বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার জন্য সময় মাত্র ২ মিনিট কেন?

0
258

জাতীয় সংসদে গত ১২ জুন বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে যোগ দিয়েছিলেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও দলের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সংসদে যোগ দিয়ে প্রথম দিনই শুভেচ্ছা বক্তা হিসেবে কথা বলার সুযোগ নেন রুমিন। সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ কথা বারবার জানান দিচ্ছিলেন, মিস রুমিনের জন্য তার বরাদ্দ সময় মাত্র ২ মিনিট। কেন? দুই মিনিট কেন? আমরা তো এর আগে অনেক গল্প শুনেছিলাম। অনেক আহ্বান শুনেছিলাম। শুনেছিলাম, ৩০ তারিখে ঘোষিত হলেও ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে নির্বাচনের নামে বাংলাদেশে যে কলঙ্কিত ইতিহাস রচিত হয়েছে, তাতে যদি বিএনপি সংসদ সদস্যরা যোগ দেন তবে তাদের জন্য রয়েছে সুখবর। যথেষ্ট সময় পাবেন তারা। কথা বলবেন প্রাণ খুলে।

রুমিনের পুরো বক্তব্য

ভিডিওঃ  ‘ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

কিন্তু সে সুযোগ প্রথম দিনই পেলেন না ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এই নির্বাচনে বিএনপিকে মাত্র ছয়টি আসন দেয়া হয়েছিল। যেন ভুল করে হিসাবের গোলমালে তারা এমপি হয়ে গেছেন। বাকি সবই দখল করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সারা বিশ্ব বলেছে এবং এখনো বলে যাচ্ছে, গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে যে প্রহসন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি এ সপ্তাহেই যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় বলেছে, বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তাতে জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি। নির্বাচন কমিশন প্রশাসন ও পুলিশ সরকারের নির্দেশে এমন নির্লজ্জভাবে ভোট কেটেছিল যে, স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল সারা বিশ্ব। তারা কেউ এমন নির্বাচন পৃথিবীর আর কোথাও দেখেনি।

আগের রাতে প্রশাসন ও পুলিশ মিলে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রেখেছিল। প্রথম দিকে নির্বাচন কমিশন বরাবরের মতো এই নির্বাচন নিয়ে ডুগডুগি বাজালেও, দেশে-বিদেশে অবিরাম সমালোচনার মুখে তারা শেষ পর্যন্ত স্বীকার করে নিয়েছে যে, আসলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। কার্যত আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হয়েছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেও বলেছিলেন, যাতে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা না যায়, তার জন্য তিনি ইভিএম ব্যবস্থা চালু করবেন। অর্থাৎ, আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরায় যে কেলেঙ্কারি হয়েছে, সে কেলেঙ্কারি ঘুচিয়ে তিনি ইভিএমের ওপর নতুন দায় আরোপ করে নির্বাচনে তার কারচুপির ধারা অব্যাহত রাখতে চান। ইভিএম বিশ্বব্যাপী এখন এক পরিত্যক্ত যন্ত্র। এই যন্ত্রের সাহায্যে দূরনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে কাক্সিক্ষত প্রার্থীকে অনায়াসে ভোট দিয়ে দেয়া যায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভেতরে ভেতরে এতটাই পক্ষপাতদুষ্ট এবং সরকারের পদলেহী যে, ভবিষ্যতেও সরকারি দলকে জেতাবার পথ তিনি খোলা রেখেছেন।

হোক। কিন্তু একে একে নির্বাচন কমিশনের সব দেউটি নিভেছে। মাহবুব তালুকদার প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশনের এসব আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর ছিলেন। তারপর আমরা দেখেছি, নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম, রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন সবাই কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখ রাতেই সম্পন্ন হয়ে যায় এবং যেকোনো মূল্যে এটা রোধ করতে হবে। হাসির উৎসেরও বোধহয় একটা সীমারেখা আছে। কিন্তু আমাদের দেশের নির্বাচন কমিশনের যে হাস্যকর কর্মকাণ্ড তার কোনো সীমারেখা নেই। এরা বিষণœ ভোটারদের হাসাতে খুব পছন্দ করে। তাই কেউ কেউ এদের ভাঁড়দের আসর বলে অভিহিত করেছেন।

২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর তথা ২৯ ডিসেম্বর রাতে যে ভোট-ডাকাতি হয়েছে সে বিষয়টা এখন আর কারো অজানা নেই। বিশ্বব্যাপী ছিঃ ছিঃ আছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকেও লোকে ছিইছি বলে অভিহিত করেন। ব্যক্তিত্ব বলতে যা বোঝায় তার বিন্দুমাত্র তার চরিত্রে নেই। অথচ এ রকম একজন সাবেক যুগ্ম সচিবকে সরকারপ্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সুতরাং সরকারকেও একগুচ্ছ ছিঃ দেয়া যায়।

এই নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ওপর তাদের কর্তৃত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তারা বলেছে, আগের রাতে কারা ভোট দিলো, কিভাবে দিলো, কেন দিলো, এ বিষয়ে প্রশ্ন করার এখতিয়ার বা অধিকার ও ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই। হায় অসহায় এই সেবাদাস নির্বাচন কমিশন। কেন নেই? সে কথার জবাব নির্বাচন কমিশন জনগণের কাছে দিতে বাধ্য ছিল। কিন্তু কমিশন তা দিতে পারেনি। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন পুলিশ ও প্রশাসনের এবং সরকারের হাতের ক্রীড়নক ছিল মাত্র। তাদের নিজস্ব কোনো শক্তি, সামর্থ্য, অস্তিত্ব ছিল না। এতেই খুব খুশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিচারপতিরা কিংবা অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিবরা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু কোনো অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব (যেমন কে এম নুরুল হুদা) কোনো দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেননি। এই নুরুল হুদা আবার ছিলেন বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার ঘোর বিরোধী। সে কারণে তাকে ২৫ বছরের যুক্তিতে অবসরে পাঠানো হয়। শেখ হাসিনা সরকার আবর্জনার স্তূপ থেকে তাকে তুলে এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব দিয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকারের আশা যেকোনো অবস্থাতেই এই সেবাদাস সরকারের সেবা করবেই।

আমরা শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার প্রশংসা করি। যত দিন কে এম নুরুল হুদা প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তত দিন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সিটি মেয়র ও জাতীয় সংসদ সদস্য কেউই শেখ হাসিনার ইচ্ছার বাইরে নির্বাচিত হতে পারবেন না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনের ভুলে শত বাধা সত্ত্বেও বিএনপির ছয়জন নির্বাচিত হয়ে গেলেন, সেটা গ্রহণ করার কোনো কারণই ছিল না। প্রাথমিক পর্যায়ে বিএনপি এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিল। কিন্তু যে ৫-৬ জন নির্বাচিত হলেন, তাদের প্রায় সবাইকেই সরকার নিঃস্ব করে দিয়েছিল। তাদের ব্যবসাবাণিজ্য সবকিছু কেড়ে নেয়া হয়েছিল। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ওই এমপিদের কেউ কেউ শপথগ্রহণ করে ফেলেছিলেন। শপথ যখন নিয়েই ফেলেছেন, তাহলে চূড়ান্ত বিচারে তাদের আর শাস্তি দিয়ে কী লাভ! সুতরাং ৫-৬ জন লোক বিএনপির একটি ভাইটাল সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করল।

মন্দের ভালো এই যে, বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হয়ে এলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। রুমিন ফারহানা ভাষা আন্দোলনের মহানায়ক অলি আহাদের মেয়ে। অলি আহাদ ঈর্ষণীয় রাজনৈতিক জীবনযাপন করেছেন। যেখানে অন্যায়, যেখানে অবিচার, সেখানেই তিনি প্রতিবাদ করেছেন। যারা ইতিহাস জানেন, তারা জানেন, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনে অলি আহাদের কী অসাধারণ অবদান রয়েছে! তিনি শুধু রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনকারীই ছিলেন না, ছিলেন একজন বড় মাপের রাজনৈতিক লেখকও। তার বিভিন্ন গ্রন্থ গবেষকদের কাছে আকর হিসেবে বিবেচিত হয়। তার সুযোগ্য সন্তান ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

তিনি গত ১২ জুন সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন এবং যোগ দিয়ে সংসদকে উত্তপ্ত করে তুলেছিলেন। না, তিনি সংসদে ওলটপালট করে দেয়ার মতো ক্ষমতা রাখেন না। কিন্তু কথা তো বলতে পারেন। ভুলে-ভালে যে ছয়জন বিএনপি সদস্য নির্বাচিত বলে ঘোষিত হয়েছেন, তার বাইরে সংরক্ষিত নারী কোটায় এমপি হয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এরা শপথ নেয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতারা সমস্বরে বলতে থাকলেন যে, আসুন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা। আপনাদের কথা বলার যথেষ্ট সুযোগ দেয়া হবে। আপনারা এই ছয়জন এলেই সংসদ প্রাণবন্ত হয়ে যাবে। আসুন, আসুন। এই আহ্বান জানানোর কাতারে প্রধানমন্ত্রী নিজেও ছিলেন। জনগণ হেসেছে। সরকারের মুষ্টির বাইরে এভাবে যে ছয়জন নির্বাচিত হয়ে গেল, তাদের সরকার কেবলই ডাক পাড়ে। আসুন, আসুন, জাতীয় সংসদের দরজা আপনাদের জন্য খোলা। আপনাদের সব কথা বলতে দেবো। এসে সংসদকে প্রাণবন্ত করুন। অথচ এর সবই হাস্যকৌতুকের উপসর্গ ছিল মাত্র।

অতএব ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা স্পিকারের বেঁধে দেয়া ২ মিনিট সময়ের জন্য উঠে দাঁড়ালেন। সে কি তার উত্থান! যেমন সমুদ্রের ভেতরে হঠাৎ সাগরদেবী যেন জলতরঙ্গ রোধ করে উঠে দাঁড়িয়েছে। রুমিন নিজেও জানতেন, কী হবে। তবু তিনি তার শুভেচ্ছা বক্তব্য শুরু করেন। বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়।’ এ কথা বলা মাত্রই সত্যি সত্যি অনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা হৈ হুল্লোড় চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। একে নাকি সংসদকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা বলে। দুই মিনিট সময় বেঁধে দিলেও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্য যাতে শোনা না যায়, তার জন্য আওয়ামী লীগ মন্ত্রী-এমপিরা এমন চিৎকার চেঁচামেচি ও হাউকাউ করতে থাকেন যে, সংসদ কক্ষে কেউ রুমিনের বক্তব্য ভালোভাবে শুনতে পাননি। এ সময় স্পিকার সরকারি দলের সদস্যদের শান্ত হওয়ার জন্য বারবার আহ্বান জানান। কেউ কর্ণপাত করেননি। হ্যালো, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিগণ, রুমিনের বক্তব্য চলতে দিলেন না কেন?

ফ্লোর নিয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আজকের সংসদে আমার প্রথম দিন। যেকোনো রাজনীতিবিদের মতোই সংসদে আসা, সংসদে দেশের কথা, মানুষের কথা বলা আমার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য আমি এমন একটি সংসদের প্রতিনিধিত্ব করছি যে সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। নির্বাচনের পরপরই যদি আপনারা টিআইবির রিপোর্ট দেখেন, যদি আপনারা বিদেশী গণমাধ্যম দেখেন, যদি আপনারা বিদেশী পর্যবেক্ষকদের দেখেন, যদি আপনারা নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট দেখেন, আপনারা দেখবেন, এই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সুতরাং আমি খুশি হবো যদি এই সংসদের মেয়াদ আর এক দিনও না বাড়ে।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে আছি, যেই সংসদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষের গণমানুষের নেত্রী, যিনি জীবনে কোনো দিন কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি, সেই বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদে নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে, একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় আজকের ষোলো মাসের বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার যে মেরিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার যে বয়স, সব কিছু বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।’ ‘সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাকটিং চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন না। আমাদের শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একেকজনের নামে শত শত মামলা। মাননীয় স্পিকার, তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত’ – তিনি বলেন,

এই পর্যন্ত যাওয়ার পর সময় শেষ হওয়ায় স্পিকার তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বক্তব্য শেষ করার কথা বলেন। স্পিকার বলেন, ‘বক্তব্য শেষ করুন। পরে আবার বলার সুযোগ পাবেন।’ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা যতক্ষণ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, আমরা সংসদ টেলিভিশনে দেখছিলাম, ততক্ষণ চেনা তো যায় না, আওয়ামী লীগ এমপিরা সম্ভবত জাতীয় পার্টি, মেনন পার্টি, জাসদ পার্টি, ইনু পার্টি, সব এমপি কেবলই চিৎকার চেঁচামেচি করছিলেন এবং খেল শুরু হো গিয়া। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যের পর ফ্লোর নিয়ে প্রতিবাদ করেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। সংসদ বেশ ভালো জায়গা। হ্যালো, সুজন সাহেব, ঈদে আপনার রেল যে কার্যকরভাবে চলল না, সংসদে সেই কৈফিয়ত দিন। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার কথার জবাব আপনার কাছে কেউ চায়নি। তবু সুজন বললেন, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শপথ নিয়ে নির্বাচনকে অবৈধ বলায় ১৬ কোটি মানুষকে অসম্মান করেছেন। তাই আমি তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানাচ্ছি। সুজন সাহেব, আপনি রেলের কাজে মনোযোগ দিন, যা আপনি বোঝেন না, সে বিষয়ে কথা বলবেন না।

আসলে, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার দুই মিনিটই সরকারের চেহারা স্পষ্ট করে দিয়েছে। যেহেতু এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, ফলে তারা যা খুশি তাই বলতে পারে। জনগণ কোনো একদিন এর প্রতিকার চাইবে। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা কতটুকু সফল হবেন জানি না, তবে, আপনার বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য ধন্যবাদ।

লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
rezwansiddiqui@yahoo.com

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌বাজেটকে জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে: শামসুজ্জামান দুদু


২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেছেন, ‘এই বাজেট কৃষক মারার বাজেট, এই বাজেট বড়লোকদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য দেয়া হয়েছে। এই বাজেট গ্রহণযোগ্য নয়, সেই কারণে জনগণ এই বাজেটকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।’

শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বর্তমান সরকার অনির্বাচিত সরকার ব্যাংক ডাকাতির সরকার। এই সরকারের ন্যূনতম অধিকার নেই বাজেট দেয়ার এবং দেশ পরিচালনা করার। এই সরকারের উচিত অবিলম্বে পদত্যাগ করা।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের সব থেকে অবহেলিত অংশ হচ্ছে এদেশের কৃষক সমাজ। এই কৃষকরাই এদেশের মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। দেশের অর্থনীতির চাকাটাও তারা সচল রেখেছে। বর্তমানে যে বাজেট সরকার দিয়েছে তাতে কৃষকদের জন্য সব থেকে নিম্ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’

নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরে আনতে হলে আন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই। সেজন্য আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক এমপি নূর আফরোজ জ্যোতি। এসময় আরও বক্তব্য দেন কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহি, যুগ্ম-আহ্বায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মাদ জসিম, জামাল উদ্দিন খান মিলন, কেন্দ্রীয় সদস্য জিয়াউল হক পলাশ, অধ্যাপক সেলিম উদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও সভায় রাজশাহী জেলার নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য দেন।

উৎসঃ ‌‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌পর্দা নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য মুসলমানদের জন্য অবমাননাকর: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম


ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারীদের বাইরে চলাচলের সময় হাত-পা মোজা পরা ও চেহারা ঢাকা নিয়ে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার ও আল্লাহর কাছে তাওবা করার আহ্বান জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির সভাপতি আল্লামা আব্দুল মুমিন শায়েখে ইমামবাড়ি ও মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, গত (৯ জুন) রবিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে মুসলিম নারীদের পর্দার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “হাত মোজা পা মোজা নাক-চোখ ডাইকা একেবারে এটা কি? জীবন্ত টেন্ট (তাঁবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো, এটার তো কোন মানে হয় না”।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

জমিয়ত সভাপতি ও মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনার এই বক্তব্য মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত অবমাননাকর হয়েছে। এই বক্তব্যে ইসলামের অপরিহার্য বিধান পর্দাকে খুব বাজেভাবে কটাক্ষ ও ব্যঙ্গ করা হয়েছে। শেখ হাসিনার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে এমন বক্তব্যে দেশের ৯২ ভাগ মুসলমান মানসিকভাবে আহতবোধ ও হতাশ হয়েছেন। এই বক্তব্যের ফলে পর্দা নিয়ে ইসলামবিদ্বেষীরা ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারীদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও হেয়প্রতিপন্ন করতে নতুনভাবে উৎসাহিত এবং পর্দানশীন নারীদের চলাচলে হয়রানী ও হেনস্থা বেড়ে যাওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে জমিয়ত নেতৃদ্বয় আরো বলেন, জনসমক্ষে চলাচলের ক্ষেত্রে শরীর আবৃত রাখা মুসলিম নারীদের জন্য ইসলামের অপরিহার্য বিধান তথা ফরয। পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট আয়াতের আলোকেই মুসলিম নারীগণ বোরকা, নেকাব ও হাত-পা মোজা পরে শরীর ও চেহারা ঢেকে বাইরের প্রয়োজনীয় কাজ সারেন।

তারা বলেন, পর্দা ও হিজাবকে নিয়ে এমন কটাক্ষপূর্ণ বক্তব্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। ধর্মীয় প্রশ্ন ছাড়াও শেখ হাসিনা দেশের নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনাচার নিয়েও কোনরকম কটাক্ষ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ বক্তব্য দিতে পারেন না। তাঁর এই বক্তব্য সংবিধান, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারবিরোধী হয়েছে।

জমিয়ত সভাপতি ও মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে দেশের প্রতিটি নাগরিককে পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। একজন মুসলিম নারী ধর্মীয় স্বাধীনতার এই অধিকার বলেও স্বাচ্ছন্দে পর্দা করে চলাচলের অধিকার রাখেন। এটাকে কটাক্ষ করার আইনী অধিকার কারোর নেই।

জমিয়ত নেতৃদ্বয় শেখ হাসিনার প্রতি পবিত্র কুরআনের পর্দার বিধানের প্রতি অবমাননাকর তার এই বক্তব্য প্রত্যাহারপূর্বক মহান আল্লাহর দরবারে তাওবা এবং দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

উৎসঃ ‌‌‌ইসলাম টাইমস

আরও পড়ুনঃ ‌মানিকের মতো বিকারগ্রস্তদের মাঠে নামিয়েছে সরকার: রিজভী


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বিচারপতি মানিকের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে যুবদল।

শনিবার বেলা ১২টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইট এ্যাঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মিছিল শেষে রিজভী আহমেদ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাবন্দী রেখে শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার আগুন নেভাচ্ছেন। বেগম জিয়াকে মুক্তি না দিয়ে বর্তমান অবৈধ নিষ্ঠুর সরকার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর বর্তমান স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর চলমান হয়রানী ও নিষ্ঠুরতার অবসান ঘটাতে জনগণ এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে। গুম-খুন-ক্রসফায়ার-অপহরন-ভয় ও শঙ্কার বর্তমান এই দুঃসময় অতিক্রম করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য রাজপথেই আমাদেরকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

রিজভী আহমেদ আরও বলেন-দেশ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস মুছে ফেলা হচ্ছে। আর এজন্যই মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম সম্পর্কে বিচারপতি মানিকের মতো বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর দোসর’রা ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য রাখছেন, বানোয়াট মন্তব্য করছেন। এরা ক্ষমতাসীনদের উচ্ছিষ্ট। অবান্তর, অসত্য ও বিকৃত বক্তব্য প্রদানের জন্য মানিকের মতো বিকারগ্রস্ত লোকদের মাঠে নামিয়েছে সরকার। এদেরকে একদিন উচিৎ শিক্ষা দিবেই এদেশের জনগণ। সত্যকে কোনদিনই মুছে ফেলা যাবে না, বরং আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর বিকৃত ইতিহাসকেই জনগণ আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, মহানগর উত্তর যুবদল সভাপতি এস এম জাহাঙ্গির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীনসহ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

উৎসঃ ‌‌‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ ‌ভোট চোরদের হাতে দেশের সম্পদ নিরাপদ নয় : আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, বাজেট দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবেনা। তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়। তারা একদিকে লুট করছে, অন্যদিকে বাজেট দিচ্ছে, দেশ পরিচালনা করছে, পলিসি নির্ধারণ করছে। আজকে সব একীভূত। সত্যিকার অর্থে যারা ভোট চুরি করে তাদের হাতে দেশের সম্পদ নিরাপদ নয়। তাদের দ্বারা সম্পদের সুষম বণ্টন হতে পারেনা।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া‘ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল।

সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক, বিএনপির তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি হুমায়ুন ইসলাম খান, বাহাউদ্দিন বাহার, কাজী মনিরুজ্জামান সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার তাঁতী দলের নেতৃবৃন্দ। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাংগঠনিক সবকিছু প্রোটোকল মেনে কাজ করার পরিবেশ দেশে নেই। সব অংগ সংগঠনকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। এটার প্রয়োজনীয়তা আছে। তা না হলে অন্যরা কাজ করবেনা। বাজেটে দেশের তাঁতী সম্প্রদায়ের জন্য কি দেয়া হয়েছে সে নিয়েও তাঁতী দলকে কাজ করতে হবে। তবেই আপনারা বিএনপির হয়ে তাঁত শিল্পে কর্মরত লোকজনের কাছে সমাদৃত হবেন। সব অংগ সংগঠনের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে নিজ নিজ খাতের বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার হওয়া। কেননা তাঁতীদের চাহিদা কখনোই পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সারাবিশ্বে হাতে বোনা তাঁত পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু আমরা বাংলাদেশে তার মূল্যায়ন করতে পারিনা।

এই শিল্পের বিকাশ ঘটাতে ও বাজার ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাঁত শিল্প বাঁচানোর বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আজকে দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। তার মুক্তির সাথে সবকিছু জড়িত। তার মুক্তির সাথে জড়িত মানুষ ভোটাধিকার ও নিরাপত্তা ফিরে পাবে কিনা। ন্যায় বিচার পাবে কিনা। আমাদের এক দাবি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সেটা হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি। আমীর খসরু বলেন, দেশের একটি গোষ্ঠী জনগণকে বাইরে রেখে ক্ষমতা দখল করে একদলীয় স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

আজকে তিউনিশিয়ার উপকূলীয় এলাকায় বাংলাদেশের তরুণ যুবকেরা ভাসছে। কেনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পালিয়েছে? কেউ কি জবাব দিতে পারবেন? যে দেশে গণতন্ত্র থাকবেনা, বাক স্বাধীনতা থাকবেনা , সেখানে ন্যায় বিচার হতে পারেনা। আমাদেরকে আন্দোলনে নেমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, সবার আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে। তাহলেই দেশের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিনি আমাদের নেত্রী। তার স্বামী দেশের স্বাধীনতার ঘোষক। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশনেত্রীর মুক্তি আন্দোলন শুরু করুন। কৌশল অবলম্বন করে এগিয়ে যেতে হবে। আবুল কালাম আজাদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, মোটা কাপড় মোটা ভাত শহীদ জিয়ার মতবাদ।

১৯৮০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ জিয়া তাঁতী দলের প্রতিষ্ঠা করেন। আমরা পেশাভিত্তিক দল। সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য উৎপাদনমূলক কাজ করি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের চাল রফতানি শুরু করেন। কিন্তু ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল সহ অন্যান্য সংগঠনের ন্যায় বিএনপি আমাদের এখন আগের মতো মূল্যায়ন করেনা। বড় বড় জনসভায় আমাদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নাম পর্যন্ত বলা হয় না। যা খুবই দুঃখজনক। তবুও আমরা শক্তিশালী।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌কর আর দ্রব্যমূল্যের চাপে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস: বিএনপি


নতুন বাজেটকে উচ্চাভিলাষী আখ্যা দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাজেটের শিরোনাম থেকেই উন্নয়নের ‘গীত’ প্রকৃষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই তথাকথিত উন্নয়নের ‘গীত’ আর মানুষ শুনতে চায়না। কর আর দ্রব্যমূল্যের চাপে ভোক্তা সাধারণের এমনিতেই নাভিশ্বাস উঠেছে।

শুক্রবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাজেটের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে বিএনপি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

তার মতে, বাজেটের আকার বড় করার চমক সৃষ্টির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন যেন অর্থমন্ত্রী।

মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থমন্ত্রী গতকাল জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী বাজেট ঘোষণা করেছেন। বাজেটের আকার বড় করার চমক সৃষ্টির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন যেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কিন্তু বাজেট বৃদ্ধির এ প্রগলভতা বছর শেষে চুপসে যেতে দেখা যায়। বাজেটের আকার কত বড় এ নিয়ে আর জনমনে কোনো উচ্ছ্বাস নেই।

‘কেননা প্রত্যেক বছরের শেষ দিকে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ যেভাবে কাটছাঁট করা হয়, তাতে বিরাট আকার বাজেটের অন্তঃসার শূন্যতাই প্রকাশ পায়,’ বলেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ঘোষিত বাজেটের শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ- সময় এখন আমাদের সময় এখন বাংলাদেশের’। বর্তমান অর্থমন্ত্রী পরিকল্পনামন্ত্রী থাকাকালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দেয়ালে লেখা দেখা গেছে ‘সময় এখন আমাদের: সময় এখন বাংলাদেশের’।

তিনি জানান, আবার বছর খানেক আগে টিভির পর্দায় একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন হিসেবেও শোনা গেছে ‘সময় এখন আমাদের’। আসলে সময় এখন তাহাদের এবং একমাত্র তাহাদেরই। সেটা বাংলাদেশের মানুষের বুঝতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

বাজেটের শিরোনাম থেকেই উন্নয়নের ‘গীত’ প্রকৃষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই তথাকথিত উন্নয়নের ‘গীত’ আর মানুষ শুনতে চায়না। কর আর দ্রব্যমূল্যের চাপে ভোক্তা সাধারণের এমনিতেই নাভিশ্বাস উঠেছে।

আয়-বৈষম্য, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক নৈরাজ্যের কারণে সামাজিক অস্থিরতার মুখোমুখি জনগণ এখন আর উন্নয়নের মিষ্টি কথায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না, বলেন মির্জা ফখরুল।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বিএনপির এমপিদের সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের


জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দলীয় সংসদ সদস্যদের জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এ নির্দেশ দেন। দলীয় এমপিদের নির্দেশনা দিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান করে একটি ‘ছায়া সংসদীয় কমিটি’ও গঠন করেছে বিএনপি।

বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির ছয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে স্কাইপের মাধ্যমে যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠকে সংসদ সদস্যদের পরামর্শ দিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান করে একটি ‘ছায়া সংসদীয় কমিটি’ গঠন করেছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল ছাড়াও কমিটিতে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপি সংসদে থাকবে। সংসদীয় রীতিনীতি মেনে বক্তব্য রাখবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রতিবাদও জানাবে। কিন্তু এমন কিছু করবে না যাতে সংসদের পরিবেশ নষ্ট হয়।

নির্দেশনা মতে, জাতীয় সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন মঙ্গলবারই সংসদে যোগ দেয় বিএনপি। এদিন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যে অনেক দিন পর সংসদে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়েছিল।

জানতে চাইলে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশনে আমাদের করণীয় সম্পর্কে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ বৈঠক হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আমরা সরব থাকব।

তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতির মহাতাণ্ডব চলছে। বালিশ নিয়ে মানুষ আন্দোলন করছে। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বরাদ্দের টাকা লুটপাট হচ্ছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে। জনগণের পক্ষে এসব বিষয় সংসদে তুলে ধরব। তবে কতটা পারব জানি না। এ ক্ষেত্রে স্পিকার আমাদের কতটা সহযোগিতা করে সেটি দেখতে হবে।

হারুন বলেন, ‘চলতি অধিবেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা বাজেট অধিবেশন। বাজেটে জনস্বার্থবিরোধী কিছু থাকলে তা জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে। বাজেট যাতে জনস্বার্থে হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।’

সোমবারের বৈঠকের বিষয়ে বাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার গণমাধ্যমকে বলেন, সংসদ অধিবেশন নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। যেন আমরা সবাই ঠিক থাকি, সবকিছুর ঠিকঠাক জবাব দিতে পারি, নিয়মিত অধিবেশনে যোগ দিই—এসব ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়েছে দল থেকে। পাশাপাশি সংসদে যোগদানের সুযোগের কীভাবে সদ্ব্যবহার করা যায়, সে বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে দলের সদস্যদের বক্তব্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি প্রাধান্য দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।সেই মোতাবেক বাজেট অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিএনপির নারী সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বক্তব্য রাখেন। তিনি ফ্লোর নিয়ে বলে ওঠেন, একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এ সময় সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। বিএনপির এ এমপি প্রায় আড়াই মিনিট বক্তব্য রাখলেও সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের চিৎকার, চেঁচামেচি ও প্রতিবাদের কারণে সংসদ কক্ষে কেউ রুমিনের বক্তব্য ভালোভাবে শুনতে পাননি।

ফ্লোর নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। টিআইবিসহ সবাই বলেছে- এ সংসদ জনগণের ভোটে হয়নি। তাই খুশি হব এই সংসদের মেয়াদ যেন একদিনও না বাড়ে।

রুমিনের পুরো বক্তব্য

ভিডিওঃ  ‘ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে আছি, যেই সংসদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষের, গণমানুষের নেত্রী, যিনি জীবনে কোনো দিন, কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি- সেই বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদে নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে, একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় আজকে কারাগারে ১৬ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই- বেগম খালেদা জিয়ার মামলার যে ম্যারিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার যে বয়স, সবকিছু বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।’

তারেক রহমানের প্রতি সরকার অন্যায় করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন না। আমাদের শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একেকজনের নামে শত শত মামলা। মাননীয় স্পিকার তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।’

জানা গেছে, সোমবারের ওই বৈঠকে বাজেট অধিবেশনের বিষয় অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতে সরকারের অনিয়মের বিষয়টিও তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি। সরকারের অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সংসদ সদস্যদের সাহায্য করবেন কেন্দ্রীয় কমিটির স্ব স্ব বিষয়ক সম্পাদকমণ্ডলীর নেতারা।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান আগেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিষয়কভিত্তিক সম্পাদকদের সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে পৃথক পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। যেমন, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করবেন। সেই প্রতিবেদন সংসদ সদস্যরা সংসদে তুলে ধরবেন। এ রকম সব সম্পাদককে ছায়ামন্ত্রীর মতো প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দেয়া আছে।

সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন—উকিল আব্দুস সাত্তার, মো. হারুনুর রশীদ, মো. জাহিদুর রহমান, মো. আমিনুল ইমলাম, মোশারফ হোসেন ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌হিজাব নিয়ে শেখ হাসিনার মন্তব্যে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছেঃ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী


সম্প্রতি গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ‘হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢেকে এটা কি? জীবন্ত টেন্ট (তাঁবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো, এটার তো কোনো মানে হয় না’- নারীদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার দেয়া এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী।

শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে নারীদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের জবাবে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, একজন নারীর জন্য পরপুরুষের সামনে দুই হাত, দুই পা খোলা রাখার অবকাশ নেই। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সম্পূর্ণ শরীরে পর্দা করা শরয়ি হিজাবের মূল উদ্দেশ্য।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তবে হিজাব সম্পর্কে শেখ হাসিনার ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন মুসলমান ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কোনোভাবেই শরিয়তের বিধান নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করতে পারে না।

শরিয়তের অন্যতম বিধান পর্দা সম্পর্কে দেয়া এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে তাওবা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন হেফাজত মহাসচিব।

হিজাব (পর্দা) ইসলামের অন্যতম একটি ফরজ বিধান উল্লেখ জুনায়েদ বাবুনগরী বিবৃতিতে আরও বলেন, একজন নারীর ইজ্জত আবরু রক্ষায় শরয়ি পর্দার বিকল্প নেই। একজন নারী শরয়ি পর্দা মতো চললে সমাজে ইভটিজিং, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ইত্যাদির ন্যায় অপরাধ ও অনৈকিতা থাকবে না। সমাজ হবে শান্ত ও সুশৃঙ্খল।

পর্দাহীনতার কারণেই আজ নারী নির্যাতন চরম আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশু থেকে শুরু করে সত্তর বছরের বৃদ্ধাও আজ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শুধু নির্যাতন নয়; নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যাও করা হচ্ছে। এর মূল কারণ হলো- বেপর্দা, নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা।

বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী আরও বলেন, পবিত্র কোরআন শরিফের সাতটি আয়াত এবং প্রায় ৭০টির মতো হাদিস দিয়ে পর্দার বিধান প্রমাণিত। এসব আয়াত ও হাদিস দিয়ে পর্দার বিধান প্রমাণিত হওয়ার পাশাপাশি সর্বপ্রকারের বেপর্দা হারাম হওয়াও সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

‘সুতরাং শরয়ি পর্দা নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত শেখ হাসিনার মুখে এমন আপত্তিকর মন্তব্য দুঃখজনক। প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে পর্দা সম্পর্কে দেয়া এমন বক্তব্যে কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, শরয়ি পর্দা নারীর ভূষণ, ইজ্জত আবরু রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু নারী সমাজ আজ পশ্চিমাদের তালে তাল মিলিয়ে চলাফেরা করে নিজের ইজ্জত আবরু বিনষ্ট করছেন। মানবরূপী নরপশু লম্পটদের ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

পর্দা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য নয়; বরং শালীন পোশাক পরিধান, শরয়ি পর্দা ও ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে ইভটিজিং, ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনমুক্ত সমাজ গড়তে সবার প্রতি আহ্বান জানান হেফাজত মহাসচিব।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শেখ হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ আলেম সমাজ (ভিডিও সহ)


মুসলিম নারীদের পর্দাকে কটাক্ষ করে শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও আলেম সমাজ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

গত রোববার বিকেলে গণভবনে ত্রিদেশীয় সফর শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ হাসিনা। ওই সময় গাজী টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজার নারীদের নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতে পায়ে মোজা, চোখ-নাক ঢাইক্কা এইটা কি? জীবন্ত টেন্ট (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানোর কোনো মানে হয় না।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

কিন্তু কোনো মুসলিম নারীদের পর্দাকে এভাবে তাচ্ছিল্য করে দেয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য কোনো গণমাধ্যমই প্রকাশ করেনি। অ্যানালাইসিস বিডি ওই দিন রাতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের ভিডিওসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অ্যানালাইসিস বিডির এই সংবাদ প্রকাশের পরই এনিয়ে দেশের আলেম-ওলামাসহ সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।

দেখা যাচ্ছে, ধর্মপ্রাণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অশালীন ভাষায় শেখ হাসিনাকে গালাগালি করছেন। অনেকেই আবার মুসলমান নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে তাওবা করে বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছেন।

এদিকে, মুসলিম নারীদের পর্দাকে তাচ্ছিল্য করে দেয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশের ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ আলেম সমাজ। তারাও শেখ হাসিনাকে এমন গর্হিত বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছেন।

ইতিমধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করিম শেখ হাসিনার বক্তব্য ক্ষোভ প্রকাশ করে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে একটি বিবৃতিও দিয়েছেন। শেখ হাসিনাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্যও তিনি তার বিবৃতিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ হাসিনার বক্তব্য আলেম সমাজ চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সরকারের রোষানলে পড়ার ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। তবে, তারা এও বলছেন যে শেখ হাসিনার বক্তব্য সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের সামিল। এমন বক্তব্য দিয়ে বড় অপরাধ করেছেন। শেখ হাসিনা যদি তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার না করে তাহলে এটা নিয়ে কিছু হতেও পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষস্থানীয় একজন আলেম বলেছেন, ওআইসি সম্মেলনে গিয়ে শেখ হাসিনা ঠিকই কালো বোরকা পরে নিজের শরীর ঢেকেছিলেন। তখনতো তিনি নিজেও একটি জীবন্ত টেন্ট ছিলেন। আর দেশে এসেই তিনি মুসলিম নারীদের পর্দাকে তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। শেখ হাসিনা আসলে একজন বকধার্মিক। একদিকে ধর্মের কথা বলে অন্যদিকে ধর্মীয় বিধানের আঘাত করে।

তিনি বলেন, দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমনরা ধৈর্য ধরে বসে আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা যদি তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করে তাহলে এই ধৈর্য বেশি থাকবে না। কারণ, ইসলামের একটি বিধানকে কটাক্ষ করে একজন মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানের এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শেখ হাসিনা এদেশের কোটি কোটি মুসলিম নারীকে অপমান করেছেন। এদেশের মুসলমানদে কলিজায় তিনি আঘাত করেছেন। তাকে অবশ্যই তাওবা করে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় মুসলমানরা ঘরে বসে থাকবে না।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! (ভিডিও সহ)


শপথ গ্রহণ করে জাতীয় সংসদে যোগদানের প্রথম দিনেই উত্তাপ ছড়ালেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও দলের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তার এক বক্তব্যেই মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ।

সংসদে যোগ দিয়ে প্রথম দিন শুভেচ্ছা বক্তা হিসেবে বলার সুযোগ নিয়ে রুমিন বলেন ‘একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়।’ এ সময় সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রুমিনের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

বিএনপির এই এমপি প্রায় আড়াই মিনিট বক্তব্য রাখলেও সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের চিৎকার, চেঁচামেচি ও প্রতিবাদের কারণে সংসদ কক্ষে কেউ রুমিনের বক্তব্য ভালোভাবে শুনতে পাননি।

এ সময় স্পিকার সরকারি দলের সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানালেও কেউ কর্ণপাত করেননি।

রুমিনের পুরো বক্তব্য

ভিডিওঃ  ‘ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আজকে সংসদে আমার প্রথম দিন। যে কোনো রাজনীতিবিদের মতোই সংসদে আসা, সংসদে দেশের কথা, মানুষের কথা বলা আমার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, আমি এমন একটি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি, যেই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। নির্বাচনের পরপরই যদি আপনারা টিআইবির রিপোর্ট দেখেন, যদি আপনারা বিদেশি গণমাধ্যম দেখেন, যদি আপনারা বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দেখেন, যদি আপনারা নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট দেখেন, আপনারা দেখবেন এই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সুতরাং আমি খুশি হবো যদি এই সংসদের মেয়াদ আর একদিনও না বাড়ে।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে আছি যেই সংসদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষের, গণমানুষের নেত্রী, যিনি জীবনে কোনো দিন, কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি- সেই বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদে নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে, একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় আজকে কারাগারে ১৬ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই যে, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার যে ম্যারিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার যে বয়স, সবকিছু বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।’

‘সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাকটিং চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন না। আমাদের শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একেকজনের নামে শত শত মামলা। মাননীয় স্পিকার তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত’- বলেন তিনি।

এই পর্যন্ত বলার পর সময় শেষ হওয়ায় স্পিকার তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বক্তব্য শেষ করার কথা বলে বলেন, বক্তব্য শেষ করুন। পরে আবার বলার সুযোগ পাবেন।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যের পর ফ্লোর নিয়ে প্রতিবাদ করেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, উনি একটি গণতান্ত্রিক দেশের… নিজেও শপথ নিয়ে অবৈধ বলায় ১৬ কোটি মানুষকে অসম্মান করেছেন। তাই আমি তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানাচ্ছি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালির ৩০৭ বিধি অনুযায়ী, তার বক্তব্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি কোনো অসংসদীয় কিছু পাওয়া যায় তাহলে এক্সপাঞ্জ করা হবে।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকেই) দুর্নীতিবাজদের বসবাস!


অনুসন্ধানের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করার লক্ষ্য নিয়েই গঠন করা হয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির মূল কাজ হলো রাষ্ট্রের সকল সেক্টরের দুর্নীতিবাজদেরকে খোঁজে বের করা। মোট কথা, দুর্নীতিবাজদের ধরা, লুটে নেয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং তাদেরকে আইনের হাতে তুলে দেয়া।

কিন্তু, এক পর্যায়ে এসে দুর্নীতি দমন কমিশন নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরই এখন বসবাস করছে বড় বড় দুর্নীতিবাজ। এখানে বসেই তারা নিজেরা অবাধে চাঁদাবাজি ও ঘুষ-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতির তদন্তের নামে কোটি কোটি টাকা ঘুষ খেয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরের বড় বড় দুর্নীতিবাজদেরকে তারা ছেড়ে দিচ্ছে। আরও ভয়ঙ্কর বিষয় হলো-দুর্নীতিবাজদের কাছে তারা অফিসের গোপন নথিও পাচার করছে।

অবৈধভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ায় দায়ে বরখাস্ত হয়েছেন দুদকের পরিচালক এনামুল খন্দকার বাছির। এই ঘুষ নেয়ার বিষয়ে তাদের হওয়া কথোপকথনও ইতিমধ্যে প্রকাশ হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, প্রাথমিকভাবে তারা এই ঘুষ নেয়ার সত্যতা পেয়েছেন। দেশের সর্বত্র এখন এটা নিয়েই চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

দুদক পরিচালক বাছিরের ঘুষ কেলেংকারির ঘটনায় যখন সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় বইছে তখনই ফাঁস হলো দুদকের আরেক কেলেংকারি। বাংলাদেশে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত হলো শিক্ষা অধিদপ্তর। এখানের দুর্নীতিবাজদেরকে রেহায় দেয়ার জন্য এক দুদক কর্মকর্তার ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার ঘুষ চাওয়ার অডিও ফাঁস হয়েছে। দৈনিক কালেরকণ্ট পত্রিকা মঙ্গলবার ঘুষ চাওয়ার অডিওসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এখন পর্যন্ত দুদকের পক্ষ থেকে এটার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, গত জানুয়ারি মাসে আসামির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ এবং অনুসন্ধানের তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক এ কে এম ফজলুল হককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত-২-এ কর্মরত ছিলেন।

ফজলুল হক বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্পদের অনুসন্ধানে দীর্ঘ ১৩ মাস সময় নেন। তিনি অনুসন্ধানসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথির কাগজপত্র বেআইনিভাবে এক কর্মচারীর মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির হাতে দিয়েছিলেন। গত ১৪ জানুয়ারি দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

এর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে এস এম শামীম ইকবাল নামে দুদকের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে দুদক। তিনি দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০১৫ সালের জুন মাসে কমিশনের পক্ষ থেকে একটি মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন করা হলেও শামীম ইকবাল তা আদালতে উপস্থাপন না করে নিজের কাছে রেখে দেন।

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ নিজেই এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। অন্যথায়, দুদকের পরিচালকরা এভাবে অবাধে ঘুষ বাণিজ্যে লিপ্ত হতে পারে না।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! (ভিডিও সহ)


পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হল আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের মুসলমানরা শত শত বছর ধরে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামিক কালচার অনুযায়ী জীবন যাপন করে আসছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এদেশের মুসলমানরা ইসলামি পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করেন। তারপরও পাশ্চাত্যের গোলাম হিসেবে পরিচিত কিছু নামধারী মুসলমান এদেশের মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্যের নোংরা সংস্কৃতি ঢোকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। নেকাব ও হিজাবধারী স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারীদেরকে তারা ধর্মান্ধ বলে গালি দিয়ে থাকে। নেকাব ও হিজাব পরার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রীদেরকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আধুনিকতার নামে উলঙ্গ সংস্কৃতির অনুসারীরা প্রায় সময়ই নেকাব ও হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে থাকে। টেলিভিশনের টকশোতে তারা হিজারধারী নারীদেরকে নিয়ে নানা রকম বাজে মন্তব্য করে থাকে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো- এখন রাষ্ট্রের অভিভাবক শেখ হাসিনা নিজেও নেকাবধারী নারীদেরকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে পায়ে মোজা পরা ও নেকাব দিয়ে চোখ-মুখ ঢেকে রাখা নারীদেরকে কটাক্ষ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে এসএ টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজা প্রশ্ন করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আমাদের নারীদের বিরুদ্ধে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে, ধর্মীয় সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। এদের ব্যাপারে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন এবং রাষ্ট্র কি ব্যবস্থা নিতে পারে?

জবাবে শেখ হাসিনা অনেক বয়ান করেছেন। হযরত খাদিজা ও আয়েশার জীবন কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তারা নারী হয়েও যুদ্ধ করেছেন। ওই সময় নারীরা অনেক ক্ষমতাধর ছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের বয়ান করলেন। বললেন- আমরা নারীদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন পাইলট আছে আমার নারী, আর্মি অফিসার আছে আমার নারী, মেজর আছে আমার নারী। আমি নারীদেরকে সবখানে তুলে নিয়ে আসছি। এটাই তাদের জবাব।

এরপর কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দাঁড়ালেন প্রশ্ন করতে। ওই সময় শেখ হাসিনা নারীদের প্রসঙ্গে আবার বললেন, হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢাইক্কা এটা কি? জীবন্ত tent (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটারতো কোনো মানে হয় না।

সচেতন মানুষও মনে করছেন, শেখ হাসিনা এখানে সরাসরি নেকাব ও হিজাবধারী নারীদেরকে অপমান করেছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার অধিকার একজন মুসলিম নারীর আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা একটি মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাত মোজা, পা মোজা ও নেকাব পরিধান করে নাক-চোখ ঢেকে রাখাকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশের মুসলিম নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি</h3

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here