কাশ্মীর নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে কথা বললেন ইমরান খান

0
141

কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় কূটনৈতিক সহায়তা পেতে এবার জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেলের সঙ্গে কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

শুক্রবার অ্যাঙ্গেলা মারকেলের সঙ্গে ফোনালাপে ইমরান খান কাশ্মীরের সাম্প্রতিক বিষয়ে তাকে অবহিত করেছেন বলে ডন ও জিয়ো নিউজের খবরে জানানো হয়েছে।

কাশ্মীর নিয়ে মোদি সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ফোনালাপে ইমরান খান অ্যাঙ্গেলা মারকেলকে বলেন, কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন বাতিলের মাধ্যমে মূলত ওই অঞ্চলের পরিচিতি মুছে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে ভারত। যেটি জাতিসংঘের গৃহীত সিদ্ধান্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উপত্যকাটিতে গণহত্যার আশংকার কথা জানিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে নতুন কোনো ইস্যু সৃষ্টির তৈরির মাধ্যমে ভারত সরকার কাশ্মীর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা করছে।

ইমরান খান বলেন, বিশ্ব শক্তিকে কাশ্মীরি জনগণের পক্ষে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ ইতিমধ্যে সেখানে গণহত্যার ক্ষেত্র তৈরি করেছে মোদি সরকার।

ফোনালাপে অ্যাঙ্গেলা মারকেল ইমরান খানকে জানান, কাশ্মীর নিয়ে সৃষ্ট সংকট জার্মানি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

লাদাখ ও কাশ্মীরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল আনা হয়। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও তাদের ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার অভাবে লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই কক্ষে বিলটি পাস হয়।

এ নিয়ে প্রথম থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। এটা ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত, এই অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয় তারা। কাশ্মীর নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীরি জনগণের অধিকার রক্ষায় ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে জাতিসংঘের স্থায়ী পাঁচ সদস্যসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ভারতকে ফ্রান্সের চাপ


কাশ্মীর সংকট পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করে নিষ্পত্তির জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চাপ দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন। জি-৭ সম্মেলনে এ দু্‌ই নেতার বৈঠকে এ চাপ দেয়া হয়। এছাড়াও নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আবহাওয়া ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার বিয়ারটিজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ম্যাক্রোনের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। মোদি সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এর আগে ম্যাক্রোন নতুন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। ফরাসি সরকারের এক মুখপাত্র বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মহম্মদ কুরেশির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ফ্রান্সের ইউরোপ ও বিদেশ বিষয়কমন্ত্রী জিন-ইয়েভস লে দ্রিয়ান। আলোচনায় উঠে আসে কাশ্মীর প্রসঙ্গও।

তখনই ফরাসি বিদেশমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, কাশ্মীর ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক ইস্যু। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়োল ম্যাক্রোন উত্তেজনা এড়িয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন। গত ৫ই আগস্ট ভারতীয় সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল করে মোদি সরকার। ফলে জম্মু-কাশ্মীর তার বিশেষ মর্যাদা হারায়। এর আগে ভারত সরকার হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে ওই অঞ্চলটিতে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরিদের পাশে থাকার ঘোষণা দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

এ ছাড়া দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কাশ্মীরি জনগণের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দেয়া হয়। মঙ্গলবারের আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরাইশি ফ্রান্সের কাছে আশা প্রকাশ করেন- শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ফ্রান্স ভূমিকা নেবে। কোরাইশি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-ইয়েভস লে দ্রিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কাশ্মীর বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় কোরাইশি ভারতের পক্ষ থেকে কাশ্মীরের শান্তি এবং নিরাপত্তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি অধিকৃত কাশ্মীরে কারফিউর ফলে সেখানকার মানুষের ভোগান্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন। যদিও প্রথম থেকেই কাশ্মীরকে ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয় জানিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, বৃটেনসহ একাধিক দেশ। পাকিস্তানের আর্জিতে বিষয়টি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ওঠে। কিন্তু সেখানেও ‘বন্ধু’ চীন ছাড়া অন্য কোনো দেশের সমর্থন পায়নি পাকিস্তান।

উৎসঃ মানব জমিন

আরও পড়ুনঃ ‘কাশ্মিরি গাজা’য় নজিরবিহীন প্রতিরোধ


আবর্জনার স্তূপে আগুন জ্বালিয়ে পাশের একটি পাথরের স্তূপের কাছে বসে আছেন একদল তরুণ। মসজিদের মাইকে ভেসে আসছে স্বাধীনতার স্লোগান। ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের অবরুদ্ধ একটি গ্রাম সৌরা; যা ‘কাশ্মিরি গাজা’ হিসেবে পরিচিত। এই গ্রামের প্রবেশ পথে বসে পাহারা দিচ্ছেন তরুণরা। গ্রামে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের প্রবেশ ঠেকাতে তারা প্রবেশ পথে নিয়ম করে পাহারা বসিয়েছেন।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন বাতিলে নয়াদিল্লির নেয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কাশ্মিরিদের প্রকাশ্য অবাধ্যতার নজির এটি। কাশ্মিরের প্রধান শহর শ্রীনগরের কাছে ‘সৌরা’র অবস্থান। এই এলাকাটিই কাশ্মিরি গাজা নামে পরিচিত। নিরাপত্তাবাহিনীর কোনো সদস্যই গ্রামটিতে প্রবেশ করতে পারে না।

কাশ্মিরির বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর আগস্টের শুরু থেকেই এখানকার বাসিন্দারা টিনের পাত, কাঠের গুঁড়ি, তেলের ট্যাঙ্ক, কংক্রিটের পিলার ও মাটি খুঁড়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন। ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিদিনের তীব্র বিক্ষোভ-প্রতিবাদের পাশাপাশি তারা এসব করেছেন সেনা সদস্যদের গ্রামে প্রবেশ ঠেকাতে। রাতের বেলা গ্রামের প্রবেশ পথে যে যুবকরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পাহারা দেন, তাদের একজন মুফিদ। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘তারা শুধু আমাদের লাশের ওপর দিয়ে সৌরায় ঢুকতে পারে। আমরা ভারতকে আমাদের এক ইঞ্চি মাটিও দেবো না।’

‘গাজায় যেভাবে ইসরাইলকে প্রতিরোধ করা হচ্ছে, আমরা সেভাবেই আমাদের মাতৃভূমির জন্য সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করব।’ ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে কাশ্মিরে তিন দশকের বেশি সময় ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহ চলছে। নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে; যাদের অধিকাংশই বেসামরিক।

কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের আগেই ভূস্বর্গখ্যাত এই উপত্যকায় হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনাসদস্য মোতায়েন করে ভারত। তার আগে থেকেই কাশ্মিরে ৫ লাখের বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে ছড়াতে না পারে সে জন্য সব ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু তারপরও প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নি¤œ মধ্যবিত্ত সৌরা এলাকা এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছে। গত ৯ আগস্ট এখানে কমপক্ষে ১৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন, এখন পর্যন্ত এটিই কাশ্মিরের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তাবাহিনী তাজা গুলি, টিয়ার গ্যাস ও পেলেট গান নিক্ষেপ করেছে। এতে দুই ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

ভারত ফিরে যা

লেকের পাশে অবস্থিত সৌরায় দুই হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এই এলাকাটি তিন দিক থেকে ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। এই বসতির বিক্ষোভের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে ‘জেনাব সায়েব’ নামের বিখ্যাত একটি মসজিদ। সরু পথ ধরে প্রত্যেক রাতে এখানকার বাসিন্দারা গ্রামে মিছিল করেন। তাদের হাতে থাকে টর্চ লাইট। টর্চের আলোতে প্রাচীরে লেখা গ্রাফিতি ‘কাশ্মিরের স্বাধীনতা’, ‘ভারত যা, ফিরে যা’ ভেসে ওঠে। সৌরার আশপাশে মহাসড়কে পুলিশের কোনো ধরনের উপস্থিতি টের পেলে স্থানীয়রা গ্রামে টহলরত তরুণদের কাছে খবর পৌঁছে দেন।

সৌরায় পুলিশ ড্রোন এবং হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। এই গ্রামের ভেতরে প্রায় তিনবার ড্রোন ও হেলিকপ্টার প্রবেশের চেষ্টা করলেও সৌরার তরুণরা পাথর নিক্ষেপ করে সেগুলো ফেরত যেতে বাধ্য করেছে। অনেক তরুণের কাছে কুঠার এবং হারপুন রয়েছে।

পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে মরিচের গুঁড়া ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এর ঝাঁঝ থেকে বাঁচতে তরুণরা লবণযুক্ত পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলেন। পুলিশের ছোড়া পেলেট গানের আঘাত থেকে বাঁচতে তারা হেলমেট, চশমা পরেন। তবে এই এলাকা থেকে বাইরে বের হওয়ায় সেখানকার তিন তরুণ গ্রেফতার হয়েছেন। কাশ্মিরে এখন পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

নাহিদা নামের এক তরুণী বলেন, ‘তারা আমাদের স্থিতিস্থাপকতার পরীক্ষা নিচ্ছে এবং নিশ্চিতভাবেই তারা এতে ব্যর্থ হবে। শেষে আমরা তাদের পরাজিত করব। এমনকি এই পরিস্থিতি যদি বছরের পর বছর ধরেও চলতে থাকে, আমরা ছাড় দেবো না।’

সৌরার এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলছে যে, অচলাবস্থা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অনেকাংশেই শান্ত রয়েছে কাশ্মির।

ঐতিহাসিক ভুলের সংশোধনের শুরু

সৌরার বাসিন্দা রফিক মনসুর শাহ বলেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে আব্দুল্লাহর সিদ্ধান্তে অনেকেই আশাহত।’ তিনি বলেন, আব্দুল্লাহর পরিবারের ক্ষমতার লোভের কারণে… আমরা ভারতের দাসে পরিণত হয়েছি। আমরা ঐতিহাসিক এই ভুল সংশোধনের চেষ্টা করছি। আমরা পুরো কাশ্মিরকে অনুপ্রাণিত এবং নেতৃত্ব দেয়ার চেষ্টা করছি।

উৎসঃ এএফপি।

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে ১ ভারতীয় সেনা নিহত


জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে এক ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে। শুক্রবার দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গুলিবিনিময় চলাকালীন এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা নিউজ এইটিনের খবরে বলা হয়, রাজৌরি জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে পাকিস্তানি সেনারা শুক্রবার গুলিবর্ষণ করলে রাজীব থাপা নামে একজন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির বাসিন্দা রাজীব থাপা গোর্খা রাইফেলসের জওয়ান ছিলেন।

ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোরে রাজৌরির নওশেরা সেক্টরে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে রাজীব থাপা আহত হলে গুরুতর আহত অবস্থায় সামরিক হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেই মৃত্যু হয় তার।

হামলার জবাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীও পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে ভারতীয় বাহিনীর হামলায় পাকিস্তানি বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কিছু জানায়নি তারা।

গত ১৭ আগস্ট থেকে পাকিস্তানি বাহিনী রাজৌরি ও পুঞ্চ জেলায় ছোট অস্ত্রের সাহায্যে গুলিবর্ষণের পাশপাশি মর্টার হামলা চালালে এনিয়ে ভারতের চতুর্থ মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।

এর আগে গত মঙ্গলবার কৃষ্ণাঘাঁটি সেক্টরে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন রবিরঞ্জন কুমার সিং (৩৬) নামে ভারতীয় এক সেনা সদস্য। ওই দিনই সীমান্তের টাট্টাপানি এলাকার নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকবাহিনীর গুলিতে ৬ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন।

৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

লাদাখ ও কাশ্মীরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল আনা হয়। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও তাদের ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার অভাবে লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই কক্ষে বিলটি পাস হয়।

কাশ্মীর ইস্যুতে শুরু থেকেই যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে। পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পরমাণু নীতিতে পরিবর্তন আনার হুমকিও দিয়েছে ভারত। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ‘উগ্রপন্থি মোদি সরকারে’র হাতে পরমাণু অস্ত্র অনিরাপদ আখ্যায়িত করে বিষয়টিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে সম্মিলিত শাস্তি বন্ধে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের আহ্বান


কাশ্মীরে যোগাযোগ অচলাবস্থা উঠিয়ে দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের একটি দল। বৃহস্পতিবার তারা জানিয়েছেন, এটি কাশ্মীরিদের সম্মিলিত সাজা দেয়ার শামিল। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ভূস্বর্গখ্যাত উপত্যকাটির সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা কেড়ে নেয়ার পর সেখানে আরোপ করা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ।-খবর এএফপির

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের অচলাবস্থা জারি করা প্রয়োজনীয় ও সমানুপাতিক অধিকারের মৌলিক নীতিমালার সঙ্গে বেমানান।

এমনকি কোনো অপরাধের কারণ ছাড়াই জম্মু ও কাশ্মীরের লোকজনের ওপর এ অচলাবস্থা সম্মিলিত শাস্তি মতোই বলে তারা জানান। এতে এই বিধিনিষেধকে স্বাভাবিক বৈষম্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

স্বাধীনভাবে চলাচল ও জমায়েতে বিধিনিষেধসহ কাশ্মীরজুড়ে আরোপ করা কারফিউ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত তিন দশক ধরে কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামীদের সশস্ত্র বিদ্রোহ চলছে। ভারতীয় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ওই বিদ্রোহে হাজার হাজার বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়ার ঘোষণা দেয় ভারতীয় সরকার। এর আগে সেখানে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও হিমালয় অঞ্চলটিতে আগে থেকেই পাঁচ লাখের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল।

নিরাপত্তা ও সরকারি বাহিনীর তথ্যানুসারে, উপত্যকাটিতে অন্তত চার হাজার লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও বিক্ষোভকারীসহ অন্যদের গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।

মানুষের বাসাবাড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর নৈশ অভিযানে তরুণদের আটক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, এসব আটকের ঘটনায় মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটছে। কাজেই এসব অভিযোগের ব্যাপারে একটি তদন্ত করতে কর্তৃপক্ষের কাছে তারা আহ্বান জানান।

কিছু কিছু আটক ব্যক্তিকে অজ্ঞাত স্থানে রাখা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, এতে লোকজনের গুম হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরের আটক নেতাদের মুক্তির দাবি ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর


কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর রাজ্যটির সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীসহ শতশত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর মুক্তির দাবি জানিয়েছে কংগ্রেসসহ ভারতের ৯টি বিরোধী রাজনৈতিক দল। বৃহস্পতিবার দিল্লির যন্ত্ররমন্তরে ডিএমকের ডাকে যোগ দেয় কংগ্রেস, তৃণমূল ও সিপিএম, সিপিআই, এসপি, আরজেডি, ন্যাশনাল কনফারেন্স ও এমডিএমকে। দ্য হিন্দু, টাইমস অব ইন্ডিয়া

যৌথ বিবৃতিতে বিরোধী দলগুলো কাশ্মীরের জনগণ ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ব্যতিত বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও রাজ্যে অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারির প্রতিবাদ জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সরকার বাক স্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকার নিয়ে তামাশা করছে। এই কঠিন সময়ে আমরা জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের পাশে আছি। কাশ্মীরকে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা, সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাসহ সুশীল সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের আটক ভয়াবহ উদ্বেগের কারণ। এটি ভারতের সংবিধানের পরিপন্থী। আমরা অতিসত্ত¡র সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও নিরপরাধ নাগরিকদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

কাশ্মীরের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর এই বিক্ষোভে কংগ্রেসের প্রতিনিধি হয়ে যোগ দেন কংগ্রেস নেতা গোলাম নবী আজাদ, সিপিএম এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়াচুরি, সিপিআইএর সাধারণ সচিব ডি রাজা, সমাজবাদী পার্টির নেতা রামগোপাল যাদব, লোকতান্ত্রিক জনতাল দলের শরদ যাদব, আরজেডি এর মানোস জা ও টিএমসির দিনেশ ত্রিবেদী। গোলাম নবী আজাদ বলেন, ‘এটি গণতন্ত্র না। আমরা যদি এটি বুঝতে ব্যর্থ হই তবে বুঝতে হবে আমরা বোকার স্বর্গে বাস করছি। কাশ্মীরের পরিস্থিতি সরকার পুরোপুরি চাপা দিতে চাইছে। সেখানে সত্য প্রচারে কোন গণমাধ্যমকে অনুমতি দেয়া হচ্ছে না।

উৎসঃ বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ ভারতের হামলার মুখে কতটুকু প্রস্তুত পাকিস্তান?


ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা যখন তীব্র, তখনই ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং মন্তব্য করলেন যে ভারত তার প্রথম ব্যবহার না করার পরমাণু নীতি পরিবর্তন করার কথা বিবেচনা করছে এবং তা নির্ভর করবে পরিস্থিতির ওপর।পাকিস্তানের ডিজি আইএসপিআর ও বেশ কয়েকজন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ যথার্থভাবেই এর সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতের পরমাণু রণডঙ্কা বাজানোর বিষয়টির প্রতি নজর দেয়ার জন্য বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিদেশী বিশেষজ্ঞ ও পরমাণু বিশেষজ্ঞরা এটিকে নীতিগত অবস্থান বিবেচনা করলেও পাকিস্তানের সামরিক ও পরমাণু এস্টাবলিশমেন্ট কখনো ভারতের প্রথমে ব্যবহার নয় মতবাদটি গুরুত্ব দিয়ে নেয়নি বা এর ভিত্তিতে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রদান করার পরিকল্পনা করেনি। প্রথমে ব্যবহার নয় নীতিটি গ্রহণ করলে ভারতের সাথে প্রচলিত যুদ্ধে পাকিস্তান খুবই নাজুক অবস্থায় পড়ে যাবে। অধিকন্তু, এই বাস্তবতাও পাকিস্তান এড়িয়ে যেতে পারে না যে ভারত আনায়াসেই তার প্রথম ব্যবহার নীতি থেকে সরে যেতে পারে, সেকেন্ড স্ট্রাইক মতবাদ প্রয়োগ করতে পারে। তাছাড়া পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যদি জীবাণু ও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়, তবে পরিস্থিতি কী হবে সেটাই উপেক্ষা করা যায় না।পাকিস্তান জীবাণু ও রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা চুক্তিতে সই করেছে। এতে এ ব্যাপারে পাকিস্তানের নীতি প্রতিফলিত হয়েছে।

এতে বোঝা যাচ্ছে, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের কোনো সামরিক মূল্য নেই, এটি পাকিস্তানের পরমাণু মতবাদ বা এর বর্তমান ও ভবিষ্যত মোতায়েনের ওপর কোনো প্রভাবও ফেলবে না। তবে অত্যন্ত দায়িত্বহীন এই মন্তব্যে বিজেপির ক্ষমতাসীন জান্তার বর্তমান মানসিক অবস্থাই ফুটে ওঠেছে। তাছাড়া তিক্ত প্রতিপক্ষের সাথে বিশেষ করে তীব্র উত্তেজনার সময় পরমাণু সম্পর্ক কিভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হয়, সে ব্যাপারে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ধারণায় ঘাটতির বিষয়টিও এতে প্রকটভাবে প্রকাশিত হয়েছে। ভারত সরকার কিভাবে পরমাণু হামলা চালানোর পর পাকিস্তানের কাছ থেকে কোনো ধরনের জবাব না পাওয়ার আশা করতে পারে? পাকিস্তানের অখণ্ডতা যখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, যেমনটি ২০০০ সালের ডিসেম্বরে বিপুলসংখ্যক সৈন্য সীমান্তে মোতায়েন করেছিল ভারত, তখন পাকিস্তান প্রচলিত ও পরমাণু শক্তি ব্যবহার করতেই পারে। ওই মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে ১৯ বছর ধরে পাকিস্তান ও ভারত তাদের পরমাণু সামর্থ্য আরো উন্নত ও আধুনিক করেছে। এ কারণে বর্তমান কাশ্মির সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে পরমাণু কার্ডের ব্যবহার নিয়ে ভারতীয় নেতৃত্ব যে মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দায়িত্বহীন।

আঞ্চলিক উত্তেজনা আরো বাড়ে এমন কোনো মন্তব্য করা বা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে সংযম প্রদর্শন করা উচিত ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের। এ সময়ে ভারতের প্রচলিত বা পরমাণু শক্তির যেকোনো আক্রমণতাম্ক মোতায়েন বা পদক্ষেপ পাকিস্তানের কাছ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান স্পষ্টভাবে তা বলেছেন এবং সেনাপ্রধানও তা জানিয়েছেন।

ভারত যদি মনে করে থাকে যে প্রচলিত অস্ত্রে বিপুলভাবে এগিয়ে থাকার সুবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য পাবে, তবে তাতে তারা ভুল করবে। বারবার দেখা গেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে ভারতের প্রচলিত সংখ্যাগত সামরিক সুবিধা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী নিস্ক্রিয় করে ফেলেছে। পাকিস্তান সামরিক বাহিনী অনেক বছরের যুদ্ধে কঠোর হয়েছে, তাদের পেশাদগত দক্ষতাও ব্যাপক।

আর পাকিস্তানের পরমাণু নীতিতে এমনকি প্রচলিত যুদ্ধেও প্রথম ব্যবহার করার বিষয়টিও রয়েছে। পাকিস্তানের তুলনামূলক সীমিত কৌশলগত গভীরতার বিষয়টি বিবেচনা করলে এই নীতিটি বোধগম্য হবে। এটি কোনো ধরনের রোমাঞ্চকর কর্মকাণ্ড গ্রহণ থেকে ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে বিরত রেখেছে, ভবিষ্যতেও তা করবে বলে আশা করা যায়। এটি ন্যাটো ও ফরাসি পরমাণু মতবাদের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইসলাবাদের বিশ্বাসযোগ্য পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার তার ভীতিপ্রদর্শন সামর্থ্য বাড়িয়েছে। ফলে আগাম হামলা চালিয়ে সহজেই কিছু করে ফেলার কথা যদি চিন্তা করে ভারত, তবে তা হবে বড় ধরনের ভুল। অধিকন্তু, পাকিস্তানের পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র ও সম্পদগুলো নানা স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, যথাযথভাবে মজুত ও সংরক্ষিত রয়েছে। এই শক্তি প্রতিশোধমূলক কাজে অত্যন্ত কার্যকর। এই বাস্তবতা নিয়ে ভারতীয় নেতৃত্বের উচিত হবে তাদের অবস্থান নতুন করে চিন্তা করা ও সংযত আচরণ করা। বর্তমান যুদ্ধ উন্মাদনার অবসান হওয়া উচিত।

পাকিস্তানের অঘোষিত পরমাণু মতবাদের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি প্রচলিত ও পরমাণু শক্তির সাথে একীভূত রয়েছে। অর্থাৎ ভারত যাতে প্রচলিত যুদ্ধে সুবিধা করতে না পারে সেই লক্ষ্যে এই নীতি প্রণীত। অর্থাৎ দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে দ্রুত তা পরমাণু যুদ্ধে পরিণত হয়ে যেতে পারে। ভারত মতবাদগত দিক থেকে অনেক কিছু প্রকাশ করলেও পরমাণু শক্তি ব্যবহারের সাংগঠনিক দিক থেকে সে এখনো অস্পষ্টতায় ভুগছে।

ভারত যদি আক্রমণ করে তবে পাকিস্তানের প্রচলিত বাহিনী বাইরের শক্তিগুলোর কূটনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করা ও তা পরমাণু বিনিময়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত তা ঠেকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী।

ইসরাইলের কাছ থেকৈ পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি কিনে ভারত ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে। আইনগত বাধার কারণে এই প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা পাশ্চাত্যের অন্যান্য দেশের কাছ থেকে পেত না। তবে পাকিস্তানও তার শক্তি উন্নয়নে প্রয়অস অব্যাহত রেখেছে। ক্লাসিক ৫ পরমাণু শক্তির মতো পাকিস্তান ও ভারতও পরমাণু অস্ত্র নিক্ষেপের জন্য বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল।

চীনা ফ্যাক্টরকে বিবেচনা করতে হবে বলেই ভারত সবসময় পাকিস্তানের সাথে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত মুখোমুখি হতে বিরোধিতা করে আসছে। অন্য দিকে চীন তার প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্রকে। ভারতের সাথে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এবং দুই দেশের সম্পর্ক মারাত্মক বৈরী হওয়ায় পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভাব্য ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই কোনো প্রতিরোধব্যবস্থা বিকাশ ও বজায় রাখতেই হবে।

উৎসঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে মুসলিম গণহত্যার ১০টি আলামত প্রকাশ করেছে


জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর উপত্যকাটিতে গণহত্যার সতর্কতা জারি করেছে জেনোসাইড ওয়াচ।

বৃহস্পতিবার গণহত্যার সতর্কতা জারি করে বিবৃতি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। খবর ডনের।

গণহত্যা প্রতিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটির ওয়েবসাইটে জারি করা ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, ভারতের কাশ্মীর ও আসামে গণহত্যার প্রাথমিক ১০টি ধাপ বা লক্ষণের কয়েকটি ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, একতরফা ও অবৈধ পদক্ষেপের মাধ্যমে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উপত্যকায় এখন গণহত্যা চালানোর পথে রয়েছে।

বিবৃতিতে কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ থামাতে অতিসত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘ ও এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেনোসাইড ওয়াচ।

জেনোসাইড ওয়াচের প্রেসিডেন্ট গ্রেগরি এইচ স্ট্যান্টনের গণহত্যা বিষয়ক দশটি বিষয়ের আলোকে ওই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

১. জনগণের শ্রেণীকরণ: কাশ্মীরে ভারতীয় হিন্দু ও শিখ ধর্মাবলম্বী সেনাবাহিনীকে ভারত সরকার ‘আমরা’ এবং কাশ্মীরি মুসলিমদেরকে ‘তারা’ এই দুই ভাগে ভাগ করেছে।

২. প্রতীক চিহ্নিতকরণ: গণহত্যা প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ এবং এ ধাপে কাশ্মীরের নাগরিকদের প্রত্যেকের মুসলিম নাম, ভাষা, পোশাক এবং মসজিদকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

৩. বৈষম্য: ১৯৯০ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিকভাবে কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণ করত হিন্দু পণ্ডিতরা। বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিজেপি পুনরায় কাশ্মীরে হিন্দু পণ্ডিতদের প্রভাব বৃদ্ধি করছে।

৪. অমানবিকতা: কাশ্মীরের মুসলমান নাগরিকদের ‘সন্ত্রাস, বিচ্ছিন্নতাবাদী, অপরাধী, বিদ্রোহী’ নামে অভিহিত করার মাধ্যমে দানব হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

৫. সংগঠিতকরণ: ভারি আগ্নেয়াস্ত্রসহ প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য এবং পুলিশকে কাশ্মীরে সংগঠিত করা হয়েছে।

৬. মেরুকরণ: প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বিজেপি কাশ্মীরে মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারণা চালাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

৭. প্রস্তুতি: কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে ভারতের সেনাবাহিনী। যে কোনো মূল্যে কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণকে ‘চূড়ান্ত সমাধান’ বলছে বিজেপি নেতারা।

৮. দমন-পীড়ন: কাশ্মীরের নাগরিকদের খাঁচাবন্দি করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে তাদেরকে গ্রেফতার, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যা করা হচ্ছে।

৯. বিলুপ্তকরণ: ১৯৯০ সাল থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে অন্তত ২৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। পাশাপাশি পঁচিশজনের বেশি মুসলমান বিদ্রোহী নিহত হয়েছে।

১০. অস্বীকার: কাশ্মীরের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের দাবি করেছে মোদি সরকার। ক্ষমতাসীন বিজেপি কাশ্মীরে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ভারতের সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য অথবা পুলিশ কর্তৃক কাশ্মীরের কাউকে নির্যাতন, হত্যা অথবা নিহতের চেষ্টার অভিযোগও অস্বীকার করে আসছে সরকার।

জেনোসাইড ওয়াচ ১৯৯৯ সাল থেকে বিশ্বে গণহত্যা প্রতিরোধ, বন্ধ ও এ অপরাধের শাস্তির জন্য কাজ করে আসছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য গণহত্যা এবং সংঘটিত গণহত্যা সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে চেষ্টা করছে।
গত ৫ আগস্ট নরেন্দ্র মোদির সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা (ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ) বাতিল করে দিয়েছে। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরকে ভেঙে দুটি অঞ্চল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করা হয়েছে।

কাশ্মীরী সংগঠনগুলো বলেছে, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের অর্থ হলো সেখানকার অধিবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।

৩৭০ ধারা বাতিলকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরে গত ১৬ দিন যাবত কারফিউ জারি করে রেখেছে ভারতীয় প্রশাসন।

বিক্ষোভ ঠেকাতে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলটির সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘোষণাকে সামনে রেখে কাশ্মীরের ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।

এই মুহূর্তে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকীকৃত এলাকায় পরিণত হয়েছে। সেনাবাহিনী, আধা-সামরিক বাহিনী ও পুলিশ সদস্য মিলিয়ে সেখানে ৭ লক্ষাধিক নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

অস্থায়ী কারাগার বানানো হয়েছে হোটেল, গেস্ট হাউস, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ভবনকে। কাশ্মীরের পুরো উপত্যকাটি যেন পরিণত হয়েছে একটি কারাগারে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে দখলদারিত্বের অবসানের আহ্বান মার্কিন আইনপ্রণেতাদের


এবার মার্কিন কংগ্রেসেও কাশ্মীরে ভারতীয় দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর দাবি উঠেছে।

মঙ্গলবার ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানিয়ে হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান অ্যাডাম স্মিথ বলেন, অধিকৃত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ভারতীয় সিদ্ধান্ত তিনি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। সেখানে চলমান যোগাযোগ অচলাবস্থা, ক্রমবর্ধমান সামরিকায়ন ও কারফিউ নিয়ে যুক্তিসঙ্গত উদ্বেগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্মিথ।-খবর ডন অনলাইনের

ওয়াশিংটন থেকে নির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাট বলেন, অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর থেকে আসা তার আসনের কিছু বাসিন্দা গত ৫ আগস্টের পর বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটি ভ্রমণে গিয়েছিলেন। তারা দেখেছেন, অবরুদ্ধ অঞ্চলটির বাসিন্দাদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। কাশ্মীরের বাইরে তারা কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন না।

ভারতকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, উপত্যকাটির মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুর ওপর বর্তমান এবং ভবিষ্যতে এ সিদ্ধান্তের অসম ক্ষতিকর প্রভাবের স্বীকৃতি অপরিহার্য।

সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য বব মেনেনডেজ, হাউস পররাষ্ট্র কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেস সদস্য এলিওট এল এনজেলও জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

এ দুই আইনপ্রণেতা বলেন, জমায়েত হওয়ার স্বাধীনতা, তথ্য পাওয়া, আইনের অধীন অধিকার পাওয়াসহ সব নাগরিকের সমঅধিকার সুরক্ষা ও এগিয়ে নেয়ার একটি সুযোগ ভারতের রয়েছে।

তারা বলেন, গণতন্ত্রের প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিপ্রস্তর হচ্ছে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা। কাজেই জম্মু ও কাশ্মীরে ভারত সরকার এই নীতি অনুসরণ করবে বলে আমরা আশা রাখছি।

নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য ইভেট্টি ক্লার্কি বলেন, কাশ্মীরে বর্তমানে যা হচ্ছে তা নিয়ে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন। কাশ্মীরের জনগণের ওপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যা করছেন, সেই অধিকার তার নেই। কাজেই ন্যায়বিচার, স্বাধিকারের জন্য ও ধর্মীয় বিষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো আমাদের দায়িত্ব।

কংগ্রেস সদস্য স্মিথ বলেন, গত ৫ আগস্টের পর আমার আসন থেকে যারা কাশ্মীর ভ্রমণে গিয়েছিলেন, তারা আমাকে বলেছেন যে সেখানে নিজেদের প্রাণহানি ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন তারা।

‘কাজেই এই আতঙ্ক দূর করতে ভারতীয় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সেখানে যা ঘটছে, তা নিয়ে বিশ্বের কাছে স্বচ্ছ পর্যবেক্ষণ দিতে হবে ভারতকে’, জানালেন তিনি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা’


নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা। তিনি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন। তার মতে, গণতন্ত্র ছাড়া কোনোভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এছাড়াও, একজন ভারতীয় হিসেবে তিনি গর্বিত নন বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্বখ্যাত এই অর্থনীতিবিদ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

অমর্ত্য সেনের কাছে প্রশ্ন ছিলো, আপনি এমন এক সময়ে ভারতে এলেন যখন দেশটি কঠিন সময় পার করছে। কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আপনি সারাজীবন সাম্যের কথা বলেছেন, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সাম্যের কথা। কিন্তু, সাম্য বলতে আমরা সবক্ষেত্রেই সাম্যকে বুঝে থাকি। আপনি কি মনে করেন- কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা সেই অঞ্চলে শান্তি এবং সেখানকার মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারবে?

উত্তরে অমর্ত্য বলেন, “না, আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি, কাশ্মীর একটি বিশেষ সমস্যা প্রবণ অঞ্চল। কাশ্মীরের কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আমি মনে করি না যে, কাশ্মীরের জননেতাদের কথা না শুনেই আপনি সেখানে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। সেখানে হাজার হাজার জননেতাকে আটকে রাখা হয়েছে। এমনকী, বড় বড় নেতারাও কারাগারে।”

তিনি আরো বলেন, “কাশ্মীরে যেভাবে যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের সাফল্য আসতে পারে না। গণতান্ত্রিক সরকার সবসময়ই আলোচনার মাধ্যমে এগোয়। এখন সরকার যখন বলে তারা শুধু পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা করবে তখন আমি মনে করি না যে সরকার সত্যিই গণতন্ত্রের জন্যে কোনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে চায়। আমি মনে করি না যে, গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার কোনো সমাধান হতে পারে। এ নিয়ে তো অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করা হচ্ছে।”

সরকার বলছে তারা কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে অভিযান চালাচ্ছে। আপনি কী মনে করেন?

অমর্ত্য সেন বলেন, “এটি হচ্ছে পুরনো উপনিবেশিক মানসিকতার অজুহাতমূলক বক্তব্য। ব্রিটিশরা যখন এখানে শাসন করেছে… আমি আমার শৈশবের কথা বলছি, আমি মাঝে মাঝেই আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যেতাম। তিনি কারাবন্দি হয়েছিলেন। তখন ব্রিটিশরা বলতো তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে তাকে কারাগারে রেখেছে। এসব ধরপাকড়ের মাধ্যমে সেই উপনিবেশিক যুগে ফিরে যাওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলে আমার অনেক আত্মীয়স্বজনকে জেলে পোড়া হয়েছিলো।”

“এটি বলা সহজ যে আমরা এই মানুষগুলোকে কারাবন্দি করেছি, কারণ তারা সমস্যা তৈরি করছে। এই যে সেদিন মানুষের অধিকার আন্দোলন নিয়ে কাজ করা কানাইয়া কুমারকে জেলে পাঠানো হলো। যুক্তি কী ছিলো? যুক্তি ছিলো যে সে রাষ্ট্রদ্রোহী। সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা।”

সরকার বলছে সাধারণ কাশ্মীরিরা ৩৭০ ধারা থেকে কোনো উপকার পাচ্ছিলো না।… আর দিল্লিতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ভোটের মাধ্যমে সেই ধারাটি বিলোপ করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে আপনি কী বলবেন?

এমন প্রশ্নের উত্তরে অমর্ত্য সেনের বক্তব্য, “ব্রিটিশরা যখন ভারত শাসন করছিলো তখন আমি মনে করি, বিষয়টি ব্রিটেনে অনেক জনপ্রিয় ছিলো। একই বিষয় ভারতের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তারা কাশ্মীরে কতোটুকু জনপ্রিয়? বলা হচ্ছে কাশ্মীর ভারতের অংশ। কিন্তু, এ বিষয়ে কাশ্মীরের জনগণ কী ভাবছেন? এ বিষয়ে কাশ্মীরের জনগণের মত নিতে হবে তো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও সংখ্যাগরিষ্ঠরা সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করে যাচ্ছে। এই সে বিপুল জনসমর্থন আসলে তা কী, আমাদের ভাবতে হবে। এই জনসমর্থন এবং মানুষের অধিকারের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে।”

সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন কাশ্মীর নিয়ে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি যে শুধুমাত্র সব মানুষের অধিকার বজায় রাখার বিরোধিতা করেছে তা নয়, এই পদক্ষেপে সংখ্যাগরিষ্ঠের কথাও ভাবা হয়নি।”

৮৫ বছর বয়সী নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “গোটা বিশ্বে গণতান্ত্রিক আদর্শ অর্জনের জন্য এতো কিছু করেছে ভারত। তবে এখন আর আমি একজন ভারতীয় হিসেবে এই সত্য নিয়ে গর্বিত নই যে ভারতই গণতন্ত্রের পক্ষে প্রথম প্রাচ্যের দেশ ছিলো। কাশ্মীরের ক্ষেত্রে যা করা হচ্ছে, তাতে আমরা সেই খ্যাতি হারিয়ে ফেলেছি।”

উৎসঃ দ্য ডেইলি স্টার

আরও পড়ুনঃ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার কারণেই কাশ্মির মোদির টার্গেট: সীতারাম


জম্মু-কাশ্মির ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য হওয়ার কারণেই তার বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। তিনি বলেন, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মিরকে ভারতের ফিলিস্তিনে পরিণত করতে চেষ্টা করছে মোদি সরকার। এ.কে গোপালান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজে এক আলোচনায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। গ্রেফতার করা হয়েছে স্থানীয় কয়েকশ’ নেতাকর্মীকে। তাদের মুক্তি দাবি করে আসছে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি।

বাতিলকৃত ৩৭০ অনুচ্ছেদের ৩৫ (এ) ধারা অনুযায়ী, কাশ্মির যে ‘বিশেষ মর্যাদা’র অধিকারী ছিল, তার কারণে কাশ্মিরের বাইরের কোনও ভারতীয় নাগরিকের সেখানকার ভূমি ক্রয়ের অধিকার ছিল না। একইরকম ‘বিশেষ অধিকার’ রয়েছে সে দেশের আরও কয়েকটি রাজ্যেও। পার্টির নেতা সীতারাম সেই প্রসঙ্গে বলেন, জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের অজুহাত হিসেবে তথ্যবিকৃতির পাশাপাশি ভুল প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের অপর ১০টি ধারায় ভারতের অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যও বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। উত্তর পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ রাজ্য- অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও গুজরাটের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কেবল জম্মু-কাশ্মিরেই নয়, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরখান্ড ও সিকিমেও অন্য কোনও রাজ্যের মানুষ ভূমির মালিকানা নিতে পারে না।‘

রাজ্যসভার সাবেক এই আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেন, ‘এটা কেবল জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার প্রশ্ন না। ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য হওয়ায় একে টার্গেট করা হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা। এই কারণেই সংবিধানে থাকা ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও মৈত্রীতন্ত্রের মূলনীতিতে আঘাত হানছে তারা।‘

সীতারাম অভিযোগ করেন, কাশ্মিরে আরও হিন্দু বসতি স্থাপনের মাধ্যমে জনমিতির পরিবর্তন করাই সরকারের পরিকল্পনা। তারা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে পরিণত করতে চায়। আজ তারা ঠিক ইসলায়েলের আদর্শ অনুসরণ করছে। ‘আমরা জম্মু-কাশ্মিরকে ভারতের ফিলিস্তিনে পরিণত করতে অনুমতি দিতে পারি না, কেবল এই কারণেই এই দিন (২২ আগস্ট) আন্দোলন শুরু হবে। আমরা এমন ধরনের কাজের অনুমতি দিতে পারি না যে, ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে ইসরায়েল যেমন ব্যবহার করছে; আমাদের দেশে… জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।’ বলেন তিনি।

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ ‘হত্যার পর কাশ্মীরিদের অচিহ্নিত কবরে দাফন করছে ভারত’


ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে মোদি সরকার ‘গণহত্যা’ শুরু করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট সরদার মাসউদ খান।

মঙ্গলবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। মাসউদ খান বলেন, ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে এখন পর্যন্ত ভারতীয় বাহিনীর অত্যাচারে ৬ হাজারেরও বেশি কাশ্মীরি জনগণ আহত হয়েছেন।

কাশ্মীরে মোদি সরকার ‘সম্পূর্ণ গণহত্যা’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট বলেন, সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে আমি এ কথা বলছি যে, জম্মু-কাশ্মীরে গণহত্যা শুরু হয়েছে। নারীদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে, নির্বিচারে কাশ্মীরি জনগণকে হত্যা করছে ভারতীয় বাহিনী।

হত্যার পর নিহতদের অচিহ্নিত কবরে দাফন করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মাসউদ খান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাশ্মীরের সঠিক চিত্র আসছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, কাশ্মীরিদের দুর্দশার বিষয়ে সাধারণত উপত্যকায় কী ঘটছে, তার একতরফা বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে, কারণ ভারত সেসব রিপোর্টারকেই অনুমোদন দিচ্ছে, যারা তাদের দেয়া তথ্যমতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাশ্মীরে অচলাবস্থা আরোপের পর সেখান থেকে কোনো খবর প্রকাশ হতে দিচ্ছে না ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ছাড়াও টেলিফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেটসহ সব ধরনের সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

যদিও বর্তমানে কিছু ল্যান্ডফোনের সংযোগ পুনর্বহাল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, অচলাবস্থা চলার সময় সেখানে কেউ নিহত হয়েছে বলে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। কেবল আট ব্যক্তি আহত হয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন হাসপাতালের সূত্র বলছে, শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। যাদের অনেকের শরীরে আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষত দেখা গেছে।

হাসপাতালে গেলে আটক হওয়ার ভয়ে বহু লোক বাসায়ও চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়াও দুই ব্যক্তির স্বজনের সঙ্গে কথা বলেছে এএফপি, যারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহিংসতায় নিহত হয়েছেন।

উৎসঃ শীর্ষনিউজ

আরও পড়ুনঃ কাশ্মির নিয়ে বাড়ছে চীন-ভারত টানাপোড়েন


কাশ্মির ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও চীন তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে এমনটিই মনে করছেন ভারতীয় কূটনীতিকরা। তাদের মতে, কাশ্মির নিয়ে চীনের সাথে নতুন করে ক্ষত তৈরি হলো মোদি সরকারের। আগামী অক্টোবর মাসে ভারতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দ্বিতীয় ঘরোয়া আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তার আগেই জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বিষয়টি নিয়ে চীন নতুন করে কূটনৈতিক বিরোধিতা দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘ ৪৯ বছর পর জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আলোচনায় উঠে এসেছে জম্মু ও কাশ্মির ইস্যু। যে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিল পাকিস্তানের পাশাপাশি চীনও। ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, এটি ঠিকই যে, জাতিসঙ্ঘের সিলমোহর মারা কোনো ভারতবিরোধী বিবৃতি দেয়নি নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু সূত্র বলছে, বিষয়টি এখানেই মিটে যাচ্ছে না।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার বলছে, রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি করানোর পেছনে পাকিস্তানের প্রতি চীনের সখ্যই একমাত্র কারণ নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বেইজিংয়ের নিজস্ব স্বার্থ এবং উদ্বেগও। খবরে বলা হয়েছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে আলোচনায় কাশ্মির নিয়ে মোদি সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ঘোর অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, এর ফলে চীনের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে ও পরে এবং বৈঠকের ভেতরেও সংস্থাটিতে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন। আগামী মাসে নিউ ইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদে যখন কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার নিয়ে ইসলামাবাদ উত্তাল হবে, তাতে প্রবল ইন্ধন থাকবে বেইজিংয়েরও।

সূত্র মতে, চীন সতর্ক হয়ে গিয়েছিল সম্প্রতি ভারতের সংসদীয় অধিবেশনে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তৃতার সময়েই। যেখানে অমিত শাহ বলেছিলেন, জম্মু ও কাশ্মির বলতে গিলগিট, বেলুচিস্তান, পাক শাসিত কাশ্মির এবং আকসাই চীনকেও বোঝায়।

আকসাই চীনে পিপলস লিবারেশন আর্মির উপস্থিতি নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ছিলেন সে দিন। অথচ এত দিন পর্যন্ত আকসাই চীনকে ভারত ‘বিতর্কিত ভূখণ্ড বলেছে। চীন মনে করছে, লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে বিভাজিত করার পর আকসাই চীন নিয়েও সক্রিয় হবে ভারত। পাশাপাশি ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর চীনের হাতে পাকিস্তানের তুলে দেয়া ৫,১৮৩ বর্গকিলোমিটার জমি নিয়েও টানাপড়েন তৈরি হতে পারে।

কূটনীতিকরা মনে করছেন, চীন তার সামরিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্য দেশকেও (বিশেষত নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী এবং অন্য অস্থায়ী সদস্য দেশ) সাথে নেয়ার চেষ্টা শুরু করেছে। গত শুক্রবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে রুশ প্রতিনিধির বক্তব্য এরই মধ্যে কপালে ভাঁজ ফেলেছে ভারতীয় কর্মকর্তাদের। কাশ্মির সমস্যার সমাধান ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় বিষয়, এ কথা বলার পরও রুশ প্রতিনিধি যোগ করেছেন, এ বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের সনদ এবং প্রস্তাবগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অথচ ভারতের অবস্থান হলোÑ কাশ্মির সমস্যার সমাধানে কোনো তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো মানা হবে না। আর তাই রাশিয়ার ওই মন্তব্যের পেছনে বেইজিংয়ের ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ভারত।

সীমান্তে ফের পাল্টাপাল্টি গুলি, দুই ভারতীয় সেনাসহ নিহত ৪

অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে কাশ্মির সীমান্তে ভারতের বিরুদ্ধে ফের গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার ভারতীয় বাহিনীর চালানো হামলায় দুই পাকিস্তানি বেসামরিক নিহত হয়েছেন। পরে পাল্টা হামলায় দুই ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি। পাকিস্তান আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ অধিদফতরের বরাতে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, গত রোববার ভারতীয় বাহিনী বিনা উসকানিতে নিয়ন্ত্রণরেখায় মর্টার ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ করে। এতে হাসান দীন (৬১) ও লাল মোহাম্মদ (৭৫) নামে দু’জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলায় ভারতের কয়েকটি চেকপোস্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও শনিবার নিয়ন্ত্রণরেখায় দুই দেশের সৈন্যরা সংঘর্ষে জড়িয়েছিল।

কিছু স্কুল খুলেছে, উপস্থিতি খুবই কম

ভারতশাসিত কাশ্মিরে গতকাল সোমবার প্রায় দুই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ৯৫টি স্কুল খুলেছে। তবে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি খুবই কম। মোবাইলে আপাতত সীমিত আকারে ইনকামিং পরিষেবা চালু করেছে প্রশাসন। একটি সূত্র জানিয়েছে, আপাতত মোবাইলে শুধু ইনকামিং পরিষেবা দেয়া হতে পারে, যাতে উপত্যকার মানুষ রাজ্যের বাইরের ডোমেস্টিক কল বা আইএসডি কল পেতে পারে। জম্মুর ডিভিশনার কমিশনার সঞ্জীব বর্মা জানিয়েছেন, সব দিক খতিয়ে দেখার পরই ফোর-জি ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করা হবে। এ দিকে দু’টি বিমানে উপত্যকায় ফিরেছেন ৩৪৪ জন হজযাত্রী।

জম্মুতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রথ্যালি

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের জম্মুতে বাইক রথ্যালি করেছে দেশটির হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। দলটির যুব সংগঠন বজরং দলও এ বিক্ষোভে অংশ নেয়। এ দিকে এ বিক্ষোভের জেরে উপত্যকায় নতুন করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ। গত রোববার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

চার হাজার কাশ্মিরি কারাগারে বন্দী

কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার পর সেখানকার হাজারো বাসিন্দাদের জেলে আটকে রাখা হয়েছে। দ্য নিউ আরবের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে। খবরে বলা হয়েছে, বিতর্কিত জননিরাপত্তা আইনের (পিএসএ) আওতায় কমপক্ষে চার হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ম্যাজিস্ট্রেট বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, আটক কাশ্মিরিদের কাশ্মিরের বাইরের জেলে পাঠানো হয়েছে। কারণ কাশ্মিরে জেলে নতুন করে বন্দীদের রাখার মতো জায়গা নেই। তবে ভারত সরকার বলেছে, কাশ্মিরের শুধু ১০০ জনের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে।

উৎসঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুনঃ কাশ্মিরে দুর্বৃত্তের আচরণ করছে মোদি সরকার: অরুন্ধতী রায়


জম্মু-কাশ্মিরকে সুবিশাল বন্দিশিবিরে রূপান্তর করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বনামধন্য ভারতীয় বুদ্ধিজীবী অরুন্ধতী রায়। কাশ্মিরিদের সঙ্গে মোদি সরকার দুর্বৃত্তের আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ভারতের স্বাধীনতা দিবসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ লেখা নিবন্ধে বুকারজয়ী এই উপন্যাসিক দাবি করেছেন, কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন করে কুরুচিপূর্ণ পন্থায় তা উদযাপন করছে ভারত।

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঘোষণার মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে পাস হয় একটি বিলও। আর গত ৯ আগস্ট রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আইনে পরিণত হয় তা। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার বিপুলসংখ্যক স্বাধীনতাপন্থী ও ভারতপন্থী রাজনৈতিক নেতাকে।

১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে ‘নীরবতাই সবথেকে জোরালো আওয়াজ’ (The Silence Is the Loudest Sound) শিরোনামের নিবন্ধে অরুন্ধতী রায় লিখেছেন, ভারত যখন ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের ৭৩ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করছে, তখন ছিন্নমূল শিশুরা দিল্লির রাস্তায় থমকে থাকা যানবাহনের পাশে গিয়ে গিয়ে বড় মাপের জাতীয় পতাকা ও স্যুভেনির বিক্রি করছে। সেগুলোতে লেখা ‘মেরা ভারত মহান হে’ (আমার ভারত মহান)। সত্যিকার অর্থে ‘আমার ভারত মহান’-এ কথাটা এ মুহূর্তে অনুভব করতে পারা কঠিন। কারণ আমাদের সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তারা যেন দুর্বৃত্তে পরিণত হয়েছে।’

ভারতের সংবিধানে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের যে নিশ্চয়তা ছিল, মোদি সরকার ৩৭০ ধারা বাতিল করার পর এর অন্তর্গত ৩৫-এ অনুচ্ছেদে বর্ণিত কাশ্মিরিদের বিশেষ সুবিধাও বাতিল হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘৩৫-এ’ অনুযায়ী কাশ্মিরের বাসিন্দা নন এমন ভারতীয়দের সেখানে সম্পদের মালিক হওয়া ও চাকরি পাওয়ায় বাধা ছিল। সরকারের সিদ্ধান্তে সেই বাধা দূর হয়েছে। এখন চাইলেই যে কোনও ভারতীয় নাগরিক সেখান ভূমিসহ অন্যান্য সম্পদ কিনতে সক্ষম হবে।

নিবন্ধে অরুন্ধতী লিখেছেন, “ব্রিটিশ প্রথা অনুযায়ী টেবিল চাপড়ে আইনটি পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের পার্লামেন্ট। রাজ্যটির আইনি স্বীকৃতি বাতিল করার অর্থ হলো অনুচ্ছেদ ৩৫ (এ)ও বিলুপ্ত করা; এর আওতায় এতোদিন কাশ্মিরি বাসিন্দাদের অধিকারের স্বীকৃতি ছিল এবং নিজেদের এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই ছিল। সুতরাং ‘ব্যবসায়ের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে’ এ কথাটির মানে স্পষ্ট করতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ইসরায়েলি ধাঁচের বসতি স্থাপন ও তিব্বতের ধাঁচে জনসংখ্যা স্থানান্তরের মতো বিষয়গুলোও।”

স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে কাশ্মিরকে দুটি আলাদা অঞ্চলে ভাগ করার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ৮ আগস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রেডিও,টেলিভিশনে এক যোগে সম্প্রচারিত ভাষণে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক আখ্যা দেন তিনি। বলেন, সংবিধানের ৩৭০ ধারা কাশ্মিরি জনগণকে স্বজনপ্রীতি,সন্ত্রাসবাদ ও বিভক্তি ছাড়া কিছুই দেয়নি। সংবিধানের ওই ধারা বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মির ও ভারতীয় জনগণের নতুন যুগের শুরু হবে বলে দাবি করেন মোদি। কাশ্মিরের পণ্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

গত ৮ আগস্টের (এবারের অচলাবস্থার চতুর্থ দিন) কথা স্মরণ করে অরুন্ধতী লিখেছেন, ‘এদিন নরেন্দ্র মোদি মূলত উদযাপনমুখর ভারত ও অবরুদ্ধ কাশ্মির নিয়ে টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। বক্তব্যে তিনি বুঝিয়েছিলেন কিভাবে কাশ্মিরে আবারও বলিউড চলচ্চিত্রের শ্যুটিং করা যাবে।’

ইন্টারনেট দুনিয়ায় বিভিন্ন নারী-বিদ্বেষী বক্তব্য এবং ‘কাশ্মির থেকে ভারতীয়রা এখন মেয়ে এনে বিয়ে করতে পারবে’-হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টারের এমন বিতর্কিত মন্তব্যসহ নানা কুরুচিপূর্ণ উপায়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের ঘোষণা উদযাপন করেছে ভারত। অরুন্ধতী মনে করেন, এসবের মধ্যেও সবচেয়ে জোরালো আওয়াজটি হলো কাশ্মিরে টহলকৃত ও ব্যারিকেডে ঘেরা রাস্তা এবং সেখানকার অবরুদ্ধ, নির্যাতিত, কাঁটাতারে ঘেরা, ড্রোনের নজরদারিতে থাকা এবং পুরোপুরি যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে বসবাসকারী প্রায় ৭০ লাখ কাশ্মিরির নিথর নীরবতা।

উৎসঃ বিডি টুডে

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here