তদবির ছাড়া হাইকোর্টে মামলার ফাইল নড়ে না

0
45

হাইকোর্টে আসা বিচারপ্রার্থীদের কাছে তদবির শব্দটি কমবেশি পরিচিত। আর এই তদবির হলো আর্থিক লেনদেন বা ঘুষ। তদবির করা না গেলে মামলা মাসের পর মাস শুনানির অপেক্ষায় পড়ে থাকে। কখনও নথি পাওয়া যায় না, আদেশের কপি পেতে সপ্তাহ-মাস কেটে যায়, অথবা প্রতিটি পদক্ষেপে বিচারপ্রার্থীকে অযথা হয়রানির শিকার হতে হয়। বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বাংলা ট্রিবিউন

আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তদবির নামক দুর্নীতি অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়েও উঠেছে। বিচারপ্রার্থীরাও অবগত তদবির না করলে মামলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। আদালত ব্যবস্থাপনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া এমন অনৈতিক লেনদেনের কারণে খোদ রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলমও ক্ষুব্ধ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, এভাবে বিচার বিভাগ চলতে থাকলে রাষ্ট্র অকার্যকর হয়ে যাবে।

প্রাথমিক শুনানি ও মুলতবি শুনানির জন্য মামলা কার্যতালিকায় তোলা, অথবা অন্য যে কারণেই হোক মেনশন স্লিপ (স্লিপের মাধ্যমে মামলার বিষয়বস্তু আদালতে উত্থাপন) জমা দিলেই তবে মামলাটি সংশ্লিষ্ট কোর্টের কার্যতালিকায় আসে। সেক্ষেত্রে কোনও মামলায় রুল শুনানির জন্য দেখা যায় মামলাটি কার্যতালিকায় ৫০০ নম্বরে রাখা হয়েছে। তখন ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা বা তার বেশি অংকের টাকা দিয়ে তদবির করলে মামলাটি কার্যতালিকার সিরিয়ালে সামনের দিকে নিয়ে আসা হয়। এরপর স্বাভাবিক নিয়মে মামলার ফাইল প্রস্তুত হওয়ার কথা। কিন্তু তা হয় না, বরং সেকশনে রেকর্ড রেঞ্জারকে টাকা দিলে তারা মামলার নথিতে সিল দেন এবং তা শুনানির জন্য প্রস্তুত করে থাকেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নতুন মামলা করতে গেলে আইনজীবীর ফি ছাড়াও প্রথমে স্ট্যাম্প দিয়ে কোর্ট ফি এন্ট্রি করতে হয়। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফির অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। এরপর মামলার নম্বর দেওয়া হয়। সেখানেও টাকা দিয়ে কাজ করাতে হবে। নম্বর পাওয়ার পর নথিটি এফিডেভিট কমিশনারের কাছে যায়। সেখানে তদবির করতে হয়। এ পর্যায়ে এফিডেভিট কমিশনার মামলার ডিপোনেন্টকে (হলফকারী) খোঁজেন। আগে ডিপোনেন্টকে আসতে হতো না, এখন আসতে হয়। তাই আগে এফিডেভিট কমিশনারকে ৫০-১০০ টাকা দিয়ে কাজ করানো গেলেও এখন ৩০০-৩৫০ টাকার নিচে কাজ হয় না। আবার এফিডেভিট কমিশনারের কাছে কোনও কারণে ডিপোনেন্ট না আসলে, মামলা প্রতি তাকে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। না দিলে দীর্ঘদিনেও কাজটি সম্পন্ন হবে না।

কোনও মামলায় কোর্ট কোনও আদেশ দেওয়ার পর বেঞ্চ অফিসার (বিও)তা টাইপ করেন। কিন্তু, তদবির ছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ টাইপ হয় না এবং সিরিয়াল অনুযায়ী ফাইলও নামে না। তাই আদেশের বিষয়ে সবসময়ই বিওর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। এরপর টাইপ হয়ে আদেশটি জমাদারের কাছে যায়।

আদেশটি জমাদারের মাধ্যমে বিচারপতির কাছে গেলে তারা স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষর শেষে আদেশটি বেঞ্চ অফিসারের কাছে আসে এবং কোর্টের পিয়ন সেই আদেশনামার জন্য ২০০-৩০০ টাকা বকশিস দাবি করে থাকেন,যেন এটা তার প্রাপ্য।

আবার সেকশনে যাওয়ার পর স্বাক্ষরিত আদেশটি একজন কর্মকর্তা টাইপ করেন এবং তার সঙ্গে থেকে আরেকজন তা মিলিয়ে দেখেন। এখানে মামলাটির ফাইল একাধিক টেবিল ঘুরে ডেসপাস সেকশনে যায়। সেক্ষেত্রে একটি টেবিল থেকে আরেকটি টেবিলে মামলার ফাইল স্থানান্তর করতেও বিচারপ্রার্থীকে তদবির নামের অনৈতিক লেনদেনে জড়াতে হয়। সবশেষে ডেসপাস সেকশনে টাকা দিলেই তবে মামলার আদেশের কপি সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়। অন্যথায় আদেশটি নড়েচড়ে না পড়েই থাকে।

কোনও আসামির জামিনের আদেশ হওয়ার পর তদবির ছাড়া কখনোই মামলার নথি সংশ্লিষ্টদের হাতে যায় না। তাই কারও জামিনের আদেশ হওয়ার পরও যদি তদবির করা না হয়, তাহলে বছরের পর বছর মামলার ফাইল আদালতেই পড়ে থাকে, জামিনের আদেশটি আর সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, কোনও মামলায় আদেশের পর বিচারপ্রার্থী বা তার আইনজীবীরা যদি সংশ্লিষ্ট কোর্টের সেকশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ ব্যয় বা তদবি’ না করেন, তবে ফাইলটি যেভাবে আছে ঠিক সেভাবেই থেকে যায়। বছরের পর বছর কেটে গেলেও তদবির ব্যতীত মামলার আদেশ বিচারপ্রার্থীদের কাছে যায় না। অভিযোগ রয়েছে,এমনকি হাইকোর্ট কাউকে জামিনাদেশ অথবা খালাসের আদেশ দিলেও প্রয়োজনীয় তদবি’ না করলে বিচারপ্রার্থীকে দিনের পর দিন কারাগারেই থাকতে হবে। দেখা গেছে,অভাবগ্রস্ত গরিব-অসহায় বিচারপ্রার্থীদেরকেই এ ধরনের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়,যার অসংখ্য নজির আগে দেখা গেছে।

কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইনজীবীদের সঙ্গে হাইকোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে একটি মামলায় কত টাকা পর্যন্ত তদবির করতে হবে। আবার মামলার ধরন বুঝেও এই লেনদেন বেশি-কম হয়ে থাকে। তবে অন্ততপক্ষে একটি রিট মামলা শুধু ফাইল করতে গেলেই ১২০০ টাকা, জামিনের আদেশের কপি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন টেবিল ঘুরে সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা এবং অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে শুনানি থেকে শুরু করে আদেশের কপি হাতে পাওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা তদবিরে খরচ করতে হয়।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌অভিযুক্তের সঙ্গে দুদক কর্মকর্তার ইফতার, অতঃপর চাঞ্চল্য!

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আছে ফরিদপুরের দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। বিস্ময়কর হলেও সত্য এই অনুসন্ধানে নিয়োজিত দুদকের ফরিদপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ তাদের সাথেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ নিয়ে গোটা ফরিদপুরে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য।

দুর্নীতি দমন কমিশনেরই একজন শীর্ষ কর্মকর্তা একে গুরুতর স্খলন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে, তার সঙ্গে যদি অনুসন্ধান কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে মেলামেশা করেন, তাহলে সেই তদন্ত কোনোভাবেই সুষ্ঠু হবে না।’

রবিবার ফরিদপুরের বদরপুরে স্থানীয় একটি ইফতার পার্টিতে বরকত ও রুবেলের সঙ্গে দুদক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে দেখা গেছে। তারা একসঙ্গেই অনুষ্ঠানস্থলে গিয়েছেন। একসঙ্গে মেতেছেন খোশগল্পে, আড্ডায়। শুধু তাই নয়, সাজ্জাদ হোসেন বরকত দুদক কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন। যা দেখে উপস্থিত অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন, বরকত ও রুবেলের সঙ্গে দুদক কর্মকর্তার ভাব-বিনিময় দেখে মনে হয়েছে তাদের মধ্যে খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব রয়েছে। দুর্নীতি দমনে নিয়োজিত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাটির কর্মকর্তারা এতটা সহজলভ্য হলে তাদের অনুসন্ধান বা তদন্ত নিয়ে জনমনে সহজেই প্রশ্ন তৈরি হয়।

গত ১ মে দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দুদক ফরিদপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে বরকত ও রুবেলের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধানে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। পরে ২০ মে আলাদা চিঠিতে বরকত ও রুবেলকে দুদক কার্যালয়ে তলব করেন উপ-পরিচালক। ২২ মে তারা হাজির হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় চেয়ে নেন।

দুদকের রীতি অনুযায়ী, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়লে সেই অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত করা হয়। একেই বলা হয় অনুসন্ধান। এই পর্যায়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রমাণ পেলে পরে হয় তদন্ত। আর তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়লে অনুমোদন দেওয়া হয় মামলার।

যাদের সম্পদের অনুসন্ধান করছেন, তাদের সঙ্গে প্রকাশ্য সখ্য ও একসঙ্গে ইফতার পার্টিতে যোগদানের বিষয়টিকে অন্যায় হিসেবেই দেখছেন দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন,এটি সংস্থাটির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকেও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান বলেন, উপ-পরিচালক (আবুল কালাম আজাদ) যদি এ কাজ করে থাকেন, তাহলে অন্যায় করেছেন। ভুল করেছেন। এটা করা উচিত হয়নি। এতে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে।

দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান মনে করেন, এটি অনৈতিক হয়েছে। তিনি ভুল করেছেন। আসলে বাংলাদেশে অনেক লোকেরই এ ধরনের সেন্স নেই।

বরকত ও রুবেলের সম্পদের অনুসন্ধানের তদারকি কর্মকর্তা ও দুদকের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক আক্তার হোসেন বলেন,আমি বিষয়টি জানি না। কেন সে এমনটা করলো আমি খোঁজ নিচ্ছি।

তবে উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদের দাবি, প্রকাশ্যে তিনি কী করলে না করলেন তাতে তার অনুসন্ধানে কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন,ওই ইফতার পার্টিতে আর সবার মতো আমিও নিমন্ত্রিত ছিলাম, তাই গিয়েছি। আমি ওখানে কার সাথে কথা বললাম, এটা মুখ্য নয়, আমি আসলে আমার কাজ ঠিকঠাক করছি কি-না এটাই মুখ্য।

একসঙ্গে গাড়িতে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার ব্যক্তিগত গাড়িতে গিয়েছি। তাদের গাড়িতে যাইনি।

দুদকে জমা পড়া নথি সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় নয় বছর ধরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) ফরিদপুর অঞ্চলের সব ধরনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন বরকত ও রুবেল। ফরিদপুর অঞ্চলে কোনও টেন্ডার কাজের শিডিউল সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাওয়া যায় না। পাওয়া যায় সাজ্জাদ-ইমতিয়াজের ব্যক্তিগত অফিসে। সেখানেই টেন্ডার শিডিউল বিক্রি হয়। কতটা সিডিউল বিক্রি হলো, তার কোনো হদিস থাকে না। এখান থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। অভিযোগ আছে, টেন্ডার যিনিই পান বা যার লাইসেন্সের অনুকূলেই বরাদ্দ হোক, কাজের মোট মূল্যের ১৭ থেকে ২০ শতাংশ অগ্রিম টাকা সাজ্জাদ-ইমতিয়াজের পকেটে না ঢোকা পর্যন্ত কার্যাদেশ দেওয়া হয় না।

মাদক বিক্রিসহ পরিবহন খাত থেকেও চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে বরকত-রুবেলের বিরুদ্ধে। দুদকে জমা পড়া নথির সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী, জনতা ব্যাংকের মোড়, মুন্সীর বাজার বাইপাস, মচ্চর ইউনিয়ন, গোয়ালচামট, রাজবাড়ি রাস্তার মোড় এলাকায় কয়েকশ একর জমি কিনেছেন দুই ভাই। ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল চরের জমি দখল করে নারকেল বাগান, কলাবাগান, গবাদি পশুর খামার তৈরি করেছেন তারা। এ ছাড়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেও কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছেন বরকত ও রুবেল।

অভিযোগ আছে, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ফরিদপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান চৌধুরীকে রীতিমতো জিম্মি করে শহরের শত কোটি টাকা মূল্যের জমি লিখে নিয়েছেন বরকত ও রুবেল।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খোকন রাজাকারের আপন ভাগিনা এই দুই ভাই। তারাই খোকন রাজাকারকে সুইডেনে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন বলে তথ্য আছে। খোকনের ছেলেও সুইডেনে থাকেন। বরকত ও রুবেলের সঙ্গে তাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। সুইডেনে অর্থপাচারের অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌মূলধন ঘাটতিতে ৬ ব্যাংক: চাহিদা ২৫ হাজার কোটি টাকা, বরাদ্দ ১৫শ’ কোটি

বাজেটে এ খাতে অর্থ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের * আর্থিক দুর্বলতা সারাতে মূলধন ঘাটতি মেটানো জরুরি : আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক

সরকারি খাতের ছয়টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ২৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকারের কাছে ব্যাংকগুলো চেয়েছে ২৪ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা।

আগামী জুনের মধ্যে এসব অর্থ ব্যাংকগুলোর নামে ছাড় করা হবে। আগামী অর্থবছরের জন্যও এ খাতে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার সুপারিশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, মূলধন ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।

তাদের মূলধন ঘাটতি ও সুদ ভর্তুকি বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের আলাদা দুটি প্রতিবেদনে সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। মূলধন ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসব ব্যাংক পিছিয়ে পড়ছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, একটি ব্যাংকে যখন সুশাসন না থাকে, তখন জাল-জালিয়াতির প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে যেভাবে খেলাপি ঋণ বেড়েছে তার প্রধান কারণ জালিয়াতি। এর প্রভাবে মূলধন ঘাটতি বাড়ে। ফলে ব্যাংকিং বিষয়ে অভিজ্ঞরা কোনো ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দেখলেই বুঝতে পারে ব্যাংকটির কী অবস্থা।

তিনি বলেন, জনগণের করের টাকা থেকে ব্যাংকগুলোকে এভাবে মূলধনের জোগান দেয়ার আগে তাদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উচিত। জবাবহিদিতা থাকলে জালিয়াতি হবে না। তখন ঋণও খেলাপি হবে না। স্বাভাবিকভাবে কমে যাবে মূলধন ঘাটতি।

আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে কমপক্ষে ১০ শতাংশ মূলধন রাখতে হয়। তবে এর পরিমাণ হবে কমপক্ষে ৪০০ কোটি টাকা। কোনো ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে ওই হারে অর্থ রাখতে না পারলে মূলধন ঘাটতি হিসেবে ধরা হয়। যে পরিমাণ অর্থ ঘাটতি থাকবে সেটিই তাদের মূলধন ঘাটতি। ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণ খেলাপি হলেই ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি খাতের ছয়টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের। এর পরিমাণ ৮ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা।

সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কৃষিঋণের বিপরীতে মওকুফ করা সুদ ও মূল ঋণের সব অর্থ এখনও ফেরত পায়নি ব্যাংক। এ ছাড়া বেড়ে গেছে খেলাপি ঋণ। এসব কারণে মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর বিপরীতে ব্যাংকটি সরকারের কাছে চেয়েছে ৭ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা।

জনতা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৫ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। বিশেষ করে ক্রিসেন্ট লেদার ও অ্যানন টেক্সের জালিয়াতির কারণে তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। তাই মূলধন ঘাটতি বেড়েছে। ঘাটতি পূরণে ব্যাংক থেকে সরকারের কাছে চাওয়া হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা।

সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৫ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে হলমার্কসহ কয়েকটি জালিয়াতির কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এতে বেড়েছে ঘাটতি। এ ঘাটতি মেটাতে সরকারের কাছে কোনো নগদ অর্থ চাওয়া হয়নি। তবে ৬ হাজার কোটি টাকার গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি ৩ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতির কারণে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় মূলধন ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘাটতি মেটাতে তারা সরকারের কাছে চেয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকা।

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৮১৩ কোটি টাকা। সরকার থেকে কৃষি খাতের মূল ঋণসহ সুদ মওকুফ ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মূলধন ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে তারা সরকারের কাছে চেয়েছে ৭৭৫ কোটি টাকা।

অগ্রণী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৮৮৩ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে তাদের কোনো ঘাটতি ছিল না। গত বছর খেলাপি ঋণ বাড়ায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে তারা এখনও সরকারের কাছে কোনো অর্থ চায়নি। মুনাফা থেকে সমন্বয় করে ও খেলাপি ঋণ কমিয়ে এ ঘাটতি মেটানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

২০১৭ সালে রূপালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি থাকলেও গত বছর তা সমন্বয় করেছে। ফলে গত বছর তাদের কোনো ঘাটতি নেই। এর আগে ব্যাংকটি রাইট শেয়ার ও বোনাস শেয়ার দিয়ে মূলধন বাড়িয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় ব্যাংকটি এটি করতে পেরেছে। এ ছাড়া মুনাফা থেকে সমন্বয় ও খেলাপি ঋণ কমিয়ে ঘাটতি মেটানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তারা সরকারের কাছে ৫০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ার গ্যারান্টি চেয়েছিল, তা দেয়া হয়নি।

প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, নতুন মূলধনের জোগান, মূলধন ঘাটতি পূরণে এ সরকারের দুই মেয়াদে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেসিক ব্যাংক পেয়েছে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি, সোনালী ব্যাংক ৩ হাজার ৪০৫ কোটি, জনতা ব্যাংক ৮১৫ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ১ হাজার ৮১ কোটি, রূপালী ব্যাংক ৩১০ কোটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ৭৩৫ কোটি এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ৩২২ কোটি টাকা।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌এবার ঈদে বিক্রি বেড়েছে হিজাব-বোরকার

ঈদে ফ্যাশনে পিছিয়ে নেই হিজাবি নারীরাও। সোমবার রাজধানীর হাতিরপুল ইস্টার্ন প্লাজায় মহিলা বিক্রেতা নিজেই হিজাব পরে নারী ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ।

পবিত্র ঈদুল ফিতরে পোশাকের পাশাপাশি এর সঙ্গে রঙ ও ধরন মিলিয়ে ওড়না, হিজাব, বোরকাসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য জিনিসপত্রেরও কেনাকাটার ধুম পড়ে। তাই রমজানের শেষভাগে এসে অন্যান্য কেনাকাটার সঙ্গে এসবের বেচাকেনাও বেড়েছে। রাজধানীর মার্কেটগুলোতে সনাতনী বোরকার চেয়ে আধুনিক বোরকার সংখ্যাই বেশি। তবে নিউমার্কেট এলাকার কিছু দোকানে সনাতনী বোরকাও রয়েছে। সনাতনী বোরকাগুলো প্রধানত আকারে বড়, ঢিলা-ঢালা। এর সঙ্গে সাদামাটা ওড়না ব্যবহৃত হয়। সাধারণত একটু বয়স্ক মানুষের মধ্যে এই বোরকা পরার প্রবণতা বেশি।

তবে অধিকাংশ দোকানেই আধুনিক বোরকার বিক্রি হচ্ছে বেশি। এসব বোরকার কাপড়, কালোর বাইরে অন্যান্য রংয়েরও হয়ে থাকে। কিছুটা কম প্রশস্ত ও বিভিন্ন রং-বেরংয়ের কাপড়ের তৈরি এই বোরকা অল্প ও মূলত মধ্যম বয়সী নারীদের কাছেই বেশি জনপ্রিয়। বোরকার কাপড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে পন্স বা গেঞ্জি ধরনার কাপড়। এ ছাড়া পাতলা ও লিলেন কাপড়েরও প্রাচুর্য রয়েছে। তবে তেলতেলে কাপড়ের বোরকাও পছন্দ করছেন ক্রেতারা। এদিকে বিক্রির দিক থেকে বোরকার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে হিজাব। ফলে বোরকা মার্কেটগুলো মূলত হিজাবের বিশাল মার্কেট হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি বোরকার দোকানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে নানা রং-ঢঙের হিজাব।

হিজাবের মধ্যে রয়েছে নানা প্রকারভেদ। কোনো হিজাব খুবই সাদামাটা, আবার কোনোটি খুবই ফেশনেবল। কিছু ওড়নাও আবার হিজাব হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। মূলত বিশেষ স্টাইলে কাটিংয়ের জন্য এই ওড়নাকে হিজাব হিসেবে ব্যবহার করা যায়। একই কাপড়কে কখনো ওড়না আবার কখনো হিজাব হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকায় এটির চাহিদাও অন্যগুলোর চেয়ে একটু বেশি। কিছু হিজাবের ওপর হাতে আঁকা নানা ধরনের নকশা রয়েছে। কিছুতে আবার ফুল, ফল, পুথি, জরি বা কাঁচ বসানো হয়েছে। কাপড়ের মান ও নকশাভেদে বোরকা, হিজাবের দামেও রয়েছে ভিন্নতা। বোরকার মধ্যে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকার বোরকা রয়েছে। আবার হিজাবের মধ্যেও ১৫০ থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকার হিজাব বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

বিক্রেতারা জানালেন মান হিসেবে দাম রয়েছে বোরকা ও হিজাবের। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বোরকাতে উৎসবের পোশাকের চেয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধই বেশি কাজ করে। এরপরও ঈদের সময় এর বিক্রি-বাট্টায় কদর বাড়ে। সে হিসেবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে বেশ বিক্রি হচ্ছে ধর্মীয় এই পোশাকটি। প্রতিদিনই তাই এখন বোরকা, হেজাবের বাজারগুলোতে ভিড় করছেন নারীরা। রাজধানীর ইস্টার্ন পস্নাজা মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় হেজাব বোরকা বিক্রি হয়। এই মার্কেটে গিয়ে দেখা যায় বোরকার দোকানগুলোতে ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন। বিভিন্ন বয়সী নারীরা এসব কেনাকাটা করছেন। তবে মধ্যম বয়সী নারীরাই হেজাব, বোরকা সবচেয়ে বেশি কিনছেন।

ইস্টার্ন প্লাজার আল-জায়ান বোরকা বাজারের মালিক মো. নিরব বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতর হলো আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় বিক্রি-বাট্টার সময়। পুরো রোজার মাস ধরেই এই কেনাকাটা করেন ক্রেতারা। এ সময় কোনো কিছুই কেনাকাটার বাইরে থাকে না।

বোরকা-হেজাব মূলত ধর্মীয় পোশাক। ঈদ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও এটি এখন আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক প্রথার সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছে যে, এর ধর্মীয় দিকের চেয়ে সামাজিক দিকটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণে অন্য সব পোশাকের মতো এ সময় হেজাব, বোরকার বিক্রিও বাড়ে। ক্রেতাদের চাহিদাকে সামনে রেখে আমরাও মার্কেট সাজাই। ক্রেতারা তাদের পছন্দ ও দামে পড়লে পছন্দের জিনিস ক্রয় করে নেন।’

ইস্টার্ন প্লাজায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মার্কেট করতে আসেন ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় কেনাকাটার একটি আলাদা চাপ থাকে। অন্যসব কাপড়ের সঙ্গে আমার স্ত্রীর জন্য এ সময় বোরকা ও হেজাবও কিনতে হয়। কারণ, আমার পরিবারের সব নারীই হেজাব, বোরকা পরে থাকে। ফলে ঈদের সময় হেজাব, বোরকা আমার পরিবারের জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করে।’ তবে বোরকা-হেজাবের বাজারে গিয়ে যে জিনিসটি বিশেষভাবে লক্ষণীয় তা হলো অন্যসব পণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতারা কাপড়ের মূল্য বেশি রাখার অভিযোগ করে থাকেন। তবে হেজাব-বোরকার ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ একেবারেই শোনা যায়নি। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই দাম নিয়ে নিজেদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।

উৎসঃ ‌‌ যায়যায়দিন

আরও পড়ুনঃ ‌ইসলামী সঙ্গীতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের আরিফিন; তৃতীয় তামিম; ষষ্ঠ জিয়া

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত ইসলামী সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ‌‘International Islamic Idol 2019 season 2’ এর প্রথম স্থান অধিকার করেছে বাংলাদেশের সুলতানুল আরিফিন (সাগর)। সাগর ঢাকা কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র।

Ask4gain International Islamic Cultural Academy কর্তৃক আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৮টি দেশের ৩০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। গত ২৪ মে ইন্দোনেশিয়ার জুব জাকর্তায় আদি টিভি গ্র্যান্ড স্টুডিওতে ফাইনাল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাগর বলেন, ইসলামিক গানে এমন অর্জন বাংলাদেশের প্রথম। এটা শুধু আমার জয় না, সারা বাংলাদেশের জয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অনেক শিক্ষার্থীরা ভালো করছে। সরকার সহায়তা করলে আমরা আরও অনেক সম্মান দেশের জন্য আনতে পারব।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে সাগর বলেন, মঞ্চে যখন বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরলাম সেই অনুভূতি বলে প্রকাশ করার মত না। বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পেরে আমি আনন্দিত।

নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর বিশ্বজয়ে আনন্দিত ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ। তিনি বলেন, আরিফিন আমাদের ঢাকা কলেজের গর্ব, বাংলাদেশের গর্ব। তার এমন অর্জনে আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। তার এই অর্জন শুধু আমাদের ঢাকা কলেজের নয় বাংলাদেশের জন্য সম্মানের।

উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতায় মোট ৩ বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন। অন্য দুই প্রতিযোগী মাহমুদুল হাসান তামিম তৃতীয় এবং জিয়াউল হক ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছেন।

উৎসঃ ‌‌জাগো নিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌‘আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড’

টাঙ্গাইলের মধুপুর আলোকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর লাউফুলা গ্রাম। একবছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি বাজার বসানো হয়। সেই বাজারের নামকরণ করা হয় ‘খালেক বাজার’। বাজারটি অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু হঠাৎ করেই স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার হস্তক্ষেপে বাজারের নামকরণ করা হয় ‘আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড’। এরপর থেকেই বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে পুরো ইউনিয়নজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ‘আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড’ এর সাইন বোর্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুরো উপজেলায় তোলপাড় শুরু হয়।

জহিরুল ইসলামের আইডিতে এ নিয়ে একটি পোস্ট দিলে নানা মন্তব্যের ঝর ওঠে। কাজী আসাদুজামান আদর নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘এটা হতে পারে না, নিন্দা জানাই অবিলম্বে এই সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলা হোক। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালিকে যত্রতত্র নাম ভাঙিয়ে নিজেদের সুবিধা আদায় করছে ছি.?’

সরজমিন গিয়ে জানা যায়, মধুপুরের আলোকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর লাউফুলা গ্রামের বেশিভাগ মানুষ আনারস চাষ করে। প্রতিদিন সকাল বেলায় এ গ্রামে কাঁচাবাজার বসে। একবছর ধরে চলে এ বাজারটি। প্রথমে বাজারটি বসানোর উদ্যোগ নেন আব্দুল খালেক নামের এক ব্যক্তি। কিছুদিনের মধ্যে বাজারটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সবার কাছে।

জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর আব্দুল খালেক তার নিজের নামটি প্রচার করে বাজারের নামকরণ করেন ‘আব্দুল খালেক বাজার’। কিন্তু হঠাৎ করে কিছু দিন না যেতেই একই গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম বাজারের নাম পরিবর্তন করে ‘আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড’ রাখেন। এ নামকরণ নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

‘আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড’ নামকরণের পর থেকেই বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রতিদিন বাজার না বসলেও নামকরণের সাইনবোর্ড টানিয়ে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে উত্তর লাউফুলা গ্রামের বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন জানান, কয়েকটি গ্রাম নিয়ে এ বাজারটি বসানো হয়েছিল। প্রথম অবস্থায় বাজারের নাম ছিল ‘খালেক বাজার’। কিন্তু হঠাৎ করেই কিছু আওয়ামী লীগের নেতা নাম পরিবর্তন করে ‘আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড’ করেন।

একই গ্রামের জয়নাল জানান, প্রতিদিন সকালে কাঁচাবাজার বসতো এখানে। কয়েকটি গ্রাম মিলে আমরা এ বাজারটি বসিয়েছি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড নামকরণের পর থেকে বাজারটি আমরা বন্ধ করে দেই।

আলোকদিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করেন। তাই তিনি এ বাজারটি ‘আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড’ নামকরণ করেছেন।

আলোকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, তিনি শুনেছেন ঢাকা থেকে একজন এসে তার নামে বাজার করেছিল তো, তাই পরিবর্তন করা হয়েছে।

আলোকদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ ধরনের কোনো নাম দিয়ে বাজারের নামকরণ করাটা সমীচীন নয়। এতে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর সুনাম নষ্ট হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

h3>উৎসঃ ‌‌ দৈনিক মানব জমিন

আরও পড়ুনঃ ‌এবার ফাঁস হলো বালিশ কাণ্ডের হোতা মাসুদুলের ভাইয়ের নানা অপরাধ

বালিশ কাণ্ডের হোতা প্রকৌশলী মাসুদুল আলম ও ছোট ভাই মাহমুদুল আলম সোহেল। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি দেশব্যাপী সমালোচিত ও নিন্দিত যে নামটি – গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম।

চলতি মাসে একটি জাতীয় দৈনিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আবাসন পল্লিতে আসবাবপত্র কেনাসহ অন্য আনুষঙ্গিক কাজে দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের আলোচনায় চলে আসেন তিনি।

এবার গুরুতর অভিযোগ উঠল বালিশ কাণ্ডের হোতা এই মাসুদুল আলমের ছোট ভাই আমেরিকা প্রবাসী মাহমুদুল আলম সোহেলের বিরুদ্ধে।

অভিযোগটি এসেছে মাহমুদুল আলম সোহেলের স্ত্রী সেলিনা আক্তারের পক্ষ থেকে।

তার অভিযোগ, বিভিন্ন সময় মাহমুদুল আলম তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। আর ছোট ভাইকে এ কাজ করতে ইন্ধন জুগিয়েছেন প্রকৌশলী মাসুদ আলম।

এ বিষয়ে ২০১৮ সালে টাঙ্গাইল থানায় মামলা করেছেন বলে জানান সেলিনা আক্তার।

এছাড়াও মাহমুদুল আলম সোহেলের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক বিয়ে ও অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ আনেন স্ত্রী সেলিনা।

এক গণমাধ্যমকে সেলিনা আক্তার বলেন, ‘প্রকৌশলী মাসুদুল আলমের পরিবার নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। ওই পরিবারের এমন অপকর্মের বিচার চাওয়ায় মাসুদ আলম আমার ভাইকে হুমকি দিয়েছিল। এ নিয়ে আমার ভাই মো. হুমায়ুন কবির ২০১৮ সালে টাঙ্গাইল থানায় ওই পরিবারকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি মামলা করেন।’

সেই মামলার তথ্য সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শান্তিনগর এলাকার সেলিনা আক্তারের বিয়ে হয় প্রকৌশলী মাসুদুলের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছোট ভাই মাহমুদুল আলম সোহেলের সঙ্গে।

বিয়ের পর সেলিনা জানতে পারেন যে, এর আগেও সোহেল দুটি বিয়ে করেছিলেন যে বিষয় তাদের কাছে লুকানো হয়েছিল।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক মেয়ের সঙ্গে সোহেলের অবৈধ মেলামেশা হাতেনাতে ধরা পড়ে।আর প্রতিবারই স্ত্রীর কাছে মাফ চেয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে নেন সোহেল।

সেলিনা জানান, ২০১৮ সালে শ্বশুরের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বামীসহ থেকে দেশে আসেন সেলিনা। দেশে আসার পরেও সোহেলের একই চরিত্র দেখতে পান সেলিনা।

সোহেলের এমন কাণ্ডে সেলিনা প্রতিবাদ করলে মাসুদুল আলমের পরিবারের সবাই তাকে মারধর করেন। এ সময় সোহেল সেলিনার গায়ে পেপার স্প্রে মারলে তার মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়।

ওই ঘটনার পর স্থানীয় মেম্বারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ-বৈঠক করে বিষয়টি মিটমাট করেন এবং সংসার রক্ষার স্বার্থে সেলিনা তা মেনে নেন। এরপর সোহেলের সঙ্গে সেলিনা আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

কিন্তু এতো কিছুর পরও শোধরাইয়নি সোহেল। সেখানে গিয়েও একই অপকর্মে লিপ্ত হন সোহেল। সেলিনা আবার প্রতিবাদ করলে সোহেল ফের তাকে মারধর করেন।

এরপর সোহেল থেকে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন সেলিনা। দেশে পরিবারকে ঘটনার কথা জানালে সেলিনার ভাই নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে টাঙ্গাইলে প্রকৌশলী মাসুদুল আলমের মা, বাবা এবং ছোট ভাইকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

মামলা প্রসঙ্গে সেলিনার ভাই মো. হুমায়ুন কবির জানান,‘প্রভাব খাটিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নিজেদের পক্ষে নিয়েছেন মাসুদুল আলম। ওই পরিবারের সবার নামের বিরুদ্ধে মামলা করলেও শুধু সোহেলের নাম রেখে বাকিদের নাম বাদ দিয়েছে তদন্তকারীরা।’

এছাড়াও মামলা তুলে নিতে কয়েকবার প্রাণ নাশের হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন হুমায়ুন।

হুমায়ুনের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আশরাফ উদ্দিন একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তদন্তে শুধু মাহমুদুল আলম সোহেলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। পরিবারের অন্যদের সংশ্লিষ্টতা না থাকায় নাম বাদ দেয়া হয়েছে।’

এ মামলায় মাহমুদুল আলম সোহেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে বলে জানান এসআই আশরাফ উদ্দিন।

জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন আসামি মাহমুদুল আলম সোহেল। অথচ এখনও সোহেলকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও এখনও কেন সোহেলকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে সাইদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘ওয়ারেন্টভুক্ত যে কোনো আসামিকে পুলিশ তন্ন তন্ন করে খোঁজে। মামলাটি ২০১৮ সালের, তখন আমি এ থানায় ছিলাম না। তাই বিষয়টি আমার জানা ছিল না।’

অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট থাকলে আসামিকে নিশ্চিত আসামিকে খোঁজা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসামি এ এলাকায় আছে কিনা, সেটা আগে খতিয়ে দেখতে হবে’।

এদিকে স্বামীর বিরুদ্ধে শুধু শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগই নয় স্বামীর বড় ভাই প্রকৌশলী মাসুদ আলমের বিরুদ্ধেও অবৈধ অর্থপাচারের অভিযোগ এনেছেন সেলিনা আক্তার।

তিনি অভিযোগ করেন, মাসুদ আলম ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১২ হাজার ডলার পাচার করে করেছেন। চরিত্রহীন ছোট ভাইকে প্রথম স্ত্রীর মামলা থেকে বাঁচাতে অবৈধ পথে এ টাকা পাঠান তিনি।

এছাড়াও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বোন ও নিকটাত্মীয়দের নামে মাসুদুল আলমের বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট আছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখেন মাসুদুল আলমের। ঢাকার খিলগাঁওয়ে কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। বসুন্ধরায়ও স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট আছে তার।

প্রসঙ্গত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আবাসন পল্লিতে আসবাবপত্র কেনাসহ অন্য আনুষঙ্গিক কাজে দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ হয় যে, ওই প্রকল্পে এক হাজার ৩২০টি বালিশ কেনা হয়ে। এদের প্রতিটির মূল্য দেখানো হয়ে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর সেই প্রতিটি বালিশ নিচ থেকে ভবনের ওপরে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা!

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, শুধু বালিশের বিষয়েই নয় প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তোলার ব্যয়েও পুকুর চুরি করার মতো বিল করা হয়।

সেখানে ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য কেনা টিভি, ফ্রিজ ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওয়েভের ক্রয়মূল্য ও সেগুলোকে ফ্ল্যাটে তুলতে যে ব্যয় দেখানো হয়েছে তা রীতিমতো অস্বাভাবিক।

আর এসব দুর্নীতির মূল হোতা ছিলেন গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম।

উৎসঃ ‌‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌একরাম হত্যার এক বছরঃ এখনও হত্যার কারণ জানেনা তার পরিবার!

দুই মেয়ে ও স্ত্রীর সাথে টেকনাফের কাউন্সিলর একরাম
  • মানব-বন্ধন করতেও ভয় পায় মানুষ
  • ফোনে রেকর্ড হয়ে যায় একরামুল নিহত হওয়ার আদ্যোপান্ত
  • একরামুলের স্ত্রীর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ
  • একরামুলের স্ত্রীর দাবি, হত্যার প্রমাণ মুছে ফেলতেই এই চেষ্টা

‘আমি আর কিছু চাই না, শুধু একবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। রহস্যটা জানতে চাই। কী ছিল আমার স্বামীর অপরাধ? কী অপরাধ করেছিল আমার অবুঝ দুটি বাচ্চা? আমি কী অপরাধ করেছিলাম? কেন আমার নিরপরাধ স্বামীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হলো? একবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাই।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেছিলেন কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত টেকনাফের যুবলীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম।

২০১৮ সালে ২৬ শে মে মাদক বিরোধী অভিযানে র‍্যাবের সাথে কথিত এক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি নিহত হন।

কিন্তু পরে একরামুলের মোবাইল ফোনে নিহত হওয়ার আগ মুহূর্তের তার স্ত্রী এবং মেয়ের সাথে কথোপকথন ফাঁস হয়ে গেলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

মুঠোফোনে সর্বশেষ কথা: হ্যালো… আমি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছি।… আমি উনার মিসেস বলতেছি… হ্যালো! হ্যালো!…”- উৎকণ্ঠায় উচ্চস্বরে এমনিভাবে কথা বলছেন মোবাইল ফোনের একপ্রান্ত থেকে। অপর প্রান্তের কথার স্বর অনুচ্চ। এর খানিক পর গুলির শব্দ… উহ্… গোঙানি… । এরপর আরেকটি গুলির শব্দ। এপাশে চিৎকার- “ও আল্লা…!” তারপর দীর্ঘ ১ বছর। মেলেনি কোন বিচার।

একরামের স্ত্রী আয়েশার অভিযোগ, সেই মুঠোফোনটি জিম্মায় নিতে উঠেপড়ে লেগেছে একটি পক্ষ।

আয়েশা বেগম জানান, গত জুলাইয়ে র‍্যাব পরিচয়ে এক ব্যক্তি তাঁদের বাসায় এসে মুঠোফোনটি চান। প্রথমে তিনি তাঁর ও তাঁর মেয়েদের ক্ষতি হতে পারে বলে হুমকি দেন, পরে ২০ লাখ টাকা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। ওই দিন তিনি আয়েশা বেগমদের বাসায় বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। একরামুলদের পরিবারের আশঙ্কা, একরামুলের খুনিরা হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ মুছে ফেলতেই এই চেষ্টা চালিয়েছিল। তাঁরা কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় যে মামলা করেছেন, সেই মামলার জব্দ তালিকাতেও একটি মুঠোফোন উল্লেখ করেছে। অথচ একরামুল তিনটি ফোন ব্যবহার করতেন। এখনো একরামুলের ফেসবুক প্রায়ই লগ ইন হয়, কিন্ত কারা করেন, তা তাঁরা জানেন না।

আয়েশা জানান, তাঁদের চুপ করে থাকতে বলা হয়েছে। তবে চুপ করে থাকলেও তিনি ও তাঁর দুই মেয়ে এই অবিচারের কথা ভুলবেন না। তাঁরা হত্যাকাণ্ডের বিচার আমৃত্যু চেয়ে যাবেন।

কে চুপ করে থাকতে বলেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে আয়েশা বেগম বলেন, একরামুল নিহত হওয়ার পাঁচ দিন পর তিনি কক্সবাজারে সংবাদ সম্মেলন করে অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেন। এরপরই সরকারের প্রভাবশালী দুই মন্ত্রী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু ৯ মাস কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত দেখা করার কোনো ব্যবস্থা হয়নি।

বিবিসি বাংলার সাক্ষাতকারে আয়েশা বেগম বলেন, কষ্ট লাগে, বাচ্চারা প্রতিটা মুহূর্ত তাদের বাবার কথা মনে করে। প্রতিটা সময় কান্না করে, আর বলে বাংলাদেশে কোন বিচার নাই। এসময় তিনি নিজে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।

তিনি বলছিলেন, তার স্বামী হত্যাকাণ্ডের এক বছর হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত শেষে কোন অভিযোগপত্র দেয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা বা অভিযোগ করতে গেলে তাকে নিষেধ করা হয়। কোন মামলা হয়নি। মন্ত্রীরা নিষেধ করেছিল কোন কিছু না করার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করিয়ে দেবেন বলেছিলেন তারা। বলেছিলেন যা বলার প্রধানমন্ত্রীকে বলবেন। এখন পর্যন্ত তো কোন টেলিফোন পেলাম না।”

তিনি আরো বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার বিচার করবে সরকার। তদন্ত করে দেখা হবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি। কিন্তু গত এক বছর পার হলেও কিছুই হয়নি।

সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠে এটা তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড? এই ঘটনার টেকনাফ থানায় র‍্যাব একটা মামলা করে।

একরামুলের স্ত্রী বা পরিবার জানান, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে টেকনাফে গুজব ছড়িয়েছিল, একরামুল ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। ঘটনার দিন একটি গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন অনবরত একরামুলকে বিরক্ত করছিল। বারবার বলছিল, একরামুল যেন তাদের এক খণ্ড জমি কেনায় সহযোগিতা করে। তাদের চাপাচাপিতেই একরামুল বাধ্য হয়ে বাসা থেকে বের হন। জমির বিষয়টা ছিল অজুহাত।

আয়েশা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর র‍্যাব যে সংবাদ বিবৃতি দেয় তা দেখে মনে হয়েছে একরামুলকে খুন করায় ভীষণ তাড়া ছিল। র‍্যাব লিখেছে, ২৬ মে দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটে র‍্যাব-৭–এর একটি চৌকস আভিযানিক দল কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় গুলিবিনিময়ের সময় যিনি নিহত হন, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যসায়ী ও ইয়াবা গডফাদার টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. একরামুল হক কমিশনার (৪৬), পিতা মোজাহার মিয়া ওরফে আবদুস সাত্তার, নাজিরপাড়া, টেকনাফ পৌরসভা, টেকনাফ, কক্সবাজার।

একরামুলের বাবার নাম মোজাহার মিয়া নয়, তাঁর ঠিকানাও নাজিরপাড়া না। নাজিরপাড়া পৌরসভার বাইরে, সদর ইউনিয়নের একটি গ্রাম।

এদিকে নিহত একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম বলছিলেন পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে, এই এক বছরে স্থানীয় ভাবে একরামুল হকের মৃত্যুর প্রতিবাদের একটা মানব-বন্ধন করতেও মানুষ ভয় পায়।

উৎসঃ ‌‌ সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌ঈদের জামা কিনতে না পেরে ২ শিশুসন্তানকে নিয়ে মায়ের আত্মহত্যা

যশোরের শার্শার দীঘায় মা ও তার দুই ছেলেমেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সংসারে অভাবের কারণে মা তার দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর নিজেও বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে স্থায়ী সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার রাত ১২টার দিকে শার্শা উপজেলার চালিতা বাড়ীয়ার দীঘা গ্রামে।

নিহতরা ওই এলাকার চা-দোকানি ইব্রাহীমের স্ত্রী-সন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভাব অনটনে ঈদে সন্তানদের নতুন জামাকাপড় কিনে দিতে না পেরে ইব্রাহীমের স্ত্রী হামিদা খাতুন (৩৫) প্রথমে স্কুলপড়ুয়া মেয়ে শরিফা খাতুন (১১) ও সোহান হোসেনকে (৪) খাবারের সঙ্গে কীটনাশক (বিষ ট্যাবলেট) খাইয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর নিজেও ঐ বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, অভাবের সংসারে ঝগড়া লেগেই থাকত। সামনের ঈদে সন্তানদের নতুন জামা কাপড় কেনাকাটাসহ সাংসারিক নানা বিষয় নিয়ে রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্কাতর্কি হয়।

এক পর্যায়ে স্ত্রী হামিদা খাতুন নিজে মেয়ে শরিফা ও ছেলে সোহানকে বিষের ট্যাবলেট খাইয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে নিজেও একই ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান জানান, এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া বলা যাবে না। মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক বলে ধারণা করা হচ্ছে। সর্বশেষ এ ঘটনায় পুলিশ ৩জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

উৎসঃ ‌‌ দেশ রূপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সংসারে অভাব: লিচু খেতে চাওয়াই দুই শিশুকে গলাটিপে হত্যা করলো বাবা

সংসারে অভাব-অনাটন, সামনে ঈদ। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সন্তানদের ঠিকমতো ভরণপোষণ দিতে পারছিলেন না নিরাপত্তাপ্রহরী বাবা শফিকুল ইসলাম। এর মধ্যে দুই শিশু সন্তানের চিকিৎসার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু চিকিৎসককে না পেয়ে লঞ্চ টার্মিনালে শিশুদের নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিলেন শফিকুল। হঠাৎ চার বছরের ছোট মেয়েটির লিচু খাওয়ার আবদার। পকেটে পর্যাপ্ত টাকাও নেই। এমন পরিস্থিতে ক্ষোভ-অভিমানে প্রথমে ছোট মেয়ে তাইবা, পরে সঙ্গে থাকা ১১ বছরের শিশু তাইনকে গলাটিপে হত্যা করেন তাদের বাবা।

শনিবার দুপুরে নরসিংদীর পুলিশ সুপার (এসপি) মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ তার কার্যালয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে এসব তথ্য জানান। গত শুক্রবার রাতে নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালে বাথরুম থেকে দুই শিশু তাইন (১১) ও তাইবার (৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আটকের পর শফিকুল ইসলাম পুলিশের কাছে দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি একটি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে নরসিংদীতে লঞ্চ টার্মিনালের বাথরুম থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পর থেকে তদন্তে নামে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশে মনোহরদী গ্রামের বাড়ি থেকে দুই সন্তানকে শিবপুর নিয়ে আসেন শফিকুল ইসলাম। চিকিৎসক না থাকায় সে তার সন্তানদের নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালে ঘুরতে নিয়ে আসেন। ওই সময় তার ছোট মেয়ে লিচু খেতে চান। কিন্তু কাছে পর্যাপ্ত টাকা ছিল না। তার ওপর সামনে ঈদ। সংসারের খরচ ও সন্তানের জামা কাপড় দিতে হবে। এসব ভেবে শফিকুল হিতাহিত শূন্য হয়ে যান। পরে প্রথমে ছোট মেয়েকে লঞ্চ টার্মিনালের বাথরুমে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে বড় মেয়েকে একই কায়দায় হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার এখনো মামলা দায়ের করেনি। পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানান এসপি মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে শফিকুল ইসলামকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। তিনি একেকবার একক রকম কথা বলছেন।

উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌বগুড়ায় নুরের ওপর হামলায় সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ নেতাদের যারা নেতৃত্বে ছিল

বাম থেকে— নাইমুর রাজ্জাক তিতাস, তাকবির ইসলাম খান, মো. মুকুল ইসলাম এবং আব্দুর রউফ

বগুড়ায় ভিপি নুর সহ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নেতাদের উপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ও হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের নাম ঘোষণা করে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। তবে হামলার বিষয়ে শিবিরের উপর দোষ চাপাচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগ।

হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— জেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবির ইসলাম খান, প্রচার সম্পাদক মো. মুকুল ইসলাম এবং বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ।

হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোববার বিকালে ভিপি নুর সহ অন্যান্যরা উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিলেন। এসময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পাবলিক লাইব্রেরির মূল ফটক দিয়ে ঢুকে অতর্কিতভাবে তাদের উপর হামলা চালায়। প্রথমে জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ‍মো. মুকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবির ইসলাম খান এবং বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ দাঁড়িয়ে থাকা ভিপি নুর সহ অন্যদের মারধর করতে শুরু করে। এসময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস পাশে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও মারধরে অংশগ্রহণ করে। মারধরের একপর্যায়ে গুরুতর আহত ভিপি নুর মাটিতে লুটে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। এছাড়া ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ যুগ্ম-আহবায়ক ফারুক হাসান, রাতুল, মশিউর সহ আরও কয়েজন আহত হন।

সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে বগুড়ায় হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।’ হামলায় জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিচারের আওতায় আনার জন্য আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। একইসঙ্গে দোষীদের বিচার করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে নামার হুশিয়ারি দেয়া হয়।

সমাবেশে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহবায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপির উপর হামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত যত হামলা হয়েছে, তার কোনো বিচার হয়নি। বগুড়ায়ও ফের এমন হামলার ঘটনা ঘটলো।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নিকট আহবান জানাচ্ছি হামলাকারীদের চিহ্নিত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার করার। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তাদের চিহ্নিত করে বিচার করা না হলে ছাত্র সমাজকে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

যুগ্ম আহবায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন বলেন, ‘একের পর এক হামলা হলেও বিচার হচ্ছে। ৩০জুন নুরের উপর হামলারে পর লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো বিচার হয়নি। আরও অনেক হামলার লিখিত দেওয়া হলেও কোন বিচার আমরা পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের বিচার না হওয়ায় তারা হামলা করেই যাচ্ছে। বগুড়ায়ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে। রোজার মাসেও সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। নুর, ফারুকসহ সবাইকে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ভিপির উপর আঘাত করা মানে ঢাবির উপর আঘাত করা। এদের বিচার না হলে ছাত্রসমাজ চুপ করে বসে থাকবে না।’

এদিকে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস ভিপি নুরের উপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, উডবার্ণ পাবলিক গ্রন্থাগারের পাশের অপর একটি অডিটোরিয়ামে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে বিকেলে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে যায়। এসময় হট্টগোলের আওয়াজ পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে দেখি ভিপি নুর শিবিরের ইফতার মাহফিলে যোগ দিচ্ছেন।

তিতাস আরো বলেন, আমরা নুরকে শিবিরের সাথে ইফতার করার কারণ জিজ্ঞেস করলে নুর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এসময় তাদের সাথে আমার কর্মীদের সামান্য ধস্তাধস্তি হয়েছে। তাদের উপর হামলার খবরটি ভুয়া বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, বগুড়ার মাটিতে স্বাধীনতাবিরোধী কোন চক্রের স্থান হবে না। শিবিরের সাথে ইফতার মাহফিল করার কোন প্রমাণ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন ছবি আমাদের কাছে নেই। এছাড়া বেসরকারি টিভি চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের ফটোগ্রাফারকে মারধরের অভিযোগের বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন তিনি।

উৎসঃ ‌‌ দি ডেইলি ক্যাম্পাস

আরও পড়ুনঃ ‌রমজান মাসে কি সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ কুত্তা পাগল হয়ে গেছে!

ভোট ডাকাতির ডাকসু নির্বাচনের বৈধতা পাওয়ার জন্যই মূলত সরকারের চাপে রাতের আধারে ফলাফল পরিবর্তন করে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজোয়ানুল হক শোভনকে বাদ দিয়ে নুরুল হক নুরকে ভিপি ঘোষণা করেছিলেন ঢাবি ভিসি ড. আখতারুজ্জামান।

নুরকে ধরে ছাত্রলীগ সভাপতির কোলাকুলি ও গণভবনে ডেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিনন্দন জানানো ছিল একটি বড় ধরণের প্রতারণা। এসব ছিল শুধুই মানুষ দেখানোর জন্য। মন থেকে তারা নুরকে ভিপি হিসেবে মেনে নেয়নি। শুধু ভোটডাকাতি চাপা দিতেই একটা কৌশল নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যা প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে। ডাকসুতে কর্মচারী নিয়োগসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত ভিপিকে ছাড়াই গ্রহণ জিএস ও ছাত্রলীগ সেক্রেটারি গোলাম রাব্বানি। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ডাকসুর গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কিন্তু ভিপি নুরকে কিছুই জানাচ্ছেন না। ভিপি নুর এখন ডাকসুতে খেলার পুতুল মাত্র।

লক্ষণীয় বিষয় হলো-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নির্বাচিত ভিপিকে তারা এখন কোথায় সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। এমনকি পবিত্র রমজান মাসে ইফতার মাহফিলও করতে দিচ্ছে না। শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ভিপি নুরকে ইফতার মাহফিল করতে দেয়নি ছাত্রলীগ। ওই খানে তারা নুরের ওপর হামলা করারও চেষ্টা করেছে। পরে পুলিশ এসে নুরসহ তার সকল সঙ্গীদেরকে উদ্ধার করেছে।

এরপর, নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে বগুড়ায়। রোববার সাধারণ ছাত্র পরিষদের একটি ইফতার মাহফিল ছিল বগুড়ায়। ইফতারে অংশ নিতে বগুড়ায় গিয়েছিলেন ভিপি নুরসহ আরও কয়েকজন। কিন্তু ইফতারে যোগদানের আগেই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের এই নৃশংস হামলায় নুরসহ কমপক্ষে ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পবিত্র রমজানের এই ইফতারে হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

দেখা গেছে, এই রমজান মাস আসার পরই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কুত্তার মতো পাগল হয়ে গেছে। রমজানের শুরুতেই তারা পদবাণিজ্য নিয়ে তাদেরই নেতাকর্মীদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে।

শুধু এখানেই শেষ নয়। এই রমজান মাসেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। গত সপ্তাহে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দেন ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস আহমদ লেলিন। কুপ্রস্তাবে গৃহবধূ রাজি না হওয়ায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে ওই ছাত্রলীগ নেতা।

এরপর, কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় নিজেদের দুই কর্মীকে কুপিয়ে জখম করেছে ছাত্রলীগের অপর একটি গ্রুপ। এছাড়া চাদা না দেয়ায় সাতক্ষীরার কলারোয়ায় এক ব্যবসায়ীর হাতের চার আঙুল কেটে নিয়েছে এক ছাত্রলীগ নেতা।

পবিত্র এই রমজান মাসেও তারা একের পর এক হামলা-নির্যাতন, চুরি-ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।

ছাত্রলীগের এসব কর্মকা- নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন-কুত্তা পাগল হয় ভাদ্র মাসে আর ছাত্রলীগ পাগল হয় রমজান মাসে।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেমের যত কুকীর্তি

ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। কিছু দিন আগেই নুসরাত হত্যাকাণ্ড ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে তাকে । গতকাল তার বিরুদ্ধে করা নুসরাত জাহান রাফি হত্যায় সব অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নুসরাত হত্যার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও ফুটেজ। যেখানে দেখা গেছে, থানায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ওসি মোয়াজ্জেমের সামনে আতংকিত অবস্থায় কথা বলছেন নুসরাত জাহান রাফি। রাফির এসব আকুতির কোনোটিই আমলে না নিয়ে ওসি মোয়াজ্জেম উল্টো তার ভিডিও ধারণ করে তাকে হয়রানি করছেন।

এ ভিডিও প্রকাশের পর সারা দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ওসি মোয়াজ্জেমের বিচার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় ওঠে। এরপর নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

শুধু কি নুসরাত হত্যা! অতীতে কেমন ছিলেন এই ওসি? গণমাধ্যমে বেরিয়ে আসছে ওসি মোয়াজ্জেমের একের পর এক কুকীর্তির ঘটনা।

অ্যানালাইসিস বিডির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওসি পদে যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই টাকার পেছনে ছুটেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। এর জন্য দায়িত্বে অবহেলাসহ নিজের মহান পেশাকে কলঙ্কিত করতেও দ্বিধাবোধ করেননি তিনি।

অনুসন্ধান বলছে, ঘুষ কেলেঙ্কারি, স্বর্ণচুরি, ভুয়া মামলা দিয়ে অর্থ আদায়, স্কুলছাত্রের ওপর নির্যাতন, নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর হামলা, ব্যবসায়ীসহ মুচি-কামার-কুমার থেকে চাঁদাবাজির হাজারো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অপকর্ম চালাতো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক প্রভাবশালী নেতার বদৌলতে।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানুষকে হয়রানির অভিযোগ। সোনাগাজীতে এসেও একই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় ওসি পদে যোগ দেন মোয়াজ্জেম। সেখানে ব্যাপক ধড়পাকড় ও টাকা নিয়ে আসামী ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার ওপর। এমন অভিযোগের পর তাকে কুমিল্লা জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়। সে সময় আওয়ামী লীগের কুমিল্লা (উত্তর) জেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোয়াজ্জেম হোসেনকে মুরাদনগর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

এর কিছুদিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন তদবির করে মুরাদনগর উপজেলার নতুন থানা ভাঙ্গুরা বাজার থানায় ওসি পদে যোগদান করেন। সেখানে গিয়ে তিনি আবারও অসৎ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সে সময় ওসি মোয়াজ্জেম ভাঙ্গুরায় সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির মাধ্যমে অর্থ আদায় করতেন।

এভাবে ওসি মোয়াজ্জেম ভাঙ্গুরার আকুপুর ইউনিয়নের বলিগড় গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে ৬৪টি মিথ্যা মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গুরায় মোয়াজ্জেম দায়িত্বে থাকাকালীন এক প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের ঘটনায় আটক হন এক স্থানীয় প্রভাবশালী। কিন্তু পরে সেই প্রভাবশালীকে ছেড়ে দেয়া হয়। অভিযোগ, মোয়াজ্জেম মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি দফারফা করেন।

এরপর ঘটনাটি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলে বিষয়টি উচ্চ আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়। উচ্চ আদালত ওসি মোয়াজ্জেম ভাঙ্গুরা থানা থেকে সরিয়ে নিয়ে ফের ফেনী জেলার একটি থানায় ওসির দায়িত্ব দেয়ার নির্দেশ দেয়।

প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশের এমন মহান, পেশায় বারবার এতোসব কুকীর্তি করে কীভাবে বহাল তবিয়তে টিকেছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম?

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মোয়াজ্জেম নিজেকে বরাবরই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক প্রভাবশালী নেতার ভাগ্নে বলে পরিচয় দিয়ে কার্যসিদ্ধি করতেন।

যে কারণে দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন পুলিশ লাইনসে গিয়েও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাপক তদবিরের মাধ্যমে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ফেনীর সোনাগাজী থানায় সর্বশেষ পোস্টিং নিয়েছিলেন। এখানে এসেই অধ্যক্ষ সিরাজউদৌলার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে তার।

জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে ৩২টি স্বর্ণের বারসহ ফটিকছড়ির মোর্শেদকে আটক করে ওসি মোয়াজ্জেম। ১২টি স্বর্ণের বার জব্দ তালিকায় দেখিয়ে ২০টি বার আত্মসাত করার চেষ্টা চালান তিনি। পরে ওই ঘটনা পুলিশ প্রশাসনের তোলপাড় শুরু হয়। ওসি মোয়াজ্জেম স্বর্ণ চুরির বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

এরপর সেপ্টেম্বর পশ্চিম দেবপুরে বোমা বিস্ফোরনে শিশু আলম আহতের ঘটনায় উল্টো তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ‍দিয়ে নিরীহ শিশুর পরিবারকে হয়রানি করে। যা পত্রিকায় প্রকাশের পুলিশ সুপারের নজরে পড়লে তার নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল হক সরেজমিন তদন্ত করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে। একপর্যায়ে আহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে দেয়া মামলা নিতে বাধ্য হয় ওসি।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌কৃষকের সাথে সরকারের তামাশাঃ লটারিতে কৃষক বাছাই করে ধান ক্রয়!

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সরাসরি ধান কিনতে কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে লটারি করা হয়েছে। সরকারের বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য সাড়ে ৫ হাজারের বেশি আগ্রহী কৃষক থেকে ৪৫১ জনকে বাছাই করে তালিকা চূড়ান্ত করতে এই লটারি করা হয়।

রোববার (২৬ মে) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সময় ধরে উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম মাগফুরুল হাসান অব্বাসীর উপস্থিতিতে তার অফিস কক্ষে এ লটারি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন ও শাহানারা বেগম মীরা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অমূল্য কুমার সরকার, কৃষি দপ্তরের উপ-সহকারি উদ্ভিদ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ মণ্ডল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম মাহমুদুর রহমান রোজেন ও কৃষক প্রতিনিধি ইকরামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অমূল্য কুমার সরকার জানান, এই উপজেলায় ৪৫১ মে. টন ধান সংগ্রহ করা হবে। উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ মে. টন করে ধান কেনা হবে। এ জন্য আবাদকৃত জমির ওপর ভিত্তি উপজেলার ১০ ইউনিয়ন থেকে সর্বনিম্ন ৩২ জন এবং সর্বোচ্চ ৬৪ জন করে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদার রহমান জানান, উপজেলায় এবার ৭০ হাজারের মতো কৃষক প্রায় ১৬ হাজারের মতো কৃষক বোরো আবাদ করেছেন। এ জন্য মাইকিং করে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য আগ্রহী কৃষকদের নাম গত বৃহস্পতিবার ( ২৩ মে) পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়। এতে ৫ হাজার ৬০০ জন কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের তালিকা করে শনিবার (২৫ মে) উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেই তালিকা থেকে লটারি করে ৪৫১ জন কৃষকের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌সময় টিভি/strong>

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here