শেখ হাসিনার কথা ঠিক ‘বাকশাল হলে তো আর ভোট লাগে না’: মাহমুদুর রহমান মান্না

0
322

শেখ হাসিনার বক্তব্যের কটাক্ষ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘উনার (প্রধানমন্ত্রী) কথা তো ঠিকই— বাকশাল হলে তো আর ভোট লাগে না। উনি এখন সে পথেই যাচ্ছেন। মানুষ মানে না বলে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ভোটের নামে ডাকাতি করছেন।’

বুধবার (২৭ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও সাম্প্রতিক রাজনীতি ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে গত ২৫ মার্চ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ভোট প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর গড়ে তোলা বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার থাকলেও এই বাকশাল কার্যকর হলে কেউ জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারত না। জনগণ তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারত।’

আলোচনা সভায় মান্না বলেন, ‘ভোট নিয়ে মানুষের উৎসাহ ও আগ্রহ কমে গেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে যায়নি। উপজেলা নির্বাচনে মানুষ যাচ্ছে না। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্ররা সবকিছু উপেক্ষা করে ভোট দিতে গিয়েছিল, কিন্তু দিতে পারেনি।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে এখন পরাধীনতার সামিল বলেও আখ্যা দেন পর পর দুই মেয়াদে ডাকসুর সাবেক এই ভিপি।

ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করে মান্না বলেন, ‘জিডিপি মানেই উন্নতি না। কিন্তু ‘জিডিপি বেড়েছে’, ‘জিডিপি বেড়েছে’ বলে সরকার মুখে ফেনা তুলছে। এ দিয়ে সুশাসন নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন গণতন্ত্র।’

‘দেশে গণতন্ত্র নেই’ মন্তব্য করে আলোচনা সভায় সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘দেশে এখন চলছে মেগা প্রজেক্ট। যা জনগণের নয়, কিছু মানুষের মেগা উন্নয়ন। এসব মেগা প্রজেক্টের নাম করে শাসকগোষ্ঠী তাদের ক্ষমতাকে আরও পাকাপোক্ত করতে চায়। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায়।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- ডা. জাহিদুর রহমান, রুবি রহমতউল্লাহ ও শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ সত্য কথা বেরিয়ে আসলো, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা কখনোই গণতন্ত্র দিতে পারে না: শেখ হাসিনা


বাকশাল নয়, জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনই গণতন্ত্র নষ্ট করেছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেছেন, সত্য কথা বেরিয়ে আসলো,অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী দল কখনো দেশের মানুষের উন্নতি করতে পারে না। গত কয়েক বছরে এটাই তার পিওর সত্য কথা ।

বুধবার (২৭ মার্চ) বিকেলে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, কৃষক-শ্রমিক-আওয়ামী লীগসহ দেশের সব স্তরের মানুষ, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, সবাইকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসা, দেশের আর্থ-সামাজিক কাজে তাদেরকে সম্পৃক্ত করে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্য এই জাতীয় ঐক্য তিনি গড়ে তুলেছিলেন। তার এ পদ্ধতিতে যে সুফলটা আমাদের সমাজে এসেছিল, মানুষের ভেতরে আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছিল, ঠিক তখনই এই শ্রেণিটা, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারা এবং তাদের আন্তর্জাতিক বন্ধু এরা এক হয়ে যায়। তারা চক্রান্ত শুরু করে। সেই ষড়যন্ত্রের ফলেই আমাদের জীবনে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার, ’৭৫-এর ১৫ আগষ্ট। এ দেশের শিক্ষা-দীক্ষা-স্বাস্থ্য-বাসস্থান কোনোদিকে তাদের নজর ছিল না। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের হাতে সৃষ্ট রাজনৈতিক দল কখনোই গণতন্ত্র দিতে পারে না, দেশের মানুষের কল্যাণও করতে পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে, তারপরেই এ দেশের মানুষ সত্যিকারভাবে গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

উৎসঃ somoynews

আরও পড়ুনঃ ছাত্রলীগের জালিয়াতি শুরু ডাকসুর নামে প্রশাসনে চিঠি, জানেন না ভিপি নুরুল হক নুর!

আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের জুনিয়র সকল কোর্সের আবেদন ফি কমানোর দাবিতে একটি আবেদন করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পক্ষ থেকে। তবে এ চিঠির কথা কিছুই জানেন না ডাকসুর সহ সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর।

আজকেই দেওয়া ওই চিঠিতে ডাকসু’র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: সাদ্দাম হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে। তবে সহ সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের কোন স্বাক্ষর নেই।

এ ব্যাপারে নুরুল হক নুর দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এ ধরণের কোন চিঠির কথা আমি জানি না। এ দাবিতে আমারও সমর্থন আছে। কিন্তু সেটাতো আমার সঙ্গে আলোচনা করা যেত। এটা ডাকসুর নয়, ছাত্রলীগের চিঠি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক বরাবর লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ইনস্টিটিউটের জুনিয়র কোর্সের আবেদন ফি ৭০০ টাকা বহন করা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পক্ষে কষ্টসাধ্য। বহিরাগতদের জন্যও একই ফি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আলাদা কোন সুবিধা পাচ্ছে না।

এজন্য ডাকসুর সদস্য মো. তানভীর হাসান সৈকতের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে ফি ৭০০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন ফি ২০০ টাকা নির্ধারণ করার আগ পর্যন্ত জুনিয়র কোর্সের আবেদন ফরম বিক্রি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে চিঠিতে।

এদিকে ডাকসুর পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠিতে ভিপি নুরুল হক নুরের নাম ও স্বাক্ষর না থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে এজিএস সাদ্দাম হোসেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এ ধরণের চিঠিতে ভিপির নাম থাকে না। সেজন্যই দেওয়া হয়নি।

আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক বরাবর লেখা চিঠি

উৎসঃ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ মাথা সোজা করতে পারছেন না: মির্জা ফখরুল


দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা গুরুতর উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি এতটাই অসুস্থ যে মাথা সোজা করতে পারছেন না, পা বাঁকা করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় চিকিৎসা না দিয়ে খালেদা জিয়াকে সুপরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাগারে এখন এতটাই অসুস্থ যে, তিনি তার কক্ষেও হাঁটতে পারছেন না, অন্যের সাহায্য নিতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় তার কিছু হলে এর দায়ভার সরকারের পাশাপাশি কারা কর্তৃপক্ষকেও গ্রহণ করতে হবে।

খালেদা জিয়ার অবস্থার বর্ণনা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন মাথা সোজা করতে পারছেন না, বসতে পারছেন না। তারপরও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এ নেত্রীকে কোনো রকমের সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, গত সাড়ে তিন মাসে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়নি। তার সুচিকিৎসার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশও মানা হচ্ছে না।

অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে তার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার জোর দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, আবদুল কুদ্দুস, সিরাজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর দণ্ডিত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন। তার সঠিক চিকিৎসার দাবি করে আসছে বিএনপি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও আমরা এমনটি আশা করিনি


৩০শে ডিসেম্বর একটি ভুয়া ভোটের মাধ্যমে অবৈধ সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও আমরা এমনটি আশা করিনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গতকাল স্বাধীনতা দিবসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে এসে ড. কামাল হোসেন এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের মালিক জনগণ। নির্ভেজাল গণতন্ত্র বাস্তবায়ন করে দেশের ক্ষমতা জনগণকে বুঝিয়ে দিতে হবে।

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও দেশের মানুষকে ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। কিন্তু এটা আমরা আশা করিনি। এবার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায় করা হবে।

ড. কামাল বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে এনে ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে হবে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণকে সংগঠিত করে সব কিছু অর্জন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের জন্য দেশ স্বাধীন হয়েছে। অথচ সেই গণতন্ত্রই এ দেশে অনুপস্থিত। এমন অবস্থা চলতে দেয়া যাবে না।

এ সময় তিনি বলেন, সংবিধানের ১৬ আনা বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। ১৬ আনা মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সংবিধানে ঘোষিত মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একতাবদ্ধ হলে তবেই ১৬ আনা মুক্তি আসবে। তিনি বলেন, সংবিধানে স্বাধীনতার লক্ষ্য সম্পর্কে বলা আছে। জনগণ সব ক্ষমতার মালিক। এ মালিকানা থেকে যদি কেউ তাদের বঞ্চিত করে, তবে তারা সংবিধানবিরোধী কাজ করছে, স্বাধীনতাবিরোধী কাজ করছে। কেউ যেন তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে।

ড. কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময় বলতেন, ঐক্য ধরে রাখতে হবে। তার অসাধারণ নেতৃত্বেই জাতি একতা ধরে রাখতে পেরেছিল। আওয়ামী লীগ বর্তমানে বাকশাল ফিরিয়ে আনতে চাইছে বলে যে অভিযোগ বিএনপি নেতারা করেন- সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ড. কামাল বলেন, একনায়কতন্ত্র যেন না আসে সেটাই ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা তো বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সংবিধানে বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা লিখেছিলাম। তিনি বলেন, ১৬ আনা মুক্তি পেতে গেলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা ও শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও বাস্তবে রূপ দিতে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। ঐক্যফ্রন্টের এ শীর্ষ নেতা বলেন, জনগণের ঐক্য হলো সব শক্তির ভিত। সেই শক্তি থেকে যারা আমাদের বঞ্চিত করতে চায়, তারা জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। এই জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণকে সংগঠিত হয়ে সব কিছু অর্জন করতে হবে। গণতন্ত্র সুসংগঠিত করতে ইলেকশন হয়, কিন্তু আমরা নির্ভেজাল ইলেকশন পাচ্ছি না।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‘গণতন্ত্রের শর্তগুলো ভিত্তি পায়নি স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও’


বাংলাদেশে এবার স্বাধীনতার ৪৮তম বার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন দেশটিতে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং বাকস্বাধীনতার অবস্থা নিয়ে গুরুতর সব প্রশ্ন উঠছে। স্বাধীনতার চেতনার অন্যতম ভিত্তি বলে বিবেচিত এই বিষয়গুলো এত বছর পরও কেন বাংলাদেশে নিশ্চিত করা যায়নি?

এ বছরের স্বাধীনতা দিবসে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচিতেও বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার নিশ্চিত করার দাবিগুলো উঠে এসেছে।

মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, ভিন্নমতের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণু অবস্থান নিয়ে সরকার কথা বলার স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত করেছে। দেশে একটা ভয়ের সংস্কৃতি চালু হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে প্রায়ই কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়া বা গুমের অভিযোগ অব্যাহত আছে।

মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এখন আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশ্ন উঠছে। তবে এর পেছনে একটা প্রেক্ষাপট আছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

তার মতে, বিভাজনের রাজনীতির কারণেই পরিস্থিতি একটা চরম অসহিষ্ণু অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন,‘দীর্ঘ ২০ বছর তো বাংলাদেশ সেই ধরণের একটা শাসনের মধ্যে থাকলো। সামরিকতন্ত্র, সেখানে ধর্মকে ফিরিয়ে আনা, বিভাজনের রাজনীতি, তারপর একে অপরকে বিশ্বাস না করা, ঐ সময় কতগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটে গেছে – সবকিছু মিলে স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পরিবেশটাই তো নষ্ট হয়ে যায়।’

সুলতানা কামাল আরো বলেন,‘তারপরে যখন মুক্তিপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় এলো, তারা এমন একটা নাজুক অবস্থার মধ্যে নিজেদেরকে পেলো যে, গণতন্ত্রের যে শর্তগুলি, সেগুলি চর্চা করতে দিতে তারা যেন কোথাও কোথাও দ্বিধাগ্রস্ত থাকতো। কোথাও না কোথাও তারা একটা সন্দেহের মধ্যে থাকতো। যতদিন জনগণের প্রতি আস্থা প্রতিষ্ঠা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত যে বিষয়গুলো নিয়ে আজ প্রশ্ন উঠছে, প্রশ্ন উঠতেই থাকবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, জেনারেল এরশাদের শাসনের পতনের পর ১৯৯১ সালে যখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরে আসে, তখন থেকে নজর দেয়া হয়েছিল মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দিকে। সে কারণে বাকস্বাধীনতা বা মানবাধিকারসহ গণতন্ত্রের অন্যান্য যে সব শর্ত রয়েছে, সেগুলো কোনো ভিত্তি পায়নি।

তবে এখন নির্বাচনও বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক রওনক জাহান বলছিলেন, বড় দু’টি দল সব সময় একে অপরের প্রতি অসহিষ্ণু থাকায় পরিস্থিতি খারাপ থেকে আরও খারাপ হয়েছে।

তিনি বলেন,‘যখন ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রত্যেক নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। কিন্তু তখনও যখন যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা কিন্তু বিরোধীদলে যারা থাকতো, তাদের ওপর অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক নানা উপায়ে নিপীড়ন করেছেন।’

তার মতে,‘আর ২০০৯ সালের পর থেকে ক্ষমতার পালাবদল হয়নি। অতএব যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা তাদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে পেরেছেন এবং যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবেন।’

সিনিয়র সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ পরিস্থিতিটাকে দেখেন ভিন্নভাবে। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ যে টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় রয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী শক্তি দূর্বল হয়ে পড়েছে।

মি: আহমেদ বলেছেন, শক্তিশালী বিরোধী অবস্থানে কেউ থাকতে না পারায় সরকার কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছে।

এমন পরিস্থিতির কারণে মুক্তিযুদ্ধের যা মূল চেতনা- সেই গণতন্ত্র, মানবাধিকার বা বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি খারাপের দিকেই যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন,‘আমাদের একটা কার্যকরী বিরোধীদল দরকার। এবং বিএনপি বিরোধীদল হিসেবে তাদের ভূমিকা পালন করতে পারছে না। যে কারণে সরকার ক্রমান্বয়েই কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছে। এ কারণেই এখানে গণতন্ত্র্রের বিকাশ ঘটবে না, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে এবং সংবাদপত্রের বা মিডিয়ার স্বাধীনতা বারবার খর্ব করা হবে।’

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, সরকার যেহেতু এখন কোনো বিষয়ে চাপ অনুভব করছে না বা চাপ সৃষ্টির মতো রাজনৈতিক শক্তি সেভাবে নেই। সেই প্রেক্ষাপটে সরকার নিজেই বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার বা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ব্যাপারে কাজ করতে পারে।

তবে সরকার বা আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতার সাথে কথা বললে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন বা বাকস্বাধীনতা খর্ব করার সব অভিযোগই প্রত্যাখ্যান করেন।

উৎসঃ বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুনঃ ফাঁকা কেন্দ্রে ৪১ শতাংশ ভোট পড়ল কীভাবে?


সরকারের হাসি মশকরার পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে আগের দুই ধাপের চেয়ে আরও বেশি খারাপ ছিল। গত শনিবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে কোথাও ভোটারদের কোনো লাইন দেখা যায়নি। অনেক কেন্দ্রের সামনে কিছু কুকুরকে ঘুমাতে দেখা গেছে। আর ভোটার না থাকায় গল্প করে সময় কাটিয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। বসে ও হেটে অলস সময় কাটিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মীরা।

কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো-নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সোমবার জানানো হয়েছে, শনিবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ইসির দেয়া এই ভোটের হার নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সবার প্রশ্ন একটাই-ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল ফাকা। শুধু সাধারণ ভোটারই নয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ভোট দিতে কেন্দ্রে যায়নি। কিন্তু, ব্যালট বাক্সে ৪১ শতাংশ ভোট কোথা থেকে এসেছে? এগুলো গায়েবি ভোটের হিসাব। নির্বাচনকে জায়েজ করতে নির্বাচন কমিশন ভোটার হার বেশি দেখিয়েছে।

এমনকি নির্বাচন কমিশনের এই ভোটের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীরাও। বরিশাল জেলা ওয়ার্কার্স পাট্র্রি সেক্রেটারি ও সাবেক এমপি এডভোকেট শেখ টিপু সুলতান ভোটের হিসাবে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। সোমবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, বাবুগঞ্জ উপজেলায় ১ লাখ ১৫ হাজার ১৬২ জন ভোটারের মধ্যে ২০ ভাগ ভোটারও কেন্দ্রে যায়নি। অথচ নৌকা প্রতীকের প্রাপ্ত ভোট দেখানো হয়েছে ৩৮ শতাংশ। নৌকার এত ভোট কোথা থেকে এল?

এদিকে, বিশিষ্টজনেরাসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, বাবুগঞ্জের মতো দেশের সবখানেই ২০ ভাগের বেশি ভোটার কেন্দ্রে যায়নি। নির্বাচন কমিশন যে ৪১ শতাংশ ভোট দেখিয়েছে এটা গায়েবি হিসাব। মানুষকে বুঝানোর জন্য এসব করা হচ্ছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে প্রস্তুত হতে হবে: হাসান সরকার


বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, প্রযোজনে সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে হলেও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আর এ আন্দোলন শুরু করতে হবে গাজীপুর থেকেই।

তিনি বলেন, বিএনপি রাজপথে অনেক রক্ত দিয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনে আরও রক্ত দেব। তবু এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজবাড়ী রোডের দলীয় কার্যালয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে হাসান উদ্দিন সরকার এসব কথা বলেন।

সরকারের অপরাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা এতো দিন জানতাম, ঘুঘু দিয়ে ঘুঘু ধরা হয়, বক দিয়ে বক। এখন বক দিয়ে ঘুঘু আর ঘুঘু দিয়ে বক ধরা হচ্ছে। রাজনীতি এখন আর রাজনীতি নেই।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন কায়সার, আহাম্মদ আলী রুশদী, ড. অ্যাডভোকেট সহিদুজ্জামান, কাজী মাহবুব উল-হক গোলাপ, আক্তারুজ্জামান, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, আবদুল আউয়াল, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ মোল্লা, আনোয়ারা বেগম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম শুক্কুর, বশির উদ্দিন বাচ্চু, শওকত হোসেন সরকার, নাছিমুল ইসলাম মনির, রাশিদুল ইসলাম কিরণ, অ্যাভোকেট মিজানুর রহমান, কাউন্সিলর হাসান আজমল ভূইয়া, সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন, সরকার জাবেদ আহাম্মেদ সুমন, আবদুর রহিম খান কালা, অ্যাডভোকেট মনির হোসেন, অ্যাডভোকেট নূরুল কবির শরীফ, সাইফুল ইসলাম টুটুল, মাহবুবুর রশিদ খান শিপু, শাহাদাতহোসেন শাহীন, অ্যাডভোকেট শহিদুর ইসলাম, মো. আজিজুল হক রাজু মাস্টার ও সামসুদ্দোহা সরকার তাপস প্রমুখ।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ হানিফকে মেজর হাফিজের চ্যালেঞ্জ


বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বাকশালের ফরম পূরণ করেছিলেন বলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জিয়াউর রহমানের তৎকালীন একান্ত সচিব মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম হানিফকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে এ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

হানিফকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মেজর হাফিজ বলেন, ‘আমি এ ঘটনার জীবন্ত সাক্ষী। আমি বলছি- যদি জিয়াউর রহমান বাকশালে যোগ দিয়ে থাকেন, প্রমাণ দেখান। ফরম ফিলআপ করে থাকলে, দেখান- উই আর সি। মিথ্যাচার করে দেশটাকে আপনারা (আওয়ামী লীগ) শেষ করে দিয়েছেন।’

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ) যখন গঠন করা হয়, তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দফতরে আমি তৎকালীন সেনাবাহিনীর উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের একান্ত সচিব ছিলাম। একদিন সকাল ১০টায় জেনারেল জিয়া আমাকে বললেন, দেখো তো হাফিজ, আমার কাছে একটা ফরম পাঠিয়েছে। আমি দেখলাম, এটা বাকশালে যোগদানের ফরম। উনি বললেন, তোমার কী মত? আমি বললাম, স্যার এই ব্যবস্থা টিকবে না, আপনি এটাতে যোগ দেবেন না। উনি আমার দিকে তাকালেন। এর পর উনি বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ, ফরমটা নিয়ে উনি ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটের মধ্যে ফেলে দিলেন।

৩০ ডিসেম্বরের ভোটের সমালোচনা করে বিএনপির এই অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, দেশে নির্বাচন হয়নি। বাংলাদেশ একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের করদ রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায়চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও খায়রুল কবির খোকন, মহানগর বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশার, আহসানুল্লাহ হাসান, সাদেক আহমেদ খান, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, যুবদলের মামুন হাসান, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, ছাত্রদলের এজমল হোসেন পাইলট প্রমুখ এতে বক্তব্য রাখেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিএনপির অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আবদুল আউয়াল খান, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, সেলিম রেজা হাবিব, নবী উল্লাহ নবী, মো. মোহন, মোরতাজুল করীম বাদরু, মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ জিয়াউর রহমান বাকশালের ফরম ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেন: মেজর হাফিজ


বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বাকশালের ফরম পূরণ করেছিলেন বলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জিয়াউর রহমানের তৎকালীন একান্ত সচিব মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেছেন, হানিফের বক্তব্য সঠিক নয়; জিয়াউর রহমানের কাছে বাকশালের ফরম এলে তিনি তা ওয়েস্ট পেপাপ বাস্কেটে (ময়লার ঝুড়ি) ফেলে দেন।

সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে এ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

হাফিজ বলেন, বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ) যখন গঠন করা হয়, তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দফতরে আমি তৎকালীন সেনাবাহিনীর উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের একান্ত সচিব ছিলাম। একদিন সকাল ১০টায় জেনারেল জিয়া আমাকে বললেন, দেখো তো হাফিজ, আমার কাছে একটা ফরম পাঠিয়েছে। আমি দেখলাম, এটা বাকশালে যোগদানের ফরম। উনি বললেন, তোমার কী মত? আমি বললাম, স্যার এই ব্যবস্থা টিকবে না, আপনি এটাতে যোগ দেবেন না। উনি আমার দিকে তাকালেন। এর পর উনি বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ, ফরমটা নিয়ে উনি ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটের মধ্যে ফেলে দিলেন।

হানিফকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মেজর হাফিজ বলেন, ‘আমি এ ঘটনার জীবন্ত সাক্ষী। আমি বলছি- যদি জিয়াউর রহমান বাকশালে যোগ দিয়ে থাকেন, প্রমাণ দেখান। ফরম ফিলআপ করে থাকলে, দেখান- উই আর সি। মিথ্যাচার করে দেশটাকে আপনারা (আওয়ামী লীগ) শেষ করে দিয়েছেন।

৩০ ডিসেম্বরের ভোটের সমালোচনা করে বিএনপির এই অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, দেশে নির্বাচন হয়নি। বাংলাদেশ একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের করদ রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায়চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও খায়রুল কবির খোকন, মহানগর বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশার, আহসানুল্লাহ হাসান, সাদেক আহমেদ খান, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, যুবদলের মামুন হাসান, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, ছাত্রদলের এজমল হোসেন পাইলট প্রমুখ এতে বক্তব্য রাখেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিএনপির অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আবদুল আউয়াল খান, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, সেলিম রেজা হাবিব, নবী উল্লাহ নবী, মো. মোহন, মোরতাজুল করীম বাদরু, মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার চেতনা ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যে চেতনা, যে আদর্শ সামনে নিয়ে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ আজ ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতা মানে শুধু একটি পতাকা নয়, ভূখণ্ডও নয়। স্বাধীনতার অর্থ হচ্ছে- এই ভূখণ্ডে যারা বাস করে তাদের স্বাধীনতা। তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মুক্তির স্বাধীনতা, যা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে এই আওয়ামী লীগ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীনতাকে ধ্বংস করেছিল এই আওয়ামী লীগ। আজ ৪৮ বছর পর ঠিক একইভাবে তারা নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে ছদ্মবেশে একটা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে। আজ সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে বিপন্ন হয়েছে, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়েছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। আজ এই দেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি শুধু আমাদের দলের নেতা নন, তিনি বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের নেতা। যিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। যিনি সারাজীবন এই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এই নেতা এখন পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে। প্রতিদিন তার শরীর খারাপ হচ্ছে। তাকে মুক্ত করলেই গণতন্ত্রকে মুক্ত করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজ যারা গায়ের জোরে ক্ষমতায়, তারা স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয় নিয়ে ইতিহাসকে বিকৃত করে মানুষকে অন্য পথে পরিচালিত করতে চাচ্ছে। ইতিহাস বিকৃত করে জিয়ার নাম মুছে ফেলা যাবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র মুক্ত করা সম্ভব নয়।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন (ভিডিও সহ)


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়া এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক স্মরণসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মোয়াজ্জেম বলেন, ‘কেন এই নির্বাচনে আমরা গেলাম। কথা হলো- নিদর্লীয় সরকার ছাড়া নির্বাচন হবে না, কিন্তু তাতো হলো না। দলীয় সরকারের অধীনেই হলো। কথা হলো খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হবে না। কিন্তু খালেদা জিয়া ছাড়া আমরা নির্বাচনে গেলাম।’

তিনি বলেন, ‘তারপরেও কেন সেই নির্বাচন। কেন এই অবস্থা হলো? কেন আজও খালেদা জিয়া জেলে? কেন একটা দাবিও সরকার মানলো না, কী কারণে এটা হলো? এর কারণ অবশ্যই বের করতে হবে। যদি বের করতে ব্যর্থ হই, আবার ব্যর্থ হবো। আমার অনেক প্রশ্ন আছে আজকে এখানে করবো না। দলীয় মিটিংয়ে বলবো।’

ভিডিওঃ ‘ডঃ কামাল, হাসিনা ও কাদেরকে কঠিন ধোলাই দিলেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন!(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

কে এম ওবায়দুর রহমান স্মৃতি সংসদ এ সভার আয়োজন করে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমি স্বাধীনতার ইতিহাস জানি। সে সময়ে কে যায়নি ভারতে, আমরা সব চলে গেলাম। এনটায়ার কেবিনেট চলে গেল। গর্ভনর হাউজে (বর্তমান বঙ্গভবন) ইয়াহিয়া খানের সাথে কথা বলার সময়ে যে ব্যক্তি ছিল সর্বক্ষণ, সে গেল না।’

তিনি বলেন, ‘তাজউদ্দিন আহমেদ সাহেবের রিসেন্টলি একটা বই বেরিয়েছে সেটা আপনারা পড়বেন- সেটাতে লেখা আছে তার যাওয়ার কথা ছিল আমাদের সাথে। সে যায়নি। আমি নাম বলতে চাই না এই মুহুর্তে। ১৪ জুন পর্যন্ত ঢাকা থাকলেন, তারপর জিওসি টেলিফোন করে বললেন, আমাকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দাও। পাঠিয়ে দেয়া হলো। ’

মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমরা তার ইতিহাস জানি। বাংলাদেশের তার কোনোদিন কোনো আসন ছিল না। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে এক সময়ে সে (ড. কামাল হোসেন) বৃদ্ধ সাত্তার সাহেব (বিচারপতি আবদুস সাত্তার), আমার চাচাশ্বশুর দুরসম্পর্কে, তার কাছে এক কোটি ভোটে হেরেছিলেন।’

বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যানের প্রশ্ন, ‘আমরা তাকে নেতা মানলাম। কেন ফখরুল (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) কী দোষ করেছিলেন? মহাসচিব ফখরুল, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আমাদের তো অন্য কারও দরকার নেই। আমাদের কারও দরকার ছিল না। আমরা যা পারি করবো, না পারলে করবো না, নির্বাচন করবো না। কিন্তু এটা কী হলো? ঠাটা পড়লো সমগ্র জাতির ওপরে। ’

শাহ মোয়াজ্জেমের বক্তব্যের সময়ে মঞ্চে বসা জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহামুদুর রহমান মান্না, বিএনপি মহাসচিবসহ নেতাদের বিব্রত দেখাচ্ছিলো।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি টিএম গিয়াস উদ্দিন এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শাহজান মিয়া সম্রাট ।

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনা আ.লীগের মাজা ভেঙে ফেলেছেন: শামসুজ্জামান দুদু


আওয়ামী লীগ বলতে দেশে কিছু নাই এমন দাবি করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘পুলিশ অফিসার, পুলিশ কমিশনার, এসি, ডিসিরা এখন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, আওয়ামী লীগ শেষ।’

তিনি বলেন, ‘আমি লিখিত ভাবে দিতে পারি। যদি এই দেশে ফেয়ার নির্বাচন হয়, আগে তো ১০টি সিট দিতাম, এখন শেখ হাসিনার জেতাও কষ্ট হয়ে যাবে।আওয়ামী লীগের মাজা শেখ হাসিনা কি ভাবে ভেঙে ফেলেছেন। বিএনপির মাজা ভাঙেন নাই, শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের মাজা ভেঙে ফেলেছেন।’

রবিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন আয়োজিত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদাসহ দলের সকল কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আমাদের ডিজিটাল প্রধানমন্ত্রী, নির্বাচন ছাড়া প্রধানমন্ত্রী, গায়ের জোরের প্রধানমন্ত্রী সবকিছু দেখতে পারেন। ব্যাংক দেখতে পারেন, টাকা দেখতে পারেন, আত্মীয়দের দেখতে পারেন, বিএনপির নেতা-কর্মী‌দের কিভাবে জেলে ভরতে হয়, নির্যাতন করতে হয় তা দেখতে পারেন কিন্তু শিক্ষকদের যে সমস্যা তার নজরে আসে না। এমন একটা দেশে আমরা গত ১২ বছর ধরে বসবাস করছি। ভয়ঙ্কর বিপদ, সংকটময় এমন একটি দেশের নাম বাংলাদেশ।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৫ দিন ধরে আন্দোলনরত শিক্ষকদের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকরা যারা মানুষ গড়ার কারিগর তারা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কথা বলার চেষ্টা করছে। অথচ শিক্ষামন্ত্রী ১৫ থে‌কে হাত বা ১৫/২০ মিনিট দূরে থাকে। অথচ তিনি শিক্ষকদের কথা শুনছেন না।’

বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী উ‌ল্লেখ ক‌রে দুদু ব‌লেন, ‘তিনি আমার নেত্রী বলে বলছি না। বেগম জিয়া দে‌শের খুবই জন‌প্রিয় নেত্রী। শহীদ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় এবং তার মৃত্যুর পরে বেগম খালেদা জিয়া যে সুযোগ সুবিধা পেতেন তার সব কিছু ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন স্বৈরাচারী আইনের বিরুদ্ধে, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। তিনি ৯/১০ বছর আন্দোলন করেছেন। তার অনেক সহকর্মী এরশাদের সাথে হাত মিলিয়ে ছিল। কিন্তু তিনি একা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ে গেছেন আপোষ করেননি। যে কারণে তিনি আপোষহীন নেত্রী। তিনি গণতন্ত্রের কথা বলেছিলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় প্রায় দেড় বছর ধরে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে।’

দুদু বলেন, ‘দেশনেতা তারেক রহমানের নামে যে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। সেই মামলার প্রথম রায় বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারের সাজানো বুদ্ধিতে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে।’

নির্বাচন করে এই সরকার ক্ষমতায় আসে নাই মন্তব্য ক‌রে বিএনপির এই নেতা ব‌লেন, ‘নির্বাচন কি জিনিস ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমলে মানুষ ‌দে‌খে‌ছে। আর বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচন নামে তামাশা এর আগে কোনো সরকারে আমলে মানুষ দেখেনি। নির্বাচন নিয়ে তামাশা হানাদার বাহিনী, পাকিস্তানি বাহিনী, ব্রিটিশ বা‌হিনীর কেউ পারেনি। কিন্তু শেখ হাসিনা পেরেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা বিএনপি করি আমাদেরকে এস‌বের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বেগম জিয়াকে সারা জীবন জেলে রাখবে এটা সম্ভব না, কোনোকালেই সম্ভব না। সাময়িকভাবে আটকে রাখতে পারেন। তিনি বের হবেন, শুধু বের হবেন না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। যেমন গতবার করেছেন।‌ বের হ‌য়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। এবং রাস্তার় হত্যা বন্ধ হবে, আইনের শাসন নাই বলেই রাস্তায় এতো হত্যা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের শাসন নাই বলে শিক্ষকরা ভোট চুরির দায়ে মেয়েদের কাছে অপমাণিত হয়ে এখনও শিক্ষকতা করছে।’

দুদু বলেন, ‘যে পার্লামেন্টের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিল। সেই পার্লামেন্ট এখন দুর্নীতির প্রতীক। পার্লামেন্টে বর্তমানে যারা আছেন তাদের বউরাও তাদের দিকে যখন তাকায় ম‌নে হয় বলে এই চোরটা আবার ঘরে এসেছে। এ পার্লামেন্টে যারা সদস্য আছে তাদের ছেলে-মেয়েরা যখন তার বাবার দিকে তাকায় আমার মনে হয় তারা বলে এই চোরটা আবার ঘরে আসলো। এই পার্লামেন্ট বঙ্গভবন, গণভবনকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।’

আন্দোলন বলে কয়ে আসে না মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে আইয়ুব খানও বুঝে নাই, এরশাদও এক সপ্তাহ আগে বুঝে নাই তার পতন হবে। শেখ হাসিনাও এখন বুঝতেছেন না। হঠাৎ করে দেখবেন তার পতন হয়ে গেছে। দেশের সব জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে। এটা হবে দেশের তৃতীয় গণঅভ্যুত্থান।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নাই। বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান আছেন। বিএনপি আছে, দেশের মানুষ তাদের ওপর ভরসা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষক দলের যুগগ্ম-আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন মাস্টার, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা আকতার হোসেন বাচ্চু, আজম খান, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিয়া মোহাম্মাদ আনোয়ার প্রমুখ।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here