জাতীয় পার্টিতে এরশাদের পর কে?

0
133

সামনে জাতীয় নির্বাচন। দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। এমন সময়ে পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ঠিকানা হাসপাতালে। দেখা সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না নেতাকর্মীরা। স্বজনরাও কাছে যেতে পারছেন না। শারীরিক অবস্থা নিয়ে পার্টির পক্ষ থেকে একেক সময় একেক রকম তথ্য দেয়া হয়েছে। নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা জানিয়েছেন, একাকিত্ব আর ভয়ের কারণে এরশাদ হাসপাতালে থাকছেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কি কারণে এরশাদের একাকিত্ব অবস্থায় থাকতে হচ্ছে? আর ভয়ই বা কীসের? এ নিয়ে পার্টিতেই চলছে নানা আলোচনা।

গত কয়েকদিনে নেতাকর্মীরা এরশাদকে পার্টির কার্যক্রমে সরাসরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা মনে করছেন শারীরিক অবস্থার কারণে হোক বা অন্য কোনো কারণে হোক এরশাদ এখন দৃশ্যপটের বাইরে। তার অনুপস্থিতিতে আসলে দল পরিচালনা করবে কে? ছোটভাই জিএম কাদেরকে রাজনৈতিক উত্তরসূরি করতে এরশাদ অনেক আগে থেকে চেষ্টা করে আসছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময়ও তিনি এমন চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা করতে পারেননি। তাকে পার্টির কো-চেয়ারম্যান করার পর রওশন এরশাদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করতে হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এরশাদ যদি দল পরিচালনা থেকে দূরে থাকেন তাহলে এই দুইজনের কে দল চালাবেন এ নিয়ে প্রশ্ন আছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। পার্টির একটি বড় অংশ চায় এরশাদের অবর্তমানের জিএম কাদেরই যেন পার্টির নেতৃত্ব দেন। অন্য অংশটি অবশ্য রয়েছেন রওশন এরশাদের পক্ষে। সর্বশেষ রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ায় নতুন মেরুকরণ দেখা দিয়েছে দলে। পার্টি চেয়ারম্যান ঠিক কী কারণে হাওলাদারকে সরিয়ে দিয়েছেন তা নেতাকর্মীরাই ওয়াকিবহাল নন। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তার বাণিজ্য করার অভিযোগ দলের নেতারাই সামনে আনছেন। কেউ আবার বলছেন এরশাদ হাওলাদারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে আস্থা রেখে আসছেন। তিনি যা করছেন তার সবই পার্টি চেয়ারম্যান অবগত। হঠাৎ করে তাকে সরিয়ে দেয়ার অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। পার্টি সূত্র বলছে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এখন কার্যত ‘হাসপাতালবন্দি’ অবস্থায় আছেন।

গত কয়েকদিন ধরেই তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করতে পারছেন না। এমনটি তার পালিত কন্যাও সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না। দলের অনেক নেতাও চেষ্টা করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। নেতাকর্মীরা বলছেন, পার্টি চেয়ারম্যান অন্তরালে থাকায় তারা কোনো নির্দেশনা পাচ্ছে না। দল কাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিচ্ছে সেটি নিয়েও সন্দিহান তারা। এদিকে মহাসচিব বদল হওয়ায় জাতীয় পার্টি প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়ন ক্ষমতা নতুন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাকে দেয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল নির্বাচন কমিশনে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। নতুন মহাসচিব ঘোষণার পর একাধিক দলীয় প্রার্থীর চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা তৈরির প্রেক্ষাপটে জাপা থেকে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পার্টির মনোনয়নপত্রে রুহুল আমিন হাওলাদারের স্বাক্ষর ছিল। তাকে সরিয়ে দেয়ার পর প্রশ্ন উঠছিলো পার্টির চূড়ান্ত মনোনয়নের সিদ্ধান্ত কে নেবেন?

জাপা মহাসচিব রাঙ্গা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, এটা এমন বড় কিছু বিষয় না। পার্টির মহাসচিব যে কোনো সময় বদল হতে পারে। আর আগের কাগজে তার স্বাক্ষর থাকলেও এখন থেকে নতুন মহাসচিব এগুলো করবেন। এর আগে মনোনয়নপত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার। আর পার্টির চেয়ারম্যান বর্তমান মহাসচিবকে দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনে গতকাল একটি চিঠি দেয়া হয়েছে।

এদিকে জাপার ‘চূড়ান্ত মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দে’ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নতুন তালিকা পাওয়ার কথা জানিয়েছে ইসি। ইসি সচিব হেলালুদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জাপা চেয়ারম্যান এবং নতুন মহাসচিবের মনোনয়ন সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন। মনোনয়ন নিয়ে তাদের কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ নিজেদের ঘরের সমস্যায় বেকায়দায় আওয়ামীলীগ-মহাজোট

বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও মহাজোট ফুরফুরে মেজাজে নিশ্চিন্ত মনে অর্থাৎ ‘নো টেনশন’ ভাব নিয়ে থাকার কথা ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে ভোট রাজনীতির মাঠে বাস্তবে তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীকে মোকাবিলার মতো ‘শক্ত’ প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ নিয়ে টেনশন তো আছেই। যেহেতু অতীতে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ফলাফল থেকেই বারে বারে প্রমাণিত হয় যে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলটি জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির মজবুত ঘাঁটি। এবারের জাতীয় নির্বাচনে ঘরের সমস্যা তীব্র রূপ নেয়ার কারণে চট্টগ্রামে মাঠের রাজনীতিতে তৃণমূল পর্যায়ে চরম বেকায়দায় রয়েছে আওয়ামী লীগ-মহাজোট। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে এ নিয়ে ‘নৌকা’র প্রার্থীদের অধিকাংশেরই দুশ্চিন্তা ভর করছে। প্রকাশ্যে ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রার্থীদের হাতে হাত উঁচিয়ে ধরে হাসিমুখে ‘ঐক্যের ডাক’ দিচ্ছেন। তা সত্তেও চাপা কোন্দল-গ্রুপিং, মনোনয়ন বঞ্চিতদের ক্ষোভ-অসন্তোষ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বৃহত্তর চট্টগ্রামের অধিকাংশ আসনে পুরনো কলহ-কোন্দল নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। অনেক এলাকায় আন্তঃকোন্দল গ্রুপিং প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে, দিন দিন ফুঁসে উঠছে। আবার অনেক জায়গায় তা ছাইচাপা অবস্থায় রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় এবং পার্বত্য জেলায়ও আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশিরভাগই এখন বঞ্চিত তালিকায়। অথচ তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন মাঠে আপামর মানুষের সাথে থেকেও ‘ভিআইপি-সিআইপি’ না হওয়ার কারণেই ৫ বছর অপেক্ষার প্রহর গুণে মনোনয়ন থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ কারণে তাদের বিরাট সংখ্যক সমর্থক হতাশ হয়েছেন।

বর্তমানে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার রাজনীতি সচেতন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং প্রতিপক্ষ জোটের নেতা-কর্মীসহ সমগ্র তৃণমূলের সতর্ক চোখ মহাজোটের মনোনয়ন বঞ্চিতদের দিকেই। তাদের মতিগতি কোন দিকে গড়ায় তা নিয়ে সবখানে চলছে সবার কৌত‚হলী আলোচনা ও গুঞ্জন।

গত ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আগে থেকেই চট্টগ্রামের আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীরা তাদের সমর্থিত তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিয়ে ছুটে চলেছেন নিজেদের নির্বাচনী এলাকায়। প্রতিদিনই হচ্ছে কর্মীসভা, মতবিনিময়, উঠান বৈঠক, শলা-পরামর্শ ইত্যাদি। তাছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা পর্যায়েও ইতোমধ্যে একাধিক বর্ধিত সভা, সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেতাদের ড্রয়িং রুমেও ঘন ঘন বসছে বৈঠক। প্রার্থীদের হাতে হাত রেখে সিনিয়র নেতারা হাসিমুখে এবং পরস্পর মিষ্টিমুখ করে ছবি পোজ দিচ্ছেন, সামাজিক মাধ্যমগুলোতে পোস্ট করছেন- ‘ঐক্যের বার্তা’ দিয়ে। যার মূল উদ্দেশ্য ঘর গুছিয়ে ভোটের মাঠ গোছানো।

কিন্তু খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, এসব বৈঠকী আয়োজনের বিপরীতে চট্টগ্রামে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের মনোনয়ন বঞ্চিত এবং তাদের সমর্থিত নেতা-কর্মীদের হতাশার মাত্রা প্রকটভাবে ফুটে উঠছে। এ ধরনের বৈঠকগুলোতে মনোনয়ন বঞ্চিতরা কেউই হাজির হতে দেখা যাচ্ছে না। বঞ্চিতদের সমর্থিত নেতা-কর্মীরাও সেসব বৈঠক অঘোষিতভাবে বর্জন বা এড়িয়ে চলছেন। যেমন- চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের তিন জন মনোনয়ন বঞ্চিত সিনিয়র নেতার কেউই তাদের নিজ নিজ এলাকায় মনোনীত প্রার্থীদের কোনো ধরনের সভায় উপস্থিত হতে দেখা যায়নি।

তাদের সমর্থিত কর্মীরাও ভোটের মাঠে গরহাজির। একইভাবে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন বঞ্চিতরা দল ও মহাজোটের প্রার্থীদের সাথে সম্পর্ক এড়িয়ে চলেছেন। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) এবং চট্টগ্রাম- (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) এই তিনটি নির্বাচনী আসনে মহাজোটের ছোট শরিক দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এর তীব্র ও বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে। সেসব এলাকায় ইতোমধ্যে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ হয়েছে।

তাছাড়া মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং তিনটি পার্বত্য জেলার দুইটিতে আওয়ামী লীগের পুরনো কলহ-কোন্দলের ক্ষত আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নুতন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। আছে নেতায় নেতায় দ্ব›দ্ব। কোথাও কোথাও একে অপরের মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। এহেন গ্রুপিং, দ্ব›দ্ব-কলহের প্রভাব পড়েছে দল ও মহাজোটের তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ে।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই), চট্টগ্রাম-৩ (স›দ্বীপ), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতদের মাঝে ক্ষোভ-অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী), চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর), চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা), চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ), চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া), চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) এবং তিনটি পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙ্গামাটি এবং খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের যারা মনোনয়ন বঞ্চিত তারা ভোট রাজনীতির মাঠ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। চলে গেছেন দূরত্বে। মহাজোটের অপরাপর শরিকদলের সাথেও রয়েছে চাওয়া বনাম বঞ্চনার ক্ষোভ, হতাশা, অসন্তোষ। তাছাড়া সরকারের দুই মেয়াদে দশ বছরের শাসনকালে ‘সুযোগ-সুবিধা’ বঞ্চিতদের মাঝে ক্ষোভ-হতাশা, অসন্তোষ ভোটের আগে এবার দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় ভোটের মাঠে নিজেদের ঘর সামলাতেই বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটকে।

উৎসঃ ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ কারচুপি ছাড়া সমর্থকশূন্য আওয়ামীলীগের নির্বাচনে বিজয়ের অন্য কোনো উপায় নেই!

একাদশ সংসদ নির্বাচন আসন্ন। ৩০ ডিসেম্বর এ নির্বাচনের দিন চূড়ান্তভাবে ধার্য করা হয়েছে। এ নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল দেশের দুই প্রধান দলের অন্যতম বিএনপির বয়কটের মধ্যদিয়ে। দেশের দুই প্রধান দলের অন্যতম বিএনপি কর্তৃক বর্জিত হওয়ায় সে নির্বাচন তার সকল গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছিল। বিরোধী দল তো দূরের কথা, শাসক দলের বহু নেতা কর্মীও সে নির্বাচনে ভোট দানের উদ্দেশ্যে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার গরজ অনুভব করেননি। কারণ তারা জানতেন, তারা ভোট দানের উদ্দেশ্য ভোট কেন্দ্রে না গেলেও তাদের ভোট দানের ব্যবস্থা ঠিকই করা হবে দলের পক্ষ থেকে।

বাস্তবে হয়ও সেটাই। বিরোধী দলের ভোট বর্জনের কারণে ভোট কেন্দ্রে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতির সুযোগে শাসক দলের অল্পসংখ্যক নেতা কর্মী তাদের ইচ্ছামত সরকারী দলের প্রার্থীদের ব্যালটপত্রে সীলম শাসক দলের প্রার্থীদের বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়া নিশ্চিত করতে সক্ষম হন। এর ফলে দশম জাতীয় সংসদে বিএনপির কোন প্রতিনিধি ছিল না। দেশের দুই প্রধান দলের অন্যতম বিএনপির পরিবর্তে দশম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টী। আর সংসদে বিরোধী দলের নেত্রীর ভূমিকা পালন করেন জেনারেল এরশাদের স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদ, যিনি জাতীয় সংসদে তাঁর প্রথম ভাষণেই সরকারী দলের সকল কাজে সমর্থন দানের প্রতিশ্রæতি দান করে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে এক কলংকজনক অধ্যায় সংযোজন করেন। দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন বর্জনের কারণে দেশের প্রকৃত বিরোধী দল বিএনপির পক্ষে বিরোধী দলের নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

সেসব সুযোগ সুবিধা পাওয়ার আশায় একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের স্বপক্ষে বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে জনমত প্রচল হয়ে উঠতে থাকে। এছাড়া শাসক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের একাংশের মধ্যেও একাদশ সংসদ নির্বাচন যাতে বিএনপিসহ সকল দলের অংশগ্রহণে ধন্য হয় তার পক্ষে দলীয় সমর্থকদের মধ্যে জনমত জোরদার হয়ে উঠতে থাকে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের অনেকেই আশা প্রকাশ করেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে যে কোন মূল্যে অর্থবহ করার চেষ্টা করা হবে। এসব আশা ও আশ্বাসে বিএনপির অনেকের মধ্যেই এ বিশ্বাস জোরদার হয়ে উঠতে থাকে যে, একাদশ সংসদ নির্বাচন দশম সংসদ নির্বাচনের মত একতরফা ও প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।

কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বের একাংশের মধ্যকার এ আশা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের পক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মোহ বর্জন করে দেশকে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভবপর হচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে তাদের বাস্তব ক্রিয়াকর্মে। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের এ ব্যর্থতার লক্ষণ প্রধান বিরোধী দল বিএনপি তো বটেই, দেশবাসীর কাছেও সুস্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাখিল করা যে তিনটি আসনের মনোনয়ন পত্রই বাতিল ঘোষণা করেছে সরকারের নিয়োগকৃত নির্বাচন কমিশন।

আওয়ামী লীগের নেতা জনাব ওবায়দুল কাদের যদিও দাবী করেছেন, বিএনপির কোন নেতা নেত্রীর মনোনয়নপত্র বাতিলে সরকারের কোন হাত ছিল না, এটা ছিল সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে, তাঁর এই বক্তব্য কেউ বিশ্বাস করছে না। কারণ বেগম খালেদা জিয়া এবং অন্যান্য বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা ইসি (নির্বাচন কমিশন) করলেও খোদ নির্বাচন কমিশনই গঠিত হয়েছিল আওয়ামী সরকার কর্তৃক। আর আওয়ামী লীগের তো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করার সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।

সংবাদপত্র পাঠকদের স্মরণ থাকার কথা, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আমলেই সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা একটি মাত্র সরকারী দল রেখে দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে কিছু দু:খজনক ঘটনার মধ্যদিয়ে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থার স্থানে বহু দলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুন:প্রতিষ্ঠিত হলেও এক পর্যায়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে সামরিক ক্যুর মাধ্যমে উৎখাত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে বসেন তদানীন্তন সেনা প্রধান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সে সময় সারা দুনিয়াকে অবাক করে দিয়ে ঐ সামরিক ক্যুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বসেন দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। এই অকল্পনীয় ঘটনা সম্ভবপর হয়েছিল হয়তো এই বিবেচনায় যে, সামরিক ক্যুর মাধ্যমে উৎখাত হওয়া ঐ নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে ছিল নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি। এর অর্থ এই যে, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সামরিক ক্যুর প্রতি সমর্থন দিতেও আওয়ামী নেতৃত্বের বিবেকে বাধেনি।

সংবাদপত্রের পাঠকদের স্মরণ থাকার কথা, এরপর শুরু হয় জেনালের এরশাদের দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পালা। পাশাপাশি চলতে থাকে বিএনপির ও অন্যান্য দলের এরশাদ বিরোধী আন্দোলন। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা প্রথম দিকে অনেক দিন এসব স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলন থেকে দূরে সরে থাকলেও পরবর্তীকালে এক পর্যায়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। কিন্তু ততদিনে রাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত নবাগতা বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে একটানা নেতৃত্ব দিয়ে আপোষহীন নেত্রী হিসাবে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন, যার প্রমাণ পাওয়া যায় পরবর্তী নির্বাচনে। এ দিকে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যোগদানের পর দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রশ্নে একমত হয় এবং এই নির্বাচন যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সে লক্ষ্যে দুই প্রধান নেত্রী এ প্রশ্নেও একমত হন যে, ঐ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দেশের সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে।

যেমনটা আশা করা গিয়েছিল, নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। নির্বাচন চলাকালে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতাকালে এক পর্যায়ে বলেন, আমি সকল জেলার খবর নিয়েছি। নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু হয়েছে। আপনারা লক্ষ্য রাখবেন, ভোটে হেরে গিয়ে কেউ যেন এর মধ্যে আবার কারচুপি আবিষ্কার না করে। ভোট গণনা শেষে যখন জানা গেল, আওয়ামী লীগ নয়, নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি, শেখ হাসিনা অবলীলাক্রমে বলে ফেললেন, নির্বাচনে সু² কারচুপি হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কেউ তাঁর এ স্ববিরোধী অবাস্তব বক্তব্যে গুরুত্ব না দেয়ায় স্বাভাবিক নিয়ম মোতাবেক বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলো এবং সংসদে বিরোধী দলের নেত্রী হলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। বেগম খালেদা জিয়ার প্রধান নেতৃত্বের মেয়াদ শেষে নতুন নির্বাচনের প্রশ্ন উঠলে প্রধানত: বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার দাবীর মুখে দেশের সকল জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে এই মর্মে সংবিধানে সংশোধন করে প্রস্তাব গৃহীত হয়।

বাংলাদেশের বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটাই যে ছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সব চাইতে উপযোগী, তা বাস্তবে প্রমাণিত হয়। এ ব্যবস্থাধীনে দেশে বেশ কয়েকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে দেশের দুই প্রধান দল পালাক্রমে পর পর নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার সুযোগ লাভ করে। কিন্তু এই সুন্দর ব্যবস্থাও এক শ্রেণীর রাজনীতিকের অতিরিক্ত ক্ষমতাক্ষুধা পচিয়ে ফেলে। ফলে এক পর্যায়ে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বের আমলে নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবর্তে নির্বাচিত দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের পরিবর্তে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিলে দুই প্রধান দলের মধ্যকার অতীত সমঝোতার সুস্পষ্ট লংঘনের অভিযোগ এনে বিএনপি সে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়। দেশের দুই প্রধান দলের একটি (বিএনপি) নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলে সে নির্বাচন বাস্তবে হয়ে পড়ে নির্বাচনী প্রহসনে। জনগণও সে নির্বাচনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বিরোধী দল তো দূরের কথা, শাসক দলের অনেক নেতাকর্মীও সে নির্বাচনে ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার গরজ হারিয়ে ফেলেন। কারণ তারা জানতেন, তারা ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে না গেলেও তাদের ভোট দানের ব্যবস্থা ঠিকই করা হবে দলের পক্ষ থেকে।

বাস্তবে হয়ও সেটাই। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বয়কটজনিত অনুপস্থিতির সুযোগে শাসক দলের অল্পসংখ্যক নেতাকর্মীই ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের ইচ্ছামত সরকারী দলের প্রার্থীদের ব্যালটপত্রে সীলমেরে তাদের বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়া নিশ্চিত করেন, যদিও ভোটদানের নির্ধারিত সময়ে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র ছিল ফাঁকা, জনশূণ্য। এভাবে ভোটারদের অনুপস্থিতিতে “বিপুল ভোটে শাসকদলের” বিজয়ের কারণে জনগণ এ নির্বাচনের নাম দেয় ভোটারবিহীন নির্বাচন। বর্তমানে যে সরকার দেশ শাসন করছে সে সরকার এই ভোটারবিহীন নির্বাচনেরই ফসল।

একটি ভোটারবিহীন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতা কব্জা করতে পারায় আওয়ামী লীগের যেন তেন প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়ার লোভ যেন বেড়ে গেছে একটি বেশি মাত্রায়ই। তিন তিনটি অবাধ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া বেগম খালেদা জিয়ার সকল মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষিত হওয়া ছাড়াও অসংখ্য বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ইতোমধ্যেই বাতিল ঘোষিত হয়েছে। এতসব মনোনয়নপত্র বাতিলে আওয়ামী লীগে সরকারের কোন হাত ছিল না বলে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের দাবী করলেও এবং এসব মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য দায়ী ইসি তথা নির্বাচন কমিশন এটা বলা হলেও এ কমিশন যে আওয়ামী সরকারের ইচ্ছাতেই গঠিত হয় এ সত্য অস্বীকার করা আর বাস্তবকে অস্বীকার করা একই কথা। কারণ এ ধরনের ইচ্ছামত নির্বাচন কর্তৃপক্ষ (ইসি) গঠনের আশায়ই তারা নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবর্তন নির্বাচিত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছেন ইচ্ছাকৃত ও সুপরিকল্পিতভাবে।

অতীতে দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপির সাথে নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে সকল জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে বলে বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগ যে সমঝোতায় পৌঁছেছিল, সে সমঝোতা থেকে সরে গিয়ে নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে সকল জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবর্তে যেদিন আওয়ামী লীগ নির্বাচিত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেয় সেই দিনই সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল কোন অবাধ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ বিশ্বাস ও আশা হারিয়ে ফেলেছে। তাই অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবর্তেন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে যে কোন মূল্যে নির্বাচনে জয়ী হয়ে পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া জনসমর্থনশূণ্য আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফিরে যাওয়ার আর কোন ভরসা নেই। তাই বিরোধী দলের মনোনয়ন পত্র অবৈধ অন্যায় পন্থায় ব্যাপকভাবে বাতিল করে পুনরায় ক্ষমতায় যেতে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে ভোটারবিহীন নির্বাচনে বিজয়ী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর ফলে এমন এক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতে চায়, যে নির্বাচনে বিজয়ী হতে অবৈধ অন্যায় পন্থায় ছাড়া বিজয়ী হওয়ার অন্য কোন উপায় নেই।

উৎসঃ ইনকিলাবের সম্পাদকীয় থেকে নেওয়া

আরও পড়ুনঃ আর্টিক্যাল ৬৬ অনুযায়ী নির্বাচনে সুযোগ পাবেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন পত্র আইনবহির্ভূতভাবে বাতিল হয়েছে দাবি করে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার তিন মনোনয়নপত্রের বৈধতা চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন তার পক্ষের তিন আইনজীবী।

গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে বারটার দিকে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নেতৃত্বে তিনজন আইনজীবী আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রার্থীতা বৈধতার জন্য এই আপিল করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে খালেদা জিয়া বগুড়া-৬ ও ৭ এবং ফেনী-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু সাজাপ্রাপ্ত দেখিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তার তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করেন গত ২ ডিসেম্বর।

আপিল আবেদন জমা দিয়ে আইনজীবি কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, রিটার্নিং অফিসার আইন বহির্ভূতভাবে, অন্যায়ভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের তিনটি মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। এটা সরকারের ষড়যন্ত্রেরই অংশ। আমাদের কাছে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে তিনটি আসনে প্রার্থীর পক্ষে আপিল দায়ের করলাম। ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বগুড়া-৬ আসনে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও বগুড়া-৭ আসনের মনোনয়নপত্র বৈধতা চেয়ে আপিল করেন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধনের আর্টিকেল ৬৬ অনুযায়ী খালেদা জিয়া নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন। আপিল দায়েরের পর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা আছে। আপিলের বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। যেহেতু অতীতে এই অবস্থাতেও অনেককে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়ার রেকর্ড রয়েছে। তাই তার মনোনয়নপত্র বৈধ করে তাকে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়া উচিত। তাছাড়া একই আইনে হাজী সেলিমকে নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কায়সার কামাল।

আইন নিজস্ব গতিতে চললে খালেদা জিয়া প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বলে দাবি করেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ফেয়ারলি ডিসিশন নিলে ইসি থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে রায় পাব আশা করি। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য জাতি অপেক্ষা করছে। খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হলে তা প্রহসনের নির্বাচন হবে। দেশ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্যে খালেদা জিয়ার সুবিচার চাই আমরা।

রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র বাতিল করলেও আপিলে তা ফিরে পাবে বলে আশা করেন খালেদার আইনজীবি কায়সার কামাল। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র যে গ্রাউন্ডে বাতিল হয়েছে তা এখানে প্রযোজ্য নয়। ইসি সংবিধান ও আইন অনুসরণ করলে এবং বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে বিশ্বাসযোগ্য সিদ্ধান্ত নিলে খালেদা জিয়া প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট হবে। নির্ধারিত সময়ে ৩০০ আসনে ৩০৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। বাছাইয়ে ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন জমা দেয়া গতকাল শেষ হয়েছে। ৬-৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি করে তা নিষ্পত্তি করবে ইসি। ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় রয়েছে।

উৎসঃ ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন পক্ষপাতিত্বের এক কালো অধ্যায়!

ঢাকার হাইকোর্ট অঙ্গন থেকে শুরু করে পুরান ঢাকার জজ কোর্ট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টসহ সারাদেশের জেলা পর্যায়ের আদালতগুলোর আঙ্গিনায় ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’ অবস্থা। কোথাও ধানের শীষের প্রার্থীরা জামিনের আবেদন নিয়ে হাজির হচ্ছেন; কোথাও কর্মীরা জামিন চেয়ে আবেদন করছেন; কোথাও গ্রেফতার ঠেকাতে আগাম জামিনের আবেদন, কোথাও স্বামী-স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে পুলিশি গ্রেফতার ঠেকাতে আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। কোর্ট-কাচারীগুলোয় হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর উপস্থিতির নজিরবিহীন এমন দৃশ্য অতীতে কোনো ভোটের সময় দেখা যায়নি।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ এখন জাতীয় দাবি। জনগণের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের গন্ডি পেরিয়ে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মহল থেকেও এই দাবি উঠেছে। প্রভাবশালী দেশ, সংস্থা এবং ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকরাও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবিতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। বিশ্বরাজনীতি-অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন এমন প্রভাবশালী কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক-অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আগামীতে বন্ধুত্ব থাকবে কি না তা নির্ভর করছে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ওপর। অথচ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি দূরের কথা কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিজেরাই পক্ষপাতিত্বের দোষে অভিযুক্ত। নির্বাচনকালীন সময়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ক্ষমতা ব্যবহারের বদলে ক্রমান্বয়ে তারা ইসিকে ক্ষমতাসীন দলের আজ্ঞাবহ করে তুলছেন।

সারাদেশে যারা ভোট গ্রহণ করবেন সেই ডিসি, এসপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠনের নির্দেশনা তো দেনইনি; উল্টো তাদের পক্ষপাতিত্বের দিকেই উস্কে দিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনে দফায় দফায় ডেকে এনে সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সংলাপের নামে এটা করা হয়। এতে জেলায় জেলায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে নজিরবিহীন তুঘলঘি কান্ড করেছে রিটার্নিং অফিসাররা।

সামান্য ত্রুটির জন্য কারো কারো প্রার্থিতা বাতিল করা হলেও গুরুতর অভিযোগের পরও অনেকের মনোনয়ন বৈঠক করা হয়। একই অপরাধ তথা ঋণখেলাপি হওয়ায় কিছু মনোনয়ন বাতিল করা হয়; আবার একই অপরাধে অভিযুক্ত অনেকের মনোনয়ন বৈধ করা হয়। সামান্য বিদ্যুৎ বিল খেলাপি বাতিল আর ঋণখেলাপি বৈধ! এমনকি একই ব্যক্তি ঢাকায় এবং ফেনীতে মনোনয়নপত্র দাখিল করলে ঢাকার মনোনয়ন বাতিল করা হয়; কিন্তু ফেনীতে গ্রহণ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের এই দ্বিমুখী নীতিতে কি আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্ভব? নির্বাচনী পরিবেশ এমন পর্যায়ে গেছে যে, নির্বাচন কমিশন ভোটের রেফারিংয়ের নামে নিজেই একটি পক্ষে হেলে পড়েছে। রেফারি পক্ষ নিলে কি মাঠের খেলা নিরপেক্ষ হয়?

‘সিইসি’ শব্দটি উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সাবেক সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের নাম। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে তার ভূমিকা দেশ-বিদেশে নিন্দিত। ক্ষমতাসীনদের ‘নাচের পুতুল’ ওই কাজী রকিব এখন ইতিহাসের পাতায় ১৭৫৭ সালের বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর আলী খাঁর সঙ্গে তালিকাভুক্ত। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে কাজী রকিব যে পথে হেঁটেছেন বর্তমান সিইসি কে এম নূরুল হুদাও যেন সে পথেই চলতে শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, সেটাকে এক ডিগ্রি বৃদ্ধি করে নৈতিকতার মাথা খেয়ে নিজের ভাগিনাকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী করেছেন।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রশাসনের সচিব-বিভাগীয় কমিশনার-ডিসি-এসপি এমন ৯২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাদের বদলি ও প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচিতি, কর্মকান্ডের তথ্যও দেয়া হয় নির্বাচন কমিশনে। এদের মধ্যে মাত্র একজন এসপি (নারায়ণগঞ্জ) বদলি করে সেখানে আরো কট্টর আওয়ামীপন্থী ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে পদায়ন করা হয়। গত কয়েক দিন থেকে সারাদেশে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্ট অঙ্গন থেকে শুরু করে রাজধানীর ঢাকা জজ কোর্ট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, সারাদেশের জেলা পর্যায়ের আদালতগুলোর আঙ্গিনায় ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’ অবস্থা।

কোথাও ধানের শীষের প্রার্থীরা জামিনের আবেদন নিয়ে হাজির হচ্ছেন; কোথাও বিএনপি কর্মীরা জামিন চেয়ে আবেদন করছেন; কোথাও গ্রেফতার ঠেকাতে আগাম আবেদন করছেন, কোথাও স্বামী-স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে পুলিশি গ্রেফতার থেকে রক্ষা করতে আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। দেশের কোর্ট-কাচারীগুলোতে এমন হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর উপস্থিতির নজিরবিহীন দৃশ্য অতীতে কোনো ভোটের সময় দেখা যায়নি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আদালতপাড়া বিচারপ্রার্থীর পদচারণায় গম গম করে। অসহায় বিচারপ্রার্থীদের বেদনা-যন্ত্রণার ছাপ দেখে অনেক পেশাদার আইনজীবীকে চোখের পানি ফেলার দৃশ্যও দেখা গেছে। অথচ তফসিল ঘোষণার পর নতুন করে গ্রেফতার, গায়েবি মামলায় গ্রেফতারসহ প্রার্থীসহ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানি না করা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অন্যতম।

রাজধানী ঢাকা থেকে তৃণমূল গ্রাম পর্যন্ত এখনো আতঙ্ক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ভোটার ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে। ভোট হবে কি না সেটা নিয়েই সংশয়ে মানুষ। অন্যদিকে তফসিল ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সারাদেশে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যারা দলীয় কর্মীদের হত্যা করেছেন তাদের কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শোনা যায়নি। মনোনয়ন দাখিলের আগে ঢাকার মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও নৌকা প্রার্থী সাদেক খানের গ্রুপের সংঘর্ষে ২ জন প্রাণ হারায়। এ ঘটনা মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হওয়ায় খুনিকে গ্রেফতার করা হয় বটে; তবে ৪ ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

মাঠপর্যায়ে ভোটের লাগাম যাদের হাতে সেই রিটার্নিং অফিসারদের (ডিসি) নৌকার প্রার্থীর অনুক‚লে নজিরবিহীন পক্ষপাতিত্ব নির্বাচনের আগেই ভোট প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। অধিকাংশ রিটার্নিং অফিসার মূলত আইনের অধীনে থেকে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের বদলে দলবাজি ও খেয়ালখুশি মতো প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ-বাতিল করেন। দেখা যায় সারাদেশে ১৪১ জন ধানের শীষ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। আর নৌকা প্রতীকের মাত্র ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তাছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হন তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় ব্যাপকভাবে।

জাসদের শহীদ উদ্দিন মাহমুদ ঢাকা-১৮ ও ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। একই কাগজ ও তথ্যে দাখিল করা মনোনয়নপত্র ফেনী-১ এ রিটার্নিং অফিসার গ্রহণ করেন; অথচ ঢাকায় রিটার্নিং অফিসার ঢাকা-১৮ মনোনয়ন বাতিল করে দেন। ঋণখেলাপির অভিযোগে পটুয়াখালী-১ থেকে জাতীয় পার্টির বরখাস্ত মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। অথচ দলটির নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করলেও রংপুর-১ এ তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। ৫ হাজার টাকা ক্রেডিট কার্ডে বাকি থাকায় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী হবিগঞ্জের ড. রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন বাতিল হয়। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় চট্টগ্রামে মোর্শেদ খানের মনোনয়ন বাতিল হয়। অথচ বিকল্পধারার মেজর (অব:) আবদুল মান্নান, মাহী বি চৌধুরী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয় কোটি কোটি টাকা ঋণখেলাপি হওয়ার পরও।

আদালতে সাজা এবং ঋণখেলাপি হওয়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, মির্জা আব্বাস, রুহুল কবির তালুদকার দুলু, আমান উল্লাহ আমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল করিম আব্বাসী, বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, শাহ মজিবুল হক, আসলাম চৌধুরী, গিয়াস কাদের চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সামির কাদের চৌধুরী, ওয়াদুদ ভূইয়া, আফরোজা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। হলফনামায় সই না দেয়ায় মনোনয়ন বাতিল হয় গোলাম মাওলা রনির।

অথচ সাজাপ্রাপ্ত ঢাকার হাজী মোহাম্মদ সেলিম, চাঁদপুরের ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বরিশাল-৪ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়। খুলনায় নৌকা মার্কার একাধিক প্রার্থীর হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকায় ডিসি অফিসে ডেকে এনে তা পূরণ করা হয়।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের পরও ধানের শীষের প্রার্থী সরকার বাদল, মোর্শেদ মিলটন, আশফাক হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মানিকগঞ্জে ঘটেছে নজিরবিহীন ঘটনা। জেলার তিনটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের জমা দেয়া মনোনয়নে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘সই ভুয়া’ অভিযোগ তুলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

ওই মনোনয়ন বাতিলের আগে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিসি একবারও মির্জা ফখরুলকে ফোন করে তার সই আসল-নকল জানার প্রয়োজন মনে করেনি। এ নিয়ে মির্জা ফখরুল নির্বাচন কমিশনে তীব্র প্রতিবাদ করে সেগুলো গ্রহণের দাবি জানান। অবশ্য বাতিল হওয়া প্রার্থিতা ফেরত পেতে আবেদনকারীদের আবেদনের শুনানি আজ থেকে ইসিতে শুরু হচ্ছে।

ভোটের আগেই বিতর্কিত ইসি সেখানে কতটুকু নিরপেক্ষ থাকবে তা দেখার জন্য দেশবাসী অপেক্ষা করছে। নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বী এক পক্ষ নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছে। অপর পক্ষ ধানের শীষের প্রার্থীরা পুলিশের হয়রানি থেকে বাঁচতে আদালত পাড়ায় জামিনের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রার্থীদের কেউ কেউ এখনো কারাগারে রয়েছেন। ভোটযুদ্ধে নামা প্রার্থীদের এই বিপরীতমুখী দৃশ্যে কি ইসির নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেয়?

তবে দেশের বিশিষ্টজন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন মিডিয়ায় লেখালেখি, সাক্ষাৎকার ও টিভির টকশোতে ইসির বিতর্কিত ভ‚মিকাকে নজিরবিহীন এবং পক্ষপাতমূলক হিসেবে অবিহিত করছেন। তাদের বক্তব্য এখন পর্যন্ত ইসির যে দুর্বল ভূমিকা তা কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের মতোই। তবে ইসি ক্ষমতাসীনদের তল্পিবাহকের অবস্থান থেকে সরে এসে নিজেদের ক্ষমতা কঠোরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ভ‚মিকায় অবতীর্ণ হবেন সবাই সে প্রত্যাশা করছে।

উৎসঃ ইনকিলাব

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here