ভারতের সেই রাফাল চুক্তির সব নথি চুরি!

0
281
ফ্রান্সের সঙ্গে রাফাল বিমান চুক্তির সব নথি চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধবিমান ক্রয় কেলেঙ্কারি নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে এবার নতুন তথ্য জানাল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

রাফাল চুক্তির সব নথি চুরি হয়েছে জানিয়ে রাফাল নিয়ে সুপ্রিমকোর্টকে পুনর্বিবেচনার আরজি খারিজের আবেদন করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল বেণুগোপাল আদালতে এ আবেদন জানান। খবর এনডিটিভি ও নিউজ এইটিনের।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেই এই নথিপত্রগুলো চুরি হয়েছে জানিয়ে বলা হয়, ওই মন্ত্রণালয়ের সাবেক বা বর্তমান কর্মচারীরা চুরিতে সাহায্য করেছে।

ফ্রান্সের সঙ্গে রাফাল বিমান চুক্তিতে দুর্নীতি হয়েছে বলে যখন মোদিবিরোধীরা সরব, ঠিক সে মুহূর্তে এ নথিগুলো চুরির কথা জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। এর আগে রাফাল দুর্নীতি নিয়ে ভারতের ‘চৌকিদার’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘চোর’ ও ‘আম্বানিদের দালাল’ বলে সমালোচনা করেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

বুধবার রাফাল মামলার শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রিমকোর্টে জানান, রাফাল সংক্রান্ত নথিগুলো চুরি হয়ে গিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই সেগুলো আদালতকে দেখানো যাচ্ছে না। টানা ৩ ঘণ্টা শুনানির পর রাফাল মামলার শুনানি ১৪ মার্চ পর্যন্ত পেছানো হয়েছে।

গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট জানিয়েছিল, রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তদন্তের প্রয়োজন নেই। এই চুক্তিতে আর্থিক দুর্নীতি হয়নি। ১২৬-এর জায়গায় ৩৬টি বিমান কেনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে তা একেবারেই অনুচিত বলে রায় দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। তাছাড়া বিমান কেনার প্রক্রিয়ায় কোনও সমস্যা নেই জানিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বানিজ্যিক পক্ষপাতিত্বের যে অভিযোগ উঠেছে তাও ভিত্তিহীন জানায় সুপ্রিমকোর্ট।

এরপরই রায়ের পুনর্বিবেচনার আরজি জানিয়ে মামলা করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা, অরুণ সৌরি ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ।

পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থার মধ্যে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, তার দেশ যদি সঠিক সময়ে রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে পারত, তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক লড়াইয়ের ফল ভিন্ন হতেও পারত।

ভারতীয় দৈনিক ইন্ডিয়া টুডে মিডিয়া গ্রুপের সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ভারতের এখন রাফাল যুদ্ধবিমান দরকার। ফ্রান্স থেকে তারা এ বিমান ক্রয় করতে চাইছেন।

বিরোধী দল কংগ্রেসের কাছ থেকে দুর্নীতির অভিযোগ আসার পর এ চুক্তি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম হয়েছে।

২০১৬ সালে করা রাফাল চুক্তিতে সরকার বড় অনিয়ম করেছে বলে অভিযোগ তোলে বিরোধী দলগুলো। অভিযোগ, দুই-দুইবার করে করা হয়েছে এই চুক্তি। সেটা ভারতের কোম্পানি রিলায়েন্সের মালিক আম্বানি গোষ্ঠীর স্বার্থেই। ধনকুবের ব্যবসায়ী অনিল আম্বানির ভুঁইফোড় সংস্থা রিলায়েন্স ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজকে কাজ পাইয়ে দিতে পুরনো চুক্তি বাতিল করে নতুন চুক্তি করা হয়।

সম্প্রতি ফ্রাঁসোয়া ওলান্দ চুক্তির অনিয়ম স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভারতে বিমান তৈরির কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিল আম্বানির কোম্পানির নামই প্রস্তাব করে মোদির সরকার। আম্বানির সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ভারত সরকার চাপও দিয়েছিল।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ জওয়ানদের মৃত্যু নিয়ে কাউকে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না: মমতা


পুলওয়ামার ঘটনায় জওয়ানদের মৃত্যু নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি রাজনীতি করছে মন্তব্য করে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তার দল বিজেপি জওয়ানদের মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে। আমরা দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষে। আমরা শান্তির পক্ষে। কিন্তু আমরা মোদি আর বিজেপির বিপক্ষে। মোদি দেশের জন্য লজ্জার ।

মঙ্গলবার নবান্নয় দেয়া বক্তৃতায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী এসব কথা বলেন।

পুলওয়ামার ঘটনা কাজে লাগিয়ে কাউকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার সুযোগ দেয়া হবে না মন্তব্য করে মমতা বলেন, শহীদ জওয়ানদের মৃত্যুকে কাজে লাগিয়ে কাউকে নির্বাচনে জিততে দেয়া হবে না।সেনাদের আত্মত্যাগ দেশের জন্য।সেনাবাহিনী রাজনীতিতে আগ্রহ দেখায় না। যারা ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে, আমি তাদের আচরণের প্রতিবাদ করছি।

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে কথা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে তিনি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানদের পাশে থাকবেন, তবে নরেন্দ্র মোদির পক্ষে থাকবেন না।

এদিন দেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেরও সমালোচনা করেন পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় সমালোচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কয়েকটি জাতীয় সংবাদমাধ্যম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আচরণ সমর্থন করছে। আমার মনে হয় তারা পরিস্থিতির শিকার।

গণমাধ্যমের ভূমিকায় দেশের মানুষ সঠিক সংবাদ জানতে পারছে না মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ সত্য ঘটনা জানতে পারছেন না। এটি খুবই দুঃখজনক। সত্যকে সাধারণ মানুষ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। আমি মানুষের কথা বলবই তাতে কেউ আমায় শাস্তি দিলেও আমার কিছু যায় আসে না। মানুষের জন্য কথা বলার অধিকার আছে, আর আমি সেই কাজটিই করে যাব।

পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর ৪৪ জওয়ান নিহত হন। এ ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ।

প্রসঙ্গত এর আগেও মমতা জঙ্গি হামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। লোকসভা নির্বাচনের মুখে এ ধরনের হামলা হলো কেন সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেসও এ হামলার পেছনে নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী রাজনীতিকে দুষছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেছেন, আমরা সবাই সশস্ত্র বাহিনীকে বিশ্বাস করি। তাদের জন্য আমাদের গর্বও হয়। কিন্তু মোদি সরকারকে বিশেষ করে জুমলা জড়ি (মোদি ও অমিত শাহ) আমরা বিশ্বাস করি না। আপনারা কি আগাম পরিকল্পনা না করেই সেনা জওয়ানদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন? নাকি নির্বাচনে জেতাটাই আপনাদের একমাত্র লক্ষ্য। সে কারণেই কি নরেন্দ্র মোদি কাশ্মীরের হামলায় নিহত জওয়ানদের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন- প্রশ্ন ডেরেকের।

প্রসঙ্গত গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে হামলায় অন্তত ৪৪ সেনা নিহত হন। এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ। ভারত এ হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে বলে দাবি করে আসছে।

এ হামলার জেরে গত মঙ্গলবার কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। হামলায় ২০০ থেকে ৩০০ জঙ্গি নিহত হন বলে দাবি করেছে দেশটি।

এখানেই থেমে নেই, গত বুধবার পাকিস্তান সীমান্তে ভারতীয় দুই যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করেন পাকিস্তানি সেনারা। জবাবে ভারত পাকিস্তানের দুটি যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করে।

ঘটনাপ্রবাহে পাকিস্তান বাহিনীর হাতে বন্দি হন দেশটির এক পাইলট। আর পাকিস্তান হারায় একটি যুদ্ধবিমান।

ইসলামাবাদে আটক হয় ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন। পরে নানা নাটকীয়তার পর গত শুক্রবার তাকে মুক্তি দেয় ইমরান খানের পাকিস্তান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আমি মোদির মতো বাথরুম উদ্বোধন করতে যাই না: মমতা


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেছেন, আমি মোদির মতো বাথরুম উদ্বোধন করতে যাই না।

বুধবার বেশকয়েকটি সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও নামফলক কর্মসূচিতে সাঁতরাগাছির আড়ুপাড়ায় গিয়ে মমতা এসব কথা বলেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাজের চেয়ে বেশি নিজের বিজ্ঞাপন প্রচার করেন বলেও অভিযোগ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, একসঙ্গে সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করে দিলেই তো হয়। আমি মোদির মতো বাথরুম উদ্বোধন করতে যাই না। এত পাবলিসিটি কেন?

এ দিনের অনুষ্ঠান থেকে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মমতা। এ দিন ৩০টি হেলিপ্যাডসহ একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সেই সঙ্গে জানান, নবান্নের পেছনে নতুন করে তৈরি হবে স্বাস্থ্যভবন। এর জন্য তিন একর জায়গা ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করে ফেলেছে সরকার।

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নোটবন্দির পর দেশে দু’কোটি ছেলেমেয়ে কাজ হারিয়েছে। বাংলায় সেখানে ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান বেড়েছে। কর্মসংস্থান তৈরিতে বাংলা দেশের মধ্যে সেরা। এরপরই কেন্দ্রের দিকে খোঁচা দিয়ে মমতার প্রশ্ন, কাজ করলে প্রচারের কী দরকার?

পুলওয়ামা ঘটনা নিয়ে এ দিনও বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের সুরে বলেন, জওয়ানদের রক্ত নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, গুগলে গিয়ে সার্চ করে আমার ধর্ম দেখছে। আমার ধর্ম মানবতা। মানবতা জানো? আমি দাঙ্গা করতে দেব না। কিছুতেই না।

নোটবন্দির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমিই প্রথম বলেছিলাম নোটবন্দি খারাপ। বলেছিল বিদেশে থাকা টাকা দেশে ফেরাবে। আর নোটবন্দি করে দেশের টাকা বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। সরকারি সভা হলেও, এ দিনও নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা।

আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেন, মোদিবাবু আর অমিত শাহবাবুর সাইনবোর্ড উঠিয়ে দেবই।

তবে বাথরুম উদ্বোধন নিয়ে মোদির বিরুদ্ধে মমতার মন্তব্য নিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের বাংলার এক শীর্ষ নেতার কথায়, আপনারা কেউ দেখেছেন মোদি কোথাও বাথরুম উদ্বোধন করতে গিয়েছেন? কিন্তু বাংলার রাস্তাঘাটে যে কোনও বাথরুমেও এ রাজ্যের মানুষ মমতার অনুপ্রেরণা দেখতে পান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মুসলিম নিপীড়ন বন্ধে ভারতকে সতর্ক করল জাতিসংঘ

মুসলিম নিপীড়ন বন্ধে ভারতকে সতর্ক করল জাতিসংঘ। ছবি: সংগৃহীত

সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতকে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান। খবর: রয়টার্স

বুধবার সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান মিশেল বেচলেট এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ভারতে বিভাজন নীতি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের ঘটনায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বার্ষিক প্রতিবেদনে মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান মিশেল বেচলেট এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আমরা এমন খবর পেয়েছি যে ভারতে সংখ্যালঘুরা নিপীড়িত ও টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। বিশেষ করে মুসলিম ও অনগ্রসর দলিত এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষরা।

এ সময় তিনি সৌদি আরবে আটক নারী মানবাধিকার কর্মীদের মুক্তি দেয়ারও আহ্বান জানান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ফলকে নাম নেই কেন? বৈঠকের মধ্যেই জুতাপেটা করলেন বিজেপির এমপি (ভিডিও সহ)

ফলকে নাম নেই কেন? বৈঠকের মধ্যেই জুতাপেটা করলেন বিজেপি এমপি। ছবি: সংগৃহীত

প্রকল্পের ফলকে নাম না থাকায় ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজেপির সংসদ সদস্য শরদ ত্রিপাঠী একই দলের বিধায়ক রাকেশ বাগেলকে বৈঠকে জুতাপেটা করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে দেশটিতে।

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর নিয়ে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। কবিরনগর জেলায় উত্তরপ্রদেশ সরকারের জেলা সমন্বয় কমিটির বৈঠক চলছিল। সেখানে জনপ্রতিনিধি ও আমলারা উপস্থিত ছিলেন। কয়েক দিন আগেই ওই এলাকায় একটি প্রকল্পের নামফলক তৈরি করা হয়। কিন্তু ওই নামফলকে বিধায়ক রাকেশ বাগেলের নাম থাকলেও সংসদ সদস্য শরদ ত্রিপাঠীর নাম নেই।

ভিডিওঃ ‘ফলকে নাম নেই কেন? বৈঠকের মধ্যেই জুতাপেটা করলেন বিজেপির এমপি (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

সংসদ সদস্যের নাম কেন নেই জানতে প্রশ্ন করনে বিধায়ককে। বিধায়কের উত্তর ছিল, তার নির্বাচনী ক্ষেত্রে যাবতীয় সরকারি প্রকল্পের দায়-দায়িত্ব নিজের ওপর। তাই নিজের নামই রাখা হয়েছে।

এতেই ক্ষেপে যান বিজেপি সংসদ সদস্য। তিনি উত্তেজিত হয়ে নির্দেশ দেন, ওই নাম ফলকে তার নামও ঢোকাতে হবে। এ সময় বিধায়ক জানান, একবার নামফলক তৈরি হয়ে গিয়েছে। এখন আর তাতে অন্য কারও নাম ঢোকানো সম্ভব নয়।

এতেই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ভরা বৈঠকের মধ্যেই পা থেকে জুতো খুলে বিধায়ককে পেটাতে শুরু করেন ওই সংসদ সদস্য। তার সঙ্গে চলতে থাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি।

আচমকা আক্রমণের ধাক্কা সামলে প্রতিরোধ ও পাল্লা জবাব দিতে শুরু করেন বিধায়কও। তিনিও সংসদ সদস্যকে চড় মারতে শুরু করেন।

দুই নেতার এমন পরিস্থিতি থামাতে কিছুক্ষণের মধ্যেই ছুটে আসেন পুলিশ কর্মীরা। বিধায়ক কিছুটা শান্ত হলেও সংসদ সদস্য তখনও ক্ষেপে আছেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা তাকে বাইরে নিয়ে যান।

এ ঘটনার ভিডিও গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় উঠে। দুজনের বিরুদ্ধেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

উত্তরপ্রদেশ বিজেপি সূত্র জানায়, দলও সেই পথেই এগোচ্ছে। সংসদ সদস্য ও বিধায়ক দুজনের বিরুদ্ধেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘ইমরান খান সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ভালো কাজ করেছেন: বিলাওয়াল’


পাক-ভারত উত্তেজনা নিরসনে সফল ভূমিকা রাখায় ইমরান খানকে নোবেল দেয়ার যে দাবি উঠেছে তার সমালোচনা করেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো।

তিনি বলেন,সংসদে অনেকেই ইমরান খানকে নোবেল দেয়ার দাবি করেছেন। ইমরান সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ভালো কাজ করেছেন। অন্যথায় বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে হাসির খোরাক হতো। কারণ সেনারা সীমান্তে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করছে, আর অ্যাসেম্বলিতে বসে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নোবেল দাবি করছি।

বুধবার পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বক্তৃতাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর এক্সপ্রেস নিউজের।

পাক-ভারত চলমান উত্তেজনার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করে ভুট্টো পরিবারের তরুণ এ উত্তরসূরী বলেন, পাকিস্তানে ঢুকে বিমান হামলা ও সীমান্তে উত্তেজনার জন্য একমাত্র দায়ী হলেন নরেন্দ্র মোদি। মোদি তো সেই ব্যক্তি, যিনি গুজরাটে মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছেন। মোদির হাতে হাজারো মুসলমানের রক্ত লেগে আছে। ‘গুজরাট কসাই’কে এখন বিশ্বনেতারা ভুলে গেলেও আমরা তার হিংস্রতার কথা ভুলিনি।

এ সময় পাকিস্তানের হাতে আটক ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে তড়িগড়ি করে মুক্তি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিলাওয়াল ভুট্টো।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে পাক-ভারত চলমান পরিস্থিতি বিষয়ে বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, দেশের সংকটকালীন মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সেনাবাহিনী প্রধানসহ সামিরক বাহিনীর সকলে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কঠিন এ পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছেন। এজন্য আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। সন্ত্রাসবাদ দমন ও পররাষ্ট্রনীতিতে আমরা সরকারের পলিসির সঙ্গে একমত, তবে ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেয়ার ক্ষেত্রে ইমরান খান তাড়াহুড়া করেছেন।

পাকিস্তানে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির জন্য পিটিআই সরকারের কঠিন সমালোচনা করেন বেনজির-জারদারি পুত্র বিলাওয়াল।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘গুজরাট কসাইয়ের হিংস্রতা আমরা ভুলিনি’

পাক-ভারত চলমান উত্তেজনার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো।

পাক-ভারত চলমান উত্তেজনার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো।

তিনি বলেন, পাকিস্তানে ঢুকে বিমান হামলা ও সীমান্তে উত্তেজনার জন্য একমাত্র দায়ী হলেন নরেন্দ্র মোদি। মোদি তো সেই ব্যক্তি, যিনি গুজরাটে মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছেন। মোদির হাতে হাজারো মুসলমানের রক্ত লেগে আছে।

‘গুজরাট কসাই’কে এখন বিশ্বনেতারা ভুলে গেলেও আমরা তার হিংস্রতার কথা ভুলিনি।

বুধবার পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বক্তৃতাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর এক্সপ্রেস নিউজের।

এ সময় পাকিস্তানের হাতে আটক ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে তড়িগড়ি করে মুক্তি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিলাওয়াল ভুট্টো।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে পাক-ভারত চলমান পরিস্থিতি বিষয়ে বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, দেশের সংকটকালীন মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সেনাবাহিনী প্রধানসহ সামিরক বাহিনীর সকলে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কঠিন এ পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছেন। এজন্য আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। সন্ত্রাসবাদ দমন ও পররাষ্ট্রনীতিতে আমরা সরকারের পলিসির সঙ্গে একমত, তবে ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেয়ার ক্ষেত্রে ইমরান খান তাড়াহুড়া করেছেন।

পাকিস্তানে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির জন্য পিটিআই সরকারের কঠিন সমালোচনা করেন বেনজির-জারদারি পুত্র বিলাওয়াল।

পাক-ভারত উত্তেজনা নিরসনে সফল ভূমিকা রাখায় ইমরান খানকে নোবেল দেয়ার যে দাবি উঠেছে তার সমালোচনা করে ভুট্টো পরিবারের তরুণ এ উত্তরসূরী বলেন, সংসদে অনেকেই ইমরান খানকে নোবেল দেয়ার দাবি করেছেন। ইমরান সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ভালো কাজ করেছেন। অন্যথায় বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে হাসির খোরাক হতো।

কারণ সেনারা সীমান্তে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করছে, আর অ্যাসেম্বলিতে বসে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নোবেল দাবি করছি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ভারতীয় পাইলটকে তড়িগড়ি করে মুক্তি দেয়া হয়েছে: বিলাওয়াল ভুট্টো

পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বক্তৃতা করছেন বিলাওয়াল ভুট্টো। ছবি: এক্সপ্রেস নিউজ

পাকিস্তানের হাতে আটক ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে তড়িগড়ি করে মুক্তি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো।

বুধবার পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বক্তৃতাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর এক্সপ্রেস নিউজের।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে পাক-ভারত চলমান পরিস্থিতি বিষয়ে বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, দেশের সংকটকালীন মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সেনাবাহিনী প্রধানসহ সামিরক বাহিনীর সকলে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কঠিন এ পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছেন। এজন্য আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

সন্ত্রাসবাদ দমন ও পররাষ্ট্রনীতিতে আমরা সরকারের পলিসির সঙ্গে একমত, তবে ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেয়ার ক্ষেত্রে ইমরান খান তাড়াহুড়া করেছেন।

পাক-ভারত চলমান উত্তেজনার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করে বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, পাকিস্তানে ঢুকে বিমান হামলা ও সীমান্তে উত্তেজনার জন্য একমাত্র দায়ী হলেন নরেন্দ্র মোদি। মোদি তো সেই ব্যক্তি, যিনি গুজরাটে মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছেন।

মোদির হাতে হাজারো মুসলমানের রক্ত লেগে আছে। ‘গুজরাট কসাই’কে এখন বিশ্বনেতারা ভুলে গেলেও আমরা তার হিংস্রতার কথা ভুলিনি।

পাকিস্তানে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির জন্য পিটিআই সরকারের কঠিন সমালোচনা করেন বেনজির-জারদারি পুত্র বিলাওয়াল।

পাক-ভারত উত্তেজনা নিরসনে সফল ভূমিকা রাখায় ইমরান খানকে নোবেল দেয়ার যে দাবি উঠেছে তার সমালোচনা করে ভুট্টো পরিবারের তরুণ এ উত্তরসূরী বলেন, সংসদে অনেকেই ইমরান খানকে নোবেল দেয়ার দাবি করেছেন। ইমরান সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ভালো কাজ করেছেন। অন্যথায় বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে হাসির খোরাক হতো।

কারণ সেনারা সীমান্তে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করছে, আর অ্যাসেম্বলিতে বসে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নোবেল দাবি করছি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ভারতের বিমান হামলা কি লক্ষ্যভ্রষ্ট?(ভিডিও) প্রকাশ

ভারতের বিমান হামলা কি লক্ষ্যভ্রষ্ট? ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের অভ্যন্তরে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বালাকোট এলাকায় জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে বিমান হামলার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স।

এ নিয়ে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে প্রকাশিত ছবিতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে।

ভূ-উপগ্রহ ছবি ও ক্ষেপণাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ ১৫ বছরের অভিজ্ঞ জেফারি লুইস বলেন, উচ্চ ওই স্থাপনার ক্ষমতাসম্পন্ন ছবিগুলো আসলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তিনি বলেন, এমন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ছবিগুলোতে বোমা হামলায় কোনো ক্ষতি হয়েছে এমন কিছু দেখাচ্ছে না। এমন তিন ধরনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ছবিগুলো রয়টার্স সরবরাহ করেছিল।

ভারতের সরকার হামলার ছবি জনগণের সামনে প্রকাশ করছে না।

ভিডিওঃ ‘ভারতের বিমান হামলা কি লক্ষ্যভ্রষ্ট?(ভিডিও) প্রকাশ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

দেশটির সরকারি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, গত সপ্তাহে ১২টি মিরাজ ২০০০ মডেলের বিমান দিয়ে ১ হাজার কেজি বোমা ফেলা হয়েছে। এদিকে মঙ্গলাবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরাইলি তৈরি স্পাইস ২ হাজার গাইডেড বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলায় কনক্রিটের স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।

জেমস মার্টিন সেন্টারের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ লুইস এবং ডেব স্লামলার বলেন, ভূ-উপগ্রহের ছবি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে এতে অস্ত্রের আঘাতের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি দেখা যাচ্ছে না।

লুইস বলেন, যদি বিমান হামলা সফল হতো তাহলে বিমান হামলার উপকরণ দেখতে পেতাম। তাহলে ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত থাকত। আমি এখানে তেমন কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।

পাকিস্তান বলছে, ভারতীয় যুদ্ধবিমান তাদের অভিযানে ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের বিমানের তাড়া খেয়ে তারা পালিয়ে গেছে। তাড়াহুড়ো করে যেখানে বোমা ফেলেছে সেখানের বড় গর্ত হয়েছে।

পাক মেজর জেনারেল আসিফ গফুর রয়টার্সকে বলেছে, বোমা হামলায় দেশটির মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, হামলার স্থান উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, সেখানে বিদেশি সাংবাদিকরা পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে দেখানো হয় ভারত পাকিস্তানের যে স্থানে বোমা হামলা করেছে বলে প্রকাশ করছে সেখানে এখনো মাদ্রাসা দেখা যাচ্ছে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভূ-উপগ্রহ ছবিতে বিশ্লেষণ করে রয়টার্স একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, উত্তর পাকিস্তানের যে স্থানে জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে ভারতের যুদ্ধবিমান বোমা হামলার দাবি করছে সেখানে এখনো জইশ-ই-মোহাম্মদের মাদ্রাসা চলতে দেখা যাচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে বিমান হামলার ছয় দিন পরে এসব ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে এসব চিত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। ইতালির সান ফ্রানসিসকোভিত্তিক ব্যক্তিগত ভূ-উপগ্রহ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ৪ মার্চ এ ছবি প্রকাশ করে।

এখন পর্যন্ত এমন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভূ-উপগ্রহ চিত্র জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়নি। কিন্তু এ চিত্র প্লানেট ল্যাব প্রকাশ করে যাতে বিস্তারিত দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে ভারতীয় সরকার বলছে, অবকাঠামোর ওপর নজরদারি এটি আক্রমণাত্মক।

ওই প্রতিবেদনের দাবি করা হয়, ২০১৮ সালের এপ্রিলে ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে তোলা ছবির মতোই এখনকার তোলা ছবি। সেখানে ভবনের ছাদে বর্ণনা করার মতো কোনো গর্ত নেই, দেয়ালে কোনো ফুটো নেই বা মাদ্রাসার আশপাশে বিচ্ছিন্ন গাছ অথবা বিমান হামলার অন্য লক্ষণ নেই।

গত আট দিন ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার বিবৃতিতে বলা হয়েছে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বালাকোটের মাদ্রাসার কাছে জাবা গ্রামে বিমান হামলা করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এমন বিবৃতির কারণে এ ভূ-উপগ্রহ চিত্রের ছবির ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রাণলয়ের কাছে কয়েক দিন আগে স্যাটেলাইট পাওয়া ছবি ও তাদের বিবৃতির ব্যাপারে কয়েকটি প্রশ্ন ইমেইলে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো উত্তর আসেনি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ স্যাটেলাইটের ছবিতে ভারতের বিমান হামলার চিহ্ন নেইঃ রয়টার্সের বিশ্লেষণ(ভিডিও) প্রকাশ


ভারত পাকিস্তানের যে স্থানে বোমা হামলা করেছে বলে প্রকাশ করছে সেখানে এখনো মাদ্রাসা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করছে রয়টার্স। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভূ-উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে রয়টার্স একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, উত্তর পাকিস্তানের যে স্থানে জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে ভারতের যুদ্ধবিমান বোমা হামলার দাবি করছে সেখানে এখনো জইশ-ই-মোহাম্মদের মাদ্রাসা চলতে দেখা যাচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে বিমান হামলার ছয় দিন পরে এসব ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে এসব চিত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। ইতালির সান ফ্রানসিসকোভিত্তিক ব্যক্তিগত ভূ-উপগ্রহ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ৪ মার্চ এ ছবি প্রকাশ করে।

এখন পর্যন্ত এমন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভূ-উপগ্রহ চিত্র জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়নি। কিন্তু এ চিত্র প্লানেট ল্যাব প্রকাশ করে যাতে বিস্তারিত দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে ভারতীয় সরকার বলছে, অবকাঠামোর ওপর নজরদারি এটি আক্রমণাত্মক।

ভিডিওঃ ‘স্যাটেলাইটের ছবিতে ভারতের বিমান হামলার চিহ্ন নেইঃ রয়টার্সের বিশ্লেষণ(ভিডিও) প্রকাশ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ওই প্রতিবেদনের দাবি করা হয়, ২০১৮ সালের এপ্রিলে ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে তোলা ছবির মতোই এখনকার তোলা ছবি। সেখানে ভবনের ছাদে বর্ণনা করার মতো কোনো গর্ত নেই, দেয়ালে কোনো ফুটো নেই বা মাদ্রাসার আশপাশে বিচ্ছিন্ন গাছ অথবা বিমান হামলার অন্য লক্ষণ নেই।

গত আট দিন ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার বিবৃতিতে বলা হয়েছে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বালাকোটের মাদ্রাসার কাছে জাবা গ্রামে বিমান হামলা করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এমন বিবৃতির কারণে এ ভূ-উপগ্রহ চিত্রের ছবির ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রাণলয়ের কাছে কয়েক দিন আগে স্যাটেলাইট পাওয়া ছবি ও তাদের বিবৃতির ব্যাপারে কয়েকটি প্রশ্ন ইমেইলে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো উত্তর আসেনি।

হামলা কি লক্ষ্যভ্রষ্ট?

ভূ-উপগ্রহ ছবি ও ক্ষেপণাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ ১৫ বছরের অভিজ্ঞ জেফারি লুইস বলেন, উচ্চ ওই স্থাপনার ক্ষমতাসম্পন্ন ছবিগুলো আসলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তিনি বলেন, এমন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ছবিগুলোতে বোমা হামলায় কোনো ক্ষতি হয়েছে এমন কিছু দেখাচ্ছে না। এমন তিন ধরনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ছবিগুলো রয়টার্স সরবরাহ করেছিল।

ভারতের সরকার হামলার ছবি জনগণের সামনে প্রকাশ করছে না।

দেশটির সরকারি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, গত সপ্তাহে ১২টি মিরাজ ২০০০ মডেলের বিমান দিয়ে ১ হাজার কেজি বোমা ফেলা হয়েছে। এদিকে মঙ্গলাবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরাইলি তৈরি স্পাইস ২ হাজার গাইডেড বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

এ হামলায় কনক্রিটের স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।

জেমস মার্টিন সেন্টারের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ লুইস এবং ডেব স্লামলার বলেন, ভূ-উপগ্রহের ছবি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে এতে অস্ত্রের আঘাতের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি দেখা যাচ্ছে না।

লুইস বলেন, যদি বিমান হামলা সফল হতো তাহলে বিমান হামলার উপকরণ দেখতে পেতাম। তাহলে ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত থাকত। আমি এখানে তেমন কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।

পাকিস্তান বলছে, ভারতীয় যুদ্ধবিমান তাদের অভিযানে ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের বিমানের তাড়া খেয়ে তারা পালিয়ে গেছে। তাড়াহুড়ো করে যেখানে বোমা ফেলেছে সেখানের বড় গর্ত হয়েছে।

পাক মেজর জেনারেল আসিফ গফুর রয়টার্সকে বলেছে, বোমা হামলায় দেশটির মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, হামলার স্থান উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, সেখানে বিদেশি সাংবাদিকরা পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বালাকোটে ভারতীয় হামলা ‘মিথ্যা’ প্রমাণ করল স্যাটেলাইট ইমেজ


পাকিস্তানের বালাকোটের কাছে জইশ-ই মোহাম্মদের যে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত, তা মিথ্যা প্রমাণ করেছে স্যাটেলাইট থেকে নেয়া ছবি।

উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্যাটেলাইটের পাঠানো ছবি পার্যালোচনা করে দেখা যায়, জইশ পরিচালিত মাদ্রাসা ভবনটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে। খবর রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক বেসরকারি স্যাটেলাইট অপারেটর প্ল্যানেট ল্যাব ইনকর্পোরেটেডের সরবরাহ করা ছবিগুলোতে ভারতের বোমা হামলার ছয় দিন পর ৪ মার্চ ওই মাদ্রাসার স্থানটিতে অন্তত ছয়টি ভবন দেখা গেছে।

স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

জইশ-ই-মোহাম্মদের ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে তাদের যুদ্ধবিমানগুলো ১০০০ কেজি বোমাবর্ষণ করে বহু জঙ্গিকে হত্যা করেছে বলে দাবি করে আসছে ভারত।

ওই হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো স্যাটেলাইট ছবি পাওয়া যায়নি। কিন্তু প্ল্যানেট ল্যাবের ওই ছবিগুলোতে (যেগুলো ৭২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ছোট জিনিসও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে) ভারত সরকার যেখানে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করছে, সেখানে পরিষ্কারভাবে ওই কাঠামোগুলো দৃশ্যমান হয়েছে।

এ ছবিগুলোর সঙ্গে ২০১৮ সালের এপ্রিলে গ্রহণ করা স্যাটেলাইট ছবিগুলোর তেমন কোনো পার্থক্য নেই।

ভবনগুলোর ছাদে দৃষ্টিগোচর হওয়ার মতো কোনো ছিদ্র নেই, দাহ্য পদার্থের আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই, বিস্ফোরণের ধাক্কায় উড়ে যাওয়া কোনো দেয়াল নেই, মাদ্রাসার আশপাশে উপড়ে পড়া কোনো গাছ নেই এমনকি বিমান হামলার অন্য কোনো চিহ্নই নেই।

এই ছবিগুলো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের দাবির বিষয়ে আরও সন্দেহ তৈরি করেছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ জলসীমায়ও ভারতকে ধাওয়া দিল পাকিস্তান

পাক-ভারত জলসীমায় ভারতের সাবমেরিন

পাকিস্তানের জলসীমানায় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিনকে ধাওয়া দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার রাতে নৌসীমা অতিক্রম করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে ভারতীয় একটি সাবমেরিন।

পাক নৌবাহিনী সফলভাবে তাদের এ চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে। গত সপ্তাহে আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ঢোকা ভারতীয় বিমানবাহিনীর জঙ্গিবিমানগুলোকেও ধাওয়া দিয়েছিল পাকিস্তান। পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাকর ওই ঘটনার পর এবার জলসীমা লঙ্ঘনের এ খবর প্রকাশ পেল। এতে নতুন করে উত্তেজনা শুরুর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, কাশ্মীরের পুলওয়ামায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপর ভারতীয় বাহিনীর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনা চলছে। মঙ্গলবার ভোরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ডনের।

মঙ্গলবার পাক নৌবাহিনীর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভারতীয় সাবমেরিনকে বাধা দিতে সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রয়োগ করেছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। ভারতীয় ওই সাবমেরিনকে পাকিস্তানি জলসীমায় প্রবেশে বাধা দিতে সফল হয়েছে তারা।’ সর্বশেষ ২০১৬ সালে পাক জলসীমায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের আঞ্চলিক জলসীমা রক্ষায় সদা প্রস্তুত এবং যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে সক্ষম। সরকারের শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপের কথা মাথায় রেখে পাকিস্তান নৌবাহিনী ভারতীয় ওই সাবমেরিনকে টার্গেট করেনি।

এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতকে শান্তির পথে এগিয়ে আসা উচিত।’ তবে কখন, কোথায় এটি রুখে দেয়া হয়েছে তা জানায়নি পাকিস্তান। পাক নৌবাহিনীর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সাদা-কালো ফুটেজে একটি সাবমেরিন চলছে, যেখানে সময় দেখানো হয়েছে সোমবার রাত ৪টা ৪৫ মিনিট।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় ৪০ সিআরপিএফ সদস্য নিহত হন। জবাবে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে বিমান হামলা চালায় ভারত। একদিন পর ২৭ ফেব্রুয়ারি আকাশে পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ করে দু’দেশের যুদ্ধবিমান। ভারতীয় বিমানবাহিনীর দু’টি বিমান ভূপাতিত এবং একজন পাইলটকে আটক করে পাকিস্তান। আটক পাইলট অভিনন্দনকে ফিরিয়ে দেয়ায় পরিস্থিতি শান্ত হলেও ভারতীয় সাবমেরিন অনুপ্রবেশের চেষ্টা ফের উত্তেজনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে, ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তাকর্মী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে গোলাগুলিতে দু’জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাতে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার ত্রালে এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় বাহিনী বলছে, নিহত দু’জন হিজবুল মুজাহিদিনের সদস্য। তাদের কাছ থেকে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

ভারতের নিরাপত্তাকর্মীরা বলেন, সোমবার রাত ৮টার দিকে ত্রাল এলাকায় ১জঙ্গি’দের লুকিয়ে থাকার খবর জানতে পারে নিরাপত্তা বাহিনী। মঙ্গলবার ভোররাতে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলার পর প্রতিটি বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেন জওয়ানরা। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে জওয়ানদের গুলিতে তারা নিহত হয়। এ ঘটনার পর থেকে ত্রাল শহরজুড়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা।
অন্যদিকে, ইসরাইলের সমর্থন নিয়ে পাকিস্তানে এক বিপজ্জনক হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল ভারত। রাজস্থানের বিমাবঘাঁটি থেকে এ হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল। সরকারি একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে ফাঁস হওয়া তথ্যের বরাতে সোমবার এ খবর দিয়েছে ডন। গোয়েন্দারা ভারতকে সতর্কতা দেয় যে, পরিকল্পনা মতো হামলা হলে উপযুক্ত জবাব আসবে। আর এমন হলে দেশ দু’টির সামনে পেছনে ফেরার কোনো পথ থাকবে না। বেসামরিক ওই সূত্র তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, ভারত পরবর্তীতে যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিত তা শুধু স্থল, আকাশপথ অথবা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত না। সেটা ধারণ করত একটি হাইব্রিড সংঘাতে। তাতে অর্থনৈতিক বিষয়ের ওপর আঘাত আসত।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সিরিয়া থেকে ৫০ টন স্বর্ণ সরিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী


সিরিয়া থেকে ৫০ টন স্বর্ণ সরিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে ৫০ টন স্বর্ণ হাতিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। একাধিক সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে তুরস্কের ডেইলি সাবাহ এমন দাবি করেছে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ফোরাত নদী তীরবর্তী সিরীয় প্রদেশ দেইর আজজরের বাগাউজ এলাকায় সম্প্রতি আইএসের কাছ থেকে এসব সোনা উদ্ধার করে মার্কিন ও কুর্দি সেনারা। লুটতরাজ চালিয়ে কয়েক বছর ধরে এসব স্বর্ণ জড়ো করেছিল আইএস।

উদ্ধারকৃত সোনার অল্প কিছু কুর্দি বাহিনীকে দেয়া হয়েছে। বাকিটা সামরিক বিমানে করে নিজেদের দেশে পাচার করেছে মার্কিনিরা। কুর্দি বাহিনীর বরাত দিয়ে এ খবর প্রথম প্রকাশ করে কুর্দি গণমাধ্যম বাস নিউজ।

নাম প্রকাশ না শর্তে সূত্রটি জানায়, সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আলেপ্পোয় মার্কিন সেনাঘাঁটি কোবানি থেকে গত সপ্তাহেই এসব সোনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। কয়েক বছর ধরে সেনাবাহিনী ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য ওই ঘাঁটিটিই ব্যবহার করে মার্কিন সেনারা। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা এ খবর জানিয়েছে।

কোণঠাসা হতে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাগাউজ এলাকায় কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে আটকে পড়েছে আইএস যোদ্ধারা। চলতি সপ্তাহে এ এলাকায় ফের অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)। আসন্ন পরাজয়ের মুখে থাকা আইএস যোদ্ধাদের একটি প্রস্তাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। বলে, তোমাদের সব সোনা আমাদের দিয়ে দাও। নতুবা তোমাদের সবাইকে মরতে হবে। জীবন বাঁচাতে এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায় আইএস।

সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, যোদ্ধাদের নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগের বিনিময়ে ওই ৫০ টন স্বর্ণ মার্কিন সেনাদের হাতে তুলে দেয় আইএস।

এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২১৩ কোটি ডলার। দেইর আজজরের স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সানা জানিয়েছে, আইএস যোদ্ধাদের সহায়তায় স্বর্ণভর্তি বড় বড় বাক্স কয়েকটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেয় মার্কিন সেনারা। বাক্সগুলো দেইর আজজরের আল সাদাদি শহরে দক্ষিণাংশে আইএস ঘাঁটিতে লুকানো ছিল। আইএস নেতারাই মার্কিন সেনাদের সেখানে নিয়ে যায়। ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রধানত ইরাকের মসুল ও সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব সোনা লুট করে আইএস।

মার্কিন বাহিনী মুক্তিপণ নিয়ে আইএস যোদ্ধা ও গোষ্ঠীটির বহু কমান্ডারকেই নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে বলে দাবি করেছে সংবাদ সংস্থা সানা। একই দাবি করেছে ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি অব হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আইএস মূল্যবান সব সম্পদের বিনিময়ে যোদ্ধা ও কমান্ডারদের নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন ও কুর্দি সেনারা।

উৎসঃ ‌বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ মসজিদে নববী, আল আক্বসাকে ‘সন্ত্রাসের কারখানা’ বলে প্রচার করলো ভারতীয় টিভি!


গত কয়েকদিনে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার সময় ভারতীয় মিডিয়ার আচরণ সেই দেশে এবং বিদেশে বেশ জোরেশোরে সমালোচিত হয়েছে। উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর যেন প্রতিযোগিতা শুরু করেছিলো বেশিরভাগ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। এমনকি ভুয়া খবর ছড়ানোতেও একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাচ্ছিল।

সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছে মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন সিএনএন-নিউজ এইটিন চ্যানেলটিতে। গত শনিবার টিভি চ্যানেলটি তাদের এক অনুষ্ঠানে মুসলিমদের সবচেয়ে পবিত্র বলে বিবেচিত তিনটি মসজিদকে ‘সন্ত্রাসের কারখানা’ বলে ছবি প্রচার করে। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম, মদীনার মসজিদে নববী এবং জেরুসালেমের মসজিদুল আক্বসার ছবির উপর ‘মাসুদ আজহার’র টেরর ফ্যাক্টরি’ লিখে প্রচার করে চ্যানেলটি।

মাসুদ আজহার পাকিস্তান ভিত্তিক জয়েশ-ই মুহাম্মদ এর প্রধান নেতা। মুসলিমদের পবিত্রতম জায়গাগুলো নিয়ে বিদ্বেষ প্রচার করায় রিলায়েন্স গ্রুপের টিভি চ্যানেলটিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড।

গতকাল এক টুইটে CNN-News18 এর এই অপকর্ম তুলে ধরে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অবশ্য সাথে সাথে ক্ষমা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি এবং তাদের একটি প্রতিবেদন থেকে এ সংক্রান্ত ছবি ও তথ্য মুছে দিয়েছে।

অন্যদিকে আরেকটি টিভি চ্যানেল ‘রিপাবলিক টিভি’র উপস্থাপক অর্নব গোস্বামী তার এক অনুষ্ঠানে ভারতের জামাতে ইসলামী নেতা মাওলানা জামালউদ্দিন উমরীকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে প্রচার করেন। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড এ বিষয়েও ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানায় রিপাবলিক টিভিকে।

এই চ্যানেলও দ্রুত তাদের টুইটার একাউন্টে বিবৃতিতে দিয়ে দুঃখ প্রকাশ ও তথ্য সংশোধন করেছে।

উৎসঃ ‌জনতা কা রিপোর্টার, ফ্রি প্রেস কাশ্মির।

আরও পড়ুনঃ ভারতীয় সাবমেরিন আটকের (ভিডিও) প্রকাশ করছে পাকিস্তান


পাকিস্তানের জলসীমায় ঢুকে পড়া ভারতীয় একটি সাবমেরিন আটকের ভিডিও প্রকাশ করছে ইসলামাবাদ। ভিডিওতে দেখা যায় সাবমেরিনটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে পাক নৌবাহিনী। পরে পাকিস্তানের জলসীমায় পুরোপুরি ঢোকার পর সাবমেরিনটিকে আটক করা হয়।

এটি সোমবার রাতে পাকিস্তানের জলসীমায় গোপনে প্রবেশের চেষ্টা করছিল বলে জানায় পাকিস্তানের নৌবাহিনী। তবে আটকের পর এটিকে শান্তির জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে নৌবাহিনী সূত্র জানায়।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ভারতীয় সাবমেরিন আটকের খবর জানায়। এতে জানানো হয় পাকিস্তানের জলসীমায় প্রবেশের পরই সাবমেরিনটি আটক করা হয়।

ভিডিওঃ ‘ভারতীয় সাবমেরিন আকটের ভিডিও প্রকাশ ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে সপ্তাহব্যাপী চলা উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর এ অভিযান আগুনে ঘি ঢালার কাজ করেছে।

২০১৬ সাল থেকে এ নিয়ে দুবার ভারতীয় সাবমেরিনকে রুখে দিল পাকিস্তানি নৌবাহিনী।

নৌবাহিনীর ওই মুখপাত্র আরও বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওই ভারতীয় সাবমেরিনটি ধ্বংস করা পাকিস্তানের নৌবাহিনীর কাছে কোনো বিষয়ই ছিল না। কিন্তু পাকিস্তান সরকার যুদ্ধ নয়, শান্তির নীতি গ্রহণ করায় সাবমেরিনটিকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধাসামরিক বাহিনীর অন্তত ৪৯ জন সদস্য নিহত হন। এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ। ভারত এ হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে বলে দাবি করে আসছে।

এ হামলার জেরে গত মঙ্গলবার কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। হামলায় ২০০ থেকে ৩০০ জঙ্গি নিহত হয় বলে দাবি করেছে দেশটি।

এখানেই থেমে নেই, গত বুধবার পাকিস্তান সীমান্তে ভারতীয় দুই যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করেন পাকিস্তানি সেনারা। এ সময় ভারতীয় এক পাইলটকে আটক করে পাকিস্তান। পরে শান্তির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বন্দি পাইলটকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মিথ্যা বলা অভ্যাস হয়ে গেছে মোদির : রাহুল গান্ধী


মিথ্যা বলার অভিযোগে আবারো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করলেন বিরোধী দল কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। রোববার কংগ্রেস সভাপতির নির্বাচনী কেন্দ্র অমেথিতে দলীয় এক সমাবেশ করেন নরেন্দ্র মোদী। আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, সমাবেশে করওয়ার অস্ত্র কারখানায় রুশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কালাশনিকভ বা একে সিরিজের রাইফেল তৈরির প্রকল্প ঘোষণা করেন মোদি। কিন্তু ওই প্রকল্পের ঘোষণায় নরেন্দ্র মোদী ভুরি ভুরি মিথ্যা বলেছেন বলে অভিযোগ রাহুলের। তিনি বলেন, মিথ্যা বলা অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। অমেথিতেও মিথ্যা বলে এসেছেন।

২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর, রোববার প্রথমবার কংগ্রেসের ঘাটি হিসেবে পরিচিত অমেথিতে পা রাখেন নরেন্দ্র মোদী। গান্ধী পরিবারের নির্বাচনী কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত অমেথিতে। তা নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। রাইফেল প্রকল্পের উদ্বোধন করার সময় মোদি বলেন, ‘এতদিন একটি পরিবারকেই অমেথি চিনত। এ বার একে-২০৩ রাইফেলসের জন্য সবাই চিনবে অমেথিকে। ২০০৭ সালে অমেথিতে অস্ত্র কারখানার উদ্বোধন হয়। ২০১০ থেকে উত্পাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি।’

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মোদির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছিল আগেই। সোমবার সকালে তাতে যোগ দেন রাহুল গান্ধী। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি লেখেন, ‘২০১০ সালে আমি নিজে অমেথিতে অস্ত্র কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি। তার পর থেকে গত কয়েক বছর ধরে ছোট অস্ত্রের উত্পাদন হয়ে আসছে সেখানে। অথচ গতকাল অমেথি গিয়ে অভ্যাসবশত ফের মিথ্যা বলে এলেন আপনি। আপনার কি বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধ নেই?’

২০১৪ সালে অমেথি থেকেই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন বর্তমান বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। কিন্তু রাহুল গান্ধীর কাছে পরাজিত হন তিনি। সেই থেকে মাঝেমধ্যেই রাহুলের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে দেখা যায় স্মৃতি ইরানিকে। এ দিনও রাহুলের টুইট চোখে পড়তেই পাল্টা আক্রমণ করেন তিনি।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানে হামলা নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস নেতা নভোজিৎ সিং সিধু

সাবেক তারকা ক্রিকেটার, পাঞ্জাব প্রদেশের মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা নভোজিৎ সিং সিধু – ফাইল ছবি

কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলায় ভারতীয় আধা-সামরিক বাহিনীর উপর হওয়া আত্মঘাতী হামলা নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন আগেই। এবার পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মিরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অভিযান ও তার সফলতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পাঞ্জাবের মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা নভোজিৎ সিং সিধু। তিনি প্রশ্ন করেন,‘পাকিস্তানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর হামলায় কি আদৌ শতাধিক সন্ত্রাসী হত্যা করা হয়েছে? নাকি বনে জঙ্গলে বোমা ফেলে গাছ উপড়ে ফিরে এসেছে বিমান সেনারা? আর ভোটের আগে সেটাকেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে?’

গত ১৪ ফেব্রুয়ারী ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ৪১ জন ভারতীয় আধা-সামরিক পুলিশ নিহত হয়। এই ঘটনার ১২দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার কাশ্মিরের লাইন অফ কন্ট্রোল বা এলওসি পার হয়ে পাকিস্তানে ঢুকে ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে’ বিমান হামলা করে ভারত। এসময় নয়া দিল্লী দাবি করে যে, পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত আজাদ কাশ্মিরের বালাকোট ও চাকোটিতে একাধিক সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করেছে এবং এই হামলায় ২০০ থেকে ৩০০ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

নয়া দিল্লীর তথাকথিত এই দাবির পর ভারত জুড়ে আনন্দ উল্লাস ও মিষ্টি বিতরণ শুরু হলেও তা উবে যেতে সময় লাগেনি। ভারতের এই দাবি নিয়ে বিবিসি, গার্ডিয়ান, আল জাজিরা, সিএনএন, রয়টার্স ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো সরেজমির রিপোর্ট প্রকাশ করে এবং ভারতের দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। এসব সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় হামলায় ২০০ থেকে ৩০০ জন নিহত হওয়া তো দূরের কথা, সেখানে কোনো নিহতের ঘটনা ঘটেনি বলে উল্লেখ করা হয়। এসব সংবাদমাধ্যমে আরো বলা হয়, আজাদ কাশ্মিরে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলায় বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে এবং একজন স্তানীয় বেসামরিক বাসিন্দা আহত হয়েছেন।

এরপর হামলা ও হতাহতের বিষয়ে নয়া দিল্লীর দাবি নিয়ে খোদ ভারতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, আজাদ কাশ্মিরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর হামলায় ৪০০ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। সেই একই সংবাদমাধ্যমে পরে নিহতের সংখ্যা ৩৫ জন বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রোববার দাবি করেন, পাকিস্তানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলায় ২৫০-র বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে তার ‘এই দাবি’ কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে মোদী সরকারের তুমুল সমালোচনায় সরব হয়েছে ভারতের বিরোধী দলগুলো। এরইমধ্যে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকেই। সোমবার সকালে তাতে যোগ দেন নভোজিৎ সিং সিধুও।

নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে মোদী সরকারকে ব্যঙ্গ করে তিনি লেখেন,‘ভারতীয় বিমানবাহিনীর হামলায় ৩০০ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে, এটা সত্যি না মিথ্যে? যদি কোনো সন্ত্রাসী নিহত না হয়ে থাকে, তাহলে এতো ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অভিযান চালানোর উদ্দেশ্য কী ছিল? আপনার সন্ত্রাসীদের বুপর হামলা চালাতে গিয়েছিলেন নাকি গাছ উপড়াতে? নাকি সবটাই নির্বাচনী ভাঁওতা?’
তিনি আরো লেখেন,‘বহিঃশত্রু দমনের নামে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নিয়ে এই রাজনীতি বন্ধ হোক।’

পাশাপাশি ভারতীয় বিমানবাহিনীর অভিযান নিয়ে হাঁকডাক করায় মোদি সরকারকে বিদ্রূপও করেন সিধু। হিন্দিতে লেখেন,‘উঁচি দুকান, ফিকা পকওয়ান।’ বা বাংলায়- ‘বজ্র আঁটুনি, ফস্কা গেরো’। অবশ্য তার এই মন্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

তবে সিধু একা নন, পাকিস্তানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অভিযানে কতজন সন্ত্রাসীর মৃত্যু হয়েছে, সরকারকে তার হিসাব দিতে হবে বলে বলে দাবি তুলেছেন বিজেপি বিরোধী শিবিরের অনেকেই। মোদির নাম করে কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল বলেন,‘আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পাকিস্তানের সমালোচনা করলে খুশি হন। অথচ তারাই বলছে বালাকোটে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তাহলে কি আন্তর্জাতিক মহলকেও এখন পাকিস্তানের সমর্থক বলবেন? প্রধানমন্ত্রীকে এর জবাব দিতেই হবে।’

এদিকে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই সোমবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান বীরেন্দ্র সিং ধানোয়া। এখানে তিনি বলেন, ভারতীয় বিমানবাহিনী নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতেই বোমা নিক্ষেপ করেছে। তবে হামলায় কত জন নিহত হয়েছে তার হিসেব দেয়া সম্ভব নয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানকে ভয় দেখাতে বিমান হামলা করা হয়েছিল: সুরিন্দর সিং অহলুওয়ালিয়া


ভারতের তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং দার্জিলিঙের বিজেপি সংসদ সদস্য সুরিন্দর সিং অহলুওয়ালিয়া বলেছেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া এলাকায় বালাকোটের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর যে বিমান হামলা করেছিল তা শুধু পাকিস্তানকে ভয় দেখানোর জন্য।

রোববার সিপিএমের এক টুইটার অ্যাকাউন্টে তিনি এই লেখা পোষ্ট করেন। খবর এনডিটিভির।

তিনি লেখেন, ভারত যে পাকিস্তানের উদ্দেশে আঘাত হানতে পারে সেটা বোঝাতেই এ হামলা করা হয়েছিল। কোনো মানুষের মৃত্যু আমাদের লক্ষ্য ছিল না।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তাও বলেননি বিমান হামলায় কতজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বলেছে মিডিয়া।

তিনি বলেন, মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে এমন সব তথ্য ছড়ানো হয়েছে যার কোনো ভিত্তি নেই।

ভারতীয় বাহিনীর হামলার পর আমি প্রধানমন্ত্রীকে একটি সভায় বক্তব্য রাখতে শুনেছি। সেখানে তিনি বলেননি হামলায় কতজনের মৃত্যু হয়েছে।

সরকারের কেউও এমন কথা বলেননি। আমাদের দলের সভাপতিকেও সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীও সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা জানায়নি, বলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া এলাকায় বালাকোটের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বোমা হামলায় ২০০-৩০০ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল।

তবে এ হামলায় কোনো হতাহত হয়নি বলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here