হিজাব পরা নিয়ে সমালোচকদের যে জবাব দিলেন ইলহান ওমর

0
207

হিজাব বা পর্দা কখনোই ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা ইলহান ওমর।

হিজাব পরিধানের বিষয়ে বরাবরই সমালোচনার শিকার হয়ে আসছেন মার্কিন কংগ্রেসের এই সদস্য।

হিজাব কেন পরেন সে বিষয়ে এবার ষ্পষ্ট বক্তব্য জানালেন তিনি।

আজ (রোববার) নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে ইলহান ওমর লেখেন, হিজাবকে আমি এক ধরণের প্রতিরোধ হিসেবে নিয়েছি। তবে বিষয়টি সব সময় খুব সহজ নয়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে হিজাব পরিধানে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (অবশ্য পালনীয়)। তবে আমি শুধু ধর্মীয় নিয়ম যথাযথ পালনের উদ্দেশে হিজাব পরি এমনটি নয়। হিজাব পরে আমি আনন্দও পাই।

নিজের হিজাব পরার বিষয়টি নিয়ে এর আগেও টুইট করেছিলেন ইলহান ওমর।

গতবছরের শেষ দিকে কংগ্রেসে হিজাব পরে প্রবেশ করার নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি টুইট করেছিলেন, কেউ এসে আমাকে হিজাব পরিয়ে দেননি। আমি নিজেই পরেছি। এটি আমার পছন্দ, যেটি প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত।

তবে ইলহান ওমরের রোববারের ওই টুইটের পর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের রিটুইট করছে যুক্তরাষ্ট্রের নেটিজেনরা।

অনেকে তার এমন সিদ্ধান্তকে স্যালুট জানালেও বেশ কয়েকজন তাকে নিয়ে ট্রল ও মিমে মেতেছেন।

উল্লেখ্য, ইলহান ওমর হচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবার নির্বাচিত দুই মুসলিম নারীর একজন যিনি হিজাব পরে কংগ্রেসে হাজির হন।

হিজাব পরে কংগ্রেসে প্রবেশ ও কোরআনে হাত রেখে শপথ নিয়ে তিনি ইতিহাস রচনা করেছিলেন।

বিভিন্ন সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একপেশে নীতির বিরোধিতা করে আলোচিত হন ইলহান।

গতবছর ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে উল্লেখ করে বেশ সমালোচিত হয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, মার্কিন কংগ্রেসম্যান ইলহান ওমরের জন্মস্থান সোমালিয়ায়। সোমালিয়া থেকে কিশোর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করেন তিনি। ১৭ বছর বয়সে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন তিনি।

২০১৬ সালে মিনেসোটার হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের সদস্য নির্বাচিত হন এই নারী। অভিবাসী ও শরণার্থী ইস্যু নিয়ে কাজ করেন তিনি।

ইসরায়েল ও মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলি লবির প্রভাব নিয়ে সমালোচনা করায় কয়েক সপ্তাহ আগে নিজ দল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে ও বাইরে তোপের মুখে পড়েন ইলহান ওমর। তবে ডেমোক্র্যাটরা ইলহান ওমরের পাশে রয়েছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ উপত্যকায় রাজনীতি ও দেশপ্রেমের নামে গনতন্ত্র কে হত্যা করা হচ্ছে, কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য প্রিয়াঙ্কার


৩৭০ ধারা রদ হওয়ার পর জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা বিরোধীদের। কাশ্মীরের মানুষ কেমন রয়েছে তার কোনো খবর পাওয়া যায় না বললেই চলে। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিসেবা, স‍্যোশাল মিডিয়া। আটক করা হয়েছে কাশ্মীরের দুই প্রাক্তন মুখ‍্যমন্ত্রী সহ একাধিক নেতাদের। শনিবার কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী সহ বিরোধীরা। কিন্তু তাদেরকে কাশ্মীরে ঢুকতো না দিয়েই শ্রীনগর বিমান বন্দর থেকে দিল্লিতে ফেরত পাঠানো হয়। শনিবার এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন রাহুল। এবার এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার ট্যুইটারে লাগাতার আক্রমণের ঝড় তুললেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। তিনি বলেন, দেশপ্রেম ও রাজনীতির নামে কাশ্মীরে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। জাতীয়তাবাদ, রাজনীতিকে ছাপিয়ে প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে কাশ্মীরিদের গণতন্ত্র অপহরণের মতো বিষয়৷ উপত্যকাবাসীদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কংগ্রেস আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে স্পষ্ট জানান তিনি।

উল্লেখ্য, প্রশাসনের তরফে আগেই নিষেধ করা হয়েছিল জম্মু-কাশ্মীরের। কারণ রাহুলরা আসলে আরও অশান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ছিল প্রশাসনের। কিন্তু শনিবার কাশ্মীরের পরিস্থিতি চাক্ষুষ দেখতে গিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সহ ৮ দলের ১১ জন নেতৃত্ব। কিন্তু এদিন তাদেরকে কাশ্মীরে যেতে দেওয়া হয়নি। শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয় তাঁদের। এটা স্পষ্ট, জম্মু-কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি নেই, দিল্লিতে ফিরে এসে এমনটাই মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

শনিবার জম্মু-কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা দেয় বিরোধীদের প্রতিনিধি দল। ওই দলে ছিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মা, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, আরজেডি-র মনোজ ঝা, শরদ যাদব, এনসিপি-র মজিদ মেনন, ডিএমকের তিরুচি সিবা এবং তৃণমূলের দীনেশ ত্রিবেদী। দিল্লি বিমানবন্দর থেকে সকালের উড়ানে শ্রীনগরে পৌঁছয় বিরোধীরা। কিন্তু তাঁদের শহরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। গতকালই প্রশাসন অনুরোধ করেছিল, উপত্যকায় শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে না। আপনারা আসবেন না।

রাহুল গান্ধী সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেছিলেন, ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্য নেই আমাদের। সরকারের বিরোধিতা করতেও যাচ্ছি না। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সরকারকে যাতে পরামর্শ দিতে পারি, সে জন্যই যেতে চাইছি।’ আরজেডি নেতা মনোজ ঝায়ের প্রশ্ন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কেন আমাদের আটকানো হচ্ছে?’ শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসার আগে প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে বিরোধীরা। ওই চিঠির বক্তব্য, আমাদের আটকের তীব্র বিরোধিতা করছি। এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও অসংবিধানিক।

উৎসঃ টিডিএন বাংলা

আরও পড়ুনঃ মােদি জমানায় দেশের বিবর্ণ ছবি, ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ভারতের অর্থনীতি


ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চরম সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে এগুচ্ছে। মন্দা এমন পর্যায়ে গেছে যে এরকম সঙ্কট বিগত ৭০ বছরে আসেনি বলে মন্তব্য করে বড়সড় আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন ভারতের অর্থনীতিবিষয়ক সংস্থা নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান রাজীব কুমার।

বস্তুত অর্থনীতির সঙ্কটের আভাস অনেক আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। জিডিপি বৃদ্ধির হার ক্রমাগত কমেছে বিগত কয়েক বছরে। উৎপাদন শিল্প থেকে কৃষি এবং অর্থনীতির কোর সেক্টরের বৃদ্ধিহারের লাগাতার মন্দা একেবারে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। মন্দা এতটাই প্রভাব ফেলেছে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ শিল্পে যে, দেশজুড়ে কর্মসংস্থানের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। একের পর এক সংস্থা ঘোষণা করছে কর্মী ছাঁটাইয়ের। অটোমোবাইল থেকে বিস্কুট প্রতিটি শিল্প এতটাই ধাক্কা খেয়েছে যে বহু ইউনিট বন্ধ হয় যাচ্ছে। পার্লে জি কোম্পানি জানিয়েছে, তারা ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে যাবে। ব্রিটানিয়া সংস্থা জানিয়েছে পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগজনক। হিরো, মারুতি, টাটা মোটরস, হন্ডা প্রতিটি সংস্থারই গাড়ি বিক্রি বিপুলভাবে কমে গেছে এবং উৎপাদন ইউনিট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে কর্মীদের ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেও এতদিন সরকার স্বীকার করেনি অর্থনীতির মন্দার কথা। কিন্তু এবার কখনো রিজার্ভ ব্যাংক, কখনো নীতি আয়োগ সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছে যে অর্থনীতির বেহাল দশা উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে। আর তাই শুক্রবার মোদি সরকারের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন তড়িঘড়ি অসংখ্য নতুন ঘোষণা করে ড্যামেজ কন্ট্রোলের মরিয়া চেষ্টা করেছেন। ঘোষণা করেছেন, ব্যাংক ও আর্থিক সংস্থাগুলোকে ৭০ হাজার কোটি রুপি দেয়া হবে অবিলম্বে।

সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস মানিটারি পলিসি কমিটির বৈঠকে বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার মার্কেট তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই মন্দা দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। খোদ রিজার্ভ ব্যাংক কর্মকর্তার ওই মন্তব্য নিয়ে আলোড়নের রেশ মেটার আগেই বৃহস্পতিবার রাতে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান বলেছেন, মরিয়া কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হলে এই আর্থিক মন্দা ঠেকানো যাবে না। কেউ কাউকে বিশ্বাস করছে না। নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যানের এই মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়ে সরকার দ্রুত ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়ে। ফলস্বরূপ শুক্রবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের ঘোষণা। যদিও শুক্রবার দৃশ্যতই নার্ভাস অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা থেকে স্পষ্ট, রাজনীতিতে অবিরত জয়ী হওয়া মোদি সরকার অর্থনীতিতে যথেষ্ট ব্যাকফুটে।

প্রচারের ঢাক পেটাচ্ছে নরেন্দ্র মােদি সরকার। মূলস্রোতের কর্পোরেট পরিচালিত সংবাদ মাধ্যম মােদি সরকারের সাফল্য প্রচারে আনছে। কিন্তু ওদের প্রচারে উঠে আসছে না দেশের বর্তমান পরিস্থিতি। মোদি সরকারের নীতি দেশবাসীর জন্য কিভাবে বিপর্যয় ডেকে এনেছে তা তথ্যে চোখ রাখলেই স্পষ্ট হবে। যে খবরগুলি মূল স্রোতের সংবাদ মাধ্যম কার্যত চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে আসছে, তার কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলো-ঃ

১ ) জেট এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়ে গেছে।

২ ) এয়ার ইন্ডিয়া ৭৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিতে চলছে তাই এখন বিলগ্নিকরণের পথে। কেউ কিনতে এগিয়ে আসছে না।

৩ ) হিন্দুস্তান আনেটিকেল লিমিটেড ( HAL ) বিমান তৈরি কারখানায় কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না। কিন্তু বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে বিমান কেনা হচ্ছে। দেশের কারখানা ধুকছে। মেক ইন ইন্ডিয়া কাজ করছে না।

৪ ) বি এস এন এলের ৫৪, ০০০ কর্মচারী চাকুরিচ্যুতির বিপদে দিন কাটাচ্ছেন।

৫ ) ডাকঘর দপ্তর ১৫ ,০০০ কোটি টাকার ক্ষতিতে চলছে। বেসরকারি হাতে দিয়ে দেওয়া হতে পারে।

৬ ) অত্যন্ত লাভজনক সংস্থা ও এন জি সি এখন ক্ষতির সম্মুখীন।

৭ ) সর্ববৃহৎ গাড়ি তৈরির কারখানা মারুতি নতুন গাড়ি তৈরির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে। চাহিদা কমে গেছে।

৮ ) ৫৫ ,০০০কোট টাকার নতুন গাড়ি বহুকারাখানিতে পড়ে আছে।

৯ ) গাড়ি তৈরির কারখানা শিল্পে ১০ লক্ষ শ্রমিক – কর্মচারী ছাঁটাইয়ের পথে।

১০ ) ৩০টি বড়ো বড়াে শহরে ১২.৭৬ লক্ষ তৈরি বাড়ি বিক্রি করা যাচ্ছে না।

১১ ) বাড়ি তৈরির মালিকরা বিপদে। অনেকে আত্মহত্যা করেছেন।

১২ ) এয়ারসেল এখন মৃত।

১৩ ) জে পি গ্রুপ ধ্বংস হয়ে গেছে।

১৪ ) পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক ক্রমান্বয়ে ক্ষতিতে চলছে।

১৫ ) সমস্ত ব্যাংক প্রচুর ক্ষতিতে চলছে।

১৬ ) বৈদেশিক ঋণের বোঝা ৫০ বিলিয়ন ডলার (৩৬ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে)।

১৭ ) অল্প সংখ্যক কর্পোরেটদের ২.৪ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ মকুব হয়েছে।

১৮ ) ৩৬ জন বড় অঙ্কের টাকার খণগ্রহিতা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

১৯ ) রেলওয়ে বিক্রির পথে।

২০ ) লালকেল্লাসহ ঐতিহ্য বহনকারী স্থাপত্যগুলি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেওয়া হয়ে গেছে।

২১ ) ৫টি বড় বিমানবন্দর আদানির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আরও অনেক বিমানবন্দর বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার অপেক্ষায়।

২২ ) ভিডিওকন কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে।

২৩ ) টাটা ডোকোমে কোম্পানি শেষ হয়ে গেছে।

২৪ ) ৪২টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিক্রি করে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।

২৫ ) নােটবন্দির ফলে লক্ষ লক্ষ লােক কাজ হারিয়েছে ২৬) দেশের অভ্যন্তরীণ তর্থনীতিতে স্থবিরতা এসে গেছে।

২৭ ) তাই ৪৫ বছরে সর্বোচ্চ বেকারত্ব।

১৮ ) মুদ্রণ ও বৈদ্যুতিক মাধ্যমের বৃহৎ অংশ কর্পোরেটদের হাতে চলে গেছে। তাই প্রকৃত খবর দেশবাসী জানতে পারে না।

২৯ ) কাশ্মীরে নানাভাবে গণতন্ত্র হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে স্বৈরশাসন শুরু হয়েছে।

৩০) যে কোনও ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবাদী তকমা লাগিয়ে গ্রেপ্তার করার আইন পাশ হয়েছে। সরকারের কোনও কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে গ্রেপ্তারের ভয় প্রস্তুত আছে।

৩১) কর্মহানি ( JCBLESS ) উন্নয়নের ( ! ) পথে হাঁটছে দেশ। দেশবাসীর চরম সর্বনাশ ঘটিয়ে ছাড়বে। (সৌজন্যে: ডেইলি দেশের কথা)/

উৎসঃ টিডিএন বাংলা

আরও পড়ুনঃ ‘ভারত যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে শেষ করবে পাকিস্তান’


কাশ্মীর ছাড়া ভারতের সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়। তারা যদি যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে কখনো, তবে পাকিস্তান সেই যুদ্ধ শেষ করবে। সেই যুদ্ধ শুধু শ্রীনগর অথবা জম্মুতে শেষ হবে না। তা শেষ হবে দিল্লিতে। ভারতকে উদ্দেশ্য করে এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তথ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. ফিরদৌস আশিক আওয়ান। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের যুদ্ধ হিস্টেরিয়া সৃষ্টির বিষয়ে তিনি এমন কথা বলেছেন। তিনি রাজনাথ সিংয়ের হুমকির জবাব দিয়েছেন ওই ভাষা ব্যবহার করে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

ফিরদৌস আশিক আওয়ান শনিবার পাকিস্তানে গভর্নর হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বলেন, পাকিস্তান কখনো যুদ্ধ শুরু করবে না। লঙ্ঘন করবে না আন্তর্জাতিক আইন। কিন্তু যদি যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয় তাহলে সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিজন পাকিস্তানি যুদ্ধ করবেন। তিনি আন্তর্জাতিক সংগঠন ও মানবাধিকারের চ্যাম্পিয়নদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভারতের আসল চেহারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতেই হবে। কাশ্মীরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর জন্য তৈরি হচ্ছে ভারত। তিনি আরো বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এরই মধ্যে কাশ্মীর ইস্যু আন্তর্জাতিক সব ফোরামে তুলে ধরেছেন। তিনি আগামী ২৭ শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার বক্তব্যে এ ইস্যুটি তুলে ধরবেন। ব্যাখ্যা করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের মনোভাব। তারা কাশ্মীর উপত্যকাকে জেলে পরিণত করেছে। এ ছাড়া ইমরান খান জাতিসংঘকে তার ১১টি রেজ্যুলুশন বাস্তবায়নের আহ্বান জানাবেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের কাছে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনার আর কোনো ইস্যু নেই। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ড. ফিরদৌস আশিক আয়ান বলেন, একজন আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন নেতার বক্তব্য এটা। ইমরান খানের ওই বক্তব্য এটাই ব্যাখ্যা করে যে, কাশ্মীর ইস্যুতে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানে পাকিস্তানকে দুর্বল ভাবা উচিত হবে না। যদি কাশ্মীরকে আলোচনার অংশ করা না হয় তাহলে ভারতের সঙ্গে কোনো সংলাপে বসবে না পাকিস্তান।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইমরান খানের বক্তব্য দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন ইভেন্ট চালু করবে। ইমরান খান এ বিষয়ে বিভিন্ন গ্রুপকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি কাশ্মীরিদের অধিকারের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে তা বিশ্বের সর্বত্র প্রচারিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। একতা, সম্প্রীতি, কাশ্মীরের মালিকানার বিষয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে এ ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে ন্যাশনাল সলিডারিটি ডে উদযাপিত হবে। ফিরদৌস আশিক আয়ান বলেন, শিখ, খ্রিস্টান, হিন্দু সহ পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। ভারতের মুসলিমরাও সংহতি প্রকাশ করেছেন।

উৎসঃ শীর্ষনিউজ

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতির সহায়তা চাচ্ছে ভারত সরকার


অধিকৃত কাশ্মীরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতির সহযোগিতা চাচ্ছে ভারত।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, গত দুই দিনে কয়েকজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শনিবার সূত্র জানায়, মুক্তি দেয়ার পর তারা যেনো কাশ্মীরের স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়তা করেন, তাদের কাছ থেকে সেই প্রতিশ্রুতি চাওয়া হচ্ছে। তবে কর্মকর্তারা এই বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছেন।

ওমর আবদুল্লাহর দল ন্যাশনাল কনফারেন্স এমন খবর উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, এই খবরের কোনো ভিত্তি নেই।

কাশ্মীরের পিপল ডেমোক্রেটিক পার্টির(পিডিপি) সূত্র জানায়, কারাগারে এই দুই নেতার সঙ্গে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা দেখা করেছেন। যদি তারা ছাড়া পান, তবে জম্মু ও কাশ্মীরে স্বাভাবিকতা ফেরাতে তাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

এক জ্যেষ্ঠ পিডিপি কর্মকর্তা বলেন, কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের বাতিলের মোদি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা থেকে তারা একটুও সরে আসবেন না।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ বাতিলের ঘোষণা সামনে রেখে গত ৫ আগস্ট ওমর ও মেহবুবাকে গ্রেফতার করে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী।

ওমর আবদুল্লাহকে গুপখার সড়কের হারি নিওয়াস প্রাসাদে ও মেহবুবাকে শ্রীনগরের চেসমাসাহির জেকে পর্যটন উন্নয়ন হাটে আটকে রাখা হয়েছে।

মুসলমান অধ্যুষিত রাজ্যটিতে কোনো জনসমাবেশ করবেন না কিংবা নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কোনো বিবৃতি না দেয়ার শর্তেই তাদের মুক্তি দেয়া হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাজিদ হাইদারি বলেন, ওমর ও মেহবুবা মুক্তি পেল কিনা; কাশ্মীরের লোকজনের কাছে তা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না। তারা এখন অনেক ক্ষুব্ধ। মূল ধারার রাজনীতির প্রতি কাশ্মীরিরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন।

‘এই দুই নেতা যদি কারাগার থেকে ছাড়াও পান, তবে লোকজন তাদের কথায় কান দেবেন না,’ বললেন হায়দারি।

তিনি বলেন, কাশ্মীরিরা এসব নেতাদের ওপর আস্থা রাখছে না। কারণ ক্ষমতা আঁকড়ে ধরা কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুজনেই বিজেপির সমর্থন পেয়েছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ভারতীয় কর্মকর্তার পদত্যাগ


সংবিধান থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ তুলে দেয়ার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন ভারতের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

গত ৫ আগস্ট ভারতের পার্লামেন্টে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে মোদি সরকার। এতে বিশেষ মর্যাদা হারায় ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর।

এ অনুচ্ছেদ বহাল রাখতে বিক্ষোভ ফেটে পড়ে কাশ্মীর ও লাদাখজুড়ে। বিক্ষোভ বানচাল করতে ১৪৪ ধারা জারিসহ ভারতনিয়ন্ত্রিত গোটা কাশ্মীরকে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় ভারত প্রশাসন। টেলিফোন, ইন্টারনেট সংযোগসহ যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয় কাশ্মীরি জনতার জন্য।

তাই এবারের ঈদুল আজহার নামাজ পড়তে পারেননি অনেক কাশ্মীরি। ঈদ উৎসব একেবারেই নামমাত্রভাবে পালিত হয় সেখানে।

টানা দেড় সপ্তাহ অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে সম্প্রতি পরিস্থিতিতে শিথিল হয়ে উঠছে কাশ্মীর। মসজিদ ও স্কুল খুলে দেয়া হয়েছে। ল্যান্ডলাইনের সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

তবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জম্মু-কাশ্মীরে দমন-নিপীড়নের প্রতিবাদে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের (আইএএস) কর্মকর্তা কান্নান গোপীনাথ।

নরেন্দ্র মোদি সরকার ভারতীয় সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা তুলে দেয়ার পর এই প্রথম কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করে প্রতিবাদ জানালেন।

বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন কান্নান। বর্তমানে দাদ্রা নগর হাভেলি পোস্টিং ছিলেন তিনি।

আইএএস অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন কান্নান।

পদত্যাগের কারণ জানিয়ে টুইটও করেছেন কান্নান।

জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করে তিনি লেখেন- ‘ভেবেছিলাম সিভিল সার্ভিসে যোগদান করে মানুষের বক্তব্য তুলে ধরতে পারব। মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করব। কথা বলতে পারব। কিন্তু এখন দেখছি আমার কণ্ঠই রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।’

পদত্যাগের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন- ‘আমি স্বরাষ্ট্র সচিব বা অর্থসচিব নই। আমার পদত্যাগে পরিস্থিতির বদল হবে না। কিন্তু আমার বিবেক স্বচ্ছ।’

কান্নানের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার এক সহকর্মী বলেছেন, ‘কাশ্মীরের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ও অস্বস্তিতে থাকতেন কান্নান। তিনি বরাবরই বলতেন, মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ার অর্থ জরুরি অবস্থা জারি হওয়া। কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি আমি মেনে নিতে পারছি না।’

এদিকে ৩৭০ ধারা বাতিল ও কাশ্মীরে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর চলা দমন-পীড়নের প্রতিবাদে কান্নানের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন অনেক ভারতীয়।

কান্নানকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যায়িত করে টুইটারে সমালোচনা করছেন কেউ কেউ।

ইতিবাচক টুইটও জমা পড়ছে অনেক। কান্নানের পাশে দাঁড়িয়েছেন কেউ কেউ।

সাবেক আইএএস অনিল স্বরূপ বলেন, ‘কান্নানের মতো অফিসারদের নিয়ে আমরা গর্বিত।’

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে কী বলা হচ্ছে, তাতে নজর দিচ্ছেন না কান্নান।

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে আমি দেশবিরোধী তকমা সহ্য করতে রাজি আছি। আমি সবসময় ন্যায়ের পক্ষে। মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব যেখানে হবে, সেখানে আমার অবস্থান বিপরীতই থাকবে।’

উৎসঃ এনডিটিভি, বোলতা হিন্দুস্তান

আরও পড়ুনঃ রাহুল গান্ধীকে ঢুকতে দেয়া হয়নি কাশ্মীরে


কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী ও দেশটির বিরোধী দলগুলোর আরও ১১ নেতাকে অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। শনিবার রাহুল গান্ধী শ্রীনগর বিমানবন্দরে পৌঁছালেও তাদের সেখান থেকেই দিল্লিতে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, বিরোধী নেতাদের নিয়ে সকালে রাহুল গান্ধী দিল্লি থেকে অধিকৃত কাশ্মীরে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু তাদের কাশ্মীরে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন।

পরে শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকেই তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

কাশ্মীর সফরে যাওয়া সর্বদলীয় প্রতিনিধির মধ্যে কংগ্রেস, সিপিআই(এম), সিপিআই, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস ও ডিএমকে’র সদস্যরা রয়েছেন।

সফরে রাহুল গান্ধী ছাড়াও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা গুলাম নবী আজাদ ও আনন্দ শর্মাও গিয়েছিলেন। এর আগে গুলাম নবী আজাদ দুইবার কাশ্মীরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার তিনি এ চেষ্টা করেছিলেন।

জম্মু-কাশ্মীরের তথ্য এবং জনসংযোগ অধিদফতর এক টুইটে জানায়, আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও হামলা থেকে যখন সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণকে রক্ষায় চেষ্টা করছে, তখন রাজনৈতিক নেতারা সেখানে সফরে গেলে অন্যান্য লোকজন অসুবিধায় পড়ে যাবেন।

কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিলের পর রাহুল বলেছিলেন, তিনি সেখানে সংঘর্ষ এবং বহু মানুষের মৃত্যুর খবর পাচ্ছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে কাশ্মীরের গভর্নর সত্য পাল মালিক তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

গভর্নরের আমন্ত্রণ পাওয়ার দুই দিন পর রাহুল তা গ্রহণ করেন। কিন্তু ততক্ষণে গভর্নর তার মত বদলে আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করেন এবং রাহুলের ভ্রমণের উপর কিছু শর্ত আরোপ করে বিবৃতি দেন।

গভর্নর মালিক বিবৃতিতে বলেন, রাহুল গান্ধী তার সঙ্গে বিরোধীদলের প্রতিনিধিদের আনতে চেয়ে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছেন। যা আরো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এবং এখানে সাধারণ মানুষ অসুবিধায় পড়তে পারেন।

শনিবার সকালে গুলাম নবী আজাদ বলেন, আমরা সব দায়িত্বশীল দল ও তাদের নেতারা কোনো আইন ভাঙতে যাচ্ছি না। জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। গত ২০ দিন ধরে সেখানে অচলাবস্থা চলছে। সরকার বলছে-পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু তারা কোনো রাজনৈতিক নেতাকে সেখানে ঢুকতে দিচ্ছে না।

এই কংগ্রেস নেতার প্রশ্ন, এতে কোনো বৈপরীত্য নেই? যদি কাশ্মীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, তবে আমাদের সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না কেন?

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মির প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে ধাঁধায় ভারত!


কাশ্মিরে উত্তেজনা কমাতে নয়াদিল্লি কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, আগামী ২৬ আগস্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে তা জানতে চাইবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের এক পদস্থ অফিসার এই কথা জানিয়েছেন। ট্রাম্প আগেই বলেছেন, ফ্রান্সে আসন্ন জি-৭ সম্মেলনে ফাঁকে মোদির সঙ্গে বৈঠকে কাশ্মির নিয়ে কথা বলবেন তিনি। ওই অফিসারের কথায়, ‘‘কাশ্মিরের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পাশাপাশি উপত্যকায় মানবাধিকার রক্ষার জন্য ভারত সরকারে কী ভাবে সচেষ্ট, সেটাও জানতে চাওয়া হবে বৈঠকে।’’

গত দু’সপ্তাহে তিন বার কাশ্মির নিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব-দেয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির বৈঠক শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে, তা আঁচ করতে পারছেন না ভারতের কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা। তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বৈঠকের গুরুত্ব যথেষ্ট। ওই মার্কিন কর্মকর্তার আরো বক্তব্য, ‘‘পাকিস্তানকে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পাকিস্তানের মাটি থেকে যে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলো বারবার ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতা চালিয়েছে, তাদের কার্যকলাপ বন্ধ করতেও বলা হয়েছে।’’

ভারতের পররাষ্ট্র দফতর বুঝতে পারছে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তা আদৌ সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন স্বতন্ত্র। কিন্তু দু’টি দেশকেই নিজেদের সঙ্গে রাখাটা এই মুহূর্তে মার্কিন নীতির বাধ্যবাধকতা।

৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের ফলে কাশ্মিরের ভূ-কৌশলগত পরিস্থিতি কিছুটা হলেও পাল্টেছে। পাকিস্তানের পাখির চোখ এখন কাশ্মির। ইমরান সরকার জানিয়েই দিয়েছে, কাশ্মিরের ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতি’র ফলে আফগানিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়ার বিষয়টি লঘু বা প্রভাবিত হতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প অক্টোবরেই আফগানিস্তান থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করতে চান। সে ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের পূর্ণ সহযোগিতা তার প্রয়োজন। তাই যেভাবে হোক, কাশ্মির প্রশ্নে পাকিস্তানকে সংযত রাখতে চাইছেন তিনি।
বস্তুত, কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই জাতিসঙ্ঘে সরব হতে শুরু করেছে পাকিস্তান। তাই কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানকে কিছুটা খুশি রাখা যাবে— এই হিসাবও ভাবনায় রাখছে হোয়াইট হাউস। আবার ভারতের বিশাল বাজারকে আমেরিকা কখনোই অবজ্ঞা করতে পারে না। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের আধিপত্য কিছুটা হলেও খর্ব করতে ভারতের পাশে থাকতে হবে ট্রাম্পকে।

উৎসঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

আরও পড়ুনঃ ‘কাশ্মীর এখন কবরখানার মতো নীরব’


ভারতীয় মানবাধিকার আইনজীবী ভ্রিন্ডা গ্রোভার বলেছেন, কাশ্মীর এখন কবরখানার মতো নীরব। শুক্রবার নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত দেড় হাজার শব্দের একটি প্রতিবেদনে তিনি এমন কথা বলেছেন।

খবরের সঙ্গে অধিকৃত উপত্যকাটির বিভিন্ন আলোকিচিত্র ও ভিডিও প্রকাশ করেছে দৈনিকটি। ইকনোমিস্ট সাময়িকীকে বুদ্ধিজীবী প্রতাপ ভানু মেহতা বলেন, রাজ্যটিকে ভারতীয় ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সেখানকার মুসলমানদের এক বিতৃষ্ণাকর সংশয়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছে সরকার।

মেহতা বলেন, সীমাহীন নির্বাহী ক্ষমতার বশীভূত হওয়াই হচ্ছে ইউনিয়নের ভূখণ্ড হিসেবে ভারতীয় আইনের অধীন কাশ্মীরিদের প্রথম অভিজ্ঞতা।

ভূস্বর্গটির সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্যই কাশ্মীরকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে যে দাবি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করেন, এক খোলা চিঠিতে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বিশ্বব্যাংকের সালমান সোজ নামের এক কাশ্মীরি।

মোদিকে তিনি বলেন, আপনি জেনে অবাক হবেন যে জম্মু ও কাশ্মীর হচ্ছে অনেকগুলো রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের সূচক।

ভারতীয় নেতাদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের দারিদ্র্যের হার হচ্ছে আট দশমিক এক। যেখানে জাতীয় গড় দারিদ্র্য ২১ দশমিক ৯ শতাংশ। ভারতীয় ভূখণ্ড ও রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ উন্নত পাঁচটি অঞ্চলের একটি হচ্ছে কাশ্মীর।

নিউইয়র্ক টাইমসের খবর বলছে, ৫ আগস্টের আগে ও পরে বিজেপি সরকার গত কয়েক দশকের মধ্যে বেসামরিক নেতাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ধরপাকড় চালিয়েছে। ব্যবসায়ী নেতা, মানবাধিকার কর্মী, নির্বাচিত প্রতিনিধি, শিক্ষক ও ছাত্রসহ দুই হাজার কাশ্মীরিকে গ্রেফতার করেছে ভারত সরকার। আটকদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী কিশোরও রয়েছে।

আটকদের পরিবার কিংবা আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। তাদের কোথায় নিয়ে রাখা হয়েছে, তাও প্রকাশ করা হয়নি।

এসব লোকজনকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছে বলে মার্কিন পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় কঠোর জননিরাপত্তা আইনেও এই আটক অবৈধ। কাশ্মীরে যে কোনো সম্ভাব্য সমালোচনা বন্ধে মোদি ভারতীয় আইনি ব্যবস্থা ভেঙে ফেলেছেন। ব্যবসায়ী, রাজনীতিবীদ ও অধ্যাপকদের কেউ প্রতিবাদে সরব হলেই তাকে আটক করা হচ্ছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কী অভিযোগ আনা হয়েছে কিংবা তাদের কতদিন কারাগারে রাখা হবে, তাও প্রকাশ করেনি ভারতীয় সরকার।

কাউকে কাউকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে গোপনে লাখনৌ, বারণসী ও আগ্রার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে কথা বললেন ইমরান খান


কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় কূটনৈতিক সহায়তা পেতে এবার জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেলের সঙ্গে কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

শুক্রবার অ্যাঙ্গেলা মারকেলের সঙ্গে ফোনালাপে ইমরান খান কাশ্মীরের সাম্প্রতিক বিষয়ে তাকে অবহিত করেছেন বলে ডন ও জিয়ো নিউজের খবরে জানানো হয়েছে।

কাশ্মীর নিয়ে মোদি সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ফোনালাপে ইমরান খান অ্যাঙ্গেলা মারকেলকে বলেন, কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন বাতিলের মাধ্যমে মূলত ওই অঞ্চলের পরিচিতি মুছে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে ভারত। যেটি জাতিসংঘের গৃহীত সিদ্ধান্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উপত্যকাটিতে গণহত্যার আশংকার কথা জানিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে নতুন কোনো ইস্যু সৃষ্টির তৈরির মাধ্যমে ভারত সরকার কাশ্মীর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা করছে।

ইমরান খান বলেন, বিশ্ব শক্তিকে কাশ্মীরি জনগণের পক্ষে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ ইতিমধ্যে সেখানে গণহত্যার ক্ষেত্র তৈরি করেছে মোদি সরকার।

ফোনালাপে অ্যাঙ্গেলা মারকেল ইমরান খানকে জানান, কাশ্মীর নিয়ে সৃষ্ট সংকট জার্মানি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

লাদাখ ও কাশ্মীরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল আনা হয়। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও তাদের ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার অভাবে লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই কক্ষে বিলটি পাস হয়।

এ নিয়ে প্রথম থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। এটা ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত, এই অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয় তারা। কাশ্মীর নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীরি জনগণের অধিকার রক্ষায় ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে জাতিসংঘের স্থায়ী পাঁচ সদস্যসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে মুসলিম গণহত্যার ১০টি আলামত প্রকাশ করেছে


জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর উপত্যকাটিতে গণহত্যার সতর্কতা জারি করেছে জেনোসাইড ওয়াচ।

বৃহস্পতিবার গণহত্যার সতর্কতা জারি করে বিবৃতি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। খবর ডনের।

গণহত্যা প্রতিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটির ওয়েবসাইটে জারি করা ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, ভারতের কাশ্মীর ও আসামে গণহত্যার প্রাথমিক ১০টি ধাপ বা লক্ষণের কয়েকটি ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, একতরফা ও অবৈধ পদক্ষেপের মাধ্যমে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উপত্যকায় এখন গণহত্যা চালানোর পথে রয়েছে।

বিবৃতিতে কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ থামাতে অতিসত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘ ও এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেনোসাইড ওয়াচ।

জেনোসাইড ওয়াচের প্রেসিডেন্ট গ্রেগরি এইচ স্ট্যান্টনের গণহত্যা বিষয়ক দশটি বিষয়ের আলোকে ওই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

১. জনগণের শ্রেণীকরণ: কাশ্মীরে ভারতীয় হিন্দু ও শিখ ধর্মাবলম্বী সেনাবাহিনীকে ভারত সরকার ‘আমরা’ এবং কাশ্মীরি মুসলিমদেরকে ‘তারা’ এই দুই ভাগে ভাগ করেছে।

২. প্রতীক চিহ্নিতকরণ: গণহত্যা প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ এবং এ ধাপে কাশ্মীরের নাগরিকদের প্রত্যেকের মুসলিম নাম, ভাষা, পোশাক এবং মসজিদকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

৩. বৈষম্য: ১৯৯০ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিকভাবে কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণ করত হিন্দু পণ্ডিতরা। বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিজেপি পুনরায় কাশ্মীরে হিন্দু পণ্ডিতদের প্রভাব বৃদ্ধি করছে।

৪. অমানবিকতা: কাশ্মীরের মুসলমান নাগরিকদের ‘সন্ত্রাস, বিচ্ছিন্নতাবাদী, অপরাধী, বিদ্রোহী’ নামে অভিহিত করার মাধ্যমে দানব হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

৫. সংগঠিতকরণ: ভারি আগ্নেয়াস্ত্রসহ প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য এবং পুলিশকে কাশ্মীরে সংগঠিত করা হয়েছে।

৬. মেরুকরণ: প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বিজেপি কাশ্মীরে মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারণা চালাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

৭. প্রস্তুতি: কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে ভারতের সেনাবাহিনী। যে কোনো মূল্যে কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণকে ‘চূড়ান্ত সমাধান’ বলছে বিজেপি নেতারা।

৮. দমন-পীড়ন: কাশ্মীরের নাগরিকদের খাঁচাবন্দি করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে তাদেরকে গ্রেফতার, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যা করা হচ্ছে।

৯. বিলুপ্তকরণ: ১৯৯০ সাল থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে অন্তত ২৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। পাশাপাশি পঁচিশজনের বেশি মুসলমান বিদ্রোহী নিহত হয়েছে।

১০. অস্বীকার: কাশ্মীরের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের দাবি করেছে মোদি সরকার। ক্ষমতাসীন বিজেপি কাশ্মীরে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ভারতের সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য অথবা পুলিশ কর্তৃক কাশ্মীরের কাউকে নির্যাতন, হত্যা অথবা নিহতের চেষ্টার অভিযোগও অস্বীকার করে আসছে সরকার।

জেনোসাইড ওয়াচ ১৯৯৯ সাল থেকে বিশ্বে গণহত্যা প্রতিরোধ, বন্ধ ও এ অপরাধের শাস্তির জন্য কাজ করে আসছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য গণহত্যা এবং সংঘটিত গণহত্যা সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে চেষ্টা করছে।
গত ৫ আগস্ট নরেন্দ্র মোদির সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা (ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ) বাতিল করে দিয়েছে। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরকে ভেঙে দুটি অঞ্চল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করা হয়েছে।

কাশ্মীরী সংগঠনগুলো বলেছে, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের অর্থ হলো সেখানকার অধিবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।

৩৭০ ধারা বাতিলকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরে গত ১৬ দিন যাবত কারফিউ জারি করে রেখেছে ভারতীয় প্রশাসন।

বিক্ষোভ ঠেকাতে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলটির সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘোষণাকে সামনে রেখে কাশ্মীরের ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।

এই মুহূর্তে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকীকৃত এলাকায় পরিণত হয়েছে। সেনাবাহিনী, আধা-সামরিক বাহিনী ও পুলিশ সদস্য মিলিয়ে সেখানে ৭ লক্ষাধিক নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

অস্থায়ী কারাগার বানানো হয়েছে হোটেল, গেস্ট হাউস, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ভবনকে। কাশ্মীরের পুরো উপত্যকাটি যেন পরিণত হয়েছে একটি কারাগারে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা’


নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা। তিনি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন। তার মতে, গণতন্ত্র ছাড়া কোনোভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এছাড়াও, একজন ভারতীয় হিসেবে তিনি গর্বিত নন বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্বখ্যাত এই অর্থনীতিবিদ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

অমর্ত্য সেনের কাছে প্রশ্ন ছিলো, আপনি এমন এক সময়ে ভারতে এলেন যখন দেশটি কঠিন সময় পার করছে। কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আপনি সারাজীবন সাম্যের কথা বলেছেন, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সাম্যের কথা। কিন্তু, সাম্য বলতে আমরা সবক্ষেত্রেই সাম্যকে বুঝে থাকি। আপনি কি মনে করেন- কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা সেই অঞ্চলে শান্তি এবং সেখানকার মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারবে?

উত্তরে অমর্ত্য বলেন, “না, আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি, কাশ্মীর একটি বিশেষ সমস্যা প্রবণ অঞ্চল। কাশ্মীরের কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আমি মনে করি না যে, কাশ্মীরের জননেতাদের কথা না শুনেই আপনি সেখানে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। সেখানে হাজার হাজার জননেতাকে আটকে রাখা হয়েছে। এমনকী, বড় বড় নেতারাও কারাগারে।”

তিনি আরো বলেন, “কাশ্মীরে যেভাবে যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের সাফল্য আসতে পারে না। গণতান্ত্রিক সরকার সবসময়ই আলোচনার মাধ্যমে এগোয়। এখন সরকার যখন বলে তারা শুধু পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা করবে তখন আমি মনে করি না যে সরকার সত্যিই গণতন্ত্রের জন্যে কোনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে চায়। আমি মনে করি না যে, গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার কোনো সমাধান হতে পারে। এ নিয়ে তো অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করা হচ্ছে।”

সরকার বলছে তারা কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে অভিযান চালাচ্ছে। আপনি কী মনে করেন?

অমর্ত্য সেন বলেন, “এটি হচ্ছে পুরনো উপনিবেশিক মানসিকতার অজুহাতমূলক বক্তব্য। ব্রিটিশরা যখন এখানে শাসন করেছে… আমি আমার শৈশবের কথা বলছি, আমি মাঝে মাঝেই আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যেতাম। তিনি কারাবন্দি হয়েছিলেন। তখন ব্রিটিশরা বলতো তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে তাকে কারাগারে রেখেছে। এসব ধরপাকড়ের মাধ্যমে সেই উপনিবেশিক যুগে ফিরে যাওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলে আমার অনেক আত্মীয়স্বজনকে জেলে পোড়া হয়েছিলো।”

“এটি বলা সহজ যে আমরা এই মানুষগুলোকে কারাবন্দি করেছি, কারণ তারা সমস্যা তৈরি করছে। এই যে সেদিন মানুষের অধিকার আন্দোলন নিয়ে কাজ করা কানাইয়া কুমারকে জেলে পাঠানো হলো। যুক্তি কী ছিলো? যুক্তি ছিলো যে সে রাষ্ট্রদ্রোহী। সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা।”

সরকার বলছে সাধারণ কাশ্মীরিরা ৩৭০ ধারা থেকে কোনো উপকার পাচ্ছিলো না।… আর দিল্লিতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ভোটের মাধ্যমে সেই ধারাটি বিলোপ করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে আপনি কী বলবেন?

এমন প্রশ্নের উত্তরে অমর্ত্য সেনের বক্তব্য, “ব্রিটিশরা যখন ভারত শাসন করছিলো তখন আমি মনে করি, বিষয়টি ব্রিটেনে অনেক জনপ্রিয় ছিলো। একই বিষয় ভারতের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তারা কাশ্মীরে কতোটুকু জনপ্রিয়? বলা হচ্ছে কাশ্মীর ভারতের অংশ। কিন্তু, এ বিষয়ে কাশ্মীরের জনগণ কী ভাবছেন? এ বিষয়ে কাশ্মীরের জনগণের মত নিতে হবে তো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও সংখ্যাগরিষ্ঠরা সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করে যাচ্ছে। এই সে বিপুল জনসমর্থন আসলে তা কী, আমাদের ভাবতে হবে। এই জনসমর্থন এবং মানুষের অধিকারের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে।”

সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন কাশ্মীর নিয়ে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি যে শুধুমাত্র সব মানুষের অধিকার বজায় রাখার বিরোধিতা করেছে তা নয়, এই পদক্ষেপে সংখ্যাগরিষ্ঠের কথাও ভাবা হয়নি।”

৮৫ বছর বয়সী নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “গোটা বিশ্বে গণতান্ত্রিক আদর্শ অর্জনের জন্য এতো কিছু করেছে ভারত। তবে এখন আর আমি একজন ভারতীয় হিসেবে এই সত্য নিয়ে গর্বিত নই যে ভারতই গণতন্ত্রের পক্ষে প্রথম প্রাচ্যের দেশ ছিলো। কাশ্মীরের ক্ষেত্রে যা করা হচ্ছে, তাতে আমরা সেই খ্যাতি হারিয়ে ফেলেছি।”

উৎসঃ দ্য ডেইলি স্টার

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here