‘যাদের সামনে সেদিন হত্যাযজ্ঞ হয়েছিল, তাদের অনেকেই মঞ্চে ছিলেন, কিন্তু কোনো প্রতিবাদ হয়নি’: আজিজুল হক ইসলামাবাদী

0
170

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে হাইয়াতুল উলয়া (কওমি মাদরাসা সমূহের সম্মিলিত বোর্ড)-এর আয়োজিত শুকরানা মাহফিলে অংশগ্রহণ করেননি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ সংগঠনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এবং শীর্ষ নেতা। বিষয়টি নিয়ে তাই কানাঘুষা চলছে গণমাধ্যমসহ সর্বমহলে।

এরই মধ্যে গতকাল হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব এক বিবৃতিতে শুকরানা মাহফিলে প্রদত্ত একটি বক্তৃতার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দুঃখ প্রকাশ করেছেন শুকরানা মাহফিলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও। শুকরানা মাহফিল এবং এই কেন্দ্রিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবদী। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন আতাউর রহমান খসরু।

ইসলাম টাইমস : আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, আপনিসহ হেফাজতে ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা গতকালের শুকরানা মাহফিলে অংশ নেননি। এর পেছনে কোনো কারণ আছে কী?

আজিজুল হক ইসলামবাদী : প্রোগ্রামটা ছিলো হাইয়াতুল উলয়ার। হেফাজতে ইসলামের না। সুতরাং কোনো হেফাজত নেতা অংশ না নিলে তা দোষের কিছু বলে মনে করছি না। বড় কথা আমরা আমন্ত্রণ পাইনি যে মাহফিলে অংশগ্রহণ করবো।

ইসলাম টাইমস : অনেকেই এর পেছনে ভিন্ন কারণ আছে বলে মনে করছেন?

আজিজুল হক ইসলামবাদী : কারণ থাকতে পারে। প্রত্যেকের কারণ ভিন্ন ভিন্ন। সম্মিলিত কোনো চিন্তা থেকে অনুষ্ঠান বর্জন করা হয়নি। তবে হ্যা, শুকরানা মাহফিলের আগে ও পরে হেফাজতে ইসলামের তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী আমাদের কাছে তাদের দুঃখ, ক্ষোভ ও বেদনার কথা জানিয়েছেন।

ইসলাম টাইমস : সেগুলো কী?

আজিজুল হক ইসলামবাদী : তাদের অনেকে মনে করেন, শুকরানা মাহফিলের সাথে সাথে শাপলা চত্ত্বরে খুনের বিচারের দাবি উঠতে পারতো, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা আলোচনায় আসতে পারতো, সেদিন কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ আসতে পারতো। ইত্যাদি ইত্যাদি।

ইসলাম টাইমস : আপনি কি মনে করেন, এসব বিষয়গুলো উঠা উচিৎ ছিলো?

আজিজুল হক ইসলামবাদী :

আমার মনে করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ না। তবে আমি ব্যথিত এবং অনেকেই; যে বা যাদের সামনে সেদিন হত্যাযজ্ঞ হয়েছিলো তাদের অনেকেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কোনো প্রতিবাদ হয়নি।

এটাও ঠিক, শুকরানা মাহফিলটি ছিলো হাইয়াতুল উলয়ার। একটি শিক্ষাবোর্ডের অনুষ্ঠানে সব দাবি উত্থাপন করা যায় না। বিশেষত প্রধানমন্ত্রী যেখানে নিজে উপস্থিত ছিলেন সেখানে অনেক সীমাবদ্ধতা চলে আসে সেটাও কর্মীদের মাথায় রাখতে বলবো।

ইসলাম টাইমস : আপনি বলছেন অনুষ্ঠান হাইয়াতুল উলয়ার। কিন্তু গণমাধ্যম এটাকে হেফাজতের অনুষ্ঠান বলছে!

আজিজুল হক ইসলামবাদী : তারা বলছে, তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। আমাদের আমির আল্লামা আহমদ শফী হেফাজতে ইসলাম ও হাইয়াতুল উলয়া উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়ায় তারা এ সুযোগটিকে কাজে লাগাচ্ছে।

ইসলাম টাইমস : হেফাজতে ইসলামের অনেক নেতা –যারা শাপলা চত্ত্বরেও সরব ছিলেন এবং শুকরানা মাহফিলে একটি বিশেষ দলের পক্ষে তাদের সরব দেখা গেছে- তাদের ব্যাপারে আপনি কিছু বলবেন?

আজিজুল হক ইসলামবাদী : তাদের বিচারের ভার আমি প্রথমত আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম। বাংলাদেশের দ্বীনপ্রাণ মানুষও তাদের বিষয়ে ভেবে দেখবে বলে আমার বিশ্বাস।

ইসলাম টাইমস : এই যে, আপনারা আসলেন না আবার এমন অনেক কিছু ঘটছে যা হেফাজত কর্মীরা পছন্দ করছে না, এ বিষয়গুলো আগামীতে বড় হয়ে দেখা দিতে পারে কী?

আজিজুল হক ইসলামবাদী : আমি মনে-প্রাণে চাই ইস্যুটি বড় হয়ে দেখা না দিক। বিভক্তি-বিভেদ আমাদের লক্ষ্য অর্জনে শুধু বাধা প্রদানই করবে। আমাদের ক্ষতিগ্রস্থ করবে। আমি মনে করি, এখনও মন্তব্য করার মতো কিছু হয়নি। সময়ই সব বলে দেবে ।

ইসলাম টাইমস : কর্মীদের জন্য আপনাদের কোনো বিশেষ নির্দেশনা আছে?

আজিজুল হক ইসলামবাদী : কর্মীদের আমি বলবো, আপনাদের মতো অনেক কিছুই আমাদের ব্যথিত করেছে। তবে মনে রাখতে হবে একটি অনুষ্ঠানই সব না। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। ধৈর্য ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে পারলেই সেটা সম্ভব হবে। আমাদের ঐক্য যেন কোনোভাবে বিনষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

সুত্রঃ ইসলাম টাইমস

আরও পড়ুনঃ শোকরানা মাহফিলের মোড়কে শাপলার হত্যাকাণ্ড অস্বীকারের আয়োজন হয়েছেঃ আল্লামা বাবুনগরী

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস করাকে উপলক্ষ করে শোকরানা মাহফিলের মোড়কে ৫ মে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড অস্বীকারের আয়োজন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী (হাফিঃ)।

সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মহাসচিব এ মন্তব্য করেন।

আল্লাম বাবুনগরী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘শোকরানা মাহফিল’ এ প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ‘২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, হেফাজতের পক্ষ থেকে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরে জানতে পেরেছি সোহরাওয়ার্দীতে অনুষ্ঠিত শোকরিয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জয়নাল আবেদীন ‘শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি, এটা মিথ্যা প্রচারণা’ এমন বক্তব্য নির্জলা মিথ্যাচার, নির্লজ্জতা ও সীমাহীন ঔদ্ধত্বপূর্ণ।

বাবুনগরী বলেন, ‘শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি’ মর্মে তার দেয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের আলেম সমাজ ও তাওহিদি জনতা চরমভাবে ক্ষুব্ধ, ব্যথিত ও মর্মাহত।

দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিডিয়ার বদৌলতে ২০১৩ সালের ৫ মে সন্ধ্যায় ও রাতে সরকারের প্রশাসন কর্তৃক শাপলা চত্বরে মহান আল্লাহ এবং প্রিয় নবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের শাস্তির দাবিতে অবস্থানরত শান্তিপ্রিয় আলেম সমাজ ও তাওহিদি জনতার ওপর নির্মম ও নিষ্ঠুর হামলা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছে। যাতে অনেক মুসলমান শাহাদাতবরণ করেন এবং হাজার হাজার নবীপ্রেমিক জনতা আহত হন, পঙ্গুত্ববরণ করেন বলে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়।

বিবৃতিতে হেফাজত মহাসচিব বলেন, আমি স্বয়ং সেই রাতে ব্যাপক নিগ্রহের শিকার হই এবং পরের দিন সকালে আমিসহ অনেকেই গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হন আরও অনেক আলেম, মাদ্রাসাছাত্র ও সাধারণ মানুষ। ওইদিন শাপলা চত্বরে অবস্থানরত লাখ লাখ তাওহিদি জনতা, দেশি-বিদেশি মিডিয়াকর্মী ও ঢাকাবাসী এ হামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী।

শুধু তাই নয়, সন্ধ্যার আগ থেকেই সরকারদলীয় সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উগ্রসদস্যদের বর্বরোচিত আক্রমণে অবরোধকারী তাওহিদি জনতার গুলিবিদ্ধ লাশ নানাদিক থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আসতে থাকে। যার ভিডিও ফুটেজ প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে রয়েছে। প্রায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় এ খবর খোলামেলা প্রকাশিত হয় বলে বিবৃতিতে দাবি করেন বাবুনগরী।

তিনি বলেন, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে সে ঘটনাকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা নিঃসন্দেহে চরম অমানবিক, মজলুম নবীপ্রেমিক জনতার সঙ্গে উপহাস আর শহীদদের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।

বিবৃতিতে হেফাজত মহাসচিব বলেন, হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে যেখানে নিঃশ্বর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল, সেখানে সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখে এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা ও দম্ভোক্তির শামিল।

তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দীতে উপস্থিত লাখ লাখ ইলমে নববীর ধারক বাহক, দেওবন্দিয়ত ও হক্কানিয়তের নিশানবরদার উলামায়ে কেরাম, বুজুর্গানে দীন ও দ্বীনের রাহবররা এত বড় ডাহামিথ্যা বক্তব্য কী করে সহ্য করলেন- তা ভেবে পাচ্ছি না। এত বড় মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করতে দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে কারো অন্তরে ঈমানি তরঙ্গ ফুঁসে উঠল না, এটাই তাজ্জবের বিষয়। তাহলে এটা কী কওমি সনদের স্বীকৃতির বিনিময়ে শোকরানা সভার মোড়কে শাপলার হত্যাকাণ্ডের অস্বীকারের আয়োজন?

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, সবার মনে রাখা প্রয়োজন- ৫ মে শাপলার শাহীদানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে আমরা কেউ আল্লাহর শাস্তি থেকে রেহাই পাব না।

উৎসঃ দৈনিক যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ হেফাজতে ইসলামের যে ১০১ শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনাকে দেয়া সংবর্ধনায় অংশগ্রহন করেনি!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা জানাতে কথিত শুকরানা মাহফিলে আসেননি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) সহ-সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী। এছাড়াও শতাধিক শীর্ষ কওমী আলেম ও হেফাজতে ইসলামের নেতা শুকরানা মাহফিলে অংশগ্রহন করেননি।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস করায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা ‘আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ (হাইয়াতুল উলয়া) শুকরানা মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

রোববার সকালে হাইয়াতুল উলয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কওমিপন্থী আলেম-ওলামারা যখন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন, তখন আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক জুনায়েদ বাবুনগরী ছিলেন তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বাবুনগর গ্রামে।

শুকরানা মাহফিল উপলক্ষে কওমিপন্থী আলেম-ওলামা তৈরির আঁতুড়ঘর হাটহাজারী মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় তিনি তার গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী শুকরানা মাহফিলে যাচ্ছেন কিনা জানতে গত শনিবার সন্ধ্যায় স্বশরীরে হাটহাজারী মাদ্রাসায় গেলে কথা হয় যুগান্তরের সঙ্গে। এ সময় বাবুনগরী বলেন, আমার শরীর ভালো নয়। তাই শুকরানা মাহফিলে যেতে পারছি না।

তবে নাম প্রকাশ না করা শর্তে যুগান্তরকে মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী জানান, সম্প্রতি শুকরানা মাহফিল নিয়ে সৃষ্ট হেফাজতের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হয়তো তিনি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাননি। অথচ হুজুর (জুনায়েদ বাবুনগরী) শারীরিকভাবে আগের চাইতে অনেকটা সুস্থ। ওই শিক্ষার্থী আরও জানান, হেফাজতের মহাসচিব ও বেফাকের সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকলেও বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত তার অজান্তেই হয়। তিনি সরকার বিরোধী অবস্থানের কারণে নানা সমস্যায় পড়ছেন। ভারতে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তার পাসপোর্ট আটকে রেখেছে। ফলে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারছেন না। এছাড়া হুজুরের বিরুদ্ধে অনেক মামলা করা হয়েছিল। সেগুলো তুলে নেয়া হয়নি।

এদিকে শুকরানা মাহফিল নিয়ে সৃষ্ট হেফাজতের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হেফাজত নেতৃত্বের বড় একটা অংশ অনুপস্থিত ছিল।

এদের মধ্যে কিছুদিন আগে পদত্যাগ করা সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির মহিববুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, নায়েবে আমির ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আল্লামা হাফেজ তাজুল ইসলাম, নায়েবে আমির তফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী, আল্লামা সুলতান জওক নদভী, আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী, আল্লামা আব্দুল মালেক হালিম, মুফতি ইজহারুল ইসলাম, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী শুকরানা মাহফিলে অংশগ্রহণ করেননি বলে একটি সূত্র যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর

যে ১০১ জন পরিচিত আলেম শেখ হাসিনাকে দেয়া সংবর্ধনায় অংশগ্রহন করেনি!

বাংলাদেশের যে ১০১ জন মরদে মুজাহিদ ওলামেয়ে কেরাম আজকের শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়া কথিত ‘শুকরানা মাহফিলে’ অংশগ্রহন করেন নাই। তাদের নাম, পরিচয় ও এলাকার নাম নিমে উল্লেখ করা হলঃ

  1. হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও দারুল হাটহাজারী মাদ্রাসার সহযোগী মোহতামীম আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী হাফি.
  2. হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক সিনিয়র নায়েবে আমীর ও জামীয়া বাবুনগর মাদ্রাসার মোহতামীম আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হাফি.
  3. আল্লামা নুর হুসাইন কাসিমী হাফি.
  4. আল্লামা তাফাজ্জল হক হবিগঞ্জী সিলেট
  5. আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী সিলেট
  6. আল্লামা মাহমুদুল হাসান যাত্রাবাড়ী
  7. আল্লামা আব্দুল হালিম বুখারী পটিয়া মাদ্রাসা চট্টগ্রাম
  8. আল্লামা সোলতান যওক নদবী
  9. আল্লামা শাহ তৈয়্যব দা.বা. জিরী মাদ্রাসা চট্টগ্রাম
  10. আল্লামা আব্দুল মালেক হালিমী চট্টগ্রাম
  11. আল্লামা মুফতী ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী মুহাতামীম লালখান বাজার মাদ্রাসা চট্টগ্রাম
  12. মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী মুহাদ্দিস হাটহাজারী মাদ্রাসা
  13. আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী
  14. আল্লামা মুফতি শামসুদ্দীন জিয়া মুহাদ্দিস: জামেয়া ইসলামীয়া পটিয়া
  15. শায়খ মুফতী রেজাউল করীম
  16. মাওলানা মোমতাজুল করিম (বাবা হুজুর)মুহাদ্দিস হাটহাজারী মাদ্রাসা
  17. আল্লামা নোমান ফয়জি সাহেব মোহতামীম মেখল মাদ্রাসা চট্টগ্রাম
  18. জিকরুল্লাহ খান ফরিদাবাদ
  19. মুফতি মামুনুল হক ঢাকা
  20. মুফতী মনসুরুল হক ঢাকা
  21. আল্লামা ইদ্রিস মোহতামীম, নাজীরহাট মাদ্রাসা চট্টগ্রাম
  22. আল্লামা সালাহ উদ্দীন পীর সাহেব নানুপুরী ফটিকছড়ি চট্টগ্রাম
  23. আল্লামা নরুল ইসলাম আদীব, ফেনী
  24. মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক ঢাকা
  25. মাওলানা সাব্বির আহমদ নোয়াখালী
  26. মাওলানা নাজমুল হাসান ঢাকা
  27. মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব ঢাকা
  28. মাওলানা তাজুল ইসলাম পীর সাহেব ফিরোজ শাহ চট্টগ্রাম
  29. মাওলানা আব্দুল কাদের দা.বা. নারায়ণগঞ্জ
  30. মাওলানা আজিজুল হক আল মাদানী চট্টগ্রাম
  31. মুফতি কেফায়তুল্লাহ মুহাদ্দিস হাটহাজারী মাদ্রাসা
  32. মাওলানা মাহমুদুল হাসান মোহতামিম ফতেহ পুর মাদ্রাসা চট্টগ্রাম
  33. মাওলানা ওমর সাহেব মুহাদ্দিস হাটহাজারী মাদ্রাসা
  34. মুফতি শহিদুল্লাহ রশিদিয়া মাদ্রাসা ফেনী
  35. আবু তাহের মিসবাহ। ঢাকা
  36. মুফতী দেলওয়ার হুসাইন।ঢাকা
  37. মুফতী আবদুল মালেক।ঢাকা
  38. মুফতী আবুল হাসান আবদুল্লাহ।ঢাকা
  39. মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ।ঢাকা
  40. মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী মোমেনশাহী
  41. মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী।ঢাকা
  42. উবাইদুর রাহমান খান নদবী
  43. আল্লামা মুনিরুজ্জামান সিরাজী মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস জামিয়া সিরাজীয়া ভাদুঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়া৷
  44. মুফতি আজহারুল ইসলাম মারকাজুল হুদা ডেমরা
  45. মাওলানা কবীর আহমদ মুহাদ্দিস হাটহাজারী মাদ্রাসা ।
  46. মুফতি মুসতাকুন্নাবী ফেনী।
  47. আল্লামা ছৈয়িদুল হক আরমানী, জুয়ারিনালা, কক্সবাজার।
  48. মাওলানা সেলিম উল্লাহ নাজিরহাটী
  49. রহিমুল্লাহ কাসেমী ফেনী
  50. মাওলানা মীর ইদ্রিস আল হুদা মাদ্রাসা হাটহাজারী
  51. মাওলানা নিজামুদ্দিন সাহেব নোয়াখালী।
  52. মাওলানা লোকমান হাকীম মোজাহিরুল উলুম মাদ্রাসা চট্টগ্রাম
  53. মুফতি মাহমুদুল হাসান বাবুনগর মাদ্রাসা
  54. হাফেজ আহমাদুল্লাহ সাহেব মুজাদ্দিস পটিয়া মাদ্রাসা
  55. মুফতি সাখাওয়াত লালাবাগ মাদ্রাসা।ঢাকা
  56. শরিফ মুহাম্মাদ ঢাকা
  57. শায়েখ হাসান জামীল ঢাকা
  58. ইসমাঈল খান মেখল মাদ্রাসা
  59. আজীজুল হক ইসলামাবাদী চট্টগ্রাম
  60. মুফতি হারুন ইজহার লালখান বাজার মাদ্রাসা ।
  61. মাওলানা শফী সাহেব বাতুয়া মাদ্রাসা
  62. মুফতি নুর আহমদ মুহাদ্দিস হাটহাজারী মাদ্রাসা
  63. জাগ্রত কবি মুহিব খান
  64. মাওলানা নাসীর উদ্দিন মুনির বাইস চেয়ারম্যান হাটহাজারী উপজেলা
  65. মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী
  66. হাফেজ কাসেম সাহেব তালিমুদ্দিন মাদ্রাসার ফটিকছড়ি
  67. মুফতি ফজলুল করীম কাসেমী ঢাকা
  68. মুফতি শরিফুল্লাহ যাত্রাবাড়ী
  69. গাজী ইয়াকুব ঢাকা
  70. গাজী ইয়াকুব উসমানী বি-বাড়িয়া
  71. সালাউদ্দীউন মাসুদ ঢাকা
  72. গোলাম রাব্বানী ইসলামাবাদী ফটিকছড়ি
  73. হোসাইন আহমদ মাদানী রহঃ খলিফা শায়েখ আব্দুল মোমিন সিলেট
  74. শায়েখ জিয়া উদ্দিন, আঙ্গুরা মুহাম্মদপুর
  75. মুফতি মাহমুদুল হাসান ভূজপুর
  76. মুফতী তাজুল ইসলাম,আরজাবাদ
  77. মাওলানা নুরুল হুদা ফয়জী
  78. মাওলানা ইউসুফ সাহেব নোয়াখালী
  79. খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী
  80. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী মোহতামীম ইসলাম বাগ মাদ্রাসা ঢাকা
  81. গাজী সানা উল্লাহ ঢাকা
  82. হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী ঢাকা
  83. মুসা আল হাফিজ সিলেট
  84. মাওলানা মুশতাক আহমদ সিলেট
  85. হযরত মাওলানা উমর ফারুক সাহেব বড়ো হুজুর ভোলা
  86. হযরত মাওলানা আনাস সাহেব ভোলা
  87. হযরত মালানা গোলাম কাদের সাহেব সাতকানিয়ার হুজুর ।
  88. মাওলানা আবু বকর সাহেব মোহতামিম ধর্মপুর মাদ্রাসা চট্টগ্রাম
  89. হযরত মাওলানা হুসাঈন আহমদ মোহতামীম কই গ্রাম মাদ্রাসা চট্টগ্রাম।
  90. মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমী- নায়েবে মুহতামিম নাজিরহাট বড় মাদরাসা
  91. মাওঃ আব্দুল হক আযাদ- শায়খুল হাদীস বগুড়া জামিল মাদরাসা
  92. ড. আফম খালিদ হোসাইন- চট্টগ্রাম সম্পাদক মাসিক আত-তাওহীদ পটিয়া চট্টগ্রাম
  93. মুফতী খলিলুল্লাহ হাবিবী- মুহাদ্দিস চারিয়া মাদরাসা
  94. মাওঃ জাহেদুল্লাহ বিন ইউনুছ- পরিচালক ইছাপুর মাদরাসা, মাওঃ ৯৫।মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ- জামাতা
  95. হাফেজ্জি হুজুর রহ.লক্ষিপুর
  96. মাওঃ ফরিদ উদ্দীন আল-মুবারক ফেনী
  97. মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী চট্টগ্রাম
  98. মাওলানা গোলাম কিবরিয়া সিনিয়র শিক্ষক হাটহাজারী মাদ্রাসা
  99. মুফতি আলী কাসেমী মুফতি মেখল মাদ্রাসা
  100. মাওলানা মাসউদুল করীম ঢাকা
  101. মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহতামীম চারিয়া মাদ্রাসা হাটহাজারী,চট্টগ্রাম।

এ ছাড়াও আরো বহু খ্যাতিমান৷ উলামায়ে কেরাম রয়েছেন যারা আজকের শুকরিয়া/সংবর্ধনা মাহফিলে
অংশগ্রহন করেন নি।যার লম্বা একটি লিস্ট হাতে রয়েছে।ইনশাআল্লাহ পরবর্তী কিস্তিতে তা প্রকাশ করা হবে।

বিঃদ্রঃ বিন্যাসের সময় সম্মানিত মুরুব্বী হযরতদের নাম আগ পিছু হয়েছে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থী।

তথ্য সুত্রঃ ইসলাম টাইমস, যুগান্তর, হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের দেওয়া তালিকা এবং সংঠনের বিবৃতি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here