শেখ হাসিনা নিজেও খালেদা জিয়ার অধীনে নির্বাচন মানেননি!

0
1186

কাজী নজরুল ইসলাম

তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোসাইন মুহম্মদ এরশাদ। ৬ তারিখ প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ক্ষমতা ছাড়েন প্রেসিডেন্ট এরশাদ।

এদিকে, দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট করে তার অধীনে ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার’ ব্যবস্থাপনায় তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যমত পোষণ করেছিল।

সেই নির্বাচনকালীন সরকার ‘তত্বাবধায়ক সরকার’ নামে পরিচিতি পায়। সেবারের নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এসেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।

কিন্তু সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যমতের ‘তত্বাবধায়ক সরকার’ সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করতে গড়িমসি করে বিএনপি। প্রতিবাদে রাজপথের আন্দোলনে সোচ্চার হয়ে উঠে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

জামায়াতে ইসলামীকে সাথে নিয়ে রাজপথ কাঁপাতে থাকে আওয়ামী লীগ। তারপরও বেগম খালেদা জিয়া নিজের অধীনেই নির্বাচন দেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ওই নির্বাচন বিএনপি ও কয়েকটি ছোট দল ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল বর্জন করে।

ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭৮টিতে জিতে পুনরায় সরকার গঠন করে বিএনপি। কিন্তু তীব্র আন্দোলনের মুখে সংসদে তত্বাবধায়ক সরকার বিল পাশ করে ৩০ মার্চ সংসদ ভেঙে দেয়া হয় এবং খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন।

অতপর সাবেক প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসেন শেখ হাসিনা।

২০০১ সালে সংবিধান মোতাবেক সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বে তত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। ২০০১ সালের ওই নির্বাচনে জিতে পুনরায় ক্ষমতায় আসেন বেগম খালেদা জিয়া।

২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচনকালীন সময়ে সংবিধান মোতাবেক তত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রসঙ্গে বিতর্ক শুরু হয়। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ রাজপথে এসময় ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলে।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন বেগম খালেদা জিয়া প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি করেছিলেন। এতে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বভার পড়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের ওপর।

কিন্তু অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি না করলে দায়িত্ব পড়তো বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন এর ওপর।

শেখ হাসিনা অভিযোগ করলেন, বিচারপতি কে এম হাসান বিএনপির দলীয় ব্যক্তি। অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধির কারসাজি করে তাকে উদ্দেশ্যমুলকভাবে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করা হচ্ছে।

অর্থাৎ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নির্বাচন মানেননি। এমনকি খালেদা জিয়ার পছন্দের ব্যক্তি অযুহাতে ২০০৬ সালে বিচারপতি কে এম হাসানের অধীনেও নির্বাচন মানেনি।

এছাড়া তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রথমে মানলেও বিএনপি মনোনিত প্রেসিডেন্ট হওয়ায় পরে ইয়াজউদ্দিন আহমেদের অধীনেও নির্বাচন মেনে নেননি তিনি। পরবর্তীতে ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন মেনেছেন শেখ হাসিনা।

অথচ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আজীবনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকার পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করেছেন শেখ হাসিনা।

২০১৪ সালে শেখ হাসিনা নিজের অধীনে নির্বাচন করতে চাইলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন বর্জন করে। কিন্তু নিজের অধীনেই নির্বাচন করে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় প্রধানমন্ত্রী হয়ে সরকার গঠন করেন তিনি। পরবর্তীতে সংসদ ভেঙেও দেননি।

অর্থাৎ নিজেই শাসক, নিজেই নির্বাচক; জনগণ কিছু নয়। জেনারেল এরশাদের মতো শেখ হাসিনাও ‘নির্বাচিত স্বৈরশাসক’।

বেগম খালেদা জিয়া বা তার নিয়োগকৃত ব্যক্তিদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়া শেখ হাসিনা আবারো নিজের অধীনে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে সবাইকে আহ্বান করছেন।

তত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থাপনা বাতিল করে অনুগত পুলিশ, র্যা ব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর বন্দুকের মুখে জনগণকে জিম্মি করে তিনি আজীবনের জন্য প্রধানমন্ত্রী থাকতে চাচ্ছেন। জনগণের ভোট নয়, বন্দুকের নলই শেখ হাসিনার ক্ষমতার উৎস!

সুত্রঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় প্রতি সপ্তাহে আদালতে দৌড়ান যেসব নেতারা


দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে প্রশ্ন যখন ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়ার তিন বছর কারাদণ্ড হয়েছে।

আদালত সূত্র বলছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরও দুই সদস্য মির্জা আব্বাস ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দুর্নীতির মামলার বিচারও শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে।

মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য-জেরা চলছে। এরপর আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য দিন ঠিক করবেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম প্রথম আলোকে বলছেন, প্রতি সপ্তাহে মামলার শুনানি হচ্ছে। এভাবে চললে আগামী এক মাসের মধ্যে মামলার বিচার শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, মিথ্যা দুর্নীতি মামলায় বিএনপি নেতাদের সাজা দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। প্রতি সপ্তাহে মামলার শুনানির তারিখ পড়ছে। আদালতে তাঁদের হাজির হতে হচ্ছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ কে এম মোশাররফ হোসেনের মামলার বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে এসেছে।

দুর্নীতির মামলায় তিন বছর আগে দণ্ডিত পলাতক আসামি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার আরও একটি দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা হবে ২৮ নভেম্বর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদের বিরুদ্ধে করা জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায়ও প্রতি সপ্তাহে শুনানির তারিখ পড়ছে।

বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ, এ কে এম মোশাররফ ও আবদুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে মামলা হয় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। আর মির্জা আব্বাস ও মওদুদ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা হয় এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর। এসব সব মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার শাস্তি ১০ বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দুদকের করা অর্থপাচার মামলাটির বিচার চলছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এ। আদালত সূত্র বলছে, মামলার তদন্ত কমকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা চলছে। এ মামলায় আজ বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এর আগে মোশাররফ গত ১১ নভেম্বর এবং ৪ নভম্বের শুনানির দিন থাকায় আদালতে হাজির হয়েছিলেন।

মোশাররফের আইনজীবী বোরহান উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, তড়িঘড়ি করে মামলার বিচার শেষ করার জন্য প্রতি সপ্তাহে শুনানির দিন রাখা হচ্ছে।

সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দুদক ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করে। এতে বলা হয়, তিনি মন্ত্রী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি লন্ডনের একটি ব্যাংক হিসাবে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১ টাকা জমা রাখেন। এই মামলার বিচার শুরু হয় ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর।

মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলার বিচার চলছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা চলছে।

আদালত সূত্র বলছে, এ মামলায় আজ শুনানির দিন থাকলেও মির্জা আব্বাস আদালতে হাজির হননি। এর আগে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১৩ নভেম্বর, ৮ নভেম্বর ও ৫ নভেম্বর।

মির্জা আব্বাসের আইনজীবী আবদুর রেজাক খান প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি সপ্তাহে মামলার তারিখ ফেলা হচ্ছে। মির্জা আব্বাসকে আদালতে হাজিরও হচ্ছেন। দ্রুত শেষ করার চেষ্টা আছে।

সাবেক পূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সংগতিবিহীন ৭ কোটি ৫৪ লাখ ৩২ হাজার ২৯০ টাকার সম্পদ অর্জন এবং ৫৭ লাখ ২৬ হাজার ৫৭১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ১৬ আগস্ট মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালের ১৪ মে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

আবদুল্লাহ আল নোমান

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে সম্পদের হিসাব জমা না দেওয়ার অভিযোগের মামলাটির বিচার চলছে এখন ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

এ মামলার সর্বশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১৪ নভেম্বর। নোমানের আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ প্রথম আলোকে বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে আবদুল্লাহ আল নোমানকে হয়রানি করা হচ্ছে।

বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে মামলা হয় ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ওই বছরের ১৯ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা হয়। ২০০০ সালের ৩০ মে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

এ কে এম মোশাররফ হোসেন

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার চলছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ এ। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা চলছে।

আদালত সূত্র বলছে, এ মামলার সর্বশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয় গত ১৪ নভেম্বর ও ৪ নভেম্বর।

দুদকের করা এ মামলার অভিযোগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে এ কে এম মোশাররফ হোসেন কানাডার প্রতিষ্ঠান নাইকো রিসোর্স লিমিটেড থেকে ৯৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং কানাডা-আমেরিকা ভ্রমণের জন্য ৫ হাজার ডলার নিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১২ সালে মামলা করে দুদক।

মওদুদ আহমেদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদের বিরুদ্ধে করা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলার বিচার চলছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এ। এ মামলায় বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। শুনানির দিন থাকায় গত ১৮ নভেম্বর আদালতে হাজির হন মওদুদ আহমেদ। এ ছাড়া চলতি মাসের ১১ নভেম্বর এবং ৪ নভেম্বর মামলার শুনানি হয়েছে মওদুদের মামলার।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৯ কোটি ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন এবং ৪ কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৫৭৩ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ১৬ জানুয়ারি মওদুদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এ মামলায় পরের বছর ২০০৮ সালের ১৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। গত বছরের ২১ জুন আদালত মওদুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

সাদেক হোসেন খোকা

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলার বিচার চলছে ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে। দুদকের করা এ মামলায় আগামী ২৮ নভেম্বর রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য আছে।

আদালত সূত্র বলছে, মামলায় খোকার বিরুদ্ধে মেয়র থাকাকালীন আরও তিনজনের সঙ্গে যোগসাজশে মোট ৩৭ লাখ ১৯ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, খোকাসহ চারজন পরস্পরের যোগসাজশে বনানীর ওই মার্কেটের বেজমেন্টে ‘কার পার্কিংয়ের’ ইজারার অর্থ আত্মসাত্ করেন। অন্য তিন আসামি হলেন বনানীর ঢাকা সিটি করপোরেশনের সুপার মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল বাতেন, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান আজাদ ও পার্কিং স্থানের ব্যবস্থাপক এ এইচ এম তারেক।

এর আগে ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের মামলায় সাদেক হোসেন খোকার ১৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। রায়ে সাদেক হোসেনের ১০ কোটি ৫ লাখ ২১ হাজার ৮৩২ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল দুদক সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে রমনা থানায় এই মামলা করে।

বিএনপি নেতা এবং তাঁদের আইনজীবীদের অভিযোগ, নির্বাচনে অযোগ্য করার জন্য তড়িঘড়ি করে মামলার বিচার শেষ করার জন্য উপর থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

খন্দকার মোশাররফ এবং মওদুদ আহমেদের আইনজীবী বোরহান উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশে তাঁর মক্কেলদের বিরুদ্ধে দুদক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এখন প্রতি সপ্তাহে দিন ফেলা হচ্ছে। নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকলেও তাঁদের মক্কেলদের আদালতে হাজির হতে হচ্ছে।

দুদকের কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ এনেই দুদক এসব মামলা করেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো মামলা করেনি দুদক। মামলার শুনানির দিন ঠিক করেন আদালত, এই এখতিয়ার একমাত্র আদালতের। সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েই পেয়েই বিএনপি রফিকুল ইসলাম মিয়াসহ অন্যদের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

খুরশীদ আলম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দুই বছরের অধিক কারাদণ্ড হওয়ায় রফিকুল ইসলাম মিয়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না, যদি না সাজা উচ্চ আদালতে স্থগিত হয়।

উৎসঃ প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ যে কোন মূল্যে আমরা ইভিএম ব্যবহার করবইঃ সিইসি নুরুল হুদা


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার থেকে সরে আসার কোনো সম্ভবনা নেই জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে যারা মামলা করবে এটা তাদের ব্যাপার, আমার কিছু বলার নেই। আমরা ইভিএম সীমিত আকারে ব্যবহার করবো।’

শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) আগারগাঁওয়ে ইটিআই ভবনে একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ‘প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ সংক্রান্ত প্রশিক্ষনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এসব কথা বলেন।

এর আগে প্রশিক্ষকদের উদ্দেশেও সিইসি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আইনগত কোনো বাধা নেই। আমরা এটা সীমিত আকারে ব্যবহার করবো। এটা থেকে পিছিয়ে যাব না।’

আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হলে মামলার হুমকি দিয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল এক অনুষ্ঠানে জোট নেতারা এ কথা বলছেন, দেশে ইভিএমের ব্যবহার সংবিধান পরিপন্থি। কারণ সংবিধানে বলা হয়েছে, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। আর ইভিএম দ্বারা প্রত্যক্ষ ভোট হয় না। সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে মামলা করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ‘এটা তাদের ব্যাপার আমার কিছু বলার নেই। আমরা ইভিএম পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করবো। এটা করতে হবে। একেবারে সীমিত আকারে ব্যবহার করবো।’

তাদের (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) ভুল ভাঙ্গাতে আপনাদের তরফ থেকে কোন আায়োজন থাকবে কিনা?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ নাহ’।

ইভিএম ব্যবহার করার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানান সিইসি।

তিনি বলেন, ‘সব আসনেই কি ইভিএম ব্যবহার হবে? কতটুকু সীমিত ব্যবহার হবে সেটা এখনও ঠিক করিনি। আগামী শনিবার মিটিং হবে সেদিন এটা পরিস্কার হবে। সেসময় ঠিক হবে। হয় পূর্ণাঙ্গ আসন, হয় কিছু সংখ্যক কেন্দ্রে। এই দুইটা জিনিস আমরা মিটিংয়ে ঠিক করবো।’

এর আগে প্রশিক্ষকদের উদ্দেশ্যে নূরুল হুদা বলেন, ‘ইভিএম একটি নতুন উদ্যোগ। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট দেয়ার যে জটিলতা সেটা নিরসনের একটা উপায় আমাদের বের করতেই হবে। আমরা নির্বাচন কমিশন বিশ্বাস করি সেই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট দিতে যে ঝামেলা সেটা থেকে মুক্তি পেতে পারবে। সে কারণেই ইভিএম চালু করতে চাই।’

সিইসি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের আইনগত ভিত্তি আমাদের রয়েছে। এ বছর আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচন এটা ব্যবহার করার জন্য আইনের যে প্রক্রিয়া আমরা সেগুলো আমরা ঠিক করেছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আইনগত কোনো বাধা নেই। আমরা এটা সিমীত আকারে ব্যবহার করবো। এটা থেকে পিছিয়ে যাব না।’

প্রশিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যেখানে ইভিএম ব্যবহার হবে, সেখানে অন্তত ৫-৬ দিন আগে আগে মানুষকে বুঝাতে হবে। দেখাতে হবে কিভাবে ভোট দেয়া হয়। ভোটারদের বুঝাতে হবে। বিভিন্ন দল ইভিএমের বিরোধিতা করেন আমি অনুরোধ করবো তাদের প্রতিনিধি আমাদের কাছে পাঠান। তারা এটি এসে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখুক। তাদের লোক দিয়ে ইভিএমের টেকনিক্যাল বিষয় পরীক্ষা করুক। তাহলে তাদের সংশয় কেটে যাবে।’

প্রশিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি। দিনটি এতোই গুরুত্বপূণ দিন যে দিনে জনগণ তাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচন করবে। দিনটি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলসহ সকলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।’

তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষতা, কারিগরি দক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনায় আইন বিধিবিধান জানা দরকার। আপনারা নির্বাচন কিভাবে পরিচালনা করবেন সেটা জানলেও, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারদের জানার কথা নয়। বার বার বিভিন্ন পর্যায়ে এই ট্রেনিং দেয়া হয়ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আপনারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আপনারা তাদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেবেন।’

পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘কারণ তারা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। তারা থাকেন মাঠে, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তারা প্রশ্ন করবে, জানতে চাইবে সেটি তাদের বুঝাবেন। জনগণের ভোটের অধিকার প্রয়োগের সব রকমের ব্যবস্থা আমরা রেখেছি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বব করেন নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক।

সুত্রঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কোন্দলে সহিংসতা হলে ঠেকাবে পুলিশ


পর্যবেক্ষণ করতে হবে মূর্তির মতো, নির্বাচন কমিশন সচিবের এ উক্তিতে অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অনেকে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন। কিন্তু আশঙ্কার কথা হচ্ছে, এই কথাটা শেষ পর্যন্ত না পুরো নির্বাচনে আমাদের সবার ওপরেই প্রযোজ্য হয়ে যায়। ভোট হবে এমনই, যেখানে আমাদের সবাইকে মূর্তির মতোই অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থেকে তা প্রত্যক্ষ করতে হবে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ খুব বেশি দিনের ঘটনা নয়। ১৯৯১-এর নির্বাচনেও পর্যবেক্ষণের কথা কেউ শোনেনি। আমাদের দেশে এর শুরু গত শতাব্দীর শেষ দশকে, ১৯৯৫-এর জানুয়ারিতে ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স (ফেমা) গঠন এবং তার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণও খুব বেশি দিনের কথা নয়। আগে সাধারণত কূটনীতিকেরাই তাঁদের মূল্যায়ন নিজ দেশের সরকারগুলোকে জানিয়ে দিতেন।

আন্তর্জাতিক পরিসরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের শুরু ইউরোপে ১৯৯০-এ প্যারিস চার্টারের মাধ্যমে। এরপর জাতিসংঘ ২০০৫ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালা নেয়। ডিক্লারেশন অব প্রিন্সিপ্যালস ফর ইন্টারন্যাশনাল ইলেকশন অবজারভেশন অ্যান্ড কোড অব কনডাক্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইলেকশন অবজারভারস নামের এই নীতিমালাই হচ্ছে বিশ্বের স্বীকৃত মানদণ্ড ও নীতিমালা।

আমাদের নির্বাচন কমিশন স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের জন্য ২০১৭ সালে একটি নীতিমালা ঘোষণা করে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য আলাদা আরেকটি নীতিমালা ঘোষণা করে ২০১৮-তে। এই দুই নীতিমালার মধ্যে কিছু বিষয়ে মিল আছে, অমিলও আছে। তবে কোনোটিতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নীতিমালার উল্লেখ নেই। সেটি আমাদের বর্তমান কমিশনের আমলারা পড়ে দেখেছেন কি না সন্দেহ। অবশ্য কমিশনের সচিব পদটিতে যেভাবে সরকারের আস্থাভাজনদের পদায়নের ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে, তাতে নির্বাচনের আইনকানুন বা বৈশ্বিক মানদণ্ডগুলোর দিকে তাঁদের নজর দেওয়ার প্রয়োজনই পড়ে না।

নির্বাচন কমিশনের সচিব ‘পর্যবেক্ষণ করতে হবে মূর্তির মতো’ মন্তব্যটি করেছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে। হয়তো দেশীয় পর্যবেক্ষকেরাই তাঁর বক্তব্যের লক্ষ্য ছিলেন। তবু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গৃহীত জাতিসংঘ নীতিমালার ১৬ নম্বর দফার বক্তব্যটি দেশীয় পর্যবেক্ষকদের অধিকার নির্ধারণেও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নাগরিকদের তাঁদের দেশের সরকারি এবং জনশাসনবিষয়ক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ও যুক্ত হওয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার রয়েছে। এসব অধিকার নির্বাচন এবং সেই সম্পর্কিত প্রক্রিয়াগুলো পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত বেসরকারি সংগঠনগুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করা যেতে পারে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে ভোটকেন্দ্র, গণনাকেন্দ্র ও অন্যান্য নির্বাচনবিষয়ক কেন্দ্রের ভেতরে ইলেকট্রনিক এবং অন্যান্য নির্বাচনসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির কার্যক্রম, ব্যালট এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর সামগ্রীর পরিবহন পর্যবেক্ষণও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। দেশীয় নির্দলীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং পর্যবেক্ষণ সংগঠনগুলো অন্যায় নিষেধাজ্ঞা বা হস্তক্ষেপ ছাড়া এবং কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার না হয়ে তাঁদের কাজ করতে পেরেছেন কি না, সেই রিপোর্টও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়ন করা উচিত। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উচিত দেশীয় নির্দলীয় পর্যবেক্ষকদের অবাধে এবং অন্যায় নিষেধাজ্ঞা ছাড়া পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিতে সুপারিশ করা।’

পর্যবেক্ষকদের জন্য কমিশনের প্রকাশিত নীতিমালা এবং সংবাদমাধ্যমে পাওয়া সচিবের বক্তব্যের বিবরণ থেকে ধারণা হয়, কমিশনের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ধারণাটি খণ্ডিত। তাদের এসব নির্দেশনা মূলত ভোটের দিন এবং ভোটকেন্দ্রকেন্দ্রিক। কিন্তু ভোটের দিন একটি অংশমাত্র। নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশ, নির্বাচনের প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক বিশ্বাস, ধর্ম-বর্ণ-গোত্রনির্বিশেষে সবার অবাধে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ, সরকার বা নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি বা হস্তক্ষেপমুক্ত প্রচার, সভা-সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে সবার সমসুযোগ, ভোটের অধিকার, গণমাধ্যমের ভূমিকা ইত্যাদি পর্যবেক্ষণও পর্যবেক্ষকদের দায়িত্বের অংশ। পর্যবেক্ষকেরা ভোটের আগেও সময়ে সময়ে এসব বিষয়ে তাঁদের মতামত এবং সুপারিশ যেমন কমিশনে পেশ করতে পারেন, তেমনই জনসমক্ষে তুলে ধরতে পারেন। কমিশন এগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।

দেশীয় পর্যবেক্ষকদের জন্য ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ওপর সে নির্দেশনা নেই। একাধিক নির্দেশনায় দেশীয় পর্যবেক্ষকদের কাজের ক্ষেত্র সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে তাঁদের যাওয়ার সুযোগ নেই। আবার তাঁরা একই ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণের পুরোটা সময় থাকতে পারবেন না। ভোটকেন্দ্রেও তাঁরা দর্শকের ভূমিকার বাইরে কিছু করতে পারবেন না। কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার ছবিও তুলতে পারবেন না। স্পষ্টতই এসব পর্যবেক্ষকের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ ও অধিকারকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রাক্-নির্বাচন মূল্যায়নে বলেছে যে কমিশনের অনেক বিধান পর্যবেক্ষকের অধিকারের ওপর অন্যায় নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী।

কমিশন অবশ্য এনডিআইয়ের প্রতিবেদন ও সুপারিশকে বিবেচনায় নিয়েছে বলে মনে হয় না। এনডিআই বলেছে, বাংলাদেশের পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তাদের কাছে উদ্বেগ জানানো হয়েছে যে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পর্যবেক্ষকদের তালিকা চেয়েছে এবং পর্যবেক্ষকেরা আইন প্রয়োগকারীদের কাছ থেকে টেলিফোনে হুমকি পেয়েছেন। নির্বাচন কর্মকর্তাদের তালিকা ধরে পুলিশের অনুসন্ধান চালানোর খবর স্মরণ করলে পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণের লক্ষ্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি করা নয়। বাংলাদেশে তার নজিরও নেই। ভোট গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো কিছু করা পর্যবেক্ষণের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। পর্যবেক্ষকেরা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে মন্তব্য করতে পারেন না, করেন না। কমিশনে প্রতিবেদন পেশ করাই তাঁদের একমাত্র কাজ নয়। কমিশনে দেওয়া প্রতিবেদনের মূল্যায়ন তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই গণমাধ্যমে প্রকাশ করবেন। ভোট গ্রহণ শেষে তার একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং পরে চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রকাশের রীতিও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কমিশন তা নিষিদ্ধ করতে পারে না।

কমিশনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে যে তারা নিজেদের ঘোষিত নীতিমালা নিজেরাই অনুসরণ করছে না। নীতিমালায় আছে, নিবন্ধিত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করতে হলে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকার অভিযোগ করেছে যে তাদের সে সুযোগ না দিয়ে এনজিও অধিদপ্তরে নিবন্ধন না থাকার অজুহাতে পর্যবেক্ষকের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এনজিও অধিদপ্তরে অধিকারের নিবন্ধন নবায়নের আবেদন রাজনৈতিক কারণে অনিষ্পন্ন থাকার সুযোগ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আপত্তি জানানোয় কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা তাদের স্বাধীন ভূমিকার পরিচায়ক নয়।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়টিতে অবশ্য স্বাগতিক দেশ হিসেবে আমাদের সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের আগ্রহই প্রধান। কমিশন এবং পররাষ্ট্রসচিবের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে ১৮ নভেম্বর। অথচ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের জাতিসংঘ নীতিমালা অনুযায়ী প্রথম শর্তই হচ্ছে নির্বাচন আয়োজক দেশের আমন্ত্রণ। সেই আমন্ত্রণ কাদের, কবে জানানো হয়েছে, সে বিষয়ে কিছুই প্রকাশ করা হয়নি। জাতিসংঘ নীতিমালায় বর্ণিত ডজনখানেকের বেশি শর্তপূরণে স্বাগতিক দেশ রাজি না হলে কোনো বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা পর্যবেক্ষণে যান না। এসব শর্তের মধ্যে তাঁদের স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘ নীতিমালায় স্পষ্টতই বলা আছে, কোনো অগণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়ার ধারণা তৈরি করতে পারে—এমন কোনো পর্যবেক্ষণ মিশনে কোনো সংস্থারই অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। ২০১৪-এর নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণও সেটিই ছিল। যদিও রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু ভারতীয় পর্যবেক্ষক সেবার হাজির ছিলেন। আগামী নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক না পাঠানোর বিষয়ে প্রস্তুতির অভাবের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিতর্কে আমরা জেনেছি, এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ নির্বাচনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না হওয়ার ধারণা। কমনওয়েলথ এবং অন্য কোনো আন্তর্জাতিক জোট বা সংস্থার পর্যবেক্ষক পাঠানোর সম্ভাবনাও সময়ক্ষেপণের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষীণ হচ্ছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হওয়ার যেসব আলামত দেখা যাচ্ছে, সেই পটভূমিতে প্রশ্ন উঠতেই পারে যে সরকার এবং কমিশন কি বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দূরে রাখার কৌশল নিচ্ছে? অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে অক্ষমতা আড়াল করা ছাড়া মূর্তির প্রয়োজন হবে কেন?

উৎসঃ প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ চৌদ্দগ্রামে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে চলছে রেলমন্ত্রী ও পুলিশের চরম তান্ডব

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে চলছে

রেলপথ মন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনের চরম তান্ডবতা। এই আসনে বিগত দশ বৎসর আওয়ামীলীগ নির্মম হত্যা, সন্ত্রাস, লুটপাট, চাঁদাবাজীর এক মহোউৎসবে পরিনত করেছে। তাদের জুলুম, নির্যাতন নিপীড়ন থেকে রেহাই পায়নি চেয়ারম্যান, মেম্বার, শিক্ষক, সাংবাদিক, কৃষক, শ্রমিক, আলেম-ওলামা ও মহিলা এমনকি ৮ বছরের শিশু থেকে আরম্ভ করে ৮০ বছরে বৃদ্ধ পর্যন্ত তাদের হিংস্রতা থেকে রেহাই পায়নি।

তাদের যুলম অত্যাচারে আলকরা, গুনবতী, জগন্নাথসহ কয়েকটি ইউনিয়নে ২০দলীয় জোটের প্রায় ৫০০ লোক বাড়ী-ঘর ছেড়ে পালিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাদের হাতে খুন হয়েছে শিবির নেতা শাহাব উদ্দিন, আব্দুল আজিজ, জামায়াত নেতা আলা উদ্দিন, রুহুল আমীন দুলাল, নিরীহ শ্রমিক ইব্রাহীম, বাচ্চু মেম্বার এবং পঙ্গু হয়েছে জহির, মুরাদ, নুরুল ইসলামসহ ৯ জন। বাড়ী-ঘর, দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে ১০৩ টি। তাদের দলীয় কোন্দলে হত্যা হয়েছে জামাল উদ্দিন বাক্কা, নূরুল আমীন সহ ৫ জন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ বছরের ক্ষমতার মোহে রেলপথ মন্ত্রীর নির্দেশে পুরো উপজেলা এক সন্ত্রাসী ও ভয়ঙ্কর জনপদে পরিনত হয়েছে। বিগত দশ বছরে যত লোক চৌদ্দগ্রামে চাকুরী পেয়েছে সকলকে কম বেশী চাঁদা দিতে হয়েছে। এই চাঁদা উত্তোলনের মূল দায়িত্ব রেলপথ মন্ত্রীর আস্থাবাজন যাকে বিনা ভোটে কাশীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বানিয়েছেন মোশারফ হোসেন ফোকা। তার চাঁদাবাজির কাছে দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ চরম অসহায়।

একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মোশারফকে রেলপথ মন্ত্রী নিজের স্বার্থে এবং সকল অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চেয়ারম্যান বানিয়েছে। তার কাছে পুরো চৌদ্দগ্রাম বিশেষ করে উত্তর চৌদ্দগ্রামের দলীয় নেতা কর্মী এবং সাধারণ মানুষ জিম্মি।

স্থানীয়ভাবে আরোও জানা যায়, নেতারা চৌদ্দগ্রাম আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে ব্যাপক পরিমানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষিত আছে যা আগামী নির্বাচনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও কেন্দ্র দখলে ব্যবহার হতে পারে। বিগত দশ বছরে তাদের হাতের অবৈধ অন্ত্র বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহার করতে দেখা যায়। এই সব সন্ত্রাসী ও ভংঙ্কর হিংস্র কার্যক্রমের নেতৃত্বে যাদের নাম বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে তারা হচ্ছে, জগন্নাথ ইউনিয়নের মোল্লা কাশেম বিপ্লব, আলকরার ইসমাইল হোসেন বাচ্চু, গুনবতীর সৈয়দুর রহমান খোকন, নুরুল ইসলাম, পৌরসভার মোতাহার হোসেন ঝুমন, ফরাস উদ্দিন রিপন, মুন্সিরহাটের ইমাম হোসেন, কামরুল হোসেন মোল্লা, মাহফুজ আলম, মিজানুর রহমান খোকা, ঘোলপাশার মাসুম বিল্লাহ, কাজী জাফর, কাশিনগরের মোশারফ হোসেন ফোকা, সোলায়মান, আবদুর রশিদ মেম্বার, এমরান হোসেন, আতিক।

রেলপথ মন্ত্রী তার এই চিহ্নিত ক্যাডার বাহিনীকে দিয়ে আগামী নির্বাচনের তরী পার করতে চায়। এই চিহ্নিত ক্যাডার বাহিনীর সাথে যোগ হয়েছে চৌদ্দগ্রামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান, ওসি তদন্ত ত্রিনাথ সাহা এবং এস আই লম্বা মনির। এই পুলিশ টিম বিগত সরকারের পুরো সময়েই ঘুরে ফিরে চৌদ্দগ্রামে দায়িত্ব পালন করছে। সর্বশেষ ওসি মাহফুজুর রহমান ও ত্রিনাথ বাবুকে মন্ত্রী মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে আবারও চৌদ্দগ্রাম থানায় নিয়ে এসেছে। এটাকে আগামী নির্বাচনে অবৈধভাবে জয়লাভ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে সবাই দেখছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে থানার ওসি মাহফুজ, ত্রিনাথ সাো এবং মনির আসার পর থেকে প্রতিদিনই তারা বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে এবং গ্রেফতার বাণিজ্য করছে। তাদের এই নির্যাতন ও হয়রানির কারনে ২০ দলীয় জোট এবং ঐক্য ফ্রন্টের নেতা কর্মীরা বাড়ী ঘরে থাকতে পারছে না।

এদিকে রেলপথ মন্ত্রী সরকারী প্রটোকল ব্যবহার করে বিভিন্ন ইউনিয়নে সভা সমাবেশ মাধ্যমে ২০ দলীয় জোটকে চৌদ্দগ্রামে ঢুকতে দেয়া হবে না মর্মে ঘোষণা দিচ্ছে। বিরোধী নেতা কর্মীকে পাড়ায় পাড়ায় ঘেরাও করার নির্দেশ এবং হামলা করার উসকানি দিচ্ছে । মন্ত্রীর এই জাতীয় বক্তব্যে চৌদ্দগ্রামে আগামী নির্বাচনের পরিবেশ চরম ও ভয়াবহতার দিকে যেতে পারে বলে সাধারণ মানুষ এবং ভোটাররা মনে করছে।

চৌদ্দগ্রামের এই বিভীষিকাময় পরিবেশ ও তান্ডব থেকে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সকল সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সকলের সহাবস্থান নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী হওয়ার প্রয়োজন বলে ভোটাররা মনে করেন। অন্যথায় যে কোন সময়ে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here