শেখ হাসিনাকে দেয়া সংবর্ধনায় আসেননি হেফাজত মহাসচিব আল্লামা বাবুনগরী (হাফিঃ)

0
242

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা জানাতে শুকরানা মাহফিলে আসেননি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) সহ-সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী (হাফিঃ)।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস করায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা ‘আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ (হাইয়াতুল উলয়া) শুকরানা মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

রোববার সকালে হাইয়াতুল উলয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কওমিপন্থী আলেম-ওলামারা যখন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন, তখন আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক জুনায়েদ বাবুনগরী ছিলেন তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বাবুনগর গ্রামে।

শুকরানা মাহফিল উপলক্ষে কওমিপন্থী আলেম-ওলামা তৈরির আঁতুড়ঘর হাটহাজারী মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় তিনি তার গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী শুকরানা মাহফিলে যাচ্ছেন কিনা জানতে গত শনিবার সন্ধ্যায় স্বশরীরে হাটহাজারী মাদ্রাসায় গেলে কথা হয় যুগান্তরের সঙ্গে। এ সময় বাবুনগরী বলেন, আমার শরীর ভালো নয়। তাই শুকরানা মাহফিলে যেতে পারছি না।

তবে নাম প্রকাশ না করা শর্তে যুগান্তরকে মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী জানান, সম্প্রতি শুকরানা মাহফিল নিয়ে সৃষ্ট হেফাজতের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হয়তো তিনি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাননি। অথচ হুজুর (জুনায়েদ বাবুনগরী) শারীরিকভাবে আগের চাইতে অনেকটা সুস্থ। ওই শিক্ষার্থী আরও জানান, হেফাজতের মহাসচিব ও বেফাকের সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকলেও বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত তার অজান্তেই হয়। তিনি সরকার বিরোধী অবস্থানের কারণে নানা সমস্যায় পড়ছেন। ভারতে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তার পাসপোর্ট আটকে রেখেছে। ফলে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারছেন না। এছাড়া হুজুরের বিরুদ্ধে অনেক মামলা করা হয়েছিল। সেগুলো তুলে নেয়া হয়নি।

এদিকে শুকরানা মাহফিল নিয়ে সৃষ্ট হেফাজতের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হেফাজত নেতৃত্বের বড় একটা অংশ অনুপস্থিত ছিল।

এদের মধ্যে কিছুদিন আগে পদত্যাগ করা সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির মহিববুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, নায়েবে আমির ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আল্লামা হাফেজ তাজুল ইসলাম, নায়েবে আমির তফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী, আল্লামা সুলতান জওক নদভী, আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী, আল্লামা আব্দুল মালেক হালিম, মুফতি ইজহারুল ইসলাম, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী শুকরানা মাহফিলে অংশগ্রহণ করেননি বলে একটি সূত্র যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আল্লামা শফিকে স্বাধীনতা পদক দেয়ার অনুরোধ সেই ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের!

ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের জন্য ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! সব আলেমদের একমঞ্চে আনা ও কওমী আলেমদের খেদমতের জন্য আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে স্বাধীনতা পদক দেয়ার দাবি জানিয়েছেন শোলাকিয়ার ইমাম ও আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতুল কওমিয়া বাংলাদেশের সদস্য মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। আশ্চর্য্যের বিষয় এই ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ আল্লামা আহমেদ শফীকে ২০১৩ সালে জামায়াত-শিবিরের দালাল বলে কটাক্ষ করেছিল, বিভিন্ন কুৎসা রটিয়েছিল। তিনি নিয়মিত বাম এবং রামপন্থী মিডিয়াগুলোর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও টকশোতে আল্লামা শফীকে ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ এবং কটাক্ষ করতেন।

রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শোকরানা সমাবেশ থেকে এ আহ্বান জানান তিনি। শোকরানা সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকাল পৌনে ১১টায় তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই সমাবেশে হাজির হন।

এ সময় সমাবেশের সভাপতি হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে আগতদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। পরে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন।

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ওয়াদা করলে রক্ষা করেন। তার দিল (হৃদয়) অনেক বড়। তিনি কওমী দরদী জননী। মাদ্রাসার স্বীকৃতি দিয়ে তিনি ইসলামের খেদমত করলেন।

‘আমি আরও দুটি আরজ (দাবি) করবো, এক, সারাদেশে ইমামদের ৫ হাজার ও মোয়াজ্জিনদের ৩ হাজার করে ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। দুই, এ পর্যন্ত কোনো আলেমকে স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়নি। আল্লামা আহমদ শফী সাহেব, যিনি কওমী আলেমদের খেদমতে নিয়োজিত, তিনি সারাদেশের আলমদের ঐক্যব্ধ করেছেন। এজন্য তাকে স্বাধীনতা পদক দেবেন’।

উল্লেখ্য, দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর সমমান মর্যাদা দেয়ায় সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়ার কথা রয়েছে। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর পরিচালনাধীন আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এই সমাবেশের আয়োজন করে।

শোকরানা সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলার মাদ্রাসা থেকে গাড়ি নিয়ে দলে দলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সমাবেশস্থলে আসেন। সমাবেশস্থল আলেম-ওলামাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়াও পার্কিং জোন ছাপিয়ে সড়কে গিয়ে মিশেছে জনস্রোত। আয়োজকরা আগেই জানিয়েছেন, শোকরানা সমাবেশে ১০ লাখের বেশি লোক উপস্থিতি হবেন।

এর আগে রোববার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই শোকরানা সমাবেশ শুরু হয়।

উৎসঃ যুগান্তর, পরিবর্তন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here