ছাত্রলীগকর্মী পরিচয় দিয়ে শেখ হাসিনাকে তেল মর্দন করলো ৭১ টিভির সাংবাদিক! (ভিডিও)

0
896

ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন করেছেন একাত্তর টেলিভিশনের নারী সাংবাদিক শামীমা দোলা।

আজ শুক্রবার বেলা তিনটায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাজেট–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরুতে তিনি বাজেটের বিভিন্ন দিক এবং সরকারের পরিকল্পনার কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। পরে বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সুযোগ দিলে শামীমা দোলা ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে প্রশ্ন করতে গেলে সাউন্ড সিস্টেমের কারনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিচয় শুনতে পাননি শেখ হাসিনা।

ভিডিওঃ  ‘নেত্রীকে তেল মর্দন ও সাউন্ড সিস্টেমের বিশ্বাসঘাতকতা! ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

প্রথমে প্রশ্নের সুযোগ দিলে শামীমা দোলা নিজের পরিচয় তুলে ধরেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সাউন্ড শুনতে পচ্ছেননা বলে জানান। পরে তাকে সামনে ডেকে নেওয়া হয়। এসময় তিনি তার ছাত্রজীবানে রাজনীতির পরিচয় দিতে গেলে প্রধানমন্ত্রী বাধা দিয়ে প্রশ্ন করতে বলেন।

এদিকে এই সংবাদ সম্মেলনের এই ভিডিও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। এইভিডিও দেখে সাংবাদিকদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

উৎসঃ ‌‌‌sangbad247

আরও পড়ুনঃ ‌পঞ্চম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে তিন মাস ধরে ধর্ষণ, ২০ হাজার টাকায় মীমাংসা করল যুবলীগ নেতা!


কুড়িগ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে তিন মাস ধরে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে সোহেল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিশুটির পরিবারকে সোহেলের পরিবার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা রুহুল আমিন দুলালের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পৌর এলাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রাজু আহমেদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কুড়িগ্রাম শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সরানিপাড়া কলোনির আবু তালেবের ছেলে সোহেল (২৪) তিন মাস ধরে প্রতিবেশী পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে আসছিল। শিশুটির বাবা-মা ও দাদির অনুপস্থিতিতে সে এ কাজ করতো। শিশুটি সোহেলের স্ত্রীকে বিষয়টি জানালে সে কাউকে জানাতে নিষেধ করে। গত বৃহস্পতিবারও (১৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে সোহেল শিশুটিকে ধর্ষণ করার সময় প্রতিবেশীরা দেখে ফেলে। এরপর শিশুর পরিবার থানায় যেতে চাইলে সোহেল তাদের বাধা দেয়।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিষয়টি মীমাংসার জন্য সোহেলের পরিবার কুড়িগ্রাম জেলা শাখা যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন দুলালের কাছে যায়। এরপর শিশুটির পরিবারকে ডেকে নিয়ে ১০ হাজার টাকায় মীমাংসার প্রস্তাব দেন রুহুল আমিন দুলাল। শিশুটির পরিবার এতে রাজি না হলে দুলাল ২০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় শিশুটিকে ৫/৬ মাসের জন্য নানার বাড়িতে রাখতেও বলেন তিনি।

শুক্রবার (১৪ জুন) সকালে শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, শিশুটিকে তার নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শিশুটির বাবা মানসিক রোগী। শিশুটির মা ও দাদি ওই যুবলীগ নেতা এবং অভিযুক্ত সোহেলের হুমকিতে এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে শিশুটির দাদি বলেন, ‘হাজি দুলাল ডাকি নিয়া যায়া কইছে, ২০ হাজার টাকা দেওয়া হইবে। এ নিয়া আর কোনও বাড়াবাড়ি করবেন না। তোমার ছাওয়াক (সন্তান) বাড়িত না থুইয়া ৫/৬ মাসের জন্যে তার নানার বাড়িত পাঠে দেও।’

তার প্রশ্ন, ‘এটা কেমন বিচার? ট্যাকা দিয়া হামরা কী করমো? ওমরা (ওই লোক) হামার ছাওয়ার ওপর নির্যাতন করি যদি বাড়িত থাইকপার পায়, তাইলে হামার ছাওয়া বাড়িত থাইকপার পাবার নয় ক্যা?’

পুলিশের কাছে কেন গেলেন না—এ প্রশ্নে শিশুটির মা ও দাদি বলেন, ‘হামরা ওমার সাথে (সোহেলের পরিবার ও যুবলীগ নেতা) পাবার নই (পারবো না)। গরিব মানুষ কোনও বিচার পাই না। পুলিশের কাছত গেইলে হামার বাড়িত থাকায় হবার নয়। আল্লায় ইয়ার (এর) বিচার করবে।’

সালিশ করে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা এখন পর্যন্ত শিশুর পরিবারকে দেওয়া হয়নি বলেও জানান তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিশুটির এক প্রতিবেশী বলেন, ‘ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে ওই শিশুর পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা ভয়ে কারও কাছে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে জানতে সোহেলের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে, সোহেলের বড় ভাই সেলিম যুবলীগ নেতা রুহুল আমিন দুলালের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় হাজি সাহেবের বাসায় ফয়সালা হয়েছে। আপনি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসব নিয়ে লিখলে মেয়েটারই সমস্যা হবে। এসব নিয়ে লেখালেখি করিয়েন না।’

ধর্ষণের মতো অভিযোগ সালিশের মাধ্যমে দফারফা করা নিয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা দুলাল বলেন, ‘কোনও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। আপনি ভালো করে খোঁজ নিন। আর আমি মোবাইল ফোনে এসব নিয়ে কোনও কথা বলতে পারবো না। আপনি খোঁজ নিয়ে তারপর দেখা করুন।’

ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি তাহলে কিসের বিচার করলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে দুলাল কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

সালিশে ধর্ষণের বিচার করার বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগ এভাবে মীমাংসা মারাত্মক অপরাধ। আদালতের বাইরে যিনি এটা মীমাংসা করবেন তিনিও আলামত নষ্টের অভিযোগে অপরাধী হবেন। এমন কোনও ঘটনা ঘটে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রাজু আহমেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।’

উৎসঃ ‌‌‌বাংলা ট্রিবিউনে

আরও পড়ুনঃ ‌এবার কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও যুবলীগ নেতা


ধর্ষণ থেকে শুরু করে লুটপাট, চাঁদাবজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে লিপ্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন গুলো। তার ব্যতিক্রম নয় যুবলীগ। এবার দীর্ঘ দিন পরকীয়া প্রেম করে হঠাৎ প্রবাসী স্ত্রী নিয়ে উধাও হলো যুবলীগ নেতা।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় যুবলীগ নেতা রজব হোসেন রাজু পাশের গ্রামের এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাজু উপজেলার আকবপুর ইউনিয়নের যুবলীগের আহ্বায়ক। এই ঘটনায় তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীকাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেম চলছিল। এরই জের ধরে ঈদুল ফিতরের পর ৬ মে রাতে দুইজন পালিয়ে যায়।

ওই নারীর দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ঈদের পর তার বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করার কথা থাকলেও মায়ের এমন কাণ্ডে এখন আর এই বিয়ে হচ্ছে না।

অপর দিকে উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের ঘোড়াশাল গ্রামের রজব হোসেন রাজুর পরিবারেও তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। তার প্রথম স্ত্রী আত্মহত্যা করে মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারে দুটি ছেলে সন্তান ও একটি মেয়ে রয়েছে। বাঙ্গরা বাজার থানা যুবলীগের আহ্বায়ক নাইউম খাঁন তার বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানার পর জরুরি সভা ডেকে রজব হোসেন রাজুকে তার পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে আকবপুর ইউনিয়নের যুবলীগের সম্মেলন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’

উৎসঃ ‌‌‌sangbad247

আরও পড়ুনঃ ‌বাজেটে সুবিধাবাদীদের সুযোগ সৃষ্টি হবে : ড. খন্দকার মোশাররফ


২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সুবিধাবাদীদের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

শুক্রবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, একটা গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।’

একটা গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে সরকার কেন বাজেট প্রণয়ন করবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সুবিধাবাদীদের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার জন্য এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। কেনো? সেটার উত্তর জানতে যদি আমরা একটা কেনোকে খুঁজি। ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল সেটা কেনো ২৯ তারিখ রাত্রে ডাকাতি করতে হলো?’

তিনি বলেন, ‘এ জনধিকৃত সরকারকে ভোটের মাধ্যমে সুযোগ পেলে জনগণ তাদের পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে- এ ভয়ে ২৯ তারিখ রাতে ভোট ডাকাতি হয়েছিল। যারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে ওই গোষ্ঠীর স্বার্থ দেখার জন্যই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুলম মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার এবং শায়রুল কবীর খান উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের সেক্রেটারির বাড়িতে বোমা তৈরির সরঞ্জাম সহ দেশীয় অস্ত্র ও ফেনসিডিল উদ্ধার!


যশোরের বেনাপোলে পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টুর ওপর বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ম্যাগজিন, গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বেনাপোলে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু জানান, বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাত ১২টার দিকে তিনি ও তার বন্ধু সুমন ইসলাম বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বেনাপোলে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির সামনে তিনজনকে মুখে কালো কাপড় বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মোটরসাইকেল থামান তারা। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে কালো কাপড় বাঁধা লোকগুলো বোমা ছুড়ে মারে। বাড়ির ওপরও দুটি বোমা ছুড়ে তারা পালিয়ে যায়, তবে সেগুলো বিস্ফোরিত হয় না। দ্রুত তারা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের চেনা যায়নি। বোমা হামলায় মন্টু মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলেও অক্ষত আছেন। তবে তার বন্ধু আহত হয়েছেন। এ নিয়ে তাকে পাঁচবারের মতো হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ঘটনা শোনার পর পরই বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ও নাভারন সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসেনের বেনাপোলের বাড়িতে দুই ঘণ্টা অভিযান চালায়। তার বাড়ি থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ১২টি ম্যাগজিন, পিস্তলের তিন রাউন্ড গুলি, আটটি দেশীয় অস্ত্র, হাতুড়ি ও ৩৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) সৈয়দ আলমগীর হোসেন জানান, খবর পেয়ে তারা মোটরসাইকেলে থাকা আহত সুমনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। বোমা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় মন্টু বেঁচে গেছেন। মন্টুর বাড়ি থেকে অবিস্ফোরিত দুটি বোমাও উদ্ধার করা হয়েছে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসেন জানান, রাজনৈতিক চাপে তিনি গত ছয় মাস ধরে এলাকা ছাড়া। ওই বাড়িতেও কেউ থাকে না। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই প্রতিপক্ষরা সাজানো এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের অনুসারী। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসেন বেনাপোল পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটনের অনুসারী। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে এ দুই নেতার মধ্যে গত পাঁচ বছর দ্বন্দ্ব চলে আসছে। প্রায়ই তাদের অনুসারীদের মধ্যে হামলা-মামলার ঘটনাও ঘটছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সার্কেল এএসপি স্যারসহ আমরা রাত ১টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ম্যাগজিন, পিস্তলের গুলি, দেশীয় অস্ত্র, হাতুড়ি ও ৩৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করি। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মন্টুর ওপর বোমা হামলার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে তার বাড়িতে আসেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন। এ সময় তিনি মন্টুসহ পরিবারের লোকজনদের সান্ত্বনা দেন। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনারও নির্দেশ দেন পুলিশকে।

উৎসঃ ‌‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বিএনপির এমপিদের সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের


জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দলীয় সংসদ সদস্যদের জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এ নির্দেশ দেন। দলীয় এমপিদের নির্দেশনা দিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান করে একটি ‘ছায়া সংসদীয় কমিটি’ও গঠন করেছে বিএনপি।

বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির ছয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে স্কাইপের মাধ্যমে যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠকে সংসদ সদস্যদের পরামর্শ দিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান করে একটি ‘ছায়া সংসদীয় কমিটি’ গঠন করেছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল ছাড়াও কমিটিতে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপি সংসদে থাকবে। সংসদীয় রীতিনীতি মেনে বক্তব্য রাখবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রতিবাদও জানাবে। কিন্তু এমন কিছু করবে না যাতে সংসদের পরিবেশ নষ্ট হয়।

নির্দেশনা মতে, জাতীয় সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন মঙ্গলবারই সংসদে যোগ দেয় বিএনপি। এদিন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যে অনেক দিন পর সংসদে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়েছিল।

জানতে চাইলে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশনে আমাদের করণীয় সম্পর্কে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ বৈঠক হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আমরা সরব থাকব।

তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতির মহাতাণ্ডব চলছে। বালিশ নিয়ে মানুষ আন্দোলন করছে। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বরাদ্দের টাকা লুটপাট হচ্ছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে। জনগণের পক্ষে এসব বিষয় সংসদে তুলে ধরব। তবে কতটা পারব জানি না। এ ক্ষেত্রে স্পিকার আমাদের কতটা সহযোগিতা করে সেটি দেখতে হবে।

হারুন বলেন, ‘চলতি অধিবেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা বাজেট অধিবেশন। বাজেটে জনস্বার্থবিরোধী কিছু থাকলে তা জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে। বাজেট যাতে জনস্বার্থে হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।’

সোমবারের বৈঠকের বিষয়ে বাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার গণমাধ্যমকে বলেন, সংসদ অধিবেশন নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। যেন আমরা সবাই ঠিক থাকি, সবকিছুর ঠিকঠাক জবাব দিতে পারি, নিয়মিত অধিবেশনে যোগ দিই—এসব ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়েছে দল থেকে। পাশাপাশি সংসদে যোগদানের সুযোগের কীভাবে সদ্ব্যবহার করা যায়, সে বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে দলের সদস্যদের বক্তব্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি প্রাধান্য দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।সেই মোতাবেক বাজেট অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিএনপির নারী সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বক্তব্য রাখেন। তিনি ফ্লোর নিয়ে বলে ওঠেন, একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এ সময় সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। বিএনপির এ এমপি প্রায় আড়াই মিনিট বক্তব্য রাখলেও সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের চিৎকার, চেঁচামেচি ও প্রতিবাদের কারণে সংসদ কক্ষে কেউ রুমিনের বক্তব্য ভালোভাবে শুনতে পাননি।

ফ্লোর নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। টিআইবিসহ সবাই বলেছে- এ সংসদ জনগণের ভোটে হয়নি। তাই খুশি হব এই সংসদের মেয়াদ যেন একদিনও না বাড়ে।

রুমিনের পুরো বক্তব্য

ভিডিওঃ  ‘ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে আছি, যেই সংসদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষের, গণমানুষের নেত্রী, যিনি জীবনে কোনো দিন, কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি- সেই বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদে নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে, একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় আজকে কারাগারে ১৬ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই- বেগম খালেদা জিয়ার মামলার যে ম্যারিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার যে বয়স, সবকিছু বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।’

তারেক রহমানের প্রতি সরকার অন্যায় করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন না। আমাদের শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একেকজনের নামে শত শত মামলা। মাননীয় স্পিকার তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।’

জানা গেছে, সোমবারের ওই বৈঠকে বাজেট অধিবেশনের বিষয় অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতে সরকারের অনিয়মের বিষয়টিও তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি। সরকারের অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সংসদ সদস্যদের সাহায্য করবেন কেন্দ্রীয় কমিটির স্ব স্ব বিষয়ক সম্পাদকমণ্ডলীর নেতারা।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান আগেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিষয়কভিত্তিক সম্পাদকদের সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে পৃথক পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। যেমন, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করবেন। সেই প্রতিবেদন সংসদ সদস্যরা সংসদে তুলে ধরবেন। এ রকম সব সম্পাদককে ছায়ামন্ত্রীর মতো প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দেয়া আছে।

সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন—উকিল আব্দুস সাত্তার, মো. হারুনুর রশীদ, মো. জাহিদুর রহমান, মো. আমিনুল ইমলাম, মোশারফ হোসেন ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌হিজাব নিয়ে শেখ হাসিনার মন্তব্যে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছেঃ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী


সম্প্রতি গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ‘হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢেকে এটা কি? জীবন্ত টেন্ট (তাঁবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো, এটার তো কোনো মানে হয় না’- নারীদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার দেয়া এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী।

শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে নারীদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের জবাবে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, একজন নারীর জন্য পরপুরুষের সামনে দুই হাত, দুই পা খোলা রাখার অবকাশ নেই। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সম্পূর্ণ শরীরে পর্দা করা শরয়ি হিজাবের মূল উদ্দেশ্য।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তবে হিজাব সম্পর্কে শেখ হাসিনার ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন মুসলমান ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কোনোভাবেই শরিয়তের বিধান নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করতে পারে না।

শরিয়তের অন্যতম বিধান পর্দা সম্পর্কে দেয়া এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে তাওবা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন হেফাজত মহাসচিব।

হিজাব (পর্দা) ইসলামের অন্যতম একটি ফরজ বিধান উল্লেখ জুনায়েদ বাবুনগরী বিবৃতিতে আরও বলেন, একজন নারীর ইজ্জত আবরু রক্ষায় শরয়ি পর্দার বিকল্প নেই। একজন নারী শরয়ি পর্দা মতো চললে সমাজে ইভটিজিং, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ইত্যাদির ন্যায় অপরাধ ও অনৈকিতা থাকবে না। সমাজ হবে শান্ত ও সুশৃঙ্খল।

পর্দাহীনতার কারণেই আজ নারী নির্যাতন চরম আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশু থেকে শুরু করে সত্তর বছরের বৃদ্ধাও আজ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শুধু নির্যাতন নয়; নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যাও করা হচ্ছে। এর মূল কারণ হলো- বেপর্দা, নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা।

বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী আরও বলেন, পবিত্র কোরআন শরিফের সাতটি আয়াত এবং প্রায় ৭০টির মতো হাদিস দিয়ে পর্দার বিধান প্রমাণিত। এসব আয়াত ও হাদিস দিয়ে পর্দার বিধান প্রমাণিত হওয়ার পাশাপাশি সর্বপ্রকারের বেপর্দা হারাম হওয়াও সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

‘সুতরাং শরয়ি পর্দা নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত শেখ হাসিনার মুখে এমন আপত্তিকর মন্তব্য দুঃখজনক। প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে পর্দা সম্পর্কে দেয়া এমন বক্তব্যে কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, শরয়ি পর্দা নারীর ভূষণ, ইজ্জত আবরু রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু নারী সমাজ আজ পশ্চিমাদের তালে তাল মিলিয়ে চলাফেরা করে নিজের ইজ্জত আবরু বিনষ্ট করছেন। মানবরূপী নরপশু লম্পটদের ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

পর্দা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য নয়; বরং শালীন পোশাক পরিধান, শরয়ি পর্দা ও ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে ইভটিজিং, ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনমুক্ত সমাজ গড়তে সবার প্রতি আহ্বান জানান হেফাজত মহাসচিব।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেয়ার নৈতিক অধিকার নেই : আমির খসরু মাহমুদ


অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর বনানীতে নিজ দফতরে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন।

তবে এটি বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নয়। দলীয়ভাবে বিএনপি আগামীকাল শুক্রবার প্রতিক্রিয়া দেবে বলে জানা গেছে। আমির খসরু বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র অনির্বাচিত সরকার রয়েছে বাংলাদেশে। এই সরকারের বাজেট দেয়ার নৈতিক অধিকার নেই। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধও নয়।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি কিছু সংখ্যক মানুষের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। তারা বাজেট প্রণয়ন করছে। তারা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। আবার তারাই সরকার পরিচালনা করছে।

তিনি আরও বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতি নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋণনির্ভর বাজেট দিতে হচ্ছে। এক মিলিয়নের বাজেট তিন মিলিয়ন দেয়া হচ্ছে, এই টাকা আমার-আপনার পকেট থেকেই নেয়া হবে। করের মাধ্যমে, ভ্যাটের মাধ্যমে বা অন্যান্য মাধ্যমে এই টাকা সরকার মানুষের পকেট কেটে নেবে।

আমির খসরু বলেন, অনির্বাচিত সরকার, অনির্বাচিত সংসদে এই বাজেট দিয়েছে। গণতন্ত্র না থাকায় সুশাসন নেই দেশে। সু-শাসনের অভাবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বন্ধ, শেয়ার বাজারে অস্থিরতা, ব্যাংকে তারল্য সংকট চলছে।

সরকার দেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে খসরু বলেন, এই ঋণ শোধ দিতে দেশের মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। নাগরিকদের ভুগতে হবে চরমভাবে। রফতানির চেয়ে আমদানি বেশি হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি বেকার বাংলাদেশে। প্রবৃদ্ধির যে কথা বলা হচ্ছে, তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

দেশের অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা একটি শ্রেণির কাছে জিম্মি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনির্বাচিত সরকারের নৈতিক অধিকার নেই বাজেট দেয়ার। জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে, একইভাবে বাজেটও দিচ্ছে। যেভাবে জনগণ এই নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি বাজেটও গ্রহণ করবে না।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শেখ হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ আলেম সমাজ (ভিডিও সহ)


মুসলিম নারীদের পর্দাকে কটাক্ষ করে শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও আলেম সমাজ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

গত রোববার বিকেলে গণভবনে ত্রিদেশীয় সফর শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ হাসিনা। ওই সময় গাজী টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজার নারীদের নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতে পায়ে মোজা, চোখ-নাক ঢাইক্কা এইটা কি? জীবন্ত টেন্ট (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানোর কোনো মানে হয় না।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

কিন্তু কোনো মুসলিম নারীদের পর্দাকে এভাবে তাচ্ছিল্য করে দেয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য কোনো গণমাধ্যমই প্রকাশ করেনি। অ্যানালাইসিস বিডি ওই দিন রাতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের ভিডিওসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অ্যানালাইসিস বিডির এই সংবাদ প্রকাশের পরই এনিয়ে দেশের আলেম-ওলামাসহ সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।

দেখা যাচ্ছে, ধর্মপ্রাণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অশালীন ভাষায় শেখ হাসিনাকে গালাগালি করছেন। অনেকেই আবার মুসলমান নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে তাওবা করে বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছেন।

এদিকে, মুসলিম নারীদের পর্দাকে তাচ্ছিল্য করে দেয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশের ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ আলেম সমাজ। তারাও শেখ হাসিনাকে এমন গর্হিত বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছেন।

ইতিমধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করিম শেখ হাসিনার বক্তব্য ক্ষোভ প্রকাশ করে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে একটি বিবৃতিও দিয়েছেন। শেখ হাসিনাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্যও তিনি তার বিবৃতিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ হাসিনার বক্তব্য আলেম সমাজ চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সরকারের রোষানলে পড়ার ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। তবে, তারা এও বলছেন যে শেখ হাসিনার বক্তব্য সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের সামিল। এমন বক্তব্য দিয়ে বড় অপরাধ করেছেন। শেখ হাসিনা যদি তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার না করে তাহলে এটা নিয়ে কিছু হতেও পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষস্থানীয় একজন আলেম বলেছেন, ওআইসি সম্মেলনে গিয়ে শেখ হাসিনা ঠিকই কালো বোরকা পরে নিজের শরীর ঢেকেছিলেন। তখনতো তিনি নিজেও একটি জীবন্ত টেন্ট ছিলেন। আর দেশে এসেই তিনি মুসলিম নারীদের পর্দাকে তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। শেখ হাসিনা আসলে একজন বকধার্মিক। একদিকে ধর্মের কথা বলে অন্যদিকে ধর্মীয় বিধানের আঘাত করে।

তিনি বলেন, দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমনরা ধৈর্য ধরে বসে আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা যদি তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করে তাহলে এই ধৈর্য বেশি থাকবে না। কারণ, ইসলামের একটি বিধানকে কটাক্ষ করে একজন মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানের এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শেখ হাসিনা এদেশের কোটি কোটি মুসলিম নারীকে অপমান করেছেন। এদেশের মুসলমানদে কলিজায় তিনি আঘাত করেছেন। তাকে অবশ্যই তাওবা করে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় মুসলমানরা ঘরে বসে থাকবে না।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! (ভিডিও সহ)


শপথ গ্রহণ করে জাতীয় সংসদে যোগদানের প্রথম দিনেই উত্তাপ ছড়ালেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও দলের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তার এক বক্তব্যেই মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ।

সংসদে যোগ দিয়ে প্রথম দিন শুভেচ্ছা বক্তা হিসেবে বলার সুযোগ নিয়ে রুমিন বলেন ‘একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়।’ এ সময় সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রুমিনের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

বিএনপির এই এমপি প্রায় আড়াই মিনিট বক্তব্য রাখলেও সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের চিৎকার, চেঁচামেচি ও প্রতিবাদের কারণে সংসদ কক্ষে কেউ রুমিনের বক্তব্য ভালোভাবে শুনতে পাননি।

এ সময় স্পিকার সরকারি দলের সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানালেও কেউ কর্ণপাত করেননি।

রুমিনের পুরো বক্তব্য

ভিডিওঃ  ‘ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আজকে সংসদে আমার প্রথম দিন। যে কোনো রাজনীতিবিদের মতোই সংসদে আসা, সংসদে দেশের কথা, মানুষের কথা বলা আমার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, আমি এমন একটি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি, যেই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। নির্বাচনের পরপরই যদি আপনারা টিআইবির রিপোর্ট দেখেন, যদি আপনারা বিদেশি গণমাধ্যম দেখেন, যদি আপনারা বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দেখেন, যদি আপনারা নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট দেখেন, আপনারা দেখবেন এই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সুতরাং আমি খুশি হবো যদি এই সংসদের মেয়াদ আর একদিনও না বাড়ে।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে আছি যেই সংসদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষের, গণমানুষের নেত্রী, যিনি জীবনে কোনো দিন, কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি- সেই বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদে নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে, একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় আজকে কারাগারে ১৬ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই যে, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার যে ম্যারিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার যে বয়স, সবকিছু বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।’

‘সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাকটিং চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন না। আমাদের শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একেকজনের নামে শত শত মামলা। মাননীয় স্পিকার তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত’- বলেন তিনি।

এই পর্যন্ত বলার পর সময় শেষ হওয়ায় স্পিকার তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বক্তব্য শেষ করার কথা বলে বলেন, বক্তব্য শেষ করুন। পরে আবার বলার সুযোগ পাবেন।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যের পর ফ্লোর নিয়ে প্রতিবাদ করেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, উনি একটি গণতান্ত্রিক দেশের… নিজেও শপথ নিয়ে অবৈধ বলায় ১৬ কোটি মানুষকে অসম্মান করেছেন। তাই আমি তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানাচ্ছি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালির ৩০৭ বিধি অনুযায়ী, তার বক্তব্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি কোনো অসংসদীয় কিছু পাওয়া যায় তাহলে এক্সপাঞ্জ করা হবে।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকেই) দুর্নীতিবাজদের বসবাস!


অনুসন্ধানের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করার লক্ষ্য নিয়েই গঠন করা হয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির মূল কাজ হলো রাষ্ট্রের সকল সেক্টরের দুর্নীতিবাজদেরকে খোঁজে বের করা। মোট কথা, দুর্নীতিবাজদের ধরা, লুটে নেয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং তাদেরকে আইনের হাতে তুলে দেয়া।

কিন্তু, এক পর্যায়ে এসে দুর্নীতি দমন কমিশন নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরই এখন বসবাস করছে বড় বড় দুর্নীতিবাজ। এখানে বসেই তারা নিজেরা অবাধে চাঁদাবাজি ও ঘুষ-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতির তদন্তের নামে কোটি কোটি টাকা ঘুষ খেয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরের বড় বড় দুর্নীতিবাজদেরকে তারা ছেড়ে দিচ্ছে। আরও ভয়ঙ্কর বিষয় হলো-দুর্নীতিবাজদের কাছে তারা অফিসের গোপন নথিও পাচার করছে।

অবৈধভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ায় দায়ে বরখাস্ত হয়েছেন দুদকের পরিচালক এনামুল খন্দকার বাছির। এই ঘুষ নেয়ার বিষয়ে তাদের হওয়া কথোপকথনও ইতিমধ্যে প্রকাশ হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, প্রাথমিকভাবে তারা এই ঘুষ নেয়ার সত্যতা পেয়েছেন। দেশের সর্বত্র এখন এটা নিয়েই চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

দুদক পরিচালক বাছিরের ঘুষ কেলেংকারির ঘটনায় যখন সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় বইছে তখনই ফাঁস হলো দুদকের আরেক কেলেংকারি। বাংলাদেশে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত হলো শিক্ষা অধিদপ্তর। এখানের দুর্নীতিবাজদেরকে রেহায় দেয়ার জন্য এক দুদক কর্মকর্তার ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার ঘুষ চাওয়ার অডিও ফাঁস হয়েছে। দৈনিক কালেরকণ্ট পত্রিকা মঙ্গলবার ঘুষ চাওয়ার অডিওসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এখন পর্যন্ত দুদকের পক্ষ থেকে এটার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, গত জানুয়ারি মাসে আসামির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ এবং অনুসন্ধানের তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক এ কে এম ফজলুল হককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত-২-এ কর্মরত ছিলেন।

ফজলুল হক বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্পদের অনুসন্ধানে দীর্ঘ ১৩ মাস সময় নেন। তিনি অনুসন্ধানসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথির কাগজপত্র বেআইনিভাবে এক কর্মচারীর মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির হাতে দিয়েছিলেন। গত ১৪ জানুয়ারি দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

এর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে এস এম শামীম ইকবাল নামে দুদকের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে দুদক। তিনি দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০১৫ সালের জুন মাসে কমিশনের পক্ষ থেকে একটি মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন করা হলেও শামীম ইকবাল তা আদালতে উপস্থাপন না করে নিজের কাছে রেখে দেন।

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ নিজেই এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। অন্যথায়, দুদকের পরিচালকরা এভাবে অবাধে ঘুষ বাণিজ্যে লিপ্ত হতে পারে না।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! (ভিডিও সহ)


পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হল আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের মুসলমানরা শত শত বছর ধরে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামিক কালচার অনুযায়ী জীবন যাপন করে আসছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এদেশের মুসলমানরা ইসলামি পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করেন। তারপরও পাশ্চাত্যের গোলাম হিসেবে পরিচিত কিছু নামধারী মুসলমান এদেশের মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্যের নোংরা সংস্কৃতি ঢোকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। নেকাব ও হিজাবধারী স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারীদেরকে তারা ধর্মান্ধ বলে গালি দিয়ে থাকে। নেকাব ও হিজাব পরার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রীদেরকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আধুনিকতার নামে উলঙ্গ সংস্কৃতির অনুসারীরা প্রায় সময়ই নেকাব ও হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে থাকে। টেলিভিশনের টকশোতে তারা হিজারধারী নারীদেরকে নিয়ে নানা রকম বাজে মন্তব্য করে থাকে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো- এখন রাষ্ট্রের অভিভাবক শেখ হাসিনা নিজেও নেকাবধারী নারীদেরকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে পায়ে মোজা পরা ও নেকাব দিয়ে চোখ-মুখ ঢেকে রাখা নারীদেরকে কটাক্ষ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে এসএ টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজা প্রশ্ন করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আমাদের নারীদের বিরুদ্ধে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে, ধর্মীয় সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। এদের ব্যাপারে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন এবং রাষ্ট্র কি ব্যবস্থা নিতে পারে?

জবাবে শেখ হাসিনা অনেক বয়ান করেছেন। হযরত খাদিজা ও আয়েশার জীবন কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তারা নারী হয়েও যুদ্ধ করেছেন। ওই সময় নারীরা অনেক ক্ষমতাধর ছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের বয়ান করলেন। বললেন- আমরা নারীদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন পাইলট আছে আমার নারী, আর্মি অফিসার আছে আমার নারী, মেজর আছে আমার নারী। আমি নারীদেরকে সবখানে তুলে নিয়ে আসছি। এটাই তাদের জবাব।

এরপর কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দাঁড়ালেন প্রশ্ন করতে। ওই সময় শেখ হাসিনা নারীদের প্রসঙ্গে আবার বললেন, হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢাইক্কা এটা কি? জীবন্ত tent (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটারতো কোনো মানে হয় না।

সচেতন মানুষও মনে করছেন, শেখ হাসিনা এখানে সরাসরি নেকাব ও হিজাবধারী নারীদেরকে অপমান করেছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার অধিকার একজন মুসলিম নারীর আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা একটি মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাত মোজা, পা মোজা ও নেকাব পরিধান করে নাক-চোখ ঢেকে রাখাকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশের মুসলিম নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here