ইতিহাসের পাদপীঠ ডাকসু নির্বাচনী প্রত্যাশা ও করণীয়ঃ শামসুজ্জামান দুদু

0
174

প্রায় ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে, এটা সরাসরি বলা যাবে না। নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। এক কথায় বলা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে এ নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। সরকার সমর্থিত মহল, তারা বোঝানোর চেষ্টা করছে অথবা বলার চেষ্টা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতির আহ্বানের পরই এই নির্বাচন অর্থাৎ ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কথাটা ঠিক না। সব দিক বিবেচনায় এনে অথবা বিশ্লেষণ করে দেখলে বোঝা যাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠিত করতে বাধ্য হয়েছে।

এই ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও অন্তত ছয় বার গ্রহণ করেছিল। এবং তারিখও ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সে নির্বাচন শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় নাই। এই সরকারের আমলে এই নির্বাচন সপ্তমবারের মতো উদ্যোগ বলা যায়। যদিও অনেকে আশঙ্কা করছে এই নির্বাচন শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কি না। তারপরও আমি আশাবাদী হয়ে কিছু কথা বলতে চাই।

এ নির্বাচন যদি হয়, তাহলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার পরিবেশ পরিস্থিতি আছে কিনা তা আমাদের একটু পর্যবেক্ষণ করে দেখা দরকার। এখন আমরা দেখতে পারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান আছে কিনা অর্থাৎ সকল পথ ও মতের ছাত্র সংগঠনগুলো স্বাভাবিকভাবে তাদের কর্মকাণ্ড চালাতে পারছে কি না। যদি তা সম্ভব না হয়ে থাকে তাহলে তার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিনা।

আমি যতটুকু জানি, সরকারের সমর্থক ছাত্র সংগঠন এবং সরকার সমর্থিত দল বা গোষ্ঠীর কতিপয় ছাত্র সংগঠনই শুধু ডাকসু নির্বাচন ঘিরে কার্যক্রম চালাতে পারছে। সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠন সেখানে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছে না। দীর্ঘদিন থেকে, প্রায় এক যুগ সেখানে সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারে না, হলগুলোতে থাকতে পারে না। এই বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষও জানে। সরকারও জানে। এখন নির্বাচন আসাতেই এই প্রসঙ্গগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এখন পর্যন্ত বিরোধী ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে, হলে অবস্থান নেয়ার ন্যূনতম কোনও ব্যবস্থা করে দেয়া হয়নি। অথচ ছাত্রদল ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচিত একক বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন। এই ছাত্র সংগঠনটি এখন যেমন ক্যাম্পাসে থাকতে পারে না, তেমনই কর্মকাণ্ডও চালাতে পারে না। ছাত্রদলকে শুধু নির্মমভাবে আঘাতই করা হয়নি, তাদেরকে ঠেকানোর জন্য যতরকম নির্যাতনমূলক ব্যবস্থা আছে বিগত দিনগুলোতে এমনকি এখনও তার সবরকম ব্যবস্থাই করে রেখেছে সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠনগুলো। যদি ভালো একটি নির্বাচন করতে হয়, গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন করতে হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হয় তাহলে প্রধান ছাত্র সংগঠনের অন্যতম জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে তার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ করে দিতে হবে।

ছাত্রদল এবং অন্যান্য বিরোধী ছাত্র সংগঠন তাদের যেসব দাবিদওয়া ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করেছে সেই দাবিদাওয়া গুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তার মীমাংসা করা জরুরি। ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে, কিন্তু সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠন বাদে অন্য কোনও ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে যেতে পারছে না। মধুর ক্যান্টিনে বসতে পারছে না এবং হলেও থাকতে পারছে না। তাহলে ভালো নির্বাচন হবে কী করে? এটা কি স্বাভাবিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত করে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার। পাকিস্তানের জামানায় এই ভূমিতে যতগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হয়েছে তার সবগুলোর ভিত্তিমূল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস একেবারেই অসম্পূর্ণ। যে কোনও সময় যে কোনও আন্দোলনে হোক রাজনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক, হোক বুদ্ধিবৃত্তিক সবটাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও না কোনোভাবে সম্পর্ক ছিল। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮ অথবা ২৯ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা যারা করবেন তাদের এক পক্ষকে সুবিধা দেয়ার জন্য এবং অন্য পক্ষকে ঠেকানোর জন্য আইন হবে কমিটি হবে এটা চিন্তা করাও তো এক ধরনের অপরাধ।

আমি ভাবতেই পারছি না এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেখান থেকে বাংলাদেশের গৌরবমণ্ডিত ঐতিহাসিক সব আন্দোলন হয়েছে সে আন্দোলনের পাদপীঠে শুধু সরকারি ছাত্র সংগঠনগুলো থাকবে ভিন্নমতের কোনও ছাত্র সংগঠন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবে না। বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোকে অনুমতি নিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে হবে, অনুমতি নিয়ে বসতে হবে চলতে হবে! একি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাকি পেটুয়া বাহিনীদের একটা নির্যাতন ক্যাম্প? স্বাধীনতার ৪৭ বছরে পদার্পণ করে আমাদেরকে এটাও দেখতে হলো!

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা এখন দায়িত্বে আছেন ছাত্রদের লেখাপড়ার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এবং যাদের মাধ্যমে আগামী ডাকসু নির্বাচনের দায়িত্ব পড়েছে তাদের কাছে সোজাসোজি কিছু কথা বলি। এই নির্বাচনটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে এখন কোথাও কিছু স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাভাবিক থাকবে আমি তেমনটা মনেও করি না। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয় তো অন্য সবকিছু থেকে আলাদা। সেই আলাদা ভাবনা থেকে আপনাদের কাছে এই কথাগুলো বলা। ‘অধিকার হরণ করা খুব সহজ, কিন্তু অধিকার রক্ষা করাই বোধহয় সব থেকে কঠিন’। এখন সে কঠিন কাজের মধ্যেই আপনারা আছেন। শুধু সরকারকে দেখবেন তা তো হয় না। সরকারের বাইরেও তো অনেকে আছেন। সবার সঙ্গে বসুন। আলোচনা করুন। বুঝবার চেষ্টা করুন এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস জোগানো হয়। এই সেই বিশ্ববিদ্যালয় যেখান থেকে এদেশের ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল। নিশ্চয়ই মনে করিয়ে দেয়ার কোনও প্রয়োজন নেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শুরুটাও এখানেই কিন্তু তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গণতন্ত্রের স্বপক্ষে এখান থেকেই কিন্তু লড়াইটা শুরু হয়েছিল।

মনে নেই এরশাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কথা অথবা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের লড়াইয়ের কথা! এত তাড়াতাড়ি সবকিছু ভুলে গেলে তো চলবে না। সেই জন্য সময় থাকতে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত। ঠিক না?

লেখক: ভাইস-চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ আর প্রতিবাদ নয় মাঠের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে : আ স ম আবদুর রব


জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র সভাপতি আসম আবদুর রব বলেছেন, ‘আজকে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদ করছি। আর প্রতিবাদ নয়, জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে, মাঠের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ঐক্যফ্রন্টকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতি’র প্রতিবাদে কালো ব্যাজ ধারণ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে জাতীয় ঐক্যফ্রট। বিকেল ৩টায় এ কর্মসূচি শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় তা শেষ হয়।

আসম আবদুর রব বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট ছিল-আছে-থাকবে। লাখ লাখ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে খালেদা জিয়াসহ সবার মুক্তি দিতে হবে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে প্রহসন ও গণতন্ত্র হত্যা এবং মানুষ নিহত-আহত হয়েছেন। মানুষ কথা বলতে পারে না। সন্তান প্রসবের আগের রাতেই হত্যা করা হয়েছে। মানে ৩০ নয় ২৯ ডিসেম্বর রাতেই ভোট ডাকাতি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে ডাকাতি করে উৎসব চলছে। এই উৎসবে শকুনেরা বসেছে। সব প্রতিষ্ঠান দল ও ব্যক্তির অধীনে নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্র আজ ধ্বংস। সব লুট হয়ে গেছে। যে দেশের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনিয়ম করে সে দেশের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ থাকে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। ৩০ ডিসেম্নর ভোট ডাকাতির সব উলঙ্গ করা হবে। বাংলাদেশ আজ রাষ্ট্রে নেই প্রজাতন্ত্রও নেই।’

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘২৯ ডিসেম্বর রাতেই নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। আমরা নির্বাচন বাতিল চেয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে দাবি করেছি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে যেমন কুকুর বিড়াল ভোট কেন্দ্রে ছিল। কিন্তু দেশের মানুষ কখনোই কারো অন্যায় মেনে নেয় নি। আবারো মানবে না।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে বন্দি করে বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। মানুষের ভোটাধিকারকে ফিরিয়ে দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের পুলিশ, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। মেগা উন্নয়নের নামে তারা মেগা দুর্নীতি করছে। এই হলো বর্তমান সরকারের উন্নয়নের নমুনা! এটাই একটা স্বৈরাচারী সরকারের চরিত্র। ভোট দখলের পর সরকার দেশের রাজনৈতিক সংকটকে আরো দীর্ঘায়িত করেছে। এভাবে তো গণতান্ত্রিক অধিকারের সংকট নিরসন হবে না। অথচ এজন্য কিন্তু দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেনি। সরকারকে একদিন জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ইনশাআল্লাহ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো।’

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্ট ও ঐক্যফ্রন্টের ঢাকা মহানগরের সমম্বয়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘জোরালো আন্দোলন শুরু হলে কিন্তু বুঝতে পারবেন। সুতরাং সময় থাকতে নতুন নির্বাচন দিন। আমরা শান্তিপূর্ণ থাকতে চাই।’

গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘নির্লজ্জ সরকার। বিশ্বের কোথাও এধরনের সরকার আর নেই। ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারকে ছাড়িয়ে গেছে। ৫ জানুয়ারি এক কান কাটা গেছিল। এবার তার পূর্ণতা পেয়েছে। তারা নোবেল পাক!! রোহিঙ্গা ডেকে আনলো কিন্তু তাদেরকে ফেরত পাঠানোর মরদ নেই। ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের লাঞ্চ বানিয়ে তার ওপর দাঁড়িয়ে নর্তন-কীর্তন করছে। তাদের মনে অনেক জ্বালা আর মুখে কাষ্ঠ হাসি। এদের আমলে বিচার বিভাগ, ভোটাধিকার সব কিছু অর্থহীন। মিথ্যা মামলায় নিপীড়তদের কাঁন্নায় আকাশ ভারি হয়ে উঠেছে। ওই কাঁন্নায় সরকারের পতন হবে।’

গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের অবস্থা মর্মান্তিক। ৩০ ডিসেম্বর বিনা জানাজায় দেশের মানুষের ভোটাধিকারকে কবর দেয়া হয়েছে। এখন চলছে পুরস্কার প্রদানের উৎস। অপেক্ষা করেন সামনে দেখবেন প্রশাসন ও পুলিশের রঙ্গ-লীলা দেখার জন্য।’

আবদুস সালামের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে একাত্বতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা সেলিমা রহমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কাজী আবুল বাশার, আবদুস সালাম আজাদ, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, হাবিবুল ইসলাম হাবীব, এম এ আউয়াল খান, শামীমুর রহমান শামীম, শিরিন আক্তার, শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, জেএসডির আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের শহিদুল্লাহ কায়সার, গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিঃ মহাজোটের শরীক জাসদের স্বীকারোক্তি!


ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার কথা কবুল করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। এজন্য প্রশাসনে অতি উৎসাহী একটি অংশ দায়ী বলে মনে করছে দলটি।

গত ১লা ও ২রা ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ জাসদ-এর জাতীয় কমিটির সাধারণ সভায় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে এভাবে মূল্যায়ন করা হয়। পরে এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জাসদ তাদের সভার মূল্যায়ন তুলে বলে, দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পরে বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি। এর মূল কারণ হচ্ছে, প্রশাসনের এক শ্রেণির অতি উৎসাহী অংশ ভোটের পূর্ব রাত্রেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের জয় এই নির্বাচনে ‘নিশ্চিত’ ছিল উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাসদ বলেছে, জনগণের ভোটের মাধ্যমে ১৪ দল তথা মহাজোটের নিশ্চিত বিজয় জেনেও যে মহল বিশেষ এ অপকর্ম সংঘটিত করেছে, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কেননা এ কলঙ্কিত ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এ কলঙ্কের দাগ মুছতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে দলটি।

ঢাকার তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন দলের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, মোহাম্মদ খালেদ, আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, নাসিরুল হক নওয়াব, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, সহ-সভাপতি আবু মো. হাশেম, কলন্দর আলী, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম সিকদার, আবুল কালাম আজাদ বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল হক খোকন, বীণা শিকদার, হোসাইন আহমদ তফসির প্রমুখ।

সভায় দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদসহ সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানানো হয়। এ দাবিতে বাংলাদেশ জাসদ আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারী দেশব্যাপী মানববন্ধন, সভা, শোভাযাত্রা, মত বিনিময় প্রভৃতির মাধ্যমে দলীয় মার্কামুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিবস পালন করবে।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারী দলের প্রয়াত নেতা কাজী আরেফ স্মরণে ‘কাজী আরেফ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ। সভা থেকে আগামী অক্টোবরের আগে জেলা সম্মেলন এবং নভেম্বররে কেন্দ্রীয় সম্মেলন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলটি।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ছাত্রদল করায় ৩ চিকিৎসককে পুলিশে দিল ছাত্রলীগ


ছাত্রদল করায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩ ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

আটক ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হলেন, খুলনার ফুলতলা এলাকার ফজলুল হকের ছেলে রাফসান জনি আবির, একই এলাকার কাজী আহসানুল হকের ছেলে কাজী আবু তালহা ও যশোরের ঝিকরগাছা এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে মাহফুজুর রহমান শিমুল।

আটক চিকিৎসকদের মধ্যে আবির মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, শিমুল সহসভাপতি এবং তালহা সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে ক্যাম্পাস সূত্র। তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ৪৪তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, মেডিকেল কলেজের ৪৬ ব্যাচের ছাত্র ছাত্রলীগ নেতা ফেরদৌস ও সজল পান্ডের নেতৃত্বে আরও কয়েকজন কর্মী আবির, শিমুল ও তালহার ওপর হামলা চালান। এ সময় পিটিয়ে তাদের ৩ জনকে আহত করেন। পরে পুলিশে সোপর্দ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সজল পান্ডে বলেন, শিমুল একসময় শিবিরের রাজনীতি করলেও এখন ছাত্রদলে যোগ দিয়েছে। এছাড়া বিএনপির আমলে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অনেক অত্যাচার নির্যাতন করেছিল আটক ওই তিনজন। তারা দির্ঘদিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিল। দুপুরে তাদের ক্যাম্পাসে পেয়ে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের রোষাণল থেকে বাঁচাতে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম জানান, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে সরকারবিরোধী নানা অপপ্রচার চালানোরও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ হ্যাশট্যাগ মিটু’তে ইটিভি’র রিপোর্টার মিনালা দিবাঃ একুশে টিভি’র (ইটিভি) চিফ রিপোর্টারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ!


একুশে টেলিভেশনের নারী সহকর্মী মিনালা দিবাকে যৌন হয়রানির অভিযোগের মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভি’র (ইটিভি) চিফ রিপোর্টার (প্রধান প্রতিবেদক) এম এম সেকান্দারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদারের আদালতে এ মামলার শুনানি হয়। তার বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই নারী।

সোমবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ মিটু-তে একুশে টেলিভেশনের (ইটিভি) প্রতিবেদক মিনালা দিবা লিখেছেন, ‘#Metoo অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমি মিডিয়ায় এসেছিলাম বড় একজন সাংবাদিক হব বলে। ভেবেছিলাম আকাশের তারা হবো। যুক্ত হয়েছিলাম দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান একুশে টেলিভিশনের সাথে। শুরুতে বেশ ভালই কাটছিল। সহকর্মী বড় ভাই ও আপুরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এই স্বপ্নের প্লাটফর্মে পা দিয়ে কিছুদিনের মধ্যে পরিচিত হলাম মুখোশের অন্তরালে থাকা সমাজের এক নরপশুর সাথে। দুঃখজনক হলেও সত্য যাকে আমি বড় ভাই হিসেবে শ্রদ্ধা করতাম সে আমার কাছে উন্মুক্ত করলেন তার নোংরা রুচির নানা আবদারের ঝুলি। সেই নরপশুর নাম এম এম সেকান্দার। একুশে টেলিভিশনের বর্তমান চীফ রিপোর্টার ও প্ল্যানিং এডিটর।’

এর আগে দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানা পুলিশ ফাঁড়ির (উপ-পরিদর্শক) মবিন আহমেদ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত এম এম সেকান্দারকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার ও তুহিন হাওলাদার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানিতে অভিযুক্তের আইনজীবীরা বলেন, ‘মামলার এজহারের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনার কোনও মিল নেই। এ আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নেই। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। অভিযুক্ত জামিন পেলে পলাতক হবেন না।’ অপরদিকে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) জাহিদুর রহমান জামিন নামঞ্জুর করে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুইদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

ভিডিওঃ ‘একুশে টিভির মনজুরুল আহসান বুলবুল ও এম এম সেকান্দার কর্তৃক নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

প্রসঙ্গত, রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে র‍্যাব-২ এর একটি দল এম এম সেকান্দারকে তার বনশ্রীর বাসা থেকে গ্রেফতার করে। এরপর সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে হাতিরঝিল থানায় সোপর্দ করা হয়। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ ফজলুল করীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় ভুক্তভোগী নারী মামলাটি করেছেন। মামলায় এম এম সেকান্দারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের অভিযোগ এনেছেন ওই তরুণী।’

মামলা করার আগে এই নারী সাংবাদিক ইটিভি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ২৮ জানুয়ারি চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর এম এম সেকান্দারের বিরুদ্ধে তিন পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি। তাতে হয়রানির পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ওই নারীর অভিযোগ, তাকে দীর্ঘদিন ধরে সেকান্দার যৌন হয়রানি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কথা বলতে গেলেও তিনি তাদের কাছে পাত্তা পাননি।

ভুক্তভোগী নারীর আরও অভিযোগ, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রিপোর্টিং কোর্স করার সময় এম এম সেকান্দারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তার মাধ্যমেই ইটিভিতে চাকরি পান ওই নারী। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সেকান্দার তাকে বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানি করেছেন। কোনও কারণ ছাড়াই তাকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে বসিয়ে রাখতেন। এরপর সেকান্দার তার নিজের গাড়িতে করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতেও যৌন হয়রানি করতেন। এই কাজে চ্যানেলটির আরও কয়েকজন সেকান্দারকে সহায়তা করতেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

উৎসঃ ‌বাংলা ট্রিবিউন, সময় টিভি, বাংলা নিউজ২৪

আরও পড়ুনঃ ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে গ্রেফতার এড়াতে গণভবনে ধরণা দিচ্ছেন মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল!


একুশে টেলিভিশনে নারীকর্মীদেরকে জোরপূর্বক ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে চ্যানেলটির প্রধান নির্বাহী কথিত সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সহযোগী ও চিফ রিপোর্টার এম এম সেকান্দরকে সোমবার রাতে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর তাকে রিমান্ডেও নিয়েছে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে সেকান্দর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। বুলবুলের প্ররোচনাতেই তারা কয়েকজন নারীকর্মীদেরকে উত্যক্ত করতো বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এমনকি সেকান্দরের বাসায় নারীকর্মীদেরকে নিয়ে বুলবুল রাত যাপন করেছে বলে রিমান্ডে পুলিশকে জানিয়েছে সেকান্দর।

একটি সূত্রে জানা গেছে, সেকান্দরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন বুলবুল। এখন শুধু সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন প্রশাসন। কারণ, বুলবুলের সম্পর্কটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে। বিশেষ করে গোলাম সরওয়ার মারা যাওয়ার পর বুলবুলই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চাটুকারিতার দায়িত্বটা পালন করছেন। তাই, সরকারের সবুজ সংকেত ছাড়া বুলবুলকে গ্রেফতার করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন। তবে সূত্রটি বলেছে, পুলিশ বুলবুলকে গ্রেফতার না করলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারে।

ভিডিওঃ ‘ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে বুলবুল ও সেকান্দারের শাস্তির দাবীতে একুশে টিভির সাংবাদিকদের মানববন্ধন’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

একুশে টিভির একটি সূত্রে জানা গেছে, বুলবুল এখন গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। গ্রেফতার থেকে রক্ষা পেতে তিনি একুশে টিভির পরিচালক আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সুবহান গোলাপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ধরণা দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে, বুলবুলের এই অপকর্মে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। কারণ, বুলবুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অনুরোধ জানিয়েছেন নারীরা। এখন বুলবুলের বিষয়টা নিয়ে সরকারও চরম বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে আছেন।

এদিকে, একুশে টিভিতে কর্মরত নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতনের মূল হোতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের গ্রেফতার দাবিতে মাঠে নেমেছেন সাংবাদিক সমাজ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সেকান্দরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বুলবুলের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। মানববন্ধনে নির্যাতন-হয়রানির শিকার একুশে টিভির এমন কয়েকজন নারী সাংবাদিকও বক্তব্য রাখেন। নারীদের সম্মান রক্ষায় বুলবুলকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করেছেন।

মানববন্ধনে একজন সাংবাদিক বলেছেন, এটিএন বাংলায় থাকাকালীনও বুলবুল নারীকর্মীদের সঙ্গে এমন অপকর্ম করেছেন। তার অপকর্মের ভিডিও এমন জায়গায় পৌছেছে যা খুবই লজ্জাকর।

অপরদিকে, একুশে টিভির আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে চ্যানেলটিতে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। ঘটনাগুলো ফাঁস হওয়ায় বুলবুলের পক্ষের লোকজন এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। বুলবুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা মালিক পক্ষকে চাপ দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে। এখন যেকোনো মুহূর্তে বুলবুলকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘোষণাও আসতে পারে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বুলবুলের নারী কেলেঙ্কারিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাংবাদিকরা


নারীকর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর চরম বিব্রতক অবস্থায় পড়েছেন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতা ও দখল করে নেয়া একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। একুশে টিভির কয়েকজন সাংবাদিক ও বুলবুলের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। ইলিয়াস হোসাইনের ভিডিওটি সামাজিক যোগগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বুলবুল বাইরে বের হচ্ছেন না। কোনো প্রোগ্রামাদিতেও যাচ্ছেন না। সূত্রটি বলেছে, বুলবুলের এসব অপকর্ম ফাঁস হওয়ার পর তার স্ত্রীও এনিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার সংসারে এখন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। দুই দিন ধরে বুলবুলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছে না তার আত্মীয় স্বজনও।

এদিকে, বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতন ঘটনা প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সাংসাদিক মহলেও। গত দুই দিন ধরে প্রেসক্লাব ও ডিআরইউতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বুলবুলের যৌণ হয়রানির ঘটনা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন আওয়ামীপন্থী অংশের নেতারাও বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। বুলবুলকে এড়িয়ে চলতে কয়েকজন সাংবাদিক নেতা তাদের সহকর্মীদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এরপর, বুলবুলের এই নারী কেলেংকারির ভিডিওর খবর পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনেও। জানা গেছে, শনিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত চা-চক্র অনুষ্ঠানেও বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে অনেকেই কানাঘুষা করেছেন। এক কান দুই কান করে এটা শেখ হাসিনার কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের হাত থেকে নারী সাংবাদিকদেরকে রক্ষা করার জন্য একুশে টিভির কয়েকজন নারীকর্মী যে অনুরোধ করেছেন সেটাও জেনেছেন প্রধানমন্ত্রী। এনিয়ে বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে, বুলবুলের এই ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর একুশে টিভির স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছে- বুলবুলের নামে সাংবাদিক ইলিয়াস অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর জামায়াত-শিবিরের কিছু সাইট এগুলো প্রচার করছে।

এনিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, বুলবুল তার নারী কেলেংকারির ঘটনা চাপা দিতে এখন জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। বাংলাদেশে যখনই যা ঘটেছে বুলবুলরা সব সময় জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। এবার বুলবুল তার প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতন করে এটার দায়ও চাপানোর চেষ্টা করছেন জামায়াত-শিবিরের ওপর।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here