ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তিন কর্মকর্তা ‘ঘুষ’ নিয়ে মক্কা থেকেই লাইসেন্স বাতিলের নথি গায়েব!

0
93

গত বছর হজ মৌসুমে মক্কায় হাজিদের জন্য ভাড়া করা একটি বাড়ি পরিদর্শনে যান হজ প্রশাসনিক দলের সদস্য শাহ মো. কামরুল হুদা। বাড়ি কাক্সিক্ষতমানের না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ‘মিম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’র লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে তিনি প্রতিবেদন দেন। কিন্তু প্রতিবেদনটি মক্কা থেকে গায়েব করে দেয়া হয়।

এজেন্সি মালিকের কাছ থেকে এক হাজার সৌদি রিয়াল ‘ঘুষ’ নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিবেদনটি গায়েব করেছেন বলে দেশে ফিরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন ওই কর্মকর্তা। বিষয়টি তদন্ত করতে মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম-সচিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চলছে তোলপাড়। যুগান্তরের অনুসন্ধানে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। একজন যুগ্ম-সচিবকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এখনও প্রতিবেদন পাইনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সর্বোচ্চ সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হজযাত্রী সংগ্রহ করলেও কিছু এজেন্সি মক্কা-মদিনায় হাজিদের রাখেন নিুমানের বাড়িতে। হেরেম শরিফের কাছে রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কয়েক কিলোমিটার দূরে অধিকাংশ হাজিদের রাখা হয়। কখনও পাহাড়ের ওপর সস্তা বাড়িতে রাখা হয়। নিুমানের খাবার দেয়া হয়। খাবার না দেয়ার নজিরও রয়েছে ভুরিভুরি।

এ ধরনের এজেন্সির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেও তেমন প্রতিকার মেলে না। এমনকি হজ প্রশাসনিক দলের প্রতিনিধিদের সরেজমিন পরিদর্শন প্রতিবেদনও চলে যায় হিমাগারে। কারণ সংশ্লিষ্ট এজেন্সি মালিকের যোগসাজশে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে গড়ে তোলা সিন্ডিকেট অধিকাংশ অভিযোগই গায়েব করে দেয়। চক্রটি হজকে কেন্দ্র করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। অসাধু এজেন্সি মালিকদের সঙ্গে মিলেমিশে তারা হজ ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছর হজ মৌসুমে মক্কায় হাজিদের জন্য ভাড়া করা একটি বাড়ি পরিদর্শনে যান হজ প্রশাসনিক দলের সদস্য শাহ মো. কামরুল হুদা। মিম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের (হজ লাইসেন্স-১০২৮) অধীনে যাওয়া হাজিদের জন্য ভাড়া করা বাড়ি কাক্সিক্ষতমানের না হওয়া এবং নানা অভিযোগ থাকায় ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমানের একান্ত সচিব (পিএস) কামরুল হুদা ওই এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেন। সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে মক্কা থেকে প্রতিবেদনটি গায়েব হয়ে যায়।

জানা গেছে, এ ঘটনায় ধর্ম সচিবের পিএসকে ‘ম্যানেজ’ করার কথা বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ডেসপাস রাইডার মো. আমিন রসুল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কাশেম ভূঁইয়া মিম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিক আবদুল হামিদ বিশ্বাসের কাছ থেকে এক হাজার রিয়াল (বাংলাদেশি টাকায় কমবেশি ২৩ হাজার টাকা) নেন। তাদের সহায়তা করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী জুলমাতি। এ প্রতিবেদন গায়েবের সঙ্গে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।

মক্কার বিভিন্ন দাফতরিক প্রতিবেদনসহ দলিল-দস্তাবেজ দাফতরিকভাবে কাউন্সিলর (হজ) কর্তৃক তদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হলেও রহস্যজনকভাবে প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়নি। অথচ এর আগে ও পরে প্রতিবেদন ঠিকই পাঠানো হয়েছে। আর এসব প্রতিবেদন নথিভুক্ত করে ঢাকায় পাঠানোর দায়িত্বে ছিলেন ইয়াকুব জুলমাতি।

এর আগে মক্কায় থাকাকালে ওই প্রতিবেদন না পেয়ে তা খুঁজে বের করতে একাধিকবার তাগিদ দেন হজ প্রশাসনিক দলের সদস্য শাহ মো. কামরুল হুদা। কিন্তু এতে কোনো ফল হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ইয়াকুব ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত না করে মিম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। মূলত তিনিই প্রতিবেদন গায়েব করে টাকা গ্রহণকারী দু’জনকে টাকার বিনিময়ে হজ লাইসেন্স বাঁচিয়ে দেয়ার কাজে সহায়তা করেছেন। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা প্রতি বছরই ঘটে হজ মৌসুমে সৌদি আরবে।

তাদের মতে, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মচারী এখনও হজকে কেন্দ্র করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছু একাধিক এজেন্সি মালিক যুগান্তরের কাছে স্বীকার করেছেন, ঢাকায় অভিযোগ এলে তদন্ত হয়। সংবাদপত্রে খবরও হয়। অভিযুক্তদের লাইসেন্স বাতিল, কালো তালিকাভুক্ত, জামানত বাজেয়াফতসহ কয়েক কোটি টাকা জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়। সৌদি আরবে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী হজ প্রশাসনিক দল, চিকিৎসক দল, সহায়ক দল, টেকনিক্যাল দলসহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি হয়ে যান তারাই অভিযোগ গ্রহণ ও পরিদর্শন দলে থাকেন। তাদের কোনোভাবে ‘ম্যানেজ’ করতে পারলে কোনো ঝুঁকি থাকে না। অল্পতেই টেনশনমুক্ত থাকা যায়।

‘আপনারাই হজে অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের উৎসাহী করছেন’- এমন অভিযোগের জবাবে তারা দাবি করেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত তারা সৌদি আরবেই অভিযোগের সুরাহা করার পরামর্শ দেন। বিনিময়ে তাদের খুশি করতে হয়। বরং এ অনিয়ম ও দুর্নীতির পথ এজেন্সি মালিকদের তারাই শেখান।

যা বললেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা : বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার। যিনি অভিযুক্ত আবুল কাশেম ভূঁইয়ার সরাসরি ডেস্ক অফিসার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিবেদন দেয়ার আগে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

তবে অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কাশেম ভূঁইয়া। যুগান্তরকে তিনি বলেন, আমি কোনো টাকা-পয়সা নিইনি। মিম ট্যুরসের মালিক আবদুল হামিদ বিশ্বাস তার এজেন্সির কয়েকজন অসুস্থ হাজির বিষয়ে সহায়তা চাইলে ডেসপাস রাইডার গোলাম রসুলকে সাহায্য করতে বলি। মিম ট্যুরসের মালিক খুশি হয়ে গোলাম রসুলকে এক হাজার রিয়াল দিয়েছেন বলে শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। আশা করি তদন্তে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে।

অভিযুক্ত অপর দু’জন গোলাম রসুল ও ইয়াকুব আলী জুলমাতি এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গোলাম রসুলকে এক হাজার রিয়াল দেয়ার কথা স্বীকার করে মিম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিক আবদুল হামিদ বিশ্বাস বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো অভিযোগ করিনি। আমার এজেন্সির বিরুদ্ধে কোনো হাজিও অভিযোগ করেননি। লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ কেন করা হল তাও আমার জানা নেই। বরং আমার এজেন্সির সেবার মান ভালো হওয়ায় ‘গুড এওয়ার্ড’ দেয়া হয়েছে। হতে পারে এটা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে থাকা গ্রুপিংয়ের ফল।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ওমরাহ যাত্রীর টিকিট নিয়ে কেলেঙ্কারি


ওমরাহযাত্রীর টিকিট সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে। এয়ারলাইনগুলো প্রতি ওমরাহ টিকিটে ৩ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা দাম বাড়িয়েছে। ওমরাহ টিকিট সঙ্কটের সুযোগে কোনো কোনো এয়ারলাইন্স টিকিট প্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে ওমরাহযাত্রীদের দুভোঁগ দিন দিন বাড়ছে। ওমরাহ এজেন্সীগুলো ওমরাহযাত্রীদের টিকিট বুকিংয়ে গলদঘর্ম হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে এ যাবত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৫ হাজার ওমরাহযাত্রী সউদী আরবে গেছেন। আর পাকিস্তান থেকে ওমরাহ পালন করতে সউদী আরবে গেছেন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী। বিগত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ থেকে কম সংখ্যক ওমরাহযাত্রী সউদী আরবে গিয়েছিলেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-জেদ্দা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে আগামী ২৮ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত কোনো ওমরাহ টিকিট নেই বলে জানা গেছে। বিমান গত ১ ফেব্রæয়ারী থেকে ওমরাহ টিকিট প্রতি ৩ হাজার টাকা বাড়িয়েছে। বিমানের ঢাকা-জেদ্দা-মদিনা-ঢাকা রুটে কোনো ফ্লাইট নেই। বিমান শুধু ঢাকা-জেদ্দা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে ওমরাহযাত্রী পরিবহন করছে। বিমানের ওমরাহ টিকিট নেই বলেও প্রচার করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে বিমানের ওমরাহ টিকিট ৫৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

সাউদিয়া অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স গত ১ ফেব্রæয়ারি থেকে ওমরাহযাত্রীদের টিকিটের দাম বিনা কারণে ৩ হাজার টাকা করে বাড়িয়েছে। জানুয়ারি মাসেও সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ওমরাহ টিকিট ৫২ হাজার টাকা থেকে ৫৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সাউদিয়া এয়ারলাইন্স গত ১ ফেব্রæয়ারি থেকে ওমরাহযাত্রীর টিকিট ৫৭ হাজার টাকায় বিক্রি করছে। গত জানুয়ারি মাসেও এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ওমরাহ টিকিট ৪৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত ১ ফেব্রæয়ারি থেকে এমিরেটস এয়ালাইন্স ওমরাহ টিকিট ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করছে।

গালফ এয়ারলাইন্সের ওমরাহ টিকিটও ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বর্ষা ওভারসীজের স্বত্বাধিকারী মো. বোরহানুল ইসলাম জানান, গালফ এয়ারলাইন্স ঢাকা-জেদ্দা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে ওমরাহযাত্রীর টিকিট ৪২ হাজার টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৫২ হাজার টাকায় বিক্রি করছে।

কী কারণে ওমরাহ টিকিট ১০ হাজার টাকা করে বাড়তি নেয়া হচ্ছে তার সঠিক উত্তর গালফ এয়ারলাইন্স দিতে পারেনি বলেও বোরহানুল ইসলাম উল্লেখ করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওমরাহযাত্রীরা প্রতি টিকিটে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হচ্ছে না। তার পরেও কোনো উপায় না দেখে ৩৩ জন ওমরাহযাত্রীর জনপ্রতি অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে ৫২ হাজার টাকা করে ক্রয় করতে বাধ্য হয়েছেন। উল্লেখিত ৩৩ জন ওমরাহযাত্রী আগামী ১০ ফেব্রæয়ারি জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। তাদের ওমরাহ পালন শেষে আগামী ২৩ ফেব্রæয়ারি দেশে ফেরার কথা রয়েছে। আবাবিল হজ গ্রæপের চেয়ারম্যান মুফতী মো. আবু ইউসুফ বলেন, ওমরাহযাত্রীদের টিকিট সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ওমরাহ টিকিটের সঙ্কট সৃষ্টি করে টিকিট প্রতি ১০ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। ওমরাহ টিকিটের জন্য এয়ারলাইনগুলোয় ধরনা দিয়ে এজেন্সী মালিকরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তিনি ওমরাহ টিকিট সঙ্কট দ্রæত নিরসনের লক্ষ্যে বিমানের ঢাকা-জেদ্দা-মদিনা-ঢাকা রুটে বিমানের ওমরাহ ফ্লাইট চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিমানের ঢাকা-জেদ্দা-মদিনা-ঢাকা রুটে ওমরাহ ফ্লাইট চালু না করায় বিমান প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মুফতী আবু ইউসুফ উল্লেখ করেন।

রাজশাহী ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী মুফতী মুস্তাফিজুর রহমান ওমরাহ টিকিট সঙ্কট প্রসঙ্গে বলেন, ওমরাযাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এয়ারলাইনগুলো ওমরাহ টিকিটের দাম দেদারসে বাড়াচ্ছে। এতে ওমরাহযাত্রীদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তিনি ওমরাহ টিকিট সঙ্কট নিরসন এবং টিকিটের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে দ্রæত কার্যকরি উদ্যোগ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ঢাকা উত্তর সিটির ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা শামীম আহমেদের ভয়ংকর শাসন।


ঢাকা উত্তর সিটির ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ মাতবর। একই সঙ্গে তিনি ক্যান্টনমেন্ট থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিরও সাধারণ সম্পাদক। এই দুই পদের প্রভাব খাটিয়ে মানিকদী এলাকায় ‘ভয়ংকর শাসন কায়েম’ করেছেন তিনি।

শামীমের বিরুদ্ধে এলাকায় বাড়ি দখলের চেষ্টা, জমি দখল, চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেই ‘আদালত’ বসিয়ে বিচারকাজ করছেন। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। যারাই তাঁর ‘আদালতের’ বিচার মানছে না, তাদের ওপর নেমে আসছে নানা ধরনের হয়রানির খড়্গ। বিএনপির নেতা বানিয়ে একাধিক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে এলাকাছাড়া করেছেন বেশ কয়েকজনকে।

সম্প্রতি কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে আওয়ামী লীগ নেতা শামীম মাতবরের এমন ত্রাস সৃষ্টির তথ্য পাওয়া গেছে। শামীম নিজেই ‘আদালত’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মানিকদীতে ৬২৫ নম্বরের বাড়িটির মালিক মৃত মোতাহার হোসেন। ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন জোয়ার সাহারা মৌজার আরএস ৬ নম্বর দাগে প্রায় ৫ শতাংশ জমির ওপর তিনতলা ভবন। মোতাহার হোসেনের মৃত্যুর পর ১৯৯৭ সালে তাঁর মেজ ছেলে মাকসুদ হোসেন টিপু বাড়িটি নির্মাণ করে মা ও ভাইবোনদের নিয়ে ২২ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। মোতাহার হোসেনের স্ত্রী রহিমা খানম জীবিত থাকতেই ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে বণ্টননামা করে সন্তানদের মধ্যে জমিজমা সম্পত্তি ভাগ করে দিয়ে যান। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর এই বণ্টননামা মানতে চাচ্ছেন না বড় ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন বিপু। ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে করা হয় একটি বণ্টননামা, সেটাও মানছেন না বিপু।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা শামীম আহমেদ মাতবরের সঙ্গে আঁতাত করে অন্য ভাই-বোনদের উচ্ছেদ করে পুরো বাড়িটি দখলে নিতে চান লন্ডনপ্রবাসী মোয়াজ্জেম হোসেন বিপু। তিনি বাংলাদেশে এসে এ বিষয়ে শামীম মাতবরের কাছে যান। শামীম মানিকদী বাজার এলাকায় তাঁর কার্যালয়ে পরিবারটির অন্যদের ডাকলেও তাঁরা যাননি। এরপর গত সেপ্টেম্বরে শামীম কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির প্যাডে একটি বণ্টননামা তৈরি করে দেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শামীম মাতবরের রোষানলে পড়ে মাকসুদ হোসেন টিপু প্রায় তিন মাস ধরে এলাকাছাড়া। টিপুর ভাই বিপুর কাছ থেকে কম দামে বাড়িটি কিনে নিতেই টিপুকে মামলায় জড়িয়ে এলাকাছাড়া করেছেন।

কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাকসুদ হোসেন টিপু এলাকার কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। কখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ছিলেনও না। কিন্তু ওয়ার্ড বিএনপির কোষাধ্যক্ষ বানিয়ে তিনটি মামলায় আসামি করা হয়েছে তাঁকে। এর পেছনে ইন্ধন রয়েছে শামীম মাতবরের।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে মাকসুদ হোসেন টিপুকেও আসামি করা হয়েছে (৬১ নম্বর)। কিন্তু মামলার এজাহারে তাঁর নাম ছিল না। অভিযোগপত্রেও মাকসুদকে ওয়ার্ড বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টিপু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন।

কমিউনিটি পুলিশিং সার্ভিসেসের প্যাডে বণ্টননামা দলিল প্রসঙ্গে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে মাকসুদ হোসেন টিপু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বড় ভাই বিপুর পক্ষ নিয়ে অন্যায়ভাবে শামীম মাতবর ও তাঁর লোকজন বাড়িটি দখল নিতে চায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ যেখানে জমির মালিকানা নিয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, এটার কোনো বিধান নেই। সেখানে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সেক্রেটারি হয়ে তাদের প্যাডেই বণ্টননামা দলিল করায় আমরা বিস্মিত এবং হতবাক।’

পরিবারের বড় বোন লুৎফুন নাহার বেলা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ভাই বিপু খুব বেশি অন্যায় করছেন, পুলিশ যেখানে জমি নিয়ে কথা বলে না, সেখানে কমিউনিটি পুলিশের লোকজন দলিলও করে দেয়, এটা কিভাবে সম্ভব?’

স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উদ্দিন আহমদ ও বেলাল উদ্দিন বলছিলেন, দলীয় পদের সঙ্গে শামীম এখন কমিউনিটি পুলিশিংয়েরও নেতা। এ পদের প্রভাব খাটিয়ে নিজেই আদালত বসিয়ে বিচার করছেন। ভয়ে এ ব্যাপারে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চায় না।

শামীমের এক চাচাতো ভাই নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়ে মানুষকে তাঁর কার্যালয়ে নোটিশ করে ডেকে বিচার-সালিস করছেন। কেউ তাঁর অন্যায় বিচার না মানলে নির্যাতন এবং হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।’

পূর্ব মানিকদী কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির প্যাডে জমির বণ্টননামা দলিল তাঁরা কিভাবে করলেন, সেটা তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। বিষয়টি নিয়ে আমি থানায়ও গিয়েছিলাম; কিন্তু তারাও এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘শামীম মাতবর ক্ষমতার জোরেই এটা করেছেন। বিপুর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পুলিশিং কমিটির ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন তিনি।’

ক্যান্টনমেন্ট থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি সামসুল হক খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি আসলে জানতাম এটা করা যায় না। তবে ইচ্ছা করলে সেটা তারা না মানলেও হবে কিংবা ছিঁড়ে ফেলে দিতেও পারবে। আর টিপু আমার কাছে এলে আমি সমাধান করে দেব।’

এ ব্যাপারে শামীম মাতবর বলেন, ‘বণ্টননামা নিয়ে বিপুরা আমার কাছে এসেছিল। তাই করে দিয়েছি।’ টিপুকে বিএনপির নেতা বানানো বিষয়ে বলেন, ‘তারা তো নিজেরা নিজেরা কমিটি করে।’ টিপুকে বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে দেখেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাঁরা তো প্রকাশ্যে কর্মসূচিতে থাকে না।’

বিধবা ও প্রবাসীর জমি দখল

শামীম মাতবরের অপকর্মের বিষয়ে অনুসন্ধানকালে মানিকদী বাজার, পূর্ব মানিকদী ও পশ্চিম মানিকদী ঘুরে পাওয়া গেছে বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য। এর মধ্যে একজন বিধবার জমি দখল অন্যতম। শামীম মাতবরের দখলবাজির শিকার ঢাকা উত্তরের ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি বাজার এলাকার মৃত মো. হানিফ মিয়ার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম আঙ্গুর।

জানা গেছে, আনোয়ারার স্বামীর কেনা তিন শতাংশ নিচু জমি জোরপূর্বক বালু ভরাট করে দখলে নিয়েছেন শামীম। সেখানে ছাপরা তুলে নিজের নামে সাইনবোর্ডও টানিয়ে দিয়েছেন। একপ্রকার বাধ্য হয়ে প্রায় কোটি টাকার জমিটি বিক্রি করার জন্য বারবার ক্রেতা আনলেও শামীম মাতবর ও তাঁর লোকজন ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এই বিধবাকে।

আনোয়ারা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার স্বামী নেভিতে সার্জেন্ট হিসেবে চাকরি করতেন। স্বামী জীবিত থাকতেই ডোবা জায়গায় তিন শতাংশ জমি কেনেন। সেই জমিটি সাত-আট বছর আগে শামীম মাতবর ও তার লোকজন বালু দিয়ে ভরাট করে এবং বিনিময়ে ৭০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ঘর তুলে নিজের নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়।’ তিনি বলছিলেন, মেয়েকে দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও টাকার জন্য পারছেন না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আনোয়ারা বলেন, ‘আমার মতো একজন বিধবার জমিটি দখলে রাখছে শামীম। জমিটি বিক্রির জন্য অনেক চেষ্টা করছি, কিন্তু শামীমের জন্য বিক্রি করতে পারছি না।’

লোকমান খান ২৫ বছর ছিলেন সৌদি আরবে। প্রবাসে থেকে কষ্টের টাকায় দুই কাঠা জমি কিনেছিলেন পশ্চিম মানিকদি এলাকায়। সেখানে নিচু জমি ভরাট করে বাড়ি বানানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। তিন বছর আগে শামীম মাতবর ও তাঁর ক্যাডার বাহিনী এসে বাড়ি তৈরির কাজ বন্ধ করে দেয়। জমিটি নিজের দাবি করে আধাকাঠা জোর করে দখলে নিয়ে যান শামীম। শুধু তা-ই নয়, লোকমান খানের বাড়ি করার জন্য কেনা ইট-বালু-সিমেন্ট দিয়েই দেয়াল তুলে প্রায় ২৫ লাখ মূল্যের জমি দখল করেন।

জানতে চাইলে লোকমান খানের চোখে-মুখে আতঙ্ক ভর করে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ভাই সেই জমি দখলের কথা আর কী বলব? শুধু আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রাখছি। আমার অনেক পরিশ্রমের টাকায় কেনা জমি দখলে নিয়েছে। আমি আর বেশি কিছু বলতে পারব না। একই এলাকার আরো অনেকের জমি দখলে নিয়েছে কিংবা জমির পরিবর্তে টাকা নিয়েছে শামীম সিন্ডিকেটের লোকজন।’

বিধবার জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে শামীম মাতবর কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে লোকমানের জমি দখল করে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সেটা তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির অংশ। সে কারণে দখলে নিয়েছেন তিনি।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা দখল করে চাঁদাবাজি

মানিকদি বাজারের মানিক ফার্মেসির মালিক ও পল্লী চিকিৎসক সিদ্দিকুর রহমানের বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা নিজের জমি দাবি করে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে শামীম মাতবর ও তাঁর লোকজন। শেষ পর্যন্ত নিরীহ সিদ্দিকুর রহমান ধারদেনা করে পাঁচ লাখ টাকা শামীমকে দিয়ে রাস্তায় চলাচলের সুযোগ পান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘টাকা দিয়েছি রাস্তার জন্য, সেই বিষয়ে এখন কিছু বলে বিপদে পড়তে চাই না।’

এ বিষয়ে শামীম বলেন, ‘আমাদের জমিতে রাস্তা করেছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। সে জন্য টাকা নিয়েছি।’

মানিকদি বাজারের ষাটোর্ধ্ব সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকায় ঘুরলে শামীম মাতবরের অনেক দখলবাজি আর চাঁদাবাজির ঘটনা পাবেন, তবে কেউ মুখ খুলতে চায় না।’

এলাকাবাসী বলছে, শামীম মাতবরের বাবা মমতাজ মাতবর ছিলেন খুবই ভালো মনের মানুষ। উনি মানুষের বিপদ-আপদে এগিয়ে যেতেন। অথচ তাঁর ছেলে হয়ে শামীম এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন। আওয়ামী লীগের সুনাম নষ্ট হচ্ছে এই শামীমদের কারণে। দলের ওপর মহলের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।

মামলায় আসামি করে হয়রানি

শুধু মাকসুদ হোসেন টিপুই নন, মানিকদি বাজারের সিঙ্গার শোরুমের ম্যানেজার ও স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমানও শামীম মাতবরের রোষানলের শিকার হয়ে মিথ্যা নাশকতা মামলার আসামি হয়েছেন। একইভাবে এলাকার ২০ জনের বেশি নিরীহ বাসিন্দাকে মামলায় জড়িয়ে দিয়েছেন। আরো কয়েকজনের কাছ থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে আদায় করছেন টাকা।

উৎসঃ ‌কালের কণ্ঠ

আরও পড়ুনঃ ‘যে দেশে দুধের চেয়ে গোমূত্রের দাম বেশি, সে দেশ থেকে বাংলাদেশ কী শিখবে?’


বাংলাদেশের ১৮শ’ কর্মকর্তার ভারতে প্রশিক্ষণের বিষয়ে সমালোচনা করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, দেশের ১৮০০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভারতে ট্রেনিং নেবেন। কী নেবেন? যে দেশে দুধের চেয়ে গোমূত্রের দাম বেশি, সে দেশ থেকে বাংলাদেশ কী শিখবে?

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, তারা তো আমার দেশের গণতন্ত্র মুক্তির কথা বলে না। আসলে দেশের গণতন্ত্রকে আমাদেরই ফিরিয়ে আনতে হবে। আর তা করতে হলে ভারতের যে চক্রান্ত, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আর এটা কোনও সহজ কাজ নয়।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের আয়োজনে ‘খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির’ দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, জিনাফ সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, শাহবাগ থানা কৃষকদলের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এ সময় ডা. জাফরুল্লাহ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আলাপ করতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি আর একটা সংলাপ ডাকেন। পরিষ্কার করে বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে কোনও প্রতিবন্ধকতা করবেন না। পরিষ্কার করে বলে দেন, এদিকে কোনও নাক গলাবেন না। বিচারকে বিচারের মতো চলতে দেন। তারপর দেখি খালেদা জিয়ার মুক্তি হয় কিনা।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশাসনকে দিয়ে যেভাবে ভোট ডাকাতি করিয়েছেন, কিছু দিন পরে যখন ডিসি বনাম এসপি লেগে যাবে, তখন সামলাবেন কেমনে? তাই বলছি দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিন, সুষ্ঠু নির্বাচন দিন।

প্রসঙ্গত, গতকাল শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের পঞ্চম যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের মধ্যম লেভেলের ১ হাজার ৮০০ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেবে ভারত। এ ব্যাপারে দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বেড়েছে ছয়গুণ


এ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে জানুয়ারি মাসে দেশে মোট ৬৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ধর্ষণ ৪৮টি ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৯টি। গত বছরের একই সময়ে দেশে ১৯টি ধর্ষণ ও তিনটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ ২০১৮ সালের জানুয়ারির তুলনায় এ বছরের জানুয়ারিতে দেশে ধর্ষণের ঘটনা তিনগুণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ছয়গুণ বেড়েছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় উঠে আসা এই পরিসংখ্যানের বিষয়ে নারী নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। তাদের ভাষ্য, ধর্ষণ মামলা তদন্তে বা ভিকটিমের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হচ্ছে কিনা, তা মনিটরিং থাকতে হবে। কেননা, বিচার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল না হওয়ায় পাওয়ার ম্যানুপুলেশনের সুযোগ থাকে।

বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৬৭টি। ২০১৮ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২২টি। ২০১৯ সালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ১৯ জন, এ সংখ্যা ২০১৮ সালের একই সময়ে ছিল তিনটি।

তিনটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উপাত্ত নিয়ে এ গবেষণা করে বাংলা ট্রিবিউন। গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছরের শুরুতেই বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ বছর ছাত্রী ও গৃহবধূরা ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বেশি। কর্মজীবী নারীদের মধ্যে পোশাক শ্রমিকরা বেশি ধর্ষণের শিকার হন। এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীরাও।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ধর্ষণের খবর পাওয়া যায় ১৬টি জেলা থেকে, ২০১৯ সালের একই সময়ে ৩৫টি জেলা এ ধরনের সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার তুলনামূলক চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৩১ জন শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয় ২১ জন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় তিন জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭ জনকে। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সাতটি শিশু এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়, এর মধ্যে দু’টি শিশুকে হত্যা করা হয়।

নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর মনে করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা কমছে না। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে যে ধর্ষণের খবরগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার কয়টির বিচার হয়েছে। ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ করে যখন ধর্ষক পার পেয়ে যায়, তখন তা অপরাধকে উৎসাহিত করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ধর্ষণ কমবে— এমনটা আশা করা ঠিক না।’

রোকেয়া কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথমত, ধর্ষণের ঘটনার বিচার হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ভিকটিম যেন নির্ভয়ে বিচার চাইতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংখ্যাগতভাবে ধর্ষণ বাড়ছে দুটো কারণে। এক. আগে ধর্ষণের সংবাদ পত্রিকায় কম আসতো। আরেকটি হলো সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। এমন অপরাধের (ধর্ষণ) ক্ষেত্রে বিচার না হওয়া, অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার পরিমাণ বাড়ছে।’

ধর্ষণ ঘটনার খুব কমই বিচার হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বিচার হলেও অভিযুক্ত খালাস পেয়ে যাচ্ছে। সাক্ষীর অভাব, বাদীর অনীহা, পুলিশের গাফিলতিতে দুর্বল চার্জশিট দেওয়া ইত্যাদি কারণে ধর্ষণ প্রমাণ কঠিন হয়। সমাজের মধ্যে এ ধরনের অপরাধের ব্যাপারে মানুষ সোচ্চার হলেও ভিকটিমকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না। নারীকে অবহেলার চোখে দেখা হয়।’

বেশ কিছু করপোরেট অফিস থেকে নারী নির্যাতনের খবর আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারীরা আসলে রাস্তা-বাড়ি-কর্মক্ষেত্র কোথাও নিরাপদ না। এটি ব্যাপকতা পেয়েছে। একজন নারী, সে যদি অফিসেও যৌন হয়রানির শিকার হন, সেখানেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘পিতৃতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নারীকে সম্মানের জায়গায় অধিষ্ঠিত হতে বাধা দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষণরোধে আইন হতে হবে এবং ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে বর্তমান বাস্তবতাকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। বিচার না হওয়ার কারণে অপরাধ দ্বিগুণ-তিনগুণ হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিচার হবে কী করে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। সাক্ষীর নিরাপত্তার কোনও জায়গা আমরা রাখিনি। অথচ, ভিকটিমের সাক্ষী লাগবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মেডিক্যাল পরীক্ষা হতে হবে, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সবসময় সেই সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায় না। তাহলে কীভাবে প্রতিকার মিলবে?’

আয়েশা খানম বলেন, ‘ধর্ষণ মামলা তদন্তে বা ভিকটিমের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফলতি হচ্ছে কিনা, সেই বিষয়ে মনিটরিং থাকতে হবে। বিচার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল না, ফলে পাওয়ার ম্যানুপুলেশনের সুযোগগুলো থাকে। নারী ভিকটিম হলে তাকে ইতিবাচক সহায়তা দেওয়ার বদলে কোন কোন কারণে তার ধর্ষণ জায়েজ, সমাজ এখনও সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেয়। এসব বদলাতে অপরাধকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিচার হতে হবে।’

উৎসঃ ‌banglatribune

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here