আবারও বাংলাদেশ সরকারকে ব্যবহারকারীর গোপন তথ্য দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ

0
194

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে আবারও কয়েকজন ব্যবহারকারীর তথ্য দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে বাংলাদেশের ১৫টি পাতা-একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক।

এর আগে গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ১৪৯টি অনুরোধের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মোট ১৯৫টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বা ব্যবহারকারীর তথ্য চাওয়া হয়েছিল।

ফেসবুকের সর্বশেষ ‘ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট’ এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারকে এরি মধ্যে ৪৪ শতাংশ তথ্য দিয়েছে।

এর মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৯টি অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছিল সরকার। আর ১৩০টি অ্যাকাউন্টের বিষয়ে ছিল ‘জরুরি’ অনুরোধ।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাওয়া অনুরোধের ১৬ শতাংশ তথ্য তারা সরকারকে সরবরাহ করেছে। আর সরকারের জরুরি অনুরোধের ক্ষেত্রে ৪৮ শতাংশ তথ্য দিয়েছে।

বরাবরের মতই ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের এই প্রতিবেদনে কোন দেশের সরকার কতগুলো কী ধরনের তথ্য চেয়েছে সেই সংখ্যাই কেবল প্রকাশ করেছে। যেসব অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়েছে বা যেসব অ্যাকাউন্টের তথ্য দেওয়া হয়েছে সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি।

কখনও কখনও আইনি প্রক্রিয়া শুরুর জন্য কোনো অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষণের অনুরোধেও সাড়া দেয় ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ।

গত জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে এরকম ৩১টি অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষণের অনুরোধ পাওয়ার কথা ফেসবুকের ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর নাম বা কনটেন্ট সম্পর্কে কোনো তথ্য ফেসবুকের প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দেশের সরকার ও সংস্থাকে ব্যবহারকারীদের কতোটা তথ্য দিচ্ছে তা বছরে দুই বার প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে ২০১৩ সাল থেকে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের এ ধরনের অনুরোধ ২০১৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমবার ফেসবুকের সাড়া পায়।

তথ্য দেওয়া শুরু করার পর থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সবচেয়ে বেশি অনুরোধ পেয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এক বছরে।

এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মোট ১৫২টি অনুরোধের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২০৫টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বা ব্যবহারকারীর তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশ তথ্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সরকারকে দিয়েছে।

ফেসবুকের ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদন বলছে, ব্যবহারকারীদের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন দেশের সরকারের তরফ থেকে অনুরোধের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে।

উৎসঃ ‌‌ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বাংলাদেশে নিউজ ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করছে কারা? বিটিআরসি কোন জবাব দিচ্ছে না!

জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকাসহ ৫৮টি পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি

বাংলাদেশে সম্প্রতি দু’টি নিউজ ওয়েবসাইট এবং একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ৫৪ টি নিউজ ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া হলেও কারা বন্ধ করছে এবং কী কারণে বন্ধ করছে তা কিছুই জানা যাচ্ছেনা৷ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনও (বিটিআরসি) কোনো জবাব দিতে পারছেনা৷ তাহলে বন্ধ করছে কারা?

গত রবিবার সকাল ১১টার পর থেকে ৯ বছরের পুরনো নিউজ পোর্টাল পরিবর্তনডটকম-এ বাংলাদেশ থেকে অনেকেই ঢুকতে পারছেন না৷ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সুফিয়ান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের ডেমেইন ব্লক করা হয়েছে৷ আমরা এরপর বিটিআরসিসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করে যাচ্ছি, কিন্তু কেউ কোনো সদুত্তর দিচ্ছেন না৷”

সুফিয়ান বলেন, ‘‘তবে, আমরা আমাদের সূত্র থেকে জানতে পেরেছি ‘‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ” নামের একটি সংগঠনের বিজ্ঞাপন নিয়ে আমরা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করায় এই ঘটনাটি ঘটতে পারে৷ বিভিন্ন পত্রিকায় ওই সংগঠনের নামে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপন তাদের নয় বলে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা জানায়৷ আমরা এরপর একটি প্রতিবেদন করি ‘‘তাহলে বিজ্ঞাপনটি কারা দিয়েছে?” শিরোনামে৷”

তিনি বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যজনক হলো, কেন বন্ধ করা হলো, কারা বন্ধ করলেন তাও আমরা জানতে পারছিনা৷ আমাদের কোনো খবরের ব্যাপারে যে কারুর কোনো কথা থাকতে পারে৷ কোনো প্রতিবাদ বা ব্যাখ্যা থাকতে পারে৷ কিন্তু সেসব না জনিয়ে নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেয়া সরাসরি স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ৷ আর এই স্বাধীনতা আমাদের সংবিধান দিয়েছে৷”

সুফিয়ান বলেন, ‘‘ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে করে দেয়ার পর আমরা কর্মীরাও কোনো হয়রানির মুখে পড়ি কিনা সেই আতঙ্কের মধ্যে আছি৷ আর ঈদের আগে আমাদের দেড় শতাধিক কর্মীর বেতন ভাতা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে৷”

বাংলা রিপোর্টও কি নিষিদ্ধ?

এদিকে, গত ২৩ এপ্রিল থেকে আরেকটি নিউজ পোর্টাল বিএনডটবাংলাডটরিপোর্ট-এ বাংলাদেশে প্রবেশ করা যাচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে৷ তবে, ডয়চে ভেলের কয়েকজন পাঠক ফেসবুকে জানিয়েছেন যে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাইটটিতে প্রবেশ করতে পারছেন৷

বাংলা রিপোর্ট সম্পাদক রফিকুল রঞ্জু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘২১ ও ২২ এপ্রিল সোনারগাঁও হোটেলে বিপিও সামিট হয়৷ টাঙ্গাইল থেকে একজন প্রতিবন্ধী হুইল চেয়ারে করে ওই সামিট-এ যোগ দিতে এসেছিলেন৷ তিনি আইটিনির্ভর কিছু করতে চান৷ সেজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সাথে দেখা করে কথা বলতে চেয়েছিলেন সহযোগিতার জন্য৷ কিন্তু সেটা তিনি পারেননি৷”

তিনি বলেন, ‘‘এই নিয়ে আমরা ২২ এপ্রিল রাত সোয়া ১১টার দিকে ভিডিওসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করি৷ যার শিরোনাম ছিল ‘‘হতাশা নিয়ে ফিরে গেলেন কামরুল”৷ এই সংবাদ প্রকাশের কয়েকঘণ্টা পরই আমাদের পোর্টালটি বন্ধ হয়ে যায়৷ আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি৷ বিটিআরসিসহ সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি৷ কিন্তু কেউই বলতে পারছেন না কারা বন্ধ করেছেন৷”

রঞ্জু বলেন, ‘‘আমরা সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছি৷ তারাও চেষ্টা করেছেন নানা দিক দিয়ে যাতে সাইটটি চালু হয়৷ কিন্তু হয়নি৷”

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমরা কোনো আইন লঙ্ঘন করিনি৷ আমরা সংবিধান ও আইন মেনেই কাজ করছি৷ তারপরেও আমাদের পোর্টাল বন্ধ করে দেয়া হলো৷ আর কিভাবে কারা দিলো, কেন দিলো তাও বলা হচ্ছেনা৷ আমার দাবি হচ্ছে সরকার ও তথ্যমন্ত্রণালয়ের এই বিষয়গুলো পরিস্কার করা উচিত৷ আমরা অন্ধকারে আছি৷”

তাঁর মতে, বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম, বিশেষ করে অনলাইন চাপের মুখে আছে৷ আর আবু সুফিয়ান বলেন, ‘‘পোর্টালগুলো বন্ধ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে খবর প্রকাশ করলেও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে তেমন গুরুত্ব দিয়ে খবর প্রকাশ হয়না৷ এথেকে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপের বিষয়টি বোঝা যায়৷”

এদিকে, শনিবার বিটিআরসিতে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট কারো বক্তব্য জানা যায়নি৷ তবে ইন্টারন্টে সার্ভিস প্রোভাইডার এসাসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ওই দু’টি নিউজ পোর্টাল বন্ধে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা ছিলনা৷ আমরা বন্ধও করিনি৷ তবে এখন নানাভাবে আমাদের ছাড়াও ওয়েবসাইট বন্ধ করা যায়৷ এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকম্যুনিকেশন মনিটরিং সেন্টার) সবগুলো আইআইজিতে (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) তাদের নিজস্ব মনিটরিং ডিভাইস বসিয়েছে৷ তবে তারা বন্ধ করেছে কিনা তা আমরা বলতে পারবনা৷”

তিনি বলেন, ‘‘আরো কয়েকজন সাংবাদিক এর আগে জানতে চাওয়ায় আমি নিজেও বিটিআরসিতে ফোন করেছিলাম বিষয়টি জানতে৷ আসলে তারাও কিছু জানেনা৷”

‘স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ’

এদিকে, এই পরিস্থিতিকে সাংবাদিক নেতারাও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ বা চাপ হিসেবে দেখছেন৷ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কোনো স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিউজ পোর্টালগুলো বন্ধ করা হয়নি৷ পুরো বিষয়টিই অস্বচ্ছ এবং রহস্যাবৃত৷ এই আমাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বড় ধরনের অন্তরায় সৃষ্টি করছে৷”

তিনি বলেন, ‘‘সরকার এটার জন্য কতটা দায়ী সেটা বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে আমি বলবো বিষয়গুলো জানার পরে সরকারের ব্যবস্থা নেয়া উচিত৷ কারণ গণতন্ত্রিক সরকারের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি বিষয়৷ যদি কোনো অদৃশ্য কারণে গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে যায় আমরা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি সেটা গণতন্ত্রের জন্য, সরকারের জন্য বা গণমাধ্যমের জন্য কোনো শুভ খবর নয়৷”

তিনি আরো বলেন, ‘‘ঈদের আগে এভাবে গণমাধ্যম বন্ধ হওয়া অমানবিক৷ কোনো অদৃশ্য হাতের ইশারায় যদি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত হয়, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়৷ তবে সংবাদ মাধ্যমকেও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে৷”

উৎসঃ ‌‌ ডয়চে ভেলে বাংলা dw

আরও পড়ুনঃ ‌‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১ হাজার সাংবাদিকের বিবৃতি’

খালেদা জিয়াবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ১ হাজার ১৭ জন সাংবাদিক। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই তার বন্দিত্ব অবসানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হোক।

রবিবার (২৬ মে) ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ের (একাংশ) সভাপতি কাদের গণি চৌধুরীর সই করা বিবৃতিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে সই করা সাংবাদিক বাছির জামাল এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

বিবৃতিতে সাংবাদিকরা বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন। তার স্বাস্থ্যের এমন অবনতি হয়েছে যে তিনি স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত করতে পারছেন না।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অসুস্থ অবস্থায় এক বছরের বেশি সময় আগে তাকে জেলে নেওয়া হয়। এরপর চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তার অসুখের মাত্রা বেড়ে যায়। একপর্যায়ে খালেদা জিয়া নিজেই আদালতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানাতে বাধ্য হন।’

বিবৃতিতে সাংবাদিকরা দাবি করেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে করা মামলাটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক। তাছাড়া যে ২ কোটি টাকা নিয়ে মামলা, তার একটি টাকাও নষ্ট হয়নি। ইতোমধ্যে সেই টাকা ব্যাংকে তিন গুণ বেড়ে ৬ কোটির বেশি হয়েছে।

বিবৃতিতে সই করেছেন রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, আমানুল্লাহ, আলমগীর মহিউদ্দিন, আবুল আসাদ, অধ্যাপক আবদুল গফুর, শওকত মাহমুদ, রুহুল আমিন গাজী, ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, কবি আল মুজাহিদী, মোবায়েদুর রহমান, ফজলুর রহমান মুন্সী, মোস্তফা কামাল মজুমদার, সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, কামাল উদ্দিন সবুজ, এম এ আজিজ, এম আবদুল্লাহ, কবি আবদুল হাই শিকদার, এরশাদ মজুমদার, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, আবদুস শহিদ, গোলাম তাহাবুর, ছড়াকার আবু সালেহ, মাশুক চৌধুরী, খায়রুল আনোয়ার মুকুল, বাকের হোসাইন, শহিদুল ইসলাম, সৈয়দ মেজবাহ, কবি হাসান হাফিজ, কবি মাহমুদ শফিক, এ ইউ এম ফখরুদ্দিন, শেহাব উদ্দিন আহমেদ নাফা, চিন্ময় মুৎসুদ্দী, জিয়াউল হক, রীটা রহমান, মাহমুদা চৌধুরী, মমতাজ বিলকিস বানু, রোজী ফেরদৌস, মুন্সী আবদুল মান্নান, কাজী রওনাক হোসেন, নূরুল হুদা, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ইলিয়াস হোসেন, শফিউল আলম দোলন, সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, বদিউল আলম, নূরুল হাসান খান, বখতিয়ার রানা, গোলাম মোস্তফা, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, জাহিদ চৌধুরী, কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, শাহ আহমদ রেজা, ড. আবদুল হাই সিদ্দিক প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ ‌‘আন্দোলন করতে ভয় পান? জেলে রিজিক থাকলে জেল খাটতেই হবে’: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, আন্দোলন করতে ভয় পান? ভয় পেয়ে লাভ কি? আন্দোলন না করেওতো কত মানুষ জেল খেটেছে। ভয় করে লাভ নেই, জেলে রিজিক থাকলে জেল খাটতেই হবে।

২৬ এপ্রিল (রোববার) রাজধানীর বিজয় নগরে হোটেল অর্নেটে ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় লেবার পার্টি কতৃক আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

মজিবুর রহমান বলেন, মরণের ভয় করে লাভ নেই, জন্ম যেহেতু হয়েছে মৃত্যু অবশ্যই হবে। কিন্তু সেই মৃত্যু যেন হয় ঈমানী মৃত্যু।

তিনি বলেন, শুধু বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নয় গোটা দেশবাসীর মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বেগম জিয়ার মুক্তি প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, মৃত্যুর ভয় না করে দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা সার্বোভৌমত্ব রক্ষায় জালিমের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে শেষ করা যাবে না মন্তব্য করে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তারা জনগণের সরকার না, কতৃত্ববাদী সরকার। তাই এ সরকারকে আমরা যেভাবে মেনে নিতে পারিনি ঠিক একইভাবে এদেশের জনগণ মেনে নিতে পারেনি। এ সরকারের পতন না হলে দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতির সমাধান হবে না।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, জনগণের এখন গণতন্ত্রের উপর শ্রদ্ধাবোধ নেই কারণ এই সরকার গণতন্ত্রের উপর জনগণের আস্থা ধ্বংস করেছে। মানুষ এখন আর ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যায় না।

অধ্যাপক মুজিব বলেন, এই জালিম সরকারের পতন ঘটাতে হলে আন্দোলন করতে হবে। এই সরকারের পতন ছাড়া দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া যাবে না।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা ইসহাক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এন.পি.পি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা রনি প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে ঝটিকা মিছিল

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতারা।

রোববার (২৬ মে) সন্ধ্যায় নয়াপল্টন এলাকায় তারা এ মিছিল করেন।

রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (রুনেসা) ব্যানারে অনুষ্ঠিত মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের পর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে আবার বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

মিছিলে রুনেসার সদস্যরা বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে স্লোগান দেন। অবিলম্বে তারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন।

মিছিলে অন্যান্যের বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, জাসাস সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন ভুঁইয়া শিশির, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, রুনেসার সভাপতি বাহাউদ্দিন বাহার, জাসাস সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রিপন, জাসাস সহ-সভাপতি জাহেদুল আলম হিটো, মহানগর জাসাস আহ্বায়ক মীর সানাউল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন, মাকসুদুর রহমান টিপু, রফিকুল ইসলাম স্বপন, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, মোকাম্মেল কবির প্রমূখ অংশ নেন।

উৎসঃ ‌‌ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বগুড়ায় ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের হামলা

এবার বগুড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুরসহ তার সঙ্গীদের ওপর সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভিপি নুরসহ অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রোববার বিকাল ৫টার দিকে বগুড়া উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আন্দোলনের ইফতার ও দোয়া মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে ভিপি নুরকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আন্দোলনের বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান রাকিব অভিযোগ করে জানান, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বগুড়ায় ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন তারা। অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপিকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে এসে অবস্থান নেয়। এর আগে পুলিশকে দিয়ে অনুষ্ঠান না করার জন্য হুমকি দেয় তারা।

বিকাল ৫টার দিকে নুরকে বহনকারী মাইক্রোবাস অনুষ্ঠানস্থলে আসে। এ সময় ভিপি নুরসহ তার সফর সঙ্গীরা মাইক্রোবাস থেকে নামলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভিপি নুরসহ তার সফরসঙ্গীদের কিলঘুষি ও লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় হামলার দৃশ্য ভিডিওধারণ করায় যমুনা টিভির ক্যামেরাপার্সন শাহনেওয়াজকে মারধর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

পরে স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজ হাসান ভিপি নুরকে উদ্ধার করে রিকশায় হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ৩০-৪০ জন অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু তাৎক্ষণিক তাদের চেনা যায়নি।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা রুবেল গণমাধ্যমকে বলেন, সারা দেশে চলমান সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বগুড়াতে আমাদের ইফতার মাহফিল ছিল।

সেখানে অংশ নিতে ভিপি নুর, ফারুকসহ অন্যরা পৌর পার্কের সামনে অবস্থান নিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে নুর, ফারুকসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ফারুক হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, পৌর পার্ক মোড়ে একটি কমিউনিটি সেন্টারে আমাদের একটি ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়ার কথা ছিল। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সেখানে আমরা উপস্থিত হলে লাঠিশোটাসহ একদল ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমি, ভিপি নুর, রাতুল, আবিদ, রুবেলসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এরমধ্যে নুর সবচাইতে বেশি আঘাত পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে একটি স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি। কিন্তু সেখানেও ছাত্রলীগের হামলার আশঙ্কা থাকায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার পথে রওনা দিয়েছি।

উৎসঃ ‌‌শীর্ষকাগজ ২৪/strong>

আরও পড়ুনঃ ‌দুই হাসপাতালের কেনাকাটায় ১২ কোটি লোপাট, অস্তিত্ব নেই ৭ কোটি টাকার সফটওয়্যারের!

সদর হাসপাতালে ১০ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকার মালামাল নেই

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সদর হাসপাতালের জন্য ১৭ কোটি টাকার কেনাকাটায় প্রায় ১২ কোটিই লোপাট হয়েছে। পণ্য সরবরাহ ছাড়াই জাল স্বাক্ষরে বিল তুলে নিয়েছে এর সঙ্গে জড়িত চক্রটি। জড়িতদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান দুটির জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ১৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৭ কোটি টাকা দামের একটি সফটওয়্যার এবং প্রায় ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। কাগজে-কলমে এসব কেনা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ যন্ত্রপাতির কোনো হদিস নেই। ৭ কোটি টাকার সফটওয়্যারের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া ১০ কোটি টাকার পণ্যের মধ্যে সন্ধান মেলেনি প্রায় ৫ কোটি টাকার পণ্যের। সব মিলিয়ে ১২ কোটি টাকাই লোপাট। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট একটি অসাধু চক্র যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই এ অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭ কোটি টাকা মূল্যমানের ‘পিকচার আর্কাইভিং কমিউনিকেশন সিস্টেম (পিএসিএস) নামের একটি সফটওয়্যার কেনা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে বিল জমা দিলে ৬ সেপ্টেম্বর তারিখে তত্ত্বাবধায়ক স্বাক্ষর করেন।

গত এপ্রিলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি পরিদর্শন কমিটি সেখানে পরিদর্শনে গেলে এই সফটওয়্যারের কোনো অস্তিত্ব পায়নি।

একজন উপ-সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি সফটওয়্যার দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ শাহজাহান আলী। এমনকি এটি কেন কেনা হয়েছে, কীভাবে ব্যবহার করা হবে- সে বিষয়েও বিস্তারিত বলতে পারেননি তিনি।

জানা গেছে, পিকচার আর্কাইভিং কমিউনিকেশন সিস্টেম (পিএসিএস) নামের এ সফটওয়্যারটি সাধারণত যে কোনো ধরনের ডিজিটাল ইমেজিং মেশিনে ছবি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। বিশেষ করে এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটিস্ক্যান, এমআরআই ইত্যাদি মেশিনে এটি ব্যবহার করলে দেশে বা দেশের বাইরে চিকিৎসার্থে গেলে নির্দিষ্ট রোগীর রিপোর্ট ও ইমেজ সেখানে পাওয়া যাবে। তবে এ ধরনের উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এখনও আমাদের দেশে গড়ে ওঠেনি।

এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির সিটিস্ক্যান বা এমআরআই মেশিনে এ ধরনের সফটওয়্যার ইনস্টল করা থাকে। তাই আলাদা করে কেনার প্রয়োজন নেই।

এ ধরনের মেশিন আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিএসিএস সফটওয়্যারের বাজারমূল্য এক লাখ থেকে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য এক থেকে সোয়া কোটি টাকা।

তারা জানান, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে দামে এই সফটওয়্যার কিনেছে সেই দামে একটি সাধারণ এমআরআই মেশিন এবং এর সঙ্গে দুই থেকে তিন কোটি যোগ করলে একটি আধুনিক প্রযুক্তির এমআরআই মেশিন কেনা সম্ভব।

এত দামে এ ধরনের সফটওয়্যার কেনার কারণ জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ শাহজাহান আলী যুগান্তরকে বলেন, এটি আধুনিক প্রযুক্তির সফটওয়্যার। এটি সংযুক্ত হলে হাসপাতালের সব ডিজিটাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের ছবি সংরক্ষিত থাকবে।

রাজধানী ঢাকার কোনো সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের ব্যবস্থা না থাকলেও সাতক্ষীরায় তিনি কেন এ সফটওয়্যার কিনলেন- জানতে চাইলে ডা. শাহজাহান বলেন, এটা ওপরের নির্দেশে কেনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের জন্য কেনা হবে। এটা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে কেনা হল কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবই ওপর থেকে হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আমিনুল হাসান বলেন, অধিদফতর থেকে কোনো কিছুই কেনা হয় না। সবসময়ই স্থানীয় পর্যায়ে অর্থাৎ হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক বা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে যে ক্রয় প্রস্তাব আসে তার পরিপ্রেক্ষিতেই মালামাল কেনা হয়ে থাকে।

এদিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় দশ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়। দুটি আলাদা বিলে এ টাকা পরিশোধ করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান। একটি বিলে ১৬ আইটেমের ৩৬টি যন্ত্রপাতির বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার ৫০ টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৩টি আইটেমের ২০টি যন্ত্রপাতির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যার দাম এক কোটি ৬১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। বাকি যন্ত্রপাতির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে অপর বিলে ৩টি আইটেমের ৯টি যন্ত্রপাতির বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। যার মধ্যে রয়েছে ৪টি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন। এর প্রত্যেকটির দাম ধরা হয়েছে ৮৭ লাখ টাকা।

কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, সর্বাধুনিক আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের দাম ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। প্রতিটি মেশিন কিনতে অতিরিক্ত ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অর্থাৎ চারটি মেশিনে সরকারের গচ্চা গেছে ২ কোটি টাকা। এ ছাড়া কালার ডপলার আল্ট্রাসাউন্ড ৪ডি মেশিনের দাম ধরা হয়েছে এক কোটি ১২ লাখ টাকা; অথচ ১ কোটি টাকায় আধুনিক প্রযুক্তির উন্নত মানের মেশিন কেনা সম্ভব। সেদিক থেকে এখানে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ১২ লাখ টাকা।

একইভাবে এনেসথেশিয়া মেশিনের দাম ধরা হয়েছে এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা; যার প্রকৃত মূল্য ২২ লাখ টাকা, দুটি মেশিনের দাম পড়ে ৪৪ লাখ টাকা। এখানে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। ১৮টি নেবুলাইজার মেশিনের দাম ধরা হয়েছে এক লাখ ৮৯ হাজার টাকা। অথচ ভালো মানের নেবুলাইজার মেশিন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দামে কেনা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি মেশিন সাড়ে ৫ হাজার টাকা হলেও এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৯০ হাজার টাকা।

দ্বিতীয় বিলে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় প্রায় ৫ কোটি টাকাই বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে।

কেনাকাটার বিষয়ে কথা বলার জন্য সাতক্ষীরা জেলার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি বর্তমানে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা থেকে যোগাযোগ করা হয়, সাতক্ষীরায় তার সাবেক কর্মস্থলে গিয়েও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় কিন্তু কোনোভাবেই তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলার বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, ওই সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তবে মালামাল সরবরাহের আগেই বিল তুলে নিয়েছে ঠিকাদার। তাই মন্ত্রণালয় থেকে যখন পরিদর্শক দল এসেছে তারা যন্ত্রপাতির অস্তিত্ব পায়নি। তবে সরবরাহকারী ঠিকাদার কিছু কিছু করে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, ডা. তৌহিদুর রহমান কাউকে না জানিয়েই এসব কেনাকাটার তালিকা প্রস্তুত করেন। বিভাগীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই তাদের নাম ক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। কেনাকাটা সম্পন্ন হলে বিল দেয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অসুস্থ অবস্থায় ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে যাদের নাম রয়েছে তাদেরকে হাসপাতালে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। এসব চিকিৎসক হাসপাতালে তাকে দেখতে গেলে তাদের দিয়ে কৌশলে বিভিন্ন ফাইলে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

এদিকে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি পরিদর্শন দল গত ৯ এপ্রিল সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যায়। সেখান থেকে ফিরে তারা কর্তৃপক্ষ বরাবর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন দেন। এতে উল্লেখ করা হয়, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই ত্রৈমাসিকে ভারি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট অপারেশনাল প্ল্যান থেকে মোট ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ পায়।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৭২টি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য একটি টেন্ডার আহ্বান করা হয়। যার ধারাবাহিকতায় বরাদ্দকৃত অর্থের সঙ্গে মিলিয়ে ৪,৯৯,৬০,০০০ টাকা এবং ৪,৯৯,৫০,০৫০ টাকার দুটি বিল পরিশোধ করা হয়। ওই টেন্ডার ও বিল পরিশোধ সম্পন্ন হয় ভূতপূর্ব সিভিল সার্জন, সাতক্ষীরা ডা. তৌহিদুর রহমানের সময়। হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট অপারেশনাল প্ল্যানের তৎকালীন লাইন ডিরেক্টর ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বিল পরিশোধের জন্য ব্যয় মঞ্জুরি প্রদান করেন।

প্রথম বিলের মাধ্যমে ৪টি পোর্টেবল এক্সরে মেশিন, ৪টি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন এবং ১টি ওটি লাইট ক্রয় করা হয়। যা বাক্সবন্দি অবস্থায় সিভিল সার্জন অফিসের বারান্দায় পাওয়া যায়। প্রতিটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের ক্রয়মূল্য ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যা বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

দ্বিতীয় বিলের মাধ্যমে মোট ১৬ ধরনের ৩৬টি মেশিনের মূল্য পরিশোধ করা হয়। সরেজমিন পরিদর্শনে ১টি পোর্টেবল এক্সরে মেশিন, ১টি কালার ডপলার আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন, ১৬টি নেবুলাইজার মেশিন, ১টি সাকশন মেশিন ব্যতীত অন্য কোনো মেশিন পাওয়া যায়নি।

যেসব মেশিন পাওয়া যায়নি তার মধ্যে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, এনেসথেশিয়া মেশিন উইথ ভেন্টিলেটর, হট এয়ার ওভেন, ইনকিউবেটর, সেন্টিফিউগেল মেশিন, অর্থোপেডিক সার্জারি, ইনস্ট্র–মেন্ট সেট, অপথালমস্কোপি, স্লিট ল্যাম্প, রেটিনোস্কপ, ডেন্টাল এক্সেসরিজ সেট, ব্লাড কালেকশন মনিটর, ওয়াটার বাথ। এসব মেশিনপত্রের মোট মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেন্ডারের মাধমে ক্রয়কৃত পণ্য বুঝে নিতে একটি সার্ভে কমিটি করা হয়। যার সদস্য হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফরহাদ জামিল, ডা. আসাদুজ্জামান এবং সার্জারি বিভাগের ডা. শরিফুল ইসলাম। ক্রয়কৃত যন্ত্রপাতি তারা চলমান অবস্থায় বুঝে পেয়েছেন লিখে স্বাক্ষর করেন বিলে।

পরিদর্শন কমিটি তাদের কাছে এসব যন্ত্রপাতির অস্তিত্ব জানতে চাইলে তারা ৩ জনই ব্যাপারটি জানেন না বলে পরিদর্শন টিমকে জানান। পাশাপাশি তারা জানান, বিলে তাদের স্বাক্ষর জাল করে কেউ বসিয়েছে। এ ক্রয় সংক্রান্ত কোনো কিছুই জানেন না এবং এ ধরনের কোনো কাগজেও তারা স্বাক্ষর করেননি।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আমিনুল হাসান বলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সদর হাসপাতালের কেনাকাটা সংক্রান্ত জটিলতার এ বিষয়টি তিনি জানেন। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিদর্শন কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেই আলোকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে তবে ছাড় পাবে না।

সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা অধিশাখা) বেগম জাকিয়া সুলতানা বলেন, সাতক্ষীরার এ বিষয়টিসহ আরও এমন একাধিক বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর/strong>

আরও পড়ুনঃ ‌সংসারে অভাব: লিচু খেতে চাওয়াই দুই শিশুকে গলাটিপে হত্যা করলো বাবা

সংসারে অভাব-অনাটন, সামনে ঈদ। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সন্তানদের ঠিকমতো ভরণপোষণ দিতে পারছিলেন না নিরাপত্তাপ্রহরী বাবা শফিকুল ইসলাম। এর মধ্যে দুই শিশু সন্তানের চিকিৎসার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু চিকিৎসককে না পেয়ে লঞ্চ টার্মিনালে শিশুদের নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিলেন শফিকুল। হঠাৎ চার বছরের ছোট মেয়েটির লিচু খাওয়ার আবদার। পকেটে পর্যাপ্ত টাকাও নেই। এমন পরিস্থিতে ক্ষোভ-অভিমানে প্রথমে ছোট মেয়ে তাইবা, পরে সঙ্গে থাকা ১১ বছরের শিশু তাইনকে গলাটিপে হত্যা করেন তাদের বাবা।

শনিবার দুপুরে নরসিংদীর পুলিশ সুপার (এসপি) মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ তার কার্যালয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে এসব তথ্য জানান। গত শুক্রবার রাতে নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালে বাথরুম থেকে দুই শিশু তাইন (১১) ও তাইবার (৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আটকের পর শফিকুল ইসলাম পুলিশের কাছে দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি একটি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে নরসিংদীতে লঞ্চ টার্মিনালের বাথরুম থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পর থেকে তদন্তে নামে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশে মনোহরদী গ্রামের বাড়ি থেকে দুই সন্তানকে শিবপুর নিয়ে আসেন শফিকুল ইসলাম। চিকিৎসক না থাকায় সে তার সন্তানদের নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালে ঘুরতে নিয়ে আসেন। ওই সময় তার ছোট মেয়ে লিচু খেতে চান। কিন্তু কাছে পর্যাপ্ত টাকা ছিল না। তার ওপর সামনে ঈদ। সংসারের খরচ ও সন্তানের জামা কাপড় দিতে হবে। এসব ভেবে শফিকুল হিতাহিত শূন্য হয়ে যান। পরে প্রথমে ছোট মেয়েকে লঞ্চ টার্মিনালের বাথরুমে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে বড় মেয়েকে একই কায়দায় হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার এখনো মামলা দায়ের করেনি। পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানান এসপি মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে শফিকুল ইসলামকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। তিনি একেকবার একক রকম কথা বলছেন।

উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌কট্টর হিন্দুবাদী পীযূষকে বাঁচাতে পরিবর্তনডটকম বন্ধ করলো আওয়ামীলীগ সরকার!

দেশের জনপ্রিয় একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিবর্তনডটকম সাইটটি ব্লক করে দিয়েছে সরকার। প্রথম দিকে পরিবর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছিল-প্রশাসনের সঙ্গে একটি নিউজ নিয়ে তাদের একটু ঝামেলা হয়েছে। এনিয়ে সরকারের সঙ্গে তাদের কথা হচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানা গেছে, সাইটটি বন্ধের মূল কারণ অভিনেতা পীযূষের সেই কথিত জঙ্গি বিরোধী বিজ্ঞাপন নিয়ে করা একটি নিউজ।

এদেশের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কথিত জঙ্গি বিরোধী বিজ্ঞাপন প্রচারের পর সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কঠিন চাপে পড়ে পীযূষ। এরপর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করে যে, গণমাধ্যমে আমরা এই বিজ্ঞাপন দেইনি। এই নামে আমাদের সংগঠন আছে কিন্তু বিজ্ঞাপনটি আমরা দেইনি।

এরপরই পরিবর্তনডটকম একটি নিউজ করেছিল যে, বিজ্ঞাপনটি গণমাধ্যমে দিল কে? এই নিউজ করার পরই কঠিন চাপে পড়ে যায় সেই সব জাতীয় দৈনিকগুলো যারা বিজ্ঞাপনটি প্রচার করেছিল। এরপর বিজ্ঞাপন দাতার নাম প্রকাশ না করার জন্য পত্রিকাগুলোকে চাপ দেয়া হয়।

অ্যানালাইসিস বিডির অনুষন্ধানে জানা গেছে, কথিত জঙ্গি বিরোধী এই বিজ্ঞাপন প্রচারে আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতা শফিকুর রহমান ও সাবান মাহমুদসহ আরও বেশ কয়েকজন জড়িত। তারা এই বিজ্ঞাপন থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়েছেন। নিউজটি ডিলেট করার জন্য তারা পরিবর্তনডটকমকে অনেক চাপ সৃষ্টিও করেছেন। কিন্তু পরিবর্তন কর্তৃপক্ষ নিউজটি ডিলেট না করায় সরকারকে দিয়ে তারা সাইটটি ব্লক করে দিয়েছে।

আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, যেসব জাতীয় দৈনিকগুলো পীযূষের এই বিজ্ঞাপন ছেপেছিল পরিবর্তন বন্ধের পেছনে তাদের হাতও রয়েছে। তারাও সাইটটি বন্ধের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছেন।

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, সরকার পীযূষকে বাঁচাতে জনপ্রিয় একটি নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দিয়ে নোংরা খেলা শুরু করেছে। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্য যেখানে শাস্তি হওয়ার কথা ছিল পীযূষের, সেখানে সরকার তাকে বাঁচাতে অন্যায়ভাবে একটি গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে। এটা গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌পীযূষের বিতর্কিত বিজ্ঞাপন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকে বন্ধ পরিবর্তন ডটকম

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য স্থান থেকে ‘পরিবর্তন ডটকম’ দেখা গেলেও বন্ধ করে দেবার কারণে বাংলাদেশ থেকে সাইটটিতে প্রবেশ করা যাচেছ না।

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের নামে ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি সদস্য শনাক্তকরণ’ বিষয়ে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ নিয়ে প্রতিবেদন করার জের ধরে গত রোববার সংবাদমাধ্যমটি বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয় নিয়ে গবেষণা করা সাবেক সাংবাদিক তাসনিম খলিল।

তবে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ বলেছে, বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের সাথে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই।

পরিবর্তন ডটকম বন্ধ করার সপ্তাহ দুই আগে কবি হেনরি স্বপন এবং আরও দুই মানবাধিকার কর্মীকে তথ্য প্রযুক্তি আইন এবং ডিজিটাল আইনে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রোববারের সভায় তথ্য প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানবাধিকার কর্মী এবং কবিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাংসদ পীর ফজলুর রহমান।

বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন অবিলম্বে পরিবর্তন ডটকমসহ গত ১০ বছরে যে কয়টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম সরকার বন্ধ করেছে সেগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

‘পরিবর্তন ডটকম’ কেন বন্ধ করা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক বুধবার বেনারকে বলেন, “যেটা জানি তা হলো, সাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কেন বন্ধ করা হয়েছে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কারণ বলতে পারব না।”

গত ১২ মে বাংলাদেশের বেশিরভাগ সংবাদপত্রে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ এর নামে এই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়। এতে মুসলিমদের সাধারণ কিছু আচরণবিধিকে জঙ্গিবাদী আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর চারদিন পর এক সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রীতির আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিজ্ঞাপনটি তাঁরা দেননি। এর প্রেক্ষিতে পরিবর্তন ডটকম ‘পীযূষরা দেননি, বিজ্ঞাপনটা দিলো কে?’ শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করে। তারপর থেকেই গণমাধ্যমটিতে আর প্রবেশ করতে পারছেন না বাংলাদেশের পাঠকেরা।

চেয়ারম্যান বলেন, “সাধারণত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার খাতিরে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা সাইট বন্ধ করে থাকি।”

পরিবর্তন ডটকমের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সুফিয়ান বুধবার বেনারকে বলেন, “রোববার বেলা ১১টার দিকে আমাদের সাইট ব্লক করা হয়। কারণ জানতে আমরা বিটিআরসি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলাম। কিন্তু কেন বন্ধ করা হলো তা নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারেনি।”

সরকার-বিরোধী সাংবাদিক সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন—বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এম. আব্দুল্লাহ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন— ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী এবং মহাসচিব শহীদুল ইসলাম বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৩৫টি এবং ২০১৪ সালে থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ৫৪টি সংবাদমাধ্যম ব্লক করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “সরকার অব্যাহতভাবে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের যে অপকৌশল গ্রহণ করেছে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।”

অবিলম্বে পরিবর্তন ডটকমসসহ এর আগে বন্ধ করা সকল গণমাধ্যম খুলে দিয়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর দৃশ্য-অদৃশ্য সব ধরনের খড়্গ তুলে নেওয়ার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেয়াকে তাঁরা ‘স্বৈরাচারী ও হঠকারী’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন।

সর্বশেষ মার্চ মাসে একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর কাতার ভিত্তিক আল-জাজিরা ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয় সরকার।

কেন বন্ধ করা হলো?

গত ১২ মে দেশের প্রধান দুই দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় সব প্রধান প্রধান সংবাদপত্রে ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি শনাক্তকরণ নিয়ামকসমূহ’ শিরোনামে একটি বিতর্কিত বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞাপনটি সম্প্রীতি বাংলাদেশ নামক একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সৌজন্যে প্রকাশিত হয়। এই সংগঠনের নামে প্রায় প্রতি সপ্তাহে আলোচনা সভা, সেমিনার বা গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দোপ্যাধ্যায়।

ওই বিজ্ঞাপনে অন্যান্য বিষয় ছাড়াও বলা হয়, ‘হঠাৎ করে দাঁড়ি রাখা এবং টাখনুর ওপর কাপড় পরিধান করা’ জঙ্গিবাদের লক্ষণ। বিষয়টি জঙ্গিবাদ হলেও বিজ্ঞাপনটিতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে।

বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে সম্প্রীতি বাংলাদেশ। গত ১৬ মে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজ্ঞাপনটির সাথে তাঁর সংগঠন সম্প্রীতি বাংলাদেশের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানান।

বুধবারও তিনি বেনারকে বলেন, “এই বিজ্ঞাপনের সাথে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।”

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “মিথ্যা তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে আমাদের সংগঠন সম্পর্কে জাতিকে বিভ্রান্ত করার একটি নীল নকশা ছাড়া আর কিছু না।”

তবে গবেষক তাসনিম খলিল তাঁর ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, পরিবর্তন ডটকম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, “সম্প্রীতি বাংলাদেশের বিতর্কিত বিজ্ঞাপনটি যদি পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর সংগঠন না দিয়ে থাকেন, তাহলে এতগুলো পত্রিকায় টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপনটি কে দিয়েছে?”

তাসনিম খলিল বলেন, “শুনেছি এই প্রশ্নটি করার কারণেই বাংলাদেশে পরিবর্তন ডটকমে ওয়েবসাইটের একসেস বন্ধ করেছে বিটিআরসি।”

মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

বরিশালে কবি হেনরি স্বপন, মানবাধিকার কর্মী আব্দুল কাইয়ুম ও ইমতিয়াজ মাহমুদকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের বাতিলকৃত ৫৭ ধারায় তিন মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন জাতীয় পার্টি সাংসদ পীর ফজলুর রহমান।

সভা শেষে তিনি বেনারকে বলেন, “আজকের সভায় আমি বলেছি, হেনরি স্বপনসহ তিন মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেপ্তারে সাধারণ মানুষ ব্যথিত হয়েছে। ৫৭ ধারা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার বাংলাদেশে একটি সংবেদনশীল বিষয়। এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ভালো কথা নয়। ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে পুলিশকে সচেতন থাকতে হবে।

কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু বেনারকে বলেন, পীর ফজলুর এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। তবে জবাবে পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।

সভা থেকে বেরিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেননি।

উৎসঃ ‌‌বেনার নিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌আমি হইলাম ১৮ তলা, আগে ১৭টা তলা শেষ করে আসেন: প্রতিবন্ধীকে মোস্তাফা জব্বার


আমি হইলাম ১৮ তলা, আগে ১৭ তলা শেষ করেন, তারপরে ১৮ তলায় আসবেন কামরুল নামের এক প্রতিবন্ধী মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের আবেদন জানালে এমনটা জবাব দেন টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

সম্প্রতি ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০১৯’ অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর কাওরান বাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে। নিজের অভাব গুছাতে অনেক স্বপ্ন নিয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের পাথালিয়া গ্রাম থেকে হুইলচেয়ারে চেপে এই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন কামরুল। কিন্তু মন্ত্রীর এমন উত্তরে আবার গ্লানি আর হতাশা নিয়ে ফিরলেন তিনি।

বাংলা ডট রিপোর্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বাংলার ওয়েব সাইটটির বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সংবাদের পাঠকদের জন্য রিপোর্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

তখন সবেমাত্র ডিগ্রি (পাস কোর্স) শেষ করেছেন কামরুল হাসান। এরপরই ক্রনিক মায়োপ্যাথি রোগে আক্রান্ত হন তিনি। রোগে অচল হয়ে যায় তার দুটি পা। হাতেও এর কিছুটা প্রভাব পড়ে। ধীরে ধীরে পরিবারের বোঝা হয়ে ওঠেন কামরুল। বাড়তে থাকে গ্লানি, ব্যর্থতা। হুইলচেয়ারে শুরু হয় তার পথচলা। এ অবস্থায় কেটে গেছে কামরুলের প্রায় ১০ বছর।

কিছু একটা করতে হবে, এই তাড়না সারাক্ষণেই কাজ করতে থাকে কামরুলের মনে। সম্প্রতি ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০১৯’ সম্পর্কে টেলিভিশন থেকে জানতে পারেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে কামরুল সিদ্ধান্ত নেন, রাজধানীর কাওরান বাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলন থেকে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানবেন এবং চেষ্টা করবেন, কাজের জন্য ভালো একটা প্লাটফর্ম পাওয়ার। কাজের মাধ্যমে দূর করবেন সব সীমাবদ্ধতা।

তাই টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের পাথালিয়া গ্রাম থেকে হুইলচেয়ারে চেপে একাই রওনা দেন কামরুল হাসান। এই দুঃসাহসিক যাত্রা শেষে দু’দিনব্যাপী এই সম্মেলনের প্রথমদিন গতকাল রবিবার (২১ এপ্রিল) কামরুল হাজির হন পাঁচ তারকা হোটেল সোনারগাঁওয়ের এই সম্মেলনে। আজ সোমবার (২২ এপ্রিল) সম্মেলনের শেষদিন দুপুরে তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা করেছেন। তবে পূর্ণতায় নয়, শূন্যতা ও গ্লানি নিয়ে শুরু হয়েছে তার দুঃসাহসিক-অনিশ্চিত বাড়ির উদ্দেশে রওনা। তবে রওনার আগে শূন্যতা, গ্লানির কথা জানিয়ে গেছেন প্রতিবন্ধী কামরুল হাসান। সেই সঙ্গে তার গ্লানির কিছুটা ধরা পড়েছে অনুসন্ধানিতে।

এই আয়োজনের অংশ হিসেবে রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হয় এক সেমিনার। তাতে অংশ নেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ দেশি-বিদেশি অতিথিরা। সেমিনার শুরুর আগ মুহূর্তে স্টেজে থাকা মন্ত্রীসহ অতিথিদের সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত সেমিনারে আগতদের একাংশ। এমন সময় মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে সেখানে হাজির হুইলচেয়ারে বসা কামরুল হাসান। সাধারণ মানুষের সহায়তায় মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হন মোস্তাফা জব্বারের।

কামরুল হাসানকে এ সময় স্টেজ থেকে মোস্তাফা জব্বার জানান, তিনি সেমিনারে এসেছেন। সাক্ষাৎ করতে পারবেন না। তার দপ্তরে যেন পরবর্তী সময়ে কামরুল দেখা করে।

এ সময় কামরুল হাসান বাংলা’কে বলেন, ‘প্রতিবন্ধী মানুষ, ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানবার আইছিলাম। মন্ত্রী স্যার অফিসে যাইতে কইল। অফিসে যোগাযোগ কেমনে করমু, আমারে কী যাইবার দিব? আমারে একটু হেল্প করেন। সারাদিন জার্নি কইরা কালিহাতী থেইকা আইছি।’

কামরুল আরও বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয়-ইনকাম হয়, অর্থ উপার্জন হয়। আমি আমার জীবনের মৌলিক চাহিদাও পূরণ করতে পারি না। আমার বাৎসরিক ইনকাম প্রতিবন্ধী ভাতা ৮ হাজার টাকা। আমি বিএ পাস লোক। ভাবছিলাম কোনো জবঠব, ফ্রিল্যান্সিংয়ের রাস্তা দেখাইয়া দেয়, সেজন্য আসছিলাম।’

এরপর সেমিনার শুরু হয়ে গেলে ঠাঁয় বসে থাকেন কামরুল। টানা চার ঘণ্টা চলে সেমিনার। রাত ৮টা ৩৩ মিনিটে শেষ হলে মোস্তাফা জব্বার যেদিক দিয়ে নামবেন, সেদিকে ধীরে ধীরে এগোতে থাকেন কামরুল। তার উদ্দেশ্য, দপ্তরে দেখা করার জন্য মোস্তাফা জব্বারের ভিজিটিং কার্ড নেয়া।

কামরুল আবার মনোযোগ আকর্ষণ করায় স্টেজ থেকে মোস্তাফা জব্বার নামার আগেই এগিয়ে আসেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা এ রহমান।

ফারহানা এ রহমানকে কামরুল জানান, তিনি বিল্ডিং ডিজাইনের অটোক্র্যাটের কাজ জানেন এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ে কর্মজীবন গড়তে চান। এ সময় ফারহানা বলেন, ‘আপনি আমাকে ফোন দিলেই হবে। আমি আপনাকে বলে দেব, কোথায় আপনি ট্রেনিং করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে তো আপনাকে কিছু শিখতে হবে। না শিখলে আপনি কাজ করবেন কীভাবে। সেটার ডিটেইল কে বলবে আপনাকে, তার সঙ্গে আপনাকে আমি যোগাযোগ করিয়ে দেব।’

পরক্ষণেই মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার স্টেজ থেকে নেমে যাওয়ার সময় একটু জোরে কামরুল হাসান বলে ওঠেন, ‘স্যার, আমি অফিসে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতাম। একটু ভিজিটিং কার্ড যদি দিয়ে যেতেন।’

মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের প্রশ্ন, ‘আমার সাথে কী বিষয়ে, আপনি কীসে কাজ করেন?’ কামরুলের উত্তর, ‘আমি একটু ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে একটু ধারণা…।’

এবার মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে মন্ত্রী যদি আপনাকে ধারণা দিয়ে দেয়, তাহলে বাকি লোক কী কারণে আছে? ফ্রিল্যান্সিং করবেন, আমার এখানে চারটা ডিপার্টমেন্ট আছে। ওদের সাথে কথা বইলা, পরে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করুন। আমি হইলাম ১৮ তলা, আগে ১৭ তলা শেষ করেন, তারপরে ১৮ তলায় আসবেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের আইডিয়া তো আমি দেব না। ফ্রিল্যান্সিংয়ের আইডিয়া দেবে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রজেক্ট। প্রজেক্টে যোগাযোগ করেন।’

তখন রাত ৯টা বেজে গেছে। এত রাতে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়ারও কোনো উপায় নেই। আগত সাধারণের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, আশপাশেই একটা মসজিদ আছে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সেখানেই রাতটা কাটিয়ে দেবেন। দু’জন ব্যক্তি তাকে নিয়ে রাত ৯টার পরে মসজিদের উদ্দেশে রওনা দেন।

পরদিন (আজ সোমবার) বাড়ি চলে যাওয়ার সময় রাতের দুঃসহ স্মৃতির কথা জানান বাংলা’কে জানান প্রতিবন্ধী কামরুল। তিনি বলেন, ‘কালকে রাত্রে যা হইছে, রাস্তায় রাত কাটানো। খোলা আকাশের নিচে। এইটার আর পুনরাবৃত্তি আর জীবনে কখনো করতে দিতে চাই না। এ রকম দুঃসাহসিক সাহস আর দেখাতে চাই না।’

তিনি জানান, মসজিদে ওঠার জন্য কয়েক ধাপ উপরে উঠতে হয়। কিন্তু তার পক্ষে সেটা সম্ভব হয়নি। কথা বলার সময় চোখ লালচে রাঙা হয়ে যাওয়া কামরুল বলেন, ‘রাতে একবার ঝটকা আইছিল, বাতাস। তখন খুব খারাপ লাগছিল। বাতাসে ধুলায়-ঠুলায় অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। আমার ঢাকায় আসার আর কোনো ইচ্ছা নাই।’

১০ বছরের প্রতিবন্ধী জীবনে অনেক আশ্বাস পেয়েছেন কামরুল। কিন্তু আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেয়নি। বেসিসের কাছ থেকে পাওয়া আশ্বাসেও তার ভরসা নেই। তিনি বলেন, ‘প্রত্যাশা করছিলাম, এখান থেকে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা নিমু। কিন্তু পারলাম না। গতকাল মোস্তাফা জব্বার বললেন, মন্ত্রী হয়ে আমি তোমাকে ফ্রিল্যান্সিং শিখামু নাকি।’ কথাটা বলার পর কয়েক সেকেন্ড ধরে হাসলেন কামরুল।

উৎসঃ ‌‌বাংলা ডট রিপোর্ট

আরও পড়ুনঃ ‌কৃষকদের নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যে মির্জা ফখরুলের নিন্দা


কৃষকদের নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকার কৃষকদের ন্যায্য দাবির কথা কানেও নিচ্ছে না। বরং সরকারের একজন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কৃষকদের এই বিক্ষোভকে ‘স্যাবোটেজ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

‘কৃষকদের বাস্তব এই সেন্টিমেন্টকে সরকার দলীয় শীর্ষ নেতার এহেন মন্তব্যে নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। এদেশের কৃষকদের বর্তমানে যে দুরাবস্থা তা সরকারের ভুল নীতির প্রতিফলন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগানদাতা কৃষক পরিবারের অবস্থা আজ খুবই নাজুক ও দুর্বিষহ। কিন্তু কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত। দেশের প্রায় ১.৫ কোটি কৃষক পরিবারের আজ ত্রাহি অবস্থা।

তিনি বলেন, খাদ্য শস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে কৃষকের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে। দেশের কৃষককুল তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বহু স্থানে ধানের জমিতে আগুন দিয়ে রাস্তায় ধান ফেলে দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী দেশ খাদ্যে বিশেষ করে চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে চাল উৎপাদনের পরিমাণ ৩ কোটি ৬২ লাখ টন। অথচ এই সময়ে সরকারি চ্যানেলে বা ব্যবস্থায় খাদ্য শস্য আমদানি হয়েছে ৯৭.৭ লাখ মে. টন, যার মধ্যে চাল ৩৮.৯ লাখ মে. টন এবং গম ৫৮.৮ লাখ মে. টন।

তিনি বলেন, একই সময়ে বেসরকারি চ্যানেলে খাদ্য আমদানির পরিমাণ ৮৩.৮ লাখ মে. টন; যার মধ্যে চাল ৩০.১ লাখ মে. টন এবং গম ৫৩.৭ লাখ মে. টন

‘অর্থাৎ সরকারি ও বেসরকারিভাবে মোট খাদ্যশস্যের আমদানি ছিল (২০১৭-১৮) ১৮১.৫ লাখ মে. টন, এর মধ্যে চাল আমদানির পরিমাণ ৬৯ লাখ মে. টন। (সূত্র-বাংলাদেশ ইকোনোমিক রিভিউ ২০১৭-১৮)। গত ১০ মাসে ৩ লাখ ৩ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। আমদানির অপেক্ষায় রয়েছে ৯৭ হাজার টন চাল। (সূত্র-দৈনিক প্রথম আলো ১৭ মে ২০১৯ ও ২৩ মে ২০১৯)।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার ধান/চাল সংগ্রহের মাধ্যমে দলীয় ব্যবসায়ী চালকল মালিকদের মুনাফা পাইয়ে দিচ্ছে। বাজার থেকে কম মূল্যে ধান কিনে চালকল মালিকরা চাল তৈরি করে সরকারের কাছে বিক্রি করে প্রতি কেজিতে মুনাফা করছে ১০ টাকা। আর কৃষক তার জমিতে উৎপাদিত ধান বাজারে বিক্রি করে কেজি প্রতি লোকসান গুনছে ১০/১২ টাকা। (সূত্র-২৩.৫.২০১৯ প্রথম আলো)।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের উৎপাদনকে হিসেবে নিলে বোরো ধানের উৎপাদন হবে প্রায় ২ কোটি মে. টন। আর সরকার সংগ্রহ করবে মাত্র ১৩ লাখ টন, যা উৎপাদনের মাত্র ৬.৫ শতাংশ। আমাদের দাবি ধান অথবা চাল সংগ্রহের পরিমাণ কমপক্ষে বোরো উৎপাদনের ১৫ শতাংশ করা হোক। এতে বেশি পরিমাণ কৃষককে সহায়তা দেয়া যাবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে ব্যাংক ব্যবস্থায় খেলাপিঋণের পরিমাণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। এই খেলাপিঋণ গ্রহীতাদের জন্য সরকার বিশেষ ছাড় দিয়েছে। যদিও এই ছাড় মহামান্য হাইকোর্ট আটকে দিয়েছে।

‘সরকার ব্যাংক লুটপাটকারীদের দুধকলা দিয়ে পুষছেন। অথচ এই খেলাপিঋণের মাত্র ১০ শতাংশ বরাদ্দ দিলে সরকার আরও প্রায় ৩৬ লাখ মে. টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারে। এতে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা উপকৃত হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের দুর্নীতি ও অদূরদর্শীতার কারণে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষি আজ ধ্বংসের মুখে। বারবার গরীব কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সাংগঠনিক সম্পাদক আদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রমিক লীগের খিলগাঁও থানা সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদকে ৩০০ পিস ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার


রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাদক বিক্রির অভিযোগে জাতীয় শ্রমিক লীগের খিলগাঁও থানা সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহষ্পতিবার রাতে খিলগাঁও থানার ছাহেরুনবাগ এলাকা থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার তথ্যে খিলগাঁওয়েরই নবীনবাগ এলাকা থেকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয় নূর মোহাম্মদের গাড়িচালক মো. মাসুদ মিয়াকেও। জব্দ করা হয় নূরের নিশান পেট্রোল জিপটি (নম্বর- ঢাকা মেট্রো ঘ-০২-২১৪৮)।

অভিযানে অংশ নেওয়া খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, বৃহষ্পতিবার রাতে বিপুল ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ ও তার গাড়িচালককে গ্রেপ্তারের পর নিয়মিত মামলা দেওয়া হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

জানা গেছে, শ্রমিক লীগ নেতা নূর মোহাম্মদ ছিলেন গরীব পরিবারের সন্তান। সংসারের অভাব-অনটনের কারণে লেখাপড়া বেশিদূর এগিয়ে নিতে পারেননি। তার বাবা ছিলেন রিকশাচালক; এখন রাজধানীর খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ আইসক্রিম গলিতে খুলেছেন রিকশা গ্যারেজের ব্যবসা। এলাকার সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মিশে এক সময় হেরোইন-ইয়াবার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন নূর। এই নেশা থেকে একসময় তিনি জড়িয়ে পড়েন হেরোইন, ফেন্সিডিল ও গাঁজার ব্যবসায়। অল্প সময়ের মধ্যেই খিলগাঁওয়ের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর খেতাব অর্জন করেন এই নূর মোহাম্মদ।

খিলগাঁওয়ের ছিনতাই, ফুটপাত চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটেরও হোতা নূর। চাঁদাবাজি ও মাদকের কারবার রীতিমতো আলাদিনের চেরাগ এনে দিয়েছে তার হাতে। আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দরিদ্র পরিবার থেকে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক নূর মোহাম্মদ। গড়েছেন একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। অনেক টাকা আর ক্ষমতা হাতে এলেও সন্ত্রাসের অপবাদ তার পিছু ছাড়েনি। তাই অপরাধীর তকমা কাটাতে তিনি বাগিয়ে নিয়েছেন রাজনৈতিক পদ-পদবী। এখন তিনি ঢাকা দক্ষিণের খিলগাঁও থানা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক।

খিলগাঁওয়ের আইসক্রিম গলি এলাকাই ‘সৃষ্টি’ নামে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন নূর মোহাম্মদ। মূলত এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালেই খিলগাঁওয়ে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন তিনি। মাদক ব্যবসা, জুয়া ও নারী ঘটিত অনৈতিক ব্যবসার অভিযোগে অবশ্য গত বছর ‘সৃষ্টি’ নামে তার ওই মাদক নিরাময় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

ওই সময় পালিয়ে বাঁচলেও মাদকের কারবার ছাড়তে পারেননি নূর মোহাম্মদ। রাজনৈতিক পদকে ঢাল বানিয়ে নারী-পুরুষের সমন্বয়ে গড়া বিশাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেদার চালিয়ে আসছিলেন কারবার। সিন্ডিকেটের কর্মীরা মোটরসাইকেল ও ভ্রাম্যমাণভাবে বিকিকিনি করলেও শ্রমিক লীগের এই নেতা ইয়াবা বেঁচতেন নামি-দামি গাড়িতে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন ক্ষমতাধর এই শ্রমিক লীগ নেতা।

পুলিশ জানায়, মাদকের এই মামলা ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন থানায় নূর মোহম্মদের বিরুদ্ধে ছিনতাই-মাদকের আটটি মামলা রয়েছে। এছাড়া খিলগাঁও ভূঁইয়াপাড়ার মিয়া হত্যাকাণ্ড মামলার আসামিও তিনি।

উৎসঃ ‌‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‌বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিচ্ছে সরকারঃ মির্জা ফখরুল


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা না দিয়ে সরকার ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিচ্ছে। চিকিৎসার অভাবে বেগম খালেদা জিয়ার কোন ক্ষয়ক্ষতি হলে সে দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। এসময় তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি ও নিঃশর্ত মুক্তি চান।

তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব জাতীয় নেতৃবৃন্দ রয়েছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ শিকার করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই তিনি রাজনীতি ও ক্ষমতায় এসেছেন।

শুক্রবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার জমিরউদ্দীন সরকার,আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তার ডায়বেটিস কন্ট্রোলে নেই, এমনকি ইনসুলিন নেয়ার পরও তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। তিনি বলেন, চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি যা হওয়ার কথা ছিলো তাই হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী এতদিন বাম হাত নাড়াতে পারতো না, এখন ডান হাতও নাড়াতে পারছে না। সাহায্য ছাড়া তিনি বেড থেকে উঠতে পারছে না। তার মাশেল পেশীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যে মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে সে মামলায় তিনি জামিন পেতে পারেন। কিন্তু সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ভাবে তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌বেগম খা‌লেদা জিয়া‌কে আটকে রাখা মানে দেশের সব ভালকে আটকে রাখাঃ শামসুজ্জামান দুদু


বিএন‌পির চেয়ারপারসন বেগম খা‌লেদা জিয়া‌কে জে‌লে আট‌কে রাখা মা‌নে দে‌শে যা কিছু ভা‌লো আ‌ছে সব আট‌কি‌য়ে রাখা বলে মন্তব্য করেছেন বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষকদ‌লের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

শুক্রবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরী কৃষকদল আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শামসুজ্জামান দুদু ব‌লেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যিনি শুধু বাংলাদেশের রাজনীতিতেই নয়, সারাবিশ্বের রাজনীতিতে গণতন্ত্রকামী, দুর্নীতিবিরোধী, সর্বব্যাপী মেহনতী মানুষের স্বার্থ রক্ষাকারী নেত্রী হিসেবে পরিচিত। এদেশে তিনি স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি‌লেন। গণতন্ত্রকামী সেই নেত্রীকে তথাকথিত দুর্নীতি মামলার নামে তথাকথিত বিচারের মাধ্যমে জেলখানায় আটকে রাখা হয়েছে। তাঁকে জেলখানায় আটকে রাখা মানে বাংলাদেশের যা কিছু ভালো তা জেলখানায় আটকে রাখা। তাঁকে আটকে রাখা মানে দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতাকে আটকে রাখা।’

বেগম খা‌লেদা জিয়া‌কে জেল থে‌কে মুক্ত করা ছাড়া দে‌শের কৃষ‌কের , শ্র‌মি‌কের মেহন‌তি মানু‌ষের স্বার্থ রক্ষা হ‌বে না মন্তব্য ক‌রে সা‌বেক ছাত্রদ‌লের এই সভাপ‌তি ব‌লেন, ‘বাংলাদেশের কৃষকের, শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা যদি করতে হয়। সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হয়। তাহলে প্রথম কাজ হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করে আনা। সেই জেল মুক্তি আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করার জন্য জাতীয়তাবাদী কৃষকদল কাজ করছে। কৃষকের স্বার্থে শ্রমিকের স্বার্থে মেহনতী মানুষের স্বার্থে কাজ করছে।’

‌দে‌শের জনগ‌নের প্র‌তি আহ্বান জা‌নি‌য়ে বিএন‌পির এই নেতা ব‌লেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী, স্বৈরতান্ত্রিক, একনায়কতন্ত্রিক সরকার শাসন করছে। সেই সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি, ২০ দলীয় জোট, ঐক্যফ্রন্ট, কৃষক-শ্রমিকসহ সকলকে এক জায়গায় দাঁড়াতে হবে। এবং স্বৈরতান্ত্রিক এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। এটি আমাদের কৃষক দলের আহ্বান।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসির হায়দারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এল রহমানের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সম্পাদক তকদির হোসেন মোহাম্মদ জসিম, নাজিম উদ্দিন মাষ্টার, সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসকে সাদী, নাসির হাজারী, আলিম হোসেন, লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, মোজাম্মেল হক মিন্টু, আবদুর রাজি, এম জাহাঙ্গীর আলম শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌হঠাৎ বাংলাদেশের দুইটি জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল আওয়ামীলীগ সরকার বন্ধ করে দিল কেন?


সম্প্রতি সরকারের নির্দেশে কমপক্ষে দুটি জনপ্রিয় সংবাদ ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন ও ক্ষমতাসীনদের যৌক্তিক সমালোচনা করায় বন্ধ করা হয়েছে এই পোর্টাল দুটি।

গত ১৯ মে পরিবর্তন ডট কম প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু ২২মে কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই সরকার কর্তৃক বাংলা রিপোর্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হঠাৎ কেন এই ওয়েব সাইট বন্ধের তোড়জোড়?

অ্যানালাইসিস বিডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১২ই মে দাড়ি রাখা, টাখনুর উপরে কাপড় পরাসহ জঙ্গি সনাক্তে ২৩টি লক্ষণ দেখিয়ে একটি বিজ্ঞাপন জাতীয় দৈনিকে ফলাও ভাবে প্রচার করে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামের সংগঠনের আহ্বায়ক অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে ১৬ মে তিনি বিজ্ঞাপনটি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তখন পীযূষের এই মন্তব্যে পরিবর্তন ডট কম‘পীযূষরা দেননি, বিজ্ঞাপনটা দিলো কে?’ এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে এরপর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় জনপ্রিয় এই ওয়েব সাইটটি। এছাড়া একই ঘটনায় নতুন দিগন্ত নামে একটি ওয়েব সাইট হ্যাক করার প্রচেষ্টা চালায় সরকার ।

এদিকে ২২ই মে বন্ধ করে দেওয়া হয় বাংলা ডট রিপোর্ট ওয়েব সাইটটি। ঐদিন ‘গ্লানি নিয়ে বিপিও সামিট থেকে ফিরলেন প্রতিবন্ধী কামরুল’ শিরোনামে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও প্রতিবন্ধী কমরুলের কিছু কথোপকথন একটি প্রতিবেদন পকাশ করে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সাংবাদিককে ফোন করে সংবাদটি সরিয়ে ফেলার জন্য হুমকি দেয় মোস্তফা জব্বার। এরপর ব্যর্থ হয়ে ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয়।

আলজাজিরার সাক্ষাতকারে বাংলা রিপোর্টার সম্পাদক রফিকুল রঞ্জু বলেন, আমাদের প্রতিবেদক মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারপর ওয়েবসাইট থেকে প্রতিবেদনটি সরানোর জন্য হুমকি দেয় মন্ত্রী। আমরা সেই সংবাদটি সরিয়ে না নিলে ওয়েবসাইটের অ্যাক্সেস অবরুদ্ধ হয়ে যায়। সুতরাং আমাদের বিশ্বাস যে এটি সেই মন্ত্রীর আদেশে বন্ধ হয়ে করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলিতে, আওয়ামী লীগ সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা ও সত্য প্রকাশ করায় প্রধান বিরোধী দলের পোর্টালসহ ৫৪টি নিউজ পোর্টাল এবং ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

গত মার্চ মাসে আল জাজিরার ওয়েবসাইটে তিনজন ব্যক্তির গুমের সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে সিনিয়র নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকারে পর বন্ধ করে দেওয়া হয়। আল জাজিরার ঐ একই প্রতিবেদনের অনুবাদ প্রচার করায় বন্ধ করে দেয়া হয় নিউজ বিশ্লেষণধর্মী ওয়েবসাইট ‘জবান’।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here