খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার চেয়ে হাজার গুণ বেশি জনপ্রিয়: তারেক রহমান (ভিডিও সহ)

0
419

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে শেখ হাসিনার চেয়ে ১ হাজার গুণ বেশি জনপ্রিয় নেত্রী সেটি খোদ শেখ হাসিনাই প্রমাণ করেছে। এজন্যই বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের আগে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন বাংলাদেশের মানুষ ওই জেলের তালা ভেঙ্গে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বের করে আনবে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ভিডিওঃ ‘খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার চেয়ে হাজার গুণ বেশি জনপ্রিয়: তারেক রহমান (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিকের সভাপতিত্ত্বে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীর উপস্থিতিতে সভামঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট আহমেদ আজম খান, বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মহিদুর রহমান, নাসির উদ্দিন আহমেদ ওসীম, হুমায়ুন কবির, আনোয়ার হোসেন খোকন, মীর হেলাল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রধাননেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি মানেই স্বাধীনতার ঘোষণা, বিএনপির মানেই ৭১ এর স্বাধীনতা না, বিএনপি মানেই হচ্ছে বাকস্বাধীনতা, বিএনপি মানেই হচ্ছে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা।

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদের, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাজনীতি করি, আমরা যারা শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাস করি, আমরা যারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি করি আমাদের জন্য এটি গৌরবের বিষয়। আমাদের জন্য অত্যন্ত একটি গৌরবের দিন এই ২৬ মার্চ।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমান অবৈধ সরকার, ব্যাংক ডাকাত সরকার, অন্ধকারের সরকার, যে নামেই বলেন না কেন স্বাভাবিক নামে ডাকতে পারবেন না। এদেরকে আর যেভাবেই হোক স্বাভাবিক নামে বলতে পারবেন না। এই অবৈধ অন্ধকারের সরকার ক্ষমতা দখল করে, জোরজবস্তি করে ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকেই যেভাবেই হোক দেশের মানুষকে নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদেরকে, নতুন প্রজন্মের বন্ধুদেরকে, সমগ্র মানুষকে ভীষণভাবে গেলাতে চেষ্টা করে যে এই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এটি সম্পূর্ণভাবে তাদের কৃতিত্বের দাবিদার, গায়ের জোরে তারা সবকিছুই নিজেদের কৃতিত্বের দাবি করে কোন যুক্তি তর্ক ছাড়াই।’

তিনি বলেন, ‘একটি প্রশ্ন হচ্ছে- অনেকে অনেক সময় এবং বিএনপির শুভাকাঙ্খীরা বলে যে আমাদের এটা বলা হচ্ছে না, নতুন প্রজন্মকে ওটা বলা হচ্ছে না, সেটা বলা হচ্ছে না, অনেক কিছু বলা হচ্ছে না, সেজন্য আজকে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে অনেকগুলো না অল্প কয়েকটি কথা বলব। সেটি হচ্ছে যৌক্তিকভাবে- আওয়ামী লীগের দাবি অনুযায়ী যদি ৭ই মার্চ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা করে থাকে তাহলে ৮ই মার্চ আওয়ামী লীগের উচিৎ ছিলো সরকার গঠন করা। কিন্তু তারা কি সেটা করেছে? করেনি। তার মানে ৭ই মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা হয়নি। স্বয়ং দেশ স্বাধীনের পরে শেখ মুজিব থেকে আরম্ভ করে আজ পর্যন্ত কেনো ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন করা হচ্ছে? ৭ই মার্চ কেনো স্বাধীনতা দিবস পালন করা হচ্ছে না? তার মানে এটাই প্রমাণ করে যে স্বাধীনতা দিবস ৭ই মার্চ নয়, স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চ। আর ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।’

তারেক রহমান বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন উপলক্ষে ২৬ লক্ষ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা দিয়েছিলো। যদি এই মামলা না থাকতো তাহলে তারা দাঁড়াতেই পারতো না। এসময় নেতা-কর্মীদের তিনি প্রশ্ন করেন, কি তারা দাঁড়াতে পারতো? উপস্থিত নেতা-কর্মীরা বলেন, ‘না’। তখন তিনি বলেন, এটা তারা জানে বলেই তাদেরকে রাতে বেলা ভোট ডাকাতি করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপির আমলে বিএনপির বিরুদ্ধে রায় দেয়ার কারণে কোন বিচারপতিকে দেশ ছাড়তে হয়নি। অথচ প্রধান বিচারপতেকে রায় দেয়ার কারণে দেশ ছাড়া করা হয়েছে।

তারেক রহমান আরো বলেন, বিএনপি মানেই হচ্ছে স্বাধীনতা। কেউ মানুক আর নাই মানুক এটাই সত্য। শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের যে কোনো নেতা-কর্মী বিএনপিকে বলে- বিএনপির এটা খারাপ, ওটা খারাপ। বিএনপি যদিই খারাপ হয় তাহলে বিএনপিকে নিয়ে তাদের এতা মাথা ব্যাথা কেনো?

উৎসঃ justnewsbd

আরও পড়ুনঃ শিগগিরই নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ড. কামাল হোসেন


বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা, গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, যা হওয়ার হয়েছে, এ বছরের মধ্যেই প্রকৃতপক্ষে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। আমরা অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে চাই না। দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন, এটাই মঙ্গল হবে জাতির।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গণফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা তো প্রকৃত অর্থে স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে অবস্থান করছি না। লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছেন, যার বিনিময়ে সংবিধানে লেখা আছে—শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক। শুধু আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে না, এটা শহীদদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রতারণা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই যে ১৬ কোটি মানুষকে একটা প্রহসনের শিকার হচ্ছে, তারা কি মনে করছে মানুষ এটা সারাজীবন মেনে নেবে? তাদের কোনো জবাবদিহিতা কোনো সময় কোনদিন করতে হবে না? আমি বলে দিচ্ছি, আমি বেঁচে না থাকলেও এই ধরনের জিনিসের জবাবদিহিতা বাংলার মানুষ অবশ্যই আদায় করবে।

ড. কামাল আরো বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। আমরা সরকারকে অনুরোধ জানাই দ্রুত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। আমরা ৩০ ডিসেম্বরকে ভুলে যেতে চাই, এ নিয়ে বিতর্ক করতে চাই না। চাই না কোনো হিংসা, সঙ্ঘাত-হানাহানি। সুষ্ঠু রাজনীতির ধারা ফিরিয়ে আনতে এ বছরের মধ্যেই নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। এ সরকারের কয়েক মাস হয়েছে। এখন আর দেরি করে লাভ নেই। তাড়াতাড়ি একটা প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দিন।

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সংবিধান প্রণেতা কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন, মোকাব্বির খান, অ্যাডভোকেট আলতাফ হোসেন, মহসিন রশীদ, রফিকুল ইসলাম পথিক প্রমুখ।

উৎসঃ justnewsbd

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়নি, লক্ষ্যপূরণে সরকার-বিরোধীদের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র!(ভিডিও সহ)


স্টেট ডিপার্টমেন্ট সংবাদদাতা

বাংলাদেশের বিগত নির্বাচনটি কোনোভাবেই অবাধ ও নিরপেক্ষ ছিলোনা। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম আর কারচুপির ঘটনা ঘটেছে যা যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রিপোর্টে যথাযথ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডির্পাটমেন্টের নিয়মিত ব্রিফ্রিংয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন প্রসঙ্গে জোরালোভাবে দেশটির এমন অভিমত আবারো পুর্নব্যক্ত করলেন মুখপাত্র রবার্ট প্যালাদিনো। শুরুতেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছাও জানান তিনি।

জাস্ট নিউজ সম্পাদক মুশফিকুল ফজল আনসারীর করা এক প্রশ্নের জবাবে স্টেট ডির্পাটমেন্টের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ দিনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান। এ সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে, গণতান্ত্রিক প্রথা ও প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা, অর্থনৈতিক প্রগতি। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সরকার ও বিরোধীদলের সাথে একযোগে কাজ করতে চায় যাতে এ লক্ষ্য পূরণে অগ্রসর হওয়া যায়।

ভিডিওঃ ‘নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়নি, লক্ষ্যপূরণে সরকার-বিরোধীদের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র!(ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ব্রিফ্রিংয়ের শুরুতে মুশফিকুল ফজল জানতে চান, “যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য প্রকাশিত মানবাধিকার রিপোর্টে বলা হয়েছে বাংলাদেশের বিগত নির্বাচন, অবাধ এবং সুষ্ঠু হয়নি। বিরোধীদলগুলো স্পষ্টতই এ নির্বাচনের ফলাফলকে মেনে নেয়নি। বাংলাদেশে ভোটাধিকার আর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র কী ধরণের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে? যেহেতু দেশটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়নি বলে অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে।”

জবাবে মুখপাত্র রবার্ট প্যালাদিনো বলেন,”মুশফিকুল আপনি যথার্থই বলেছেন। আমাদের সদ্য প্রকাশিত মানবাধিকার বিষয়ক বার্ষিক রিপোর্টে বলে দিয়েছি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি অবাধ এবং সুষ্ঠু ছিলোনা। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম এবং কারচুপি হয়েছে, আগেই ভোটের বাক্স ভর্তি করা হয়েছে, বিরোধী এজেন্ট এবং ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনাগুলো ঘটেছে।”

তিনি আরো বলেন, “রিপোর্টে যেটা বলা হয়েছে সেটা হলো-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ইতিহাস রয়েছে। আর সে সম্পর্কের লক্ষ্য হলো একটি সহিষ্ণু এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। যেখানে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর থাকবে, থাকবে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা। আমরা চাই দেশটির সরকারের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিকতা আরো উন্নতি হোক।”

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির করে এই মুখপাত্র বলেন,”বাংলাদেশের অর্থনীতির চিত্তাকর্ষক উন্নয়ন হয়েছে, এর অর্থসূচকেও উন্নতি হয়েছে। এছাড়া রয়েছে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার অতীত ইতিহাস। এগুলো তুলনামূলক লক্ষ্য হতে পারেনা, এর মাধ্যমে আর্থিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে আরো কার্যকরি ভূমিকা রাখবে। পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত এসব লক্ষ্য অর্জনে সরকার এবং বিরোধীদের সঙ্গে একত্রে কাজ করে যেতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।”

উৎসঃ justnewsbd

আরও পড়ুনঃ যখন ধরবো তখন একেবারেই ধরবো : সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আইভী


নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, আমাকে বলা হয়েছে আমি নাকি জামায়াত নেতা মুজাহিদের (আলী আহসান মো: মুজাহিদ) বউ এর বান্ধবি। কিন্তু সে একজন বয়ষ্ক মহিলা। এসব বানিয়ে ও করে নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি ২০০৩ সাল থেকে সহনশীল আছি। যে কারণে নারায়ণগঞ্জ শান্ত আছে। আমি নিরবে সিটি কর্পোরেশনের কাজ করে যাচ্ছি। আমি নিরব না থাকলে পার্টি অফিসে অনেকে আসতে পারতো না। নারায়ণগঞ্জ অশান্ত হযে যেত। শুধু ধরি না বিধায়। কিন্তু যখন ধরবো তখন একেবারেই ধরবো।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন শেষে আলোচনা সভায় আইভী এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে যেখানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামের আমীর মাওলানা মাঈনউদ্দিন আহমাদের বক্তব্যে জামায়াতের সঙ্গে চুনকা ও আইভীর সম্পর্কের কিছু উদহারণ উল্লেখ করা হয়। এছাড়া মাঈনউদ্দিন এও জানান বিএনপির সঙ্গেও আইভীর সখ্যতা ভালো।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, দলের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু ও আবদুল কাদির, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ তারেক রহমানকে ফেরত দেয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া: রবার্ট ডিকসন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফেরত দেয়া অনেক দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় যুক্তরাজ্যের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে আইনমন্ত্রীর নিজ বাসভবনে দেখা করার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

রবার্ট ডিকসন বলেন, তারেক রহমান কোন আইনের ভিত্তিতে তার দেশে অবস্থান করছেন তা নিয়ে লন্ডনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। তবে আইনি প্রক্রিয়া স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হওয়ায় এটি অনেক দীর্ঘমেয়াদি বিষয়।

এদিকে আইনমন্ত্রী বলেন, দুটি কারণে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তারেক রহমান বাংলাদেশের আদালত থেকে দণ্ডিত। তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাই তারেকের স্থান হবে কারাগারে।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে আইমমন্ত্রী বলেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কারাগারে না থেকে বিদেশে অবস্থান করছেন। তাই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার।

প্রসঙ্গত, একাধিক ফৌজদারী মামলায় দণ্ডিত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ যদি মন্ত্রী-এমপি না থাকি, পুলিশ দৌড়াইয়া পানিতে নামাইবো : শামীম ওসমান


নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান পুলিশ প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেছেন,‘আজকে মন্ত্রী, এমপি না থাকি, তাহলে ফুল তো দূরের কথা, পুলিশ দৌড়াইয়া পানিতে নামাইবো। যেই পুলিশ আমগো দেইখা, আরে বাবা রে বাবা…। মারলো কে ২১ বছর আমাগো। সবই তো দেহি আমাগো। করলো কারা? ওইসব নাটকবাজি অন্য জায়গায় চলবে, নারায়ণগঞ্জে না। এটা মাথায় রাখতে হবে।’

বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চত্বরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও চেক প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক)।

শামীম ওসমান বলেন, আমার কাছে জানি কেন মনে হয়- সব যখন একদিকে দৌঁড় দেয় তখন কোথাও একটা ভ্যাকুয়াম (ফাঁকা জায়গা) তৈরি হয়। বাংলাদেশের প্রশাসনের মধ্যে কে কোন দল করে সেটি দেখার বিষয় না। কার কি কোয়ালিটি (মানসম্পন্ন) সেটি দেখতে হবে। সৎ না দুর্নীতিবাজ সেগুলো আগে দেখতে হবে। এখন দেখি সব আমি এইটা, আমি ওইটা, এই দল করতাম, ওই দল করতাম এইগুলি চালু হয়ে গেছে। এইগুলোকে বলা হয় ভ্যাকুয়াম। ৭৫’র আগেও এইগুলি চালু হয়ে গেছিলো। ভ্যাকুয়াম বেশি হয়ে গেলে শাহ আজিজের চেয়ে খন্দকার মোস্তাকের মতো বেশি বিপজ্জনক হয়ে যায়। ঠিক সময় মতো খন্দকার মোশতাকরা ছোঁবল মারে।

শামীম ওসমান আরো বলেন, আমার খুব কষ্ট হয়, যখন আমি দেখি আমার দল ক্ষমতায়। অথচ ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব হয়, মামলা- মোকদ্দমা হয়। আমার একজন শ্রমিক লীগের নেতা এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নিয়ে আসা হয়। আমার তখন খুব কষ্ট হয়।

সবাইকে চোখ-কান খোলা রেখে চলার পরামর্শ দিয়ে শামীম ওসমান বলেন, যারা বিভিন্ন সময় হামলা করেছে, তারা কিন্তু বসে নাই। দিনের বেলা আওয়ামী লীগ, রাতের বেলা জামাতের সাথে চলবো এরা খুব বিপজ্জনক। আমার কাছে এটিই সব থেকে বড় প্রশ্ন।

দলের ভেতরে মোশতাকদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে শামীম ওসমান বলেন, আওয়ামী লীগ নিজের উপর ভরসা করেই রাজনীতি করে। নারায়ণগঞ্জের পবিত্র মাটিতে গোলাম আজমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিলাম। একথা বলার অপরাধে আমাদের ওপর বোমা হামলা করা হয়েছিলো। আমাদের বিশটা ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছিলো।

জেলা পরিষদের প্যানেল মেয়র মাহমুদা মালার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সংরক্ষিত মহিলা আসন-২২ এর সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ justnewsbd

আরও পড়ুনঃ ছেলের মাথা কাটতে বাবাকে বাধ্য করেছিল মুজিব বাহিনী!


২৬ মার্চ মঙ্গলবার ছিল বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোসহ আরও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশবাসী এই দিবসটি পালন করছে। তবে, মহান স্বাধীনতা দিবস একটি জাতীয় দিবস হলেও দিবসটি পালনে সারাদেশে আওয়ামী লীগের আধিক্য দেখা গেছে। বলা যায়-স্বাধীনতা দিবসের সব কিছুই ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। যদিও এদেশের আপামর নারী-পুরুষ তাদের জীবন, রক্ত ও ইজ্জত বিলিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের বৈষম্যের কবল থেকে এদেশকে স্বাধীন করেছেন। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সব অবদানের দাবিদার আজ আওয়ামী লীগ। কিন্তু, ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের আর কোনো অবদান নেই।

আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ বলে জাতিকে বিভক্ত করে গৃহযুদ্ধের পটভূমি সৃষ্টি করেছে। তাদের ভাষায়- তারাই দেশ স্বাধীন করেছে। বাকিরা সব স্বাধীনতাবিরোধী। শুধু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের আর কোনো মানুষ যুদ্ধে অংশ নেয়নি। এর চেয়ে আর চরম মিথ্যাচার কি হতে পারে?

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেই অকুতোভয় বীর সেনানী, সত্যিকারের দেশপ্রেমিক একজন মুক্তিযোদ্ধা মেজর এমএ জলিল শুধু পাকিস্তানী হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেননি। সেই লুণ্ঠনকারীদের বিরুদ্ধেও তিনি যুদ্ধ করেছিলেন যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করতে এসে আমাদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছিল। আর এসব প্রতিবাদই ছিল মেজর জলিলের অপরাধ। ১৯৭১ সালের ৩১ ডিসেম্বর তাকে গ্রেফতার করে অন্ধকার এক কুঠুরিতে আবদ্ধ করে রাখা হয়। তিনি আফসোস করে বলেছিলেন, আমারই সাধের স্বাধীন বাংলায় আমিই প্রথম রাজবন্দী। সেই মেজর জলিল আজ আমাদের মাঝে নেই। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো তার মুখ থেকে জাতি জানতে পারতো আজকের স্বাধীনতার দাবিদার আওয়ামী নেতাদের অনেক কীর্তি কথা। এদেশের মানুষ জানতে পারত স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস।

২৫ মার্চের সেই কালো রাতে বাংলার লাখ লাখ নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরকে পাকিস্তানী হায়েনাদের বুলেটের মুখে রেখে মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র দাবিদার আওয়ামী নেতারা সেদিন কোথায় গিয়েছিল? এদেশের মানুষ জানতে চায়- তারা রাতের আঁধারে পালিয়ে দাদার দেশ ভারতে গিয়েছিল কেন? এটাই কি তাদের মুক্তিযুদ্ধ? আজকে তোফায়েল সাহেবরা যখন গলা ফাটিয়ে বলে যে আমরাই যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছি, তখন এদেশের মানুষের প্রশ্ন- কলিকাতার হোটেলে বসে ওরা কার সাথে যুদ্ধ করেছিল? তারা ট্রেনিং নেয়ার কথা বলে কলকাতায় গিয়ে হোটেলে বসে কি করেছিলেন?

মেজর জলিল যুদ্ধ চলাকালীন কলকাতায় গিয়ে দেখেন, বালিগঞ্জের একটি দুই তলা আবাসিক বাড়িতে তাজউদ্দিন আহমদসহ আওয়ামী লীগ নেতারা নিরাপদে বসে তাস খেলছেন। এই দৃশ্য দেখে মেজর জলিল বলেছিলেন-ধরণী দ্বিধা হও। মূলত: এই ছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের মুক্তিযুদ্ধ।

এটাই হলো মুক্তিযুদ্ধের আসল ইতিহাস। আজকে কথায় কথায় প্রধানমন্ত্রী বলে থাকেন- নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। বেশ ভাল কথা। এদেশের নারী-পুরুষ যখন তাদের জীবনবাজি রেখে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছিল, তখন কলিকাতার বিলাসবহুল হোটেলগুলোতে কোন দলের নেতারা আরাম আয়েশ করেছিল। সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে কারা ভোগবিলাসে লিপ্ত ছিল। এদেশের সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে কলিকাতার আবাসিক হোটেলে বসে বসে কোন দলের নেতারা তাস খেলছিল। প্রধানমন্ত্রী জবাব দেবেন কী? নতুন প্রজন্মকে এগুলো জানার ব্যবস্থা করবেন কী? নতুন প্রজন্মের অধিকার আছে এগুলো জানার।

আর জহির রায়হান বেঁচে থাকলে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস অনেকখানি জানা যেত। এমনকি আওয়ামী নেতাদের কু-কীর্তির কিছু দৃশ্যও দেখার সুযোগ হতো। তিনি একজন সাহিত্যিক ও চিত্রনির্মাতা ছিলেন। ভারতে অবস্থানকালে আওয়ামী নেতাদের বহু অপকর্মের সচিত্র প্রামাণ্য দলিল তিনি সংগ্রহ করেছিলেন। তারা জানত জহির রায়হান বেঁচে থাকলে কোন একদিন আমাদের সকল কু কর্ম ফাঁস হয়ে যেতে পারে। আমরা যে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করিনি এদেশের মানুষ এটা তখন জেনে যাবে। চির বিদায় জহির রায়হান। ওরা চিরতরে বিদায় করে দিল স্বাধীনতার সংগ্রামের একটি সচিত্র ইতিহাসকে।

এরপর, আগরতলা মামলার তিন নাম্বার আসামী স্টুয়ার্ট মুজিব বেঁচে থাকলেও আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধাদের ‘৭১র সেই চেহারা কিছুটা প্রকাশিত হত। তিনিও জানতেন অনেক কিছু। আওয়ামী নেতারা ভারতে বসে কী অপকর্ম করছিল সবই দেখেছিলেন স্টুয়ার্ড মুজিব। এ দেখাই ছিল তার অপরাধ। তাকেও বরণ করে নিতে হয়েছে জহির রায়হানের পরিণতি।

এভাবে স্বাধীনতার সচিত্র ইতিহাসকে হত্যা করে আওয়ামী লীগ এখন জাতিকে বিকৃত ইতিহাস শুনাচ্ছে।

এছাড়া, স্বাধীনতার পর এদেশে সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে আওয়ামীর লীগ। এদেশের মানুষ কখনো ভুলতে পারবে না সেই মুজিব বাহিনী আর রক্ষীবাহিনীর হত্যা, নির্যাতন ও সীমাহীন অত্যাচারের কথা। আওয়ামী লীগের ইতিহাস এক কালো ইতিহাস। মানুষ হত্যার ইতিহাস। ওই সময় তারা বিনা অপরাধে হত্যা করেছে শত শত আলেম-ওলামাকে। হাজার হাজার নারী-পুরুষকে তারা হত্যা করেছে নির্মমভাবে। মুজিববাহিনীর অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছিল। নির্যাতিত মানুষের আর্তচিৎকারের ধ্বনি যেন আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছিল।

আহমেদ মূসা লিখিত ‘ইতিহাসের কাঠগড়ায় আওয়ামীলীগঃ বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সূচনা পর্ব’ বই থেকে অ্যানালাইসি বিডির পাঠকদের জন্য এখানে মাত্র তিনটি ঘটনার উল্লেখ করা হলো-

এক. কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর থানার ইকোরটিয়াই মুজিব বাহিনীর হাতে নিহত আববাস উদ্দিনের ভাই সামসুদ্দিনের নিজ মুখের কথা। তিনি বলেছেন, ১৯৭৫ সালের মার্চ মাসে শাহজাহান, আজিজ ও বাচ্চুর নেতৃত্বে একদল মুজিব বাহিনীর লোক এসে আমার মায়ের সামনে আমার ভাইকে গুলী করে হত্যা করল। ওরা যাওয়ার সময় বলে গেছে ওর লাশ শৃগাল কুকুরে খাবে, কেউ কবর দিলে তাকেও হত্যা করা হবে। কেউ কাঁদলে তাকেও হত্যা করা হবে। সকালে মেরে ওরা আবার বিকালে এসে দেখে গেছে লাশ কেউ কবর দিয়েছে কি না। কেউ কান্নাকাটি করছে কি না। পরে রাতের আঁধারে গ্রামবাসী বিলে নিয়ে লাশটি পুঁতে রাখে। এই হলো আওয়ামী লীগের মানবাধিকার রক্ষার শ্লোগানের বাস্তব চিত্র।

দুই. একই এলাকায় মুজিব বাহিনীর নির্মম বুলেটের আঘাতে নিহত হয় রশিদ। রশিদের বাবা আব্দুল আলী বললেন, ওরা আমার কাছে এক হাজার টাকা চাঁদা চাইছিল। আমি গরীব মানুষ। টাকা দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। কিছুদিন পর শাহজাহানের নেতৃত্বে একদল লোক এসে আমার সামনে আমার ছেলেকে গুলী করে হত্যা করে। আমার হাতে কুঠার দিয়ে বলল মাথা কেটে দে, ফুটবল খেলব। আমি কি তা করতে পারি? আমি যে তার বাপ। অত্যাচার আর কতক্ষণ সহ্য করা যায়? সহ্য করতে না পেরে অবশেষে নিজ হাতে ছেলের মাথা কেটে দিলাম। আমার ছেলে আওয়ামী লীগ করত না। এটাই ছিল তার অপরাধ। পৃথিবীর ইতিহাসে এর চেয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আর কী হতে পারে? ওরা হত্যা করে আবার বাবাকে বাধ্য করেছে ছেলের মাথা কেটে দিতে। ওরা কি মানুষ ছিল?

তিন. ভেড়ামারার কামালপুর কমিউনিস্ট পার্টির সমর্থক ফজিলাতুন্নেসাকে গুলী করে হত্যা করে মুজিববাহিনীর লোকেরা। নিহতের ভাই ফিরোজ আহসান বললেন, তারা আমার বোনকে হত্যা করে আমাদের কাউকে লাশটি দাফন করতে দেয়নি। আমার বাড়িতে কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের একটি মিটিং হয়েছিল। এটাই আমার বোনের অপরাধ।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি: আবারো দাবি যুক্তরাষ্ট্রের


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে যে গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।

গতকাল (২৬ মার্চ) এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র রবার্ট পালাদিনো সেই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “… ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। ভুয়া ভোট, ভোটার ও বিরোধীদের হুমকি দেওয়াসহ অনিয়মের খবর বিস্তৃতভাবে প্রকাশিত হয়েছে।”

এছাড়াও, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসাও করেন পালাদিনো।

বলেন, “অভিন্ন লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পাশাপাশি বিরোধীদের সঙ্গে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।”

এদিকে, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

দলটি মনে করে, এর ফলে দুটি দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হবে না।

উৎসঃ thedailystar

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার কথা ঠিক ‘বাকশাল হলে তো আর ভোট লাগে না’: মাহমুদুর রহমান মান্না


শেখ হাসিনার বক্তব্যের কটাক্ষ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘উনার (প্রধানমন্ত্রী) কথা তো ঠিকই— বাকশাল হলে তো আর ভোট লাগে না। উনি এখন সে পথেই যাচ্ছেন। মানুষ মানে না বলে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ভোটের নামে ডাকাতি করছেন।’

বুধবার (২৭ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও সাম্প্রতিক রাজনীতি ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে গত ২৫ মার্চ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ভোট প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর গড়ে তোলা বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার থাকলেও এই বাকশাল কার্যকর হলে কেউ জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারত না। জনগণ তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারত।’

আলোচনা সভায় মান্না বলেন, ‘ভোট নিয়ে মানুষের উৎসাহ ও আগ্রহ কমে গেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে যায়নি। উপজেলা নির্বাচনে মানুষ যাচ্ছে না। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্ররা সবকিছু উপেক্ষা করে ভোট দিতে গিয়েছিল, কিন্তু দিতে পারেনি।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে এখন পরাধীনতার সামিল বলেও আখ্যা দেন পর পর দুই মেয়াদে ডাকসুর সাবেক এই ভিপি।

ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করে মান্না বলেন, ‘জিডিপি মানেই উন্নতি না। কিন্তু ‘জিডিপি বেড়েছে’, ‘জিডিপি বেড়েছে’ বলে সরকার মুখে ফেনা তুলছে। এ দিয়ে সুশাসন নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন গণতন্ত্র।’

‘দেশে গণতন্ত্র নেই’ মন্তব্য করে আলোচনা সভায় সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘দেশে এখন চলছে মেগা প্রজেক্ট। যা জনগণের নয়, কিছু মানুষের মেগা উন্নয়ন। এসব মেগা প্রজেক্টের নাম করে শাসকগোষ্ঠী তাদের ক্ষমতাকে আরও পাকাপোক্ত করতে চায়। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায়।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- ডা. জাহিদুর রহমান, রুবি রহমতউল্লাহ ও শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ সত্য কথা বেরিয়ে আসলো, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা কখনোই গণতন্ত্র দিতে পারে না: শেখ হাসিনা


বাকশাল নয়, জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনই গণতন্ত্র নষ্ট করেছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেছেন, সত্য কথা বেরিয়ে আসলো,অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী দল কখনো দেশের মানুষের উন্নতি করতে পারে না। গত কয়েক বছরে এটাই তার পিওর সত্য কথা ।

বুধবার (২৭ মার্চ) বিকেলে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, কৃষক-শ্রমিক-আওয়ামী লীগসহ দেশের সব স্তরের মানুষ, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, সবাইকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসা, দেশের আর্থ-সামাজিক কাজে তাদেরকে সম্পৃক্ত করে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্য এই জাতীয় ঐক্য তিনি গড়ে তুলেছিলেন। তার এ পদ্ধতিতে যে সুফলটা আমাদের সমাজে এসেছিল, মানুষের ভেতরে আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছিল, ঠিক তখনই এই শ্রেণিটা, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারা এবং তাদের আন্তর্জাতিক বন্ধু এরা এক হয়ে যায়। তারা চক্রান্ত শুরু করে। সেই ষড়যন্ত্রের ফলেই আমাদের জীবনে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার, ’৭৫-এর ১৫ আগষ্ট। এ দেশের শিক্ষা-দীক্ষা-স্বাস্থ্য-বাসস্থান কোনোদিকে তাদের নজর ছিল না। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের হাতে সৃষ্ট রাজনৈতিক দল কখনোই গণতন্ত্র দিতে পারে না, দেশের মানুষের কল্যাণও করতে পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে, তারপরেই এ দেশের মানুষ সত্যিকারভাবে গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

উৎসঃ somoynews

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ মাথা সোজা করতে পারছেন না: মির্জা ফখরুল


দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা গুরুতর উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি এতটাই অসুস্থ যে মাথা সোজা করতে পারছেন না, পা বাঁকা করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় চিকিৎসা না দিয়ে খালেদা জিয়াকে সুপরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাগারে এখন এতটাই অসুস্থ যে, তিনি তার কক্ষেও হাঁটতে পারছেন না, অন্যের সাহায্য নিতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় তার কিছু হলে এর দায়ভার সরকারের পাশাপাশি কারা কর্তৃপক্ষকেও গ্রহণ করতে হবে।

খালেদা জিয়ার অবস্থার বর্ণনা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন মাথা সোজা করতে পারছেন না, বসতে পারছেন না। তারপরও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এ নেত্রীকে কোনো রকমের সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, গত সাড়ে তিন মাসে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়নি। তার সুচিকিৎসার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশও মানা হচ্ছে না।

অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে তার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার জোর দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, আবদুল কুদ্দুস, সিরাজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর দণ্ডিত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন। তার সঠিক চিকিৎসার দাবি করে আসছে বিএনপি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ফাঁকা কেন্দ্রে ৪১ শতাংশ ভোট পড়ল কীভাবে?


সরকারের হাসি মশকরার পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে আগের দুই ধাপের চেয়ে আরও বেশি খারাপ ছিল। গত শনিবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে কোথাও ভোটারদের কোনো লাইন দেখা যায়নি। অনেক কেন্দ্রের সামনে কিছু কুকুরকে ঘুমাতে দেখা গেছে। আর ভোটার না থাকায় গল্প করে সময় কাটিয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। বসে ও হেটে অলস সময় কাটিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মীরা।

কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো-নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সোমবার জানানো হয়েছে, শনিবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ইসির দেয়া এই ভোটের হার নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সবার প্রশ্ন একটাই-ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল ফাকা। শুধু সাধারণ ভোটারই নয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ভোট দিতে কেন্দ্রে যায়নি। কিন্তু, ব্যালট বাক্সে ৪১ শতাংশ ভোট কোথা থেকে এসেছে? এগুলো গায়েবি ভোটের হিসাব। নির্বাচনকে জায়েজ করতে নির্বাচন কমিশন ভোটার হার বেশি দেখিয়েছে।

এমনকি নির্বাচন কমিশনের এই ভোটের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীরাও। বরিশাল জেলা ওয়ার্কার্স পাট্র্রি সেক্রেটারি ও সাবেক এমপি এডভোকেট শেখ টিপু সুলতান ভোটের হিসাবে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। সোমবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, বাবুগঞ্জ উপজেলায় ১ লাখ ১৫ হাজার ১৬২ জন ভোটারের মধ্যে ২০ ভাগ ভোটারও কেন্দ্রে যায়নি। অথচ নৌকা প্রতীকের প্রাপ্ত ভোট দেখানো হয়েছে ৩৮ শতাংশ। নৌকার এত ভোট কোথা থেকে এল?

এদিকে, বিশিষ্টজনেরাসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, বাবুগঞ্জের মতো দেশের সবখানেই ২০ ভাগের বেশি ভোটার কেন্দ্রে যায়নি। নির্বাচন কমিশন যে ৪১ শতাংশ ভোট দেখিয়েছে এটা গায়েবি হিসাব। মানুষকে বুঝানোর জন্য এসব করা হচ্ছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ হানিফকে মেজর হাফিজের চ্যালেঞ্জ


বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বাকশালের ফরম পূরণ করেছিলেন বলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জিয়াউর রহমানের তৎকালীন একান্ত সচিব মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম হানিফকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে এ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

হানিফকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মেজর হাফিজ বলেন, ‘আমি এ ঘটনার জীবন্ত সাক্ষী। আমি বলছি- যদি জিয়াউর রহমান বাকশালে যোগ দিয়ে থাকেন, প্রমাণ দেখান। ফরম ফিলআপ করে থাকলে, দেখান- উই আর সি। মিথ্যাচার করে দেশটাকে আপনারা (আওয়ামী লীগ) শেষ করে দিয়েছেন।’

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ) যখন গঠন করা হয়, তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দফতরে আমি তৎকালীন সেনাবাহিনীর উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের একান্ত সচিব ছিলাম। একদিন সকাল ১০টায় জেনারেল জিয়া আমাকে বললেন, দেখো তো হাফিজ, আমার কাছে একটা ফরম পাঠিয়েছে। আমি দেখলাম, এটা বাকশালে যোগদানের ফরম। উনি বললেন, তোমার কী মত? আমি বললাম, স্যার এই ব্যবস্থা টিকবে না, আপনি এটাতে যোগ দেবেন না। উনি আমার দিকে তাকালেন। এর পর উনি বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ, ফরমটা নিয়ে উনি ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটের মধ্যে ফেলে দিলেন।

৩০ ডিসেম্বরের ভোটের সমালোচনা করে বিএনপির এই অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, দেশে নির্বাচন হয়নি। বাংলাদেশ একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের করদ রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায়চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও খায়রুল কবির খোকন, মহানগর বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশার, আহসানুল্লাহ হাসান, সাদেক আহমেদ খান, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, যুবদলের মামুন হাসান, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, ছাত্রদলের এজমল হোসেন পাইলট প্রমুখ এতে বক্তব্য রাখেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিএনপির অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আবদুল আউয়াল খান, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, সেলিম রেজা হাবিব, নবী উল্লাহ নবী, মো. মোহন, মোরতাজুল করীম বাদরু, মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ জিয়াউর রহমান বাকশালের ফরম ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেন: মেজর হাফিজ


বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বাকশালের ফরম পূরণ করেছিলেন বলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জিয়াউর রহমানের তৎকালীন একান্ত সচিব মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেছেন, হানিফের বক্তব্য সঠিক নয়; জিয়াউর রহমানের কাছে বাকশালের ফরম এলে তিনি তা ওয়েস্ট পেপাপ বাস্কেটে (ময়লার ঝুড়ি) ফেলে দেন।

সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে এ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

হাফিজ বলেন, বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ) যখন গঠন করা হয়, তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দফতরে আমি তৎকালীন সেনাবাহিনীর উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের একান্ত সচিব ছিলাম। একদিন সকাল ১০টায় জেনারেল জিয়া আমাকে বললেন, দেখো তো হাফিজ, আমার কাছে একটা ফরম পাঠিয়েছে। আমি দেখলাম, এটা বাকশালে যোগদানের ফরম। উনি বললেন, তোমার কী মত? আমি বললাম, স্যার এই ব্যবস্থা টিকবে না, আপনি এটাতে যোগ দেবেন না। উনি আমার দিকে তাকালেন। এর পর উনি বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ, ফরমটা নিয়ে উনি ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটের মধ্যে ফেলে দিলেন।

হানিফকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মেজর হাফিজ বলেন, ‘আমি এ ঘটনার জীবন্ত সাক্ষী। আমি বলছি- যদি জিয়াউর রহমান বাকশালে যোগ দিয়ে থাকেন, প্রমাণ দেখান। ফরম ফিলআপ করে থাকলে, দেখান- উই আর সি। মিথ্যাচার করে দেশটাকে আপনারা (আওয়ামী লীগ) শেষ করে দিয়েছেন।

৩০ ডিসেম্বরের ভোটের সমালোচনা করে বিএনপির এই অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, দেশে নির্বাচন হয়নি। বাংলাদেশ একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের করদ রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায়চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও খায়রুল কবির খোকন, মহানগর বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশার, আহসানুল্লাহ হাসান, সাদেক আহমেদ খান, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, যুবদলের মামুন হাসান, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, ছাত্রদলের এজমল হোসেন পাইলট প্রমুখ এতে বক্তব্য রাখেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিএনপির অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আবদুল আউয়াল খান, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, সেলিম রেজা হাবিব, নবী উল্লাহ নবী, মো. মোহন, মোরতাজুল করীম বাদরু, মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার চেতনা ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যে চেতনা, যে আদর্শ সামনে নিয়ে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ আজ ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতা মানে শুধু একটি পতাকা নয়, ভূখণ্ডও নয়। স্বাধীনতার অর্থ হচ্ছে- এই ভূখণ্ডে যারা বাস করে তাদের স্বাধীনতা। তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মুক্তির স্বাধীনতা, যা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে এই আওয়ামী লীগ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীনতাকে ধ্বংস করেছিল এই আওয়ামী লীগ। আজ ৪৮ বছর পর ঠিক একইভাবে তারা নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে ছদ্মবেশে একটা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে। আজ সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে বিপন্ন হয়েছে, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়েছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। আজ এই দেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি শুধু আমাদের দলের নেতা নন, তিনি বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের নেতা। যিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। যিনি সারাজীবন এই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এই নেতা এখন পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে। প্রতিদিন তার শরীর খারাপ হচ্ছে। তাকে মুক্ত করলেই গণতন্ত্রকে মুক্ত করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজ যারা গায়ের জোরে ক্ষমতায়, তারা স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয় নিয়ে ইতিহাসকে বিকৃত করে মানুষকে অন্য পথে পরিচালিত করতে চাচ্ছে। ইতিহাস বিকৃত করে জিয়ার নাম মুছে ফেলা যাবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র মুক্ত করা সম্ভব নয়।

উৎসঃ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here