ইসরাইলের ১০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল ফিলিস্তিনি বাসিন্দা আবদুল রউফ

0
459

ইসরাইলের দেওয়া ১০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন হেবরনের এক ফিলিস্তিনি।

ইসরাইল সরকার ফিলিস্তিনের আল-সালাহ শহরের কাছে হেবরন এলাকায় একটি বাড়ি ও দোকান কিনতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেন পশ্চিম তীরের বাসিন্দা আবদুল রউফ আল-মহতাসেবকে। তবে তিনি ইসরাইলের এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। খবর মিডলইস্ট মনিটরের।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আল-মহতাসেব তার বাড়ির ও দোকানের জন্য ইসরাইলি সব ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ এ পুরনো শহরটির কেন্দ্রস্থলে ইব্রাহিমি মসজিদ উপেক্ষা করে তিনি এমনটি করতে পারেন না বলে জানান ওই ফিলিস্তিনি।

আল মহতাসেব বলেন, আমি ১০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। আমি পৃথিবীর সব টাকা ত্যাগ করতে পারি। তবে আমি আমার জন্মভূমি ও মানুষের সঙ্গে বেঈমানি করতে পারি না। টাকা থাকা ভালো, তবে তা যখন পরিষ্কার হয়।

ইব্রাহিমি মসজিদ

লেবানন ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-মায়াদিন টিভিকে আল-মহতাসেব বলেন, আমাকে দেওয়া প্রস্তাবটি প্রথমে ৬ মিলিয়ন ছিল। পরে এটি বেড়ে ৪০ মিলিয়ন এবং অবশেষে ১০০ মিলিয়নে দাঁড়ায়। তিনি জানান, জোর করেও তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেনি। তিনি আরও জানান, তিনি ইব্রাহিমি মসজিদের পাহারায় থাকবেন।

ইসরাইলি মধ্যস্তকারীরা তাকে অস্ট্রেলিয়া বা কানাডায় নতুন জীবন শুরু করতে সাহায্য করবে। এ ছাড়াও নতুন ব্যবসারও ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু তিনি সব ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান।

আল-মহতাসেব জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলি মধ্যস্থকারীরা তার বাড়ির মূল্য আরও বৃদ্ধি করতে চায়। কিন্তু তিনি জন্মভূমিকে ভালোবাসেন। তিনি তার ২০ নাতি-নাতনি নিয়ে বাকি জীবন হেবরনে কাটিয়ে দিতে চান। তিনি দুঃখ করে বলেন, আমি আমার শৈশব কাটিয়েছি এখানে। কিন্তু আমার নাতি-নাতনিদের এখান থেকে বঞ্চিত করতে চাই না।

আরেকটি সাক্ষাৎকারে একটি অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আমি পেশাগত কারণে জর্ডান যাওয়ার সময় ভ্রমণ বাতিল করি এবং ফিরে আসি হেবরনে। আমরা প্রকৃত জেলখানায় বসবাস করছি।

তিনি বলেন, ইসরাইলি দালাল বোয়াজ আমার কাছে ৩০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। একটি ইট নিয়ে বললাম তুমি কি এ ইট কিনতে চাও? সে বলল, আমি পুরো বাড়ি কিনতে চাই। আল-মহতাসেব প্রতিউত্তরে বলেন, একটি ইটের দামও ৩০ মিলিয়ন যথেষ্ট নয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ঈমান এনেছি, আল্লাহ আমার জীবনকে বদলে দিয়েছেন: ধর্মান্তরিত নারী


অ্যাঞ্জেলিকা হ্যান্ডসন: আমি ইসলামে ধর্মান্তরিত নারী। আমি আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি এবং আল্লাহ আমার জীবনকে বদলে দিয়েছেন।

আগে আমি খুবই দুঃসাহসী ধরনের ছিলাম। ছোটকাল থেকেই আমি সবসময়ই বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করতে চাইতাম।

কিন্তু যখনই কোনো সাহসিক কাজ শেষ হয়ে যেত, তখনই আমি আমার জীবনে শুন্যতা অনুভব করতাম। তাই আমি অন্য কিছু খুঁজছিলাম। তাই আমি অনেক দেশ ভ্রমণ করেছি এবং অনেক কিছু দেখেছি এবং এটি আমাকে আমার বন্ধুদের কাছে অত্যন্ত ক্রেজি করে তুলেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি সবসময়ই একা অনুভব করতাম।

আমি মিশরে গিয়েছিলাম এবং মিশর ভ্রমণই আমাকে ইসলামের সংস্পর্শে নিয়ে আসে। সেখানে আমাকে অনেক দরিদ্র মানুষ তাদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল; যা আমাকে খুবই বিস্মিত করেছিল। আমার কাছে মনে হয়েছিল, যারা যত বেশি দরিদ্র, তাদের আতিথেয়তাও যেন তত বেশি। তারা তাদের শেষ খাবার টুকুও আমার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিল।

তাদের এই প্রশান্তি কোথা থেকে আসে তা আমি অনুসন্ধান করতে থাকি।

এবং তারপর আমি সিনাই উপত্যকার দাহাবে চলে আসি এবং এখানেই আমি আমার জীবন সঙ্গীর সন্ধান পাই। সেখানে আমরা পশ্চিমাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করি এবং আমি সবসময় তাকে বলতাম- আমাদের সংস্কৃতিই উত্তম এবং আমি যখনই যুক্তিতর্কে লিপ্ত হতাম, তখনই বুঝতে পারতাম যে পশ্চিমা সংস্কৃতির চেয়ে ইসলামি সংস্কৃতি অনেক বেশি মহান। বলা যায় তিনি আমাকে ভালভাবে কনভিন্স করতে পেরেছিল।

পরে আমরা দুজনে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হই এবং বিয়ের কয়েক মাস পরেই আমি ইসলামে ধর্মান্তরিত হবার সিদ্ধান্ত নেই। আমার স্বামীর নাম আলা জাকারিয়া। আবদুর রহমান ও শেরহান নামে আমার দুটি সন্তান রয়েছে।

আমি যখন প্রথমবারের মতো জাকাত প্রদান করি, সেটি আমাকে অত্যন্ত আনন্দিত করেছিল। আমি বুঝতে পারি যে আমাদের অর্থ এবং আমাদের সম্পদে আল্লাহর আশীর্বাদ রয়েছে।

এবং আমি মনে করি জাকাত প্রদান করা একটি উত্তম কাজ কারণ এর মাধ্যমে ধনী ও দরিদ্র ব্যক্তিরা একসঙ্গে মিলিত হতে পারেন। এটা ধনী-দরিদ্রের মধ্যেকার ব্যবধান দূর করে।

তাই আমি চাই যেন কোথাও কোন দরিদ্র না থাকে এবং আমরা যেন সবাই একসঙ্গে সুখী হতে পারি।

উৎসঃ ‌এবাউট ইসলাম অবলম্বনে

আরও পড়ুনঃ অন্ধকার জগত থেকে মার্কিন ফটোগ্রাফার নিকোল কুইনের ইসলামে ধর্মান্তিত হওয়ার গল্প


টেক্সাস: আমেরিকান মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট নিকোল কুইন একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম, ১৯৮১ সালে হিউস্টনের এক খ্রিস্টান পরিবারে তার জন্ম। তিনি পেশায় একজন পেশাদার ফটোগ্রাফার।

আমেরিকার শহর হিউস্টন, অরেঞ্জ এবং টেক্সাসে বড় ভাই জোয়ের সঙ্গে তার ছোটবেলার অধিকাংশ সময় কেটেছে। ৮ বছর বয়সে নিকোল ও তার ভাই জোয়ি তাদের পালিত বাবা-মা’র সঙ্গে ডালাসের দক্ষিণে অবস্থিত একটি ছোট্ট শহরে চলে আসেন এবং তার স্নাতক শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন।

১৭ বছর বয়সে নিকোল ‘পামার হাই স্কুল’ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং তার জীবন শুরু করার জন্য নিজের অ্যাপার্টমেন্টে চলে যান। নিকোল তার নিজের ব্যয়-ভার বহনের জন্য ফটোগ্রাফির ওপর কোর্স করেন এবং ফটোগ্রাফি স্টুডিওতে তার কর্মজীবন শুরু করেন।

মাত্র দুই বছরে মধ্যে নিকোল একটি ফটোগ্রাফি স্টুডিও পরিচালনা করতে সক্ষম হন এবং বিভিন্ন রাজ্যে ভ্রমণ করতে থাকেন। টানা কয়েক বছর শহর থেকে শহরে ছুটে বেড়ানোর পর তিনি নিউইয়র্কে একটি স্টুডিও পরিচালনা করতে শুরু করেন। এই সময়ের মধ্যে নিকোল তার দক্ষিণের শিকড়কে অনুভব করেন এবং নিজের ফটোগ্রাফির ব্যবসা শুরু করার জন্য টেক্সাসে ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নেন।

তার নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এবং কাজের জন্য বিভিন্ন শহরে ভ্রমণে নিকোল একটি অস্থায়ী জীবনধারার স্বাদ লাভ করেন। তিনি যেখানেই থাকতেন না কেন, সেখানে তিনি কখনো তার শিকড় রাখতেন না এবং নিজের জীবনকে একটি বিশাল সুযোগ হিসেবে দেখেন।

সামাজিককরণের ক্ষেত্রে নিকোল ছিলেন অত্যন্ত স্বাভাবিক একজন মানুষ। বিভিন্ন শহরে তার বসবাসের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অত্যন্ত দ্রুত বন্ধু তৈরি করতে শিখেন এবং তা অতি দ্রুত ছুড়ে ফেলেও দিতেন।

তিনি ‘নাইটলাইফ’ দৃশ্যকে তার নিজের ফটোগ্রাফি ব্যবসায় ফোকাস করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এতে তিনি অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। তিনি খুব দ্রুতই ডালাসের একমাত্র নারী ‘নাইট লাইফ’ ফটোগ্রাফার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন এবং পার্টি শিল্পের বড় বড় ক্লায়েন্টস অর্জন করেন।

ফটোগ্রাফি ব্যবসার কারণে জাস্টিন টিম্বারলেক, টিম্বারল্যান্ড, কেট হুডসন, টমি লি’র মতো নামকরা অগণিত ক্রীড়াবিদ, অভিনেতা ও মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। প্রতিটি রাতে নিকোল বিভিন্ন ক্লাবে রাত ৩টা পর্যন্ত কাটাতো এবং দুপুর পর্যন্ত ঘুমাতো। মদ্যপান ছিল তার একটি স্বাভাবিক অভ্যাস এবং এটি তার জীবনধারার অংশ হয়ে ওঠে।

এভাবে নিকোলের আত্মা অনুভূতি হারিয়ে ফেলতে শুরু করে। তার জীবনে আরো বেশি কিছুর প্রত্যাশা করেন এবং জীবনের অস্তিত্ব সম্পর্কে অন্যদের সঙ্গে গভীর কথোপকথনে নিজেকে জড়িত করতেন। ক্লাব, পার্টি ও লোভের দ্বারা পরিবেষ্টিত বহু বছরের বস্তুবাদী জীবনধারার পর নিকোল আত্মার সন্ধান শুরু করেন এবং মাত্র দুই বছরের মাথায় তিনি ইসলামি বিশ্বাসে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কিছুই জানত না।

জীবনের অর্থ খোঁজার সময় পৃথিবীর সব অংশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বন্ধুরা তাকে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এক রাতে শুটিং শেষে এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তার সঙ্গে বন্ধু তৈরি করেন। তার বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই মুসলিম ছিলেন। কিন্তু তারা সবাই একই ভাবে নিকোলের মতোই জীবন-যাপন করতেন।

ধর্মীয় মানুষ হিসাবে তারা কখনো নিকোলের মনোযোগ আকর্ষন করত না। তার নতুন আত্মার অনুসন্ধানের দুঃসাহসিক যাত্রায় তার নতুন মুসলিম বন্ধুটি তার সঙ্গে ঘন্টার পর ঘণ্টা কথা বলতেন। তারা জীবন, অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত সম্পর্কে কথা বলতেন এবং তারা উভয়েই তাদের বর্তমান অবস্থানের চেয়ে বিশ্বকে আরো বেশি কিছু অফার করার অনুভূতি অনুভব করতেন।

নিকোল অনেকগুলো উৎস থেকে ইসলাম সম্পর্কে শুনেছেন কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রভাবটি এসেছে ইসলামের সঙ্গে তার প্রকৃত অভিজ্ঞতা থেকে। ইসলামি বিশ্বাসের শৃঙ্খলা তাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে।

মদ্যপান না করেই কিংবা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত না হয়ে কীভাবে মুসলমানরা তাদের জীবনযাপন করতে পারে এবং ক্লাব-পার্টিতে সময় নষ্ট না করে তারা তাদের জীবনকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে- তা নিকোলের মনে বিস্ময়ের জন্ম দেয়।

তিনি অনলাইনে ইসলামের সঙ্গে নিজেকে আবিষ্ট করে ফেলেন। ইসলাম গ্রহণকারী মুসলমানদের সম্পর্কে জানতে কখনো কখনো তিনি সমস্ত রাত পার করে সূর্যোদয় পর্যন্ত ইউটিউবে ভিডিও দেখছেন। ইসলাম গ্রহণকারী এসব মুসলমানদের কাহিনী তার জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল কারণ এই লোকেরা একই ধরনের আকাঙ্খার কারণে তারা ইসলামের শান্তি খুঁজে পেয়েছিল।

ইসলাম নিয়ে নিকোলের ক্রমবর্ধমান নানা প্রশ্ন আর তার মনোযোগের বিষয়টি বেশ ভালভাবেই খেয়াল করেন ওই মুসলিম যুবকটি। তিনিই তাকে প্রথম ইংরেজি ভার্সনের একটি কোরআন উপহার দেন। এছাড়াও, মসজিদের মুসলিম শ্রেণির সম্পর্কে তিনি নিকোলকে ধারণা দেন। ইসলামের সৌন্দর্যের জন্য নিকোলের প্রশংসা যুবকটিকে উৎসাহিত করে নিকোলকে ইসলামের সঙ্গে আরো বেশি ঘনিষ্ট করে তুলতে।

একসময় তারা ধীরে ধীরে তাদের ঘনিষ্টতা কমিয়ে দেন এবং প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব উন্নতির দিকে ফোকাস করার সিদ্ধান্ত নেন। এভাবে মাসের পর মাস পেরিয়ে যেতে থাকে এবং ধীরে ধীরে নিকোল তার জীবনের জন্য ভালবাসা অনুভব করতে থাকেন এবং তার হৃদয়ে ঈশ্বরের ভাবনা গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে কঠোর পরিবর্তন দেখে তার পার্টির বন্ধুরা বিভ্রান্ত হয়ে যান।

টানা ৫ থেকে ৬ মাস ইসলাম নিয়ে অধ্যয়নের পর নিকোল তার জীবনে উন্নতি দেখতে পায়। ইতোমধ্যে তার হৃদয়ে কালেমা ‘শাহাদা’ ঘোষণার অনুভূতি জাগ্রত হয় এবং নিকোল সিদ্ধান্ত নেয় যে বিষয়টি অন্যদের কাছে ঘোষণার জন্য তিনি প্রস্তুত আছেন।

লজ্জা ও অস্বস্তিকর অবস্থা দূর করতে পরামর্শের জন্য তিনি তার পুরানো মুসলিম বন্ধুটির শরণাপন্ন হন। তখনো পর্যন্ত তার ইসলামের অধ্যয়নে নিবেদিত থাকার বিষয়ে মুসলিম বন্ধুটি অবাক হয়ে যান এবং অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে তিনি তার ইসলাম গ্রহণের সব আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করেন।

ইতোমধ্যে নিকোল কয়েকজন মুসলিম নারীর সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করেন। তিনি তার মেয়ে বন্ধুদের নিয়ে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের কক্ষে প্রবেশ করেন। কালেমা শাহাদা পাঠের জন্য তাকে প্রস্তুত করতে ওই নারীরা তাকে সাহায্য করেন। নিকোলের কথায় ‘তারা ছিল খুবই হেল্পফুল’ এবং এজন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন।

কালেমা পাঠের জন্য নিকোল লম্বা একটি সাদা লিনেন স্কার্ট পরেন এবং মাথায় হিজাব পরিধান করেন। নতুন বান্ধবীরা তাকে ওজু এবং স্কার্ফ পরতে সাহায্য করেন। ডাঃ ইউসুফ জিয়া কাভাসি নামে তুর্কি বংশোদ্ভূত একজন ইমাম তাকে কালেমা পাঠ করান।

ইসলামের প্রথম এই যাত্রায় নিকোলের চোখ-মুখে গোলাপী আভা ফুটে ওঠে। শাহাদা পাঠের আগে ইমাম তার কাছে জানতে চান-তিনি যা করতে যাচ্ছেন তা সুস্থ মস্তিস্কে করছেন কিনা। এরপর ইমাম তার নিকট কালেমার অর্থ সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি তাকে ইংরেজি ও আরবি উভয় ভাষাতেই কালেমা পাঠ করান।

ইসলাম গ্রহণের পর নিকোলের জীবন পুরো বদলে যায়। তিনি তার ‘নাইটলাইফ’ ফটোগ্রাফির কাজ ছেড়ে দেন এবং ডালাসের শহরতলিতে একটি বৃহৎ কর্পোরেশনে ডে শিফ্টের নতুন চাকরি খুঁজে পান।

ইসলামের প্রতি তার দৃঢ় একাগ্রতা তাকে মহান আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে তার সম্পর্ক বৃদ্ধি পেতে থাকে। একদা মদ্যপান ও পার্টিতে সময় কাটানো নিকোল এখন ইসলাম সম্পর্কে আরো বেশি করে জানতে তার নতুন মেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং মসজিদে গিয়ে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন।

শাহাদা ঘোষণার কয়েক মাস পর নিকোল ইসলাম সম্পর্কে আরো জানার গভীর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। এজন্য তিনি একটি মুসলিম দেশ সফর করার জন্য দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন। আমেরিকার বাইরে অন্য কোথাও যাওয়ার কোনো অভিজ্ঞতা তার ছিল না।

নিকোল বলেন, ‘মুসলিম দেশে বসবাসকারী মানুষেরা কিভাবে জীবন যাপন করে, কেমন করে ধর্ম-কর্ম করে একজন মুসলিম হিসাবে সে সম্পর্কে আরো জানতে চেয়েছিলাম।’

নিকোল তার এই আকাঙ্ক্ষার কথা তার একজন মুসলিম ছেলে বন্ধুর কাছে জানান। ওই বন্ধুটি জর্ডানে তার পরিবারের কাছে নিকোলের ইচ্ছার কথাটি জানান এবং জর্ডান সফরে নিকোলকে তার পরিবারে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। ২০০৮ সালের নভেম্বরে নিকোল প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্য সফর করেন।

মধ্যপ্রাচ্য সফর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একাকি জর্ডান সফরের ব্যাপারে আমি খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছিলাম। আমি সেখানকার খুঁটিনাটি সবকিছুই দেখতে চেয়েছিলাম। এটা খুবই মজার ছিল কারণ যারা আমাকে দেখেছিল, তারা ধরেছিল যে আমি জর্ডানেরই নাগরিক।’

সেই স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সেখানকার অধিকাংশ মেয়েই হিজাব পরিধান করে। আমিও চেয়েছি তাদের মতো করে এটি পরতে। সেখানে আমার অতিথি মায়ের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ। তিনিও হিজাব পরতেন এবং আমাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন।’

তার অতিথি পরিবারটি তাকে তাদের মেয়ের মতোই আদর করত এবং তাকে তাদের পছন্দের রেস্টুরেন্ট, দোকান এবং কফি হাউসে নিয়ে যেত।

সেখানকার প্রায় ৩০ শতাংশ মেয়েই হিজাব পরিধান করে না এবং তারা সাধারণত প্রকাশিত পশ্চিমা পোশাক পরিধান করেন। এই বিষয়টি নিকোলকে বেশ কষ্ট দেয়।

আম্মানের নতুন পরিবেশে হিজাবে নিকোল তার নিজেকে অত্যন্ত পবিত্র অনুভব করেন এবং অন্যদের কাছ থেকে অনেক প্রশংসা কুড়ান। এটি তার আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছিল। নিজ দেশে ফিরে গিয়ে হিজাব চেড়ে দেয়ার চিন্তাটি তিনি ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন।

নিকোল বলেন, ‘মাত্র ৩০ দিনের জন্য যদি কেউ হিজাব পরিধান করে আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি তিনি এটি কখনো ছাড়তে পারবেন না। এটি তার অন্তরে অন্যরকম সুখের অনুভূতি নিয়ে আসবে।’

নিকোল জর্ডান থেকে টেক্সাসে ফিরে আসেন এবং তার জর্ডানী মুসলিম বন্ধুটির সঙ্গে তার নতুন অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য অত্যন্ত উদগ্রীব ছিলেন। সকালে ফজরের নামাজের জন্য মুসলিম বন্ধুর মা তাকে প্রতিদিন জাগিয়ে তুলতেন এবং সূর্যাস্তের সময় তাদের আম্মানের শ্বেত পাথরের ঘর থেকে তাকে সূর্যের বিভিন্ন রঙের বর্ণালী দেখাতেন। এসব বিষয় তিনি অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে মুসলিম বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করেন।

আজ থেকে ৪ বছর আগে নিকোল ইসলামে ধর্মান্তরিত হন এবং এটি এখনো তার কাছে নতুন অনুভূতি জন্ম দিচ্ছে বলে তিনি জানান। তার মুসলিম বন্ধুটি পরে তার নিজের ব্যক্তিগত যাত্রা শুরু করেন এবং মক্কা থেকে হজ করে ফিরে আসার পরই তিনি নিকোলের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তার পরিবারের সম্মতিতে জর্ডানের রাজধানী আম্মান তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

হাসান (নিকোলের মুসলিম বন্ধু) এবং নিকোল দম্পতি বর্তমানে ডালাস শহরের টেক্সাসে অত্যন্ত সুখেই বাস করছেন। নিকোল তার স্বামীর সহায়তায় দাওয়াতের মাধ্যমে তার জীবনের উদ্দেশ্য অব্যাহত রেখেছেন। দাওয়াতি কাজের জন্য তিনি তার নিজস্ব ওয়েবব্লগ চালু করেছেন, www.QueensofIslam.com।

নিকোল তার ব্লগে বলেন, ‘আমার ইসলামে ধর্মান্তর যাত্রায় আমি যে সকল সমস্যার মোকাবেলা করেছি, তা যাতে অন্যরা না করে-এই উদ্দেশ্য নিয়েই আমার এই দাওয়াতি ব্লগ।’

এছাড়াও তিনি আমেরিকার মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে দাওয়াত, ইসলামে ধর্মান্তর, জনগণের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্কে নিয়মিত কথা বলেন।

আল জাজিরার ‘ইসলাম ইন আমেরিকা’, আলজেরিয়া টিভির ‘দ্য চুজ ইসলাম’ এবং রাষ্ট্রদূত আকবর আহমেদের ‘জার্নি ইন্টু আমেরিকা’ তথ্যচিত্রের মাধ্যমে নিকোলকে তুলে ধরা হয়েছে।

সম্প্রতি নিকোল ও হাসান আমেরিকায় ইসলাম সম্পর্কে বিবিসির ডকুমেন্টারিটিতে অংশ নেন। ডকুমেন্টারিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আপনি চাইলে নিকোলের ফ্যামিলি ব্লগ অনুসরণও করতে পারেন। নিকোলের ফেসবুক পেজ দেখতে ক্লিক করুন এখানে।

উৎসঃ ‌নিকোল কুইন ডটকম অবলম্বনে

আরও পড়ুনঃ ‘ইসলাম গ্রহণের অনুভূতি অসাধারণ, এটি জীবনকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়’


সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, বিভিন্ন ধর্ম থেকে যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছেন যাদের বেশিরভাগই নারী। তবে একই সাথে তাদের নানান প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা সম্প্রতি ইসলাম গ্রহণ করা ছয়জন নওমুসলিমের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে, যেখানে তারা ইসলাম গ্রহণের কারণ ও ইসলাম গ্রহণের পর নানান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কথা বলেছেন।

শিখ পরিবার থেকে মুসলিম হওয়া ২৬ বছর বয়সী এক তরুণী বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আমি যে পরিবেশে বেড়ে উঠেছি তা বর্তমানের চেয়ে আলাদা, এখানে নারী পুরুষরা একে অন্যের সাথে তেমন মেলামেশা করে না।’

শাবির নামের এক নওমুসলিম নারী বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণের অনুভূতি অসাধারণ, এটি জীবনকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। তবে নারী আর পুরুষের ক্ষেত্রে সমাজের মানুষদের প্রতিক্রিয়া একই রকম হয় না। নারীদের অনেক বেশি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়।’

এমটিভির উপস্থাপিকা ক্রিস্টিনা বেকার বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়লে আমাকে চাকরি হারাতে হয়। যদিও বর্তমানে আমি অন্য একটি চাকরি করছি। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে তেমন বাধার সম্মুখীন হতে হয় না কারণ পুরুষদের ইসলাম গ্রহণের পর বাহ্যিকভাবে ততটা পরিবর্তন হতে হয় না। মেয়েদের হঠাৎ করে ইসলামিক সংস্কৃতি ও পোশাকের নিয়ম মেনে চলাও অনেক সময় কঠিন।’

ডা. আন্নি কক্সন বর্তমান নাম আমিনা বলেন, ‘আমি ইসলাম গ্রহণের পরপরই আমার পরিবার ও বন্ধুদের হারাতে হয়েছে তবুও আমি নতুন সম্প্রদায়ের সাথে মানিয়ে চলতে চেষ্টা করছি। আমি খেয়াল করেছি মুসলিমরা অনেক বিভক্ত। বিভিন্ন মসজিদে বা মুসলিমদের মাঝে আমাকে খুব একটা স্বাগত জানানো হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেখানে অন্যধর্মের মানুষদের কটাক্ষ করে কথা বলতে এবং নিজেদের ধর্মকেই প্রাধান্য দিতে অভ্যস্থ সেখানে অন্যধর্ম থেকে আসা নতুনদের জন্য মানিয়ে নেয়া অনেক কঠিন।’

তবে আইয়োনি সুলিভানের গল্পটি একটু আলাদা। তিনি এমফিল সম্পন্ন করে ইসরাইল, ফিলিস্তিন, জর্ডান ও মিশরে কাজ করেছেন এবং সেখানে অনেক সাচ্ছন্দেই কাজ করেছেন। সবার সাথেই স্বাভাবিকভাবে মিশতে ও উঠাবসা করতে পেরেছি। তারা সবাই নিজেদেরকে মুসলিম পরিচয় দিতে পছন্দ করে।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ এক সাথে ইজতেমা করার অর্থ মাওলানা সাদ-এর ব্যাপারে অবস্থান পরিবর্তন করা নয় : মাওলানা যোবায়ের


অভিন্ন ইজতেমায় সম্মত হলেও মাওলানা সাদ-এর ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেননি বলে জানিয়েছেন কাকরাইলের অন্যতম শুরা সদস্য ও ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ার‌ম্যান হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ যোবায়ের। তিনি বলেছেন, তাবলিগ জামাতের চলমান সংকট নিরসনের একটি পদক্ষেপ হিসেবে তারা এক সঙ্গে ইজতেমা করতে সম্মত হয়েছেন কিন্তু মাওলানা সাদ-এর বিষয়ে তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। কারণ, তার বিষয়টি ঈমান-আকিদার সাথে সংশ্লিষ্ট।

আজ ঢাকার তেজগাঁও-এর রহিম মেটাল মসজিদে আয়োজিত তাবলিগ জামাতের একটি বিশেষ সভায় তিনি এই কথা বলেন।

অভিন্ন ইজতেমা নিয়ে প্রতিপক্ষের বিভিন্ন অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির কারণে সৃষ্ট সংশয় দূর করা ও আসন্ন ইজতেমার প্রস্তুতি সামনে রেখে এই সভার আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন তাবলিগের সাথী মাওলানা ওয়াসিফুল আমিন।

তিনি ইসলাম টাইমসকে বলেন, মূলত মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চলছে –যা অনেক সাথীকে হতাশ করছে, ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করছে- সেসব অপপ্রচারের বিপরীতে সত্য ঘটনা তুলে ধরতেই আজকের এই বিশেষ সভা আহবান করা হয়েছে। এছাড়াও আসন্ন ইজতেমার প্রস্তুতি বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

সভায় কাকরাইলের শুরা সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ যোবায়ের ও মাওলানা ওমর ফারুক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোসহ বিগত দিনের কারগুজারি তুলে ধরেন। সাথে সাথে তাদেরকে জড়িয়ে সাদপন্থী নেতা ওয়াসিফুল ইসলাম ও খান শাহাবুদ্দীন নাসিমের পরিবেশিত বিভিন্ন তথ্য ও দাবি নিয়েও কথা বলেন।

তারা বলেন, তারা (ওয়াসিফুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দীন নাসিম) যে বলছেন, আমরা বলেছি আমাদের মনে কিছু নেই। অতীতের সব ভুলে গেছি এবং আমরা আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্না করেছি –এর সবকিছু আমাদের ব্যক্তিগত আঘাত ও কষ্টের ব্যাপারে বলেছি। বিভিন্ন সময়ে আমাদের উপর যেসব আঘাত এসেছে তা আমরা দিল থেকে ভুলে গেছি। কিন্তু তার অর্থ মাওলানা সাদ-এর ব্যাপারে আমরা অবস্থান পরিবর্তন করেছি তা নয়। আর সেটারও কোনো সুযোগ নেই। কারণ, মাওলানা সাদ-এর বিষয় কুরআন-হাদিস ও ঈমান-আকিদার বিষয়।

তারা আরও বলেন, আমরা যতো দূর এগিয়েছি উলামায়ে কেরামের পরামর্শেই এগিয়েছি এবং সামনেও তাদের পরামর্শক্রমেই কাজ করবো।

কারগুজারির বর্ণনার সাথে সাথে তারা আসন্ন ইজতেমা সফল করতে তাবলিগি সাথীদের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।

উৎসঃ ‌ইসলাম টাইমস

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here