রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: শুধু সুন্দরবন নয়, প্রতি বছর দেশের ৫০০০ কোটি টাকা ক্ষতি!

0
327

বিশেষজ্ঞ মতামত ও সকল জনমতকে উপেক্ষা করেই ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবনের অতি নিকটবর্তী রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে সরকার। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন মারত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন হবে। শুধু সুন্দরবনই ধ্বংস হবে না, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে ওই এলাকার কৃষি জমির ওপরও এটার মারাত্ম প্রভাব পড়বে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকার ১৮৩০একর ধানী জমি অধিগ্রহণ করেছে। এর ফলে ৮ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হয়ে যাবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মসংস্থান হতে পারে সর্বোচ্চ ৬০০ জনের। ফলে উদ্বাস্তু এবং কর্মহীন হয়ে যাবে প্রায় ৭৫০০ পরিবার। শুধু তাই নয়, এর ফলে প্রতি বছর হারাতে হবে কয়েক কোটি টাকার কৃষিজ উৎপাদন। এইতো গেল কৃষকের দুর্ভোগের কথা। এবার দেখুন পরিবেশের কি ক্ষতি হবে?

কয়লাভিত্তিক যেকোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে অন্য যে কোনো প্রকল্পের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। বিশেষত ভষ্মিভূত কয়লার ছাই এবং উৎপন্ন গ্যাসের ফলে বায়ু ও পানি দূষণের যুগপৎ প্রভাবের কারণে এই ক্ষতি হয়। এ ধরনের প্রকল্প এলাকার আশেপাশের অঞ্চলে এসিড বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে যা বৃক্ষ এবং বনাঞ্চলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে ভয়ানক মাত্রায়। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায় যে, ২০১০ সালে দেশটির মোট কার্বন ডাই অক্সাইডের ৮১ ভাগ উদগীরণ করেছে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলো, যা থেকে মোট শক্তির মাত্র ৪১ ভাগ পাওয়া গেছে। এই সকল বিবেচনায় পৃথিবী ব্যাপি সকল দেশেই কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

সাম্প্রতিককালে এই ধরনের প্রকল্প এড়িয়ে চলার চেষ্টাটাই বেশি চোখে পড়ে। এ ধরনের কয়লাভিত্তিক প্রকল্প প্রতি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রায় ২.২ বিলিয়ন গ্যালন পানির প্রয়োজন হয়। রামপালের প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা নিঃসন্দেহে মেটানো হবে পশুর নদী থেকে। পশুর নদীর পানি নোনা ও মিঠা জলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের প্রয়োজন মেটাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই নদীটির সাথে ওই গোটা অঞ্চলের সামগ্রিক জীববৈচিত্রের সংযোগ রয়েছে। এটি ওই অঞ্চলের জনবসতির ক্ষেত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী। কিন্তু এই প্রকল্প তৈরি করতে গিয়ে সেই নদীর অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে ফেলা হচ্ছে।

সবমিলিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে সুন্দরবন ও রামপাল এলাকায় এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। এছাড়া এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলে যে লাভের কথা প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং লাভ হলে সেটা যাবে ভারতের পকেটে। আর লস হলে পুরো দায় নিতে বাংলাদেশকে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র মোটেও কোনো ভূমিকা রাখবে না। বরং ভারতের স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে গিয়ে এক সময় রাষ্ট্রের রাজস্ব খাত থেকে টাকা দিয়ে এর ভর্তুকি মিটাতে হবে।

রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে দুই দেশের সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি নামে একটি কোম্পানিও গঠন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অর্থায়ন করবে ১৫% পি ডি বি, ১৫% ভারতীয় পক্ষ আর ৭০% ঋণ নেয়া হবে। যে নীট লাভ হবে সেটা ভাগ করা হবে ৫০% হারে। আর প্রকল্পে যদি লস হয় তাহলে এর পুরো দায় নিতে বাংলাদেশকে। ভারতের শুধু লাভের অংশ নেবে, কোনো লস তারা নেবে না।

উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে পি ডি বি। বিদ্যুতের দাম নির্ধারিত হবে একটা ফর্মুলা অনুসারে। কী সে ফর্মুলা? যদি কয়লার দাম প্রতি টন ১০৫ ডলার হয় তবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ এর দাম হবে ৫ টাকা ৯০ পয়সা এবং প্রতি টন ১৪৫ ডলার হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৮ টাকা ৮৫ পয়সা। অথচ দেশীয় ওরিয়ন গ্রুপের সাথে মাওয়া, খুলনার লবন চড়া এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে যে তিনটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের যে চুক্তি হয়েছে পি ডি বির সাথে সেখানে সরকার মাওয়া থেকে ৪ টাকায় প্রতি ইউনিট এবং আনোয়ারা ও লবন চড়া থেকে ৩টাকা ৮০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে।

কিন্তু, সরকার ১৪৫ ডলার করে রামপালের জন্য কয়লা আমদানির প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এরফলে ৮ টাকা ৮৫ পয়সা দিয়ে পি ডি বি এখান থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে।

আরও মজার বিষয় হলো-১৪৫ ডলার করে যে কয়লা কিনা হবে সেটাও আনবে ভারত থেকে। বিশ্ববাজারে যে কয়লার দাম কোয়ালিটি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০- ৮০ ডলারের কাছাকাছি। আর ৭০% বিদেশী ব্যাংক থেকে যে ঋণ আনা হবে, ওই ঋনের সমস্ত সুদ বহন করবে বাংলাদেশ। এছাড়া ঋণের টাকাও নাকি নেয়া হবে তাদের কাছ থেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যদি ২০ ঘণ্টা করে ৩০ বছর চালু থাকে এবং ইউনিট প্রতি ৪.৮৫ টাকা আর্থিক ক্ষতি ধরা হয় কেবল তাহলেই অঙ্কটা দাঁড়াবে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা! এ হিসাবে প্রতি বছল বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

দেশের স্বার্থে নয়, শুধু ভারতকে খুশি করতেই শেখ হাসিনা দেশের এমন সর্বনাশী পরিকল্পনা করছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ যারা হিন্দুদের শত্রু তারা বাংলাদেশ ও জাতির শত্রুঃ ওবায়দুল কাদের


দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের শত্রুরা জাতিরও শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের শত্রু যারা তারা বাংলাদেশেরও শত্রু। তারাই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানী পলাশীর মোড়ে র‌্যালি মিছিল উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিষবৃক্ষকে উৎটনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের আহ্বান জানান সেতুমন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার মাইনরিটি বান্ধব সরকার। এ সরকার যতদিন আছে আপনাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। অন্যান্য ধর্মীয় আচার ও উৎবগুলোও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এইদিক দিয়ে আপনারা নিরাপদ।

সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যত দিন পর্যন্ত বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভায়ের কোনো কারণ নেই।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সর্বকালের সেরা সময় পার করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় উন্নিত। আমাদের প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের কোনো টানাপোড়েন নেই।

এ সময় আগামী অক্টোবরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করবেন বলেন জানান তিনি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যাব। এ সফরের পর আমাদের কনস্ট্রাকটিভ পার্টনারশিপ আরও নতুন উচ্চতায় উন্নতি হবে এবং আমাদের দেশের বিরাজমান অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাব।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ জামালপুরের ডিসির সাথে অফিস সহকারীর আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে তোলপাড়


জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরের একটি আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ভাইরাল হয়েছে। খন্দকার সোহেল আহমেদ নামে একটি আইডিতে ভিডিওটি পোষ্ট দেওয়া হয়েছে।

ভিডিওটিতে জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের সঙ্গে তার অফিসের এক নারীকর্মীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে সাজানো দাবি করেছেন জেলা প্রশাসক। ওই ঘটনায় জামালপুরের মানুষের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, আমি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত অবস্থায় আছি। আপনারা আমাকে একটু সময় দেবেন। প্রকৃত ঘটনা জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

তবে শুক্রবার সকাল থেকে ওই আইডিতে আর ওই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু এর মধ্যেই ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ও ৩ আগস্ট জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরকে তার কার্যালয়ের এক নারী অফিস সহকারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়।

ভিডিওটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি একটি সাজানো ভিডিও। একটি হ্যাকার গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছিল। আমি বিষয়টি গুরুত্ব দেইনি। বানোয়াট ভিডিওটি একটি ফেক আইডি থেকে পোস্ট দেয়া হয়।

তবে ভিডিওটিতে দেখানো কক্ষটি তার অফিসের বিশ্রাম নেয়ার কক্ষ এবং ভিডিওর ওই নারী তার কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত বলে জেলা প্রশাসক নিশ্চিত করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের এ বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য অনুরোধ করেন।

উৎসঃ পূর্বপশ্চিমবিডি

আরও পড়ুনঃ পুকুর ও দীঘি পুনঃখননেও বিদেশে প্রশিক্ষণঃ উন্নয়নের নামে ১২৮ কোটি টাকা লোপাট!


বাংলাদেশের অনেক পুকুর, জলাশয় ও দীঘি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে প্রায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে এগুলোর পানি ধারণক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। সরকার এসব পুকুর ও দীঘি পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশে যাবেন ১৬ জন কর্মকর্তা। এ জন্য মাথাপিছু ব্যয় হবে ৮ লাখ টাকা।

প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, পুকুর পুনঃখননে প্রতি লাখ ঘন মিটারে ব্যয় হবে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং দীঘী পুনঃখননে ব্যয় হবে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদশে খাল খননের ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করার নজির রয়েছে, সে দেশ থেকে পুকুর ও দীঘি পুনঃখননের প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশে যাওয়া রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়। বিদেশী ঋণের এবং জনগণের দেয়া রাজস্বের অর্থ উন্নয়নের নামে অপচয় করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনের জন্যই এসব ব্যয়ের খাত তৈরি করা হয়েছে।

সরকারি জরিপের তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে পুকুর ও খাল নিয়ে জরিপ করার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর এলজিইডির পক্ষ থেকে সরেজমিন খাল ও পুকুর যাচাই-বাছাই করে জেলাভিত্তিক তালিকা করা হয়। সারা দেশে মোট ১৪ হাজার ৯১০টি খাস পুকুর, দীঘি, ৩ হাজার ৪৯৩টি প্রাতিষ্ঠানিক এবং ৬ হাজার ৫৩৬টি খাস খাল রয়েছে। এসব পুকুর, খালকে পুনঃখননের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ করে সেচসুবিধা সম্প্রসারণ করে বহুমুখী কাজে পানি ব্যবহার করা। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বরেন্দ্র অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কম। সেচকাজে মূলত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের ৪৩টি উপজেলায় পুকুর ও দীঘি পুনঃখননের প্রকল্প বাস্তবায়ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রকল্পে ৭১৫টি পুকুর ও ১০টি দীঘি পুনঃখনন, ৮৫টি সৌরচালিত লো লিফট পাম্প স্থাপন, ৮০টি ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ, ৮৫টি প্রিপেইড মিটার ক্রয়, ৯ হাজার মিটার ফিতা পাইপ ক্রয় এবং দেড় লাখ বৃক্ষ রোপণ অন্তর্ভুক্ত আছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পুকুর বা দীঘি পুনঃখননের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ করে তিন হাজার হেক্টর জমিতে সেচসুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। এতে করে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ১৮ হাজার ৩৪৮ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন ও মৎস্যচাষের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বহুমুখী কাজে পুকুরের পানি ব্যবহারের সুযোগ হবে।

ব্যয় বিভাজনে দেখা যায়, এ প্রকল্পে ১৮ জন কর্মকর্তা ও ৮ জন কর্মচারী কাজ করবেন। তাদের বেতন ধরা হয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকার বেশি। তাদের ভাতা যাবে সোয়া ৭ কোটি টাকা। এখানে দুই ব্যাচে ১৬ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হবে। যাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ফলে জনপ্রতি ব্যয় হবে ৮ লাখ টাকা। এখানে ৭২৫টি পুকুর ও দিঘির জরিপে ব্যয় হবে সাড়ে ৭৩ লাখ টাকা। ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণের জন্য ইউপিভিসি পাইপ কেনা হবে এক হাজার মিটারের ৮৫টি, যাতে খরচ ধরা হয়েছে ৬ কোটি টাকা। ফলে প্রতিটি পাইপের মূল্য পড়ছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। আর এই পাইপ প্রতিটি বসাতে ব্যয় হবে ৪ লাখ টাকা। ৮০টি পাইপ বসাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চলমান এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সারা দেশে পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের ২৪ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সেখানে তাদের জনপ্রতি ব্যয় ৬ লাখ টাকা। বিদেশে প্রশিক্ষণ, বিদেশ ট্যুর, স্টাডি ট্যুর খাত প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পেই থাকতে হবে। আর সেগুলোতে সদস্য তালিকায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পরিকল্পনা কমিশন, তার কার্যক্রম বিভাগ, ইআরডি, আইএমইডির প্রতিনিধি রাখার জন্য মূল্যায়ন কমিটির পক্ষ থেকে সব সময়ই সুপারিশ করা হয়।

এ দিকে, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক মো: আলমগীর কবীরের মতে, বাংলাদেশের মতো একটি নদীমাতৃক দেশে পুকুর বা দিঘি খননের মতো কাজের জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণ নেয়া হবে একটা হাস্যকর ঘটনা। একটা স্কুলের ছাত্রও বলতে পারবে কিভাবে পুকুর বা দিঘি খনন করতে হবে। এখানে বিদেশে প্রশিক্ষণের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এটা প্রকল্পের অর্থ তছরুপ এবং লুটপাটের একটা খাত। সরকারি কর্মকর্তা বা আমলাদের মনোরঞ্জনের জন্যই এ ধরনের ব্যয়ের খাত রাখা হয় উন্নয়ন প্রকল্পে। এসবের কোনো যুক্তি নেই।

পুকুর ও দিঘি খননে বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, উন্নয়নের নামে অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এ কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েই চলছে। তিনি বলেন, সরকার যদি এ দিকে নজর না দেয় তাহলে জাতি হিসেবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এসবসহ অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এই সবের মাধ্যমে লুটপাট ও দুর্নীতি হচ্ছে।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ নারী-শিশুদের অধিকার রক্ষায় বিএনপির কমিটি গঠন


দেশের নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের লক্ষ্য নিয়ে ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’ শিরোনামে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

আজ শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এ কথা জানান।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে প্রধান উপদেষ্টা, বেগম সেলিমা রহমানকে আহ্বায়ক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ চন্দ্র রায়কে সদস্য সচিব করে এ কমিটি গঠন করা হয়।

বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি রাজনৈতিক সংগঠন। সমাজ উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে গণভিত্তিক রাজনৈতিক দল অঙ্গীকারাবদ্ধ। গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ রাজনৈতিক দল সামাজিক অধঃপতনের অরাজক পরিস্থিতির সময় নির্বিকার বসে থাকতে পারে না। খুন-ধর্ষণের পৈশাচিক বিকৃতি আমাদের রাষ্ট্র সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাষ্ট্র সমাজের সর্বত্র ঘৃণা ছড়ানোর ফলে ক্ষমতাঘনিষ্ঠ সমাজবিরোধীরা আশকারা পাচ্ছে। দেশব্যাপী ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি জনমনে গভীর উৎকন্ঠার জন্ম দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ধর্ষণ ও ধর্ষণ প্রচেষ্টার কারণে শিশু হত্যার ঘটনা এখন সংবাদপত্রের উল্লেখযোগ্য সংবাদ। অভিভাবকরা মেয়ে ও শিশুসন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আইনের প্রয়োগ নেই বলেই সমাজবিরোধীরা ধর্ষণ-নিপীড়ণে উৎসাহিত হচ্ছে। আইনের শাসনের অভাবে মাদকের বিস্তার এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ বিভিন্ন কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন বাড়ছে। আমরা মনে করি এই কারণগুলো সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মোকাবেলা করতে হবে।’

অনাচারমূলক দুঃশাসনে জবাবদিহিতার অভাবের কারণেই নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘বিদ্যমান গণতন্ত্রশূন্য দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নব্য ফ্যাসিবাদী শাসনে একদিকে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই, আবার অন্যদিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়ায় প্রতিনিয়ত নারী ও শিশুরা দুর্বৃত্তদের লালসার শিকার হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলেই নারী ও শিশু নির্যাতন অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে। কারণ অধিকাংশ নির্যাতনকারী সরকারী দলের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এই কারণে এই ধরণের জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত থাকার পরেও তাদের কেশাগ্রও কেউ স্পর্শ করতে পারছে না। এরা আইনের আওতার বাইরে থাকছে।’

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশ আজ পরিণত হয়েছে ধর্ষণের লীলাভূমিতে। বখাটে প্রেমিক, পাড়ার মাস্তান, কর্মকর্তা, বাস কন্ডাক্টর, শিক্ষক, মাদরাসার প্রিন্সিপালসহ কিছু বিকৃত মানুষের লালসার শিকার নারী ও শিশুরা। নয় মাস বয়স থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা- কেউ ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে বাদ যাচ্ছে না। এমনকি রেহাই পাচ্ছেন না বাকপ্রতিবন্ধী বা ভবঘুরে পাগলও। রাস্তাঘাট, বাস বা ট্রেন, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, হাসপাতাল, এমনকি পুলিশ স্টেশন কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়।’

‘স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে নারীকে ধর্ষণ, পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে নির্মম কায়দায় শিশু হত্যা, পাশবিক নির্যাতনের পর নারীকে পুড়িয়ে কয়লা করে দেয়া-এইভাবে নানা অভিনব কায়দায় ধর্ষক লম্পটের হিংস্র থাবা সর্বত্র বিরাজমান।’

সেলিমা রহমান বলেন, ‘সুবর্ণচরের পারুল, ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি, খুলনায় পুলিশ কাস্টডিতে রাতভর নারীর ওপর গণধর্ষণ চালানোর পর মিথ্যা ও সাজানো মাদক মামলা দিয়ে কোর্টে চালান দেয়া, সিরাজগঞ্জের মেয়ে কলেজছাত্রী রুপাকে টাঙ্গাইলের কাছে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে হত্যা, কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী রিশাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, ইবনে সিনা হাসপাতালের নার্স তানিয়া বাড়ি যাওয়ার পথে কিশোরগঞ্জের বাসে গণধর্ষণ করার পর হত্যা, এভাবে বর্তমান সরকারের আমলে জিম-মিম-তনু-মিতু-খাদিজাদের আহাজারীতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আছে। শুধুমাত্র গত ছয় মাসেই ৪৯৬ জন্য কন্যাশিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে, এদের মধ্যে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে ২৩ জনকে। তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের লক্ষ্য আমরা ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’ এর জাতীয় কমিটি গঠন করেছি।’

তিনি বলেন, বর্তমান ভয়াবহ অনাচার-দুরাচারের বিরুদ্ধে এটি আমাদের একটি সামাজিক আন্দোলন। নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে-

১। নারী ও শিশু অধিকার রক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী এবং বেগবান করা।

২। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

৩। দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৪ শতাংশ নারী ও শিশু, এই জনগোষ্ঠীর জীবন সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ, এদের মধ্যে যারা ভিকটিম হচ্ছেন তাদেরকে আইনগত ও চিকিৎসাগত সহায়তা দেয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা।

৪। বিশেষভাবে দুঃস্থ ভিকটিমদের শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য আইনগত সহায়তা প্রদান করা।

৫। ভিকটিম নারী ও শিশুদের মানবাধিকার সমুন্নত রাখা।

৬। ‘নারীকে নির্যাতন করা অন্যায়’ এটি পরিবার থেকে শিশুকে শেখানো।

৭। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন নারী শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল এবং এখন এই কমিটির লক্ষ্য নারীর বর্তমান অবস্থা থেকে আরো বেশি ক্ষমতায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দান।

৮। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতন যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করা।

৯। যেকোন গণমাধ্যমে আলাপচারিতা ও পারস্পারিক কথাবার্তায় যাতে নারী বিদ্বেষী বক্তব্য প্রচার না পায়, সেক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গড়ে তোলা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আহ্বায়ক আফরোজা আব্বাস, মীর সরাফত আলী সপু, অ্যাডভোকেট নিপুণ চন্দ্র রায় প্রমুখ।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ইতিহাস গড়তে চান ছাত্রদলের নাদিয়া পাঠান পাপন ও ডালিয়া রহমান


সাতাশ বছর পর কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে যাচ্ছে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব। কাউন্সিলকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ আর উদ্দীপনা। কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১১০ জন মনোনয়ন ফরম কিনলেও ফরম জমা দিয়েছেন ৭৬ জন। তবে ছাত্রদলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন দুই নারী। যদিও একই পদের জন্য তিনজন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। আসন্ন কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাদিয়া পাঠান পাপন ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক ডালিয়া রহমান। আর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেও জমা দেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেত্রী মানছুরা আলম।

এই বিষয়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি রুমিন ফারহানা মানবজমিনকে বলেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন নারী প্রার্থী হয়েছে এটা সত্যিই খুশির খবর। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধী দলের নেতা সবাই নারী। সব জায়গায় নারীদের জয়জয়কার। নারীরা যেখানেই হাত দিয়েছে সেখানেই সোনা ফলেছে। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সব ক্ষেত্রেই নারীরা অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছে। এবার সাধারণ সম্পাদক পদে নারীরা প্রার্থী হয়েছে, আগামী সভাপতি পদেও তারা প্রার্থী হবে।

ছাত্রদলের নারীদের বড় দুই পদে এগিয়ে আসাটা সংগঠনের জন্য পজেটিভ হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ছাত্রদলের সুচনা থেকেই নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে এবারই প্রথম সাধারণ সম্পাদক পদে দুই নারী প্রার্থী হয়েছেন। এটা ছাত্রদলের জন্য পজেটিভ। আমরা কাউন্সিল ঘোষণার আগেই সেরা দুই পদ সবার জন্য উন্মুক্ত করেছি। এখন যারা কাউন্সিলর আছেন তারাই তাদের সঠিক নেতাকে বেছে নেবেন।

নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, আমি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ছাত্রদল করে আসছি। বিগত আন্দোলনে আমি অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছি। বেশ কয়েকটি মামলায় আসামি হয়েছি। কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছি। আমি শুরু থেকে মাঠ পর্যায়ে রাজনীতি করেছি। আমি মনে করি তৃণমুল ছেলে কিংবা মেয়ে বিবেচনা করবে না, আগামী আন্দোলন সংগ্রামে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারবে তাদেরকেই নির্বাচিত করবে। আর আমার আশা তৃণমুল আমাকে প্রধান্য দেবে, নারীকে প্রাধান্য দেবে। ডালিয়া বলেন, আমার সাহস আছে। আছে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। দুঃসময় পাড়ি দিয়ে নেতৃত্বে আসতে চাই। বিগত আনেন্দালন সংগ্রামে আমি সব সময় সক্রিয় ছিলাম, এখনো আছি। তৃণমূলের ভোটাররাও আমাকে সমর্থন দিচ্ছেন। আশা করছি নিরাশ হব না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন বেগম বদরুন্নেসা কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স পাশ করেন। বদরুন্নেসা কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কুমিল্লা জেলার বরুড়ায় জন্ম নেয়া ডালিয়া রহমান স্কুল জীবন শেষ করেন বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারী কলেজ থেকে। বড় ভাইয়ের হাত ধরে ছাত্র রাজনীতির হাতেখড়ি ডালিয়ার। তিনি বেসরকারি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি ও এলএলএম করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আওতায় তিনি এলএলবি অনার্স করছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ডালিয়া।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ একুশে আগস্টের জন্য বিএনপিকে দায়ী করা হলে পিলখানার দায় আ’লীগের: রিজভী


একুশে আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে জড়িয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেছেন, যেকোনো সরকারের আমলে কখনও কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটে যায়। এর জন্য সে সরকার দায়ী হতে পারে না।

তিনি বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার জন্য যদি বিএনপি দায়ী হয়, তা হলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের জন্য কেন আওয়ামী লীগ সরকার দায়ী হবে না?

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপি সরকারকে জড়িত করে বলেছেন- ‘সেই সময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি-জামায়াত জোটের মদদ ছাড়া দিনে-দুপুরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। ২১ আগস্টের ঘটনায় খালেদা জিয়ার সহযোগিতা থাকলেও তাকে আসামি করা হয়নি। তিনি তো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন-তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ছিল।’

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন- ‘একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। এ জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।’ কেবল প্রধানমন্ত্রী বা ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই নন, আমরা বিস্মিত হয়েছি যখন দেখেছি দুই-একটি পত্রিকা এবং সরকারি নেতাদের মালিকানাধীন টেলিভিশনে ইনিয়ে-বিনিয়ে বেসামাল ভাষায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের ওপর দোষ চাপাতে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য- প্রকৃত ঘটনা এভাবে মিথ্যাচার আর অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করা যাবে না।

রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে এহেন অলীক অপপ্রচার অতীতেও হয়েছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা ‘অন্ধকুপ হত্যা’র কাহিনি রচনা করেছিল। সমসাময়িক ইতিহাসে এ ঘটনার কোনো উল্লেখ দেখা যায়নি। পরে গবেষণামূলক গ্রন্থেও এই কাহিনির অসত্যতা ও অবাস্তবতা বেরিয়ে এসেছে। এটি তৎকালীন সাম্রাজ্যবাদী শাসকগোষ্ঠীর মিথ্যা প্রচার বলে প্রমাণিত হয়েছে। দেশে দেশে দখলদার সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী ও তাদের স্থানীয় অনুচররা সবকালে প্রহসন, মিথ্যাচার ও অন্তর্ঘাতকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা প্রথম থেকেই দেখছি-আওয়ামী লীগ একুশে আগস্ট বোমা হামলা মামলা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে। মূলত ২১ আগস্টের ঘটনা ছিল গভীর নীলনকশার অংশ, যে নীলনকশার সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা জড়িত কিনা তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এ মামলার সামগ্রিক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসত। কিন্তু তা না করে সুপরিকল্পিত নীলনকশা অনুয়ায়ী এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক কায়দায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে আসছে আওয়ামী লীগ। তার বড় প্রমাণ হলো- কথিত সম্পূরক চার্জশিটের নামে এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়িয়ে ফরমায়েশি রায়ে সাজা দেয়া, যা ছিল সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, গভীর ষড়যন্ত্রমূলক ও দীর্ঘদিনের মাস্টারপ্ল্যানের ফসল।

রিজভী বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় হতাহতের ঘটনা মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। মিসেস আইভি রহমানসহ অনেক নারী-পুরুষের জীবননাশ ও আহত হওয়ার নৃশংস ঘটনায় আমরা তখনও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি-এখনও জানাই।

তিনি বলেন, তারেক রহমানসহ বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সেটির প্রমাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফসল মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময়ও এ মামলার চার্জশিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের একান্ত অনুগত, বিশ্বস্ত ও দলীয় লোক আবদুল কাহার আকন্দকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় শুধু বিএনপি নেতাদের বিপদাপন্ন করার জন্য। তার আগেই কাহার আকন্দ পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরে গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন, এমনকি ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও প্রতিহিংসা পূরণের জন্য তাকে পুলিশ বিভাগে ফের নিয়োগ দিয়ে এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা করা হয় ২০০৯ সালে। দলীয় চেতনার তদন্ত কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্যই ছিল এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো। পরে ২০১১ সালে তারেক রহমানের নাম সম্পূরক চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে শেখ হাসিনার মনোবাসনা পূরণ করা হয়। পূর্বপরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উদ্দেশ্য একটিই- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এ মামলায় ফরমায়েশি রায়ে তাকে সাজা দেয়া। তারেক রহমানসহ বিএনপি সরকারকে জড়িত করার ক্ষমতাসীনদের সুস্পষ্ট নীলনকশা নিয়ে পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই, যা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, ১/১১-এর পর ১৬৪ ধারায় মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তারেক রহমানের নাম ছিল না। শুধু এ মামলায় তারেক রহমানের নাম বলানোর জন্য অন্য মামলায় ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানসিক ও নির্মম নির্যাতন করা হয় মুফতি হান্নানকে। তার হাত-পায়ের নখ পর্যন্ত উৎপাটন করে ফেলা হয়। পৃথিবীর কোনো দেশেই এ ধরনের নজির নেই। ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানসিক নির্যাতন করে মুফতি হান্নানকে দিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের নাম বলতে ও তথাকথিত স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেন কাহার আকন্দ, যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। একই ব্যক্তির একই মামলায় দুবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির নজিরও নেই।

পরবর্তী সময়ে আদালতে আবেদন করে মুফতি হান্নান তার তথাকথিত স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যও প্রত্যাহার করে নেন এবং তার ওপর বর্বোরচিত নির্যাতনের বিবরণ দেয়। মুফতি হান্নানের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তারেক রহমানকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসানোর জন্য পুরস্কারস্বরূপ কাহার আকন্দের বারবার পদোন্নতিসহ চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

একুশে আগস্ট জড়িত থাকলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দেশ ছেড়ে পালাতেন এমন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, যখন প্রধানমন্ত্রী বলছেন- খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত তা হলে এত বড় ঘটনার পর তাদের তো দেশ থেকে সরে যাওয়ার কথা। অপরাধ করলে তারেক রহমান দেশ থেকে সরে যেতেন। কিন্তু তিনি তো দেশ থেকে কোথাও যাননি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তার যে সংগ্রাম এ সংগ্রাম হচ্ছে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। আজ দেশনেত্রীর পর্বতসম জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে শুধু প্রতিহিংসাপরায়ণতায় ৫৬১ দিন কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের কতিপয় নেতা নির্জলা মিথ্যাচার প্রপাগান্ডায় জনগণকে বিভ্রান্ত করার নিস্ফল চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে সত্য চেপে রাখা যায় না।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে শেখ হাসিনা জোর করে জিততে চান না, ভোট ডাকাতি করে!


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনা জোর করে নির্বাচনে জিততে চান না। জনগণকে খুশি করেই নির্বাচনে জিতেন। রাজধানীতে এক সমাবেশে দলের নেতাকর্মীদেরকে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দিয়ে এসব কথা বলেন।

কিন্তু, বিগত দিনের সিটি নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যায়-শেখ হাসিনা শুধু জোর করেননি, নজিরবিহীন ভোটডাকাতির মাধ্যমে সিটি নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে দলের প্রার্থীদেরকে বিজয়ী করেছেন।

২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন হানিফের ছেলে সাঈদ খোকন এবং উত্তর সিটিতে প্রার্থী ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক। আর বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দক্ষিণে মির্জা আব্বাস ও উত্তরে তাবিথ আওয়াল।

সেই নির্বাচনের ভোটের দৃশ্যটা কেমন ছিল? এদেশের জনগণ নিশ্চয় সেদিনের ভয়াবহ ভোট ডাকাতির কথা ভুলে যাননি। সেদিন দলীয় প্রার্থীদেরকে জেতানোর জন্য শেখ হাসিনার গুন্ডা-পান্ডারা শুধু ভোট কেন্দ্রই দখল করেনি, বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের এজেন্টদেরকেও কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ ভোটাররাতো সেদিন ভোট কেন্দ্রের কাছেই যেতে পারেনি।

ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই, সাংবাদিকসহ বিএনপি-জামায়াতের এজেন্টদেরকে মারধর করাসহ এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল যে, বেলা ১১ টার পরই বিএনপির দুই প্রার্থী ভোট বর্জন করতে বাধ্য হন। এরপরও ওবায়দুল কাদের বললেন-তার নেত্রী শেখ হাসিনা নাকি নির্বাচনে জোর করে জিততে চান না। এর চেয়ে নির্লজ্জতা আর কী হতে পারে?

এরপর অনুষ্ঠিত হলো বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, গাজীপুর, রংপুর ও সিলেট সিটি নির্বাচন। এসব নির্বাচনে শেখ হাসিনার গুন্ডা-পান্ডারা প্রায় সব কেন্দ্রই দখল করে নিয়েছিল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে শুধু বিএনপি নয়, মেয়র পদের প্রায় সব প্রার্থীই ভোট বর্জন করতে বাধ্য হয়েছিল।

এসব ভোট ডাকাতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিদেশিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। আর ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের কথাতো না বললেই চলে।

তাই ওবাইদুল কাদেরের এমন উক্তিতে সচেতন মহল বলছেন, ওবায়দুল কাদের নির্লজ্জের মতো অবলিলায় বলে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা নাকি জনগণকে খুশি করে নির্বাচনে জিতে। ওই যে কথায় বলে-চুরের মায়ের বড় গলা। ভোট চুরি করে এখন তারা বড় গলায় কথা বলছেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আগস্টেই পানিশূন্য তিস্তা,বর্ষা শেষ না হতেই বাংলাদেশ অংশে মরুভূমিতে পরিণত!


খরস্রোত তিস্তা মধ্য আগস্টেই পানির অভাবে শুকিয়ে হাঁটুজলে পরিণত হয়েছে। ভারতের একতরফা পানি নিয়ন্ত্রণ করায় বাংলাদেশ অংশে তিস্তা এখন ছোট খালে পরিণত হয়েছে। ফলে তিস্তা অববাহিকায় জীববৈচিত্য হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর নীলফামারীর কালীগঞ্জ সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঐতিহাসিক এ তিস্তা নদী। যা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী বন্দর হয়ে ব্রক্ষপুত্র নদে মিশে যায়। তিস্তা নদী দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার হলেও বাংলাদেশ অংশে রয়েছে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার।

তিস্তার পানি প্রবাহ এককভাবে ব্যবহার করতে প্রতিবেশী দেশ ভারত গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পরেই বাংলাদেশে পানি দেয় ভারত। প্রয়োজন ছাড়াই বর্ষাকালে বন্যার অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে বন্যার সৃষ্টি করে। পক্ষান্তরে শুষ্ক মৌসুমে পানির ব্যাপক প্রয়োজন দেখা দিলেও মিলে না এক কিউসেক পানি। এভাবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার পানির কাঙ্ক্ষিত ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত। তিস্তার পানির নিয়ে দীর্ঘদিনের ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিটি এখনও পূরণ হয়নি তিস্তাপাড়ে।

ফলে বর্ষা শেষ না হতেই বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীর ১২৫ কিলোমিটার তিস্তার অববাহিকায় জীবনযাত্রা, জীববৈচিত্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারেজ অকার্যকর হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিস্তা নদীতে দিনভর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলে ও খেয়াঘাটের মাঝিরা বর্তমানে কর্মহীন হতে বসেছে। সবমিলে চিরচেনা হিংস্রো তিস্তা এখন পানির ন্যায্য হিস্যা বঞ্চিত হয়ে ঢেউহীন শান্ত কবিতার ছোট নদীতে পরিণত হয়েছে। পানির অভাবে তিস্তা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত তিস্তা রেলসেতু, তিস্তা সড়ক সেতু ও গংগাচওড়া শেখ হাসিনা সেতুটি যেন প্রহসনমূলকভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধু-ধু বালুচরের তিস্তার ওপর। ব্রিজ থাকলেও পায়ে হেঁটেই পাড় হচ্ছে অনেকেই। ঢেউহীন তিস্তায় রয়েছে শুধু বালু কনা। তিস্তার বুকে জেগে উঠা চরের বালু কনায় ভুট্টা, আলুসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদের প্রস্তুতি নিলেও শরৎকালেই পানিশূন্য তিস্তায় সেচ নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা।

তিস্তাপাড়ের কৃষক তাহাজুল ইসলাম, আবুল মিয়া ও খালেক জানান, বর্ষাকালে প্রচুর পানি ছেড়ে দেওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় ফসলহানীসহ ঘরবাড়ি হারা হয় এ অঞ্চলের মানুষ। আবার শুষ্ক মৌসুমে ফসল রক্ষায় পানির প্রয়োজন হলেও তিস্তায় পানি দেয় না ভারত। এবার মধ্য আগস্টেই পানিশূন্য তিস্তাপাড়ের চরাঞ্চলে চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদী শাসন ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না থাকায় তিস্তা নদী কৃষকের জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বেশ কিছুদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আগস্টেই কমেছে তিস্তার পানি। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল ধরা হয়। সেই অনুযায়ী এ অঞ্চলে বা ভারতের সিকিমে বৃষ্টিপাত হলে তিস্তায় পানি বাড়তে পারে। তবে বৃষ্টিপাত না হলে সেচ প্রকল্প সচল রাখা সমস্যা হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‘ভারত জানে আ.লীগ যে কোন ভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারলেই খুশি’


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ভারত জানে আওয়ামীলীগ যে কোন ভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারলেই খুশি। দেশের মানুষ কি পেলো তা নিয়ে কিছু আসে যায় না বর্তমান সরকারের।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে আজ সন্ধ্যায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি লিখেছেন, গত দশটা বছর ভারতের চাহিদা মতো সবকিছু দিয়েছে ক্ষমতাসীন সরকার। এতবছর ধরে তিস্তার বিষয়ে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে ভারত। তাতেই সরকার খুশি।

তিনি আরও লিখেছেন, দেশের মানুষ কি পেলো তা নিয়ে কিছু আসে যায় না বর্তমান সরকারের। নেপাল, শ্রীলংকা মালদ্বীপ থেকে কিছু শিখে না কেন তারা?

সংবাদের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

গত দশটা বছর ভারতের চাহিদা মতো সবকিছু দিয়েছে সরকার, সবকিছু করেছেও। তারপরও এতবছর ধরে তিস্তার বিষয়ে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে ভারত। এবারও শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়েছে ভারত। তাতেই সরকার খুশি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী উৎফুল্ল!

এদেরকে বাড়তি কিছু আর দেয়ার দরকার কি তাহলে ভারতের? ভারত জানে এরা আসলে যে কোন ভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারলেই খুশী। বাংলাদেশ বা দেশের মানুষ কি পেলো তা নিয়ে কিছু আসে যায় না বর্তমান সরকারের।

ভারত এ সুযোগটা নিচ্ছে অনেক বছর ধরে। তবে আমি এটা বুঝি না, পরাশক্তি হতে চাওয়া একটা দেশ কেন ভাবে না বাংলাদেশের সাধারন মানুষের মনোভাবের কথা? নেপাল, শ্রীলংকা মালদ্বীপ থেকে কিছু শিখে না কেন তারা?

নাকি তারা নিশ্চিত যে কোনদিন এদেশের মানুষ পাবেনা নিজেদের ভোটের নিজেদের সরকার? কোনদিন পাবে না ভারতের প্রতি তাদের ক্ষোভ দেখানোর স্বাধীনতা?

উৎসঃ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে

আরও পড়ুনঃ গরিবের চামড়ায়ও কামড় দিলেন সেই দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান!


কুরবানির পশুর চামড়ার ব্যাপক দরপতন নিয়ে সারাদেশে এখনো তোলপাড় চলছে। মুসলমানরা তাদের কুরবানির পশুর চামড়া গরিব, মিসকিন ও এতিমদের মধ্যে বিতরণ করে দিয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এটা আল্লাহ ও তার নবীর নির্দেশ। প্রতিবছর কুরবানির পশুর চামড়ার টাকা গরিব, মিসকিন ও এতিমদের আয়ের একটি উৎস। আর দেশের হাজার হাজার এতিমখানার আয়ের প্রধান উৎস হলো কুরবানির পশুর এই চামড়ার টাকা।

এ বছর চামড়ার সঠিক দাম না পাওয়ায় দেশের বহু মাদরাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চামড়া নিয়ে এবার যা হয়েছে তা নজিরবিহীন। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এবার শুধু কম দামই নয়, অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে গর্ত করে মাটির নিচে চামড়া চাপা দিয়েছে। কেউ কেউ চামড়া কিনে বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে তোলপাড়। গণমাধ্যমগুলোতেও চামড়া পানিতে ফেলে দেয়ার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

চামড়ার এই তুঘলকি কাণ্ড নিয়ে সবাই বলছে এর পেছনে একটি সিন্ডিকেট জড়িত। কিন্তু এই সিন্ডিকেটে কারা জড়িত? গরিবের চামড়ায় কারা কামড় দিয়েছে? এ প্রশ্নের জবাব আসছে না। আর বিএনপি বলছে আওয়ামী লীগের এক বড় নেতা এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্ত, কে এই ব্যক্তি তার নাম বলেনি বিএনপি।

তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে গরিবের চামড়ার পেছনে সেই সেন্ডিকেটের পরিচয়। অনুসন্ধান বলছে, এই সেন্ডিকেটের মুল হোতা শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান। যিনি এর আগে দেশের শেয়ারবাজারসহ আরও বিভিন্ন খাতে কালো থাবা দিয়েছেন। যার কালো থাবায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে শেয়ারবাজারের হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর স্বপ্ন। সহায় সম্বল সব হারিয়ে যারা এখন পথে পথে ঘুরছেন। সেই দরবেশই আবারও উঠেপড়ে লেগেছে দেশের গরিব, মিসকিন ও এতিমদের চামড়া ছিনতাইয়ের কাজে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন একাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ট্যানারী ব্যবসায়ী বলেছেন, দরবেশই হলেন নাটেরগুরু। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর শক্তিশালী উপদেষ্টা হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্টরা মুখে তার নাম উচ্চারণ করতে পারছেন না। এদিকে গরমের কারণে ১০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে সালমান এফ রহমানের এমন মন্তব্যে হাস্যকর বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ডেঙ্গু মূলত ইহুদীবাদীদের প্রয়োগকৃত একটি ভয়াবহ জীবানু অস্ত্র! – অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

কিছুদিন আগে একজন প্রাজ্ঞ অ্যানালিষ্ট একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন সচেতন বোদ্ধা মহলের দিকে। এবং তা হলো শুধুমাত্র আমেরিকার সাথে বৈরী সম্পর্কযুক্ত অর্থচ রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্কসম্পন্ন দেশগুলিতেই ডেঙ্গু ভাই*রাস মহা*মারী আকারে ছড়ায় কেন?

একটু মাথা ঠান্ডা করে চিন্তা করুন। উত্তরটা বেরিয়ে আসবে। জীবানু অস্ত্রের সাহায্যে আবালবৃদ্ধাবণিতাকে হ*ত্যা করা এমন নিষ্ঠু*র অমানবিক নির্দয় আচরণ শুধুমাত্র ইহুদীবাদিদের পক্ষেই সম্ভব। আর সবাই জানে যে আমেরিকা চালায় ইহুদীরা।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের সুত্র সহ বিস্তারিত বর্ণনা করা হলঃ

এবার আসুন তো আরেকটু ভিতরে ঢুকি। গত শতকের আশির দশকে ব্যাপক ডেঙ্গু ভাই*রাস এর আক্র*মনে আক্রা*ন্ত হয়েছিলো কিউবা। যা ছিলো আমেরিকার পক্ষ থেকে ঘৃণিত এক জীবাণু অস্ত্রের আক্র*মণ। শুধুমাত্র একজন মানুষকে গদিচ্যুত করার জন্য সেদিন হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে বাধেনি বিশ্ব সন্ত্রা*সী ইহুদীবাদী আমেরিকার। সেদিন ফিদেল ক্যাস্ট্রোর কি বক্তব্য ছিলো তা খতিয়ে দেখা যাক।

“We share the people’s convictions and strongly suspect that the plagues that have been punishing our country, especially the hemorrhagic dengue, could have been introduced into Cuba, into our country, by the C.I.A.”

ক্যাস্ত্রো নিশ্চয়ই চব্বিশ ঘন্টা জেগে জেগে উন্নয়নের দিবা স্বপ্ন দেখতেন না। এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বালখিল্য মিথ্যা বলার প্রশ্নই আসে না। কাজেই আমেরিকা যে রুশ ব্লকের দেশগুলোতে প্রতিহিংসা বশত ডেঙ্গু ভাই*রাস ছড়িয়ে দিয়ে থাকে তা একেবারে প্রমাণিত সত্য।

ফিলিপাইন থেকে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, মায়ানমার হয়ে বাংলাদশে এসে পৌছেছে ভ*য়ঙ্কর মাত্রার ডেঙ্গু

এ জীবানু অস্ত্রের প্রয়োগ মানবাধিকারের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও, অদ্যবধি এই ডেঙ্গু ভাই*রাস আমেরিকা রাশিয়ার মিত্র দেশগুলোর উপর প্রয়োগ করে থাকে। আজকে থেকে দুই বছর আগে যখন চিকনগুনিয়া ভাই*রাস মহা*মারী আকারে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল তখনো কিন্তু গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা গিয়েছিল যে চিকুনগুনিয়া আমেরিকার বায়োলজিক্যাল অস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসুত্রঃ How Chikungunya got its name, and was a potential biological weapon – The News Minute

আমার কাছে কেন জানো শুরু থেকেই অথর্ব মেয়র সাঈদ খোকনের কথাগুলি সন্দেহজনক মনে হয়েছিল। সাঈদ খোকন বলেছে যে, এই ডেঙ্গু মহা*মারী নাকি গুজব। বর্তমানে সচেতন নেটিজেন সূত্রে জানা যায় যে, এই সাঈদ খোকন আজকের থেকে ৪ বছর আগে ঢাকা শহরকে পরোক্ষভাবে বিশ্বব্যাংকের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।

অর্থাৎ, সে বিশ্বব্যাংকের কাছে নতজানু সাম্রাজ্যবাদী গোলাম। অতএব ডেঙ্গু মহা*মারী আকারে ছড়িয়ে পড়লেও শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত সাঈদ খোকনের অপচেষ্টা খুবই সন্দেহজনক, বরং এরূপ হলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নাই যে প্রথম দিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে সারাদেশে তা ছড়িয়ে দেওয়া তার প্লানেরই একটি অংশ।

ভালোভাবে ইনভেস্টিগেশন করলে বের হয়ে আসবে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে প্রয়োগকৃত আমেরিকান বায়োলজিক্যাল ওয়ার ফেয়ার এর এই দেশীয় ক্রীড়ানক হলেন মেয়র সাঈদ খোকন মশা।

সরকারের উচিৎ সিআইএপন্থী এই মেয়রকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা, এতে অনেক গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে আমি শিউর।

৫০ এর দশকে ফোর্ট ডেরিক সিআইএ’র প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মাল্টি মিলিয়ন ডলার রিসার্চ প্রোগ্রাম চালু করেন। না মানব সম্পদ রক্ষার মত মহৎ উদ্যোগে তার এই গবেষণাকর্ম পরিচালিত হয় নি। বরং কিভাবে নিরীহ নারী-পুরুষ-শিশু আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা কে ডেঙ্গু ভাই*রাস এবং আরও ভয়া*বহ মরণ*ঘাতী রোগ অসুখ-বিসুখ এর ধারা তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মারা যায়, হত্যা করা যায়, তার রাগমোচন উপভোগ করার জন্য মানবতার ধ্বজাধারীরা এই প্রজেক্ট চালু করেছিল। এমনকি ফ্লোরিডা, কী ওয়েস্ট, পানামা সিটি, এভন পার্ক অঞ্চলগুলিতে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর এবং অন্যান্য জীবাণু অস্ত্র সমূহের এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়েছিল। আমেরিকার স্বল্পআয়ের আফ্রো আমেরিকান নাগরিকদের উপর এই বায়োলজিক্যাল উইপন এর প্রয়োগ ঘটিয়েছিল ইহুদি কিংপিনরা।

সিআইএ’র ডকুমেন্ট থেকে জানা যায় টপ সিক্রেট প্রজেক্ট এমকে/নাওমী নামে পরিচালিত এই অপারেশনে বিশেষভাবে সজ্জিত বিমান থেকে ডেঙ্গুর জীবাণু বাহী ৬ লক্ষ মশা একেক দফায় ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

এই অপারেশন গুলির ব্যায়ভার কে বহন করেছিল জানেন? সেই বিশ্বকুখ্যাত রকফেলার পরিবার যারা সারা বিশ্বে ইহুদি সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের জন্য মূল ভূমিকা পালন করছে। শুধুমাত্র তাই নয় ১৯৮২ সালের মিডিয়ার রিপোর্ট আরো বের হয়ে আসে যে সিআইএ পাকিস্তান মারফত আফগানিস্তানেও ডেঙ্গু মহা*মারীর জীবাণু অস্ত্র পাঠিয়েছিল। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৬ সালে নিকারাগুয়ার কতৃপক্ষ অভিযোগ তুলেছিল জেসিআই ডেঙ্গু ভাই*রাস জীবাণু অস্ত্র তাদের দেশেও প্রয়োগ করেছে।

ভাগ্যের পরিহাস এটাই ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট নিক্সন জীবাণু অস্ত্র নিরোধ চুক্তিতে সই করে এবং জীবাণু অস্ত্রকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

এই আগলি আমেরিকানরা ১৯৬০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মানুষ তো বটেই শস্য সামগ্রির উপরেও জীবাণু অস্ত্র প্রয়োগ করেছিল কিউবাতে।

বর্তমানে চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রতিরোধ করার জন্য আমেরিকা বিজেপি সরকারকে নিয়ে বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রাথমিক সূচনা পর্ব হলো এই জীবাণু অস্ত্র ডেঙ্গুর মহা*মারী।

সামনে বিস্তারিত তালিকা নিয়ে আসব আমেরিকা আজ পর্যন্ত কোথায় কোথায় আশরাফুল মাখলুকাত কে বানিয়েছে তাদের এক্সপেরিমেন্টের বিষয়বস্তু। ইনশাআল্লাহ।

তথ্যসূত্রঃ

(১) Dengue Mosquitoes are being used as a biological weapon!

(২) EPIDEMIC IN CUBA SETS OFF DISPUTE WITH U.S.

(৩) Florida Dengue Fever Outbreak Leads Back to CIA and Army Experiments

(৪) Bio-War against Cuba – AfroCubaWeb

যাইহোক, নিচের এই ছবি দেখে কেউ চীনের ‘স্ট্রিং অব পালর্স’ বা মুক্তার মালা ভেবে ভুল করবেন না। এটা এ বছর যে সব দেশে ডেঙ্গু জ্বর মহা*মারি আকারে ছড়িয়েছে তাদের চিহ্নিত করণ। এবার আপনারাই হিসাব মেলান চীন, অ্যামেরিকা, রাশিয়া ও মোড়ল ইহিদীবাদী ইসরাঈলের কার্যক্রমে কোথায় কে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে এবং কাকে কাকে টাইট দেওয়া হচ্ছে।

যে সব দেশে ডেঙ্গু জ্বর মহা*মারি আকারে ছড়িয়েছে তাদের চিহ্নিতকরণ ছবি

আসুন, এইবার ডেঙ্গুর একমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাক্সিন এবং প্রস্তুতকারক কোম্পানির মালিককে নিয়ে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য জানি।

১) নিচের ছবিতে যাকে দেখতে পাচ্ছেন, তার নাম সার্জ ওয়েইনবার্গ। সে ফেঞ্চ ইহুদী ব্যবসায়ী। তার অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। তবে সে বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি সানোফি (SANOFI)’র চেয়ারম্যান। বাংলাদেশেও সানোফি’র শাখা আছে। ডেঙ্গুর একমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাক্সিন ডেঙ্গভ্যাকসিয়া (Dengvaxia) এই কোম্পানির ঔষধ।

সার্জ ওয়েইনবার্গ: ফেঞ্চ ইহুদী ব্যবসায়ী। বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি সানোফি (SANOFI)’র চেয়ারম্যান।

২) ২০১৬ সালে ১১টি দেশ সানোফি’র ডেঙ্গভ্যাকসিয়াকে অনুমোদন দেয় বলে খবর বের হয়। দেশগুলো হলো- মেক্সিকো, ফিলিপাইন, ব্রাজিল, এল সালভাদোর, কোস্টারিকা, প্যারাগুয়ে, গুয়াতেমালা, পেরু, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুর।
তথ্যসূত্রঃ ১১ দেশে সানোফির ডেঙ্গুর টিকার অনুমোদন – জাগো নিউজ ২৪

৩) সমস্যা বাধে ২০১৭ সালে। ডেংভেক্সিয়া নিয়ে তোলপাড় ঘটে যায় ফিলিপাইনে। ৮ লাখেরও বেশি স্কুল শিশুকে দেয়া হয় এই ভ্যাকসিন। কিন্তু রোগ প্রতিরোধের বদলে, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেকে। এরইমধ্যে মারা যায় ১৬ জন। এ ঘটনায় ভ্যাকসিনটির উৎপাদক, ফরাসি কোম্পানি- সানোফিকে জরিমানা করে ফিলিপাইন সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয় ডেংভেক্সিয়ার কার্যক্রমও।

সানোফি কর্তৃপক্ষ জানায়, যাদের ডেঙ্গু নেই তাদের শরীরে ডেংভ্যাক্সিয়া দেয়া হলে, গুরুতর অসুস্থ হতে পারে, ঐ ব্যাক্তি। এরপরই তোলপাড় শুরু হয়, ফিলিপাইনজুড়ে। টিকা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। টিকা দেয়ার পর দেশটিতে মারা যাওয়া ১৪ শিশুর মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়, ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটিও। শেষমেষ ঐ কমিটি জানায়, এই ওষুধ প্রয়োগে রোগ প্রতিরোধের বদলে, উল্টো গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেক শিশু। পন্যের নিবন্ধন ও বিপননজনিত কারনে, ফরাসি কোম্পানি সানোফিকে, ২ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করে, ফিলিপাইন সরকার।
তথ্যসূত্রঃ ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়ে তোলপাড়, ফিলিপাইনে ১৬ শিশুর মৃত্যু – চ্যানেল ২৪

ডেঙ্গুর একমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাক্সিন ডেঙ্গভ্যাকসিয়া (Dengvaxia)

৪) তবে ২০১৯ সালে ফিলিপাইনে যখন আবার ডেঙ্গু মহা*মারি আকার ধারণ করে প্রায় ৪৫০ জন মারা যায়, তখন সানোফি’র ডেংভ্যাক্সিয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে তার ফের ব্যবহার করার অনুমতি দেয় দেশটির সরকার। সানোফি’র বক্তব্য- ফিলিপাইন সরকারের উচিত হু’ এর নির্দেশনা মেনে চলা।
তথ্যসূত্রঃ বিতর্কিত ডেঙ্গু টিকা পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা ফিলিপাইনের – বাংলা ট্রিবিউন

৫) সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা দিয়েছে তারা সানোফির ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন ‘ডেঙ্গভ্যাকসিয়া’ আমদানি করার কথা ভাবছে। তারা ইতিমধ্যে সানোফির পরিচালকদের সাথে মিটিং করেছে। ওষুধটির দাম পড়বে জনপ্রতি ৫-৬ হাজার টাকা। তবে ওষুধটি তাদের উপর প্রয়োগ করা যাবে, যাদের দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হয়েছে। প্রথম বার ডেঙ্গু হয়েছে, এমন লোকের উপর প্রয়োগ করলে ঐ ওষুধ রিয়্যাকশন তৈরী করে তাকে অসুস্থ করে দিতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ Bangladesh Govt mulls import of dengue vaccine – Daily Sun

আমি এসকোল খবর পড়ে আমি এতটুকু বুঝেছি-এবার ডেঙ্গুর পর বাংলাদেশে সানোফির ব্যয়বহুল ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন ‘ডেঙ্গভ্যাকসিয়া’ আসতেছে।

বাংলাদেশের অনেক ডাক্তার ও মিডিয়া বলতেছে: এবার নতুন ধরনের ডেঙ্গু আসছে এবং এই ডেঙ্গুটিতে আগে থেকে ভয়*ঙ্কর।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, কেউ বলতেছে না, এই নতুন ডেঙ্গু জন্ম নিলো কিভাবে ? কিংবা এই নতুন ডেঙ্গু জন্ম নেয়ার পেছনে কে দায়ী ?

অথচ এই বিষয়টি আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস, এবিএস-সিবিএন সহ অনেক আন্তর্জাতিক পত্রিকায় এসেছে।

খবর বলছে, ২০১৭ সালের শেষ দিকে ফিলিপাইনে ৮ লক্ষ শিশুর উপর পরীক্ষামূলকভাবে ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন ‘ডেংভেক্সিয়া’ প্রয়োগ করে ফ্রেঞ্চ বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানি স্যানোফি।

স্যানোফির ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন টেস্টের বিরুদ্ধ ফিলিপাইনে গণমানুষের বিক্ষোভ

২০১৭ সালের ১৭ই ডিসেম্বরের নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, “If people who never had dengue are vaccinated and later become infected, the vaccine may provoke a much more severe form of the illness.”
অর্থাৎ যাদের আগে ডেঙ্গু হয় নাই, তাদের শরীরের যখন ডেংভেক্সিয়া’ ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করা হয়, তখন সেই ভ্যাক্সিন উৎসাহিত করে আরো কঠিন মাত্রার অসুস্থতা।
তথ্যসূত্রঃ Drug Company Under Fire After Revealing Dengue Vaccine May Harm Some -NY Times

২০১৮ সালের ১০ই জানুয়ারীর এবিএস সিবিএন নিউজ বলছে-
The Philippines late last year halted the vaccination of public school students with the vaccine Dengvaxia after French drug maker Sanofi disclosed that it might increase the risk of severe dengue in recipients not previously infected by the mosquito-borne virus.
অর্থাৎ যাদের শরীরে ডেঙ্গু আগে হয় নাই, এ ডেঙ্গু ভ্যাক্নিন দেয়ার ফলে আরো মারাত্মক ধরনের ডেঙ্গু আক্রা*ন্ত হওয়ার সম্ভবনা দেখা দেয়।

আরো বলা হচ্ছে:
Dr. Antonio Dans, an epidemiologist from the University of the Philippines, earlier warned that Dengvaxia could act like a primary infection for those who had never had dengue.
If they were bitten by a mosquito carrying the virus after the vaccination, it could allegedly be akin to getting dengue a second time, which often leads to far more severe symptoms and potentially death if bad cases are not treated quickly, he said.
অর্থাৎ Dr. Antonio Dans (epidemiologist) বলছে- যাদের শরীরে ডেঙ্গু হয় নাই তাদের জন্য এই ভ্যাক্সিনটি প্রাইমারী ইনফেকশন হিসেবে কাজ করবে। এরপর যদি তাকে ডেঙ্গু জীবানু বাহিত মশা কামড় দেয়, তখন তার মধ্যে মারা*ত্মক ধরনের ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমনকি দ্রুত চিকিৎসা না করালে মৃত্যু হতে পারে।

এরপর ভ্যাকসিন দেয়ার পরবর্তী কি ঘটছে, সেখানে বলা হচ্ছে:
Dr. Erwin Erfe, head of the PAO Forensic Laboratory, said the 4 children they examined contracted dengue 6 months after receiving the vaccine.
The fatalities had internal bleeding, enlarged organs and petechial rashes. One of them died within 24 hours after experiencing dengue symptoms, he told radio DZMM.
ভ্যাক্সিন দেয়ার ৬ মাস ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া ৪ জন শিশুকে Dr. Erwin Erfeপরীক্ষা করেছে। মৃত্যুর কারণ অভ্যন্তরীণ রক্তপাত, অর্গানগুলো বড় হয়ে যাচ্ছে এবং লাল বর্ণের র‌্যাশ হচ্ছে।
তথ্যসূত্রঃ Did Sanofi, WHO ignore warning signals on dengue vaccine?-ABC CBN News

আমার ধারণা- নতুন ধরনের ডেঙ্গু তৈরী হওয়ার কারণ।ফিলিপাইনে ৮ লক্ষ বাচ্চার উপর স্যানোফি’র ভ্যাক্সিন টেস্ট, যার দরুণ এক বছরের মাথায় দেশটিতে ভয়ঙ্কর রকমের ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে, সরকারী হিসেবে আক্রা*ন্ত হয় ১ লক্ষ এবং মারা গেছে প্রায় ৫শ’।

স্যানোফি’র ভ্যাক্সিনেশনের ফলে নতুন মাত্রায় জন্ম নেয়া ডেঙ্গুটি ভিয়েতনাম, কলোম্বিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড, মায়ানমার হয়ে খুব কম সময়ের মধ্যে (এক থেকে দেড় বছর) বাংলাদেশে এসে পৌছেছে। খুব শিঘ্রই এটি বাংলাদেশকে অতিক্রম করে আরো পশ্চিমে যাবে।

A worker shows used anti-dengue vaccine Dengvaxia inside a vaccine storage room

এদিকে, ফিলিপাইনে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে ৬২২ জন মানুষ মারা যাওয়ার পর গতকাল এটিকে ‘জাতীয় মহামারী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত অন্তত এক লাখ ৪৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রা*ন্ত হয়েছেন। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় যা ৯৮ শতাংশ বেশি। আর এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৬২২ জন।

তথ্যসূত্রঃ ডেঙ্গুকে মহামারী ঘোষণা ফিলিপাইনে – যুগান্তর

আমার কথা হলো, এই নতুন মাত্রার ডেঙ্গুটি যে এসেছে বা আসছে তা তো আজ থেকে দেড় বছর আগেই বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশ হয় এবং সেই নতুন জ্বরের লক্ষণগুলো কি হবে তাও প্রকাশ হয়ে যায়। এবং এই ঘটনার সাথে যে ফ্রেঞ্চ বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানি স্যানোফি জড়িত সেটাও তো মোটামুটি প্রকাশ্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিষয়টি বাংলাদেশে কোন ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট বা সরকার-বিরোধীদল প্রকাশ করতেছে না কেন ?

আমি একটা জিনিস দেখেছি, কোন অপকর্মে যদি কোন বহুজাতিক কোম্পানি বা ইহুদীরা জড়িত থাকে (স্যানোফির প্রধান এক ইহুদী), তখন কেন যেন সবাই সেটা এড়িয়ে যায়, প্রকাশ করতে চায় না। আজ থেকে দেড় বছর আগেই যদি আমরা জানতাম, বহুজাতিক ওষধ কোম্পানি স্যানোফি টেস্টের ফলে এক নতুন ধরনের ডেঙ্গু জন্ম নিয়েছে এবং সেই ডেঙ্গুতে রোগির মধ্যে বিশেষ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে, তবে কি বাংলাদেশের মানুষ আগে থেকেই সচেতন হতে পারতো না?

সুতরাং, পরিশেষে বলা যায় যে, ডেঙ্গু মূলত ইহুদীবাদীদের প্রয়োগকৃত একটি ভয়া*বহ জীবানু অস্ত্র। মোসাদ তাদের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র আমেরিকার সাথে বৈরী সম্পর্কযুক্ত অথচ, রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক সম্পন্ন দেশগুলিতেই ডেঙ্গু ভাই*রাস মহা*মারী আকারে ছড়াচ্ছে।

উৎসঃ নয়ন চ্যাটার্জির (Noyon Chatterjee)’র অনুসন্ধানী একাধিক ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংকলিত

নয়ন চ্যাটার্জির ফেসবুক পেইজ

আরও পড়ুনঃ ​‘শেখ হাসিনা মিথ্যা বলেছেন, বিরোধী মতাবলম্বীদের ওপর বেশি নির্যাতন হচ্ছে’

বিরোধী মত, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পুলিশের হেফাজতে ‍নির্যাতন-মৃত্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় তো বটেই, এটা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়ে বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা তো আমার কাছে পরিস্কার যে, এখানে প্রধানমন্ত্রী সত্য কথা বলেননি। আমাদের পত্র-পত্রিকাগুলোতে মানবাধিকারের যে গ্রুপগুলো রয়েছে তাদের যে রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। এমনকি অ্যামিনেস্টি ইন্টান্যাশনাল, হিউম্যান রাইট ওয়াচ’র রিপোর্টে আমরা দেখেছি- প্রতিবছরে এখানে জুডিশিয়াল কাস্টিডিওতে মৃত্যু হয়েছে ৪শ’ থেকে ৭শ’। গতবছর বিশেষ করে ৪শ’ উপরে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে জডিশিয়াল কাস্টিডিও হত্যা হয়েছে।’

‘আর পুলিশ হেফাজতে যে টর্চার-এটা তো কমন ব্যাপার। পত্র-পত্রিকায় ছবিতে এসেছে- ফ্যান সিলিংয়ের সাথে ঝু্লিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের অনেক নেত-কর্মী আছেন যাদের পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। এটা ছবিতে চলে এসেছে। এগুলোতে আপনারা সবাই জানেন, পত্র-পত্রিকায় এসেছে। সুতরাং উনি (প্রধানমন্ত্রী) অবলীলায় অস্বীকার করলেন- এটা( হেফাজতে মৃত্যু) হয় না। আমরা মনে হয় এটা সঠিক নয় তো বটেই, এটা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রকৃত যে চিত্র নির্যাতন বাংলাদেশে নির্যাতন সরকারিভাবেই চলছে এবং সরকার বিরোধী মত ও যারা ভিন্নমত পোষন করে তাদের উপরে অত্যাচার-নির্যাতন আরও বেশি করে চালাচ্ছে। আপনারা দেখেছেন যে, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলোকচিত্রী শিল্পী শহিদুল আলমকে গ্রেফতার করে অত্যাচার করা হয়েছে এবং কাস্টিডিওতে নেয়ার পরে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সাথে নির্মম আচরণ করা হয়েছে।’

সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার মতো বিএনপি চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না- এরকম প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার যখন মনে করে চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া তারা কোনো ন্যায়ের কাজ করবে না। তখন তো ওইটা ডিফিকাল্ট হয়ে যায়। ইট ইজ এ রেসপনসিবিলিটিজ দ্যা গর্ভমেন্ট, তাকে ডেঙ্গুর কাজ করতে হবে, বন্যা পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে, কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি করতে হবে। আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

সর্বক্ষেত্রে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, তাহলে আপনার সরকারই উস্কানি দিচ্ছে ভিন্নপথে যাওয়ার। যেটা আমরা মনে করি একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য কখনোই ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

সরকারি দল বলছে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মতো আন্দোলন বিএনপি পারছে না- এরকম প্রশ্নের মহাসচিব বলেন, ‘বিষয়গুলো আপেক্ষিক না। ফ্যাসিস্ট সরকার যখন থাকে তখন সেই মুক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন কী জ্বালাও-পোঁড়াও করে সব পুঁড়িয়ে দিতে হবে নাকি? এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা আওয়ামী লীগের মধ্যে আছে যা এটা তারা চাচ্ছে।’

আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিয়মের মধ্য দিয়ে চেষ্টা করছি। জনগণ যদি মনে করে যে, তারা অন্যভাবে দেখবেন- সেটা জনগণের ব্যাপার বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here