এক প্রতিবাদী যোদ্ধার বিদায় (ভিডিও সহ)

0
456

শেষবারের মতো ফিরলেন তার প্রিয় সোনাগাজীতে। যে পিচঢালা রাস্তা, গ্রামের শ্যামল পথে পায়ে হেঁটে মাদরাসা থেকে ফিরতেন বাড়িতে, সে পথেই ফিরলেন নিজ ভূমে। নিথর দেহে, লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে। সাইরেন বাজিয়ে। লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন যেন বাজছিল প্রতিবাদের কণ্ঠ হয়ে। জীবন দিয়ে প্রতিবাদ করে নুসরাত জানান দিলেন মানুষ মরলেও প্রতিবাদের ভাষা মরে না।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার অন্যায় অবিচারের প্রতিকার চেয়ে থানা-পুলিশে গিয়েছিলেন নুসরাত। মাদরাসা কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছিলেন।

তখন কেউ সাড়া দেয়নি। গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু সন্ত্রাসের আগুনে লাশ হওয়া নুসরাতের শেষ বিদায়ে সাড়া দিয়েছে সোনাগাজীর হাজার হাজার মানুষ। তারা যেন নুসরাতের প্রতিবাদেরই সঙ্গী। হাজারো মানুষ ভালবাসা আর অশ্রুজলে শেষ বিদায় জানিয়েছে প্রতিবাদী নুসরাতকে। নুসরাতের এই শেষ যাত্রায় সঙ্গী পুরো দেশ। পুরো দেশের মানুষ। সবার মুখে মুখে বর্বর এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ। বিচারের দাবি। প্রতিবাদী মানুষজন বলছেন, জীবন দিয়ে নুসরাত প্রতিবাদের যে দ্বীপ শিখা জ্বেলে গেলেন তা হাল সময়ে নির্যাতন নিপীড়নের প্রতিবাদের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ভিডিওঃ  শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবোঃ নুসরাত (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

গতকাল বিকালে সোনাগাজী সাবের মোহাম্মদ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে নুসরাত জাহান রাফিকে। নিজের মাদরাসা অধ্যক্ষের হাতে শ্লীলতাহানির শিকার হয়ে মামলা করার কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে অগ্নি সন্ত্রাসের শিকার হন নুসরাত জাহান। আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার পর ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে বুধবার রাতে না ফেরার দেশে চলে যান নুসরাত। গতকাল সকালে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে লাশ নিয়ে সোনাগাজীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন নুসরাতের স্বজনরা। এদিকে সকাল থেকে নুসরাতের গ্রামের বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন স্বজন ও এলাকাবাসী। বিকালে লাশবাহী গাড়ি গ্রামে পৌঁছার পর এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। কান্নার রোল পড়ে বাড়িজুড়ে। অস্বচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠা নুসরাত চেয়েছিলেন উচ্চ শিক্ষা শেষে পরিবারের হাল ধরতে। আলীম পরীক্ষা শেষে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করতে যাওয়ার কথা ছিল। স্বপ্ন ছিল একদিন বাবা-মায়ের কষ্ট ঘোঁচাবেন, পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু এই স্বপ্নচারি তরুণীর কষ্টের জীবন কষ্টেই শেষ হলো। বিকাল পাঁচটা নাগাদ তার মরদেহ বহনকারী গাড়িটি চর চান্দিয়ায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

প্রিয় কন্যার লাশ নিয়ে ঘরে ফিরলেন বাবা একেএম মূসা মানিক। অশ্রুসজল নয়নে কন্যাহারা পিতার সাথে কথা বলবার ভাষা ছিল না কারো মুখে। নুসরাতের বাবাকে শুধু দু’হাতে জড়িয়ে ধরে বুকে টেনে নেন স্বজন, প্রতিবেশিরা। তাতেও শোক যদি কিছুটা কমে। নুসরাতের দুই ভাই রায়হান ও নোমান বোনের শোকে সংজ্ঞা হারাচ্ছিল বারবার। বোনহারা ভাইদের শোকে যেন পাথর চাপা পড়েছে পুরো বাড়িতে। যে পুলিশ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিরা বেঁচে থাকতে নুসরাতকে নিরাপত্তা দিতে পারেননি তারা ছিলেন সজাগ। চর চান্দিয়া ছোট হুজুরের বাড়িতে নুসরাতদের উঠোন উপচে পড়া মানুষের ঢল।

তবে, স্বজন ও প্রতিবেশি ছাড়া কাউকে নুসরাতের লাশ দেখতে দেয়া হয়নি। নুসরাতকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে আসা মানুষদের চাপ সামলাতে বেগ পেতে হয়েছে পুলিশ-প্রশাসনের। প্রাণহীন নুসরাতকে নিয়ে তাদের এমন তৎপরতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। এলাকাবাসী ও নুসরাতকে দেখতে আসা জনগণ প্রশ্ন তোলেন, প্রতিবাদ জানানোর পরও পুলিশ প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো পরিকল্পিত আগুন লাগানোর ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন বিক্ষুব্ধ অনেকে। সে সময় উদ্যোগ নিলে হয়তো আজ আর নুসরাতের পৃথিবী ছেড়ে যেতে হতো না। তবে, এরপরও নুসরাত হত্যার ন্যায়বিচার চান এলাকাবাসী। বাদ আছর সোনাগাজী সাবের মোহাম্মদ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজায় অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ। তার আগে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার, সোনাগাজী ইউএনওসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি।

নুসরাতের বাবা তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মেয়ের পাশে থাকার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। চিকিৎসায় সব ধরনের সহায়তা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। নুসরাত হত্যার বিচারের জন্য শেষ অবধি লড়ে যাওয়ার কথা বলেন তার ভাই নোমান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাঝখানে নুসরাতের হত্যার বিচার নিয়ে কথা উঠলে হাত তুলে সোচ্চার আওয়াজ তোলেন উপস্থিত জনতা। বিকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে মেয়ের জানাজা পড়ান বাবা একেএম মূসা মানিক। সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিট নাগাদ চর চান্দিয়া ভূঞা বাড়ি পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় সোনাপুর ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে। গত শনিবার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। গত ২৭শে মার্চ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করায় তার ওপর এ হামলা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। গুরুতর অগ্নিদদ্ধ নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।

অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আনা হয়। তাকে বাঁচাতে ৫ দিন প্রাণান্ত চেষ্টা চালান চিকিৎসকরা। তার চিকিৎসার সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় মারা যান নুসরাত।

মর্গে স্বজনদের কান্না

আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, জরুরি বিভাগের মর্গ থেকে কেন্দ্রীয় মর্গে নুসরাতের লাশ আনা হয় সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে। লাল কাপড়ে ঢেকে নিয়ে যাওয়া হয় নুসরাতের মরদেহটি। এরপর সাড়ে ৯টার দিকে মর্গে আসেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। এর পরপরই আসেন নুসরাতের এলাকা সোনাগাজীর চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন। তিনি বলেন, নুসরাতের পরিবার সুরক্ষিত। তার পরিবারের ওপর নেই কোন চাপ। তিনি বলেন, সোনাগাজীতে যারা ঘাতক শিক্ষকের পক্ষে মিছিল করেছে বা মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে নুসরাতের সুরতহাল প্রতিবেদন পেশ করেন শাহবাগ থানার এসআই শামসুর রহমান। ১১টার দিকে মর্গ চত্ত্বরে আসেন নুসরাতের বাবা একে এম মুসা মানিক। এসময় তার কান্নায় ভারি হয়ে উঠে পরিবেশ। তিনি বলেন, আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। দেশের আইন অনুযায়ী হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ বিচার চাই। বিচার না হলে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে না। এছাড়াও তিনি তার মেয়ের খোঁজ রাখার জন্য সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতার কথা বারবার উল্লেখ করেন। কথা বলার মাঝে তিনি ফের কাঁদতে শুরু করেন।

লাশকাটা ঘরের পাশের ঘরে বসে বোনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। এদিকে বোনের শোকে বারবার মোর্চা যান ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান। নোমান বলেন, আমাদের ঘরের দেয়ালগুলো নুসরাতের দেয়াল লিখনে ভরা। যখনই ইচ্ছে হতো বাসার হার্ডবোর্ডে কলম কিংবা পেন্সিল দিয়ে আপন মনে লিখতেন ‘মা আমার চোখের মনি’। নুসরাত মাকে প্রচন্ড ভালোবাসতো। কোনো কারণ ছাড়াই মাকে জাড়িয়ে ধরতেন। ছোট বাচ্চাদের মতো মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে থাকতেন। মেহেদী পরতে খুব ভালোবাসতো নুসরাত। ও অনেক সুন্দর করে হাতে মেহেদীর আল্পনা আঁকতো। আমাদের একমাত্র বোন হওয়াতে কোনো কিছু বলার আগেই আমরা তা নিয়ে আসতাম। ওর কোনো চাহিদা আমরা অপূর্ণ রাখিনি। নুসরাত দুধ’চা খেতে প্রচন্ড ভালোবাসতো।

মর্গে সমবেদনা জানাতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার, কেন্দ্রীয় নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। তিনি বলেন, আমাদের সমাজে ধর্মীয় লেবাসের কারণে অনেকে নানা ধরণের অন্যায় করে থাকেন। আর এই অন্যায়গুলো করে তারা বারবার পার পেয়ে যান। যার ফলে ধীরে ধীরে বড় অন্যায়ের দিকে ধাবিত হয় তারা।

বেলা ১২ টার কিছু সময় আগে ৩ জন চিকিৎসকের নেতৃত্বে শুরু হয় ময়না তদন্তের কাজ। শেষ হয় ১২টা ১৪ মিনিটে। নুসরাতের ময়না তদন্তের জন্য গঠিত বোর্ডের প্রধান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. সোহেল মাহমুদের সঙ্গে ছিলেন বোর্ডের দুই সদস্য প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস ও প্রভাষক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস। সাড়ে ১২টার দিকে নুসরাতের কফিন নিয়ে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ফেনীর সোনাগাজীর উদ্দেশে রওনা দেয়।

নুসরাত হত্যাকান্ডে জড়িতরা বিন্দুমাত্র ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকান্ডে জড়িত কেউ-ই বিন্দুমাত্র ছাড় পাবে না। গতকাল সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পিবিআই তদন্ত করছে, দ্রুত চার্জশিট দেয়া হবে। ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় এবং অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে প্রত্যাহার হওয়া সোনাগাজীর ওসিসহ যারাই জড়িত ও দোষী তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে। নুসরাত হত্যাকান্ডের ঘটনায় দোষী কেউ-ই বিন্দুমাত্র ছাড় পাবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় যারা অভিযুক্ত সিরাজ উদ্দৌলার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করছেন, হয়তো তারা না জেনে করছেন। তদন্তসাপেক্ষে বিস্তর জানা যাবে। এদিকে নুসরাত হত্যাকান্ডের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নুসরাতের মামলা প্রয়োজনে ট্রাইবু্রনালে স্থানান্তর: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসা অধ্যক্ষের নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলাটি প্রয়োজনে দ্রুত বিচার ট্রাইবু্রনালে স্থানান্তর করা হবে। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক একথা বলেন। তিনি বলেন, যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে মামলাটি দ্রুত বিচারে যাবে। এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্নের প্রয়োজন হবে না জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে একটি অভিযোগপত্র দিতে হবে। আমি আপনাদের বলছি এ রকম মামলা যখনই হবে এটাকে ফাস্ট ট্রাক করবে। আমি প্রসিকিউশনকে নির্দেশ দেব, যাতে এটাকে ফাস্ট ট্রাক করা হয়। কোনো প্রশ্নেরও প্রয়োজন হবে না। এর আগে ১০৮ ঘণ্টা আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় মারা যান ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।

নুসরাতের অগ্নিসংযোগকারীদের শাস্তি দাবি করেছে আওয়াজ

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে অগ্নিসংযোগকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন আওয়াজ। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আওয়াজের সভাপতি সেলিমা রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ড. শাহিদা রফিক এ দাবি জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নুসরাতের এই মৃত্যু কোনও সভ্য সমাজে মেনে নেয়া যায় না। আর কোন নুসরাতকে যেন এমন পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে না হয় সেজন্য আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, নুসরাত পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও প্রতিবাদী কন্ঠস্বর হিসাবে বিজয়ীনির বেশে দৃপ্ত মহিমায় বিরাজ করছে আমাদের মাঝে, সারা বাংলাদেশে, সারা বিশ্বে।

নুসরাত নারীর অপমানকে প্রত্যাখান করে আমাদের চেতনাবোধকে উন্মোচিত করেছে, মানবতার জাগরন ঘটিয়েছে। তার এ প্রতিবাদীকন্ঠ এবং বলিষ্ঠ প্রতিবাদ এক উদাহরন হয়ে থাকবে। তারা নুসরাতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংগঠনের সভাপতি সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. শাহিদা রফিক, আওয়াজের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. তাজমেরী এস ইসলাম, সেলিনা রউফ, ফাতেমা সালাম, লায়লা বেগম, ফরিদা ইয়াসমিন, অধ্যক্ষ রফিকা আফরোজ, ওয়াহিদা আক্তার মুক্তা ও নাফিয়া লায়লা প্রমুখ।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার নানা অপকর্মের তথ্য প্রকাশ, তার ছিল ‘খাস কামরা’


শ্লীলতাহানির মামলা করায় গত শনিবার এক ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার পর ফেনীর সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার নানা অপকর্মের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এর আগেও একাধিক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ, তিনি একেক সময় একেক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করতেন। এ অপকর্ম করতে অধ্যক্ষ মাদ্রাসা শিক্ষকদের কার্যালয় থেকে নিজ দফতরটি আলাদা ভবনে সরিয়ে নিয়েছেন।

তিনি সাইক্লোন সেল্টারে দোতলায় দফতর করেছেন। তার এসব অপকর্মের অন্যতম সহযোগী মাদ্রাসার পিওন, কয়েকজন ছাত্র এবং স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা।

এর আগেও ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি এবং প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এছাড়া মাদ্রাসায় অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতাসীনদের হাতে রেখে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, অধ্যক্ষ সিরাজকে এর আগে এক শিশু বলাৎকারের অভিযোগে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের সালামতিয়া মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নোয়াখালীর বসুরহাটের রঙ্গমালা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে চাকরিচ্যুত করা হয় তাকে। তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা, প্রতারণা, নাশকতা ও চেক জালিয়াতিসহ সোনাগাজী ও ফেনী থানায় চারটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

চেক জালিয়াতির মামলায় ২০১৭ সালেও জেল খেটেছিলেন তিনি। জামায়াতের সাবেক রুকন অধ্যক্ষ সিরাজকে ২০১৬ সালে নৈতিক স্খলন, তহবিল তছরুপসহ নানা অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসায় যোগদানের পর সিরাজ উদ দৌলা প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও যৌন হেনস্তার আখড়ায় পরিণত করেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

তার এসব অপরাধের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিভাবকরা অভিযোগ জানালেও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। ছয় মাস আগেও এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন মাদ্রাসার আরেক ছাত্রী।

এর আগে উম্মুল কুরা মাদ্রাসা নামে ফেনী শহরে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন সিরাজ। ওই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার হোল্ডারদের কাছ থেকে নেয়া বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে সিরাজের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে চারজন শেয়ারহোল্ডার তার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা করেন। এ মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুই দশক আগে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় ভাইস প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগ পান সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদের মৃত. কলিম উল্যার ছেলে সিরাজ উদ দৌলা। যথাযথ যোগ্যতা না-থাকায় জাল কাগজপত্র বানিয়ে তিনি এ প্রতিষ্ঠানে ঢোকেন বলে এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল।

এ নিয়ে চার বছর আগে মাদরাসার তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য এবং সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মান্নান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট শাখার ডিজি বরাবর একটি অভিযোগ জমা দেন।

ওই অভিযোগে বলা হয়, ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগ পেতে হলে আলিম মাদ্রাসায় চাকরির ন্যূনতম ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। অথচ সিরাজ তার আগেকার দুটি দাখিল মাদ্রাসায় চাকরি করার ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ জমা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই মাদ্রাসায় নিয়োগ পাওয়ার পর সিরাজ সুবিধাবাদীদের সঙ্গে নিয়ে অনিয়মের মহোৎসবে মেতে ওঠেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় ছিল। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন এ প্রতিষ্ঠানের সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছেন। অধ্যক্ষের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তার অপকর্ম ঢাকার অভিযোগ উঠেছে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, ‘কোনো ধরনের অপরাধকে আমরা প্রশ্রয় দিই না। রাফিকে আগুন দেয়ার ঘটনায় আমি ন্যায়বিচার চাই। দোষী যে-ই হোক না কেন আমি প্রকৃত দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’

এদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ আবদুল হালিম মামুন বলেন, ‘অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের তথ্য এর আগে প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ একটি গ্রুপ তাকে রক্ষা করতে সব সময় মরিয়া হয়ে অবস্থান নেন।’

সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও চেক জালিয়াতিসহ তিনটি মামলা রয়েছে। এসব বিচারাধীন এসব মামলায় তিনি দফায় দফায় কারাভোগ করেছেন।

অপকর্ম করতে নিজের অফিস আলাদা করেছিল অধ্যক্ষ:

ছাত্রীদের সঙ্গে অপকর্ম করতে অধ্যক্ষ সিরাজ নিজের দফতরটি আলাদা করেছেন। সাইক্লোন সেল্টারের দোতলায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ছাত্রীদের ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করতেন অধ্যক্ষ। একাধিক ছাত্রী অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা কর্তৃক যৌন হেনস্তার শিকার হলেও লোকলজ্জার ভয়ে প্রকাশ করেননি। গত ২৭ মার্চ সবশেষ যে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেছেন তার দুই মাস আগে আরও এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেছেন। ওই ঘটনায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হলেও কোনো বিচার হয়নি।

এর আগেও একাধিক ছাত্রীকে পিওন দিয়ে ডেকে নিয়ে নিজ কক্ষের মধ্যে শ্লীলতহানি করতেন অধ্যক্ষ। ওইখানে অধ্যক্ষ সিরাজ খাস কামরাও তৈরি করেছেন। অধ্যক্ষ সিরাজ পিওনদের দিয়ে ডেকে নিয়ে ছাত্রীদের নানা প্রলোভনে ফেলে শ্লীলতাহানি করতেন। তার বিরুদ্ধে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে পারতো না।

তার বিরুদ্ধে যাতে কেউ কোনো কথা বলতে না পারে এজন্য নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন। মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্র তার অপকর্মের সহযোগী। এছাড়া পিওনরা তার অপকর্মের অন্যতম সহযোগী।

ভুক্তভোগীদের হুমকি-ধামকি:

দগ্ধ ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা জানায়, সোনাগাজী খাজিদাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা থেকে এ প্লাস পেয়ে দাখিল পাস (এসএসসি) করার পর ২০১৭ সালে সোনাগাজী পৌরশহরের থানার অদূরে জেলার ঐতিহ্যবাহী সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিমে ভর্তি হন দগ্ধ ছাত্রী। মেধাবী এ ছাত্রী মাদ্রাসায় ভর্তির পর থেকে সরাসরি না হলেও আকারে ইঙ্গিতে বিভিন্ন সময়ে দগ্ধ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করত।

সর্বশেষ আলিম পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ওই ছাত্রীকে পিওন নুরুল আমিনকে দিয়ে ডেকে নেয়। তখন ফূর্তি ও নিশান নামে দুই বান্ধবীকে নিয়ে দগ্ধ ছাত্রী প্রিন্সিপাল সিরাজউদ দৌলার কক্ষে প্রবেশ করে। সেখানে আলিম পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার আধাঘণ্টা আগে প্রশ্ন দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়। তখন দগ্ধ ছাত্রীর দুই বান্ধবী ছিল প্রিন্সিপালের কক্ষের বাইরে।

এক পর্যায়ে প্রিন্সিপাল সিরাজ উদ দৌলা দগ্ধ ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করে। ওই ছাত্রী এমন পরিস্থিতে থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত বের হয়ে আসে। এরপর বাড়ি গিয়ে তার মা ও পরিবারের সদস্যদের প্রিন্সিপালের কুকীর্তির কথা প্রকাশ করে। মেয়ের ঘটনা শুনে দগ্ধ ছাত্রীর মা ও ভাই এলাকার কাউন্সিলর ইয়াছিন মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওইদিন প্রিন্সিপালের কাছে এসে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে প্রিন্সিপাল উত্তেজিত হয়ে ওই মেয়ের ছোট ভাইকে (একই মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী) মারপিট করার জন্য মাদ্রাসার কিছু ছাত্রদের ডেকে নিয়ে আসে। একই সময় থানায় ফোন করে পুলিশ ডাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য। ওই সময় অধ্যক্ষ হুমকি দেয় এ ঘটনায় যদি মুখ খোলে তাহলে ছাত্রী ও ছাত্রীর পরিবারকে মেরে লাশ টুকরো টুকরো করা হবে। একপর্যায়ে সোনাগাজী থানার একজন এসআই (যিনি বর্তমানে শ্লীলতাহানির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা) প্রিন্সিপালের কক্ষে আসলে প্রিন্সিপাল দগ্ধ ছাত্রীর ভাই ও মাকে পুলিশে দেয়ার চেষ্টা করেন। পরে ওই কর্মকর্তা দগ্ধ ছাত্রীকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে বললে ছাত্রী এসে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করে।

ওই সময় ফূর্তি ও নিশান নামে দুই বান্ধবী প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ প্রিন্সিপালকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলে দগ্ধ ছাত্রীর মা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার পর থেকে প্রিন্সিপালের অন্যতম সহযোগী একই মাদ্রাসার ছাত্র নুরে আলম, মাদ্রাসার ছাত্রলীগ নেতা শাহে আলম শামিম, জাবেদ ও মহিউদ্দিন শাকিলসহ কয়েকজন দগ্ধ ছাত্রী ও তার পরিবারকে অব্যাহত হুমকি দিয়ে মামলা তুলে নিতে বলে।

সর্বশেষ ঘটনার দিন মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মাদ্রাসা ছাত্রীর ভাইকে ফোন করে মামলা তুলে নিয়ে আপস করবে কিনা জানতে চায়।

উৎসঃ ‌poriborton

আরও পড়ুনঃ নুসরাতের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে ‘কওমি প্রজন্মের’ মানববন্ধন


ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে অগ্নিদগ্ধ করে পুড়িয়ে হত্যা ও ডেমরায় ছোট্ট শিশু মনিরকে নৃশংসভাবে হত্যা করার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন কওমি মাদ্রাসা ছাত্রদের আয়োজনে ‘কওমি প্রজন্মের’ ব্যানারে মানববন্ধন পালন করা হয়েছে।

‘অপরাধীর পরিচয় শুধুই অপরাধী’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মানববন্ধনে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।

সচেতন কওমি মাদ্রাসা ছাত্রদের উদ্যোগে আয়োজিত মানবন্ধনে প্রখ্যাত ওয়ায়েজ মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহর সভাপতিত্বে ও কলরবের যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মাদ বদরুজ্জামানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন— কলরবের প্রধান পরিচালক রশিদ আহমাদ ফেরদাউস, মুফতি আবু ইউসুফ মাহমূদী, মুফতি ছাকিবুল ইসলাম কাসেমী, মুফতি আব্দুর রহমান কোব্বাদী, মুফতি রেজাউল করীম আবরার, হাফেজ ক্বারী ইলিয়াস লাহোরী, ক্বারী আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা, ক্বারী নুর মোহাম্মাদ, মাওলানা নজির আহমাদ শিবলী প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও বিচার নিয়ে আমরা শঙ্কায় থাকি। অপরাধীদের বিচার হোক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক; এটাই আমাদের দাবি ।’

মানববন্ধনে নারীর প্রতি নিপীড়নরোধে ইসলামের মূল্যবোধ জাগ্রতসহ ধর্মীয় মূল্যবোধ বৃদ্ধির চেষ্টা, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন, ধর্ষণের শাস্তির বিধান মৃত্যুদণ্ড ও ধর্ষণ মামলা পরিচালনার জন্য আলাদা আদালত গঠনসহ বেশকিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো পাঠ করেন পাবলিক ভয়েস টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী সম্পাদক হাছিব আর রহমান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ শাসকগোষ্ঠীর দুঃশাসন গোটা দেশটাকেই গ্রাস করেছে: বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম


অবৈধভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর দুঃশাসনের ভয়াল রূপ সামাজিক অনাচারের মাত্রা সীমাহীন করার পাশাপাশি গোটা দেশটাকেই গ্রাস করে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মুখোশধারীদের দেয়া আগুনে ফেনীর সোনাগাজীতে আলিম পরীক্ষার্থী মাদরাদাশিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এমন মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাতে বিএপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফেনীর সোনাগাজীতে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফীর শরীরে যেসব পাষণ্ডরা কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যা করলো তাদের প্রতি তীব্র ধিক্কার জানাই।’

বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থার সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আইনের শাসনের ভয়াবহ অবনতি এবং দেশে ন্যায়বিচার তিরোহিত হয়ে গেছে। এজন্য বর্তমানে মানুষের বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিশ্চয়তাটুকও নেই।’

বিবৃতিতে ফখরুল আরও বলেন, ‘বিভীষিকাময় ও দুর্বিনীত দুঃশাসনের এক ভয়াল রূপ গোটা দেশকেই গ্রাস করে ফেলেছে। এখন দুষ্কৃতিকারীরা আইন হাতে তুলে নিয়েছে। ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে কেরোসিন দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে রাফির মৃত্যুতে সারা দেশের মানুষ শোকে-দুঃখে-ক্ষোভে ফেটে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মায়া-মমতাহীন মানুষ নামের পশুদের পাশবিকতায় নুসরাতের মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে গোটা দেশবাসী আজ শোকে-দুঃখে স্তম্ভিত ও বিমূঢ়। দেশবাসী আশা করে এই অমানুষদের নজিরবিহীন শাস্তি হোক।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি নুসরাতের হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ এবং বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সহমর্মিতা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নুসরাতকে বেহেশত নসীব করুন- এই দোয়া করি।’

এদিকে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে সোনাগাজী মো. সাবের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নুসরাতের দাফন সম্পন্ন হয়। এসময় সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেয়। গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম ও কান্নার রোল পড়ে। সবাই হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবি করেন।

এর আগে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতলের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে প্রায় ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা যান নুসরাত।

উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) গত ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে মুখোশধারী ৪ জন আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় মাদরাসার যৌন নিপীড়নকারী মাদরাসাটির অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে ৭ দিন ও তার দুই সহযোগী মাদরাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক নূরুল আফসার উদ্দিন ও ছাত্র আরিফুল ইসলামকে ৫ দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে সোনাগাজী উপজেলা আমলি আদালত। গত ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমদুল হাসান নোমানের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ মৃত্যুশয্যায় দেওয়া বক্তব্যে যাদের নাম বলে গেল নুসরাত! (ভিডিও সহ)


ফেনীতে দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী মৃত্যুর আগের শেষ জবানবন্দিতে সেই ঘটনায় দায়ী যাদের নাম বলে গেল!

শিক্ষকের কাছে শ্লীলতাহানির শিকার হওয়া ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কীভাবে আগুন দেওয়া হয়? কারা আগুন দেয়?- সেই চিত্র উঠে এসেছে তারই নিজের বর্ণনায়।

“….আমার গায়ে হাত দিছে। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো। আমি সারা বাংলাদেশের কাছে বলবো। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলবো। সারা দুনিয়ার কাছে বলবো। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো। এইটা আমার উপর….”

ভিডিওঃ  ‘মৃত্যুশয্যায় দেওয়া বক্তব্যে যাদের নাম বলে গেল নুসরাত! (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার হাতে যৌন হয়রানির পর সহপাঠি বান্ধবীদের উদ্দেশ্যে নুসরাত জাহান রাফির লেখা চিঠি মঙ্গলবার বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ। চিঠিতে দিন-তারিখ লেখা না থাকলেও বিষয়বস্তু বিবেচনায় এটি কয়েকদিন আগের লেখা বলে মনে করছে তদন্তকারি সূত্র।

ওই সূত্র জানায়, তার পড়ার টেবিলে খাতায় দুই পাতার ওই চিঠিতে তামান্না ও সাথী নামের দুই বান্ধবীকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে। গত ২৭ মার্চ ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছে রাফি। ওই চিঠিতে রাফি আত্মহত্যা করবে না বলেও উল্লেখ করে সে। তবে যৌন হয়রানির ঘটনার পর সিরাজ উদদৌলা গ্রেফতার হলে তার মুক্তির দাবিতে বান্ধবীদের অংশগ্রহণে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাফি। তাকে নিয়ে বান্ধবীদের বিভিন্ন কটুক্তিতেও তার মর্মাহত কথা উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

চিঠিটিতে রাফি উল্লেখ করেছে, ‘তামান্না, সাথী। তোরা আমার বোনের মতো এবং বোনই। ঔ দিন তামান্না আমায় বলেছিল, আমি নাকি নাটক করতেছি। তোর সামনেই বললো। আরো কি কি বললো, আর তুই নাকি নিশাতকে বলেছিস আমরা খারাপ মেয়ে। বোন প্রেম করলে কি সে খারাপ??? তোরা সিরাজ উদ দৌলা সম্পর্কে সব জানার পরও কীভাবে তার মুক্তি চাইতেছিস।

তোরা জানিস না, ওইদিন রুমে কি হইছে? উনি আমার কোন জাগায় হাত দিয়েছে এবং আরো কোন জায়গায় হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে, উনি আমায় বলতেছে- নুসরাত ডং করিসনা। তুই প্রেম করিসনা। ছেলেদের সাথে প্রেম করতে ভালো লাগে। ওরা তোরে কি দিতে পারবে? আমি তোকে পরীক্ষার সময় প্রশ্ন দেবো। আমি শুধু আমার শরীর দিতাম ওরে। বোন এই জবাবে উত্তর দিলাম। আমি একটা ছেলে না হাজারটা ছেলে…। আমি লড়বো শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে। সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করবো না। মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া। আমি মরবো না, আমি বাঁচবো। আমি তাকে শাস্তি দেবো। যে আমায় কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে এমন শাস্তি দেবো যে তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নিবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেবো। ইনশাআল্লাহ।’

এদিকে গত ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফিকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার পর থেকে কেউ কেউ ঘটনাটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলেও ধারণা করেছেন। তবে উদ্ধার হওয়া চিঠিটিতে রাফির ভাষ্য ভিন্ন।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন চিঠিটি উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটিও ওই ঘটনার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখিতদের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে তিনি জানান।

চার আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার ৪ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছে আদালত। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শরীফ উদ্দিন আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ আদেশ দেন।

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানি জানান, রিমান্ডে দেওয়া চার আসামি হলেন আলাউদ্দিন, কেফায়েত উল্লাহ, নূর হোসেন ও শহীদুল ইসলাম। এ মামলায় এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি তিনজনকে আদালতে হাজির করা হয়নি বলে তাদের রিমান্ড শুনানি হয়নি বলে জানান জিলানি।

গত শনিবার সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিলে দ্বগ্ধ হন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে লাইফসাপোর্টে রাখা হয়েছে। নুসরাত ওই অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে দায়ের করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষর স্বজনরা তাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা সহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামীরা হলেন পৌর কাউন্সিলর মাকসুল আলম, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, সাবেক ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীম, সাবেক ছাত্র নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহম্মদ ও হাফেজ আবদুল কাদের।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ থানার ওসির কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (ভিডিও সহ)


ফেনীর সোনাগাজী থানার ওসির কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। সেই আকুতির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সোনাগাজীর আলো নামে একটি ফেসবুক পেজে ওই ভিডিওটি শেয়ার করে।

ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা- গত ২৭ মার্চ শ্লীলতাহানির চেষ্টার পর থানায় পুরো ঘটনা নিজ মুখে বর্ণনা করেছেন নুসরাত (ভিডিও)।

কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন নুসরাত। পুরো ভিডিওতেই তাকে কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়, ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শেষের দিকে নুসরাত বাঁচার আকুতি করে ওসির কাছে। কিন্তু ওসি কিছুতেই এ বিষয়টিতে পাত্তা দেয় না। একপর্যায়ে নুসরাত বলেন, আমি বাঁচতে চাই ওসি সাহেব। তখন ওসি আরও কিছু অশালীন উক্তির পাশাপাশি তাকে উদ্দেশ করে বলেন, এটা কিছু না, কেউ লিখবেও না তোমার কথা। আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। কিছু হয়নি। রাখো। তুমি বসো।

ভিডিওঃ  ‘থানার ওসির কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এরপর নুসরাত সবশেষ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলে, আমি আর বাঁচব না স্যার।

ভিডিওটির চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

থানার ওসির সামনে অঝোরে কাঁদছিলেন নুসরাত। আর সেই কান্নার ভিডিও করছিলেন সোনাগাজী থানার ওসি। নুসরাত তার মুখ দু’হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। তাতেও ওসির আপত্তি। বারবারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে।’

থানার ভেতরে নুসরাতকে জেরা করে ওসি বলেন, ‘কিসে পড়া? ক্লাস ছিল?’ ঘটনা জানাতে গিয়ে নুসরাত বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। সে সময় তাকে জিজ্ঞেস করা হয়- ‘কারে কারে জানাইসো বিষয়টা?’

নুসরাত যখন জানায়- তাকে অধ্যক্ষ ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। তখন প্রশ্ন করা হয়- ‘ডেকেছিল, নাকি তুমি ওখানে গেছিলা?’ পিয়নের মাধ্যমে ডেকেছিল বলে নুসরাত জানালে প্রশ্ন করা হয়- ‘পিয়নের মাধ্যমে ডেকেছিল? পিয়নের নাম কী?’ নুসরাত সে সময় পিয়নের নাম বলেন- ‘নূর আলম।’

পুরো ভিডিও জুড়েই নুসরাত কাঁদছিলেন। একসময় ভিডিওধারণকারী তাকে ধমকের সুরে বলে- ‘কাঁদলে আমি বুঝবো কী করে, তোমাকে বলতে হবে। এমন কিছু হয়নি যে তোমাকে কাঁদতে হবে।’

ভিডিও’র শেষে নুসরাতের কথা বলা শেষ হলে ধারণকারী বলেন- ‘এইটুকুই?’ আরও কিছু অশালীন উক্তির পাশাপাশি তাকে উদ্দেশ করে বলেন- ‘এটা কিছু না, কেউ লিখবেও না তোমার কথা। আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। কিছু হয়নি। রাখো। তুমি বসো।’

ইতিমধ্যে সোনাগাজী থানার সেই ওসিকে (তদন্ত) প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কে এই ভিডিও করেছিল প্রশ্নে বর্তমান সোনাগাজী থানার ওসি (তদন্ত) বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আজকে অনেকে বিষয়টি জানতে চেয়ে ফোন করায় আমি জানতে পেরেছি।

নুসরাতের জেরা করার সময় ভিডিও করা কতটুকু আইনসম্মত এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বমহলে। এ বিষয়ে আইনজীবীরা বলছেন, যৌন হয়রানির অভিযোগ করার সময় ওসির ভিডিও ধারণের ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার সুযোগ রয়েছে নুসরাতের পরিবারের।

ওসির এ ধরনের আচরণের বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, আইন না মেনে অভিযোগ করতে যাওয়া কারোর ভিডিও করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় না ফেরার দেশে চলে যান ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (১৮)। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো গেল না। টানা ১০৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন এই ছাত্রী।

প্রসঙ্গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন নুসরাত। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এদিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। এরপর না ফেরার দেশে চলে যান মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ অধ্যক্ষকে মুক্তি না দিলে মাদ্রাসা বন্ধের হুমকি দিল ছাত্রলীগ কর্মী নুরুদ্দিন! [ভিডিওসহ]


মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে নুসরাতের মায়ের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার হওয়া ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার পক্ষে মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছিল।

গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করার পরদিন ২৮ মার্চ তার মুক্তির দাবিতে সোনাগাজী উপজেলা সদরে ওই মিছিল ও সমাবেশ করে তার পক্ষের লোকজন।

ভিডিওঃ  ‘নুরুদ্দিনকে অ্যারেস্ট করলে সব তথ্য বের হয়ে যাবেঃ নুসরাতের ভাই (ভিডিও সহ) ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ওই মিছিলে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেয় একই মাদ্রাসার ফাজিল শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নুরুদ্দিন।

নুরুদ্দিন হত্যার শিকার নুসরাতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলার দুই নম্বর আসামি। ইতিমধ্যেই পুলিশ নুরুদ্দিনকে গ্রেফতারও করেছে। বর্তমানে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছে নুরুদ্দিন।

এদিকে অধ্যক্ষের মুক্তির দাবি করা ওই মিছিলের একটি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে আসামি নুরুদ্দিনকে বক্তব্যও দিতে দেখা যায়।

ভিডিওঃ  ‘অধ্যক্ষকে মুক্তি না দিলে মাদ্রাসা বন্ধের হুমকি দিল ছাত্রলীগ কর্মী নুরুদ্দিন! [ভিডিওসহ]’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

নুরুদ্দিন বলে, ‘গত বুধবার পুরাতন একটি ঘটনায় আমাদের সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সুনামধন্য প্রিন্সিপাল সাহেবকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে পুলিশ বাহিনী অ্যারেস্ট করেছে। প্রিন্সিপাল হুজুরকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা থেকে যদি মুক্তি দেয়া না হয়… এই সোনাগাজীর মাদ্রাসা থেকে শুধু ছাত্রলীগ তৈরি হয় না, ছাত্রদল তৈরি হয় না, ছাত্রশিবির তৈরি হয় না, এই মাদ্রাসা থেকে একজন আলেমও তৈরি হয়। এই সোনাগাজী মাদ্রাসার আলেমসহ সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি আমাদের প্রিন্সিপাল হুজুরকে মুক্তি দিতে হবে।’

‘যত দিন পর্যন্ত আমাদের দাবি মানা না হবে, তত দিন পর্যন্ত…।’

ভিডিওতে নুরুদ্দিন আরও বলে, ‘পুলিশ প্রশাসন বলেছিলেন, নির্বাচনের জন্য মিটিং-মিছিল বন্ধ করা হয়েছে। আমরা আপনাদের কথা শুনেছি। আপনারা সাংবাদিকরা যদি আমাদের নামে খারাপ রিপোর্ট করেন, আমরা তাদেরকে ছাড় দেব না।’

নুরুদ্দিন আরও বলে, ‘আগামী রোববার-সোমবার আমাদের হুজুরকে কোর্টে উঠানো হবে। আমাদের হুজুরকে যদি মুক্তি দেয়া না হয়, অনির্দিষ্টকালের জন্য সোনাগাজী মাদ্রাসা বন্ধ থাকবে। আমরা সব ছাত্রজনতা বলছি, প্রিন্সিপাল স্যারকে যদি মুক্তি দেয়া না হয়, তাহলে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

এ সময় সমাবেশে উপস্থিত সবাই প্রিন্সিপালের মুক্তি চাই বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পরে নুরুদ্দিন বলে, ‘আরেকটা কথা বলতে চাই, এই মাদ্রাসা কমিটিতে ছিল কুলাঙ্গার শেখ মামুন। তাকে কমিটি থেকে বের করে দেওয়ার কারণে সে মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকদেরকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। সেই কুলাঙ্গার শেখ মামুন আমাদের মানববন্ধনে, ব্যানার ও ফেস্টুনে হাত দিয়েছে। আমরা তার বিচার চাই।’

আমাদের প্রিন্সিপাল হুজুরকে যদি নিঃশর্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি দেওয়া না হয়, তাহলে সোনাগাজী নয়, পুরো বাংলাদেশের আলেম সমাজ তাদের ছাড়বে না।’

এ সময় আবারও প্রিন্সিপালের মুক্তি চাই বলে স্লোগান দিতে শোনা যায় ভিডিওটিতে।

উল্লেখ্য, বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় না ফেরার দেশে চলে যান ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (১৮)। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো গেল না। টানা ১০৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন এই ছাত্রী।

প্রসঙ্গত, ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন নুসরাত। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এদিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধাঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন অধ্যক্ষ। সেই মামলা তুলে না নেয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন ওই ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বাবার ইমামতিতে নুসরাতের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল


নুসরাত জাহান রাফির জানাজায় অংশ নিতে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু পাড়া-প্রতিবেশি সহ সোনাগাজীর সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে সোনাগাজীতে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টায় রাফির লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌছায় সোনাগাজীর বাড়িতে। এসময় স্বজনদের কান্না আর সর্বস্তরের মানুষের ক্ষোভ চোখে পড়েছে সর্বত্র। নিকটাত্মীয়দের শেষবারের মতো এক নজর দেখিয়ে বিদায় দেয়া হয় নুসরাত রাফিকে।

জানাজার নামাজের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল সোনাগাজী মডেল ছাবের পাইলট হাইস্কুল মাঠ। সন্ধ্যা ৬ টায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে সোনাগাজী মডেল ছাবের পাইলট হাইস্কুল মাঠে তার জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে নুসরাতকে তার পারিবারিক করররস্থানে দাদীর কবরের পাশে দাফন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে নামাজের জানাজা পড়ান নুসরাতের বাবা মাওলানা মুসা।

জানাজায় সর্বস্তরের মানুষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, জেলা ও উপজেলার সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ঢাকাস্থ ফেনী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

উপস্থিত সকলে নুসরাতের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চত করার দাবি জানান। সবার একটই দাবি আর আর যেন কাউকে এভাবে প্রাণ না দিতে হয়।

৫ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যু হয় নুসরাতের। আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল ৪ দুর্বৃত্ত।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ পুলিশের কাছে দেয়া নুসরাতের জবাববন্দির ভিডিও প্রকাশ


মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা পিয়ন দিয়ে নিজ কক্ষে ডেকে নেয় নুসরাতকে। এরপর তার শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে সিরাউদ্দৌলা। একই সাথে তার সাথে থাকার জন্য নুসরাতকে প্রস্তাব দেয় অধ্যক্ষ।
এই ঘটনার পর পরই পুলিশের কাছে এমন জবানবন্দি দেয় ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত। মোবাইলে ধারণ করা হয়েছিলো সেই জবাববন্দিটি।

ভিডিওঃ  ‘নুরুদ্দিনকে অ্যারেস্ট করলে সব তথ্য বের হয়ে যাবেঃ নুসরাতের ভাই (ভিডিও সহ) ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here