রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গোপন কারাগারে আটক ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ

0
774

এক বছর তিন মাস নিখোঁজ থাকার পর সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গোপন কারাগারে আটক ছিলেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছিলো তারা কিছুই জানেনা এ বিষয়ে কিন্তু প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র তাকে গোপনে আটকে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

বাংলাদেশে পলিটিকো’তে প্রকাশিত এক কলামে এ কথা বলা হয়। কলামটি লিখেছেন বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান।

জাস্ট নিউজ পাঠকদের জন্য কলামটি তোলে ধরা হলো:

দিনটি ছিলো ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর। ধানমন্ডির নিজের বাসা থেকে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আসার জন্য গাড়ি নিয়ে একাই বিমানবন্দর যাওয়ার উদ্দেশে বের হন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান।কিন্তু তাকে পথিমধ্যে । উঠিয়ে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর লোকেরা।

মারুফ রাষ্ট্রদূত হিসেবে ২০০৮ সাল থেকে ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভিয়েতনামে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি কাতারে রাষ্ট্রদূত ও যুক্তরাজ্যে কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি অবসর নেন।

গুম হবার দিনই রাত ৭.৪৫ মিনিটে অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে বাসায় ল্যান্ড ফোনে কথা বলেন মারুফ। বাসার কাজের লোককে তিনি জানিয়ে দেন অপরিচিত কিছু লোক তার কম্পিউটার নিতে আসবে, তাদের যেন সহযোগিতা করা হয়। ফোন দেবার ২০ মিনিট পরই পরিপাটি পোশাক পরিহিত ৩ জন মানুষ এসে পৌঁছায় সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের বাসায় এবং তারা সেখান থেকে ল্যাপটপ, কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোন সেট সঙ্গে করে নিয়ে যায়।

যারা বাসায় এসেছিলো তাদের মাথায় ছিলো টুপি আর মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক। উদ্দেশ্য ছিলো বাসার সিসি টিভির থেকে যেন নিজেদের আড়াল রাখা যায়। মারুফের গুম হবার ঘটনা নিয়ে এটাই ছিলো তার পরিবারের দেয়া ভাষ্য।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকতা অবৈধভাবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক মারুফ জামানকে আটকে রাখার বিষয়টি নিশ্চত করেছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এই সূত্রের বক্তব্য- মারুফ জামান নির্দোষ নন, সরকার বিরোধী একটি ওয়েবসাইটের সঙ্গে তার যোগসূত্র ছিলো। বিচারবর্হিভূত আইন, গুম বা অপহরণ যে ঘটনাই ঘটুক বাংলাদেশে এখন এভাবেই সবকিছু সরকার বিরোধী বলে বৈধতা দেয়া হয়।

১৫ মাস ধরে গােপন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিলো মারুফকে, এসময়ে একবারের জন্যও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি তাকে। খুব সম্ভবত সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই তাকে আটক রেখেছিলো। শুক্রবার তাকে মুক্তি দিলো আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

বিষয়টি উল্লেখ করে মারুফ জামানের মেয়ে শবনম জামান ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন:তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাবা সাড়ে ১৫ মাস বা ৪৬৭ দিন পর ফিরে এসেছেন। আমি ও আমার বোন কৃতজ্ঞ তাদের কাছে, যারা এই সময় আমাদের সহযোগিতা করেছেন।এ ক্ষত কাটিয়ে উঠতে আমরা এখন গোপনীয়তা বজায় রাখতে চাই। এ বিষয়ে আর কিছু না জানতে চাইতে সবাইকে অনুরোধ করছি।’

যেমনটা বলছিলাম- আসলে মারুফের কি ঘটেছিলো সেটা হয়তোবা আর জানার সুযোগ মিলবেনা। যখনি গোপন বন্দিদশা থেকে কাউকে মুক্তি দেয়া হয় তখন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা তাকে এমনভাবে ভীত করে হুমকি দেয় যে তার কি ঘটেছিলো সেটা নিয়ে আর ভয়ে মুখ খুলেনা।

ভিন্নমত দমন আর তাদের নিয়ন্ত্রণে নানান কৌশল অবলম্বন করে সরকার। তারি একটা কৌশল হলো জোরপূর্বক গুম করা এবং গোপন কারাগারে আটকে রাখা। রাজনীতির বিরোধী মতের যারা তাদের মধ্যে বিষয়টি ভয় আর যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণ এখন যেটা দেখতে পাচ্ছে সেটা হলো- যে কাউকে উঠিয়ে নেয়া হতে পারে, গুম করা হতে পারে, তাতে কার্যত কারোরি করার কিছু নেই। আর গুমের এমন সব রুটিনতর ঘটনায় আদালতের নজরদারিতে একরকম অনীহা দেখা যাচ্ছে।

২০০৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তখন গুমের ঘটনা ঘটেছিলো ৩টি। ২০১৭ সালে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৯০ তে। যে তথ্যটা দেয়া হলো সেটা শুধু গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে।এছাড়াও আরো অনেক গুমের ঘটনা আছে যেগুলো শুধু ভুক্তভোগী পরিবার জানে।

মারুফের মতো অন্যরাও ফিরে আসুক এ আশা করি এবং প্রত্যাশা করি গোপন কারাগার নামে যেনাে আর কিছু না থাকে।

উৎসঃ জাস্ট নিউজ

আরও পড়ুনঃ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি বিএনপির ‘পূর্ণ সমর্থন’


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন থেকে শিক্ষার্থীদের বিরত রাখতে সরকার যে কথা দিয়েছিল তা রাখা হয়নি। এজন্যই নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে ছেলেটি রাস্তায় নেমেছিল তাকে জীবন দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়তে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবিলম্বে সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে’ অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি বিএনপির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সংগঠনের উপদেষ্টা হাজী মাসুক মিয়া সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

খন্দকার মোশাররফ আরও বলেন, এ সরকার জনগণের সরকার নয়। ফ্যাসিবাদী সরকার। তাই তারা যা বলে তা করে না। আর এজন্যই সড়কে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে। ডাকসু নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচন সব ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। অস্বাভাবিক সরকারের আমলে অস্বাভাবিক ঘটনা অতি স্বাভাবিক। তবে এ অস্বাভাবিক ঘটনা বেশিদিন চলতে পারে না।

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সুচিকিৎসার জন্য হলেও খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রয়োজন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার (খালেদা) মুক্তির জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দলকে আরও শক্তিশালী করে লড়াইয়ে নামতে হবে। এ লড়াই শুধু খালেদা জিয়াকে মুক্তির জন্য নয়। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই।

গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে বিএনপির কাছে বিরাট একটা সুযোগ চলে আসছে উল্লেখ করে মোশাররফ হোসেন বলেন, অনেকে আমাদের হতাশ মনে করছেন। তবে আমরা হতাশ নই, হতবাক। এ অবস্থা থেকে কাটিয়ে ওঠার জন্য বিএনপিকে পুনর্গঠনসহ নানা প্রক্রিয়ায় দলকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া চলছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সুখী দেশের তালিকায় ১০ ধাপ পেছাল বাংলাদেশ


বিশ্বে সুখী দেশের তালিকায় ১০ ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর তালিকায় ১১৫ তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ এবার ১২৫তম অবস্থানে নেমে এসেছে।

বুধবার জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) ‘বিশ্ব সুখী প্রতিবেদন-২০১৯’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন, সামাজিক সমর্থন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, সামাজিক স্বাধীনতা, ভদ্রতা ও দুর্নীতির অনুপস্থিতি বিবেচনায় এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

বরাবরের মতো এ বছরও তালিকায় ভালো অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। এর মধ্যে স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলো রয়েছে সবার ওপরে।

তালিকার প্রথম চারটি দেশই স্ক্যান্ডিনেভীয়। আর নিচের দিকে রয়েছে আফ্রিকার দেশগুলো। তালিকায় সবার ওপরে ফিনল্যান্ড ও নিচে সাউথ সুদানের অবস্থান।

আগের দুই বছরের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল যথাক্রমে ১১০ ও ১১৫তম। এ বছর তালিকায় বাংলাদেশের পরেই আছে ইরাক।

তালিকা অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সুখী দেশ পাকিস্তান আর অসুখী দেশ আফগানিস্তান। তালিকায় দেশ দুটির অবস্থান যথাক্রমে ৬৭তম ও ১৫৪তম।

দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের পরেই আছে ভুটান। তাদের অবস্থান ৯৫তম। ১০০তম অবস্থানে আছে নেপাল। এ ছাড়া শ্রীলংকা ১৩০তম ও ভারত ১৪০তম অবস্থানে রয়েছে।

এবারের তালিকায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান ১৫তম, আর যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ১৯তম স্থানে। জার্মানির অবস্থান ১৭তম।

এশিয়ায় শীর্ষে থাকা ইসরায়েল ১৩তম স্থানে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর মধ্যে আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন ও ইরানের অবস্থান যথাক্রমে ২১, ২৮, ২৯, ৩৭ ও ১১৭তম।

এ ছাড়া জাপান ৫৮, রাশিয়া ৬৮ ও চীন ৯৩তম স্থানে রয়েছে। আর রোহিঙ্গা সংকটে জর্জরিত মিয়ানমার রয়েছে ১৩১তম স্থানে।

তালিকায় শীর্ষে থাকা ১০ দেশ হলো- ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, আইসল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও অস্ট্রিয়া।

তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে অসুখী ১০ দেশ হলো- দক্ষিণ সুদান, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, আফগানিস্তান, তানজানিয়া, রুয়ান্ডা, ইয়েমেন, মালাবি, সিরিয়া, বতসোয়ানা ও হাইতি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ প্রফেসর ড. আতিকুল হকের কাছে চিকিৎসা নিতে চান খালেদা জিয়া


কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তিনি প্রফেসর ড. আতিকুল হকের কাছে চিকিৎসা নিতে চান বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার নাইকো দুর্নীতির মামলার শুনানি শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন আসামিপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর অস্থায়ীভাবে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমানে তার (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় আরও খারাপ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত খালেদা জিয়ার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। এখনও ডাক্তার আসেননি, তার রক্ত পরীক্ষা করানো হয়নি। মঙ্গলবার আদালতে আসার আগে তিনি বমি করেছেন। তিনি কিছু খেতে পারছেন না। উনার প্রপার ট্রিটমেন্ট হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন, সেখানে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) তার কোনো চিকিৎসা হয় না। আমরা সরকারকে তাকে একটা বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়ার জন্য বলেছি। এখন পর্যন্ত সরকার কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি চাচ্ছেন অতিশীগ্রই তার রক্ত পরীক্ষা করা হোক। চিকিৎসার জন্য তাকে প্রফেসর ড. আতিকুল হককে দেখানো হোক এবং তাকে দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

এদিকে এদিন দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে হাজির করে আদালতে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ। এর কিছুক্ষণ পর বিচারক এজলাসে আসলে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।

শুরুতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মামলাটি চার্জশুনানির জন্য আছে। খালেদা জিয়া ছাড়া সকল আসামির চার্জ শুনানি শেষ হয়েছে। এখন তারা শুরু করলে মামলাটির কার্যক্রম আমরা শেষ করতে পারব।

এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবী মো. মাসুদ আহমেদ তালকুদার জব্দ করা আলামতের কপি না পাওয়ায় মামলার কার্যক্রম মুলতবি রাখার আবেদন করেন। তিনি বলেন, মামলায় জব্দকৃত যেসব আলামতের কপি আমরা চেয়েছিলাম সেগুলো আমরা পাইনি। তাই সেসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ সময় মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, চার্জ শুনানিতে আলামত প্রয়োজন হয় না। খালেদা জিয়া ছাড়া সবাই শুনানি শেষ করেছেন। তারা এখন মামলা বিলম্বিত করতে চাচ্ছেন।

এ সময় বিচারক আসামিপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, চার বছর ধরে চার্জ শুনানি চলছে। এতদিনেও আপনারা আবেদন করেননি কেন? আর যে আবেদন দিয়েছেন তা নিষ্পত্তি হয়েছে।

এরপর মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা তৈরিতে গোজামিল আছে। সেজন্য কাগজপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ সময় বিচারক আসামিপক্ষের এ আইনজীবীর কাছে জানতে চান তারা চার্জ শুনানি করবেন কিনা?

জবাবে মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, কাগজ পেলে আমরা শুনানি করব। এ সময় খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, এটা একটা গ্রাউন্ডলেস মামলা। কাগজগুলো পেলে আমরা তা দেখাবো। আর এ জন্যই শুনানি পেছানো আবেদন করা হয়েছে।

প্রতি উত্তরে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মামলাটি গ্রাউন্ডলেস নয়। অন্যান্য আসামিরা শুনানি করেছেন। মামলাটি ১২ বছরের পুরাতন। মামলায় বিলম্বিত করতেই তারা শুনানি করছেন না। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। ওইদিন চার্জ শুনানিতে ব্যর্থ হলে আদেশ দেবেন বলে জানান আদালত।

এদিন জার্মানিতে চিকিৎসাধীন মওদুদ আহমদের পক্ষে সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন আদালত। আর মামলার আসামি গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের পক্ষে তার আইনজীবী তাকে লক্ষীপুরের কারাগার থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার, নারায়ণগঞ্জ অথবা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আদালত এ বিষয়ে পরে আদেশ দিবেন বলে জানান।

আদালতের কার্যক্রম শেষে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার শুনানির সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি চেয়ারপারসনের পাশে বসে ছিলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য তাকে ওই বছরের ৬ অক্টোবর বিএসএমএমইউ’তে নেয়া হয়।

তিনি হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির অপর মামলায়ও সাজাপ্রাপ্ত হন। সেখান থেকে গত ৮ নভেম্বর তাকে সরাসরি আদালতে হাজির করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির করে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদি হয়ে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৫ মে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) এসএম সাহিদুর রহমান এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। চার্জশিটে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের পক্ষে আংশিক চার্জ শুনানি হয়।

খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। এদের মধ্যে বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান মারা গেছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মানুষের দুঃখ কষ্ট শেখ হাসিনাকে আনন্দিত করে: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়


শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, শেখ হাসিনা কোনো কিছুতেই তৃপ্ত হন না। সে এক অতৃপ্ত বাসনা নিয়েই রাজত্ব চালাবে, যতই পান ততই চান। মানুষের দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা তাকে পুলকিত করে, আনন্দিত করে।

মানুষের জন্য কোনো কিছু করে তিনি কোনো আনন্দ লাভ করতে পারেন না। এরকম বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন একটা ব্যক্তির কবলে সারা দেশ।

তিনি আরও বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছেন। তারপরও সন্তষ্ট নন। দেশনেত্রী জেলখানায় আছেন এতেও তার স্বস্তি নয়। তার মৃত্যুর সংবাদ তিনি যতক্ষন পর্যন্ত না শুনবেন ততক্ষন পর্যন্ত তিনি বিচলিত। এটাই তার পণ, এটা তার অঙ্গীকার। এজন্য তাকে একসঙ্গে সহযেগিতা করছে প্রশাসন ও আদালত।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে গয়েশ্বর বলেন, কারো মুখাপেক্ষী হয়ে নয়, নিজেরাই আন্দোলন করে নিজেদের দাবি আদায় করতে হবে। দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ ত্যাগ ও পরিশ্রম ছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন এসব কথা বলেন তিনি।

কৃষক দলের আহবায়ক শামসুজ্জামান দুদু‘র সভাপতিত্বে সদস্য এসকে সাদীর পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, উলামা দলের নেসারুল হক, কৃষক দলের সদস্য জাফির তুহিন, তকদির হোসেন জসিম, নাজিমউদ্দিন মাস্টার, শহীদুল ইসলাম ভুঁইয়া, নাসির হায়দার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে দলীয় সদস্যদের সংসদে দেখতে নেতা-কর্মীরা চায় না- এমন মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, ‘আমরা দেখছি যে, আমাদের সঙ্গে থাকলো, আমাদের মাথায় কাঁঠাল রাইখা তিনি (সুলতান মো. মনসুর) এখন কাঁঠাল খাচ্ছেন সংসদে বইসা। কী মনসুর। আমাগো লগে থাইকা, আমাদের এখান থেকে আমরা পাখি ছাইড়া দিলাম, সংসদে চইলা গেলো। আরো কিছু অপেক্ষা (সংসদে যোগদান) করছে কিনা, আরো কিছু যাবে কিনা-তাও জানি না।

পাখি যায় যাক, সেই পাখিদের একটাই বলব, গণতন্ত্রের নেত্রী গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াকে জনগনের কাছে হস্তান্তর করে কারো যদি সংসদ যাওয়ার শখ থাকে যান, কিছু বলব না। কিন্তু তিনি (খালেদা জিয়া) জেলে থাকবেন আর পার্লামেন্টে গিয়ে কথা বলবেন সেই কথা শুনার জন্য কিন্তু আমরা কখনোই প্রস্তুত থাকবো না।

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন হবে না, হাসিনাকে রেখে নির্বাচন হবে না। এই দুইটির একটিও কার্যকর করলেন না। হাসিনাকে রাখলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করলেন। আপনারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদেশের গণতন্ত্র- জনগণের ভোট আদায় করে আপনারা সরকার গঠন করবেন, খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন-এই যে ধারনা রাজনীতিতে এরচেয়ে নিবুর্দ্ধিতার পরিচয় আর কিছু হতে পারে না। সেই কারণেই আজকে বলব, এই সরকারকে বৈধকরনের জন্য আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহন করছিলাম কিনা?

গয়েশ্বর বলেন, রাজনীতিতে পান্ডিত্যের চেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগনের মনোভাব বুঝা। জনগণের পালস যারা বুঝতে পারে না তারা রাজনীতিতে কখনো সফলতা লাভ করতে পারে না, জনগণকে কিছু দিতে পারে না। বিএনপির জন্ম হয়েছে জনগণের জন্য, বিএনপির জনগণকে কিছু দেবে এটা প্রতিশ্রুতি। কিন্তু আওয়ামী লীগের জনগণের জন্য হয়নি, তাদের জন্ম হয়েছে নিজেদের জন্য। তারা ক্ষমতায় থেকে লুটপাট করবে খাবে সরকারি কর্মচারিদের ভাগ-বাটোয়ারা দেবে। এই রাজত্বে জনগণের কথা থাকবেন না, সেই রাজত্বে জনগণের অধিকারের কথা থাকবে না।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ, হুইলচেয়ারে বসতে পারছেন না: ফখরুল


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। ঠিকমতো তিনি হুইলচেয়ারে বসতে পারছেন না। মাথাটা সোজা করেও রাখতে পারছেন না তিনি।

মঙ্গলবার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি হয়।

শুনানি শেষে বিচারক ১ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এ সময় আদালতে মির্জা ফখরুল উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের কার্যক্রম শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আদালতে হুইলচেয়ারে বসতে কষ্ট হচ্ছে খালেদা জিয়ার। তার হাতে ও পায়ের হাঁটুতে খুবই ব্যথা। ঠিকমতো ডাক্তারের চেকআপ করা হচ্ছে না।

এদিন দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক এজলাসে আসেন ১২টা ৪২ মিনিটে। আদালতের কার্যক্রম শেষ হয় ১টা ২০ মিনিটে।

এর সাত মিনিট পর তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার পাঁচ মিনিট আগে মির্জা ফখরুল আদালতে আসেন। পুরো সময় তাকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে।

প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যথাক্রমে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ হুইল চেয়ারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারা আদালতে হাজির


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারা আদালতে হাজির করা হয়েছে। নাইকো দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দেয়ার জন্য মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৩৫ মিনিটে তাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার ৯ নং বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে আনা হয়। অসুস্থ থাকায় হুইলচেয়ারে করে তাকে আদালতে আনা হয়।

এদিন খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন রয়েছে।

এর আগে ৩ মার্চ ধার্য তারিখে মামলার অপর আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের অভিযোগ গঠন শুনানি হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

মামলা করার পরের বছর ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সাংসদ এমএএইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যথাক্রমে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘ঢাবির উপাচার্য-শিক্ষকরা ডাকসু নষ্ট করে ফেলেছে’


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বর্তমান ভিসির ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম উপাচার্য আগে কখনো দেখিনি। এই শিক্ষকরা ডাকসু নষ্ট করে ফেলেছে। আমার এদেরকে শিক্ষক ভাবতে কষ্ট হয়।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে মুক্তি, সুচিকিৎসা নিশ্চিত এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলার রায় বাতিলের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বেগম জিয়ার কারাবাসের কথা উল্লেখ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে ৭১ বছর বয়সে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে এই অবৈধ সরকার। আদালত থেকে তাকে সুচিকিৎসা দেয়ার কথা বললেও তাকে দেয়া হচ্ছে না। আমরা সরকারের এই নৃশংসতার প্রতিবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আছে মানে গণতন্ত্র কারাগারে, ম্যাডাম জেলখানায় অর্থ হচ্ছে এটা কোনো সভ্য দেশ না, ম্যাডাম জেলখানা থাকাকে বুঝায় এদেশে কোনো আইনের শাসন নাই, ম্যাডাম জেলখানায় থাকার অর্থ বোঝায় এই দেশ বসবাসের অযোগ্য একটি দেশ।’

লজ্জাহীন সরকার দেশ পরিচালনা করছে মন্তব্য করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘যে দেশের গণতন্ত্রের জন্য, স্বাধীনতার জন্য ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছে, সেই দেশে নির্বাচন তো দূরে থাক গণতন্ত্রের ছিটেফোঁটাও নেই। একটি লজ্জাহীন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। নির্বাচন কমিশন বলে ইভিএম থাকলে রা‌তে ভোট বাক্স ভর্তি হতো না।অন্য এক সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নির্বাচন কমিশনার তিনিও একই কথা বলেন। এ কোন পাগলের দেশে আমরা বাস করছি।’

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে দুদু বলেন, ‘সরকারকে বলবো বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন। তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন। এতদিন দেশে আন্দোলন হয়নি বলে ভাববেন না, আন্দোলন হবে না। এদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ধ্বংস হয়েছে আর, রাজনীতিবিদরা বসে আছে এরকম ইতিহাস কখনো হয় নাই।’

তিনি কৃষক দলের নেতাকর্মীদের আহবান করে বলেন, ‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ হন। যেদিন বিএনপি থেকে ঘোষণা আসবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তখন আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’

শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এবং কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এসকে সাদীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, কৃষকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মাদ জসিম, নাজিম উদ্দীন মাস্টার, সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাসির হায়দার, জিয়াউল হায়দার পলাশ, মাইনুল ইসলাম, মো. আলিম হোসেন, অধ্যাপক সেলিম হোসেন, মোজাম্মেল হক মিন্টু, মিয়া মো. আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, এম জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুর রাজি প্রমুখ।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ইনু-মেনন কথা বলার স্বাধীনতা চান

নৌকায় চড়ে সংসদে গেলেও মন্ত্রিত্ব না পাওয়ার যাতনায় ভুগছেন দুই বাম নেতা হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন। মন্ত্রিত্ব করার সময় বাকস্বাধীনতার প্রয়োজন না পড়লেও এখন দুই নেতা বাকস্বাধীনতা চান। তারা এখন নির্বাচনে কারচুপির বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ এবং প্রশাসনে দলবাজি বন্ধ করে সুশাসনের দাবি করছেন।

দুই নেতার অভিমত, তারা নৌকায় চড়ে পথের দিশা পেয়েছেন; তবে তাদের ভাষায় বিএনপি-জামায়াতের মতোই পুরনো বামরা (সিপিবি-বাসদ-বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ ৮ দলের সমন্বয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট) পথ হারিয়ে ফেলেছে। গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দুই নেতা এভাবেই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগের রাতে ভোট সম্পর্কে ইনু বলেছেন, ওই নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত ভোটে আসবে না এমন প্রচারণা ছিল। ভোট হবে না নির্বাচনের মাধ্যমে একটি অস্বাভাবিক সরকার হবে। একটি ভূতের সরকার হবে। মন্ত্রী হওয়ার জন্য চেষ্টা-তদবির করে ব্যর্থ হয়ে এখন রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আমার মন্ত্রী হওয়ার খায়েশ নেই। মর্যাদার যে জায়গা সেটা মন্ত্রী নয়; আমরা বাকস্বাধীনতা ও সংগঠন করার অধিকার চাই। ৩০ ডিসেম্বর আগের রাতে ভোটের বাক্স ভর্তি করা নির্বাচনে বিজয়ী এমপি মেনন উপজেলা নির্বাচন সম্পর্কে বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে শুধু ভোট কারচুপিই নয়, আমাদের কর্মীদের দাঁড়াতেই দেয়নি। তিনি স্থানীয় এই নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থীদের পেশি শক্তির বর্ণনা তুলে ধরেন।

রাশেদ খান মেনন কার্যত মুম্বাইয়ের হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের কৌশল গ্রহণ করেছেন। বিগত বছরগুলোতে হিন্দি সিনেমার নায়িকারা মিডিয়ার খবরে থাকার চেষ্টায় নিজেরাই নিজেদের স্ক্যান্ডাল ছড়াতেন। মিডিয়ায় নাম থাকলে সিনেমার কাটতি বাড়ে; নায়িকাও বেশি বেশি সিনেমার অফার পান। সুবিধাবাদী রাজনীতির কারণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় রাশেদ খান মেনন হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের সেই পথ অনুসরণ করেছেন। তিনি মিডিয়ায় থাকার জন্য হঠাৎ করে কাদিয়ানীদের পক্ষ্যে বক্তব্য দিয়ে দেশের আলেম-ওলামাদের ক্ষেপিয়ে তুলেছেন। প্রতিদিন আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা মেননের বিরুদ্ধে মিটিং-মিছিল করছেন; তার বিচারের দাবি করছেন। এতে বেশ মিডিয়া কভারেজ পাচ্ছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি প্রতিদিন মিডিয়ায় থাকছেন।

মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় সরকারকে একহাত নিয়েছেন মেনন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ উন্নয়ন বৈষম্য দূর করা। চীনের চেয়েও দেশে বর্তমানে অতি ধনী বেড়েছে। শীর্ষ ৫ শতাংশ ধনীর সম্পদ ১২১ গুণ বেড়েছে; অন্যদিকে সবচেয়ে গরিবের ৫ ভাগ সম্পদ ক্রমান্বয়ে কমে এক ভাগে নেমে এসেছে। ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও বছরে ৮ লাখ বেকার বৃদ্ধি সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতির জন্য বিরাট হুমকি। দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা চ্যালেঞ্জ। ওপর থেকে দুর্নীতি দমন করার পরামর্শ দিয়ে সউদী আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক চুক্তির প্রসঙ্গে বলেছেন, ইয়ামেন সীমান্তে মাইন সরানো বহির্বিশ্বে আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করবে। যদিও ১০ বছরে মেনন নিজের সম্পত্তি ৪ গুণ এবং স্ত্রীর সম্পত্তি ২২ গুণ বৃদ্ধি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।

মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় জাসদের একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনুও সরকারকে তুলোধুনো করেছেন ওই সাক্ষাৎকারে। নির্বাচন ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় সরকার ও ক্ষমতার অপব্যবহার, ত্রুটি-বিচ্যুতি, দুর্নীতি, দলবাজি, ক্ষমতাবাজির বিরুদ্ধে সমাজের অভ্যন্তরে যে প্রতিবাদ আছে তা বুদবুদের মতো প্রকাশ পাচ্ছে, তার প্রমাণ ডাকসু নির্বাচনে নূরুল হক নূরের বিজয়। তবে আমাদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। আপনি যদি মনে করেন একজন ইনু বা মেনন বীরের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে ভূমিকা রাখবে বা বিরোধী দল জন্ম দেবে, এটা বাস্তবসম্মত নয়। সামনে এজেন্ডা তিনটি- বৈষম্য কমাও, দুর্নীতি ধ্বংস করো এবং দলবাজি বন্ধ করে সুশাসন দাও। বিএনপি-জামায়াতের মতোই পুরনো বাম দলগুলোও এখন পথ হারানোর পথে।

সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সুসম্পর্ক প্রসঙ্গে ইনু বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনোই হেফাজত বা তেঁতুল হুজুরের সঙ্গে সমঝোতা করেনি। করলে জাসদ সভাপতি হিসেবে ১৪ দলীয় জোটে থাকব কি থাকব না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতাম।

’৯০-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথম এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা দখলের অভিযোগে মামলা করা ইনু বলেন, আমি এরশাদের প্রশংসা করব। কারণ, সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীতে সই করে এরশাদ সংবিধানের আনুগত্য মেনেছেন। এ জন্য তার প্রশংসা করছি। তবে আমি এরশাদের বিচার চাই। কে বৈধ আর কে অবৈধ প্রেসিডেন্ট, সে সম্পর্কে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত আছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ভুল সংশোধনের দাবি জানিয়ে সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের মুখোমুখি করা যাবে না। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পত্রিকা চালানো নয়। সম্প্রচার কমিশন ও প্রেস কাউন্সিলের শক্তি বৃদ্ধি পাক; তারাই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বোঝাপাড়া করবে। রাষ্ট্র বা তার অঙ্গ সকাল-বিকেল ফোন করে কোনটা ছাপাবে কোনটা ছাপাবে না, এ রকম দায়িত্ব রাষ্ট্রের নয়। নির্ভয়ে সমালোচনার গ্যারান্টি রাষ্ট্রকে দিতে হবে। সংবাদকর্মীরা রাষ্ট্র বা সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, গণতন্ত্রের বন্ধু। রাজনৈতিক কর্মীর ভুল সহ্য করতে পারলে সংবাদকর্মীদের ভুল সহ্য করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরো ছয় মাস-এক বছর চলার পর ত্রুটিবিচ্যুতি ভেসে উঠবে; আইনে গলদ থাকলে তা সংশোধন করতে হবে। রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুর এই ‘ছবক’ দেশবাসী কিভাবে গ্রহণ করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে গুম: ফিরে আসা ব্যক্তিদের থেকে কিছু জানা যায়না কেন?


প্রায় ১৫ মাস নিখোঁজ থাকার পর গতকাল নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। তবে তিনি কোথায় কি অবস্থায় ছিলেন এবং ফিরলেন কিভাবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১টার দিকে মারুফ জামান একা একাই তার ধানমন্ডির বাসায় ফিরে আসেন। বাড়ির ম্যানেজার তাকে দেখতে পেয়ে ওপরে নিয়ে যান। এ সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে।

মিস্টার জামানের মেয়ে গতকাল তার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বাবার ফিরে আসার খবরটি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে আর কিছু জানতে না চাওয়ার অনুরোধ করেন। এমনকি পুলিশের সঙ্গেও এখন কথা বলছেন না তারা।

পুলিশ কি বলছে?

ধানমন্ডি থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন,”মারুফ জামানের মেয়ে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে তার বাবা ফিরে এসেছেন। তাদের ভবনের ম্যানেজার তাকে দেখতে পেয়ে বাসার ভেতরে নিয়ে আসেন।”

মিস্টার মারুফের মেয়ে তার বাবার সঙ্গে কাউকেই এখন পর্যন্ত দেখা করতে দেননি। তাই তিনি কিভাবে ফিরেছেন, কোথা থেকে এসেছেন, কে দিয়ে গেছেন- কোন কিছুই জানা সম্ভব হয়নি।

ওসি আব্দুল লতিফ বলেন,”মারুফ জামানের খোঁজ নিতে আমার দুইজন লোক ওনার বাসায় গেলে তার মেয়ে বলেছেন যে উনি অসুস্থ। কোন কথা বলবেন না। একটু সুস্থ হওয়ার পর কথা বলবেন।”

মিস্টার জামান কিছু জানালে যদি কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকে তাহলে পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানান ওসি আব্দুল লতিফ।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেক পরিবারের অভিযোগ তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সহযোগিতা পাননা।

আশার আলো দেখছেন নিখোঁজদের পরিবার:

২০১৭ সালের চৌঠা ডিসেম্বর মারুফ জামান নিজ বাড়ি থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন।

তারও চার বছর আগে জাতীয় নির্বাচনের সময় আরো কয়েকজনের সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছিলেন সাজেদুল ইসলাম নামে বিএনপির এক সংগঠক।

গত ছয় বছর ধরে প্রিয়জনের খোঁজ না পেলেও মিস্টার জামানের ফিরে আসা নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে সাজেদুলের পরিবারে।

তবে হাইকোর্টের রুল জারি সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত ভাইয়ের সন্ধানে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ জানান নিখোঁজের বোন সানজিদা ইসলাম।

“এটা আমাদের জন্য আশা যে ১৫ মাস পরে যদি মারুফ জামান ফিরে আসেন, তাহলে নিখোঁজ অন্যরাও ফিরতে পারেন।”

“আমরাও ভাইয়ের সন্ধানের দাবিতে অনেক সংবাদ সম্মেলন করেছি। মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে তারা দেখবেন। কিন্তু তারা কোন তদন্ত করেনি।”

কেন তারা নীরব?

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৩১০জন গুমের শিকার হয়েছেন৷ তাদের মধ্যে ৩৩ জন ফেরত এসেছেন৷

তবে যারা ফিরে এসেছেন তাদের সঙ্গে কি ঘটেছিলো সে ব্যাপারে প্রায় কেউই মুখ খোলেননি।

রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনি কাঠামোর ওপর আস্থাহীনতা এই নীরবতার বড় কারণ বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মী এবং গুম পরিস্থিতির গবেষক নূর খান।

“রাষ্ট্র বা আইনশৃঙ্খলা-বাহিনীর পক্ষ থেকে এমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়না, যার কারণে তারা ছাড়া পাচ্ছেন এবং যারা তাদের আটক করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।”

এছাড়া এতো দীর্ঘ সময় কাউকে আটক রাখা কোন দুষ্কৃতিকারী দলের পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব যারা অনেক শক্তিশালী এবং নির্দেশিত পন্থায় কাজ করে।”

এ পর্যন্ত যারা ফিরে এসেছেন তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন নূর খান।

তিনি জানান প্রত্যেকের বক্তব্যে এটাই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে তাদেরকে এমন জায়গায় রাখা হতো যেখানে সাধারণ মানুষের চলাচলের সুযোগ নেই এবং আটককারীরা প্রশিক্ষিত গ্রুপের সদস্য।

তবে তারা এই কথাগুলো প্রকাশ্যে আনতে চান না, আরেকটি বিপর্যয় ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায়।গুম ঠেকাতে কি প্রয়োজন?

তবে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ফিরে আসা প্রত্যেকের অভিজ্ঞতাগুলো সামনে আনা জরুরি বলে মনে করেন মানবাধিকার-কর্মী সুলতানা কামাল।

যেসব আশঙ্কা ও হুমকির কারণে এই মানুষগুলো মুখ খুলতে ভয় পান সেই ভয় দূর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর আরও জোরালো ভূমিকা নেয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

সুলতানা কামাল বলেন, “এর আগে যারা হারিয়ে গিয়েছিলেন, পরে ফিরে এসেছেন, তাদের কাছে আমরা প্রশ্ন রেখেছিলাম, তার মধ্যে একটি উত্তর এমন ছিল যে, ছেলেমেয়ের ওপর যখন হুমকি আসে তখন মুখ খোলা কঠিন। তার মানে নিশ্চয়ই তাদেরকে এমনই কোন শর্ত দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। যার জন্য তারা মুখ খুলতে ভয় পান।”

“কিন্তু এটা আমি মনে করি তাদেরও একটা দায়িত্ব জানানো যে কি হয়েছিল না হয়েছিল। তাহলে আমরাও হয়তো এটা সুরাহা করার একটা পথ পেতাম। তাছাড়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তারাই বা এটার সুরাহা করেননা কেন?”

নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনের অভিযোগ, তারা প্রিয়জনের খোঁজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলেও এখনও কোনটির তদন্ত শুরু করা হয়নি।

এমন অবস্থায় প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।

উৎসঃ বিবিসি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here