হতাশ হবেন না, আওয়ামীলীগও ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল : খন্দকার মাহবুব হোসেন

0
130

সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রেখেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, যেসব মিথ্যা মামলায় বেগম জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে তার একটিতে জামিন পেলে আরেকটি মামলা দিয়ে তাকে আটকে রাখা হচ্ছে। আশা করি এই বাংলাদেশের মানুষ এই জালিম সরকারের বিরুদ্ধে একদিন জেগে উঠবেই। বাংলাদেশের মানুষ যেদিন বিস্ফোরিত হবে সেইদিন এদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গনে জাতীয়তাবাদি আইনজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দোয়া ও দরিদ্রদের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এসব কথা বলেন।

নেতা কর্মীদের হতাশ না হওয়া আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগও ২১ বছর ক্ষমতার ছিল। বাইরে তাদের উপর অনেকেই অত্যাচার অনাচার করেছিলো। তারপরেও তারা ক্ষমতায় এসেছে। বর্তমান সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের উপরে নির্যাতিত করে যে অবস্থায় রেখেছেন একদিন ইনশাল্লাহ একদিন তারা মুক্ত হবে, দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে, খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে, গরীব দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে।

মাহবুব হোসেন আরো বলেন, জিয়াউর রহমান সব সময় দুঃখী মানুষের কল্যাণে কাজ করে গিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে। যেসব মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে আমরা বারবার চেষ্টা করেও এক মামলায় জামিন করালে তারা আরেক মামলায় গ্রেফতার দেখায়। বাংলাদেশের মানুষ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল বারি ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম তালুকদার রাজা, অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, অ্যাডভোকেট আজিজ আল মামুন, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু প্রমুখ। অনুষ্ঠানে তিনশ দরিদ্রকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌দেশের রাজনীতিতে এক গুমোট পরিবেশ বিরাজ করছে!


দেশের রাজনীতিতে এক গুমোট পরিবেশ বিরাজ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘আজকে দেশে যে রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে, তার চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীত ইতিহাসে ছিল কি না আমার জানা নেই।’ বিএনপির কর্মকান্ড একেবারে নেই বললেই চলে। আন্দোলনের কর্মসূচির জন্য দলটির শুভাকাক্সক্ষী এবং মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রচন্ড চাপের পরেও বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহল এ ব্যাপারে একেবারেই নিশ্চুপ। এদিকে বিএনপি জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীরও কোনো তৎপরতা নেই। আন্দোলন-সংগ্রামে তো নেইই, তার উপর সাম্প্রতিক সময়গুলোতে জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন প্রশ্নে একের পর এক আপোষকামীতার যেসব সিদ্ধান্ত বিএনপি নিচ্ছে তাতে দলের ভেতরের-বাইরের সবাই একবাক্যে অবাক হচ্ছে। দীর্ঘদিনের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী এমন সিদ্ধান্ত কেউ কখনো কল্পনা করেছে বলেও মনে হয় না। তারপরেও ক্ষমতাসীন দল যেন স্বস্তিতে নেই। বলা যায়, এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছে ক্ষমতাসীনদের মধ্যেও।

আওয়ামী লীগের সবাই; এমনকি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও অনেকে একবাক্যে বলে থাকেন, সব কিছুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারিশমা। ভারত এবং চীন দুটি চরম পরস্পর বিদ্বেষী রাষ্ট্রকে একইসঙ্গে হাতের মধ্যে রেখে বিগত এক দশকেরও বেশি সময় দেশ পরিচালনা করে আসছেন। রাজনৈতিক কারিশমা না থাকলে এটি সম্ভব নয়। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেটা আর হয়ে উঠছে না। উভয় দেশই এখন নতুন করে হিসাব নিকাশ চাইছে। যা মেটানো একরকমের কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে দেশের অর্থনীতির অবস্থা একেবারে লেজেগোবরে। বিশেষ করে ব্যাংকগুলোতে অর্থ সংকট, শেয়ার বাজারে অস্থিরতা গোটা সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে। বলা যায়, একরকম স্থবির করে ফেলেছে গোটা অর্থনীতিকে।

সর্বশেষ কয়েকটি ঘটনায় দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির তৎপরতা অনেকটা রহস্যজনক ঠেকছে অনেকের কাছে। বিএনপি জাতীয় সংসদে যাবে না এই সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। দলটির দীর্ঘদিনের নীতি আদর্শের সঙ্গে সেটিই ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু হঠাৎ করে শেষ মুহূর্তে সংসদে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেয়া হলো। সবাইকে অবাক করে পরে আবার দেখা গেলো বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। শপথ না নেয়ার ফলে আসনটিতে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই আসনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে দুদিন আগেও অনিশ্চয়তা ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে বিএনপি ফখরুলের সেই আসনেই আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনেও নাম পাঠাবে। এদিকে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা কর্নেল অলি আহমদ খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের বিষয়ে তৎপর হয়ে উঠেছেন। এই ২০ দলের দায়িত্ব নেয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তিনি জীবন উৎসর্গ করতেও রাজি এমন কথাও বলেছেন। তবে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এখনো এ বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি একটি রাজনৈতিক মঞ্চ করতে যাচ্ছে। কর্নেল (অব,) অলি আহমদকে সেই মুক্তি আন্দোলনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিএনপির বাইরে থাকা কর্নেল অলিকে হঠাৎ করে কেন এই দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে তা নিয়েও রহস্য রয়েছে। আবার কর্নেল অলি এক্ষেত্রে জামায়াতকেও পাশে রাখছেন। সব মিলিয়ে রাজনীতিতে একটি ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাজনীতির ভবিষ্যত একটি অচলাবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই অবস্থাটি আরো ঘনীভূত হয়েছে। রাশেদ খান মেননের ভাষায়, রাজনীতিকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশে একটি সংসদ বর্তমান রয়েছে যেখানে কার্যত কোনো বিরোধী দল নেই। সরকারের কর্মকা-ের গঠনমূলক সমালোচনা সেখানে ব্যাপকভাবে অনুপস্থিত। আগামী ১১ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশন ডাকা হয়েছে। সংসদের এই অধিবেশনে ১৩ জুন ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এ বাজেট পাস হবে। এবারের এই অধিবেশনে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি থাকবে। নিয়মতান্ত্রিক বিরোধী দলও থাকবে। সাধারণত বাজেট আলোচনায় সব দল অংশ নিয়ে থাকে। কিন্তু এতকিছুর পরেও সংসদ তার পুরনো চেনা চেহারা ফিরে পাবে না। সকল দল সংসদে থাকবে, আবার ঠিক থাকাও হবে না। রাজনীতিতে এই যে অস্বাভাবিকতা বিরাজমান, তার রেশ কাটবে না, চলমান থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণ রাজনীতির প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। এর মধ্যেই বড় দুই দলের ভবিষ্যত রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজনীতি অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। বড় বড় রাজনৈতিক জোটগুলোও ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। খোদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বা ১৪ দলই গতিশীলতা হারাচ্ছে। জোটটির অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং জাসদের হাসানুল হক ইনুরা মন্ত্রিসভায় না থাকায় একটি অন্যরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আবার ১৪ দল কাগজে কলমে থাকলেও তাও গতিশীল নেই। নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান না পেয়ে ইতিমধ্যে সরকারের নানা সমালোচনাও শুরু করে দিয়েছেন হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননের মতো সরকারের মধ্যের লোকেরা। ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য ঘোষিত প্রজ্ঞাপনের সমালোচনা করে ১৭ মে নারায়ণগঞ্জে দলের এক অনুষ্ঠানে মেনন বলছেন, অর্থমন্ত্রীর আনুকূল্যে বড় বড় ঋণ খেলাপিরা এবার দশ বছরের জন্য হালাল হয়ে গেল। তারপরও আরও ছয়মাসও তারা কিস্তি না দিয়ে থাকতে পারবে। ওয়ার্কার্স পার্টি এ বিষয়গুলো সংসদে তুলবে। কিন্তু কতটুকু আলোচনা হবে বলা যায় না। মেনন বলেন, গত সংসদ অধিবেশনে ঋণখেলাপি নিয়ে আলোচনার নোটিশ দেয়া হলেও, আলোচনাই আসেনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন লুটেরাদের হাতে জিম্মি। রাজনীতিকেও ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। এই অবস্থার অবসানে জনগণের বিভিন্ন অংশকে জেগে উঠতে হবে। সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে এক হতে হবে। ওয়ার্কার্স পার্টি সেই লক্ষ্যে নিজেকে সংগঠিত করছে। সংগঠন-আন্দোলন দিয়েই কেবলমাত্র বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ঋণ খেলাপীদের দশ বছরে ব্যাংক তাদের টিকিটি ছুতে পারবে না। বরং তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে হবে। আর যারা নিয়মিত কিস্তি দেবেন তাদের কপালে জুটবে ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে ছবি আর এক বছরের সুদের ১০%। সুতরাং এখন থেকে সবাই ঋণখেলাপী হবে, এটাই হবে বাস্তবতা। ব্যাংকিং খাতের নতুন স্লোগান হবে “আমরা সবাই ঋণখেলাপী হব, জনগণের টাকা বিদেশে পাচার করবো।”

এদিকে গত ১৫ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতি ম-লীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ আদালতের বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। দেশের প্রশাসন এমনকি আদালতও অর্থের কাছে নত হয়ে পড়ছে দাবি করেছেন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতা। তিনি বলেন, “এই দেশে পয়সা দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কেনা যায়, পয়সা দিয়ে আইনজীবী কেনা যায়, এমনকি আদালত পর্যন্ত কেনা যায় পয়সা দিয়ে।”

এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হুঁশিয়ার করে নাসিম বলেন, “আজকে আমরা আশ্বস্ত হতাম যদি বিএনপি বিরোধী দল হিসেবে থাকত। ভয় ওখানে, বিএনপি এখন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তার জোট ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চক্রান্ত যখন ব্যর্থ হয়, তখন গভীর ষড়যন্ত্র চলে।”

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা। তার ভাষায়, ‘এগুলোকে প্রায় অকার্যকর করার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, এটা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অপরিহার্য। কিন্তু এটা বাস্তবে সম্ভব বলে প্রতীয়মান হয় না। ফলে এই অবস্থা থেকে বেরুতে হলে কখন কীভাবে পরিবর্তন আসবে, সেটা ভেবে আমি উদ্বিগ্ন।’ তিনি ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল সম্পর্কে মূল্যায়ন করেছেন। বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলের চরিত্র অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে। অনেক ক্ষেত্রে দলটি এখন ক্ষমতার অপব্যবহারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটা আত্মঘাতী।

অতীতে দুর্নীতি বিষয়ে দেশের প্রধান বিরোধী দল একটা লিপ সার্ভিস দিতো। সেটা এখন হারিয়ে গেছে। ৫ম সংসদে তৎকালীন পানিসম্পদ মন্ত্রী মাজেদুল হকের ছোটখাটো দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে সংসদীয় কমিটি হয়েছিল। দিনের পর দিন বিতর্ক হয়েছে। কয়েক শ’ পৃষ্ঠার সংসদীয় রিপোর্ট ছাপা হয়েছিল। আজ সেসব স্বপ্নের মতো। এরকম একটি অচলাবস্থা ভাঙার জন্য কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি একটি সম্ভাবনার কথা বলে। তিনি দেশে থাকেন বা বিদেশে যান, অনেকের মতে, রাজনীতিতে একটা দমবন্ধ করা পরিস্থিতির অবসান হওয়া দরকার। তবে তিনি প্যারোলে নাকি জামিনে বেরুবেন- তা নিয়েই দরকষাকষি চলছে। ইতিমধ্যে তিনি পরিত্যক্ত কারাগারে দীর্ঘ সময় পার করে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। আইনজ্ঞরা অনেকেই এমন পরিবেশে তাকে এভাবে রাখা কতোটা জেল কোডসম্মত সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে দ্বিধান্বিত। কারণ তুলনা করার মতো কোনো উদাহরণ জাতির ইতিহাসে নেই। সর্বশেষ জানা গেছে, তাকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হচ্ছে। সেখানেই ৩৪ মামলায় তার বিচারে এজলাস বসবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এতদিনে কেরানীগঞ্জে নারী কয়েদিদের রাখার জায়গার কাজ শেষ হয়েছে। তাই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করতে অসুবিধা নেই।

বিএনপি’র অনেকেই অবশ্য মনে করেন, দেশের সার্বিক যা পরিস্থিতি, যেখানে রাজনীতি অনুপস্থিত, গণতন্ত্রের ঘাটতি গভীরতর, সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কীভাবে কারাগার থেকে বের হবেন, সেই বিষয়ে প্রক্রিয়াগত প্রশ্ন তোলা বৃথা।

বেগম খালেদা জিয়ার দরকার আশু চিকিৎসা। মুক্ত পরিবেশে তার নিজের চিকিৎসক দিয়ে মনমতো চিকিৎসক বাছাই করে স্বাস্থ্যসেবা নেয়া। এখন সেটা তিনি করবেন জামিনে না প্যারোলে, সেটা একটা কূটতর্ক। অবশ্য দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বেগম জিয়া প্যারোল না নিতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। তাকে অবশ্য স্মরণ করানো হয়েছে, এক এগারোতে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে প্যারোল নিতে চাননি। কিন্তু পরে রাজি হন। ওয়াকিবহাল সূত্রগুলো বলেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকে বিএনপি আশাবাদী হয়েছিল। সেটা মিলিয়ে যায়নি।

তার মুক্তির প্রশ্ন অমিমাংসিত রেখেই বগুড়া-৬ আসনে বিএনপি নির্বাচনে নামছে। সংরক্ষিত নারী আসনেও নাম পাঠাবে। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও রাজনীতির নিকটবর্তী অচলায়তন ভাঙার প্রশ্নটি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ওপর নির্ভরশীল।

‘বাংলাদেশ ঘিরে বিদেশি চক্রান্ত’

আওয়ামী লীগের আলোচিত সাবেক একজন সংসদ সদস্য সম্প্রতি এক নিবন্ধে বাংলাদেশ ঘিরে বিদেশি চক্রান্তের কিছু বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে সিআইএ, আইএসআই ও র’ দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব রেখে আসছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে সেই প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে চলে গেছে।

বাংলাদেশের সবক্ষেত্রে চীনের দাপা-দাপিতে এ দেশের সরকারবিরোধীরা চুপচাপ বসে থাকলেও সিআইএ এবং র’ কিন্তু বসে নেই। তারা বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে চীন-রাশিয়া এবং তাদের দোসরদের সব তৎপরতা রুখে দেয়ার জন্য যে মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই এবং তা নিঃসন্দেহে আগামী দিনে আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক সংহতি তছনছ করে দেবে।

তিনি লিখেছেন, ১৯৭৫ সালের পনেরোই আগস্টের পূর্বাপর ঘটনা নিয়ে বিদেশি সাংবাদিকরা যেসব অনুসন্ধানী বই-পুস্তক রচনা করেছেন তাতে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অপতৎপরতা, প্রতিশোধ গ্রহণের নোংরা স্পৃহা এবং মঞ্চের ওপর থেকে পুরনো পুতুলদের সরিয়ে দেয়ার যে কাহিনী জানতে পারা যায়, তা রীতিমতো বিস্ময়কর এবং ভয়াবহও বটে।

তার মতে, বঙ্গবন্ধুর পরে যত সরকারই ক্ষমতায় এসেছে তারা সবাই বিদেশী শক্তিগুলোর সাথে মোটামুটি ভারসাম্য রক্ষা করে ক্ষমতায় টিকে ছিলেন। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ যখন কোনো কারণে ভারত অথবা মার্কিনিদের রোষানলে পড়েছেন তখনই তাদেরকে বেইজ্জতি করে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে।

তিনি আরো লিখেছেন, আমাদের দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস যারা জানেন তারা নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন, গত দশটি বছর ধরে বাংলাদেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি এসে আওয়ামী লীগ হঠাৎ করে তাদের ভারতমুখী পররাষ্ট্রনীতি ত্যাগ করে চীনের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। চীন দীর্ঘদিন থেকে অনবরত চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বাংলাদেশের ওপর তাদের একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের। কিন্তু তারা কৌশলগত কারণে সেই সুযোগ পায়নি। কারণ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে তারা যেভাবে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে সেই রকম পরিস্থিতি তারা ২০১৮ সালের পূর্বে বাংলাদেশে পায়নি অথবা সৃষ্টি করতে পারেনি। বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য সাম্প্রতিক দুনিয়ায় চীনের আধিপত্য নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করা দরকার। চীন সাধারণত দুইভাবে গত তিন দশক ধরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। তারা সারা দুনিয়াকে দুইটি ভাগে ভাগ করেছে। এক ভাগকে তারা কেবলমাত্র অর্থনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করবে আর অন্য অংশকে ব্যবহার করবে অর্থনৈতিক-সামরিক-ভৌগোলিক এবং কৌশলগত রাজনীতির স্বার্থে।

চীন তাদের অর্থনৈতিক আধিপত্য পৃথিবীর সব দেশে ইতিমধ্যে বিস্তার করে ছেড়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়া, তুরস্ক, জাপান প্রভৃতি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশে চীনা অর্থনীতির দাপট এত বেশি যে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে চীনা প্রভাব এড়ানোর জন্য রীতিমতো যুদ্ধের কথা কল্পনা করতে হচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলো ছাড়াও চীন সাব সাহারার কিছু আফ্রিকান দেশ, আরব অঞ্চলের কয়েকটি দেশ, মধ্য এশিয়ার দেশগুলো এবং দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশকে রীতিমতো নিজেদের অর্থনৈতিক কলোনি বানিয়ে ফেলেছে, যারা চীনের মতের বাইরে এক কদম এগোবার সাহস করে না। চীন এশিয়ার যেসব অঞ্চলকে সামরিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ মনে করে সেসব দেশের মধ্যে উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং নেপালকে ইতিমধ্যে কব্জা করে নিয়েছে। কিন্তু তাদের চীর প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে মোকাবেলা ও নাস্তানাবুদ করার জন্য ওসব দেশের চেয়েও তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে নিয়ে মহাচীনের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টি করা হয় এবং প্রায় বারো লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানো হয়। চীন যেসব দেশে সামরিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করে সেসব অঞ্চলকে রেড জোন আখ্যা দিয়ে সেখানকার সব কিছুর সূচক নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ সেনাবাহিনী। তারা পাকিস্তান, মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ডের মতো করে সেনাবাহিনীকে নিজেদের কব্জায় নেয়ার চেষ্টা করে রেড জোনগুলোতে ত্রিমাত্রিক তৎপরতা চালাতে থাকে। তাদের দ্বিতীয় পছন্দ হলো- উত্তর কোরিয়ার কিম, মালয়েশিয়ার নাজিব রাজাক, রাশিয়ার পুতিন, ভেনিজুয়েলার প্রয়াত হুগোস্যাভেজ এবং বর্তমানের মাদুরোর মতো কর্তৃত্ববাদী একনায়ক এবং একনায়কের তল্পিবাহক রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী। তারা রেড জোনগুলোতে তাদের প্রয়োজনীয় নিয়ামকগুলো পেয়ে গেলে সর্বশক্তি নিয়োগ করে অক্টোপাসের মতো সংশ্লিষ্ট দেশ-জাতিকে কব্জা করে নেয়। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সাম্প্রতিক সম্পর্ক বিবেচনা করলে এ কথা স্পষ্ট যে, তারা গাঙ্গেয় ব-দ্বীপে তাদের মনের মতো দোসর পেয়ে গেছে। পত্রিকায় খবর বের হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে নজিরবিহীনভাবে একটি এমওইউ স্বাক্ষর হয়েছে। এটি নজিরবিহীন প্রধানত দু’টি কারণে। প্রথমত, দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের রাজনৈতিক দলের সাথে এর আগে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি কোনো এমওইউ স্বাক্ষর করেনি। রাষ্ট্রীয়ভাবে চীন এবং বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রায় পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা সমমূল্যের বাণিজ্যিক প্রটোকল স্বাক্ষর করেছে। চীন তার অন্যান্য রেড জোন ঘিরে যেসব দীর্ঘমেয়াদি সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে সেসব প্রকল্পের অনেকগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশে দৃশ্যমান হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্য লিখেছেন, চীনের সাথে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক মাখামাখিমূলক সম্পর্ক ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা বিক্ষুব্ধ করেছে তা সহজেই অনুমেয়। বিগত দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে খারাপ সম্পর্ককে মোকাবেলা করা হয়েছে ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনাদেনার মাধ্যমে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের প্রভাবে বাংলাদেশের অনেক কিছু মেনে নিয়েছিল অথবা মানতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে চীনের কারণে ভারত বাংলাদেশের সাথে পারস্পরিক সম্পর্কের যে নতুন রসায়ন সৃষ্টি হয়েছে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের অতীতের রাগ-ক্ষোভ ও বিতৃষ্ণার প্রতিশোধ গ্রহণ করে মনের ঝাল মেটানোর।

এতোদিন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সম্ভাবনায় ভাগ বসানোর জন্য পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের ব্যাপারে নমনীয় হতে বাধ্য হয়। ফলে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের এশীয় মিত্র যথা জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, দুবাই, কাতার প্রভৃতি দেশের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করার সুযোগ পেয়ে যায়। রাশিয়াও বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশকে উদারভাবে ব্যাকআপ দিতে থাকে। এদিকে, দীর্ঘদিন ওঁৎ পেতে থাকা চীনও আওয়ামী লীগকে লুফে নেয়। তখন সার্বিক বিবেচনায় আওয়ামী লীগের কাছে ভারতের চেয়ে চীনকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে নির্ভরযোগ্য ও লাভজনক মনে হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের কর্তৃত্ব ও তাঁবেদারি বহাল রেখে গোপনে চীনের সাথে সমঝোতার ফলে ৩০ ডিসেম্বর আবারো ক্ষমতায় আসা সম্ভব হয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

বাংলাদেশের উল্লিখিত প্রেক্ষাপট এবং বর্তমানের নির্মম বাস্তবতায় ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের কায়েমি স্বার্থ এবং এই অঞ্চলের আধিপত্যের ওপর মারাত্মক হুমকি বিবেচনা করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কখন এবং কিভাবে কী কী ব্যবস্থা নেয়া যায় তা নিয়ে দিল্লি এবং ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দফতর ও গোয়েন্দা অফিসগুলো রীতিমতো গরম সময় অতিবাহিত করছে। তারা চীনের নতুন এই রেড জোনে কোনো অবস্থাতেই চীনের কর্তৃত্ব স্থায়ী হতে না দেয়ার ব্যাপারে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর হবে বলে রাজনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করেছেন। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পুরনো দিনের মতো পুনরায় সিআইএ এবং র’-এর পদচারণা, পদভার এবং অপতৎপরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোন পথে- এই জিজ্ঞাসা নিয়ে সম্প্রতি এক গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই) ও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)। এতে রাজনীতিক, কূটনীতিক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক, শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে আমাদের পররাষ্ট্রনীতির ভেতর-বাহির, জাতীয় নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নানা দিক।

আলোচনায় প্রায় সব বক্তা অভিমত প্রকাশ করেন, যেকোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য হলো সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য সুদৃঢ় না হলে সেটি অর্জন করা সম্ভব নয়। আমাদের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বিরোধী দলে থাকতে একে অপরের বিরুদ্ধে ‘সার্বভৌমত্ব’ বিকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করে থাকে, যা জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পরিপন্থী। বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে সদ্ভাব রেখে ভারসাম্যের কূটনীতি প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এর সুফলও পেয়েছে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে চীন-ভারত, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া, চীন-জাপান এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব আর লুকোছাপার বিষয় নয়। বাংলাদেশ এই পাঁচ প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে সংহত অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং ক্ষেত্রবিশেষে কৌশলগত সামরিক সহযোগিতারও সম্পর্ক গড়ে তুলতে পেরেছে। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক সম্পর্ক গভীর। আবার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীনের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। এই দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে যেন আমরা জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি ভুলে না যাই, সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

উৎসঃ ‌‌সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে

আরও পড়ুনঃ ‌নাটোরের লালপুরে ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে পেটালেন ছাত্রলীগ!


নাটোরের লালপুরে সরকারি ভাবে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও ইউপি চেয়ারম্যান দ্বন্দ্বের জের ধরে চেয়ারম্যানকে পিটিয়ে আহত করেছে এমপি সমর্থক ছাত্রলীগ কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার গোপালপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত কদমচিলান ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা মাস্টারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এমপি শহিদুল ইসলাম বকুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের আমি চিনিও না। রাজনৈতিক কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

অপরদিকে, এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজার ভাই আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ৯ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ ঘটনায় নাজিম আলী সরদার নামে এজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার নাজিম আলী সরদার পানঘাটা গ্রামের খোরশেদ সরদারের ছেলে।

আহত ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভিজিএফ কার্ডের তালিকা জমা দিতে উপজেলা পিআইও অফিসে যান কদমচিলান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চেয়ারম্যান সেলিম রেজা। পিআইও আব্দুর রাজ্জাক দলীয় ভাগের কার্ডগুলো স্থানীয় এমপি সমর্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করে তালিকা জমা দেয়ার জন্য বলেন অন্যথায়, তালিকা নেয়া যাবে না বলে জানান।

এসময় চেয়ারম্যান জানান, স্থানীয় ইউপি ও ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দের মাঝ থেকে দলীয় কার্ডের তালিকা নেয়া হয়েছে। তখন পিআইও বলেন, দলীয় বুঝি না। এমপি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিদের মাধ্যমে দলীয় কার্ডের তালিকা দিতে হবে। এভাবে কথাকাটির এক পর্যায়ে দু’জনে উত্তেজিত হয়ে হাতাহাতির পর্যায়ে গেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিতরা দু’জনকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলের সমর্থক ছাত্রলীগ কর্মী স্বপন, দেলোয়ার, সজলসহ কয়েকজন। তারা চেয়ারম্যানকে খোঁজ করতে থাকে ও এমপির নির্দেশ অমান্য করায় হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে ৬টার দিকে চেয়ারম্যান সেলিম রেজা উপজেলা থেকে বের হয়ে বাড়ি ফেরার পথে তার পিছু নেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে গোপালপুর বাজারে পথরোধ করে চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি জানান, পিআইও এবং চেয়ারম্যানের মধ্যকার বিবাদের বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক তাদের বিবাদ মিটিয়ে নিয়মমাফিক কাজ করার পরামর্শ দিয়েছি। পরবর্তীতে শুনলাম চেয়ারম্যানকে পথিমধ্যে মারধর করা হয়েছে। কে বা কারা মেরেছে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

লালপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, এ বিষয়ে মামলা হওয়ার পর পুলিশ নাজিম নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌দেশে গণতন্ত্রের গভীর সংকট চলছে: ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সময়ে দেশে গণতন্ত্রের গভীর সংকট চলছে। দেশে নেই আইনের শাসন। নারী নির্যাতন প্রতিদিনই বাড়ছে। এভাবে কোনো সভ্য সমাজ রাষ্ট্র চলতে পারে না।

শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর টাইন হল অডিটরিয়ামে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর ছাত্রদলের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, জাতিকে এ দুরবস্থা থেকে উত্তরণ দিতে হলে জিয়াউর রহমানের আদর্শে জনগণকে উজ্জীবিত করে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। তবেই মিলবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি। এর কোনো বিকল্প নেই।

মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাইমুল করিম লুইনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ আলম, যুগ্ম সম্পাদক কাজী রানা প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌বিডি-প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‌নির্বাচিতদের পার্লামেন্টে যাওয়া নিয়ে চাপের চেয়ে লোভ বেশি ছিল: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়


বিএনপির নির্বাচিতদের পার্লামেন্টে যাওয়া নিয়ে চাপের চেয়ে লোভ বেশি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী তাতী দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি পার্লামেন্টে যাবে না, আবার পার্লামেন্টে গেলাম কেনো? এখান থেকে বুঝতে হবে আমাদের প্রতিশ্রুতির অভাব আছে। আমরা অবাধ্যকে বাধ্য করতে পারি না। কারণ তাদের দলের প্রতি ও রাজনীতির প্রতি কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। যারা শপথ নিয়েছে এই ৫টা লোককে আমরা যদি বাধ্য করতে পারতাম তাহলে আজকে আপনাদের এই দুঃখটা থাকত না। মানুষের কাছেও আজকে জবাব দিতে হত না।

তিনি বলেন, তারা বলে পার্লামেন্টে যাওয়াতে চাপ আছে। চাপের চেয়ে লোভ বেশি।

এরা একটা দিনও কি বলেছে খালেদা জিয়া মুক্ত না হলে পার্লামেন্টে যাবো না। ৫ জনের একজন বলেছে একদিন? তাহলে তাদের কাছে পার্লামেন্ট জরুরি, খালেদা জিয়ার মুক্তি জরুরি না।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ভোট যদি রাতের আধারে চলে যায় সবারই বদনাম হয়। সামাজিক ক্ষেত্রেও অনেক অন্যায় আবদার মেনে নিতে হয়। এখন এই ৫ জন যদি দল ছেড়ে চলে যেত তাহলে অন্য রকম পরিস্থিতি হত। সেই কারণেই আমাদের প্রেক্ষাপট বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আইন আছে আইনের প্রয়োগ নাই। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন হত, বিবেকতারিত হত তাহলে খালেদা জিয়াকে ১৪ মাস না ১৪ দিনেও জেলে রাখতে পারত না। আমি ধরে নিলাম উনি অপরাধী। কিন্তু উনার যে সাজা হয়েছে। এরকম সাজাপ্রাপ্ত লোকের সংখ্যা বাংলাদেশে শতশত, হাজার হাজার। তারা জামিনে মুক্ত কিন্তু খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না কেনো?

তিনি বলেন, সম্প্রতি লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তারেককে বেশী বারাবারি করতে না বলো, তাহলে কিন্তু তার মাকে আর ছাড়বো না। তার মানে খালেদা জিয়াকে ছাড়ার মালিক শেখ হাসিনা। এটা কি আদালত অবমাননা না? আদালত কি শেখ হাসিনাকে ডাকছে, জিজ্ঞেস করেছে।

জাতীয়তাবাদী তাতীদলের আহবায়ক আবুল কালামের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের বক্তব্য রাখেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন ইসলাম খান, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অদক্ষ সেলিম ভুইয়া, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌ঐক্য অটুট রেখে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে হবে: সাদেক হোসেন খোকা


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসন জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। এই অপশাসন থেকে মুক্ত হতে প্রয়োজন ইস্পাত কঠিন ঐক্য। এখন বিভেদ বিভাজনের সময় নয়। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস্থ পালকি সেন্টারে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাদেক হোসেন খোকা বলেন, স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়া যে রাজনীতি ও আর্দশ আমাদের দিয়ে গেছেন, তা বিলীন হবার নয় । সংকট, ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করেই আমাদের সামনে অগ্রসর হতে হবে।

তিনি বলেন, যারা ভাবছেন বিএনপি নিঃশেষ হয়ে গেছে, তারা বোকার র্স্বগে বাস করছে। দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে যে রাজনীতি একাকার হয়ে মিশে আছে তা নিঃশেষ হতে পারে না।

বীর এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে যৌবনে রাজনীতির হাতেখড়ি, শহীদ জিয়ার ঘোষণায় উদ্বীপ্ত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গনতান্ত্রিক আন্দোলন ও দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে পথচলা আমার জীবনে পূর্নতা এনে দিয়েছে। আমি হতাশাবাদীদের অন্তভূক্ত নই। শারীরিক এই অসুস্থতার মধ্যেও আমি বিশ্বাস করি গনতন্ত্র পুন:উদ্ধারের এই সংগ্রামে আমরা বিজয়ী হবো।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে এই দোয়া ও ইফতার মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবেদিন ফারুক ও সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমউদ্দিন আলম। বিপুল সংখক প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে আবুল কাসেমের উপস্থাপনায় এতে মোনাজাত পরিচালানা করেন মাওলানা আনসারুল করিম।

উৎসঃ ‌‌justnewsbd

আরও পড়ুনঃ ‌তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে বিএনপি: রুহুল কবির রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ। তার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে বিএনপি।

শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

ঈদের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে রিজভী বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতা থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন তারেক রহমান। তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন, খোঁজখবর রাখছেন এবং সাংগঠনিক নির্দেশনা দিচ্ছেন।

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, দলকে গতিশীল রাখতে ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম ইতিমধ্যে প্রায় সব জেলা সফর করে সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করেছেন।

‘বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা সংশ্লিষ্ট জেলার সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করছেন এবং সেই অনুযায়ী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।’

রিজভী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। দলের কমিটি গঠন, বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন সবই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে বাস্তবায়ন করছেন।

এ সময় তিনি বিএনপিকে ভাঙার সরকারের কোনো অপচেষ্টাই সফল হয়নি বলে মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে সরকার গঠন করেও তাদের স্বস্তি নেই। দেশ-বিদেশে বিতর্কিত সেই নির্বাচন বৈধতা পায়নি। তাই বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর অপচেষ্টা করছে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি।

তিনি বলেন, সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থা নানা কূটকৌশল করে বিএনপির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পেরে এখন কিছু গণমাধ্যমকে দিয়ে মনগড়া কল্পকাহিনি রচনা করছেন, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

রিজভী আরও বলেন, গত দুদিন আগে ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, যা চাচ্ছি তা লিখতে পারছি না। অনেক ইস্যুতে লেখা উচিত, যেমন ধরুন- গত নির্বাচন। এ ছাড়া আরও ছোট নির্বাচনগুলো নিয়ে লেখা উচিত, যা লেখা ও বলা উচিত তা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও লিখতে ও বলতে পারছি না।

‘এ হলো বর্তমানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা! কীভাবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে যে, মাহফুজ আনামের মতো বরেণ্য সাংবাদিকরাও কলম চালাতে সাহস পান না।’

রিজভী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংস্থাগুলো কার্যত গণমাধ্যমের ‘সুপার এডিটর’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। গণমাধ্যমের কোন খবর ছাপানো যাবে, কোনটি ছাপানো যাবে না- এসব কিছু তাদের খেয়ালখুশির ওপর নির্ভর করছে। আর সে কারণেই বিরোধী দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাজানো গল্প বানিয়ে দিচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থা, আর সেগুলোই কিছু মিডিয়া হেডলাইন করে ছাপাচ্ছে।

এর আগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়। নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয়।

রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য টিএস আইয়ুব, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি আলমগীর হোসেন সোহান, সহসাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম মিঠু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইফতে খায়রুজ্জামান শিমুল, ছাত্রদল নেতা জিসান, সুমন হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শীর্ষ সন্ত্রাসী ও যুবলীগ নেতা অমিত মুহুরীর উপাখ্যান


গতকাল চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী, যুবলীগ ক্যাডার অমিত মুহুরী মারা গিয়েছে। কারাগারের ৩২ নম্বর সেলে রিপন নামের অন্য এক বন্দীর সঙ্গে অমিত মুহুরির মারামারি হয়। একপর্যায়ে রিপনের ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন অমিত। বুধবার রাত ১০টায় এ ঘটনার পর আহত অমিতকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিবাগত রাত একটার দিকে তিনি মারা যান বলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ নাশির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩২ নম্বর সেলে অমিত মুহুরিসহ তিনজন বন্দী ছিলেন। রাত ১০টার দিকে আরেক বন্দী রিপনের সঙ্গে অমিত মুহুরির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রিপন ইট দিয়ে অমিতের মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর অবস্থায় অমিতকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অমিত মারা যান।

অন্য দশটি ছেলের মতো চট্টগ্রামের রাউজানে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠেছিল অমিত মুহুরী। এসএসসি পাস করে গ্রামের একটি বিদ্যালয় থেকে। শহরে এসে ত্রাস হয়ে ওঠে অমিত মুহুরী। কথায় কথায় গুলি ছোড়া ও ছুরি মারা তার অভ্যাসে পরিণত হয়। তুচ্ছ ঘটনায় ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বুকে ছুরি চালাতেও হাত কাঁপে না তার। পুলিশের চোখে সে ‘ঠাণ্ডা মাথার ভয়ঙ্কর খুনি’। অন্তত অর্ধডজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় এক ডজন চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যা মামলা রয়েছে। গত ২০১৭ সালের ৯ আগস্ট বাল্যবন্ধু ইমরানুল করিম ইমনকে খুনের পর ফের আলোচনায় এসেছে অমিত মুহুরীর নৃশংসতা।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) জাহাঙ্গীর আলম সমকালকে বলেন, ‘অমিত মুহুরী ঠাণ্ডা মাথার একজন ভয়ঙ্কর কিলার। ইমনকে নৃশংসভাবে খুন করে যে কায়দায় লাশ গুম করার চেষ্টা করেছে, একজন স্বাভাবিক মানুষ সেটি কল্পনাও করতে পারবে না। এ ঘটনায় আরও যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অতীতেও অনেকগুলো খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল অমিত।

চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডা. মনোরঞ্জন মুহুরী চেয়ারম্যানবাড়ির অজিত মুহুরীর ছেলে অমিত মুহুরী। এসএসসি পাস করে রাউজান পৌরসভার সুরেশ বিদ্যায়তন থেকে। এর পর চট্টগ্রাম শহরে এসে ওমর গণি এমইএস কলেজে ভর্তি হলেও উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেনি। এর পর ক্রমে হয়ে ওঠে পেশাদার খুনি। পরিচয় দেয় যুবলীগ নেতা হিসেবে। নন্দনকানন, লাভলেন, হেমসেন লেন, ঝাউতলা, লালদীঘিপাড়, মোমিন রোড ও এনায়েতবাজার এলাকায় দোর্দণ্ড প্রতাপ তার। এসব এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজিই তার মূল কাজ। এ ছাড়া ভাড়ায় বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বন্ধু রাসেলকে ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে খুনের মধ্য দিয়ে উত্থান
২০১২ সালে নগরের মোমিন রোডের ঝাউতলা এলাকার যুবলীগ কর্মী মো. রাসেলের সঙ্গে পরিচয় হয় অমিত মুহুরীর। দু’জনের মধ্যে গড়ে উঠে সখ্য। একপর্যায়ে নারীঘটিত বিষয় নিয়ে দু’জনের বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। এর জেরে অমিত মুহুরীকে মারধর করেন রাসেল। পরে প্রতিশোধ নিতে অমিত মুহুরী তার সহযোগীদের নিয়ে রাসেলকে তুলে নিয়ে যায়। আগ্রাবাদের জাম্বুরি মাঠে নিয়ে বেধড়ক পেটায়। শরীরে ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে খুুঁচিয়ে তাকে নিপীড়ন করে। একপর্যায়ে মৃত মনে করে মাঠে ফেলে যায় তারা। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় রাসেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাস নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর দেশ ছেড়ে পালায় অমিত। পরে ফিরে এলে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে আসে।

সিআরবি জোড়া খুনের ঘটনায় আলোচনায় অমিত
২০১৩ সালের ২৪ জুন চট্টগ্রাম নগরের সিআরবি সাত রাস্তার মোড় এলাকায় রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে খুন হয় সিআরবি এলাকার মো. ছিদ্দিকের ছেলে মো. আরমান (৮) ও লাভ লেন এলাকার যুবলীগ কর্মী সাজু পালিত (২৫)। চাঞ্চল্যকর এ জোড়া খুনের মামলায় অন্যতম আসামি অমিত মুহুরী। ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এর পর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের খাতায় নাম ওঠে তার। অপরাধজগতেও বেড়ে যায় তার কদর। এরপর ক্রমে নিজেই গড়ে তোলে আলাদা বাহিনী।

বাল্যবন্ধুকে নৃশংসভাবে খুন করে অমিত
রাউজান পৌরসভা এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে ইমরানুল করিম ইমন ও অমিত মুহুরী বাল্যবন্ধু। একই এলাকায় তাদের বাড়ি। গত ৮ আগস্ট রাতে অসুস্থতার কথা বলে নন্দনকাননের বাসায় ইমনকে ডেকে নিয়ে যায় অমিত মুহুরী। ৯ আগস্ট ভোরে লোমহর্ষকভাবে খুন করে তাকে। খুনের পর ড্রামের ভেতরে মরদেহ রেখে এসিড ও চুন ঢেলে সেটা গলিয়ে হাড়গোড় নদীতে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু একদিন পরও মরদেহ অবিকৃত থাকায় সেটি খণ্ড খণ্ড করে কেটে ফেলার চেষ্টা করে। মরদেহ শক্ত হয়ে যাওয়ায় অমিতের সে পরিকল্পনাও ব্যর্থ হয়। এর পর বালু ও সিমেন্ট দিয়ে ড্রামের ঢাকনা ঢালাই করে মরদেহ পাশের রানীর দীঘিতে ফেলে দেওয়া হয়। ১৩ আগস্ট দীঘি থেকে ড্রামভর্তি গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৩১ আগস্ট অমিতের বন্ধু ইমাম হোসেন মজুমদার ওরফে শিশির (২৭) ও হরিশদত্ত লেনের বাসার নিরাপত্তারক্ষী শফিকুর রহমান শফিকে (৪৬) আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এর দু’দিন পর কুমিল্লার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে অমিত মুহুরীকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় খুনের দায় স্বীকার করে পরস্পরকে দায়ী করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে শিশির ও অমিত।

ছাত্রলীগ কর্মী ইয়াছিন খুন
গত ১১ ফেব্রুয়ারি সিটি কলেজের ছাত্রলীগ নেতা ইয়াছিনকে দিনদুপুরে নগরের আমতলা এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অমিত মুহুরী জড়িত বলে দাবি সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতাদের। খুন হওয়ার কিছুদিন আগে ইয়াছিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এর মধ্যে ইয়াছিনের ইয়ামাহা কোম্পানির এফজেডএস মোটরসাইকেলটি নিয়ে নেয় অমিত। মোটরসাইকেল চাইতে গেলে ইয়াছিনকে হুমকি-ধমকি দেয়। বিষয়টি ইয়াছিন তার রাজনৈতিক বড় ভাইকে জানালে তিনি অমিত মুহুরীকে পাল্টা হুমকি-ধমকি দেন। এর জের ধরে ইয়াছিনকে খুন করা হতে পারে বলে ধারণা ছাত্রলীগ নেতাদের।

এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বাকলিয়া এলাকায় মোটরসাইকেলে শোডাউন করে ত্রাস সৃষ্টি করে অমিত মুহুরী। এ বিষয়ে জানতে চাওয়ায় ছাত্রলীগ নেতা তানজিরুল হকের পায়ে প্রকাশ্যে গুলি চালায় সে। গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন নগরীর ডিসি হিলে পুলিশের ওপর হামলা চালায় অমিত মুহুরী ও তার অনুসারী সন্ত্রাসীরা। গত ২৮ এপ্রিল রাতে নগরের কোতোয়ালি থানার মোমিন রোডের ঝাউতলা এলাকায় স্থানীয় কিশোর-তরুণদের দু’পক্ষ মারামারি শুরু করে। একপর্যায়ে পিস্তল উঁচিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালায় অমিত মুহুরী, যা সিসিটিভির ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এ ঘটনায় ২৫ মে তাকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ২৬ জুন জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও স্বরূপে ফেরে ভয়ঙ্কর এ সন্ত্রাসী।

উৎসঃ ‌‌ব্লগ থেকে

আরও পড়ুনঃ ‌সাত বছরে ৫ বার ফেল ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন!


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সাত বছরেও তৃতীয় বর্ষ উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত তিনি পাঁচবার ফেল করলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের আদেশ অনুযায়ী স্নাতক পর্যায় ছয় বছরের মধ্যে শেষ করতে হবে। সে হিসেবে তিনি ছাত্রত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

জানা গেছে, আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল সোমবার প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় সাদ্দাম হোসেন অকৃতকার্য হয়েছেন।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ১২৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ১২১ জন পরীক্ষায় পাস করেন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

প্রকাশিত ফলাফলে অকৃতকার্য হন সাদ্দাম হোসেন।

সূত্র জানিয়েছে, তৃতীয় বর্ষের মোট ছয়টি কোর্সের পরীক্ষায় সাদ্দাম হোসেন অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, ঢাবি ছাত্রলীগরে সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ২০১১-১২ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষ উত্তীর্ণ হতে তিনি তিন বছর সময় নেন। অর্থাৎ ২০১২, ‘১৩, ‘১৪ সালে প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন।

চতুর্থবারের চেষ্টায় ২০১৫ সালে প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় সাদ্দাম হোসেন উত্তীর্ণ হন।

‘১৬ সালে দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি পাস করতে পারেননি। ২০১৭ সালে দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে পাস করেন।

‘১৮ সালে তৃতীয় বর্ষে ভর্তি হন। তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ শুরু হয়। সেই পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন।

সব মিলিয়ে এই ছাত্রনেতা সাত বছরে তৃতীয় বর্ষ পার হতে পারেননি।

ঢাবি সিন্ডিকেটের একটি আদেশ আছে, আট বছরের বেশি কোনো শিক্ষার্থী ঢাবির নিয়মিত ছাত্র হয়েছে অধ্যয়ন করতে পারবে না।

এই আট বছরের মধ্যে ছয় বছরে স্নাতক ও দুই বছরে স্নাতকোত্তর করতে হবে।

কিন্তু সাদ্দাম হোসেন সাত বছরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকের ছাত্র রয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবির আইন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. নাইমা হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসব বিষয় আমরা বিভাগ থেকে দেখি না। এগুলো ডিন অফিস, রেজিস্ট্রার অফিস দেখে’।

উৎসঃ ‌‌দেশ রূপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের টেন্ডার ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে হল নির্মান বন্ধ!


খুন, হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, দখল, মারামারির পর এবার চাঁদাবাজি ও কয়েকশ কোটি টাকার টেন্ডার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। তাদের চাঁদাবাজির কারণে বন্ধ রয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ হাসিনা ছাত্রী হল ও ড. ওয়াজেদ মিয়া হল নির্মাণের কাজ। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প এর প্রথম ধাপের ছয়টি হল নির্মাণের ৪শ’ কোটি টাকার দরপত্র ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছিনতাই করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীর মালিকানাধীন বনানীস্থ ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশন কোম্পানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বরাবর লিখিতভাবে এই অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, গত ২৩ মে প্রি-টেন্ডার মিটিংয়ে অংশগ্রহণ পূর্বক সিডিউল কিনে ফেরার সময় ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে ২০-৩০ জন যুবক তাদের কাছ থেকে সিডিউল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। ফলে তাদের পক্ষে দরপত্র প্রতিযোগীতায় অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই দরপত্র বাতিল করে পুনরায় দরপত্র (ইজিবি) আহবান করার অনুরোধ জানানো হয় অভিযোগপত্রে।

গত বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে প্রকল্প পরিচালকের অনুমতি নিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে সিডিউল কিনেন কোম্পানীর একজন প্রতিনিধি। তিনি সিডিউল কিনে বের হলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের অনুসারী বেশ কিছু নেতাকর্মী তাদের কাছে সিডিউল দিয়ে দিতে বলেন। তারা বলেন, বিশ্বাস বিল্ডার্সসহ অনেকে আমাদের কাছে সিডিউল জমা দিয়ে গেছে। আপনিও দিয়ে দেন। কালকে আমরা একটা সমঝোতা করে আপনাদের মধ্যেই ছয়জনকে ছয়টা কাজের ব্যবস্থা করে দিব। প্রায় ১ ঘণ্টা বাকবিতন্ডার পর কোম্পানীর প্রতিনিধি ছাত্রলীগের কাছে ঐ সিডিউল দিয়ে দেন।

পরে ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশনের একজন পরিচালক বলেন, আমাদের কাছে থেকে জাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সিডিউল ছিনতাই করেছে। কোম্পানীর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা লিখিত অভিযোগ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সচিব ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছেও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন ম্যানুয়েল টেন্ডারের ব্যবস্থা করেছে কিন্তু আমাদের কোন নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি। আমরা অনিয়ম রোধে পুনরায় ইজিবি টেন্ডার আহবান করার দাবি জানিয়েছি।

এই পরিচালক আরো বলেন, এখানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা জড়িত। বিশ্বাস বিল্ডার্স, মাজেদ এন্ড সন্স, বঙ্গ বিল্ডার্সসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এরুপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে।

এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে সিডিউল কেনার ব্যাংক কার্যালয়ে ছাত্রলীগ শোডাউন দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক গ্রুপের পাশাপাশি বিদ্রোহী গ্রুপ ও সাবেক নেতাদের একটা গ্রুপও তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানের জন্য সিডিউল কিনেছে।

অপরদিকে, রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মণানাধীন ড. ওয়াজেদ রিসার্স ইন্সটিটিউটের ভবনের ঠিকাদারী কর্তৃপক্ষের কাছে ছাত্রলীগ সভাপতি আবু মোন্নাফ আল কিবরিয়া ওরফে তুষার কিবরিয়া ১৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। এঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানায় এই জিডি করেন নির্মাণাধীন ভবনের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসাইন।

জানা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসাইন সাধারণ ডায়েরীতে অভিযোগ করেছেন যে, গত ১২ এপ্রিল বিকেল ৩টায় আমি নির্মাণাধীন ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাইটে অফিস কক্ষে অবস্থান করছিলাম। এসময় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া আমার অফিস কক্ষে এসে ১৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

পাশাপাশি একইদিন সন্ধ্যার মধ্যে ১ লাখ টাকা দাবি করেন এবং বাকি ১৩ লাখ টাকা পরবর্তীতে দিতে হবে বলে হুমকি দিয়ে যান। এ সময় প্রজেক্টের ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল বাহারকে টাকা দেয়ার চাপও সৃষ্টি করেন ছাত্রলীগ নেতা তুষার কিবরিয়া। এছাড়াও শ্রমিকদের ওপর বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি ও চাপ প্রদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দিয়ে যান তিনি। এরপর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এর আগে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের চাদাবাজি টেন্ডারবাজির প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে লাগাতার আন্দোলন করেছে ছাত্রলীগেরই একাংশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জিম্মি করে ক্যাম্পাসের উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্থ করেছিল তারা।

ছাত্রলীগের দাবি-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এখন প্রশ্ন হলো- ছাত্রলীগ সবসময় বলে তারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে। এসব খুন, হত্যা, মারামারি, চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ, দখল বাণিজ্য, টেন্ডার ছিনতাই আর চাঁদাবাজি কি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল? কারণ, ছাত্রলীগকে কখনো কোনো গঠনমূলক কাজ করতে দেখা যায়নি। প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই শুধু ছাত্রলীগের বিভিন্ন অপকর্মের সংবাদ দেখা যায়। প্রতিদিনই তারা সংবাদের শিরোনাম হচ্ছেন। শেখ মুজিবুর রহমান কি ভাল কোনো স্বপ্ন দেখেন নি?

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌জননেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান : জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্ম ও শৈশবে তাঁর ডাক নাম ছিলো কমল। পিতা মনসুর রহমান ও মাতা জাহানারা খাতুন ওরফে রানীর সংসারে পাঁচ ভাইয়ের জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়। মনসুর রহমান কলকাতায় একটি সরকারি দফতরে রসায়নবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জিয়াউর রহমানের শৈশবের কিছুটা সময় বগুড়ার গ্রামে ও কিছুকাল কলকাতা শহরে অতিবাহিত হয়।

ভারত ভাগের পর পিতার কর্মস্থল হয় পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি শহরে। সেই সুবাদে সেখানে চলে যান জিয়া। কলকাতার হেয়ার স্কুল ত্যাগ করেন ভর্তি হন করাচি একাডেমী স্কুলে। ওই স্কুল থেকে ১৯৫২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক পাস করে ১৯৫৩ সালে ভর্তি হন করাচির ডি.জে. কলেজে। ওই বছরই কাবুল মিলিটারি একাডেমীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন।

১৯৮১ সালের এই দিনে (৩০ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থানরত জিয়াউর রহমান এক ব্যর্থ সেনা অভ্যূত্থানে নিহত হন। রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র সংসদ ভবনের পাশে অবস্থিত চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানকে সমাধিস্থ করা হয়। চন্দ্রিমা উদ্যান অনেকেই কাছে জিয়া উদ্যান নামেও পরিচিত।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক এই রাষ্ট্রপতির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি তুলে ধরা হলো:

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৫৩ সালে কাবুল মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান। ১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হন। সামরিক বাহিনীতে তিনি একজন সুদক্ষ প্যারাট্রুপার ও কমান্ডো হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেন এবং স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। করাচীতে দুই বছর চাকুরি করার পর ১৯৫৭ সালে তিনি ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি হয়ে আসেন।

১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন।

১৯৬০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দিনাজপুর শহরের মেয়ে খালেদা খানমের (বেগম খালেদা জিয়া) সঙ্গে জিয়াউর রহমান বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে খেমকারান সেক্টরে তিনি অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। যুদ্ধে দুর্ধর্ষ সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য যেসব কোম্পানি সর্বাধিক বীরত্বসূচক পুরস্কার লাভ করে, জিয়াউর রহমানের কোম্পানি ছিল এদের অন্যতম। এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পাকিস্তান সরকার জিয়াউর রহমানকে হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত করে। এছাড়াও জিয়াউর রহমানের ইউনিট এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য দুটি সিতারা-ই-জুরাত এবং নয়টি তামঘা-ই-জুরাত পদক লাভ করে।

১৯৬৬ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে পেশাদার ইনস্ট্রাক্টর পদে নিয়োগ লাভ করেন। সে বছরই তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটার স্টাফ কলেজে কমান্ড কোর্সে যোগ দেন।

১৯৬৯ সালে তিনি মেজর পদে উন্নীত হয়ে জয়দেবপুরে সেকেন্ড ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। এডভান্সড মিলিটারি এন্ড কমান্ড ট্রেনিং কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি পশ্চিম জার্মানিতে যান এবং কয়েক মাস ব্রিটিশ আর্মির সাথেও কাজ করেন।

১৯৭০ সালে একজন মেজর হিসেবে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং চট্টগ্রামে নবগঠিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। পূর্ব বাংলার জনপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবের বন্দিদশায় জিয়াউর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়েই আবারও বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামের দিশা খুঁজে পায়।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদানের জন্য ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।

১৯৭২ সালের জুন মাসে তিনি কর্নেল পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ-অফ-স্টাফ (উপসেনাপ্রধান) নিযুক্ত হন। ১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে ও ১৯৭৩ সালে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৭৫ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নির্মমভাবে স্বপরিবারে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই বছরই চিফ অব আর্মি স্টাফ নিযুক্ত হন জিয়াউর রহমান। ওই বছরের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন এবং নিযুক্ত হন উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে।

১৯৭৬ সালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৬ সালের ৮ মার্চ মহিলা পুলিশ গঠন করেন, ১৯৭৬ সালে কলম্বোতে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন সম্মেলনে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশ ৭ জাতি গ্রুপের চেয়ারম্যান পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৭৬ সালেই তিনি উলশি যদুনাথপুর থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন উদ্বোধন করেন এবং ওই বছরের ২৯ নভেম্বর জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। একই বছরের ১৯ নভেম্বর তিনি পুনরায় সেনাবাহিনীর চীফ অফ আর্মি স্টাফ পদে দায়িত্বে প্রত্যাবর্তন করেন। ওই বছরই গঠন করেন গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

১৯৭৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি একুশের পদক প্রবর্তন করেন জিয়াউর রহমান। এবং রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত সায়েমের উত্তরসূরি হিসেবে ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন জিয়াউর রহমান দেশে আবার গণতন্ত্রায়ণের উদ্যোগ নেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর সিদ্ধান্ত নেন। দেশের রাজনীতিতে আবারও গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়।

১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে প্রধান করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠা করেন। ছয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে তিনি ৭৬.৬৭% ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং রাষ্ট্রপতির পদে নিয়োজিত থাকেন।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বর্তমানে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি এবং যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান) বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়াউর রহমানে নবগঠিত বিএনপিতে বাম, ডান ও মধ্যপন্থিসহ সকল স্তরের রাজনীতিকদের অংশগ্রহণ ছিল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সামরিক আইন প্রত্যাহার করেন।

সেনাবাহিনীতে অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন জিয়াউর রহমান। ওই সময়ে অনেক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ১৯৮১ সালের ২৯ মে তিনি চট্টগ্রামে আসেন এবং সেখানে সার্কিট হাউসে অবস্থান নেন। এর একদিন পরই ৩০ মে ভোরে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। চন্দ্রিমা উদ্যানে তাঁর জানাজায় প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হয়।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, উইকিপিডিয়া

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here