ঐক্যফ্রন্টের দুই এমপির শপথ : সংবিধান বিশেষজ্ঞদের অভিমত ফয়সালা আদালতেই

0
188

এমপি হিসেবে শপথ নেয়ার পর সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মোকাব্বির খানের ভাগ্য নির্ধারণে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে। দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ নিলে ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত দুই নেতার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কিনা তার ফয়সালা আদালতেই হবে বলে মনে করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ। তারা বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেয়া না নেয়া সম্পর্কে সংবিধানেও স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তাই এটি সুরাহার জন্য শেষ পর্যন্ত তা আদালতে গড়াবে। সেক্ষেত্রে ফয়সালা হবে আদালতেই।

সুপ্রিমকোর্টই একমাত্র সংবিধানের ব্যাখ্যা দিতে পারেন বলে তারা মনে করেন। এ প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘সংসদ প্রতিষ্ঠার পর বিষয়টি এবারই প্রথম সবার সামনে এসেছে। এ বিষয়ে সংবিধানেও সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই। তাই হুট করে তাদের সদস্য পদ থাকা না থাকা নিয়ে বলাটা কঠিন। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না থাকায় শেষ পর্যন্ত তা আদালতে গড়াতে পারে। আদালতই এর ফয়সালা দেবেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কোনও নির্বাচনে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনও ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনও নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’

দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত গণফোরামের দুই নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মোকাব্বির খান ৭ মার্চ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তার কার্যালয়ে এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় এ দু’জনকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এর আগে ৭ মার্চ শপথ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মোকাব্বির খান শনিবার আলাদা আলাভাবে স্পিকার বরাবর চিঠি দেন। এ চিঠি পেয়েই স্পিকারের কার্যালয় দুই সংসদ সদস্যের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা জানায়।

এর পরপরই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিলে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মোকাব্বির খানের ভাগ্যে কি ঘটবে- এ বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। গণফোরামের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তারা ৭ মার্চের আগেই সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মোকাব্বির খানের বিষয়ে দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত নেবেন। এ সিদ্ধান্ত চিঠির মাধ্যমে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) অবহিত করবে।

অবশ্য এ ইস্যুতে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আরও দু’ধরনের ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। একপক্ষ বলেছে, দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে শপথ গ্রহণ এবং সদস্য পদ না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই। এ অংশের মতে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য শপথ নেবেন- এটাই স্বাভাবিক। শপথ নেয়ার পর যদি কেউ সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ৭০ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেন তখন তার সদস্য পদ থাকা না থাকার বিষয়টি সামনে আসবে। অন্যদিকে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের আরেকটি অংশ মনে করেন, দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত একজন সদস্য প্রথমত দলের কাছেই দায়বদ্ধ। তাই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিলে তা হবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের শামিল। এ অংশের মতে, এ কারণে শপথ নিলেও সদস্য পদ হারাবেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মোকাব্বির খান।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। তাই শপথ নেয়া তার অধিকার। এমনকি এটি তার সাংবিধানিক দায়িত্ব। বরং নির্বাচিত হয়েও শপথ না নিলে তিনি কার্যত সংবিধান লঙ্ঘন করবেন।’ তিনি বলেন, ‘শপথ নেয়ার পর যদি কেউ সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিয়ে ৭০ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেন- তখন তার সদস্য পদ থাকা না থাকার বিষয়টি সামনে আসবে। এর আগে এ বিষয়টি সামনে আসার কোনো কারণ নেই।’

অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত একজন সদস্য প্রথমত দলের কাছেই দায়বদ্ধ। তাই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিলে তা হবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের শামিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণে শপথ নিলেও সদস্য পদ হারাবেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মোকাব্বির খান।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ মৌলভীবাজার-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। আর মোকাব্বির খান গণফোরামের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দু’জনই ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন গণফোরামের স্থায়ী কমিটির সদস্য।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলেও দলীয় সিদ্ধান্তে এতদিন শপথ নেননি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মোকাব্বির খান। তবে এবার তারা দল এবং জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই স্বাধীনতার এ মাসেই শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত রয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোট থেকে নির্বাচিত ৮ জনের কেউই শপথ গ্রহণ করবেন না। জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ গ্রহণ করলে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করার চিন্তা রয়েছে গণফোরামেরও।

দলের দুই সংসদ সদস্যের শপথ নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) এখন পর্যন্ত শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি। এখন কেউ এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ গ্রহণ করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যদি বহিষ্কারের নিয়ম হয়, তাহলে তাদের বহিষ্কার করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি শপথ নেব। শত প্রতিকূলতার মধ্যে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তাদের ভোটের সেই মর্যাদা দিতেই আমি শপথ নেব।’

তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছি। কিন্তু নির্বাচন করতে হলে নিবন্ধিত দলের সদস্য হতে হয়, তাই আমি গণফোরামের সদস্য হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। এখন তারা যদি আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করে, সেটিকে আমি কেয়ার করি না। তাদের যা সিদ্ধান্ত নেয়ার, নিতে পারে।’

অন্যদিকে মোকাব্বির খান শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি দলের (গণফোরাম) সিদ্ধান্ত নিয়েই মার্চের প্রথম সপ্তাহে শপথ নেব। দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলেই শপথ নিতে যাচ্ছি। তিনি শপথের বিষয়ে ইতিবাচক।’

এদিকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মোকাব্বির খানের শপথ নেয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে শাসক দল আওয়ামী লীগ। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এ সিদ্ধান্ত অবশ্যই ইতিবাচক। আমরাও মনে করি, জনগণ তাদের ভোট দিয়েছে। তাদের উচিত জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে শপথ নিয়ে সংসদে আসা। জনগণের পক্ষে কথা বলা।’

তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেয়া স্রেফ বিশ্বাসঘাতকতা। তবে যেহেতু সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মোকাব্বির খান গণফোরামের সদস্য। এখানে বিএনপির কিছু করার নেই। তাদের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেয়ার তা গণফোরামই নেবে।’

একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরা ৩ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন। এরপর ৩০ জানুয়ারি একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ অধিবেশন শুরু হলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত আট সদস্য এখনও পর্যন্ত শপথ নেননি।

সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত কেউ শপথ না নিলে তার আসন শূন্য হয়ে যায়। সেই হিসাবে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে যারা শপথ না নেবেন, তাদের আসন শূন্য হয়ে যাবে। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের আগেই শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মোকাব্বির খান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ঐক্যফ্রন্টের দুই এমপি শপথ নিলে ব্যবস্থা: ড. মোশাররফ


জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক গণফোরামের দুই প্রার্থী শপথ নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

রোববার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে কৃষক দলের নবগঠিত কমিটির নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল­াহ আল নোমান গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এরপরও যদি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয় তাহলে বিএনপি এর প্রতিবাদে কর্মসূচি দেবে।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত ছিল, আমরা যেহেতু এ নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছি, অতএব বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের কেউ সংসদে যাবে না। এটা বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত ছিল। এখন ঐক্যফ্রন্টের দু’জন সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা শুনেছি তারা সংসদে অংশগ্রহণ করবে। তখন আমরা আমাদের যে বিধিবিধান আছে এবং ঐক্যফ্রন্টের যে সিদ্ধান্ত আছে সেই প্রেক্ষাপটে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

গণফোরামের দুই প্রার্থী শপথ নিলে বিএনপিতে কোনো টানাপোড়েন হবে কিনা জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ বলেন, এটা এত আগে বলা যাবে না। আমরা একটা বড় টার্গেট করে ঐক্যফ্রন্ট করেছি। আমি বিশ্বাস করি, যদি কেউ সংসদে যায় ঐক্যফ্রন্টের কোনো ক্ষতি হবে না।

উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ৯ কোটি টাকার ওপরে বাজেট করেছে। এর আগে উপজেলা নির্বাচনে ৪ কোটি টাকার ওপরে বাজেট ছিল। আমরা বলতে চাই, একাদশ জাতীয় নির্বাচন দেখে জনগণের ভোটের প্রতি যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে জনগণ আর এ সরকারের প্রতি আস্থা রাখে না। তাই বিএনপি এ নির্বাচন বয়কট করেছে।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, নৌকায় যারা নমিনেশন পাবে তারাই নির্বাচিত। এখানে তো ভোটের প্রয়োজন হয় না। আমি মনে করি, নতুন করে জনগণের ৯ কোটি টাকা খরচ করার প্রয়োজন নেই। তাই জনগণের এ টাকা অযথা ব্যয় না করার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আহŸান জানাব। যেহেতু নৌকা ছাড়া কোনো প্রার্থী নেই, সেহেতু নৌকার প্রার্থীকে ঘোষণা করে দিলেই নির্বাচনের নাটক শেষ হয়ে যায়।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল­াহ আল নোমান বলেন, গ্যাসের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে সরকার যে অবস্থায় রেখেছে, আবার যদি বৃদ্ধি করে তাহলে এটা মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হবে। এতে শিল্প থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে। জনগণের ক্ষতি হবে। জনগণ সংকটে পড়বে। আমি সরকারকে বলব, তারা যদি দেশের কথা ভাবে, জনগণের কথা ভাবে, তাহলে তাদের গ্যাসের দাম বাড়ানো উচিত হবে না। এরপরও গ্যাসের দাম বাড়ালে বিএনপি এর প্রতিবাদে কর্মসূচি দেবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম আহ্বায়ক তকদির হোসেন মো. জসিম, সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, মো. নাজিমুদ্দিন মাস্টার, সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিয়াউল হায়দার পলাশ, এস কে সাদী, মো. মাইনুল ইসলাম, নাসির হাজারী, হাজী সাখাওয়াত হোসেন নান্নু, মো. আলিম হোসেন, সেলিম হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন নান্নু, মোজাম্মেল হক মিন্টু, মিয়া মো. আনোয়ার, কৃষিবিদ মিজানুর রহমান লিটু, বায়েজিদ বোস্তামী, কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন, এম জাহাঙ্গীর আলম, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ শরীরটা ভালো যাচ্ছে না : আদালতে ফখরুলকে খালেদা জিয়া


এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তার শরীর ভালো যাচ্ছে না।খোদ বিএনপি চেয়ারপারসনই এ কথা জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।

আজ রোববার নাইকো মামলার শুনানিতে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আদালতে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল খালেদা জিয়াকে জিজ্ঞাসা করেন ম্যাডাম কেমন আছেন। উত্তরে খালেদা জিয়া বলেন, ভালো নেই। শরীরটা ভালো যাচ্ছে না।

নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ শুনানিতে আজ দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে হুইলচেয়ারে করে পুরান ঢাকার অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে আনা হয় খালেদা জিয়াকে। এজলাসে ছিলেন বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান। এজলাসে প্রবেশের সময় খালেদা জিয়াকে সালাম দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দুদকের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল ।

আদালতকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, আগের ডেটে আদালতে আসার জন্য আমি রেডি ছিলাম। আমাকে আনা হয়নি।অথচ বলা হয়েছে, আমি নাকি ঘুমিয়ে ছিলাম।তাই আমাকে আদালতে আনা যায়নি।এই তথ্য সঠিক নয়।

এদিন আদালতের খালেদা জিয়ার পাশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বসা ছিলেন।এক ফাঁকে এই দুই নেতা কথা বলেন।

আদালতের কার্যক্রম শেষ হয় বেলা ১ টা ৪৮ মিনিটে। এরপর ফের খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২০ ফেব্রুয়ারি নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল— খালেদা জিয়া ঘুমাচ্ছেন। তিনি ঘুম থেকে উঠতে পারেননি বলে আদালতে হাজির করা হয়নি।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে আদালতে আনা হয়। সেদিন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিবরণ দিয়ে তার চিকিৎসার জন্য আবেদন করেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

ওই দিন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও শহীদুল ইসলামের চার্জ শুনানি শেষ না হওয়ায় পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন আদালত।

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানিতে এসে বিচারককে আদালতের বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ বছর জানুয়ারিতে তিন দিন এবং এ মাসে দুদিন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

নাইকো দুর্নীতি মামলা সূত্রে জানা যায়, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

মামলা করার পরের বছর ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সাংসদ এমএএইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যথাক্রমে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বাংলার মাটি কোনো স্বৈরাচারকে মেনে নেয়নি: ড. কামাল


বাংলার মাটি কোনো স্বৈরাচারকে মেনে নেয়নি বলে জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ দখলে নেব, গণতন্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে নেব। সংবিধানের মধ্য থেকে ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ শাসন করব।

আজ শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে ২ মার্চ স্বাধীনতার পতাকা উত্তলন দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, উমুকের সন্তান, কন্যা হলেই তো রাজত্ব করতে পারে না। এটা আমাকে অনেকেই বলেন। এখানে যে পিয়ন বসে আছেন সেও দেশের মালিক।

তিনি বলেন, জনগণ অসহায় বোধ করছে। কারণ তারা দেশের মালিক হিসেবে সরকারের কাছ থেকে যে শ্রদ্ধা পাওয়ার কথা তা পাচ্ছেন না। সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে বলা আছে। বঙ্গবন্ধু যেখানে স্বাক্ষর করে গেছেন। আজকে এটা জাদুঘরে রাখা হয়েছে। আমি জানাতে চাই, জনগণ ৫৫ হাজার বর্গ মাইলের ক্ষমতার মালিক। এই স্বাধীনতার জন্য দেশের জনগণ যুদ্ধ করেছিল।

একটা দিন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশে মালিকানা দিবস পালনেরও আহ্বান জানান কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, সরকার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটা জনসভা করলে লোক পাবেন না। আমি অসম্ভব বলছি না। সারাদেশ থেকে বিভিন্ন ভাবে কিছু লোক জড়ো করতে পারবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, গতকাল জনগণ ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে আপনাদের থাপ্পর মেরেছে। বলে দিয়েছে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ইতিহাস কোনো দল বা ব্যক্তির করে নিতে পারবে না। ক্ষমতায় যারা আছেন তারা চেতনার কথা বলে ব্যবসা করে।

তিনি বলেন, গতকাল ঢাকা সিটি নির্বাচনে কি দেখলাম, মানুষ ভোটে যায়নি। জনগণ বলে দিয়েছে, তোমরা ডাকাত তোমাদের অধীনে ভোট করতে চাই না।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে আসম রবের উজ্জল ভুমিকা ছিল। তিনি স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। আজকে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সিরাজুল আলম খানকে বাদ দিয়ে ইতিহাস লেখা যাবে না। আজকে তাজউদ্দিন আহমদকে বাদ দিয়ে কি ইতিহাস লিখা যাবে? যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে আমাদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান তখন থেকে ড. কামাল হোসেন পুরো সময়টা তার সঙ্গে ছিলেন। তাকে বাদ দেয়া যাবে?

আলোচনার আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি এম এ গোফরান সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্প ধারার সাধারণ সম্পাদক শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ।

জেএসডির প্রসেডিয়াম সদস্য শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে কারচুপি প্রসঙ্গে ইসি ‘যা রটে তার কিছু হলেও বটে’

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, কোন প্রতিষ্ঠানের কবর রচনা করে এ দেশের মানুষ ভাল থাকতে পারে না। উপজেলা নির্বাচেন কারো কোন বেআইনি চাপে আপনারা অন্যকাজে মাথা নত করবেন না। আপনার সকল নিরাপত্তা আমি দিবো। যত দিন এ নিরাপত্তা প্রয়োজন। নির্বাচনে কোন খারাপ অভিজ্ঞতা থাকলে তা সব ভুলেযান।

তিনি শনিবার বিকেল ৫টার দিকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা সদরে ইসলামিয়া ডিগ্রী কলেজের হলরুমে আসন্ন পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহন কর্মকর্তাদের এক প্রশিক্ষনে এসব কথা বলেন।

তিনি প্রশিক্ষনার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি আপনাদেরকে ধন্য করার জন্য আসি নাই। আমি এসেছি নিজের জ্বালা থেকে অন্তজ্বালা থেকে, নিজের কষ্টটা থেকে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আমাকে অনেক গুলো কথার মৃুখোমুখি হতে হয়। আমাদের প্রত্যেককেই অনেক গুলো বক্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়। আমাকে বলা হয়- চরমৎকার নির্বাচন করেছেন এ জন্য আপনাকে ধন্যবাদ. আপনাদেরকে ধন্যবাদ। দেশটাকে আপনারা বাঁচিয়েছেন। আবার বলা হয়, চমৎকার নির্বাচন করেছেন,আর কি করবেন? কেমন যেন একটা প্রশ্ন। প্রশ্নটা হচ্ছে একটা বাতাস এবং আরেক দল চিৎকার করে বলে, আপনারাতো নির্বাচনের কবর দিয়ে দিয়েছেন। আমি জানি না কোনটা সত্য। কারণ আমি সারাদিন বসেছিলাম টেলিভিশনের পর্দার সামনে, একটা কোন বিক্ষিপ্ত ঘটনার কথাও টেলিভিশনে কোন দিন বলা হয়নি।

টেলিভিশন থেকে কোন কিছু জানতে পারি নাই। আবার যারা পর্যবেক্ষক ছিলো তারাও একটা শব্দও উচ্চারণ করে নাই এবং পরবর্তীতে যখন লিখিত প্রতিবেদন দিয়েছে তখনও কিন্তু এমন কোন কিছু বলেনি- যা দেখে আমি অনুমান করবো আমরা কোন নির্বাচনী ব্যবস্থার কবর দিয়েছি। আমি কোন অবস্থাতেও আপনাদের কাছ থেকে কোন রকম কোন কিছু পাই নাই। তার পরেও যেহেতেু কথা গুলো উঠছে দেশে ও বিদেশে।

নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, আমি ধরে নিতেছি- হয়তোবা কিছু একটা আছে যা থেকে এই লোক গুলো এ কথা গুলো বলার একটা সুযোগ পেয়েছেন। অবশ্যই কিছু একটা আছে তানাহলে সুযোগ পাওয়ার কথা না। একটা বাংলার প্রবাদ আছে- যা রটে তার কিছু হলেও বটে। আমি ওটাতেই ধরে নিতেছি। কিছু একটা আছে। আর কিছু একটা আছে আমার এ বিশ্বাস থেকে আপনাদের কাছে ছুটে এসেছি। কিছু একটা আছে এবং এই কিছু একটা উপজেলা নির্বাচনে আমি থাকতে দিবো না।

ওই প্রশিক্ষন শিবিরে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহারের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন, রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার জিএম শাহাদৎ হোসেন, নীলফামারী জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনে জনগনের আস্থা নেই’


একতরফা ও বির্তকিত নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মানুষের মধ্যে চরম অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর একটি বির্তকিত নির্বাচন হয়েছে। আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থাটা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শনিবার সকালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত আঞ্চলিক পরিকল্পনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সুজন সম্পাদক বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকায় সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন তারই প্রতিফলন। মানুষের মধ্যে এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে তারা ভোট কেন্দ্রে গেলেও ভোট দিতে পারবে না কিংবা ভোট দিলেও কিছু আসবে, যাবে না। এছাড়াও একটা বড় দল নির্বাচন বর্জন করেছে। যার ফলে নির্বাচনী ফলাফল কী হবে এটা অনেকটাই পূর্বনির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। যার জন্য মানুষের মধ্যে অনাগ্রহ ও ব্যাপক অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বিরোধীদল ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। একটা শক্তিশালী বিরোধীদল সংসদে থাকতে হয়। এখন আমাদের অভিনব একটা বিরোধীদল আছে। সংসদের বাইরেও শক্তিশালী একটা বিরোধীদল থাকতে হয়। বিরোধীদলের উদ্দেশ্যই হলো যারা ক্ষমতায় থাকে, তারা যেন কোনো রকম অন্যায়, বাড়াবাড়িতে লিপ্ত না হয়। মানুষের অধিকার যেন খর্ব না হয়। বিরোধীদলের উদ্দেশ্য সরকারকে সঠিক পথে রাখা, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’

সুজন সম্পাদক বলেন, ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনের ফলে যে অবস্থা হয়েছে- কোনো বিরোধীদল সংসদে ছিল না। সংসদের বাইরেও বিরোধীদল প্রবল চাপের মধ্যে ছিল। এতে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমাদের ক্ষমতাশীল দলটিও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা অনেক ক্ষেত্রে বেসামাল হয়েছে। এটা আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও ভবিষ্যতের জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত ও কার্যকর এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং একই সাথে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে চলমান রাখার জন্য সকলেরই পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুজন সেই ভূমিকা পালন করা চেষ্টা করছে।

তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের মুল কথা হচ্ছে নজরদারিত্ব। আমাদের সংসদ, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ একে অপরের নজরদারি করার কথা কিন্তু নজরদারিত্বের সেই কাঠামো ভেঙে পড়েছে। একই সাথে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য কমিশন, মানবাধিকার কমিশনের নজরদারিত্ব করার কথা। নাগরিক সমাজের নজরদারিত্ব সবার উপরে। সুজন নাগরিকদের জাগিয়ে তোলা, তাদেরকে অধিকার সচেতন করা, তাদের দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

সুজন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিটির আহবায়ক ইয়াজদানী কোরায়শীর সভাপতিত্বে বক্তব্য কেন্দ্রীয় সুজন সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার, ময়মনসিংহ মহানগর কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন, শেরপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, কিশোরগঞ্জ জেলা সহ-সভাপতি ফিরোজ উদ্দিন ভূইয়া প্রমুখ। সভায় ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ সিইসিকে জোকার বললেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাকে ‘জোকার’ বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে কম ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে ‘জোকার’ সিইসি বলেছেন- ভোটার আসল, কি আসল না সেটা তার দেখার বিষয় নয়।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।

জাফরুল্লাহ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করা হয়েছিল গণতন্ত্রের জন্য। কিন্তু আজ গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার নেই। কয়েক দিন আগে গণশুনানির জন্য হল ভাড়া পাইনি। গায়েবি-আজগুবি মামলা দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের জেলে রাখা হয়েছে।

জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি এম এ গোফরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্পধারার সাধারণ সম্পাদক (একাংশ) শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ জনগণ ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে সরকারের গালে থাপ্পড় মেরেছে, তুবও তারা লজ্জা পায় না


‘ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ভোটে জনগণ ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে সরকারের গালে থাপ্পড় মেরেছে। তুবও তারা (সরকার) লজ্জা পায় না। বাংলাদেশ এখন আর গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র নয়। ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটা নিহত হয়েছে। প্রশাসন, ইউনিফর্ম পরিহিত বাহিনীর সহায়তায় ভোট চুরির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে বিলীন করা হয়েছে। এটা আর এখন গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র নেই।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে জনগণ ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে সরকারকে থাপ্পড় মেরেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আসম রব বলেন, ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর সরকার জনগণকে অপমান করেছে। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি জনগণ ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে সরকারকে থাপ্পড় মেরেছে। তারা বলেছে, এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না।

স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে আলোচনার সভার আয়োজন করে জেএসডি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এছাড়াও ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

’৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনের স্মৃতিচারণ করে আসম রব বলেন, ‘২ মার্চের পতাকা উত্তোলন, ৩ মার্চের স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ ও ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ- এসবের পেছনে সিরাজুল আলম খানের অবদান রয়েছে। তাকে বাদ দিয়ে স্বাধীন দেশের ইতিহাস হতে পারে না।’

তিনি বলেন, আজ চেতনার কথা বলে যারা দেশ লুটপাট করছে মুক্তিযুদ্ধে তাদের কী অবদান আছে সেটা সবাই জানে? স্বৈরাচারী সরকার প্রশাসন ও ইউনিফর্মধারীদের সঙ্গে নিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করেছে। ’৭১ সালে যেভাবে হানাদারদের বিদায় করতে হয়েছে, স্বৈরাচারকে সেভাবে বিদায় করতে হবে।

আসম রব বলেন, এ সরকার চোর-ডাকাত-বাটপার-খুনি। রাষ্ট্র ক্ষমতা জবরদস্তি করে দখল করে রেখেছে। চকবাজারে আগুনে এত মানুষের প্রাণ গেলেও রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করতে ৫ দিন সময় লাগে।

জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি এম এ গোফরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্পধারার সাধারণ সম্পাদক শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সিটি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি: মাহবুব তালুকদার


ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।তিনি বলেছেন, প্রধান বিরোধীদলগুলো অংশ না নেয়ায় এটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নয়। ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম।

বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টের উপস্থিতিও কম ছিল মন্তব্য করে মাহবুব তালুকদার বলেন, আমি আজ সকালে মগবাজারের ইস্পাহানি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। সরকার দলীয় মেয়রের পোলিং এজেন্ট ছাড়া আর কারও এজেন্টকে সেখানে দেখিনি।

ভোটার উপস্থিতি কম ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ইস্পাহানি ভোটকেন্দ্রে ৫টি কেন্দ্রের ১৫টি বুথে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মাত্র ৩৮৫ জন ভোট দিয়েছেন। ওই ৫ কেন্দ্রে ভোটার রয়েছে ৯ হাজার ৪১৩ জন।

তিনি বলেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে তাতে ভোটারদের ভোট দিতে যেতে উৎসাহ দেখা যায় না।

এই নির্বাচনকে অপূর্ণাঙ্গ মন্তব্য করে মাহবুব তালুকদার বলেন, এই নির্বাচন পাঁচ বছর পরপর হবে। তবে এখন যারা নির্বাচিত হবেন তারা মাত্র এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাই আমি এই নির্বাচনকে অপূর্ণাঙ্গ বলছি।

প্রসঙ্গত, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক মারা যাওয়ায় উপনির্বাচন এবং উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here