ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক ফারুকের বিরুদ্ধে আজই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে!

0
126

আজ রবিবারই (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বলে দাবি করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন । তবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বলছে আমরা তাকে চ্যালেঞ্জ করে চিঠি দিচ্ছি না, তবে তার গবেষণার বিষয়ে তথ্য চাই। এর আগে সাতদিন সময় দিয়ে তথ্য চাওয়ার পরেও তিনি তা না পাঠানোয় রবিবার আবারও তাকে চিঠি দেওয়া হবে।

গত ২৫ জুন প্রথম দফায় ও শনিবার (১৩ জুলাই) দ্বিতীয় দফায় পাঁচটি কোম্পানির সাতটি ব্র্যান্ডের গরুর দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার বিষয়ে গবেষণা তথ্য প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। এর মধ্যে প্রথমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদে সংবাদ সম্মেলন করে এবং দ্বিতীয় দফায় সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে। তবে প্রথমবার সংবাদ সম্মেলনের পরই তার গবেষণা তথ্য যথেষ্ট উত্তাপ ছড়ায়। বিষয়টি নিয়ে সংসদেও আলোচনা হয়। এরপরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদভুক্ত চারটি বিভাগের সভাপতিরা যৌথ বিবৃতি দিয়ে দাবি করেন, এই গবেষণার সঙ্গে বিভাগগুলোর সংশ্লিষ্টতা নেই। গবেষণাটি গবেষকদের নিজস্ব। বিভাগগুলো দায় এড়ালেও ফার্মেসি বিভাগের ডিন এখনও অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের সঙ্গে আছেন। মূলত এরপরেই চাপে পড়ে যান এই অধ্যাপক। গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, তাকে নানা রকম হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

বিশেষ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনের হুমকিটি ছিল প্রকাশ্য। কোনও স্বীকৃত গবেষণাপত্রে গবেষণাটি প্রকাশ না করেই তার তথ্য জনসমক্ষে জানানো ও দুধ নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন এই সচিব।

কাজী ওয়াছি উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তার (অধ্যাপক আ ব ম ফারুক) কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। তিনি তাদেরকেও তথ্য না দেওয়ায় রবিবার তারা (নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ) আবারও চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কালকেই (রবিবার) জানতে পারবেন ইনশাল্লাহ।

তবে অব্যাহত চাপেও নিজের গবেষণায় পাওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন অধ্যাপক ফারুক। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আবারও জানিয়েছেন, তাদের গবেষণা দলটি পাঁচটি কোম্পানির ৭টি ব্র্যান্ডের দুধের নমুনা বাজার থেকে দ্বিতীয় দফায় সংগ্রহ করে আবারও গবেষণা করেছে। এবার গতবারের তুলনায় দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের পরিমাণ আরও বেশি পাওয়া গেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ৭টি ব্র্যান্ডের তরল দুধ দ্বিতীয় দফা পরীক্ষা করা হয়েছে সেই ব্র্যান্ডগুলো হলো: মিল্ক ভিটা, আড়ং, প্রাণ, ফার্ম ফ্রেশ ও ইগলু। এর মধ্যে ইগলুর তরল দুধ ছাড়াও আরও দুটি ফ্লেভারের দুধ রয়েছে। এর আগে ২৫ জুন যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় তাতে ৩টি করে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। গত সপ্তাহে ওই ৭টি ব্র্যান্ডের দুধের নমুনা একই জায়গা থেকে সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এবার মিলেছে চার ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক।

এদিকে, অধ্যাপক ফারুকের গবেষণার ফলকে গ্রহণ না করে তাকে ব্যক্তিগতভাবে হুমকি বা হয়রানির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তার মতো একজন শিক্ষককে কেবল গবেষষণা ফল প্রকাশের জন্য হয়রানি করা অন্যায় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা রকম পোস্ট দিতে দেখা গেছে। এই গবেষণাটির ফল সঠিক কিনা তা যাচাই করার জন্য ভিন্ন গবেষণাগারে নমুনাগুলো আবারও পরীক্ষার দাবি তুলেছেন বেশিরভাগ সচেতন মানুষ।

অধ্যাপক আ ব ম ফারুকও বলেছেন, সন্দেহ দূর করার জন্য স্বীকৃত একাধিক গবেষণাগারে দুধের নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষার ফল জানার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিতে পারে।

তবে কোনও স্বীকৃত গবেষণাপত্রে প্রকাশ না করে এই গবেষণার তথ্য প্রকাশ করতে পারেন কিনা কাজী ওয়াসি উদ্দিনের তোলা এ প্রশ্নের জবাবে এর আগে গণমাধ্যমগুলোকে অধ্যাপক আ ব ম ফারুক জানিয়েছেন, স্বীকৃত গবেষণাপত্রে প্রকাশের জন্য তার গবেষণাটি পাঠানো হচ্ছে, তবে যে কোনও গবেষণাপত্রে গবেষণা প্রকাশ সময়সাধ্য বিষয়। আর বিষয়টি জনস্বার্থ সম্পর্কিত। সেজন্যই জনস্বার্থে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেছেন।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর ব্যবস্থা নেওয়া প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তাকে চ্যালেঞ্জ করে চিঠি দেইনি, রবিবারের চিঠিটিও তেমন হবে না। কিন্তু আমাদের জানতে হবে তিনি কোন ল্যাবে এই পরীক্ষাটি করেছেন। আমাদের দেশে এমন গবেষণাগার আছে আর আমরা জানি না এটি আমাদের কাছে ভীষণ আশ্চর্যের। তিনি আরও বলেন, আমরা তার গবেষণা প্রতিবেদন দেখে আকাশ থেকে পড়ছি। আমার দেশে এমন পরীক্ষণাগার আছে। অ্যান্টিবায়েটিক কিভাবে ৩টা থেকে ৫টা করে বের করছেন তিনি। মাত্রাটি কী, অ্যান্টিবায়োটিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রার ওপরে- নিচে নাকি সমান, সে তথ্যও উনি দেননি। আমরা দু-দুটো পরীক্ষণাগারে পরীক্ষা করে যা পাইনি তা উনি কীভাবে পেলেন জানতে হবে না? আমাদের তো এই ল্যাব দরকার।’

অধ্যাপক ফারুক কেন গোপন করছেন, তিনি কেন লুকোচুরি খেলছেন অভিযোগ করে মাহবুব কবীর বলেন, তিনি যা পেয়েছেন সেটা বিশাল সমস্যা। জাতিগতভাবে সবাই মিলে সমাধান করতে হবে। আমরা যে দুই পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করেছি সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়নি, কিন্তু তাতে করে আমি বলতে পারবো না যে বাকি দুধের স্যাম্পলগুলোতে এসব নেই।

তিনি আরও বলেন, কোনও কোম্পানি দুধে অ্যান্টিবায়োটিক মিশিয়ে দেয় না। গরুকে হয়তো দেন কিছু খামারি, কিন্তু সব খামারি সব গরুকে দেন না। আবার যেগুলোকে দেন সেগুলোর দুধ প্রক্রিয়াজাত হয়ে বাজারে আসতে আসতে অ্যান্টিবায়োটিক নাই হয়ে যায়। তাহলে উনি কোন পদ্ধতিতে কী পেলেন তা জানতে চেয়েই আমরা চিঠি দিয়ে সাত দিন সময় দিয়েছিলাম। সেটি শেষ হওয়ায় রবিবার আবারও চিঠি পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে টেলিফোনের অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগামী সোমবার পর্যন্ত আমি ব্যস্ত থাকবো। এরপরে বিস্তারিত কথা হবে।

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ মাদকে একশ মাফিয়াঃ আছেন জনপ্রতিনিধি-নেতাকর্মী, রাঘববোয়াল; ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে গডফাদাররা


দেশের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন ১০০ ব্যবসায়ী। সরকারের মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স ক্রাশপ্রোগ্রাম’-এর পরেও এই ১০০ বিগশট রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের বেশির ভাগই জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। প্রত্যেকেই ধনাঢ্য ব্যক্তি। তাদের কেউ কেউ বিদেশে সেকেন্ড হোম করেছেন মাদক বিক্রি করে। মূলত মাদকের এই গডফাদারদের কারণেই বন্ধ হচ্ছে না দেশের মাদক ব্যবসা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য দিয়ে বলেছে, টেকনাফে ১০২ মাদক ব্যবসায়ীর আত্মসমপর্ণ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দেড় শতাধিক ব্যবসায়ী নিহত হন। কিন্তু ধরা পড়েননি টপ মোস্ট মাদক ব্যবসায়ীরা। তারা এতটাই প্রভাবশালী যে, তাদের নাগাল ছুঁতে পারেনি কেউ। সূত্র জানায়, দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় রয়েছে এমন এক থেকে দুজন করে গডফাদার। তবে কক্সবাজারে মাদক গডফাদারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। হালে পুলিশি তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় ওই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ভিন্ন পথে ব্যবসা চালাচ্ছেন। তারা রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করছেন। যে কারণে ইয়াবা বন্ধের পরিবর্তে সরবরাহ বেড়ে গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানে যুক্ত করা হয় ‘টপ টেন লিস্ট’। জেলাভিত্তিক শীর্ষ গডফাদারদের তালিকা ধরে ক্রাশপ্রোগ্রাম শুরু হয়। যেখানে ৬৪ জেলার ৬৫০ বিগশটের নাম ছিল। এর মধ্যে অন্তত ১০০ ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করছেন। তারাই মাদকের নিয়ন্ত্রক। ভিন্ন ব্যবসার আড়ালে করছেন মাদক ব্যবসা। সূত্র জানায়, তারা শুধু মাদক ব্যবসায়ী নন, তাদের অনেকের কাছে বিপুলসংখ্যক অবৈধ অস্ত্রও আছে, যার প্রমাণ মেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময়। গ্রেফতার অভিযানের সময় তারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উল্টো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রীতিমতো বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, সমূলে বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে মাদকবিরোধী উচ্চমাত্রার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এক্ষেত্রে কারও কোনো রাজনৈতিক বিশেষ পরিচিতিও বিবেচনায় নেওয়া হবে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাঁড়াশি মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে অনেক শীর্ষ ব্যবসায়ী পলাতক রয়েছেন। তবে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত। এতে তারাও সন্ত্রস্ত থাকছে।

নিজেদের সাফল্যের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেখুন আইস আমাদের দেশের জন্য একটি নতুন মাদক। ইয়াবার বিকল্প হিসেবে এর প্রচুর অপব্যবহার হচ্ছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। তবে আমাদের দেশে এটি ছড়ানোর আগেই সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। একই সঙ্গে খাত নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আমাদের সফলতা বলব শতভাগ।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস্্) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে র‌্যাবের ব্যাপক সফলতা রয়েছে। মাদকের ওপর র‌্যাব সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তবে এককভাবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সমাজের প্রত্যেকটি কর্নারের অংশগ্রহণ। প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ।

শীর্ষ অনেক মাদক ব্যবসায়ী ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন, এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেখুন র‌্যাব অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখে। কেউই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে না। হয়তো কেউ কেউ আত্মগোপনে কিংবা পলাতক। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে কথাটি সঠিক নয়। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের পরও কেন থামছে না মাদক- এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, আশ্রিত অনেক রোহিঙ্গা যুবক রাতের আঁধারে মিয়ানমার ঢুকে ৩/৪ হাজার ইয়াবাসহ আবার ফিরে আসছে। এমন তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কিছু শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ধরাছোঁয়ার বাইরে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কিছু নতুন ব্যবসায়ীর নাম শুনছি। কিছু শীর্ষ ব্যবসায়ী যারা পলাতক আছেন তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তবে তাদের নেটওয়ার্কও আগের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকার প্রথমেই যার নাম আছে, তিনি হলেন আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সাবেক এই এমপির স্ত্রী এখন তার আসনের এমপি। অথচ তিনি আছেন প্রকাশ্যেই। তার সম্পর্কে সূত্রটি জানায়, তিনি ইয়াবা ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রক। তবে ব্যবসায় সরাসরি জড়িত হন না তিনি। তার ইচ্ছার বাইরে বা অজান্তে ইয়াবা ব্যবসা প্রায় অসম্ভব।

চট্টগ্রামের গার্মেন্ট, আমদানি-রপ্তানি ও জাহাজ ব্যবসায়ী সাইফুল করিম ছিলেন আরেক নিয়ন্ত্রক। যদিও ক্রসফায়ারে গত মাসে টেকনাফে তিনি নিহত হন। চট্টগ্রামে এখনো বহাল মঞ্জুর আলম ওরফে মঞ্জু সওদাগর ওরফে কানা মঞ্জু ও রেজাউল করিম ওরফে ডাইল করিম। জানা গেছে, মঞ্জুর আলম চট্টগ্রাম শহরের একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তিনি দেশের অন্যতম প্রধান ইয়াবা চোরাকারবারি। তার বাবার নাম হাজী আবদুল করিম। গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়া থানার রূপকানিয়ায়। চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দীন বাজারে ফলের গলিতে তার ইয়াবার পাইকারি মোকাম রয়েছে। র‌্যাব জানায়, ব্যক্তিগত পাজেরো গাড়িতে পাচারের সময় প্রায় ৮ লাখ ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারও হয়েছিল মঞ্জু। চট্টগ্রাম শহরেই তার অন্তত পাঁচটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, মার্কেট ও তিনটি বাড়ি রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক মামলার সংখ্যা প্রায় ১৫টি। তালিকায় থাকা রেজাউল করিমও ইয়াবার বড় মাপের পাইকারি বিক্রেতা ও গডফাদার। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। রেজাউল করিম চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রাম জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফারুক ক্রসফায়ারে মারা গেলেও বরিশাল কলোনির আরেক গডফাদার রয়েছেন। নাম তার ইউসুফ। তবে তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রয়েছেন রতন মিয়া, কুমিল্লার আবুল হোসেন, হুমায়ন মেম্বার, লক্ষ্মীপুরের রিপন হোসেন ওরফে রিংকু, ইব্রাহিম মজুমদার, নোয়াখালীর রফিক, হাসান ওরফে রুশো হাসান, শেরপুরের মাহবুব আলম, গোপালগঞ্জের টুটুল হোসেন খান, ফেনীর সরোয়ার হোসেন, চাঁদপুরের সবুজ মিজি ও পশ্চিম মদনা এলাকার কবির জমাদার প্রমুখ।

রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান মাদক বিপণন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জেনেভা ক্যাম্পের মাদক গডফাদার ইসতিয়াক ওরফে কামরুল হাসান আছেন শীর্ষ ১০ তালিকার এক নম্বরে। অনুসন্ধানে তার তিনটি ঠিকানা পাওয়া যায়। প্রথম ঠিকানাটি জেনেভা ক্যাম্পের বি-ব্লকের ১৬২ নম্বর বাসা। দ্বিতীয় ঠিকানা সভারের মাদ্রাসা রোডের জাদুরচর ঈশিকা ভবন। তার তৃতীয় ঠিকানা হচ্ছে আশুলিয়া ব্যারন বাসস্ট্যান্ড এলাকার ১০/এ নম্বর প্লটের ছয়তলা বাড়ি। সূত্র জানায়, ইসতিয়াক দেশে থাকেন কম। বছরের বেশির ভাগ সময় তিনি মালয়েশিয়ায় থাকেন। সেখানে তিনি সেকেন্ড হোম করেছেন। মালয়েশিয়ায় তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জেনেভা ক্যাম্পের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে ইসতিয়াক পরিচিত। তালিকার ২ নম্বরে ছিলেন মোস্ট ওয়ানটেড মাদক ব্যবসায়ী নাদিম ওরফে পশ্চিম। তিনি ক্রসফায়ারে নিহত হন।

কক্সবাজারের টেকনাফে এমন গডফাদারের সংখ্যাই বেশি। আত্মগোপনে আছেন তাদের মধ্যে তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদার হলেন- সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির ভাই কাউন্সিলর মৌলভী মুজিবুর রহমান, জালিয়াডপাড়ার জাফর আলম প্রকাশ টিটি জাফর, টেকনাফের উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ ও তার ছেলে টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজাহান মিয়া, বাহারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন ও তার ভাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন, উখিয়া গুয়ালিয়ার ইউপি সদস্য মোস্তাক আহমদ, নুরুল হক ভুট্টো, কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার শাজাহান আনসারী, তার ভাই কাশেম আনসারী, একই এলাকার আবুল কালাম ও তার ভাই বশির আহমদসহ অন্তত ২০ জন। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতেও রয়েছে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রক।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ওয়াসার ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পঃ নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার, প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কা!


প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ঢাকা ওয়াসার পদ্মা (যশলদিয়া) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে পরীক্ষা ছাড়াই নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে।

পাইপলাইন স্থাপনের পর ইতিমধ্যে কয়েকটি পয়েন্টে পাইপ ফেটে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া ধলেশ্বরী নদীর কুচিয়া মোড়া তলদেশের পাইপ ভেসে উঠায় সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা বাড়ছে। ৪২ মাসের প্রকল্পটি ৬৬ মাসেও আলোর মুখ দেখেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর প্রায় ৪০ লাখ মানুষের পানির চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। ২০১৪ সালের প্রথমদিকে প্রকল্পের কাজ শুরু করে তা ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার কথা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যবহৃত পাইপ পরীক্ষা করে ব্যবহার করার কথা থাকলেও সেটা না করেই তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করা হয়। প্রকল্পটি ৪২ মাসে শেষ করার কথা থাকলেও ৬৬ মাসেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

পদ্মানদী (যশলদিয়া) থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত পাইপলাইন বসানো হলেও ঢাকায় পানি সরবরাহ লাইন প্রস্তুত করা হয়নি। আবার যেনতেনভাবে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রস্তুত করা হলেও সরবরাহ লাইন প্রস্তুত না হওয়ায় নগরবাসী কবে পদ্মার পানি পাবেন সেটা ওয়াসার সংশ্লিষ্টরাও পরিষ্কার করে বলতে পারছে না।

এছাড়া ওয়াসা সংশ্লিষ্টদের অভিমত, জনগণের টাকায় নির্মিত এ মেগা প্রকল্প যেনতেনভাবে বাস্তবায়ন করায় যতদিন টেকসই হওয়ার কথা তার অর্ধেক সময়ও প্রকল্পটি টিকবে না। শুরু থেকে এ প্রকল্পের নিম্নমানের পাইপের প্রশ্ন থাকলেও তার কোনো সুরাহা না করেই প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ওয়াসা। আর মেয়াদকালের সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকৌশলী ও পানি বিশেষজ্ঞ ম. ইনামুল হক যুগান্তরকে বলেন, পদ্মার পানি শোধনাগার প্রকল্প একটি অবাস্তব প্রকল্প। ঢাকা ওয়াসার অপরিণামদর্শী এ প্রকল্প লেজেগোবরে অবস্থায় পড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পদ্মা থেকে পানি এনে ধলেশ্বরী এবং বুড়িগঙ্গা পার করে রাজধানীবাসীকে খাওয়ানো খুবই অবাস্তব প্রকল্প। এরপর ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে সেটার কী অবস্থা দাঁড়াবে, সেটা সহজে অনুমান করা যায়।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার পদ্মা (যশলদিয়া) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রজেক্টের পরিচালক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে অনেকে কিছু গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে, বাস্তবে যার কোনো ভিত্তি নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পের স্পেসিপিকেশন অনুযায়ী প্রকল্পের পাইপ না কিনে নিম্নমানের পাইপ কেনা হয়েছে। দুই হাজার কোটি টাকার পাইপ ক্রয়ে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। চুক্তি অনুযায়ী ২২ দশমিক ৫ মিলিমিটার পুরুত্বের পাইপ সরবরাহ করার শর্ত ছিল এবং ক্ষেত্র বিশেষে ১৯ দশমিক ২ মিলিমিটার পর্যন্ত বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে চীনা ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে ১৯ মিলিমিটার পুরুত্বের পাইপ আমদানি করেছে ওয়াসা। এ বিষয়ে সংক্ষুব্ধ এক নগরবাসী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন। ১২ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে দুদক অনুরোধ করেছে। কিন্তু, এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ তদন্ত শুরু করে সময় বাড়িয়ে নিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওয়াসার পদ্মা (যশলদিয়া) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ব্যয় ৩ হাজার ৫০৮ কোটি ৭৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেবে চায়না এক্সিম ব্যাংক। বাকি অর্থ দেবে বাংলাদেশ সরকার ও ঢাকা ওয়াসা। ঋণের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংককে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হচ্ছে। প্রকল্পের সুবিধা না পেলেও শুরু থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ অর্থ রাজধানীরবাসীর কাছ থেকে পানির দাম বাড়িয়ে উঠানো হবে। পরবর্তী সময়ে আবার এ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

৫ জুলাই সরেজমিন, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীর পাড়সংলগ্ন যশলদিয়ায় ঢাকা ওয়াসার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রজেক্ট ঘুরে এবং এলাকাবাসী, ঠিকাদার ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্পের নানা অনিয়মের চিত্র জানা গেছে।

এক ঠিকাদার জানান, প্রকল্পের শুরুতে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলেও কিছুদিন পর থেকে খুবই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার শুরু করা হয়। এরপর থেকে মানহীন সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং ওয়াসার প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা একযোগে অনিয়ম করছেন।

১ নম্বর ধলেশ্বরী সেতু এলাকার মুদি দোকানদার মোহাম্মদ মানিক, দেলোয়ার হোসেন ও আবদুল হক যুগান্তরকে বলেন, ধলেশ্বরী নদীর কুচিয়া মোড়া অংশের ওয়াসার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রজেক্টের পাইপ জাহাজের সঙ্গে বেঁধে ভেসে উঠে। পরে ওয়াসা সেখানে নতুন পাইপ স্থাপন করেছে। তারা জানান, এসব পাইপ নদীর তলদেশ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা না করায় এমন ঘটনা ঘটে।

যশলদিয়া মাদবর বাড়ীর মোড় এবং আশপাশের এলাকায় প্রকল্পের পাইপ স্থাপনের সময় কয়েকটি পাইপ ফেটে যায়। এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. মমিনুর রহমান ও আয়ুব আলী যুগান্তরকে বলেন, কয়েক মাস আগে এ এলাকায় পাইপ স্থাপনের সময় কয়েকটি পাইপ ফেটে যায়। যে মানের পাইপ দেয়ার কথা ছিল সে মানের পাইপ দেয়া হয়নি। এ কারণে পাইপগুলো ফেটে যায়। যশলদিয়ার মাদবর পাড়ার মজিবর রহমান জানান, এ এলাকায় নির্মিত ওয়াসার দোতলা ভবনটিতে ব্যবহারের আগেই ফাটল ধরেছে। ফাটলগুলো ওয়াসার ঠিকাদাররা নতুন করে সংস্কার করছেন। তিনি বলেন, নতুন ভবনের এ অবস্থা হলেও মাটির নিচ দিয়ে স্থাপিত পাইপে কত অনিয়ম করেছে তা সহজেই বোঝা যায়।

বর্তমানে রাজধানীতে দৈনিক ২৩০-২৩২ কোটি লিটার পানির চাহিদা রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর দৈনিক পানির উৎপাদন ক্ষমতা ২৪০-২৪২ কোটি লিটার। এরমধ্যে ভূ-গর্ভস্থ উৎস থেকে ৭৮ ভাগ এবং ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে ২২ ভাগ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে এ চিত্র পাল্টে দেয়ার লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সুদূর পদ্মা থেকে পানি শোধন করার প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। এ প্রকল্প থেকে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় দফায় দুধ পরীক্ষার ১০টি নমুনাতেই মিলল এন্টিবায়োটিক, তাহলে মানুষ কী খাবে?


বাজারে থাকা পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধের দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায়ও মানব চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিপজ্জনক অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে। এবার ১০টি নমুনার সবক’টিতে অ্যান্টিবায়োটিক পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন গবেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিচার্স সেন্টারের সদ্য সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। শুধু তাই নয়, আগে যেখানে এসব দুধে ৩টি এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায় সেখানে পাওয়া গেছে ৪টি এন্টিবায়োটিক। ১০টি নমুনার মধ্যে পাস্তুরিত দুধের ৭টি নমুনা হলো- প্রাণ, মিল্কভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, ইগলু, ইগলু চকোলেট এবং ইগলু ম্যাংগো। আর অপাস্তুরিত দুধের তিনটি নমুনা আগের মতোই রাজধানীর পলাশী, গাবতলী ও মোহাম্মদপুর বাজার থেকে সংগ্রহ করা। অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের প্রথম গবেষণার ফলাফল গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ব্যাপক সমলোচনা করে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধু তাই নয় নিজ বিভাগসহ ফার্মেসি অনুষদের চারটি বিভাগ পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষার সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে। চতুর্মুখী প্রতিবাদের মুখে পুনরায় পরীক্ষা চালান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ প্রবীণ অধ্যাপক।

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক আ ব ম ফারুক লেখেন, গত ২৫শে জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ফার্মেসি লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুধ ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য পরীক্ষার রিপোর্ট পেশকালে উপস্থিত গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলাম যে, পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধে মানবদেহের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি সনাক্তের প্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্য রক্ষার জরুরি প্রয়োজনে জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাসমূহ যেমন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচ) ইত্যাদি ল্যাবরেটরিগুলোতে যেন এখন থেকে নিয়মিতভাবেই দুধে এন্টিবায়োটিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। বিএসটিআইয়ের দেড় যুগের পুরনো দুধের স্ট্যান্ডার্ডে (বাংলাদেশ স্টান্ডার্ড, বিডিএস ১৭০২. ২০০২) বর্তমানের নয়টি পরীক্ষার সঙ্গে কমপক্ষে এন্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতি পরীক্ষার মতো দু’টি পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করে দুধের এই স্ট্যান্ডার্ডকে যুগোপযোগী করার জন্যও আমরা আহ্বান জানিয়েছিলাম।

এতে আমরা আরো জানিয়েছিলাম যে, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভব থেকেই আমাদের সীমিত সামর্থ্যে এই পরীক্ষাটি মাঝে মাঝে করার চেষ্টা করবো। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, গত সপ্তাহে আমরা এই পরীক্ষাটি পুনরায় সম্পন্ন করেছি। প্রথমবারের মতো এবারও পূর্বোক্ত ৫টি কোম্পানির ৭টি পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধের একই জায়গা থেকে সংগৃহীত নমুনা এবং একই জায়গা থেকে খোলা দুধের সংগৃহীত ৩টি নমুনা, অর্থাৎ সর্বমোট ১০টি নতুন নমুনায় এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি একই নিয়মে একই উন্নত ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এর ফলাফল আগের মতোই উদ্বেগজনক। এবারও সবগুলো নমুনাতেই এন্টিবায়োটিক সনাক্ত করা গেছে। এন্টিবায়োটিকের মোট সংখ্যা ছিল ৪টি (অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং লেভোফ্লক্সাসিন)। এর মধ্যে আগের বারে ছিল না এমন এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ২টি (অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও এনরোফ্লক্সাসিন)।

১০টি নমুনার মধ্যে ৩টিতে এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ৪টি, ৬টিতে এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ৩টি এবং ১টিতে এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ২টি। এতে আরো বলা হয়, আমরা ভবিষ্যতেও এই পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষাগুলোর ফলাফল জনস্বার্থে প্রকাশ করার চেষ্টা করবো। আমরা আশা করি আমাদের প্রকাশিত এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট দুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে নিজেদের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা দূর করে পণ্যের গুণগত মান উন্নত করতে সাহায্য করবে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলো দুধে এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতির বিষয়টি হালকাভাবে না নিয়ে তা নিয়মিতভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেবে এবং এভাবে দেশের দুধের মানের উন্নতি ঘটবে। উপরন্তু, জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগজনক এই সমস্যাটি সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার পরিবর্তে বিশেষ কোন সরকারি কর্মকর্তাকে আর বিদেশি চক্রান্ত খুঁজতে হবে না।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ সীমান্ত পেরিয়ে নানা কৌশলে ঢুকছে বাংলাদেশে অস্ত্র


সীমান্ত পেরিয়ে নানা কৌশলে ঢুকছে অস্ত্র। আর এ অস্ত্র বহন করতে এক শ্রেণির গরিব লোকজনকে ভাড়া করে অস্ত্র কারবারিরা। অল্প টাকার বিনিময়ে তারা সীমান্ত পার করে নির্দিষ্টস্থানে অস্ত্র পৌঁছে দেয়। ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র পৌঁছাতে সহযোগিতা করে ভারতের লোকজন। এসব অস্ত্র প্রস্তুতের জন্য ভারতে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট কারখানা। অল্প টাকাতেই এসব কারখানায় অস্ত্র তৈরি করা হয়। এই অস্ত্রের অন্যতম বাজার হচ্ছে বাংলাদেশ। দেশে ঢোকার পরপরই অস্ত্রগুলো চলে যায় অপরাধীদের হাতে।

কখনও কখনও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা জব্দ করেন এসব অস্ত্র। অবৈধ এসব অস্ত্র সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও ডাকাতদের হাতে চলে যায়। তাছাড়াও বৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি প্রভাবশালীদের অনেকে সংগ্রহে রাখেন অবৈধ অস্ত্র।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে অবৈধ অস্ত্র সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। যশোরের দর্শনা, বেনাপোল, সাতক্ষীরার শাঁকারা, মেহেরপুর, চাপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লাসহ অন্তত ৩০টি রুট দিয়ে আমদানি করা হয় অবৈধ অস্ত্র। বিভিন্ন পণ্যের গাড়িতে করে এসব অস্ত্র আমদানি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্ত্রের বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদাভাবে আমদানি করা হয়। কারও কাছে স্প্রিং বা ট্রিগার, কারও কাছে শুধুই নল। এভাবেই নানা কৌশলে আমদানি করা হয় অবৈধ অস্ত্র। গত মাসে সীমান্ত এলাকায় ছয়টি বন্দুক, একটি পিস্তল, ৫৩টি ককটেল ও ৬২ রাউন্ড গুলি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। মে মাসে দুটি পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরণের ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়। একইভাবে এপ্রিল মাসে আটটি পিস্তল জব্দ করে বিজিবি।

বিজিবি’র কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কিছু অস্ত্র আটক হলেও গোয়েন্দাদের ধারণা বেশিরভাগ চালানই বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে অস্ত্র এনে ৩০ হাজার থেকে লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ সেন্টার বিডিপিসি’র গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, দেশে অবৈধ অস্ত্র আমদানির শতাধিক সিন্ডিকেট রয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের মালিকরা অস্ত্র ভাড়া দিচ্ছেন এক শ্রেণির সন্ত্রাসীদের কাছে। যশোর, খুলনা ছাড়াও চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙ্গামাটির পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে প্রায়ই। সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো আধিপত্য বিস্তারের জন্য এসব অস্ত্র ব্যবহার করছে। একইভাবে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করে সন্ত্রাসীরা।

অত্যাধুনিক অস্ত্র প্রবেশের বিষয় আলোচনায় আসে গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পরপরই। হলি আর্টিজানে হামলার জন্য চাঁপাই নবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আমের ঝুড়িতে করে আনা হয় অস্ত্র। এরমধ্যে পিস্তল ও পাঁচটি একে-২২ ছিল। একইভাবে যশোরের চৌগাছা সীমান্ত দিয়ে করা আনা হয় বোমা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে আসা বেশির ভাগ অস্ত্র তৈরি হয় ভারতে। ভারতের বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বের শহর মুঙ্গেরে তৈরি হয় এসব অস্ত্র। মুঙ্গের তৈরি অস্ত্র অবৈধ পথে আসে বাংলাদেশে। গত বছরের শেষের দিকে পাচারের সময় প্রায় অর্ধশত একে-৪৭ বন্দুক জব্দ করে ভারতের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। মুঙ্গেরের চুরওয়া, মস্তকপুর, বরহদ, নয়াগাঁও, তৌফির দিয়ারা, শাদিপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে কুটির শিল্পের মতো অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় অল্প খরচে অস্ত্র তৈরি করে বাংলাদেশের অবৈধ অস্ত্রের সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেখানে অর্ডার দিয়ে অস্ত্র তৈরি করে অপরাধী চক্র।

এসব বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের পিআরও মুহম্মদ মোহসিন রেজা বলেন, বিভিন্ন কৌশলে অস্ত্র, চোরাচালান আমদানি করে চোরাকারবারিরা। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিজিবি অত্যন্ত তৎপর। যে কারণেই অবৈধ অস্ত্র আটক হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ মক্কা-মদিনায় হাজিদের বাড়িভাড়া নিয়ে হজ অফিসের দুর্নীতির ফোনালাপ ফাঁস! (অডিও সহ)


পবিত্র মক্কা ও মদিনায় কমিশন ছাড়া কোনো দিনও বাড়িভাড়া নেয় না হজ অফিস। এমন অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ। এ বছরও কমিশন নিয়ে সিন্ডিকেট করে বাড়িভাড়া করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ।

জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি অডিও আলাপনে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আলাপনে শোনা যায়, রাষ্ট্রদূত মোবাইল/টেলিফোনে মূসার (সৌদি আরবে বাংলাদেশ কমিউনিটির একজন) কাছে এবার সৌদি আরবে হাজিদের বাড়িভাড়া কে করেছে, এবার ব্যবসাটা কে পেল- তা জানতে চাইছেন।

বিশেষ করে মদিনায় ‘আল আনসারির’ হোটেলের ব্যবসাটা কে পেল- তা তিনি জানতে চান মূসার কাছে। এ সময় মূসা বলেন, এবার হজ অফিস বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে। এ কথা শুনে গোলাম মসিহ বলেন, বাড়ি তো মালিকের কাছ থেকেই ভাড়া নেয়, জানতে চাচ্ছি মাঝখানের লোকগুলো কে, কারা।

ভিডিওঃ  ‘মক্কা-মদিনায় হাজিদের বাড়িভাড়া নিয়ে হজ অফিসের দুর্নীতির ফোনালাপ অডিও ফাঁস! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে মূসা বলেন, এবার মাঝখানে কেউ ছিল না।

এ কথা শুনে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, ‘শোন মূসা, এ কথা আমাকে বলো না, হজ অফিসাররা এত ফেরেশতা নয়, তোমরা এবার সিন্ডিকেট কইরা বাড়িভাড়া নিছ, আমি তো খবর পাইয়া যামু। কোন জমানায় ডাইরেক্ট ব্যবসা হইছে! তুমি আমারে কি শিখাইতাছ?’

আলাপনে গোলাম মসিহ আরও বলেন, ‘গতবার পর্যন্ত খালি কমপ্লেইন করছ, আমাকে বাড়িভাড়া নেয় না। এবার তোমরা কেউ বাড়ির ব্যবসা কর নাই? সবাই ফেরেশতা হইয়া গেলা। কোন জমানায় ডাইরেক্ট হইছে? আওয়ামী লীগের নাম ভাঙাইয়া সবাই ধান্ধাবাজি করে।’ এ কথা বলে তিনি লাইন কেটে দেন।

এরপর মূসা কলব্যাক করে আবার তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন যে, বাড়িভাড়ার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এ সময় গোলাম মসিহ বলেন, ‘তুমি বুঝবা না কেন? ২৮ বছর মদিনায় আছ। কোনো দিন কমিশন ছাড়া বাড়িভাড়া নেয় হজ অফিস, আমারে বলো? কোনো দিন কমিশন ছাড়া নিছে। আজকা তোমরা সবাই ফেরেশতা হইয়া গেছ।’

তিনি আবার বলেন, ‘আমার কাছে রিপোর্ট আছে, সিন্ডিকেট কইরা বাড়িভাড়া নেয়া হইছে। না হলে আল আনসারির বাড়ি এমনিতেই ভাড়া অইয়া গেছে। তুমি কি মনে করো খবর পামু না? হজ অফিসারের গলা টিইপ্যা বাইর কইরা ফালামু।’ এভাবে চলতে থাকে তাদের কথোপকথন।

হজের বাড়িভাড়া নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি-না, এ ফোনালাপের সূত্র ধরে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘হজের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। একটা কমিটি হয়। তারা বাড়িভাড়ার বিষয়গুলো ঠিক করে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি জিজ্ঞেস করতে পারি, কে বাড়িভাড়া নিল বা কে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে? আমি সেটাই জানতে চেয়েছি। তবে যার কাছে জানতে চেয়েছি তিনি নিজেও কিছু জানেন না।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির সদস্য বা বাড়িভাড়ার সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, তারা বিষয়টি বলতে পারবেন- যোগ করেন তিনি।

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের বিএনপির নির্দেশ


বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। আজ শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অতিসম্প্রতি বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে ছেড়ে দেওয়া পানির ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে সেই বিষয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে বন্যাপীড়িত দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের সর্বস্তরেরে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

‘দলের কেন্দ্রীয় ত্রাণ যে কমিটি আছে তাকে সক্রিয় করে দুর্গত এলাকায় ত্রান সমাগ্রি পাঠানোর কার্য্ক্রম শুরু করাও সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে’, যোগ করেন ফখরুল।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার ব্যর্থ

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুটি দেশের অর্থনীতি, দেশের স্বাধীনতার ওপরে বড় রকমের চাপ সৃষ্টি করেছে। এক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে এই সমস্যা সমাধানে উপনীত হয়ে একটা প্রক্রিয়া শুরু করতে। আমরা দেখতে পারছি যে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার কোনো কার্য্করী উদ্যোগ নিতে পারছে না। তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম চীনে প্রধানমন্ত্রী গেলে যেখান থেকে একটা পজেটিভ কোনো এনসার পাবো সেটাও আমরা দেখতে পারছি না। আমরা বরঞ্চ দেখলাম যে, চীন তার একই অবস্থানেই আছে এবং সেখানে কোনো কনক্রিট কিছু আমাদের জন্য উপযোগী কোনো কথা চীনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা পাইনি। এ বিষয়ে আমরা কূটনীতিকদের ব্রিফিং করব এবং তার আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাবো।’

ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার ভেঙে পড়া প্রসঙ্গে

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং সিস্টেমটা একেবারে ভেঙে পড়েছে। আপনারা দেখেছেন যে, তিনদিন আগে পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স কোম্পানিটিকে আমানতকারীদের ২৩৬ কোটি টাকা ফেরত না দিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে অবসান করেছে। সেটা নজিরবিহীন ঘটনা। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারি ও আমানতকারীরা চরম অনিশ্চয়তা মধ্যে পড়েছে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ বিষয়টি গোটা ব্যাংকিংয়ের যে সিস্টেমের একটা প্রতিকী ঘটনা। এইভাবে গোটা ব্যাংকিং সিস্টেম ভেঙে পড়েছে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এককভাবে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা না করে এবং ওই প্রতিষ্ঠানটি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্য্করী ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে পুঁজিবাজারের আমানতকারীসহ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার বিষয়ে ভবিষ্যতে দলীয় কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

স্থায়ী কমিটির সদস্যদের জন্য বৈঠকে ফোল্ডার

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। দলের স্থায়ী সদস্যদের কাছে বৈঠকের একদিন আগে বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্বলিত কাগজপত্রসহ একটি ফোল্ডার বিশেষ বার্তা প্রেরকের মাধ্যমে পাঠানো হয়। দলীয় মনোগ্রাম সম্বলিত একটি বড় ফোল্ডারের ভেতরে এসব কাগজপত্র থাকে। শনিবারের বৈঠকে সব সদস্যই ফোল্ডার হাতে নিয়ে বৈঠকস্থলে ঢুকেন।

বৈঠকে মহাসচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান প্রমুখ।

উৎসঃ বআমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগের ধর্ষক নেতাকে ধরতে গিয়ে মার খেলেন ২ এসআই


ধর্ষণ মামলার আসামি এক ছাত্রলীগ নেতাকে ধরতে গিয়ে মাগুরা সদর থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) মারধরের শিকার হয়েছেন। আজ শনিবার দুপুরে মাগুরা শহরের আদর্শ কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ধরতে যাওয়া ওই আসামির নাম রুবেল হোসেন (২২)। তিনি মাগুরা আদর্শ কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় কারিকর পাড়ার বাসিন্দা।

মারধরের শিকার মাগুরা সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পারভেজ আহমেদ জানান, সদর থানার একটি ধর্ষণ মামলার আসামি রুবেল আদর্শ কলেজের পাশে চক্ষু হাসপাতালের সামনে চায়ের দোকানে অবস্থান করছে এমন খবরে ভিত্তিতে তিনি ও তার সহকর্মী অপর এসআই মাসুম গ্রেপ্তার করতে যান। সেখানে পৌঁছে এসআই মাসুম প্রথমে তাকে ডেকে কথা বলতে গেলে রুবেল তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ সময় এসআই মাসুম তাকে গ্রেপ্তার করতে এগিয়ে গেলে রুবেল পাশের ধানক্ষেতে কাদার মধ্যে দৌঁড় দেন। মাসুম তাকে ধাওয়া করে ওই ক্ষেতের মধ্যে গেলে রুবেল তাকে মারধর করেন।

পারভেজ আরও জানান, এ সময় তিনি নিজে ধানক্ষেতে নেমে রুবেলকে প্রতিহত করতে যান। এ সময় রুবেল একইভাবে তাকেও একের পর এক কিল, ঘুষি, লাথি মেরে আহত করেন। এ পর্যায়ে খবর পেয়ে সদর থানার একাধিক পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত হয়ে রুবেলকে হাতকড়া পরিয়ে সদর থানায় নিয়ে আসে। অন্যদিকে তারা দুজন মাগুরা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘ধর্ষণ মামলার আসামি রুবেলের হামলায় আহত পুলিশের দুই এসআই মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। গ্রেপ্তার রুবেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উৎসঃ আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‘জালিমদের পরিনতি ইতিহাসে যেমন হয়েছে, আপনার পরিণতিও তেমন হবে’: হাসিনাকে এমাজউদ্দিন


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যায়ভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছেন অভিযোগ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, যারা ক্ষমতাকে অন্যায়ভাবে আঁকড়ে ধরেন, তাদের পরিণতি ইতিহাসের বিভিন্ন জায়গায় যেমন হয়েছে, আপনার পরিণতিও তেমন হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের মানুষ যতটুকু অর্জন করেছে, তা থেকে একটুও আগায়নি বরং পিছিয়েছে। এবারের নির্বাচনকে ৩০ ডিসেম্বর না বলে ২৯ ডিসেম্বর বলাই ভালো। কারণ নির্বাচনের নামে মস্ত বড় প্রহসন ঘটেছিল, জাতি তা দেখেছে। সেদিন এক দুঃস্বপ্ন জাতি দেখেছে।

শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে’ আয়োজিত আইনজীবীদের অনশন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. এমাজউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি অনেক চালাক। আপনার যতটুকু বুদ্ধিমত্তা আছে তা দিয়ে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করুন। আপনার ন্যায়নীতি যতটুকু আছে, তা দিয়ে সাধারণ মানুষের চাওয়ার দিকে অগ্রসর হন।

খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখি, দুই কোটি টাকাকে কেন্দ্র করে বেগম জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছে। ওই দুই কোটি টাকার একটি টাকাও অপচয় হয়নি। বরং ওই টাকা বেড়ে সাত কোটি হয়েছে। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা যারা মেরেছে তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চলছেন। এ ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে জাতিকে মুক্তি দিন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দেশে ন্যায়বিচার আজ ভূলুণ্ঠিত। মিথ্যা মামলা দিয়ে জুলুম, নির্যাতন করা হচ্ছে। আইনের শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আইনজীবীদের দায়িত্ব রয়েছে। খালেদা জিয়ার নামে যে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, তা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তি দিন। অন্যত্থায় দেশে একটা বড় গণবিস্ফোরণ হবে। সেই বিস্ফোরণে সরকারের পতন হবে। তিনি বলেন, আজকের অনশন সারা বাংলার মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। আমি দাবি জানাই, তার (খালেদা জিয়া) সকল মামলা স্থগিত করা হোক এবং তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন এর সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিকল্প ধারার মহাসচিব শাহ আহমেদ বাদল, অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দীন আহমেদ, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রমূখ। পরে পানি পান করিয়ে অনশনকারী আইনজীবীদের অনশন ভঙ্গ করেন ড. এমাজউদ্দিন আহমদ।

উৎসঃ ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ সাগরে বাংলাদেশী জেলেদের ইলিশ ধরা বন্ধ, দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারতীয় জেলেরা (ভিডিও সহ)

বঙ্গোপসাগরে দেশীয় জেলেরা মাছ ধরতে না পারলেও ভারতীয় জেলেরা ট্রলিং ট্রলার নিয়ে সাগরের বয়া এলাকা থেকে পূর্বে কুয়াকাটা উপকুল পর্যন্ত দাপিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। গত ৭ জুলাই বঙ্গোপসাগরে কোষ্টগার্ডের অভিযানে ৩২ ফিসিং বোট সহ ৫ শতাধিক ভারতীয় জেলে আটক হয়েছে।

শরণখোলা ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, আমাদের ছোট ছোট ইঞ্জিন চালিত নৌকা ট্রলারের জেলেরা সুন্দরবনের দুবলারচর এলাকায় মাছ ধরার সময় গত কয়েকদিনে সাগরের বয়া এলাকায় অসংখ্য ভারতীয় ফিসিং ট্রলারের জেলেদের মাছ ধরতে দেখেছেন। আবহাওয়া খারাপ হলে ভারতীয় জেলেরা হিরণপয়েন্টের অদুরে ছোট খালে আশ্রয় নিয়ে থাকে বলে আবুল হোসেন জানান।

ভিডিওঃ  ‘বাংলাদেশী জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ হলেও বাংলাদেশের সীমানায় ভারতের ইলিশ উৎসব!’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

বাংলাদেশ ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী জানান, সাগরে বাংলাদেশ জলসীমায় অবৈধভাবে মাছ শিকার করা ভারতীয় জেলেদের নিত্যদিনের ঘটনা। ৬৫ দিনের অবরোধে আমাদের দেশীয় জেলেরা মাছ ধরতে না পারলেও ভারতীয়রা ঠিকই ধরে নিয়ে যাচ্ছে । যার জলজ্যান্ত প্রমাণ গত ৭ জুলাই পায়রা সমুদ্র বন্দরের অদুরে সাগরে মাছ ধরার সময় কোষ্টগার্ড ৩২ ফিসিং বোট সহ ৫ শতাধিক ভারতীয় জেলে আটকের ঘটনা। ঝড়ের কবলে পড়ে তারা এসেছে ভারতীয় জেলেদের এ দাবী তিনি নাকচ করে বলেন, তাই যদি হয় তা হলে তাদের নিদেন পক্ষে হিরণপয়েন্ট দুবলারচর আলোরকোল পর্যন্ত আসার কথা।

ফিসিংবোট এফবি খাইরুল ইসলামের মিস্ত্রি শরণখোলা উপজেলার পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের মোঃ রফিক জানান, বরাবরের মত ভারতীয় ট্রলিং ট্রলার বঙ্গোপসাগরের বয়া এলাকা থেকে পূর্বে কুয়াকাটা উপকুল, সোনারচর, ঢালচর পর্যন্ত সাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা অবাধে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় মাছ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তিনি গত ২২ জুন সাগরের সোনারচর এলাকায় শতাধিক ভারতীয় ফিসিং বোটকে মাছ ধরতে দেখেছেন। ওই সময় তিনি তার বোটের মবিল ফুরিয়ে যাওয়ায় ভারতীয় একটি বোট থেকে কয়েক লিটার মবিল চেয়ে নেন বলে রফিক মিস্ত্রি জানান।

ভিডিওঃ  ‘বাংলাদেশী জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ হলেও বাংলাদেশের সীমানায় ভারতের ইলিশ উৎসব!’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাগরে সকল ধরনের মাছ ধরা বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করায় শরণখোলাসহ উপকুলীয় এলাকার জেলে পল্লীগুলিতে হতাশার পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

অপরদিকে শরণখোলা, পাথরঘাটাসহ অন্যান্য এলাকার অনেক ফিসিংবোট বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মাছ শিকার করে শরণখোলা ও পাথরঘাটা মৎস্যঘাটে ফিরে এসে রাতের মধ্যেই মাছ ট্রাক বোঝাই করে খুলনা ও বরিশালের মোকামে চালান করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে চলেছেন। বিশেষ করে শরণখোলার মজিবর তালুকদার, বেলায়েত খান, ও আবুল হোসেনের ফিসিং বোট নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চোরাইভাবে সাগরে মাছ ধরছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে গত ৬ জুলাই রাঙ্গাবালীর কাছে সাগরে ৫/৬ টি ফিসিং বোট ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে গেছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার খবর তার জানা নেই খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘সরকারের পছন্দমতো রায় না লেখায় আমাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল’: এস কে সিনহা


জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করতেই ক্ষমতাসীন সরকার দুর্নীতির মামলা দায়ের করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

ঢাকায় সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হওয়ার একদিন পর ওই মামলা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ভিত্তিক মুক্ত গণমাধ্যম বেনারকে তিনি এই কথা বলেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম- রুল অব ল, হিউমেন রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’র সূত্র ধরে তিনি তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া অবিচারের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, “আমাকে ১৫ দিন গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল।”

আত্মজীবনীতে সরকারের পছন্দমতো রায় লিখতে রাজি না হওয়ায় শেখ হাসিনা ও তাঁর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা এবং চাপ দিয়ে দেশত্যাগ ও পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন এস কে সিনহা।

বর্তমান সরকারের অধীনে ন্যায়বিচার আশা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি । “এটি অনৈতিক, অন্যায়। তারা আমাকে জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করতে চায়,” বেনারকে বলেন বিচারপতি সিনহা।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে সরকারের সাথে মতবিরোধ সৃষ্টি হয় এস কে সিনহার। এরই জের ধরে ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর প্রথমে ছুটি নিয়ে বিদেশ যান তিনি। পরে সেখান থেকেই রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত বিচারপতি সিনহা গত কয়েক দিন ধরে নিজের ছোট মেয়েকে দেখতে স্ত্রীসহ কানাডায় রয়েছেন। সেখান থেকে টেলিফোনে বেনারের সাথে কথা বলেন তিনি।

দুর্নীতি মামলা হওয়ার সংবাদটি তাঁর স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে তাঁকে বলেছেন জানিয়ে বিচারপতি সিনহা বলেন, “আমি হাসব না কাঁদব, সেটাই ভাবছি!”

ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে এই মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার সংস্থাটির জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১ এ সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

বাংলাদেশে সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা এটাই প্রথম।

“আপনার কি মনে হয় আপনি এই মামলায় ন্যায়বিচার পাবেন?” বেনারের এমন প্রশ্নে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, “যখন আমি কর্মরত প্রধান বিচারপতি ছিলাম, তখনই ন্যায়বিচার পাইনি। তাহলে এখন কীভাবে আশা করব?”

তাঁকে চাপ ও হুমকি দেওয়ার জন্য সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও (ডিজিএফআই) আত্মজীবনীতে অভিযুক্ত করেন তিনি।

“শেষ পর্যন্ত, আমার পরিবারের ওপর সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর চাপ ও হুমকির মুখে আমি দেশের বাইরে থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেই,” আত্মজীবনীর ভূমিকায় জানিয়েছেন বিচারপতি সিনহা।

তবে তাঁর অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ওপর কোনো ধরনের নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেছে সরকার।

আত্মজীবনী প্রকাশের প্রায় এক বছরের মাথায় তাঁর বিরুদ্ধে বুধবার দুর্নীতির দায়ে মামলা দায়ের করল দুদক। যদিও মামলাটি এখনো প্রাথমিক স্তরে রয়েছে বলে বেনারকে জানান দুদকের আইনজীবী খুরশেদ আলম খান।

“এটা একটা মানি লন্ডারিং মামলা। এটা তথ্য উপাত্তের ওপর ভিত্তি করেই হয়েছে। এটা খুব ইনিশিয়াল স্টেজে আছে। এখন তদন্ত হবে, তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এটা সময়ের ব্যাপার,” বেনারকে বলেন খুরশেদ আলম।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বেনারকে বলেন, “আমরা আশা করব সাবেক প্রধান বিচারপতি ন্যায় বিচার পাবেন। ন্যায় বিচারে মাধ্যমেই তিনি দোষী কিংবা নির্দোষ সাব্যস্ত হবেন।”

দুর্নীতি মামলা

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে এ অনুসন্ধান শুরু হয়। ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে। পরে দায়িত্ব পেয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থার পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত দল। এর পরে দুদকের অনুমতিতে এই মামলাটি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

“দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন সাবেক বিচারপতি দুর্নীতি মামলার মুখোমুখি হলেন, এটা ভালো লক্ষণ নয় এবং বিচারব্যবস্থার জন্য এটা হুমকি,” বেনারকে বলেন সুপ্রীম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, এসকে সিনহা নিজেই বলেছেন যে, তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়েননি। তাই এই মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

“দুদকের মানি লন্ডারিং মামলাগুলো সাধারণত তথ্য এবং রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে হয়। তাই এই মামলার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, এটা বলার সুযোগ নেই,” বেনারকে বলেন দুদক আইনজীবী খুরশেদ আলম।

উৎসঃ justnewsbd

আরও পড়ুনঃ ‘বিচারকদের আতঙ্কে রাখতেই সিনহার বিরুদ্ধে মামলা’


বিচারকদের আতঙ্কে রেখে স্বাধীনভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করতে না দেয়ার উদ্দেশ্যেই সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করা হয়েছে। এটা একটি থ্রেট বা হুমকি, যাতে সরকারের বাইরে বিচার বিভাগ যেতে না পারে এমনটি মনে করেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক দু’জন সভাপতি ও বর্তমান সম্পাদক। তারা সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদকের এ মামলার তীব্র নিন্দা জানান। সেইসাথে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত করতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিচারপতি এস কে সিনহা একটি দেশের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তাকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়। সেটা অনেক দিন আগের ঘটনা। এখন তার বিরুদ্ধে যা করা হচ্ছে তা মানুষ বিশ্বাস করছে না। তারা মনে করছে এটা প্রতিহিংসার কারণে করা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, এটা একটি থ্রেট বা হুমকি, যাতে সরকারের বাইরে বিচার বিভাগ যেতে না পারে। অতীতে একজন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এত দিন তার বিরুদ্ধে কী দুর্নীতি পেল তা প্রকাশ করা হয়নি। এর কিছুই আমরা জানি না।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় সরকারের পক্ষে রাখার জন্য এবং বিচারপতিরা যাতে স্বাধীনভাবে রায় দিতে না পারে তাদের মনে ভীতি সঞ্চার করার জন্যই সরকার প্রভাব খাটিয়ে এ মামলা করেছে। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদকের এ মামলার তীব্র নিন্দা জানান। সেইসাথে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত করতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিলের রায় নিয়ে মূলত সরকারের সাথে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে তার কিছু পর্যবেক্ষণও ভালোভাবে নেয়নি সরকার। সরকারি দল ও জোটের নেতারা সংসদে এস কে সিনহাকে উদ্দেশ করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। পরে রাষ্ট্রযন্ত্র জোরপূর্বক গৃহবন্দী করে তাকে অসুস্থ বলে দেশ ত্যাগে বাধ্য করে।

উল্লেখ্য, ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এস কে সিনহা) ১১ জনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই বুধবার দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।

বিচারপতি এস কে সিনহা ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো: শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

ফারমার্স ব্যাংকের দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির ‘প্রমাণ’ পাওয়ার কথা গত বছর অক্টোবরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। পরে বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বলে ওই সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here