বাংলাদেশ জিলহজের চাঁদ দেখা গেছে, ১২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আযহা

0
161

বাংলাদেশর আকাশে জিল হজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। শুক্রবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় খুলনায় হজের মাস জিলহজের চাঁদ দেখা যায় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যায় জেলা স্টেডিয়াম এলাকা থেকে আমরা আকাশে জিলহজের চাঁদ দেখতে পাই।

এর আগে বৃহস্পতিবার (০১ আগস্ট) সৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাদঁ দেখা যায় বলে জানায় দেশটির চাঁদ দেখা কমিটি। তাই সেখানে শুক্রবার থেকে জিলহজ মাসের গণনা শুরু হয়েছে। এর ফলে ৮ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এ দিন সন্ধ্যার পরপরই মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন হাজিরা।

শুক্রবার (০৯ আগস্ট) সারাদিন মিনায় অবস্থান করে সে দিন রাতে আরাফাতের ময়দানের দিকে যাত্রা করবেন তারা। পরদিন আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুৎবা দেওয়া হবে।

হজের খুৎবা শেষে সেখানে জোহর ও আসরের নামাজ পড়বেন হাজিরা। সে দিন সূর্যাস্তের পর আরাফাত থেকে মুজদালিফায় যাবেন। সেখানে গিয়ে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে সারারাত অবস্থানের পর শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নেবেন বিভিন্ন দেশ থেকে হজ সফরে যাওয়া বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীরা। রোববার ফজরের নামাজ শেষে বড় জামারায় (প্রতীকী বড় শয়তান) পাথর নিক্ষেপ করতে মিনায় যাবেন তারা। পাথর নিক্ষেপ শেষে পশু কোরবানি দেবেন তারা।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজ করতে সৌদি আরবে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন যাওয়ার কথা। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাত হাজার ১৯৮ ব্যালটি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৬ হাজার ৪০১ নন-ব্যালটি হজ করতে যাচ্ছেন। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২৫ লাখ হজ পালনার্থীর সৌদি আরবে পৌঁছার কথা।

উৎসঃ somoynews.tvs

আরও পড়ুনঃ আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণে বাংলাদেশের জমি চায় ভারত


ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা বিমানবন্দরকে (বর্তমান মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর) সম্প্রসারণ করতে চায় ভারত। এজন্য জমির প্রয়োজন হওয়ায় বাংলাদেশের কাছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমি চেয়ে প্রস্তাব করেছে দেশটি। তবে, ভারত কী পরিমান জমি চেয়েছে তা প্রকাশ করেননি কোনো কর্মকর্তা।

ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ বিষয়ে নিউএজকে বলেছেন, সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি আরো বলেন, ভারতকে ইতোমধ্যে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেয়া হয়েছে। গত এক বছর ধরে বেশ কয়েকটি সভায় নতুন করে এই প্রস্তাব দিয়ে আসছে দেশটি।

ভারত কী পরিমাণ জমি চেয়েছে তা প্রকাশ করেননি কোনো কর্মকর্তা। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আগরতলা বিমানবন্দর এবং এর রানওয়ে আখাউড়ার চানপুরে সীমান্তের এক কিলোমিটারেরও কম দূরে অবস্থিত।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, কলকাতা ও গুয়াহাটি থেকে বিমান উড্ডয়নের পর আগরতলা বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে ভারতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী) বাংলাদেশ সফরকালে প্রথম এ প্রস্তাব দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ত্রিপুরার আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ ভারতের সাথে কীভাবে তার জমি ভাগ করে নিতে পারে তা পরীক্ষা করার জন্য গতবছরের অক্টোবর মাসে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থার সাথে একটি বৈঠক করেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক বলেন, ‘বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর আমরা তাদেরকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে বলেছিলাম। ২০১৮ সালের অক্টোবরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই বৈঠকে অংশ নেওয়া দুজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, একজন সামরিক কর্মকর্তা ভারতের সাথে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়াদি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন।’

একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বিমানবন্দর কীভাবে পরিচালিত হবে, সীমান্তবর্তী জমি ইজারা দেওয়া হবে কিনা এবং সরকার ভারতের সাথে জমিটি ভাগ করে নিতে চাইলে প্রক্রিয়া কী হতে পারে তাও আমরা আলোচনা করেছি।’ সভায় অংশ নেওয়া অন্য একজন কর্মকর্তা একটি মানচিত্র এনে দেখিয়েছেন যে, যদি আগরতলা বিমানবন্দরটি বাড়ানো হয়, তাহলে ভারত বাংলাদেশ ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে লাইট স্থাপন করবে এবং বিমানবন্দর সুরক্ষার জন্য এলাকাটি ঘিরে নেবে।

পররাষ্ট্রসচিব শহিদুল হক বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় বিষয়টির সাথে সম্পর্কিত। মন্ত্রণালয়গুলো বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করছে।’

তবে, তিনি বলেন, ২০১৮ সালের অক্টোবরের ওই সভায় যারা অংশ নিয়েছিলেন তারা ভারতীয় প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছিলেন। তারা প্রত্যেকেই মনে করেন, আমাদের জমির অংশ সেখানে যথাযথভাবে সংযুক্ত হবে। তিনি আরো বলেন, ওই বৈঠকে তিনি জেনেভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছিলেন। যেটি আংশিকভাবে সুইজারল্যান্ডে এবং আংশিকভাবে ফ্রান্সে পড়েছে। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত জেনেভা বিমানবন্দরটি যখন এর উত্তর সীমান্তে চলে তখন এর অবস্থান থাকে সুইস ভূখণ্ডে। তবে, সুইজারল্যান্ড এবং ফ্রান্স উভয় স্থান থেকে সেখানে অধিগমন করা যায়।

বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য ভারতকে ভূমি দেয়া হলে তা জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে বলতে পারবেন। আমি এটিকে দূরদর্শী দৃষ্টিকোণে ব্যবসা এবং গতিশীলতার দিক থেকে দেখেছি। তিনি যুক্তি দেন যে, বিভিন্ন দেশে আন্তঃসীমান্ত বিমানবন্দর রয়েছে। অনেক দেশ একই বিমানবন্দর ব্যবহার করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্ত পরিচালনা, অভিবাসন ব্যবস্থা বা মুদ্রানীতিতে একরকম নয়।’ তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরটি দুটি দেশ যৌথভাবে পরিচালনা করবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এটি যদি যৌথ উদ্যোগ হয়, তবে আমরা বিবেচনা করতে পারি। অন্যথায়, এটি যৌক্তিক নয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছিলেন, ‘আমরা কাউকে এভাবে জমি দেই না। আর, এবিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

সাবেক বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এই প্রস্তাবে অবাক হয়েছেন। কীভাবে অন্য একটি দেশের বিমানবন্দর আমার দেশে সম্প্রসারণ করা যায় এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সরকার কঠোর প্রতিরোধের মুখোমুখি হবে।’ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বিমানবিষয়ক পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনায় এই প্রস্তাব যৌক্তিক নয় বলে জানান রাশেদ খান মেনন।

২০১৯ সালের শেষে এবং ২০২০ সালের শুরুতে গুয়াহাটি এবং ইম্ফলের পরে আগরতলা বিমানবন্দরটি ভারতের উত্তর-পূর্বের তৃতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে উঠবে, গত ২৪ জুন এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস।

ত্রিপুরার তৎকালীন পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী প্রানজিৎ সিংহ রায়কে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আগরতলা বিমানবন্দরকে ২০২০ সালের প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এজন্য ৪৩৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রকল্পের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে টার্মিনাল ভবন, রানওয়ে এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষকে ৭২ একর জমি সরবরাহ করেছে সরকার।

তৎকালীন পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী প্রাণজিৎ রায় সংবাদ মাধ্যমগুলোকে বলেছিলেন, বিমানবন্দরটির সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে আগরতলা থেকে বিমানযোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বাংলাদেশের অন্যান্য শহরগুলোতে যাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, ১৯৪২ সালে ত্রিপুরার তৎকালীন রাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর বিমানবন্দরটি নির্মাণ করেছিলেন।

উৎসঃ বাংলা ডেস্ক

আরও পড়ুনঃ প্রতি মিনিটে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে, মন্ত্রীদের ভাষ্য নিয়ন্ত্রণে!


দেশের ৬৪টি জেলাতেই ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। শহর ছেড়ে এখন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে নারী-পুরুষ ও শিশুরা। সরকারি হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৭১২ জন। সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯৫১৩ জন। তবে বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা আরও কয়েক গুন বেশি হবে। বেসরকারি হিসাবে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখের বেশি হবে।

দেখা গেছে, সরকারি হিসাব মতেই দেশে প্রতি ঘণ্টায় ৭১ জন মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। আর বেসরকারি হিসাবে প্রতি ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ৩০০ জন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আর যদি কম করেও ধরা হয় তাহলে সারাদেশে প্রতি মিনিটে ২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। আর সরকারি হিসাব মতে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৪ জন। কিন্তু বেসরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি লোক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

এখন একেবারে সহজভাবে বলা যায়, ডেঙ্গু এখন সারাদেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে। এনিয়ে সারাদেশে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দলের এমপি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও বৃহস্পতিবার ঢাকাকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও চীনসহ বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো ডেঙ্গু সবিস্তারে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ভয়াবহ অবস্থা বলে উল্লেখ করেছে।

অথচ, সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন-ডেঙ্গু পরিস্থিতি নাকি তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দাবি করেছেন-ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। আর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, অন্যান্যদেশের তুলনায় বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক কম। এ ডেঙ্গু আমরা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে এসেছি।

সরকারের মন্ত্রীরা ডেঙ্গুকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে বলে দাবি করলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতেই দেশে প্রতি মিনিটে প্রায় ২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। আর বেসরকরি হিসেবেতো আরও বেশি।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই মন্ত্রীরা এখন নিজেদের ইচ্ছামত ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বল যাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মারা যাওয়াদের সংখ্যা নিয়েও সরকার এখন লুকোচুরি করছে। সরকার মূলত পুরো বিষয়টিকেই ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

সাধারণ মানুষও বলছে, আক্রান্ত হয়ে লোকজন হাসপাতালে ভিড় করার কারণে দেশে ডেঙ্গু নেই বলে ঘোষণা দিতে পারছে না সরকার। লোকজন যদি আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে না আসতো তাহলে সরকার বলতো যে দেশের কোথাও ডেঙ্গু নেই। কিন্তু গণমাধ্যমে প্রতি মুহূর্তে সচিত্র সংবাদ আসার কারণে সরকার বিষয়টিকে আর চাপা দিতে পারছে না।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ এমপি শম্ভুর রাজত্বে কথা না শুনলেই চড়-থাপ্পড়, বেশিদিন টেকেন না সরকারি কর্মকর্তারা


সরকারি কর্মকর্তারা বরগুনায় বেশিদিন টিকতে পারেন না। বিশেষ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এলজিইডিসহ ঠিকাদারিসংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে রয়েছে শম্ভু আ*ঙ্ক।

টেন্ডারবাজি ঠেকাতে ই-টেন্ডার চালু করা হলেও তা মানতে চান না শাসক দলের মদদপুষ্ট ঠিকাদাররা। এরা সবাই স্থানীয় এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুরই লোক। কথা না শোনায় প্রকাশ্যে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে মারধরের দৃষ্টান্তও আছে বরগুনায়। শুধু তাই নয়, কথিত দুর্নীতি মামলায় ফাঁসিয়ে তাকে জেলে পাঠানোর অভিযোগও আছে এমপির বিরুদ্ধে।

শম্ভুর হয়ে দফতরগুলোতে প্রভাব বিস্তারকারীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের শেষ নেই। সরকারি দায়িত্ব পালন করতে আসা জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ, তেড়ে যাওয়া, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার উদাহরণও আছে একাধিক। তাই বরগুনায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই বদলির জন্য নামেন তদবিরে। বদলি হওয়ার পর তারা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচেন।

কামালভীতি সড়ক ও জনপথ বিভাগে (সওজ) : বাবা ছিলেন বরগুনা জিলা স্কুলের দফতরি। তারই ছেলে কামাল হোসেন এখন বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক। বাগিয়ে নিয়েছেন জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদও। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদারও তিনি। বার্ষিক টার্নওভার হিসাবে বড় ঠিকাদার না হলেও বরগুনার সওজে তিনি ‘মুকুটবিহীন সম্রাট’। তার কথায় চলেন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কথা না শুনলেই শুরু হয় গালাগাল ও লাঞ্ছনা।

বরগুনা জেলা স্কুলসংলগ্ন যে ভবনে কামাল ও তার পরিবারের বসবাস সেটিও সরকারি জমিতেই। তার আরেক ভাই মনিরুজ্জামান জামাল বরগুনা পৌরসভার কাউন্সিলর। ঠিকাদারি করেন গণপূর্ত বিভাগে।

সড়ক ও জনপথের বরগুনা জেলা অফিস সূত্র বলছে, এমপির ক্যাডার হিসেবে কামালকে কেউ কিছু বলার সাহসও পান না। যখনই নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্বে আসেন তখন তাকে এমপি সাহেব ফোন করে কামালের কথা বলে দেন। বর্তমানে যিনি দায়িত্বে তিনিও এমপির ফোন পেয়েছেন ফেব্রুয়ারিতে যোগ দেয়ার পরপরই। এর আগে এ পদে ছিলেন জাভেদ হোসেন তালুকদার। দাফতরিক নিয়মে কাজ করতে গিয়ে তাকেও শুনতে হয়েছে গালাগাল, মারতেও চাওয়া হয়েছিল। পরে তিনি নাটোরে বদলি হয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচেন।

জানতে চাইলে প্রকৌশলী জাভেদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘৩ মাস ছিলাম বরগুনায়। পরে দেখলাম ওখানে মানসম্মান বাঁচিয়ে চাকরি করাই মুশকিল। তাই বদলি।’ জুনে বরগুনা ছেড়েছেন সওজের আরেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী অরুন কুমার বিশ্বাস। মে মাসে সওজের দফতরেই তার ওপর চড়াও হন কামাল। প্রায় ২ কোটি টাকার টেন্ডার বাগাতে ব্যর্থ হয়ে প্রকাশ্যে তাকে তেড়ে যান কামাল। ক্ষোভে-দুঃখে আর দফতরেই যাননি তিনি। জানতে চাইলে যুগান্তরকে অরুন কুমার বলেন, ‘বরগুনায় চাকরি করার মতো পরিবেশ ছিল না। আমি সিনিয়রদের জানানোর পর তারা আমাকে পটুয়াখালীতে বদলি করেন।’

এছাড়া এমপি শম্ভুর ক্যাডার কামালের গালাগাল শোনেননি এমন কর্মকর্তা এ দফতরে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এর মধ্যে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাসেলও আছেন। সওজের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঠিকাদারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ই-টেন্ডার চালুসহ বার্ষিক টার্নওভারের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ তার অন্যতম। কিন্তু তা মানতে চান না এ কামাল। কথা হল- তাকে কাজ দিতেই হবে। অন্য ঠিকাদাররাও কামালের হয়রানির শিকার। বরগুনার সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন অবশ্য মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

জুনে যে ৫টি আরএফকিউর (রিকোয়েস্ট অফ কোটেশন) কাজ হয়েছে তার ৪টিই পেয়েছেন (২৫ লাখ টাকা) কামাল। একই মাসে স্মল কোটেশনের ২০টি কাজের মধ্যে ১৫টিই পান কামাল। এটম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ১৭ লাখ টাকার সরবরাহও জুটেছে কামালের ভাগ্যে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় কাজ করছি। অনিয়মের সুযোগ নেই। যারা কাজ পেয়েছেন তার টেন্ডার দিয়েই পেয়েছে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, ‘এমপি মহোদয় আমাকে স্নেহ করেন। তাই বলে আমি কোনো অন্যায় করিনি। সওজ অফিসেও কোনো প্রভাব বিস্তার করিনি। আমি একজন ছোট ঠিকাদার। টুকটাক কাজকর্ম করে জীবনধারণ করি। যা বলা হচ্ছে তার পুরোটাই অপপ্রচার।’

কথা না শুনলেই চলে এমপি শম্ভুর হাত : বরগুনা সদরে পরপর ৫ বারের এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। একবার ছিলেন উপমন্ত্রী। ২৭ বছর ধরে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে। দোর্দণ্ড প্রভাবশালী এ নেতার বিরুদ্ধে আমতলী উপজেলায় জমি কেনায় সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং তালতলী উপজেলায় রাখাইনদের জমি কিনে টাকা পরিশোধ না করার বহু অভিযোগ রয়েছে।

বরগুনা থেকে বহু শ্রমিক কলকাতায় নিয়ে সেখানে বাড়ি তৈরির অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিতে দফতরে দফতরে লোক ফিট করে রাখার অভিযোগ আছে এমপি শম্ভুর বিরুদ্ধে।

সড়ক ও জনপথে কামালের মতো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে আছেন তার আপন ভায়রা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিুকর রহমান। ২০১৬-১৭ সালে ই-টেন্ডার চালুর আগে এ সিদ্দিকুরই শম্ভুর হয়ে নিয়ন্ত্রণ করতেন এলজিইডি। ঠিকাদার এবং দফতর সূত্রে জানা যায়, ই-টেন্ডারের আগে সিদ্দিকুরের কথা বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না কারও।

জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘আগে থেকেই ঠিকাদারি পেশার সঙ্গে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান। সফল ছিলেন না। এমপি শম্ভুর ভায়রা হওয়ার পর সফলতা আসতে থাকে।’

তার সিদ্ধান্তেই নির্ধারণ হতো শত শত কোটি টাকার কাজের ঠিকাদারি। ই-টেন্ডার চালুর পর তা কমে গেছে। এখন তার কাজ হচ্ছে, যারা কাজ পাচ্ছেন তাদের ওপর খবরদারি করা, কাজের অংশীদার করতে বাধ্য করা।

বরগুনা এলজিইডির এক প্রকৌশলী বলেন, ‘এমপির ভায়রা হিসেবে তার অনেক অন্যায় আবদার মেনে নিতে হচ্ছে।’ এ নিয়ে কথা বলার জন্যে সিদ্দিকুরের মোবাইলে কয়েকবার ফোন দেয়া হলে তিনি ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি।

কয়েক বছর আগে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন আবদুল মালেক। আইলার পরে বরগুনায় যখন শত শত কোটি টাকার কাজ হয় তখন এমপির কথা অনুযায়ী কাজ না করায় মালেককে ডিসির দফতরের বারান্দায় নিজ হাতে চড়-থাপ্পড় মেরেছিলেন এমপি শম্ভু। তখন প্রকৌশলীরা আন্দোলনে নামার ঘোষণা পর্যন্ত দিয়েছিলেন। বহু কষ্টে পরিস্থিতি সামাল দিলেও ক্ষোভ ভুলতে পারেননি শম্ভু। তার কিছুদিনের মধ্যেই বরগুনায় দুর্নীতির এক মামলা হয় মালেকের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় কিছুদিন জেলেও ছিলেন তিনি। পরে বদলি হয়ে বরগুনা ছাড়েন। কথা না শোনায় সওজের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগে ফাঁসানোর অভিযোগ রয়েছে।

আলাপকালে পাউবোর প্রকৌশলী আবদুল মালেক বলেন, ‘আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা সবাই জানেন। আলাদা করে কিছু বলার নেই।’

পিতার হয়ে সব অভিযোগ অস্বীকার পুত্রের : বর্তমানে ভারত সফরে আছেন এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। ফলে কথা বলা যায়নি তার সঙ্গে। বাবার হয়ে কথা বলেন এমপিপুত্র বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথ। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘আগাগোড়াই বলে এসেছি যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে এসব অপ-প্রচার চালাচ্ছে। বাবা ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পরপর ৬ বার দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন। ৫ বার তিনি বিজয়ী হয়েছেন। দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসী হলে সাধারণ মানুষ তাকে বারবার ভোট দিয়ে এমপি বানাতেন না। আমার বাবা কোনোদিন ঠিকাদারি করেননি এবং সরকারি দফতরের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটাননি। আমার খালু সিদ্দিকুর রহমান বিয়ের আগে থেকেই একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার। বাবার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য যাদের নাম বলা হচ্ছে, তারাও তো কেউ কোটি কোটি টাকার মালিক নন। বাবা ২২-২৩ বছর ধরে এমপি।

তার বাবার প্রতিনিধিত্ব পেলে তো তাদের শত শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার কথা। এসবই অপ-প্রচার। আমাদের হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা এটি। এসব অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। একজন সৎ রাজনীতিবিদ হিসেবেই তিনি পরিচিত। এসব মিথ্যা অপ-প্রচার চালিয়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা কখনোই সফল হবে না।’

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নেদারল্যান্ডসে নেকাব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর


নেদারল্যান্ডসে নেকাব নিষিদ্ধকরণের আইন আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর আগে ২০০৫ সালে আইনটি প্রস্তাব করা হয়েছিল। ১০ বছরের তুমুল বিতর্কের পর ২০১৫ সালে পাস হয় আইনটি পাস হয়। ২০১৮ সালের জুন মাসে দেশটির সিনেট এ আইনের অনুমোদন দেয়৷ সেই অনুমোদন অনুযায়ী, এ বছর ১ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) থেকে আইনটির প্রয়োগ শুরু হওয়ার কথা।

আইন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে স্কুল, হাসপাতাল, সরকারি স্থাপনা এবং গণপরিবহনে ‘মুখ ঢাকা’ পোশাকের আইনগতভাবে নিষিদ্ধ বিবেচিত হবে৷ এসব স্থানে বোরকা ও নেকাব পড়ে ঢোকা যাবে না। আর কেউ যদি এসব স্থানে নেকাবসহ ঢুকতে চান তাহলে কর্তৃপক্ষ তাদেরকে মুখ দেখাতে বাধ্য করতে পারবে৷ আর এতে কেউ আপত্তি জানালে তাদের ওইসব স্থানে ঢুকতে দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে কর্তৃপক্ষ।

আইনে বলা হয়েছে, নির্দেশ না মানলে ১৫০ ইউরো (প্রায় ১৫ হাজার টাকা) জরিমানা করা হবে। এই নিষেধাজ্ঞায় শুধু নেকাব নয়, পুরো মুখ ঢাকা হেলমেট বা বালাক্লাভার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে৷

ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ফ্রান্স প্রায় ১০ বছর আগে মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। গত বছর জাতিসংঘের একটি কমিটি এই আইন মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে মত প্রকাশ করলেও ফ্রান্স তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি৷

এর পর তুমুল বিরোধিতার সত্ত্বেও ডেনমার্কে এক বছর ধরে চালু রয়েছে এমন নিষেধাজ্ঞা৷ এ বছরের শুরুতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুসলিম মেয়েদের মাথা ঢাকার স্কার্ফ নিষিদ্ধ করে আইন পাস করে অস্ট্রিয়া৷ ২০১৭ সাল থেকে দেশটিতে মুখ ঢাকা পোশাকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷

সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় মুখ ঢাকা পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে জার্মান রাজ্য হেসেতেও৷ এবার নেদারল্যান্ডসেও নেকাব নিষিদ্ধের আইনটি কার্যকর হতে শুরু করল।

উৎসঃ শীর্ষনিউজ

আরও পড়ুনঃ মুসলিমদের গরু কুরবানি দিতে নিষেধ করলেন মন্ত্রী!


আসন্ন ঈদুল আজহায় মুসলিমদের গরু কুরবানি দিতে নিষেধ করলেন ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী। এ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গরু কুরবানি দিলে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করা হবে। কারণ তারা গরুকে দেবতা হিসেবে পূজা করে থাকে। সুতরাং একটি বিরাট অংশের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত দিয়ে গরু কুরবানি করা উচিত নয়। তাই ঈদুল আজহায় মুসলিমদের ছাগল কুরবানি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন মাহমুদ।

টিআরএস বা তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির সদস্যপদ গ্রহণের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।ঈদে গরু কুরবানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে তেলেঙ্গানায় কোনো অশান্তি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি চান না বলে জানিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গরু কুরবানিকে কেন্দ্র করে রাজ্যে কোথাও যদি অশান্তি হয় তাহলে পুলিশ তা কড়া হাতে দমন করবে।

এদিন রাজ্যে সম্প্রীতির উদারহণ হিসেবে ঐতিহাসিক চার মিনারের কথা উল্লেখ করেন মাহমুদ আলী। তিনি বলেন চারমিনার হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও খ্রিস্টানদের ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। চার মিনারের চারটি পিলার এই চার ধর্মের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে বার্তা দেন তিনি।

উৎসঃ শীর্ষনিউজ

আরও পড়ুনঃ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির কথা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে রোগাক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, সরকারি ও বেসরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যার পার্থক্য, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ও এ নিয়ে ভীতি ছড়িয়ে পড়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির শিরোনাম ‘দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রকোপের সঙ্গে লড়ছে বাংলাদেশ’। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াব*তা তুলে ধরে বলা হয়েছে, ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়া*হ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। ওই প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) নাগাদ বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বলা হয়, ৬৪ জেলার ৬১টিতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি তথ্যকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ৩৬৯ জন ডেঙ্গু আ*ন্ত শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে শুধু ১ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৬৮৩ জন আ*ন্ত। মঙ্গলবার হাসপাতালগুলোতে শিশুসহ ৪,৪০০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। প্রতিবেদনে ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীদের জায়গা দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলো, যা গোটা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি বিপর্যয়ের মতো করে হাজির হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শহর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তারা ব্যাপক সমালোচনার শিকার হচ্ছে এবং রাজধানীতে এ নিয়ে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কুটনীতিবিষয়ক সাময়িকী ‘ডিপ্লোম্যাট’তাদের শিরোনামে বলছে, ‘বাংলাদেশের ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব মহা*রী পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

‘অনবরত ডেঙ্গুতে আ*ন্ত হচ্ছে মানুষ, বাংলাদেশজুড়ে আ*ঙ্ক’শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে এশিয়া নিউজ। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়েছে, কেবল জুলাই মাসে নতুন করে সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ আ*ন্ত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর এটাই এক মাসে সর্বোচ্চ আ*ন্ত হওয়ার সংখ্যা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ বছরের এ পর্যন্ত ১০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আ*ন্ত হয়েছে। প্রা*হানি হয়েছে কমপক্ষে ৩৫ জনের।

মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু আ*ঙ্ক বিরাজ করছে উল্লেখ করে এশিয়া নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনও ধরনের লক্ষ্মণ (বাস্তবসম্মত কিংবা কাল্পনিক) দেখা দিলেই তারা হাসপাতালে ছুটছেন। ঢাকার হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। আ*ন্তদের জন্য শয্যার ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। গ্রাম্য এলাকাগুলোতে এ ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেখানকার পরিস্থিতি অজানা।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর পরিচালক মীরজাদী সাবরিনাকে উদ্ধৃত করে চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, সহসা ডেঙ্গু রোগের ভাইরাসের প্রকোপ কমার সম্ভাবনা কম, কারণ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ রোগের ভাইরাসবাহী এডিস মশার প্রজনন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এ রোগের বিস্তার ঠেকাতে মশার বংশবিস্তারের এলাকা যথাযথভাবে শ*ক্ত ও ধ্বংস করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মীরজাদি সাবরিনা।

শিরোনামে একদিনে ১০০০ এরও বেশি ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তির খবর দিয়ে রাষ্ট্রীয় রুশ টেলিভিশন আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে মশার বংশবিস্তার কমানো ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট তাদের এ সং*ন্ত সংবাদের শিরোনামে বলছে, বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে খারাপ অবস্থায়’ পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৩,০০০ মানুষ ডেঙ্গু রোগে আ*ন্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। যে কারণে কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার শুরু করতে বাধ্য হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তারকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির তথ্য রাখা শুরু হয়েছে। সেই থেকে বিচার করলে এবারের অবস্থা সবথেকে ভয়া*হ।

চায়না ডেইলির শিরোনামে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সবথেকে বেশি ডেঙ্গু-ঝুঁকিতে রয়েছে।

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’র খবরে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু ও বন্যাজনিত কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্যের সূত্রে ওই সংবাদমাধ্যম বলছে, বুধবার দুপুর পর্যন্ত ১,৩৩৫ জন আ*ন্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে ঢাকায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন ৯৭৪ জন। পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের নিজ দফতরে ডেঙ্গু সং*ন্ত মিনিস্টার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩টিতেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, এক নেত্রকোনা ছাড়া বাকি সব জেলায় ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। সরকারি এই পরিসংখ্যান সেল বলছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে আজ বুধবার (৩১ জুলাই) পর্যন্ত ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১৮৩। আর প্রাণঘা* এ রোগে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৪ জন। যদিও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা তিনগুণের বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরের বাইরে ঢাকা বিভাগের ১৪ জেলায় ২০৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ জেলায় ১৮১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় ১৫৭ জন, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ২৬১ জন, রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় ১৮৩ জন, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ১২২ জন, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় ৫৩ জন ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

উৎসঃ শীর্ষনিউজ

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশের পরই সব দুধ খাটি!


সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ। এখানে যে সব কিছুই সম্ভব সেটা আবারও প্রমাণ করলেন সরকারের অনুগত বিচারপতিরা। দেশে উৎপাদিত পাস্তুরিত দুধ নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই সমস্যা চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক পরীক্ষা করে প্রমাণ করেছেন এসব দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক মাত্রায় ভারী ধাতু, সালফা ড্রাগ ও অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব আছে। তার এই পরীক্ষাকে যাছাই করার জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিলেন আদালত। তারা যাছাই করে দুধে এসব ক্ষতিকর উপাদান পেয়েছে। আদালতে তারা গত সোমবার এনিয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

এরপর আদালত ১৪টি কোম্পানিকে দুধ উৎপাদন করতে নিষেধ করেছেন। এছাড়া উৎপাদিত দুধ বিক্রি বন্ধ করতেও আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার পরই তেলেবেগুনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন শেখ হাসিনা। লন্ডনে বসে তিনি বললেন-কোথা থেকে এক প্রফেসর এসে এসব পরীক্ষা করেছে? ফারুক আহমেদের এই পরীক্ষার সঙ্গে দুধ আমাদানী কারকদের কারসাজি আছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করলেন শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশ করার পরই বুধবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) পুষ্টি ইউনিটের করা পরীক্ষার বরাত দিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বললেন-এসব পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত তরল দুধ খেলে কোনো ক্ষতি নেই। সম্প্রতি দুধের মধ্যে ভারী ক্ষতিকর ধাতুর অস্তিত্বের যে খবর ছড়িয়েছে, তা সত্য নয়। তাই তরল দুধ খাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের এই রিপোর্ট হাইকোর্ট বিবেচনায় নেবেন বলেও তিনি তখন আশা প্রকাশ করেন।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের আশা প্রকাশের এক ঘণ্টা পরই চেম্বার আদালত আদেশ দিলেন যে, ১৪টি কোম্পানির দুধে ক্ষতিকর কিছু নেই। এই দুধ উৎপাদন ও বিক্রি চলবে।

আদালতের এই আদেশের পর মানুষ বিস্ময় প্রকাশ করছেন। আগের দিন যেখানে হাইকোর্ট বলেছে দুধে ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। এই দুধ উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। সেখানে একদিন পরই এসব দুধ কি করে খাটি হয়ে গেল?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ হাসিনার ক্ষোভকে প্রশমন করতেই চেম্বার আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। চেম্বার বিচারপতিরা দুধ কোনো পরীক্ষা করেননি। শুধু সরকারকে খুশী রাখতেই তারা এই আদেশ দিয়েছেন। পদ ধরে রাখার জন্য এই মুহূর্তে জাতির বৃহত্তর স্বার্থের চেয়ে সরকারের স্বার্থ রক্ষা করাই এখন তাদের মূল কাজ। সেটাই তারা করেছেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ভারতে মুসলিমদের পিটিয়ে মারা বন্ধের দাবি জানানো ৪৯ বুদ্ধিজীবীর নামে মামলা


ভারতে জয় শ্রীরাম কিংবা জয় হনুমান স্লোগান না দেয়ার অজুহাতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের পিটিয়ে মারার ঘটনা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা, লেখক, সাহিত্যিক, সমাজসেবী, চিকিৎসক, পরিবেশবিদ, ভাস্কর, চিত্রকর, শিক্ষাবিদ, গায়কসহ বিভিন্ন পেশার ৪৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। খবর ভারতীয় দৈনিক এই সময়ের।

চিঠিতে স্বাক্ষর দেয়া ও প্রতিবাদ করার অপরাধে এবার উল্টো তাদের নামে বিহারের মুজাফফরপুর আদালতে মামলা করা হয়েছে।

ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘা* ও রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ কয়েকটি ধারায় যাতে এই ৪৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বুদ্ধিজীবীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার আর্জি রয়েছে পিটিশনে। এ পিটিশনে সাক্ষী করা হয়েছে কঙ্গনা রানাওয়াত, মধুর ভাণ্ডারকর, বিজয় অগ্নিহোত্রীদের।

ভারতের ১৭তম লোকসভার নির্বাচনে বিজেপির জয়লাভের পর দেশজুড়ে অসহিষ্ণুতার মুসলিমদের মারার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছিলেন ৪৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বুদ্ধিজীবী।

সে তালিকায় ছিলেন- আদুর গোপালকৃষ্ণন, গৌতম ঘোষ, শ্যাম বেনেগালের মতো খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালকের পাশাপাশি কলকাতার নামকরা অভিনয়শিল্পী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, কৌশিক সেনসহ চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্টজনরা।

বিহার আদালতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘা*, রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ কয়েকটি ধারার কথা উল্লেখ করে একটি পিটিশন দাখিল করেছেন এক আইনজীবী।

বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্টজনদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রুজু করা হয়। পিটিশনে সাক্ষী করা হয়েছে কঙ্গনা রানাওয়াত, মধুর ভাণ্ডারকর, বিজয় অগ্নিহোত্রীদের।

কেননা এদের মধ্যে ৬১ জন মিলে মোদির সমর্থনে পাল্টা চিঠি লিখেছিলেন তারা। অভিযোগে বলা হয়, ৪৯ জনের ওই চিঠিতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। নরেন্দ্র মোদির কাজকেও ছোট করা হয়েছে।

বিহারের আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলার শুনানির জন্য আগামী ৩ আগস্ট দিন ধার্য হয়েছে।

উল্লেখ্য, মোদিকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে গোমাংস খাওয়া নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে, জয় শ্রীরাম না বলায় পেটানো হচ্ছে। এমনকি মুসলিমদের পিটিয়ে মারা হচ্ছে। এটি বন্ধ হওয়া উচিত।

অপর্ণা সেন সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলেন, কেন অন্য ধর্মের মানুষকে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলানো হচ্ছে? আমি একজন হিন্দু। আমাকে যদি জোর করে এখন আল্লাহু আকবর বলতে বাধ্য করা হয়, তা হলে কি আমার ভালো লাগবে?

মোদিকে দেয়া চিঠিতে তারা আরও বলেন, ‘জয় শ্রীরাম এখন এক যুদ্ধের হুঙ্কা*। এ স্লোগান ঘিরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। সবচেয়ে আ*ঙ্কের বিষয় হলো- এই উন্মদনা হচ্ছে ধর্মের নামে। এটি তো মধ্যযুগ নয়। রামের নামে এই উন্মাদনা আপনি অবিলম্বে বন্ধ করুন।’

ওই চিঠিতে নিজেদের শান্তিকামী ও গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ উল্লেখ করে গণপি*নি ও ধর্মের নামে চলমান উন্মাদনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর অত্যা*র ও গণপি*নির জন্য তারা কেন্দ্র সরকারকে দায়ী করেছেন। চিঠির শুরুতেই এ বিশিষ্টজনরা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ষড়*ন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের পাশাপাশি দ্রুত ও নিশ্চিতভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি।

চিঠিতে তারা মোদিকে এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ‘ভারত ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমানাধিকার। সংবিধানই সেই অধিকার দিয়েছে।’

উৎসঃ jamuna tv news

আরও পড়ুনঃ ইয়াবার কারবার ঘিরে আওয়ামী লীগের এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম

সাগর ঘেঁষা অনুন্নত বরগুনা জেলা শহর দেশের মাদক তথা ইয়াবা চোরাচালান বাণিজ্যের প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। রীতিমতো মাদকে সয়লাব বরগুনা শহর। মাদকের কারবার লাভজনক হওয়ায় কেবল এ ব্যবসা করেই গাড়ি-বাড়ির মালিক হওয়ার উদাহরণও অনেক।

আর এ মাদক ‘বাণিজ্যের’ সঙ্গেও জড়িয়ে আছে বরগুনা সদর আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের নাম।

জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুনাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, আমার এমপি পিতার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই একটি মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।

২০১৫ সালের একটি ঘটনাই মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে বোঝার জন্য যথেষ্ট। বরগুনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আহম্মেদ হঠাৎ একদিন স্কুল চলার সময় বন্ধ করে দিলেন প্রধান গেট।

সীমানা দেয়াল ঘেরা স্কুলের মহিলা শিক্ষকরা ছাত্রীদের দেহ তল্লাশি করে ১৪ জনের কাছ থেকে উদ্ধার করেন ইয়াবা-গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদক দ্রব্য। ওই ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কথা হয় ওই স্কুলের একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে।

তারা যুগান্তরকে বলেন, ‘বাচ্চাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তখন আমরা বাড়াবাড়ি করিনি। তবে ছাত্রীদের সাবধান করার পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরও জানিয়েছি।’

শহরের সংবাদকর্মী এবং আইনজীবী সোহেল হাফিজ বলেন, শান্ত বরগুনার ভেতরটা দারুণভাবে ক্ষয়ে গেছে মাদকের ভয়াবহতায়। তরুণদের বড় অংশই এখন মাদকসেবী।রিফাত ঘটনার নেপথ্যেও মাদকের অভিযোগ। ওই মামলার ১২ আসামির মধ্যে ৭ জনের বিরুদ্ধেই মাদকের অভিযোগ।

নিহত রিফাত একবার গ্রেফতার হয়েছিল মাদকসহ। নিহত নয়ন বন্ডও ছিল কুখ্যা* মাদক ব্যবসায়ী। ‘শর্টকাট’ অর্থ উপার্জনের সহজ উপায় হয়ে উঠেছে মাদক। আর এই মাদকের বলি হচ্ছে কিশোর-কিশোরীরা।

বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি চিত্তরঞ্জন বলেন, ‘তাকালেই দেখা যায় মাদকের ভয়া*হতা। রিফাত ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা এবং প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসানোয় সম্প্রতি মাদকের ভয়াবহতা কিছুটা কমলেও গত ১০-১১ বছরে যে ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে।’

ইয়াবা চালানের নতুন রুট : নাফ নদী দিয়ে দেশে ঢুকছিল ইয়াবার বড় বড় চালান। নানান কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় বিকল্প হিসেবে এখন বেছে নেয়া হয়েছে শান্ত বরগুনা শহরকে। শহরের কাছেই সাগরপাড়ের দুই উপজেলা তালতলী এবং পাথরঘাটা।

তালতলীর সমুদ্র সৈকত শুভসন্ধ্যা সংলগ্ন অগভীর সমুদ্রে ‘দ্বীপচর’, ‘টেংরাগীরি সৈকত’ এবং পাথরঘাটার ‘বলেশ্বর মোহনা’ হয়ে ঢুকছে ইয়াবার চালান। এই পথে যারা ইয়াবা আনছে তাদের নামও সবার মুখে মুখে। তালতলীর মালেক কোম্পানির নাম সবার জানা।

উপজেলার নির্বাচিত এক জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘পথের লোক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক এই মালেক এখন আওয়ামী লীগ নেতা। বাড়ি-গাড়ির পাশাপাশি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রও আছে তার। মাছের কারবারি হলেও মালেকের আয়ের প্রধান উৎস সবার জানা।’

কথা বলার জন্য মালেক কোম্পানিকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও ধরেননি। পাথরঘাটায় মাদক কারবারি হিসেবে যার নাম আলোচনায় তিনি হলেন সেখানকার পৌর কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল। পাথরঘাটার মুকুটবিহীন সম্রাটও বলা হয় তাকে।

পৌরশহরে তার অফিসে ঢুকতে হলে একাধিক গেট পেরুতে হয়। রয়েছে সিসি ক্যামেরাও। সোহেলের বিরুদ্ধে রয়েছে ধর্ষণ ও মাদকের মামলা।

পাথরঘাটার একাধিক জেলে যুগান্তরকে বলেন, ‘কক্সবাজারের কিছু রহস্যজনক ট্রলার প্রায়ই আসে বরগুনা উপকূলে। নদীর মোহনা সংলগ্ন এলাকায় এসব ট্রলারের কাছে ভেড়ে স্থানীয় ট্রলার। মাছের এসব ট্রলারেই আসা ইয়াবার চালানের কিছু অংশ বরগুনায় বাকিটা যায় সড়ক ও নৌপথে সারা দেশে।’

গত এপ্রিলে বরগুনা-ঢাকা রুটের লঞ্চ এমভি সপ্তবর্ণা-১ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ৮ লাখ ইয়াবাসহ তুহিন, সবুজ এবং শাহজাহান নামে তিনজনকে আটক করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে তারা কিছুদিন পরপরই এভাবে ইয়াবার বড় বড় চালান বরগুনা থেকে ঢাকায় পাঠানোর কথা স্বীকার করে।

এ নিয়ে পৌর কাউন্সিলর সোহেল বলেন, ‘এসবই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ। এগুলো অপপ্রচার।’

সুনামকে ঘিরে ইয়াবা বাণিজ্য : বরগুনা শহরে কান পাতলেই ভেসে আসে মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথের নাম। অনেক মাদক কারবারির সঙ্গেই সুনামের ওঠা-বসার চিত্র পাওয়া যায়। রিফাত ঘটনার মূল আসামি নিহত নয়ন বন্ডও ছিল সুনামের লোক। সুনামের চাচাতো শ্যালক অভিজিত তালুকদারের সঙ্গেও নয়নের যাতায়াত ছিল সুনামের অফিস-বাসায়।

২০১৭ সালের শেষদিকে বিপুল মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় নয়ন। ওই একই রাতে পুলিশ অভিযান চালায় কলেজ রোডে সুনাম দেবনাথের প্রতিষ্ঠান সুনাম দেবনাথ ব্লাড ফাউন্ডেশনের অফিসে। পুলিশ যখন ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল তখন পেছন দিয়ে পালিয়ে যায় দুই-তিনজন।

বলাবলি হচ্ছে- ‘ওই অফিসে যদি অপরাধ কর্মকাণ্ড নাই-ই ঘটবে তাহলে কেন তাদের পালিয়ে যেতে হল?’ তারপর বন্ধ হয়ে যায় সুনাম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম। জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘রিফাত ঘটনার পর সুনামই গণমাধ্যমে বলেছেন, রিফাত তাদের কর্মী ছিল।’

রিফাতকে অনেক ভালোবাসত। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই রিফাতও মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিল। রিফাত ঘটনার পর আলোচনায় আসে নয়ন বন্ডের ‘০০৭ গ্রুপ’ ও ‘টিম সিক্সটি’ নামের দুটি গ্রুপ। টিম সিক্সটির প্রধান হচ্ছে মঞ্জুরুল আলম জন। জনের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদকের পাইকারি বাণিজ্যের অভিযোগ।

জনের বাবা রইসুল আলম রিপন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এই নয়ন ও জনের সঙ্গে সুনামের অনেক ঘনিষ্ঠ ছবি রয়েছে। এভাবে দুয়ে-দুয়ে চার মেলালেও মেলে মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে সুনামের যোগসাজশ।

সুনামের চাচাতো শ্যালক শাওনের বিরুদ্ধেও রয়েছে মাদক নিয়ে বিস্তর অভিযোগ। তবে কোনো মামলা না থাকায় শাওনকে ক্লিন ইমেজের মাদক ব্যবসায়ীও বলেন অনেকে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ছাড়া শাওনের আয়ের উৎস সম্পর্কে আর কিছু জানা না থাকলেও শাওন অনেক বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। বলাবলি হচ্ছে- শাওন তালুকদারই সুনামের হয়ে দেখভাল করে মাদকের কারবার।

তবে মাদকের মামলা আছে শাওনের চাচাতো ভাই অভি এবং ফুফাতো ভাই তুষারের নামে। তুষার জেলও খেটেছে। বরগুনায় একটি কথা চালু আছে- শাওনের শরীরে কাদা লাগতে দেননি সুনামই। বরগুনার মাদক রাজত্বে আরেক জনের নাম আলোচনা রয়েছে।

তিনি হচ্ছেন সুনামের আপন খালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের ভাইয়ের ছেলে সুমন। ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ে জেলও খেটেছেন। সুনামের আরেক ঘনিষ্ঠ অভিজিৎ তালুকদারের বিরুদ্ধেও রয়েছে মাদকের একাধিক মামলা।

বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আদনান হোসেন অনিক বলেন, ‘সুনামের মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে গত বছর সংবাদ সম্মেলন করেছি আমরা কিন্তু তারপরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থাকা মানুষটি যখন অপরাধে যুক্ত হয় তখন পুলিশের চুপ করে দেখা ছাড়া আর কিছুই করা থাকে না।’

ওরা আমার রাজনীতি ধ্বংস করতে চায়-সুনাম : সুনাম দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, রাজনীতি করি, বহু মানুষের সঙ্গেই ছবি আছে। তার মানে কি এই যে, তারা চোর হলে আমিও চোর? খবরের কাগজগুলোতে আমার সম্পর্কে যেসব লেখা হচ্ছে তা দেখছি প্রতিদিন। আমার বিষয়ে লেখা হচ্ছে- ‘জানা গেছে’, ‘শোনা গেছে’, ‘একটি সূত্র বলেছে’ এসব। আরে ভাই সূত্রটা কে, তা লিখুন। সাংবাদিকতা তো এখন অনেকদূর এগিয়েছে।

তাহলে জানা গেছে, শোনা গেছে কেন? আমার কোন ভবনে পুলিশি তল্লাশি হয়নি। অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ লিখুন। সঠিক প্রমাণ দিতে পারলে আমি নিজেই পুলিশের কাছে ধরা দেব। সবাই জানে যে আমার বাবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আছে। তারা আমাদের রাজনীতি ধ্বংস করতে চায়। তারাই এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। বারবার বলা হচ্ছে কতিপয় ছাত্রলীগ নেতার সংবাদ সম্মেলনের কথা।

ওই সম্মেলনেও কি এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কেউ দিতে পেরেছে যে, আমি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত? সংবাদপত্রের মতো একটি মহান প্রতিষ্ঠান সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করবে বলে আমি আশা করি।

মাদকের অভিযোগ নিয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হাসান বলেন, ‘যেভাবে মাদকের বিস্তারের কথা বলা হচ্ছে পরিস্থিতি আসলে ততটা ভয়াবহ নয়। তাছাড়া আমরাও প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি। ২০১৮ সালে ৬৯৪টি মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৮২৫ জন। ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ১১ হাজারের বেশি। মাদক প্রতিরোধে প্রতিনিয়তই কাজ করছি আমরা। আর এক্ষেত্রে কোনো মহলের তদবির বা পুলিশের ওপর প্রভাব বিস্তারেরও কোনো ঘটনা নেই।’

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের অর্জিত আকাশসীমায় ফ্লাইট, রাজস্ব নিচ্ছে ভারত


বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অর্জিত জলসীমার ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল করলেও অবকাঠামো সমস্যার কারণে সেই রাজস্ব আদায় করা যাচ্ছে না। ওই আকাশপথ এখনো ভারতের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে রয়েছে এবং এসব ফ্লাইটের কাছ থেকে রাজস্বও আদায় করছে ভারত।

জানা গেছে, মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে বিশাল সমুদ্রসীমা জয়লাভের পর বাংলাদেশের অর্জিত জলসীমার ওপর দিয়ে বিমান চলাচলের জন্য পাঁচটি আন্তর্জাতিক রুটের খোঁজ পাওয়া গেছে। এয়ার ট্রাফিক সার্ভিস প্রদানের জন্য এ রুটগুলোর ট্রাফিক কন্ট্রোল বাংলাদেশ বুঝে নিতে পারলে রাজস্বপ্রাপ্তির খাতায় বছরে যোগ হবে প্রায় ২৫৫ কোটি টাকা।

সূত্রগুলো জানায়, বর্ধিত জলসীমায় পাঁচটি রুটের মধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক রুট চিহ্নিত করা গেলেও সেগুলো বাংলাদেশের রাডার ব্যবস্থার কাভারেজের বাইরে অবস্থিত। এ তিনটির মধ্যে ‘পি ৬৪৬’ নামে একটি রুটের সন্ধান পাওয়া গেছে যে রুট দিয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৫টি এয়ারক্রাফট যাতায়াত করে। সম্প্রতি কারওয়ান বাজারের পেট্রোসেন্টারে ‘ব্লু ইকোনমি’-সংক্রান্ত এক সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকের প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশের অ্যারোনটিক্যাল চার্জ অনুযায়ী ‘পি৬৪৬’ রুটে চলাচলকারী মাঝারি টাইপের এয়ারক্রাফটের চার্জ হিসাব করলে দৈনিক গড় রাজস্ব দাঁড়ায় (৫৫ গুণক ৩০০ মার্কিন ডলার) ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। দেখা যাচ্ছে এই একটি রুট থেকে বার্ষিক সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ ৬০ লাখ ২২ হাজার ৫০০ ডলার।

সূত্র জানান, বাংলাদেশের অর্জিত আকাশসীমায় আরও দুটি আন্তর্জাতিক রুট চিহ্নিত করা গেছে ‘এন ৮৯৫’ ও ‘এম ৭৭০’ নামে। তবে রাডার এরিয়ার বাইরে থাকায় ওই দুটি রুটে চলাচলরত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের হিসাব সংগ্রহ করতে পারেনি বেবিচক। বেবিচকের তথ্যানুযায়ী অর্জিত জলসীমায় একটি আন্তর্জাতিক রুট থেকে যদি বছরে ৬০ লাখ ২২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার আয় হয়, তবে পাঁচটি রুটে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্জিত জলসীমার ওপর বাংলাদেশের যে আকাশসীমা রয়েছে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় সেখান থেকে বছরে ওই পরিমাণ রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে জানতে বেবিচকের ডিরেক্টর (এটিএস অ্যান্ড অ্যারোড্রোমস) আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ ফ্লাইট ওভারফ্লাইং করে। প্রতিটি বড় আকারের এয়ারবাস থেকে আমরা ৪০০ মার্কিন ডলার রাজস্ব পাই। এ রাজস্ব কোনোভাবেই মিসিং হওয়ার সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, কলকাতা থেকে “লিমা ৫০৭” একটি রুট বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে কিছুটা আকাশসীমা ব্যবহার করে আবার ভারতের আকাশসীমায় পড়েছে। ওই রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটের যে কথোপকথন (বিএইচ) তা আমরা ঠিকভাবে শুনতে পাই না। আমাদের অনুরোধে কলকাতা পোর্ট কর্তৃপক্ষ সেই কথোপকথন পরিচালনা করছে, কিন্তু চার্জ আমরা আদায় করছি।’ তবে তিনি বঙ্গোপসাগরে অর্জিত জলসীমার ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্জিত জলসীমার ওপর দিয়ে যে আকাশসীমা রয়েছে তা পাশের দেশ ভারতের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বঙ্গোপসাগরে অর্জিত ওই বিশাল এলাকার ওপর যেহেতু বাংলাদেশের আগে একচ্ছত্র অধিকার ছিল না, সেহেতু ওই আকাশসীমায় ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিওন গড়ে তোলার কোনো সুযোগ ছিল না। তবে এখন সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এফআইআর বর্ধিত করতে হলে চট্টগ্রামে অবস্থিত রাডারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধাও গড়ে তুলতে হবে।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‘বাংলাদেশে এখন নমরুদের শাসন চলছ’


পৃথিবীর ইতিহাসে নমরুদ ছিল এক মহাপ্রতাপশালী জালেম-অত্যাচারী বাদশাহ। তার মিথ্যা খোদায়িত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আসল খোদার সাথে আকাশে ওঠার চেষ্টা করে পাগলামি-উন্মাদনার এক অভিনব রেকর্ড সৃষ্টি করছিল। নমরুদকে খোদা বলে স্বীকার না করার কারণে হযরত ইব্রাহীম (আ) কে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিলো। নমরুদের হুকুম যারা মানতো না এমন কোনো জুলুম-নিপি*ন নেই যা তাদরে ওপর আসতো না।

এরপরেও যুগে যুগে নমরুদরা এসেছে। ওই নমরুদের সাথে পররর্তী যুগের নমরুদদের পার্থক্য ছিল শুধু তারা নিজেকে খোদা দাবি করেনি কিন্তু তাদরে কর্মকাণ্ড ছিল সেই নমরুদদের মতোই। নিজেদের একক ক্ষমতা প্রতষ্ঠিত করার জন্য জনগণের ওপর তারাও চালয়িছেে জুলুম নির্যা*নের স্টিম রোলার। এখনো বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই নমরুদদের শাসন চলছ।

এর মধ্যে জ্বলন্ত উদাহরণ হলো বর্তমান বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার বিগত ১১ বছরের শাসন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সেই নমরুদের চেয়ে তিনিও কোনো দিক থেকে পিছিয়ে নেই। ক্ষমতাকে ধরে রাখতে এবং জনগণের ওপর তার একক আধিপত্য বিস্তারের জন্য নমরুদের মতোই অত্যাচার নির্যা*ন চালিয়ে যাচ্ছেন।

হাসিনা তার বিগত ১১ বছরের শাসনামলে সবচয়েে বেশী অত্যাচার নির্যা*ন চালাচ্ছে এদেশের সবচয়েে বড় ইসলামী শক্তি জামায়াতে ইসলামীর ওপর। শুধু মাত্র আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করার কারণে কথতি যুদ্ধাপরাধরে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভযিোগ তুলে জামায়াতের র্শীষ ৬ নেতাকে ফাঁসতিে ঝুলিয়ে নির্ম*ভাবে মারা হয়।

এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশবিরিকে নির্মূল করার লক্ষ্যে দুইটি সংগঠনরে সহস্রাধকি নেতার্কমীকে গুম-অপহ*ণ ও কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে করেছে। তার অবধৈ র্কতৃত্বকে মেনে না নেওয়ার কারণে প্রতদিনই নেতাকর্মীদেরকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে নির্যা*ন করছে।

শুধু জামায়াত-শিবির নয়, হাসিনার বিরোধী যত দল মতের লোক আছে সবার ওপরই চালিয়ে যাচ্ছে নির্মম নির্যা*ন। বিএনপির শত শত নেতাকর্মীও নির্মমভাবে হত্যা করছেে তিনি।

এছাড়া দেশে এখন অপরাধের মহোৎসব চলছে। এমন কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ড নেই যা এখনও দেশে ঘটেনি। খু*-র্ধষণ দেশে এক মহামারি আকার ধারণ করছে। সহজভাবে বললে দেশে এখন পাপাচারে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

দেশে যে নমরুদের শাসন চলছে এবং অনাচার-পাপাচারে যে দেশে ভরে গেছে সেটা এখন হাসিনার দলের লোকজনই টের পাচ্ছে। শেখ হাসিনার ডান হস্ত হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান বর্তমান অবস্থাকে নমরুদের শাসন বলে তুলনা করছেন। যদিও তিনি এখানে শেখ হাসিনার নাম মুখে উচ্চারণ করেননি।

মঙ্গলবার একটি সভায় শামীম ওসমান বলছেনে, ‘এডিস মশা বিনা কারণে আসে না। এই মশার উদ্ভব হয়ছেে নমরুদের সময়। নমরুদ যখন অনাচার করছলিো দুনিয়াতে। একটা মশা এসে তার নাক দিয়ে ঢুকে গিয়েছিলো। ওই মশার নাম কি ছিল আমি জানিনা। মশার অত্যা*রে সে তার মাথায় বাড়ি দিতে বলেছিল। মশা দিয় আল্লাহ তাকে শিক্ষা দিয়েছলেন। যখন কোনো দেশে পাপাচার হয়, এটা ন্যাচারাল গজব।

এখানে শামীম ওসমান মুখে হাসিনার নাম উচ্চারণ না করলেও সচতেন মানুষরে আর বুঝার বাকী নেই যে তিনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন।

এমনকি সাধারণ মানুষ মনে করছেন বিরোধী দল সহ সাধারণ মানুষের ওপর শেখ হাসিনার অত্যাচার নির্যা*নের মাত্রা এখন মা*ত্মক পর্যায়ে চলে গেছে। অপরাধীরা অবাধে অপরাধ কর্মকাণ্ড করলেও সরকার নিরব ভূমিকা পালন করছে। এমনকি হাসেনার সোনার ছেলেরা হাজার অপরাধ করেও থাকছে ধরা ছোয়ার বাইরে। শেখ হাসিনার পেটুয়া বাহিনী ও সোনার ছেলেদের হামলা-মামলার ভয়ে মানুষ মুখ খুলতে পারছে না। যার কারণে বাংলাদশেে এখন বিভিন্ন সময় আল্লাহর পক্ষ থকেে প্রাকৃতকি গজব নাযলি হচ্ছ।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here