হাসিনাকে বিদেশে কোনো হোটেল বুকিং দিতে চায় না!

0
792

সম্প্রতি শেখ হাসিনার ফোনালাপ নিয়ে তোলপাড় চলছে সোশ্যাল মিডিয়াসহ সর্বত্র। তোলপাড় চলছে আওয়ামী লীগ- বিএনপি উভয় শিবিরেও। এনিয়ে ক্ষমতাসীনদের ভিতরে সন্দেহ অবিশ্বাস আর বিরোধ চরমে উঠছে। শেখ হাসিনার মুখ দিয়ে বিরোধী জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে এমন মন্তব্য জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠেছে তাঁর এই মন্তব্য কোন রাজনৈতিক বক্তব্যে উঠে আসেনি কেন?

বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন অধিনস্থ রাজনৈতিক নেতার ফোনে এমন একটি মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যাক্তিগত আলোচনায় এমন মন্তব্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে, বেগম খালেদা জিয়া সরকারের ইচ্ছায় আটক আছেন। আদালত সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায় মাত্র। বিদেশে কোনো হোটেল তাদের বুকিং দিতে চায় না। স্বয়ং সরকার প্রধানের মুখ দিয়ে এমন মন্তব্য বের হয়ে আসা খুবই লজ্জার বিষয়!

কিভাবে কিভাবে ফাঁস হলো ফোনালাপ?

বাংলাদেশর বিভিন্ন মিডিয়ার অনুসন্ধানেও উঠে আসেনি এই প্রশ্নের উত্তর। তাহলে এটা কি বিদেশী কোন গোয়েন্দা সংস্থা করেছে? নাকি যুক্তরাজ্যের কোন গোয়েন্দা সংস্থা ফাঁস করেছে?অনুসন্ধানে দেখা যায়, আওয়ামী শিবিরের অতি কৌতুহল থেকে এমনটা হয়েছে।

শেখ হাসিনার জন্য বুকিং ছিল বেকার ষ্ট্রিটের কারিজাস হোটেল। সে অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্ধারিত সময়ে অভ্যর্থনা জানাতে কারিজাস হোটেলের সামনে সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত হোটেলের বুকিং শেষ মুহূর্তে ক্যান্সেল করে দেয় কতৃপক্ষ। কারন শেখ হাসিনা যেই হোটেলেই উঠেন, সেখানে আশে পাশে যুক্তরাজ্য বিএনপি অবস্থান নিয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। উপস্থিত হয় আওয়ামী লীগও। এতে হোটেলের চার পাশের পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। যা যুক্তরাজ্যের মানুষের কাছে খুবই দৃষ্টিকটু বটে। সব মিলিয়ে হোটেল কতৃপক্ষ এমন ঝামেলা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, কারিজাস হোটেল বুকিং ক্যান্সেলের পর শেখ হাসিনার জন্য তাজ হোটেলে ব্যবস্থা করা হয়। এখানে মূলত বুকিং নেয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতির নামে। একই সময়ে রাষ্ট্রপতিও আসছেন চিকিৎসার জন্য। শেষ বেলায় কাজিরাস হোটেল কতৃপক্ষ বুকিং ক্যান্সেল করায় তাৎক্ষণিক রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর স্টাফদের জন্য বুকিং নেয়া হোটেলে উঠেছেন শেখ হাসিনা ও তাঁর সফর সঙ্গীরা। কিন্তু যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতারা এটা জানতে না পেরে অভ্যর্থনা জানাতে সমবেত হন পূর্ব নির্ধারিত কারিজাসের সামনে। তাজ হোটেলে উঠার পর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি সৈয়দ ফারুকের সাথে কথা বলেন। ফোনে কথা বলার সময় সৈয়দ ফারুক মোবাইল লাউড স্পীকারে রাখেন, যাতে সমবেত সবাই শুনতে পারে। এসময় ফেইসবুক লাইভে ছিলেন দু/একজন। এ বক্তব্য ফেইসবুক লাইভেও তখন ভাসমান হয়। যদিও তাৎক্ষণিক মুছে ফেলার জন্য (ডিলিট) নির্দেশ দেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। তবে কোন একজনের ফেইসবুক থেকে ডিলিট করতে একটু বিলম্ব হয়েছিল। এর মাঝে এ বক্তব্য সেইভ করে নিয়েছেন কেউ একজন। পরবর্তীতে বক্তব্যের এ অংশটি আবার সোস্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা হয়। যা ভাইরাল হয়ে যায়।

সূত্রটি বলছে, এনিয়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। যুক্তরাজ্যর ৫ নেতা এখন তোপের মুখে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ারও দাবী উঠেছে আওয়ামী লীগের ভেতরে থেকেই।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌রাস্তা দখল করে আ’লীগ নেতার ভাইয়ের গেট নির্মাণ


মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানে দুটি প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র রাস্তা দখল করে নিজের বাড়ির গেইট নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ নেতার অভিযুক্ত ভাইয়ের নাম মোঃ বাদল মাঝি। তিনি উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের পাউলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন অরুণের ছোটভাই।

সরজমিনে দেখা যায়, একটি মাত্র রাস্তা দিয়ে পাউলদিয়া সরকারি ডাকঘর, রেজিস্ট্রিশনভূক্ত উদয়ন ক্লাব ও রোগীদের সেবা নিতে হয় উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা-যাওয়া করতে হয়। সরকারি রাস্তাটি দখল করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন অরুণের প্রভাব খাটিয়ে তার ছোট ভাই মোঃ বাদল মাঝি নিজের বাড়ির গেইটের নির্মাণ কাজ চালাচ্ছেন।

এদিকে উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। তাছাড়া ৩টি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আনোয়ার হোসেন অরুণের দলীয় প্রভাব থাকায় কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ বাদল মাঝি জানান, বিষয়টি আমার জানা নাই। আমি এলাকায় থাকি না, ঢাকায় থাকি। আমার চাচারা বলতে পারবেন।

এ ব্যাপারে উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. সোহেল জানান, ৩টি প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়ার জন্য রয়েছে একটি মাত্র রাস্তা। রাস্তাটি দখল করে গেইট নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি আমার উর্ধ্বতন কর্মকতা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বদিউজ্জামান জানান, উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিষয়টি আমাকে অবগত করা হয়েছে। আমি ইউএনও স্যার এবং এসিল্যান্ড স্যারকে জানিয়েছি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।

সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. আশফিকুন নাহার জানান, বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত পক্ষকে আমি কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। স্থানীয় নায়েবকে পাঠিয়েছি এবং কাগজপত্র সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কাছে পাঠিয়েছি তদন্ত করার জন্য। ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌সঙ্কটে ২০ দলীয় জোট


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১২০ দিন পর এমপিদের শপথগ্রহণ নিয়ে সঙ্কটে থাকা বিএনপি এবার ২০ দলীয় জোট নিয়ে মহাসঙ্কটে পড়ে গেছে। এক যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির প্রতি অবিশ্বাস ও সমন্বয়ের অভাবে জোটে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। চলছে মান-অভিমান, টানাপোড়েন। ইতোমধ্যেই ২০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে বের হয়ে গেছে বিজেপি। এই বেরিয়ে যাওয়ার মধ্যে জোটের শরিকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আর অসন্তোষের বহি:প্রকাশ ঘটছে। কেউ জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, আবার কেউ জোট ছাড়ার আল্টিমেটাম দিচ্ছেন। তবে অধিকাংশ শরিকদলগুলোও চুপচাপ-নিষ্ক্রিয়। সব মিলিয়ে ২০ দলীয় জোট চরম সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে। জোটের শরিকদের অভিযোগ বিএনপি এখন অতিমাত্রায় ড. কামালের ঐক্যজোট কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এ জন্য ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেন না। ফলে ২০ দলীয় জোট কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের এক শরীক দলের নেতা বলেন, বেগম জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ২০ দল। নেত্রী জেলে থাকায় দলের সিনিয়র নেতারাই জোটের নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু হঠাৎ নির্বাচন উপলক্ষে জনবিচ্ছিন্ন ড. কামাল হোসেনকে ভাড়া করে এনে ‘নেতা বানিয়ে’ ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা আরো বলেন, ড. কামাল হোসেনই ২০ দলীয় জোটকে অবহেলার কারণ। ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর বিএনপি এখন ড. কামালকে খুশি রাখতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিল্লি তোষণে ব্যস্ত। নির্বাচনের আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারতীয় মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিয়ে যেভাবে দিল্লির আনুগত্য প্রকাশের প্রয়াস পান তাতে ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী জাতীয়তাবাদী মননের নেতারা আহত হন। ড. কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী আর আ স ম রবকে দিয়ে মোদীকে খুশি রাখা যায়; তবে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতির চর্চা হয় না। ২০ দলীয় জোটের শরীক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম ইনকিলাবকে বলেন, বিএনপি যে নিয়মে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয় করছে এতে অনেক দুর্বলতা আছে। জোটের সমন্বয়ক বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ বিষয়ে বলেন, ২০ দলীয় জোটে অনেকের অনেক ক্ষোভ হতাশা থাকতে পারে। এগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব। দু’একদিনের মধ্যে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক ডেকে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিগুলো দূর করে ফেলতে পারব বলে আশা করি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর থেকে ২০ দলীয় জোটে টানাপোড়েন শুরু। ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর বিএনপি ২০ দলীয় জোটের শরিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করছে না, বিএনপির কাছে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের গুরুত্ব কমে গেছে এমন অভিযোগ অনেক আগেই উঠেছে। এবার এই অভিযোগ এনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ২০ দলীয় জোট ছেড়েছেন। গত সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ ইনকিলাবকে বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পর থেকে ২০ দলীয় জোটের রাজনৈতিক কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়ে। ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সাথে পরামর্শ ছাড়াই ঐক্য্যফ্রন্টের সাথে বৈঠক করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিএনপি। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের প্রহসনের ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ২০ দলীয় জোটের সবার সম্মতিক্রমে এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে প্রথমে ঐক্যফ্রন্টের দুইজন এবং বিএনপির সম্মতিতে তাদের চারজন সংসদ সদস্য শপথ নেয়ায় দেশবাসীর মত আমারাও হতবাক। শপথ নেয়ার এই সিদ্ধান্তের সাথে বিএনপি ছাড়া ২০ দলের অন্য কোন দলের কোন সম্পৃক্ততা নেই। এ সব কারণে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) মনে করে এই শপথের মাধ্যমে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট ৩০ ডিসেম্বরের প্রহসনের নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। এমতাবস্থায়, ২০ দলীয় জোটের বিদ্যমান রাজনীতি পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজেপি ২০ দলীয় জোটের সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০ দলীয় জোটের শরিক দল লেবার পার্টি গতকাল জোট ছাড়ার এক আল্টিমেটাল দিয়েছে। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এ বিষয়ে ইনকিলাবকে বলেন, আগামী ২৩ মে’র মধ্যে ২০ দলীয় জোটকে কার্যকর করার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ২৪ মে আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব। আমরা বলেছি ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে ২০ দলীয় জোট কার্যকর করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে। ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ড. কামাল হোসেন লাভবান হলেও বিএনপি তার পথ হারিয়ে বিপথগামী হয়েছে। ২০ দলীয় জোটের যে আদর্শ তা থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে। দলের চেয়ারপার্সন প্রায় দেড় বছর মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক তাকে মুক্ত করার জন্য কোন আন্দোলন কর্মসূচি নেই এটা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতা। তাই আমরা মনে করি ২০ দলীয় জোট কার্যকর করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। অন্যতায় এ জোট শুধু কাগজে-কলমে থেকে লাভ কি।

২০ দলীয় জোটের চলমান সঙ্কট সম্পর্কে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম ইনকিলাবকে বলেন, বিএনপি যে নিয়মে ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে বা সমন্বয় করছে এতে অনেক দুর্বলতা আছে। আমাদের আবেদন থাকবেই ২০ দলীয় জোট পুর্নগঠন করে সবাই মিলে ঠান্ডা মাথায় আলাপ আলোচনা করে এই সঙ্কট থেকে উত্তোরণের উপায় বের করুন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমাদের দল বিএনপির কোটি কোটি নির্যাতিত নেতাকর্মীর অনুভূতির সাথে একাত্ম। ঐক্যফ্রন্ট একমাত্র সমাধান নয়। সেখানেও ভুলক্রটি আছে। সেটাও সংশোধনের দাবি রাখে।

এ সম্পর্কে জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনিযর যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদৎ হোসেন সেলিম ইনকিলাবকে বলেন, বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে মাতামাতি করছে। ২০ দলীয় জোট এখন অবহেলিত। কার্যত জোট এখন স্থবির অকার্যকর। এমপিদের শপথগ্রহণ নিয়ে সবার মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ আছে। বিএনপি কৌশলে ভুল করেছেন। তারা কখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। আবার কখনো শরিকদের অবজ্ঞা করেন। তারা যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে যদি সবাইকে নিয়ে বসতেন তাহলে আলোচনায় একটা পথ বের হয়ে আসতো। সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত যদি ভুল হয়ে থাকে এবং যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক তাহলে সেটা সবাই মিলে নিতে পারতেন। এখন সবার মধ্যে অসন্তোষ অবিশ্বাস। আমাদের নেতা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সবার আগে আমাদের অবস্থান জানিয়েছেন। তারপরও আমরা এখন পর্যন্ত ২০ দলে আছি। আমাদের দলীয় প্রধান দেশের বাইরে থেকে আজ (মঙ্গল) এসেছেন। দু’একদিনের মধ্যে আমরা এসব বিষয় নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

বিএনপির অবহেলা ও অবজ্ঞার কারণে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ২০ দলের শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়াম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু জোট ছেড়ে চলে যান। তবে তার দলের একাংশের নেতা ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে এনপিপি’র চেয়ারম্যানের স্বীকৃতি দিয়ে জোটে রাখা হয়। একইভাবে ইসলামী ঐক্য জোটের অন্যতম নেতা আবদুল লতিফ নেজামীও ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যান। সেখানেও ইসলামী ঐক্যজোটের অন্য একটি গ্রæপ ২০ দলের শরিক হিসাবে রয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশ মুসলিম লীগও বিভক্ত হয়েছে। একটি গ্রæপ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বড় বোন জোবায়দা কাদের চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করে নতুন কমিটি ২০ দলীয় জোটে আছে। ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায় শেখ আনোয়ারুল হকের ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী-ন্যাপ)। এরপর গাইবান্ধার আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে ‘ভাসানী-ন্যাপ’ নামে নতুন দল দাঁড় করিয়ে সেটিকে ২০ দলে রাখা হয়। এ ছাড়া ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণিও ২০ দলীয় জোট ছেড়ে চলে যান এবং একটি গ্রুপকে ২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে রাখা হয়েছে।

২০ দলীয় জোটের সঙ্কট নিয়ে জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান ইনকিলাবকে বলেন, জোট ছাড়ার বা থাকার সিদ্ধান্ত পার্থ ভাই বা অন্য যে কোনো দলই আলাদাভাবে নিতে পারে। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে ক্ষোভ হতাশা থাকতে পারে। তবে সব কিছু আলোচনা করে সমাধান সম্ভব। আমি আমার সিদ্ধান্তের বিষয় এর বাইরে আর কিছু বলতে পারব না। কারণ আমি এখন সিয়াম সাধনায় আছি। রাজনৈতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে নেব।

২০ দরীয় জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা আবদুল করিম এ বিষয়ে ইনকিলাবকে বলেন, বিএনপিতে এখন যা কিছু হচ্ছে তা সঠিক নেতৃত্বের অভাবে হচ্ছে। আমরা এর অনেক কিছু সমর্থন করি না। আমরা চাই ২০ দলীয় জোটকে কার্যকর করে সঠিক ভাবধারায় ফিরে আসুক। বিএনপি যে ভুল পথে গেছে তা থেকে ফিরে আসুক। ২০ দলীয় জোটের ঐক্য অটুট থাক। ২০ দলীয় জোটের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর ২০ দলীয় জোটের সাথে বিএনপির বিমাতা সুলভ আচরণে সব দলই ক্ষুব্ধ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একবারই বৈঠক হয়েছে। তবে ২০ দল নিয়ে এখন কোনো কর্মসূচি নেই। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সময় সময় বৈঠক হচ্ছে। পাশাপাশি ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে একের পর এক কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে। এতে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে।

বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদে অংশ নেয় দুই জোটকে সঙ্গে নিয়েই। দীর্ঘদিনের জোট ২০ দলকে হাতে রেখে গত বছরের অক্টোবরে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে আহবায়ক করে পাঁচটি দলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে জাতীয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনেও এই নতুন জোটের নামেই বিএনপি ও ২০ দল অংশ নেয়। তবে ২০ দলকে ৪০টি আসন এবং ঐক্যফ্রন্টকে ১৯টি আসনে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এই আসন বণ্টন নিয়েও ২০ দলীয় জোট ক্ষুব্ধ হয়। ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিশ ও অন্যান্য সমমনা ইসলামী দলের কাউকে মনোনয়ন দেয় হয়নি।

এ বিষয়ে সম্প্রতি ২০ দলের শরিক লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আসা ঐক্যফ্রন্টের অনেক নেতা সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। কোথায় বসে কত টাকা নিয়েছেন, তাও তাঁর জানা বলে দলীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বলেন, বিএনপি এখন ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে বেশি এগোচ্ছে। এই মুহূর্তে ২০ দলের কোনো তৎপরতা নেই। খেলাফত মজলিসের এই নেতা জানান, ২০ দল নামে মাত্র আছে। তারা এখন নিজেদের দল নিয়ে কাজ করছেন।

২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা চারদলীয় জোট কলেবরে বেড়ে ১৮ দলীয় জোট হয়। বিএনপি ছাড়া সে সময় জোটের শরিক দলগুলো ছিল জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), কল্যাণ পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এনডিপি), লেবার পার্টি, ইসলামিক পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, ন্যাপ ভাসানী, মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, পিপলস লীগ ও ডেমোক্র্যাটিক লীগ। পরে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ও সাম্যবাদী দলের একাংশ এই জোটে যোগ দিলে তা ২০ দলীয় জোটে পরিণত হয়। তবে দুই বছরের মাথায় মহাসঙ্কটের মুখে পড়ে ২০ দল।

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌তাহিরপুরে সেই তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডিলার ‘শাহজাহানের’ বাড়ি থেকে ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডিলার শাহজাহান ওরফে ‘তুতলা শাহজাহানের’ বাড়ি থেকে ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারর করেছে স্থানীয় পুলিশ।

সোমবার মধ্যরাতে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় শাহজাহানসহ তিন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে পলাতক দেখিয়ে অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শাহজান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়দল উত্তর ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের প্রয়াত ইউপি সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সোমবার বিকালে ইয়াবা ক্রয় বিক্রয়ের খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী শিমুলতলা চন্দ্রপুর গ্রামে অভিযানে যায়।

ওই সময় একাধিক মাদক মামলায় তালিকাভুক্ত আসামী শাহাজাহান ও তার আরও কয়েক সহযোগী বাড়ির নারীদের সহযোগিতায় পুলিশী অভিযান ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে কৌশলে রান্নাঘরের দরজা ভেঙ্গে পালিয়ে যায়।

পরে পুলিশ গ্রামবাসীর সহযোগিতায় শাহজাহানের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে রান্নাঘরে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৪ প্যাকেট ভর্তি ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে।

তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাদি হয়ে উপজেলার শিমুলতলা চন্দ্রপুর গ্রামের শাহজাহান,পার্শ্ববর্তী গুটিলা গ্রামের সুজন মিয়া, বাদাঘাট উওর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লাউড়েরগড় গ্রামের আনোয়ার হোসেনকে পলাতক দেখিয়ে ইয়াবা ব্যবসার সহযোগী নারীসহ আরও ৪ থেকে ৫জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে সোমবার মধ্যরাতে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত বছর জুনের শেষে দিকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ শাহজাহানকে বাদাঘাট পুলিশ ফাড়ির টহল দল আটকের পর কয়েকমাস হাজতবাস করে জামিনে বেড়িয়ে এসে আবারও সে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানের পরও গোটা উপজেলা সদর, বাদাঘাট, কামড়াবন্দ, মোল্লাপাড়া, পুরানঘাট, সীমান্তবর্তী চাঁনপুর, বালিয়াঘাট নতুন বাজার, বুরুঙ্গাছড়া, বড়ছড়া শুল্ক স্টেশন, চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন, কলাগাঁও জঙ্গলবাড়ি, বীরেন্দ্রনগর, বাগলীজুড়ে ইয়াবা ডিলার হিসেবে অন্যান্য ইয়াবা ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের কাছে ইয়াবা বিক্রয়ের জমজমাট ব্যবসা করে আসছিলো শাহজাহান।

শাজাহান ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশী জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে মঙ্গলবার রাতে তাহিরপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান জানান, শাহজাহানসহ পলাতক অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করা গেলে উপজেলার আরও কয়েকজন ইয়াবা ডিলার ও সেলসম্যানদের নাম জানা যাবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ফোন চুরির অপরাধে জাবি ছাত্রলীগ নেতা কৌশিক রহমান শিমুলকে হল ছাড়া করেছে


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে মোবাইল চুরির দায়ে ছাত্রলীগ নেতা কৌশিক রহমান শিমুলকে হল ছাড়া করেছে ওই হলেরই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

কৌশিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৪২ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি শাখা ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক ও ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড’ জাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হলের ৩৩০ নম্বর কক্ষ থেকে ছাত্রলীগকর্মী ফিরোজ মাহমুদ সরকারের শাওমি নোট ফাইভ ব্রান্ডের একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়।

সন্দেহের ভিত্তিতে কৌশিকের কক্ষে খোঁজাখুঁজির সময় তিনি ফোনটি বারান্দার জানালার বাহিরে ছুঁড়তে চেষ্টা করেন। এ সময় ফোনসহ তাকে হাতেনাতে ধরেন ছাত্রলীগের ৫-৬ জন নেতাকর্মী।

ঘটনাটি জানাজানি হলে হলের নেতাকর্মীরা অভ্যন্তরীণ সভায় কৌশিককে হল থেকে বিতাড়িত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কৌশিক এখন হল থেকে বিতাড়িত।

অভিযোগকারী ফিরোজ মাহমুদ সরকার তার ফোন চুরি হওয়া ও কৌশিককে হাতেনাতে ধরার বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কৌশিক রহমান শিমুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারী উভয় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত। যদি এমন কিছু ঘটে থাকে তবে আমাকে সেটা জানানো উচিত ছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। আমাকে জানালে বিষয়টা দেখব।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘এমন একটি ঘটনা শুনেছি। আমাকে না জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেয়ার কথা শুনেছি। এটা ঠিক হয়নি। সন্ধ্যার পর বসব। তারপর বিস্তারিত জেনে সিদ্ধান্ত নিব।’

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌লিচু চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতারা ধরা খেলঃ দুজনের হাত-পা ভেঙে দিল স্থানীয়রা


স্থানীয়দের হাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাকে মারধরের ফলে একজনের দুই হাত ভেঙে গেছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের পেছনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অপরজন পায়ে গুরুতর জখম হয়েছেন কলে জানা গেছে। আহত দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আহতরা ছাত্রলীগ নেতারা হলেন- শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কানন ও উপআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান।

ক্যাম্পাসের লিচু পাড়া নিয়ে এ সংঘর্ষ ঘটে বলে জানা গেছে।

সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে কানন ও মেহেদীসহ ছাত্রলীগের আটজন নেতাকর্মী বাগানে লিচু পাড়তে যান। বাগানটি পাহারার দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজন প্রহরী তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় প্রহরীরা সঙ্গে থাকা লাঠি ও বাঁশ দিয়ে সবাইকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

খবর পেয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে রড, স্ট্যাম্প নিয়ে উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাগানের প্রহরীরা পালিয়ে যায়।

ওই সময় ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রহরীদের থাকার জন্য তৈরি করা মাচার ঘরটিতে আগুন দেয়।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘ছাত্রলীগের দুই নেতাকে স্থানীয়রা মারধর করেছে। তারা এখন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে রয়েছি।’

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে লন্ডনে শেখ হাসিনার বক্তব্য উদ্বেগজনক: মির্জা ফখরুল


কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির সহদফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অবস্থান করছেন। সফরকালীন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আসা নিজ দলের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বক্তব্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শেখ হাসিনা, যা বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত ও সামাজিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রীর মুক্তি নিয়ে তিনি (শেখ হাসিনা) যা বলেছেন, তাতে আমি উদ্বেগ প্রকাশ করছি। খালেদা জিয়ার মুক্তি যদি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে তা হলে সেটি শুধু উদ্বেগজনকই নয়; বরং তা সামগ্রিকভাবে দেশ ও জনগণের জন্য এক অশুভ আগামীর ইঙ্গিতবাহী।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘দেশে যে ন্যূনতম গণতন্ত্র নেই, বরং একদলীয় শাসনের চরম বহির্প্রকাশ ঘটেছে তা লন্ডনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সুস্পষ্ট হয়েছে। আইনের শাসন, আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায়বিচার নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি বারবার যে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, সেটি যে ন্যায়সঙ্গত তা আবারও প্রমাণিত হলো।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে অসহায় মানুষের প্রতিকার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থলের ওপর আস্থার ঘাটতি সৃষ্টি হবে। চরম নৈরাজ্য নেমে আসবে রাষ্ট্র ও সমাজে। সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় ও শঙ্কার পরিধি বৃদ্ধি পাবে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে জাতি উৎকণ্ঠিত।’

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বিএনপিকে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আলটিমেটাম ইরানের


বিএনপিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আলটিমেটাম দিয়েছে ২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক লেবার পার্টি। ২৩ মের মধ্যে বিএনপি যদি ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পর্কছেদ না করে, তবে ২৪ তারিখে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। মঙ্গলবার দুপুরে যুগান্তরকে এ তথ্য জানান ইরান নিজেই।

সোমবার বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়ার একদিনের মাথায় অপর শরিক লেবার পার্টির এমন আলটিমেটামে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুনমাত্রা যোগ করেছে।

মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বিএনপিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে দিতে হবে। না হলে ২০ দল ভেঙে যাবে। জোটের শরিক নেতাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তারাও এ বিষয়ে একমত। ঐক্যফ্রন্ট ছাড়তে বিএনপিকে আমরা ২৩ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলাম। এই সময়ের মধ্যে বিএনপি সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে ২৪ মে সংবাদ সম্মেলন করে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।

লেবার পার্টিও কি ২০ দল ছাড়ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. ইরান বলেন, না আমরা জোট ভাঙতে চাচ্ছি না। আমরা বিএনপিকে ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের করে নিয়ে আসতে চাচ্ছি। কারণ ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে জনমত নেই। ২০ দল বিএনপির পরীক্ষিত বন্ধু। দীর্ঘদিন ধরে আমরা একসঙ্গে পথ চলেছি। আমরা চাচ্ছি বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে সঠিক পথে রাজনীতি করুক।

মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের মতে, বিএনপিসহ ২০ দল জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী। আর ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতি এ ধারার রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই বিএনপিকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কার সঙ্গে থাকবে?

তিনি বলেন, ২০-দলীয় জোটের প্রধান দাবি খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়ার নাম মুখে নিতে চান না। ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা শহীদ জিয়ার, খালেদা জিয়ার নাম নেন না। তাই তাদের সঙ্গে বিএনপি ও ২০ দল চলতে পারে না।

বিএনপির এমপিদের শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি মন্তব্য করে ২০ দলের অন্যতম এই নেতা বলেন, যেখানে আমরাসহ দেশবাসী বলছি- ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন পাতানো নির্বাচন, ভোট ডাকাতির নির্বাচন; সেখানে বিএনপি কী করে এই সংসদে যোগ দিল। বিএনপির এমপিরা শপথ নিয়ে সরকারের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে। এখন কী করে তারা এই সংসদ প্রত্যাখ্যান করবে এবং নতুন নির্বাচন দাবি করবে- প্রশ্ন রাখেন ইরান।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে লেবার পার্টির সভাপতি বলেন, তিনি সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। সে কারণেই বিএনপিকে পাতানো নির্বাচনে যেতে প্রলুব্ধ করেছেন। আর এই নির্বাচনে তার দল প্রথমবারের মতো দুটি আসন পেয়েছে। তারা শপথও নিয়েছে।

বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট না ছাড়লে কী করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ইরান বলেন, এতকিছুর পরও বিএনপি যদি ঐক্যফ্রন্ট না ছাড়ে, তবে আমরা তাদের সঙ্গে চলব কেন?

প্রসঙ্গত এর আগে সোমবার ২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এ জোট থেকে বের হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বিএনপিকে নিয়ে ড. কামালের ‘রাজচালাকি’ সফল!(ভিডিও সহ)


জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যদিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে নিয়ে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ‘রাজচালাকি’ করেছেন। বিএনপিকে নিয়ে তার সব উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। সরকারি রোষানল, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জেল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অগ্রহণযোগ্যতা, নেতাদের অবিশ্বস্ততাসহ নানা কারণে বর্তমানে চরম বিপর্যয় পার করছে একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়া বিএনপি। বিপর্যস্ত বিএনপি ড. কামাল হোসেনের উদ্দেশ্য বা কৌশলের কাছে সম্পূর্ণভাবে ধরাশায়ী হয়েছে। গণফোরামের ৪ জন নেতার সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা যায়। নাম না প্রকাশের শর্তে ওই ৪ নেতা দৈনিক জাগরণকে বলেন, ড. কামাল হোসেন সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য নিয়ে বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণে তার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সফল করেছেন।

গণফোরাম সূত্রে জানা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাবেক আওয়ামী লীগার ড. কামাল হোসেন বিএনপির বিপর্যয়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়েছেন। বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারের শীর্ষ মহলের সঙ্গে সংলাপ প্রক্রিয়ার যে উদ্যোগ ড. কামাল হোসেন নিয়েছিলেন, তা ছিল লোক দেখানো। একইসঙ্গে সরকারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। তিনি বিএনপিকে যেকোনোভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ‘মিশন’ নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। তার সেই মিশন শতভাগ সফলও হয়েছে।

ভিডিওঃ  ‘ডঃ কামাল হোসেন, শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরকে কঠিন ধোলাই দিলেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন! (ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

সূত্র জানায়, সংলাপে অংশ নেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার (প্রধানমন্ত্রী) নেতৃত্বে আস্থা রেখে সকলের অংশগ্রহণে দেশে একটি নির্বাচনের বিষয়ে ড. কামাল হোসেনের কাছে সহযোগিতা চান। কামাল হোসেন প্রধানমন্ত্রীকে সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনে তার পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। যে কারণে তিনি নির্বাচনকালীন বেশিরভাগ সময়ে প্রায় নিশ্চুপ থাকেন। পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট টিকিয়ে রাখার স্বার্থে মাঝে মাঝে কিছু সরকারবিরোধী কড়া কথা বলেন। আর বিএনপিও দলীয় চেয়ারপারসনের অবর্তমানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে দিকভ্রান্ত অবস্থায় ড. কামাল হোসেনের ইশারায় সকল সিদ্ধান্ত নিতে থাকে। মূলত, গণফোরাম করলেও গত নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থরক্ষা করেছেন। বলা যায়, বিএনপির মতো বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক কৌশলের নাগাল ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।

গণফোরামের এক নেতা দৈনিক জাগরণকে জানান, বিএনপিকে ঘিরে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের স্বপ্ন কাজ করে। তার মতে, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি বর্তমানে ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় আছে। নানা কারণে আগামীতে দলটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। সেসময় আওয়ামী লীগ বিরোধী প্লাটফর্ম হিসেবে গণফোরাম আরও শক্তিশালী হবে। বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদেরও গণফোরামে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে। এসব নেতারা গণফোরামে যোগ দিলে তাদের অনুসারীরাও গণফোরামের সঙ্গে থাকবে। তাই গণফোরামকে আরও শক্তিশালী করতে ও গণফোরামের রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হতে দলের বিভিন্ন মিটিংয়ে ড. কামাল হোসেন নেতাদের বারবার তাগিদ দিয়ে থাকেন।

গণফোরামের ওই নেতা বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে কী ঘটেছে তা দেশবাসী খুব ভাল করেই জানে। নির্বাচনের আগের রাতে ভোট গ্রহণ মোটামুটি শেষ করা হলেও, এ প্রেক্ষিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা ফ্রন্টের প্রধান হিসেবে ড. কামাল হোসেনের যে ভূমিকা নেয়া উচিত ছিল তা তিনি নেননি। এছাড়া, নির্বাচনের দিন সকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে বললেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। এটা চরম বোকামি। নির্বাচনের আগের রাতে কী ঘটেছে তা সারা দেশবাসী জানলেও তিনি কীভাবে বা কেন এ ধরনের বক্তব্য গণমাধ্যমে রাখলেন, তা একটা রহস্যও বটে ! হয়ত মির্জা ফখরুল কৌশলের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন !

গণফোরামের এক নেতা জানান, নিজে সবসময় গণতন্ত্রের কথা বললেও দল পরিচালনায় ড. কামাল হোসেন কখনও ভিন্নমত পছন্দ করেন না। দল চালান তিনি একক সিদ্ধান্তে। উদাহরণ হিসেবে তিনি গত ৫ মে (রোববার) জাতীয় প্রেসক্লাবে দলের নতুন কমিটি ঘোষণার কথা উল্লেখ করেন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ায় বহিষ্কারের নোটিশ পাওয়া মোকাব্বির খানকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা বারবার প্রশ্ন করলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। এছাড়া, ঘোষিত কমিটিতে দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর ধরে যারা গণফোরামের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তাদের মূল্যায়ন না করে দলে সদ্য যোগ দেয়া নেতাদের শীর্ষ পদে আসীন করেছেন। প্রবীণ নেতা ও দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে অবমূল্যায়ন করে নির্বাচনের ৮/১০ দিন আগে যোগ দেয়া রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করেছেন। প্রথম নির্বাহী সভাপতি করেছেন অধ্যাপক আবু সাঈদকে, যিনি নির্বাচনের মনোনয়নের ঠিক একদিন আগে গণফোরামে যোগ দিয়েছেন।

গণফোরামের বিগত কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক এসব বিষয়ে বলেন, ড. কামাল হোসেন রাজনীতিতে দ্বৈত চরিত্রের মানুষ। তিনি মুখে বলেন এক কথা, করেন আরেক। তিনি কোনো কথা বা বিষয় কখনও পরিষ্কার করেন না। দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির বিরুদ্ধে সুস্থধারার রাজনীতির কথা বললেও তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তাছাড়া, সম্পূর্ণ বিপরীত আদর্শের রাজনৈতিক দল বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে তার যে রাজনীতি তাতে অবশ্যই তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকাটাই সমীচিন। এর বেশি বলাটা শোভন হবে বলে আমি মনে করি না।

উৎসঃ ‌‌জাগরণ

আরও পড়ুনঃ ‌উচ্চ আদালত তাহলে হাসিনার নির্দেশেই চলছে!


জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের কথিত ২ কোটি টাকা দুর্নীতির নামে শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বান্দি করে রাখছেন এটা এখন প্রমাণিত হয়ে গেছে। কাগজে-পত্রে বিচার বিভাগ স্বাধীন হলেও আসলে এটা যে এখন আওয়ামী লীগেরই একটা শাখা শেখ হাসিনার ফোনালাপ থেকে সেটাও প্রমাণ হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছে হোটেলে যাওয়ার পথে সেন্ট্রাল লন্ডনের তাজ হোটেলের সামনে অবস্থানরত যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে টেলিফোনে কথা বলার সময় শেখ হাসিনা বলেছেন, ঐ বিএনপিরে জানাই দিয়েন যে তারেক জিয়া যদি আমার সাথে বেশি বাড়াবাড়ি করে, তার মা জীবনেও জেল থেকে বের হবে না। কারণ শেখ হাসিনাকে চাপ দিয়ে কোন কিছু আদায় করা যায় না, তার বুঝা উচিত। তাদের এমপিরা জয়েন করছে। তাদের একটি ডিমান্ড ছিলো তার চিকিৎসার। আমরা কনসিডার করতে রাজি। আমার সাথে অনেকে দেখা করছে। কিন্তু আমি এখানে আসার পর যদি তারা বেশি বাড়াবাড়ি করে, আমি তাদের বলবো সরি। তোমাদের লোকরা আমার সাথে বেয়াদবি করছে। আমি দিবো না সরি।

জানা গেছে, তিনি টেলিফোনে যখন কথা বলছিলেন, তখন মোবাইলটি লাউড স্পিকারে ছিলো।

উপস্থিত অনেকেই তখন শেখ হাসিনার এই টেলিফোন আলাপটি রেকর্ড করেন। যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

শেখ হাসিনার এই ফোনালাপ ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এনিয়ে রজনৈতিক অঙ্গনসহ সবমহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এনিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। সবাই বলছেন-খালেদা জিয়া জামিন পাবেন কি পাবেন না সেটা নির্ধারণ করবে আদালত। কিন্তু শেখ হাসিনা বলছেন-খালেদা জিয়া জীবনেও মুক্তি পাবে না। এরমানে-শেখ হাসিনার নির্দেশ ছাড়া যে বিচারপতিরা কিছুই করতে পারেন না সেটা আজ প্রমাণ হলো। সুপ্রিম কোর্ট এখন কার্যত আওয়ামী লীগের আদালত শাখা।

এদিকে, রাজনীতিক বিশ্লেষকরাও প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন। তারা বলছেন- রাষ্ট্রের একজন শেখ হাসিনার মুখ দিয়ে এমন কথা কোনোভাবেই বের হতে পারে না। এর মাধ্যমে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। কারণ, শপথ নেয়ার সময় তিনি বলেছেন-আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুরাগ-বিরাগের ঊর্ধ্বে থাকিব। অথচ খালেদা জিয়ার জামিন ও মুক্তি নিয়ে তিনি যা বলেছেন তা সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে। দেশে যদি আজ আইনের শাসন থাকতো তাহলে শেখ হাসিনার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা আর সম্ভব হতো না। শপথ ভঙ্গের দায়ে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতো।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌‘আইন-আদালতের কারণে নয়, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই বেগম জিয়া কারাগারে’


আইন, আদালতের কারণে নয় প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই বেগম জিয়া কারাগারে আছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

সোমবার(৬ মে) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও তারেক রহমানের সকল রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে নাগরিক প্রতিবাদ সভাটির আয়োজন করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যুক্তরাজ্য সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোনালাপের কথিত অডিওতে শোনা যায়, ‘তারেককে বলো বেশি বাড়াবাড়ি না করতে। তাহলে কিন্তু তার মা জেল থেকে বের হতে পারবে না। লন্ডনে আমাদের এখন কোনো হোটেল ভাড়া দেয় না। প্লিজ, হোটেলের আশপাশে ঝামেলা করো না।’ এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই কথার মানে আইনের কারণে নয়, আদালতের কারণে নয়, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই বেগম জিয়া কারাগারে আছেন এবং সারা জীবন কারাগারে থাকতে হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হুমকি দিয়ে বলেছেন, সব কথাই বলা দরকার কোনো কথায় বলা যাবে না। এ অবস্থার মধ্যে আমরা এ দেশে বসবাস করছি। এখন আমি যদি বলি আদালতের হাত-পা বাঁধা, তাহলে বলা হবে আপনি আদালত অবমাননা করেছেন। আমি বিচার বিভাগের উপর, বিচারপতিদের সবিনয় নিবেদন করবো, একজন কারাবন্দিকে আজীবন কারাগারে থাকতে হবে এ হুমকি যদি প্রধানমন্ত্রী দেয়

তবে আপনারা কি জিজ্ঞেস করতে পারেন, তিনি কে? আপনি কে এ সিদ্ধান্ত দেয়ার? পারবেন না?

গয়েশ্বর বলেন, ‘একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে হোটেল বুকিং দিতে পারে না, এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে গাড়ি নিয়ে ছোটাছুটি করতে হয় এটা স্বাভাবিক বিষয় না। লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর বোনের বাসা আছে। উনি হোটেল বুকিং না পেলে সেখানে উঠতে পারতেন।’

দলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সমালোচনা দলের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস কমায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে ব্লেইম গেম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি কি পারলাম সেটা ভেবে দেখতে হবে। আরেকজনকে কেন দোষারোপ করব? আমরা সবাইতো একই দোষে দুষি। একজন আরেকজনকে দোষারোপ করলে প্রতিপক্ষ সুযোগ পায়। আমরা দুর্বল হয়ে যাই। আমাদের সংগ্রাম ঐক্যের জন্য, ঐক্য হল লক্ষ্যার্জনের।’

এসময় গয়েশ্বর বলেন, ‘আসুন আমরা অন্যের সমালোচনা করা বাদ দিয়ে আত্মসমালোচনা করি এবং নিজেকে সংশোধনের মাধ্যমে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলবো। এতে দল শক্তিশালী হবে, দলের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘যেখানে ব্যর্থতা সেখানেই সফলতার যাত্রা শুরু, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। অর্থাৎ যেখানে আমাদের পারা দরকার। সেখানে আমাদের পারার জন্য চেষ্টা করা দরকার। চেষ্টা করলে কখনো সফল কখনো বিফল হতে পারে। আর বিফল হওয়ার মানে এই না আমি সেখানে ইশতফা দেব ‘

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে সংসদে যাওয়ার। এখন দেখার ব্যাপার যে তারা কতটা ভূমিকা রাখতে পারে। এখন এসব নিয়ে কথা বলার নয়। দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন থাকে। আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এরপর সময়ই বলে দিব সিদ্ধান্তটা সঠিক, নাকি বেঠিক ছিল।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে আশা করেছিলাম সংসদে যাওয়াটা, পরে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার কথার পর তা আর মনে হচ্ছে না। তবু আমরা আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবো।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ, ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, তাঁতী দলের যুগ্ম আহবায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জান মনির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বাংলাদেশের সম্পাদকরা অনেক রিপোর্ট সরকারের ভয়ে প্রকাশ করেন না


আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি বলেছেন, সংবাদ ও সম্পাদকীয় প্রকাশের ক্ষেত্রে চরম মাত্রায় সতর্ক হয়েছেন বাংলাদেশে সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকরা। এমনকি প্রতেশোধ নেয়ার আতঙ্কে তারা অনেক কলাম ও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বিরত থাকেন। প্রথমবারের মতো ঢাকায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্যাম্পেইন ইভেন্টে তিনি এ কথা বলেন।

ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন কমেডিয়ান, কার্টুনিস্ট, সাংবাদিক, বøগার, সঙ্গীতজ্ঞ, কবি, অধিকারকর্মী ও সরাসরি পারফরম্যান্স করা শিল্পীরা। তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অগ্রসরমান করার বিষয়কে ফুটিয়ে তোলেন। একই সঙ্গে এসব অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে সরকার ও জনগণ কী ভূমিকা পালন করতে পারে তার প্রতিফলন ঘটানো হয়।

গত শনিবার ঢাকায় ইএমকে সেন্টারে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টার। ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিড ডে উপলক্ষে এই ইভেন্ট আয়োজন করা হয়। এতে সাদ হাম্মাদি বলেন, যখন মানুষ জানতে পারেন না যে, তারা যা বলেন বা লেখেন তা অপরাধ (অফেন্স) হিসেবে গণ্য হবে; তখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে গিয়ে তারা ভীতশঙ্কিত হয়ে পড়েন। তার মতে, এমন অনুভূতি থেকে অসন্তোষের জন্ম হয়। একটি সামাজিক উন্নয়নশীল দেশের জন্য তা স্বাস্থ্যকর বা উপযোগীও নয়।

অ্যামনেস্টির ক্যামেইন ইভেন্টে স্বাক্ষর করেন কারামুক্ত ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলম, কমেডিয়ান ইয়ামিন খান ও আহমদ আশিক, কার্টুনিস্ট সৈয়দ রাশাদ ইমাম তন্ময়, সাংবাদিক শুপ্রভা তাসনিম, আইরিন খান, সৈয়দ তাশফিন চৌধুরী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ইরেশ যাকের, বøগার ও অধিকারকর্মী ফাহমিদুল হক, আর্টিস্ট লিজা হাসান, ঋতু সাত্তার, সাইফ মাহমুদ ও আবীর খালিদ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিশ্বজুড়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান সম্পর্কে সমর্থন করেন বিভিন্ন স্তরের বিশ্ববরেণ্য আর্টিস্টরা। এর মধ্যে রয়েছে কোল্ডপ্লে, রাসেল ব্রান্ড, জিমি কার, জন স্টিওয়ার্ট, জন অলিভার, স্টিফেন কোলবার্ট।

অনুষ্ঠানে সাদ হাম্মাদি বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই ইভেন্ট হলো স্বাধীনতা বা ফ্রিডমের প্রতি অব্যাহত প্রচারণার অংশ। এর অংশ হলো ওইসব দেশের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যেখানে শান্তিপূর্ণভাবে মতামত শেয়ার করার কারণে মানুষকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুরক্ষা ছাড়া মানুষ অবাধে নিজেকে প্রকাশ ঘটাতে পারে না। তথ্যের ওপর সেন্সরশিপ ও প্রতিশোধের আশঙ্কা জীবনধারণের গুণগত মান হ্রাস পায়। হ্রাস পায় সততা ও জনগণের কাছে জবাবদিহিতার বিষয়।

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌‘শেখ হাসিনার শাসনামল খুন-ধর্ষণ, ব্যাংক ডাকাতি-ভোট ডাকাতির স্বর্ণযুগ’


বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার এই শাসন আমল হলো ধর্ষণ, খুন, ভোট ডাকাতি, ব্যাংক ডাকাতির স্বর্ণযুগ। ইতিহাসবিদরা যদি কখনো এই শাসন আমলের পর্যালোচনা করেন তাহলে এই শাসনামলকে খুন-ধর্ষণের স্বর্ণযুগ বলে অভিহিত করবেন।’

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রয়াত সুনীল গুপ্ত স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে সুনীল গুপ্তের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করতে না পারলে স্বৈরশাসকের পতন হবে না, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না, দেশের মানুষের অধিকার ফিরে পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান ক্ষমতা দখলকারী সরকারের নেতারা বলেন- বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। তাদের এ কথা শুনলে হাসি পায়। যে দেশের রাজধানীতে জনগণ বিশুদ্ধ পানি পায় না। একটু বৃষ্টি হলে নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা হয়। যে দেশের প্রতিটি ব্যাংক ডাকাতি হয়েছে। যে দেশের প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই শিশু, নারী ধর্ষণ, খুন এর খবর পাওয়া যায় সেই দেশ নাকি উন্নয়নের রোল মডেল?’

এ সময় তিনি যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘১৯৭১ সালে কোনও রাজনীতি দল বাংলাদেশ স্বাধীন করে নাই। দেশ স্বাধীন করেছিল ছাত্র, যুবকরা। আজ বাংলাদেশের স্বৈরাশাসকের হাত থেকে মুক্ত করতে হলে যুবকদের কে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্রদেরকে এগিয়ে আসতে হবে, তাহলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া, কবি আব্দুল হাই শিকদার, মাওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম সজল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here