কর্মক্ষেত্রে মুসলিম নারীর প্রতি বৈষম্যের ঘটনায় সুইডিশ আদালতের যুগান্তকারী রায়

0
233

স্টকহোম: সুইডেনের মুসলিম নাগরিক ২৪ বছর বয়সী ফারাহ আলহাজিহ একজন অনুবাদকের চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাকে চাকিরিটি দেয়া হয় নি কারণ তিনি তারা ধর্মীয় কারণে ভাইবা বোর্ডের পুরুষ সদস্যের সাথে হাত মেলাতে রাজি হননি।

তিনি সেসময় তার হাত তার বুকের কাছে ধরে রাখেন।

এদিকে সুইডিশ শ্রম আদালত চাকরিদাতা কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ফারাহ আলহাজিহর প্রতি বৈষম্য করার কারণে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ৪০,০০০ হাজার সুইডিশ ক্রোনা জরিমানার দণ্ড প্রদান করে।

কিছু মুসলিম তার পরিবারে সদস্যদের ছাড়া ভিন্ন লিঙ্গের কারো সাথে হাত মেলানো বা শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়া থেকে বিরত থাকেন।

বিচারক কিসের উপর ভিত্তি করে রায় দিয়েছেন?
ফারাহ আলহাজিহর শহর আপসালার অনুবাদক কোম্পানিটি আদালতে যুক্তি দিয়েছে যে, তাদের কর্মচারীদেরকে অবশ্যই নারী ও পুরুষদের সমান চোখে দেখতে হয় এবং শুধুমাত্র ভিন্ন লিঙ্গের কারণে হাত মেলানো থেকে বিরত হওয়াকে তারা অনুমতি দেন না।

কিন্তু ফারাহ বলেন, তিনি নারী বা পুরুষ যে কাউকে সম্মান দেখানোর জন্য তার হাত তার নিজের বুকের উপর জড়ো করে রাখেন।

সুইডেনের শ্রম আদালত কোম্পানিটির লিঙ্গ সমতাকে ন্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, কিন্তু একে শুধুমাত্র হাত মেলানোর সাথে এক করার মত যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি।

আদালত বলেন, ধর্মীয় কারণে ফারাহ তার হাত মেলানো থেকে বিরত থাকতে পারেন এবং তা ‘European Convention on Human Rights’ অনুযায়ী স্বীকৃত, একই সাথে কোম্পানিটির সুনির্দিষ্ট আচার আচরণ মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক।

তথাপি আদালতের বিচারকদের মধ্যে এ বিষয়ে দ্বিমত দেখা দেয়। তাদের মধ্যে তিনজন ফারাহ আলহাজিহর দাবীর প্রতি সমর্থন দেন এবং দুজন বিচারক তার বিপক্ষে মত দেন।

ফারাহ আলহাজিহ কি বলেছেন?
রায় প্রকাশের পরে ফারাহা আলহাজিহ বিবিসিকে বলেন, যখন আপনি বিশ্বাস করবেন যে, আপনি সঠিক এবং যদি আপনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হন তার পরেও তখন আপনি ‘কখনো হাল ছেড়ে দিবেন না।’

তিনি বলেন ‘আমি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করি, যা সুইডেনে খুব কমই দেখা যায়। আর আমি যতক্ষণ না অবধি কাউকে আঘাত করছি ততক্ষণ আমাকে আমার ধর্ম পালন করতে দেয়া উচিত।’

প্রসঙ্গত, ফারাহ আলহাজিহ তার বিরুদ্ধে অনুবাদ কোম্পানির বৈষম্য সম্পর্কে সুইডেনের ন্যায়পালের দপ্তরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আর তার অভিযোগ পেয়ে ন্যায়পাল মন্তব্য করে বলেন যে, এ বিষয়টি একটি ‘জটিল ইস্যু’ এবং এতটাই গুরুত্ব পূর্ণ যে, যার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আদালতে যাওয়া প্রয়োজন।

উৎসঃ ‌বিবিসি।

আরও পড়ুনঃ ইসলামবিরোধী বই লিখতে গিয়ে মুসলিম হলেন ডাচ এমপি


একসময়ে ইসলাম ধর্মের প্রবল বিরোধিতা করতেন এক ডাচ এমপি। সুযোগ পেলেই কঠোর সমালোচনা করতেন ইসলামের। লিখতে যান ইসলামবিরোধী এক বইও। অবশেষে বই লিখতে গিয়ে সেই ব্যক্তি গ্রহণ করলেন ইসলাম।এমন ঘটনা ঘটেছে নেদারল্যান্ডে।

ইসলাম গ্রহণকারী ওই ব্যক্তির নাম জোরাম ভ্যান ক্লাভিরিন (৩৯)। জোরাম ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পার্লামেন্ট ফর দ্য ফ্রিডম পার্টির (পিভিভি) সদস্য ছিলেন। কিন্তু ২০১৪ সালে তিনি সে দল ছেড়ে দেন।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসলামবিরোধী একটি বই লিখতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন জোরাম। সোমবার এ তথ্য জানানো হয়।

ডাচ রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোরাম বলেছেন, ইসলাম সম্পর্কে বই লেখার সময় আমি অনেক বিষয়বস্তু অতিক্রম করে আসি, অনেক বিষয় জানতে পারি। যা আমার ইসলাম সম্পর্কে ধারণা বদলে দেয়।

ইসলামবিরোধী বই লিখতে গিয়ে মুসলিম হলেন ডাচ এমপি

২০১৪ সালে পিভিভি দল ছেড়ে দেওয়ার পর জোরাম নিজে একটি দল গড়েন। ২০১৭ সালে নেদারল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। কিন্তু তাতে জয়লাভ করতে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেন। পিভিভি দল করার সময় ইসলামের কঠোর সমালোচক ছিলেন জোরাম।

সংবাদ মাধ্যম এনআরসি এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, জোরাম ওইসময় ইসলাম ধর্মকে ‘মিথ্যা’ এবং কোরআন শরিফ’কে ‘বিষ’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

তবে এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জোরাম। তিনি বলেন পিভিভি দল করার কারণে এসব বলতে হয়েছে যা ওই দলের পলিসি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরো পড়ুন: ‘নীচু জাতের’ ছেলের সঙ্গে প্রেম করায় মেয়েকে হত্যা করল বাবা

জোরামের আগেও পিভিভি দল ছেড়ে আরেকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

উৎসঃ ‌ইত্তেফাক

আরও পড়ুনঃ যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইসরাইল রাষ্ট্রটিকে শাস্তির আওতায় আনা: কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমার


ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমার চলতি মাসে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইরানের মত করে ইসরাইল রাষ্ট্রটিকেও শাস্তির আওতায় আনা। তিনি আরো বলেন, ইসরাইলকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় দেওয়াতে তার ‘ব্যাপক হাসির উদ্রেক করে।’

ইলহান ওমার সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণ করা ইথিওপিয়া থেকে আসা একজন অভিবাসী যিনি ডেমোক্রেট পার্টির হয়ে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে রাশিদা তালিব নামের অপর মুসলিম নারীর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম কংগ্রেসওম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ইসরাইলকে বয়কট করা এবং দেশটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে মত দিয়ে থাকেন।

ইলহান ওমার ইতোমধ্যেই ইসরাইলের সমালোচক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন এবং তার সাম্প্রতিক চমক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাকে শক্তিশালী powerful House Foreign Affairs Committee তে নিযুক্ত করেছেন যেটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং পররাষ্ট্র সহায়তা নিয়ে কাজ করে।

ইয়াহু নিউজের জাইনাব সালবি নামের এক সাংবাদিককে ‘Through Her Eyes’ নামে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ইসরাইল সম্পর্কে ওমারের মতামত জানতে চাওয়া হয়। জাইনাব সালবি ওমারকে উদ্দেশ্য করে বলেন,

‘আমি ইসরাইল সম্পর্কে কথা বলতে চাই কারণ এটি এখন তর্কের বিষয়। আপনার মতে যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একটি দীর্ঘ মেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে?’

উত্তরে ওমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ভাবেই ইসরাইল রাষ্ট্রের পক্ষ নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন- ‘দুটো দেশকেই সমান ভাবে দেখার উদ্যোগ হিসেবে আমরা এমন পদক্ষেপ নিয়েছি যাতে করে একটি দেশকে অন্য আরেকটির উপর বড় করে দেখানো হয়। আর একে আমরা আলোচনা এবং দুই-রাষ্ট্রের মধ্যকার সমাধানের ফাঁদে পেলে দিয়েছি।’

যখন জাইনাব সালবি ওমারের উদ্দেশ্যে আরো পরিষ্কার করে বলেতে অনুরোধ করেন, উত্তরে ওমার ইসরাইলের সমালোচনা করে বলেন, ওয়াশিংটনের এমন একটি দেশের প্রতি সমর্থন করা উচিত নয়ে যে দেশটি তার ভেতরকার অ-ইহুদি নাগরিকদের প্রতি বৈষম্য করে আইন পাশ করে।

তিনি বলেন- ‘আমি যখন দেখি যে, ইসরাইল সরকার এমন আইন তৈরী করে যাতে করে ইসরাইল একটি ইহুদি রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যারা ইসরাইলে বাস করে তারা এর অংশ নয় এমন বলা হয় তখন আমরা একে মধ্যপ্রাচ্যের একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করি। আমার তখন হাসি পায় কারণ ঠিক একই কারণে আমরা অন্যদের সমালোচনা করি।’

‘আমরা ইরানের প্রতি বৈষম্য মূলক আচরণ করি। আর এখন আমি সৌদি আরবের প্রতিও এমন আচরণ দেখতে পাচ্ছি সুতরাং আমি এইসমস্ত ভিন্নতা দেখে আতঙ্কিত হই।’

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনাজামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির উদ্যোগে একটি আইন পাশ হয়। এই আইনে আরবীকে ইসরাইলের বেসরকারি ভাষা করা হয়, আইনি ক্ষেত্রে ইসরাইলকে একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ইসরাইলিদের সমতার ব্যাপারটি উহ্য রাখা হয়।

এদিকে Democratic Majority for Israel এর প্রধান মেলাম্যান বলেন, ‘ইসরাইল এমন একটি দেশ যা এখানে বসবাস কারী সকলের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। এবং ইসরাইলের আদালতসমূহে আরব এবং ইহুদি দুই জাতির বিচারক রয়েছেন।’

তিনি ইলহান ওমারের সমালোচনা করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্যদের উচিত কথা বলার পূর্বে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে জেনে নেয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে সত্য জানানো। আর এ দিক থেকে কংগ্রেসওম্যান ওমার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।’

উৎসঃ ‌টাইমস অফ ইসরাইল ডট কম

আরও পড়ুনঃ ফিলিস্তিনিদের অধিকারের বিষয়ে আমরা চুপ থাকব না: এরদোগান


সামরিক শক্তিতে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেছেন,তার দেশ ফিলিস্তিনীদের পাশে রয়েছে, এবং কোনো চাপের মুখে তুরস্ক ফিলিস্তিন সমস্যার ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, ইসরাইলি পার্লামেন্টের আরব সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রেসিডেন্ট এরদোগান এসব কথা বলেন।

মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী এ নেতা বলেন, আঙ্কারা সবসময় ফিলিস্তিনি মাজলুমদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে। ফিলিস্তিনিদের পাশে থেকে আমরা কখনো সরে যাবো না, ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান আরও বলেন, ইসরাইলি দখল থেকে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করা, ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীকার প্রতিষ্ঠা আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার।

এ বিষয়ে আমরা কখনো নমমীয় হইনি। ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বের প্রতিটি সংস্থাকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এরদোগান।

বৈঠকে ফিলিস্তিন বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখায় ইসরাইলি পার্লামেন্টের আরব সদস্যরা তুর্কি প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান। প্রেসিডেন্ট এরদোগানও ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় তাদের ধন্যবাদ জানান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে নরওয়ের তরুণ মুসলিমদের ভাবনা নিয়ে কী বলছেন মিনা


ওসলো: নরওয়ের মুসলিম নাগরিক মিনা তার ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একে ‘নিজের অন্তরের বিষয়’ বলে আখ্যায়িত করেন। তার কাছে ইসলাম হচ্ছে একেবারে ব্যক্তিগত বিষয় যা কারো চিন্তার বিষয় না।

নরওয়ের ওসলো বিশ্ববিদ্যালয় ‘Radicalization and Resistance’ শিরোনামে এক গবেষণায় মিনাসহ আরো ৯০ জন মুসলিমদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩২ এর মধ্যে।

নরওয়ের অনেক তরুণ মুসলিম নিজেদের ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে অন্যদের জানতে দিতে চান না। তাদের বিশ্বাস তাদের যার যার ব্যক্তিগত বিষয় এবং তাদের নিকট পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন করাটা একটি সহজ কাজ।

ইদিল আবদি নামের অপর মুসলিম যিনি একটি গবেষণা প্রকল্পের সহকারী তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ অংশ গ্রহণকারী বলেছেন তাদের ধর্ম তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তারা ধর্ম সম্পর্কে বেশি কিছু বলতে চান না।’

ইদিল আবদির গবেষণা প্রকল্প ‘Young Muslim voices’ নামের একটি বই প্রকাশ করেছে।

প্রার্থনা এবং এলকোহল নিয়ে শান্ত থাকা
তাদের গবেষণা প্রকল্পে নরওয়ের প্রায় সকল স্থান থেকে আসা লোকজন অংশ নিয়েছেন একই সাথে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থকে বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসী লোকজনও অংশ নিয়েছেন।

ইদিল আবদি বলেন, ‘বেশিরভাগ সময় তাদের কাছে মসজিদে যাওয়ার সময় হয়ে উঠে না, কারণ তা বিদ্যালয় বা কর্মক্ষেত্রের সময়ের সাথে একীভূত না।’

খাদরা নামের একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, ‘আমি কি দিনে পাঁচবার সালাত আদায় করি? আমি চেষ্টা করে থাকি। আমি কি উপবাস থাকি? আমি আসলে তা পালন করি। আমি কি এলকোহল পান করি? হ্যাঁ। আমি কি শূকরের মাংস খাই? না। আমি কি শালীন পোশাক পরিধান করি? হ্যাঁ, সাধারণত।’

পুনরায় জন্ম নেয়া মুসলিম?
‘পুনরায় জন্ম নেয়া’ শব্দটি সাধারণত সেইসব খ্রিস্টানদের প্রতি নির্দেশ করে যারা সৃষ্টিকর্তার সাথে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করে। এই শব্দটিকে মুসলিমদের ক্ষেত্রও প্রযোজ্য?

ওসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং গবেষণা প্রকল্পটির প্রধান সেভিনাজ সান্ডবের্গ বলেন, ‘তারা মসজিদে যায় কি যায় না বা নীতিমালা অনুসরণ করে কি করে না এসব বিতর্কের উর্ধ্বে তারা মুসলিম।’

গবেষণায় অংশ নেয়া তরুণদের ধর্ম চর্চার ক্ষেত্র অনেকটা শিথিলতা দেখে তিনি কিছুটা বিস্মিত হয়ে পড়েন।

নিজের মতামতের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
সান্ডবের্গ মনে করেন ধর্মীয় ব্যাপারে খোলামেলা হওয়া কট্টরপন্থী চিন্তা চেতনা থেকে আমাদের রক্ষা করে।

তারা ভাষায়- ‘কট্টরপন্থীরা যা বিশ্বাস করে তার ব্যপারে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। তারা বলে তাদের নিকটে সত্য রয়েছে। কিন্তু যখন আপনার মনে ‘হতে পারে’ শব্দটা এসে যায় তখন আপনি অযথাই লোকজনদের মারতে পারেন না।’

অন্যদিকে ইদিল আবদি বলেন, ‘যদি তরুণ মুসলিমগণ তাদের মনকে উদার করতে পারেন তখন তারা হয়ত কট্টরপন্থীদের শিকারে পরিণত হতে বিরত থাকবেন।’

অনেকেই সমকামিতার বিরুদ্ধে
গবেষণায় অংশ নেয়া অনেকেই যৌন জীবনের ক্ষেত্রে শালীন। তারা বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা বা সমকামিতাকে অপছন্দ করেন কিন্তু তারা অন্যদের সম্পর্কে মন্তব্য করতে চান না। তাদের মতে শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তাই তাদের সম্পর্কে বলতে পারেন।

এন্টোন নামের একজন অংশগ্রহণ কারী বলেন, ‘এটি অনেকটা একটি ধূসর এলাকা। যদি একজন ব্যক্তি সমকামী হয় তবে আমার কাজ হচ্ছে তা সুপথ দেখানো। যদি সে আমার কথা না শোনে তবে তার জীবন তার মত চলুক। এজন্য আমি তাকে হত্যা করতে পারি না।’

তাদের মনে শরিয়া নেই
গবেষণায় অংশ নেয়া অনেক তরুণ মুসলিম আইন বা শরিয়া সম্পর্কে উত্তর দিতে অস্বস্তি বোধ করে। তারা আসলে এ বিষয়টি নিয়ে অতোটা চিন্তা করে না।

ইদিল আবদি বলেন, ‘জনগণ যেরকম জিহাদ এবং শরিয়া সম্পর্কে উদ্বিগ্ন, তেমনটি আমাদের প্রকল্পে অংশ নেয়াদের মধ্যে দেখা যায় নি।’

সেভিনাজ সান্ডবের্গ বলেন, ‘আমি অবাক হয়েছি যে, এসকল অংশগ্রহণকারীর অনেকেরই এমন বন্ধু রয়েছে যারা কট্টরপন্থী বা যারা কট্টরপন্থীদের সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।’

ইসলাম সম্পর্কে জানার মধ্য দিয়ে কি কট্টরপন্থী থেকে বাঁচা সম্ভব? গবেষকদের ধারণা ধর্ম সম্পর্কে খোলাখুলি আলোচনা তরুণদের কট্টরপন্থী থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধব কট্টর পন্থা থেকে দূরে রাখে
বেশীরভাগ তরুণ মুসলিমগণ কট্টরপন্থী সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে আগ্রহী নন কারণ তারা পুলিশের নজরে পড়তে ভয় পান। তবে গবেষকরা এমন লোকদের সাথেও কথা বলেছেন যারা নরওয়ের কিছু জিহাদি দলের সাথে সংযুক্ত রয়েছেন।

সেভিনাজ সান্ডবের্গ এমন একজন তরুণ মুসলিমের কথা বলেন যিনি নরওয়ে থেকে সিরিয়ায় জিহাদে অংশ নিতে উদ্যোগী হয়ে পড়েন কিন্তু পরবর্তীতে তার বন্ধুরা এবং পরিবার তাকে এ পথ থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হন।

সিরিয়া থেকে জিহাদে অংশ নিয়ে ফিরে আসা এমন একজন মুসলিম বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াগুলো কট্টর পন্থায় ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অভাবে কট্টরপন্থার দরজা খুলে দিতে পারে

সহজীকরণ হয়ত কোনো কোনো ক্ষেত্রে শক্তি হতে পারে। কিন্তু ‘সকল কিছুই গ্রহণযোগ্য’ এ ধরনের ইসলামি বিশ্বাস যে কারো জন্য যে কোনো ভাবে ধর্মীয় গ্রন্থ ব্যাখ্যা করা সুযোগ করে দেয়।

সেভিনাজ সান্ডবের্গ বলেন, ‘ঐতিহ্যগত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের জন্য কট্টরপন্থীদের নজরে আনা কঠিন বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ উত্তর এবং উগ্রপন্থী সমাধাণ হয়ত ক্ষতির দিকে নিয়ে যেতে পারে, যদি আপনি আপনার জীবনের দিক ঠিক করতে সংগ্রাম করতে থাকেন অথবা আপনার কোনো অপরাধী মনোভাব থেকে থাকে।’

নরওয়ের পুলিশ নিরাপত্তা বিভাগের তদন্তে উঠে আসে যে, বেশিরভাগ কট্টরপন্থী উগ্রপন্থায় জড়ানোর পূর্বে কোনো না কোনো ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত ছিল।

তথাপি, বেশ কিছু গবেষক বলেছেন যে, আমাদের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন যে, কট্টরপন্থীরা যে কোনো অবস্থান থেকে উঠে আসতে পারে।

উৎসঃ ‌সাইন্সনরডিক ডট কম

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here