খুলনাসহ বাংলাদেশের ৫ অঞ্চল দখল চায় ভারতীয় নেতা তপন ঘোষ

0
243

বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মের মানুষ অত্যাচারিত হয়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছে উল্লেখ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশে ঢুকে তাদের স্বার্থরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতা তপন ঘোষ।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘হয় ওপার থেকে আসা ছিন্নমূল হিন্দুদের বাসের জন্য ভারতকে খুলনা সহ আরও পাঁচটি হিন্দু অধ্যুষিত জায়গা দিয়ে দিক বাংলাদেশ, নয়ত ভারত নিজেই ছিনিয়ে নিতে বাধ্য হবে’।

কিছুদিন আগেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের স্বার্থে সোচ্চার হয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মনিয়াম স্বামী এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ আক্রমণ করে দখল করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ভারতকে।

তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী নেতা তপন ঘোষ দাবী তুললেন বাংলাদেশ যদি হিন্দুদের আশ্রয় দিতে না পারে তাহলে তাদের থাকার জন্য জায়গা ছেড়ে দিক ভারতকে নাহলে ভারতের সেনা বাহিনী বাংলাদেশ ঢুকে হিন্দুদের স্বার্থরক্ষা করুক।

ভারতের মৌলালি যুব কেন্দ্রের বিবেকানন্দ অডিটোরিয়ামে ‘সৃজন’ এবং ‘সিংহবাহিনী’ নামে দুটি সংগঠনের উদ্যোগে “চার্টার অফ হিন্দু ডিমান্ড” নামে একটি সভার আয়োজন করা হয়। এটি মূলত হিন্দুত্ববাদীদের সভা এবং তাদের সাথেই জড়িত আটটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ তোলেন তপন ঘোষ। তিনি বলেন – ‘গোরু ছাগলের মত মানুষকে পাঠিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। মুসলিমরা অত্যাচার করে এদেশে পাঠাচ্ছে আর আমরা সহানুভূতির খাতিরে তাদের গ্রহণ করছি। কিন্তু এর পর বাংলাদেশ ঠিক করুক তারা কি করবে’।

চার্টার অফ হিন্দু ডিমান্ডের এই সভা দেশের আরও অনেক জায়গাতেই হচ্ছে এবং কলকাতা, দিল্লী, বেঙ্গালুরু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিন্দুদের একাধিক দাবী নিয়ে সই সংগ্রহ চলছে। বিবেকানন্দ অডিটোরিয়ামের এই সভায় এদিন গো মাংসের রপ্তানী বন্ধ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের সংস্কারের মতো বিষয় নিয়েও খোলাখুলি আলোচনা চলে।

প্রসঙ্গত বলা ভাল বাংলাদেশে হিন্দুদের প্রতিদিন ক্রমাগত খারাপ অবস্থা হওয়ার পেছনে সেখানকার মুসলিম ও সরকারকে দায়বদ্ধ করেছেন এই হিন্দু নেতা। তিনি বলেন বাংলাদেশ ভারতের সরলতার সুযোগ নিয়ে এসেছে বারবার, আজ অনুপ্রবেশের কারণে যে প্রবল জনজোয়ারে যুঝছে ভারত তার দায় বাংলাদেশকেই নিতে হবে।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ উঁইঘুরদের আর্তনাদে খোদার আরশ কাঁপে, জমিনের কেউ মিহিরগুলদের কান্না শোনে না!

চীনের উঁইঘুরদের উপর চলছে অবর্ণনীয় নির্যাতন! ইলেকট্রিক শক, যৌনাঙ্গে যন্ত্র ঢুকিয়ে অত্যাচার, সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন মিহিরগুল !

মিহিরগুল তুরসুন। জন্মই যেন তার আজন্ম পাপ। মহাপ্রাচীরের দেশ চীনের উইঘুর প্রদেশে তার জন্ম । প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করে মিশরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি পড়তে যান তিনি। সেখানেই প্রেম, বিয়ে। তিনটি সন্তানের জন্মও দেন তুরসুন। ২০১৫ সালে নিজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চিনে ফেরেন তিনি। সঙ্গে ছিল তাঁর তিন সন্তান। এর পরই বদলে যায় তাঁর জীবনচিত্র্র।সন্তানদের থেকে আলাদা করে তাঁকে বন্দিশিবিরে নিয়ে যায় চিন সরকার। বিভিন্ন দফায় তিন বার তাঁকে আটক করা হয়। চালানো হয় নারকীয় অত্যাচার। মাকে না পেয়ে অযত্নে মারা যায় তাঁর ছোট সন্তান। বাকি দুই সন্তানও এখনও দুরারোগ্য অসুখের শিকার। সোমবার ওয়াশিংটনে চিনের উইঘুর প্রদেশের মুসলিমদের ওপর চিন সরকারের এই বর্বরতার কাহিনী শোনাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মিহিরগুল তুরসুন।

উইঘুর প্রদেশের মুসলিমদের ওপর চিন সরকারের অত্যাচারের অভিযোগ এই প্রথম নয়। চিনের বিভিন্ন বন্দিশিবিরে আনুমানিক ২০ লক্ষ উইঘুর মুসলিমকে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের। সোমবার আমেরিকার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে পৃথিবীর ২৬টি দেশের ২৭০ জন গবেষক ও সমাজকর্মী উইঘুরদের ওপর অত্যাচার নিয়ে সারা পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যৌথ বিবৃতি দেন। সেখানেই আনা হয়েছিল মিহিরগুল তুরসুনকে।

‘অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছিল। আমি বারবার ওঁদের কাছে আমাকে মেরে ফেলতে অনুরোধ করেছি’, জানিয়েছেন মিহিরগুল। একই সঙ্গে তিনি সামনে এনেছেন তাঁর ওপর চলা ভয়াবহ অত্যাচারের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ। ২০১৫ তে দেশে ফেরার পর তাঁকে তিন মাসের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল বন্দিশিবিরে। এই সময়েই মারা যায় তাঁর কনিষ্ঠ সন্তান। শুধু তাই নয়, বাকি দুই সন্তানের ওপরও বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন মিহিরগুল।

দুই বছর পর তাঁকে ফের আটক করা হয় বন্দিশিবিরে। কয়েক মাস বন্দি রেখে নিরন্তর অত্যাচার চালানো হত তাঁর ওপর। ছেড়ে দেওয়ায় সাত মাস পর আবার বন্দি করা হয় তাঁকে। এই দফায় তাঁকে বন্দিশিবিরে রাখা হয়েছিল তিন মাসের জন্য।

বন্দিদশায় তাঁকে বিভিন্ন অজানা ওযুধ খেতে বাধ্য করা হত বলে জানিয়েছেন মিহিরগুল। এই ওষুধ খেয়ে অনেক সময়ই জ্ঞান হারিয়ে ফেলতেন তিনি। যে কক্ষে তাঁকে রাখা হয়েছিল, সেখানে তিন মাসের মধ্যে ন’জন মহিলা মারা গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সেখানে ক্যামেরার সামনে তাঁকে মলমূত্র ত্যাগ করতে হত। চিনের কম্যুনিস্ট পার্টির স্তুতিতে গান করতে বাধ্য করা হত যখন তখন। তাঁর কথায়, ‘‘ এক দিন আমাকে ন্যাড়া করে হেলমেটের মতো কিছু একটা পরিয়ে একটা চেয়ারে বসানো হয়। ইলেকট্রিক শক দেওয়ার সময় ভীষণ ভাবে কাঁপছিলাম আমি। যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ছিল আমার শিরা আর ধমনীতে। তার পর আর কিছু মনে নেই। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। শুধু মনে আছে, আমি উইঘুর বলে ওরা আমাকে গালি দিচ্ছিল।’’

এর পর সন্তানদের নিয়ে মিশর যাওয়ার অনুমতি পান মিহিরগুল। কায়রো পৌঁছেই মার্কিন দূতাবাসে যোগাযোগ করে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি। তাঁকে আশ্রয় দেয় আমেরিকা। এই মুহূর্তে তিনি বসবাস করেছেন আমেরিকার ভার্জিনিয়ায়। ভুলে যেতে চান নিজের পিতৃভূমির ভয়াবহ স্মৃতি।

এই ধরণের বন্দিশিবির থাকা কথা অস্বীকার করেছে চিন সরকার। কিন্তু অপরাধীদের জন্য উইঘুর প্রদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা থাকার কথা জানিয়েছে তারা। মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আড়ালেই বন্দিশিবির চালাচ্ছে বেজিং। পুরো চিন জুড়ে ‘এক শিক্ষা, এক সংস্কৃতি’ চালু করতে বেজিং সরকারের পরীক্ষা নিরীক্ষার শিকার উইঘুর মুসলিমরা, এমনটাই অভিযোগ তাদের। এই অত্যাচারের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচতে অনেকেই উইঘুর প্রদেশ ছেড়ে জীবন বিপন্ন করে পালাচ্ছেন এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকায়। শুধু উইঘুর নয়, চিন সরকারের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার এই অঞ্চলের কাজাখ মুসলিমসহ আরও বেশ কিছু প্রাচীন জনজাতি, এমনটাই জানাচ্ছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি।

উৎসঃ জাগরণ

আরও পড়ুনঃ আতঙ্কে কাঁপছে অযোধ্যা, নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত মুসলিমরা

নয়াদিল্লি: আরএসএস ও শিবসেনার কর্মসূচিকে ঘিরে আজ যুদ্ধের পরিস্থিতি ভারতের অযোধ্যায়। রাম মন্দির তৈরির দাবিতে দুদলই আজ বিশাল সংখ্যক কর্মীদের নিয়ে জড়ো হচ্ছে সেখানে।

ঠিক যেন ১৯৯২ সালের ছবি। গোলমালের আশঙ্কায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। এর মধ্যেই অযোধ্যায় বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রাম মূর্তি বসানোর সরকারি ঘোষণা করে দিয়ে হাওয়া আরও গরম করে দিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ।

শিবসেনা প্রধান আজ বাবরিস্থলে প্রতিষ্ঠিত রামলালা দর্শন করবেন। অন্যদিকে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার দাবিতে আরএসএস আজ ধর্মসভা-র আয়োজন করেছে।

ভিএইচপি আগেই ঘোষণা করেছে তাদের এক লাখ লোক আসবে ১৩২২টি বাস, ১৫৪৬টি ছোট গাড়ি, ১৪০০০ বাইক চড়ে। ১৫০০০ লোক আসার কথা ট্রেনে চড়ে।

শনিবার সারাদিন শয়ে শয়ে অযোধ্যায় এসেছেন আরএসএস, ভিএইচপি ও শিবসেনা সমর্থকরা। অযোধ্যা জুড়ে এক যুদ্ধকালীন তৎপরতা সৃষ্টি হচ্ছে প্রশাসনে। ১৯৯২ সালে এভাবেই অযোধ্যায় জমায়েত হয়েছিল। ভেঙে ফেলা হয় বাবরি মসজিদ।

মন্দির নির্মাণের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই সরব শিবসেনা। শনিবারও সেনা প্রধান দাবি করেছেন, মন্দির হবে হবে নয়, তারিখ দিক সরকার।

শনিবার অযোধ্যায় শিবাজীর জন্মস্থানের মাটি এনেছেন উদ্ধব। তার দাবি এতে রাম মন্দির আন্দোলন জোরাল হবে।

শনিবার মোদি সরকারকে আক্রমণ করেন উদ্ধব। তিনি বলেন, এখানে এসেছি কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভাঙতে। গত কয়েক বছর ধরে কুম্ভকর্ণ ঘুমাচ্ছে। সরকার মন্দির নির্মাণের তারিক ঘোষণা করুক। মন্দির ওখানেই বানাব তবে তারিখ বলব না। সরকারের এই নীতি আর চলবে না।

এদিকে নিরাপত্তার কথা ভেবে একেবারে দূর্গ বানিয়ে ফেলা হয়েছে অযোধ্যাকে। রামলালাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী। ভিএইচপি দাবি করেছে তারা তাদের সমর্থকদের শান্ত রাখবে। তবে তাতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এতটুকু কমতি রাখতে নারাজ পুলিস।

এদিকে, অযোধ্যায় মুসিলমদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অখিলেশ যাদব সেখানে সেনা মোতায়নের দাবি করেছেন। পাশাপাশি মুসিলমদের নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলেছেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোন্যাল ল বোর্ডের প্রধান জাফরইয়াব জিলানি।

নিরাপত্তার কথা ভেবে অযোধ্যায় মোতায়েন করা হয়েছে ৪২ কোম্পানি পিএসি, ৫ কোম্পানি র্যাফ, ৭০০ পুলিস ও ১৬০ ইনস্পেক্টর। সঙ্গে রয়েছে এটিএসের কমান্ডো বাহিনী ও নজরদারি ড্রোন।

উৎসঃ আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here