ছাত্রলীগকে জেতাতে ঢাবি ভিসিকে সরকারের নির্দেশ!

0
273

দীর্ঘ ২৯ বছর পর আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন। ২৯ বছর ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাসে যে ধরণের উৎসব বিরাজ করার কথা ছিল তা নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ছাড়া অন্যকোনো প্যানেল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কোনো আনন্দ লক্ষ্য করা যায়নি। সবার মধ্যেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিয়ে একটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

এর আগেও অ্যানালাইসিস বিডিতে একাধিক অনুসন্ধ্যান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডাকসু নির্বাচনটা একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতোই হবে। আওয়ামী লীগকে জেতাতে সিইসি নুরুল হুদা যে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছিলেন, ঢাবি ভিসি ড. আখতারুজ্জামানও ছাত্রলীগের প্যানেলকে জয়ী করতে ঠিক সেই পরিকল্পনা মাফিক সব কিছু করেছেন। যেমন-তড়িগড়ি তফসিল ঘোষণা, বিরোধী প্যানেলের সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থীদের প্রার্থীতা বাতিল, নির্বাচনী প্রচারে সুযোগ না দেয়া, অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীদের প্রচারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করলেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়া। মূলত ছাত্রলীগের বিপক্ষের কোনো প্যানেলের প্রার্থীদের অভিযোগকে পাত্তাই দেননি ঢাবি ভিসি।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় ছিল, হলে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করে অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীদেরকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারে বাধ্য করেছে ছাত্রলীগ। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে ঢাবি প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাবি ক্যাম্পাসে সব কিছুই ছিল ছাত্রলীগের অনুকূলে। সবই ছিল ছাত্রলীগকে জেতাতে ঢাবি প্রশাসনের মাস্টার প্লান।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রলীগের প্যানেলকে জয়ী করতে যা যা করার দরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন করেছে।

প্রথমত: ভোট হবে হলে আর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবে ক্যাম্পাসে। হলগুলো এমনিতেই ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে। ভোটগ্রহণের সময় ছাত্রলীগ যা খুশি তাই করতে পারবে। এখানে বাধা দেয়ার মতো সাহস কেউ দেখাতে পারবে না।

দ্বিতীয়ত: গণমাধ্যমের ওপরও নিয়ন্ত্রণ করবে ঢাবি প্রশাসন। কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হলেও সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না। বিষয়টা পরিষ্কার যে ভোট ডাকাতি চাপা দিতেই মূলত ঢাবি প্রশাসন গণমাধ্যমের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

তৃতীয়ত: বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নামে অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স দিয়েই ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর সঙ্গে হলগুলোতে ব্যালট বাক্স পাঠানো হয়েছে রাতেই। বিরোধী প্যানেলের প্রার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা রাতেই ব্যালট দিয়ে বাক্স ভর্তি করতে পারে।

চতুর্থত: একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজনের কথা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সূত্রেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ছাত্রলীগকে জেতাতে হবে এটাই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ভিসি আখতারুজ্জামানকে বলে দেয়া হয়েছে আপনাকে এই পদে থাকতে হলে সরকারের নির্দেশ মতোই কাজ করতে হবে। ভিপি, জিএস, এজিএসসহ সব সম্পদক পদগুলোতে অবশ্যই ছাত্রলীগের নেতারা থাকতে হবে। আর সদস্য পদ কিছু চলে গেলে সমস্যা নেই।

জানা গেছে, ঢাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকার ও ছাত্রলীগকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তারা সব কিছুই ব্যবস্থা করেছেন। ছাত্রলীগকে বলে দেয়া হয়েছে তোমরা তোমাদের মত কাজ কর। বাকীটা আমরা দেখবো।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ডাকসু নির্বাচনকেও কলঙ্কিত করা হলো: বিএনপি


জাতীয় নির্বাচনের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকেও কলঙ্কিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি।

সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতের ভোটের সংস্কৃতি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বের হতে পারেনি। আজ ডাকসু নির্বাচনকেও কলঙ্কিত করা হলো।

‘গত রাতেও ব্যালটবাক্স ভরানো হয়েছে, যার প্রমাণ পাওয়া গেল আজ কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট।’

রিজভী বলেন, সাধারণ ছাত্রছাত্রীসহ বিরোধী ছাত্র সংগঠনের সমর্থকরা যাতে ভোট দিতে না পারে, সে জন্য পুলিশ অবিশ্বাস্য রকমের তৎপরতা শুরু করেছে। সব হলে হলে ছাত্রলীগের মহড়া চলছে। এ নির্বাচনের পরিণতি নিয়ে জনমনে সংশয় গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, ডাকসু একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। আমাদের ভাষা, স্বাধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্রসহ সব অধিকার আন্দোলনে ডাকসুর ভূমিকা ছিল অগ্রগামী। আজ ডাকসুর নির্বাচন। দেশে বিদ্যমান নাৎসিবাদী পরিকাঠামোর মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮ বছর পর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যরাতের ভোটের স্মৃতি ডাকসু নির্বাচনেও সাধারণ ছাত্রদের তাড়িত করছে। এ নির্বাচনে সাধারণ ছাত্রদের ন্যায্য অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নাৎসিবাদী গণতন্ত্রের নানারূপ এ ডাকসু নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রতিফলিত হয়েছে।

রিজভী আরও বলেন, ঢাবির ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে ১৮টি হলে। সব সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র দাবি করেছিলেন, দাবি করেছিলেন ভোটের সময় বাড়ানোর, স্টিলের ব্যালটবাক্সের বদলে স্বচ্ছ ব্যালটবাক্স দাবি করেছিলেন, রাতের ভোটের আতঙ্কে রাতে যেন ব্যালট বাক্স না নেয়া হয়, সে দাবিও প্রার্থীরা করেছিলেন। কিন্তু এসব দাবি নাকচ করা হয়েছে।

ডাকসু নির্বাচনে মিডিয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৮টি কেন্দ্রের জন্য টেলিভিশন মাধ্যমের চারটি ইউনিট ও প্রিন্ট মিডিয়ার দুজনকে ঢুকতে দেয়া হবে। অর্থাৎ সংবাদ সংগ্রহে কড়াকড়ি বিধিনিষেধ, তথ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। ডিজিটাল বাংলাদেশের উল্লাসে অস্থির ক্ষমতাসীনদের রাজত্বে এখন কি দশা হলো যে মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিকস ডিভাইস বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

‘আজ নির্বাচনের দিন সব ধরনের অনিয়মের প্রমাণ না রাখা। ইতিমধ্যে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৫ জন, যা ডাকসুর ইতিহাসে নজিরবিহীন। ছাত্রলীগের ভয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এ রকম বেশ কিছু প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।’

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, বিরোধী মতের শিক্ষকদের ডাকসু নির্বাচনে কোনো দায়িত্বে রাখা হয়নি। গত কয়েক দিনের সাধারণ ছাত্রদের জোর করে ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে সাধারণ ছাত্রদের হুমকি দিয়ে হলগুলো পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।

‘মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ডাকসু নির্বাচন সরকারেরই নীতি ও নীলনকশা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিনা। এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যাবতীয় আয়োজন ছাত্রলীগকে অবৈধপন্থায় বিজয়ী করার অনুকূলে।’

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘প্রহসনের ভোট’ বাতিলের দাবিতে উত্তাল ঢাবি (ভিডিও সহ)


২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে জালভোট, ব্যালটবাক্স উধাও, কেন্দ্রদখল, কারচুরি এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ ছাড়া প্রায় সব প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তারা আগামীকাল মঙ্গলবার ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। পাশাপাশি এ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ দাবি করে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। সব মিলিয়ে ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)।

অবস্থান কর্মসূচি থেকে কারচুপির নির্বাচন, জালভোটের নির্বাচন, প্রহসনের নির্বাচন মানি না এমন স্লোগান দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কারচুরির এ নির্বাচন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর ২টার দিকে ঢাবি এলাকাজুড়ে দেখা যায় এ চিত্র।

পুনঃতফসিল দাবিতে কাল থেকে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে প্যানেলগুলো। এ সময় সব ক্লাস বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তারা।

ভিডিওঃ ‘‘প্রহসনের ভোট’ বাতিলের দাবিতে উত্তাল ঢাবি (ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয় চারটি প্যানেল। এ সময় ছাত্রদলও তাদের সমর্থন দেয়।

দুপুর ১টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয় বাম সংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্রঐক্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোট। ছাত্রদলও তাদের সমর্থন দিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। পরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনও ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রহসন-জালিয়াতির এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে হবে। হলে নয়, নতুনভাবে ভোট হতে হবে একাডেমিক ভবনে। সেই নির্বাচনে ব্যালটবাক্স হতে হবে স্বচ্ছ।

ভিডিওঃ ‘ভোট চুরির ডাকসু নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলো ছাত্রদলও (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

পরে দুপুর দেড়টার দিকে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় ছাত্রদল। এ সময় ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, জিএস প্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডাকসু নির্বাচনের কোনো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। প্রশাসন শুরু থেকেই ভোট কারচুপিতে যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন হল থেকে সিল মারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। এভাবে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। আমরা এ নির্বাচন বর্জন করছি।

এর আগে দুপুর ১টায় প্রহসনের ভোট আয়োজন করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ‘ঘৃণা’ জানিয়ে ডাকসু নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে চারটি প্যানেল। ওই চারটি প্যানেলের পক্ষে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, ভোটে অনিয়ম, কারচুপি, জালভোট ও ছাত্রলীগের অধিপত্য সর্বত্র। এই ভোট বর্জন করে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি আমরা।

পরে এসব দাবি নিয়ে ভিসি ভবনে অবস্থান নিতে যান প্রার্থীরা। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও পৃথক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিসি ভবনে অবস্থান নিতে যান। সেখানে ভিসিকে না পেয়ে মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ভিসির বাসভবনের সামনে এসে অবস্থান নেন ছাত্রনেতারা।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় ভিসির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলছিল। গোটা ক্যাম্পাসে থেমে থেমে চলছিল। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে মিছিল-স্লোগানে উত্তাল রেখেছে।

ভিডিওঃ ‘পুনঃনির্বাচনের দাবিতে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান ছাত্রদলের(ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

অবস্থান কর্মসূচিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন ছাত্রনেতারা। তারা বলেন— প্রহসনের নির্বাচন ছাত্রসমাজ মানে না। এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন, যে ভিসি ছাত্রলীগের সেই ভিসি চাই না।

প্রসঙ্গত ২৮ বছর পর অনুষ্ঠেয় ডাকসু নির্বাচন শুরু হয় সকাল ৮টায়। বেলা ২টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এতে ৪৩ হাজার ২৫৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মোট ভোটারের মধ্যে ছাত্র ২৬ হাজার ৯৪৪ এবং ছাত্রী ১৬ হাজার ৩১২ জন।

ডাকসুতে ২৫ পদে নির্বাচন হচ্ছে। বিভিন্ন পদের মধ্যে আছে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে ৩টি। আরও আছে- সম্পাদকীয় ৯টি এবং ১৩টি সদস্যপদ। এসব পদের জন্য বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্রসহ প্রার্থী ২২৯ জন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্রসহ ভিপি ২১, জিএস ১৪ জন।

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ১৩টি প্যানেল। অন্যদিকে প্রত্যেক হল সংসদে ১৩টি পদে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে তিনটি। আরও আছে সম্পাদকীয় ৬, সদস্য ৪টি। হল সংসদ (১৮টি হল, ২৩৪ পদে) প্রার্থী ৫০৯ জন। হল সংসদ ও ডাকসু মিলিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গড়ে ৩৮টি করে ভোট দিতে হয়। সুষ্ঠুভাবে ভোটের কাজ শেষ করতে রিটার্নিং অফিসারসহ (আরও) ৪২ জন কাজ করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পুনঃনির্বাচনের দাবিতে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান ছাত্রদলের(ভিডিও সহ)


জালভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, কারচুরিসহ নানা অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বাতিল চেয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থায় নিয়েছে ছাত্রদল।নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রলীগ ছাড়া অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরাও পুনঃনির্বাচন দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করছেন।

দুপুর দেড়টায় মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে ডাকসু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় ছাত্রদল। এরপর সেখান থেকে মিছিল নিয়ে ভিসি কার্যালয়ে যান ছাত্রদল নেতারা।সেখানে তাকে না পেয়ে মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ছাত্রদল।

ভিডিওঃ ‘পুনঃনির্বাচনের দাবিতে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান ছাত্রদলের(ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

দুপুর ২টার দিকে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। একই সময়ে সিনেট ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চার প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকরা।

চার প্যানেল হচ্ছে- বাম সংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্রঐক্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোট।

বিক্ষোভ থেকে কারচুপির নির্বাচন, জালভোটের নির্বাচন, প্রহসনের নির্বাচন মানি না এমন স্লোগান দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কারচুরির এ নির্বাচন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভিসির বাসভবনের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ভিডিওঃ ‘যে ভিসি ছাত্রলীগের সে ভিসি চাই না’(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এ সময় ‘প্রহনের নির্বাচন মানি না, মানব না’ স্লোগান দেন।

পুনঃতফসিল দাবিতে কাল থেকে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে প্যানেলগুলো। এ সময় সব ক্লাস বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তারা।

এর আগে সোমবার দুপুর সোয়া ১টার মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয় বাম সংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্রঐক্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোট। ছাত্রদলও তাদের সমর্থন দিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। পরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনও ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রহসন-জালিয়াতির এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে হবে। হলে নয়, নতুনভাবে ভোট হতে হবে একাডেমিক ভবনে। সেই নির্বাচনে ব্যালটবাক্স হতে হবে স্বচ্ছ।

পরে দুপুর দেড়টার দিকে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় ছাত্রদল। এ সময় ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, জিএস প্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিওঃ ‘ভোট চুরির ডাকসু নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলো ছাত্রদলও (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডাকসু নির্বাচনের কোনো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। প্রশাসন শুরু থেকেই ভোট কারচুপিতে যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন হল থেকে সিল মারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। এভাবে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। আমরা এ নির্বাচন বর্জন করছি।

এর আগে দুপুর ১টায় প্রহসনের ভোট আয়োজন করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ‘ঘৃণা’ জানিয়ে ডাকসু নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে চারটি প্যানেল। ওই চারটি প্যানেলের পক্ষে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, ভোটে অনিয়ম, কারচুপি, জালভোট ও ছাত্রলীগের অধিপত্য সর্বত্র। এই ভোট বর্জন করে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি আমরা।

পরে এসব দাবি নিয়ে ভিসি ভবনে অবস্থান নিতে যান প্রার্থীরা। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও পৃথক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিসি ভবনে অবস্থান নিতে যান। সেখানে ভিসিকে না পেয়ে মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ভিসির বাসভবনের সামনে এসে অবস্থান নেন ছাত্রনেতারা।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় ভিসির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলছিল। গোটা ক্যাম্পাসে থেমে থেমে চলছিল। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে মিছিল-স্লোগানে উত্তাল রেখেছে।

অবস্থান কর্মসূচিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন ছাত্রনেতারা। তারা বলেন— প্রহসনের নির্বাচন ছাত্রসমাজ মানে না। এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন, যে ভিসি ছাত্রলীগের সেই ভিসি চাই না।

প্রসঙ্গত ২৮ বছর পর অনুষ্ঠেয় ডাকসু নির্বাচন শুরু হয় সকাল ৮টায়। বেলা ২টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এতে ৪৩ হাজার ২৫৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মোট ভোটারের মধ্যে ছাত্র ২৬ হাজার ৯৪৪ এবং ছাত্রী ১৬ হাজার ৩১২ জন।

ভিডিওঃ ‘ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেলের ভোট চুরির পাতানো ডাকসু নির্বাচন বর্জন(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ডাকসুতে ২৫ পদে নির্বাচন হচ্ছে। বিভিন্ন পদের মধ্যে আছে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে ৩টি। আরও আছে- সম্পাদকীয় ৯টি এবং ১৩টি সদস্যপদ। এসব পদের জন্য বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্রসহ প্রার্থী ২২৯ জন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্রসহ ভিপি ২১, জিএস ১৪ জন।

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ১৩টি প্যানেল। অন্যদিকে প্রত্যেক হল সংসদে ১৩টি পদে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে তিনটি। আরও আছে সম্পাদকীয় ৬, সদস্য ৪টি। হল সংসদ (১৮টি হল, ২৩৪ পদে) প্রার্থী ৫০৯ জন। হল সংসদ ও ডাকসু মিলিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গড়ে ৩৮টি করে ভোট দিতে হয়। সুষ্ঠুভাবে ভোটের কাজ শেষ করতে রিটার্নিং অফিসারসহ (আরও) ৪২ জন কাজ করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘যে ভিসি ছাত্রলীগের সে ভিসি চাই না’(ভিডিও সহ)


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবি করেছে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতারা। ডাকসু নির্বাচন বাতিল, পুনঃতফসিল ঘোষণা ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যর্থতা দায় নিয়ে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে ছাত্রসংগঠনগুলোর বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিচ্ছেন— প্রহসনের নির্বাচন ছাত্রসমাজ মানে না। এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন, যে ভিসি ছাত্রলীগের সেই ভিসি চাই না।

ভিডিওঃ ‘যে ভিসি ছাত্রলীগের সে ভিসি চাই না’(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

সেখানে অবস্থান নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আরও স্লোগান দিচ্ছেন। ‘ব্যালট চুরির নির্বাচন ছাত্র সমাজ মানে না’, ‘বাটপারির নির্বাচন ছাত্র সমাজ মানে না’, এ জাতীয় বিভিন্ন স্লোগানে প্রকম্পিত ক্যাম্পাস।

এর আগে দুপুর দেড়টায় মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদলের প্যানেলের সহ সভাপতি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডাকসু নির্বাচনের কোনো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। প্রশাসন শুরু থেকেই ভোট কারচুপিতে যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন হল থেকে সিল মারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। এভাবে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। আমরা এ নির্বাচন বর্জন করছি।

এর আগে দুপুর ১টায় প্রহসনের ভোট আয়োজন করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ‘ঘৃণা’ জানিয়ে ডাকসু নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে চারটি প্যানেল। ওই চারটি প্যানেলের পক্ষে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, ভোটে অনিয়ম, কারচুপি, জালভোট ও ছাত্রলীগের অধিপত্য সর্বত্র। এই ভোট বর্জন করে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি আমরা।

ভিডিওঃ ‘ভোট চুরির ডাকসু নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলো ছাত্রদলও (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

পরে এসব দাবি নিয়ে ভিসি ভবনে অবস্থান নিতে যান প্রার্থীরা। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও পৃথক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিসি ভবনে অবস্থান নিতে যান। সেখানে ভিসিকে না পেয়ে মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ভিসির বাসভবনের সামনে এসে অবস্থান নেন ছাত্রনেতারা।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় ভিসির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলছিল। গোটা ক্যাম্পাসে থেমে থেমে চলছিল। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে মিছিল-স্লোগানে উত্তাল রেখেছে।

প্রসঙ্গত ২৮ বছর পর অনুষ্ঠেয় ডাকসু নির্বাচন শুরু হয় সকাল ৮টায়। বেলা ২টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এতে ৪৩ হাজার ২৫৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মোট ভোটারের মধ্যে ছাত্র ২৬ হাজার ৯৪৪ এবং ছাত্রী ১৬ হাজার ৩১২ জন।

ভিডিওঃ ‘ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেলের ভোট চুরির পাতানো ডাকসু নির্বাচন বর্জন(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ডাকসুতে ২৫ পদে নির্বাচন হচ্ছে। বিভিন্ন পদের মধ্যে আছে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে ৩টি। আরও আছে- সম্পাদকীয় ৯টি এবং ১৩টি সদস্যপদ। এসব পদের জন্য বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্রসহ প্রার্থী ২২৯ জন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্রসহ ভিপি ২১, জিএস ১৪ জন।

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ১৩টি প্যানেল। অন্যদিকে প্রত্যেক হল সংসদে ১৩টি পদে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে তিনটি। আরও আছে সম্পাদকীয় ৬, সদস্য ৪টি। হল সংসদ (১৮টি হল, ২৩৪ পদে) প্রার্থী ৫০৯ জন। হল সংসদ ও ডাকসু মিলিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গড়ে ৩৮টি করে ভোট দিতে হয়। সুষ্ঠুভাবে ভোটের কাজ শেষ করতে রিটার্নিং অফিসারসহ (আরও) ৪২ জন কাজ করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেলের ডাকসু নির্বাচন বর্জন, মঙ্গলবার ধর্মঘট (ভিডিও সহ)


জালভোট, কেন্দ্র দখল ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ছাত্রলীগ ছাড়া সব ছাত্র সংগঠন সমর্থিত প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ও হল সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছেন। পুনঃভোটের দাবির পাশাপাশি মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এ সময় সব ক্লাস বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

সোমবার দুপুর ১টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয় বাম সংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্রঐক্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোট। ছাত্রদলও তাদের সমর্থন দিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রহসন-জালিয়াতির এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে হবে। হলে নয়, নতুনভাবে ভোট হতে হবে একাডেমিক ভবনে। সেই নির্বাচনে ব্যালটবাক্স হতে হবে স্বচ্ছ।

ভিডিওঃ ‘ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেলের ডাকসু নির্বাচন বর্জন, মঙ্গলবার ধর্মঘট (ভিডিও সহ) ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

প্রগতিশীল বামজোট, ছাত্র ফেডারেশন ও কোটা আন্দোলনসহ বিভিন্ন পদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোট প্রত্যাখ্যান করেন বামজোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী। এ সময় অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে দুপুর দেড়টার দিকে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় ছাত্রদল। এ সময় ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, জিএস প্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডাকসু নির্বাচনের কোনো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। প্রশাসন শুরু থেকেই ভোট কারচুপিতে যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন হল থেকে সিল মারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। এভাবে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। আমরা এ নির্বাচন বর্জন করছি।

এর আগে দুপুর ১টায় প্রহসনের ভোট আয়োজন করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ‘ঘৃণা’ জানিয়ে ডাকসু নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের করে ৪টি প্যানেল।ওই চারটি প্যানেলের পক্ষে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, ভোটে অনিয়ম, কারচুপি, জালভোট ও ছাত্রলীগের অধিপত্য সর্বত্র। এই ভোট বর্জন করে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি আমরা।

পরে এসব দাবি নিয়ে ভিসি ভবনে অবস্থান নিতে যান প্রার্থীরা। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও পৃথক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিসি ভবনে অবস্থান নিতে যান।সেখানে ভিসিকে না পেয়ে তার বাসভবনের সামনে এসে অবস্থান নেন ছাত্রনেতারা।

প্রসঙ্গত ২৮ বছর পর অনুষ্ঠেয় ডাকসু নির্বাচন শুরু হয় সকাল ৮টায়। বেলা ২টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এতে ৪৩ হাজার ২৫৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মোট ভোটারের মধ্যে ছাত্র ২৬ হাজার ৯৪৪ এবং ছাত্রী ১৬ হাজার ৩১২ জন।

ডাকসুতে ২৫ পদে নির্বাচন হচ্ছে। বিভিন্ন পদের মধ্যে আছে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে ৩টি। আরও আছে- সম্পাদকীয় ৯টি এবং ১৩টি সদস্যপদ। এসব পদের জন্য বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্রসহ প্রার্থী ২২৯ জন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্রসহ ভিপি ২১, জিএস ১৪ জন।

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ১৩টি প্যানেল। অন্যদিকে প্রত্যেক হল সংসদে ১৩টি পদে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে তিনটি। আরও আছে সম্পাদকীয় ৬, সদস্য ৪টি। হল সংসদ (১৮টি হল, ২৩৪ পদে) প্রার্থী ৫০৯ জন। হল সংসদ ও ডাকসু মিলিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গড়ে ৩৮টি করে ভোট দিতে হয়। সুষ্ঠুভাবে ভোটের কাজ শেষ করতে রিটার্নিং অফিসারসহ (আরও) ৪২ জন কাজ করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যা বললেন ভিসি (ভিডিও সহ)


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ও হল সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

সোমবার বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

ভিসি বলেন, প্রথমে আমি আমার ছেলেমেয়েদের ধন্যবাদ দিতে চাই। কারণ তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে, শান্তিপূর্ণভাবে ও উৎসবমুখর পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।

তারা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করে ভোট দেয়ায় আমি তাদের ভূয়সী প্রশংসা করছি। আমি অনেক ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। সব জায়গায় দেখেছি-একবারে সারিবদ্ধভাবে ও সুশৃঙ্খলভাবে আমাদের ছেলেমেয়েরা ভোট দিচ্ছে।

ভিডিওঃ ‘নির্বাচন নাকি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে: ঢাবি ভিসি (ভিডিও সহ) ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]
বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল নিয়ে তিনি বলেন, সেখানে একটি অনিয়ম ঘটেছে। আমরা কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে প্রভোস্টকে সরিয়ে সেখানে অন্য আরেকজনকে দায়িত্ব দিয়েছি। একই সঙ্গে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি।

তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে কারা কারা বা কে কে জড়িত। যেই জড়িত থাকুক না কেন নীতিবহির্ভূত কোনো কাজ কখনই বরদাস্ত করা হবে না।

ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হয়নি বলে প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেছে। এ বিষয়ে ভিসি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে এগোতে হবে। তবে আমি যতগুলো ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছি, সেখানে দেখেছি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে।

ভিসি বলেন, আজকের নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের ছেলেমেয়েরা গণতন্ত্র রক্ষার যে উদাহরণ রাখল, তা আমাদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এ দৃষ্টান্ত আমাদের নতুনমাত্রায় অনুপ্রেরণা দেয় যে, এ গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রেখে আমরা সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাব, বলেন তিনি।

প্রসঙ্গত ২৮ বছর পর অনুষ্ঠেয় ডাকসু নির্বাচন শুরু হয় সকাল ৮টায়। বেলা ২টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এতে ৪৩ হাজার ২৫৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মোট ভোটারের মধ্যে ছাত্র ২৬ হাজার ৯৪৪ এবং ছাত্রী ১৬ হাজার ৩১২ জন।

সোমবার দুপুর ১টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয় বাম সংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোট। ছাত্রদলও তাদের সমর্থন দিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ হলে হলে ভোট জালিয়াতি: তোপের মুখে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা

ডাকসু নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এসএম মাহফুজুর রহমান।

সোমবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রোকেয়া হল থেকে বের হওয়ার সময় তোপের মুখে পড়েন তিনি।

এ সময় প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

পরে তিন শিক্ষার্থী তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

জানা গেছে, বেগম রোকেয়া হল ভোটকেন্দ্র থেকে তিনটি ব্যালটবাক্স সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করেছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।

এ ছাড়া ট্রাংকভর্তি ব্যালট উদ্ধারের পর রোকেয়া হলে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

এ ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে সেখানে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এসএম মাহফুজুর রহমান আসেন। তিনি কেন্দ্রের অন্যান্য শিক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় তিনি তোপের মুখে পড়েন।

সোমবার সকালে ভোট শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আসতে শুরু করে।

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল থেকে বস্তাভর্তি সিল মারা ছাত্রলীগ প্যানেলের ব্যালট উদ্ধার করা হয়।

পরে শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের প্রতিবাদের মুখে প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।

এ ছাড়া ভোট জালিয়াতির অভিযোগে শিক্ষার্থীরা প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ ও প্রক্টর ড. একেএম গোলাম রাব্বানী ও হল প্রভোস্ট শবনম জাহানকে অবরোধ করে রাখেন।

এ সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা প্রোভিসির প্রাইভেটকারটি জালভোটের ব্যালট দিয়ে ঢেকে দেন। ভোট জালিয়াতিকে তারা লজ্জার ভোট বলে স্লোগান দেন।

এ ঘটনায় হল কুয়েত মৈত্রী হলের প্রভোস্ট শবনম জাহানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ডাকসু নির্বাচনের ভোট শুরুর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে ব্যালটবাক্স না দেখানোর প্রতিবাদে ভোট প্রদান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ডাকসু ভোট বর্জনের ঘোষণা ছাত্রদলেরও, মঙ্গলবার ধর্মঘটের ডাক


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। প্রহসনের ভোটের আয়োজন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের প্রতি ‘ঘৃণা’ জানিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি নতুন করে তফসিল ঘোষণা করে পুনঃভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার দুপুর ১টায় মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে একসঙ্গে ৫টি প্যানেল নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে তারা ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়ে আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বর্জনের ডাক দিয়েছে।

ছাত্রদল ছাড়াও ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়া ৪টি প্যানেল হচ্ছে- বাম সংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্রঐক্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোট।

ভিডিওঃ ‘ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেলের ভোট চুরির পাতানো ডাকসু নির্বাচন বর্জন(ভিডিও সহ) ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]
সংবাদ সম্মেলন করে প্রগতিশীল বামজোট, ছাত্র ফেডারেশন ও কোটা আন্দোলনসহ বিভিন্ন পদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোট প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন বামজোটের সহসভাপতি প্রার্থী লিটন নন্দী। এ সময় অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রদলের প্রতিনিধিরাও এ সময় মধুর ক্যান্টিনে উপস্থিত থেকে সমর্থন দেন।

পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ছাত্রদল নেতারা ভিসির ভবনে যান। সেখানে তাকে না পেয়ে ভিসির বাংলোর সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।

এ সময় ছাত্রদল নেতারা বলেন, আমরা এই প্রহসন ও জালিয়াতির নির্বাচন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। পাশাপাশি পুনঃতফসিল ঘোষণাপূর্বক নতুন নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। নির্বাচনের নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন, একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন এবং স্বচ্ছ ব্যালটবাক্সে ভোটগ্রহণ করতে হবে।

প্রসঙ্গত ২৮ বছর পর অনুষ্ঠেয় ডাকসু নির্বাচন শুরু হয় সকাল ৮টায়। বেলা ২টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এতে ৪৩ হাজার ২৫৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মোট ভোটারের মধ্যে ছাত্র ২৬ হাজার ৯৪৪ এবং ছাত্রী ১৬ হাজার ৩১২ জন।

ডাকসুতে ২৫ পদে নির্বাচন হচ্ছে। বিভিন্ন পদের মধ্যে আছে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে ৩টি। আরও আছে- সম্পাদকীয় ৯টি এবং ১৩টি সদস্যপদ। এসব পদের জন্য বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্রসহ প্রার্থী ২২৯ জন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্রসহ ভিপি ২১, জিএস ১৪ জন।

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ১৩টি প্যানেল। অন্যদিকে প্রত্যেক হল সংসদে ১৩টি পদে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে তিনটি। আরও আছে সম্পাদকীয় ৬, সদস্য ৪টি। হল সংসদ (১৮টি হল, ২৩৪ পদে) প্রার্থী ৫০৯ জন। হল সংসদ ও ডাকসু মিলিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গড়ে ৩৮টি করে ভোট দিতে হয়। সুষ্ঠুভাবে ভোটের কাজ শেষ করতে রিটার্নিং অফিসারসহ (আরও) ৪২ জন কাজ করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ডাকসু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা ৪ প্যানেলের, পুনঃভোট দাবি


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ‘ব্যাপক অনিয়মের’ অভিযোগ তুলে ভোট দেননি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান।

বেলা পৌনে ১২টার দিকে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি প্রহসনের নির্বাচন হচ্ছে। গোটা নির্বাচন ক্ষমতাসীন দলের সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে। ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে জালভোট, রাতেই ভোটদান, হামলা যা করা দরকার সবই তারা করছেন। এ কারণে এর প্রতিবাদে এখনও ভোট দেয়া থেকে বিরত থেকেছি। অন্যান্য হল পরিদর্শন করে ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নেব।

ছাত্রদল ভোট বর্জন করবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দুপুরের মধ্যে সব হলের প্রার্থীদের নিয়ে বসে আমরা সিদ্ধান্ত নেব ভোট বর্জন করব কিনা।

ছাত্রদলের এ প্রার্থীর অভিযোগ, সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রদলের প্রার্থী ও ভোটারদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। শুনেছি রাতেই সুফিয়া হলে ব্যালটভর্তি করে রাখা হয়েছে। সেই অভিযোগ পেয়ে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম।

সূর্যসেন হলের অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর মাকসুদ কামাল নিজে ছাত্রদলের প্রার্থীদের বের করে দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে যেসব অনিয়মের কথা শুনতে পাচ্ছি, তাতে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত ভোট না দেয়ার।

প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে এ ছাত্রনেতা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি পবিত্র জায়গায় শিক্ষকরা বিবেকহীনভাবে নির্লজ্জের মতো সরকারের নির্দেশে ছাত্রলীগের হয়ে কাজ করছেন। কুয়েত মৈত্রী হলে উদ্ধার হওয়া বস্তাভর্তি জালভোট তার প্রমাণ।

এর আগে সকালে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়ার অভিযোগ করেন মোস্তাফিজুর। এফ রহমান হল ও হাজী মোহাম্মদ মুহসীন হলের ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ দেখে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে। হলের ফটকে ছাত্রলীগের কর্মী-সমর্থকরা অবস্থান নিয়ে আছে। ছাত্রদলের প্রার্থীদের কেন্দ্রে ঢুকতে দিচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল- ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ গেটের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে। কিন্তু পরিস্থিতি ঠিক তার উল্টো। আমরা দেখছি গোটা নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে।

ভোটকেন্দ্রে কৃত্রিম লাইন তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে ছাত্রদলের এ ভিপি প্রার্থী বলেন, ভোটকেন্দ্রে কৃত্রিম একটি লাইন তৈরি করে রাখা হয়েছে। লাইনে যারা দাঁড়িয়েছেন তারা সাধারণ ভোটারদের প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না।

প্রসঙ্গত ২৮ বছর পর অনুষ্ঠেয় ডাকসু নির্বাচন শুরু হয়েছে সকাল ৮টায়। বেলা ২টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। এতে ৪৩ হাজার ২৫৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। মোট ভোটারের মধ্যে ছাত্র ২৬ হাজার ৯৪৪ এবং ছাত্রী ১৬ হাজার ৩১২ জন।

ডাকসুতে ২৫ পদে নির্বাচন হচ্ছে। বিভিন্ন পদের মধ্যে আছে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে ৩টি। আরও আছে- সম্পাদকীয় ৯টি এবং ১৩টি সদস্যপদ। এসব পদের জন্য বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্রসহ প্রার্থী ২২৯ জন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্রসহ ভিপি ২১, জিএস ১৪ জন।

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ১৩টি প্যানেল। অন্যদিকে প্রত্যেক হল সংসদে ১৩টি পদে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে তিনটি। আরও আছে সম্পাদকীয় ৬, সদস্য ৪টি। হল সংসদ (১৮টি হল, ২৩৪ পদে) প্রার্থী ৫০৯ জন। হল সংসদ ও ডাকসু মিলিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গড়ে ৩৮টি করে ভোট দিতে হবে। সুষ্ঠুভাবে ভোটের কাজ শেষ করতে রিটার্নিং অফিসারসহ (আরও) ৪২ জন কাজ করছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ডাকসু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা ৪ প্যানেলের, পুনঃভোট দাবি


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে চার প্যানেল। প্রহসনের ভোটের আয়োজন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের প্রতি ‘ঘৃণা’ জানিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে তারা। পাশাপাশি নতুন করে তফসিল ঘোষণা করে পুনঃভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার দুপুর ১টায় মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে তারা আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বর্জনের ডাক দিয়েছে।

ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়া চারটি প্যানেল হচ্ছে- বাম সংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোট।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রহসন-জালিয়াতির এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে হবে। হলে নয়, নতুনভাবে ভোট হতে হবে একাডেমিক ভবনে। সেই নির্বাচনে ব্যালটবাক্স হতে হবে স্বচ্ছ।

এ ছাড়া এই ভোট জালিয়াতির প্রতিবাদে আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বর্জন কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছে জোটগুলোর পক্ষ থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাম সংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী লিটন নন্দী। তিনি বিভিন্ন হলে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরেন। কুয়েত মৈত্রী হলে জালভোট মারা ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় নিন্দা জানান।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের প্রার্থী-কর্মীদের ধাওয়া দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় ছাত্রলীগকে অভিযুক্ত করছেন ঐক্যের নেতারা।

প্রসঙ্গত ২৮ বছর পর অনুষ্ঠেয় ডাকসু নির্বাচন শুরু হয়েছে সকাল ৮টায়। বেলা ২টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। এতে ৪৩ হাজার ২৫৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। মোট ভোটারের মধ্যে ছাত্র ২৬ হাজার ৯৪৪ এবং ছাত্রী ১৬ হাজার ৩১২ জন।

ডাকসুতে ২৫ পদে নির্বাচন হচ্ছে। বিভিন্ন পদের মধ্যে আছে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে ৩টি। আরও আছে- সম্পাদকীয় ৯টি এবং ১৩টি সদস্যপদ। এসব পদের জন্য বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্রসহ প্রার্থী ২২৯ জন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্রসহ ভিপি ২১, জিএস ১৪ জন।

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ১৩টি প্যানেল। অন্যদিকে প্রত্যেক হল সংসদে ১৩টি পদে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে তিনটি। আরও আছে সম্পাদকীয় ৬, সদস্য ৪টি। হল সংসদ (১৮টি হল, ২৩৪ পদে) প্রার্থী ৫০৯ জন। হল সংসদ ও ডাকসু মিলিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গড়ে ৩৮টি করে ভোট দিতে হবে। সুষ্ঠুভাবে ভোটের কাজ শেষ করতে রিটার্নিং অফিসারসহ (আরও) ৪২ জন কাজ করছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘পাকিস্তান আমলেও ডাকসু এমন কলঙ্কিত হয়নি’


বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, ‘পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খানের সরকারের সময়েও ডাকসু নির্বাচনে এমন কলঙ্ক হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আজ ডাকসু নির্বাচনে যা হলো তা গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছে।’

সোমবার অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচন বিষয়ে এভাবে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন স্বাধীনতার পর প্রথম ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি)।

আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই বাক্সভর্তি ভোট দেয়া ব্যালট পেপার পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শবনম জাহানকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘এই ঘটনা গোটা জাতির জন্য বড় লজ্জার। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান গোটা দেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পারেনি।’

দীর্ঘ ২৮ বছর অপেক্ষার পর ডাকসু নির্বাচনও অন্যান্য নির্বাচনের মতো কলঙ্কিত হলো বলে জানান তিনি।

তিনি যোগ করেন, ‘এটাই বর্তমান সরকারের নির্বাচনী সংস্কৃতি। নির্বাচনের নামে জালিয়াতি করার সংস্কৃতি রুখে দেয়ার সময় এসেছে এখন।’

এদিকে জাতীয় নির্বাচনের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকেও কলঙ্কিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি।

সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ মন্তব্য করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here