প্রশ্নবিদ্ধ ইসি! নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয় বাড়ছেইঃ বিশিষ্টজনদের অভিমত

0
1333

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মাঠে গড়াতে আর ৩৫ দিন বাকি। ভোটযুদ্ধে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলগুলো কাটাচ্ছে দিন-রাত ব্যস্ত সময়। মনোনয়ন, নির্বাচনী প্রচারণা সবকিছু এখন তাদের ভাবনাজুড়ে। একই সঙ্গে দুই প্রধান জোট একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছে। গত সপ্তাহে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধারে বেশকিছু অভিযোগ দায়ের করে বিরোধী বৃহৎ জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। অন্যদিকে এসব অভিযোগের নামে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। দুই জোটের পাল্টাপাল্টি এ অবস্থানের কারণে স্বাভাবিকভাবে সবার দৃষ্টি রেফারির ভূমিকায় থাকা নির্বাচন কমিশনের দিকে।

বিশিষ্টজনরা বলছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে বিরোধী দলগুলো যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিগ্রহের শিকার হয় তাহলে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।

তারা এও বলছেন, এই নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল তা না থাকায় তাদের প্রতি সেই আস্থা জন্মেনি।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে বিগত বছরগুলোতে নির্বাচন কমিশন একাধিকবার ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ হলেও সেই কমিশনের হাত ধরেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপি, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব বিস্তারসহ নানা ‘দৃশ্যমান’ অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও ভোটগ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছিলেন, নির্বাচন ‘সুষ্ঠু’ হয়েছে। সে অনুযায়ী এই ইসিকে নিয়ে এবারও সংশয় জেগেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠা তফসিল ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেছে তারা। এর মধ্যে গ্রেপ্তার বন্ধে হস্তক্ষেপ নিতে দলগুলো একাধিকবার চিঠিও দিয়েছে।

তবে তাতে কোনো প্রতিকার পায়নি। নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে সম্প্রতি যে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সেটি হলো ভোটগ্রহণের সময় পর্যবেক্ষকদের ওপর নানা রকম বিধি-নিষেধ আরোপ করা। ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দেয়ার বিষয়টি ‘সঠিক নয়’ বলেই উল্লেখ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। অন্যদিকে প্রশাসনের রদবদল চেয়ে বৃহস্পতিবার ইসিকে চিঠি দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু সিইসির সঙ্গে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্তাদের মতবিনিময় শেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া তাদের বদলি করা হবে না- এমন নিশ্চয়তা দেয়া হয়। এর আগেও দুই দফা ঐক্যফ্রন্ট প্রশাসনের রদবদলের দাবি জানিয়েছিল। তখন ইসি বলেছিল, ঢালাওভাবে প্রস্তাব দিলে ইসি তা গ্রহণ করবে না।

কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সুনির্দিষ্টভাবে তা জানালে ইসি খতিয়ে দেখবে। এরপর গত বৃহস্পতিবার প্রশাসন ও পুলিশের ৯২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ করে ঐক্যফ্রন্ট। অন্যদিকে নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই সামনে আসছে ততই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। পাশাপাশি ইসির ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা করলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলেই মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান। একটি বেসরকারি টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন। যতই রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা করবে ততই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো। যদি বিরোধী দলগুলোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিগ্রহের শিকার হতে হয় তাহলে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। এজন্য নির্বাচন কমিশন কতটুকু তার অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেÑ সেটা নির্বাচন কমিশনের যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে।

দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক দুটো। প্রথমত রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। আর দ্বিতীয়ত হলো কোনো সংঘাত- অবরোধ নেই।

কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ যেটা সেটা হলো নির্বাচনে সমপক্ষতা নিশ্চিত হবে কিনা। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া মানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আরেকটা বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন। এটাও বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এগুলো মোকাবিলা করে নির্বাচন কমিশন সমপক্ষতা নিশ্চিত করতে পারবে কিনা। অবশ্য কমিশনের নিরপেক্ষতা, সাহসিকতা এবং দৃঢ়তা থাকা উচিত। পর্যবেক্ষকদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টিকে ‘অযৌক্তিক’ মনে করে সুজন সম্পাদক বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকার কথা বলার বিষয়টি অযৌক্তিক।

তবে পর্যবেক্ষকদের নির্বাচনকে যেন কোনোভাবে প্রভাবিত না করে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের দ্বারা নির্বাচনী কাজ যেন কিছুতেই ব্যাহত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবে তারা ছবি তুলতে পারবে নাÑ এটা ঠিক নয়। কারণ তাদের ইভিডেন্স (প্রমাণ) দরকার। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন মূল্যায়ন করবে বলে আশা করি। গত বৃহস্পতিবার রাতেও রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে যশোর বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার হয়েছে। নির্বাচনকালীন এমন ঘটনায় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শুধু এটা নয়, গ্রেপ্তারও চলছে।

এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কার্যকরী ভূমিকাই জরুরি। তারা কি ভূমিকা পালন করে সেটা দেখার বিষয়। ভোটের চূড়ান্ত লড়াইয়ে যেতে বাকি থাকা এই সময়ের মধ্যে কতটা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভবÑ এমন প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, এটা বোঝা যাবে আগামী কয়েকদিন পর। তবে এ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাতে তারা যে নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে সেই আস্থাটা জন্মাচ্ছে না। যেহেতু এখনো পাঁচ সপ্তাহ বাকি, দেখা যাক আগামী ২ থেকে ৩ সপ্তাহে তারা কী পদক্ষেপ নেয়। জনগণ নিঃসন্দেহে সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। এবং সাহায্য সহযোগিতাও করবে। এখন এটা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা আর নিরপেক্ষতার উপরে।

আমার ধারণা আগামী তিন সপ্তাহে ব্যাপারটা আরো স্পষ্ট হবে আসলে কোন্দিকে যাচ্ছে। পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের ভোটগ্রহণের দিন কার্যক্রমে বিধি-নিষেধ আরোপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো এক ধরনের উদ্ভট সিদ্ধান্ত। তবে আশা করি, যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে পর্যবেক্ষকদের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত পাল্টাবে। বিরোধী দলগুলোর মামলা ও গ্রেপ্তার, ইসির কাছে প্রশাসনের রদবদল এবং বৃহস্পতিবার বুড়িগঙ্গায় বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধারের ঘটনা প্রসঙ্গে শাহদীন মালিক বলেন, এসব ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তাদের (নির্বাচন কমিশন) প্রতি আস্থা এখনো সৃষ্টি হয়নি। আগামী তিন সপ্তাহে যদি তারা বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেন তাহলে আস্থা তৈরি হবে।

উৎসঃ mzamin

আরও পড়ুনঃ ঢালাও অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি না করতে ইসির কাছে পুলিশের দাবি!


অভিযোগ পেলেই যেন পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করা না হয়, নির্বাচন কমিশনকে সেই অনুরোধ জানিয়েছেন এই বাহিনীর কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তারা বলেছেন, নির্বাচনের দায়িত্বপালনকালে বিভিন্ন মহল তাদের বিরুদ্ধে ইসিতে অভিযোগ আসতে পারে। ওইসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যেন তাদের অহেতুক বদলি না করা হয়। বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তারা এ দাবি জানান। অবশ্য কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, কোনও অভিযোগ উঠলেই তারা বদলি বা প্রত্যাহার করবে না। যাচাই করে সত্যতা পেলেই কেবল ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এই তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বৈঠকে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা তাদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা বলেন, সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত না থাকলে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

বৈঠকে কমিশন থেকে বলা হয়, যেসব রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা রয়েছে, তাদের বিষয়ে কমিশনের কোনও বক্তব্য নেই। তবে বিনা কারণে কোনও ব্যক্তির নামে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া যাবে না। কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।

তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম এই বৈঠকে নির্বাচনের নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণ, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতিসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো উঠে আসে। এরআগে, রিটার্নি কর্মকর্তাদের ডেকে নির্বাচন বিষয়ে নানা পরামর্শ দিয়েছিল ইসি। প্রতীক বরাদ্দের পর সমন্বিত একটি আইনশৃঙ্খলা বৈঠক করবে কমিশন। ওই বৈঠকে রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভোটের ১৫দিন আগে নামা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনি এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ (রেকি) করবেন। তাদের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়জন সদস্য মাঠে নামবেন, তা নির্ধারণ করা হবে।

ওই সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর সদস্যরা ১৫ ডিসেম্বর মূল কার্যক্রম শুরু করলেও তারা ভোটের আগে ও পরে ১০ দিন মাঠে অবস্থান করবে। এর মধ্যে ভোটের আগে ৭ দিন, ভোটের দিন ও পরে দুই দিন থাকবেন। তাদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে না। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবেন।

জানা গেছে, বৈঠকে পুলিশের আইজি ইসিকে বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনারা যে দায়িত্ব দেবেন, তা নিরপেক্ষভাবে পুলিশ পালন করবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব বলেন, নির্বাচনে আমাদের সব বাহিনী তৎপর আছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র‌্যাবের টিমগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, ‘নির্বাচনে যেন কোনও অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকবো। তবে নির্বাচন ভণ্ডুল করার জন্য যেন কেউ সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাতে না পারে, সেজন্য পুলিশ কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করবে।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, বেশিরভাগ কর্মকর্তার বক্তব্যে বদলির বিষয়টি উঠে এসেছে। তারা বলেছেন, নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করলে একটি পক্ষ বারবারই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে। এসব অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ছাড়া যেন কাউকে বদলি করা না হয়। বৈঠকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার ওসিকে বদলির ঘটনায় কেউ কেউ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে, বৃস্পতিবার কমিশনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা যখন ঢালাও অভিযোগে বদলি না করার অনুরোধ করছিলেন, ঠিক একইসময় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে এসে ৩১ জেলার এসপিসহ পুলিশের ৭০ কর্মকর্তার বদলির দাবি করে চিঠি দেন। এর মধ্যে অতিরিক্ত আইজি মোখলেসুর রহমান ও র‌্যাবের ডিজি বেনজির আহমেদসহ পুলিশ সুপার বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা রয়েছেন।

বৈঠকে একজন পুলিশ সুপার বলেছেন, এই নির্বাচনে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি মাঠে নেমেছে। ৫ জানুয়ারির (দশম সংসদ) নির্বাচন যারা বানচাল করতে সহিংসতা করেছিল তাদের অনেকেই প্রার্থী হচ্ছেন। তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ইসির নির্দেশনা চেয়েছেন তিনি। আরেকজন পুলিশ সুপার বলেন, চলমান অভিযান বন্ধ করা হলে বিভিন্ন মহল মাঠে নামবে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

আরেক পুলিশ সুপার বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা রয়েছে, তাদের নির্বাচনের নামে ছাড় দেওয়া যাবে না। এ পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছে, ফৌজদারি মামলার আসামি গ্রেফতার করা হলে ইসির আপত্তি থাকবে না। এটা আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের অযথা হয়রানি করা যাবে না।

বৈঠকে আরেক পুলিশ সুপার বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে বৈধ অস্ত্র থানায় জমা দেওয়া লাগবে না। ভোটের দিন যেন এসব বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন না করে, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিইসির ১২ দফা নির্দেশনা:

বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তাদের ১২ দফা নির্দেশনা দেন সিইসি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—নির্বাচনি কর্মকর্তাদের তালিকা ধরে তাদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করতে হবে। এতে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের মধ্যে নাশকতাকারী সৃষ্টিকারী রয়েছে কিনা, সেটা দেখতে হবে। বিনা কারণে কোনও ব্যক্তির নামে হয়রানিমূলক মামলা করা বা গ্রেফতার করা যাবে না। প্রত্যেক এলাকার দলমত নির্বিশেষে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাস্তানদের তালিকা তৈরি করে নজরদারি করতে হবে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনী কোথায় কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে, তা নিয়ে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করতে হবে। হাওর-বাওর, চরাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকার ভোটকেন্দ্রের মালামাল পরিবহন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ চৌদ্দগ্রামে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে চলছে রেলমন্ত্রী ও পুলিশের চরম তান্ডব


আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে চলছে

রেলপথ মন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনের চরম তান্ডবতা। এই আসনে বিগত দশ বৎসর আওয়ামীলীগ নির্মম হত্যা, সন্ত্রাস, লুটপাট, চাঁদাবাজীর এক মহোউৎসবে পরিনত করেছে। তাদের জুলুম, নির্যাতন নিপীড়ন থেকে রেহাই পায়নি চেয়ারম্যান, মেম্বার, শিক্ষক, সাংবাদিক, কৃষক, শ্রমিক, আলেম-ওলামা ও মহিলা এমনকি ৮ বছরের শিশু থেকে আরম্ভ করে ৮০ বছরে বৃদ্ধ পর্যন্ত তাদের হিংস্রতা থেকে রেহাই পায়নি।

তাদের যুলম অত্যাচারে আলকরা, গুনবতী, জগন্নাথসহ কয়েকটি ইউনিয়নে ২০দলীয় জোটের প্রায় ৫০০ লোক বাড়ী-ঘর ছেড়ে পালিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাদের হাতে খুন হয়েছে শিবির নেতা শাহাব উদ্দিন, আব্দুল আজিজ, জামায়াত নেতা আলা উদ্দিন, রুহুল আমীন দুলাল, নিরীহ শ্রমিক ইব্রাহীম, বাচ্চু মেম্বার এবং পঙ্গু হয়েছে জহির, মুরাদ, নুরুল ইসলামসহ ৯ জন। বাড়ী-ঘর, দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে ১০৩ টি। তাদের দলীয় কোন্দলে হত্যা হয়েছে জামাল উদ্দিন বাক্কা, নূরুল আমীন সহ ৫ জন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ বছরের ক্ষমতার মোহে রেলপথ মন্ত্রীর নির্দেশে পুরো উপজেলা এক সন্ত্রাসী ও ভয়ঙ্কর জনপদে পরিনত হয়েছে। বিগত দশ বছরে যত লোক চৌদ্দগ্রামে চাকুরী পেয়েছে সকলকে কম বেশী চাঁদা দিতে হয়েছে। এই চাঁদা উত্তোলনের মূল দায়িত্ব রেলপথ মন্ত্রীর আস্থাবাজন যাকে বিনা ভোটে কাশীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বানিয়েছেন মোশারফ হোসেন ফোকা। তার চাঁদাবাজির কাছে দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ চরম অসহায়।

একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মোশারফকে রেলপথ মন্ত্রী নিজের স্বার্থে এবং সকল অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চেয়ারম্যান বানিয়েছে। তার কাছে পুরো চৌদ্দগ্রাম বিশেষ করে উত্তর চৌদ্দগ্রামের দলীয় নেতা কর্মী এবং সাধারণ মানুষ জিম্মি।

স্থানীয়ভাবে আরোও জানা যায়, নেতারা চৌদ্দগ্রাম আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে ব্যাপক পরিমানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষিত আছে যা আগামী নির্বাচনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও কেন্দ্র দখলে ব্যবহার হতে পারে। বিগত দশ বছরে তাদের হাতের অবৈধ অন্ত্র বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহার করতে দেখা যায়। এই সব সন্ত্রাসী ও ভংঙ্কর হিংস্র কার্যক্রমের নেতৃত্বে যাদের নাম বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে তারা হচ্ছে, জগন্নাথ ইউনিয়নের মোল্লা কাশেম বিপ্লব, আলকরার ইসমাইল হোসেন বাচ্চু, গুনবতীর সৈয়দুর রহমান খোকন, নুরুল ইসলাম, পৌরসভার মোতাহার হোসেন ঝুমন, ফরাস উদ্দিন রিপন, মুন্সিরহাটের ইমাম হোসেন, কামরুল হোসেন মোল্লা, মাহফুজ আলম, মিজানুর রহমান খোকা, ঘোলপাশার মাসুম বিল্লাহ, কাজী জাফর, কাশিনগরের মোশারফ হোসেন ফোকা, সোলায়মান, আবদুর রশিদ মেম্বার, এমরান হোসেন, আতিক।

রেলপথ মন্ত্রী তার এই চিহ্নিত ক্যাডার বাহিনীকে দিয়ে আগামী নির্বাচনের তরী পার করতে চায়। এই চিহ্নিত ক্যাডার বাহিনীর সাথে যোগ হয়েছে চৌদ্দগ্রামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান, ওসি তদন্ত ত্রিনাথ সাহা এবং এস আই লম্বা মনির। এই পুলিশ টিম বিগত সরকারের পুরো সময়েই ঘুরে ফিরে চৌদ্দগ্রামে দায়িত্ব পালন করছে। সর্বশেষ ওসি মাহফুজুর রহমান ও ত্রিনাথ বাবুকে মন্ত্রী মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে আবারও চৌদ্দগ্রাম থানায় নিয়ে এসেছে। এটাকে আগামী নির্বাচনে অবৈধভাবে জয়লাভ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে সবাই দেখছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে থানার ওসি মাহফুজ, ত্রিনাথ সাো এবং মনির আসার পর থেকে প্রতিদিনই তারা বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে এবং গ্রেফতার বাণিজ্য করছে। তাদের এই নির্যাতন ও হয়রানির কারনে ২০ দলীয় জোট এবং ঐক্য ফ্রন্টের নেতা কর্মীরা বাড়ী ঘরে থাকতে পারছে না।

এদিকে রেলপথ মন্ত্রী সরকারী প্রটোকল ব্যবহার করে বিভিন্ন ইউনিয়নে সভা সমাবেশ মাধ্যমে ২০ দলীয় জোটকে চৌদ্দগ্রামে ঢুকতে দেয়া হবে না মর্মে ঘোষণা দিচ্ছে। বিরোধী নেতা কর্মীকে পাড়ায় পাড়ায় ঘেরাও করার নির্দেশ এবং হামলা করার উসকানি দিচ্ছে । মন্ত্রীর এই জাতীয় বক্তব্যে চৌদ্দগ্রামে আগামী নির্বাচনের পরিবেশ চরম ও ভয়াবহতার দিকে যেতে পারে বলে সাধারণ মানুষ এবং ভোটাররা মনে করছে।

চৌদ্দগ্রামের এই বিভীষিকাময় পরিবেশ ও তান্ডব থেকে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সকল সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সকলের সহাবস্থান নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী হওয়ার প্রয়োজন বলে ভোটাররা মনে করেন। অন্যথায় যে কোন সময়ে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‘মখা আলমগীরের ক্রোধ মেটাতেই মিলনকে গ্রেফতার’


সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ক্রোধ মেটানোর জন্যই সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন।

নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য মিলনকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

রিজভী বলেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক মিলনকে গতরাতে গোয়ানীবাগান চট্টেশ্বরী রোড, চকবাজার চট্টগ্রামে এক বন্ধুর বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। তাকে এখন চাঁদপুর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা গত পরশু দিনই আপনাদের কাছে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছিলাম- এহসানুল হক মিলনকে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে। এ জন্য এহসানুল হক মিলন আত্মগোপনে ছিলেন। গতকাল তাকে ডিবি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছে শুধু নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য।

‘তাকে গ্রেফতারের ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।’

রিজভী আরও বলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মিথ্যা মামলায় গতকাল জামিন নিতে গেল তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং কারাবন্দি করা হয়েছে।

‘নির্বাচনের প্রাক্কালে জামিনযোগ্য মামলায় জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে প্রেরণ বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরানোরই সরকারের একটি অপকৌশল। অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের রূপনগর থানা বিএনপি নেতা মো. আবুল কাশেম, মোহাম্মদপুর থানা বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান ও মো. মাসুমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর থানাধীন বাসুদেব ইউনিয়ন যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সুমনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান রিজভী।

উৎসঃ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here