গণমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন মারাত্মকভাবে বেড়েছে, সূচকে পিছিয়েছে ৪ ধাপ বাংলাদেশ

0
176

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক বৈশ্বিক সূচকে চার ধাপ নিচে নেমে গেছে বাংলাদেশ।সূচকে থাকা ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। প্যারিসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার বৃহস্পতিবার বার্ষিক এই সূচক প্রকাশ করেছে।

বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক ২০১৯ (ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স ২০১৯) –এ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে নরওয়ে। শীর্ষ পাঁচ দেশের সবগুলোই ইউরোপের। তালিকার সর্বশেষ দেশ ভিয়েতনাম।

এই সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন মারাত্মকভাবে বেড়েছে। মাঠ পর্যায়ে সংবাদকর্মীদের ওপর রাজনৈতিক কর্মীদের হামলা, নিউজ ওয়েবসাইট বন্ধ এবং সাংবাদিক গ্রেফতারের ঘটনা বেড়েছে বলে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার-এর বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে ওই সূচকে বলা হয়েছে, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত কড়া নীতির যৌথ শিকার বাংলাদেশি সাংবাদিকরা’।

ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে নির্বাহীরা। এই আইনে নেতিবাচক প্রচারণার শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড। যেসব সাংবাদিক এবং ব্লগাররা সমাজে অতিরিক্ত ধর্মনিরপেক্ষ মত প্রকাশের সুরক্ষা চান তারা উগ্রবাদী ইসলামপন্থীদের হয়রানি আর হত্যার শিকার হচ্ছে’।

প্যারিসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ) সারাবিশ্বের সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন ও হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ করে তা প্রতিরোধে কাজ করে। সংস্থাটির ২০১৯ সালের সূচকে দেখা গেছে সাংবাদিকদের ওপর ঘৃণা সহিংসতায় পরিণত হচ্ছে। আর এর ফলে সারাবিশ্বে ভয়ের পরিবেশ বাড়ছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলমের গ্রেফতারের ঘটনাকে সামনে এনেছে রিপোর্টাস উইদাউট বর্ডার। বলা হয়েছে সরকার বিরোধীদের দমন করতে বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহারের নজির এই ঘটনা। গত বছর গ্রেফতার হয়ে একশো দিনেরও বেশি কারাগারে কাটিয়েছেন এই ফটো সাংবাদিক।

আরএসএফ-এর সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান স্বভাবতই নিচের দিকে। দুই ধাপ নিচে নেমে ভারতের অবস্থান ১৪০ আর তিন ধাপ নিচে নেমে পাকিস্তানের অবস্থান ১৪২।

আরএসএফ এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করতে পারা দেশের সংখ্যা কমে যাচ্ছে আর স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরালো করা অব্যাহত রেখেছে।

পরপর তিন বছর ধরে এই সূচকে প্রথম স্থান অর্জন করলো নরওয়ে। ২০১৯ সালে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড। সাইবার নিপীড়ন বাড়ায় একধাপ নিচে নেমে সুইডেনের অবস্থান তিনে। আর চতুর্থ অবস্থানে নেদারল্যান্ডস। আর পঞ্চম অবস্থানে ডেনমার্ক। প্রধম পাঁচটি দেশের সবগুলোই ইউরোপের।

তালিকার নিচের দিকে সর্বশেষ অবস্থানে তুর্কমেনিস্তান। এর পর ধারাবাহিকভাবে ওপরের দিকে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, ইরিত্রিয়া, চীন, ভিয়েতনাম।

উৎসঃ ‌justnewsbd

আরও পড়ুনঃ ‘আওয়ামী লীগ-হাসিনার কড়া নীতির যৌথ শিকার বাংলাদেশি সাংবাদিকরা’


সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক বৈশ্বিক সূচকে অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের।সূচকে থাকা ১৮০টি দেশের মধ্যে চার ধাপ অবনতি ঘটে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। প্যারিসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার বৃহস্পতিবার বার্ষিক এই সূচক প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে ওই সূচকে বলা হয়েছে, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত কড়া নীতির যৌথ শিকার বাংলাদেশি সাংবাদিকরা’।

এই সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন মারাত্মকভাবে বেড়েছে। মাঠ পর্যায়ে সংবাদকর্মীদের ওপর রাজনৈতিক কর্মীদের হামলা, নিউজ ওয়েবসাইট বন্ধ এবং সাংবাদিক গ্রেফতারের ঘটনা বেড়েছে বলে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার-এর বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক ২০১৯ (ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স ২০১৯) –এ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে নরওয়ে। শীর্ষ পাঁচ দেশের সবগুলোই ইউরোপের। তালিকার সর্বশেষ দেশ ভিয়েতনাম।

ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে নির্বাহীরা। এই আইনে নেতিবাচক প্রচারণার শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড।’

প্যারিসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ) সারাবিশ্বের সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন ও হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ করে তা প্রতিরোধে কাজ করে। সংস্থাটির ২০১৯ সালের সূচকে দেখা গেছে সাংবাদিকদের ওপর ঘৃণা সহিংসতায় পরিণত হচ্ছে। আর এর ফলে সারাবিশ্বে ভয়ের পরিবেশ বাড়ছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলমের গ্রেফতারের ঘটনাকে সামনে এনেছে রিপোর্টাস উইদাউট বর্ডার। বলা হয়েছে সরকার বিরোধীদের দমন করতে বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহারের নজির এই ঘটনা। গত বছর গ্রেফতার হয়ে একশো দিনেরও বেশি কারাগারে কাটিয়েছেন এই ফটো সাংবাদিক।

আরএসএফ-এর সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান স্বভাবতই নিচের দিকে। দুই ধাপ নিচে নেমে ভারতের অবস্থান ১৪০ আর তিন ধাপ নিচে নেমে পাকিস্তানের অবস্থান ১৪২।

আরএসএফ এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করতে পারা দেশের সংখ্যা কমে যাচ্ছে আর স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরালো করা অব্যাহত রেখেছে।

পরপর তিন বছর ধরে এই সূচকে প্রথম স্থান অর্জন করলো নরওয়ে। ২০১৯ সালে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড। সাইবার নিপীড়ন বাড়ায় একধাপ নিচে নেমে সুইডেনের অবস্থান তিনে। আর চতুর্থ অবস্থানে নেদারল্যান্ডস। আর পঞ্চম অবস্থানে ডেনমার্ক। প্রধম পাঁচটি দেশের সবগুলোই ইউরোপের।

তালিকার নিচের দিকে সর্বশেষ অবস্থানে তুর্কমেনিস্তান। এর পর ধারাবাহিকভাবে ওপরের দিকে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, ইরিত্রিয়া, চীন, ভিয়েতনাম।

উৎসঃ ‌justnewsbd

আরও পড়ুনঃ বগুড়ায় বিএনপি নেতা মাহবুব আলম শাহীন হত্যা মামলায় : ৯ জনের নাম প্রকাশ


বগুড়ার সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, পরিবহন ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন হত্যা মামলায় গ্রেফতার পায়েল শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিল্লাহ হুসাইনের কাছে এ স্বীকারোক্তি দেন। সে হত্যায় সম্পৃক্ত ৯ জনের নাম প্রকাশ করেছে।

একই আদালত অপর সন্ধিগ্ধ আসামি রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, অ্যাডভোকেট শাহীন হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী আকতারা জাহান শিল্পী ৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেছেন। বুধবার ভোরে শহরের নিশিন্দারার বাড়ি থেকে রাসেলকে গ্রেফতার ও হত্যায় ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, রাসেলের দেয়া তথ্যে গাবতলী উপজেলার কাগইল ইউনিয়নের আমলিচুকাই গ্রামে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে পায়েল শেখকে গ্রেফতার করা হয়। পায়েলের বিরুদ্ধে সদর থানায় বিভিন্ন ধারায় ৯টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে পায়েল ও রাসেলকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পায়েল ম্যাজিস্ট্রেট বিল্লাল হুসাইনের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ ছাড়া রাসেলকে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত ৫ দিনের মঞ্জুর করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপশহর ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আম্বার হোসেন জানান, স্বীকারোক্তিতে পায়েল হত্যায় জড়িত ৯ জনের নাম প্রকাশ করেছে। তবে স্বীকারোক্তিতে আর কী প্রকাশ করেছে তা এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

এর আগে সে পুলিশের কাছে স্বীকার করে বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃত্বের কোন্দলে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনকে উপশহর এলাকায় কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত ও দায়ের কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। সব দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা চলে যান। পথচারীরা তাকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে শাহীনের লাশ শহরের ধরমপুর স্কুলপাড়ার বাড়িতে নেয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের দ্বন্দ্ব ও নেতাদের দায়ী করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ৩৫০ কোটি টাকা নিয়ে পালাতে গিয়ে আ.লীগ নেতা বিমানবন্দরে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান শামীম বিভিন্ন ব্যাংকের ৩৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে পলাতক ছিলেন।

সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক থেকে একই জমি একই ফ্লাটের জমি জামানত রেখে অভিনব কায়দায় ৩৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে ব্যাংকের দৃষ্টিতে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন মুজিবর। তিনি দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন এতদিন। বৃহস্পতিবার অস্ত্র ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল থেকে তাকে আটক করে এভিয়েশন সিকিউরিটি গ্রুপের (এভসেক) সদস্যরা।

মুজিবর রহমান শামীম বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ দলীয় নির্বাচিত চেয়ারম্যান। শাসকদলের আশ্রয়ে থেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা চিতলমারী-বাগেরহাটসহ পাশের পিরোজপুর জেলাতে দাপিয়ে বেড়ালেও ব্যাংকের দৃষ্টিতে পলাতক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্যাংকের টাকা মেরে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া শামীম প্রথমে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ২০১১ সালে চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

চিতলমারীর উমাজুড়ি গ্রামের মৃত গফুর মোল্লার ছেলে শামীম আওয়ামী লীগ দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ। উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে তার শূন্য আসনে ২০১৪ সালের অক্টোবরে স্ত্রী বিউটি আক্তারকে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে আনেন।

ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা মেরে দিয়ে দু’হাত ভরে টাকা উড়িয়ে ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান, স্ত্রীকে ইউপি চেয়ারম্যান বানিয়ে থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। ব্যাংকের খাতায় পলাতক মুজিবর রহমান শামীম চিতলমারীর পাশের জেলা পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কালিগঞ্জ এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিশাল এক ইটের ভাটা। এ কাজে তিনি কৃষকসহ সরকারের খাস জমি দখল করেছেন। নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরিপাগলা গ্রামে প্রায় ৫০ একর জমির ওপরে গড়ে তুলেছেন রিসোর্ট, মাছ ও গরুর খামার। রিসোর্টে আলিশান তিনটি ভবন গড়ে তুলেছেন তিনি।

হরিপাগলা গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জানা যায়, শামীমের রিসোর্টে প্রভাবশালী নেতা ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায় নিয়মিত আসর বসাতেন। সেখানে চলে নানা অপকর্ম।

ব্যাংকের টাকা মেরে নিজ এলাকা চিতলমারী ছেড়ে পিরোজপুরে সেজেছেন দানবীর। বাগেরহাট জেলা মানবাধিকার কাউন্সিলের সভাপতি, বাগেরহাটের সাংস্কৃতিক সংগঠন দলছুটের সভাপতির পদও বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। অর্থের জোরে চিতলমারী থেকে প্রকাশিত চিতলমারীর অন্তরালে ও পিরোজপুর থেকে প্রকাশিত তথ্য দর্পন নামের দুটি পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতিও হয়েছেন। চিতলমারী ও নাজিরপুর-পিরোজপুরের এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তিদের সঙ্গে শামীমের সখ্যতা রয়েছে।

ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে এতদিন নিজের অপকর্ম চাপা দিয়ে রাখলেও সম্প্রতি তা ফাঁস হয়ে যায়। স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশ হয় তার নানা অপকর্ম নিয়ে সংবাদ। দানবীর সাজা শামীমের আসল রূপ প্রকাশিত হয়ে পড়ায় চিতলমারীসহ বাগেরহাট ও পিরোজপুরে তেলপাড় সৃষ্টি হয়।

উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম সম্প্রতি তারই উপজেলার ইউএনও মো. আবু সাঈদের বিরুদ্ধে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করে আলোচনায় আসেন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক তপন কুমারের নির্দেশে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জহিরুল আলম ১১ ফেব্রুয়ারি ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এরই মধ্যে গা ঢাকা দেন শামীম।

তবে চিতলমারীর লোকজন জানিয়েছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম নিজের দুর্নীতি ঢাকতে ইউএনওর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ভুয়া অভিযোগ তুলেছেন। শামীম বড় ধরনের প্রতারক।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ বিএনপি নেতা মাহবুব আলম শাহীন হত্যার আগমুহূর্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে


বগুড়া জেলা বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন হত্যাকান্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পাশাপাশি এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলো- বগুড়া শহরের নিশিন্দারা মধ্যপাড়ার মৃত কালুর ছেলে এজাহার নামীয় আসামী পায়েল শেখ (৩৮) ও সন্দেহভাজন আসামী নিশিন্দারা মন্ডল পাড়ার আবু তাহেরের ছেলে রাসেল (২৮)।

বৃহস্পতিবার বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূইয়া এ তথ্য জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল রোববার বাংলা নববর্ষের রাতে বগুড়া উপশহর এলাকায় শাহীনকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের স্ত্রী আক্তার জাহান শিল্পী বাদী হয়ে জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বগুড়া পুলিশ সুপার বলেন, জেলা মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃত্ব নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এই দ্বন্দের জের ধরেই হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা বলেন- গত ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যার পর মোটর মালিক গ্রুপের এক নেতার অফিসে গোপন বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বিএনপি নেতা ও আইনজীবি অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০ জনের একটি দল মোটরসাইকেল নিয়ে উপশহর কাঁচা বাজার এলাকায় এই হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করে।

বৃহস্পতিবার ভোরে হত্যাকান্ডে জড়িত আসামী রাসেলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সেখান থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তার দেয়া তথ্য মতে আরেক আসামী পায়েল শেখকে তার মেয়ের শ্বশুরবাড়ী গাবতলী উপজেলার কাগইল ইউনিযনের আমলিচুকাই গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের নিকট থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানা গেছে। গ্রেফতারকৃত দুজনের মধ্যে পায়েল ৯টি মামলার এজাহারনামীয় আসামী।

পুলিশ সুপার আরো জানান, অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আসামীদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ যুবলীগ নেতা আলী হোসেন ৪ বছর আমার দেহকে নিয়ে খেলেছে, এখন আমার মেয়েকে চায়


স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকেই মোবাইল ফোনে সব সময় বিরক্ত করতো যুবলীগ নেতা আলী হোসেন উজ্জল। এভাবে আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে একদিন ওর বাড়িতে ডেকে নেয়। তখন বাড়িতে উজ্জল ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। ওর ঘরে নিয়ে আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে সে ধর্ষণ করে। ঘরের ভেতর আগে থেকেই মোবাইল ফোনের ভিডিও সেট করা ছিল তা আমি জানতাম না। এরপর থেকে সেই ভিডিও আমার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়। তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক না করলে আমার স্বামীর কাছে ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়ে দেবে এবং ইন্টারনেটে তা ছড়িয়ে দেবে বলে ভয়ভীতি দেখায়। যার কারণে চারটি বছর ধরে আমাকে যখন যেভাবে খুশি সে ব্যবহার করে যাচ্ছিল। সে শুধু একাই আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেনি, তার বন্ধুদের দিয়েও প্রতি নিয়ত আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে।

আমার ইজ্জত, মান সম্মান সব কিছু কেড়ে নেয়ার পর ওই পিচাশের কু দৃষ্টি পড়ে আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের দিকে। তাই মেয়ের ইজ্জত বাঁচাতে বাধ্য হয়ে থানায় মামলা করতে হয়েছে।

এমন লোমহর্ষক ঘটনাটি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের হেলাচিয়া গ্রামে। ওই ইউনিয়নের প্রভাবশালী ইউপি সদস্য দরবেশ বেপারীর পুত্র ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন উজ্জল।

লোমহর্ষক এই ঘটনার কাহিনী বলতে গিয়ে বার বারই কেঁদে ফেলেন ওই নারী। তার মুখ থেকে বেড়িয়ে আসে তার ওপর নির্যাতনের আরো ভয়াবহ কথা। বলেন, চার বছর ধরে আলী হোসেন উজ্জল আমার জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে। আমার দেহ ভোগ করেই সে ক্ষান্ত হয়নি। আমাকে দিয়ে বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণ উঠিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ভয়ভীতি, প্রতারণা আর আমার সাথে যৌন সম্পর্কের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে টানা চার বছর ওর ডাকে আমি সাড়া দিয়ে আসছিলাম। যখন খুশি আমাকে ওর বাড়িতে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতো। এই ঘটনা আমার স্বামীকে বলে দেবে কিংবা ইন্টারনেটে সব ছেড়ে দেবে এই বলে সব সময় আমাকে ব্লাকমেইল করতো এবং ওর কাছে যেতে বাধ্য করতো।

এভাবে দিনের পর দিন মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও ওর রোষানল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারিনি। সব কিছুই ওকে উজার করে দিয়েছি। এছাড়া ওর ব্যবসার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আশা অফিস, জাগরনিসহ বিভিন্ন এনজিও থেকে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা আমাকে দিয়ে সে তুলে নেয়। প্রথম প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করলেও পরে আর করতো না। গেল এক বছর ধরে সে আর তার বাড়িতে আমাকে ডাকতো না। নিয়ে যেতো মানিকগঞ্জের উত্তর সেওতা এলাকার মনিরা বেগম মনোয়ারার ৪ তলা বিশিষ্ট বাসার চিলাকোঠার একটি কক্ষে।

এখানে সপ্তাহে ২-৩ দিন আমাকে নিয়ে আসতো। যৌন উত্তেজক ঔষুধ সেবন করে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চালানোর পর আবার বাড়ি দিয়ে আসতো। বাড়ির মালিক মনোয়ারা বিনিময়ে ১ হাজার করে টাকা নিতো উজ্জলের কাছ থেকে। শুধু উজ্জলই নয় তার বন্ধুদেরও নিয়ে আসতো সেখানে। একেক দিন একেক বন্ধুদের সাথে আমাকে শারীরিক সম্পর্ক করাতে বাধ্য করতো উজ্জল। এমনকি ওর স-মিলের কর্মচারীদের দিয়েও আমাকে শারীরিক সম্পর্ক করাতো। সেই সম্পর্কের ভিডিও করতো সে। এভাবে এক বছর ধরে মানিকগঞ্জের ওই বাসায় ওর কথা মতো আসতাম।

তিনি আরো বলেন, উজ্জল শুধু আমার সাথে সম্পর্ক করে ক্ষুধা মিটতো না। ওর কু-নজর পড়ে আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের দিকে । মেয়েকে না এনে দিলে কিস্তির টাকা না দেয়ার হুমকি, ইন্টারনেটে ভিডিও ছেড়ে দেয়া এবং স্বামীর কাছে সব কিছু বলে দেবে এমন ভয় দেখাতে থাকে।

আমি ওকে বলতাম আমি নিজে মরে যাবো তার পরও আমার মেয়েকে তুলে দিতো পারবো না। তারপরও সে পিছু ছাড়ছিল না। একদিকে কিস্তির টাকার জন্য পাওনাদাররা বাড়ি এসে যা না তাই বলে যাচ্ছে, অন্য দিকে ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে আর সব কিছু তার স্বামীকে জানিয়ে দেবে এমন নানা জটিলতার জালে আটকে পড়ে যাই।

কোন উপায়ন্ত না পেয়ে বাধ্য হয়ে গত মঙ্গলবার মনোয়ারার বাসায় মেয়েকে নিয়ে যাই। প্রথমে মেয়েকে নিচে রেখে আমি ৪তলা বাসার চিলাকোঠার একটি কক্ষে যাই । যৌন উত্তেজক ঔষুধ সেবন করে প্রথমে উজ্জল আমার সাথে বেশ কিছুক্ষণ শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এরপর মেয়েকে চিলকোঠায় নিয়ে আসতে বলে। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেলে উজ্জল তার মোবাইল ফোনটি ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। মেয়ের সম্মান বাঁচাতে বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার রাতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করি।

বুধবার মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্য সরকারি হাসপাতালের আমার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। ওই পশুর উপযুক্ত শাস্তি না হলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ওই নারী।

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ রকিবুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে মো. আলী হোসেন উজ্জল এবং তার এই অপকর্মে সহায়তা করার জন্য ওই বাড়ির মালিক মনিরা বেগম মনোয়ারার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া আসামিদের ধরার চেষ্টাও চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা হচ্ছে।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ বগুড়ায় নিহত বিএনপি নেতা শাহীনের পরিবারের পাশে মির্জা ফখরুল


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমানে দেশে আইনের শাসন নেই, ন্যায়বিচার নেই, মানবাধিকার নেই। দেশে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। কোথাও কারো নিরাপত্তা নেই। বিএনপি নেতা শাহীন হত্যা প্রমাণ করে দেশে আইনশৃংখলা বলতে কিছু নেই। তাই দেশের মানুষকে সকল অপকর্মের বিরদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, রুখে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, শাহীনের পরিবার আজ অসহায়। জনগণের পাশে দাঁড়ানোই শাহীনের অপরাধ। এ হত্যাকান্ডে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন। তারা বলেছেন, বগুড়াবাসীর পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। তাই বগুড়াবাসী তাদের দুজনের জন্য দোয়া করবেন।

তিনি বগুড়ায় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনের পরিবারের সাথে সাক্ষাত শেষে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন। তিনি শাহীনের শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং ধৈর্য্য ধরতে বলেন।

তিনি আরো বলেন, অধিকার আদায়ে একসাথে থাকবেন। নেতাকর্মীরা শাহীনের পাশে দাঁড়াবেন। যেকোন প্রয়োজনে যেকোন সময় পাশে থাকবো। আল্লাহ যেন শাহীনকে বেহেশত নসিব করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, নেত্রী কারাগারে অত্যন্ত অসুস্থ। তিনি হুইল চেয়ার ছাড়া চলতে পারেন না। এ ছাড়া তারেক রহমান বিদেশে রয়েছেন। তাই তাদের জন্য দোয়া করবেন।

এসময় বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, এ সরকারের আমলে মানুষের জীবনের কোন মূল্য নেই। অবিলম্বে শাহীন হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচার করতে হবে। আমি এ আন্দোলনের সাথে থাকবো।

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, শাহীন হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবো।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো: মোশারফ হোসনে, বিএনপি নেতা আলী আজগর হেনা, সাবেক এমপি গোলাম মো: সিরাজ, আহসানুল তৈয়ব জাকির, এম আর ইসলাম স্বাধীন, শাহ মেহেদী হাসান হিমু, শাহাবুল আলম পিপলু, এস এম রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার প্যারোলের খবর প্রোপাগান্ডা: রুহুল কবির রিজভী


এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্যারোল মুক্তি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার খবর নিছক প্রোপাগান্ডা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্যারোলের নামে মাইনাস তত্ত্বের অশুভ চক্রান্ত করে লাভ হবে না বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, এ প্রোপাগান্ডাগুলোর সঙ্গে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও জড়িত বলে গুঞ্জন রয়েছে। খালেদা জিয়া প্রচণ্ড অসুস্থ, কিন্তু তা নিয়ে মিডিয়াগুলো নীরব। প্যারোল নিয়ে সরকারি মিশন সফল করার জন্য ক্ষমতাসীনরা চতুর রাজনীতিতে লিপ্ত রয়েছে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন মিডিয়ায় সূত্রবিহীন একটি খবর ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্যারোলে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন, এমনকি তারা তারিখও বলে দিচ্ছেন! কিন্তু বাস্তবতা হলো- বিএনপির কোনো সূত্র এমন কিছুই জানে না। অথচ সরকারপন্থী কয়েকটি মিডিয়া প্রতিদিন মনগড়া প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রোপাগান্ডাগুলোর সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও জড়িত বলে ব্যাপক গুঞ্জন আছে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিযে রিজভী বলেন, তিনি শারীরিকভাবে খুবই বিপর্যন্ত। হাত-পা নাড়তে পারছেন না। আর্থ্রাইটিসের ব্যথার কারণে পা নাড়াতে পারছেন না। তাকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। গতকালও চিকিৎসকরা বলেছেন, তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এ অবস্থায় দেশনেত্রী চাচ্ছেন তার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। কিন্তু এই অবৈধ সরকার তার জীবন হুমকির মুখে ফেলে সুদূরপ্রসারী স্বার্থসিদ্ধির ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।

খালেদা জিয়ার দ্রুত মুক্তি দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আইনজীবীরা বলেছেন, তাকে যে মিথ্যা সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে অন্যায়ভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে, তা সহজ জামিনযোগ্য। আইনি প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক পথে জামিনে মুক্তি চান তিনি।

খালেদা জিয়াকে হত্যা করে সরকার মাইনাস ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে চাইছে দাবি করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলব- দেশনেত্রীকে নিয়ে মাইনাস ফর্মুলা বন্ধ করুন। ওয়ান ইলেভেনের সরকার মাইনাস-টু ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণের প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আপসহীন কঠোর ভূমিকায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। তারা সফল হলে আজ আপনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। প্যারোলের নামে মাইনাস তত্ত্বের অশুভ চক্রান্ত করে লাভ হবে না। তার জামিনে আর বাধা দেবেন না। আদালতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। আদালতের উপর থেকে অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ হলেই আমাদের নেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে বেরিয়ে আসবেন। আইনকে তার নিজের গতিতে চলতে দিন। অপতৎপরতা বন্ধ না করলে আখেরে আপনাদেরকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। পরের জন্য গর্ত খুড়লে নিজেকেই সেই গর্তে পতিত হতে হয়-এটা কেবল প্রবাদ নয় বাস্তব। সুতরাং দেশনেত্রী ও বিএনপি-কে নিয়ে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন।

আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণ ক্ষিপ্ত মন্তব্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন,আপনাদের প্রতি দেশের জনগণ এমনিতেই চরম ক্ষিপ্ত। চক্রান্ত করলে জনগণ উপযুক্ত জবাব দেবে। আমি আবারও দৃঢ়কন্ঠে বলতে চাই-অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা ও নি:শর্ত মুক্তি দিতে হবে।

সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ এমন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, মধ্যরাতে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতার মসনদ দখলে রাখা অবৈধ সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের লাশের ওপর দেশ চালাচ্ছেন। তাই কোনো কিছুই এখন যেন তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। দেশে চলছে এক চরম নৈরাজ্য এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি। দেশে কোনো সরকার আছে বলে অনুমিত হচ্ছে না। খুন-ধর্ষণ-লুটপাটে মত্ত হয়ে পড়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। পুলিশ প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা রাতের ভোটে ব্যালটবাক্স ভরে দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন, তারাও বেপরোয়া হয়ে গেছেন। সরকারকে পরোয়া করছে না। নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন তারা। প্রতিদিন প্রাত্যহিক খবরের কাগজগুলোর পাতা ভরে থাকছে খুন-ধর্ষণ, পাশবিক নিপীড়নসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনায়।

দেশে ধর্ষণের উৎসব চলছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, দেশে যেন ধর্ষণের উৎসব চলছে। নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শিশু-কিশোরী কিংবা বয়স্ক নারী কেউ নিরাপদ নন। প্রতিদিনই শিশু-কিশোরী ও বয়স্ক মহিলারা বর্বরতার শিকার হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, পাশবিক নির্যাতনের পর তাদের হত্যা করা হচ্ছে। গণপরিবহনে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে, স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে, অফিসে কিংবা বাসাবাড়িতে, রাস্তাঘাটে সর্বত্রই নারী ও শিশুরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছেন।

ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যার বিচার দাবি করে রিজভী বলেন, যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। সেখানকার অন্ধকারের ভোটের এমপি থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং পুলিশের সহযোগিতায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওলামা লীগ নেতা সিরাজউদ্দৌলা অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছিল দিনের পর দিন। অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার নির্দেশে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের জ্ঞাতসারে পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমের টাকায় ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদত হোসেন শামীম ও ছাত্রলীগ নেতা নুরুদ্দিনের সক্রিয় অংশগ্রহণে সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা প্রভাবশালীরা পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। এরা কতটা বেপরোয়া এবং শক্তিশালী যে, খুনির পক্ষে প্রকাশ্যে মিছিল করে হুমকি পর্যন্ত দেয়।

তিনি বলেন, পত্রপত্রিকায় খবর বেরিয়েছে- ফুলগাজীর উপজেলা চেয়ারম্যন একরামকে যার নির্দেশে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, সেই বিনাভোটের এমপির লোকজন নিয়ে নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে মামলা তোলার জন্য চাপ দিচ্ছে। এর পরেই নুসরাতের পরিবারকে ডেকে প্রধানমন্ত্রী ধরিয়ে দিলেন একটি ব্যাংকের নিয়োগপত্র। জনমনে ধারণা, দলীয় নেতাকর্মীদের বাঁচানোর সনদই হচ্ছে এই নিয়োগপত্র। যাতে করে পরিবারটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে মামলার গতিবদল করা যায়।

সোনাগাজী থানার ওসির বিচার দাবি করে রিজভী বলেন, নয় দিন হলো নুসরাত মারা গেছেন। অথচ এই দুষ্কর্মের সহযোগিতাকারী সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়নি। যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর নুসরাত জাহানকে ডেকে নিয়ে সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে লাঞ্ছিত করে, সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলেও তার কোন বিচার হচ্ছে না।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন নিয়ে বই লিখেছেন অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ


সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন ও কর্ম নিয়ে বই লিখেছেন বিএনপি ঘরানার ‍বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সাবেক সভাপতি আবদুল হাই শিকদার।

‘খালেদা জিয়া-তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শিরোনামে বইটি শিগগিরই বাজারে আসছে। বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান হবে আগামীকাল শুক্রবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে।

গত শতকের আশির দশকের শুরুতে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরই গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। নেতাকর্মীদের চাপে দলের হাল ধরেন সেই সময়। সেনাশাসক জিয়াউর রহমান দল গঠন করলেও বিএনপির জনভিত্তি তৈরি হয় খালেদা জিয়ার হাত ধরেই।

খালেদা জিয়া রাজনীতির শত ঘাতপ্রতিঘাত ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নিজেকে আপসহীন নেত্রীতে পরিণত করেন। রাজপথে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। এর পর শতপ্রতিকূলতার পরও জাতীয়তাবাদী চেতনার রাজনীতির আইকন হয়ে ওঠেন তিনি। সেই সঙ্গে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির নিউক্লিয়াসে পরিণত হন। এ পর্যন্ত আসতে তাকে বহু আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জেল খাটাসহ তার অসামান্য অবদান উঠে এসেছে খালেদা জিয়া-তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর বইটিতে।

কখনও নির্বাচনে পরাজিত না হওয়া এই সংগ্রামী নেত্রী গত এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে তিনি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টিও বইয়ে উঠে এসেছে।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখা বইটির দাম ধরা হয়েছে দুই হাজার টাকা। তবে অনুষ্ঠানস্থলে এই বই পাওয়া যাবে মাত্র এক হাজার টাকায়।

এর আগে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও নানা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ‘বেগম খালেদা জিয়া : হার লাইফ, হার স্টোরি’ শীর্ষক বই লিখেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ। ৭১৮ পৃষ্ঠার ওই বইতে গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদে কারাবাস, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রীর জীবনের এসব ঘটনার অনেক অজানা কথা তুলে ধরেন লেখক, যা জাতীয়তাবাদী চেতনার লোকজনের চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ প্যারোলে মুক্তি ও এমপিদের শপথ গ্রহণ : যা ভাবছেন খালেদা জিয়া ও বিএনপি


বিএনপির ছয়জন সংসদ সদস্য (এমপি) শপথের বিনিময়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হবে এমন গুঞ্জন বেশ জোরালো হচ্ছে। এমনকি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে মর্মে গুঞ্জন আরো বাড়ছে। যদিও বিএনপি এ ধরনের গুঞ্জন শুরু থেকেই নাকচ করে আসছে। তবে গুঞ্জন যতই থাকুক দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না বিএনপির এমপিদের কেউই। তারা বলছেন, আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হোক। তারপর শপথ নেয়া বা সংসদে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কারণ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তিতে কোনো বাধা নেই। এ ক্ষেত্রে সরকারই একমাত্র বাধা। জামিন পেলেও নানা অজুহাতে খালেদা জিয়াকে বন্দী রাখা হচ্ছে। আর খালেদা জিয়াও প্যারোলে মুক্তিতে রাজি নন। এমনই পরিস্থিতিতে বিএনপির এমপিদের শপথ নেয়া বা না নেয়ার বিষয়টি বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত এমপিদের শপথ নেয়ার যে বিধান আছে এখন তা ঘনিয়ে এসেছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বিএনপির ছয় এমপিকে শপথ নিতে হবে। অন্যথায় তাদের সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ৮ জন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ছয়জন। তারা হলেন- ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মো: জাহিদুর রহমান, বগুড়া-৪ আসনে মো: মোশাররফ হোসেন, বগুড়া-৬ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মো: আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো: হারুনুর রশিদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উকিল আব্দুস সাত্তার। এর মধ্যে মৌলভীবাজার-২ আসনে ঐক্যফ্রন্টের এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং সিলেট-২ আসনের মোকাব্বির খান সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ গ্রহণের কারণে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করেছে গণফোরাম।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, সরকার চায় বিএনপির এমপিরা শপথ নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করুক; কিন্তু বিএনপির এমপি এবং দলের সিনিয়র নেতারা বলছেন- গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনে যেভাবে মহা ভোট ডাকাতি ও আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরা হয়েছে তা শুধু দেশবাসী নয় বিশ্ববাসীও দেখেছেন। মাত্র ছয়জন এমপি পাওয়ার মতো দল বিএনপি নয়।

এহেন পরিস্থিতিতে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সংসদে যাওয়া আর খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে যারা ভাবছেন তারা ভুলে আছেন। শপথের বিনিময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়েই মতানৈক্য রয়েছে। সম্প্রতি কয়েকজন নেতার কথাবার্তায় উঠে এসেছে যে সমঝোতার মাধ্যমে হলেও তারা খালেদা জিয়ার বন্দিদশা ঘুচাতে চান। এর পেছনে সরকারের কোনো মহলের যোগসূত্রও থাকতে পারে। অন্য দিকে বিএনপির তৃণমূল এমনকি শীর্ষপর্যায়ের বিশাল একটি পক্ষের মতে কোনো অবস্থাতেই শপথের বিনিময়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা ঠিক হবে না। কারণ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া এখন পর্যন্ত প্যারোলে বা কোনো ধরনের সমঝোতায় মুক্তির ব্যাপারে আগ্রহী নন। তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মুক্ত হতে চান। সুতরাং ছয়জন এমপির শপথ না নেয়ার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, গত রোববার পয়লা বৈশাখের দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলেন। প্যারোলে মুক্তি এবং বিএনপির এমপিরা সংসদে যোগ দেয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তবে খালেদা জিয়া এসব ব্যাপারে ইতিবাচক কোনো ইঙ্গিত দেননি; বরং ভিন্নমত পোষণ করেছেন। দলের চেয়ারপারসনের সাথে দেখা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্যারোলে মুক্তির কথা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, চিকিৎসার জন্য প্যারোলের সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়া দেননি। এ নিয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি।

বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কিছু বিষয়ে খুবই কঠোর। যে কারণে তিনি আপসহীন উপাধি পেয়েছেন। তিনি কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন না। দেশ ও জনগণের কল্যাণে সবসময় লড়াই সংগ্রাম করেছেন। অতীতে তিনি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। এখনো গণতন্ত্রের জন্য, দেশের মানুষের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য সংগ্রাম করতে গিয়েই তিনি মিথ্যা মামলায় জেলে বন্দী। ছেলে হারিয়েছেন, বাড়ি হারিয়েছেন। এখন জীবনের বর্তমান ধাপে এসে তিনি অন্যায়ের কাছে মাথানত করবেন বলে বিশ্বাস হয় না।

বিএনপির এমপিরা কী বলছেন : সংসদে শপথ নেয়ার গুঞ্জনকে নাকচ করে দিয়ে বিএনপি এমপিরা বলছেন- দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তারা যাবেন না। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপির এমপি মো: জাহিদুর রহমান গতকাল বুধবার নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি চারবার সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবারই বিজয়ী হয়েছি। অনেক খরচও হয়েছে। এ জন্য আমার প্রতি এলাকার জনগণের সহানুভূতি একটু বেশি। তাদের দাবি- আমি সংসদে গিয়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব করি। কিন্তু দলের হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই আমরা মেনে নেবো। কেননা আমি মনে করি শপথের বিনিময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নয়, তার নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তারপর শপথের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিএনপির এমপি হয়েছেন মো: হারুন অর রশিদ। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, শপথ নিয়ে সংসদে যোগদানের ব্যাপারে দল কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। আমরা চাই আগে ৭৪ বছর বয়সী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হোক। কারণ তাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে। তাকে মুক্তি দিলেই আমরা শপথের বিষয়ে বিবেচনা করতে পারি। দেশনেত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা কিছুই করব না।

বগুড়া-৪ আসন থেকে বিএনপির এমপি মো: মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে সংগ্রাম করতে গিয়ে বাড়ি হারিয়েছেন, ছেলে হারিয়েছেন। আজকে তাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কারাগারে মিথ্যা মামলায় আটক রাখা হয়েছে। সবার আগে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। পরে শপথের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কারণ যে খালেদা জিয়ার কারণে, যে বিএনপির কারণে আমরা আজকে এমপি সেই দল ও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা কিছু করতে পারি না। আগামী প্রজন্মকে টেকসই গণতন্ত্র উপহার দিতে হলে খালেদা জিয়ার মুক্তি অত্যন্ত জরুরি। তারপর অন্য কিছু। আমি ব্যক্তিগতভাবে শপথ নেয়ার বিপক্ষে।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ অবস্থান সুস্পষ্ট করলেন খালেদা জিয়া , কণ্ঠ-মনোবলে ৯০ দশকের দৃঢ়তা

১৯৯১ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া এদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী। তিন যুগ আগে গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে হাল ধরেছিলেন বিএনপির; পেয়েছেন দেশনেত্রী খেতাব। ‘স্বৈরশাসক এরশাদ হটাও’ আন্দোলনে রাজপথে আপোষহীন নেতৃত্ব তাকে নিয়ে গেছে রাজনীতির সুউচ্চ শিখরে। নেতৃত্বের গুণেই বাংলাদেশের শহর-বন্দর, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। তাঁর রোগমুক্তি কামনায় এখনো মসজিদে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। গৃহবধূরা মানত করেন। তাঁর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনসহ নানান কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক জীবনে দৃঢ় মনোবলের খালেদা জিয়া প্রায় ১৫ মাস ধরে কারাগারে। ডাক্তারদের মতে নানান রোগে আক্রান্ত বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। মুক্তির দাবির পাশাপাশি বিএনপিসহ সর্বমহল থেকে দাবি উঠেছে বিদেশে নিয়ে গিয়ে তার চিকিৎসা করার। এরই মধ্যে খবর বাতাসেও ভাসছে খালেদা জিয়ার প্যারোলের খবর। এমনকি সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরাও বলেছেন, বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু দেশনেত্রীর আপোষহীন মনোভাব। প্যারোলে মুক্তি নিয়ে তিনি বিদেশ যেতে রাজী নন। এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। বিএনপির নেতারা জানান, নিজে কারাগারে অসুস্থ; তারপরও কেউ দেখা করতে গেলে দেশের মানুষের খোঁজ খবর নেন। দুঃখ করে বলেন, আমার দেশের মানুষ ভাল নেই।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা করাতে যাবেন এমন গুঞ্জন বেশ কয়েকদিন ধরে বাতাসে ভাসছে। সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রী-নেতারাও এবিষয়ে কথা বলেছেন। দলীয় প্রধানের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সুষ্পষ্টভাবে কিছুই বলতে পারছিলেন না বিএনপি নেতারা। অন্যদিকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির ৬ এমপির শপথ নিয়েও দল এবং দলের বাইরে চলছে নানা গুঞ্জন। দলীয় প্রধানের নির্দেশনা না পাওয়ায় এ বিষয়েও আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি দলটি। তবে বেগম জিয়ার সাথে নেতাদের এক সাক্ষাতে সব কিছু সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। প্যারোল ও এমপিদের শপথ গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছেন প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যের অবনতি স্বত্তে¡ও প্যারোলে মুক্তির আবেদন তিনি করবেন না। মুক্তি নিতে হলে আইনি প্রক্রিয়াতেই তিনি মুক্ত হবেন। আর যে সংসদ নির্বাচন দল প্রত্যাখ্যান করেছে সেই সংসদে শপথ না নেয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি।

কারাগারে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) খালেদা জিয়াকে ভর্তি করা হয়। সেখানে কেবিন বøকের ৬২১ নম্বর কক্ষে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে বিএসএমএমইউতে আনার পর থেকেই প্যারোলে মুক্তি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। সরকারের মন্ত্রী-এমপি-নেতারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলে খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চাইলে বিবেচনা করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও আইন মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসে সবাই। তবে বিএনপি প্রধান প্যারোলে মুক্তি নিবেন কিনা সেবিষয়টি তার সাথে কথা না বলে কিছুই জানাতে পারেনি দলটির সিনিয়র নেতারা। অবশেষে গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিনে বিএসএমএমইউতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন। সেখানে তারা এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় তার স্বাস্থ্যের সার্বিক বিষয়ে জানতে চান। তবে আলোচনার সময় সরাসরি প্যারোলের বিষয়টি কেউ তোলার সাহস না পেলেও আকারে-ইঙ্গিতে বোঝানো হয়। তবে খালেদা জিয়া দৃঢ়তার সঙ্গে প্যারোলের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি নেতাদের বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই মিথ্যা। আদালতে সুবিচার পেলে তিনি এতদিনে সব মামলা থেকে রেহাই পেতেন। সরকার সেটা করতে দিচ্ছে না। এখন তাকে প্যারোলে মুক্তির নামে আরেক দফা নির্যাতন করতে চাইছে। বিএনপির এক নেতা জানান, খালেদা জিয়া প্যারোলের বিষয়ে ইঙ্গিত করা হচ্ছে বুঝতে পেরে নেতাদের জানিয়ে দেন তিনি কোন আবেদন করবেন না। যদি মুক্তি পেতে হয়ে তাহলে আইনি প্রক্রিয়াতেই তিনি মুক্ত হবেন। অন্য কোনভাবে নয়। শারীরিক অবস্থা প্রতিনিয়ত অবনতি হলেও তিনি সরকারের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। তিনি তার যে কোনো অবস্থার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্যারোলে মুক্তি নেয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়া কোন সিদ্ধান্ত নেননি। এ বিষয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে বা গণমাধ্যমে ছাপানো হচ্ছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমরা দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি বেশ অসুস্থ, এখনও খেতে পারছেন না। পা বাকা করতে পারেন না। তার বাম হাত ঠিকমতো কাজ করছে না। এ অবস্থার মধ্যে তিনি আছেন। এক কথায় ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যথেষ্ট অসুস্থ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্তি চাই। তবে তিনি এখন খুবই অসুস্থ। ওনার বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন। আমরা সেই দাবিই জানাচ্ছি।

অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, বিএনপি প্রধানের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ার কারণে সরকারের একটি পক্ষ বিএসএমএমইউতে তার কাছে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রস্তাব দেয়। তাদেরকেও খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি প্যারোলে মুক্তি নিবেন না। এধরণের কোন আবেদনও করবেন না। হয় আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হবেন, নাহলে যে কোন অবস্থার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। সূত্রটি আরও জানায়, খালেদা জিয়া প্যারোলে রাজি না হওয়ায় একই প্রস্তাব তার পরিবারের কাছে দেয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়ার বক্তব্যকেই তাদের বক্তব্য বলে উল্লেখ করে।

এদিকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন ৬জন এমপি। এদের কেউ কেউ এবারই প্রথম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আবার কেউ কেউ এর আগে এমপি-মন্ত্রী ছিলেন। যদিও দলটি নির্বাচনের দিনই আগের রাতে ভোট ডাকাতি হয়েছে অভিযোগ করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। পুনঃনির্বাচনের দাবিতে একাধিক কর্মসূচিও পালন করা হয় দলটির পক্ষ থেকে। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করায় এখন পর্যন্ত শপথ নেয়নি বিএনপির প্রার্থীরা। তবে শপথ গ্রহণের সময়সীমা শেষ দিকে এসে গত কয়েকদিন ধরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা শপথ গ্রহণ করবেন। এমপিদের দু’একজন এলাকার মানুষের চাপের কথা উল্লেখ করে শপথের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবও ব্যক্ত করেছেন গণমাধ্যমে। এতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই বিষয়েও খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করার পর দলের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলটির নেতারা খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের সময় শপথের বিষয়টি তোলা হয়। তখন খালেদা জিয়া এই বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। তিনি নেতাদের বলেন, এ সংসদে গিয়ে লাভটা কি হবে। সংসদের বাইরেও অনেক ভূমিকা পালন করা যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন নেতা জানান, শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ হলেও মানসিকভাবে এখনো তিনি অনেক দৃঢ় রয়েছেন।

খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতে তার অবস্থান জানার পর গত সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ৫ এমপিকে ডেকে বৈঠক করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া হয় এবং বেগম জিয়া ও বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এমপি হারুনুর রশীদ ইনকিলাবকে বলেন, আমাদের ডেকেছিলেন মহাসচিব। কিছুদিন ধরে পত্রপত্রিকায় আমাদের শপথ গ্রহণ নিয়ে নানা খবর প্রকাশ ও প্রচার করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সবাইকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। যাতে আমাদের কেউ বিভ্রান্ত না হন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে না যান। তিনি বলেন, আমাদের কয়েকজন আগে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন আবার কয়েকজন এবারই প্রথম নির্বাচিত হয়েছেন। যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ওপর এলাকার মানুষের চাপ আছে এটা সত্য। কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে সেটা তুলে ধরেছেন। কিন্তু আমরা নির্বাচিত হয়েছি দলীয় প্রতীকে, দলের সমর্থনে। এখানে দলের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান। আমরা এখন পর্যন্ত একমত যে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন সিদ্ধান্ত নেব না।

শপথ নেয়ার পক্ষে নিজের ওপর চাপ আছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত প্রার্থী জাহিদুর রহমান। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি ইনকিলাববে বলেন, আমার এলাকার ৯৯ভাগ মানুষ শপথ নেয়ার পক্ষে। আমরাও জানি সংসদে গিয়ে কিছু হবে না। কিন্তু প্রেসক্লাবের সামনে কথা বলা আর জাতীয় সংসদে কথা বলা দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে। সংসদে কথা বললে ১৬ কোটি মানুষ শুনবে। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে এখন পর্যন্ত তিনি সেটি মেনে নেয়ার পক্ষে আছেন জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে বিএনপির অনেক ক্ষতি হয়েছে। গতবার নির্বাচনে যায়নি। এবার যদি শপথ না নেয়, তাহলে নির্বাচনে গিয়ে ভুল করেছে? তবে তার এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে এ ধরণের কোন চাপ নেই। এমনকি দলের নেতাকর্মীরাও এ বিষয়ে তেমন উৎসাহ বোধ করেন না। কিন্তু জাহিদুল ইসলাম প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হওয়ায় সংসদে যেতে তার নিজেরই আগ্রহ বেশি। এলাকার মানুষের চাপের কথা বলে তিনি তার এই আগ্রহকে বৈধতা দিতে চান। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ গ্রহণ করলে এলাকায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলেও অনেকে জানান।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা তো এ সংসদকেই নির্বাচিত বলছি না, আমরা ওই কথিত নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। তাই শপথ গ্রহণের বিষয়টি আসে না। #

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ আপনার ‘নিজের ও দলের স্বার্থে’ ইলিয়াস আলীকে ফেরত দেন: শেখ হাসিনাকে দুদু


দীর্ঘ ৭ বছর ধরে নিখোঁজ বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলীর সন্ধ্যান চেয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দ‌লের আহবায়ক শামসুজ্জাম‌ান দুদু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেছেন, ‘ইলিয়াস আলীকে পাঠিয়ে দেন আমরা কিছু মনে করব না। কারণ তার পরিবার তো তাকে পাবে। আমরা সহকর্মী পাবো। আর যদি না দেন, আপনাকে হুমকি দিচ্ছি না। পরিস্থিতি সবসময় এরকম থাকবে না। ইসলাম য‌দি পৃথিবীর শান্তি প্রিয় ধর্ম হয়ে থাকে, পৃথিবীর মুক্তির সনদ হয়ে থাকে, তাহলে অন্যায়কারী হিসেবে, নির্যাতনকারী হিসাবে, গুমকারী হিসেবে পতন আপনার হবেই। তখন ইলিয়াস আলী জীবিত না মৃত অবস্থায় আমাদের কাছে আসবে সেটা বড় কথা না। আমাদের কাছে বড় কথা হলো আপনার কৈফিয়ত দিতে হবে। সেজন্য বলি আমাদের বা ইলিয়াস আলীর সন্তানদের জন্য না, আপনার নিজের স্বার্থে আপনার দলের স্বার্থে আপনার সহকর্মীদের স্বার্থে ইলিয়াস আলীকে ফেরত দেন। তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।’

বুধবার (১৭ এ‌প্রিল) ঢাকা রি‌পোর্টার্স ইউ‌নি‌টির সাগর-রুনি মিলনায়ত‌নে এম. ই‌লিয়াস আলী মু‌ক্তি ছাত্র সংগ্রাম প‌রিষ‌দের উ‌দ্যোগে বেগম খা‌লেদা জিয়ার নিঃশর্ত মু‌ক্তি ও দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নি‌খোঁজ এম. ই‌লিয়াস আলীর সন্ধা‌নের দা‌বি‌তে এক প্র‌তিবাদ সভায় তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি সব সময় দাবিও করি, তাঁর সমালোচনাও করি। আজ কোনো দাবিও করব না আর তার কোনো সমালোচনা করবো না। শুধু একটি অনুরোধ করবো। আপনিতো ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের সদস্য। আপনিতো হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারেন যে, পরিবারে একটি সদস্য না থাকলে বা মৃত্যু হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের কত কষ্ট এবং বেদনা হয়।’

‘এটা আর কেউ না জানুক আপনি জানেন। ইলিয়াসকে ফিরে পাবার আশায় তার স্ত্রী-সন্তানরা আপনার কাছে ছুটে গিয়েছিল। তাদের এই যাওয়াটা দেশবাসীর অনেকেই ভালো মনে করেনি। কারণ দেশবাসীর সবাই জানে কোথা থেকে কি হয়েছিল। তারপরেও তারা আপনার কাছে গিয়েছিল এবং আপনি মমতাময়ী মায়ের মতো বলেছিলেন ইলিয়াস আলী শিগগিরই বাসায় ফিরে যাবে। কিন্তু ৭ বছর হয়ে গেল ইলিয়াস আলী ফিরে আসলো না। আপনি কথা দিয়ে কথা রাখলেন না।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। ছাত্ররা ছাত্রদের জায়গা থেকে কাজ করছে। যুবকরা যুবকদের জায়গা থেকে কাজ করছে। কৃষক দল, জাতীয়তাবাদী দল যে যার জায়গা থেকে কাজ করছে। কখন যে কোন জায়গা থেকে গণজাগরণ উঠবে তা বলা মুশকিল। গণজাগরণ উঠ‌লেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে এবং তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।’

‌প্র‌তিবাদ সভায় আরও উপস্থিত ছি‌লেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনে আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ আ’লীগ নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার অপহৃত সরকারি কর্মকর্তা


লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার হাফানিয়া গ্রাম থেকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার ৪ঘণ্টা পর রাত ৮টায় স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় উদ্ধার পেয়েছেন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহকারী হিসাব রক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম বাবু। মঙ্গলবার রাতে ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বশির আহমেদ মানিকের বাড়ি থেকে সরকারি এ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি কর্মকর্তাকে অপহরণের ঘটনা নিয়ে তিনটি পক্ষ রামগঞ্জ থানায় পাল্টাপল্টি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বশির আহম্মেদ মানিকসহ ৪জনের বিরুদ্ধে রামগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই ঘটনায় বুধবার আবুল কাশেম ও নুরজাহান বেগম নামের আরো দুইজন দুইটি অভিযোগ দায়ের করেন রামগঞ্জ থানায়।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের হতদরিদ্র আবুল কাশেম ও তার ভাইয়ের সাথে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধ নিরসনে আবুল কাসেম ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদ আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একতরফা বিবাদীপক্ষে অবস্থান নেয়ার সুযোগে বিরোধকৃত সম্পত্তিতে প্রতিপক্ষ স্থাপনা নির্মান শুরু করে। পরে একইবাড়ির প্রতিবেশী সরকারি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এর প্রতিবাদ করেন।

এ ঘটনায় চেয়ারম্যান ক্ষীপ্ত হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে নজরুলকে মোবাইলে হুমকি-ধমকি প্রদান করেন।

পরে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় দেবনগর গ্রামের মাসুদ, নূর হোসেন, রিশাদসহ ১০/১৫ জনের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে নজরুল ইসলাম বাবুর বাড়িতে গিয়ে তাকে বেদম মারধর করে। পরে অস্ত্র ঠেকিয়ে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানেও তাকে বেদম মারধর করে চেয়ারম্যানের লোকজন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নজরুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা আমাকে পিটিয়ে নগদ টাকা এবং একটি মোবাইল সেট নিয়ে যায়।

পুলিশ আসার খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে আমার নিকটাত্মীয়রা চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বশির আহমেদ মানিক বলেন, হাফানিয়া গ্রামের আবুল কাসেম সোলনামা দিয়ে প্রতিপক্ষকে বসতঘর তোলার সুযোগ দেয়। কিন্তু নজরুল ইসলাম মন্ত্রাণালয়ের স্টাফ হয়ে এলাকাতে অবস্থান করে অনাধিকার চর্চা করে। তাকে আমার বাড়িতে ডেকে আনতে দলীয় লোকজন তার বাড়িতে গেলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তুলে আনা বা মারধরের ঘটনা সঠিক নয়।

এ ব্যাপারে রামগঞ্জ থানার এসআই কাউছার জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি নজরুল ইসলামকে বাবুকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক তিনটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে।

রামগঞ্জ থানার ওসি মোঃ তোতা মিয়া জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পেয়েছি। অপহরণের বিষয়টি সত্য নয়। তদন্ত চলছে, অভিযোগগুলোর তদন্ত করছেন রামগঞ্জ থানার এসআই কাউসারুজ্জামান।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ পুলিশকে পেটাল ছাত্রলীগ, ওসি বললেন বিএনপি হইলে ব্যবস্থা নিতাম!


নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পুলিশের এক কর্মকর্তা ও দুই কনস্টেবলকে পেটানো ছাত্রলীগ নেতাদের আটক করেও ছেড়ে দিয়েছেন থানার ওসি আক্তার হোসেন।

উপজেলার গোপালদী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে ঢুকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই হামলা চালালেও ওসি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পুরো ঘটনাই ঘটেছে নজরুল ইসলাম বাবু কলেজে। সেখানে নিজেদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়েছিল।

একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করে হামলার শিকার ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে অশ্লীল মন্তব্যও করেন ওসি আক্তার হোসেন।

হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের নিজেদের লোক দাবি করে ওসি বলেন, ‘কালকে এমপি সাব আমেরিকা গেছে। সব নিজেরা নিজেরা। বিএনপি হইতো একটা কথা আছিলো, ব্যবস্থা নিতে পারতাম।’

অপরদিকে হামলার শিকার পুলিশের এটিএসআই মামুন দাবি করেন, তাকে ও অপর ২ পুলিশ সদস্যকে তদন্তকেন্দ্রে ঢুকেই মারধর করা হয়েছে এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দেন ছাত্রলীগ নেতা সুজয়।

এদিকে পুলিশ সদস্যরা বেদম মারধরের শিকার হলেও হামলাকারীদের ছেড়ে দেয়ায় পুরো পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

এর আগেও গত ২৯ মার্চ একটি সাধারণ ডায়েরিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতারা থানায় ঢুকেই অশ্লীল গালাগাল আর শাসিয়েছিল পুলিশ সদস্যদের।

ওই ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেও ছাত্রলীগ নেতাদের ব্যাপারে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকাল ১১টার দিকে মাদকসেবন ও ইভটিজিংয়ের অপরাধে উপজেলার রামচন্দ্রদী গ্রামের জামালউদ্দিনের ছেলে দিদার ইসলামকে গোপালদী বাজার থেকে আটক করে পুলিশ। তার আটকের খবর জানতে পেরে গোপালদী পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজয় সাহা আটককৃত দিদারকে ছাড়িয়ে আনতে তদন্তকেন্দ্রে যান। পুলিশ তাকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে সুজয় পুলিশকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এ সময় এটিএসআই মামুন তার প্রতিবাদ করলে ছাত্রলীগ নেতা সুজয় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর শুরু করেন। সুজয় মোবাইলে তার সহযোগীদের তদন্তকেন্দ্রে এনে পুলিশের ওপর হামলা চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে কনস্টেবল ইমরান ও বাশার এগিয়ে আসলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।

এ খবর আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানতে পেরে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে তদন্তকেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে সুজয় ও দিদারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

আহত পুলিশ কর্মকর্তা মামুন, কনস্টেবল আবুল বাশার ও ইমরানকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে বুধবার দুপুরে প্রথমে সাংবাদিকদের আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, পুরো ঘটনার জন্য মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কিন্তু বিকালে আটককৃত ছাত্রলীগ নেতা সুজয় ও কর্মী দিদারকে ছেড়ে দেয়ার পরই ওসি আক্তার হোসেনের ভাষ্য বদলে যায়। দ্রুত আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আহত এটিএসআই মামুন ও ভর্তি থাকা ২ কনস্টেবলকে সেখান থেকে নিয়ে আসা হয়। পুরো ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয় পুলিশ সদস্যদের মাঝে।

এ ব্যাপারে হামলার শিকার এটিএসআই মামুন যুগান্তরকে বলেন, ‘গোপালদী এলাকার আশপাশ থেকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ আসছিল অনেক দিন থেকেই। আমরা বুধবার সকালে দিদারকে আটক করে তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে এসে তাকে তার অভিভাবকদের ফোন দিতে বলি । সে ছাত্রলীগ নেতা সুজয়কে ফোন করে তদন্ত কেন্দ্রে আসতে বলে। সুজয় এসেই ক্ষিপ্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করে দিদারকে কে গ্রেফতার করেছে। আমি আটক করেছি বললে সে আমাকে তুইতোকারি করে বলে, তর এত বড় সাহস তুই তারে নিয়ে আসছোস। তুই হেরে চিনোস। আমি কাছে যাওয়ার পরপরই আমাকে ঘুষি দিয়ে ফেলে দেয়। ফাঁড়ি উড়িয়ে দেবে, গুলি করে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এরপর ২ কনস্টেবল এগিয়ে আসলে সুজয় ও তার সঙ্গে লোকজন আমাদের বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে।’

আটককৃত ২ জনকে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে মামুন বলেন, পুলিশের ওপর হামলার পর কেন তাদের ছেড়ে দেয়া হলো এটা আমার মাথায় আসছে না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে মামলা করার ইচ্ছা থাকলেও এখন কিছুই বলতে পারছি না। আমি একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি।

এ ব্যাপারে ওসি আক্তার হোসেনকে সাংবাদিকদের নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করে বলেন, ‘বিষয়টি ভুলবোঝাবুঝি ছিল। তদন্তকেন্দ্রে কোনো ঘটনা ঘটেনি। যা ঘটেছে নজরুল ইসলাম বাবু কলেজে। কালকে এমপি সাব আমেরিকা গেছে। সব নিজেরা নিজেরা। পেপার পত্রিকায় দেয়া দরকার নাই। ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। ওভাবেই শেষ করে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আপনারাও আওয়ামী লীগ তারাও আওয়ামী লীগ। বিএনপি হইতো একটা কথা আছিল, ব্যবস্থা নিতে পারতাম। আমি আমার বড় স্যারের লগে কথা কইছি। আওয়ামী লীগের নেতারাই আসছিল। ওইভাবেই শেষ কইরা দিছি। এসব নিয়া এখন আর লেখালেখির দরকার নাই। আর আমার ওইটারও (এটিএসআই মামুন) দোষ আছে। এসব লইয়া ভাই লেখালেখির দরকার নাই। এটা সবারে বইলা দেন। আর অনলাইনগুলা আমি দেখতাছি।’

তবে মারধরের ঘটনা না ঘটলে ওই ৩ পুলিশ সদস্যকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন ভর্তি করা হয়েছিল? এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ফোনে কথা না বলে থানায় এসে নিউজ করার জন্য বলেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ খুশি কবীর, সুলতানা কামাল-মুন্নী সাহা’রা আজ কোথায়? প্রশ্ন শামসুজ্জামান দুদুর (ভিডিও সহ)


নুশরাত হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী আন্দোলন প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন দিনাজপুরে ইয়াসমিন নামে একজন নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় শেখ হাসিনা লাফ দিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। তখন বেগম খালেদা জিয়া ওই ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও শেখ হাসিনা লাফ দিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। তখন খুশি কবীর, সুলতানা কামালরা ছিলেন কিনা আমার জানা নেই। মুন্নী সাহার জন্ম হয়েছিলো কিনা আমার জানা নেই। এসব নেত্রীরা এখন কোথায় মুখ লুকালো?’

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ সভার আয়োজন করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘শুধু নুশরাতকে হত্যা করা নয়, একটি গবেষণায় দেখা গেছে গত তিন মাসে দুই হাজারের অধিক নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে।’

ভিডিওঃ ‘খুশি কবীর, সুলতানা কামাল-মুন্নী সাহা’রা আজ কোথায়? প্রশ্ন শামসুজ্জামান দুদুর (ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘আমরা বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। গণতন্ত্রের স্বার্থে, জনসাধারণের স্বার্থে অধিকার এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নেবেন কেন? তিনি কি অপরাধী? এটা আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের ওপর ছেড়ে দেই। আমরা তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’

দুদু বলেন, ‘আজ যারা বিচারালয়ে বিচারক আছেন, পুলিশ আছেন আমি তাদের সমালোচনা করবো না। শুধু এতটুকু বলবো একটু বিবেক দিয়ে ভাবেন কে অপরাধী? বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি নাকি আওয়ামী লীগ?’

তিনি বলেন, ‘এত বড় একটি জালিয়াতি নির্বাচন হওয়ার পরে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি ফুলের তোড়া নিয়ে যখন শেখ হাসিনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন তখন আমার মনে হয় এই দেশে কি সত্যিই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো? সত্যিই কি ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয়েছিলো? কারণ এত বড় একটি জালিয়াতির যে করলো তার সামনে ফুলের তোড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি আমি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে দুদু বলেন, ‘অনন্তকাল আপনি ক্ষমতায় থাকবেন না। এ বছরের কথা বলবো না, আগামী বছরের কথা বলবো না, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই লিখে রেখেছে আপনা বিদায় নিতে হবে, হিটলার বিদায় নিয়েছে, মুসোলিনি, ইয়াহিয়া, বাকশালের প্রতিষ্ঠা বিদায় নিয়েছে, শেখ হাসিনাকেও বিদায় নিতে হবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এবং বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সেকলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার মারুফ হোসেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ইউসুফ আলী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here