ফিনিশ নারীদের মতে ইসলামী পোশাক পশ্চিমাদের চাপানো মূল্যবোধ থেকে মুক্তি দিয়েছে

0
97

ফিনল্যান্ডের যেসকল নারী ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হন তারা ইসলামের পর্দা প্রথাকে বৈষম্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করতে চান না, বরং তারা একে বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে দেখেন। ধর্মীয় বিভিন্ন ইস্যুতে বিশেষজ্ঞ একজন গবেষক সম্প্রতি এমনটিই দাবি করেছেন।

ফিনল্যান্ডের রাজপথগুলো ইদানীং পর্দা পরিধান করা নারীদের দ্বারা পরিচিত হয়ে উঠেছে। ২০১৫ সালে বিভিন্ন মুসলিম দেশের অভিবাসীগণ এবং রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রার্থীদের আগমনের কারণে এমনটি ঘটছে। তবে একই সাথে ফিনিশ নারীদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করাও এর অন্যতম কারণ বলে দেশটির জাতীয় প্রচার মাধ্যম ‘ইলে’ তার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

জাইভাসকেইলা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং জাতি-তাত্ত্বিক মেরি তুউভিনেনের মতে, ফিনল্যান্ডের তুর্কু এবং অন্যান্য বড় শহরগুলোর ফিনিশ নারীগণ ব্যাপক হারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন যারা এর পূর্বে কোনো দিন মুসলিম সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসেননি।

মেরি তুউভিনেন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বড় শহরগুলোতে সমমনা মানুষ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ সুবিধার পরিমাণ বেশি এবং তাই এখানে অনেক ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকে।

মেরি তুউভিনেন জোর দিয়ে বলেন, ফিনিশ নারীদের ইসলাম গ্রহণ হালের আন্তর্জাতিক প্রবণতার একটি অংশ। বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বে ইসলামের ব্যাপক প্রসার হচ্ছে, কিন্তু অন্যদিকে অন্যান্য ধর্ম দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে অথবা সেগুলো যে অবস্থানে ছিল সে অবস্থানে রয়ে গেছে।

যদিও ঠিক কতজন ফিনিশ নাগরিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন তার সরকারি কোনো পরিসংখ্যান নেই, কিন্তু মেরি তুউভিনেনের মতে ফিনল্যান্ডে যে সংখ্যক নাগরিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন তাতে তিনি একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

মেরি তুউভিনেন তার গবেষণার অংশ হিসেবে ৩১জন ফিনিশ নাগরিক যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন তাদের একটি সাক্ষাৎকার নেন। তাদের মধ্যে ২৮জন ছিলেন নারী এবং শুধুমাত্র ৩জন পুরুষ ছিলেন।

যদিও ইসলাম গ্রহণকারী এসকল মানুষ জন বিভিন্ন বয়সের, ভিন্ন ভিন্ন পটভূমির এবং সমাজে তাদের অবস্থানও ভিন্ন ভিন্ন রকমের, কিন্তু তাদের সকলের মধ্যে যে বিষয়টি সাধারণ তা হচ্ছে- তারা সকলেই ইসলামকে একটি ‘যৌক্তিক’, এবং ‘বুদ্ধি-ভিত্তিক’ ধর্ম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেসকল ফিনিশ নারী ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের দাবী অনুযায়ী, নারীদের জন্য ইসলামিক ‘পর্দা বা মাথা ঢেকে রাখে এমন পোশাক’ তাদের মুক্তি দিয়েছে। ইসলামী পোশাক ফিনিশ নারীদের ‘পশ্চিমা সৌন্দর্যের ধ্যান ধারণা এবং আকাঙ্ক্ষা’ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করেছে বলেও অনেক ফিনিশ নারী মত দিয়েছেন।

মেরি তুউভিনেন বার্তা সংস্থা ‘ইলে’ কে ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘বাস্তবিক অর্থে সত্যি কথা হচ্ছে নারীগণ ইসলামিক পোশাককে তাদের মুক্তির কারণ বলে মনে করছেন যেখানে পশ্চিমা বিশ্বে এসকল পোশাককে বৈষম্য এবং অসমতার চিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

ফিনল্যান্ডে ইসলাম গ্রহণকারী বেড়ে চলেছে এমন ধারণা সর্বপ্রথম চালু করেন দেশটির হেলসিনকি মসজিদের কর্মচারী এবং National Forum for Cooperation of Religions (USKOT) এর সহযোগী পিয়া জার্ডি নামের একজন মুসলিম। পিয়া জার্ডির মতে, জনগণ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন এর পরিষ্কার ব্যাখ্যা, সৃষ্টিকর্তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ এবং এর স্বচ্ছতা মূলক অর্থের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।

২০১৬ সালে পিডব্লিউ নামক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের করা এক পরিসংখ্যান মতে, ফিনল্যান্ডের ৫.৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ২.৭ শতাংশ লোক মুসলিম এবং এ সংখ্যা ২০৫০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

ঐতিহাসিকভাবে ফিনিশ মুসলিমদের বেশীর ভাগই তাতার জনগোষ্ঠী দ্বারা গঠিত, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এখানে আরব, সোমালিয়ান, কুর্দি, তুর্কি এবং আলবেনিয়ার মুসলিম গণ যুক্ত হতে থাকেন।

অধিকন্তু, ২০১৮ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশ(৬২ শতাংশ) ফিনিশ নাগরিক বিশ্বাস করেন যে, ইসলাম ফিনল্যান্ডের সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। তবে এদের এক শতাংশ বলেছেন যে, তারা কখনো কোনো মুসলিমকে তাদের পরিবারের একজন হিসেবে গ্রহণ করবেন না। অন্যদিকে ১৪ শতাংশ ফিনিশ নাগরিক কোনো মুসলিম প্রতিবেশীর সাথে বসবাস করার বিরোধী বলে নিজেদের উল্লেখ করেছেন।

সুত্রঃ ‌ স্পুটনিক নিউজ ডট কম

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here