সাক্ষাৎকারের জন্য গ্রেপ্তারকে ‘পেশাগত দক্ষতা’ হিসেবে স্বীকৃতিতে টিআইবির উদ্বেগ

0
298

আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং ভয়ভীতি, পক্ষপাত ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সেই সঙ্গে কোন অবস্থাতেই যেন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিতর্কিত না হয় সেব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দুর্নীতি বিরোধী এই সংস্থাটি। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আজ এক বিবৃতিতে টিআইবি এই আহ্বান জানায়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দেবে, জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কখনই বিতর্কিত ভূমিকা নেবে না এমনটাই প্রত্যাশিত। অথচ নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন, কোটাবিরোধী আন্দোলন এবং কথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণামূলক’ সাক্ষাৎকারের জন্য গ্রেপ্তারকে ‘পেশাগত দক্ষতা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদক পাওয়ায় আমরা বিচলিত বোধ করছি। কারণ এসব ঘটনার প্রতিটির ক্ষেত্রেই পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘নিষ্ক্রিয়তা’, ‘পক্ষপাতিত্ব’ বা ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ অভিযোগ সর্বজনবিদিত।”

পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো ধরনের দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ড. জামান বলেন, “পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে শুদ্ধাচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চর্চা সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও আইনের সমান সুযোগ লাভের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। তাই শান্তি ও জনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ আইন লঙ্ঘনকারীকে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময় পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই বাহিনীর প্রতি জনগণের নির্ভরশীলতা প্রতিষ্ঠায় এই মুহূর্তে এটাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।”

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, পুলিশ সপ্তাহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি একগুচ্ছ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে যার অধিকাংশই যৌক্তিক এবং ইতিবাচক বিবেচনার যোগ্য। পাশাপাশি, পুলিশ বাহিনীতে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন, বিশেষ করে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আমরা উৎসাহিত হয়েছি যে, পুলিশ সপ্তাহ ২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘নিরীহ কেউ যেন হয়রানি নির্যাতনের শিকার না হন’ তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার যে, দোষী, নির্দোষ,সন্দেহভাজন, অভিযুক্ত বা নিরীহ সবার আইনি সুরক্ষা পাওয়া সংবিধানে স্বীকৃত অধিকার; এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনের আওতায় থেকে দায়িত্ব পালন করবে এটা নিশ্চিতভাবেই আইনগত বাধ্যবাধকতা, যা ভুলে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ আমাদের আশান্বিত করেছে,একইসাথে আমরা নিশ্চিত হতে চাই যে, বিনাবিচারে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আর কাউকে নিহত হতে হবে না।”

উৎসঃ ‌দ্যা ডেইলি স্টার

আরও পড়ুনঃ গায়েবি মামলার জামিনের জন্য স্ট্রেচারে করে এলেন হাইকোর্টে


উৎসুক জনতার ভিড় ঠেলে দেখা গেল এক ব্যক্তি শুয়ে আছেন। দুই হাত ও দুই পায়ে ব্যান্ডেজ। বাম পায়ের তিনটি আঙুল কাটা। কিছুদিন আগে জোড়া লেগেছে দেখলে বোঝা যায়। এমনই এক দৃশ্য দেখা গেল হাইকোর্টের এ্যানেক্স ভবনের সামনের খোলা জায়গায়। নাশকতার মামলায় আগাম জামিনের জন্য এসেছিলেন কৃষক তছিরউদ্দিন মণ্ডল। বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার ওমেদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি।

আর্থিক সংকটের কারণে একটি বাসের পাশাপাশি দুটি সিট ভাড়া নিয়ে শুয়ে ঢাকায় আসেন। একইভাবে ফিরেও গেছেন। হাইকোর্টে উচ্চ আদালতে তছিরউদ্দিন মণ্ডলসহ শৈলকূপার ২৩৬ জনের চার সপ্তাহের আগাম জামিন হয়েছে গতকাল। বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ ১৩টি পৃথক জামিন আবেদনে তাদের এ আগাম জামিন দেন। এ সময়ের পরে তাদের ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় তছিরকে গাবতলী টার্মিনাল থেকে এম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসা হয় উচ্চ আদালতে। স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয় এ্যানেক্স ভবনের দো’তলায়। গত বছরের ১৫ই ডিসেম্বর ঝিনাইদহের শৈলকূপা থানায় ৭০ জনকে আসামি করে একটি গায়েবি মামলা দেয়া হয়। এই মামলার আসামি তছিরউদ্দিন মণ্ডলও।

তছিরউদ্দিনসহ অন্য জামিন আবেদনকারীদের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, মামলাগুলো গায়েবি। সরকারদলীয় লোকজনই এদের মেরেছে, নির্যাতন করেছে ও কুপিয়েছে। আবার তারাই মামলা করেছে। হাইকোর্ট ১৩টি পৃথক আবেদনে ২৩৬ জনকে আগাম জামিন দিয়েছে।

তছিরউদ্দিন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মামলার পর থেকে রয়েছেন বাড়ির বাইরে। থাকছেন এক আত্মীয়ের বাসায়। তার দুই সন্তান। বড় ছেলে কলেজে পড়ে। ছোট ছেলের বয়স দুই বছর। অভাবের সংসার। টাকার অভাবে নিজের সামান্য জমিটুকুও বন্ধক দিয়েছেন। এগুলো দিয়ে টেনে টুনে চলছে সংসার। অর্থের অভাবে ছেলের পড়ালেখাও বন্ধের উপক্রম। স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না তছিরউদ্দিন।

গতকাল এ্যানেক্স ভবনের দো’তলায় তছির মানবজমিনকে বলেন, আমি দিন আনি দিন খাই। আমি কোনো রাজনীতিও করি না। নির্বাচনের পরে উমেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান সাব্দার হোসেন মোল্লা গ্রুপের লোকজন আমাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে নাশকতার মামলায় আমাকে আসামিও করেছে। তিনি জানান, কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় তিনি ১৩ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করলেও গত দেড় মাসে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আমি চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে পারছি না। খুব অসহায় জীবন যাপন করছি।

জানা যায়, নির্বাচনের দুইদিন পর তছিরউদ্দিনের নিজ গ্রাম কৃষ্ণপুরে মারামারি হয়। এ সময় গুরুতর আহত হন তিনি। তার এক পা ও এক হাতের হাড় অনেকটাই ভেঙে গেছে। গত একমাস ধরে বিছানায় শুয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনার পর স্থানীয় হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তছিরউদ্দিন।

একাদশ জাতীয় নির্বাচন চলাকালীন সময় শৈলকূপা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলায় ৩১১ জনকে আসামি করা হয়। রোববার রাত ১০টায় ঝিনাইদহ থেকে উচ্চ আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। সকাল ৭টায় নামেন গাবতলী বাস স্ট্যান্ডে। সকালের নাস্তা শেষে বাসে করে উচ্চ আদালতে আসেন সবাই। তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অনেকেই রাজি হন নি। আবার কেউ কথা বললেও নিজের নাম জানান নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের মধ্যে একজন বলেন, মামলার কারণে দেড় মাস বাড়ির বাইরে। নাম বললে তো আর বাড়ি যাইতে পারুম না। এমনেই বাড়ি ছাড়া, পরিবার ছাড়া। আমার নামে কেন মামলা দিছে সেটাই জানি না। জীবনে কোনোদিন কোর্টের বারান্দায় আসা লাগেনি। ৫৫ বছরের তোফাজ্জল পেশায় কৃষক। তাকেও একই নাশকতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় বিএলকে বাজারে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দেয়ার কথিত ঘটনা ঘটে রাত আড়াইটায়। তখন তোফাজ্জল ছিলেন ঘটনাস্থল থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে তার কদমতলা গ্রামের বাড়িতে।

নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একজন বলেন, নির্বাচনের সময় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। সবাই যখন মামলার বিষয়ে আমাকে বললো। আমি কারো কথা বিশ্বাস করি নাই। কারণ আমি একজন কৃষক। সারাদিন আমি থাকি মাঠে ঘাটে। আমি তো আর রাজনীতি করি না। তাই ভাবছি আমার নামে মামলা হবে কেন। পরে পুরো বিষয় জানার পর দেড় মাস ধরে বাড়ির বাইরে রয়েছি। কিভাবে যে দিন কাটাচ্ছি একমাত্র আল্লাহই জানে। আমার দুটি সন্তান। তারা স্কুলে পড়ে। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে তাদের লেখাপড়া এখন বন্ধ হওয়ার পথে। আমার বউ অন্যের বাড়িতে কাজ করে এখন সংসার চালাচ্ছে।

মামলার বিষয়ে শৈলকূপা থানার পরিদর্শক আইয়ুবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে-পড়ে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। সবগুলোরই তদন্ত চলছে। ঘটনার সময় না থেকেও এই মামলায় অনেকে আসামি হয়েছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তথ্য প্রমাণের উপরে সবার নামে মামলা হয়েছে। আর মামলার তো তদন্ত চলছে। যদি এর মধ্যে কেউ নির্দোষ হয় তাকে তাকে অবশ্যই বাদ দেয়া হবে।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ দৃষ্টিহীন কেরামত আলী গাড়ি পোড়ানোর আসামিঃ জামিন নিতে গেলেন হাইকোর্টে


৭০ বছরের কেরামত আলী সুপ্রিম কোর্টের বর্ধিত ভবনের সামনের লনের গাছতলায় বসে হাঁপাচ্ছিলেন। বসেছিলেন কুঁজো হয়ে, লাঠিতে ভর করে। একটু পর পর কাঁপছিলেন। গাঢ় কালো রঙের চশমা পরা শ্মশ্রুমণ্ডিত কেরামত চোখে দেখেন না। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতেও পারেন না। বয়সের ভারে শরীরও ভেঙেছে। কণ্ঠার হাড় বেরিয়ে গেছে। কুঁচকে গেছে শরীরের চামড়া।

জানা গেল, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার ১০ নম্বর খেরুয়াজানি ইউনিয়নের বন্ধ গোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কেরামতের বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে। আগাম জামিন নিতে গতকাল গতকাল সোমবার তিনিসহ হাইকোর্টে এসেছিলেন এ মামলায় নাম থাকা স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।

কেরামত জানান, তিনি বিএনপির সমর্থক হলেও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। ঘর থেকে বের হওয়ার মতো সামর্থ্যও তার নেই। মামলায় তার নাম আসায় বিস্মিত অন্যরাও।

জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তাগাছা থানায় বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর নামে একটি মামলা (নম্বর- ২৪) হয়। এ মামলায় কেরামতকে ৩৮ নম্বর আসামি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ ডিসেম্বর রাতে মুক্তাগাছা পৌরসভার আলাউদ্দিন কেন্দ্রীয় পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে নৌকা সমর্থক একজনের মোটসাইকেলে আগুন দিয়েছেন কেরামত ও অন্য আসামিরা। এছাড়া তারা মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। তারা বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮ ও ৪২৭ ধারায় অপরাধ করেছেন।

গতকাল সুপ্রিম কোর্টে একজন গণমাধ্যমকর্মী স্বজনদের কথা জানতে চাইলেই হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন কেরামত আলী। পরে জানান, দুই ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে সুখের সংসার ছিল তার। দুই দশকের বেশি সময় আগে ১৮ বছরের শরীফুল ইসলাম কিডনিজনিত জটিলতায় মারা যায়। কয়েক বছর পর শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট ছেলে ফরিদুলও মারা যায়। চার বছর আগে তাকে ছেড়ে পরপারে চলে গেছেন স্ত্রী আসিয়া খাতুনও।

সেই থেকেই তিনি একেবারেই নিঃসঙ্গ। পুত্র-স্ত্রী শোকে কাতর কেরামতকে এখন দেখার কেউ নেই। দরিদ্র দুই ভাই গিয়াসউদ্দিন ও আবদুল মজিদ অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দুই ভাইকে নিজের শেষ সম্বল গ্রামের বাড়ির পাঁচ শতক জমি দান করে দিয়েছেন কেরামত। বিনিময়ে তাকে তিনবেলা খাবার ও পরনের কাপড় দেওয়া হয়।

চোখে ছানি পড়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই একপ্রকার অন্ধের জীবনযাপন করছেন কেরামত। সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হলেও সেই চোখের আলো পুরোপুরি ফেরেনি। দুই হাত দূরের জিনিসও দেখতে পান না। এখন লাঠি ও অন্যের সাহায্যই ভরসা কেরামতের। তিনি জানান, মামলার কারণে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয়ে নির্বাচনের আগে একমাস তাকে আত্মীয়ের বাড়িসহ এখানে-সেখানে পালিয়ে থাকতে হয়েছে।

কেরামত আলী বলেন, ‘বাবারে দুনিয়াতে আমার কেউ নাই। আমারে দেখার কেউ নাই। আমি রাজনীতি বুঝি না, রাজনীতি করিও না। কিন্তু আমারে ক্যান এই মামলায় জড়াইলো জানি না। আমি ন্যায়বিচার চাই।’

তার সঙ্গে আসা দূর সম্পর্কের ভাতিজা সাইফুল আজিজ (তিনিও একই মামলার আসামি) বলেন, ‘নির্বাচনের আগে করা গায়েবি মামলায় এই বৃদ্ধ লোকটাকেও আসামি করা হয়েছে। এই বয়সে অসমর্থ শরীর নিয়ে তিনি নাকি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন, মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘উনার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। এই বয়সে একজন বৃদ্ধ লোককে এভাবে হয়রানি করতে দেখে আমাদের নিজেদের খারাপ লাগছে। আজ (গতকাল) আগাম জামিন পেলেও এই মামলার হয়রানি থেকে সহসাই তিনি রেহাই পাবেন এমন মনে হচ্ছে না। কেননা জামিনের মেয়াদ শেষে আবারও তাকে আদালতে আসতে হবে।’

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুক্তাগাছা থানার এসআই (উপপরিদর্শক) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ‘কেরামত আলী অসুস্থ চোখে দেখেন না এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। তদন্তে যাচাই-বাছাই হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উৎসঃ ‌বাংলাদেশ টুডে

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিঃ মহাজোটের শরীক জাসদের স্বীকারোক্তি!


ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার কথা কবুল করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। এজন্য প্রশাসনে অতি উৎসাহী একটি অংশ দায়ী বলে মনে করছে দলটি।

গত ১লা ও ২রা ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ জাসদ-এর জাতীয় কমিটির সাধারণ সভায় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে এভাবে মূল্যায়ন করা হয়। পরে এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জাসদ তাদের সভার মূল্যায়ন তুলে বলে, দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পরে বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি। এর মূল কারণ হচ্ছে, প্রশাসনের এক শ্রেণির অতি উৎসাহী অংশ ভোটের পূর্ব রাত্রেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের জয় এই নির্বাচনে ‘নিশ্চিত’ ছিল উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাসদ বলেছে, জনগণের ভোটের মাধ্যমে ১৪ দল তথা মহাজোটের নিশ্চিত বিজয় জেনেও যে মহল বিশেষ এ অপকর্ম সংঘটিত করেছে, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কেননা এ কলঙ্কিত ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এ কলঙ্কের দাগ মুছতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে দলটি।

ঢাকার তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন দলের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, মোহাম্মদ খালেদ, আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, নাসিরুল হক নওয়াব, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, সহ-সভাপতি আবু মো. হাশেম, কলন্দর আলী, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম সিকদার, আবুল কালাম আজাদ বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল হক খোকন, বীণা শিকদার, হোসাইন আহমদ তফসির প্রমুখ।

সভায় দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদসহ সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানানো হয়। এ দাবিতে বাংলাদেশ জাসদ আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারী দেশব্যাপী মানববন্ধন, সভা, শোভাযাত্রা, মত বিনিময় প্রভৃতির মাধ্যমে দলীয় মার্কামুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিবস পালন করবে।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারী দলের প্রয়াত নেতা কাজী আরেফ স্মরণে ‘কাজী আরেফ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ। সভা থেকে আগামী অক্টোবরের আগে জেলা সম্মেলন এবং নভেম্বররে কেন্দ্রীয় সম্মেলন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলটি।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ বুলবুলের নারী কেলেঙ্কারিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাংবাদিকরা


নারীকর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর চরম বিব্রতক অবস্থায় পড়েছেন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতা ও দখল করে নেয়া একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। একুশে টিভির কয়েকজন সাংবাদিক ও বুলবুলের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। ইলিয়াস হোসাইনের ভিডিওটি সামাজিক যোগগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বুলবুল বাইরে বের হচ্ছেন না। কোনো প্রোগ্রামাদিতেও যাচ্ছেন না। সূত্রটি বলেছে, বুলবুলের এসব অপকর্ম ফাঁস হওয়ার পর তার স্ত্রীও এনিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার সংসারে এখন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। দুই দিন ধরে বুলবুলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছে না তার আত্মীয় স্বজনও।

এদিকে, বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতন ঘটনা প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সাংসাদিক মহলেও। গত দুই দিন ধরে প্রেসক্লাব ও ডিআরইউতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বুলবুলের যৌণ হয়রানির ঘটনা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন আওয়ামীপন্থী অংশের নেতারাও বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। বুলবুলকে এড়িয়ে চলতে কয়েকজন সাংবাদিক নেতা তাদের সহকর্মীদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এরপর, বুলবুলের এই নারী কেলেংকারির ভিডিওর খবর পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনেও। জানা গেছে, শনিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত চা-চক্র অনুষ্ঠানেও বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে অনেকেই কানাঘুষা করেছেন। এক কান দুই কান করে এটা শেখ হাসিনার কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের হাত থেকে নারী সাংবাদিকদেরকে রক্ষা করার জন্য একুশে টিভির কয়েকজন নারীকর্মী যে অনুরোধ করেছেন সেটাও জেনেছেন প্রধানমন্ত্রী। এনিয়ে বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে, বুলবুলের এই ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর একুশে টিভির স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছে- বুলবুলের নামে সাংবাদিক ইলিয়াস অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর জামায়াত-শিবিরের কিছু সাইট এগুলো প্রচার করছে।

এনিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, বুলবুল তার নারী কেলেংকারির ঘটনা চাপা দিতে এখন জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। বাংলাদেশে যখনই যা ঘটেছে বুলবুলরা সব সময় জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। এবার বুলবুল তার প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতন করে এটার দায়ও চাপানোর চেষ্টা করছেন জামায়াত-শিবিরের ওপর।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার কাছেই সমস্ত ক্ষমতা রেখে আমরা বিরোধী দল হয়ে কি করব?: মেনন


ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে দাবি করে ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘শুধু আমরা নই, আওয়ামী লীগের লোকজনও জানে না, কেন তাদের মন্ত্রিত্ব নেই। আমরাও জানি না, কেন আমাদের মন্ত্রিত্ব নেই? আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতাকে জিজ্ঞাসা করলাম ‘চিফ হুইফ’ কে হচ্ছে? বললো, ভাই, জানি না। সুতরাং এটা হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের দেশে রাজনীতির পরিণতি, যেখানে ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে প্রধানমন্ত্রী মনে করেছেন, আমাদের মন্ত্রিসভায় রাখার প্রয়োজন নেই; শেখ হাসিনার কাছেই সমস্ত ক্ষমতা রেখে আমরা বিরোধী দল হয়ে কি করব।

রবিবার রাশেদ খান মেনন এ সব কথা বলেন।

মন্ত্রিত্ব প্রসঙ্গে মেনন বলেন, প্রথম থেকেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে আওয়ামী লীগ সঠিকভাবে জোট চর্চা করেনি বা করতে চায়নি। আমরা যেটা বারবার ১০ বছরে জোর দিয়ে বলেছি, আপনারা জোট চর্চা করুন। এই জোট চর্চার অপব্যবহারের কারণে একটি কেন্দ্রীভূত জায়গায় এসেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেই সমস্ত ক্ষমতা।

সংসদে ১৪ দলীয় জোট বিরোধী দলে যাবে না বলে জানিয়ে মেনন বলেন, আমি তো জাতীয় পার্টি না! আমাকে যদি এরশাদের সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে ভুল করবেন। সকালে এক কথা বললো, বিকালে আরেক কথা বললো। আমরা তাদের মতো না।

মেনন বলেন, আমি নির্বাচনে বক্তব্য দিয়েছি উন্নয়নের পক্ষে। আমি বক্তৃতা করেছি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার পক্ষে। তাহলে এখন কীভাবে পাল্টা বক্তব্য দেবো? আমি তো ভোটের আগে উন্নয়নের কথা বললাম, এখন এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলে তার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে?

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here