ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনটি বাতিল করে সাংবাদিক জাফরের মুক্তি দাবি করলেনঃ ফখরুল ইমাম

0
265

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম দৈনিক যুগান্তরের কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফরের মুক্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করায় আবু জাফর এখন কারাগারে।

এ সময় সংসদের সামনে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তাহলে কি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো রিপোর্ট করা যাবে না? তিনি ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনটি বাতিল, না হয় সংশোধনের দাবি জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখার কথা বলেন।

রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বিরোধী দলের এ সংসদ সদস্য বলেন, যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদের তদন্ত করা হোক। সত্য-মিথ্যা যাচাই করা হোক। রিপোর্টার যদি ভুল লিখে থাকেন তাহলে তাকে শাস্তি দেয়া হোক। কিন্তু তার আগেই তাকে কেন কারাগারে পাঠানো হল। তিনি বলেন, প্রয়োজনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। তদন্তে সাংবাদিক আবু জাফর দোষী প্রমাণিত হলে আমাদের কিছু বলার থাকবে না। কিন্তু অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগে কেন তিনি শাস্তি পাবেন। তিনি ফের উল্লেখ করেন, তবে কি দুর্নীতির কোনো সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না?

ফখরুল ইমাম আইনমন্ত্রী এবং তথ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে। সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি সরকারের পক্ষে সব খবর জানা সম্ভব নয়। গণমাধ্যম কর্মীরাই প্রকৃত চিত্র তুলে আনেন খবরের পাতায়। তারা যদি বাধাগ্রস্ত হন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের শিকার হন, তারা যদি লিখতে না পারেন, তবে রাষ্ট্র ও সমাজের অনেক দুর্নীতির চিত্রই ধামাচাপা পড়ে থাকবে। সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না। দুর্নীতিবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। এতে করে সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম বলেছেন, সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের অপব্যবহার করছে। যখন এই আইন প্রণয়ন করা হয় তখন আমরা বিরোধিতা করেছিলাম। আইনমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, কোনো নিরীহ মানুষ এই আইনের অপব্যবহারের শিকার হবে না। সাংবাদিকরাও স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এই আইনকে আজ ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই আইনের কারণে স্বাধীন সাংবাদিকতা আজ হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। জাতীয় পার্টি কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়ে সরকারের ভালো-মন্দের চিত্র জাতীয় সংসদে তুলে ধরবে। সংসদের বাইরেও জাতীয় পার্টি কথা বলছে। আমরা মনে করি, শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতি এগিয়ে নিতে স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা হোক। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনটি বাতিল, না হয় সংশোধন করা হোক। সাংবাদিকদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হোক।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করে চলছে সাংবাদিক নির্যাতন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দৈনিক যুগান্তরের ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। রোববারও মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ না হলে দুর্নীতিবাজরা উৎসাহিত হবে। নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কালো ধারাগুলো বাতিলের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, আইনটি বাতিল করা না হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হবে। অন্যায়, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লেখার সুযোগ সংকুচিত হবে। গ্রেফতার সাংবাদিকদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, অন্যথায় দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে। এদিকে, সাংবাদিকদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারদের মুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

১৯ ফেব্রুয়ারি যুগান্তরে ‘নবাবগঞ্জের ওসি মোস্তফা কামালের আলিশান বাড়ি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার মদদে ওইদিন সন্ধ্যায় দোহার থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। যুগান্তর ও যমুনা টিভির নিজস্ব প্রতিনিধি আজহারুল হক, কেরানীগঞ্জ থানা প্রতিনিধি আবু জাফর, আশুলিয়া থানা প্রতিনিধি মো. মেহেদী হাসান মিঠু, ধামরাই থানা প্রতিনিধি শামীম খান এবং গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এসএম হুমায়ুন কবীরকে আসামি করে মামলা করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কথিত নেতা, অসংখ্য অপরাধমূলক মামলার আসামি ও কুখ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. পলাশ মিয়া। মামলার পর রাতেই সাংবাদিক আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার করার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিবৃতি দিয়েছেন। এ সম্পর্কে যুগান্তরের ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

খুলনা : গ্রেফতার সাংবাদিকদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে যুগান্তর স্বজন-সমাবেশ ও সাংবাদিকদের আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী ও দুর্নীতিবাজরা নিজেদের রক্ষায় এ আইনের অপব্যবহার করছে। হামলা, মামলা ও নির্যাতন করে স্বাধীন সাংবাদিকতা বন্ধ করা যাবে না।

খুলনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাহেব আলী বলেন, সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতেই সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনের অতি উৎসাহী ও অসাধু কর্মকর্তারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে মামলা দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় যুগান্তরের সাংবাদিকদের নামে মামলা করা হয়েছে। অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহার করে গ্রেফতার সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি করেন তিনি। খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) সভাপতি মুন্সী মাহবুবুল আলম সোহাগ বলেন, সরকার সব আইন প্রণয়ন করে সমাজের উন্নয়নের জন্য। অথচ কিছু অসাধু কর্মকর্তা সেই আইনের অপব্যবহার করছে। তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করলেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যত নির্যাতনই করা হোক না কেন সাংবাদিকরা অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলবে। সাংবাদিকরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিতে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (এমইউজে) সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করার সময়ই সাংবাদিকরা সোচ্চার ছিলেন এর কিছু ধারা বাতিলের জন্য। এসব ধারা সুষ্ঠু সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করবে বলে সাংবাদিক নেতারা জানান। আইনটি প্রণয়নের পর সে আশঙ্কাই বাস্তবায়িত হল। সাংবাদিকরা আজ এ আইনের অপব্যবহারের শিকার। মানববন্ধনে যুগান্তরের খুলনা অফিসের সিনিয়র রিপোর্টার মোস্তফা কামাল আহমেদ বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ পরিবেশন করায় পাঁচ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও গ্রেফতার করা হয়েছে। যা নজিরবিহীন। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কেইউজের সাধারণ সম্পাদক সাইয়্যেদুজ্জামান সম্রাট, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ আবু হাসান, সহসভাপতি মো. রাশিদুজ্জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজা ও সুবীর রায়, আনোয়ারুল ইসলাম কাজল (পূর্বাঞ্চল), কাজী শামীম (বণিক বার্তা), আলমগীর হান্নান (মানবকণ্ঠ), মাকসুদ আলী (প্রবাহ), মাহবুবুর রহমান মুন্না (বাংলানিউজ২৪), নাজমুল হক পাপ্পু (প্রবর্তন), মহেন্দ্রনাথ সেন (ইটিভি), বাপ্পী খান (আজকের তথ্য), আশরাফুল ইসলাম নুর, এসএম আমিনুল ইসলাম ও সোহাগ দেওয়ান (সময়ের খবর), এমএ জলিল (খুলনাঞ্চল), নাজমুল হোসেন (প্রবাহ), ইয়াছিন আরাফাত রুমি (চ্যানেল ৯), সুনীল দাশ (এসএটিভি), হেলাল হোসেন (পাঠকের কাগজ), জয়নাল ফারাজী (দ. প্রতিদিন), প্রবীর বিশ্বাস, আমীর সোহেল ও মাসুম বিল্লাহ (যমুনা টিভি), আহমদ মুসা রঞ্জু ও নুর ইসলাম রকি (যুগান্তর)।

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এসএম হুমায়ূন কবীরসহ ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোপালগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিক ও সচেতন সমাজ। দৈনিক যুগকথার সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার মোজাম্মেল হোসেন মুন্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন কবি ও সাংবাদিক রবীন্দ্রনাথ অধিকারী, এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার মাহাবুব হোসেন সারমাত, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি চৌধুরী হাসান মাহমুদ, দৈনিক বর্তমান গোপালগঞ্জের সম্পাদক ও বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি শেখ মোস্তফা জামান, ডেইলি এশিয়ান এজের জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান মানিক, দৈনিক বাঙালি খবরের জেলা প্রতিনিধি মাহমুদ আলী কবির প্রমুখ। এতে কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি প্রসূণ মণ্ডল, দেশ টিভির সলিল বিশ্বাস মিঠু, একুশে টেলিভিশনের একরামুল কবীর মুক্ত, এসএ টিভির বাদল সাহা, চ্যানেল ২৪-এর রাজিব আহমেদ রাজু, চ্যানেল নাইনের জয়ন্ত শিরালী, আনন্দ টিভির সেলিম রেজা, সিএনএন বাংলা টিভির এম শিমুল খান, প্রথম আলোর নতুন শেখ, ভোরের ডাকের সৈয়দ আকবর হোসেন, নিউজ২৪-এর হোসাইন আহমেদ, দেশেরপত্রের ফকির মিরাজ আলী শেখ, যুগান্তরের কাশিয়ানী প্রতিনিধি লিয়াকত হোসেন লিংকন, চ্যানেল এসের কাজী মাহমুদ, প্রতিদিনের সংবাদের এমএ জামান, দৈনিক আমার সংবাদের বিজয় মল্লিক, আজকালের খবরের মুকসুদপুর প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম, প্রতিদিনের সংবাদের টুঙ্গীপাড়া প্রতিনিধি সজল সরকার, মাতৃছায়ার কাজী হারুন অর রশিদ, দৈনিক বজ শক্তির পারভেজ লিপু, আমাদের নতুন সময়ের সাবের হোসেন, যোগাযোগ প্রতিদিনের হেমন্ত বিশ্বাস, গণনিউজের সাইমুর রহমান বিল্লাল, আমার সংবাদের শেখ হাসান, আমার কাগজের মনির মোল্লা ও আলোড়নের কাজী কাফুসহ সাংবাদিক ও সচেতন সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক নেতারা বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না এবং মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে কণ্ঠরোধ করা যাবে না। হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ না হলে দুর্নীতিবাজরা উৎসাহিত হবে। তারা বলেন, অবিলম্বে গ্রেফতার সাংবাদিকদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে। নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কালো ধারাগুলো বাতিলের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, আইনটি বাতিল করা না হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হবে। অন্যায়, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লেখার সুযোগ সংকুচিত হবে।

মাগুরা : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানির প্রতিবাদে মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে সাংবাদিকসমাজ মানববন্ধন করেছে। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে ‘যা দেখি তাই বলি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ করতে হবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই, সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে, আমরা সুন্দর বাংলাদেশ চাই’ ইত্যাদি স্লোগানসংবলিত রঙিন পোস্টার নিয়ে সাংবাদিকরা বিক্ষোভ করেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা জাসদ সভাপতি কামরুজ্জামান চপল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক কাজী নজরুল ইসলাম ফিরোজ, মাগুরা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামিম খান, হোসেন সিরাজ, অলোক বোস, যুগান্তরের মাগুরা জেলা প্রতিনিধি আবু বাসার আখন্দসহ অনেকে।

মধুখালী (ফরিদপুর) : যুগান্তরের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার প্রতিবাদে মধুখালীতে সভা হয়েছে। মধুখালী প্রেস ক্লাব চত্বরে যুগান্তর পত্রিকার প্রতিনিধি একেএম ইলিয়াস সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকরা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানান তারা।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও দুই সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে রূপগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা অর্ধবেলা কলমবিরতি পালন করেছেন। রোববার সকালে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় কর্মরত ৭২ জন সাংবাদিক কলম ভেঙে এ কর্মসূচি পালন করেন। পরে প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কলামিস্ট মীর আবদুল আলীমের অনুরোধে সাংবাদিকরা কলমবিরতি প্রত্যাহার করে নেন। তবে আগামী ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহার ও সাংবাদিকদের মুক্তি দেয়া না হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধসহ বড় ধরনের কর্মসূচি দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিকরা। রূপগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাজী খলিল সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি ও মাই টিভির সাংবাদিক মকবুল হোসেন, যুগান্তরের এ হাই মিলন, ছাত্তার আলী সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল আহমেদ, এশিয়ান টিভির জিএম সহিদ, ভোরের কাগজের নজরুল ইসলাম, জিটিভির আশিকুর রহমান হান্নান, কালের কণ্ঠের এসএম শাহাদাত, সমকালের জিয়াউর রাশেদ, করতোয়ার মঞ্জুরুল কবির বাবু, জয়যাত্রা টিভির গোলাম কাউসার দিলু, বাংলাদেশ প্রতিদিনের জাহাঙ্গীর আলম হানিফ, সংগ্রামের নাজমুল হুদা, মানবকণ্ঠের সাইফুল ইসলাম, আনন্দটিভির মাহাবুব আলম প্রিয়, বাংলাদেশের খবরের ইমদাদুল হক দুলাল, ২৬টিভির এমএইচ বিজয়, বাংলাটিভির সোহেল কিরণ, রুবেল সিকদার, জিন্নাত হোসেন জনি, সময়ের আলোর এসএম রুবেল মাহমুদ, সিএনএন বাংলাটিভির সাইদুর রহমান, ডেসটিনির নুরে আলম, ফটোসাংবাদিক সুজন মিয়া প্রমুখ।

বন্দর (নারায়ণগঞ্জ) : ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বন্দর বাজারে বন্দর প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি কবির হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টা জিএম মাসুদ, উপদেষ্টা আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, মাহফুজুল আলম জাহিদ, দ্বীন ইসলাম দিপু, মেহেদী হাসান রিপন, মো. মাইনুল হক, সংগীত শিল্পী মিতু মোর্শেদ, জয় দাস প্রমুখ। সাংবাদিক নেতারা বলেন, প্রশাসনের অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণে নানা অজুহাতে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় সাংবাদিকদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।

আশুগঞ্জ : অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গলার কাঁটা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন আশুগঞ্জের সাংবাদিকরা। অন্যথায় পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। আশুগঞ্জ গোলচত্বরে প্রেস ক্লাব আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিকরা এ দাবি জানান। এতে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন। প্রেস ক্লাবের সভাপতি সেলিম পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান রঞ্জন, সহসভাপতি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, মো. শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম সাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, আল মামুন, মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন, মো. গোলাম সারোয়ার, শ্রমিক নেতা তানসেনসহ অনেকে। যুগান্তরের দুই সাংবাদিকের মুক্তির পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) : যুগান্তরের কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফর ও লোহাগাড়া প্রতিনিধি মো. সেলিম উদ্দিনের মুক্তির দাবিতে রোববার প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেছেন গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম। স্মারকলিপিতে গৌরীপুরে কর্মরত সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, এনজিও কর্মকর্তা ও যুগান্তর স্বজন-সমাবেশের সদস্যরা স্বাক্ষর করেন। এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রইছ উদ্দিন। এতে অংশ নেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও গৌরীপুর পাবলিক কলেজের ভারপ্রাপ্ত মো. শফিকুল ইসলাম মিন্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন শাহীন, গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান বোরহান, উপজেলা স্বজন-সমাবেশের যুগ্ম সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, দৈনিক বাহাদুরের ওয়েব ইনচার্জ তাসাদদুল করিম প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়- ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনার মানবিকতায় ও সাহসিতায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আশা করি, আপনার হস্তক্ষেপে সত্য বেরিয়ে আসবে এবং সাংবাদিকরা মুক্তি পাবেন। আপনার উদ্যোগেই নতুন প্রজন্ম ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে। বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। গ্রামের কৃষক, খেটে খাওয়া মানুষও এ যুগের বাহিরে নয়। একটি কুচক্রী মহল বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ করে সাংবাদিকদের হেনস্তা করছে। একমাত্র আপনিই পারেন এ আইনের অপব্যবহার কঠোর হস্তে দমন বা এ আইন বাতিল করতে।’

অন্যদিকে যুগান্তর স্বজন-সমাবেশ উপজেলা শাখার উদ্যোগে সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বজন-সমাবেশের সভাপতি মো. এমদাদুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা স্বজন-সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক কবি সেলিম আল রাজ। মামলা প্রত্যাহার ও সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন সার্ডের ম্যানেজার আবদুল বাছেদ, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গৌরীপুর শাখার সদস্য আরিফ আহমেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. সিরাজুল ইসলাম, চাঁদের হাট অগ্রদূত শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমিরুল মোমেনীন, সাপ্তাহিক পরিধির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আরিফ আহম্মেদ, পৌর স্বজন সমাবেশের সভাপতি শ্যামল ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান মুক্তা, উপজেলা স্বজন-সমাবেশের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল আমিন তুহিন, সহ-সম্পাদক মো. মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক সামছুজ্জামান আরিফ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, স্কুল বিষয়ক সম্পাদক শামীম আনোয়ার, কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশিক মিয়া প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here