সেই মসজিদের পাশে জুমার দিনেই হুসনে আরা পারভীনের জানাজা

0
232
হুসনে আরা পারভীন

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত সিলেটের গোলাপগঞ্জের হুসনে আরা পারভীনের (৪০) লাশ শুক্রবার দাফন করা হবে সেখানেই।

সন্ত্রাসীর হামলার শিকার ক্রাইস্টচার্চের সেই আল নূর মসজিদের পাশে জানাজা শেষে তাকে সমাহিত করা হবে।

গত ১৫ মার্চ পঙ্গু স্বামীর সঙ্গে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হন তিনি। সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলির মধ্যে স্বামীকে খুঁজতে গিয়ে নিহত হয়েছিলেন হুসনে আরা পারভীন।

ঘটনার পর নিহত হুসনে আরা পারভীনের দেশে থাকা ভাইসহ আত্মীয়স্বজনের মধ্যে নেমে আসে বিষাদের কালো ছায়া। এ ঘটনায় তার পরিবারের পাশাপাশি জাঙ্গালহাটা গ্রামসহ গোটা উপজেলায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

এদিকে নিহত হুসনে আরা পারভীনের লাশ দেশে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল পারিবারিকভাবে। কিন্তু ঝুটঝামেলা থাকায় শেষ পর্যন্ত সেখানেই লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সন্ত্রাসীর হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া পঙ্গু স্বামী ফরিদ উদ্দিনের বরাত দিয়ে নিহত হুসনে আরা পারভীনের বড় ভাই নাজিম উদ্দিন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, আমার ছোট বোন হুসনে আরা পারভীন নিহতের পর আমরা চেয়েছিলাম লাশ দেশে এনে দাফন করব। কিন্তু জটিলতা থাকায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিউজিল্যান্ডেই তাকে দাফন করব। সেখানে স্বামী ফরিদ উদ্দিন ছাড়াও নিহত হুসনে আরা পারভীনের ১৪ বছর বয়সী মেয়ে সিফা আহমদ রয়েছে।

এদিকে হুসনে আরা পারভীনের নিহতের পর এখনো শোক কেটে উঠতে পারেনি জাঙ্গালহাজা গ্রামসহ গোটা উপজেলাবাসী। এ গ্রামেই নিহত হুসনে আরা পারভীনের বাবার বাড়ি।

উল্লেখ্য, ১৫ মার্চ শুক্রবার রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালায় উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী অস্ট্রেলীয় নাগরিক বেনটন ট্যারেন্ট। এতে নিহত হন ৫০ মুসল্লি। এর মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশি। এ ছাড়া গুরুতর আহত হন আরও ৫০ জন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ যুক্তরাজ্যে গভীর রাতে মসজিদে মসজিদে হামলা (ভিডিও সহ)


যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের চার-পাঁচটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে অজ্ঞাত অস্ত্রধারীরা।

বুধবার রাতে রাতে উইটনের উইটন ইসলামিক সেন্টারসহ কয়েকটি মসজিদে চালানো এ হামলায় মসজিদগুলোর সাতটি জানালা ও দুটি দরজা ভেঙে যায়। দুর্বৃত্তদের আক্রমণে মসজিদগুলোর দরজা, জানালাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। খবর ইয়ানি শাফাকের।

ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ টিভি চ্যানেল স্কাই নিউজ জানায়, রাত আড়াইটার দিকে বার্মিংহামের বুচেরফিল্ড স্ট্রিটে প্রথম মসজিদে হামলা চালানোর অভিযোগে তিনি পান। হামলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি সেখানে পৌঁছান। প্রথম হামলার ৪২ মিনিট পর ইডিংটন, অ্যাস্টন এবং ব্রডওয়ে এলাকার কয়েকটি মসজিদে হামলার খবর পুলিশের কাছে আসে।

ভিডিওঃ ‘যুক্তরাজ্যে গভীর রাতে মসজিদে মসজিদে হামলা (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্তও ব্রিটিশ পুলিশ এই আক্রমণের সঙ্গে জড়িত কাওকে আটক করতে পারেনি।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ড কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। ফরেনসিক কর্মকর্তারা এসব হামলার ঘটনায় আলামত সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছেন।

গভীর রাতে মসজিদগুলোতে হামলার ঘটনায় বার্মিংহামের মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবারের জুমার নামাজ উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য দেশটির পুলিশের প্রতি তারা আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ব্রিটেনে এ ধরনের ১২ শতাধিক ঘৃণ্য আক্রমণ হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ইমরানের বিশেষ আমন্ত্রণে পাকিস্তানে মাহাথির মোহাম্মদ


মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ তিন দিনের সফরে পাকিস্তান পৌঁছেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান এয়ারভেসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মাহাথিরকে স্বাগত জানান। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ কোরেশী সহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল তার সঙ্গে উপস্থিত ছিল। খবর ডন ও জি নিউজের।

মাহাথির মোহাম্মদ আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানে অবস্থান করবেন। তার সঙ্গে ব্যবসায়ীসহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলও রয়েছে।

সফরকালে শনিবার পাকিস্তান দিবসের বিশেষ প্যারেডে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাহাথির মোহাম্মদ। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ডা. আরিফ আলভি ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসবেন তিনি।

পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডা. মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, মাহাথিরের পাকিস্তান সফরে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। ব্যবসায়িক, বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কে দুই দেশের জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্র করেই আলোচনা হবে।

তবে সামরিক বিষয়ে কোন ধরনের চুক্তি হবে তা স্পষ্ট করেনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

এছাড়া বিভিন্ন শিল্প কারখানার প্রধান নির্বাহীদের একটি গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন দুই প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের অটোমোবাইল ও টেলিযোগাযোগ খাতে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ক্রাইস্টচার্চে হিজাব পরে মসজিদ পাহারা দেবেন নারীরা!


গত সপ্তাহে ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে ভয়ংকর সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন নিহতের ঘটনায় দেশটিতে বৃহস্পতিবার হিজাবের প্রতি সমর্থনে সংহতির ডাক দিয়ে ইভেন্ট খুলেছেন স্থানীয় এক নারী। তারা বলছেন, শুক্রবার মুসলিমদের সমর্থনেই ক্রাইস্টচার্চে মসজিদের কাছে তারা হিজাব পরে অবস্থান নেবেন।

রয়াইন রাশ নামে স্থানীয় ওই নারী ‘হিজাবের প্রতি একাত্মতা’ প্রকাশ করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ক্রাইস্টচার্চে মুসলিম নারীদের সমর্থন করতে স্থানীয় নারীদের মাথা ঢেকে হিজাব পরতে উৎসাহিত করছেন।

রয়াইন রাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইভেন্ট চালু করেন। এতে তিনি বলেন, এটি আমাদের মুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থনে শুক্রবার ২২ মার্চ একটি সাধারণ অঙ্গভঙ্গি। এটি ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় আমাদের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া।

এর আগে বুধবার নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন দেশটির নারীদের শুক্রবার হিজাব পরতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি এ হামলায় নিহতদের স্মৃতি ধরে রাখতে হিজাব পরে দুই মিনিটের নীরবতা পালন করবেন।

গত সপ্তাহে হামলার পর থেকে নিউজিল্যান্ড আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যেখানে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব রয়েছে।

গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসীর বন্দুক হামলায় ৫০ জন প্রার্থনারত মুসল্লি নিহত হয়েছেন।

সন্ত্রাসী হামলার মুহূর্ত ফেসবুকে লাইভ দিয়েছিল। এতে ১৭ মিনিটের হত্যাযজ্ঞ জাতি দেখেছে।

এমন ঘটনায় অস্ট্রেলীয় ব্রেন্টন হ্যারিসন ট্রারেন্টকে (২৮) হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রীকে যা বললেন ইমরান খান


ক্রাইস্টচার্চের হামলার ঘটনা নিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্নকে ফোন করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি মানবিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করায় প্রশংসা করেছেন।

এ সময় পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে তার দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ফোনকলে ইমরান সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার প্রশংসা করেন। আর্ডার্ন মুসলিমদের পাশে সম্মানের সঙ্গে পাশে দাঁড়ানোয় পাক প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, আর্ডার্ন ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষ ও বৈশ্বিক চরমপন্থার মুখে অন্য নেতাদের পথ দেখিয়েছেন।

বিবৃতিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

এতে পাক প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৫০ জনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

ফোনে আর্ডার্ন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে বলেন, এমন হামলার ঘটনায় পুরো নিউজিল্যান্ড শোকাহত, এ ঘটনার পরেই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখন নিউজিল্যান্ডে সব ধরনের সামরিক কাজে ব্যবহৃত এমন সেমি অটোমেটি, অটোমেটিক এবং অ্যাসাল্ট রাইফেল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ সময় আর্ডার্ন পাকিস্তানে নাগরিক নাইম রশিদের সাহসিকতার কথা তুলে ধরেন এবং তার মৃত্যুর বিষয়টিতে দুঃখ প্রকাশ করেন।

আর্ডার্ন এ সময় পুরো নিউজিল্যান্ডে মুসলিমদের স্বাধীন ও নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা দেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ এরদোগান বিষয়ে সুর পাল্টালেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী


তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের দেয়া বক্তব্যকে ‘হঠকারী’ ও ‘তীব্র আক্রমণাত্মক’ আখ্যায়িত করার একদিন পরই কথা পাল্টালেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

এরদোগানের মন্তব্যের কারণে দুদেশের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিবেচনা করতে বাধ্য হবেন বললেও এখন বলছেন আঙ্কারার সঙ্গে ‘সম্পর্ক উন্নয়নে’ কাজ করছে তার দেশ। খবর গার্ডিয়ানের।

গত সোমবার তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কানাক্কাল প্রদেশে তুর্কি সেনাদের হাতে ব্রিটিশ সেনাদের পরাজয়ের বার্ষিকী স্মরণে আয়োজিত এক সমাবেশে এরদোগান বলেছিলেন, ক্রাইস্টচার্চের মতো তুরস্কে কেউ হামলা করতে আসলে তাকে কফিন নিয়ে ফেরত যেতে হবে, এ ধরনের ঘটনা আবার ঘটালে গ্যারিপলির পূর্বপুরুষদের মতো তাকেও কফিনে উঠতে হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯১৫ সালের তুর্কি সেনাদের সঙ্গে ব্রিটিশ সেনাদের যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সেনারাও অংশ নিয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তুর্কি বাহিনীর সঙ্গে সমুদ্র তীরবর্তী শহরটিতে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আট হাজারের বেশি অস্ট্রেলীয় সৈন্য প্রাণ হারায়।

এরদোগানের এমন কঠোর বক্তব্যে পর ভীষণ ক্ষুদ্ধ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া।এমনকি দেশটিতে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে তলবও করা হয়।

ক্যানবেরায় নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত কোরহান কারাকোচকে তলব করে মরিসন বলেছিলেন, ‘তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান যে মন্তব্য করেছেন আমি তাকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মনে করছি। স্পর্শকাতর এমন উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত হঠকারিতামূলক ও বিপজ্জনক।’

তবে একদিন না পেরোতেই সে অবস্থান থেকে ফিরে আসলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ান বলছে, নির্বাচনী সমাবেশে এরদোয়ানের দেয়া বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন স্কট মরিসন।কিন্তু এর অল্প সময় পরই তিনি জানালেন, তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক ‘পুনঃনির্মাণে’ কাজ করছে সরকার।

অবশ্য অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের প্রতিবাদের মুখে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছে তুরস্ক। এরদোগানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এরদোগানের ওই কয়েকটি শব্দ আলোচনা বহির্ভূত ছিল। বিষয়টি মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে ছাপাও হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিষয়টি তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। সেইসঙ্গে তুরস্কের এই উদ্যোগকে, যাকে তিনি সংযত হওয়া বলছেন’ স্বাগত জানিয়েছেন স্কট মরিসন।

গার্ডিয়ান বলছে, পরবর্তীতে এই ইস্যুতে উভয় দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেীলিয়ান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

মঙ্গলবার তুরস্কের জঙ্গুলাডাক জেলায় এক নির্বাচনী জনসভায় এরদোগান বলেছিলেন, ক্রাইস্টচার্চের ভয়াবহ এ হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত হামলা। হামলাকারী দু’বার তুরস্ক এসে ৪৬ দিন অবস্থান করেছিল। তার আক্রমণের শিকার মুসলমানরা হলেও মূল টার্গেট তুরস্ক এবং ইউরোপে বসবাসকারী তুর্কি জনগোষ্ঠী।

তবে কেউ যদি তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে হামলার চেষ্টা করে তাহলে হামলাকারীদের কফিন ফেরত পাঠানো হবে।

বর্বরোচিত এ হামলার বিচার যদি নিউজিল্যান্ড সরকার সঠিকভাবে করতে না পারে, তাহলে তুরস্ক এর বিচার করবে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।

কিন্তু পরের দিন অবশ্য নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসাও করেছেন।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যা বললেন এরদোগান

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্নের কাছ থেকে ইউরোপীয় নেতাদের সাহস, নেতৃত্ব ও আন্তরিকতা শেখার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।

মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের জন্য লেখা একটি নিবন্ধে এরদোগান ক্রাইস্টচার্চে হামলাসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

ওয়াশিংটন পোস্টের জন্য লেখা ওই নিবন্ধে এরদোগান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্নের প্রশংসা করে বলেন, জাসিন্দা আরডার্নের আন্তরিক মনোভাব থেকে ইউরোপীয় নেতাদের শিক্ষাগ্রহণ করা উচিত। নাগরিকদের প্রতি তার সমান দৃষ্টিভঙ্গিকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও তা চর্চা করতে হবে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সেই রক্তাক্ত কার্পেটগুলোকেও কবর দেয়া হবে!


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদের কার্পেটগুলোকে কবর দেয়া হবে। আগামীকাল শুক্রবার খোলা হবে মসজিদটি।

এদিন জুমার নামাজে হাজার হাজার মুসল্লি অংশ নেবেন বলে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের খবরে জানা গেছে।

গত সপ্তাহে শুধু আল নুর মসজিদে অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী জঙ্গির নারকীয় হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ৪৩ মুসল্লি। এছাড়া লিনউডে আরও সাতজনকে হত্যা করা হয়।

আল নুর মসজিদের ইমাম জামাল ফাওদা বলেন, আমার ধারণা তিন থেকে চার হাজার মুসল্লি আগামীকাল শুক্রবার জুমায় অংশ নেবেন। তারা বিদেশ থেকে নিউজিল্যান্ডে আসছেন।

তিনি বলেন, মসজিদ বরাবর হ্যাগলি পার্কে এদিন জুমা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী জঙ্গি প্রথম এ মসজিদটিকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। এর পরে হামলকারী পার্শ্ববর্তী লিনউড মসজিদে হামলা চালায়, যাতে নিহত হন আরও আটজন।

ইমাম বলেন, মসজিদের কর্মীরা দিনরাত কাজ করে সেটিকে মেরামত করছেন। রক্তাক্ত কার্পেটগুলোকে কবর দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত অর্ধশত মুসল্লির সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির পুলিশের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, আমি বলতে পারি, কয়েক মিনিট আগে নিহত সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। কাজেই দাফনের ব্যাপারে তাদের স্বজনদের বলা হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ডা. নাঈম রশীদের স্ত্রী মানুষের জীবন বাঁচাতে স্বামী-সন্তান শহীদ, আমি গর্বিত (ভিডিও সহ)


‘আমার স্বামী শহীদ ডা. নাইম রশিদ ও সন্তান শহীদ তালহা খুব ভালো মানুষ ছিল। তারা মানুষের জীবন বাঁচাতে গিয়েই শহীদ হয়েছেন। আমার জন্য এটা খুবই গর্বের। আমি এজন্য দুঃখিত নই।’

আবেততাড়িত হয়ে বলে যাওয়া কথাগুলো নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত পাকিস্তানের চিকিৎসক ডা. নাঈম রশীদের স্ত্রীর। সম্প্রতি পাকিস্তানের জিও টিভিকে দেখা এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন এই মহীয়সী নারী।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় নিহত ৫০ জনের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের ডা. নাঈম রশীদ। এ ঘটনায় নাইম রশিদের স্ত্রী হারিয়েছেন তার প্রাণপ্রিয় স্বামী ডা. নাঈম রশিদ এবং আশা-ভরসা ও সান্তনার প্রতীক ২১ বছরের টগবগে যুবক ছেলে তালহাকে। স্বামী ও সন্তানকে হারিয়েও এ মুসলিম নারী সর্বোচ্চ ধৈর্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নিজেকে গর্বিত মনে করছেন।

কারণ তার স্বামী ও সন্তান উভয়ে হামলায় আক্রান্ত মানুষকে নিরাপত্তা দিতে গিয়েই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন। তার আবেগঘন বক্তব্য মুসলিম উম্মাহর হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। মানবিকতা ও নৈতিকার প্রতি নিজেদের বিলিয়ে দিতেও উদ্বুদ্ধ করেছে।

ভিডিওঃ ‘মসজিদে যেতে কেউ আমাদের আটকে রাখতে পারবে নাঃ আমব্রিন নাঈম (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

নাঈম রশীদের স্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী টেরেন্ট ব্রেন্টনের জন্য দুঃখ হয়। তার অন্তর বিদ্বেষ ও ঘৃণায় ভরপুর ছিল। মানুষের প্রতি তার হৃদয়ে কোনো সহানুভূতি ও ভালোবাসা ছিল না। কারণ মানুষের আর্তনাদ ও বাঁচার চেষ্টা তাকে হত্যাযজ্ঞ থেকে বিরত রাখেনি।

ওই নারী বলেন, আমাদের অন্তরে ভালোবাসা আছে। আমরা মানুষকে ভালোবাসতে জানি। আমার স্বামী ও সন্তানের হৃদয়েও মানুষের প্রতি রয়েছে অদম্য ভালোবাসা। যে ভালোবাসার টানে তারা নিজেদের কথা না ভেবে মানুষের নিরাপত্তা নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন বলেও জানা তিনি।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর হুকুম পালন করতে গিয়ে যারা শহীদ হন তারাদের জন্য দু:খ নেই। তারা তো জান্নাতি। দ্বীন তো এটাই কামনা করে। আমি গর্বিত যে, স্বামী ও সন্তান শহীদী মৃত্যু লাভ করেছে।

প্রসঙ্গত, ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর ও লিনউড মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হন ৫০ জন। কট্টর শেতাঙ্গ বর্ণবাদী ২৮ বছরের ব্রেন্টন টেরেন্ট এ হত্যাযজ্ঞ চালায়। নিহতদের মধ্যে মধ্যে পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন ৯ জন এবং বাংলাদেশের ৫ জন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আল নুর মসজিদ খুলছে শুক্রবার


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদ আগামীকাল শুক্রবার খোলা হবে। এদিন জুমার নামাজে হাজার হাজার মুসল্লি অংশ নেবেন বলে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের খবরে জানা গেছে।

গত সপ্তাহে মসজিদটিতে অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী জঙ্গির নারকীয় হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ৪৩ মুসল্লি।

আল নুর মসজিদের ইমাম জামাল ফাওদা বলেন, আমার ধারণা তিন থেকে চার হাজার মুসল্লি আগামীকাল শুক্রবার জুমায় অংশ নেবেন। তারা বিদেশ থেকে নিউজিল্যান্ডে আসছেন। মসজিদ বরাবর হ্যাগলি পার্কে এদিন জুমা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

আল নুর মসজিদে ৪২ মুসল্লিকে হত্যা করেন অস্ট্রেলিয়ার শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী জঙ্গি। প্রথম এ মসজিদটিকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল সে। এর পরে হামলকারী পার্শ্ববর্তী লিনউড মসজিদে হামলা চালায়, যাতে নিহত হন আরও আটজন।

ইমাম বলেন, মসজিদের কর্মীরা দিনরাত কাজ করে সেটিকে মেরামত করছেন। রক্তাক্ত কার্পেটগুলোকে কবর দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত অর্ধশত মুসল্লির সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির পুলিশের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, আমি বলতে পারি, কয়েক মিনিট আগে নিহত সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। কাজেই দাফনের ব্যাপারে তাদের স্বজনদের বলা হয়েছে।

এদিকে শোক-শ্রদ্ধা আর কান্নার থমথমে পরিবেশের মধ্যেই শুরু হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলায় নিহতদের দাফন। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পাঁচ দিন পর বুধবার নিহত স্বজনদের কবরে শুইয়ে দেয় দুঃখ ভারাক্রান্ত পরিবারগুলো।

সকালে জানাজা শেষে ক্রাইস্টচার্চের কবরস্থান ‘মেমোরিয়াল পার্ক সিমেটারি’তে অন্তত পাঁচজনকে সমাহিত করা হয়। সর্বপ্রথম সমাহিত করা হয় ১৫ বছর বয়সী সিরীয় শরণার্থী কিশোর হামজা মুস্তাফা ও তার বাবা খালেদ মুস্তাফাকে (৪৪)।

এদিকে সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী সন্ত্রাসকে আন্তর্জাতিক হুমকি অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডান।

নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবে আগামীকাল শুক্রবার ২ মিনিটের নীরবতা পালন ও একই দিন দেশটির সরকারি বেতার ও টেলিভিশনে একযোগে জুমার নামাজের আজান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। খবর এএফপি, আলজাজিরা ও রয়টার্সের।

উল্লেখ্য, ১৫ মার্চ শুক্রবার রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালায় উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেনটন টেরেন্ট। এতে নিহত হন ৫০ মুসল্লি। গুরুতর আহত হন আরও ৫০ জন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আল নুর মসজিদে শুক্রবারের জুমায় অংশ নেবেন কয়েক হাজার মুসল্লি


ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত মুসল্লি নিহত হওয়ার পর সপ্তাহ পার হয়ে যাচ্ছে। আগামীকাল শুক্রবার মসজিদ দুটি নতুন করে খোলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এদিন জুমার নামাজে হাজার হাজার মুসল্লি অংশ নেবেন বলে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের খবরে জানা গেছে।

আল নুর মসজিদের ইমাম জামাল ফাওদা বলেন, আমার ধারণা তিন থেকে চার হাজার মুসল্লি আগামীকাল শুক্রবার জুমায় অংশ নেবেন। তারা বিদেশ থেকে নিউজিল্যান্ডে আসছেন। মসজিদ বরাবর হ্যাগলি পার্কে এদিন জুমা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

আল নুর মসজিদে ৪৩ মুসল্লিকে হত্যা করেন অস্ট্রেলিয়ার শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী জঙ্গি। প্রথম এ মসজিদটিকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল সে। এর পরে হামলকারী পার্শ্ববর্তী লিনউড মসজিদে হামলা চালায়, যাতে নিহত হন আরও আটজন।

ইমাম বলেন, মসজিদের কর্মীরা দিনরাত কাজ করে সেটিকে মেরামত করছেন। রক্তাক্ত কার্পেটগুলোকে কবর দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত অর্ধশত মুসল্লির সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির পুলিশের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, আমি বলতে পারি, কয়েক মিনিট আগে নিহত সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। কাজেই দাফনের ব্যাপারে তাদের স্বজনদের বলা হয়েছে।

এদিকে শোক-শ্রদ্ধা আর কান্নার থমথমে পরিবেশের মধ্যেই শুরু হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলায় নিহতদের দাফন। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পাঁচ দিন পর বুধবার নিহত স্বজনদের কবরে শুইয়ে দেয় দুঃখ ভারাক্রান্ত পরিবারগুলো।

সকালে জানাজা শেষে ক্রাইস্টচার্চের কবরস্থান ‘মেমোরিয়াল পার্ক সিমেটারি’তে অন্তত পাঁচজনকে সমাহিত করা হয়। সর্বপ্রথম সমাহিত করা হয় ১৫ বছর বয়সী সিরীয় শরণার্থী কিশোর হামজা মুস্তাফা ও তার বাবা খালেদ মুস্তাফাকে (৪৪)।

এদিকে সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী সন্ত্রাসকে আন্তর্জাতিক হুমকি অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডান।

নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবে আগামীকাল শুক্রবার ২ মিনিটের নীরবতা পালন ও একই দিন দেশটির সরকারি বেতার ও টেলিভিশনে একযোগে জুমার নামাজের আজান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। খবর এএফপি, আলজাজিরা ও রয়টার্সের।

উল্লেখ্য, ১৫ মার্চ শুক্রবার রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালায় উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেনটন টেরেন্ট। এতে নিহত হন ৫০ মুসল্লি। গুরুতর আহত হন আরও ৫০ জন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে অভিজাত স্কুলটিতে হিজাব নিষিদ্ধ


নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর অকল্যান্ডের একটি বিখ্যাত প্রাইভেট স্কুল হিজাব নিষিদ্ধ করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তাদের ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব যায় না।-খবর নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের

ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে এক অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী জঙ্গির এলোপাতাড়ি গুলিতে অর্ধশত মুসল্লি নিহত হওয়ার পর এক সপ্তাহও পার হয়নি। এর মধ্যে ডাইওসিসান নামের ওই গার্লস স্কুলটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধকরণের এই সিদ্ধান্ত নিউজিল্যান্ডের সংবিধানে ঘোষিত ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

রেডিও নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রতিবেদক মোহামেদ হাসান তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডে বৃহস্পতিবার লিখেছেন, ডেসাইল ১০ প্রটেস্ট্যান্ট স্কুলের শিক্ষকরা গতকাল বলেছেন, ইসলামিক পোশাক স্কুলের নিয়ম লঙ্ঘন করছে।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে দেয়া এক বিবৃতিতে স্কুলের অধ্যক্ষ হিদার এমরেই বলেন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র ও সবাইকে নিয়ে একীভূত সমাজকে ডাইওসিসান স্কুল সম্মান করে। স্কুলের ইউনিফর্ম নীতি পরিবার ও এককত্বের বোধ থেকেই প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্রাইস্টচার্চ হামলায় সংহতি জানিয়ে আগামীকাল শিক্ষার্থীরা হিজাব পরে আসলে তিনি তাদের স্বাগত জানাবেন। ক্রাইস্টচার্চের ঘটনায় ডাইওসিসান সম্প্রদায় বিপর্যন্ত।

অকল্যান্ডের ধনাঢ্য শহরতলীতে প্রটেস্ট্যান্ড স্কুলটির অবস্থান। এটি ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডাইওসিসান অন্যতম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, এমন সময়ে এই ঘোষণা আসায় তিনি যার পরনাই বিস্মীত। কারণ সপ্তাহখানেকেরও কম সময় আগে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্য প্রাণঘাতী হামলাটি ঘটেছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘ক্রাইস্টচার্চ হামলার নিন্দায় মুসলিম ও মসজিদের কথা বলেনি ভারত’


ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ভারতের নিন্দার সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরাইশি।

গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডে জুমার নামাজের সময় আল নুর ও লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত মুসল্লি নিহত হন।

শাহ মেহমুদ কোরাইশি তিন দিনের চীন সফরে রয়েছেন। তিনি বলেন, হামলার নিন্দা জানালেও ভারত মুসলমান ও মসজিদ শব্দ দুটি উচ্চারণ করেনি।

এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্রাইস্টচার্চে উপাসনার জায়গায় ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পাকিস্তানের সাংবাদিকদের কোরাইশি বলেন, ঘটনার বিবরণ দিতে এ দুটি শব্দের উচ্চারণের সাহস করেনি ভারত। এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বিশ্ববাসী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।

কোরাইশি বলেন, খোদা না খাস্তা, যদি কোনো হিন্দু মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে, তবে পাকিস্তান ভারতের পাশে থাকবে।

এদিকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত অর্ধশত মুসল্লির সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির পুলিশের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, আমি বলতে পারি, কয়েক মিনিট আগে নিহত সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। কাজেই দাফনের ব্যাপারে তাদের স্বজনদের বলা হয়েছে।

এদিকে শোক-শ্রদ্ধা আর কান্নার থমথমে পরিবেশের মধ্যেই শুরু হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলায় নিহতদের দাফন। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পাঁচ দিন পর বুধবার নিহত স্বজনদের কবরে শুইয়ে দেয় দুঃখভারাক্রান্ত পরিবারগুলো।

সকালে জানাজা শেষে ক্রাইস্টচার্চের কবরস্থান ‘মেমোরিয়াল পার্ক সিমেটারি’তে অন্তত পাঁচজনকে সমাহিত করা হয়। সর্বপ্রথম সমাহিত করা হয় ১৫ বছর বয়সী সিরীয় শরণার্থী কিশোর হামজা মুস্তাফা ও তার বাবা খালেদ মুস্তাফাকে (৪৪)।

এদিকে সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী সন্ত্রাসকে আন্তর্জাতিক হুমকি অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্ন।

নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবে আগামীকাল শুক্রবার দুই মিনিটের নীরবতা পালন ও একই দিন দেশটির সরকারি বেতার ও টেলিভিশনে একযোগে জুমার নামাজের আজান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। খবর এএফপি, আলজাজিরা ও রয়টার্সের।

১৫ মার্চ শুক্রবার রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালায় উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী অস্ট্রেলীয় নাগরিক বেনটন টেরেন্ট। এতে নিহত হন ৫০ মুসল্লি। গুরুতর আহত হন আরও ৫০ জন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বর্ণবাদী জঙ্গিকে ভাই ডেকে জবাবে ঘৃণা পেলেন বৃদ্ধ মুসল্লি


শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী বন্দুকধারী যখন ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদের এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করেন, তখন এক বৃদ্ধ মুসল্লি তাকে ‘হ্যালো, ভাই’ বলে সম্বোধন করেন; জবাবে তার দিকে এই বন্দুকধারী একদলা ঘৃণা ছুড়ে দেন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে একটু শান্তির খোঁজে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছিলেন ৭১ বছর বয়সী মোহাম্মদ দাউদ নবী। সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হওয়ার পর তাকে বৃহস্পতিবার দাফন করা হয়েছে।

শুক্রবার জুমা নামাজের সময় যখন শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির গুলিতে একের এক মুসল্লির প্রাণ ঝরে পড়ছিল, তখন তাকে নিবৃত্ত করে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ দাউদ। উষ্ণ কণ্ঠে তাকে ভাই বলে সম্বোধন করেন।

বন্দুকধারী জঙ্গি হত্যাকাণ্ডের সময় হেলমেটে রাখা ক্যামেরা দিয়ে তারা সামাজিকমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মোহাম্মদ দাউদ বন্দুকধারীকে ভাই বলে ডাকছেন। কিন্তু তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

‘হ্যালো, ভাই’ শব্দটি অস্পষ্ট হলেও তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। এমনকি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডানকেও এই শব্দের মর্মবেদনা পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, তিনি যে ভাষায় সম্বোধন করছেন, তা অনেক কিছু বলে দিচ্ছে। তিনি এমন একটি ধর্মের লোক, যাদের সবাইকে এভাবেই সম্বোধন করা হয়। এটি উদারতা ও দায়িত্বকে বোঝায়।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সব ধরনের সেমি অটোমেটিক বন্দুক নিষিদ্ধ করছে নিউজিল্যান্ড


সব ধরনের সেমি অটোমেটিক মিলিটারি বন্দুক নিষিদ্ধ করছে নিউজিল্যান্ড। ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার জেরে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডান। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।

বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেন জাসিন্দা আরডান।

তিনি জানান, আগামী ১১ এপ্রিল অস্ত্রসংক্রান্ত এই নতুন আইন পাস করা হবে বলে তিনি আশা করছেন।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ আইন পাসের সঙ্গে সঙ্গেই একটি স্কিমের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা এই অস্ত্রগুলো অস্ত্র মালিকদের কাছে থেকে ফেরত নেয়া হবে। যাতে তারা এর মাধ্যমে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে।

প্রসঙ্গত ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৫০ মুসল্লি নিহত হন। এর পর গত সোমবার নিউজিল্যান্ডে অস্ত্র আইন কঠোর করতে মন্ত্রিপরিষদ নীতিগতভাবে সম্মত হয়।

বর্ণবাদী ওই হামলায় খ্রিস্টান জঙ্গি ব্রেনটন টেরেন্ট একটি সেমি অটোমেটিক অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়।

জঙ্গি হামলাকারী যে ধরনের সেমি অটোমেটিক অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছিল, দেশটির মন্ত্রিপরিষদ সে ধরনের অস্ত্রের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে সম্মত হয়।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে নিহতদের শনাক্তকরণ সম্পন্ন


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত অর্ধশত মুসল্লির সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির পুলিশের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, আমি বলতে পারি, কয়েক মিনিট আগে নিহত সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। কাজেই দাফনের ব্যাপারে তাদের স্বজনদের বলা হয়েছে।

এদিকে শোক-শ্রদ্ধা আর কান্নার থমথমে পরিবেশের মধ্যেই শুরু হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলায় নিহতদের দাফন। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পাঁচ দিন পর বুধবার নিহত স্বজনদের কবরে শুইয়ে দেয় দুঃখভারাক্রান্ত পরিবারগুলো।

সকালে জানাজা শেষে ক্রাইস্টচার্চের কবরস্থান ‘মেমোরিয়াল পার্ক সিমেটারি’তে অন্তত পাঁচজনকে সমাহিত করা হয়। সর্বপ্রথম সমাহিত করা হয় ১৫ বছর বয়সী সিরীয় শরণার্থী কিশোর হামজা মুস্তাফা ও তার বাবা খালেদ মুস্তাফাকে (৪৪)।

এদিকে সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী সন্ত্রাসকে আন্তর্জাতিক হুমকি অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্ন।

নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবে আগামীকাল শুক্রবার দুই মিনিটের নীরবতা পালন ও একই দিন দেশটির সরকারি বেতার ও টেলিভিশনে একযোগে জুমার নামাজের আজান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। খবর এএফপি, আলজাজিরা ও রয়টার্সের।

১৫ মার্চ শুক্রবার রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালায় উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী অস্ট্রেলীয় নাগরিক বেনটন টেরেন্ট। এতে নিহত হন ৫০ মুসল্লি। গুরুতর আহত হন আরও ৫০ জন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যা বললেন এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্ন। ছবি: জি নিউজ

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্নের কাছ থেকে ইউরোপীয় নেতাদের সাহস, নেতৃত্ব ও আন্তরিকতা শেখার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।

মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের জন্য লেখা একটি নিবন্ধে এরদোগান ক্রাইস্টচার্চে হামলাসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

এরদোগান বলেন, একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আমি সবসময় বলে আসছি সন্ত্রাসবাদ কোনো ধর্ম ও জাতি-গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো বিষয় নয়।

ক্রাইস্টচার্চের হামলাকারী খ্রিস্টধর্মকে কলঙ্কিত করতে চেয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন এরদোগান।

ইসলামফোবিয়া নিরসনে পশ্চিমা বিশ্বকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে জানিয়ে তুর্কি প্রেসিড্টে বলেন, এ ভয় দূর করার এখনই উপযুক্ত সময়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে।

ওয়াশিংটন পোস্টের জন্য লেখা ওই নিবন্ধে এরদোগান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্নের প্রশংসা করে বলেন, জাসিন্দা আরডার্নের আন্তরিক মনোভাব থেকে ইউরোপীয় নেতাদের শিক্ষাগ্রহণ করা উচিত। নাগরিকদের প্রতি তার সমান দৃষ্টিভঙ্গিকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও তা চর্চা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন।

আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৪৮জন। নিহতদের মধ্যে চার বাংলাদেশিও রয়েছেন।

নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৭ বাংলাদেশি। ওই মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পথচারীর খবরে ভাগ্যক্রমে হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। নামাজরত অবস্থায় মুসল্লিদের ওপর শেতাঙ্গ বন্দুকধারীর চালানো স্মরণকালের ইতিহাসে বর্বরোচিত এ হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড় বইছে বিশ্বজুড়ে।

ভয়াবহ এ হামলার পর থেকে নিউজিল্যান্ডের সবধর্মের মানুষ মুসলিম কমিউনিটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে।

স্মরণকালের ইতিহাসের বর্বরোচিত হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগামি দেশটির সরকারি বেতার ও টেলিভিশনে জুমার নামাজের আজান সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

শান্তির দেশে নৃশংস এ হামলার প্রতিবাদে দেশটির সব ধর্মের মানুষ আগামী শুক্রবার হিজাব পরে মুসলিমদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করবে।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বারবার গণমাধ্যমের সামনে এসে নিজেই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্ন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে আহতদের দেখতে যাওয়া, তাদের খোঁজখবর নেয়া- সবখানেই নিজে গিয়েছেন। যেখানেই যাচ্ছেন, যার সঙ্গেই কথা বলছেন, সবখানেই তাকে দেখা যাচ্ছে বিমর্ষ অবয়বে।

শোক প্রকাশে শুধু কালো পোশাকই পরেননি, মসজিদে নামাজরত মুসলিমদের হামলার ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের মুসলিমদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশে মাথায় ওড়না জড়িয়ে রয়েছেন।

আরডার্নের আচরণ আর চেহারার অভিব্যক্তিতেই বোঝা যাচ্ছে, শোক শুধু তার বক্তব্যে নেই, ভয়াবহ এ হামলার শোক তার মনেও আঘাত হেনেছে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর এমনই কিছু ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমগুলোতে।এর মধ্যে ওপরের ছবিটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে।

ছবিটিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, কালো পোশাকের সঙ্গে কালো ওড়না মাথায় জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন জাসিন্দা। চোখে যেন স্বজন হারানোর করুণ দৃষ্টি। দেখে মনে হচ্ছে হয়তো এক্ষুণি কেঁদে ফেলবেন। কিন্তু হাত দুটো একসঙ্গে শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছেন তিনি, যেন দেশের এই ভয়ানক শোকের দিনে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছেন।

জাসিন্দা আরডার্ন তার পোশাকের মধ্য দিয়ে দেশের শোকাহত মুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ছবিতে তার দাঁড়ানোর ভঙ্গি আর চোখের দৃষ্টিই মনকে নাড়িয়ে দেয়ার মতো। এসব ছবি শেয়ার করে অনেকেই বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যেন এর মধ্য দিয়ে শুধু নিজের শোক নয়, পুরো দেশের শোককে তুলে ধরেছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ স্তব্ধ নিউজিল্যান্ড, তবে থেমে নেই সেই মসজিদের আজান!


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে নামাজরত অবস্থায় মুসল্লিদের ওপর চালানো স্মরণকালের ইতিহাসের বর্বরোচিত হামলায় শোকাহত গোটা বিশ্ব।

শান্তির দেশে ভয়াবহ এ হামলায় স্তব্ধ নিউজিল্যান্ড। ১৫ মার্চ স্মরণকালের ইতিহাসের বর্বরোচিত হামলা আল নূর মসজিদকে পরিচিতি দিয়েছে বিশ্বব্যাপী। শোকাহত মানুষ নিয়মিত শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন নিহতদের। ভয়াবহ এ হামলায় অনেক কিছু স্থবির থাকলেও থেমে নেই আল নুর মসজিদের আজান। এখনো মুসল্লিরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য জড়ো হচ্ছেন রক্তস্নাত আল নূর মসজিদে।

শান্তিপূর্ণভাবেই বিভিন্ন জাতি দেশটিতে বসবাস করত। নিউজিল্যান্ডে মুসলমানরা শান্তিপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল হিসেবেই পরিচিত।

ভয়াবহ এ হামলার পর থেকে নিউজিল্যান্ডের সবধর্মের মানুষ মুসলিম কমিউনিটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বারবার গণমাধ্যমের সামনে এসে নিজেই তথ্য জানাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্ন।

মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে।

গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের আল নুর ও লিনউড মসজিদে উগ্রবাদী শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি ব্রেন্টন টরেন্টের নৃশংস হামলার আগ পর্যন্ত দেশটি ছিল শান্ত ও বিশ্বের দ্বিতীয় নিরাপদ দেশ হিসেবেই পরিচিত ছিল নিউজিল্যান্ড।

ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিউনড মসজিদে নামাজরত অবস্থায় মুসল্লিদের ওপর চালানো হামলার এক সপ্তাহ পূরণ হবে এ শুক্রবারে।

স্মরণকালের ইতিহাসের বর্বরোচিত হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই দিন দেশটির সরকারি বেতার ও টেলিভিশনে জুমার নামাজের আজান সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

শান্তির দেশে নৃশংস এ হামলার প্রতিবাদে দেশটির সব ধর্মের মানুষ আগামী শুক্রবার হিজাব পরে মুসলিমদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করবে।

‘সম্প্রীতির জন্য হিজাব’ নামে এই কর্মসূচিটি আগামী ২২ মার্চ শুক্রবার পালন করা হবে।

নিউজিল্যান্ডের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ইসলাম অন্যতম। ১৯৯১-২০০৬ এর মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ছয়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির প্রতিটি প্রদেশে মুসলমানরা গড়েছে অসংখ্য মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার।

ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ পূর্ব নিউজিল্যান্ডের সর্বপ্রথম জুমা মসজিদ। মসজিদটিতে মুসল্লিদের আনাগোনা ছিল সব সময়। নিয়মিত জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হত এখানে। ক্রাইস্টচার্চের মুসলিমদের সর্ববৃহৎ ইসলামিক সেন্টার হিসেবে বিবেচিত হত আল নূর মসজিদ।

আল নূর মসজিদের শুরুর কথা

১৯৭৭ সালে পড়াশোনার জন্য ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় সৌদি, পাকিস্তান, ভারতসহ কয়েকটি দেশের মুসলিম শিক্ষার্থী বসবাস করতেন। একসঙ্গে নামাজ পড়ার জন্য তারা একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। সম্মিলিত উদ্যোগে জমি কেনার পর ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আল নুর মসজিদ’।

মসজিদটিতে শতাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে। মূল মসজিদের পাশাপাশি শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার জন্য একটি হলরুম, গেস্টরুম ও মুসল্লিদের পড়াশোনার জন্য একটি ছোট লাইব্রেরিও রয়েছে মসজিদটিতে।

মসজিদের সামনের বিশাল উদ্যানে শিশুরা খেলাধুলা করত। আল নূর মসজিদকে নিউজিল্যান্ডের মুসলমানদের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মসজিদটির পার্কিং লটও বিশাল বড়। নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আল নুর মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে আসে। জুমার খুতবা কয়েকটি ভাষায় অনুবাদের কারণে মসজিদটি ছিল মুসল্লিদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ।

দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী আল নুর মসজিদ ক্রাইস্টচার্চ শহরের দক্ষিণে অবস্থিত। এখানে অবস্থানরত মেহমানদের বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মেহমানদের থাকা-খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্ধারিত মেয়াদ ছিল না। ১৯৮০ সাল থেকেই স্থানীয় মুসলিমদের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে আল নূর মসজিদ পরিচালিত হয়ে আসছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মসজিদে যেতে কেউ আমাদের আটকে রাখতে পারবে নাঃ আমব্রিন নাঈম (ভিডিও সহ)

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারীকে ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ হারানো পাকিস্তানি নাগরিক নাঈম রাশীদের স্ত্রী আমব্রিন নাঈম। ছবি: সংগৃহীত

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারীকে ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ হারানো পাকিস্তানি নাগরিক নাঈম রাশীদের স্ত্রী আমব্রিন নাঈম বলেছেন, মসজিদে হামলাকারী ওই সন্ত্রাসীর জন্য আমার করুণা হয়, কারণ তার হৃদয়ে কোনো ভালোবাসা ছিল না, তার হৃদয় এতটাই বিদ্বেষে ভরা ছিল যে, শান্তি ও ভালোবাসার স্নিগ্ধতা অনুভব করার সৌভাগ্য তার হয়নি।

নিউজিল্যান্ডের একটি টিভি চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে স্বামী ও ছেলে হারানো আমব্রিন জানান, শান্তি ও ভালোবাসাই হল ইসলাম ধর্মের মূল বার্তা। যা অন্যের বিপদে মানুষকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করে।

ভয়াবহ এ হামলায় স্বামী নাঈম রাশীদের সঙ্গে ছেলে তালহা রশীদকেও হারিয়েছেন আমব্রিন নাঈম।

সব হারিয়েও তার মনোবল ভাঙ্গেনি। বরং অন্যদের বাচাতে গিয়ে নাঈম রাশীদের বীরত্বগাঁথা তার মানসিক শক্তিকে আরও দৃঢ় করেছে।

ভিডিওঃ ‘মসজিদে যেতে কেউ আমাদের আটকে রাখতে পারবে নাঃ আমব্রিন নাঈম (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ক্রাইস্টচার্চের পরিচিত মহলে নাঈম রাশীদ অত্যন্ত পরোপকারী ছিলেন বলেও সাক্ষাৎকারে জানান তার স্ত্রী।

আমব্রিন বলেন, আগে থেকে পরোপকারী ও বন্ধুবৎসল থাকার কারণেই বন্দুকধারীর হামলা থেকে অন্যদের বাচাঁতে রাশীদ ছুটে গিয়েছিল। মানুষের প্রতি ভালোবাসাই তাকে এমন ঝুকি নিতে সাহস জুগিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে আমব্রিনের কাছে উপস্থাপিকার প্রশ্ন ছিল ভয়ঙ্কর এ পরিস্থিতিতেও কিভাবে তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় রয়েছেন। আমব্রিনের জানালেন কঠিন পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে ধৈর্যধারন করার নির্দেশনা দেয় ইসলাম।

তার ভাষায়,‘ ইসলাম সত্ত্বাগতভাবে শান্তি ও ভালোবাসার ধর্ম। আল্লাহ ও রাসূল সা. এর উপর পূর্ণবিশ্বাসই আমাকে এ কঠিন সময়ে মানসিকভাবে দৃঢ় রেখেছে। কারণ আল্লাহ তায়ালা তার ওই বান্দারের পছন্দ করেন, যারা অন্যের উপকারে আসে। আমার স্বামী চরম বিপদের সময়েও মানুষের উপকার করেছেন, এটিই আমার শান্তনা।

উগ্রবাদিরা মসজিদ টার্গেট করে হামলা চালালেও এতে মুসলমানদের ঈমানে কোনো চিড় ধরাতে পারেনি জানিয়ে আমব্রিন বলেন, আমি আগের মতো সবসময় মসজিদে গিয়েই নামাজ পড়ব। মসজিদে যেতে কেউ আমাদের আটকে রাখতে পারবে না। এই ঘটনা আমাদের ঈমানকে আগের চেয়ে আরও বেশি মজবুত করেছে।

এদিকে শহীদ নাঈমের স্ত্রীর এমন বক্তব্যে আল্লাহ ও রাসূলের উপর তার দৃঢ় বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

টুইটারে আমব্রিনের সাক্ষাৎকারটি শেয়ার করে ইমরান লিখেন, শহীদ নাঈমের স্ত্রীর কথাগুলোর শোনার পর মুসলিম ও অমুসলিম সবার আল্লাহ ও রাসূল সা. এর উপর ঈমানের অন্তর্নিহিত শক্তি উপলদ্ধি করা উচিত।

আমব্রিনের বক্তব্য আমার সামনে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে যে আল্লাহ ও রাসূল সা. এর ওপর ঈমান মানুষকে কিভাবে ভেতর থেকে বদলে দেয় এবং মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়।

ইমরান খান বলেন, আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাসীরাই নিজের প্রিয়জনদের কেড়ে নেয়ার পরও হত্যাকারীর ব্যাপারে এমন উদার মানসিকতা রাখতে পারে।

গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো ব্রেনটন টেরেন্টকে জাপটে ধরে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন নাঈম রাশীদ। এমন অসীম সাহসিকতা না দেখালে সেদিন নিহতের সংখ্যা হয়তো আরও বাড়ত।

হামলাকারীকে ঠেকাতে প্রাণ হারানো এ মহানায়ককে বীরের খেতাব দিতে যাচ্ছে পাকিস্তান। তাকে মরণোত্তর জাতীয় সম্মানে ভূষিত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আরও হামলার পরিকল্পনা ছিল সেই সন্ত্রাসী ট্যারেন্টের


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে হামলার ঘটনায় আটক ট্যারেন্ট আরও হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির পুলিশপ্রধান। পুলিশ জানায়, পরবর্তী হামলার আগেই তাকে আটক করা হয়েছে। গত শনিবারে তাকে আদালতে নেয়া হলে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত সপ্তাহে দুই মসজিদে ওই সন্ত্রাসীর গুলিতে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় ব্রেনটন ট্যারেন্টের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ নরহত্যার অভিযোগ এনেছে।

বুধবার পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেছেন, কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে যে আরও আক্রমণের পথে সন্দেহভাজনকে তারা থামিয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক জীবন বেঁচেছে। তবে কোথায় পরবর্তী হামলার লক্ষ্য ছিল তা বলা হয়নি।

এদিকে নিহতদের মধ্যে প্রথম দুজনের শেষকৃত্য শেষে দাফন দেওয়া হয়েছে। এরা হলেন, ৪৪ বছর বয়সী খালেদ মোস্তফা ও তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে হামজা।

শতাধিক ব্যক্তির নীরব উপস্থিতিতে মেমোরিয়াল পার্কে তাদের কবর দেওয়া হয়।

এদিকে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন বুধবার ক্রাইস্টচার্চে আসেন এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ততে সান্ত্বনা দিতে।

এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন ঘোষণা করেন, মসজিদে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতদের স্মৃতি রাখার জন্য আগামী শুক্রবার দুই মিনিটের জন্য নিউজিল্যান্ড স্তব্ধ থাকবে।

এ সময় আর্ডার্ন বলেন, আমরা মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে আছি, তাদের ভালোবাসি।

আর্ডার্ন আরও বলেন, আমাদের সবার সামনে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা কখনও এমন পরিবেশের সঙ্গে আস্থা রাখতে পারি না, যেখানে সহিংস চরমপন্থী মতাদর্শ বিকাশ করতে পারে। এর অর্থ হচ্ছে বর্ণবাদ ও চরমপন্থা যেখানেই উত্থিত হবে সেখানে আমদের পৌঁছানো।

এ ছাড়ার নিউজল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মুসলমান সম্প্রদায়ের সমর্থনে শুক্রবারের আজান দেশটির টিভি ও রেডিওতে প্রচারের ঘোষণা দেন।

উৎসঃ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here