সাদা পোষাকে গুম থামছেই নাঃ মাঠে-ঘাটে বাড়ছে গুলিবিদ্ধ লাশের মিছিল

0
273

দেশের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে লাশ। রাস্তার পাশ থেকে, ঝোপঝাড় ও ডোবা-নালায় পাওয়া যাচ্ছে লাশগুলো। অধিকাংশ নিহতের পরিবারের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর এই লাশগুলো মিলছে। তবে প্রায় প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে নিহতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তারা ডাকাতি বা দস্যুতার সঙ্গে জড়িত। ডাকাতির মালামালের ভাগাভাগি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এসব খুনের ঘটনা ঘটেছে।

গত মাসে ১১দিনে শুধু নারায়নগঞ্জ এলাকাতেই ১৮ লঅশ পাোয়া গেছে। সব কটি লাশ গুলিবিদ্ধ। প্রত্যেকর ব্যাপারেই পরিবার দাবী করেছে ডিবি পুলিশ তাদের বাসা -বআড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল্ । অপর দিকে অনলাইন এক্টিভিস্টরাো গুম হয়ে যাচ্ছে । এরপর আর তাদের হদিস মিলছে না। গত এক মাসে ৫জন অনলাইন এক্টিভিষ্ট গুম হয়েছৈ বলে দাবী করেছে বিএনপি এবং তাদের পরিবার।

এছাড়াো গাজীপুরে টঙ্গি থেকে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের সন্ধান চেয়েছে তাদের পরিবার। গতকাল বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি করেন তারা। সাংবাদিক সম্মেলনে ওই চার ছাত্রকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিখোঁজ ৫ ছাত্র হলো, গাজীপুর মহানগর এলাকার শরীফপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে জহিরুল ইসলাম। সে তিতুমীর কলেজের ছাত্র। ৩০ অক্টোবর রাত সাড়ে আট টার দিকে তাকে টঙ্গি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া হয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করেছে।

একই রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ভাওয়াল কলেজের ছাত্র মো: রবিউল ইসলামকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া হয় টঙ্গির বোর্ড বাজার এলাকা থেকে। সে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ জেলার রাঙ্গালীপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। টঙ্গির মোকতার আউসপাড়া এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে তুলে নেয়া হয় ওমর ফারুককে। তার পিতার নাম মোশাররফ শিকদার। গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের চোমরা গ্রামে। টঙ্গির খাপাড়া থেকে ৩০ অক্টোবর রাতে তাকে তুলে নেয়া হয়।

আব্দুল্লাহ নোমান নামের অপর এক ছাত্রকে ওই খাপাড়া থেকে একই সময় তুলে নেয়া হয় বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রানীয়াদ গ্রামে। পিতার নাম আব্দুল হামিদ। তিতুমীর কলেজের অপর এক ছাত্র শাকির বিন হোসাইনকে ৩০ অক্টোবর রাত ৯ টার দিকে টঙ্গির কলেজ গেইট এলাকা থেকে তুলে নেয়া হয় বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে। তার বাসা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৪ নং ওয়ার্ড এলাকায়। পিতার নাম দেলোয়ার হোসেন।

ওই ছাত্রদের পরিবার সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ৩০ অক্টোবর রাত ৮ টার সময় শাকিরের সাথে সর্বশেষ কথা হয়। সে বললো কুরিয়ার সার্ভিস কলেজগেট শাখায় একটি পার্সেল আসছে ওটা নিয়ে দ্রুতই ফিরছি। জুয়েলের সাথে সর্বশেষ সাড়ে ৮ টায় কথা হয়। এরপর রাত ৯ টায় তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শাকিরের পরিবার রাত সাড়ে ১০ টায় কলেজগেটে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে, এক দল সাদা পোশাকধারী লোক ডিবি পরিচয় দিয়ে এখান থেকে সাদা মাইক্রবাসে কয়েকজনকে তুলে নিয়ে গেছে। থানায় খোঁজখবর নেই কিন্তু তারা গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করে। পরের দিন ডিবি’র অফিসে খোঁজ নেই তারাও অস্বীকার করে। শাকির ও জুয়েলকে গ্রেফতারের পর রাত ৩ টায় ওমর ও নোমানের পরিবার জানতে পারে তাদের সন্তানকে সাদা পোশাক পরা কয়েকজন লোক গাজীপুরের টঙ্গীর খাপাড়া রোডের একটি বাসা থেকে সাদা মাইক্রো বাসে তুলে নিয়ে গেছে। ওই পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনেক খোঁজাখুজির পর আমরা না পেয়ে থানায় জি ডি করি। জিডি নং ২৯। ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোন সন্ধান মেলেনি। তারা দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে তুলে নিয়ে গেছে। তারা তাদের সন্তানদের সন্ধান চেয়েছেন।

এদিকে ফেনী থেকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির না করায় সন্তানের সন্ধানের দাবীতে পরিবারের বিবৃতি দিয়েছেন কফিল উদ্দিনের মা আয়েশা বেগম ।

তিনি বলেন , গত ২৩/১০/২০১৮ তারিখ সন্ধা সাড়ে ৬টায় আমার সন্তান কফিল উদ্দিন মাহমুদকে ফেনী পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার ডানহাম রোড থেকে যুবলীগ ফেনী পৌরসভার সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পিটুর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাকে আটক করে বর্বর নির্যাতন করার পর ফেনী মডেল থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশও আমার নিরপরাধ সন্তানকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।গতকাল রাত ৮টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত তাকে থানা হেফাজতে রাখা হয়। এ সময় আমরা তার সাথে দেখা করি এবং কথা বলি। কিন্তু ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর থেকে সেখানে যোগাযোগ করতে চাইলে ডিবি পুলিশ তার আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে দিচ্ছে না। উল্টো প্রকাশ্যে সবার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করলেও এখন গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করছে। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। যা আমাদের উদ্ধেগকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমাদের সন্তানকে গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার, দেখা করতে না দেয়া এবং আদালতে হাজির না করা প্রচলিত আইনে বেআইনি। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশেরও সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। যা অস্বাভাবিক বিষয়। আমার এখন আমাদের সন্তানকে নিয়ে শঙ্কিত।

আমরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে আমার সন্তানের নিরাপত্তা দাবি করছি। তাদেরকে আটক বা গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করায় আমরা আমাদের সন্তানের ব্যাপারে গভীরভাবে উদ্বীগ্ন। আমাদের আকুল আবেদন, তাকে যেন আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক দ্রুত আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তাকে নিয়ে যেন কোন নাটক সাজানো না হয়। আমাদের সন্তান যদি সত্যিই কোনো অপরাধের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাকে আদালতে বিচারের সম্মুখীন করা হোক। আমরা জাতীয় মানবাধিকার সংগঠনসহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কাছে আমার সন্তানের আইনের আশ্রয় পাবার অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। যদি সরকার আমাদের সন্তানকে নিয়ে কোনো নাটক সাজানোর চেষ্টা করে তাহলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কাছে আমরা আমাদের অভিযোগ পেশ করতে বাধ্য হবো।

ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর ৪ দিন ধরে নিখোঁজ সিলেটের অনলাইন এক্টিভিস্ট হাসান:

ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর ৪ দিন ধরে নিখোঁজ সিলেটের অনলাইন এক্টিভিস্ট হাসান নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট নগরীর উপশহরে ডি ব্লকের মাল্টিপ্লান বাসা থেকে গত ২৪ অক্টোবর ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর থেকে আবুল হাসান নামের এক অনলাইন এক্টিভিস্ট যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের দাবি, ২৪ অক্টোবর দিবাগত রাত অনুমানিক তিনটার দিকে ১০/১২ লোক ডিবি লেখা পোষাক ও হাতে অস্ত্র নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে হাসানকে তোলে নিয়ে যায়। তোলে নিয়ে যাওয়ার ছবি বাসার সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে। কিন্তু পুলিশের সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তা স্বীকার করা হচ্ছে না।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) এর শাহপরান থানায় গত ৪দিনে একাধিকবার গেলেও ঘটনাটিকে জিডি হিসেবে নিতেও অস্বীকার করছে পুলিশ। এ বিষয়ে শাহপরাণ থানার ওসি আখতার হোসেন জানান, ছেলেটি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত। পরিবার থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা তার ঠিকানা রাখছি। চাইলেই তো জিডি করা যায় না। খোঁজ নেয়া হচ্ছে। নিখোঁজ হাসানের চাচাতো ভাই আনু মিয়া জানান, ডিবির পোষাক পরা লোকজন হাসানকে বাসা থেকে তুলে নিয়েছে। যার সিসিটিভি ফুটেজ তাদের সংগ্রহে রয়েছে। থানায় বারবার গিয়ে ধরণা দিলেও পুলিশ জিডিও নিচ্ছে না, আবার হাসানের আটকের কথা স্বীকারও করছে না।

এদিকে, হাসানের মা মিনারা বেগম ছেলের জন্য কেঁদে কেঁদে অসুস্থ হয়ে গেছেন। তিনি জানান, কিছুদিন আগেই হাসানের বাবা হাজি আব্দুল হক মারা গেছেন। হাসানই ২ ভাই ও ৫ বোনের মধ্যে বড়। হাসানই তার পরিবারের একমাত্র উপার্জন সক্ষম মানুষ। সে অনলাইন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতো। নিখোঁজ হাসান উপশহরের রোজভিউ হোটেলের পাশেই মাল্টিপ্লান বাসায় বোন ও মাকে নিয়ে থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ী সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কচুরকান্দি গ্রামে। হাসানকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের সকলের সহযোগী চাইছেন তাদের পরিবার।

উৎসঃ দেশ জনতা

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here