শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ বসবাসের জন্য অনিরাপদ!

0
579

শেখ হাসিনা এবং তার দলের নেতাদের দাবি অনুযায়ী আর অল্প কিছু দিন পরই বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উঠে যাবে বাংলাদেশের নাম। মানুষের এমন কোনো অধিকার নেই যা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিষ্ঠিত করেনি। শেখ হাসিনার দাবি-তিনি এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন যেখানে নাগরিকরা তাদের মায়ের গর্ভের মতো নিরাপদে বসবাস করছে। যদিও বাস্তবতার সঙ্গে তাদের বক্তব্যের কোনো মিল খোঁজে পাওয়া যায়নি।

২০১৭ সালে বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধান ও সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বাস্তবিক অর্থে রাষ্ট্রে আসলে কি হচ্ছে তার একটা বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশের মধ্যে যা ঘটেছে সব কিছুরই তিনি একটা সামারি টেনেছেন। রাষ্ট্রের এমন কোনো অসঙ্গতি বাকী নেই যা তার পর্যবেক্ষণে আসেনি।

বিগত ১০ বছর ধরে শুধু ক্ষমতার জন্য আওয়ামী লীগ কিভাবে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে, লুটপাট, দুর্নীতি, খুন, হত্যা, গুম-অপহরণ, বিচারবিভাগ ও সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে কিভাবে বিরোধী দল সমূহের বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে তার একটা চিত্র তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। সবশেষে তিনি মন্তব্য করেছেন-আমরা এখন এমন একটা সমাজে বসবাস করছি যেখানে কোনো ভাল মানুষ কোনো ভাল স্বপ্ন দেখেনা।

সরকারের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্যের কারণে অবশ্য তাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখতে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির আর কোথাও দেখা যায়নি।

এদিকে, প্রায় দুই বছর শেখ হাসিনার উন্নয়নশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ নিয়ে আরেকটি মন্তব্য এসেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে। রোববার হাইকোর্ট বলেছেন-এ দেশে এখন বসবাস করা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

আর আদালত এই চরম ক্ষোভটা প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনার খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে। দেশের সুপরিচিত ৫২ খাবারে মারাত্মক ভেজাল ধরা পড়েছে। আর ৯৬ শতাংশ দুধের ৯৩ শতাংশেই রয়েছে মারাত্মক ক্ষতির রাসায়নিক দ্রব্য। আর ওয়াশার কথিত সুপেয় পানির মধ্যে পাওয়া গেছে বিষ। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ও খাবারের কারণে এদেশে বাস করাটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই তাদের তো এদেশেই থাকতে হবে।

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ এখন মনে করছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সন্ত্রাস, খুন, হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, গুম, অপহরণ, দুর্নীতি-লুটপাট, ছিনতাই, হামলা, মামলা, গ্রেফতার-নির্যাতন ও জীবন রক্ষার খাবারে অতিমাত্রায় ভেজালে দেশের মানুষ এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শুধু ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো নেতাকর্মীরা এদেশে এখন আর বসবাস করা কারো জন্যই নিরাপদ নয়। দেশ ছেড়ে যাওয়ার মতো যাদের সামর্থ নেই তাদেরকে জীবন হুমকি নিয়ে এদেশেই থাকতে হবে। যেটা হাইকোর্টের আদেশের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। তারা বলছেন, শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ এখন বসবাসের অনুপযোগী।

বিএসটিআই কর্তৃক ৫২টি স্বীকৃত ভেজাল পণ্যের তালিকা-

সিটি ওয়েলের সরিষার তেল, গ্রীণ ব্লিচিং এর সরিষার তেল, শমনমের সরিষার তেল, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েলের সরিষার তেল, কাশেম ফুডের চিপস, আরা ফুডের ড্রিংকিং ওয়াটার, আল সাফির ড্রিংকিং ওয়াটার, মিজান ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ণ ডিউয়ের ড্রিংকিং ওয়াটার, ডানকান ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, আরার ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, দিঘী ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি নুডলস, শান্ত ফুডের সফট ড্রিংক পাউডার, জাহাঙ্গীর ফুড সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশের হলুদের গুড়া, প্রাণের হলুদ গুড়া, ফ্রেশের হলুদ গুড়া, এসিআইর ধনিয়ার গুড়া, প্রাণের কারি পাউডার, ড্যানিশের কারী পাউডার, বনলতার ঘি, পিওর হাটহাজারী মরিচ গুড়া, মিস্টিমেলা লাচ্ছা সেমাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মিঠাইর লাচ্ছা সেমাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, এসিআইর আয়োডিন যুক্ত লবন, মোল্লা সল্টের আয়োডিন যুক্ত লবন, কিং’য়ের ময়দা, রুপসার দই, মক্কার চানাচুর, মেহেদীর বিস্কুট, বাঘাবাড়ীর স্পেশাল ঘি, নিশিতা ফুডস এর সুজি, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মঞ্জিলের হলুদ গুড়া, মধুমতির আয়োডিন যুক্ত লবন, সান ফুডের হলুদ গুড়া, গ্রীন লেনের মধু, কিরনের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিনের মরিচের গুড়া, ডলফিনের হলুদের গুড়া, সূর্যের মরিচের গুড়া, জেদ্দার লাচ্ছা সেমাই, অমৃতের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপারের আয়োডিন যুক্ত লবন, মদীনার আয়োডিন য্ক্তু লবন এবং নুরের আয়োডিন যুক্ত লবন।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে নিয়মিত ধর্ষণ, গৃহকর্মীর সন্তানের বাবা ‘শিক্ষা কর্মকর্তা’


কিছু দিন বাসায় কাজ করার পর থেকেই শুরু হয় যৌন হয়রানি। এরপর সুযোগ বুঝে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বাসার কাজের মেয়েকে নিয়মিত ধর্ষণ করেন। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই গৃহকর্মী। পরে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে অন্যত্র বিয়ে দেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম। কিন্তু বিয়ের দুই মাসের মাথায় সাত মাসের সন্তান প্রসব হলে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়।

ন্যক্কারজনক এই ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকায়। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই গৃহকর্মী বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা করেছে।

ধর্ষক মাজেদুল ইসলাম সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল মোতালেব মাস্টারের ছেলে। তিনি মেলান্দহ উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী জানায়, এক বছর আগে মাজেদুল ইসলামের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেন তিনি। তার স্ত্রী নাজমা আক্তার স্কুল শিক্ষিকা। তাদের বাসায় কিছুদিন কাজ করার পর থেকে গৃহকর্তা মাজেদুল ইসলাম স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রতি শনিবার তাকে নানাভাবে যৌন হয়রানি করতেন। একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা ফাঁস না করার জন্য তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন মাজেদুল। এরপর থেকে প্রতি শনিবার স্ত্রী স্কুলে চলে যাওয়ার পর নিয়মিত তাকে ধর্ষণ করে আসছিলেন তিনি।

গৃহকর্মী আরও জানায়, কয়েক মাস পর তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখা দেয়। বিষয়টি দেখে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম দুই মাস আগে পিঙ্গলহাটি গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের দুই মাস পার হলেও পিরিয়ড না হওয়ায় শাশুড়ি তাকে ওষুধ খাওয়ান। পরে তিনি একটি মৃত ছেলে সন্তান প্রসব করেন।

কিন্তু বিয়ের দুই মাসের মাথায় সাত মাসের সন্তান প্রসব হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে সমালোচনা শুরু হয়। পরে সবাই বিষয়টি জেনে যায়। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় মৃত সন্তানসহ তাকে বাবার বাড়িতে রেখে যায় স্বামী ও শাশুড়ি।

এরপর বিষয়টি সবাইকে খুলে বলেন ওই গৃহকর্মী। তিনি জানান, তার সন্তানের বাবা বাস্তবে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম।

এদিকে বিষয়টি গৃহকর্মীর পরিবার ও স্থানীয়দের জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সবাই। গতকাল দুপুরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামের বাড়ি ঘেরাও করেন এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের বিচার চেয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি মাজেদুলের শাস্তির দাবি জানান তারা। তবে ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পরই পালিয়ে যান মাজেদুল ইসলাম।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জামালপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেমুজ্জামান বলেন, গৃহকর্মীর ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতনের ঘটনায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়েছে। গৃহকর্মীর গর্ভের মৃত সন্তানের ময়নাতদন্ত ও শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

এদিকে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য ওই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌শূণ্য সমুদ্রে তাকিয়ে তাকিয়ে স্বজনের মৃত্যু দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না


ভূমধ্যসাগরে বড় বোট থেকে ছোট একটি প্লাস্টিকের বোটে তোলা হলো প্রায় ৭৫ জন অভিবাসীকে। তাতে স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। গাদাগাদি করে তাতেই উঠতে হয় তাদের। এর ১০ মিনিটের মধ্যে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ডুবে যায় বোটটি। আর চোখের সামনে একে একে মানুষ নির্মমভাবে মরতে থাকেন। সাহায্যের জন্য করুণ আকুতি তখন সমুদ্রপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে। দূরে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে এসেছে সেই আহাজারি। কিন্তু শূণ্য সমুদ্রে তাকিয়ে তাকিয়ে স্বজনের মৃত্যু দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না বাংলাদেশী অভিবাসী আহমেদ বিলালের (৩০)।

তার বাড়ি সিলেট অঞ্চলে। এমন মৃত্যু আর ভয়াবহতা দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেছিলেন। বলেছেন, বয়সে ছোট আমার দুই নিকট আত্মীয় পানিতে হারিয়ে গেলো। তাকিয়ে দেখলাম আর চিৎকার করলাম। কান্না থামাতে পারছিলাম না কোনোভাবে। সেই ভয়াবহ দৃশ্যকে কোনোভাবেই ভুলতে পারছেন না বিলাল। এখনও হাউমাউ করে কাঁদছেন তিনি। মৃত্যুবীভিষিকা তার বুকে সৃষ্টি করেছে এক আতঙ্ক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

তিউনিশিয়া উপকূলে নৌডুবিতে মারা গেছেন কমপক্ষে ৬০ অভিবাসী। এর বেশির ভাগই বাংলাদেশী। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৬ জনকে। তার মধ্যে ১৪ জনই বাংলাদেশী বলে জানাচ্ছে রেড ক্রিসেন্ট। তাদের অন্যতম আহমেদ বিলাল। তিনি বলেছেন, ৬ মাস আগে থেকে তার ইউরোপ যাত্রার মিশন শুরু হয়েছিল। অন্য তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চলে যান দুবাইয়ে। সেখান থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। ইস্তাম্বুল থেকে তারা একটি ফ্লাইটে করে চলে যান লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি। বিলাল বলেন, সেখানে আরো প্রায় ৮০ জন বাংলাদেশীর সঙ্গে যোগ দিই আমরা। আমাদেরকে তিন মাস লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে একটি রুমে আটকে রাখা হয়েছিল। এ অবস্থায় মনে হয়েছিল, ওই লিবিয়াতেই বুঝি মারা যাবো। দিনে মাত্র একবার আমাদেরকে খাবার দেয়া হতো। তাও পরিমাণে কম। এই ৮০ জন মানুষের ব্যবহারের জন্য ছিল মাত্র একটি টয়লেট। আমরা গোসল করতে পারতাম না। পারতাম শুধু মুখ ধুতে। দিনরাত শুধু কাঁদতাম আমরা। খাবার চেয়ে কান্নাকাটি করতাম।

আহমেদ বিলালের যখন বাড়ি ছাড়েন তখন আন্দাজ করতে পারেন নি এই সফরের পরিণতি কি হতে পারে। সিলেটে থাকা অবস্থায় তিনি দেখেছেন বহু মানুষ ইউরোপে বসবাস করছেন। তারা উন্নত জীবন যাপন করছেন। তা দেখে তিনি প্রলুব্ধ হয়েছিলেন। তাই জমি বিক্রি করেছেন। ‘গুড লাক’ ডাকনামের এক বাংলাদেশী পাচারকারীর হাতে এই সফরের জন্য দুই সন্তানের জনক বিলাল তুলে দিয়েছেন প্রায় ৭ হাজার ডলার। তিনি বলেন, ওই পাচারকারী বলেছিল, আমার জীবন উন্নত হবে। সব পাল্টে যাবে। আমরা তাই বিশ্বাস করেছিলাম। আমি নিশ্চিত তিনি এই পথে যত মানুষ পাঠিয়েছেন তার বেশির ভাগই মারা গেছেন।

ডুবে যাওয়া ওই বোটে ছিলেন মিশরের নাগরিক মানজুর মোহাম্মদ মেটওয়েল্লা (২১)। তিনি বলেন, আমাদেরকে বড় বোট থেকে ছোট বোটে নামানো হলো। এর পর পরই তা ডুবে যেতে শুরু করে। আমরা সারারাত সাঁতার কাটতে থাকি হিম ঠাণ্ডা পানিতে। এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন সিলেটের বিলালও। তিনি বলেছেন, এক পর্যায়ে বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহর তরফ থেকে আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে ওই জেলেদের। তাদের বদৌলতে আমরা জীবন ফিরে পেয়েছি। জেলেরা উদ্ধার করেছেন ১৪ জন বাংলাদেশী, মরক্কোর একজন নাগরিক ও মিশরের মেটওয়েল্লাকে। এ জীবনকে তারা দ্বিতীয় জীবন বলে আখ্যায়িত করছেন। এ জীবনেও এক অন্ধকার ভবিষ্যত বিলালের সামনে। তিনি বলেন, আমি সবকিছু হারিয়েছি। এখন আমার আর সম্বল বলতে কিছুই নেই। তাই জীবন বাঁচাতে, পরিবারকে বাঁচাতে এখনও আমি অর্থ উপার্জনের জন্য ইউরোপে যেতে যাই। যে ঝুঁকি নিয়েছি, সেভাবে আর যেতে চাই না।

দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)-এর হিসাবে লিবিয়ায় ৬০০০ অভিবাসীকে আটক করে রাখা হয়েছে এমন এক অবস্থায় যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে অনেক নিচে। পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার খলিফা হাফতার গত মাসে ত্রিপোলিকে দখলে নেয়ার অভিযান শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সেনা বাহিনীর সঙ্গে এ লড়াইয়ে কমপক্ষে ৪৫০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌এরশাদের জাপায় বৈশাখী ঝড়


৯০ বছর বয়সে বয়সের ভারে ন্যুব্জ এইচ এম এরশাদের সঙ্গী এখন হুইল চেয়ার। এক সময়ের দোর্দান্ত প্রতাপশালী এই লৌহমানব এখন চলাফেরা করতে পারেন না। জীবদ্দশায় তার প্রতিষ্ঠিত দল জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে চলছে কামড়াকামড়ি। তিনি যাদের নেতা-মন্ত্রী-এমপি বানিয়েছেন, তাদের ‘বাড়াবাড়ি’ নীরবে হজম করেন। তার স্বপ্নের জাপার ভেতরে উঠেছে বৈশাখী ঝড়। এই ঝড় কি দলকে ভেঙেচুরে নিয়ে যাবে? এক দিকে পরিচ্ছন্ন নেতা ভাই জি এম কাদের; অন্য দিকে দলকে ক্ষমতাসীনদের বি-টিম বানানো স্ত্রী রওশন এরশাদ। নেতাকর্মীদের অভিমত এরশাদ তার বিকল্প ‘নেতা’ চিনতে ভুল করেননি। জাপায় এই বৈশাখী ঝড়ে কেউ আম কুড়াচ্ছেন; আবার কেউ হচ্ছেন ক্ষতবিক্ষত। ৪ মে জি এম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়ায় মূলত এই ঝড়ের আবির্ভাব। এরশাদের এই ‘হঠাৎ’ সিদ্ধান্তে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা; কিন্তু নাখোশ বর্তমান সরকারের সুবিধাভোগী রওশনপন্থীরা। তাদের আশা, আবারো এরশাদের মত পরিবর্তন হবে। জি এম কাদেরকে সরিয়ে তাদের পক্ষভুক্ত কাউকে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসাবেন আনপ্রেডিক্টেবল এরশাদ। তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও প্রত্যাশা করছেন। তবে দলের সাধারণ নেতারা বলছেন, শারীরিকভাবে অসুস্থ এরশাদ নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে আর চিন্তা করবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ নানান সীমাবদ্ধতার মধ্যে কেন্দ্র ও তৃণমূলে জি এম কাদেরের যে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, অন্যদের তা নেই।

এরশাদ দলের কিছু নেতার ওপর ত্যক্ত-বিরক্ত। তাদের তিনি ভবিষ্যতে দলের জন্য হুমকি মনে করে থাকেন। এ কারণে তাদের খপ্পর থেকে নিজের সম্পদ রক্ষায় বনানী থানায় জিডি করেছেন এইচ এম এরশাদ। দলের এই নেতাদের কেউ কেউ তার (এরশাদ) সই জাল করে স্থায়ী-অস্থায়ী সম্পদ লুটে নিতে পারেন বলে জিডিতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া জি এম কাদের চাচ্ছেন বিএনপির অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংসদে জাপাকে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ করতে। সারা দেশে জাতীয় পার্টিকে ছড়িয়ে দিতে। কিন্তু ঝড় তোলা রওশনপন্থীরা চাচ্ছেন ক্ষমতাসীনদের অনুগত থেকে কিছু পেতে। কেউ কেউ মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর জন্য দেনদরবার করছেন এবং দলকে কাজে লাগিয়েই একসঙ্গে সরকার ও বিরোধী থাকতে চাচ্ছেন।

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপিকে ‘ভাড়াটে নেতা’ দিয়ে দল পরিচালনা করতে হলেও এরশাদের জাতীয় পার্টিকে সে অবস্থায় পড়তে হয়নি। সুবিধাবাদী রাজনীতি এবং গণবিচ্ছিন্ন চিন্তাধারার কারণে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন দলটি এখনো নেতাশূন্য নয়। দলটির নেতাকর্মীদের মতে, এরশাদের বিকল্প নেতা দলে সৃষ্টি হয়েছে। যোগ্য ব্যাক্তিকেই বেছে নিয়েছেন এরশাদ। তবে ঝামেলা পাকিয়েছেন রওশন এরশাদসহ কয়েকজন সুবিধাবাদী নেতা। দলের শক্তি বৃদ্ধির চেয়ে সরকারের অনুগত হয়ে কিছু পাওয়ার চেষ্টায় তারা সব সময় ব্যতিব্যস্ত থাকেন। দলে এদের কাউকে কাউকে আবার বলা হয় ‘বসন্তের কোকিল’। সুসময়ে থাকেন অসময়ে উড়ে যান। যাকে নিয়ে তাদের এই গুঞ্জন সেই রওশন এরশাদ দেশের অন্য দুই শীর্ষ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মতো জনমনা নেত্রী নন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতি করা এবং দলকে সুসংগঠিত করার প্রয়াসও তার মধ্যে নেই। ১৯৯৫ সালে মিজানুর রহমান চৌধুরী যখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তখন বন্দী এরশাদের চিঠি পেয়ে রওশন এরশাদ ও জিনাত মোশাররফকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করতে বাধ্য হন। জিনাত এখন সুদূর অতীত। জাপার নেতারা জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে রওশন এরশাদ ইশপের গল্পের রাক্ষস চরিত্রের ভূমিকায় আবতীর্ণ হন। রাক্ষস যেমন মানুষের গন্ধ পেলে অস্থির হয়ে ওঠে; তেমনি রওশন টাকার গন্ধ পেলে অস্থির হয়ে ওঠেন। এ জন্যই রওশন এরশাদ স্বামী এরশাদকে বাদ দিয়ে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ওয়ান-ইলেভেনের কারণে ওই নির্বাচন বাতিল করা হয়। বনানীর হাওয়া ভবনে রওশনের ছিল নিত্য যাতায়াত। ওই বছরই তিনি জাতীয় পার্টি থেকে এরশাদকে বহিষ্কার করে নিজেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। বর্তমানে সউদী আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহকে করেন দলের মহাসচিব। ওই একই কারণে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি অংশগহণ করেন। তার তাছে অর্থই সব দলের আদর্শ, নীতি-নৈতিকতা অর্থহীন। রওশন এরশাদের এই দুর্বলতা বুঝতে পেরে কয়েকজন নেতা তাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের বি-টিম করে রাখার কৌশল গ্রহণ করেন। এসব তথ্য দলটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

জাতীয় পার্টি নিয়ে গত কয়েক মাসে নানান খেলা হয়েছে। জি এম কাদেরকে দল ‘উইল’ করে দেয়া, তাকে ভবিষ্যৎ দলের নেতা এবং সংসদে বিরোধী দলের উপনেতার পদে বসানো হয়। পরবর্তীকালে তাকে দলের কো-চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলের উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। জি এম কাদেরকে সরিয়ে দিয়ে সংসদের উপনেতা করা হয় রওশন এরশাদকে। জি এম কাদেরকে তার কো-চেয়ারম্যান পদ ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার নেতারা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা প্রয়োজনে দল থেকে পদত্যাগ এবং রংপুর বিভাগে জাতীয় পার্টির কার্যক্রম প্রতিহতের ঘোষণা দেন। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ’৯১ সালের নির্বাচনে এরশাদের মনোনয়ন পত্র বৈধ করার দাবিতে আন্দোলনের আদলে জি এম কাদেরের পদ ফিরিয়ে দেয়ার দাবির আন্দোলনের ঘোষণা ও আল্টিমেটাম দেন। বাধ্য হয়েই এরশাদ জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান পদে পুনরায় বসান। ৪ মে জি এম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। অতঃপর জি এম কাদের বলেন, এরশাদ যতদিন বেঁচে রয়েছেন তার নির্দেশেই দল চলবে। আমরা তার ইচ্ছামতো কাজ করব। আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে রুটিন ওয়ার্ক করার জন্য। আমি রাজা বা জমিদার হওয়ার রাজনীতি করি না। দলের সবাই মিলে রাজনীতি করব। দলকে শক্তিশালী করে এরশাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। কিন্তু বেঁকে বসেছেন সুবিধাবাদী নেতারা। জানতে চাইলে পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় বলেন, জি এম কাদের জাতীয় পার্টির যোগ্য উত্তরসূরি। এরশাদের অসমাপ্ত কাজ, তার স্বপ্ন আগামীতে জি এম কাদেরের নেতৃত্বেই বাস্তবায়ন হবে। জাতীয় পার্টি ও এরশাদ পরিবার একই সূত্রে গাঁথা। যারা নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে পরিবারের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছেন, তারা ভবিষতে মীরজাফর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন। দলের প্রেসিডিয়ামের এক সদস্য বলেন, যদি ভোটও হয় তাহলে দলের ভবিষ্যৎ নেতা নির্বাচিত হবেন জি এম কাদের। দলে অন্য যারা রয়েছেন তারা বিতর্কিত। তাদের কারোই ব্যক্তি ইমেজ ও কর্মকান্ড পরিচ্ছন্ন নয়। কিন্তু জি এম কাদের পরিচ্ছন্ন এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। তবে তার দুর্বলতা তিনি কর্মীবান্ধব নন। কিন্তু দলের কিছু নেতা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য রওশন এরশাদকে ব্যবহার করে জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের বি-টিম বানিয়ে রেখে এরশাদের জীবদ্দশায় দলকে ‘শেষ’ করতে চাচ্ছেন।

এর মধ্যে গত ৯ মে এরশাদ পার্টির গঠনতন্ত্রে ২০১ক ধারা মোতাবেক ৮ জনকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেন। নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন- সৈয়দ দিদার বখত (সাবেক মন্ত্রী), কাজী মামুনুর রশিদ (ব্যবসায়ী), জাফর ইকবাল সিদ্দিকী (সাবেক এমপি), নাজমা আকতার এমপি, আব্দুস সাত্তার মিয়া, আলমগীর সিকদার লোটন (সাবেক ছাত্রনেতা), এমরান হোসেন মিয়া এবং মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি। এর প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।

রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত নেতারা জাতীয় পার্টির এই ঝড় থামানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চাচ্ছেন। তারা চান তিনি জাতীয় পার্টির বর্তমান ঝড়ের একটি সুরাহা করে দেবেন। এরশাদকে চাপ দিয়ে হলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ থেকে জি এম কাদেরকে সরিয়ে অন্য কাউকে বা রওশন এরশাদকে বাসিয়ে দেবেন। অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দলের রওশনপন্থী নেতারা বলছেন, এরশাদ সাহেব কখনোই নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেননি। বিভিন্ন ঘটনা ও সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের দেয়া সিদ্ধান্ত নিজেই পরিবর্তন করেছেন। সেই সূত্রে জি এম কাদেরকে নিয়ে এরশাদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেখানে পরিবর্তন এলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। জি এম কাদের টিকবে না। রওশনপন্থীদের দাবি দলে তাদের অবস্থান দৃঢ় এবং নেতাকর্মীর বেশির ভাগই তাদের সঙ্গে রয়েছেন। ফলে কাউন্সিল হলে জি এম কাদেরের পক্ষে চেয়ারম্যান হওয়া সম্ভব নয়। তবে দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ নেতাই এরশাদের বিকল্প জি এম কাদেরকেই মনে করছেন। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু, মুজিবুল হক চুন্নু, কাজী ফিরোজ রশিদ, রওশন এরশাদসহ অনেকের নাম উল্লেখ করে তারা বলেন, এদের কেউ দলছুট, কেউ অন্যদলে গিয়ে পরে জাপায় এসেছেন। এদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। এরশাদের আলোয় আলোকিত। এরা বিতর্কিত।

সূত্র জানায়, দলটির রওশনপন্থীদের মধ্যে আলোচনা চলছে মন্ত্রী হওয়া নিয়ে। তারা দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের পক্ষ্যে টানতে ইতোমধ্যে গুজব ছড়িয়ে দিয়েছেন তারা কেউ মন্ত্রী কেউ প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন। বিগত দশম জাতীয় সংসদে যেমন সরকার ও বিরোধী দলে জাতীয় পার্টির অবস্থান ছিল; এবারো সেটাই হবে বলে তারা প্রচার করছেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় রয়েছে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুুুজিবুল হক, জিয়াউদ্দিন বাবলু, ফখরুল ইমাম মহিলা এমপি নাজমা আক্তার এবং ব্যারিস্টার শামীম পাটোয়ারীর নাম। এদের মধ্যে দলের মহাসচিব শামীম পাটোয়ারী এবং অন্যরা কেউ মন্ত্রী, কেউ প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন বলে প্রচারণা রয়েছে। মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এদের প্রচারণা কার্যত মিথ্যাবাদী রাখাল বালকের মতো। বাস্তবতায় এদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর হওয়ার বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনাই নেই।

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌জেল থেকে বের হওয়ার সময় নুতন মামলায় গ্রেপ্তার সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু


ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু জামিনে জেল থেকে বের হওয়ার সময় নতুন মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মুক্তি না দিয়ে নতুন মামলায় গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে বলেন, এটি একটি চরম বেআইনি পন্থা। এই পন্থা অবলম্বন করা হয় শুধু বিরোধী দলকে পর্যদুস্ত করার জন্য।

রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী দাবি করেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর সব মামলায় জামিন লাভ করে জেলগেট থেকে বের হওয়ার সময় নতুনয় বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এটা আওয়ামী লীগের এক মহা আবিষ্কার।

সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে পল্টন থানার নতুন দুই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, টুকুকে গত বছর গ্রেপ্তারের পর তাকে বেশ কিছু সময় গুম করে রাখা হয়। গ্রেপ্তারের পর গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরও অসংখ্যবার রিমান্ডে নেয়া হয়। এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের মাধ্যমে দৈহিক ও মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখা হয়। যেমনভাবে করা হচ্ছে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলকে।

রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা অপরাধ করে শাস্তি পেলেও নির্বিঘ্নে মন্ত্রীত্ব করতে পারেন।

উৎসঃ ‌‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌কলেজছাত্রীকে অপহরণ করল ছাত্রলীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন রিপন!


কলেজছাত্রী অপহরণ মামলায় বগুড়ার ধুনট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন রিপনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রিপন ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিম ভরণশাহী গ্রামের গোলাম রহমানের ছেলে। রোববার বিকেলে শেরপুর শহরের ধুনট মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিমভরনশাহী গ্রামের ব্যবসায়ী মাসুদ করিম লিটুর মেয়ে বগুড়া সরকারি মজিবর রহমান মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী। তাকে একই গ্রামের মৃত গোলাম রহমানের ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রিপন দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের ৪ জুন রাত ৮টায় ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন রিপনসহ ৭-৮ জন ওই ছাত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় অপহৃত ছাত্রীর বাবা মাসুদ করিম লিটু বাদী হয়ে ওই রাতেই ইকবাল হোসেন রিপনকে প্রধান আসামি করে এজাহারভুক্ত চারজন এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। অপহরণের পর ধুনট উপজেলার চিকাশী গ্রামের সেতুর পাশ থেকে অপহৃত কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন ধুনট থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোকন কুমার কুন্ড মামলাটি তদন্ত শেষে ইকবাল হোসেন রিপনসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। মামলার প্রধান আসামি ইকবাল হোসেন রিপন জামিন না নিয়ে ১৮ মার্চ ধুনট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রকাশ্যে শোডাউন ও গণসংযোগ করেন।

এ ব্যাপারে ওই সময় জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ হয়। অভিযুক্ত রিপন জানিয়েছিলেন পরোয়ানার ব্যাপারে তিনি অবগত রয়েছেন। জামিন নেয়ার সময় পাচ্ছেন না। সময় হলে জামিন নিয়ে নেবেন।

শেরপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম বলেন, কলেজছাত্রী অপহরণ মামলায় ধুনট থানার গ্রেফতার পরোয়ানামূলে ইকবাল হোসেন রিপনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ধুনট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌আওয়ামী লীগ এখন মাফিয়াদের দলে পরিণত হয়েছে : রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নষ্ট প্রতীকে পরিণত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এদেশে যতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে-ততদিন ভোট ডাকাতি ও সমাজে অবিচার-অনাচারের বাড়বাড়ন্ত থাকবেই।

রোববার (১২ মে) রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশজুড়ে উন্নতির অন্তরালে আর্তনাদ চলছে। এরকম দুরাবস্থা বাংলাদেশে আর কখনো দেখা যায়নি। মানুষের চোখের পানিতে বাংলাদেশের মাটি কর্দমাক্ত, সেই কাদামাটিতে শেখ হাসিনার উন্নয়নের রথ আটকে গেছে। আওয়ামী উন্নয়নের জিকিরে জনমনকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। কারণ আওয়ামী উন্নয়নের আড়ালে যে রক্ত উৎসব চলছে তাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত।

তিনি বলেন, জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নেয়া রাজনৈতিক দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ। গুম-খুন-অপহরণই হচ্ছে এদের বানিজ্য। কারণ এরা সুষ্ঠু নির্বাচন ও চিরন্তন গণতন্ত্রের ধারণা নিজেদের মতো জনগণের মন থেকেও মুছে দিতে চায়। আর এজন্য নির্বাচনের দিনের আগের রাতের ভোটকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। ৩০ ডিসেম্বরের পর নির্বাচন কমিশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, আওয়ামী এমপি-মন্ত্রীরাও মিড নাইট ভোটের গুণকীর্তন করছেন

সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতাকে ঘৃনা করে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এই কারণেই নুসরাত, শাহীনুর, তনু, মিতুর মতো অসংখ্য নারী-কিশোরী প্রতিনিয়ত হত্যার বলি হচ্ছে। এত হত্যা, নারী নির্যাতন-শিশু নির্যাতনের খবরে সংবাদপত্রের পাতা ভরে থাকে। এই ম্যান্ডেটহীন সরকারের কারণেই অসংখ্য মানুষের কান্না ও দীর্ঘশ্বাসে বাংলাদেশের বাতাস ভারী হয়ে আছে।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবস্থান কানাডার সমানঃ আ হ ম মুস্তফা কামাল


অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কানাডার সমান বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

শনিবার রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অংশীদার হবে এমন প্রভাবশালী ২০টি দেশের মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ। গত ৬মে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুকে আইএমএফ ২০২৪ সাল পর‌্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে প্র্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ করেছে তাঁর আলোকে ব্লুমবার্গ-এর করা বিশ্লেষণে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ওই বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগামী অর্থবছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর সেই প্রবৃদ্ধিতে দশমিক ৯ শতাংশ অবদান রাখবে বাংলাদেশের অর্থনীতি। কানাডা অবদান রাখবে ১ শতাংশ। থাইল্যান্ড-স্পেনও ১ শতাংশ করে অবদান রাখবে।

আগামী ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের এই অবদান অব্যাহত থাকবে বলে ব্লুমবার্গ-এর গবেষণার বরাত দিয়ে তথ্য দেন মুস্তফা কামাল।

‘সে তথ্যের ভিত্তিতেই আমি বলছি, প্রবৃদ্ধিতে আমরা কানাডার সমান। স্পেন-থাইল্যান্ডের সমান। আর এটা আমার কথা নয়; আইএমফের কথা। বিশ্ব ব্যাংকের কথা।’

‘শুধু তাই নয়, কয়েক দিন আগে ফিজিতে এডিবির বার্ষিক সম্মেলনেও বলা হয়েছে, চমকপ্রদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ।’

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হওয়ার যে আভাস সরকার দিচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেম।

সরকারের কথার সঙ্গে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিগুলোর তথ্য-উপাত্ত মেলে না দাবি করে সংস্থাটি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সরবরাহ করা তথ্য-উপাত্তগুলো পুনঃপর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডিও সরকারের প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল।

গত জানুয়ারিতে টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়া আওয়ামী লীগ সরকার চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হবে বলে আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) তথ্য হিসাব করে আভাস দিয়েছে।

সরকারের এই প্রাক্কলনের কাছাকাছি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের আভাস দিয়েছে এডিবি; তারা বলছে এই অঙ্ক ৮ শতাংশ হতে পারে। তবে বিশ্ব ব্যাংক বলছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর এ সব সমালোচনার জবাবে মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘তাদের কাজ তারা করবে; আমার কাজ আমি করবো। তবে তাদের হোমওয়ার্ক করে তথ্য দেয়া উচিৎ। আমি তথ্য নিয়ে কথা বলি। আমি মানে বাংলাদেশ…। আমি সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই কথা বলি।’

‘আমি কারো নাম বলছি, তবে অনেকেই অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলেন। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করে বলছি…। আসেন, গোলটেবিল আলোচনায় বসি…। আমি বা বিবিএস যে তথ্য দিচ্ছে সেটা যে সঠিক তা প্রমাণ করে চাড়ব।’

‘দুঃখ একটাই, বিশ্ব ব্যাংক-আ্ইএমএফ-এডিবি আমাদের প্রশংসা করছে। আর আমাদের এখানকার কয়েকজন সেটা মেনে নিচ্ছে না বা মেনে নিতে পারছে না।’

‘এ সব সংগঠনের কাজই সরকারের সমালোচনা করা। তারা বছরে কিছু প্রোগ্রাম করে আর সরকারের সমালোচনা করে। এটা তাদের বাৎসরিক রুটিন হয়ে গেছে।’

ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত

তবে বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কমেছে বলে যে তথ্য বেসরকারি সংস্থাগুলো দিচ্ছে তা ঠিক আছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘জিডিপির তুলনায় আমাদের ট্যাক্স অনেক কম। ১০ থেকে এখন ৯ এ নেমে এসেছে। এটা অবশ্যই বাড়ানো দরকার। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কম হলেই যে প্রবৃদ্ধি কমবে এটা ঠিক নয়।’

‘আমাদের অর্থনীতির প্রায় ৮০ শতাংশই ইনফরমাল ইকনোমি। এই ইনফরমাল ইকনোমি জিডিপিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে।’

‘তবে ট্যাক্স বেশ ভালোই বেড়েছে’ তথ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছরে কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সেটার লক্ষ্য ধরা আছে ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। হয়তো লক্ষ্যের পুরোটা আদায় হবে না। কিন্তু কাছাকাছি তো হবে।

‘হিসাব করলে দেখা যাবে, এই কয় বছরে কর আদায়ের পরিমাণ চার গুণ বেড়েছে।’

নতুন ভ্যাট আইন ১ জুলাই থেকেই

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মুস্তফা কামাল বলেন, আগামী অর্থবছর থেকেই নতুন ভ্যাট আইন কার‌্যকর করা হবে।

“এ বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজস্ব বোর্ডের প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। ভ্যাট আইনের যেসব ধারায় ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানিয়েছেন তা নিয়ে এনবিআরকে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসে সমাধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের কোনো দুর্বলতা মেনে নেওয়া হবে না।”

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌আমরা রাতের আধারে ভোটের বাক্স ভরেছি! বিএনপি কেনো ভরতে পারল না?: মোশাররফ


স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, অনেকে বলেন আমরা নাকি ভোটের আগের রাতের আধারে ভোট কেটে বাক্স ভরে জিতেছি! আমরা যদি সত্যি সত্যিই ভোট কেটে বাক্স ভরেই জিতে থাকি তাহলে বিএনপি কেনো রাতের আধারে ভোটের বাক্স ভরতে পারলো না? আমরা কি তাদের বাঁধা দিয়েছিলাম? আমরা না হয় বাক্স ভরলাম, তোমাদের বাক্স খালি কেনো? তোমাদের ভোট গেলো কোথায়?

শনিবার দুপুরে ফরিদপুর শহরের বদরপুরে অবস্থিত আফসানা মঞ্জিলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত ফরিদপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় দ্বারা বাস্তবায়িত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বয়স্ক, বিধবা ও অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধি ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ভোট পেতে হলে জনগণের পাশে থাকতে হয়। বিএনপি জনগণের পাশে ছিলো না বলেই তারা ভোট পায়নি। অপরদিকে, শেখ হাসিনা একজন জনদরদি নেত্রী বলেই তাকে জনগণ ভোট দিয়েছে। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শুরু করেছে। এর আওতায় অবহেলিত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে প্রতিমাসে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেশের মাথাপিছু আয় ছিলো ৫৩৬ ডলার। এখন সেটি বেড়ে ২১শ’ ডলারে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাই বিশ্বে একমাত্র নেত্রী যিনি নির্দিষ্ট দিনতারিখ ঠিক করে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করছেন। শুধু শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই এটি সম্ভব।

বিএনপি নেত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং এবং একটি দলের সভানেত্রী। অথচ তিনি দুর্নীতির দায়ে আজ জেল খাটছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, যাদের আসলে পরিবারে বোঝা মনে হতো কিন্তু তারা যে মোটেও পরিবারের বোঝা নন বরং সমাজেরই অংশ; এটি বোঝানোর জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বয়স্ক, বিধবা ও অসুস্থ প্রতিবন্ধী ভাতা উপহার স্বরূপ আপনাদের দিয়েছেন।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এসএম আলী আহসান, উপ সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা, বিধবা ভাতাভোগী রাশেদা বেগম ও বয়স্ক ভাতাভোগী শেখ আব্দুল হক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফরিদপুর সদর উপজেলায় ১ হাজার ৮৭১ জন ভাতাভোগীর মাঝে ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৮শ’ টাকা ভাতা বাবদ প্রদান করা হয়। এরমধ্যে বয়স্ক ও বিধবা ভাতাপ্রাপ্তগণ প্রতি মাসে ৫শ’ টাকা করে এবং অসুস্থ শারীরিক প্রতিবন্ধীরা প্রতিমাসে ৭শ’ টাকা করে ভাতা পান। বর্তমানে ফরিদপুর সদর উপজেলায় ১১ হাজার ৮শ’ ৬৯ জন বয়স্ক ভাতা, ২ হাজার ১শ’ ৮৫ জন বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা এবং ২ হাজার ৬শ’ ৭৮ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। এ বাবদ তাদের মাঝে এ বছর ৮ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার ৬শ’ টাকা প্রদান করা হবে।

উৎসঃ ‌‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন!


দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন! কি! অবাক হচ্ছেন?

আজ অধিকাংশ জাতীয় পত্রিকায় ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি সদস্য সনাক্তকরণের (রেডিক্যাল ইন্ডিকেটর) নিয়ামকসমূহ’ নামে একটি পোষ্টার ছাপানো হয়েছে। সেখানে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের জন্য কিছু লক্ষণের কথা বলা হয়েছে। যে লক্ষণগুলো দেখলে তাকে জঙ্গি হিসেবে সন্দেহ করা যাবে। সেই সন্দেহের মধ্যে ইসলামের আবশ্যক পালনীয় দাড়ি রাখা, টাখনুর উপর কাপড় পড়াসহ বেশ কিছু লক্ষণকে জঙ্গি লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পোষ্টারে উল্লিখিত জঙ্গি লক্ষণের মধ্যে রয়েছে- ধর্ম চর্চার প্রতি ঝোঁক; গায়ে হলুদ, জন্মদিন পালন, গান বাজনা ইত্যাদি থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখা; মিলাদ, শবেবরাত, শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনা করা ইত্যাদি।

পূর্বে এ ধরণের পোষ্টার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক প্রচারিত হলেও আজকের পোষ্টারটির নিচে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের নামে প্রকাশ করা হয়েছে। জানা যায়, ধর্মনিরপেক্ষতার স্লোগানকে ধারণ করে গত বছরের জুলাই মাসে এই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ হলো একটি কথিত অসাম্প্রদায়িক সংগঠন। এর আহবায়ক হলো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দোপধ্যায়। সংগঠনটির সাথে আছেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এছাড়াও আছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, আবেদ খান, শামীম মো. আফজাল প্রমুখ। 😡

জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার ৪টি ধাপের কথা বলা হয়েছে পোষ্টারে। তার প্রথম ধাপেই রয়েছে- তাওহীদ, শিরক, বেদাত, ঈমান, আকীদা, সালাত, ইসলামের মূলনীতি, দাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা।

এদিকে ইসলামের মৌলিক রীতি নীতিকে জঙ্গিবাদের লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ধর্মীয় আলেম ও ওলামারা। তারা এসব বিষয় জঙ্গিবাদের লক্ষণ থেকে অপসারণের দাবি জানান।

তবে ইসলামের মৌলিক কিছু বিষয়কে জঙ্গি লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরে বিতর্কিত কাজ করলেও সত্যিকারের কিছু জঙ্গি লক্ষণও তুলে ধরা হয়েছে পোষ্টারে। যেমন- ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকৃত নামে রেজিষ্ট্রেশন না করা; কুরআন হাদিসের অরিজিনাল কপি না পড়ে অনলাইন থেকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া; টার্গেট কিলিং, জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করা, অস্ত্র গোলাবারুদ সংগ্রহ ও ব্যবহার করা ইত্যাদি।

এইরকম ইসলামোফোবিক প্রকাশনা কোন অমুসলিম দেশেও সম্ভব না। সম্ভব হলো কেবল একমাত্র দিল্লীর সরকারের মদদপুষ্ট ও সমর্থিত আওয়ামীলীগ সরকারের দেশে।

উৎসঃ ‌‌নতুন দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌হুমায়ন আজাদের মৃত্যুর জন্য মাওলানা সাঈদী দায়ীঃ শাহরিয়ার কবির


একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, হুমায়ন আজাদের মৃত্যুর জন্য মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী দায়ী।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন শাহরিয়ার কবির।

তিনি বলেন, সাঈদীর কোন বিচার হল না। তার ওয়াজে সুস্পষ্ট ভাবে হুমায়ন আজাদের বিষয়ে কুৎসা করা হয়েছে। দুষ্কৃতিকারীরা তার ওয়াজ শুনে অনুপ্রাণিত হয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমি একটি কথা খোলামেলা ভাবেই বলতে চাই, আইএস, আলকায়দা, জামায়াতে ইসলাম সব একই সূত্রে গাঁথা ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। এরা জঙ্গিবাদের জন্য দায়ী।

শাহরিয়ার কবির বলেন, আমরা যদি চুনোপুঁটি না হতাম তবে আমাদেরকে যারা হত্যার হুমকি দিচ্ছে, তাদের অবশ্যই আইন শৃঙ্খলাবাহিনী গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করেই তিনি বলেন, আমরা কি দেখতে পাই শেখ হাসিনাকে কেউ কোন কটূক্তি করার সঙ্গে সঙ্গে অজপাড়া গ্রাম থেকেও গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হয়।

অথচ আমাদের মত চুনোপুঁটি মানুষদের হত্যার হুমকি দেওয়ার পর কার্যত কোন ব্যবস্থা না নেওয়া দুঃখজনক। এটা কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়। আমরাও তো মানুষ? সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছাড়ানোর অপচেষ্টায় এসব হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমার মত যারা মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক কথা বলে বিশেষ করে মামুন, জাফর ইকবাল, সুলতানা কামাল ছাড়াও এমন ১৫০ লোককে হত্যার হুমকি প্রতিনিয়তই দেওয়া হচ্ছে।

উৎসঃ ‌‌bangladeshtoday

আরও পড়ুনঃ ‌২০২০ সাল মুজিব বর্ষ, ‘২১ সাল ডিজিটাল বর্ষ এবং ‘২২ সাল হাসিনা বর্ষ: পলক


সিংড়ার মাটিতে আগামী ২০২০ সালে শেখ মুজিব বর্ষ, ২০২১ সালে ডিজিটাল বর্ষ এবং শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিবস উপলক্ষে আগামী ২০২২ সালে শেখ হাসিনা বর্ষ উদযাপনের ঘোষণা করলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাড জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি।

শুক্রবার বিকালে সিংড়া পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সাধারণ সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পরপর ৩টি বর্ষ উদযাপনের এই ঘোষণা দেন।

এ সময় তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড ওহিদুর রহমান শেখকে আহ্বায়ক করে তৃণমুল নেতা কর্মীদের নিয়ে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট মুজিব বর্ষ উদযাপন কমিটি গঠন করার আহবান জানান। প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ‘ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না। আর দেশ স্বাধীন না হলে আমরা চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী হয়ে এভাবে দেশ সেবার সুযোগ পেতাম না। তাই আমরা আগামী ২০২০ সালে সিংড়ার মাটিতে জাঁকজমকপুর্ণ ভাবে মুজিব বর্ষ উদযাপন করবো। পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে ডিজিটাল বর্ষ এবং তার পরের বছর মুজিক কন্যা শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্ম দিবস উপলক্ষে শেখ হাসিনা বর্ষ উদযাপন করবো।’

তিনি বলেন, ‘এই ৩ টি বর্ষ উদযাপনের জন্য আমাদের সবার প্রস্তুত থাকতে হবে ‘

সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কোন অনৈক্য নেই। সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী সংগঠন। আজকের এই রমজান মাসের প্রখর গরমে তৃনমুল নেতা কর্মীদের উপস্থিতিই তাই প্রমাণ করে। আমরা আগামী দিনেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার যে কোন নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালনের জন্য প্রস্তুত আছি ইনশাআল্লাহ।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড ওহিদুর রহমান শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আগে বক্তব্য রাখেন সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান, উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক, উপজেলা উলামা লীগের সভাপতি মাও আব্দুর শাকুর, মাও আব্দুর বারি রশিদী, মাওলানা সুমনসহ আরও অনেকে।

উৎসঃ ‌‌ইত্তেফাক

আরও পড়ুনঃ ‌অবরুদ্ধ খালেদা জিয়াকে যেভাবে নিরাপত্তা দিয়েছিল জামায়াত!


শিরোনামটা দেখে আপনার কাছে নিশ্চয় অদ্ভুত মনে হচ্ছে। আর বিষয়টি অদ্ভুত মনে হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, খালেদা জিয়া এদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সবচেয়ে বড় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। শেখ হাসিনা প্রতিদিন তাকে দুর্নীতিবাজ, অশিক্ষিত ও খুনি বলে গালি দিলেও আসলে খালেদা জিয়াই এদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। সরকারের বাইরে থেকেও তিনি যথেষ্ট নিরাপত্তা পেয়েছেন। পুলিশ ছাড়াও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীও রয়েছে। এছাড়া দলীয় লোকজনতো আছেনই। এরমধ্যে আবার জামায়াতকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা দিতে হবে কেন? আর খালেদা জিয়াও জামায়াতের নিরাপত্তা নেবে কেন? এমন প্রশ্ন সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক।

বিষয়টা একটু খোলাসা করলেই সব প্রশ্নের জবাব পাঠকরা পেয়ে যাবেন। খালেদা জিয়ার একটা বিশেষ ক্রাইসিস মুহূর্তে পর্দার আড়াল থেকে নিরাপত্তার দিকটাসহ সার্বিক খোঁজ খবর রাখতেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। সময়টা ছিল ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত টানা ৩ মাস অবরোধের সময়। ওই সময় খালেদা জিয়া তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় টানা অবরোধের ঘোষণা দেয়ার পর ওই দিন প্রেসক্লাবে ঢুকে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরের দিন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতারা তাকে প্রেসক্লাব ছাড়তে বাধ্য করেন। প্রেসক্লাবের গেট থেকে মির্জা ফখরুলকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর ক্রমান্বয়ে বিএনপির আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে আটক করে পুলিশ। আর বাকীরা চলে যায় আত্মগোপনে। তবে, খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে অবরোধ সফল করতে মাঠে নেমে আসে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর মাঠে নামার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। তারা শুধু খালেদা জিয়ার ঘোষণার অপেক্ষা করছিল।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে যখন সারাদেশ উত্তাল, তখন গুলশানের কার্যালয়ে আটকা পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতাকর্মীরা তখন গুলশানের কার্যালয়ে প্রবেশ করাতো দূরের কথা গুলশানের কোনো রাস্তায় তারা নামতে পারেনি। তখন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্য কেউ গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেনি।

ওই সময় দেখা গেছে, অবরোধের তৃতীয় দিন সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের উত্তর পাশের সড়কের পূর্ব মাথায় স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে অন্য আরেকটি গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ওই গ্রপটির পরিচয় জানা না গেলেও পরে জানা গেছে তারা জামায়াত-শিবিরের লোক ছিল।

যেভাবে নিরাপত্তায় ছিল জামায়াত

টানা অবরোধের সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপির নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘেরাওয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার অফিসে কয়েক দফা হামলাও চালানো হয়েছে। এমনকি একজন মুক্তিযোদ্ধা অস্ত্র হাতে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের গেটের সামনে গিয়ে খালেদা জিয়াকে গালাগালি করেছেন। র‌্যাব-পুলিশসহ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে। এমন আরও বহু ঘটনা তখন ঘটেছে।

তবে, প্রতিদিন কারা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে যেতো, সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা গুলশান কার্যালয় ঘেরাও করতে গিয়ে কখন কোন সড়কের কোথায় অবস্থান নিতো সব খবরই রাখতেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন লোক পালা বদল করে সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত গুলশান কার্যালয়ে সামনে অবস্থান করতেন। জামায়াতের একটি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক ওই এলাকায় অবস্থান করতো।

বিষয়টিকে সরাসরি তদারকি করতেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল। আর স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করতেন বাড্ডা, গুলশান ও বনানী এলাকার জামায়াতের ৬ জন দায়িত্বশীল। বিশেষ কারণে- এখানে ওই ছয়জনের নাম উল্লেখ করা গেল না।

দেখা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান যেদিন দল বল নিয়ে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করার জন্য গিয়েছিলেন সেদিন গুলশানের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মীকে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। কথা বললে একজন জানিয়েছিলেন, তারা উপরের নির্দেশে এসেছেন। কেউ যদি খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা করে তাহলে তারাও প্রতিরোধ করবেন। এভাবে তারা পুরো তিন মাস নিজেদের লোক দিয়ে গুলশান এলাকার সব খবর নিতেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্যও প্রস্তুত থাকতেন।

পরবর্তীতে স্থানীয় একজন সমন্বয়কের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান- খালেদা জিয়া তাদের জোটের শীর্ষনেতা। তিনি শুধু গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার আদায়ের জন্যই আজ সরকারের রোষানলের শিকার। জোটের অন্যতম শরিক হিসেবে তার বিষয়টি দেখাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তার প্রতি ভালবাসা, বিশ্বাস এবং আস্থা থেকেই আমরা এ ব্যবস্থা নিয়েছিলাম।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌২০ দলীয় জোট রক্ষায় কত জীবন ও রক্ত দিয়েছে জামায়াত?


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্যই ১৯৯৯ সালের ৩০ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট। এই জোট গঠনে মূলত মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির অধ্যাপক গোলাম আযম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে তখন গঠিত হয়েছিল ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলসহ আরও কয়েকটি সংগঠন নিয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য।

চারদলীয় জোট আর সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের আন্দোলনের মুখে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। তখন থেকেই মূলত আওয়ামী লীগ ও ভারত আস্তে আস্তে জামায়াতের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ২০০১-৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে ব্যাপক অপপ্রচার চালায় আওয়ামী লীগ। এছাড়া, বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধার কারণে জামায়াতের ওপর একটা চরম প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগের অপেক্ষায় থাকে আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙ্গার কাজে হাত দেয় আওয়ামী লীগ। এজন্য প্রথমেই তারা ২০১০ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আর ভারতের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এদেশে সবার আগে মাঠে নামে জামায়াত। সেজন্য ভারতের পক্ষ থেকেও জামায়াতকে দুর্বল করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

এদিকে, জামায়াত যখন বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে না আসার সিদ্ধান্তে অটল থাকে তখনই সরকার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথিত মামলায় জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে আটক করে।

ওই সময় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কথিত মামলায় গ্রেফতারের পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদেরকে বলা হয়েছে যে, বিএনপি থেকে আপনারা বেরিয়ে আসলে আপনাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। অন্যথায় যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হবে। কিন্তু, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখন সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি। দল এবং তাদের জীবন ঝুকির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কার পরও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন।

এরপরই শুরু হয় একের পর এক শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাদের মামলা। সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয় শীর্ষনেতাদেরকে। চরম মিথ্যাচার ও বানোয়াট সাক্ষীর মাধ্যমে তারা প্রথমেই অন্যায়ভাবে বিচারের নামে হত্যা করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মোল্লাকে। জানা গেছে, আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার আগেও সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপি জোট ছাড়ার জন্য জামায়াতকে বলা হয়েছে। কিন্তু জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখনো কোনো আপোস করেননি।

এরপর একে একে হত্যা করা হয়েছে জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে। সকলকে ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেও যখন বিএনপি থেকে জামায়াতকে আলাদা করতে পারেনি তখন সরকার জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি, নিবন্ধন বাতিলের আগেও সরকার জামায়াতকে বলেছিল বিএনপি ছাড়ার জন্য।

আর জোটে থাকার কারণেই যে সরকার জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়েছে সেটা বিএনপিও বুঝতে পেরেছে। খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে বিএনপির একাধিক শীর্ষনেতা ওই সময় প্রায় প্রতিদিনই বলতেন যে, শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণেই জামায়াত এখন যুদ্ধাপরাধী। বিএনপি জোট থেকে জামায়াত চলে গেলেই সরকার তাদের ওপর আর নির্যাতন করবে না। কাউকে ফাসিতেও ঝুলাবে না। বিএনপি নেতা হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খন্দকার মোশাররফ হোসেন একাধিক বার বলেছেন যে, ৯৬ সালের নির্বাচনের আগে যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াত বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল তখন তারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আর এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোট বাঁধার কারণেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধীর দল হয়ে গেছে।

অপরদিকে, বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণে জামায়াত শুধু তাদের শীর্ষনেতা এবং নিবন্ধনই হারায়নি। বিগত ১১ বছর ধরে সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে দলটির সারাদেশের নেতাকর্মীরা। জামায়াত-শিবিরের সহ¯্রাধিক মেধাবী নেতাকর্মীকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রিমান্ডের নামে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। বলা যায়-শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণে সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এখন ঘর ছাড়া। কেউ বাসায় থাকতে পারেনি। বিগত ১১ বছরে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মীর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরিচ্যুত হয়েছেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এত নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও নিজেদের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি জামায়াত।

এখনো জামায়াতের প্রত্যাশা, ২০ দলীয় জোট টিকে থাকবে এবং এই জোটের আন্দোলনের মাধ্যমে একদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে। মুক্ত হবে গণতন্ত্র, মানুষ ফিরে পাবে তাদের মৌলিক অধিকার। অবসান ঘটবে দুঃশাসনের।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌মদ খেয়ে মাতলামি: ক্ষমা চাইলেন আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান


ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির একটি অনুষ্ঠানে হুইস্কি খেয়ে নারীকে জড়িয়ে ধরার জন্য অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন টকশো ব্যক্তিত্ব,আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান। এক নারীকে জড়িয়ে ধরার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এর ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের ফেসবুকে ক্ষমা চান তিনি। জানান, প্রায় ৫ বছর পর হুইস্কি খাওয়ায় তিনি অজান্তে এই মাতলামি করে ফেলেন। এজন্য তিনি ক্ষমা চান।

নাঈমুল ইসলামের ফেসবুক পোষ্টটি নতুন দিগন্তের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

“নাসিমা খান মন্টির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টির কাছে আমি নাঈমুল ইসলাম খান নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। গত ২ মে বৃহস্পতিবার ওয়েস্টিন হোটেলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমি অত্যন্ত অনভিপ্রেত, অন্যায় করেছি।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ উপর্যুপরি অনুরোধ করলে আমি ঈষৎ গরম পানি দিয়ে ২ পেগ হুইস্কি পান করি। ৫ বছরেরও বেশি সময় পর প্রায় অনভ্যস্ততার পর্যায়ে ২ পেগ হুইস্কি সম্ভবত আমাকে বেসামাল করে ফেলে। এমন ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘরের আলো আধারি মোহনীয় পরিবেশে আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টিকে কখন যে আমি জড়িয়ে ধরে আমার কাছে টেনে নিয়েছি তখন বুঝতে পারিনি।

কিন্তু উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরদিন শুক্রবার দিন শেষে ঘূর্ণিঝড় ফণী যেভাবে বাংলাদেশে ঝড়বৃষ্টি নিয়ে এসেছে, প্রায় তেমনিই আমার এই অসদাচরণের ছবি ঝড়ো হাওয়া ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অনেক ছবির মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে আমি নাসিমা খান মন্টিকে জড়িয়ে অনেকখানি আমার দিকে কাত করে ফেলেছি। কয়েকটি ছবি বিশ্লেষণে এটা পরিস্কার যে, নাসিমা খান মন্টিকে আমি সম্ভবত নিশানা করে বার বার জড়িয়ে ধরেছি, বিরক্ত করেছি। মন্টির বিনা অনুমোদন এবং বিনা আগ্রহে আমার এই আচরণ খুবই অনুচিত হয়েছে সেটা এখন আমি উপলব্ধি করি।

আত্মপক্ষ সমর্থনে আমার কিছুই বলার নেই। একটি সুন্দর অনুষ্ঠানকে এভাবে অনেকের জন্য অস্বস্তিকর করে তোলায় আমি যারপরনাই লজ্জিত। এমন ঘটনার পুনরাবৃতি যেন না হয় সে জন্য আমি সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

আপনাদের পক্ষে সদয় বিবেচনা করে আমাকে ক্ষমা করা যেন সহজ হয় তার সুবিধার্থে সেই রাতের, সেই ঘটনার কিছু দালিলিক ছবি এখানে যুক্ত করা হচ্ছে।”

উৎসঃ ‌‌দেশ রুপান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here