গম পাচারের দৃশ্য ধারণ করায় দৈনিক যুগান্তরের ফটো সাংবাদিক আটক

0
1022

দৈনিক যুগান্তরের ফটো সাংবাদিক শামীম আহমেদকে মারধর করে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে আটকে রাখার অভিযোগে ৫ কারারক্ষীকে সামায়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে বরিশাল কারাগার থেকে বিপুল পরিমাণ গম কালোবাজারে পাচারের খবর পেয়ে কোতোয়ালি পুলিশ দুটি ভ্যান বোঝাই ২২ বস্তা গমসহ ২ জনকে আটক করে। গম ও আটক ২ জনকে পুলিশের হাত থেকে কারারক্ষীদের ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টার দৃশ্য ধারণ করার সময় কারারক্ষীরা ফটো সাংবাদিক শামীম আহমেদকে মারধর করে কারাগারে আটকে রাখে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তাদের সামায়িক বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কৃত কারারক্ষীরা হলেন, মো. উজ্জল মিয়া, আবু বক্কর ছিদ্দিক খোকন, মো. আবু সাইদ, মো. কাওছার ও আবুল খায়ের।

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এসআই মাইনুল ইসলাম জানান, কারারক্ষীরা আটক গম ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। দৈনিক যুগান্তরের ফটো সাংবাদিক শামীম আহমেদ কারারক্ষী এবং পুলিশের টানাটানির দৃশ্য ধারণের চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকজন কারারক্ষী মারধর করতে করতে ফটো সাংবাদিক শামীম আহমেদকে কারাভ্যন্তরে নিয়ে আটকে রাখে।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, ছবি তোলার চেষ্টা করলে ফটো সাংবাদিক শামীমকে মারধর করে টেনে কারাগারের ভেতরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে বরিশালের সর্বস্থরের সাংবাদিকরা কারাভ্যন্তরে গিয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে ফেঁটে পড়ে। তারা অভিযুক্তদের সনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। অবস্থা বেগতিক দেখে কারা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ৫ জন কারারক্ষীকে চিহ্নিত করে তাদের সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণা দেন। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি প্রিজন মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ৫ জন কারারক্ষীকে চিহ্নিত করে সামায়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। শুধু এই ৫ জনই নয়, কারা ফটকের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্য অভিযুক্তদেরও সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুত্রঃ ‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ গম পাচারের ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, ৫ কারারক্ষী বরখাস্ত

কারাগার থেকে পাচার হওয়া গম (বামে), ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশ ও কারারক্ষীদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়া যুগান্তরের বরিশাল ব্যুরোর ফটো সাংবাদিক শামীম আহম্মেদকে উদ্ধার করেন তার সহকর্মীরা। ছবি: যুগান্তর

কারা অভ্যন্তর থেকে ভ্যানে বোঝাই হয়ে বেরোনো গম নিয়ে পুলিশ এবং কারারক্ষীদের টানাহেঁচড়ার ছবি তুলতে গিয়ে বেদম মারধরের ও হামলার শিকার হয়েছেন যুগান্তরের বরিশাল ব্যুরোর ফটো সাংবাদিক শামীম আহম্মেদ।

শনিবার দুপুর আড়াইটায় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ফটো সাংবাদিক শামীম আহম্মেদ গুরুতর আহত হন। তাকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় সাংবাদিকদের বিক্ষোভের মুখে পাঁচ কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আহত ফটো সাংবাদিক শামীম আহম্মেদ বলেন, ‘বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে একটি ভ্যানে করে ১১ বস্তা গম বের করার সময় পুলিশ ওই গম আটক করে। এ সময় কারারক্ষী ও পুলিশের মধ্যে গমের বস্তা নিয়ে টানাটানি হয়। ওই টানাহেঁচড়ার ছবি তুলতে গেলে কারারক্ষীরা কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে বসেই আমাকে মারধর শুরু করে। পরে কারা অভ্যন্তরে নিয়ে গিয়ে বুট দিয়ে লাথি ও এলোপাতাড়ি পেটায় কারারক্ষীরা। এ সময় সামনে জেলার ইউনুস জামান দাঁড়িয়ে থাকলেও তিনি কোনো বাধা দেননি।’

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং ডিআইজি প্রিজন তওহিদুল ইসলাম ও সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বনিকের কাছে এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

পরে কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক ওই ঘটনায় জড়িত কারারক্ষী উজ্জ্বল মিয়া, আবুল খায়ের, আবু বক্কর সিদ্দিক খোকন, কাওছার ও সাঈদ নামে ৫ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে ডিআইজি প্রিজন তওহিদুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে গম জব্দের বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এসআই মাইনুল জানান, কারাগার থেকে গম পাচারের খবরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাজার রোড থেকে দুই ভ্যানে ২২ বস্তা গম জব্দ করা হয় এবং ভ্যান দুটির চালককেও আটক করা হয়। যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসআই বলেন, আমরাও শুনেছি গমের ছবি তুলতে এখানে এক সাংবাদিকের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে। বিস্তারিত কিছু জানি না।

সুত্রঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here