একজন রোহিঙ্গাও ফেরত যেতে রাজি হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0
175

বহুল প্রত্যাশিত বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবার্সন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার জন্য রাজি হয়নি। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শেষ পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা চেয়েছিলাম আজ থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি শুরু করতে। এটি চুক্তি অনুযায়ী দুই বছর চলার কথা। কিন্ত দুর্ভাগ্যজনক তা আজ আমরা শুরু করতে পারলাম না। আমরা প্রস্তুত ছিলাম কিন্তু একজন রোহিঙ্গাও যেতে রাজি হয়নি। আমরা অপেক্ষায় থাকবো। চেষ্টা চালিয়ে যাব। যখন কেউ রাজি হবে আমরা তাদের ফেরত পাঠাবো।

রোহিঙ্গাদের ফেরত না যেতে কিছু সংগঠন কাজ করছে। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত না যাওয়ার জন্য যারা প্ররোচনা দিয়েছে, যারা ইংরেজিতে পোস্টার, প্লেকার্ড লিখে সাপ্লাই দিয়েছে এবং যে সমস্ত এনজিও না যাওয়ার জন্য তাদের আহবান জানিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের উচিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে যে আস্থার সঙ্কট আছে সেটা দূর করা। সমস্যাটি তাদের সৃষ্টি, সমাধানও তাদেরই করতে হবে। আমার সাজেশন থাকবে তারা বাংলাদেশে অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের (মাঝি) মিয়ানমারে নিয়ে যাক। মিয়ানমার রাখাইনে কি উন্নয়ন করেছে, রোহিঙ্গাদের জন্য কি বব্যস্থা করেছে, তাদের নিরাপত্তার জন্য কি আয়োজন রয়েছে, সেটা তাদের দেখাক। বাংলাদেশ থেকে সাংবাদিকদেরও নিয়ে যেতে পারে। এতে আস্থার সঙ্কট দূর হবে এবং রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনে উৎসাহিত হবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা চিন্তা করছি বিভিন্ন দেশের লোককে নিয়ে একটা কমিশন গঠন করব। তাদেরকে মিয়ানমার রাখাইনে নিয়ে যেতে পারে এবং প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ কতটা সৃষ্টি হয়েছে সেটা দেখাতে পারে।

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার প্রশ্নে দেশটির বিদ্যমান যে প্রক্রিয়া রয়েছে তা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার বলেছে, তারা ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রক্রিয়া ও পর্যায়ক্রমে নাগরিকত্ব দেবে। সে বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারি না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার কখনও বলেনি রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে না। তারা ১৯৮৭ সালে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়েছে, ১৯৯২ সালে নিয়েছে। এবারও আমরা আশা করছি তারা ফেরত নেবে।’

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‘সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা’


নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা। তিনি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন। তার মতে, গণতন্ত্র ছাড়া কোনোভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এছাড়াও, একজন ভারতীয় হিসেবে তিনি গর্বিত নন বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্বখ্যাত এই অর্থনীতিবিদ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

অমর্ত্য সেনের কাছে প্রশ্ন ছিলো, আপনি এমন এক সময়ে ভারতে এলেন যখন দেশটি কঠিন সময় পার করছে। কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আপনি সারাজীবন সাম্যের কথা বলেছেন, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সাম্যের কথা। কিন্তু, সাম্য বলতে আমরা সবক্ষেত্রেই সাম্যকে বুঝে থাকি। আপনি কি মনে করেন- কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা সেই অঞ্চলে শান্তি এবং সেখানকার মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারবে?

উত্তরে অমর্ত্য বলেন, “না, আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি, কাশ্মীর একটি বিশেষ সমস্যা প্রবণ অঞ্চল। কাশ্মীরের কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আমি মনে করি না যে, কাশ্মীরের জননেতাদের কথা না শুনেই আপনি সেখানে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। সেখানে হাজার হাজার জননেতাকে আটকে রাখা হয়েছে। এমনকী, বড় বড় নেতারাও কারাগারে।”

তিনি আরো বলেন, “কাশ্মীরে যেভাবে যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের সাফল্য আসতে পারে না। গণতান্ত্রিক সরকার সবসময়ই আলোচনার মাধ্যমে এগোয়। এখন সরকার যখন বলে তারা শুধু পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা করবে তখন আমি মনে করি না যে সরকার সত্যিই গণতন্ত্রের জন্যে কোনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে চায়। আমি মনে করি না যে, গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার কোনো সমাধান হতে পারে। এ নিয়ে তো অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করা হচ্ছে।”

সরকার বলছে তারা কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে অভিযান চালাচ্ছে। আপনি কী মনে করেন?

অমর্ত্য সেন বলেন, “এটি হচ্ছে পুরনো উপনিবেশিক মানসিকতার অজুহাতমূলক বক্তব্য। ব্রিটিশরা যখন এখানে শাসন করেছে… আমি আমার শৈশবের কথা বলছি, আমি মাঝে মাঝেই আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যেতাম। তিনি কারাবন্দি হয়েছিলেন। তখন ব্রিটিশরা বলতো তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে তাকে কারাগারে রেখেছে। এসব ধরপাকড়ের মাধ্যমে সেই উপনিবেশিক যুগে ফিরে যাওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলে আমার অনেক আত্মীয়স্বজনকে জেলে পোড়া হয়েছিলো।”

“এটি বলা সহজ যে আমরা এই মানুষগুলোকে কারাবন্দি করেছি, কারণ তারা সমস্যা তৈরি করছে। এই যে সেদিন মানুষের অধিকার আন্দোলন নিয়ে কাজ করা কানাইয়া কুমারকে জেলে পাঠানো হলো। যুক্তি কী ছিলো? যুক্তি ছিলো যে সে রাষ্ট্রদ্রোহী। সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা।”

সরকার বলছে সাধারণ কাশ্মীরিরা ৩৭০ ধারা থেকে কোনো উপকার পাচ্ছিলো না।… আর দিল্লিতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ভোটের মাধ্যমে সেই ধারাটি বিলোপ করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে আপনি কী বলবেন?

এমন প্রশ্নের উত্তরে অমর্ত্য সেনের বক্তব্য, “ব্রিটিশরা যখন ভারত শাসন করছিলো তখন আমি মনে করি, বিষয়টি ব্রিটেনে অনেক জনপ্রিয় ছিলো। একই বিষয় ভারতের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তারা কাশ্মীরে কতোটুকু জনপ্রিয়? বলা হচ্ছে কাশ্মীর ভারতের অংশ। কিন্তু, এ বিষয়ে কাশ্মীরের জনগণ কী ভাবছেন? এ বিষয়ে কাশ্মীরের জনগণের মত নিতে হবে তো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও সংখ্যাগরিষ্ঠরা সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করে যাচ্ছে। এই সে বিপুল জনসমর্থন আসলে তা কী, আমাদের ভাবতে হবে। এই জনসমর্থন এবং মানুষের অধিকারের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে।”

সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন কাশ্মীর নিয়ে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি যে শুধুমাত্র সব মানুষের অধিকার বজায় রাখার বিরোধিতা করেছে তা নয়, এই পদক্ষেপে সংখ্যাগরিষ্ঠের কথাও ভাবা হয়নি।”

৮৫ বছর বয়সী নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “গোটা বিশ্বে গণতান্ত্রিক আদর্শ অর্জনের জন্য এতো কিছু করেছে ভারত। তবে এখন আর আমি একজন ভারতীয় হিসেবে এই সত্য নিয়ে গর্বিত নই যে ভারতই গণতন্ত্রের পক্ষে প্রথম প্রাচ্যের দেশ ছিলো। কাশ্মীরের ক্ষেত্রে যা করা হচ্ছে, তাতে আমরা সেই খ্যাতি হারিয়ে ফেলেছি।”

উৎসঃ দ্য ডেইলি স্টার

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর নিয়ে উত্তেজনা না বাড়াতে পাকিস্তানকে ফ্রান্সের আহ্বান


কাশ্মীর নিয়ে পাক-ভারত উত্তেজনা চলছে। এরই মধ্যে দুই বন্ধু দেশকে উত্তেজনা কমাতে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই ফ্রান্সের পক্ষ থেকে স্থিতিবস্থা ও উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানকে আহ্বান জানানো হয়।

দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, উত্তেজনা বাড়তে পারে, এমন কোনো পদক্ষেপ বন্ধ করতে এটা খুবই জরুরি। খবর এনডিটিভির।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশিকে ফোন করেন ফ্রান্সের ইউরোপ ও পররাষ্ট্রবিষয়কমন্ত্রী জিন-ইয়ভেস লে ড্রিয়ান। এরপর দেশটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, স্থিতাবস্থা রক্ষা, উত্তেজনা কমানো, পরিস্থিতি শান্ত করতে জন্য এক পক্ষকে ফোন করেছে ফ্রান্স। উত্তেজনা বাড়াতে পারে, এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা খুবই জরুরি।

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা অবলুপ্ত ও দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার ভারতীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাকিস্তান গোটা বিশ্ব থেকে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এদিকে মঙ্গলবার কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা অবসানে আবারও মধ্যস্থতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিপ্রায়ের কথা জানান তিনি। এর আগে সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প কাশ্মীরকে খুবই জটিল এলাকা উল্লেখ করে বলেন, কাশ্মীরকে শান্ত করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পেরে আমি খুশি। খবর এএফপির।

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংঘাতময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, আসলে কাশ্মীর খুবই জটিল একটি জায়গা। সেখানে হিন্দু আছে, মুসলমানও আছে। আমি বলব না যে, তারা সেখানে খুব মিলেমিশে আছে।

আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে সাতটি শিল্পোন্নত দেশের জোটের সম্মেলনে ট্রাম্প ও মোদির সাক্ষাৎ হতে পারে। সেখানে কাশ্মীর ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিছুদিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যদি ভারত-পাকিস্তান রাজি থাকে, তা হলে আমি কাশ্মীর সংকট সমাধানে মধ্যস্থতা করব।

গত মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন- ভারত কাশ্মীর ইস্যুতে তাকে মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছে। ভারত অবশ্য পরে ট্রাম্পের এ দাবি নাকচ করে দেয়।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর নিয়ে ভারতকে খামেনির হুশিয়ারি


কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেখানকার মুসলমানদের ওপর বলপ্রয়োগ না করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। খবর ইরনার।

বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে, তবে ভারত সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা হলো কাশ্মীরি জনগণের বিষয়ে তারা ন্যায়ভিত্তিক নীতি গ্রহণ করবে।

কাশ্মীরি মুসলমানদের ওপর ভারত সরকার কোনো ধরণের বলপ্রয়োগ করবে না বলেও আমরা প্রত্যাশা করি।

কাশ্মীরে সংঘাত জিইয়ে রাখতে দেশভাগের সময় ব্রিটিশরা পরিকল্পিতভাবেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল বলেও মন্তব্য করেন আয়াতুল্লাহ খামেনি।

এর আগে জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলের বিরোধ নিয়ে পাকিস্তান ও ভারতকে আলোচনায় বসতে আহ্বান জানিয়েছিল ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মৌসাভি বলেছিলেন, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও সাম্প্রতিক ঘটনার জন্য ভারতীয় ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দেয়া ব্যাখ্যা মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে ইরান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ মুখপাত্র বলেন, ইরান প্রত্যাশা করে ভারত ও পাকিস্তান ওই অঞ্চলে একে অন্যের বন্ধু ও অংশীদার। শান্তিপূর্ণ উপস্থাপন ও আলোচনার মাধ্যমে ওই অঞ্চলের মানুষের স্বার্থে ব্যবস্থা নেবে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কারফিউ ভেঙে জুমার পর ‘সকল যুবক এবং বৃদ্ধ, পুরুষ ও মহিলা রাস্তায় নেমে আসুন


অধিৃকত কাশ্মীরে মুক্তিকামী নেতারা আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পরে কারফিউ ভেঙে পদযাত্রায় যোগ দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার এই অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন প্রত্যাহার করার পরে এই প্রথম এমন আহ্বান করা হল। কঠোর অবরোধের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করতে না পারলেও সমগ্র উপত্যকা ভেতরে ভেতরে ফুঁসছে। শত শত রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মুক্তিকামী যারা ভারত থেকে কাশ্মীরের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন, তাদের কারাগারে আটক করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য এই অঞ্চলের রাজধানী শ্রীনগরে রাতারাতি লাগানো পোস্টারের মাধ্যমে জনগণের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

পোস্টারে লেখা হয়, ‘সকল যুবক এবং বৃদ্ধ, পুরুষ ও মহিলা সবাইকে শুক্রবারের নামাজের পর পদযাত্রা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পোস্টারটি ছেপেছে যৌথ বিরোধী নেতৃত্ব, যারা প্রধান মুক্তিকামী গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে। পদযাত্রাটি শ্রীনগরে জাতিসংঘের সেনা পর্যবেক্ষণ কার্যালয়ে যেয়ে শেষ হবে। ১৯৪৯ সালে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম যুদ্ধের পরে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

কাশ্মীর নিয়ে মোদির সাথে কথা বলবেন ট্রাম্প

ডন জানায়, কাশ্মীরের ‘উত্তেজনাপূর্ণ ও জটিল’ পরিস্থিতি সামলাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি পরমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে এই কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, চলতি সপ্তাহের শেষে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে এই ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। সে সময় ফ্রান্সের বিয়ারিটজে জি ৭ শীর্ষ সম্মেলনে তাদের পার্শ্ব-বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কাশ্মীর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘কাশ্মীর একটা খুব জটিল জায়গা। যেখানে হিন্দু আছে, মুসলিমও আছে। কিন্তু তারা এক সঙ্গে খুব একটা ভাল আছে এমনটা বলতে পারি না। তবে মধ্যস্থতা করার জন্য আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’ ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে একটা বৈরিতার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কেন সম্পর্ক সহজ হচ্ছে না, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে না ওঠার অন্যতম প্রধান কারণ ধর্ম।’ আমেরিকা এই সম্পর্ককে সহজ করতে চাইছে। তার জন্য মধ্যস্থতার প্রয়োজন। আর সেটাই তিনি চান বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এর আগে ট্রাম্প গত ২২ জুলাই পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রথম প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ইমরান খান তৎক্ষণাৎ এই প্রস্তাবটি স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, ট্রাম্প যদি সহায়তা করেন তবে একশ’ কোটি মানুষ আমেরিকার জন্য প্রার্থনা করবে। তবে ভারত এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, কাশ্মীর বা অন্য কোনো বিষয়ে পাকিস্তানের সাথে আলোচনার জন্য তারা কোনও বাহ্যিক সহায়তা চায় না।

গত সোমবার পোস্ট করা একটি টুইটে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কাশ্মীরে উত্তেজনা হ্রাস করতে তার ‘ভাল বন্ধু’ ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চিরবৈরী দেশ দু’টি যারা একে অপরের সাথে কথা বলতে রাজি নয়, তাদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার ভ‚মিকা শুরু করে দিলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট মধ্যস্থতা করছেন না, তবে উভয় পক্ষ রাজি থাকলে তিনি সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে ভারত পাকিস্তানের সাথে তার বিরোধ নিষ্পত্তি করতে কোন বাহ্যিক সহায়তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বলেছে, ‘কাশ্মীর সমস্যা দ্বিপাক্ষিক বিষয়। এখানে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা মেনে নেয়া হবে না।’

পররাষ্ট্র দফতর স্বীকার না করলেও গত শুক্রবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন দিয়ে অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করার পর থেকেই তিনি মধ্যস্থতার জন্য পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেন। এরপর গত সোমবার মোদি ট্রাম্পকে ফোন দিয়ে ৩০ মিনিট কথা বলেন। ট্রাম্পের কাছে তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, অঞ্চলটি তারাই অস্থিতিশীল করছে। এক ‘ভালো বন্ধু’ ভারতের কথা শোনার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার আরেক ‘ভালো বন্ধু’ পাকিস্তানকে ফোন দিয়ে বলেন, উত্তেজনা কমানোর জন্য তাদেরকে সংযত হতে। হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুসারে, ট্রাম্প উভয় পক্ষকে ‘সংঘাত এড়িয়ে শান্ত থাকতে এবং সংযম প্রদর্শন করতে আহবান জানান।

গত ৫ আগস্টের পর থেকে ইমরান খানের সাথে ট্রাম্প সর্বমোট তিনবার কাশ্মীর নিয়ে ফোনালাপ করেছেন। যখন ভারত তাদের সংবিধানিক ধারা বাতিল করে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়। তারপর থেকেই সেখানে কারফিউ আরোপ করা হয়েছে, যা ঈদুল আজহার ছুটিতেও অব্যাহত ছিল এবং এখনো তোলা হয়নি।

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প কি বিশ্বের চৌধুরী’

এনডিটিভি জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি সমগ্র বিশ্বের চৌধুরী (শক্তিশালী ব্যক্তি) হয়েছেন যে, তাকে সবকিছুতেই হস্তক্ষেপ করতে হবে। কাশ্মীর ইস্যুতে মঙ্গলবার ভারতের নিউজ এজেন্সি এএনআইকে দেয়া বক্তব্যে হায়দরাবাদের এমপি আসাউদ্দিন ওয়াইসি এ মন্তব্য করেন।

ওয়াইসি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে ফোনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির কথা বলায় আমি আশ্চর্য এবং চরমভাবে মর্মাহত হয়েছি। কেন ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তিনি কি সমগ্র বিশ্বের পুলিশের দায়িত্ব নিয়েছেন। নাকি তিনি কোনো চৌধুরী হয়েছেন।

প্রসঙ্গত ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা অবসানে মধ্যস্থতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিপ্রায়ের কথা জানান তিনি।

কাশ্মীরে প্রথম বন্দুকযুদ্ধ : ১ পুলিশ ও এক কাশ্মিরী নিহত

ইয়াহু নিউজ জানায়, কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরি ও অপরজন পুলিশ সদস্য। কাশ্মীরে স্বায়ত্তশাসন বিলোপের পর এটাই প্রথম বন্দুকযুদ্ধ। পুলিশ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা করা প্রস্তাবের মধ্যেই এই হামলা চালানো হলো। ওই ঘটনায় এক ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ৪ জন।

উৎসঃ ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরের যে এলাকা এখনো মুক্ত


কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী ও প্রধান শহর শ্রীনগরের শহরতলী সৌরা। প্রায় ১৫ হাজার জনগণের ওই এলাকাটির প্রত্যেক প্রবেশদ্বারে ২৪ ঘণ্টা পাহারা দিচ্ছে সেখানকার তরুণরা। শহরতলিটির কয়েক ডজন প্রবেশদ্বারে তৈরি করা হয়েছে ইট-কাঠের অস্থায়ী ব্যারিকেড। পাহারাদারদের হাতে ভারী অস্ত্রের বদলে শোভা পাচ্ছে পাথরের টুকরা। তাদের লক্ষ্য- ভারতীয় সেনাদের প্রবেশ ঠেকানো। কাশ্মীর স্বায়ত্তশাসনের অধিকার হারানোর পর পার হয়ে গেছে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করে অঙ্গরাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকার। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ সেনা। অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে কাশ্মীরিদের। কিন্তু এখনো সৌরায় ঢুকতে পারেনি ভারতীয় সেনাবাহিনী।

কাশ্মীরে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক

সৌরার তরুণ বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী এজাজ। রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটছে। এছাড়া আমাদের হাতে অন্যকোনো উপায় নেই। বিশ্ব যদি আমাদের কথা না শোনে, তাহলে আমাদের কী করা উচিত? বন্দুক হাতে তুলে নেবো? সাক্ষাৎকারে এজাজ নিজের নামের শেষাংশ বলেননি।

সৌরার এই প্রতিবাদ কাশ্মীরের অভ্যন্তরে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কার্যকরভাবে ভারতীয় সেনাদের প্রবেশ সেখানে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। কাশ্মীরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা এখন সৌরা।

সরকারের দাবি, কাশ্মীরকে পুরোপুরি ভারতের অংশ করে তুলতেই তাদের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়া হয়েছে। রাজ্যটি থেকে দুর্নীতি দূর করতে, উন্নয়ন ঘটাতে ও সন্ত্রাসবাদ দূর করতে এটা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু সৌরা সরকারের পদক্ষেপের মুখে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানের কোনো বাসিন্দাই মোদি সরকারের এই পদক্ষেপকে সমর্থক করে না। গত সপ্তাহে এলাকাটির কয়েক ডজন বাসিন্দার সাক্ষাৎকার শেষে এমনটা জানিয়েছে রয়টার্স। তারা মোদিকে ‘জালিম’ বা অত্যাচারী হিসেবে বর্ণনা করেছে।

কাশ্মীর ঘিরে সাংবিধানিক পরিবর্তন আসায় এখন সেখান থেকে যে কেউ জমি কিনতে পারবেন। সেখানের স্থানীয় সরকারের হয়ে কাজ করার আবেদন জানাতে পারবেন। আগে ৩৭০ ধারার আওতায়, তা অসম্ভব ছিল। কেবল কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দারাই এই সুযোগ ভোগ করতেন। কাশ্মীরিরা আশঙ্কা করছেন, ধারাটি রদ হওয়ায় এখন সেখানে হিন্দুদের ঢল নামবে। পুরো রাজ্যজুড়ে প্রতিস্থাপিত হবে মুসলিমরা। তাদের সংস্কৃতি ও ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এই ভীতি থেকেই সৌরার জনগণ এলাকাটি কঠোরভাবে পাহারা দিয়ে রাখছে।

এজাজ বলেন, আমাদের মনে হচ্ছে আমরা এখানে লাইন অব কনট্রোল রক্ষা করছি। উল্লেখ্য, লাইন অব কনট্রোল হচ্ছে, পাকিস্তান ও ভারতের এসব সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। আটক হয়েছেন অনেকে। তবে কতজন আটক হয়েছে সে বিষয়ে সপষ্ট কোনো ধারণা নেই তাদের। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় জম্মু ও কাশ্মীর সরকার। সাড়া মেলেনি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও।

যেভাবে সেনাদের প্রবেশ ঠেকাচ্ছে বিদ্রোহীরা

কাশ্মীর অবরুদ্ধ হওয়ার পর প্রথম বড় বিক্ষোভ হয় শ্রীনগরে। সেখানে চার জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাস্তার প্রত্যেক মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে সেনাবাহিনীর চেকপোস্ট। আটক করা হয়েছে পাঁচশর বেশি স্থানীয় নেতাদের। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন পরিষেবা। এতে সরকার-বিরোধীদের জন্য বিক্ষোভ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সমপ্রতি পুরো কাশ্মীরজুড়ে ইন্টারনেট ও ল্যান্ডলাইন ফোনসেবা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। কেবল সৌরায় কোনো ধরণের পরিষেবা ফেরত আসেনি। অঞ্চলটির মুসলিমদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এছাড়া, একটি প্রসিদ্ধ প্রশিক্ষণ হাসপাতালের জন্যও এলাকাটি সুপরিচিত।

তবে সরকারি বাধা উপেক্ষা করেও জড়ো হচ্ছে সৌরার জনগণ। যোগাযোগ হচ্ছে ভিন্ন উপায়ে। সেখানকার কোনো বাসিন্দা সামরিক সেনাদের প্রবেশ করতে দেখলে, তাৎক্ষণিকভাবে মসজিদে গিয়ে বাকিদের সতর্ক করে। তারা এমনটা করে মসজিদের মাইকগুলো ব্যবহার করে। আযানের আদলে অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানায় তারা।

আগস্টের ৯ তারিখ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে সৌরায় বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। এতেই ভারত সরকারের বিরুদ্ধে কাশ্মীরিদের বিক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠে সৌরার জনগণ। আশেপাশের অঞ্চলের মানুষজনও তাদের সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেয় সেদিন। সবমিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা।

সৌরার বাসিন্দারা জানান, ৯ তারিখ বিক্ষোভের পর সেখানে প্রবেশ করতে চেয়েছিল ১৫০ থেকে ২০০ সেনা। তাদের পরনে ছিল দাঙ্গা দমনকারী পুলিশের পোশাক। সেদিন রাত পর্যন্ত সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় সৌরার বাসিন্দাদের। আহত হন অনেকে। প্রাথমিকভাবে ওই বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের কথা অস্বীকার করেছিল ভারত সরকার। দাবি করেছিল, সৌরায় ২০ জনের বেশি মানুষের কোনো বিক্ষোভ হয়নি। তবে পরে বিবিসি ও আল জাজিরায় বিক্ষোভের ফুটেজ প্রচার হলে জানায়, ওই বিক্ষোভে ১ হাজার থেকে ১৫০০ মানুষ অংশ নিয়েছিল।

সৌরার আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা জানান, ওই ঘটনার পর থেকে সেনা সদস্যদের সঙ্গে ছোট ছোট সংঘর্ষ লেগেই রয়েছে সৌরার বিক্ষোভকারীদের। প্রায় প্রতিদিনই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছে। ওয়াইস নামের স্থানীয় এক তরুণ জানান, সেনারা প্রতিদিনই প্রবেশের চেষ্টা চালায়। তিনি বলেন, তারা প্রতিদিনই এখানে হামলা চালানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু আমরাও পাল্টা লড়াই করে চলেছি। মনে হচ্ছে আমরা চারদিক থেকে আটকা পড়ে গেছি। ভারতীয় সেনারা সৌরার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া। নাম না প্রকাশের শর্তে স্থানীয় এক আধা-সামরিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আমরা সেখানে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু এলাকাটি থেকে প্রচুর বিদ্রোহের সম্মুখীন হচ্ছি।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার কারণেই কাশ্মির মোদির টার্গেট: সীতারাম


জম্মু-কাশ্মির ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য হওয়ার কারণেই তার বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। তিনি বলেন, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মিরকে ভারতের ফিলিস্তিনে পরিণত করতে চেষ্টা করছে মোদি সরকার। এ.কে গোপালান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজে এক আলোচনায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। গ্রেফতার করা হয়েছে স্থানীয় কয়েকশ’ নেতাকর্মীকে। তাদের মুক্তি দাবি করে আসছে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি।

বাতিলকৃত ৩৭০ অনুচ্ছেদের ৩৫ (এ) ধারা অনুযায়ী, কাশ্মির যে ‘বিশেষ মর্যাদা’র অধিকারী ছিল, তার কারণে কাশ্মিরের বাইরের কোনও ভারতীয় নাগরিকের সেখানকার ভূমি ক্রয়ের অধিকার ছিল না। একইরকম ‘বিশেষ অধিকার’ রয়েছে সে দেশের আরও কয়েকটি রাজ্যেও। পার্টির নেতা সীতারাম সেই প্রসঙ্গে বলেন, জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের অজুহাত হিসেবে তথ্যবিকৃতির পাশাপাশি ভুল প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের অপর ১০টি ধারায় ভারতের অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যও বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। উত্তর পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ রাজ্য- অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও গুজরাটের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কেবল জম্মু-কাশ্মিরেই নয়, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরখান্ড ও সিকিমেও অন্য কোনও রাজ্যের মানুষ ভূমির মালিকানা নিতে পারে না।‘

রাজ্যসভার সাবেক এই আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেন, ‘এটা কেবল জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার প্রশ্ন না। ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য হওয়ায় একে টার্গেট করা হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা। এই কারণেই সংবিধানে থাকা ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও মৈত্রীতন্ত্রের মূলনীতিতে আঘাত হানছে তারা।‘

সীতারাম অভিযোগ করেন, কাশ্মিরে আরও হিন্দু বসতি স্থাপনের মাধ্যমে জনমিতির পরিবর্তন করাই সরকারের পরিকল্পনা। তারা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে পরিণত করতে চায়। আজ তারা ঠিক ইসলায়েলের আদর্শ অনুসরণ করছে। ‘আমরা জম্মু-কাশ্মিরকে ভারতের ফিলিস্তিনে পরিণত করতে অনুমতি দিতে পারি না, কেবল এই কারণেই এই দিন (২২ আগস্ট) আন্দোলন শুরু হবে। আমরা এমন ধরনের কাজের অনুমতি দিতে পারি না যে, ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে ইসরায়েল যেমন ব্যবহার করছে; আমাদের দেশে… জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।’ বলেন তিনি।

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ পানিকেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত


বাঁধ খুলে দেওয়ায় পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পাকিস্তান। পানি ছেড়ে দিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বমুখী যুদ্ধ ভারত শুরু করেছে বলে মনে করছে দেশটি। আর এটিকে ‘পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোজাম্মিল হুসেইন এমন অভিযোগ করেছেন।

চলতি মাসের শুরুতে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছে ভারত। এর পর থেকে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশ দুইটির মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে নেমেছে। এরই মধ্য বাঁধ খুলে দিয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টির অভিযোগ তুলল পাকিস্তান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মোজাম্মিল হুসেইন বলেছেন, ভারত এখন পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ শুরু করেছে। তারা পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের অর্থনীতিকেও চেপে ধরতে চাইছে ভারত। তারা আমাদের বিরুদ্ধে পানিকে ব্যবহার করছে। পানি প্রবাহ কমে গেলে কৃষি ও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

মোজাম্মিল হুসেইন আরও বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগেই পাকিস্তানে পানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি এ সংক্রান্ত চুক্তিগুলোকে অমান্য করতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন মোজাম্মিল হুসেইন।

পাকিস্তানের দাবি, ভারত হঠাৎ করে উজানে বাঁধ খুলে দেওয়ায় সুতলেজ নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের কিছু অংশে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দীর্ঘদিনের চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ভারত। পাকিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পাঞ্জাবের বন্যা মোকাবিলায় কাজ করছে।

পাঞ্জাবের প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক খুররম শাহজাদ বলেছেন, ভারত বাঁধ খুলে দেওয়ার আগে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ অবহিত করেনি।

পাকিস্তানের অভিযোগের ব্যাপারে ভারতের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে রয়টার্স। তবে কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

তবে ভারত সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্ষ মৌসুমে এটি নিয়মিত কাজের অংশ। আর পানি ছাড়ার ব্যাপারটি দুই দেশের চুক্তি মোতাবেকই হচ্ছে।

ভারত ও পাকিস্তানের পানি চুক্তির পর থেকেই পাকিস্তান নানা অভিযোগ করে আসছে। আর অনেকেই বলে থাকেন, পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের কৃষিকাজের ৮০ শতাংশই নির্ভর করে ভারতের পানির ওপর।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের পাকিস্তানের জঙ্গিদের হামলা হয়। এতে ৪০ জন আধা সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। তখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পানির সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন।

সীমান্তে সন্ত্রাস বন্ধ না করায় পাকিস্তানের সমালোচনা করে ২০১৬ সালে মোদি ভারতের কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, ‘রক্ত আর পানি একসঙ্গে বইতে পারে না।’

ভারতের বিজেপি সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করেছে। জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ এখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে ১৯৪৭ সালে কাশ্মীরকে সংযুক্তকরণের সময় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তাও ভেঙে দেওয়া হলো। ভারত সরকারের এ সিদ্ধান্তে পাকিস্তান তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। কাশ্মীর নিয়ে বৈঠক আয়োজনের জন্য তারা নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে রেল, ট্রেন ও বাস যোগাযোগ পাকিস্তান বন্ধ করে দিয়েছে। এরপরই পাকিস্তানের অভিযোগ ভারত বাঁধ খুলে দিয়েছে। আর এতে পাকিস্তানের অনেক এলাকায় বন্যা হচ্ছে।

উৎসঃ প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ চীন সীমান্তে বিদ্রোহীদের হামলায় মিয়ানমারের ৩০ সেনা নিহত


মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে দেশটির সেনাবাহিনীর অন্তত ৩০ সদস্য নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার চীন সীমান্তের কাছের এই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পৃথক সংঘর্ষে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানি ঘটে বলে দাবি করেছে বিদ্রোহী এই গোষ্ঠী।

বুধবার থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমারের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইরাবতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রাণহানির এই খবর উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের এই দাবি অসম্ভব।

নর্দান অ্যালায়েন্স বলছে, শান রাজ্যের লাশিও থেকে মুসে মহাসড়কের কুটকি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ৯টি সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষের কোনোটি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ধরে চলেছে। তবে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এই সংঘর্ষের অবসান ঘটে।

দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী এই গোষ্ঠী বলছে, সরকারি ৩০ সেনাসদস্য নিহত ও ১৬ সদস্য আহত হয়েছে। তবে সংঘের্ষ বিচ্ছিন্নতাবাদী এই গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য আহত হলেও কারও প্রাণহানি ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ্য মিন তুন বলেন, সংঘর্ষ হলেও ৩০ সৈন্যের প্রাণহানি অসম্ভব। তিনি বলেন, নং চো ও কিয়াকমি শহরে দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কিয়াকমির সংঘর্ষে বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) একটি অস্থায়ী ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে।

নর্দান অ্যালায়েন্স দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী তিনটি গোষ্ঠীর জোট। টিএনএলএ ছাড়াও আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) এই জোটের সদস্য।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ্য মিন তুন বলেন, কুটকাই এলাকায় আরো একটি সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, সামরিক সরঞ্জাম এবং একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। আমরা খবর পেয়েছি যে, লাশিও এবং কুটকাই এলাকায় বিদ্রোহীদের অনেক সদস্য নিহত হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত ১০ বিদ্রোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ১৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার দাবি করেছে নর্দার্ন অ্যালায়েন্স। সংঘর্ষের ষষ্ঠ দিন বুধবার কুটকাইয়ে আবারও সংঘর্ষের দাবি করেছে বিদ্রোহীদের এই জোট।

উৎসঃ শীর্ষনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‘হত্যার পর কাশ্মীরিদের অচিহ্নিত কবরে দাফন করছে ভারত’


ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে মোদি সরকার ‘গণহত্যা’ শুরু করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট সরদার মাসউদ খান।

মঙ্গলবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। মাসউদ খান বলেন, ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে এখন পর্যন্ত ভারতীয় বাহিনীর অত্যাচারে ৬ হাজারেরও বেশি কাশ্মীরি জনগণ আহত হয়েছেন।

কাশ্মীরে মোদি সরকার ‘সম্পূর্ণ গণহত্যা’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট বলেন, সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে আমি এ কথা বলছি যে, জম্মু-কাশ্মীরে গণহত্যা শুরু হয়েছে। নারীদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে, নির্বিচারে কাশ্মীরি জনগণকে হত্যা করছে ভারতীয় বাহিনী।

হত্যার পর নিহতদের অচিহ্নিত কবরে দাফন করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মাসউদ খান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাশ্মীরের সঠিক চিত্র আসছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, কাশ্মীরিদের দুর্দশার বিষয়ে সাধারণত উপত্যকায় কী ঘটছে, তার একতরফা বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে, কারণ ভারত সেসব রিপোর্টারকেই অনুমোদন দিচ্ছে, যারা তাদের দেয়া তথ্যমতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাশ্মীরে অচলাবস্থা আরোপের পর সেখান থেকে কোনো খবর প্রকাশ হতে দিচ্ছে না ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ছাড়াও টেলিফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেটসহ সব ধরনের সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

যদিও বর্তমানে কিছু ল্যান্ডফোনের সংযোগ পুনর্বহাল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, অচলাবস্থা চলার সময় সেখানে কেউ নিহত হয়েছে বলে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। কেবল আট ব্যক্তি আহত হয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন হাসপাতালের সূত্র বলছে, শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। যাদের অনেকের শরীরে আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষত দেখা গেছে।

হাসপাতালে গেলে আটক হওয়ার ভয়ে বহু লোক বাসায়ও চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়াও দুই ব্যক্তির স্বজনের সঙ্গে কথা বলেছে এএফপি, যারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহিংসতায় নিহত হয়েছেন।

উৎসঃ শীর্ষনিউজ

আরও পড়ুনঃ দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণ করতে চায় ভারত: নেপথ্যে ভূমিকা রাখছে ইসরাইল


রবার্ট ফিস্ক

সংবাদটি যখন কানে পড়ল প্রথমে ভেবেছিলাম, গাজা অথবা সিরিয়ায় ইসরাইলের বিমান হামলাগুলোর কোনোটির খবর এটি। সংবাদ পাঠকের শব্দচয়নে সেই ধারণাই পাচ্ছিলাম।

‘টেররিস্ট ক্যাম্প’ একটি ‘কমাণ্ড সেন্টার’ ধ্বংস করা হয়েছে। অনেকগুলো ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। ‘সন্ত্রাসী’ হামলার জবাব দেওয়া হয়েছে। ‘জিহাদিদের’ একটি আস্তানা নিশ্চিন্হ হয়ে গিয়েছে।

কিন্তু একটু পরেই বুঝতে পারলাম বালাকোটে বিমান হামলা করেছে ভারত তার সংবাদ শুনছি। বালাকোট ফিলিস্তিনে নয়, সিরিয়াতে নয়, এমনকি লিবিয়াতেও নয়। এটি পাকিস্তানে। কি অদ্ভূত ব্যপার! ইসরায়েলের সাথে ভারতর সাম্প্রতিক মিশ্রণটা কেউ অনুভব করতে পারছেন?

তেল আবিবে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নয়া দিল্লির ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দুই হাজার পাঁচশত মাইলের ব্যবধান অবস্থিত। এত দূরত্বসত্বেও এই দুই এজেন্সির এক ভঙ্গিতে কথা বলার নেপথ্যে অবশ্যই এখানে কোনো কারণ আছে।

ইসরাইলি অস্ত্রের সব থেকে বড় বাজার এখন ভারত। গত কয়েক বছরে ভারতের বিপজ্জনক ইসলাম বিরোধী রাজনৈতিক জোট বিজেপি গভর্ণমেন্টের সাথে ইসরাইল একটি খোলামেলা ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
সম্প্রতি জাইশে মুহাম্মাদের উপর হামলার সময় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ইসরাইলে তৈরী রাফায়েল স্পাইস ২০০০ স্মার্ট বোমা ব্যবহার করেছে ভারত।

যদিও ইসরাইলের জিপিএস গাইডেড মিসাইলগুলো ভারতের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। মিসাইল হামলায় হয়তো অনেকগুলো গাছ ও পাথর ধ্বংস হয়েছিলো কিন্তু ভারতের দাবী অনুযায়ী তারা ৩০০/৪০০ ‘সন্ত্রাসীকে’ সেদিন হত্যা করতে পারেনি।

তবে এটা সত্য যে, জাইশে মুহাম্মাদ ভারতীয় সেনা ট্রুপসের উপর যে অসভ্য আ্যমবুশ করেছিল তাতে ৪০ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছিল। একটি ভারতীয় জেট বিমানও গুলি করে ভূপাতিত করেছিল পাকিস্তান সেনা বাহিনী।

২০১৭ সালে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় অস্ত্রের ক্রেতা ছিল ভারত। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য রাডার সিস্টেম, আ্যমুনেশন, আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য মিসাইল ইত্যাদি ৫৩০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ক্রয় করেছে। ফিলিস্তিন ও সিরিয়ায় মুসলিমদের বিভিন্ন টার্গেটে এই সবগুলো অস্ত্রের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখে রেখেছে ইসরাইল।

রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনপর্ব চালানোর সময় যখন পশ্চিমা দেশগুলো মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে একধরণের নিষেধাজ্ঞায় ফেলেছিল তখনও মিয়ানমারকে ট্যাংক, অস্ত্র ও বোট সরবরাহ করেছে ইসরাইল।

ইদানিং ইসরাইল একটি সামরিক মহড়ার দৃশ্য চিত্রায়িত করেছে। যেখানে ভারত ও ইসরাইলের সৈন্যদের যৌথ মহড়া দিতে দেখা গেছে। ফিলিস্তিনে দীর্ঘ বেসামরিক যুদ্ধে ইসরাইলী সৈন্যদের যে দক্ষতা এসেছে তা বিনিময় করতে ভারতের কমান্ডোদের বাছাই করা একটি দল ইসরাইলে এসেছিল। ইসরাইলের নেগেভ মরুভূমিতে প্রায় ১৬ জন গারুদ কমান্ডো এসময় প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এ সময় ভারত থেকে যে ৪৫ সদস্যের শক্তিশালী মিলিটারি প্রতিনিধি ইসরাইলে এসেছিল, তারা নেভাচিন ও পালমাচিন বিমানবন্দরে অবস্থান করেছিল।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত বছর ভারত সফরে এসে ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ ভারত ও ইসরাইল দুই দেশেরই সন্ত্রাসী আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা আছে। আমরা দাঁতে দাঁত কষে লড়াই করব। কখনো হার মানবো না’।

একাধিক ভারতীয় ভাষ্যকার মন্তব্য করেছেন, মোদির অধীনে ইহুদীবাদ ও ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উগ্র ডানপন্থী অংশের মধ্যে দুই দেশের সম্পর্কের একটি ভিত্তি রচনা হয়েছে। উগ্র ডানপন্থী এ উভয় শক্তি একসময় বৃটিশরাজের বিরূদ্ধে লড়াই করেছিল।

ইসরাইলি পত্রিকা হারাৎজে’তে ব্রাসেলসের গবেষক শায়রি মালহোত্রা একটি নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের পর সর্ববৃহৎ মুসলিম অধ্যুসিত দেশ এখন ভারত। প্রায় ১৮০ মিলিয়ন মুসলিম ভারতে বাস করেন।

মালহোত্রা আরো লিখেছেন, বিজেপি ও লিকুদ পার্টি তাদের চিন্তা ও তাড়নার একসূত্রিতা ধরতে পেরেছেন। উভয় পার্টি তাদের মনোবাঞ্ছার মিল পেয়েছে বলেই এক ধরণের একাট্টা জোট গড়ে উঠেতে পেরেছে।
হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মুসলিমদের হাতে হিন্দুদের নির্যাতিত হওয়ার একটি ঐতিহাসিক আখ্যান সুন্দরভাবে তৈরী করে নিয়েছে। যে হিন্দু নেতারা হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে জাতিগত বিভক্তি চান ও পাকিস্তানের সাথে ক্রম সংঘাতের রাজনীতি চান তাদের নিকট এটি একটি আকর্ষণীয় বিষয়।

ভারতে ঈসরায়েলের সবথেকে বড় অনুরাগী সংঘ হল ‘ইন্টারনেট হিন্দুজ’। তারা ইসরাইলকে শুধু এই কারণে ভালবাসে যে, ফিলিস্তিন দখলে নেওয়ার পর ইসরাইল যে কৌশলে তার দখলদারিত্ব ধরে রেখেছে ও মুসলিমদের শায়েস্তা করছে সে কৌশলকে তারা পছন্দ করে।

কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর বিবেক দেহজিয়া সম্প্রতি আহবান জানিয়েছেন, ইউএস-ইসরাইল-ভারতের মাঝে একটি ত্রিপক্ষীয় জোট গড়ে উঠুক। কারণ এখানে তিনটি পক্ষই ইসলামি সন্ত্রাসবাদের চোটে ভুঁগছে।

এখানে একটি চমকপ্রদ তথ্য লক্ষ্য করুন, ২০১৬ সালের শেষ পর্যন্ত মাত্র ২১ জন ভারতীয় মুসলিম আইএসের পক্ষে যুদ্ধের জন্য আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। অথচ এ সময়ে বেলজিয়াম থেকে পাঁচশত যোদ্ধা আইসিসে যোগ দিয়েছে যদিও বেলজিয়ামে বসবাস করেন মাত্র পাঁচলক্ষ মুসলিম।

মালহোত্রা তার নিবন্ধে পরামর্শ দিয়েছেন, ভারতের সাথে ইসরাইলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদর্শবাদীতার তুলনায় বাস্তববাদিতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

তবে ঈসরায়েল যখন ভারতকে এত বেশি অস্ত্র দিচ্ছে তখন জায়নবাদী জাতীয়তাবাদ কেন হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদে উঁকি দিবেনা তা ভাবা মুস্কিল!

লক্ষ্য করুন, ঈসরায়েলের সাথে সেই ১৯৯২ সাল থেকেই ডিপ্লোম্যাটিক সম্পর্ক উপভোগ করে আসছে ভারত। কিন্তু ভারতের হিন্দুত্ববাদের সাথে ইসরায়েলের জায়োনিজমের সম্পর্ক হওয়ার কিছুকালের মধ্যেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ইসরাইল থেকে পাওয়া অস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে ভারত।

(ইসলামিক) সন্ত্রাসবাদের বিরূদ্ধে (আমেরিকা-ইসরাইলের শুরু করা) যুদ্ধে নিবন্ধন করা ঔপনিবেশিক বিভাজনে তৈরী দুটি রাষ্ট্রের (ভারত-পাকিস্তানের) জন্য স্বাভাবিক ছিল। কারণ উভয়ের নিরাপত্তা তাদের মুসলিম প্রতিবেশীর দ্বারা বিঘ্নিত হচ্ছিল।

কিন্তু এই দুইটি দেশের যে কোনো লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজেদের ভূমি অথবা ‘দখলীকৃত’ ভূমির নিরাপত্তা বিধান করা।

ভারত, ইসরাইল ও পাকিস্তান তিনটি দেশই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী। এই বিষয়টি একটি ভালো উপলক্ষ্য হতে পারে ফিলিস্তিনের সাথে কাশ্মীরকে গুলিয়ে না ফেলার ও ১৮০ মিলিয়ন ভারতীয় মুসলিমকে উপায়হীন না করার।

লেখক: ব্রিটিশ সাংবাদিক ও মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক

উৎসঃ দ্য ইনডিপেনডেন্ট

আরও পড়ুনঃ মিয়ানমারে ফিরতে রোহিঙ্গাদের ৫ শর্ত


বাংলাদেশে এখন যে এগারো লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আছে, তার বড় অংশই বাংলাদেশে প্রবেশ করা শুরু করেছিলো ২০১৭ সালের ২৫শে অগাস্ট।

এরপর জাতিসংঘসহ নানা সংস্থার নানা উদ্যোগের পর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সরকারের আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ২০১৮ সালের ২৩শে জানুয়ারি প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। বরং রোহিঙ্গারা তখন আট দফা দাবি তুলেছিলো প্রত্যাবাসনের শর্ত হিসেবে।

এর মধ্যে ছিলো – নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, বাড়িঘর জমি ফেরত পাবার নিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলো। এসব দাবি নিয়ে তখন বিক্ষোভ করেছিল আরাকান রোহিঙ্গা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস সোসাইটি নামের একটি সংগঠন।

এবার আবারও ২২শে অগাস্ট প্রত্যাবাসনের একটি সম্ভাব্য তারিখ মিয়ানমারের তরফ থেকে প্রকাশের পর বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারাও প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে ২২শে অগাস্ট ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কাজ করছেন।

এর আগে বাংলাদেশ যে ২২ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারকে দিয়েছিলো তা থেকে সাড়ে তিন হাজারের মতো রোহিঙ্গার নাম প্রত্যাবাসনের জন্য নির্বাচন করে বাংলাদেশকে দিয়েছে মিয়ানমার।

তালিকা পাওয়ার পর এসব রোহিঙ্গাদের মতামত যাচাই করার জন্য জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থাকে অনুরোধ করে বাংলাদেশ এবং সংস্থার কর্মীরা আজ মঙ্গলবার ক্যাম্পগুলোতে সে কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের জন্য নির্বাচিত যেখানে রাখা হবে ও যেখান থেকে বিদায় দেয়া হবে, সেসব স্থানগুলোতে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি আগেই নেয়া শুরু হয়েছে বলে প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার নিশ্চিত করেছেন।

কিন্তু রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন প্রত্যাবাসনের জন্য তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি আছে এবং সেগুলো বাস্তবায়ন না হলে প্রত্যাবাসনে কেউ রাজী হবেন না বলে জানিয়েছে।

এক্ষেত্রে এবার পাঁচটি দাবির একটি তালিকা সম্বলিত লিফলেট গত দুদিন ধরে ক্যাম্পগুলোতে প্রচার করছে ‘ভয়েস অফ রোহিঙ্গা’ নামের একটি সংগঠন।

লিফলেটে যে পাঁচটি দাবির বাস্তবায়ন চায় রোহিঙ্গারা:

১. রোহিঙ্গারা আরাকানের স্থানীয় আদিবাসী এবং সে জন্য তাদের ন্যাটিভ স্ট্যাটাস বা স্থানীয় মর্যাদা সংসদে আইন করে পুনর্বহাল করতে হবে যার আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি থাকতে হবে।

২. নাগরিকত্ব:

প্রথমত, আরাকান রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ‘সিটিজেন কার্ড’ দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরও সিটিজেনশিপ কার্ড দিয়ে প্রত্যাবাসন করে স্থানীয় নাগরিক মর্যাদা দিতে হবে।

তৃতীয়ত, একই সাথে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় থাকা রোহিঙ্গাদের সিটিজেনশিপ কার্ড দিয়ে স্থানীয় নাগরিক মর্যাদা দিতে হবে।

৩. প্রত্যাবাসন

রোহিঙ্গাদের তাদের নিজস্ব গ্রামে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া জমিজমা যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ ফেরত দিতে হবে।

৪. নিরাপত্তা

আরাকানে রোহিঙ্গাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য রোহিঙ্গা পুলিশ বাহিনীর সাথে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

৫. জবাবদিহিতা

বার্মার স্থানীয় আদালতের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির মতো কোনো ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনালে অপরাধীদের বিচার করতে হবে।

ভয়েস অফ রোহিঙ্গা নামের সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শমসু আলম। বিবিসিকে তিনি বলছেন, তাদের মধ্যে সক্রিয় আরও অন্য সংগঠনের সাথে আলোচনা করেই তারা এসব দাবি চূড়ান্ত করেছেন।

‘আমরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় সভা করেছি। রোহিঙ্গাদের নিয়ে বসেছি। মতামত নিয়েছি। সবাই এসব দাবি আদায়ে একমত হতে রাজি হয়েছে।’ আলম বলেন, এগুলো প্রত্যাবাসনের জন্য তাদের দাবি এবং ৭৫ ভাগ রোহিঙ্গাই এর সাথে একমত।

তিনি জানান, সব ধরণের বিদেশী ডেলিগেশন কিংবা বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার কাছেও তারা বারবার এসব দাবি তুলে ধরেছেন যাতে করে ‘কার্যকর প্রত্যাবাসন হয় ও রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে নিরাপদে জীবন যাপন করতে পারে’।

মঙ্গলবার বেলা বারটার দিকে প্রত্যাবাসনের তালিকায় থাকা রোহিঙ্গাদের মতামত যাচাইয়ের কাজ করছিলেন জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার কর্মীরা। কুতুপালংয়ে ২৬ নম্বর ক্যাম্পে তাদের সাথে ছিলেন রোহিঙ্গাদের একজন নেতা বদরুল আলম।

আলম বিবিসিকে বলছেন, ‘এখানে এগারো লাখ রোহিঙ্গাদের দেখভাল করতে আমরা ক্যাম্প ভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়ে ৫৫ জনের একটি কমিটি করেছি যে কমিটিতে আমিও আছি। প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা, ঘর-বাড়ি ভিটা জমি ফেরত দেয়া ও নিরাপত্তাসহ ৫টি দাবি আমাদেরও।’

তিনি বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন ছাড়া প্রত্যাবাসনের কাজ সফল হবে না কারণ নাগরিকত্ব ও স্থানীয় হিসেবে মর্যাদা না পেলে রোহিঙ্গারা সেখানে ফিরলে সেই আগের মতোই নির্যাতন নিপীড়নের মুখে পড়তে হবে।

বদরুল আলম বলেন, ‘জাতিসংঘ আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক আর বার্মা সরকার তার অবস্থান পরিষ্কার করুক রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বিষয়ে।’

উৎসঃ বিবিসি

আরও পড়ুনঃ আমি একজন ভারতীয় হিসাবে গর্বিত নই : কাশ্মীর ইস্যুতে অমর্ত্য সেন


কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘটনায় ভারত সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তিনি বলেছেন, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কোনোভাবেই করা সম্ভব নয়। ভারত সরকারের নেয়া এই পদেক্ষেপে একজন ভারতীয় হিসেবে তিনি গর্বিত নন বলেও মন্তব্য করেছেন এই অর্থনীতিবিদ।

বিশ্বখ্যাত এই অর্থনীতিবিদ বলেছেন, এটি যে শুধুমাত্র সব মানুষের অধিকারের বিরোধিতা করেছে তা নয়, বরং এতে সংখ্যাগরিষ্ঠের কথাও ভাবা হয়নি। সোমবার ভারতের টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভিকে দেয়া এক স্বাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন অমর্ত্য সেন।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে ৮৫ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বিশ্বে গণতান্ত্রিক আদর্শ অর্জনের জন্য অনেক কিছু করেছে ভারত। তবে এখন আর আমি একজন ভারতীয় হিসেবে এটি নিয়ে গর্বিত নই যে ভারতই গণতন্ত্রের পক্ষে প্রথম প্রাচ্যের দেশ ছিল। কাশ্মীরের ক্ষেত্রে যা করা হয়েছে তাতে আমরা সেই খ্যাতি হারিয়ে ফেলেছি।

গত ৫ আগস্ট জম্মুু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করে দেয় ভারত সরকার। এই অনুচ্ছেদ বাতিল হয়ে যাওয়ায় এখন জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নামে দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল গঠিত হবে; যা কেন্দ্রীয় শাসন চলবে। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ ভারতের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেও দেশের ভেতরে রাজনৈতিক ও সাধারণ মানুষের সমর্থন পেয়েছে।

অন্যান্য রাজ্যের মানুষ জম্মু-কাশ্মীরে গিয়ে জমি কিনতে পারবেন বলে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে সেব্যাপারে ড. অর্মত্য সেন বলেন, এ ব্যাপারে রাজ্যের (জম্মু-কাশ্মীর) বাসিন্দাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার থাকা উচিত। এটি এমন একটি বিষয়, যেখানে কাশ্মীরিদের নিজস্ব বৈধ দৃষ্টিভঙ্গি আছে। কারণ এটা তাদের ভূমি।

জম্মু-কাশ্মীরের মূলধারার রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দী করে রাখায় ভারত সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ।

তিনি বলেন, আমি মনে করি না যে, জনগণের নেতাদের কথা না শুনেই আপনি সেখানে ন্যায়বিচার এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে পারবেন। সেখানে হাজার হাজার নেতাকে আটক এবং তাদের অনেককেই কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আপনি যদি বড় বড় নেতাদের আটকে রাখেন; যারা অতীতে সরকার গঠন এবং দেশ পরিচালনা করেছেন…তাহলে আপনি গণতন্ত্রের চ্যানেল দমন করছেন; যে চ্যানেল গণতন্ত্রকে সফল করে।

জম্মু-কাশ্মীরের ব্যাপারে সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তের কারণে যাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সেজন্য পুরো উপত্যকা নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় যাতে প্রাণহানি না ঘটে সেজন্য সরকার পূর্ব সতর্কতামূলক এই প্রতিরোধ পদক্ষেপ নিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভারতীয় এই অর্থনীতিবিদ বলেন, এটি হচ্ছে পুরনো উপনিবেশিক অজুহাত। এ ধরনের অজুহাত দেখিয়ে ব্রিটিশরা ২০০ বছর ভারত শাসন করেছে।

ড. সেন বলেন, সর্বশেষ বিষয় হচ্ছে, আমাদের স্বাধীনতার সময় আমি যে ধরনের প্রত্যাশা করেছিলাম… সেটি হলো প্রতিরোধমূলক আটকের ক্ষেত্রে উপনিবেশিক ঐতিহ্যের ধারায় আমরা আবার ফিরে যাবো।

উৎসঃ এনডিটিভি

আরও পড়ুনঃ কাশ্মির নিয়ে বাড়ছে চীন-ভারত টানাপোড়েন


কাশ্মির ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও চীন তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে এমনটিই মনে করছেন ভারতীয় কূটনীতিকরা। তাদের মতে, কাশ্মির নিয়ে চীনের সাথে নতুন করে ক্ষত তৈরি হলো মোদি সরকারের। আগামী অক্টোবর মাসে ভারতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দ্বিতীয় ঘরোয়া আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তার আগেই জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বিষয়টি নিয়ে চীন নতুন করে কূটনৈতিক বিরোধিতা দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘ ৪৯ বছর পর জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আলোচনায় উঠে এসেছে জম্মু ও কাশ্মির ইস্যু। যে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিল পাকিস্তানের পাশাপাশি চীনও। ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, এটি ঠিকই যে, জাতিসঙ্ঘের সিলমোহর মারা কোনো ভারতবিরোধী বিবৃতি দেয়নি নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু সূত্র বলছে, বিষয়টি এখানেই মিটে যাচ্ছে না।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার বলছে, রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি করানোর পেছনে পাকিস্তানের প্রতি চীনের সখ্যই একমাত্র কারণ নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বেইজিংয়ের নিজস্ব স্বার্থ এবং উদ্বেগও। খবরে বলা হয়েছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে আলোচনায় কাশ্মির নিয়ে মোদি সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ঘোর অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, এর ফলে চীনের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে ও পরে এবং বৈঠকের ভেতরেও সংস্থাটিতে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন। আগামী মাসে নিউ ইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদে যখন কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার নিয়ে ইসলামাবাদ উত্তাল হবে, তাতে প্রবল ইন্ধন থাকবে বেইজিংয়েরও।

সূত্র মতে, চীন সতর্ক হয়ে গিয়েছিল সম্প্রতি ভারতের সংসদীয় অধিবেশনে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তৃতার সময়েই। যেখানে অমিত শাহ বলেছিলেন, জম্মু ও কাশ্মির বলতে গিলগিট, বেলুচিস্তান, পাক শাসিত কাশ্মির এবং আকসাই চীনকেও বোঝায়।

আকসাই চীনে পিপলস লিবারেশন আর্মির উপস্থিতি নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ছিলেন সে দিন। অথচ এত দিন পর্যন্ত আকসাই চীনকে ভারত ‘বিতর্কিত ভূখণ্ড বলেছে। চীন মনে করছে, লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে বিভাজিত করার পর আকসাই চীন নিয়েও সক্রিয় হবে ভারত। পাশাপাশি ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর চীনের হাতে পাকিস্তানের তুলে দেয়া ৫,১৮৩ বর্গকিলোমিটার জমি নিয়েও টানাপড়েন তৈরি হতে পারে।

কূটনীতিকরা মনে করছেন, চীন তার সামরিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্য দেশকেও (বিশেষত নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী এবং অন্য অস্থায়ী সদস্য দেশ) সাথে নেয়ার চেষ্টা শুরু করেছে। গত শুক্রবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে রুশ প্রতিনিধির বক্তব্য এরই মধ্যে কপালে ভাঁজ ফেলেছে ভারতীয় কর্মকর্তাদের। কাশ্মির সমস্যার সমাধান ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় বিষয়, এ কথা বলার পরও রুশ প্রতিনিধি যোগ করেছেন, এ বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের সনদ এবং প্রস্তাবগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অথচ ভারতের অবস্থান হলোÑ কাশ্মির সমস্যার সমাধানে কোনো তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো মানা হবে না। আর তাই রাশিয়ার ওই মন্তব্যের পেছনে বেইজিংয়ের ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ভারত।

সীমান্তে ফের পাল্টাপাল্টি গুলি, দুই ভারতীয় সেনাসহ নিহত ৪

অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে কাশ্মির সীমান্তে ভারতের বিরুদ্ধে ফের গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার ভারতীয় বাহিনীর চালানো হামলায় দুই পাকিস্তানি বেসামরিক নিহত হয়েছেন। পরে পাল্টা হামলায় দুই ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি। পাকিস্তান আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ অধিদফতরের বরাতে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, গত রোববার ভারতীয় বাহিনী বিনা উসকানিতে নিয়ন্ত্রণরেখায় মর্টার ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ করে। এতে হাসান দীন (৬১) ও লাল মোহাম্মদ (৭৫) নামে দু’জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলায় ভারতের কয়েকটি চেকপোস্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও শনিবার নিয়ন্ত্রণরেখায় দুই দেশের সৈন্যরা সংঘর্ষে জড়িয়েছিল।

কিছু স্কুল খুলেছে, উপস্থিতি খুবই কম

ভারতশাসিত কাশ্মিরে গতকাল সোমবার প্রায় দুই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ৯৫টি স্কুল খুলেছে। তবে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি খুবই কম। মোবাইলে আপাতত সীমিত আকারে ইনকামিং পরিষেবা চালু করেছে প্রশাসন। একটি সূত্র জানিয়েছে, আপাতত মোবাইলে শুধু ইনকামিং পরিষেবা দেয়া হতে পারে, যাতে উপত্যকার মানুষ রাজ্যের বাইরের ডোমেস্টিক কল বা আইএসডি কল পেতে পারে। জম্মুর ডিভিশনার কমিশনার সঞ্জীব বর্মা জানিয়েছেন, সব দিক খতিয়ে দেখার পরই ফোর-জি ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করা হবে। এ দিকে দু’টি বিমানে উপত্যকায় ফিরেছেন ৩৪৪ জন হজযাত্রী।

জম্মুতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রথ্যালি

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের জম্মুতে বাইক রথ্যালি করেছে দেশটির হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। দলটির যুব সংগঠন বজরং দলও এ বিক্ষোভে অংশ নেয়। এ দিকে এ বিক্ষোভের জেরে উপত্যকায় নতুন করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ। গত রোববার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

চার হাজার কাশ্মিরি কারাগারে বন্দী

কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার পর সেখানকার হাজারো বাসিন্দাদের জেলে আটকে রাখা হয়েছে। দ্য নিউ আরবের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে। খবরে বলা হয়েছে, বিতর্কিত জননিরাপত্তা আইনের (পিএসএ) আওতায় কমপক্ষে চার হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ম্যাজিস্ট্রেট বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, আটক কাশ্মিরিদের কাশ্মিরের বাইরের জেলে পাঠানো হয়েছে। কারণ কাশ্মিরে জেলে নতুন করে বন্দীদের রাখার মতো জায়গা নেই। তবে ভারত সরকার বলেছে, কাশ্মিরের শুধু ১০০ জনের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে।

উৎসঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুনঃ কাশ্মিরে দুর্বৃত্তের আচরণ করছে মোদি সরকার: অরুন্ধতী রায়


জম্মু-কাশ্মিরকে সুবিশাল বন্দিশিবিরে রূপান্তর করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বনামধন্য ভারতীয় বুদ্ধিজীবী অরুন্ধতী রায়। কাশ্মিরিদের সঙ্গে মোদি সরকার দুর্বৃত্তের আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ভারতের স্বাধীনতা দিবসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ লেখা নিবন্ধে বুকারজয়ী এই উপন্যাসিক দাবি করেছেন, কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন করে কুরুচিপূর্ণ পন্থায় তা উদযাপন করছে ভারত।

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঘোষণার মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে পাস হয় একটি বিলও। আর গত ৯ আগস্ট রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আইনে পরিণত হয় তা। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার বিপুলসংখ্যক স্বাধীনতাপন্থী ও ভারতপন্থী রাজনৈতিক নেতাকে।

১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে ‘নীরবতাই সবথেকে জোরালো আওয়াজ’ (The Silence Is the Loudest Sound) শিরোনামের নিবন্ধে অরুন্ধতী রায় লিখেছেন, ভারত যখন ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের ৭৩ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করছে, তখন ছিন্নমূল শিশুরা দিল্লির রাস্তায় থমকে থাকা যানবাহনের পাশে গিয়ে গিয়ে বড় মাপের জাতীয় পতাকা ও স্যুভেনির বিক্রি করছে। সেগুলোতে লেখা ‘মেরা ভারত মহান হে’ (আমার ভারত মহান)। সত্যিকার অর্থে ‘আমার ভারত মহান’-এ কথাটা এ মুহূর্তে অনুভব করতে পারা কঠিন। কারণ আমাদের সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তারা যেন দুর্বৃত্তে পরিণত হয়েছে।’

ভারতের সংবিধানে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের যে নিশ্চয়তা ছিল, মোদি সরকার ৩৭০ ধারা বাতিল করার পর এর অন্তর্গত ৩৫-এ অনুচ্ছেদে বর্ণিত কাশ্মিরিদের বিশেষ সুবিধাও বাতিল হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘৩৫-এ’ অনুযায়ী কাশ্মিরের বাসিন্দা নন এমন ভারতীয়দের সেখানে সম্পদের মালিক হওয়া ও চাকরি পাওয়ায় বাধা ছিল। সরকারের সিদ্ধান্তে সেই বাধা দূর হয়েছে। এখন চাইলেই যে কোনও ভারতীয় নাগরিক সেখান ভূমিসহ অন্যান্য সম্পদ কিনতে সক্ষম হবে।

নিবন্ধে অরুন্ধতী লিখেছেন, “ব্রিটিশ প্রথা অনুযায়ী টেবিল চাপড়ে আইনটি পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের পার্লামেন্ট। রাজ্যটির আইনি স্বীকৃতি বাতিল করার অর্থ হলো অনুচ্ছেদ ৩৫ (এ)ও বিলুপ্ত করা; এর আওতায় এতোদিন কাশ্মিরি বাসিন্দাদের অধিকারের স্বীকৃতি ছিল এবং নিজেদের এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই ছিল। সুতরাং ‘ব্যবসায়ের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে’ এ কথাটির মানে স্পষ্ট করতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ইসরায়েলি ধাঁচের বসতি স্থাপন ও তিব্বতের ধাঁচে জনসংখ্যা স্থানান্তরের মতো বিষয়গুলোও।”

স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে কাশ্মিরকে দুটি আলাদা অঞ্চলে ভাগ করার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ৮ আগস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রেডিও,টেলিভিশনে এক যোগে সম্প্রচারিত ভাষণে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক আখ্যা দেন তিনি। বলেন, সংবিধানের ৩৭০ ধারা কাশ্মিরি জনগণকে স্বজনপ্রীতি,সন্ত্রাসবাদ ও বিভক্তি ছাড়া কিছুই দেয়নি। সংবিধানের ওই ধারা বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মির ও ভারতীয় জনগণের নতুন যুগের শুরু হবে বলে দাবি করেন মোদি। কাশ্মিরের পণ্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

গত ৮ আগস্টের (এবারের অচলাবস্থার চতুর্থ দিন) কথা স্মরণ করে অরুন্ধতী লিখেছেন, ‘এদিন নরেন্দ্র মোদি মূলত উদযাপনমুখর ভারত ও অবরুদ্ধ কাশ্মির নিয়ে টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। বক্তব্যে তিনি বুঝিয়েছিলেন কিভাবে কাশ্মিরে আবারও বলিউড চলচ্চিত্রের শ্যুটিং করা যাবে।’

ইন্টারনেট দুনিয়ায় বিভিন্ন নারী-বিদ্বেষী বক্তব্য এবং ‘কাশ্মির থেকে ভারতীয়রা এখন মেয়ে এনে বিয়ে করতে পারবে’-হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টারের এমন বিতর্কিত মন্তব্যসহ নানা কুরুচিপূর্ণ উপায়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের ঘোষণা উদযাপন করেছে ভারত। অরুন্ধতী মনে করেন, এসবের মধ্যেও সবচেয়ে জোরালো আওয়াজটি হলো কাশ্মিরে টহলকৃত ও ব্যারিকেডে ঘেরা রাস্তা এবং সেখানকার অবরুদ্ধ, নির্যাতিত, কাঁটাতারে ঘেরা, ড্রোনের নজরদারিতে থাকা এবং পুরোপুরি যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে বসবাসকারী প্রায় ৭০ লাখ কাশ্মিরির নিথর নীরবতা।

উৎসঃ বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে নারীদের যৌন হয়রানি করছে ভারতীয় সেনারা


কাশ্মীরিদের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ পেলেট বা ছররা গুলি ছুড়ছে ভারতীয় সেনারা। শিশু, যুবক, কিংবা বৃদ্ধ- ঘর থেকে বের হলেই চোখ-মুখ লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ছোড়া হচ্ছে গুলি।

আগে থেকেই ছররা গুলির ব্যবহার থাকলেও জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর থেকে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে নতুন করে আহত হয়েছেন অনেকেই। অন্ধ হয়েছেন বেশ কয়েকজন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন কেউ কেউ। গুরুতর আহত হলেও অনেকেরই চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো রকম উসকানি ছাড়াই তাদের দিকে ‘পেলেট গান’ তাক করা হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে ঠিক কতজন ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন, তা নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। নয়াদিল্লিভিত্তিক কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, বাড়ি তল্লাশির নামে বহু নারী ও অল্প বয়সী কিশোরীকে যৌন হয়রানি এবং শতশত কিশোরকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার নিউ ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

স্বায়ত্তশাসন বাতিলের একদিন পর (৬ আগস্ট) ছররা গুলিতে গুরুতর আহত হন ১৬ বছর বয়সী কিশোর আসরার আহমেদ। বাড়ির বাইরে বের হলে সেনারা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

এতে তার মাথা, চোখ, কাঁধ ও মুখে মারাÍক ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ১৫ দিন ধরে শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেস (এসকেআইএমএস) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে ছররা গুলি খাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে আহমেদ বলেন, ‘একটা বল আনতে বাড়ির প্রধান ফটকের বাইরে বের হই আমি।

ঠিক তখনই কিছু দূরে দাঁড়ানো সেনারা প্রথমে আমার দিকে টিয়ার গ্যাস ছুড়ে মারে। পরপরই আমার চোখে ও মুখে ছররা গুলি ফায়ার করে।’ ছররা গুলিতে আহতদের চিকিৎসার জন্য শ্রীনগরের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল শ্রী মহারাজা হরি সিং হাসপাতালে (এসএমএইচএস) চক্ষু বিভাগ খোলা হয়েছে।

প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে এখানে। এখন অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। শ্রীনগর পুরনো শহরের বাসিন্দা সামির হোসেন তাদেরই একজন। একটি ওষুধের দোকান চালান হোসেন। তিনি জানান, গত শনিবার ছররা গুলি লাগে তার।

ওই সময় নিজের ওষুধের দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সেদিনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বাম চোখে এসে লাগে গুলি। দোকান থেকে ফেরার পথে পুলিশ গুলি চালায়। আমি ঠিক জানি না, তারা কেন আমার দিকে তাক করল।’

সামির হোসেনের বিছানার পাশেই যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন ৭৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক। তার চোখেও ছররা গুলি লেগেছে। সাদিক বলছিলেন, ‘মাগরিবের নামাজ পড়ে ঘরে ফিরছিলাম আমি। ওই সময় মসজিদের কাছেই কিছু মানুষ বিক্ষোভ করছিল। তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে পুলিশ। আমি বিক্ষোভে অংশ নিইনি। কিন্তু আমাকেও গুলি করা হয়েছে।’

হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে ছররা গুলির রোগীর ভিড় থাকলেও এ পর্যন্ত ঠিক কতজন চিকিৎসা নিয়েছেন, সে ব্যাপারে একেবারে নীরব রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইতিপূর্বে হাসপাতালের স্টাফরাও ছররা গুলির রোগীর ব্যাপারে সহজেই তথ্য দিতেন।

কিন্তু এখন একেবারেই চুপ। রোগীদের দর্শনার্থীদের ওপর কড়া নজর রাখছে পুলিশ। রাতে দায়িত্ব পালন করা চক্ষু বিভাগের এক ডাক্তারের সঙ্গে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ওয়ার্ডে বর্তমানে ঠিক কতজন রোগী ভর্তি আছেন তা তিনি জানেন না।

সিনিয়র ডাক্তারদের থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। এ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার এখতিয়ার নেই আমাদের।’ বিক্ষোভ রুখতে ২০১০ সাল থেকে পেলেট গান (এক ধরনের অস্ত্র) ব্যবহার করছে বাহিনী।

ভারতে শুধু কাশ্মীরেই এই পেলেট গান ব্যবহার করা হচ্ছে। বন্দুকের গুলির মতো মারণাস্ত্র নয় এ ছররা। একেকটি শেলের মধ্যে ছোট ছোট পাঁচ শতাধিক লোহার বল থাকে। বন্দুক থেকে এই শেল ছোড়া হলে বাইরের খোলস ফেটে বলগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

কাশ্মীর সরকারের এক তথ্যানুসারে, ২০১৭ সালে আট শতাধিক কাশ্মীরি চোখে আহত হন। তবে পিলেট ভিকটিম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মতে, ২০১৭ সালে ১২০০-এর বেশি নারী, পুরুষ ও শিশুর চোখে ছররার গুলি লাগে। এর মধ্যে শতাধিক কাশ্মীরির এক বা উভয় চোখ অন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালকে তো ‘গণ-অন্ধত্ব বছর’ বলা হয়ে থাকে। ওই বছরের ৮ জুলাই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বুরহান ওয়ানির হত্যার পর উত্তপ্ত কাশ্মীরে ১১০০ জনের চোখে ছররা ঢোকে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করবে পাকিস্তান


কাশ্মীর নিয়ে চলমান সংকট নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পর এবার আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডন ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি একটি টিভি চ্যানেলকে বলেন, আমরা কাশ্মীরের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সব আইনি দিক খতিয়ে দেখে এবং সব কিছু বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ক্যাবিনেট মিটিংয়ের বিস্তারিত জানিয়ে ইমরান খানের তথ্য উপদেষ্টা ফেরদৌস আশিক আওয়ান বলেন, কাশ্মীরের বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে যাওয়ার সুপারিশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণহত্যা, এই দুই বিষয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে ভারতকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপের বিষয়ে ভারতীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠকে কাশ্মীরের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছে চীন।

৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি’র নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

লাদাখ ও কাশ্মীরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল আনা হয়। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও তাদের ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার অভাবে লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই কক্ষে বিলটি পাস হয়।

এ নিয়ে প্রথম থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। এটা ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত, এই অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয় তারা। বিষয়টি জাতিসংঘে তোলার আবেদন করে পাকিস্তান।

কিন্তু এতে কাজ না হওয়ায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি চিঠি দেন নিরাপত্তা পরিষদে।

শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যালয়ে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বৈঠকটি হয়। ১৯৬৫ সালের পর কাশ্মীর নিয়ে দ্বিতীয়বার রুদ্ধদ্বার বৈঠক এটি। কাশ্মীর নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠকের বিষয়টিকে তাদের কূটনৈতিক জয় হিসেবে দাবি করেছে পাকিস্তান।

উৎসঃ আমাদের সময়

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here