সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ এখনও বেঁচে আছেন, মৃত্যুর খবর গুজব! (ভিডিও)

0
707

সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ এখনও বেঁচে আছেন। তার মৃত্যুর খবরকে গুজব বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে নুসরাত হুমায়রা। রোববার (২১ এপ্রিল) বিকেলে তিনি একথা জানান।

এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। তবে এ খবর সত্য নয় বলে সময় সংবাদকে জানান মাহফুজ উল্লাহর ভগ্নিপতি তালুকদার মহিবুল হোসেন।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন তাকে লাইফসাপোর্টে রাখা হয়। আজ রোববার দুপুরে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হয় এবং বলা হয়, তোমরা তাকে দেশে নিয়ে যেতে পারো। তার সঙ্গে মেয়ে নুসরাত হুমায়রা মেঘলা আছে।

ভিডিওঃ  ‘সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ এখনও বেঁচে আছেন, মৃত্যুর খবর গুজব! (ভিডিও) ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তিনি জানান, মেঘলা বলেছেন, উনার (মাহফুজ উল্লাহর) লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হয়েছে। তবে এখনো বেঁচে আছেন। আজ রাতেই হয়তো উনার শেষ রাত হতে পারে।

এর আগে মেঘলা নিজের ফেসবুকে মাহফুজ উল্লাহর সবশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে একটি পোস্ট দেন। যেখানে তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় চ্যানেলগুলোতে দেখানো হচ্ছে যে, মাহফুজ উল্লাহ মারা গেছেন। আমি হাসপাতালে উনার সঙ্গে আছি। উনি এখনো বেঁচে আছেন। তবে চিকিৎসকরা তার সব ধরণের চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছেন যাতে তিনি শান্তিতে চলে যেতে পারেন।

৬৯ বছর বয়সী মাহফুজ উল্লাহ বর্তমানে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন।

গত ২ এপ্রিল সকালে ধানমন্ডির গ্রিন রোডে মাহফুজ উল্লাহ তার নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখা‌নে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১১ এপ্রিল অসুস্থ মাহফুজ উল্লাহকে ব্যাংককে নেয়া হয়। সেখানকার বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ দেশের একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক। ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতি করা মাহফুজ উল্লাহ ষাটের দশকে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। সাংবাদিকতা ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতাও করেছেন তিনি। সবশেষ তিনি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

উৎসঃ ‌somoynews

আরও পড়ুনঃ বিশ্বের একমাত্র দুর্নীতিমুক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাঃ এডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম


আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম শুক্রবার পিরোজপুরে একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, শেখ হাসিনা বিশ্বের একমাত্র দুর্নীতিমুক্ত প্রধানমন্ত্রী। বিগত ১০ বছরে দেশে শুধু উন্নয়ন হয়েছে। কোনো দুর্নীতি হয়নি। এখনো দেশের কোনো খাতে দুর্নীতি নেই।

শ. ম রেজাউল করিম সুপ্রিমকোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী। ভোটডাকাতির একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রেজাউল করিমকে একজজন সচেতন ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবেই জানতেন মানুষ। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বরের ভোটডাকাতি থেকে তিনিও বিরত থাকেন নি। এমপি হওয়ার খায়েশ পূরণ করতে গিয়ে বিরোধী মতের লোকদের বাড়িঘর ও সভা সমাবেশে অগ্নিসংযোগ, হামলা-ভাঙচুর ও নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনিও। অতিমাত্রার বঙ্গবন্ধু ও হাসিনা বন্ধনার কারণে নির্বাচনের পর তিনি পেয়ে গেলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এখন অবৈধ সরকারের সকল অপকর্মের পক্ষে সাফাই গাওয়া ছাড়া তার সামনে কোনো বিকল্প নেই। কমপক্ষে মন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও প্রতিদিন থাকে উচ্চ মাত্রায় শেখ হাসিনার প্রশংসা করতে হবে। সেই থেকেই তিনি বিগত ১০ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটকে ধামাচাপা দিতে চাচ্ছেন।

কিন্তু, বিগত ১০ বছর ধরে শেয়ারবাজার লুট, ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিসহ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ আত্মসাতের যে মহোৎসব চলছে রেজাউল করিম কি এসব চাপা দিয়ে রাখতে পারবেন? এখন রেজাউল করিমকে যদি প্রশ্ন করা হয়-শেয়ারবাজার থেকে লাখ কোটি টাকা কি বিএনপি-জামায়াতের নেতারা লুট করেছে? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি কি বিএনপি-জামায়াত করেছে? দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা কি বিএনপি-জামায়াত লুট করেছে? সোনালী-জনতা ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা কি বিএনপি-জামায়াতের লোকজন আত্মসাত করেছে? রেজাউল করিম কি এসব প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন? অবশ্যই পারবেন না।কারণ, সবগুলো দুর্নীতি হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। আর এসব দুর্নীতি হয়েছে শেখ হাসিনার পরিবারের লোকদের নির্দেশনা অনুযায়ী। বলা যায়-এসব দুর্নীতি-লুটপাটের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরাসরি জড়িত।

এছাড়া, ৩০ ডিসেম্বর ভোটডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে প্রতি মাসেই সরকারের বিভিন্ন খাতের ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসছে। এসব দুর্নীতির কারণে চরম খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে। আর অচল হয়ে পড়ছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনকি সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত এসব খাতের দুর্নীতি অনিয়ম নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এখানে চারটি খাতের দুর্নীতির উৎসগুলো উল্লেখ করা হলো-

দুর্নীতির কারখানা তিতাস

সম্প্রতি দুদকের অনুসন্ধানে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে এসেছে তিতাসে। এখানে পদে পদে দুর্নীতি অনিয়ম হচ্ছে। আর খেসারত দিচ্ছে গ্রাহকরা। যেমন-অবৈধ সংযোগ, নতুন সংযোগে অনীহা এবং অবৈধ সংযোগ বৈধ না করা, অবৈধ লাইন পুনঃ সংযোগ, অবৈধ সংযোগ বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া, অদৃশ্য হস্তক্ষেপে অবৈধ সংযোগ, গ্যাস সংযোগে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ না করা, বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহককে শিল্প শ্রেণির গ্রাহক হিসেবে সংযোগ প্রদান, মিটার টেম্পারিং, অনুমোদনের অতিরিক্ত বয়লার ও জেনারেটর এ গ্যাস সংযোগ, মিটার বাইপাস করে সংযোগ প্রদান সংক্রান্ত দুর্নীতি, এস্টিমেশন অপেক্ষা গ্যাস সরবরাহ কম করেও সিস্টেম লস দেখানো, ইচ্ছাকৃতভাবে ইভিসি-ইলেকট্রনিক ভলিয়ম কারেক্টর না বসানো।

দুর্নীতির শিকার ওয়াশার গ্রাহকরা

ঢাকা ওয়াসার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে টিআইবি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৬২ শতাংশ গ্রাহক ওয়াশা কর্মকর্তাদের দুর্নীতি অনিয়মের শিকার। এসব অনিয়মের মধ্যে- পানির সংযোগের জন্য ২০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। পয়:লাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ৩০০-৪৫০০ টাকা, গাড়িতে জরুরি পানি সরবরাহের জন্য ২০০থেকে ১৫০০ টাকা, মিটার ক্রয়/পরিবর্তনের জন্য এক হাজার-১৫ হাজার, মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত কাজের জন্য ৫০ থেকে তিন হাজার এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে এক থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়।

দুর্নীতির কারণে ধসে পড়েছে বিমান খাত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ১৯ খাতে দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিমানের ৮ এবং বেবিচকের ১১ খাতে দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত হয়েছে।

বিমানের ৮ খাতের মধ্যে এয়ারক্রাফট কেনা ও লিজ নেয়া, রক্ষণাবেক্ষণ-ওভারহোলিং, গ্রাউন্ড সার্ভিস, কার্গো আমদানি-রফতানি, ট্রানজিট যাত্রী ও লে-ওভার যাত্রী, অতিরিক্ত ব্যাগেজের চার্জ আত্মসাৎ, টিকিট বিক্রি, ক্যাটারিং খাতের দুর্নীতি চিহ্নিত হয়েছে।

আর বেবিচকের ১১ খাতের মধ্যে আছে টাওয়ার বোর্ডিং ব্রিজসহ বড় বড় কেনাকাটা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, বিমানবন্দরের দোকান বিলবোর্ড ভাড়া, পরামর্শক নিয়োগ, কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণ, মন্ট্রিল কনভেনশন বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলট ফ্লাইং ইঞ্জিনিয়ার ও এয়ারক্রাফটের লাইসেন্স, ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্স ও সিডিউল অনুমোদন ও অপারেশনাল কাজে দুর্বলতা।

দুর্নীতির মহোৎসব স্বাস্থ্যখাতে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১টি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্রয়, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসা দেওয়া, চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইকুইপমেন্ট ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসব খাতের দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা জড়িত। এসব দুর্নীতি ও লুটপাটের টাকা সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকদের পকেটেও যাচ্ছে। যার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‘ইয়াবাপ্রেমী’ দুই যুগল আটক


সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়, তারপর থেকেই প্রেম কক্সবাজারের ছেলে মো. নুরুল আফসার (২১) ও রামু সরকারি কলেজের ছাত্রী জমিলা আক্তার টুম্পার (২০)। প্রেমিক ছিলেন ইয়াবা কারবারি। তার হাত ধরে এই পথে আসেন প্রেমিকাও।

তারা ব্যবসার প্রসার ঘটান কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, সালমা আক্তার (২০) ও জাহাঙ্গীর আলম (২৮) নামে আরও এক প্রেমিক জুটির সঙ্গে ধরা পড়েন তারা।

আজ শনিবার সীতাকুণ্ডের বারআউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের কাছে ধরা পড়েন নুরুল-টুম্পা ও সালমা-জাহাঙ্গীর প্রেমিক জুটি। পরে তাদের কাছ থেকে জানা যায় চক্রের সকল তথ্য। একই সঙ্গে উদ্ধার হয় ২০০০ পিস ইয়াবা।

এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দুই জুটির ইয়াবা কারবারির ঘটনা গণমাধ্যমে তুলে ধরেন বারো আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান হাবীব। তিনি জানান, আটককৃতরা হলেন কক্সবাজারের গর্জনিয়া গ্রামের শফিউল আলমের মেয়ে জমিলা আক্তার টুম্পা ও তার প্রেমিক একই এলাকার দক্ষিণ বাংলা বাজার নয়াপাড়া গ্রামের মো. সাহাবুদ্দিনের পুত্র নুরুল আফছার। বাকি দুজনও হলেন টেকনাফ থানার মিনা বাজার (নূর কবির মেম্বর বাড়ির পার্শ্বে) গ্রামের মৃত আব্দুল রশিদের মেয়ে সালমা আক্তার ও তার প্রেমিক একই এলাকার মো. ফরিদুল আলমের পুত্র মো. জাহাঙ্গীর আলম। এদের মধ্যে টুম্পা ও সালমা পরস্পর বান্ধবী। আফসার কক্সবাজার পলিটেকনিক কলেজের ষষ্ঠ বর্ষের ছাত্র।

তিনি জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শীতলপুর আমেরিকান এর বাড়ির সামনে বারো আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশ একটি চেকপোস্ট স্থাপন করে। এই রুটে ঢাকামুখী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো ব- ১৫-১২৬৪) তল্লাশি চালান। পরে সেখানে এই দুই যুগলের কাছ থেকে ২০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। পরে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

ওসি আহসান হাবীব আরও জানান, থানায় এনে নুরুল-টুম্পা ও সালমা-জাহাঙ্গীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে তারা তারা নিজেদেরকে পরস্পরের প্রেমিক-প্রেমিকা ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবী বলে জানিয়েছেন। এই দুই প্রেমিক যুগল দীর্ঘদিন ধরে একত্রে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ইয়াবা পাচার করে আসছেন। প্রত্যেকবার ইয়াবা পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে পান বলেও জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় মাদক আইনের আটক চারজনের বিরুদ্ধে মামলায় হয়েছে বলেও জানান ওসি।

উৎসঃ ‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ বান্দরবানের লামা উপজেলায় গাছে বেঁধে নির্যাতন করার এই চিত্রটি দেখে নিন্দার ঝড়


গাছে বাঁধা এক কিশোরীর ছবি ঘুরছে ফেসবুকে। বান্দরবানের লামা উপজেলায় গাছে বেঁধে নির্যাতন করার এই চিত্রটি দেখে নিন্দার ঝড় তুলছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। বিষয়টি নজরে পড়ায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানতে চেয়েছেন, কিশোরীর নির্যাতনকারীর পরিচয়।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাহেরা বেগম জলি নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ওই কিশোরীর ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘হে সভ্যতা শিহরিত হও’।

তাহেরা বেগম জলি আরও লেখেন, ‘গত ১০০ দিনে আমাদের দেশে ৩৯৬ জন নারী শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই খবরগুলো প্রকাশ্যে এসেছে। দুর্ঘটনার একটা বড় অংশ লোচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায়। ইট-পাথরের কারাগারে তারপরও পরম সুখে আছি আমরা।’

এরপরই ছবিটি ভাইরাল হয় ফেসবুকে। একপর্যায়ে শেয়ার পোস্টটি চোখে পড়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের। তিনি নির্যাতকারীর পরিচয় জানতে চেয়ে তার ফেসবুকে লেখেন, ‘কোনো সভ্য সমাজে কি এমনটি ঘটতে পারে? একটি কিশোরীকে এভাবে অত্যাচার করার জন্য বেঁধে রাখাটাই কি কোনো সভ্য মানুষ করতে পারে? অনুগ্রহ করে খুঁজে বের করুন—অপরাধী কে। লামায় কি কেউ নেই?’

ইমতিয়াজ কানন নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর ওয়াল থেকে ছবিটি শেয়ার করেন মন্ত্রী।

এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহার দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে জানান, উপজেলার ফাইচং এলাকায় গত বছর একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর একটি দল অপর দলের লোকজনকে পুনরায় মারপিটের জন্য এসে ওই কিশোরীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে।

গতবছরের ছবি নতুন করে ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ফেসবুকে কারও ওয়াল থেকে হয়তো মেমোরিতে আসে ছবিটি। পরে তিনি হয়তো আবার শেয়ার দেন। লামায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সমাধান করা হবে। অপরাধীরা ছাড় পাবেন না বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

উৎসঃ ‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ”বেঈমান, গাদ্দার” মোকাব্বিরকে কারণ দর্শানো নোটিশ


গণফোরামের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে নির্বাচিত মোকাব্বিরকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।

শনিবার আরামবাগের গণফোরামের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠিত দলের সভা থেকে তাকে নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এতে বলা হয়, ‘গঠনতন্ত্রের অষ্টম ধারা মোতাবেক দলের লক্ষ্য, আদর্শ, নীতি, গঠনতন্ত্র, কর্মসূচি পরিপন্থী কাজের জন্য আপনাকে (মোকাব্বির) কারণ দার্শনো নোটিশ জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসন থেকে গণফোরামের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন মোকাব্বির । দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ নেন তিনি। এ কারণে গণফোরামের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয় তাকে।

এদিকে গণফোরামের এই বৈঠকে দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু তার প্রতিবেদনে বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে অনেক প্রশ্ন ও সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে, অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু সরকার ৩০ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠিত নির্বাচন পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় ২৯ ডিসেম্বরের রাতেই সম্পন্ন করে।

তিনি বলেন, চরম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বিরোধী দলকে নির্বাচনের মাঠে নামতে না দিয়ে, পোস্টার প্রচারপত্র বিলি করতে না দিয়ে, ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকতে না দিয়ে এবং ভোটারদের ভোট দিতে না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সেই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে গণশুনানি অনুষ্ঠান, প্রতিবাদ সভা-মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে, যা অব্যাহত আছে।

এতে আরও বলা হয়, ৩০ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠিত প্রহসনের সংসদ নির্বাচনের কারণে বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের চরম অনাস্থা সৃষ্টি হয়। তার প্রমাণ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তর ও সাম্প্রতিক অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচন। সরকার শত চেষ্টা করেও জনগণকে ভোটকেন্দ্রে নিতে পারেনি, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।

দেশে চলছে চরম রাজনৈতিক হয়রানি, সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠানে করছে নানা রকম বাধা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রদান। চলছে ডিজিটাল আইনের চরম অপপ্রয়োগ। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লুটপাট ও অব্যবস্থার কারণে দেওলিয়াপ্রায়, পুঁজি পাচারের ক্ষত বেড়েই চলছে, শেয়ারবাজার ধ্বংস প্রায়, আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম অবনতি, প্রতিকারবিহীনভাবে বেড়ে চলছে ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন।

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মফিজুল ইসলাম খান কামাল, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, ড. রেজা বিকরিয়া, মেজর জেনারেল (অব.) আমসাআ আমীন, অ্যাডভোকেট এস এম আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মোহসীন রশীদ, ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল হক, অ্যাডভোকেট সগীর আনোয়ার, মোশতাক আহমেদ, আইয়ুব খান ফারুক, রফিকুল ইসলাম পথিক, হারুনুর রশীদ তালুকদার, খান সিদ্দিকুর রহমান, মোহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী, আব্দুল হাছিব চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জানে আলম, ফরিদা ইয়াছমীন, অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর, আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘আওয়ামী লীগ নয়, ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির জয় হয়েছে’


আওয়ামী লীগ নয়, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জোর করে জয়লাভ করেছে। আসলে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করেছে। আওয়ামী লীগ যেদিন জোর করে জয়লাভ করল, সেদিনই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পরাজিত হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হেরে গেছে।

শনিবার দুপুরে রাজশাহীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে রাজশাহী জেলা বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে সরকার।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, আজকে আপনারা জানেন আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে মৃত্যুর সঙ্গে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় সরকার বিভিন্ন নাটক শুরু করেছে।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন কয়েকদিন আগে সরকারের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যদি খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে প্যারেলে দরখাস্ত করেন তাহলে তাকে নাকি প্যারেলে মুক্তি দেবে। এটিও একধরনের নাটক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দুলু বলেন, বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন। সেই নেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখে সরকার নাটক করছে। ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। করাগারে নেত্রীকে বিনা চিকিৎসায় অন্যের ওপর নির্ভর করে চলতে হয়। তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এ অবস্থায় বিএনপি নেতাকর্মীরা অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, আমরা বগুড়ায় সমাবেশ করেছি, পাবনা ও সিরাজগঞ্জে করেছি এবং পর্যায়ক্রমে আমরা রাজশাহীতে এসেছি। সারা দেশব্যাপী এ সভা চলতে থাকবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কামরুল মনির এ বর্ধিত সভার উদ্বোধন করেন।

রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপুর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) সৈয়দ শাহীন শওকত। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি-শপথ শুধুই গুঞ্জন: মির্জা ফখরুল


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিনিময়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণের কথা শুধুমাত্র গুঞ্জন। এটা অসত্য, এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানোর পরিকল্পনা করে তাকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আইনগতভাবে তিনি জামিন পান কিন্তু সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বিত করছে। যার ফলে তিনি ১৪ মাস কারাগারে। সরকারদলীয় অনেকে সাজাপ্রাপ্ত হয়েও মুক্ত আছেন এবং মন্ত্রিত্ব করছেন।

শনিবার মির্জা ফখরুল কুমিল্লা-১০ আসন এলাকায় নির্বাচনকালীন ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও আর্থিক অনুদান প্রদানকালে এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবেদা রহমানের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের বিষয়ে ফখরুল বলেন, এক দেশের আদালত আরেক দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশনা দিলে তা বন্ধ হয় কিনা আমার জানা নেই।

এর আগে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকায় এক পথসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যে চিন্তাভাবনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছি আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের সব চেতনা ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা গণতন্ত্রকে শেষ করে দিয়েছে। মানুষের অধিকারকে হরণ করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে তারা পিস্তল, বন্দুকের জোরে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র উদ্ধার করা হবে।

মির্জা ফখরুল সদর দক্ষিণ, লালমাই ও লাঙ্গলকোট উপজেলার ৯৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীকে ১৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, কবির মুরাদ, সায়মা ফেরদৌস প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ১০ বছরে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে দুর্বল করে ফেলেছে!


২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত টানা ১০ বছর ধরে দেশ শাসন করতেছে আওয়ামী লীগ। দেশ শাসনে আওয়ামী লীগের সফলতা-ব্যর্থতা এখন দেশবাসীর সামনে পরিষ্কার। শেখ হাসিনার দাবি হলো-বাংলাদেশ এখন সব দিক দিয়ে বিশ্বের কাছে রোল মডেল। দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে তার সরকার অত্যাধুনিক করে গড়ে তুলেছে। সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবিকে শক্তিশালী করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার সরকার মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষা দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।

আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীরা টকশোতে গিয়ে প্রতিদিন গলাবাজি করে বেড়াচ্ছে যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন পরাশক্তিতে পরিণত হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সঙ্গে নাকি এখন কারো নেতৃত্বের তুলনা হয় না। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মাথাকে এমনভাবে উঁচু করে দাড় করিয়েছে যে, ব্রিটেনের আইফেল টাওয়ারও ছুঁতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই বলে?

বিএনপি-জামায়াতের বিগত শাসনামল ও আওয়ামী লীগের বর্তমান শাসনামলে মধ্যে তুলনা করলে ফলাফলটা এমন আসে যে, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা হলো এমন একজন মেদভুড়ি ওয়ালা লোকের মতো যার মেরুদণ্ডের হাড়গুলো ক্ষয় হয়ে গেছে। লোকটা দেখতে বেশ মোটা সোটা মনে হলেও আসলে তার ভেতরের অবস্থা খুবই খারাপ। যেকোনো সময় সে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। শেখ হাসিনাও বিগত ১০ উন্নয়নের বেলুনগুলো শুধু ফুলিয়েই যাচ্ছেন, ভেতর অবস্থা আসলে খুবই খারাপ। একটি রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী, নিরাপত্তাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে যে নৈতিক শক্তি থাকে বর্তমানে বাংলাদেশের সেই নৈতিক শক্তি নেই। রাষ্ট্রের যে মেরুদণ্ড- থাকে সেই মেরুদণ্ডের হাড়গুলো ক্ষয় হয়ে গেছে। মেরুদণ্ডের হাড়গুলো ক্ষয় হয়ে বাংলাদেশ এখন এমনই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, পুচকা মিয়ানমার বাংলাদেশের নাগরিকদেরকে অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে গেলেও সরকার উচ্চস্বরে কোনো শব্দ করতে পারে না।

সরকারের ১০ বছরের শাসনামল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মেরুদণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ ৩টি হাড় ক্ষয় হয়ে গেছে।

জাতির মধ্যে বিভেদ-অনৈক্য সৃষ্টি

যেসব রাষ্ট্র বিশ্বে উন্নত ও সব দিক থেকে শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত তাদের দেশের নাগরিকদের মধ্যে রয়েছে ঐকমত্য। রাজনৈতিক মত পার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে ক্ষমতাসীনরা বিরোধীদেরকে প্রাধান্য দেয়। দেশের স্বার্থে সবাই এককাতারে। কিন্তু, বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র একেবারেই ভিন্ন। সোজা কথায় বলা যায়-অনৈক্য আর বিভেদে জর্জড়িত দেশের নাম হচ্ছে বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে বিভক্ত করে ফেলেছে। শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের ভাষায়-যারা আওয়ামী লীগ করে না তারা সবাই স্বাধীনতা বিরোধী। স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের ধোয়া তুলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশে এখন গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় বিদেশি কোনো শক্তি যদি বাংলাদেশের দিকে রক্তচক্ষু উচু করে তাকায় তাহলে মোকাবেলা করার জন্য সরকার জনগণকে পাশে পাবে না। কারণ, সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনে জনগণ এখন দিশেহারা অবস্থায় আছে। মোট কথা-বহিঃশক্তির মোকাবেলায় একটি দেশের নাগরিকদের মধ্যে যে ঐক্য থাকা দরকার বাংলাদেশে বর্তমানে সেটা নেই। এই সুযোগটাও বিদেশি শক্তি গ্রহণ করে।

দলীয় অনুগত সামরিক ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনী

একটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে তারা হলেন সামরিক ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। বলায় তারাই আসলে রাষ্ট্রের প্রধান শক্তি। যুদ্ধটা মূলত তারাই করে। আর জনগণ পেছন থেকে তাদেরকে সমর্থন দিয়ে উৎসাহীত করে। প্রেরণা যোগায়। কিন্তু, বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। দেশের সামরিক, সীমান্ত রক্ষী, র‌্যাব ও পুলিশকে সরকার একেবারে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছে। যারা রাষ্ট্রের নাগরিকদের জান-মালের নিরাপত্তার চেয়ে একটি স্বৈরাচারী সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ত। গত ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনেও সারাবিশ্ব এটা প্রত্যক্ষ করেছে।

দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সরকারের দলীয় বাহিনীতে পরিণত হওয়ার কারণেই সীমান্তে প্রতিদিন বাংলাদেশি নাগরিকদেরকে বিএসএফ পাখির মতো গুলি করে হত্যা করলেও বাংলাদেশ কোনো শক্ত প্রতিবাদ করতে পারছে না। ছোট রাষ্ট্র মিয়ানমারের সৈন্যরা যুদ্ধ বিমান নিয়ে সীমান্তে ঢুকে গেলেও বাংলাদেশ কোনো জবাব দিতে পারছে না।

অথচ, একটু অতীতের দিকে তাকালেই ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনী বাংলাদেশের বীর জোয়ানদের কাছে পরাজয় বরণ করেছে। এমনকি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর ভারতীয় বাহিনীকে পরাজিত করেও বাংলাদেশের বীর জোয়ানরা সিলেটের পাদুয়া ও রৌমারিতে ভূখণ্ড রক্ষা করেছে।

১৯৯১ ও ২০০০ সালে মিয়ানমারের সাথে সীমান্তে বিডিয়ারদের সংঘর্ষে মিয়ানমার বাহিনী পরাজিত হয়েছে। ২০০০ সালে তো মিয়ানমারের ৬ শতাধিক সৈন্য নিহত হয়েছিল।

এরপর ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর পাদুয়া ক্যাম্পটি ছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। দীর্ঘদিন যাবত তারা বাংলাদেশের পাদুয়া গ্রামটি দখল করে রাখছিল। ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাদুয়া গ্রামটি ছেড়ে দেয়ার জন্য বিএসএফকে চিঠি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কোন সাড়া দেয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বিডিয়ার জোয়ানরা ২০০১ সালের ১৫ এপ্রিল রাতে পাদুয়া গ্রাম পুনরুদ্ধার করে এবং সেখানে ৩টি ক্যাম্প স্থাপন করে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করে। ভারতীয় বাহিনী সেদিন একটি টু-শব্দ করার সাহস পায়নি। ভারতীয় বাহিনী পাদুয়ার প্রতিশোধ নিতে ঘটনার তিনদিন পর ১৮ এপ্রিল বেআইনিভাবে বড়াইবাড়ী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রবেশ করে বড়াইগ্রামে নগ্ন হামলা চালিয়েছিল। তাদের এই হামলার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিল বিডিয়ার জোয়ান আর বীর জনতা। দেশের স্বাধীনতা ও ভূখ- অক্ষুন্ন রাখতে সেদিন আমাদের ৩ জন বিডিয়ার জোয়ান শাহাদাত বরণ করলেও ভারতীয় বাহিনীর দাম্ভিকতা চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল। বিএসএফের ১৬ জন সদস্য নিহত হয়েছিল। সেদিন ভারতীয় বিএসএফ আমাদের বিডিয়ারদের কাছে শুধু পরাজয়ই বরণ করেনি, নিহত বিএসএফ সদস্যদের লাশ ফেলে রেখে তারা পালিয়ে গিয়েছিল।

সেদিনের ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার রীতিমত হতচকিত হয়ে যায়। প্রথমে ভারত সরকার বিষয়টি হজম করার চেষ্টা করলেও প্রচার মাধ্যম ও বিরোধীদলের চাপে পড়ে এ নিয়ে পরে সোচ্চার হয়। ঘটনাটি ভারত ও তার বিশাল সামরিক বাহিনীর ইজ্জতের উপর একটা বড় ধরনের আঘাত ছিল।

কিন্তু সেই বাংলাদেশ আজ এতই দুর্বল যে, ভারত এবং মিয়ানমার যা খুশী তাই করছে। বাংলাদেশ এখন তাদের কাছে গরিবের বউয়ের মতো। এর মূল কারণ হচ্ছে, সশস্ত্র বাহিনী ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে সরকার দলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছে। এদের মধ্যে যারা দেশপ্রেমিক আছেন তাদেরও চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই। কারণ, তারা এখন সরকারের রোষানলের শিকার। বর্তমানে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জনগণের কোনো আস্থা বিশ্বাস নেই। জনগণ তাদেরকে এখন আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মী হিসেবেই মনে করে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিপর্যয়

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের এখন চরম বিপর্যয় ঘটেছে। এমনকি যে দেশের জন্য শেখ হাসিনা সব কিছু করছেন সেই ভারতের সঙ্গেও এখন বাংলাদেশের সম্পর্ক ভাল নেই। এগুলোর বাস্তব প্রমাণ হলো রোহিঙ্গা সংকট। রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের লোকজন মায়া কান্না করলেও বাস্তবে এনিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে কোনো দেশ নেই। আজ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর কোনো র্ষ্ট্রাই চাপ সৃষ্টি করেনি। যার কারণে, মিয়ানমার এখন বাংলাদেশের ভুখন্ড সেন্টমার্টিনকে বারবার নিজেদের ভুখন্ড হিসেবে মানচিত্রে দেখানোর সাহস পাচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠানোর পর মিয়ানমার বাহিনী একাধিকবার সীমান্তে যুদ্ধবিমান নিয়ে ঢুকে গেছে। সাগরেও তারা বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে জেলেদেরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এমন সাহস তারা কোথায় পাচ্ছে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমার আসলে সংঘাত চাচ্ছে। আর পর্দার আড়াল থেকে কয়েকটি দেশ মিয়ানমারকে উস্কে দিচ্ছে। ভারত, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল সবাই মিয়ানমারের পক্ষে কাজ করছে। মিয়ানমার যদি বাংলাদেশের ওপর হামলাও করে তাহলে কোনো রাষ্ট্র কেই পাশে পাবে না বাংলাদেশ। হয়তো রোহিঙ্গাদের মতোই তারা সহানুভূতি প্রকাশ করবে এবং মিয়ানমানরকে নরম সুরে বলবে সংযত আচরণ করার জন্য। এমন কি মিয়ানমার বাংলাদেশ যুদ্ধ হলে দেখা যাবে, চীন-ভারতের দেয়া অস্ত্রই ব্যবহার করবে মিয়ানমার। মোট কথা-বিশ্বের কোনো পরাশক্তি যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে এসে দাড়াবে না।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় দক্ষিণ এশিয়ায় তলানিতে বাংলাদেশ


গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশ চার ধাপ পিছিয়েছে। গণমাধ্যম পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তৈরি সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। এর আগে ২০১৮ সালে ছিল ১৪৬তম।

ফ্রান্সের প্যারিসভিত্তিক সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) ওয়েবসাইটে বুধবার এ সূচক প্রকাশ করা হয়।

২০১৯ সালের ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ বলছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকারের প্রশ্নে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই সবচেয়ে তলানিতে রয়েছে।

সাতটি মাপকাঠিতে বিচার করে একটি দেশের সংবাদমাধ্যম কতটা স্বাধীনতা ভোগ করছে তা বোঝার চেষ্টা করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স।

এই সাতটি মাপকাঠি হলো- সংবাদমাধ্যমে বহুমতের প্রকাশ, সংবাদমাধ্যমে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ, স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ, আইনি কাঠামো, সংবাদমাধ্যমের কাজে স্বচ্ছতা, অবকাঠামো, সংবাদকর্মীদের ওপর নিপীড়ন।

সব মাপকাঠির স্কোরের গড় করে তৈরি করা হয়েছে একটি দেশের গ্লোবাল স্কোর। ১০০ পয়েন্টের এই সূচকে যে দেশের স্কোর যত কম, সে দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা তত বেশি।

এ বছরের সূচকে ১৫০তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের স্কোর দেখানো হয়েছে ১০০-এর মধ্যে ৫০.৭৪। গত বছর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪৮.৬২, আর বিশ্বে অবস্থান ছিল ১৪৬ নম্বরে।

গত ছয় বছরের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪ থেকে ১৪৬-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। এবার তা এক ধাক্কায় চার ধাপ নেমে এলো।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বিচারে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সবচেয়ে কম, এমনকি মিয়ানমারও এই সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে।

বিশ্বে গণমাধ্যমের পরিস্থিতি সম্পর্কে এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদকর্মীরা সম্পূর্ণ নিরাপদে কাজ করতে পারেন- এমন দেশের সংখ্যা গত এক বছরে কমে গেছে। পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো গণমাধ্যমের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের সেক্রেটারি জেনারেল ক্রিস্টোফ ডেলোয়ের বলেন, গোপন অথবা প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধ যদি এভাবে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে থাকে, যেখানে সাংবাদিকরা পরিণত হন বলির পাঁঠায়, তা হলে বুঝতে হবে, গণতন্ত্র মহাঝুঁকির মধ্যে আছে।

সূচকের সঙ্গে প্রতিটি দেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতির ওপর একটি সারসংক্ষেপ দেয়া হয়েছে। ‘কঠিনতর রাজনীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার আরও বেশি লঙ্ঘন’ শিরোনামে বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে- ২০১৮ সালের শেষে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়ে যায়।

এ সময় মাঠপর্যায়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মীদের সহিংসতার শিকার হন সাংবাদিকরা। অযৌক্তিকভাবে বেশ কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয় এবং কয়েকজন সাংবাদিককেও গ্রেফতার করা হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত চিত্রসাংবাদিক শহিদুল আলমের ১০০ দিন জেল খাটার ঘটনা উল্লেখ করে বাংলাদেশ অংশে আরও বলা হয়েছে, কেউ সরকারের বিরক্তির কারণ হলে তাকে থামাতে কীভাবে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হয়, এটি তার দৃষ্টান্ত।

এ ছাড়া গত বছরের অক্টোবরে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ১৪ বছর শাস্তির বিধান রাখা হয়। অন্যদিকে অসাম্প্রদায়িক সমাজের জন্য কথা বলা বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও ব্লগার ইসলামপন্থী জঙ্গিদের হাতে খুন ও হামলার শিকার হন।

সূচকে ১৮০ দেশকে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে গণমাধ্যমের জন্য ভালো পরিবেশ থাকা ক্যাটাগরিতে রয়েছে মাত্র ১৫ দেশের নাম। সন্তোষজনক পরিস্থিতি রয়েছে ২৮ দেশে। সাংবাদিকতার জন্য সমস্যাপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে ৬৬ দেশে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি।

মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশের দিক দিয়ে এবারের প্রতিবেদনের শীর্ষ ১০ দেশ হলো- নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, জ্যামাইকা, বেলজিয়াম ও কোস্টারিকা।

এ তালিকায় তলানিতে অর্থাৎ ১৮০ নম্বরে থাকা দেশটি তুর্কমেনিস্তান। উত্তর কোরিয়া ও চীনের অবস্থান যথাক্রমে ১৭৯ ও ১৭৭ নম্বরে।

শিল্পোন্নত পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য সাত ধাপ এগিয়ে ৩৩তম অবস্থানে উঠে এলেও যুক্তরাষ্ট্র তিন ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছে তালিকার ৫৮তম অবস্থানে।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ অবস্থান সুস্পষ্ট করলেন খালেদা জিয়া , কণ্ঠ-মনোবলে ৯০ দশকের দৃঢ়তা

১৯৯১ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া এদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী। তিন যুগ আগে গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে হাল ধরেছিলেন বিএনপির; পেয়েছেন দেশনেত্রী খেতাব। ‘স্বৈরশাসক এরশাদ হটাও’ আন্দোলনে রাজপথে আপোষহীন নেতৃত্ব তাকে নিয়ে গেছে রাজনীতির সুউচ্চ শিখরে। নেতৃত্বের গুণেই বাংলাদেশের শহর-বন্দর, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। তাঁর রোগমুক্তি কামনায় এখনো মসজিদে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। গৃহবধূরা মানত করেন। তাঁর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনসহ নানান কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক জীবনে দৃঢ় মনোবলের খালেদা জিয়া প্রায় ১৫ মাস ধরে কারাগারে। ডাক্তারদের মতে নানান রোগে আক্রান্ত বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। মুক্তির দাবির পাশাপাশি বিএনপিসহ সর্বমহল থেকে দাবি উঠেছে বিদেশে নিয়ে গিয়ে তার চিকিৎসা করার। এরই মধ্যে খবর বাতাসেও ভাসছে খালেদা জিয়ার প্যারোলের খবর। এমনকি সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরাও বলেছেন, বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু দেশনেত্রীর আপোষহীন মনোভাব। প্যারোলে মুক্তি নিয়ে তিনি বিদেশ যেতে রাজী নন। এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। বিএনপির নেতারা জানান, নিজে কারাগারে অসুস্থ; তারপরও কেউ দেখা করতে গেলে দেশের মানুষের খোঁজ খবর নেন। দুঃখ করে বলেন, আমার দেশের মানুষ ভাল নেই।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা করাতে যাবেন এমন গুঞ্জন বেশ কয়েকদিন ধরে বাতাসে ভাসছে। সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রী-নেতারাও এবিষয়ে কথা বলেছেন। দলীয় প্রধানের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সুষ্পষ্টভাবে কিছুই বলতে পারছিলেন না বিএনপি নেতারা। অন্যদিকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির ৬ এমপির শপথ নিয়েও দল এবং দলের বাইরে চলছে নানা গুঞ্জন। দলীয় প্রধানের নির্দেশনা না পাওয়ায় এ বিষয়েও আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি দলটি। তবে বেগম জিয়ার সাথে নেতাদের এক সাক্ষাতে সব কিছু সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। প্যারোল ও এমপিদের শপথ গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছেন প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যের অবনতি স্বত্তে¡ও প্যারোলে মুক্তির আবেদন তিনি করবেন না। মুক্তি নিতে হলে আইনি প্রক্রিয়াতেই তিনি মুক্ত হবেন। আর যে সংসদ নির্বাচন দল প্রত্যাখ্যান করেছে সেই সংসদে শপথ না নেয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি।

কারাগারে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) খালেদা জিয়াকে ভর্তি করা হয়। সেখানে কেবিন বøকের ৬২১ নম্বর কক্ষে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে বিএসএমএমইউতে আনার পর থেকেই প্যারোলে মুক্তি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। সরকারের মন্ত্রী-এমপি-নেতারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলে খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চাইলে বিবেচনা করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও আইন মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসে সবাই। তবে বিএনপি প্রধান প্যারোলে মুক্তি নিবেন কিনা সেবিষয়টি তার সাথে কথা না বলে কিছুই জানাতে পারেনি দলটির সিনিয়র নেতারা। অবশেষে গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিনে বিএসএমএমইউতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন। সেখানে তারা এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় তার স্বাস্থ্যের সার্বিক বিষয়ে জানতে চান। তবে আলোচনার সময় সরাসরি প্যারোলের বিষয়টি কেউ তোলার সাহস না পেলেও আকারে-ইঙ্গিতে বোঝানো হয়। তবে খালেদা জিয়া দৃঢ়তার সঙ্গে প্যারোলের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি নেতাদের বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই মিথ্যা। আদালতে সুবিচার পেলে তিনি এতদিনে সব মামলা থেকে রেহাই পেতেন। সরকার সেটা করতে দিচ্ছে না। এখন তাকে প্যারোলে মুক্তির নামে আরেক দফা নির্যাতন করতে চাইছে। বিএনপির এক নেতা জানান, খালেদা জিয়া প্যারোলের বিষয়ে ইঙ্গিত করা হচ্ছে বুঝতে পেরে নেতাদের জানিয়ে দেন তিনি কোন আবেদন করবেন না। যদি মুক্তি পেতে হয়ে তাহলে আইনি প্রক্রিয়াতেই তিনি মুক্ত হবেন। অন্য কোনভাবে নয়। শারীরিক অবস্থা প্রতিনিয়ত অবনতি হলেও তিনি সরকারের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। তিনি তার যে কোনো অবস্থার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্যারোলে মুক্তি নেয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়া কোন সিদ্ধান্ত নেননি। এ বিষয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে বা গণমাধ্যমে ছাপানো হচ্ছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমরা দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি বেশ অসুস্থ, এখনও খেতে পারছেন না। পা বাকা করতে পারেন না। তার বাম হাত ঠিকমতো কাজ করছে না। এ অবস্থার মধ্যে তিনি আছেন। এক কথায় ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যথেষ্ট অসুস্থ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্তি চাই। তবে তিনি এখন খুবই অসুস্থ। ওনার বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন। আমরা সেই দাবিই জানাচ্ছি।

অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, বিএনপি প্রধানের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ার কারণে সরকারের একটি পক্ষ বিএসএমএমইউতে তার কাছে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রস্তাব দেয়। তাদেরকেও খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি প্যারোলে মুক্তি নিবেন না। এধরণের কোন আবেদনও করবেন না। হয় আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হবেন, নাহলে যে কোন অবস্থার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। সূত্রটি আরও জানায়, খালেদা জিয়া প্যারোলে রাজি না হওয়ায় একই প্রস্তাব তার পরিবারের কাছে দেয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়ার বক্তব্যকেই তাদের বক্তব্য বলে উল্লেখ করে।

এদিকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন ৬জন এমপি। এদের কেউ কেউ এবারই প্রথম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আবার কেউ কেউ এর আগে এমপি-মন্ত্রী ছিলেন। যদিও দলটি নির্বাচনের দিনই আগের রাতে ভোট ডাকাতি হয়েছে অভিযোগ করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। পুনঃনির্বাচনের দাবিতে একাধিক কর্মসূচিও পালন করা হয় দলটির পক্ষ থেকে। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করায় এখন পর্যন্ত শপথ নেয়নি বিএনপির প্রার্থীরা। তবে শপথ গ্রহণের সময়সীমা শেষ দিকে এসে গত কয়েকদিন ধরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা শপথ গ্রহণ করবেন। এমপিদের দু’একজন এলাকার মানুষের চাপের কথা উল্লেখ করে শপথের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবও ব্যক্ত করেছেন গণমাধ্যমে। এতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই বিষয়েও খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করার পর দলের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলটির নেতারা খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের সময় শপথের বিষয়টি তোলা হয়। তখন খালেদা জিয়া এই বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। তিনি নেতাদের বলেন, এ সংসদে গিয়ে লাভটা কি হবে। সংসদের বাইরেও অনেক ভূমিকা পালন করা যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন নেতা জানান, শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ হলেও মানসিকভাবে এখনো তিনি অনেক দৃঢ় রয়েছেন।

খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতে তার অবস্থান জানার পর গত সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ৫ এমপিকে ডেকে বৈঠক করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া হয় এবং বেগম জিয়া ও বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এমপি হারুনুর রশীদ ইনকিলাবকে বলেন, আমাদের ডেকেছিলেন মহাসচিব। কিছুদিন ধরে পত্রপত্রিকায় আমাদের শপথ গ্রহণ নিয়ে নানা খবর প্রকাশ ও প্রচার করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সবাইকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। যাতে আমাদের কেউ বিভ্রান্ত না হন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে না যান। তিনি বলেন, আমাদের কয়েকজন আগে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন আবার কয়েকজন এবারই প্রথম নির্বাচিত হয়েছেন। যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ওপর এলাকার মানুষের চাপ আছে এটা সত্য। কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে সেটা তুলে ধরেছেন। কিন্তু আমরা নির্বাচিত হয়েছি দলীয় প্রতীকে, দলের সমর্থনে। এখানে দলের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান। আমরা এখন পর্যন্ত একমত যে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন সিদ্ধান্ত নেব না।

শপথ নেয়ার পক্ষে নিজের ওপর চাপ আছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত প্রার্থী জাহিদুর রহমান। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি ইনকিলাববে বলেন, আমার এলাকার ৯৯ভাগ মানুষ শপথ নেয়ার পক্ষে। আমরাও জানি সংসদে গিয়ে কিছু হবে না। কিন্তু প্রেসক্লাবের সামনে কথা বলা আর জাতীয় সংসদে কথা বলা দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে। সংসদে কথা বললে ১৬ কোটি মানুষ শুনবে। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে এখন পর্যন্ত তিনি সেটি মেনে নেয়ার পক্ষে আছেন জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে বিএনপির অনেক ক্ষতি হয়েছে। গতবার নির্বাচনে যায়নি। এবার যদি শপথ না নেয়, তাহলে নির্বাচনে গিয়ে ভুল করেছে? তবে তার এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে এ ধরণের কোন চাপ নেই। এমনকি দলের নেতাকর্মীরাও এ বিষয়ে তেমন উৎসাহ বোধ করেন না। কিন্তু জাহিদুল ইসলাম প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হওয়ায় সংসদে যেতে তার নিজেরই আগ্রহ বেশি। এলাকার মানুষের চাপের কথা বলে তিনি তার এই আগ্রহকে বৈধতা দিতে চান। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ গ্রহণ করলে এলাকায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলেও অনেকে জানান।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা তো এ সংসদকেই নির্বাচিত বলছি না, আমরা ওই কথিত নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। তাই শপথ গ্রহণের বিষয়টি আসে না। #

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here