‘হাইকোর্টকে কি হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন?

0
146

মানহীন ৫২টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার ও জব্দে হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন না করায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের প্রতি আদালত অবমাননার রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। কেন তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হবে না, তা জানাতে চেয়ারম্যানকে আগামী ১৬ জুন সশরীরে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। ৫২ পণ্য প্রত্যাহার ও জব্দ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতিবিষয়ক শুনানিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।

শুনানির সময়ে আদালত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, ‘পণ্য জব্দ ও প্রত্যাহার করতে আদেশ দেওয়া হয়েছিল। আপনারা একটি মসলার প্যাকেটও জব্দ করতে পারেননি। ভদ্রতার একটি সীমা আছে। ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করবেন না। আপনারা চিঠি দিয়েছেন, অনুরোধ করেছেন, কিন্তু পণ্য জব্দ বা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেননি। ইস্কাটনের অফিসের পাশে ১৭ জন (মোট জনবল) ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশ মিলে একটি পণ্যও জব্দ করতে পারলেন না? আপনাদের অফিস রাখার দরকার কী? ভয় পাচ্ছেন? বড় বড় ব্যবসায়ী (পণ্য উৎপাদনকারী) কী করে ফেলেন বা কী করবেন। এমনটি হলে চাকরি করার দরকার কী?’

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত আরও বলেন, ‘ঘরে গিয়ে রান্নাবান্নার কাজ শুরু করে দেন। নতুবা ব্যাংকে গিয়ে কেরানির চাকরি করতে বলেন। বসে বসে টাকা গুনবেন, টাকার হিসাব রাখবেন।’

আজ ধার্য তারিখে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম ও ভোক্তা অধিকারের পক্ষে আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি পৃথক প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দাখিল করা প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

আদালত এও বলেছেন, ‘হাইকোর্টকে কি হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন? আমরা এগুলো বুঝি। বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে সরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সোজা না বলে বাঁকাভাবে বলছেন।’ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী জানান, তিনি রাতে নির্দেশনা বাস্তবায়নবিষয়ক প্রতিবেদন পেয়েছেন। এই আইনজীবীকে আদালত বলেন, ‘আরেকটা অজুহাত দিলেন।’ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রমসংক্রান্ত প্রতিবেদনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আদালত বলেছেন, ‘আমরা আশা করব, বছরজুড়ে প্রতিষ্ঠানটি এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’

ভোক্তা অধিকারের আইনজীবী দেশের বিভিন্ন জেলায় মানহীন ওই সব পণ্য জব্দ ও প্রত্যাহার ও জরিমানা করার তথ্যাদি আদালতে তুলে ধরেন।

৩ ও ৪ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএসটিআই সম্প্রতি ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি নিম্নমানের ও ভেজাল পণ্য রয়েছে। এর আগে ২ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিএসটিআই। ৫২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার বা জব্দ চেয়ে কনসাস কনজ্যুমার সোসাইটির (সিসিএস) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান জনস্বার্থে ৯ মে এ রিট দায়ের করেন।

উৎসঃ ‌‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ ‌সোনালী সমাজ বিনির্মাণে কাজ করছে ছাত্রশিবির : মকবুল আহমেদ


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মকবুল আহমেদ বলেছেন, বদরের যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে সত্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার এক অমূল্য স্মারক। কুরআনের আলোকে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের প্রেরণার বাতিঘর। সেই চেতনাকে ধারণ করেই সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির মাধ্যমে সোনালী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজে করে যাচ্ছে ছাত্রশিবির।

তিনি বৃহস্পতিবার রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবির আয়োজিত ১৭ই রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সেক্রেটারি জেনারেল সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. রেজাউল করিম, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, আবদুল জব্বার, ইয়াছিন আরাফাত। আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক এবং বর্তমান কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সেক্রেটারীয়েট সদস্যদৃন্দ।

আমীরে জামায়াত বলেন, শুধু মুসলিম ইতিহাস নয় বরং মানব সভ্যতার ইতিহাসে বদর যুদ্ধ এক ঐতিহাসিক স্থান দখল করে আছে। এ যুদ্ধ ছিল সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী এবং ইতিহাস নির্ধারণকারী যুদ্ধ। আরব সমাজ কি আগামী দিনে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় সমাবেত হবে না জাহিলিয়াতের অন্ধকারচ্ছন্ন পথে হাঁটবে তার ফয়সালা হয় বদরের প্রান্তরে।

সেদিন মক্কার কাফেররা ইসলামকে দুনিয়ার বুক থেকে চিরতরে মিটিয়ে দেয়ার মানসে সর্বশক্তি নিয়ে বদরের প্রান্তরে সমাবেত হয়। রাসূল (সা:) আল্লাহর উপর ভরসা করে এক অসম যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যান। একদিকে রাসূলুল্লাহ (সা:) এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জন প্রায় নিরস্ত্র মুজাহিদ আর অপরদিকে আবু জেহেলের নেতৃত্বে রয়েছে ১০০০ প্রশিক্ষিত সৈন্যের সুসজ্জিত বাহিনী।

কিন্তু আল্লাহর সাহায্যে এ অসম লড়াইয়ে নিরস্ত্র মুষ্টিমেয় মুজাহিদদের কাছে পরাজিত হয় সুসজ্জিত বিশাল বাহিনী। সংখ্যা বা যুদ্ধাস্ত্র নয় বরং আল্লাহর উপর অবিচল বিশ্বাস, অসীম সাহস ও মিথ্যার কাছে মাথা নত না করার দৃঢ় প্রত্যয় ছিল এই অসম যুদ্ধে বিজয়ের মূল নিয়ামক। এ যুদ্ধে কুরাইশদের দর্প চূর্ণ হয়ে যায়।
মুসলমানদের আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলের বিস্ময়কর এক নজির স্থান করে নেয় ইতিহাসের পাতায়। সুতরাং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে এগিয়ে চলা মুসলমানদের জন্য সংখ্যা নয় বরং আল্লাহ তায়ালার উপর অবিচল আস্থা ও ঈমানী দৃঢ়তাই যে মূল বিষয় বদরের প্রান্তর তার অনন্য দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, আবু জেহেলের সেই তাগুত শক্তির প্রেতাত্মারা ইসলামের বিরুদ্ধে আজও সমানভাবে সক্রিয়। সেদিনের আইয়্যামে জাহেলিয়াত আজ নব্য জাহিলিয়াতের রূপ ধারণ করেছে। সমগ্র বিশ্বব্যাপী ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে নিত্য নতুন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাদের ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে মুসলিম বিশ্ব আজ জর্জরিত।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় ইভটিজিং, সন্ত্রাস আর মাদকের ভয়াবহতায় যুব সমাজ চরমভাবে হুমকির সম্মুখীন। একশ্রেণির দুষ্টচক্রের অশুভ চক্রান্তের ফলেই আমাদের সম্ভাবনাময় প্রজন্ম পড়ালেখা বাদ দিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু এসব সমাজ-নিষিদ্ধ অপকর্ম সমাজে বিস্তার লাভের আগেই রাষ্ট্র যদি তার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারতো তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারকে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করতে হতো না।

রাসূল (সা:) যেমনভাবে মক্কার ধূসর মরুর বুকে সকল প্রকার অপকর্ম রোধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তেমনভাবে সমাজের কুচক্রের বলয় যেন যুবক-তরুণদের গ্রাস করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই একটি সুন্দর সোনালী সমাজ গঠনে কাজ করে যেতে হবে। মানুষ যখন খুন-হত্যা, রাহাজানিসহ নানান অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে নিজেদের মনুষ্যত্ববোধ হারাতে বসেছিল ঠিক সেসময় তা থেকে রক্ষার জন্য মহান প্রভু তাঁর প্রিয় রাসূলকে (সা:) এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছিলেন। শেষ নবীর উম্মত হিসেবে রাসূলের (সা:) দেখানো পথ অনুসরণ করে ছাত্রশিবির প্রত্যেক ছাত্রের মাঝে ইসলামের সুমহান আদর্শ পৌঁছিয়ে দিয়ে একটি সম্প্রতির সোনালী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রেও ছাত্রশিবিরের পথ চলার মূল চালিকা শক্তি অনুকূল পরিবেশ বা জনশক্তির আধিক্য নয় বরং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও ঈমানী দৃঢ়তা।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন বলেন, আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় রাসূলুল্লাহ (সা:) তৎকালীন মক্কার সমাজে বিরাজিত জাহেলিয়াতকে দূর করে একটি সুন্দর, সভ্য, জ্ঞান নির্ভর আধুনিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এপথে নানান নির্যাতন, নিপীড়ন, বাধা-বিপত্তি আসলেও রাসূল (সা:) দৃঢ়তার সাথে পথ চলেছেন।

বদর যুদ্ধ সেসব বাধার মধ্যে একটি মাইলফলক, যাতে মুসলমানরা আল্লাহর উপর ভরসা করে লড়েছিলেন এবং বিজয় অর্জন করেছিলেন। তাই বদরের যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় জিহাদ। যুদ্ধবন্দীদের সাথে আল্লাহর নবী (সা:) ও মুসলিমরা যে সহমর্মীতা প্রদর্শন করেন, বিশ্বের ইতিহাসে তার নজির বিরল।

মুক্তিপণ আদায়ে অক্ষমদের সুযোগ দেয়া হয়েছিল মুক্তিপণ হিসেবে ১০ জন মুসলিম শিশুকে পড়ালেখা শেখানোর। ইসলাম মানবজাতিকে আবার সেই উন্নত মাকামে নেয়ার ঘোষণা দেয়। বদরের প্রান্তর থেকে ইসলামের বিজয়ধারা সূচিত হয়। সেই বিজয়ের ধারা শেষ হয়ে যায়নি। আবারো নব্য আইয়্যামে জাহিলিয়াতের মোকাবেলায় বদরের চেতনাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে ইসলামের আলোকে সমাজ বিনির্মাণের প্রচেষ্টা যেকোন মূল্যে অব্যাহত রাখতে হবে। বিজ্ঞপ্তি।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌অসুস্থ সানাউল্লাহ মিয়ার খোঁজখবর নিলেন শিমুল বিশ্বাস


বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়াকে দেখতে গেলেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুল রহমান শিমুল বিশ্বাস। বর্তমানে সাভারের সিআরপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সানাউল্লাহ মিয়া।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে শিমুল বিশ্বাস হাসপাতালে গিয়ে সানাউল্লাহ মিয়ার শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং আশু সুস্থতা কামনা করেন। এসময় তার পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথেও কুশল বিনিময় করেন শিমুল বিশ্বাস।

জানা যায়, পূর্বাবস্থা থেকে সানাউল্লাহ মিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে সানাউল্লাহ মিয়া রাজধানীর নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ডান হাত এবং পায়ে প্যারালাইজড দেখা দেয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্যাংককেও পাঠানো হয়। সানাউল্লাহ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্যও তিনি।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়ার মামলায় প্রভাব খাটানো হচ্ছে : রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা আশংকাজনক পর্যায়ে উপনীত হলেও সরকার তাকে মুক্তি দিচ্ছে না। অসত্য মামলাগুলোতে দেশনেত্রীর কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকার পরেও আইনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রভাব খাটিয়ে বেআইনীভাবে জামিন আটকিয়ে রাখছে। এই অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিহিংসা, দাম্ভিকতা ও জিদের জন্য বেগম জিয়াকে জোর করে কারারুদ্ধ করে রেখেছেন। নিজের সর্বময় কর্তৃত্ব নিরাপদ করার জন্যই ক্ষমতাতপস্বী শেখ হাসিনা কারাবন্দী করে রেখেছেন বেগম জিয়াকে।

সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর লন্ডনের বক্তৃতায় তিনি নিজেই সে কথা জানিয়েছেন। দেশনেত্রীর অসুস্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রীই দায়ী। যেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু পরোয়ানা হাতে নিয়ে বসে আছেন শেখ হাসিনা। কারণ এক বছরের বেশী সময় ধরে নাজিমউদ্দিন রোডের স্যাঁতসেতে পরিত্যক্ত বসবাসের অযোগ্য ছায়ান্ধকার প্রকোষ্ঠে বেগম জিয়াকে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র মানসিক ও শারীরিকভাবে কষ্ট দেয়ার জন্য। নির্জন কক্ষে একাকী তাঁকে থাকতে হয়। কারা নির্যাতনের কারণে তিনি চরম অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, এখন নতুন করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে নিয়ে যাওয়ার যাবতীয় আয়োজন চালানো হচ্ছে চক্রান্তমূলকভাবে। কেরানীগঞ্জের মতো একটা উপজেলায় দেশনেত্রীর নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলো পরিচালনার জন্য আদালত স্থাপন করা হয়েছে-যা সম্পূর্ণ সংবিধান পরিপন্থি। সংবিধানে একজন নাগরিককে যে মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে বেগম জিয়ার সেই অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে, যেকোনো বিচার হতে হবে উন্মুক্তভাবে।

কারাগারের একটি কক্ষে বিচার হতে পারে না। কেরানীগঞ্জ উপজেলায় কারাগারের মধ্যে আদালত নিয়ে যাওয়া সংবিধানবিরোধী। পাশাপাশি ফৌজদারী কার্যবিধিতে (সিআরপিসি) স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, কোথায় কোথায় আদালত স্থানান্তরিত হতে পারে। তাতে উল্লেখ নাই কারাগারে কোর্ট স্থাপিত হতে পারে। সেজন্য সরকারকে বলবো দ্রুত এইসব হঠকারী ও হিংসাত্মক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই মূহুর্তে মুক্তি দিন।

রিজভী বলেন, মিডনাইট সরকারের জুলুমে দেশের মানুষ চরম অশান্তিতে আছে। কৃষক-শ্রমিক, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, দিনমজুর, প্রবাসী, কায়িক শ্রমজীবি কেউ ভালো নেই, চারদিকে ত্রাহি দশা। জালিমশাহীর বর্বর আঁচড়ে জর্জরিত জনগণ। পবিত্র রমজানেও ভাল নেই দেশের মানুষ, চারিদিকে হাহাকার চলছে। ১৭ কোটি মানুষের শুধু আর্তনাদ, কোথাও শান্তি নাই।

তিনি আরো বলেন, কৃষকরা মাঠের ধান ঘরে উঠাচ্ছেন না। মাঠেই ধান জ্বালিয়ে দিচ্ছেন, পাকা ধানে মই দিচ্ছেন। কি মর্মান্তিক এই দৃশ্য । বাংলাদেশের সবচেয়ে সৃজনশীল মানুষ কৃষকরা বিরতিহীনভাবে ধান-আলু-পেঁয়াজ-রসুন-টমেটো-উৎপাদন করছেন।

কিন্তু ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। ন্যায্য মূল্য দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই এই অবৈধ সরকারের নীতিতে নেই। কৃষক তার পাকা ধানের ক্ষেতে আগুন দেন, আর খাদ্যমন্ত্রী বলছেন, ‘এটা সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’। হিরক রাজ্যের মতো কৃষকরাও মন্ত্রীর চোখে ষড়যন্ত্রকারী। কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলেও এই মুহূর্তে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে দাম বাড়ানোর তেমন সুযোগ নেই।’ মন্ত্রীদের এধরণের কথাবার্তা বাংলাদেশের মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অর্থাৎ দুর্ভিক্ষ শুরু হলেও তাদের কথায় মন্ত্রীদের কিছু করার থাকবে না।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ধান কিনে ভর্তুকি দেওয়ার যে হিসাব সরকার করেছে, তা কৃষকের জন্যে নয়। ধান কেনার ভর্তুকির টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে মিল মালিকদের জন্যে। মিল মালিকরা ফড়িয়াদের দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে ৪০০ বা ৫০০ টাকা মণ দরে ধান কিনে, সরকারি বিক্রয় কেন্দ্রে এনে তা ১,০৪০ টাকা মণ দরে বিক্রি করছে। ফড়িয়া এবং মিল মালিকরা সরকারি দলের লোক। সুতরাং রাষ্ট্রের ভর্তুকির টাকা কৃষকের নামে খরচ হলেও, পাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

রিজভী বলেন, অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে। রুপপুরে পারমানবিক প্রকল্পের মহাদুর্নীতি, এর আগে বড় পুকুরিয়া থেকে লাখ লাখ টন কয়লা উধাও, ‘বালিশ-কেটলী’ দুর্নীতিসহ নানা সেক্টরের দুর্নীতির সাগরচুরি এখন মহাসাগরচুরিতে পরিণত হয়েছে, এতে জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি হলেও দুদক চোখ-কান বন্ধ করে বোবা-কালার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। র‌্যাব-পুলিশের মতো দুদকও বিরোধী দল দমনে সরকারের একটি মারণাস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। ক্ষমতাসীনরা সাধারণ জনগণের গচ্ছিত টাকাগুলো নিয়ে কেউ মালয়েশিয়া, আমেরিকা, কেউ কানাডা, কেউ সিঙ্গাপুর পাচার করছে। বেগম পল্লী, সেকেন্ড হোম তৈরী করছে। এদিকে দেশে কোটি কোটি যুবক বেকার এবং প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ জীবিকাচ্যুত হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের দ্বারা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের সাথে সাধারণ জনগণের কোন সম্পৃক্ততা নেই। গত নির্বাচনে আপনারা দেখেছেন কীভাবে ভোট হয়েছে। প্রার্থী ছিল আওয়ামী লীগ, ভোটার ছিল পুলিশ-বিজিবি। ভোট হয়েছে নিশুতি রাতে। ভোটের সাথে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা ছিলনা। এখন যারা জনপ্রতিনিধি তারা পুলিশ কর্তৃক সিলেক্টেড প্রতিনিধি, তারা জনগণের ম্যান্ডেটে নন। সুতরাং এই সরকার অন্ধকার রাতে পুলিশ-র‌্যাব কর্তৃক সিলেক্টেড সরকার। তাই দেশজুড়ে দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রুপ ধারণ করেছে। আওয়ামী স্বেচ্ছাচারী শাসনে উদ্ভুত মহাদুর্নীতির প্রবল চাপে গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। অচিরেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে এদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো যাবে না।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের ধান কাটার ঘোষণায় আতঙ্কে কৃষকরা


খুন, ধর্ষণ, হত্যা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, দখল-বাণিজ্য ও পদপদবী নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন সময় সমালোচিত হয়েছে ছাত্রলীগ। তাই এসব সমালোচনা থেকে মুক্তি ও দুর্নাম গোছাতে কৃষকের ধান কেটে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে এই সংগঠনটি।

ছাত্রলীগের ভাষায়-ধান কাটার জন্য কৃষকরা মজুর পাচ্ছে না আর পেলেও বেশি মজুরী দিতে হচ্ছে। তাই কৃষকদের এই সংকটে সারাদেশে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের এই ঘোষণা নিশ্চয় প্রশংসার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, আসলে এটাকেই বলে মানবসেবা। আর একটি ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণার গুরুত্বই আলাদা। কিন্তু সমস্যা হলো আস্থা-বিশ্বাস নিয়ে। ছাত্রীগের অতীত কর্মকাণ্ডে এমন কোনো রেকর্ড নেই যে তারা মানুষের সেবা করতে গিয়ে কোনো অপকর্ম করেনি। সহযোগিতার নামে ছাত্রলীগ মেয়েদের ধর্ষণ করেছে, জমি দখল করেছে, টাকা চুরি করেছে, ছিনতাই করেছে এমন ঘটনা অসংখ্য আছে।

দেখা গেছে, বিভিন্ন দুর্যোগ সময়ে ত্রাণ সহযোগিতার নামে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সরকারি কোষাগারের মালামাল নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে গেছে। গরিবদের জন্য বরাদ্দ দুম্বার গোস্ত নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আছে।

তাই এসব কারণে, ছাত্রলীগের এই ধান কাটার ঘোষণায় শুধু শিক্ষাঙ্গন বা রাজনৈতিক অঙ্গন নয় কৃষকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ঘটানার পর কৃষকদের মধ্যে বড় একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে। ধান কাটার পর আবার সেই ধান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে বিক্রি করে টাকা নিয়ে যেতে পারে। অথবা পকেট খরচের কথা বলে ধানের একটি অংশও তারা নিয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্খা করছেন তারা।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌অগণতান্ত্রিক সরকার থাকলে কিছু আশা করতে পারি না : ড. কামাল


গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ধান উৎপাদনের জন্য কৃষককে এ ধরণের শাস্তি ভোগ করতে হবে তা কল্পনাই করা যায় না। এধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, কারণ সরকারের কৃষি নীতি নেই। তাছাড়া এ সরকার যা যা করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল তা তারা মানেনি, মানছেও না। তারা ধান উৎপাদনের সময় বড় বড় কথা বলে, কিন্তু উৎপাদনের পরে সরকারের কি করণীয় তা করে না।

তিনি বলেন, এটা যে ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তা নয়। সকল ক্ষেত্রেই সরকারের একটা দায়িত্বহীনতা লক্ষ্য করা গেছে। কোনো কিছুতেই এ সরকারের দায়িত্ববোধ নেই। কৃষকের ধান কেনাসহ নাগরিকের ব্যাপারেও সরকারে দায়িত্বহীনতা স্পষ্ট। এজন্য সরকার যেনতেনভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। দেশে যদি এধরণের একটি অগণতান্ত্রিক সরকার থাকে তার কাছ থেকে কিছু আশা করতে পারি না।

আজ গণফোরামের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এতে লিখিত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ।

এদিকে কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, একটি অনির্বাচিত সরকারকে এভাবে গ্রহণ করায় সকল মানুষকে এভাবে মূল্য দিতে হচ্ছে। এজন্য দরকার দ্রুত নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, এরা কি করে বলে তারা পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতা পেয়ে গেছে? এটা মানুষকে কিভাবে যে অবজ্ঞা করছে।

তিনি বলেন, আমাদেরর দুর্ভাগ্য এমন সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে হচ্ছে, সইতে হচ্ছে। তাই দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে জাতিকে এগিয়ে নেয়া। দেশের মানুষকে অবশ্যই ঐকবদ্ধ হতে হবে। সরকারে এসব ব্যর্থতাগুলোকে সামনে নিয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ হবে। গণতন্ত্রের জন্য তারা শক্তি প্রয়োগ করে সে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। কারণ গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা না থাকায় অসাধারণ মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদেরকে। তাই আসুন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি। এতে একটা জবাবদিহিতামূলক সরকার হবে। অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

এ দিকে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বলেন, সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস নেই। কেননা জনগণের অধিকার যারা হরণ করেছে, তারা জনগণের উপর আস্থা রাখবে কিভাবে।

সংবাদ সম্মেললনে দলের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, এ সরকার কৃষকের প্রতি সহানুভূতিশীল নয়। তারা ঋণখেলাপী বা শেয়ার মেনিপুলেটকারীদের সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে এলেও কৃষকের সাহায্যে একেবারেই নিরব।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ, মোশতাক আহমেদ, খান সিদ্দিকুর রহমান, ফরিদা ইয়াছমীন, মাহমুদ উল্লাহ মধু।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌কৃষকের পাকা ধানে আগুন জাতির জন্য লজ্জাজনক: ড. খন্দকার মোশাররফ


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক সরকার নেই বলে কৃষকের কপাল পুড়েছে। কৃষক ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচও পাচ্ছে না। তাই বিক্ষুব্ধ কৃষক মনের দুঃখে পাঁকা ধান ক্ষেত আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে। এটি জাতির জন্য চরম লজ্জা ও দুর্ভাগ্যজনক।

বুধবার রাজধানীর শনির আখড়ায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে ইফতারপূর্ব এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকাস্থ হোমনা উপজেলা জাতীয়তাবাদী ফোরাম এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

মোশাররফ বলেন, সরকার চাল রফতানির চিন্তা করছে, অন্যদিকে আমদানিও করছে। চাল মজুত যদি পর্যাপ্তই থাকে তাহলে আবার আমদানি কেন? অথচ কৃষককে ধানের ন্যায্য মূল্য দিতে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। এতে করে আগামীতে কৃষক ধান উৎপাদন করবে না। দেশ হবে চাল আমদানি নির্ভর। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। যা দেশের জন্য অশনিসংকেত।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, দেশের প্রতিটি স্তরে অস্থিরতা চলছে। সরকারের কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, জবাবদিহিতা নেই, স্বচ্ছতা নেই। সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বলে রূপপুর প্রকল্পে কেনাকাটার নামে চলছে অবাধে লুটপাট। মন্ত্রী-এমপিরা পাশ কাটিয়ে যে যার মতো বলছে, যা ইচ্ছা তা করছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সরকারের নির্দেশ মানছে না। প্রশাসনে এক জগাখিচুড়ী অবস্থা বিরাজমান। আওয়ামী লীগ অলিখিত বাকশাল ও স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। পৃথিবীতে কোনো স্বৈরাচার স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়েনি, আওয়ামী লীগও ছাড়বে না। আন্দোলন করে তাদের হটাতে হবে।

মোশাররফ হোসেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন এটাই তার বড় অপরাধ। তিনি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। সরকারের হস্তক্ষেপে খালেদা জিয়ার জামিন দেয়া হচ্ছে না। কারান্তরীণ রেখে তার জীবন বিপন্ন করছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য আগে গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে এই সরকারকে বাধ্য করা হবে।

সংগঠনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- শ্রমিক দলের একেএম ফজলুল হক মোল্লা, কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. জুম্মন মিয়া, মো. মহিউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, ব্যারিষ্টার সাইফুল ইসলাম উজ্জল, ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম সরকার প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌কামরুলই সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছে: আ’লীগ নেতা রমেশ চন্দ্র সেন


আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেছেন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামই সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছে। বিদেশ থেকে প্রচুর চাল আমদানি করায় সরকার বিপদে পড়েছে।

বুধবার বিকালে ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান ও গম সংগ্রহ অভিযান শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. বাবুল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুনাংশু দত্ত টিটো, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, দেশে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার পরও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে প্রচুর চাল আমদানি করেছে। এর ফলে সরকার বেকায়দায় পড়েছে।

তিনি বলেন, দেশে ২৪ লাখ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। তার পরেও চাল আমদানি করা হচ্ছে। জায়গার অভাবে চাহিদা মতো ধানচাল কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

এ সময় কৃষকদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, কৃষকরা ধান ঘরে রেখে দেন। আগামী বছর ধানের ভালো দাম পাবেন।

তিনি জানান, এ বছর জেলা থেকে লটারি করে ভাগ্যবান কৃষকের কাছে চলতি মৌসুমে ১৮৫৭ মেট্রিকটন ধান ও ৩০ হাজার ৬১৯ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করা হবে। আর ভাগ্যবান কৃষকদের কাছ থেকে গম সংগ্রহ করা হচ্ছে ৬ হাজার ৬১৯ মেট্রিকটন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ধানক্ষেতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত? কাদেরকে শেখ হাসিনার তদন্তের নির্দেশ!


ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনা কেন ঘটেছে তা তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অথচ, কৃষকরা কেন ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না -সেটা নিয়ে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বা আওয়ামীলীগের কোন নেতাকর্মীদের মাঝে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই। উল্টো তারা এখন সেই কৃষককেই সন্দেহ করছে।

বুধবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এই তদন্তের নির্দেশনার কথা জানান।

এর আগে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাসের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ধানক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনাগুলো স্যাবোটেজ কিনা, কোনোভাবে এটা সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য কেউ বিষয়টা… কৃষক সংকট উদ্ভব হয়! কিন্তু এভাবে আগুন জ্বালিয়ে ধানক্ষেতে, এসব ঘটনাগুলো বিশেষ বিশেষ জায়গায় ঘটছে কেন, এটা তদন্ত করে জানাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয়ভাবেও আমরা খোঁজ-খবর নেবো।

তিনি আরও বলেন, সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করতে হবে। একটা সমস্যা হয়েছে, আগুন জ্বালিয়ে, ধান পুড়িয়ে এ সমস্যার সমাধান তো হবে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার কখনও চাইবে না আমাদের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। কৃষকদের স্বার্থবিরোধী, কৃষকবান্ধব সরকার কখনও করবে না। শেখ হাসিনার সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক। এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এখানে যে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে, এর বাস্তবসম্মত সমাধানে উদ্যোগী সরকার।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হওয়ায় বাংলাদেশে অর্থসাহায্য ছাড়ে কংগ্রেসে আপত্তি


২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপকভিত্তিক কারচুপির অভিযোগ ও মানবাধিকার পরিস্থিতিতে অসন্তোষ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে মঙ্গলবার বিল উত্থাপিত হয়েছে। বিলটি উত্থাপন করেন নিউ ইয়র্ক থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস ওমেন ও হাউজ অ্যাপ্রিসিয়েসন কমিটির চেয়ারপারসন নিতা সুই ম্যালনিকফ লাউয়ি।

স্টেইট, ফরেন অপারেশন এবং রিলিটেড পোগ্রামস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল-২০২০ শিরোনামে উত্থাপিত বিলের ১১১ পৃষ্ঠায় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিগত নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে বিলে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ বিলটি পাশের ৪৫ দিনের মধ্যে ইউএসএইডের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে কমিটিতে বাংলাদেশের ২০১৮ সালের নির্বাচন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠাবেন।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের মানবাধিকায় সুরক্ষায় সরকারের সমর্থন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সরকার কি কাজ করছে এ বিষয়ে বিল পাশের ৪৫ দিনের মধ্যে কমিটিতে প্রতিবেদন পাঠাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেয়া হয়।

বিলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউএসএআইডির শীর্ষকর্তাকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হয় যে, মিয়ানমার থেকে ছুটে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্যের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিক, চিংড়ি ও মৎস শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়নে অর্থছাড়ের বিষয়ে বিলে নির্দেশ দেয়া হয়। বিলটি এ মাসের মধ্যেই পাশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিলে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যেভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কমিটিতে প্রতিবেদন পাঠানোর কথা বলা হয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউএসআইডির মাধ্যমে যে অর্থ সাহায্য বাংলাদেশে বরাদ্দ ছিল তা ব্যাপক হারে কমে আসবে বলে মনে করছেন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকরা।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতির দুর্নীতিতে মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের রেকর্ড!


ডা. মো: আব্দুস সালাম। নিজেকে যিনি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। অনেক সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলেও পরিচিত করেন মানুষের সামনে। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের অস্থায়ী সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সীমাহীন অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অনেকটাই বদলে ফেলেছেন স্বাস্থ্যসেবায় সুনাম অর্জনকারী ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের চেহারা। প্রতিটি বিষয়ে অনেকটা ঘোষণা দিয়েই চাঁদাবাজি ও উৎকোচ গ্রহণ করছেন তিনি। বিভিন্ন কোম্পানীর কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন গ্রহণ ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নামে অনেকটা প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজি করে চলেছেন তিনি। কনসালটেন্ট, কর্মকর্তাদের সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার আর স্বেচ্ছাচারিতার ফলে দীর্ঘদিনের সুনাম থাকলেও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিল সে সুনাম আর ধরে রাখতে পারছে না।

আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:

১ মার্চ ২০১৯ থেকে তিন মাসের জন্য অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও দুই মাস অতিক্রান্ত না হতেই সীমাহীন অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ জমেছে ডা. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে ঘুরে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। সরকারের দোহাই দিয়ে এসব অনিয়ম দুর্নীতি লাগামহীনভাবে চলায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও মনে করেন সচেতন মহল।

লাগামহীন কমিশন বাণিজ্য:

দীর্ঘ সময় ধরে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে তুলনামূলক কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসলেও সে সুনাম চাপা পড়েছে ডা. আব্দুস সালামের লাগামহীন কমিশন বাণিজ্যে। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের দীর্ঘ পথচলার ইতিহাসে এমন অনৈতিক লেনদেনের ইতিহাস না থাকলেও ডা. আব্দুস সালাম সে কদর্য ইতিহাস রচনা করেছেন। যে সমস্ত কোম্পানীর ঔষধ চিকিৎসকরা সাধারণত লেখেন না, মোটা অংকের টাকা খেয়ে ফার্মেসী ইনচার্জের অনুমতি ছাড়াই সেসব কোম্পানীর ঔষধ চালানোর নির্দেশ দেয়া হয় অস্থায়ী সুপার আব্দুস সালামের পক্ষ থেকে। তার নির্দেশেই ক্রয়কৃত RANGS, ORION, INCEPTA সহ বেশ কিছু নতুন কোম্পানীর ঔষধ অবিক্রিত অবস্থায় স্টকে পড়ে আছে। এতে লোকসানের মুখ দেখতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়াও সকল কোম্পানী থেকে কমিশন খাওয়ার জন্য বিল আটকে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের সুদীর্ঘ ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ল্যাবের সকল রিএজেন্ট কোম্পানীর কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতে তিনি খুবই সিদ্ধহস্ত।

ডা. আব্দুস সালামের এ অবৈধ কমিশন বাণিজ্যের শক্ত প্রমাণ রয়েছে হাসপাতালের এসি ক্রয় সংক্রান্ত হিসাবে। কমিশন না দেয়ায় তিনি বিল আটকে দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে পূনঃরায় তার মন মত বিল করিয়ে নিয়েছেন।

যে সকল কোম্পানী হাসপাতালে বিভিন্ন ধরণের মালামাল সরবরাহ করতো, তাদের প্রত্যেকের কাছে বড় অংকের কমিশন দাবি করেছেন তিনি। কেউ কমিশন দিতে ব্যর্থ হলে মাল দিতে সরাসরি না করে দেন অস্থায়ী সুপার আব্দুস সালাম।

এছাড়া স্টোর ইনচার্জদের তিনি সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে কমিশন আদায় করে দিতে না পারলে তিনি কোনো বিলে স্বাক্ষর করবেন না।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নামে চাঁদাবাজি:

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন নামে ভূঁইফোড় সংগঠনের নাম ব্যবহার করে নিজেই সংগঠনের নামে ফরম ছেপে ব্যাপক চাঁদাবাজির শক্তিশালী অভিযোগ রয়েছে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিলের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। তিনি উক্ত সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি বলে দাবি করে থাকেন। এই পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ডও বিতরণ করেন তিনি। হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে উক্ত সংগঠনের সদস্য ফরম পূরণ করিয়ে অনেকটা প্রকাশ্যেই লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছেন ডা. আব্দুস সালাম। সাধারণ স্বল্প আয়ের কর্মচারীরাও তার এই চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

অনেকেই মনে করছেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে তিনি এই চাঁদাবাজী চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই এক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভূক্তোভোগীরা।

স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ নিয়োগ:

সুপার আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্বজনপ্রীতি জনিত অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের (আইবিএফ) বিধি লঙ্ঘন করে হাসপাতালের মেইনটেইনেন্স বিভাগে নিজ পুত্র সুলতান মো: শাকিলকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। সুপারের পুত্র হওয়ার কারণে প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণের বহু প্রমাণ রয়েছে শাকিলের বিরুদ্ধে।

এছাড়া একইভাবে বিধি লঙ্ঘন করে হাসপাতালের অভ্যর্থনা বিভাগে ইসমাইল নামে এক ব্যক্তিকে নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে ডা. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে।

প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে গিয়ে সাধারণ কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ডা. আব্দুস সালামের চেম্বারে প্রায়ই বহিরাগত উদ্ভট নারীরা আসা যাওয়া করেন। ঘন্টার পর ঘন্টা তিনি নির্জন কক্ষে এসব নারীদের সাথে আড্ডায় মেতে থাকেন। হাসপাতালের কিছু নারী কর্মচারীও কারণে অকারণে যাওয়া আসা করেন বলে তাদের অভিযোগ। তারা ক্ষোভের সাথে জানান, এতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

সাধারণ রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে তারা আগের মত আন্তরিক সেবা পাচ্ছেন না। ফলে হাসপাতালের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন রোগীরা। বিশৃংখলা আর অনিয়মের মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলায় তারা খুবই উদ্বিগ্ন।

সেবার মান কমে যাওয়ার ব্যাপারে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সুপারের পক্ষ থেকে কনসালটেন্ট ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে দূর্ব্যবহার করার কারণে তারা রোগীদের আগের মত সেবা দিতে আগ্রহবোধ করেন না। ফলে এরই মধ্যে ক্ষতির মুখ দেখেছে জনপ্রিয় এই লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ না ঘটলে দিন দিন রোগীর আগমন কমতে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

মাত্র তিন মাসের জন্য সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত ডা. আব্দুস সালাম অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে বিষিয়ে তুলেছেন সুনাম অর্জনকারী সেবা প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের পরিবেশ। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ রোগী থেকে শুরু করে হাসপাতালের সাথে সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের মানুষ ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। আব্দুস সালামের এসব দুর্নীতি থেকে রেহাই পেতে দুদক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌বালিশ নিয়ে এবার বোমা ফাটালেন ড. আসিফ নজরুল


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনের আসবাবপত্র ও বালিশ কেনাসহ সেগুলোর বহন খরচ নিয়ে সীমাহিন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে ব্যাপক এই দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

কিন্তু ব্যাপারটি নিয়ে মোটেও বিস্মিত নন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। এ বিষয়ে তিনি তাঁর ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল:

অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের ফেসবুক স্ট্যাটাস:

বালিশ নিয়ে এতো হৈ চৈ, আমি কোন কিছু লিখলাম না কেন?

লিখিনি কারন আমি খুব অবাক হইনি এতে।

যে দেশে বিনা ভোটে জিতে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা যায়, এরপর আরো পাঁচ বছর থাকার ব্যবস্থা করা যায় আগের রাতে ভোট করে, সেদেশে সব সম্ভব।

রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে ছাব্বিশ দিন পর তরতাজা রেশমাকে উদ্ধার, বাংলাদেশে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা লোপাট, মুক্তিযোদ্ধার মেডেলের সোনায় খাদ, বালিশকান্ড-এরকম আরো বহু উদ্ভট ঘটনার চেয়ে অনেক বড় তেলেসমাতি হচ্ছে ১৬ কোটি লোককে পরপর দুটো নির্বাচনে ধাপ্পা দিতে পারা। এমন তেলেসমাতি করা সম্ভব যে দেশে সেখানে জবাবদিহীতা থাকে না, থাকে না কোন সততার তাগিদ, বিচারের ভয়।

বালিশকান্ড শুধু আমাদের একটু ইঙ্গিত দিল, কি ভয়াবহ লুটতরাজ চলছে এদেশে জনগনের সম্পদ নিয়ে।

ড. আসিফ নাজরুলের বালিশ নিয়ে স্ট্যাটাস

উৎসঃ ‌‌ড. আসিফ নাজরুলের ফেবুক পেইজ

আরও পড়ুনঃ ‌রূপপুর প্রকল্পে মালির বেতন ৮০ হাজার, গাড়ি চালকের ৯৩ হাজার টাকা অকল্পনীয় লুট পাট!


দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়েছে।

একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে এর দাম বাবদ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা আর সেই বালিশ নিচ থেকে ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ ৭৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি টাকায় আকাশ সমান দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয়ের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

শুধুমাত্র আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। এরই মধ্যে নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এই প্রকল্পের সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ।

এই প্রকল্পের প্রকল্প-পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, এজন্য আরও দুই লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানির ছয়গুণেরও বেশি পাবেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক।

পাশাপাশি গাড়ি চালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। রাঁধুনি আর মালির বেতন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গাড়ি চালক, রাঁধুনি আর মালির এই পরিমাণ বেতন ধরা হয়েছে।

একইভাবে উপ-প্রকল্প পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকসহ অন্য সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ওঠার কথা রয়েছে। পাস হওয়ার পর ব্যয়ের দিক থেকে এটিই হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প, যা পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রায় চার গুণ।

প্রকল্পটির বিভিন্ন খাতের অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। ১২ খাতে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়ে সুস্পষ্ট জবাবও চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

ডিপিপি অনুযায়ী, ৩৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও ভাতা হিসেবে ৬৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেতন ৩৬ শতাংশ এবং ভাতা ধরা হয়েছে ৬৪ শতাংশ। সরকারি বেতন কাঠামোর গ্রেড অনুসরণ না করে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালকসহ ১৬টি পর্যায়ে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা বেতন, যা সচিবের বেতনের প্রায় নয় গুণ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক পাবেন তিন লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তিনি প্রকল্পের স্টেশন ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এজন্য অতিরিক্ত এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পাবেন তিনি। এতে তার মোট বেতন দাঁড়াবে পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, যা প্রধানমন্ত্রীর বেতনের প্রায় ৪ দশমিক ৭২ গুণ।

প্রকল্পের রাশিয়া অফিসের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে তিন লাখ ২১ হাজার টাকা করে। প্রকল্পের সাত বিভাগের সাতজন প্রধানের বেতনেও তিন লাখ ২১ হাজার টাকা। কারিগরি ও প্রশাসনিক অন্যান্য পদের বেতনও অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পদেও এসব ব্যক্তি কাজ করবেন। এজন্য তারা অতিরিক্ত বেতন-ভাতা পাবেন।

বেতনের বাইরে বার্ষিক সর্বোচ্চ তিন মাসের মূল বেতনের সমান চিকিৎসা ভাতা, মাসিক তিন থেকে ছয় হাজার টাকা যাতায়াত ভাড়া, মাসিক ১০ থেকে ১৫ হাজার সন্তানদের শিক্ষাভাতা, মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে মাসিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেজস্ক্রিয় ভাতা এবং ২০ শতাংশ হারে শিফট ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির কর্মকর্তা পর্যায়ে সর্বনিম্নে বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ তিন হাজার টাকা। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা প্রতি মাসে এ হারে বেতন পাবেন। এর বাইরে তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। অর্থাৎ তার মোট বেতনের পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এতে তার বেতন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এমনকি রাষ্ট্রপতির চেয়েও বেশি পড়বে।

প্রকল্পটির গাড়ি চালকের বেতন ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। তবে প্রকল্পটির গাড়িচালকরা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও পালন করতে পারবেন। এতে আরও ১৮ হাজার টাকা পাবেন গাড়িচালকরা। এতে তাদের বেতন দাঁড়াবে ৯১ হাজার ৭০৮ টাকা। প্রকল্পটির সর্বনিম্ন বেতন রাঁধুনি বা মালির। প্রকল্প থেকে তিনি বেতন পাবেন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। আর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন করলে অতিরিক্ত পাবেন ১৬ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার বেতন পড়বে ৭৯ হাজার ৭০৮ টাকা, যা সচিবের বেতনের চেয়েও বেশি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, প্রকল্পটির বেতন-ভাড়া সরকারি স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ও অনিয়ন্ত্রিত। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যান্য ব্যয় নিয়েও এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাবতা যাচাই স্পষ্ট নয়, ইআইএ নিয়ে লুকোচুরি, স্পেন্ট ফুয়েল (অবশিষ্ট তেজস্ক্রিয় জ্বালানি) ইস্যুর সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগে প্রকল্পের ব্যয়সহ বিতর্কিত ইস্যুগুলো সমাধান করা দরকার। এর পর প্রকল্প অনুমোদন পর্যায়ে যাওয়া উচিত।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (মূল পর্যায়) প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ৯ বছর মেয়াদি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। রাশিয়ান ফেডারেশনের স্টেট এক্সপোর্ট ক্রেডিট হিসেবে দেবে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বাকি ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা দেয়া হবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। এর মধ্যে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (প্রাথমিক পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, পরিকল্পনা কমিশন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এতে সংস্থাটির নিজস্ব যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পের কোনো খাতেই অযৌক্তিক ব্যয় ধরা হয়নি। আর কর্মকর্তাদের বেতন নিয়ে যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এখানে আকর্ষণীয় বেতন না দিলে কেউ চাকরি করতে আসবে না। সব দিক বিবেচনা করেই এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সব প্রশ্নের জবাব কমিশনে তুলে ধরা হবে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here