মনোনয়ন প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তাদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান করব: ইসি সচিব হেলালুদ্দীন

0
215

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ‘আপনাদের মনোনয়ন (সংরক্ষিত নারী আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের) যেহেতু প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, সেটাকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে আপনাদের মনোনয়নপত্র আমরা বাছাই করব। বড় ধরনের, গুরুতর কোনো ফল্ট (ত্রুটি) না থাকলে ইনশাল্লাহ, রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অনুরোধ করব, বাছাই পর্বে আপনারা যাতে উত্তীর্ণ হতে পারেন।’

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাইয়ের শুরুতে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এসব কথা বলেন।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে আগত প্রার্থীদের ইসি কর্মকর্তার বাইরে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সহযোগিতা নিতে বলেন হেলালুদ্দীন আহমদ। এ সময় আওয়ামী লীগের ভূয়সী প্রশংসাও করেন গণপ্রজাতন্ত্রের এ কর্মকর্তা।

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদের অভিনন্দন জানাই যে, প্রাথমিকভাবে আপনারা সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় আপনাদের অংশগ্রহণ ও নারীদের উন্নয়নের বিকল্প নাই। সে হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারীর উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, এটাই তার একটি প্রতিফলন।’

তিনি বলেন, ‘এবারের মনোনয়নে আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আপনাদের খুঁজে খুঁজে বের করে নিয়ে আসছেন। আপনাদের সেভাবে মনোনয়ন দিয়েছেন।’

আওয়ামী লীগ মনোনীতদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘গতকাল আমাদের সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসেছিলেন। উনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এটা আনুষ্ঠানিকভাবে হ্যান্ডওভার (হস্তান্তর) করেছেন। আমরা খুব খুশি হয়েছি, আপনারা এসেছিলেন, সবাই জমা দিয়েছেন।’

কানিজ ফাতেমার কথা আওয়ামী লীগ ভুলতে পারবে না উল্লেখ করে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমি ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ছিলাম। রোশনা ইমাম, উনার কথা অনেক মনে পড়ে। অত্যন্ত বয়োজ্যেষ্ঠ নেত্রী। উনি আমাদের যথেষ্ঠ সহযোগিতা করেছিলেন তখন। আর আমার নিজ জেলা কক্সবাজার, কানিজ ফাতেমা; উনার অবদানের কথা তো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং কক্সবাজারের মানুষ কখনো ভুলতে পারবে না।’

প্রার্থীদের আওয়ামী লীগ নেতার সহযোগিতা নেয়ার কথা উল্লেখ করে সচিব বলেন, ‘আমি এ পর্যায়ে আপনাদের আবারও অভিনন্দন জানাচ্ছি। রিটার্নিং কর্মকর্তাকে আনুষ্ঠানিক দুই-একটি কথা বলে যাচাই-বাছাই করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আপনাদের যদি বেশি প্রয়োজন হয়, আমাদের কাওছার ভাই আছে, অ্যাডভোকেট কাওছার, কাযনির্বাহী পরিষদের সদস্য। এবং আমাদের এখানে বাবলা ভাই আছেন। উনারা আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা করবেন। কোথাও কোনো ত্রুটি হলে আমরা এগুলো প্রাথমিকভাবে সমাধান করার চেষ্টা করব।’

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে আমরা স্বাগত জানাই। সংবিধান মোতাবেক ২০০ আসনের বিপরীতে ৫০টি সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যের বিধান রয়েছে। সেই হিসাবে আমরা তফসিল ঘোষণা করেছি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আপনারা প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েই গতকাল আপনারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আজকে তার বাছাই পর্ব।’

একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত ৪৩ জন, জাতীয় পার্টির চারজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন এবং স্বতন্ত্র একজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সোমবার শেষ দিনে সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৯টির জন্য ৪৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন-২০১৯ এর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল ১১ ফেব্রুয়ারি। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ এমপি হতে না পেরে মন খারাপ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নায়িকা-নর্তকীদের!

আওয়ামীলীগের নায়িকা-নর্তকীদের অনেক স্বপ্ন ছিল যে, তারা এমপি হবেন। বসবেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে। এরপর নিজেকে ব্যস্ত করবেন দেশসেবায়। কিন্তু সে স্বপ্নে গুড়ে বালি। চলচ্চিত্র ও ছোট পর্দার নায়িকারা হতাশ। মাঝখান দিয়ে এমপি হয়ে গেছেন আলোচিত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। শুক্রবার একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৪১ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগ। দেশীয় শোবিজের অনেক নায়িকাই আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু তাদের সে চাওয়া অপূর্ণই থেকে গেল। নায়িকাদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নায়িকা অবশ্য বলেন, সবার ভাগ্যে কি সব কিছু জোটে? একের ভেতর দুই দেখছেন না! এবারের জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে নায়িকাদের দৌড়ঝাঁপ ছিল বেশ লক্ষণীয়।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ক্ষমতায় আসার পূর্বাভাস পেয়ে কিছুদিন থেকেই সিনেমা ও নাটকপাড়ার নায়িকারা ভিড় করেন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ও মন্ত্রিপাড়ায়। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিশাল বিজয় অর্জন করে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ এবার ৪৩ জন মহিলাকে সংরক্ষিত আসনে এমপি করবে-এমন খবরে নায়িকাদের মনে ঢেউ উঠে আওয়ামী লীগের মনোনয়নযুদ্ধে অংশ নেয়ার প্রত্যাশায়।

এমনকি বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে যারা ছিলেন জাসাস বা জিসাসে সক্রিয়, ছিলেন হাওয়া ভবনের মুখ, সেই নায়িকারাও রাতারাতি জার্সি বদলে আওয়ামী লীগ হয়ে দলের মহিলা এমপি হওয়ার দৌড়ে নেমেছিলেন। এ কারণে এফডিসি ও নাট্যপাড়া হয়ে পড়েছিল নায়িকাশূন্য।

সবাই নেতাদের বাড়িতেই নয়, দলের কার্যালয়েও নিয়মিত ভিড় জমিয়েছেন ব্যাপকভাবে। শুটিংয়ে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না তাদের। এবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হওয়ার লক্ষ্যে নায়িকাদের মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন সুজাতা, কবরী, দিলারা, নূতন, রোকেয়া প্রাচী, শমী কায়সার, মৌসুমী, অপু বিশ্বাস, সাহারা, শাহনূর, তারিন জাহান, জ্যোতিকা জ্যোতি, সুইটি, মিষ্টি জান্নাতসহ পার্শ্ব চরিত্রের বেশ ক’জন অভিনেত্রী, টিভি ও র‌্যাম্প মডেল।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন না পেয়ে আ’লীগ নেত্রীর স্ট্যাটাস ‘আমার ফাঁসি চাই’!

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নাজনীন আলম ‘আমার ফাঁসি চাই’ শিরোনামে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি এ স্ট্যাটাস দেন।

নাজনীন আলমের স্বামী ফেরদৌস আলম বলেন, তার স্ত্রী নাজনীন আলম হাসপাতালে গেছেন। তিনি মনোনয়নবঞ্চিত, হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকের বারবার আশাহতের বিষয়টি তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন আমার স্ত্রী ও আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মানুষ। সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে মিশে আছি। দলের জন্য জীবনের যা অর্জন ছিল সব দিয়ে দিয়েছি। এরপরও আমরা কী পেলাম!

বারবার মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় শনিবার রাত ৭টা ১১ মিনিটের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘আমার ফাঁসি চাই’ শিরোনামে স্ট্যাটাস দেয়া হয়। ফাঁসির কারণ হিসেবে ভুল ও অপরাধের ৯ শর্তের বর্ণনাও দেন তিনি। নাজনীন আলমের ফেসবুকের মন্তব্য তুলে ধরা হল- ‘আমার ফাঁসি চাই..!!

১. কেন হাইকমান্ডের আশ্বাসকে সরল মনে বিশ্বাস করেছিলাম!
২. এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থাকার প্রয়োজন কেন অনুভব করেছিলাম!
৩.এমপি/সিনিয়র কোনো নেতার পরিবারের সদস্য কেন আমি হলাম না!
৫. কেন দলের নাম ভাঙিয়ে একটি পয়সা রোজগারের ধান্ধা করিনি!
৬. কেন দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে দিনে দিনে নিঃস্ব হতে গেলাম!
৭. কেন জনসমর্থন অর্জনের চেষ্টা করেছিলাম!
৮. কেন তদবির/তেলবাজি ঠিকমতো করতে পারলাম না!
৯. কেন সমর্থকদের বারবার কাঁদাচ্ছি!- সম্ভবত এসবই আমার ভুল ও অপরাধ…!

এজন্য আমার শাস্তি হওয়া উচিত।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি: দুদু


গত ৩০ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাই-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দলের প্রবীণ নেতারা মন্ত্রী হতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি

শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর রমনা অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশব্যাপী বিএনপি’র কারাবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, ‘৩০ ডিসেম্বর দেশে কোনো নির্বাচন হয়নি, নির্বাচনের নামে নাটক হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দলটির প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মোহাম্মাদ নাসিম মন্ত্রী হতেন। তারা কেউ মন্ত্রী হননি, কারণ অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন নাই। অন্য কোথাও থেকে তালিকা এসেছে।’

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দলটির ভাই-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘আপনারা ভেবে-চিন্তে কর্মসূচি দিন, আগে দেখুন আমাদের প্রতিপক্ষ কে? আমাদের মূল প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

কৃষকদলের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর আমাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোন লড়াই হয়নি, আমাদের মূল প্রতিদ্বন্দী ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাই আমাদেরকে ভেবে চিন্তে কর্মসূচি দিতে হবে।’

ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘৯ বছর পর গতকাল ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গিয়ে মিছিল করেছে। এইভাবে ভয়কে জয় করতে হবে। আমি দৃঢভাবে বিশ্বাস করি তাদের এই ক্যাম্পাসে যাওয়ার মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন গড়ে উঠবে সেটির মধ্য দিয়ে মিথ্যা মামলায় ১ বছর ধরে কারাবন্দি আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ত্বরান্মিত হবে।’

আন্দোলন ছাড়া কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয় মন্তব্য করে দুদু আরও বলেন, ‘আমাদের সিনিয়র আইনজীবিরা স্পষ্ট করে বলেছেন বিচারালয়ের মাধ্যমে বেগম জিয়ার মুক্তি আর সম্ভব নয়। তাঁর মুক্তির একমাত্র পথ রাজপথ।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের যৌথ সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আরও বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম আতাউর রহমান ঢালী, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব মাহবুব উদ্দীন খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নাসিম হোসাইন, মহিলা দলের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিঃ মহাজোটের শরীক জাসদের স্বীকারোক্তি!


ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার কথা কবুল করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। এজন্য প্রশাসনে অতি উৎসাহী একটি অংশ দায়ী বলে মনে করছে দলটি।

গত ১লা ও ২রা ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ জাসদ-এর জাতীয় কমিটির সাধারণ সভায় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে এভাবে মূল্যায়ন করা হয়। পরে এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জাসদ তাদের সভার মূল্যায়ন তুলে বলে, দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পরে বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি। এর মূল কারণ হচ্ছে, প্রশাসনের এক শ্রেণির অতি উৎসাহী অংশ ভোটের পূর্ব রাত্রেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের জয় এই নির্বাচনে ‘নিশ্চিত’ ছিল উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাসদ বলেছে, জনগণের ভোটের মাধ্যমে ১৪ দল তথা মহাজোটের নিশ্চিত বিজয় জেনেও যে মহল বিশেষ এ অপকর্ম সংঘটিত করেছে, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কেননা এ কলঙ্কিত ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এ কলঙ্কের দাগ মুছতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে দলটি।

ঢাকার তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন দলের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, মোহাম্মদ খালেদ, আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, নাসিরুল হক নওয়াব, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, সহ-সভাপতি আবু মো. হাশেম, কলন্দর আলী, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম সিকদার, আবুল কালাম আজাদ বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল হক খোকন, বীণা শিকদার, হোসাইন আহমদ তফসির প্রমুখ।

সভায় দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদসহ সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানানো হয়। এ দাবিতে বাংলাদেশ জাসদ আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারী দেশব্যাপী মানববন্ধন, সভা, শোভাযাত্রা, মত বিনিময় প্রভৃতির মাধ্যমে দলীয় মার্কামুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিবস পালন করবে।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারী দলের প্রয়াত নেতা কাজী আরেফ স্মরণে ‘কাজী আরেফ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ। সভা থেকে আগামী অক্টোবরের আগে জেলা সম্মেলন এবং নভেম্বররে কেন্দ্রীয় সম্মেলন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলটি।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ বিএনপির পর নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে সিপিবি


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র পর আসন্ন উপজেলা নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে সিপিবিও। তারা ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের দাবিতে লড়াই গড়তে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০ ডিসেম্বর নৈশকালীন ভুয়া ভোটের অভিযানের মাধ্যমে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রহসন সংঘটিত হয়েছে। দেশবাসী ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় চরমভাবে ক্ষুব্ধ। এখনো বঞ্চনার দগদগে ঘা শুকায়নি। মানুষ ভোটের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। সেই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য কথায় ও কাজে নির্বাচন কমিশন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। উপরন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার উপজেলা নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সুষ্ঠু করার ঘোষণা দিয়েছেন। যা মানুষের হতাশাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ন্যূনতম সুযোগ না থাকায় আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে সিপিবি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ নির্বাচনে সিপিবি কোন প্রার্থী দিবে না।

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে আরো বলেন, এ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিপিবি জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করবে। দল নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকাসমূহে সভা সমাবেশ করবে। জনগণকে কালো টাকা, পেশিশক্তি, ধর্ম ও প্রশাসনের অপব্যবহার মুক্ত নির্বাচনের সংগ্রামে শামিল করবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এ সময়ে সিপিবির কর্মীরা বাজেটে সংবিধিবদ্ধ বরাদ্দের নিশ্চয়তা দিয়ে আর্থিক ক্ষমতাসহ স্থানীয় সরকারের পূর্ণ ক্ষমতায়নের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান নিয়ে জনগণের কাছে যাবে।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here