সংসদে বিরোধী দল নির্ধারণ করার মালিক আওয়ামী লীগ নয়: ইনু

0
174

সংসদে কোন দল বিরোধীদের আসনে বসবে তা নির্ধারণ করার মালিক আওয়ামী লীগ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল ও জাসদের একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

সমসাময়িক রাজনীতি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ১৪ দলীয় জোট এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যায় জাসদের ভূমিকা, মন্ত্রিত্ব পাওয়া, না-পাওয়া নিয়ে রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসানুল হক ইনু এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন গত সরকারের মেয়াদের এই তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথপোকথনের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো—

বাংলা ট্রিবিউন: আওয়ামী লীগ থেকে ১৪ দলীয় জোট বিরোধী দলের ভূমিকা থাকতে বলা হচ্ছে। আপনারা কি বিরোধী দলে যাবেন?

হাসানুল হক ইনু: কে বিরোধী দলের আসনে বসবে আর কে বিরোধী দলের আসনে বসবে না, এটা নির্ধারণ করার এখতিয়ার বা মালিক আওয়ামী লীগ এবং অন্য কেউ নয়। এই সিদ্ধান্ত স্ব স্ব দল গ্রহণ করবে। এছাড়া কেউ যদি সরকারের নির্দেশে বিরোধী দল হয়, তাকে আমি এককথায় বলবো, ফরমায়েশি বিরোধী দল। ১৪ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে ছিলাম, এখনও আছি। আমি রাজনৈতিক কারণে ১৪ দলীয় জোট থাকার প্রয়োজনীয়তা মনে করছি। সাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদ ও রাজাকাররা এখনও আত্মসমর্থন করেনি, তওবা করেনি। তারা রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হলেও তারা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করেনি। সুতারাং জোটের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমরা জোটগতভাবে ভোট করেছি এবং সংসদে জোটবদ্ধ থাকবো। এর বাইরে আওয়ামী লীগ যদি অন্য কোনও সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমরা জোটের শরিকরা বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।

বাংলা ট্রিবিউন: আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মন্তব্য করেছেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পথ জাসদ তৈরি করেছিল…

হাসানুল হক ইনু: আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা-নেত্রী বঙ্গবন্ধুর হত্যা নিয়ে অবান্তর কথা বলেন, তথ্য ছাড়া কথা বলেন। জাসদ ও আওয়ামী লীগের ঐক্যটা চুলচেরা বিশ্লেষণের পরেই শেখ হাসিনা একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। এই দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় বাদী এবং বিবাদী কেউ জাসদ সম্পর্কে একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও নেপথ্যের নায়ক কারা, সেটা সবাই জানেন। সুতারাং দৃশ্যমান হত্যাকারীদের আমরা দেখেছি। নেপথ্যের নায়ক খন্দকার মোশতাকের বিচার হয়নি। এছাড়া আরও যারা হত্যার নেপথ্যের নায়ক, তাদের ব্যাপারে দেশবাসীর জানা উচিত। তবে হত্যার পরে সুফলভোগী কারা, তাদের তালিকা করা হলে এই নিয়ে গবেষণাও করা যেতে পারে। সেই সুফলভোগীদের তালিকায় জাসদ নেই। বরং ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের হত্যার পরে ১৭ আগস্ট খুনী মোশতাকের বিরুদ্ধে জাসদ মিছিল করে। মোশতাকের ৮৩ দিনের শাসনামলে জাসদের শতাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। এর কারণ জাসদ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা করেছিল। পরবর্তীতে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের বিরোধিতা করার কারণে কর্নেল তাহেরসহ জাসদের অনেকে প্রাণ হারান।

বাংলা ট্রিবিউন: অনেক সময় গুঞ্জন ওঠে, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে আপনি ট্যাংকের ওপরে উল্লাস করেছেন…

হাসানুল হক ইনু: ফেসবুকে একটা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করে জামায়াত শিবিরের বাঁশের কেল্লা। এখানে প্রথম কথা হচ্ছে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে প্রথম দিন ঢাকা শহরে কেউ উল্লাস করেনি। এই নিয়ে গণমাধ্যমে কোনও রিপোর্ট নেই। ঢাকা শহরেও কোনও সেনাবাহিনীর মুভমেন্ট ছিল না, কেবলমাত্র বঙ্গভবন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাহবাগ বেতার কেন্দ্র, রামপুরা টেলিভিশন আর ক্যান্টনমেন্ট কেন্দ্রের বাইরে ট্যাংক মুভমেন্ট ছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে ১৫ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত কোনও উল্লাস বা আনন্দ মিছিল হয়নি এবং ট্যাংকের ওপর নাচানাচির ঘটনা তো ঘটেইনি। আর আমি তখন আত্মগোপনে ছিলাম। এছাড়া ’৭২ সালে জাসদের রাজনীতি শুরু থেকে আমি কখনও প্যান্ট-শার্ট পরিনি। ওখানে প্যান্ট-শার্ট পরা একটি লোকের ট্যাংকের ওপরের ছবি আছে। আর এটাকে নিয়ে জামায়াত মিথ্যাচার করছে আওয়ামী লীগ ও জাসদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে।

সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, এছাড়া ট্যাংক বা সামরিক বাহিনীর ট্রাকের ওপর মানুষের উল্লাস হয়েছিল ৭ নভেম্বর সিপাহী বিপ্লবের পরে। এই ৭ নভেম্বরেও আমার যে বয়স ছিল, তাতে ট্যাংকের ওপর উঠে নাচার মতো বয়স ছিল না। তখন আমি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দেন-দরবারে ব্যস্ত ছিলাম। সুতারাং এই যে ট্যাংকের ওপরে যে ছবিটা দিচ্ছে ৭ নভেম্বরের, এই রকম বহু ছবি আছে। সেগুলো মানুষের ছবি। সাধারণ মানুষেরা ট্যাংকের ওপর উঠে নাচানাচি করেছে। আমরা রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করেছি এবং রাজনৈতিক কারণে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা করেছি। আর যদি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জাসদ থাকে, শেখ হাসিনা তো বুঝে-শুনে ঐক্য করেছেন আমাদের সঙ্গে। শেখ হাসিনা তো সবকিছুর তথ্য নিয়ে জোট করেছেন।

বাংলা ট্রিবিউন: জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকারবিরোধী দলগুলো থেকে একাদশ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে…

হাসানুল হক ইনু: নির্বাচন নির্বাচনি আইনে হয়। নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত-ঐক্যফ্রন্ট অংশগ্রহণ করেছে। নির্বাচনি ব্যবস্থার সন্তুষ্টির পরেই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচনের দিন বিকাল ৪টা পর্যন্ত তারা নির্বাচনে ছিল। ৪০ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ২২টি কেন্দ্রে, এটা গণমাধ্যমের রিপোর্ট। বাকি কেন্দ্রেগুলোতে নির্বাচন চলাকালীন বিএনপি ওইসব কেন্দ্রের প্রিজাইডিং বা রিটার্নিং অফিসারের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এখন নির্বাচন শেষে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করছে, এসব অভিযোগ নিষ্পত্তি করার যে পদ্ধতি আছে, তাতে তারা এখনও কোনও প্রস্তাব দাঁড় করায়নি। বিএনপি একটি নির্বাচন অভিজ্ঞ দল। নির্বাচন চলাকালীন তারা কাগজে-কলমে কোনও অভিযোগ না করে মুখে মুখে ঢালাওভাবে অভিযোগ দিয়েছে। মুখে এই ঢালাও অভিযোগের কোনও অর্থ নেই। আসলে বিএনপি নির্বাচনের ভরাডুবির ব্যর্থতা আড়াল করতে একটা পর একটা অভিযোগের ফিরিস্তি তুলছে।

ইনু দাবি করেন, প্রথম দিন থেকে বিএনপি নির্বাচনের ওপর কোনও মনযোগ দেয়নি। তারা একটি গায়েবি নির্দেশ বা পদক্ষেপের আশায় দিন গুনেছে। তারা প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বিলম্ব করেছে এবং মনোনয়ন-বাণিজ্যের আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া বিএনপির অনেক প্রার্থী নির্বাচনি মাঠেই যাননি। ফলে তাদের নির্বাচনের চেয়ে মনোযোগ ছিল চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও গায়েবি নির্দেশের দিকে। এ জন্য তারা ঢাকায় বসে টেলিভিশনে পর্দায় গলাবাজি করেছে, কিন্তু নির্বাচনি মাঠে কোনও তৎপরতা চালায়নি। আমরা যদি তদন্ত করে দেখি, ৪০ হাজার কেন্দ্রের মধ্যে বেশির ভাগ কেন্দ্রে তারা এজেন্ট দেয়নি এবং প্রার্থীর উপস্থিতিও ছিল না। বিএনপির শপথ না দেওয়া এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি, একটা নতুন চক্রান্তের বীজবপন। বিএনপির বিরাট পরাজয়ের বড় আরেকটি কারণ তারা ২ কোটি ২৫ লাখ ভোটারের ওপর কোনও নজর দেয়নি। নতুন ভোটাররা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর তাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা এলোমেলো হয়ে আমাদের মহাজোটের প্রার্থী-কর্মীদের সঙ্গে মিলেমেশে নৌকার পক্ষে কাজ করেছে। ’৭০ সালের নির্বাচন যেমন মুসলিম লীগের রাজনীতির অবসানের সূত্রপাত হয়, তেমনি এই নির্বাচনটাও, মনে হয়, বিএনপির রাজনীতির যুগের অবসানের সূত্রপাত হলো।

সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন, এখন কথা হচ্ছে যেই যুক্তিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল, একই যুক্তিতে ঐক্যফ্রন্টের এমপিরা সংসদে যোগ দিতে পারেন। সংসদে থাকুক আর না-থাকুক তাতে তো মাঠের আন্দোলনের হেরফের হচ্ছে না। নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকার উৎখাত-উৎখাত খেলার দিন ক্রমাগত শেষ হয়ে যাচ্ছে। সরকারি দল বা বিরোধী— সব দলের এমপিদের তথ্য দিয়ে কথা বলার সংস্কৃতি রপ্ত করতে হবে। সংসদে বসে গলাবাজির দিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিএনপি গত ১০ বছরে শক্ত কোনও আন্দোলন বা সমালোচনাও করতে পারেনি, যেহেতু তাদের মন পড়েছিল অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারের উৎখাত করায়। ফলে তারা তথ্যভিত্তিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কোনও কথা বলতে পারেনি। ২০০৮ সালের ভোটে তো বিএনপি বিপুলভাবে হেরেছিল। তখন ৩০টি সিট পেয়েছিল। সেই নির্বাচন তো শেখ হাসিনার অধীনে হয়নি।

বাংলা ট্রিবিউন: ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের মন্ত্রিত্ব না দেওয়ার কারণ কী বলে মনে করেন এবং আবার মন্ত্রিত্ব দিলে নেবেন কিনা?

হাসানুল হক ইনু: মন্ত্রিসভা যেভাবে গঠিত হয়েছে, তার ব্যাখ্যা একমাত্র খোদ প্রধানমন্ত্রী দিতে পারেন। কেন বাদ দেওয়া হয়েছে! তবে আমি তার প্রাথমিক এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আমরা জোটে আছি। ফলে পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা করবো। আর ভবিষ্যত নিয়ে আমি কোনও কথা বলতে চাই না।

বাংলা ট্রিবিউন: কয়েকবার জাসদ ভেঙেছে। এই ভাঙনের কারণ কী?

হাসানুল হক ইনু: রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থের কারণে দলে ভাঙন হয়েছে। দুটি কারণই বিদ্যমান। রাজনৈতিক কারণে বাসদ হয়েছে। মূল কারণ হচ্ছে রাজনীতিকে যখন সামরিক শাসনের হস্তক্ষেপ হতে থাকে তখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগের মতো দলকে ২১ বছর লেগেছে ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে। আওয়ামী লীগেও ভাঙন হয়েছে। সুতরাং কোনও দলই সামরিক শাসনের হস্তক্ষেপ থেকে রেহাই পায়নি। জাসদেও ভাঙন হয়েছে। তবে যারা জাসদ থেকে গেছে তারা সবাই ব্যক্তিস্বার্থে গেছে।

বাংলা ট্রিবিউন: ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতি কী হবে, কেমন হওয়া উচিত?

হাসানুল হক ইনু: জঙ্গি, সাম্প্রদায়িকতা থেকে বাংলাদেশকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করতে হবে। এই কাজটা এখনও একটু বাকি আছে। ’৭৫-এর পর থেকে একবার রাজাকারের সরকার, আরেকবার মুক্তিযুদ্ধের সরকার, রাজনীতির এই মিউজিক্যাল খেলাটা বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। সরকার ও বিরোধী— উভয় দলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি থাকবে। বিএনপি রাজাকার সমর্থিত দল। এই ৫ বছরে যদি বিএনপির রাজনীতির যুগের অবসানটা ঘটানো যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেই রাজনীতির খেলা থেকে বেরিয়ে যাবে। এছাড়া শোষণ ও বৈষম্যমুক্তি তথা সমাজতন্ত্র ছাড়া গণতন্ত্র হচ্ছে পোড়া রুটি।

উৎসঃ ‌বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ সেই প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকের হাত-পা বাধা অবস্থায় ডোবা থেকে লাশ উদ্ধার!


অবশেষে সেই প্রিজাইডিং অফিসার নিহত হয়েছেন। তাকে গুম করে হত্যা করে হাত-পা বাধা অবস্থায় ধামইরহাটের একটি ডোবায় ফেলে রাখা হয়। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভোট ডাকাতি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে ঐ শিক্ষক বিবেকের তাড়নায় ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়ার জন্য কাউকে তথ্য সরবরাহ করেন। কোনো এক মাধ্যমে সেই পোস্টটি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সায়েদুল ইসলাম মন্টু নামে এক ব্তাযক্তির নিকট আসে এবং তিনি গত ১লা জানুয়ারি সে শিক্ষকের লেখাটি তার ফেসবুকে পোস্ট করেন।

এর প্রায় একমাস পর তাকে গুম করে হতায় করা হয়। এই খবরটি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সায়েদুল ইসলাম মন্টু (Sayedul Islam Montu) নামের সেই ব্যক্তিই আবার তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন। তিনি তার ফেসবুক আইডিতে গত ৩১ জানুয়ারিতে ফেসবুকে লাশের ছবিসহ স্ট্যাটাস দিয়েছে। তার স্ট্যাটাসটি পাঠকের জন্য নিচে হুবহু তুলে ধরা হলঃ 

“আমি কয়েকদিন আগে আমার একটি স্ট্যাটাসে একজন শিক্ষকের কথা লিখেছিলাম যিনি ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে নির্বাচনের আগের দিন ২৯শে ডিসেম্বরে রাতের আঁধারে ক্ষমতাসীন সরকার তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বিডিআর, র‍্যাব, আনসার এবং সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডারদের মাধ্যমে সম্মিলিত ভাবে সারা দেশের ৪০১৩৩টি ভোট কেন্দ্রে স্মরণকালের ঘৃণ্যতম, ন্যাক্কারজনক, নিকৃস্ট ভোট ডাকাতির যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা প্রত্যক্ষ করেছেন। ঐ ঘটনাকে প্রতিহত করতে না পেরে তিনি বিবেকের তাড়নায় সেই দিনের একটি বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছিলেন।

আমি তার নিরাপত্তার স্বার্থে আমার ঐ স্ট্যাটাসে তার নাম পরিচয় তখন প্রকাশ করিনি। কিন্তু কোন না কোন ভাবে হয়তো তার নামটি প্রকাশ হয়ে গিয়েছিলো। তাইতো গত ২৪শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ধামইরহাটের একটি ডোবা থেকে হাত পা বাধা অবস্থায় ঐ শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। (কিন্তু কিছু পত্রিকার খবরে দেখা যাচ্ছে, ১৭ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার উপজেলার ঘুকশী নদীর ব্রিজের নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।)

এমএ জামাল উদ্দিন (৪৫) নামের ঐ শিক্ষক যিনি নওগাঁর ধামইরহাটের জাহানপুর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের মৃত কায়েম উদ্দিনের ছেলে এবং জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজে বিএম শাখার বাংলা বিভাগের প্রভাষক।

ঘটনাটি শুনে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। বাংলাদেশ এখন যেনো একটি মৃত্যুপুরী।

আমি আমার সেই পুরনো ঐ স্ট্যাটাসটি আবারও সকলের জন্য নিচে সংযুক্ত করলামঃ

একজন শিক্ষক যিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালিন করেছিলেন।

সেই শিক্ষকের লেখাটিতে ভোট জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র ওঠে এসেছেঃ

এক প্রিজাইডিং অফিসারের আত্মগ্লানি, চরম একটি জঘন্য অভিজ্ঞতা; একা একা কেঁদেছি নিজের অক্ষমতায়। নিজের দেশ, জাতি ও জনগণের বিরুদ্ধে সীমাহীন এ অপকর্মের অনন্যোপায় সঙ্গী হয়ে! আমি একজন প্রিজাইডিং অফিসার ছিলাম। আমার কিছুই করার ছিলো না। আমার কেন্দ্রে ভোটার ছিল ২৩৮৭ টা। ওরা রাতেই ১৫০০ ব্যালটে সীল মেরেছে। দিনে জোর করে আরো ৪০০ ব্যালট নিয়ে ও নিজেদের লোক দিয়ে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়েছে।

শুধু এভাবেই ওরা ভোট নিয়ে নেয় ১৯০০; এই কেন্দ্রে ধানের শীষ পেয়েছে মাত্র ২৭ ভোট, তাতেই তাদের মাথা গরম।
এই ২৭ জন কারা, এটাও তাদের মাথা ব্যথার কারণ হয়েছে! বলছি আসল কথা; এসপি, ডিসি, নৌকার প্রার্থী এরা সকলে বসে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো, এভাবেই ভোট হবে।
এতে কোন লুকোছাপা ছিলো না। ছিলো না কোন গোপনীয়তার ব্যাপারও।

ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রশাসন ও উচ্চপর্যায়ের পুলিশ অফিসারদের প্রশ্রয়ে ও সম্মতিতে খুব নিরাপদে, উৎসাহ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২৯শে ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ভোট ডাকাতি করেছে, কিছুই করার ছিলো না অন্য কারো! তাদের সামনে আমরা সকলে ছিলাম নিস্তেজ ও অসহায়। বলা হয়েছিলো, স্থানীয় নেতারা যেভাবে বলে ঠিক সেভাবেই সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের এখানে সব কেন্দ্রে একই ঘটনা ঘটেছে।

আমাকে জোরাজুরি করায় প্রথমে ৬০০ ব্যালট (৬ বান্ডিল) দেই। সীল শেষে আবার চাইতে আসে ব্যালট, আমি নিষেধ করায় ফোনের পর ফোন। পরে আরো ৬ বান্ডিল দেই। সেগুলো সীল মারার পর আবার আসে। এবারো দিতে চাই নাই বলে স্থানীয় আওয়ামী নেতা হুমকি দেয়। তারপর আরো ৩ বান্ডিল দেই, মোট ১৫০০ (পনের শ’)।

এই সকল কর্মীদের নাকি এসপি, ডিসি বলে দিয়েছে, যে কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে, সে কেন্দ্রের দায়িত্বশীল গ্রুপ পুরস্কার পাবে। ওই নেতা রেগেমেগে চিৎকার করে বলে, আপনি আমাকে পুরস্কার থেকে বঞ্চিত করতে চান?

আমাদের এক নারী সহকর্মীকে নৌকা প্রার্থী কেউ একজন ধমক দিয়েছিলো। ঘটনাটি ডিসি’কে জানিয়ে প্রতিকার চাইলে তিনি বলেছেন, কোন হেল্প পাবেন না, বিপদ তৈরী করছেন কেনো? প্রশাসন ও পুলিশের জুনিয়র কর্মকর্তারা আমাদের প্রতি সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকালেও তারাও ছিলো অসহায়।

আমার সাথে থাকা পুলিশ সদস্যকে এসপি ও ওসি যে অর্ডার দিয়েছিলো, তাতে সে হতবাক হয়েছিলো! তার চোখের কোণে আমি দু’এক ফোঁটা জলও দেখেছি। প্রশাসনে আমাদের মতো ছাপোষা মানুষদের উপরের পর্যায়ে কি ঘটেছে, শুনলে আৎকে উঠবেন। বিভিন্ন জেলায় এসপি, ডিসি সাহেব, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশের অফিসাররা একসাথে বসে, সবাই মিলে মিটিং করে প্ল্যান করেছেন। নিশ্ছিদ্র প্ল্যান করতে জেলায়, জেলায় ডিসিরা ডিনারের দাওয়াত দিয়ে ২/৩ বার মিটিং করেছে। জেলা পর্যায়ের সব অফিসারদের একই অর্ডার দেয়া হয়েছে।

তারপর সব প্রিজাইডিং অফিসারদের ডাকা হয়েছে, তাদেরকে ব্যালট দিয়ে দিতে বলা হয়েছে আগের রাতেই। তারপরেও ভোটারের চাপ সৃষ্টি হলে নৌকার কর্মীরা নিজেদের মধ্যে মিছেমিছি মারামারি করবে, সে কারণে বিজিবি ডাকা হবে, বিজিবি আসার পর এক/দেড় ঘন্টা ভোট স্থগিত রাখতে হবে। সবশেষে ভোট গুনে নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করে চলে আসতে হবে!

প্রিজাইডিং অফিসাররা যেনো বিপদে না পরে তাই ডিসি বলে দিয়েছে, আপনি যদি আমার কথা শুনেন আমি রক্ত দিয়ে আপনাকে রক্ষা করবো, আর যদি আমার কথা না শুনেন তাহলে রক্ত নিতেও দ্বিধা করবো না।

লেখক: প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক

[এই খবরের পুরো স্ট্যাটাসটি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সায়েদুল ইসলাম মন্টু (Sayedul Islam Montu) নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে সংগ্রহীত]

আরও পড়ুনঃ ফ্রি স্টাইলে লুটপাটের মাঝে গণতন্ত্র চলতে পারে না : ড. কামাল


ফ্রি স্টাইলে লুটপাটের মাঝে গণতন্ত্র চলতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। রোববার গণফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিক-এর স্মরণসভায় তিনি বলেন, গণতন্ত্র চলতে পারে না যদি ফ্রি স্টাইলে লুটপাট চলতে থাকে।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় পুলিশেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে সংবিধান প্রণেতা বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবশ্যই পুলিশের ভূমিকা আছে। সবাই চায় পুলিশ তার শপথ মেনে দায়িত্ব পালন করুক। দেশের জনগণকে শ্রদ্ধা করুক, কারণ জনগণ ক্ষমতার মালিক।

ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, সরকার যদি নিজেকে জনগণের সরকার মনে করেন অবশ্যই বৈষম্য হ্রাস করবেন।কেউ দরিদ্র থাকবে আর কেউ সম্পদের পাহাড় গড়বে এটা স্বাধীন দেশে কাম্য নয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হলে আমরা সফল হব।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনে গলদ থাকলে সেখানে অবশ্যই বির্তক থাকে। জনগণ আশা করে, যে সরকারে আছে সে সংবিধানে ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবে। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক।

তিনি বলেন, সংবিধানে যে বলা আছে। যারা আমাদের দেশ শাসন করবে তাদের নির্বাচিত হতে হবে। তাদেরই দেশের মালিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সবাইকে নাগরিক হিসেবে সঠিক দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি হবে। এই সময়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ধারণ করে েএগোতে হবে।

স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল আরো বলেন, আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার করে। অনেক মূল্য দিয়েছি। নাগরিকদের সর্তক ভাবে দায়িত্ব করতে হবে। যে সরকার বা যারাই এখানে দাযিত্ব নেবে তারা সংবিধানে ভিত্তিতে দায়িত্ব নিক। সংবিধানে আছে দেশে কার্যকারন গণতন্ত্র থাকবে। নামকাওয়াস্তে গণতন্ত্র না। তিনি বলেন, জগণের শাসক হিসাবে তিনি অবশ্যই চাইবেন সুশাসন হোক। আইনের শাসন হোক।

স্মরণ সভায় স্মরণসভায় গণফোরাম অন্যান্য নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, আ.ও.ম শফিক উল্লাহ, সাইদুর রহমান সাইদ,মোশতাক আহমদ, খান সিদ্দিকুর রহমান, সাইদুর রহমান সাইদ ,রফিকুল ইসলাম পথিক, মিজানুর রহমান মিজান অ্যডভোকেট মোঃ জানে আলম, মুহম্মদ রওশন ইয়াজদানী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এর আগে সকাল ৮টায় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিকের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানায় গণফোরাম নেতৃবৃন্দ।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস! (ভিডিও সহ)


অবশেষে ধরা খেলেন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকদের নেতা ও দখল করে নেয়া একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। আব্দুস সালামকে জেলে ভরে একুশে টিভি দখলে নেয়ার পরই পুরনো সাংবাদিকদেরকে বের করে দিয়ে বুলবুল তার পছন্দের লোকদের নিয়োগ দেয় এখানে। কয়েকজন নারীকর্মীকে প্রথম থেকেই যৌন নির্যাতন করে আসছেন বুলবুল। চাকরি এবং মান সম্মানের কারণে বুলবুলের এসব যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খুলেননি কেউ। কিন্তু একটি পর্যায়ে এসে বুলবুলের এসব অপকর্ম আর চাপা পড়ে থাকেনি। একে একে মুখ খুলতে শুরু করেছেন টেলিভিশনটির নারীকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুলবুলের ডাকা সাড়া না দিলেই নারীকর্মীদের ওপর শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। তার নির্যাতন সইতে না পেরে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

ইতিমধ্যে বুলবুলের এসব অপকর্ম নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন চ্যানেলটির ‘একুশের চোখ’ অনুষ্ঠানের সাবেক সাংবাদিক ইলিয়াছ হোসাইন।

ভিডিওঃ  ‘সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুলের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ভিডিওটিতে দেখা গেছে, নাম প্রকাশ না করে একজন উপস্থাপিকা বলছেন, আমরা কি এখানে দেহ বিক্রি করতে এসেছি? আমরা যারা এখানে কাজ করি প্রত্যেকে আওয়ামীলীগ সরকারকে সাপোর্ট করি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলবো- আপনি নারী সমাজের জন্য অনেক কিছু করেছেন। এই বুলবুলের হাত থেকে একুশে টিভির নারীকর্মীদেরকে রক্ষা করুন।

মিনালা দিবা নামে আরেকজন নারীকর্মী বলছেন-এখানে নিউজ এডিটর মঞ্জু এবং জাহিদও এসব করে। আর এগুলো শুধু একহাতে হ্যান্ডেল হয় না। বুলবুলসহ সবাই জড়িত।

গত ৫ জানুয়ারি চ্যানেলটির বর্তমান পরিচালক ও আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সুবহান গোলাপ এখানে আসলে সাংবাদিকরা অভিযোগ জানাতে তার সঙ্গে দেখা করতে চায়। কিন্তু তাদেরকে বাধা দেয় বুলবুলের সমর্থকরা। বুলবুলের ধারণা দেখা করতে পারলে তারা বুলবুলের সব অপকর্ম বলে দেবে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। বেকায়দা দেখে বুলবুল এসময় এখান থেকে সটকে পড়ে।

You-tube ভিডিওঃ  ‘সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুলের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‘আন্দোলনের ডাক দেন, রাস্তায় গিয়ে মরি’


বিএনপি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের মঙ্গলের জন্য রাজনীতি করে। বিপদের সময় তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

রোববার সকালে যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নে হামলার শিকার বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি পরিদর্শন সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা এ কথা বলে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের দুইদিন আগে বিএনপির এসব তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ড. ওবায়দুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

সকালে জেলা বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদল নেতাদের নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির এ তিন নেতা প্রথমে যান সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে। সেখানে কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাবেক ইউপি সদস্য আমির হোসেনের বাড়িতে তারা কিছু সময় অতিবাহিত করেন ও বাড়ির সদস্যদের সাথে কথা বলেন। এসময় পার্শ্ববর্তী নরেন্দ্রপুর, রামনগর, বসুন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরাও সেখানে হাজির হন।

কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পেয়ে তৃণমূলের এসব নেতারা তাদের কষ্টের কথা বলতে থাকেন। কেন্দ্রের ব্যর্থতায় তৃণমূলে দীর্ঘ দিন ধরে জমতে থাকা ক্ষোভ ও প্রকাশ করতে থাকেন তারা।

কথা বলেন নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওলিয়ার রহমান, একই ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ, রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন প্রমুখ।

তারা বলেন, ‘খালেদা জিয়া কবে মুক্তি পাবেন? কী করছেন আপনারা? আন্দোলনে যাচ্ছেন না কেন? না খেয়ে পালিয়ে থাকতে থাকতে তো এমনিতেই মরতে বসেছি। আন্দোলনের ডাক দেন, রাস্তায় গিয়ে মরি। আন্দোলনে আমরা তো ব্যর্থ হইনি, আপনারা (কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ করে) ব্যর্থ হয়েছেন’।

২৮ ডিসেম্বর রাতে হামলার ঘটনা বর্ণনা করার সময় বিএনপি নেতা আমির হোসেনের দুই ভাইয়ের স্ত্রী লিলুফা ইয়াসমিন ও পাপিয়া আক্তার বলেন, ‘আমাদের গ্রামের মহিলারা জীবনে কোনদিন গুলির শব্দ শুনিনি। ২৮ ডিসেম্বর রাতেই প্রথম শুনেছি। হামলা, ভাংচুর, নির্যাতন অনেক সহ্য করছি। আমাদের শুধু বলেন, আমাদের মা কবে মুক্তি পাবে’।

এখান থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা একই গ্রামের বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক খানের বাড়ি ও পরে লেবুতলা ইউয়নের এনায়েতপুর গ্রামের দাউদ হোসেনের বাড়িতে যান। এ দুই নেতার বাড়িতে ভাংচুরের স্থানগুলো পরিদর্শন ও বাড়ির সদস্যদের সাথে কথা বলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে বিকেলে জেলা বিএনপির কার্যলয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় থানা, পৌর ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় নেতারা বলেন , আন্দোলনের ডাক দেন, রাস্তায় গিয়ে মরি ঘরে বসে আর মরতে চাই না।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তবে কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিএনপি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের মঙ্গলের জন্য রাজনীতি করে। বিপদের সময় তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে আমরা কথা বললাম। তারা অনেক কিছুই বলেছেন। এসব কথার কোনটাই মূল্যহীন না। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেক কিছু চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়’।

তিনি বলেন, ‘তারপরও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কথাগুলো, ভাবনাগুলো আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতাদের অবহিত করবো’।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ভাত খাওয়ার অভ্যাস বদলিয়ে বেশি করে শাক-সবজি খানঃ শেখ হাসিনা


একগাদা ভাত খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করে বেশি করে শাক-সবজি, পুষ্টিসমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। শাক-সবজি, মাছ-মাংস, দুধসহ সুষম খাদ্য উৎপাদনে সফলতা ও সরকারের মনোযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা।

সুষম খাবার খাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, সবাইকে আমি বলবো একগাদা ভাতই শুধু খেলে হবে না। ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক-সবজিও বেশি করে খেতে হবে। আর মাছ-ডিম তো আছেই। যাতে খাবারটা সুষম হয়। আর সুষম খাবার হলেই পুষ্টি নিশ্চয়তাটা থাকে।

তিনি বলেন, আমাদের খাদ্যের যে অভ্যাসটা, সেই অভ্যাসটা একটু পরিবর্তন করা দরকার। আমি এটা দেশবাসীকে বলবো, আমাদের ছিল এক থাল পেট ভরে ভাত, সামান্য একটু সবজি খাওয়ার অভ্যাস।

বেশি করে শাক-সবজি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ভাতের সঙ্গে আমরা যদি তরি-তরকারি, সবজি খেতে হবে। সবজির মধ্য দিয়ে কিন্তু অনেক পুষ্টি আসে। সেটাও আমরা ব্যবহার করতে পারি। তাছাড়া এখনতো মাছ উৎপাদনেও আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ।

মাংস ও দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের পোল্ট্রিও বেড়েছে- মুরগির খামার বাড়িয়েছি। দুধ উৎপাদন যাতে বাড়ে তার ব্যবস্থাও আমরা করে দিয়েছি। অর্থাৎ, পুষ্টিকর খাদ্যের দিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছি।

মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। একজন দিনমজুরও যা কামাই করে তা দিয়ে ১০/১২ কেজি চাল কিনতে পারে। অতো চাল হয়তো প্রয়োজন হয় না। একটু মাছও কিনতে পারে, সেভাবে কিনছে এখন। মানুষ সচেতন হচ্ছে।

মেলা ঘুরে দেখেছেন শেখ হাসিনা/ছবি: পিআইডিগবেষণার মাধ্যমে উন্নত জাতের ধান উৎপাদনে সরকারের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যেন পুষ্টিসম্পন্ন ধান হয় সেটাও আমরা সংযোগ করে দিচ্ছি। গবেষণা করে করে করা হচ্ছে।

সুষম খাদ্যের সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে টানা তিন-বারসহ চারবারের শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে বড় কথা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ যতই খাবার খাই, যা খাই যদি আমরা অপরিষ্কার থাকি কোনো খাবারই কাজে লাগবে না। সেদিকে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

এবারের নিরাপদ খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ-সবল জাতি চাই, নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নেই’। শেখ হাসিনা এই প্রতিপাদ্যের প্রশংসা করেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। সভাপতিত্ব করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here