এবার ভারতের মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন ভাড়া করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে!

0
553

এবার ভারত থেকে পুরাতন ইঞ্জিন ভাড়া করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ জন্য দেনদরবার করতে একটি প্রতিনিধিদল গত সপ্তাহে ভারতে গেছে। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন ট্রেন চালু করতে ইঞ্জিন সংকট থাকায় ভারত থেকে ২০টি ইঞ্জিন ভাড়া আনার প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষের সাথে প্রাথমিকভাবে কয়েক দফা আলোচনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথম বছর বিনা ভাড়ায় ও দ্বিতীয় বছর ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারতও ইঞ্জিন দিতে সম্মত আছে। কারণ ভারতে বিভিন্ন রুটে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন চালু করায় বেশকিছু ইঞ্জিন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

এছাড়া দেশটির সব রেলপথ ব্রডগেজে রূপান্তর করায় মিটারগেজ ইঞ্জিনও অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে। এসব ইঞ্জিন ভাড়া আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। জানা গেছে, ইঞ্জিনপ্রতি প্রতিদিন ৩০ হাজা টাকা ভাড়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, নতুন ইঞ্জিনের পরিবর্তে ভারতের পুরাতন ইঞ্জিন ভাড়া নেয়াকে খুব একটা ভালো চোখে দেখছেন না রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা। রেলের একজন প্রকৌশলী বলেন, ভারতের পুরাতন ইঞ্জিনের উপর নির্ভর করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হবে। যেগুলো ইঞ্জিন আনা হচ্ছে বলে জেনেছি সেগুলো বহুদিন ধরে পড়ে আছে। সেগুলো চালু করলেও কদিন চলার পর এগুলো নানা সমস্যার সৃষ্টি করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তখন এগুলো ‘বিষফোঁড়া’ হয়ে দেখা দিবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রেলওয়ের সচল ইঞ্জিন রয়েছে ২৭৩টি। এসব ইঞ্জিন দিয়ে সারা দেশে ৩৪১টি যাত্রীবাহী এবং বেশ কয়েকটি পণ্যবাহী ও তেলবাহী ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব ইঞ্জিনের মধ্যে আয়ুষ্কাল পেরিয়ে যাওয়া তথা ২০ বছরের বেশি বয়সী রয়েছে ১৯৫টি। এগুলোর বয়স ২১ থেকে ৬৫ বছর। মাত্র ৭৮টির আয়ুষ্কাল ২০ বছরের কম।

পুরোনো এসব ইঞ্জিনের মধ্যে ১৩৬টির সময়মতো মেরামত (ওভারহোলিং) করা হয়নি। অথচ প্রতিটি ইঞ্জিন তিন ও ছয় বছর পর পর হালকা ও মাঝারি মানের ওভারহোলিং করা জরুরি। আর ১২ বছর পর করতে হয় ভারি ওভারহোলিং। সময়মতো ওভারহোলিং না করায় ইঞ্জিন বিকলসহ এগুলোর পরিবহন সক্ষমতা কমে গেছে। এতে সেবা প্রদান বিঘি্নত হচ্ছে রেলওয়ের। বেশ কয়েক বছর রেলের বহরে যুক্ত হয়নি নতুন কোনো ইঞ্জিন। যদিও এর মধ্যে নতুন কোচ যুক্ত হয়েছে ২৭০টি।

আরও নতুন ৭৫০টি কোচ কেনার প্রক্রিয়া চলমান আছে। এগুলো দ্রুতই যুক্ত হবে রেলের বহরে। এ অবস্থায় চরম ইঞ্জিন সংকটে পড়েছে রেলওয়ে। পুরাতন ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন চালাতে গিয়ে প্রায়ই বিকল হয়ে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। গত ঈদুল ফিতরের আগে ইঞ্জিন বিকল হয়ে সিউিউল বিপর্যয়ে পড়ে নীলসাগর এক্সপ্রেস। গত মঙ্গলবার সিলেট রুটে কালনী এক্সপ্রেসের তিনটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে সাড়ে ৫ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করে ট্রেনটি। এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ১২০টি ইঞ্জিন কেনার জন্য চুক্তি করেছে রেলওয়ে। তবে এসব ইঞ্জিন রেলের বহরে যুক্ত হতে কমপক্ষে দুবছর লাগবে। তাই অন্তর্বতীকালীন সময়ে সংকট মেটাতে ভারতের পরিত্যক্ত ও পুরোনো ইঞ্জিন ভাড়া আনার উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। এ জন্য একটি প্রতিনিধিদল গত সপ্তাহে ভারতে গেছে।

রেলওয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে রেলওয়ের মিটারগেজ ইঞ্জিন রয়েছে ১৭৯টি। এর মধ্যে ৪০টির আয়ুষ্কাল ২০ বছরের কম। ৪৫টির আয়ুষ্কাল ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ইঞ্জিন রয়েছে ৩১টি আর ৪১ বছরের বেশি বয়সের ইঞ্জিন ৬৪টি। আর সারা দেশে চলাচলরত ব্রডগেজ ইঞ্জিন রয়েছে ৯৪টি। এর মধ্যে ৩৯টির আয়ুষ্কাল ২০ বছরের কম। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ইঞ্জিন রয়েছে ২৪টি আর ৪১ বছরের বেশি বয়সের ইঞ্জিন ৩১টি।

এদিকে ১৭৯টি মিটারগেজ ইঞ্জিনের মধ্যে ১৪টির হালকা ও ১০টির মাঝারি ওভারহোলিং দরকার। আর ৬১টির ভারী ওভারহোলিং দরকার। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জনবল ও অর্থ সংকট এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে এ ৮৫টি মিটারগেজ ইঞ্জিন ওভারহোলিং করা যাচ্ছে না। আর ৯৭টি ব্রডগেজ ইঞ্জিনের মধ্যে তিনটির হালকা, সাতটির মাঝারি ও ৪১টির ভারি ওভারহোলিং দরকার। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও এগুলো ওভারহোলিং করা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, রেলের বহরে যুক্ত হওয়া নতুন কোচ দিয়ে স¤প্রতি ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে চালু করা হয়েছে বিরতিহীন নতুন দুটি ট্রেন। ঈদুল আযহার আগেই ঢাকা-রংপুর রুটে আরও একটি নতুন ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। জাতীয় সংসদে তিনি বলেছেন, কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা- বেনাপোল রুটে দুটি নতুন ট্রেন চালু করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-সিলেট, সিলেট-চট্টগ্রাম, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে আরও তিনটি নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের। এছাড়া নতুন কোচ রেলবহরে যুক্ত হলে ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রাম, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের পুরোনো ও জরাজীর্ণ কোচ পাল্টে আধুনিকায়ন করা হবে।

এর বাইরে চলতি বছরে জামালপুরবাসীর জন্য আরও চারটি নতুন ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ট্রেনগুলো বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশন, তারাকান্দি, সরিষাবাড়ি, জামালপুর ও ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকা আসবে। আবার ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুর, সরিষাবাড়ি, তারাকান্দি হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনে যাবে। এছাড়া ঢাকার আশেপাশের জেলার সঙ্গে স্বল্প দূরত্বের বেশ কয়েকটি নতুন ট্রেন চালু করা হবে। রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) শামছুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, কয়েক মাসের মধ্যে অন্তত ১৫টি নতুন ট্রেন চালুর নির্দেশনা রয়েছে রেলমন্ত্রীর।

তাই সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে ২০টি ইঞ্জিন ভাড়ায় আনা হচ্ছে। এসব ইঞ্জিন দ্বারা নতুন ট্রেন চালানো হবে। তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব ইঞ্জিন পাওয়া যাবে। ইঞ্জিনপ্রতি প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা ভাড়া হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেছেন, পৃথিবীর অনেক দেশে ইঞ্জিন ভাড়া দেয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। দু’দেশের সরকার পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইঞ্জিনগুলো বিনা ভাড়ায় পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে নতুন কেনা ইঞ্জিন দেশে চলে এলে ভারতীয় ইঞ্জিনগুলো ফেরত দেওয়া হবে।

উৎসঃ ‌‌‌sangbad247

আরও পড়ুনঃ ‌আল জাজিরার চোখে বাংলাদেশের গুম রাজনীতি!(ভিডিও সহ)


রহস্যজনক কারণে বাংলাদেশে প্রায় কয়েক শত মানুষ নিখোঁজ। এখনও প্রিয়জন তাদের খবর পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন। কিন্তু তারা কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না প্রিয়জনের। ফলে তাদেরকে বেদনা সঙ্গে নিয়েই বেঁচে থাকতে হচ্ছে। তাদেরই একজন ফারজানা আক্তার। তিনি বলেন, আমার ছেলের বয়স এখন প্রায় ৬ বছর। কিন্তু সে এখনও তার পিতার মুখ দেখতে পায় নি।

বাংলাদেশে কেন এত মানুষ গুম হয়?

আল জাজিরায় এক ভিডিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জোরপূর্বক গুমের জন্য বেশির ভাগ পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন এজেন্সিকে দায়ী করেন। কিন্তু সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। তবু নিখোঁজ প্রিয়জন কোথায় আছেন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার উত্তর পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আহ্বান জানিয়েছে আসছে ‘মায়ের ডাক’। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মা, বাবা, ভাইবোন ও শিশুদের প্রতিনিধিত্ব করে মায়ের ডাক। তারা প্রিয়জনের সন্ধান চাইলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাদের আর্তনাদ ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়। মাসের পর মাস যায়। বছরের পর বছর।

আল জাজিরার ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখুন:

ভিডিওঃ  ‘আল জাজিরার চোখে বাংলাদেশের গুম রাজনীতি!(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

গত কয়েক বছরে যেসব মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন তার বেশির ভাগই বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সদস্য। আরও আছেন ওইসব অধিকার বিষয়ক কর্মী, যারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন। এপ্রিলে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, ২০০৯ সালের শুরু থেকে ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৫০৭টি জোরপূর্বক গুম প্রামাণ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে নাগরিক সমাজ বিষয়ক গ্রুপগুলো। এসব মানুষের মধ্যে ২৮৬ জন জীবিত ফিরেছেন ঘরে। ৬২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে মৃত অবস্থায়। বাকি ১৫৯ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ। বেশির ভাগ গুমের জন্য সন্দেহ করা হয় পুলিশ, ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ ও র‌্যাবকে।

জোরপূর্বক গুম বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন গ্রুপ আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু সরকারের প্রথম সারির মন্ত্রীরা পর্যন্ত সেই আহ্বান উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা গুমের রিপোর্টকে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা বলে অভিহিত করছেন। এক্ষেত্রে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা যা করতে পারছেন তা হলো তারা একত্রিত হচ্ছেন এবং সরকারের কাছে উত্তর চাইছেন। এর প্রেক্ষিতে ওই সব পরিবারের ওপর কি প্রভাব পড়ছে এবং দৃশ্যত বিরোধী দলকে টার্গেট করায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রে কি অর্থ এ বিষয়ে আল জাজিরা তাদের দ্য স্ট্রিম অনুষ্ঠানে বক্তব্য নেয় মায়ের ডাক-এর পরিচালক সানজিদা ইসলাম, সাংবাদিক তাসনিম খলিল, ইন্টারন্যাশনা ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটসের সেক্রেটারি জেনারেল ডেবি স্টোবহার্ডের। এতে তারা বাংলাদেশে গুম বিষয়ে মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌শেখ হাসিনার ইঙ্গিতে ফাইল সরাতে ছুটির দিনে অফিসে সামীম আফজাল!


দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে খ্যাত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালকে বিচারের আওতায় না এনে নিরাপদে এবং সম্মানের সহিত ইফা থেকে বিদায় নেয়ার ব্যবস্থা করছে সরকার। সেই আলোকেই ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও শুক্রবার তাকে আগারগাঁওস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে ঢোকার সুযোগ দিয়েছে সরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামীম আফজালের জন্য এখন বড় সমস্যা হচ্ছে সেই ৫০টি ফাইল। গত শনিবার ছুটির দিনে যেগুলো সরানোর জন্য তিনি অফিসে গিয়েছিলেন। কর্মকর্তাদের বাধায় তিনি সেদিন ফাইলগুলো সরাতে পারেননি।

জানা গেছে, ধর্মমন্ত্রী এবং ইফা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগের কথা বলা হলেও তিনি পদত্যাগ করছেন না। এর মূল কারণ হলো ৫০টি ফাইল। বিগত ১০ বছরে তিনি যেসব অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন সবগুলোর ডকুমেন্টই এই ৫০টি ফাইলে রয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সামীম আফজাল শেখ হাসিনাকে বলেছেন, পদত্যাগ করতে হলে আমাকে অফিসে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এখানে আমার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আছে। সেগুলো ঠিক করতে হবে। এরপরই তিন দিনের ছুটি শেষে শুক্রবার তাকে অফিসে ঢুকার সুযোগ দিয়েছে সরকার।

ফাউন্ডেশনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের সময়ও তিনি অফিসে ছিলেন। অফিসে গিয়ে তিনি অনেক ফাইলপত্র বের করে কাগজপত্র দেখেছেন। যেহেতু সরকার তাকে এসব দেখার অনুমতি দিয়েছে তাই ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা তাকে বাধা দেননি। তিনি আসার সময় গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজ নিয়ে এসেছেন বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

আর ধর্মপ্রতিমন্ত্রী এবিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেছেন, সরকার একটি সুন্দর সমাধান চায়। এজন্য তিন দিনের ছুটি শেষে ডিজি সাব শুক্রবার অফিসে গিয়েছেন।

আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ইফার গভর্নরদের জরুরি মিটিং আছে। সেখানে সামীম আফজালের বিষয়ে বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌মান সম্মান নিয়ে বিদায় হতে চাইলে নির্বাচন দিন: শামসুজ্জামান দুদু


আওয়ামী লীগ সরকার মান সম্মান নিয়ে বিদায় হতে চাইলে নির্বাচন দিন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী চালক দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, মান সম্মান নিয়ে বিদায় হতে চাইলে অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করুন। একটি তত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে একটি নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অতীতের কথা স্মরণ করে এই সরকার বাতিল করে অনতিবিল¤ে দেশে আরেকটি নির্বাচন দিন। তা না হলে একবার যদি দেশের জনগণ রাস্তায় নেমে আসে তাহলে এই সরকার, সরকারের দল কেউ রেহাই পাবে না। শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্রের কথা বললেই যেন অপরাধ হয়।

গণতন্ত্রের কথা বললেই মামলা হয়। কারাগারে যেতে হয়। দেশে ভোটের অধিকার নেই। ভোটের অধিকারের কথা বললেই ১ থেকে ১০০ টি মামলা হয়। বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে প্রায় লক্ষাধিক মামলা হয়েছে। বিএনপির এই নেতা বলেন, একটি অদ্ভুত ব্যাপার। যে দেশে স্বাধীনতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছে। দুই লক্ষ মা বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়েছে। সেই গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতা এখন নেই। এখানে একটি কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী, অবৈধ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ছাত্রদলের এই সাবেক সভাপতি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর আন্দোলন করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই দেশে তত্বাবধায়ক সরকারের আইন সংসদে পাস করেছিলেন। তিনি একমাত্র নেত্রী, যিনি মানুষের অধিকারের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আইন পাশ করেছেন। সেই নেত্রীকে একেবারে মিথ্যা মামলায় প্রায় ১৭ মাস ধরে কারাগারে আটকিয়ে রেখেছে। এই মানববন্ধন থেকে তাকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, গত ছয় মাস আগে এই দেশে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। ৩০ তারিখের নির্বাচন ২৯ তারিখ রাতে করা হয়েছে। এই নির্বাচন আমেরিকা মানেনি, ব্রিটেন মানেনি, জাতিসংঘ মানেনি। এই দেশের যে পরাশক্তি দলগুলো আছে তারা মানেনি। অথচ এই অবৈধ সরকার ২৯ তারিখের অবৈধ নির্বাচনের কথা বলে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। আমি সরকারকে বলবো অনতিবিলম্বে দেশে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে নতুন করে নির্বাচন দিন।

সংগঠনের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবিরের সভাপতিত্বে ও দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি ও কৃষক দলের সদস্য কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেনÑ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কৃষক দলের সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, আজম খান, জাতীয়তাবাদী চালক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মানিক তালুকদার, সহ-সভাপতি শাফিন আহমেদ লিখন, মুক্তার আকন্দ প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন দ্রুত শুনানির সম্ভাবনা


জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের নথি হাইকোর্টে আসায় এখন দ্রুত এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি হবে। আগামীকাল রোববার এ মামলায় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলার নথি আসার বিষয়টি অবহিত করে জামিন আবেদন উপস্থাপন করা হবে বলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। রোববার খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে মেনশন করা হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব জামিন আবেদনের শুনানির উদ্যোগ নেয়া হবে।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দুটি মামলায় জামিন প্রয়োজন। একটি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং অপরটি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি করার পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায়ও খালেদা জিয়ার আপিল যত দ্রুত সম্ভব শুনানির উদ্যোগ নেয়া হবে।

গত ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনটি নথিভুক্ত করে দুই মাসের মধ্যে মামলার নথি তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। এরপর বৃহস্পতিবার ২০ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালত থেকে এ নথি পাঠানো হয়। রোববার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব জামিন আবেদন শুনানির জন্য আদালতে প্রার্থনা করা হবে বলে আইনজীবীরা জানান। এর আগে গত বুধবার এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানির ব্যাপারে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে যান তার আইনজীবীরা। নথি এলে জামিন আবেদনের শুনানি হবে বলে আদালত আইনজীবীদের জানিয়ে ছিলেন।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রোববার আমরা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার জামিন আবেদন আদালতে মেনশন করব এবং যত দ্রুত সম্ভব শুনানির উদ্যোগ নেবো। আশা করি এ মামলায় বেগম খালেদা জিয়া জামিন পাবেন। তিনি আরো বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। চেষ্টা করা হবে যত দ্রুত সম্ভব এ মামলার আপিল ও জামিন আবেদনের শুনানি হয়।

খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রেকর্ড আসায় আমরা রোববার আদালতে আবেদন নিয়ে যাব। তিনি বলেন, আমরা জামিন আবেদন সাবমিশন করব। আমরা আশা করি, দ্রুত এই মামলার জামিন আবেদনের শুনানি হবে।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, রোববার আমরা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রেকর্ড আসার বিষয়টি আদালতের নজরে আনবো এবং জামিন আবেদন উপস্থাপন করব। আমরা আশা করি বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, বয়স, সামাজিক মর্যাদা সদয়ভাবে বিবেচনা করে আদালত দ্রুত জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করবেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরো বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন আবেদন শুনানি করার পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বেগম খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।

এর আগে গত ১৮ জুন মানহানির দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান বেগম খালেদা জিয়া। ওই দিন আদালতের আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এই দুটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আর দুটি মামলায় তিনি জামিন পেলে মুক্তি পাবেন। একটা হলো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, আরেকটা হলো জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা। তিনি বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়ও জামিন আবেদন করা হয়েছে। ওই মামলায় নথি আসতে আর ১২দিন বাকি আছে।

মওদুদ আহমদ বলেন, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে। দুটি মামলা ছাড়া এখন সব মামলায়ই তিনি জামিনে রয়েছেন। সর্বশেষ মানহানির ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি আপিল বিভাগে রয়েছে। এই মামলায় তিনি জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু আদালত তার সাজা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছে। জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হলে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন চাওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারের তরফ থেকে কোনো জটিলতা তৈরি করা না হলে আগামী দুই-আড়াই মাসের মধ্যেই আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পাবেন বেগম খালেদা জিয়া।

গত ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা বাতিল ও খালাস চেয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড স্থগিত এবং সম্পত্তি জব্দের আদেশের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন আদালত। তবে মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট। জামিনের আবেদনটি নথিভুক্ত করে দুই মাসের মধ্যে মামলার নথি তলব করা হয়। নথি পাওয়ার পর জামিন আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করবেন বলে জানিয়ে ছিলেন আদালত। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ওই দিন শুনানিতে খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আদালত বলেছিলেন, সাত বছরের সাজার মামলায় আমরা জামিন দেই না, তা না। যেহেতু অন্য একটি মামলায় উচ্চতর আদালত সাজা বাড়িয়ে দিয়েছে। ওই মামলায় জামিন না হলে তিনি মুক্তি পাবেন না। ফলে বিষয়টি জরুরি দেখছি না। মামলার নথি আসুক, তখন জামিনের আবেদনটি দেখা হবে। এ মামলায় রেকর্ড না দেখে বেইল (জামিন) দিচ্ছি না।

গত ১৮ নভেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল আবেদন করেন বেগম খালেদা জিয়া। গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় করাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো: আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। একই সাথে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, তার একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকেও একই দণ্ড দেন আদালত।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌অনৈতিক কাজে বাঁধা দেয়ায় মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তুরিন আফরোজ (ভিডিও)


রাত-বিরাত ঘরে অপরিচিত লোকদের প্রবেশসহ নানা অনৈতিক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে কাজে বাধা দেয়ায় নিজ বাড়ি থেকে মাকে বের করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সুপ্রিম কোর্টে আইন, বিচার, মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তুরিন আফরোজের মা সামসুন নাহার তসলিম। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তুরিনের ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির।

এসময় সামসুন নাহার তসলিম নিগৃহীত হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সামসুন নাহার তসলিম বলেন, ‘আজ দুই বছর তিন মাস উনিশ দিন আমি আমার বাসার বাইরে। আমার স্বামী মারা যাওয়ার আঠারো দিন পরে তুরিন আমাকে বাসা থেকে বের করে দেয়। আমার দোষ তার (তুরিন আফরোজ) কিছু অনৈতিক আচরণের প্রতিবাদ করা। যেমন, আমাদের ভাড়াটিয়াদের থেকে সবসময় ভাড়ার টাকা আমিই নিতাম। আমার স্বামী অবসরে যাওয়ার পর থেকেই বাড়িভাড়ার টাকায় আমাদের সংসার, ওষুধ খরচ চলত। এরপর ওর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সে (তুরিন আফরোজ) বাসা ভাড়ার টাকা জোর করে নিয়ে নেয়।’

ভিডিওঃ  ‘অনৈতিক কাজে বাঁধা দেয়ায় মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তুরিন আফরোজ (ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তিনি বলেন, ‘অপরিচিত লোকদের রাত-বিরাত ঘরে প্রবেশ নিয়ে দারোয়ান ও ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করলে, তার সঙ্গে প্রায় লাগতো (ঝগড়া)। এসব বিষয়ে নিষেধ করলে র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামে ভয় দেখাত এবং বলত, ওরা সবাই তার বন্ধু। কোনো কিছু বললেই ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করার ভয় দেখাত। আমি তো ধারা বুঝি না। আরও বলত, পৃথিবীর যেখানেই থাকো সেখান থেকেই ধরে নিয়ে আসব। আর তার গানম্যান দিয়ে ভয় দেখাত। গ্রামের বাড়ি নীলফামারি যেতে পারি না, সে সেখানে দায়িত্ব নিয়ে জমিজমা ও বাড়ি নিজের নামে কুক্ষিগত করেছে।’

সামসুন নাহার তসলিম আরও বলেন, ‘এসব জানাতে আমি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে ব্যর্থ হই। ভেবেছিলাম, তিনি একজন মা। আমরা জানি, উনি অন্যায়-অবিচারকে প্রশ্রয় দেবেন না। আমি চাই, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ। আমি আজ মিডিয়ার মাধ্যমে উনার সহযোগিতা কামনা করছি। আমার শরীর ভীষণ খারাপ। ৬৫ শতাংশ কিডনি অকেজো… (কাঁদতে থাকেন)। সঙ্গে আবার ডায়াবেটিকস আছে। ওষুধ কেনার পয়সা বাড়িভাড়া থেকে পেতাম, সেটাও সে কেড়ে নিয়েছে। দেশে থাকার জায়গা নেই এখানে.. সেখানে থেকে বেড়াই। আমি আমার দেশ ছেড়ে এ বয়সে কেন বিদেশে পড়ে থাকব? এ দেশ আমার জন্মস্থান ও আমার ৪৮ বছরের সংসার। আমি তো এখানেই থাকতে চাই। আমি আমার সংসারে ফিরে যেতে চাই। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে তুরিন আফরোজের ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির বলেন, ‘ক্ষমতার দাপটে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আমাকে এবং আমার বিধবা মাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানি করে আসছে। তার কারণ একটি। আর তা হলো, দেশে আমাদের সম্পদ তার কুক্ষিগত করা। চক্ষু লজ্জায় এতদিন বিষয়টি আড়াল করে রেখেছি। আমি ও আমার অভাগিনি মা ক্ষমতাসীন কাউকে অবমাননা করতে চাইনি।’

শাহনেওয়াজ শিশির আরও বলেন, ‘একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আমার বাসা থেকে আমাদের বের করে দেওয়ার পরও রাজউক কর্তৃক কর ও ভূমি কর আমি নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছি। অথচ আমার অনুপস্থিতিতে নিজ স্বার্থে কাজে লাগিয়ে তুরিন আফরোজ ক্ষমতার দাপট ও প্রশাসনকে সংবিধান বহির্ভুত কাজে বাধ্য করে আমাকে আর আমার মাকে ক্ষতি করছে। ব্যারিস্টার তুরিন শুধু ঢাকাতেই নয়, নীলফামারি আমাদের চাচাতো ভাই ও বোনদের জমিজমা জিম্মি করে রেখেছে।’ এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বাড়ি ফিরে পাওয়ার দাবি জানান তিনি।

নিজ বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে গত ১৩ জুন রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, শিশিরের নিজস্ব ভবনে বসবাস করেন তুরিন আফরোজ। তিনি কানাডা প্রবাসী। কয়েকবছর আগে তাদের মাকে তুরিন সে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে মাকে নিয়ে কানাডা চলে যান শিশির। ১৩ জুন রাতে তিনি কানাডা থেকে ফিরে নিজের বাসায় গেলে সেখানে বোন তুরিন আফরোজ তাকে ঢুকতে দেননি।

এর আগে উত্তরায় ভাইয়ের নামে মায়ের দেওয়া ওই বহুতল বাড়িটি গত বছর জোর করে দখলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে। ওই বছর নিজের মেয়ের বিরুদ্ধে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তুরিন ও শিশিরের মা শামসুন নাহার। দখল হওয়া বাড়ি উদ্ধারের জন্য ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলা করেন তুরিনের ছোট ভাই শাহনওয়াজ আহমেদ শিশির।

উৎসঃ ‌‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বালিশকাণ্ডের পর এবার রেলকাণ্ড! সরকারি সম্পদের হরিলুট চলছে রেল সেক্টরেও


পাবনার রূপপুরে অবস্থিত পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্রের গ্রীন সিটির বালিশ কেলেংকারির পর এবার সামনে এসেছে রেলের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বাসা মেরামত কেলেংকারির তথ্য। রূপপুরের বালিশ কেলেংকারিতে সারাদেশে ক্ষোভের রেশ এখনো কাটেনি। দেশের সর্বোচ্চ আদালতও এনিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই বালিশ কাণ্ডে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে সরকারও। যদিও ইজ্জত রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুরের সেই প্রকৌশলীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করেছেন।

সরকারি সম্পদের হরিলুট চলছে রেল সেক্টরেও। বিশেষ করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে সবাই নিজের মতো করেই ভোগ করছেন সরকারি সম্পত্তি। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে বাসা, বাংলো, সড়ক, অফিস ভবন মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে।

ইদানিং চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বাসা মেরামতের জন্য সরকারি বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠার পরই আস্তে আস্তে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে।

জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলীয় জিএমের দপ্তরের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বাসা মেরামতের জন্য ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন প্রধান প্রকৌশলী। বিপুল অঙ্কের এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার জেরে রেল অঙ্গনে শুরু হয় তোলপাড়। শেষ পর্যন্ত অভিযোগ যায় মন্ত্রণালয় ও রেল ভবনে। এ ঘটনার সঙ্গে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল জলিল সরাসরি জড়িত।

অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ২৬ মে গঠিত দুই সদস্যের কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ শেখ নাইমুল হককে। কমিটির অপর সদস্য বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা।

জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের যে ঠিকাদার যত বেশি ঘুষ দিতে পারেন, সেই ঠিকাদার তত বেশি কাজ পান। এর পর কাজে নয়-ছয় করে টাকা হাতিয়ে নেন ঠিকাদাররা। মেরামত কাজে বরাদ্দের এক তৃতীয়াংশের চেয়েও কম অর্থ ব্যয় করে বিল নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া নজির রয়েছে কাজ না করেও বিল তুলে নেওয়ার।

অভিযোগ রয়েছে, সিআরবি এলাকায় রেলের ভিআইপি রেস্ট হাউস মেরামতের জন্য কয়েকটি ধাপে টেন্ডার ছাড়াই প্রায় ৮০ লাখ টাকার কাজ বরাদ্দ দেন প্রধান প্রকৌশলী আবদুল জলিল। এরই মধ্যে বেশ কিছু কাজ করিয়ে নিয়েছেন মৌখিক নির্দেশে। একই ঠিকাদারকে সব কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ শতাংশ হারে অগ্রিম ঘুষও নিয়েছেন তিনি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে চতুর্থ শ্রেণির এই কর্মচারীর বাসা মেরামতের জন্য ২৮ লাখ বরাদ্দ দেয়ার ঘটনায় এখন পুরো রেল মন্ত্রণালয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

আর ২৮ লাখ টাকার বাসা মেরামত কেলেংকারি নিউজ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এখন এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে সমালোচনা। অনেকেই বলছেন-বালিশ কেলেংকারির পর এখন বাসা মেরামত কেলেংকারি শুরু হয়েছে।

অনেকেই বলছেন, দেশে বাস্তবে উন্নয়ন না হলেও দুর্নীতি-লুটপাটে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে। আমাদের আর উন্নয়ন দরকার নেই। সম্প্রতি বাজেট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌ইতিহাসের দুই স্বৈরাচারঃ ইসলামপন্থী, দেশপ্রেমী নেতাদের নির্মূলই যাদের মূল টার্গেট!


মিশরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও মুসলিম বিশ্বের জনপ্রিয় নেতা ড. হাফেজ মুহাম্মদ মুরসি দেশটির ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচারী শাসক আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসির কারাগারে আটক থেকে সোমবার ইন্তেকাল করেছেন। মুরসি একটি আদালতে বক্তৃতা দেয়ার সময় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন মর্মে সিসি সরকার এটা প্রচার করলেও মূলত দীর্ঘদিন আগ থেকেই বিনাচিকিৎসায় তাকে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দেয়া হয়েছিল।

আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম এর আগে একাধিক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, মুরসিকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। মুরসির পরিবারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল যে তাকে কারাগারে হত্যার জন্য সিসির সরকার বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। মুরসির মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও বলছেন যে, আমেরিকা ও ইউরোপীয়দের ইশারায় সিসি বিনা চিকিৎসায় মুরসিকে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দিয়েছে। মুরসির এমন মৃত্যুতে বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। বিশ্বব্যাপী মানুষ স্বৈরাচারী সিসিকে ধিক্কার জানাচ্ছে।

মুহাম্মদ মুরসি ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ছিলেন। এই ব্রাদারহুডের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়-মৃত্যুকে হাসিমুখে বরণ করেই এই দলটির নেতাকর্মীরা যুগ যুগ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। অতীতেও মিশরের সাবেক স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট জালিম জামাল নাসেরের সময় ইখওয়ানুল মুসলিমিনের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বনন্দিত নেতাদেরকে বিভিন্নভাবে হত্যা করেছে।

এই দলটির প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল বান্নাকে হত্যা করেছে তখন স্বৈরাচারী শাসকরা, হত্যা করেছে সাইয়েদ কুতুব ও আব্দুল কাদের আওদাহ’র মতো বড় মাপের নেতা ও শিক্ষাবিদদেরকে। স্বৈরাচারী জামাল নাসেরসহ সবগুলো প্রেসিডেন্টের মূল টার্গেট ছিল ইখওয়ানুল মুসলিমিন। দলটির নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসনে মোবারকও। তার পতনের পরই প্রথম নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ড. মুহাম্মদ মুরসি। প্রেসিডেন্ট হয়ে তিনি মুসলিম বিশ্বের এক অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। তার আভির্ভাবে মুসলিম বিশ্বে এক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়। কিন্তু তার এই উত্থান মেনে নিতে পারেনি ইসরাইল, আমেরিকা ও তাদের দোসর সৌদ আরব। সেনা প্রধান আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসিকে দিয়ে তারা ক্ষমতা দখল করায়। এজন্য সিসিকে কোটি কোটি বিলিয়ন টাকা দেয় মুসলিম বিশ্বের আরেক গাদ্দার হিসেবে পরিচিত সৌদি বাদশাহ সালমান।

দেখা গেছে, মুরসির হাতে নিয়োগ পাওয়া সেনাপ্রধান সিসি ক্ষমতা দখল করেই ব্রাদারহুডের শীর্ষনেতাদেরকে গ্রেফতার করে। অমানবিক নির্যাতন চালায় দলটির সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ওপর। বন্ধ করে দেয়া ব্রাদারহুড নেতাকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো। আটক নেতাকর্মীদের ওপর কারাগারে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। গত বছর কারাগারেই মারা গেছেন দলটির প্রধান মোহাম্মদ বদে-ই। এখনো কারাগারে অনেক ব্রাদারহুড নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

আর সর্বশেষ স্বৈরাচারী সিসির জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসি।

এই স্বৈরাচারী শাসন শুধু মিশরে নয়, বাংলাদেশে এখন স্বৈরাচাররা শাসনের নামে মানুষকে শোষণ করছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন তথা কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে এমন দলগুলোকে তারা নির্মূল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এর আরেকটি উদাহরণ হলো বাংলাদেশ।

পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মিশরের ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচারী সিসির সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।

স্বৈরাচারী সিসির কায়দায়-ই শেখ হাসিনা এদেশের ইসলামপন্থী নেতাদেরকে মিথ্যা অভিযোগে আটক করে তাদেরকে একের পর এক হত্যা করে যাচ্ছে। কাউকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে আবার কেউ কেউ সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

২০০৯ সালের প্রথমে ক্ষমতায় এসে ভারতের ইশারায় শেখ হাসিনা এদেশের সবচেয়ে বৃহত্তর ও জনপ্রিয় ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদেরকে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক করে। কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ছাড়াই বিচারের নামে প্রহসন করে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মোজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীকে অন্যায়ভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে।

এছাড়া, জামায়াতের সাবেক আমির ও ভাষাসৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম ও নায়েবে আমির ও বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ স্বৈরাচারী হাসিনার কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন।

এরপর সিসির মতো একই কায়দায় শেখ হাসিনা বিগত ১০ বছর যাবত জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে।

আরেকটি ক্ষেত্রেও স্বৈরাচারী সিসির সঙ্গে শেখ হাসিনার মিল রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সূর্য উঠার আগেই অতিগোপনে মুরসি লাশ দাফন করতে বাধ্য করেছে স্বৈরাচারী সিসি। আইনজীবী আর তার পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে জানাযাতেও অংশ নিতে দেয়নি সিসির প্রশাসন। বাংলাদেশেও জামায়াত নেতাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। অন্যায়ভাবে জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে প্রকাশ্যে দিনের আলোতে তাদের লাশ দাফনেরও সুযোগ দেয়নি স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার। এমনকি আব্দুল কাদের মোল্লার জানাযায় তার পরিবারের সদস্যদেরকেও অংশ নিতে দেয়া হয়নি।

তবে, অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায় ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনি। ইসলামপন্থীরা সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের মধ্যেও টিকে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জালিম স্বৈরাচাররাই একদিন ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! (ভিডিও সহ)


পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হল আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের মুসলমানরা শত শত বছর ধরে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামিক কালচার অনুযায়ী জীবন যাপন করে আসছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এদেশের মুসলমানরা ইসলামি পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করেন। তারপরও পাশ্চাত্যের গোলাম হিসেবে পরিচিত কিছু নামধারী মুসলমান এদেশের মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্যের নোংরা সংস্কৃতি ঢোকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। নেকাব ও হিজাবধারী স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারীদেরকে তারা ধর্মান্ধ বলে গালি দিয়ে থাকে। নেকাব ও হিজাব পরার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রীদেরকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আধুনিকতার নামে উলঙ্গ সংস্কৃতির অনুসারীরা প্রায় সময়ই নেকাব ও হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে থাকে। টেলিভিশনের টকশোতে তারা হিজারধারী নারীদেরকে নিয়ে নানা রকম বাজে মন্তব্য করে থাকে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো- এখন রাষ্ট্রের অভিভাবক শেখ হাসিনা নিজেও নেকাবধারী নারীদেরকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে পায়ে মোজা পরা ও নেকাব দিয়ে চোখ-মুখ ঢেকে রাখা নারীদেরকে কটাক্ষ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে এসএ টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজা প্রশ্ন করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আমাদের নারীদের বিরুদ্ধে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে, ধর্মীয় সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। এদের ব্যাপারে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন এবং রাষ্ট্র কি ব্যবস্থা নিতে পারে?

জবাবে শেখ হাসিনা অনেক বয়ান করেছেন। হযরত খাদিজা ও আয়েশার জীবন কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তারা নারী হয়েও যুদ্ধ করেছেন। ওই সময় নারীরা অনেক ক্ষমতাধর ছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের বয়ান করলেন। বললেন- আমরা নারীদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন পাইলট আছে আমার নারী, আর্মি অফিসার আছে আমার নারী, মেজর আছে আমার নারী। আমি নারীদেরকে সবখানে তুলে নিয়ে আসছি। এটাই তাদের জবাব।

এরপর কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দাঁড়ালেন প্রশ্ন করতে। ওই সময় শেখ হাসিনা নারীদের প্রসঙ্গে আবার বললেন, হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢাইক্কা এটা কি? জীবন্ত tent (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটারতো কোনো মানে হয় না।

সচেতন মানুষও মনে করছেন, শেখ হাসিনা এখানে সরাসরি নেকাব ও হিজাবধারী নারীদেরকে অপমান করেছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার অধিকার একজন মুসলিম নারীর আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা একটি মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাত মোজা, পা মোজা ও নেকাব পরিধান করে নাক-চোখ ঢেকে রাখাকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশের মুসলিম নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here