বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন দ্রুত শুনানির সম্ভাবনা

0
107

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের নথি হাইকোর্টে আসায় এখন দ্রুত এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি হবে। আগামীকাল রোববার এ মামলায় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলার নথি আসার বিষয়টি অবহিত করে জামিন আবেদন উপস্থাপন করা হবে বলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। রোববার খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে মেনশন করা হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব জামিন আবেদনের শুনানির উদ্যোগ নেয়া হবে।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দুটি মামলায় জামিন প্রয়োজন। একটি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং অপরটি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি করার পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায়ও খালেদা জিয়ার আপিল যত দ্রুত সম্ভব শুনানির উদ্যোগ নেয়া হবে।

গত ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনটি নথিভুক্ত করে দুই মাসের মধ্যে মামলার নথি তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। এরপর বৃহস্পতিবার ২০ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালত থেকে এ নথি পাঠানো হয়। রোববার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব জামিন আবেদন শুনানির জন্য আদালতে প্রার্থনা করা হবে বলে আইনজীবীরা জানান। এর আগে গত বুধবার এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানির ব্যাপারে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে যান তার আইনজীবীরা। নথি এলে জামিন আবেদনের শুনানি হবে বলে আদালত আইনজীবীদের জানিয়ে ছিলেন।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রোববার আমরা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার জামিন আবেদন আদালতে মেনশন করব এবং যত দ্রুত সম্ভব শুনানির উদ্যোগ নেবো। আশা করি এ মামলায় বেগম খালেদা জিয়া জামিন পাবেন। তিনি আরো বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। চেষ্টা করা হবে যত দ্রুত সম্ভব এ মামলার আপিল ও জামিন আবেদনের শুনানি হয়।

খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রেকর্ড আসায় আমরা রোববার আদালতে আবেদন নিয়ে যাব। তিনি বলেন, আমরা জামিন আবেদন সাবমিশন করব। আমরা আশা করি, দ্রুত এই মামলার জামিন আবেদনের শুনানি হবে।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, রোববার আমরা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রেকর্ড আসার বিষয়টি আদালতের নজরে আনবো এবং জামিন আবেদন উপস্থাপন করব। আমরা আশা করি বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, বয়স, সামাজিক মর্যাদা সদয়ভাবে বিবেচনা করে আদালত দ্রুত জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করবেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরো বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন আবেদন শুনানি করার পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বেগম খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।

এর আগে গত ১৮ জুন মানহানির দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান বেগম খালেদা জিয়া। ওই দিন আদালতের আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এই দুটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আর দুটি মামলায় তিনি জামিন পেলে মুক্তি পাবেন। একটা হলো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, আরেকটা হলো জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা। তিনি বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়ও জামিন আবেদন করা হয়েছে। ওই মামলায় নথি আসতে আর ১২দিন বাকি আছে।

মওদুদ আহমদ বলেন, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে। দুটি মামলা ছাড়া এখন সব মামলায়ই তিনি জামিনে রয়েছেন। সর্বশেষ মানহানির ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি আপিল বিভাগে রয়েছে। এই মামলায় তিনি জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু আদালত তার সাজা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছে। জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হলে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন চাওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারের তরফ থেকে কোনো জটিলতা তৈরি করা না হলে আগামী দুই-আড়াই মাসের মধ্যেই আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পাবেন বেগম খালেদা জিয়া।

গত ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা বাতিল ও খালাস চেয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড স্থগিত এবং সম্পত্তি জব্দের আদেশের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন আদালত। তবে মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট। জামিনের আবেদনটি নথিভুক্ত করে দুই মাসের মধ্যে মামলার নথি তলব করা হয়। নথি পাওয়ার পর জামিন আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করবেন বলে জানিয়ে ছিলেন আদালত। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ওই দিন শুনানিতে খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আদালত বলেছিলেন, সাত বছরের সাজার মামলায় আমরা জামিন দেই না, তা না। যেহেতু অন্য একটি মামলায় উচ্চতর আদালত সাজা বাড়িয়ে দিয়েছে। ওই মামলায় জামিন না হলে তিনি মুক্তি পাবেন না। ফলে বিষয়টি জরুরি দেখছি না। মামলার নথি আসুক, তখন জামিনের আবেদনটি দেখা হবে। এ মামলায় রেকর্ড না দেখে বেইল (জামিন) দিচ্ছি না।

গত ১৮ নভেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল আবেদন করেন বেগম খালেদা জিয়া। গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় করাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো: আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। একই সাথে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, তার একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকেও একই দণ্ড দেন আদালত।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌অনৈতিক কাজে বাঁধা দেয়ায় মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তুরিন আফরোজ (ভিডিও)


রাত-বিরাত ঘরে অপরিচিত লোকদের প্রবেশসহ নানা অনৈতিক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে কাজে বাধা দেয়ায় নিজ বাড়ি থেকে মাকে বের করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সুপ্রিম কোর্টে আইন, বিচার, মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তুরিন আফরোজের মা সামসুন নাহার তসলিম। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তুরিনের ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির।

এসময় সামসুন নাহার তসলিম নিগৃহীত হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সামসুন নাহার তসলিম বলেন, ‘আজ দুই বছর তিন মাস উনিশ দিন আমি আমার বাসার বাইরে। আমার স্বামী মারা যাওয়ার আঠারো দিন পরে তুরিন আমাকে বাসা থেকে বের করে দেয়। আমার দোষ তার (তুরিন আফরোজ) কিছু অনৈতিক আচরণের প্রতিবাদ করা। যেমন, আমাদের ভাড়াটিয়াদের থেকে সবসময় ভাড়ার টাকা আমিই নিতাম। আমার স্বামী অবসরে যাওয়ার পর থেকেই বাড়িভাড়ার টাকায় আমাদের সংসার, ওষুধ খরচ চলত। এরপর ওর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সে (তুরিন আফরোজ) বাসা ভাড়ার টাকা জোর করে নিয়ে নেয়।’

ভিডিওঃ  ‘অনৈতিক কাজে বাঁধা দেয়ায় মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তুরিন আফরোজ (ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তিনি বলেন, ‘অপরিচিত লোকদের রাত-বিরাত ঘরে প্রবেশ নিয়ে দারোয়ান ও ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করলে, তার সঙ্গে প্রায় লাগতো (ঝগড়া)। এসব বিষয়ে নিষেধ করলে র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামে ভয় দেখাত এবং বলত, ওরা সবাই তার বন্ধু। কোনো কিছু বললেই ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করার ভয় দেখাত। আমি তো ধারা বুঝি না। আরও বলত, পৃথিবীর যেখানেই থাকো সেখান থেকেই ধরে নিয়ে আসব। আর তার গানম্যান দিয়ে ভয় দেখাত। গ্রামের বাড়ি নীলফামারি যেতে পারি না, সে সেখানে দায়িত্ব নিয়ে জমিজমা ও বাড়ি নিজের নামে কুক্ষিগত করেছে।’

সামসুন নাহার তসলিম আরও বলেন, ‘এসব জানাতে আমি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে ব্যর্থ হই। ভেবেছিলাম, তিনি একজন মা। আমরা জানি, উনি অন্যায়-অবিচারকে প্রশ্রয় দেবেন না। আমি চাই, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ। আমি আজ মিডিয়ার মাধ্যমে উনার সহযোগিতা কামনা করছি। আমার শরীর ভীষণ খারাপ। ৬৫ শতাংশ কিডনি অকেজো… (কাঁদতে থাকেন)। সঙ্গে আবার ডায়াবেটিকস আছে। ওষুধ কেনার পয়সা বাড়িভাড়া থেকে পেতাম, সেটাও সে কেড়ে নিয়েছে। দেশে থাকার জায়গা নেই এখানে.. সেখানে থেকে বেড়াই। আমি আমার দেশ ছেড়ে এ বয়সে কেন বিদেশে পড়ে থাকব? এ দেশ আমার জন্মস্থান ও আমার ৪৮ বছরের সংসার। আমি তো এখানেই থাকতে চাই। আমি আমার সংসারে ফিরে যেতে চাই। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে তুরিন আফরোজের ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির বলেন, ‘ক্ষমতার দাপটে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আমাকে এবং আমার বিধবা মাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানি করে আসছে। তার কারণ একটি। আর তা হলো, দেশে আমাদের সম্পদ তার কুক্ষিগত করা। চক্ষু লজ্জায় এতদিন বিষয়টি আড়াল করে রেখেছি। আমি ও আমার অভাগিনি মা ক্ষমতাসীন কাউকে অবমাননা করতে চাইনি।’

শাহনেওয়াজ শিশির আরও বলেন, ‘একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আমার বাসা থেকে আমাদের বের করে দেওয়ার পরও রাজউক কর্তৃক কর ও ভূমি কর আমি নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছি। অথচ আমার অনুপস্থিতিতে নিজ স্বার্থে কাজে লাগিয়ে তুরিন আফরোজ ক্ষমতার দাপট ও প্রশাসনকে সংবিধান বহির্ভুত কাজে বাধ্য করে আমাকে আর আমার মাকে ক্ষতি করছে। ব্যারিস্টার তুরিন শুধু ঢাকাতেই নয়, নীলফামারি আমাদের চাচাতো ভাই ও বোনদের জমিজমা জিম্মি করে রেখেছে।’ এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বাড়ি ফিরে পাওয়ার দাবি জানান তিনি।

নিজ বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে গত ১৩ জুন রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, শিশিরের নিজস্ব ভবনে বসবাস করেন তুরিন আফরোজ। তিনি কানাডা প্রবাসী। কয়েকবছর আগে তাদের মাকে তুরিন সে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে মাকে নিয়ে কানাডা চলে যান শিশির। ১৩ জুন রাতে তিনি কানাডা থেকে ফিরে নিজের বাসায় গেলে সেখানে বোন তুরিন আফরোজ তাকে ঢুকতে দেননি।

এর আগে উত্তরায় ভাইয়ের নামে মায়ের দেওয়া ওই বহুতল বাড়িটি গত বছর জোর করে দখলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে। ওই বছর নিজের মেয়ের বিরুদ্ধে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তুরিন ও শিশিরের মা শামসুন নাহার। দখল হওয়া বাড়ি উদ্ধারের জন্য ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলা করেন তুরিনের ছোট ভাই শাহনওয়াজ আহমেদ শিশির।

উৎসঃ ‌‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বালিশকাণ্ডের পর এবার রেলকাণ্ড! সরকারি সম্পদের হরিলুট চলছে রেল সেক্টরেও


পাবনার রূপপুরে অবস্থিত পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্রের গ্রীন সিটির বালিশ কেলেংকারির পর এবার সামনে এসেছে রেলের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বাসা মেরামত কেলেংকারির তথ্য। রূপপুরের বালিশ কেলেংকারিতে সারাদেশে ক্ষোভের রেশ এখনো কাটেনি। দেশের সর্বোচ্চ আদালতও এনিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই বালিশ কাণ্ডে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে সরকারও। যদিও ইজ্জত রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুরের সেই প্রকৌশলীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করেছেন।

সরকারি সম্পদের হরিলুট চলছে রেল সেক্টরেও। বিশেষ করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে সবাই নিজের মতো করেই ভোগ করছেন সরকারি সম্পত্তি। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে বাসা, বাংলো, সড়ক, অফিস ভবন মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে।

ইদানিং চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বাসা মেরামতের জন্য সরকারি বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠার পরই আস্তে আস্তে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে।

জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলীয় জিএমের দপ্তরের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বাসা মেরামতের জন্য ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন প্রধান প্রকৌশলী। বিপুল অঙ্কের এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার জেরে রেল অঙ্গনে শুরু হয় তোলপাড়। শেষ পর্যন্ত অভিযোগ যায় মন্ত্রণালয় ও রেল ভবনে। এ ঘটনার সঙ্গে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল জলিল সরাসরি জড়িত।

অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ২৬ মে গঠিত দুই সদস্যের কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ শেখ নাইমুল হককে। কমিটির অপর সদস্য বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা।

জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের যে ঠিকাদার যত বেশি ঘুষ দিতে পারেন, সেই ঠিকাদার তত বেশি কাজ পান। এর পর কাজে নয়-ছয় করে টাকা হাতিয়ে নেন ঠিকাদাররা। মেরামত কাজে বরাদ্দের এক তৃতীয়াংশের চেয়েও কম অর্থ ব্যয় করে বিল নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া নজির রয়েছে কাজ না করেও বিল তুলে নেওয়ার।

অভিযোগ রয়েছে, সিআরবি এলাকায় রেলের ভিআইপি রেস্ট হাউস মেরামতের জন্য কয়েকটি ধাপে টেন্ডার ছাড়াই প্রায় ৮০ লাখ টাকার কাজ বরাদ্দ দেন প্রধান প্রকৌশলী আবদুল জলিল। এরই মধ্যে বেশ কিছু কাজ করিয়ে নিয়েছেন মৌখিক নির্দেশে। একই ঠিকাদারকে সব কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ শতাংশ হারে অগ্রিম ঘুষও নিয়েছেন তিনি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে চতুর্থ শ্রেণির এই কর্মচারীর বাসা মেরামতের জন্য ২৮ লাখ বরাদ্দ দেয়ার ঘটনায় এখন পুরো রেল মন্ত্রণালয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

আর ২৮ লাখ টাকার বাসা মেরামত কেলেংকারি নিউজ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এখন এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে সমালোচনা। অনেকেই বলছেন-বালিশ কেলেংকারির পর এখন বাসা মেরামত কেলেংকারি শুরু হয়েছে।

অনেকেই বলছেন, দেশে বাস্তবে উন্নয়ন না হলেও দুর্নীতি-লুটপাটে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে। আমাদের আর উন্নয়ন দরকার নেই। সম্প্রতি বাজেট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌ইতিহাসের দুই স্বৈরাচারঃ ইসলামপন্থী, দেশপ্রেমী নেতাদের নির্মূলই যাদের মূল টার্গেট!


মিশরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও মুসলিম বিশ্বের জনপ্রিয় নেতা ড. হাফেজ মুহাম্মদ মুরসি দেশটির ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচারী শাসক আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসির কারাগারে আটক থেকে সোমবার ইন্তেকাল করেছেন। মুরসি একটি আদালতে বক্তৃতা দেয়ার সময় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন মর্মে সিসি সরকার এটা প্রচার করলেও মূলত দীর্ঘদিন আগ থেকেই বিনাচিকিৎসায় তাকে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দেয়া হয়েছিল।

আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম এর আগে একাধিক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, মুরসিকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। মুরসির পরিবারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল যে তাকে কারাগারে হত্যার জন্য সিসির সরকার বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। মুরসির মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও বলছেন যে, আমেরিকা ও ইউরোপীয়দের ইশারায় সিসি বিনা চিকিৎসায় মুরসিকে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দিয়েছে। মুরসির এমন মৃত্যুতে বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। বিশ্বব্যাপী মানুষ স্বৈরাচারী সিসিকে ধিক্কার জানাচ্ছে।

মুহাম্মদ মুরসি ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ছিলেন। এই ব্রাদারহুডের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়-মৃত্যুকে হাসিমুখে বরণ করেই এই দলটির নেতাকর্মীরা যুগ যুগ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। অতীতেও মিশরের সাবেক স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট জালিম জামাল নাসেরের সময় ইখওয়ানুল মুসলিমিনের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বনন্দিত নেতাদেরকে বিভিন্নভাবে হত্যা করেছে।

এই দলটির প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল বান্নাকে হত্যা করেছে তখন স্বৈরাচারী শাসকরা, হত্যা করেছে সাইয়েদ কুতুব ও আব্দুল কাদের আওদাহ’র মতো বড় মাপের নেতা ও শিক্ষাবিদদেরকে। স্বৈরাচারী জামাল নাসেরসহ সবগুলো প্রেসিডেন্টের মূল টার্গেট ছিল ইখওয়ানুল মুসলিমিন। দলটির নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসনে মোবারকও। তার পতনের পরই প্রথম নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ড. মুহাম্মদ মুরসি। প্রেসিডেন্ট হয়ে তিনি মুসলিম বিশ্বের এক অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। তার আভির্ভাবে মুসলিম বিশ্বে এক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়। কিন্তু তার এই উত্থান মেনে নিতে পারেনি ইসরাইল, আমেরিকা ও তাদের দোসর সৌদ আরব। সেনা প্রধান আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসিকে দিয়ে তারা ক্ষমতা দখল করায়। এজন্য সিসিকে কোটি কোটি বিলিয়ন টাকা দেয় মুসলিম বিশ্বের আরেক গাদ্দার হিসেবে পরিচিত সৌদি বাদশাহ সালমান।

দেখা গেছে, মুরসির হাতে নিয়োগ পাওয়া সেনাপ্রধান সিসি ক্ষমতা দখল করেই ব্রাদারহুডের শীর্ষনেতাদেরকে গ্রেফতার করে। অমানবিক নির্যাতন চালায় দলটির সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ওপর। বন্ধ করে দেয়া ব্রাদারহুড নেতাকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো। আটক নেতাকর্মীদের ওপর কারাগারে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। গত বছর কারাগারেই মারা গেছেন দলটির প্রধান মোহাম্মদ বদে-ই। এখনো কারাগারে অনেক ব্রাদারহুড নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

আর সর্বশেষ স্বৈরাচারী সিসির জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসি।

এই স্বৈরাচারী শাসন শুধু মিশরে নয়, বাংলাদেশে এখন স্বৈরাচাররা শাসনের নামে মানুষকে শোষণ করছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন তথা কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে এমন দলগুলোকে তারা নির্মূল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এর আরেকটি উদাহরণ হলো বাংলাদেশ।

পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মিশরের ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচারী সিসির সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।

স্বৈরাচারী সিসির কায়দায়-ই শেখ হাসিনা এদেশের ইসলামপন্থী নেতাদেরকে মিথ্যা অভিযোগে আটক করে তাদেরকে একের পর এক হত্যা করে যাচ্ছে। কাউকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে আবার কেউ কেউ সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

২০০৯ সালের প্রথমে ক্ষমতায় এসে ভারতের ইশারায় শেখ হাসিনা এদেশের সবচেয়ে বৃহত্তর ও জনপ্রিয় ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদেরকে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক করে। কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ছাড়াই বিচারের নামে প্রহসন করে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মোজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীকে অন্যায়ভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে।

এছাড়া, জামায়াতের সাবেক আমির ও ভাষাসৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম ও নায়েবে আমির ও বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ স্বৈরাচারী হাসিনার কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন।

এরপর সিসির মতো একই কায়দায় শেখ হাসিনা বিগত ১০ বছর যাবত জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে।

আরেকটি ক্ষেত্রেও স্বৈরাচারী সিসির সঙ্গে শেখ হাসিনার মিল রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সূর্য উঠার আগেই অতিগোপনে মুরসি লাশ দাফন করতে বাধ্য করেছে স্বৈরাচারী সিসি। আইনজীবী আর তার পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে জানাযাতেও অংশ নিতে দেয়নি সিসির প্রশাসন। বাংলাদেশেও জামায়াত নেতাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। অন্যায়ভাবে জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে প্রকাশ্যে দিনের আলোতে তাদের লাশ দাফনেরও সুযোগ দেয়নি স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার। এমনকি আব্দুল কাদের মোল্লার জানাযায় তার পরিবারের সদস্যদেরকেও অংশ নিতে দেয়া হয়নি।

তবে, অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায় ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনি। ইসলামপন্থীরা সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের মধ্যেও টিকে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জালিম স্বৈরাচাররাই একদিন ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! (ভিডিও সহ)


পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হল আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের মুসলমানরা শত শত বছর ধরে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামিক কালচার অনুযায়ী জীবন যাপন করে আসছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এদেশের মুসলমানরা ইসলামি পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করেন। তারপরও পাশ্চাত্যের গোলাম হিসেবে পরিচিত কিছু নামধারী মুসলমান এদেশের মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্যের নোংরা সংস্কৃতি ঢোকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। নেকাব ও হিজাবধারী স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারীদেরকে তারা ধর্মান্ধ বলে গালি দিয়ে থাকে। নেকাব ও হিজাব পরার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রীদেরকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আধুনিকতার নামে উলঙ্গ সংস্কৃতির অনুসারীরা প্রায় সময়ই নেকাব ও হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে থাকে। টেলিভিশনের টকশোতে তারা হিজারধারী নারীদেরকে নিয়ে নানা রকম বাজে মন্তব্য করে থাকে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো- এখন রাষ্ট্রের অভিভাবক শেখ হাসিনা নিজেও নেকাবধারী নারীদেরকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে পায়ে মোজা পরা ও নেকাব দিয়ে চোখ-মুখ ঢেকে রাখা নারীদেরকে কটাক্ষ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে এসএ টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজা প্রশ্ন করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আমাদের নারীদের বিরুদ্ধে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে, ধর্মীয় সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। এদের ব্যাপারে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন এবং রাষ্ট্র কি ব্যবস্থা নিতে পারে?

জবাবে শেখ হাসিনা অনেক বয়ান করেছেন। হযরত খাদিজা ও আয়েশার জীবন কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তারা নারী হয়েও যুদ্ধ করেছেন। ওই সময় নারীরা অনেক ক্ষমতাধর ছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের বয়ান করলেন। বললেন- আমরা নারীদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন পাইলট আছে আমার নারী, আর্মি অফিসার আছে আমার নারী, মেজর আছে আমার নারী। আমি নারীদেরকে সবখানে তুলে নিয়ে আসছি। এটাই তাদের জবাব।

এরপর কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দাঁড়ালেন প্রশ্ন করতে। ওই সময় শেখ হাসিনা নারীদের প্রসঙ্গে আবার বললেন, হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢাইক্কা এটা কি? জীবন্ত tent (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটারতো কোনো মানে হয় না।

সচেতন মানুষও মনে করছেন, শেখ হাসিনা এখানে সরাসরি নেকাব ও হিজাবধারী নারীদেরকে অপমান করেছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার অধিকার একজন মুসলিম নারীর আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা একটি মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাত মোজা, পা মোজা ও নেকাব পরিধান করে নাক-চোখ ঢেকে রাখাকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশের মুসলিম নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যে আবারও উত্তপ্ত সংসদ (ভিডিও সহ)


বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক এবং সংসদের বৈধতা নিয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রশ্ন করায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠে সংসদ অধিবেশন।

রোববার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় এমন উত্তপ্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নির্ধারিত ১০ মিনিটের বক্তৃতায় তিন দফায় বাধার সম্মুখিন হন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এই সংসদের কেউ বলতে পারবেন জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটে নির্বাচিত? কেউ বলতে পারবেন না। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি দলের সদস্যরা হই হই করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্য থামিয়ে বলেন, আপনি বাজেটের বাইরে এমন কোনো কথা বলবেন না যাতে সংসদ উত্তপ্ত হয়।

ভিডিওঃ  ‘ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যে আবারও উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, এই সংসদে আসার আগে সংসদ নেতা বলেছিলেন আমাদের কথা বলতে দেবেন। কিন্তু আমার প্রথম বক্তৃতার দুই মিনিটের এক মিনিটও শান্তিমতো কথা বলতে পারিনি। একই ঘটনা আজকেও।

কথা শুরু করার ৩৬ সেকেন্ডের মাথায় তার বক্তৃতা থামিয়ে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, এমন কথা বলবেন না যাতে বিরোধী পক্ষ উত্তেজিত হয়।

পুনরায় বক্তব্য শুরু করে বলেন, আমরা কথা বলতে পারছি না। কোনো গণতন্ত্রের কথা বলছি। আমি আমার দলের কথা বলব, তারা তাদের দলের কথা বলবে।

প্রশ্ন রেখে বলেন, আমি দাঁড়াবার সঙ্গে সঙ্গে পুরো সংসদ যদি উত্তেজিত হয়ে যায়, তাহলে কীভাবে কথা বলব? পুরো ১০ মিনিটের বক্তৃতায় কয়েক সেকেন্ড শুধু সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা করেন।

তার সেই আলোচনায় বলেন, ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৭৬ শতাংশ। সরকারের সক্ষমতা দিন দিন কমছে।

নির্বাচন কমিশনে ব্যয় বাড়ানোয় সমালোচনা করে ব্যারিস্টার ফারহানা বলেন, নির্বাচন কমিশনের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। কি নির্বাচন তারা করেছে?

‘আমার একটা কথায় পুরো সংসদ উত্তপ্ত। কলামের পর কলাম লেখা হয়। এই সংসদে যারা আছেন, তারা আল্লাহকে হাজির নাজির করে বলুক তারা জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন? তারা নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুক সবাই উত্তর পেয়ে যাবেন।’

বক্তৃতার ৪ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডে আবারও বাঁধা প্রদান করা হয়। এভাবেই তার ১০ মিনিটের বক্তৃতা শেষ করেন।

পরে ডেপুটি স্পিকার তাকে উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি বাজেটের বাইরে ও সংসদীয় ভাষার বাইরে যে কথাগুলো বলেছেন তার সবকথা সংসদীয় প্রসিডিউর থেকে এক্সপাঞ্জ করা হল।

এই কথা বলার পর বিএনপির সবাই অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান। পরে অবশ্য আবার অধিবেশনে ফেরেন।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here