বিএনপি জামাতের মাঝখানের হাইফেন আওয়ামী লীগেরই বসানো

0
326

ফরহাদ মজহার
সাধারনত যারা শাহবাগে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের অধিকাংশের মধ্যে কখনও স্পষ্ট এবং কখনও প্রচ্ছন্নভাবে কিছু অবসেশান বা ভূত কাজ করে। সেটা হোল ইসলাম বিদ্বেষ এবং ইসলাম ভীতি। এটা বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতি পক্ষপাতের কারন এবং একই সঙ্গে পক্ষপাত প্রদর্শনেরও একটা ধরণ। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ ভালো বিএনপি-জামাত খারাপ। এই আতংক ও ভীতির সঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ এবং উপমহাদেশে হিন্দুত্ববাদ ও ভারতীয় আগ্রাসনের সঙ্গে সম্বন্ধ তারা ধরতে পারে না কিম্বা সজ্ঞানে আড়াল করে। বুদ্ধিমানরা ইসলাম আতংক ও ইসলাম বিদ্বেষ সরাসরি ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশ না করে জামায়াতে ইসলামিকে সামনে নিয়ে আসে। যতো ঘৃণা জামাতের বিরুদ্ধে ঢা্লো! অনেক সময় সেটা সঙ্গত। কিন্তু এর প্রচ্ছন্ন কিন্তু প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে মূলত খোদ ইসলামকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।

এদের গালি দেবার নানান ধরণ আছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমাকে বিএনপি জামাত বলা। এইসবে আমি অভ্যস্ত এবং ধাতস্থ হয়ে গিয়েছি। ধরেন আপনি ইন্টেলিজেন্ট, আগামবেন ওয়াল্টার বেঞ্জামিন ফুকো পড়েন। এখন আপনি নিশ্চয়ই ফরহাদ মজহারকে অন্যদের মতো গালি দেবেন না। আপনার গালি জাস্টিফাই করার জন্য আপনি বিরাট বুদ্ধিবৃত্তিক জিজ্ঞাসা নিয়ে হাজির হবেন। কিন্তু সেটা আবার করবেন বাংলাদেশের চিন্তা ও রাজনৈতিক ইতিহাস এবং চলমান বাস্তবতার বিচার বাদ দিয়ে। এই রকম একটি মন্তব্য আমার একজন বন্ধুর সুবাদে আমার নজরে এসেছে। সেখানে প্রশ্ন করা হয়েছে ফরহাদ মজহার “কেনো বিএনপি-জামায়াতের সহিংস ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে বৈধতা দিলেন?” অর্থাৎ ‘আমি বিএনপি-জামায়াতের সহিংস ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে বৈধতা’ দিয়েছি। এটা যদিও ডাহা মিথ্যা ও প্রপাগান্ডা, কিন্তু এর বৈশিষ্ট্য বাস্তব রাজনীতির প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে মন্তব্যকারীর প্রশ্ন তোলার ধরনে।

আমাকে সলিমুল্লাহ খানের সঙ্গে তুলনা করবার জন্য বলা হয়েছে, সলিমুল্লাহ খান ‘বল প্রয়োগ করে ক্ষমতায় টেকার চেষ্টা করা আওয়ামী লীগকে ছাড় দেয়ার নীতি গ্রহণ’ করেছেন। আওয়ামী লিগকে শুধু ‘ছাড় দেওয়া”? এই ক্ষেত্রে দেখছি শাহবাগ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ কিম্বা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থার কোন আলোচনা বা তর্ক নাই। সলিমুল্লাহ খানের রাজনীতি কি স্রেফ ‘ছাড় দেওয়া’ নাকি ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও মিডিয়ার মুখপাত্র হওয়া? সেই গুরুতর আলোচনা অনুপস্থিত। অথচ ফরহাদ/সলিম বাইনারি হাজির করা হয়েছে সিরিয়াস পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা হিশাবে। এটা আসলে আওয়ামি লীগ/বিএনপি-জামাত মার্কা প্রাচীন বাইনারি। পাল্টা মন্তব্য আসলে নিষ্প্রয়োজন। তবে মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি কথা নোক্তা হিশাবে বলে রাখা দরকার বোধ করছি।

১. বাংলাদেশের বাস্তব রাজনৈতিক পরিবেশে আমাকে বিএনপি-জামাত ট্যাগ দেওয়া সেকুলার, বাঙালি জাতীয়তাবাদী এবং ইসলাম বিদ্বেষীদের চিরাচরিত অস্ত্র। যাকে নিন্দা করতে চাই তাকে ঘায়েল করবার জন্য ‘জামাতি’ বলা কিম্বা ‘বিএনপি-জামাত’ বলা। অথচ ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান থাকলেই বোঝা যায় বিএনপি আর জামাতের রাজনীতি এক নয়, উদ্ভবের ইতিহাস আলাদা। বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের ভূমিকাও ভিন্ন। মন্তব্যকারী ভুলে গিয়েছেন যে বিএনপির আমলে আমাকে জেল খাটতে হয়েছে।

বিএনপি জামাতের মাঝখানের হাইফেন মূলত আওয়ামী লীগেরই বসানো হাইফেন। বিএনপির সঙ্গে জামাত জুড়ে দেওয়া। এটা আওয়ামী প্রপাগান্ডার মুখ্য শ্লোগান। বিএনপিকে যুদ্ধাপরাধীদের দল প্রমাণ করার জন্যই এই হাইফেন ব্যবহার করা হয়। বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় এইসব স্রেফ বালখিল্যতা। এই ধরনের ট্যাগ প্রকারান্তরে আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থার পক্ষাবলম্বন ছাড়া আর কিছুই নয়। আগামবেন-বেঞ্জামিন আওড়ানোর আড়ালে ফ্যসিস্ট রাষ্ট্র ক্ষমতার পক্ষাবলম্বন বিরক্তিকর।

শিক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বাস্তবতা বাদ দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক জিজ্ঞাসা বিমূর্ত এবং অর্থহীন পণ্ডিতি তর্ক। নিজের রাজনীতি আড়াল করাও বটে। যারা আগাম্বেন-বেঞ্জামিনের সঙ্গে পরিচিত নন বা বলপ্রয়োগ, গাঠনিক ক্ষমতা, রাষ্ট্র ইত্যাদি তর্কের সঙ্গে অপরিচিত, তারা বুঝতে পারবেন না মন্তব্যকারী কার পক্ষালম্বনকে করছেন। আরাম!

২. আমোদ বোধ করেছি যে ফরহাদ মজহারের সমালোচনার সময় ফ্যাসিবাদ, ফ্যাসিস্ট ক্ষমতা, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র, একটি অক্ষরও উল্লেখ করা হোল না। যেন ফ্যাসিবাদ এবং ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থার উল্লেখ বা পর্যালোচনা ছাড়া ফরহাদ মজহারের বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করা যায়। এটা আওয়ামী রাজনীতির জের নাকি পদ্ধতিগত ভুল সেটা বিচার করার অবসর আমার নাই। ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে নানান প্রতিরোধ ও সংগ্রামের ধারার সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য, পার্থক্য বা সম্পর্ক না বুঝে সব বিরোধিতাই বিএনপি- জামাতেরই বিরোধিতা বলে সমীকরণ টানা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে ভয়ংকর বিপজ্জনক। সুবিধা হচ্ছে এতে ফরহাদ মজহারের ফ্যাসিস্ট ক্ষমতা ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিরোধী লড়াইকেও বিএনপি-জামাতি রাজনীতিকে ‘বৈধতা দেওয়া’ বলা যায়। চরম মিথ্যাচার ও বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা করবার সুযোগও তৈরি হয়।

বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট শক্তি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে কোন গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামের গায়ে ‘জামাতি’ বা ‘বিএনপি’ ট্যাগ মেরে দিয়ে সেই লড়াইকেই খামোশ করে দেওয়া, বাঙালী জাতীবাদী আবেগ দিয়ে নস্যাৎ করার চেষ্টা নতুন কিছু না। পরিণতি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা জারি রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী করা। যদি আমরা নিম্নশ্রেণীর ট্যাগমারুয়া হয়ে পড়ি এবং ফরহাদ মজহারকে জামাত-বিএনপি বানাই, তাতে কী লাভ হয় আমি বুঝতে পারি না। সম্ভাব্য ইতিবাচক তর্কবিতর্কের পথও এতে রুদ্ধ হয়ে পড়ে।

৩. দার্শনিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যালোচনায় আমার আগ্রহ প্রচুর, সেই ক্ষেত্রে আমি ছাত্র বনে যাই। কিন্তু বাস্তব রাজনীতি বর্জিত পণ্ডিতি তর্কে আমার বিশেষ উৎসাহ নাই। কোন সন্দেহ নাই সামগ্রিক ভাবে ইসলাম এবং সুনির্দিষ্ট ভাবে বৃহৎ বাংলায় ইসলাম সম্পর্কে আমার দার্শনিক ও রাজনৈতিক আগ্রহ বিপুল। ফ্যাসিস্ট বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের বিপরীতে বাঙালি হিন্দু, বাঙালি মুসলমান, ক্ষুদ্র জাতি সত্তাসহ বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে নতুন রাজনৈতিক পরিসর নির্মান করবার কথা আমি ভাবি, কাজ করি, যেখানে প্রত্যকেরই নাগরিক, প্রত্যকেরই মানবিক এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব। নিদেন পক্ষে এই অবস্থা অর্জন কিম্বা অর্জনের চেষ্টা বাংলাদেশে প্রধান গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের কাজ। সবাইকে অন্তর্ভূক্ত রেখে নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিশাবে আমাদের বিশ্বের দরবারে দাঁড়াতে চেষ্টা করা। বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে চিন্তার কাজ তাহলে সেই রাজনৈতিকতার সম্ভাব্য রূপ নিয়ে ভাবা।

৪. রোহিঙ্গা ইস্যু, ভারতের নাগরিক পঞ্জী এবং কাশ্মিরের ঘটনায় উপমহাদেশের পরিস্থিতি বাংলাদেশের জনগণের জন্য ভয়ংকর চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। আমার আশংকা বাংলাদেশের জনগণের জন্য বড় ধরনের বিপদ অত্যাসন্ন। খেয়াল করলাম সমালোচনার সময় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সজ্ঞানে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। আমলে নিলে আমাকে বোঝা সহজ হোত।

এড়িয়ে যাওয়া অবশ্য দারুন ইন্টারেস্টিং। বুদ্ধিবৃত্তিক এবং রাজনৈতিক উভয় দিক থেকে। ইন্টারেস্টিং কারন আওয়ামী লীগের দোষ আগাম্বেন-বেঞ্জামিন পড়া ভাষায় স্রেফ: ‘বল প্রয়োগ করে ক্ষমতায় টেকার চেষ্টা করা’। এটাই আওয়ামী লীগ!! বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং ফ্যাসিবাদের সম্বন্ধ নিয়ে কোন উক্তি নাই। উপমহাদেশের পরিসরে দিল্লীর হিন্দু জাতীয়তাবাদী বা হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থার সম্বন্ধ নিয়েও কোন আলোচনা নাই। এমনকি শাহবাগ নিয়েও না। দারুন!

৫. শাহবাগ শুধু জাতিবাদী ফ্যাসিস্ট উৎক্ষেপ মাত্র ছিল না, বাংলাদেশের ‘আভ্যন্তরীণ বিষয়’ হওয়া সত্ত্বেও শাহবাগকে সকল কূটনৈতিক নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে সমর্থন জানিয়েছিলেন সেই সময় ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশংকর মেনন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী সালমান খোরশেদ। এই সকল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা অনুল্লেখ রেখে আমার চিন্তা ও রাজনীতির সমালোচনা বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা। ভারতের হস্তক্ষেপ ও হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন রুখে দেবার জন্য আমরা হাতে গোনা দুই তিনজন লড়েছি। সন্দেহ নাই, আমি অবশ্যই শাপলা সমর্থন করেছি। কারন বিএনপি জামাতের চরম ব্যর্থ রাজনীতির কারণে হেফাজতের আন্দোলনই ছিল আমাদের কাছে ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দেবার একমাত্র পথ।

শাহবাগ টেকে নি। কিন্তু যারা সরল মনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শাহবাগে গিয়েছিলেন অচিরেই তাদেরও মোহভঙ হয়েছে। কট্টর হিন্দুত্ববাদী এজেন্ট না হলে এখন অন্যরাও নিজের ভূমিকা নিজেরাই পর্যালোচনা করতে সক্ষম হবেন।

৬.. আওয়ামী লীগের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী প্রীতি এবং বিএনপি জামাতের রাজনীতিকে ‘সহিংস ক্ষমতা দখলের রাজনীতি’ বলে আমাকে দাঁড় করানো হোল সলিমুল্লাহ খানের কাতারে। সলিমুল্লাহ খান ফ্যাসিস্ট মিডিয়া ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র শক্তি ও রাষ্ট্রের সহযোগী হতে পেরেছেন তার এতো জ্ঞান ও পাণ্ডিত্য সত্ত্বেও। শাহবাগে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিস্ট ধারার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এবং জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিস্টদের পক্ষেই ‘সর্বজন’ পত্রিকায় নানান বয়ান হাজির করেছিলেন।

আমি সলিমুল্লাহ খান নই। আমি তার মতো চিন্তা করি না। ফ্যাসিস্ট গণমাধ্যমগুলোর অধিকাংশকেই সন্ত্রাস ও সহিংসতার মুখপাত্র হিশাবে আমি বহু আগেই পরিত্যাগ করেছি। আহমদ ছফার গুণমুগ্ধ ভক্ত হিশাবে আমি আশা করেছিলাম শাহবাগ ও পরবর্তী সময়ে সলিমুল্লাহ খানও ইতিবাচক ভূমিকা নেবেন। কিন্তু নেন নি। তাতে আক্ষেপ করি, কিন্তু কিছুই করার নাই।

৭. কিন্তু দুই সম্পূর্ণ ভিন্নচিন্তা ও রাজনীতির মানুষকে এক কাতারে নামানোর কারন কি? প্রথম কারণ বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রশক্তি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা; দ্বিতীয়ত এই হিংস্র ফ্যাসিস্ট শক্তি ও ব্যবস্থা বিশ্লেষণে চরম বুদ্ধিবৃত্তিক অনীহা। ফলে গণমাধ্যমে এবং রাষ্ট্রিয় ভাবে সংগঠিত ফ্যসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট শক্তিকে প্রধান রাজনৈতিক সংকট হিশাবে চিহ্নিত না করে বিএনপি ও জামাতকে প্রধান দুষমণ হিশাবে চিহ্নিত করা হয়। এটাতো ক্ষমতাসীনদেরই পক্ষাবলম্বন।

ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতি পক্ষপাতের আরেকটি অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য আছে। সেটা হোল, বাংলাদেশে এবং উপমহাদেশে ইসলাম নির্মূলের সহিংস রাজনীতি আড়াল ও অস্বীকার করা। বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের হাতিয়ারও বটে। তাই ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র শক্তি ও ব্যবস্থার বিরোধিতা না করার অর্থ দিল্লীর আগ্রাসী নীতি ও হিন্দুত্ববাদ প্রতিরোধের কর্তব্য অস্বীকার করা। তখন হিন্দুত্ববাদ প্রতিরোধের চেয়েও বিএনপি-জামাতের রাজনীতি ঠেকানো ফ্যসিস্টদের প্রধান কর্তব্য হয়ে ওঠে। ফরহাদ মজহার ‘বিএনপি-জামায়াতের সহিংস ক্ষমতা দখলের রাজনীতিকে বৈধতা দিয়েছেন’– এই মন্তব্যের এটাই এই সময়ে প্রধান রাজনৈতিক মর্ম।

৮. বলাবাহুল্য দলকেন্দ্রিক আলোচনা আমাদের কোত্থাও নেবে না। বিএনপি জামাতের রাজনীতির সমালোচনা/পর্যালোচনা হতেই পারে। বরং আলোচনা দরকার ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করবার পথ ও পদ্ধতি কি হবে? বুদ্ধিবৃত্তিক দিকে থেকে আলোচনার বিষয় হচ্ছে ইসলাম এবং নানান ধারার জাতীয় চেতনার ইতিবাচিক ভূমিকা কি হতে পারে? সেখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনারও ভূমিকা থাকবে। কারন একাত্তর বাদ দিলে ‘বাংলাদেশ’ কথাটার কোন মানে দাঁড়ায় না।

৯. পাশাপাশি সকল প্রকার জাতিবাদী ও সাম্প্রদায়িক ধর্মীয় রাজনীতি্র বিরোধিতা করবার নীতি ও কৌশল নিয়েও ভাবতে হবে। বিশেষত যে সকল চিন্তার বীজ ও রাজনীতির মধ্যে ফ্যাসিস্ট প্রবণতা নিহিত আছে তাদের মোকাবিলার পথ কি হবে? সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি, বাংলাদেশের জনগণকে বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে ইসলাম জাতিবাদ বরদাশত করে না। তাই ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে জাতিবাদী ও সাম্প্রদায়িক ইসলামের রাজনীতি ও ঝাণ্ডা জনগণকে পরিহার করতে হবে। জনগণের ধর্মীয় আবেগ যেন জাতিবাদী ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে পর্যবসিত না হয় তার জন্য সবাইকে সতর্ক রাখা এবং নিজেদের সতর্ক রাখা দরকার।

স্রেফ কাণ্ডজ্ঞান থেকেই যে কেউই বুঝতে সক্ষম বাংলাদেশে এবং উপমহাদেশে মতাদর্শ হিশাবে ইসলামের ভূমিকা থাকবে। থাকবেই। সেই ভূমিকার রূপ কি হবে তা নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক পর্যালোচনাই এখনকার প্রধান দার্শনিক কাজ। বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে সঠিক পথ সম্ভবত ধর্মের পর্যালোচনা এবং ধর্মের অন্তর্নিহিত ভাব ও চিন্তার বিকাশের মধ্য দিয়ে জনগণের চিন্তাশক্তির ক্ষমতা এবং সচেতনতার বিকাশ ঘটানো। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সেই কাজ আমাদের হবে।

১০. এই সহিংস ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরোধিতাই এখনকার প্রধান রাজনৈতিক কর্তব্য। ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই গণশক্তির (Constituent power) পরিগঠন ঘটানো সম্ভব। গণশক্তিতে বলীয়ান জনগনের বিজয়ের মধ্য দিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায় বিচার কায়েমের জন্য বিজয়ী জনগণের আহ্বানে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন সভা (Constituent Assembly) ডাকা এবং খসড়া গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ইত্যাদি আলোচনার বিষয় হতে পারে। এই কথাগুলো আমি দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি।

উপমহাদেশে একদিকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ, আরেকদিকে ভারতের হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন এবং তৃতীয় ফ্রন্টে মায়ানমারের হিংস্র বৌদ্ধ জাতিবাদীদের হাত থেকে বাংলাদেশের জনগণকে বাঁচাতে হলে এই দেশের জনগণকে অবশ্যই নতুন করে রাষ্ট্র এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আর কোন বিকল্প নাই। এই পরিপ্রেক্ষিতেই ওয়াল্টার বেঞ্জামিন, জর্জিও আগাম্বেন, তালাল আসাদ প্রমুখের পঠন পাঠন কাজে লাগতে পারে। নইলে পণ্ডিতি তর্ক অর্থহীন। বাংলাদেশের এখনকার সুনির্দিষ্ট কর্তব্যের প্রশ্ন বাদ দিয়ে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও ফ্যাসিস্ট মিডিয়ার সক্রিয় সহযোগী হয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায় বিচার আওড়ানো তামাশা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।

আমার চিন্তা ও রাজনীতি একই কাতারের পণ্ডিতি-তামাশা না। স্রেফ লিগালিটি ও লেজিটিমিসির মামলাও নয়। সেইসব নিয়েও অন্যত্র আলোচনা হবে। ফেসবুক থেকে

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সপ্তমবারের মতো পেছাল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চার্জ শুনানি


নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ফের পিছিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা সম্ভব না হওয়ায় আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের দুই নম্বর ভবনে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালত এ দিন ঠিক করেন।

এদিন মামলাটির অভিযোগ শুনানির জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে হাজির করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ।

এদিন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে ২৩ সেপ্টেম্বর নতুন দিন রাখেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া জানান, এ নিয়ে সপ্তমবারের মতো শুনানি পেছানো হলো।

নাইকো দুর্নীতি মামলার অন্য আসামিরা হলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন।

এ মামলায় তিন আসামি পলাতক। তারা হলেন— সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

নাইকো দুর্নীতি মামলাসূত্রে জানা যায়, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

মামলা করার পরের বছর ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যথাক্রমে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়। বর্তমানে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ভারত বাংলাদেশের অর্ধেক নিতে চায়, সরকার টু শব্দটিও করছে না: জাফরুল্লাহ


গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের চারদিকে অশুভ শক্তির তৎপরতা শুরু হয়েছে। ভারত বাংলাদেশকে ভাগ করে অর্ধেক অংশ নিয়ে নিতে চায়। অথচ সরকার টু শব্দটি করছে না।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মরহুম কাজী জাফর আহমদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভারত কোনো সময়ই বাংলাদেশে শান্তি শৃংখলা বজায় থাকুক সেটা চায় না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব সময়ই নতজানু নীতি গ্রহণ করছে। বাংলাদেশের সামনে সময় এসেছে ভারতে মুখোশ উন্মোচন করার। তিনি বলেন, আমরা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী মৃত্যুবার্ষিকী ঘটা পালন করছি কিন্তু তিনি যে নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন আওয়ামী লীগ এখন তার ধারে কাছেও নেই।

জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামান হায়দারের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম রব, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা’র মহাসচিব লুৎফর রহমান, জাতীয় পার্টির মহাসচিব জাফরুল্লাহ খান চৌধুরী (লাহুরী), কাজী জাফরের মেয়ে কাজী জয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি সেলিম মাষ্টার, নওয়াব আলী আব্বাস খান, এডভোকেট শফিউদ্দিন ভূইয়া, এডভোকেট মুজিবুর রহমান, রুহুল আমীন, এ এস এম শামীম, ডা. এম এ মামুন ভুইয়া, মহসীন সরকার প্রমুখ।

উৎসঃ শীর্ষনিউজ

আরও পড়ুনঃ ভূস্বর্গ খ্যাত সেই কাশ্মীরেও আছে একটি বাংলাদেশ!


ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মীর। সেই কাশ্মীরে আছে ‘বাংলাদেশ’ নামে একটি গ্রাম। শুনে অবাক হলেও এটি সত্য। গ্রামটির চারদিকে পানি। পেছনে সুউচ্চ পর্বত মিলিয়ে অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

জানা যায়, বিখ্যাত উলার হ্রদের তীরে গ্রামটি অবস্থিত। কাশ্মীরের বান্ডিপুরা জেলার আলুসা তহশিলে এ গ্রামের নাম বাংলাদেশ। বান্ডিপুরা-সোপুরের মাঝ দিয়ে মাটির রাস্তা ধরে ৫ কিলোমিটার হাঁটলেই পাওয়া যায় গ্রামটি।

সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালে জুরিমন নামে একটি গ্রামের ৫-৬টি ঘরে আগুন লাগে। গৃহহীন হয়ে পড়ে নিরীহ সাধারণ মানুষ। তখন পুড়ে যাওয়া জায়গা থেকে কিছুটা দূরে পার্শ্ববর্তী ফাঁকা জায়গায় সবাই মিলে ঘর তোলেন। সে বছর নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

একই সময় গৃহহীন মানুষগুলো দুঃসময় মোকাবেলা করতে শুরু করে। তাই তারা তাদের নতুন গ্রামের নাম রাখে ‘বাংলাদেশ’। ২০১০ সালে বান্ডিপুরার ডিসি অফিস ‘বাংলাদেশ’ নামক গ্রামটিকে আলাদা গ্রামের মর্যাদা দেয়। ৫-৬টি ঘর দিয়ে শুরু হওয়া গ্রামে এখন পঞ্চাশেরও বেশি ঘর রয়েছে।

উৎসঃ বিডি২৪ রিপোর্ট

আরও পড়ুনঃ রুমিনের সমালোচনার আগে একশবার ভোট চোরদের সমালোচনা করুন: আসিফ নজরুল


গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্লট চেয়ে আবেদন করে সমালোচিত হওয়া জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ইসলাম। বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিনের সমালোচকদের উদ্দেশে এই শিক্ষাবিদ বলেছেন, তার (রুমিনের) সমালোচনা করার আগে ভোট চোরদের সমালোচনা করেন।

ব্যারিস্টার রুমিনের প্লটের আবেদনে সংবাদ নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় তখন নিজের ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেন আসিফ নজরুল।

সোমবার আসিফ নজরুলের ফেসবুক পেইজে দেয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো-

‘রুমিন দশকাঠা জমি চেয়ে কাজটা ভালো করেননি। তবে তার সমালোচনা করার আগে অন্তত একশত বার ভোট চোর, ব্যাংক চোর, প্রকল্প চোর, শেয়ার চোর আর ঘুষখোরদের নাম ধরে ধরে সমালোচনা করতে হবে আপনাকে।

পারবেন? না পারলে রুমিনের সমালোচনা করার কোনো অধিকার আপনার নেই। কারণ রুমিন তাদের তুলনায় কোন অপরাধই করেননি। তিনি শুধু ভুল করেছেন, নৈতিকতার দিক দিয়ে অশুদ্ধ কাজ করেছেন।

রুমিনকে সমালোচনা করার অধিকার আছে কেবল দুধরনের মানুষের। ১. যারা নিশঙ্ক চিত্তে সবার সব ধরনের অপকর্মের সমালোচনা করেন, ২. বিএনপির সেসব ত্যাগী কর্মী যারা বিশ্বাস করেছিলেন যে, রুমিন সংসদে গেছেন শুধুমাত্র সরকারের অপকর্ম তুলে ধরতে আর খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি তুলতে।

আর রুমিন, আপনি আপনার ভুল স্বীকার করে নিন। আপনি সাধারণ নাগরিক বা আইনজীবী হিসেবে জমির জন্য আবেদন করলে দোষ ছিল না। আপনাদেরই ভাষায় অবৈধ সংসদের এমপি হিসেবে আপনি এ আবেদন করতে পারেন না।’

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকারের নতজানু ভূমিকা বেদনাদায়ক : আল্লামা কাসেমী


সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, সরকার সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, এমনটা আমরা দেখছি না। বিএসএফ’র সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধে রাষ্ট্রের এমন নতজানু ভূমিকা গভীর বেদনাদায়ক ও লজ্জার।

সোমবার (২৬ আগস্ট) এক বিবৃতিতে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী এ সব কথা বলেন।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, গত ১১ জুলাই সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া তথ্য মতে আওয়ামী লীগ শাসনামলে গত ১০ বছরে বিএসএফ সীমান্তে ২৯৪ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে সুসম্পর্ক থাকাটাই আমাদের কাম্য।

তিনি বলেন, আমরা চাই সীমান্তে বাংলাদেশের স্বার্থ ও নাগরিকদের জানমালের হেফাজতে বর্ডার গার্ডের জাওয়ানরা বীরের মতো ভূমিকা রাখুক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সীমান্তে যে কোনো আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

জমিয়ত মহাসচিব আরও বলেন, বিশ্বের কোথাও এমনটা আমরা দেখি না যে, কেবল অবৈধ সীমান্ত পারাপার বা চোরাচালানের জন্য নিরীহ মানুষ হত্যার মতো নিষ্ঠুরতা ঘটে। ভারত-চীন বা ভারত-পাকিস্তান বর্ডারেও সীমান্তে এমন হত্যাকাণ্ডের খবর দেখা যায় না। বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীরা যে হারে পাখী শিকারের মতো নির্বিঘ্নে বাংলাদেশিদের হত্যা করে চলেছে, বিশ্বে এমন ঘটনা নজিরবিহীন।

উৎসঃ শীর্ষনিউজ

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা!


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের দাবি-আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে বর্তমান সরকার খুব মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। বিশ্বব্যাপী এখন বাংলাদেশের সুনাম বাতাসের সঙ্গে বয়ে বেড়াচ্ছে। বাংলাদেশ এখন এমনই শক্তিশালী দেশ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের লোকজন এখন আর খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের সঙ্গে তো বাংলাদেশের সম্পর্ক অতি উচ্চমাত্রায় পৌঁছেছে। কিন্তু, বাস্তবতা কি তা বলে?

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চীন-ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকারের একতরফা সম্পর্ক চলছে। একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের সম্পর্ক হয় আদান-প্রদানের মাধ্যমে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। একজনের বিপদের সময় অন্যজন এগিয়ে আসবে। সহযোগিতা করবে। কিন্তু, শেখ হাসিনা এখন পর্যন্ত চীন-ভারতকে শুধু দিয়েই যাচ্ছেন। দুইটি দেশের জন্য শেখ হাসিনা সব কিছু উজার করে দিচ্ছেন। বিনিময়ে তিনি দেশ দুইটি থেকে বাস্তব সম্মত কোনো সহযোগিতা পাননি। যার বাস্তব প্রমাণ রোহিঙ্গা ইস্যু। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, উচ্চমাত্রার বিদেশি বন্ধুরা শেখ হাসিনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হলো মিয়ানমার থেকে ১০ লাখ রোহিঙ্গা। মানবিক কারণে তখন তাদেরকে আশ্রয় দেয়া হয়েছিল। এখন এসব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশে ফেরত নেয়া বা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে কোনো সহযোগিতাই করছে না। রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত নিতে মিয়ানমারের ওপর তারা কার্যকর কোনো চাপ দিচ্ছে না। এমনকি শেখ হাসিনার উচ্চমাত্রার দুই বন্ধু চীন-ভারতও এনিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে। শুধু নিরব ভূমিকা বললে ভুল হবে, দেশ দুইটি সরাসরি মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে।

কিন্তু শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতারা প্রতিনিয়ত বলে বেড়াচ্ছেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সরকার এক করতে সক্ষম হয়েছে। শেখ হাসিনার দাবি, দুনিয়ার সব মানুষ নাকি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।

দেখা গেছে, গত নভেম্বরে প্রথম দফায় কয়েকশ রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। রোহিঙ্গরা তাদের নাগরিকত্ব চাচ্ছেন। কিন্তু মিয়ানমার সরকার সেটা দিতে রাজি নয়। যার কারণে রোহিঙ্গারা আর নিজ দেশে যায়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এনিয়ে আর কিছু বলেনি।

এরপর গত ২২ আগস্ট আড়াই হাজার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তারিখ ছিল। বাংলাদেশ মিয়ানমারের হাতে তাদের তালিকাও দিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের এক দফা দাবিও মানেনি। যার কারণে এবারও কোনো রোহিঙ্গা ফিরে যেতে রাজি হয়নি।

জানা গেছে, চীন-ভারতের পরামর্শেই মিয়ানমার রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত নিচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের রেখে আসা রাখাইনে দেশ দুইটিকে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার সুযোগ করে দেবে মিয়ানমার সরকার।

আর গত ২২ আগস্ট মিয়ানমারের নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারের সেনা প্রদানের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, রোহঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিয়ানমারের ওপর চাপ দিলে চীন তা সহ্য করবে না।

তাই কুটনিতিক মহল বলছেন, ভারত এবং চীনকে বাংলাদেশ বন্ধু হিসেবেই বিবেচনা করে। কিন্তু সে বন্ধুত্বের মধ্যে অনেক শর্ত বিরাজমান। রোহিঙ্গা ইস্যুতে এ দুটি দেশকে বাংলাদেশের পক্ষে আনা কূটনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও সরকার মনে করে ভারত ও চীন এ সংকট সমাধানের জন্য কাজ করছে তাহলে সেটা ভুল। আসলে ভারত ও চীন শেখ হাসিনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে চলে গেলেন মা, ফেরেনি আমান আযমী!


যেখানে অজ্ঞাত লাশের কথা শুনতেন সেখানেই ছুটে যেতেন মা আফিফা আযম সাথে তার পরিবারের সদস্যরা। তবুও খোঁজ মেলেনি সন্তানের। ছেলের প্রতীক্ষায় থাকতে থাকতে নিজেও চলে গেলেন পরপারে। পরিবারের সদস্যরা এখনও গুমরে কাঁদে। বলছিলাম গুম হয়ে যাওয়া অধ্যাপক গোলাম আযমের পুত্র আব্দুল্লাহিল আমান আযমীর পরিবারের কথা।

২০১৬ সালের ২২ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে বিগ্রেডিয়ার আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে বাড়ি থেকে ফিল্মি স্টাইলে উঠিয়ে নিয়ে যায় সাদা পোষাকের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর আর কোন খবর নেই। এ নিয়ে কারো তেমন কোনো মাথাব্যাথাও দেখা যায়নি। তৎকালীন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় হলেও বাংলাদেশের গণমাধ্যম ছিল একেবারেই নীরব। বরং সত্যকে আড়াল করে অনেক বিভ্রান্তিকর সংবাদ তখন প্রচার হয়েছে।

তিন বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলো আমান আযমী ফিরে আসেননি। পরিবার তাকিয়ে রয়েছে প্রয়াত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র হুম্মামের মতোই একদিন ফিরবেন সেই আশায়। বার বার প্রশাসন, রাষ্ট্রের কাছে স্বজনরা দৌঁড়ঝাপ করেও কোন লাভ হয়নি।

তিন বছর পরে বড়ভাই সালমান আযমী আকুল হয়ে লিখেছেন, তিনটি বছর পেরিয়ে গেল আমার ভাইটিকে ওরা গুম করেছে। আমার মা অপেক্ষা করতে করতে চলেই গেলেন। আর আমরা এই আশায় বসে আছি যে আল্লাহ্ আমাদের ভাইটিকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেবার ব্যবস্থা করবেন। ছোট ভাইয়া, আপনি যেখানেই থাকুন, আল্লাহ আপনাকে হেফাজতে রাখুন।

শুধু আমান আযমী নয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গত দশ বছরে যে গুমের এই বিভীষিকা বাংলাদেশ পাড়ি দিয়েছে তা আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগকে হার মানিয়েছে। গত দশ বছরে ৫২৪ জন মানুষেরও বেশী বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গিয়েছে। এদের বেশিরভাগেরই কোন হদিস মেলেনি। আদৌ তারা ফিরবেন কি না জানেনা পরিবার।

পুলিশ সদরদপ্তরের রিপোর্ট অনুসারে আওয়ামী সরকারের দশবছরে (২০০৯-২০১৮) অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৭৪৫২টি। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ৮০০ জন, ২০১০ সালে ৮৮১ জন। ২০১১, ২০১২ এবং ২০১৩ সালে ৮৭০ জন করে অপহৃত হয়েছে। ২০১৪ সালে ৯২২ জন, ২০১৫ সালে ৮০৬ জন, ২০১৬ সালে ৬৩৯ জন, ২০১৭ সালে ৫০৯ জন, ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৮৫ জন অপহরণের শিকার হয়েছে।

একই সময়ে জামায়াতের সাবেক নেতা মীর কাসেম আলীর ছোট ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকেও গুম করা হয়। রাতের আঁধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তাকেও তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গুম করা হয় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে। আজ পর্যন্ত তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। একই বছরে ৪ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে বাস থেকে নামিয়ে গুম করে র‍্যাব। দুই ছাত্র ওয়ালীউল্লাহ ও মুকাদ্দাসের আজ পর্যন্ত কোন খোঁজ মেলেনি। চৌধুরী আলমের পরিবার জানেনা কোথায় আছে তাদের পরিবারের বটবৃক্ষ। বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ কিংবা নিরীহ সুখরঞ্জন বালির পরিবার জানেনা কবে দেশে ফিরতে পারবে তাদের অভিভাবক।

এভাবে বলতে থাকলে ঘটনার পরিক্রমা শেষ হবার নয়। গত জুন মাসের ২৯ তারিখে চলে গেলেন ব্রিগেডিয়ার (অব.) আমান আযমীর মা আফিফা আযম। জীবনের শেষ সময়েও ছোট ছেলের মুখে হাত বুলানোর জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। এভাবে সন্তান, স্বামী, বাবাদের জন্য অপেক্ষা করতে করতে কেটে যাচ্ছে হাজারও মায়ের দিন। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সে পরিস্থিতির বাস্তব কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া এই মানুষগুলো আদৌ কোনোদিন ফিরবে কিনা কেউ আজও পর্যন্ত বলতে পারছেনা। এক সীমাহীন অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে নিকষ অন্ধকারের দিকে যেন এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, যেখানে আজ বিরোধী মতের মানুষগুলোকে পিপড়ার চেয়ে নগন্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: শুধু সুন্দরবন নয়, প্রতি বছর দেশের ৫০০০ কোটি টাকা ক্ষতি!


বিশেষজ্ঞ মতামত ও সকল জনমতকে উপেক্ষা করেই ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবনের অতি নিকটবর্তী রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে সরকার। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন মারত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন হবে। শুধু সুন্দরবনই ধ্বংস হবে না, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে ওই এলাকার কৃষি জমির ওপরও এটার মারাত্ম প্রভাব পড়বে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকার ১৮৩০একর ধানী জমি অধিগ্রহণ করেছে। এর ফলে ৮ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হয়ে যাবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মসংস্থান হতে পারে সর্বোচ্চ ৬০০ জনের। ফলে উদ্বাস্তু এবং কর্মহীন হয়ে যাবে প্রায় ৭৫০০ পরিবার। শুধু তাই নয়, এর ফলে প্রতি বছর হারাতে হবে কয়েক কোটি টাকার কৃষিজ উৎপাদন। এইতো গেল কৃষকের দুর্ভোগের কথা। এবার দেখুন পরিবেশের কি ক্ষতি হবে?

কয়লাভিত্তিক যেকোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে অন্য যে কোনো প্রকল্পের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। বিশেষত ভষ্মিভূত কয়লার ছাই এবং উৎপন্ন গ্যাসের ফলে বায়ু ও পানি দূষণের যুগপৎ প্রভাবের কারণে এই ক্ষতি হয়। এ ধরনের প্রকল্প এলাকার আশেপাশের অঞ্চলে এসিড বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে যা বৃক্ষ এবং বনাঞ্চলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে ভয়ানক মাত্রায়। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায় যে, ২০১০ সালে দেশটির মোট কার্বন ডাই অক্সাইডের ৮১ ভাগ উদগীরণ করেছে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলো, যা থেকে মোট শক্তির মাত্র ৪১ ভাগ পাওয়া গেছে। এই সকল বিবেচনায় পৃথিবী ব্যাপি সকল দেশেই কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

সাম্প্রতিককালে এই ধরনের প্রকল্প এড়িয়ে চলার চেষ্টাটাই বেশি চোখে পড়ে। এ ধরনের কয়লাভিত্তিক প্রকল্প প্রতি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রায় ২.২ বিলিয়ন গ্যালন পানির প্রয়োজন হয়। রামপালের প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা নিঃসন্দেহে মেটানো হবে পশুর নদী থেকে। পশুর নদীর পানি নোনা ও মিঠা জলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের প্রয়োজন মেটাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই নদীটির সাথে ওই গোটা অঞ্চলের সামগ্রিক জীববৈচিত্রের সংযোগ রয়েছে। এটি ওই অঞ্চলের জনবসতির ক্ষেত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী। কিন্তু এই প্রকল্প তৈরি করতে গিয়ে সেই নদীর অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে ফেলা হচ্ছে।

সবমিলিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে সুন্দরবন ও রামপাল এলাকায় এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। এছাড়া এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলে যে লাভের কথা প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং লাভ হলে সেটা যাবে ভারতের পকেটে। আর লস হলে পুরো দায় নিতে বাংলাদেশকে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র মোটেও কোনো ভূমিকা রাখবে না। বরং ভারতের স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে গিয়ে এক সময় রাষ্ট্রের রাজস্ব খাত থেকে টাকা দিয়ে এর ভর্তুকি মিটাতে হবে।

রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে দুই দেশের সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি নামে একটি কোম্পানিও গঠন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অর্থায়ন করবে ১৫% পি ডি বি, ১৫% ভারতীয় পক্ষ আর ৭০% ঋণ নেয়া হবে। যে নীট লাভ হবে সেটা ভাগ করা হবে ৫০% হারে। আর প্রকল্পে যদি লস হয় তাহলে এর পুরো দায় নিতে বাংলাদেশকে। ভারতের শুধু লাভের অংশ নেবে, কোনো লস তারা নেবে না।

উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে পি ডি বি। বিদ্যুতের দাম নির্ধারিত হবে একটা ফর্মুলা অনুসারে। কী সে ফর্মুলা? যদি কয়লার দাম প্রতি টন ১০৫ ডলার হয় তবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ এর দাম হবে ৫ টাকা ৯০ পয়সা এবং প্রতি টন ১৪৫ ডলার হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৮ টাকা ৮৫ পয়সা। অথচ দেশীয় ওরিয়ন গ্রুপের সাথে মাওয়া, খুলনার লবন চড়া এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে যে তিনটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের যে চুক্তি হয়েছে পি ডি বির সাথে সেখানে সরকার মাওয়া থেকে ৪ টাকায় প্রতি ইউনিট এবং আনোয়ারা ও লবন চড়া থেকে ৩টাকা ৮০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে।

কিন্তু, সরকার ১৪৫ ডলার করে রামপালের জন্য কয়লা আমদানির প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এরফলে ৮ টাকা ৮৫ পয়সা দিয়ে পি ডি বি এখান থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে।

আরও মজার বিষয় হলো-১৪৫ ডলার করে যে কয়লা কিনা হবে সেটাও আনবে ভারত থেকে। বিশ্ববাজারে যে কয়লার দাম কোয়ালিটি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০- ৮০ ডলারের কাছাকাছি। আর ৭০% বিদেশী ব্যাংক থেকে যে ঋণ আনা হবে, ওই ঋনের সমস্ত সুদ বহন করবে বাংলাদেশ। এছাড়া ঋণের টাকাও নাকি নেয়া হবে তাদের কাছ থেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যদি ২০ ঘণ্টা করে ৩০ বছর চালু থাকে এবং ইউনিট প্রতি ৪.৮৫ টাকা আর্থিক ক্ষতি ধরা হয় কেবল তাহলেই অঙ্কটা দাঁড়াবে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা! এ হিসাবে প্রতি বছল বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

দেশের স্বার্থে নয়, শুধু ভারতকে খুশি করতেই শেখ হাসিনা দেশের এমন সর্বনাশী পরিকল্পনা করছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ যারা হিন্দুদের শত্রু তারা বাংলাদেশ ও জাতির শত্রুঃ ওবায়দুল কাদের


দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের শত্রুরা জাতিরও শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের শত্রু যারা তারা বাংলাদেশেরও শত্রু। তারাই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানী পলাশীর মোড়ে র‌্যালি মিছিল উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিষবৃক্ষকে উৎটনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের আহ্বান জানান সেতুমন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার মাইনরিটি বান্ধব সরকার। এ সরকার যতদিন আছে আপনাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। অন্যান্য ধর্মীয় আচার ও উৎবগুলোও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এইদিক দিয়ে আপনারা নিরাপদ।

সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যত দিন পর্যন্ত বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভায়ের কোনো কারণ নেই।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সর্বকালের সেরা সময় পার করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় উন্নিত। আমাদের প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের কোনো টানাপোড়েন নেই।

এ সময় আগামী অক্টোবরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করবেন বলেন জানান তিনি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যাব। এ সফরের পর আমাদের কনস্ট্রাকটিভ পার্টনারশিপ আরও নতুন উচ্চতায় উন্নতি হবে এবং আমাদের দেশের বিরাজমান অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাব।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ গরিবের চামড়ায়ও কামড় দিলেন সেই দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান!


কুরবানির পশুর চামড়ার ব্যাপক দরপতন নিয়ে সারাদেশে এখনো তোলপাড় চলছে। মুসলমানরা তাদের কুরবানির পশুর চামড়া গরিব, মিসকিন ও এতিমদের মধ্যে বিতরণ করে দিয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এটা আল্লাহ ও তার নবীর নির্দেশ। প্রতিবছর কুরবানির পশুর চামড়ার টাকা গরিব, মিসকিন ও এতিমদের আয়ের একটি উৎস। আর দেশের হাজার হাজার এতিমখানার আয়ের প্রধান উৎস হলো কুরবানির পশুর এই চামড়ার টাকা।

এ বছর চামড়ার সঠিক দাম না পাওয়ায় দেশের বহু মাদরাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চামড়া নিয়ে এবার যা হয়েছে তা নজিরবিহীন। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এবার শুধু কম দামই নয়, অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে গর্ত করে মাটির নিচে চামড়া চাপা দিয়েছে। কেউ কেউ চামড়া কিনে বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে তোলপাড়। গণমাধ্যমগুলোতেও চামড়া পানিতে ফেলে দেয়ার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

চামড়ার এই তুঘলকি কাণ্ড নিয়ে সবাই বলছে এর পেছনে একটি সিন্ডিকেট জড়িত। কিন্তু এই সিন্ডিকেটে কারা জড়িত? গরিবের চামড়ায় কারা কামড় দিয়েছে? এ প্রশ্নের জবাব আসছে না। আর বিএনপি বলছে আওয়ামী লীগের এক বড় নেতা এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্ত, কে এই ব্যক্তি তার নাম বলেনি বিএনপি।

তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে গরিবের চামড়ার পেছনে সেই সেন্ডিকেটের পরিচয়। অনুসন্ধান বলছে, এই সেন্ডিকেটের মুল হোতা শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান। যিনি এর আগে দেশের শেয়ারবাজারসহ আরও বিভিন্ন খাতে কালো থাবা দিয়েছেন। যার কালো থাবায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে শেয়ারবাজারের হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর স্বপ্ন। সহায় সম্বল সব হারিয়ে যারা এখন পথে পথে ঘুরছেন। সেই দরবেশই আবারও উঠেপড়ে লেগেছে দেশের গরিব, মিসকিন ও এতিমদের চামড়া ছিনতাইয়ের কাজে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন একাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ট্যানারী ব্যবসায়ী বলেছেন, দরবেশই হলেন নাটেরগুরু। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর শক্তিশালী উপদেষ্টা হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্টরা মুখে তার নাম উচ্চারণ করতে পারছেন না। এদিকে গরমের কারণে ১০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে সালমান এফ রহমানের এমন মন্তব্যে হাস্যকর বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here