ইসির পায়ে আওয়ামী জুতা – ড. রেজোয়ান সিদ্দিকীর কলাম

0
958

ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী

নির্বাচন এগিয়ে আসছে, এখন পুলিশ, প্রশাসন সবই সংবিধান অনুযায়ী চলে গেছে নির্বাচন কমিশনের হাতে। সে অনুযায়ী কমিশন কিছু কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। তারা বলছেন, এখন আর উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী নিজেও কোনো ফলক-টলক উন্মোচন করতে পারবেন না। আবার তিনি বলেছেন, ১৫ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনী মাঠে ছোট আকারে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। এসব কথা শুনতে ভালো লাগে। এ রকম দু-চারটি ভালো কথার আড়ালে ইসির যে মূল দায়িত্ব অর্থাৎ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা, সে দায়িত্ব পালনের পথেই যাচ্ছে না কমিশন।

প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেলেন, এখন থেকে নতুন কোনো মামলা হবে না। আর রাজনৈতিক মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনকে সম্ভবত আগেই শিখিয়ে পড়িয়ে রাখা হয়েছে। তারা একেবারে প্রথম থেকেই আটঘাট বেঁধে মামলাগুলো দায়ের করেছে। রাজনৈতিক মামলা বলে তেমন কিছু রাখেনি। সাধারণত আমরা পত্রিপত্রিকায় দেখি, বিরোধী দল তথা বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে নাশকতা, পুলিশের কাজে বাধাদান, অগ্নিসংযোগ, মারপিট প্রভৃতি গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এগুলোকে রাজনৈতিক মামলা বলা যায় না। এখন যে গ্রেফতার অভিযান চলছে তাকেও রাজনৈতিক না বলার বিভিন্ন কৌশল পুলিশ অবলম্বন করেছে। নির্বাচন পর্যন্ত গায়েবি মামলা বা মিথ্যা মামলা দায়ের না করার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দরকার ছিল; কিন্তু সে নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশন পুলিশকে যে ভাষায় কথা বলে তাতে মনে হচ্ছে, পুলিশের কাছে যেন কমিশন দয়া চাইছে। ইসি পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দিচ্ছে না। ফলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়েও কমিশনের তরফ থেকে আজব আজব সব কথা বলা হচ্ছে। সাংবাদিকদের অদ্ভুত সব নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের যে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে, তা শুধু হাস্যকরই নয়, রীতিমতো অসম্মানজনক। নির্বাচনে পর্যবেক্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। নির্বাচন সুষ্ঠু বা অবাধ হয়েছে কি না, সেটি প্রধানত পর্যবেক্ষকেরাই মূল্যায়ন করেন। আর তাদের মূল্যায়নই অধিক মাত্রায় গ্রহণযোগ্য হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এক লাখ ৬০ হাজার দেশীয় ও ৬০০ বিদেশী পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। সে সময় আট কোটি ১০ লাখ ভোটারের জন্য ৩৫ হাজার ২৬৩ ভোট কেন্দ্র ছিল।

এবার ১০ লাখ ৪১ হাজার ভোটারের জন্য ভোটকেন্দ্র বাড়িয়ে ৪২ হাজার করা হয়েছে। কিন্তু কমেছে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা। ফলে ভোট পর্যবেক্ষণ এবার অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়বে। এখন ১১৮টি সংস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশনে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ, যারা ২৩টি সংস্থা নিয়ে গঠিত, ১৯০৮ সালের নির্বাচনে ৭০ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল। এবার তারা মাত্র ১৫ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। বিদেশী পর্যবেক্ষকেরা আসছেন না। প্রধানত তাদের অর্থ সঙ্কটের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা কমবে বৈ বাড়বে না। পর্যবেক্ষক সংখ্যা কমার পেছনে বিদেশী তহবিলেরও একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে। নির্বাচনে দেশী পর্যবেক্ষকদেরও বিদেশীরা অর্থায়ন করে থাকে; কিন্তু এবার সেটি হচ্ছে না। ফলে পর্যবেক্ষক সংখ্যা কমছে।

এ দিকে গত ২০ নভেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশী পর্যবেক্ষক সংস্থার কর্মকর্তাদের ব্রিফিংয়ে কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এক অদ্ভুত নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘অনেক সাংবাদিক পর্যবেক্ষকদের সামনে ক্যামেরা ধরবেন, কিন্তু আপনারা কথা বলতে পারবেন না। কোনো সংবাদ মাধ্যমে টিভিতে লাইভে কথা বলতে পারবেন না। কমেন্টস করতে পারবেন না, ব্রিটেনের পুলিশের মতো মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে শুধু পর্যবেক্ষণ করবেন। লিখিত রিপোর্ট জমা দেয়ার আগেই কোনো মন্তব্য করা যাবে না।’ সংস্থার কর্মকর্তাদের তিনি বলেন, নিবন্ধন যাতে বাতিল না হয় সে দিকে তারা যেন খেয়াল রাখেন। পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে সচিব বলেন, ‘যখন আপনারা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করবেন, তখন কয়েকটা সাবধানবাণী উচ্চারণ করবেন। নির্বাচন কমিশনের দেয়া পরিচয়পত্র সার্বক্ষণিক গলায় ঝুলিয়ে রাখতে হবে, যাতে যে কেউ বুঝতে পারে যে, আপনি একজন পর্যবেক্ষক। প্রথমে কেন্দ্রে গিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারকে নিজের পরিচয় দিতে হবে, কেন্দ্রে কোনো মোবাইল ফোন নেয়া যাবে না, কোনো ছবি তুলতে পারবেন না, কোনো কমেন্টস করতে পারবেন না। কেন্দ্রে যত প্রবলেমই হোক তা পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক তার সংস্থার কাছে রিপোর্ট পেশ করবেন। তারপর পর্যবেক্ষণ সংস্থা তাদের সব পর্যবেক্ষকের রিপোর্ট কম্পাইল করে আমাদের কাছে প্রতিবেদন দেবেন।’

তিনি বলেন, পর্যবেক্ষণের সময় গোপন কক্ষে যাওয়া যাবে না, কাউকে নির্দেশনা দিতে পারবেন না, প্রিজাইডিং-পোলিং অফিসারকে কোনো পরামর্শ দিতে পারবেন না। পর্যবেক্ষকদের এগুলো ক্লিয়ার করে বলে দেবেন। যদি কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম হয়, এটা তারা কমিশনকে অবহিত করতে পারেন বা আপনাদের (সংস্থা প্রধানদের) লিখিতভাবে অবহিত করতে পারেন। হেলালুদ্দীন বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের ১১৯টি পর্যবেক্ষক ছিল। তার মধ্যে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে এনজিও ব্যুরো থেকে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দফতর থেকে অভিযোগ আসায় নির্বাচন পর্যবেক্ষক নীতিমালা অনুসরণ করে সেটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।’ হেলালুদ্দীন সংস্থা প্রধানদের সতর্ক করে বলেন, ‘একজন পর্যবেক্ষকের কারণে কিন্তু আপনি নিজেও (সংস্থা প্রধান) বিপদে পড়ে যেতে পারেন। আমাদের নীতিমালায় বলা আছে যে, আপনি যদি কোনো শর্ত ভঙ্গ করেন, তাহলে কিন্তু আপনাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যেতে পারে। এ জন্য খুব সতর্কভাবে এর পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ফলো করে দায়িত্ব পালন করবেন।’

সচিব বলেন, আপনারাও রিপোর্ট কম্পাইল করে জমা দেয়ার আগে কোনো কমেন্টস করবেন না। রিপোর্ট কম্পাইল হলে প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন এবং আমাদের কাছে জমা দিতে পারবেন। আপনাদের আচরণ হবে নিউট্রাল। এমন কোনো ব্যক্তিকে আপনারা নিয়োগ করবেন না, যিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য এগুলো আপনাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে।’ সংস্থা প্রধানদের সতর্ক করে দিয়ে সচিব বলেন, ‘একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন, নিবন্ধন যাতে বাতিল না হয়, সে দিকে আপনারা খুব বেশি খেয়াল রাখবেন, আপনারা অনেকেই কিন্তু এনজিও হিসেবে কাজ করেন। অন্যান্য কাজের পাশাপাশি আপনারা নির্বাচনেও কাজ করেন। কিন্তু এখান থেকে যদি আমরা রিপোর্ট দিই যে, আপনি এ ধরনের একটি আচরণ করেছেন যেটার জন্য নির্বাচনটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তাহলে কিন্তু আপনার নিবন্ধনটা বাতিল করার জন্য যারা নিবন্ধন দেয় তাদেরকেও আমরা চিঠি দেবো। সুতরাং বি কেয়ারফুল। আপনারা এমন কোনো আচরণ করবেন না, এমন কোনো কাজ করবেন না যার জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়াটা ভণ্ডুল হতে পারে বা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।’

সচিবকে এতটা উদ্ধৃত দেয়ার হয়তো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু এ কথা সত্য যে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য যারা দায়িত্ব পালন করেন, তারা একই সাথে এনজিও ও বিভিন্ন রকম ফান্ডিংয়ের জন্য তাদের এনজিও ব্যুরোর ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন মোটামুটি খোলাখুলিভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভেতরে যত অনিয়মই হোক পর্যবেক্ষকদের চুপ করে থাকতে হবে, একেবারে ব্রিটিশ পুলিশের মতো। যেসব পুলিশ বিভিন্ন পাহারার কাজে নিয়োজিত থাকে।

তা যদি কেউ না মানে, তবে এনজিও ব্যুরোতে তাদের নিবন্ধন বাতিল করার জন্য চিঠি দেয়া হবে। এতে সংস্থাটির পুরো কার্যক্রমই বন্ধ হয়ে যাবে। পর্যবেক্ষকেরা যদি অনিয়ম লক্ষ করেন এবং তা প্রকাশ করতে না পারেন, তাহলে এই পর্যবেক্ষণের কোনো মানে হয়? তার চেয়ে এটা বললেই ভালো হতো যে, নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষককে প্রবেশই করতে দেয়া হবে না। জনাব হেলালুদ্দীন তার এক বক্তব্যের ব্যাখ্যায় একবার বলেছিলেন, তিনি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। তিনি তা শুধু প্রকাশ করেন মাত্র। সে ক্ষেত্রে এ রকম বর্বর সিদ্ধান্তের জন্য আমরা তো কমিশনকে দায়ী করব। কেন গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ হতে পারবে না। সরকার শত পথে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ করে দিচ্ছে, বাকস্বাধীনতা হরণ করে নিচ্ছে, নির্বাচন কমিশনও হাঁটছে সে পদচিহ্ন ধরে। তারাও পর্যবেক্ষকদের মুখে কুলুপ এঁটে দিতে চায়। ফলে ধারণা করা যায়, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ একটি প্রহসনে পরিণত হতে যাচ্ছে।

এ দিকে কমিশন বিশ্বব্যাপী বিতর্কিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে গোঁ ধরেই আছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই মেশিন কার্যকারিতা হারিয়েছে। বহু দেশ ইভিএম থেকে সরে এসেছে, কোনো কোনো দেশে অল্প কিছু জায়গায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এ রকম একটা বাতিল পদ্ধতির পেছনে নির্বাচন কমিশন চার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা কেন নিল, সেটিও রহস্যময়। কিছুকাল আগে ভারতের পার্লামেন্টে বিরোধী দলের সদস্যরা ডিসেপ্লে করে দেখিয়েছেন, কিভাবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট কারচুপি করা যায়। সেখানেও সীমিত ক্ষেত্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয়।

গত ২২ নভেম্বর ঢাকার একটি হোটেলে ইভিএমে কিভাবে কারচুপি করা যায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তা প্রদর্শন করে দেখিয়েছে। ইভিএমের মূল ভোটিং প্রোগ্রাম পরিবর্তন করা যায় এবং এর মাধ্যমে ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করা সম্ভব। নির্দিষ্ট সময়ের পর যে প্রার্থীকেই ভোট দেয়া হোক না কেন তা নির্ধারিত মার্কায় যাবে। অর্থাৎ আপনি ‘ক’কে ভোট দিচ্ছেন, বেলা ১১টা পর্যন্ত তা ঠিক ঠিকভাবেই ‘ক’র ঘরেই পড়বে; কিন্তু ১১টার পরে যে মার্কায় ভোট দেন না কেন সবই ‘ক’র ঘরে যাবে না। কোনো ব্যালট ইউনিটি ‘ক’ মার্কা নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে বেশি ভোট পায় তবে পরবর্তী সব ভোট ‘খ’ মার্কায় যাবে। অর্থাৎ ‘ক’ মার্কার জন্য যদি বরাদ্দ থাকে ১শ’ ভোট তাহলে ১শ’র পরে ওই ঘরে আর কোনো ভোট পড়বে না। সব পড়বে ‘খ’ মার্কায়। আবার ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, ফলাফল ডিসপ্লেতে পূর্বনির্ধারিত ফলাফলই প্রদর্শন করবে। প্রিজাইডিং অফিসার কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘরে ইচ্ছা করলে নিজেই বহুসংখ্যক ভোট দিতে পারবেন। আবার গোপনীয়ভাবে ওয়্যারলেস ডিভাইজ সংযুক্ত করে ওয়্যারলেস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূর থেকেই ভোটের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এই যদি পরিস্থিতি, তাহলে ইভিএম মেশিনের পেছনে কেন লেগে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। কাকে সাহায্য করতে? কাকে ভোটে জিতিয়ে দিতে? এখন আর অস্পষ্ট নেই যে, নির্বাচন কমিশন সরকারের তাঁবেদারি করে যাচ্ছে, কোথায় কোনো শক্ত অবস্থান নিচ্ছে না। এ দিকে আবার ৬৪ জেলায় রিটার্নিং অফিসারের ওপরে ৪৫ জন সচিব ও সাবেক সচিবকে নিয়ে একটি মেনটর কমিটি গঠন করেছিল। তারা পদমর্যাদায় রিটার্নিং অফিসারের অনেক উপরে। তাদের নিয়োগ হয়েছিল যাতে তারা রিটার্নিং অফিসারদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে শেষ পর্যন্ত মেনটর কমিটি বাতিল করা হয়। সমালোচনা ইসি করেনি বা বাতিলও ইসি করেনি। উপরন্তু সরকার পুলিশ ও প্রশাসনকে যেভাবে সাজিয়েছে নির্বাচনে কারচুপি করার জন্য, তার কোনোরূপ পরিবর্তনই নির্বাচন কমিশন করেনি। তাতে মনে হয় কমিশন সরকারের সাজানো কাঠামোর ভেতরেই নির্বাচন করতে যাচ্ছে। এর কোনোটাই স্বচ্ছ পদ্ধতি নয়, আসলে মানুষের পিঠ এই সরকারের দুঃশাসন, অপশাসন, নির্যাতন ও দুর্নীতিতে দেয়ালে ঠেকে গেছে, এবার সম্ভবত তারা প্রতিরোধ ব্যূহ তৈরি করবে।

লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
rezwansiddiqui@yahoo.com

আরও পড়ুনঃ বিএনপিকে হুঁশিয়ার করলেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ

অহেতুক চাপ সৃষ্টির জন্য মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকতে বিএনপির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

শনিবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

বিএনপিকে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘বিএনপি আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ ধরনের মিথ্যা প্রপাগান্ডা করা থেকে তাদের সতর্ক থাকতে বলছি।’

তিনি দাবি করেন, ‘নির্বাচনকে বিতর্কিত করা এবং অহেতুক আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য, হেয় করতেই বিএনপি এসব করছে।’

বিএনপিকে সতর্ক করতে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমি আগামীকাল রোববার কমিশন বৈঠকে এ বিষয়টি তুলব, সেখানে সিদ্ধান্ত হবে।’

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করছেন দাবি করে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার কাছে বেশ কয়েকবার লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ, হেলালুদ্দীন আহমদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারদের ডেকে গত ১৬ নভেম্বর বৈঠক করেছেন। পরে ২০ নভেম্বর চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার, তার এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ডেকে কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব ঘটনা নির্বাচন আইনের লঙ্ঘন হয়েছে।

এসব ঘটনায় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকেও ‘অতি দলবাজ’ দাবি করে সিইসির কাছে তার শাস্তি ও প্রত্যাহার চেয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট।

আর শনিবার সকালে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসিচব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, ‘গত ২০ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চারতলার পেছনের কনফারেন্স রুমে এক গোপন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুউদ্দীন আহমদ।’

এরপর ইসি সচিবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে কমিশনের কাছে অভিযোগ দিয়েছে বিএনপি।

সন্ধ্যায় এসব বিষয়ে হেলালুদ্দীন আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট। আমরা সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম-সচিব (জনসংযোগ) এসএম আসাদুজ্জামান ছিলেন। আমরা চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হোটেল গিয়েছি। সেখান থেকে পরদিন সকালে প্রোগ্রামে গেছি।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে ইসি সচিব বলেন, ‘আপনারা জানেন, আপনারা এখানেই থাকেন। আমি এখানে (ইসি ভবন) আটটা নয়টা পর্যন্ত থাকি। বিএনপি সংবাদ সম্মেলনে আমাকে নিয়ে যা বলেছে, সম্পূর্ণ মিথ্যা। নির্বাচন কমিশন সচিব প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা। কমিশন একটি ইন্ডিপেনডেন্ট বডি। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বাইরে ইসি সচিবের আলাদা কোনো সত্তা নেই।’

সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর পোস্টারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি ব্যবহার করা যাবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা দলের সিদ্ধান্ত। আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের ছবি পোস্টারে ব্যবহার করা নিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।’

উৎসঃ পরিবর্তন

আরও পড়ুনঃ ‘অফিসার্স ক্লাবে ‘গোপন বৈঠক’৩৩ টি-তে নৌকার বিজয় নিশ্চিত, ৬০ টিতে লড়াই বাকি আসনে সম্ভাবনা নেই’

৭০ বছরে পদর্পণ করলো আওয়ামী লীগ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছন, ‘পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি সিট নৌকার কনফার্ম আছে এবং ৬০-৬৫ টিতে কনটেস্ট হবে, বাকি আর কোনো সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এটি উৎরানো যাবে না।’

শনিবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এমন তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের প্রতিনিয়ত গোপন বৈঠক চলছে। প্রশাসন এবং পুলিশের বির্তর্কিত ও দলবাজ কর্মকর্তারা জনসমর্থনহীন আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় বসানোর জন্য নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন।

রিজভী বলেন, গত ২০ নভেম্বর রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চার তলার পেছনের কনফারেন্স রুমে এক গোপন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, পানিসম্পদ সচিব (শেখ হাসিনার অফিসের প্রাক্তন ডিজি) কবির বিন আনোয়ার, বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব মহিবুল হক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও মহানগরী রিটার্নিং অফিসার) সদস্য সচিব আলী আজম, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ (বিচারক কাজী গোলাম রসুলের মেয়ে) কাজী নিশাত রসুল।

এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে র্যা ব, ডিএমপি ও কাউন্টার টেররিজমের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।

‘রাত সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এ মিটিংয়ে সারা দেশের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেট-আপ ও প্ল্যান রিভিউ করা হয়। ডিআইজি হাবিব জানান, পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি সিট নৌকার কনফার্ম আছে এবং ৬০-৬৫ টিতে কনটেস্ট হবে, বাকি আর কোনো সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এটি উৎরানো যাবে না।’

রিজভী বলেন, বিস্তারিত আলোচনা শেষে ওই বৈঠকে মূল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপি-ফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করা হবে, যতই চাপ দেয়া হোক প্রশাসনে হাত দেয়া যাবে না, ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থী গুম খুন করে এমন অবস্থা তৈরি করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

তিনি বলেন, সেই আলামত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বকর আবুকে তুলে নিয়ে হত্যা করে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, গোপন বৈঠকে আরও বলা হয়- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি শেষ পর্যন্ত ভোটে থেকে যায় তাহলে ভোটের দিন পর্যন্ত ধরপাকড় তাণ্ডব চালানো হবে নির্দয়ভাবে, যেন ভোট কেন্দ্রে কেউ হাজির হতে সাহস না করে। আর যদি ধানের শীষের অনুকূলে ভোটের হাওয়া ঠেকানো না যায়, তবে মিডিয়া ক্যু করে নৌকাকে জিতানো হবে, বিটিভির মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করে সব মিডিয়াতে তা রিলে করার ব্যবস্থা করা হবে। একবার ফল ঘোষণা করতে পারলে তারপরে নির্মমভাবে সব ঠান্ডা করা হবে।

রিজভী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির নামে আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষে আটজন আওয়ামী দলীয় কর্মকর্তা দিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করেছে পুলিশ সদর দফতর।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান ৪৫ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ৬৪ জেলার উপদেষ্টা (মেনটর) নিয়োগ করে একটি নজিরবিহীন সরকারি আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ নিয়ে বিএনপির লিখিত আপত্তির প্রেক্ষিতে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়।

‘কিন্তু গোপনে ঐসব কর্মকর্তারা জেলায় জেলায় মনিটরিংয়ের কাজ এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরে সারা দেশের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা প্রথম তালিকার ছয়জন সচিবকে নিয়ে একটি গুপ্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে।’

ক্ষমতাসীনরা আসন্ন ভোট নিয়ে ভয়ঙ্কর পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠকের অভিযোগ রিজভীর

আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক করার অভিযোগ এনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, ক্ষমতাসীনরা আসন্ন ভোট নিয়ে কী ভয়ংকর পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে। দলবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও কর্মকাণ্ড সুনির্দিষ্টভাবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। বিতর্কিতদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে সরাতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাদেরকে প্রত্যাহার করতে হবে।

শনিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত গোপন বৈঠক করছেন। প্রশাসন এবং পুলিশের বিতর্কিত ও দলবাজ কর্মকর্তারা জনসমর্থনহীন আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় বসাতে নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

তিনি বলেন, গত ২০ নভেম্বর রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চার তলার পিছনের কনফারেন্স রুমে এক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালউদ্দীন আহমদ, পানিসম্পদ সচিব (শেখ হাসিনার অফিসের প্রাক্তন ডিজি) কবির বিন আনোয়ার, বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব মহিবুল হক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও মহানগরী রিটার্নিং অফিসার) সদস্য সচিব আলী আজম, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ (বিচারক কাজী গোলাম রসুলের মেয়ে) কাজী নিশাত রসুল। এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব, ডিএমপি ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের কর্মকর্তারা।

তিনি আরও বলেন, রাত সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এ বৈঠকে সারাদেশের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেট-আপ ও প্ল্যান রিভিউ করা হয়। বৈঠকে ডিআইজি হাবিব জানান, পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি আসনে নৌকার জয় নিশ্চিত আছে, ৬০-৬৫ আসনে কনটেস্ট হবে, বাকি আসনে কোনো সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এটি উৎরানো যাবে না।

রিজভী বলেন, বিস্তারিত আলোচনা শেষে মূল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ইসি বিএনপি-ফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করবে। যতই চাপ দেয়া হোক প্রশাসনে হাত দেয়া যাবে না। ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থীদের গুম-খুন করে এমন অবস্থা তৈরি করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

তিনি বলেন, সেটির আলামত ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু বকর আবুকে তুলে নিয়ে হত্যা করে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে।

রিজভী বলেন, বৈঠকে আরও বলা হয়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থেকে যায় তাহলে ভোটের দিন পর্যন্ত নির্দয়ভাবে ধরপাকড়ের তাণ্ডব চালানো হবে, যেনো ভোট কেন্দ্রে কেউ হাজির হতে সাহস না করে। আর যদি ধানের শীষের অনুকূলে ভোটের হাওয়া ঠেকানো না যায়, তবে মিডিয়া ক্যু করে নৌকাকে জিতানো হবে। বিটিভির মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করে সব মিডিয়াতে তা সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে। একবার ফল ঘোষণা করতে পারলে তারপরে নির্মমভাবে সব ঠাণ্ডা করা হবে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, এরপর থেকে এ ধরণের সভা খুব বেশি করা যাবে না, তবে কনসালটেশন করে কাজ করা হবে। এছাড়াও উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির নামে আসন্ন সয়সদ নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষে আওয়ামী দলীয় ৮ কর্মকর্তাকে দিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করে পুলিশ সদর দফতর। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান ৪৫ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ৬৪ জেলার উপদেষ্টা (মেনটর) নিয়োগ করে একটি নজিরবিহীন সরকারি আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

রিজভী বলেন, এ নিয়ে বিএনপির লিখিত আপত্তির প্রেক্ষিতে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়। কিন্তু গোপনে ঐ কর্মকর্তারা জেলায় জেলায় মনিটরিংয়ের কাজ এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরে সারাদেশের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের লক্ষ্যে শেখ হাসিনা প্রথম তালিকার ৬ জন সচিবকে নিয়ে একটি গুপ্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে। মূলতঃ এখানে সব ধরনের কর্মকর্তা আসা-যাওয়া করেন, তাই বিরোধীদের চোখ এড়ানো সহজ হবে মনে করে ওই স্থানে গুরুত্বপূর্ণ এই সভাটি বসে।

উৎসঃ jagonews24

আরও পড়ুনঃ বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা-গ্রেফতারে কিছু করার নেই, সিদ্ধান্ত ইসি’র

তফসিলের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যে নালিশ দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে কিছু করার নেই বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

ইসি সূত্র জানায়, নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ বিএনপির। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত একটি মামলার তালিকাও দেওয়া হয় ইসিতে। কিন্তু মামলার তালিকা কমিশনে উঠানো হলে, কমিশন মামলার তালিকা দুটি ভাগে ভাগ করে। এর মধ্যে কিছু মামলায় দেখা যায়, তফসিলের আগে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের। এসব মামলার বিষয়ে কমিশনের কিছু করার নেই বলে সিদ্ধান্ত হয়। আর বাকি মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীর বাবা-মায়ের নাম-ঠিকানা নেই। এ কারণে এসব মামলার বিষয়ে ইসির কিছু করার নেই বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, বিএনপির মামলার বিষয়ে ইসির কিছু করার নেই বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তের ফাইলটি কমিশনারদের স্বাক্ষর শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের দফতরে রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত দুই-একদিনের মধ্যে চিঠি দিয়ে অথবা মৌখিকভাবে বিএনপিকে জানানো হবে।

এর আগে বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়ন প্রত্যাশী ৫ জন নিখোঁজসহ গ্রেফতার হওয়া ৫২৯ জন নেতাকর্মীর একটি তালিকা জমা দেয় বিএনপি।

বিএনপির অভিযোগ অনুযায়ী নিখোঁজ হওয়া মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপি নেতা ইব্রাহিম হোসেন, গাইবান্ধা-২ আসনে দলের গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক আনিসুজ্জামান খান বাবু, নেত্রকোনা সদর-২ আসনের ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ারুল হক রয়েল, ঢাকা মহানগর-১০ আসনের ঢাকা দক্ষিণ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি ও যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু বক্কর আবু। গেল বৃহস্পতিবার পল্টন থেকে নিখোঁজ যশোরের বিএনপি নেতা আবু বক্কর আবুর লাশ মিলেছে বুড়িগঙ্গায়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে অভিযোগ করে বলা হয়, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা ও গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের তালিকা এর আগে দুইবার দলের পক্ষ থেকে ইসিকে দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট মামলার তালিকা দেওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেপরোয়া। কয়েক দিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে দিনের পর দিন আটক রেখে আদালতে হাজির করা হচ্ছে। আবার কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে আটকের পর গুম করে রাখা হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশিও চলছে।

এর আগে ১৬ নভেম্বর সিইসির কাছের ৪৭২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের তালিকা জমা দেয় বিএনপি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত সে চিঠিতে বলা হয়, তফসিল-পরবর্তী সময়ে বিএনপির এ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর লাশ উদ্ধারে বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেবেন।

বিএনপি যে মামলার তালিকা দিয়েছিল, সেখান থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীর লাশ বুড়িগঙ্গাতে পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী, জানতে চাইলে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ‘পুলিশ ফৌজদারি মামলা করবে। আমরা তো কিছু করতে পারব না। কী ঘটনা ঘটেছে সেটা তো জানি না। ক্রিমিনাল কেস হবে, ইনভেস্টিগেশন করবে পুলিশ। দেখবে, কীভাবে তাকে মারা হয়েছে। এ ব্যাপারে তো আমার বলার কিছু নাই।’

নূরুল হুদা বলেন, ‘আইনগতভাবে তারা দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে নেবে। এটা নির্দেশ থাকবে পুলিশের ওপরে।’

সুত্রঃ ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here