন ফেসবুকে। সেখানে তার বাবার মনোনয়ন সম্পর্কে বলেন, এমন না যে তাকে আসন দেয়া হয়নি। একাধিক আসনের প্রস্তাব ছিল।

কিন্তু আমাদের দাবিতে আপসহীন ছিলাম। যোগ্যতার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমদ (লক্ষ্মীপুর-১) ও হারুন অর রশিদও (চাঁদপুর-৪) দলীয় মনোনয়নপত্র পাননি। তারা দু’জনই ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. মাহবুবুর রহমানও নির্বাচন করছেন না। তিনি দিনাজপুর-২ আসন থেকে দু’বার দলের মনোনয়ন পান। একবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন। মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তাই নির্বাচন করছি না।

এছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানও আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন করবেন না। তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। এদিকে বুধবার সকালেও গুলশান কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দেয়া হয়েছে। নেত্রকোনা-২ থেকে ডা. আনোয়ার হোসেন (নেত্রকোনা জেলার সাধারণ সম্পাদক) ও জামালপুর-২ থেকে মনোয়ার হোসেন মনোনয়নপত্র নিয়ে যান।

মাদারীপুর-৩ থেকে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খোন্দকার মাশুকুর রহমানকে মনোনয়নপত্র দেয়ার জন্য ডাকা হলেও তিনি নেননি। এ আসনে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকেও মনোনয়নপত্র দেয়া হয়েছে। মাশুকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমাকে মনোনয়নপত্র দেয়ার জন্য ডাকা হলেও আমি নেইনি। কারণ, আমার আসনে দু’জনকে দেয়া হয়েছে। মাশুকুরের ঘনিষ্ঠ এক নেতা জানান, আনিসুর রহমান খোকন রাজনৈতিকভাবে তার চেয়ে ১৫ বছরের জুনিয়র। সেখানে তাকে খোকনের বিকল্প রাখায় গুলশান কার্যালয়ে তা আনতেই যাননি মাশুকুর রহমান।

উৎসঃ jugantor

আরও পড়ুনঃ এরশাদের অসুস্থতা কি রাজনৈতিক নাটক?

নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অসুস্থতা, হাসপাতালে – বিশেষত সিএমএইচে ভর্তি হওয়া – এর আগেও বিরাট আলোচনা-বিতর্ক-হাসি-তামাশার জন্ম দিয়েছে।

এর আগে ২০১৪-র নির্বাচনের সময়কার সেই বিচিত্র ঘটনাপ্রবাহের কথা মনে রাখলে বলতে হবে – তা অকারণে নয়।

সুতরাং এবারও নির্বাচনের মাসখানেক বাকি, এবারও এরশাদ সিএমএইচে – তাই তা আলোচনার বিষয় হবারই কথা।

তবে এ গুঞ্জনের মধ্যেই বুধবার জাতীয় পার্টি সবাইকে আশ্বস্ত করেছে যে, ‘তাদের প্রধান সুস্থ আছেন, তিনি অচিরেই হাসপাতাল ত্যাগ করবেন এবং চিকিৎসার জন্যে তাকে সিঙ্গাপুরে যেতে হবে না।’

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম অংশীদার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগেও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

এর আগে ২০০৮ সালে মহাজোটের হয়েই নির্বাচন করলেও, ২০১৪ সালে এরশাদ ও তার দল ঘোষণা করেন – তারা নির্বাচনের আগে মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন।

সেবার দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়ে পরে আবার নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন এরশাদ – কিন্তু সেটি আর কার্যকর হয়নি। কারণ ওই ঘটনাপ্রবাহের এক পর্যায়ে তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছিলো।

নির্বাচনের পরেও এক সপ্তাহ তিনি সেখানেই ছিলেন এবং নির্বাচনে তার দল থেকে ৩৩ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়।

এবারও মহাজোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগির আলোচনায় সক্রিয় ছিলেন এরশাদ। এর মধ্যেই হঠাৎ করে দু সপ্তাহ আগে আবারো সিএমএইচে ভর্তি হলে নতুন আলোচনা শুরু হয়।

কারণ সিএমএইচ থেকে ফিরে তিনি কোথায় আছেন – সেটি নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছিলেন না।

শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে হাঁটুব্যাথা সহ নানা শারীরিক জটিলতার কারণে তাকে সিএমএইচে নেয়া হয়।

এর মধ্যে চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়ার কথা বলা হলেও জাতীয় পার্টির মুখপাত্র সুনীল শুভ রায় জানিয়েছিলেন যে নির্বাচনের কারণে তিনি সিঙ্গাপুর যাবেন না।

এরশাদের অসুস্থতার ব্যাপারে কি জানা যাচ্ছে ?

মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়েই এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী চূড়ান্ত হবার আগে এরশাদের অসুস্থতার খবর আলোড়নই তুলেছিলো রাজনৈতিক অঙ্গনে।

এর মধ্যে তার অনুপস্থিতিতে গত কয়েক দিন ধরে দলের পক্ষ থেকে সিনিয়র নেতারাই মনোনয়নসহ বিভিন্ন বিষয় দেখছিলেন – যা নিয়ে দলের মধ্যেই ব্যাপক ক্ষোভ-বিক্ষোভের জন্ম হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে তার অসুস্থতার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে বুধবার একটি নতুন বক্তব্য আসে।

দলটির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, এখন আর সিঙ্গাপুরে নেয়ার মতো অসুস্থ নন তাদের দলীয় চেয়ারম্যান। মিস্টার হাওলাদার জানিয়েছেন যে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এখন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আছেন।

তিনি বলেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সিঙ্গাপুরের চিকিৎসা নেন। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় তাঁর সিঙ্গাপুরের চিকিৎসা নেয়ার দরকার নেই। তিনি সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন না।

দলটির আরেকজন নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, শিগগিরই আগের মতো সক্রিয় হবেন এরশাদ।

অসুস্থতা কি রাজনৈতিক ?

গত নির্বাচনের আগেও এইচ এম এরশাদকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে থাকতে হয়েছিলো এবং পরে দলটির নেতারা এবং এরশাদ নিজেও জানিয়েছিলেন যে স্বইচ্ছায় তিনি সেবার হাসপাতালে যাননি।

সে কারণে এবারেও নির্বাচনের আগে তার অসুস্থতার খবরে গতবারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে অনেকে মনে করেছিলেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজেও এরশাদের অসুস্থতা নিয়ে ‘হাস্যরস না করার’ অনুরোধ করেছেন।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারও বলেছেন এরশাদ সত্যিকার অর্থেই অসুস্থ হয়েছিলেন বলেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং এখন তিনি ভালো বোধ করছেন।

এরশাদ অসুস্থ মনোনয়ন ও মহাজোটের প্রার্থিতা নিয়ে সরকারের সাথে আলোচনা করছে কে?

এরশাদের অনুপস্থিতিতে গত কয়েকদিনে জাতীয় পার্টিতে মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ তুঙ্গে উঠেছে।

এমনকি দলের নেতারাই শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন যদিও মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার আজ ব্রিফিংয়ে সে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তবে এরশাদের অনুপস্থিতিতে মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারই আওয়ামী লীগের সাথে মহাজোটের মনোনয়ন নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন।

যদিও সিনিয়র কয়েকজন নেতা নিশ্চিত করেছেন এ মনোনয়ন নিয়ে সরকারের সাথে আলোচনায় আরও কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততাও রয়েছে।

এরশাদের অনুপস্থিতিতে দল চালাচ্ছেন কারা এমন প্রশ্নের জবাবে পার্টির সিনিয়র নেতাদের একজন জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বিবিসি বাংলাকে বলছেন সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।

তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।

বিষয়টি নিয়ে দলের অন্য নেতারাও কোনো কথা বলেননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দু একজন নেতা জানিয়েছেন ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুটি আসনসহ বেশ কিছু আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এরশাদ সন্তুষ্ট নন। সে কারণেই চাপ তৈরির জন্যই কিছুটা অন্তরালে গিয়েছিলেন এরশাদ।

তারা বলছেন মহাসচিবসহ কয়েকজন সরকারের সাথে আলোচনা চালালেও আসলে সবকিছু সরকারের ইচ্ছে মতোই হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

সে কারণে এরশাদকেসহ কিংবা এরশাদকে ছাড়া- যেভাবেই হোক আসলে জাতীয় পার্টি কে চালাচ্ছে বা জাতীয় পার্টির নির্বাচনী সিদ্ধান্তগুলো কোথা থেকে আসে তা নিয়ে নিশ্চিত নন দলটির বহু নেতাকর্মীই

উৎসঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বরাদ্ধকৃত অর্থ বন্টন নিয়ে বিব্রত ইসি!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের পারিশ্রমিক হিসেবে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী। এরমধ্যে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম হলেও পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সম্ভ্যাব্য ব্যয়ের চিত্র দেখে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। এই নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা খাতে যেখানে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪১২ কোটি টাকা সেখানে পুলিশ বাহিনী নিজেদের জন্য চেয়েছে ৪২৪ কোটি টাকা। আর আনসার বাহিনীর চাহিদা ৪৫০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর চাহিদা এক হাজার কোটি টাকা। যেখানে ইসির মোট নির্বাচনী ব্যয়ই ধরা হয়েছে ৭০২ কোটি টাকা।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বিভিন্ন বাহিনীর সাথে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের ‘বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ’ বিষয়ক বৈঠকে নিজেদের এমন চাহিদার কথা জানায় সংস্থাগুলো। ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনসহ সবগুলো নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়। এবারও সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন বাহিনী যে চাহিদা ইসিকে দিয়েছে তা মোট নির্বাচনী বরাদ্দের চেয়েও তিনশ’ গুন বেশি। কোনোভাবেই এই যোগান দেয়া সম্ভব নয় জানিয়ে বৈঠকে বিভিন্ন বাহিনীকে যৌক্তিকতা বিবেচনায় সম্ভাব্য ব্যয়ের চাহিদা পুণরায় প্রেরণের জন্য বলেছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালউদ্দীন আহমেদ ইনকিলাবকে বলেন, আগে একজন পুলিশের বরাদ্দ কম থাকার কারণে এবার বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয়ে থেকে সেই ভাবে বরাদ্দ দিয়েছে। তুলনা মুলকভাবে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম হলেও পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর ব্যয় একটু বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানা গেছে, ওই বৈঠকে নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ চেয়েছে ৪২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাতেই খরচ হবে ৭৬ কোটি টাকা। এ টাকা চেয়ে চাহিদা দেয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এক চিঠিতে বলেছে, চলমান রাজনৈতিক ঘটনাবলি আসন্ন সংসদ নির্বাচন অতীতের তুলনায় অনেক বেশি ঘটনাবহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিবেচনায় ভোটের আগে ও পরে সাত দিন মাঠে থাকতে চায় পুলিশ। অপরদিকে আনসার সদস্যরা চেয়েছেন প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। আর বিজিবি চেয়েছে ৭৩ কোটি টাকা। এবার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য কমবেশি ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা রয়েছে। অবশ্য ওই বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ চাওয়া হয়নি। ইসির কর্মকর্তারা জানান, সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে যে বরাদ্দ চাওয়া হয়, সাধারণত তাই দেয়া হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না।

ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর ও পরে আরো দুই দিন তারা মাঠে থাকবেন। আর আনসার সদস্যরা ছয় দিন মাঠে থাকার প্রস্তাব করেছেন। যদিও আগের নির্বাচনের তারা পাঁচ দিন মাঠে ছিলেন। এবারের বাজেটে আনসার সদস্যদের জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর বরাদ্দের চেয়ে ২৪৩ কোটি টাকা বেশি চেয়েছে এ বাহিনীর কর্তৃপক্ষ। এর আগে পুলিশ চার দিন থাকলেও এবার সাত দিন থাকার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ সদস্যরা নির্বাচনের সময়ে থাকবেন চার দিন, মোতায়েনের আগে দুই দিন ও প্রত্যাগমনের জন্য একদিন। এই সাত দিনের জন্য ৪২৪ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে যদিও এ বাহিনীর জন্য বরাদ্দ ১৫০ কোটি টাকার কিছু বেশি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্বাচনে পুলিশের ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫৭ জন মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে এসপি থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা ৩৪৯ জন রয়েছেন। নির্বাচনে কোস্টগার্ডের সদস্যরা কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। তারাও মাঠে ৭ দিন অবস্থান করতে চান। তবে এ বাহিনীর কতজন নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন তা জানা যায়নি। এদিকে এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের পাহারায় নামানো হচ্ছে গ্রাম পুলিশ (দফাদার ও চৌকিদার)। তারা মাঠে থাকবেন দুই দিনের জন্য।

উৎসঃ ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ গুম-খুনের নায়ক সেই হেলাল এখন ইসি সচিব!

বর্তমানে দেশে সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত ব্যক্তি হলেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালউদ্দীন। নির্বাচন কমিশনের প্রধান কর্তাব্যক্তি হলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তার নির্দেশনার আলোকেই সব কিছু পরিচালিত হবে। কিন্তু বর্তমানে নির্বাচন কমিশন পরিচালিত হচ্ছে ইসি সচিব হেলালউদ্দীনের নির্দেশনার আলোকে।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ইসির বৈঠকে কি কি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে সেটা আগেই সিইসিকে বলে দেন ইসি সচিব। আর ইসি সচিবের কাছে নির্দেশনা আসে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বাসা থেকে । ইসি সচিবের কাছে সব কমিশনারই জিম্মি।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হেলালউদ্দীন আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত লোক। বিগত দিনগুলোতে আওয়ামী লীগ যে কয়জন পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে বিএনপি জামায়াতের ওপর গুম খুন নির্যাতন করেছে তাদের অন্যতম ছিলেন ইসি সচিব হেলালউদ্দীন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর হেলাল‌উদ্দীন যেসব জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছেন সবখানেই বিএনপি জামায়াতের ওপর বর্বর নির্যাতন করেছেন। নিপীড়ণের এমন কোনো পথ নেই যা তিনি অবলম্বন করেননি।

বিশেষ করে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত রাজশাহীতে বিভাগীয় কমিশনার থাকাকালীন বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছেন। দু’বছর রাজশাহী বিভাগে যত গুম ও পলিটিক্যাল কিলিং হয়েছে, সবই ছিল তার লিস্ট করা। পুলিশ দিয়ে এসব গুম খুন করিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার হেলাল। তিনি নিজে করতেন এসব। এমনকি ১৫ জানুয়ারী ২০১৫ এই হেলাল নিজে হুকুম দিয়ে (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই) যৌথ বাহিনীর দ্বারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের ৫০/৬০টি বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। এই হেলালের অত্যাচারে মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। অসহায় নারী পুরুষ আর শিশুদের চিৎকারে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হলেও হেলালের কানে সেই আওয়াজ আসেনি। সেই হেলালউদ্দীনকেই নির্বাচন কমিশনের সচিবের পদে বসিয়েছে আওয়ামী লীগ।

নির্বাচন কমিশনে এসেও হেলালউদ্দীন আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারাদেশে প্রতিদিন বিএনপি জামায়াতের যেসব নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে সবই ইসি সচিবের নির্দেশে হচ্ছে। তার চূড়ান্ত টার্গেট হলো যেকোনো উপায়ে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনা।

অনেকে মনে করছেন, বিএনপির কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশীকে গুম অপহরণ করা হচ্ছে এসবের সঙ্গেও হেলাল জড়িত আছেন। ইসি থেকে হেলালউদ্দীনকে সরানো ছাড়া কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করা ঠিক হবে না।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here