উন্নয়ন নয়, বাংলাদেশ এখন দুর্নীতিতে রোল মডেলঃ দুর্নীতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় ২য়!

0
567

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রতিদিন যে ভাঙ্গা রেকর্ড বাজিয়ে থাকেন তার গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা হলো-বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। রাষ্ট্রের সম্পত্তি লুটপাট, আত্মসাত ও দুর্নীতি করতে তারা ক্ষমতায় আসে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়। জনগণ উন্নত জীবন পায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বাড়ে।

শেখ হাসিনা জোর গলায় আর যে কথাটি বলে বেড়ান সেটা হলো-আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। আমার বাবা দেশ স্বাধীন করেছে। দুর্নীতি-লুটপাটের জন্য আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে না। আমাদের অর্থ-সম্পদের দরকার নাই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি বন্ধ করেছে। দেশ এখন আর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয় না।

এভাবেই প্রতিদিন শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতারা সভা-সমাবেশে গিয়ে জনগণের সামনে কথিত উন্নয়নের ভাঙ্গা রেকর্ড বাজাচ্ছেন আর নিজেদের দুর্নীতিকে চাপা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনার বিগত ১০ বছরের শাসনামল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে দুর্নীতি-লুটপাটের এত মহোৎসব অতীতে আর হয়নি। শেয়ারবাজার ও ব্যাংক লুটের ঘটনা অতীতে ঘটেনি। আর বাণিজ্যিক খাতের প্রত্যেকটি ব্যাংক সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসব ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বাণিজ্যিক খাতের ব্যাংকগুলো এখন চরম অর্থসংকটে ভুগছে। এছাড়া রাষ্ট্রের এমন কোনো সেক্টর নেই যেখান থেকে ক্ষমতাসীনরা অর্থ আত্মসাত করেনি।

সর্বশেষ মঙ্গলবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে-দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। আর দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। টিআই বাংলাদেশের এই অবস্থানকে দুর্নীতিতে বিব্রতকর অবনতি বলে আখ্যা দিয়েছে।

এদিকে রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ বলছেন, দুর্নীতিতে বাংলাদেশের এই অবস্থান লজ্জাকর। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এখন দুর্নীতিগ্রস্থ দেশ হিসেবে পরিচিত পেল। সরকার যে কথিত উন্নয়নের আড়ালে রাষ্ট্রের অর্থ লুটেপাটে খাচ্ছে টিআই’র প্রতিবেদনে সেটাই প্রমাণিত হলো।

কেউ কেউ বলছেন, টিআই এর প্রতিবেদনে প্রমাণিত হলো যে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বে রোল মডেল। সরকার উন্নয়নের যে রেকর্ড বাজাচ্ছে এগুলো যে আসলে আষাড়ে গল্প সেটা এখন প্রমাণিত হয়েছে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১৩তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ২য়!


বিশ্বে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ১৩তম অবস্থানে উঠেছে বাংলাদেশ, যার স্কোর ২৬। এর আগের বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭তম, স্কোর ছিল ২৮। তার আগের বছর ছিল ২০১৬ সালে অবস্থান ছিল ১৫তম।

আর দক্ষিণ এশিয়ায় দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। এ অঞ্চলে আফগানিস্তানের পরেই অবস্থান বাংলাদেশের। খবর পার্স টুডের।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবির কার্যালয়ে ‘দুর্নীতির ধারনা সূচক (সিআইপি) ২০১৮’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব তথ্য তুলে ধরেন।

সংস্থাটির মতে, এবারের সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ২ পয়েন্ট কমেছে। তালিকার নিম্নক্রম অনুযায়ী ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১৩তম, যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৪ ধাপ নিম্নে এবং উর্ধক্রম অনুযায়ী ১৪৯তম, যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৬ ধাপ অবনতি। ১০০ এর মধ্যে ৪৩ স্কোরকে গড় হিসেবে বিবেচনায় বাংলাদেশের ২০১৮ সালের স্কোর ২৬ হওয়ায় দুর্নীতির ব্যাপকতা এখনো উদ্বেগজনক বলে প্রতীয়মান হয়। তদুপরি দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিম্নক্রম অনুসারে এখনো বিব্রতকরভাবে আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩১টি দেশের মধ্যে অবস্থান চতুর্থ সর্বনিম্ন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতির ধারণা সূচকে ২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ভুটান। ২০১৮ সালের সিপিআই অনুযায়ী এ দেশটির স্কোর ৬৮ এবং উর্ধক্রম অনুযায়ী অবস্থান ২৫। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার স্কোর ৪১ এবং অবস্থান ৭৮। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এরপরে শ্রীলংকা ৩৮ স্কোর পেয়ে ৮৯তম অবস্থানে রয়েছে। ৩৩ স্কোর পেয়ে ১১৭ তম অবস্থানে উঠে এসেছে পাকিস্তান এবং ৩১ স্কোর পেয়ে ১২৪ তম অবস্থানে নেমে গেছে মালদ্বীপ। অপরদিকে ৩১ স্কোর পেয়ে ১২৪ তম অবস্থানে আরো রয়েছে নেপাল। এরপর ২৬ স্কোর পেয়ে ১৪৯ অবস্থানে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের পরে ১৬ স্কোর পেয়ে সিপিআই ২০১৮ সূচকে ১৭২ তম অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান।

সূচকে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে ডেনমার্কের অবস্থান প্রথম। আর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ আফ্রিকার সোমালিয়া। ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৮০তম স্থান পাওয়া এ দেশটির স্কোর ১০। সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে এরপরের অবস্থানগুলো পর্যায়ক্রমে সিরিয়া, সাউথ সুদান, ইয়েমেন, উত্তর কোরিয়া, সুদান, গিনিয়া বিসাউ, একুয়াটোরিয়াল গিনিয়া, আফগানিস্তান, লিবিয়া, বুরুন্ডি।

২০১৭ সালের তুলনায় দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিম্নমুখী হওয়ার কারণ বলতে গিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে যেসব দুর্নীতি হয় সেসব ক্ষেত্রে অভিযান চালায়। কিন্তু উচ্চ শ্রেণীর মধ্যে অভিযান চালাতে তাদের দেখা যায় না। ফলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়ে যাওয়ার কারণ এখানে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ঘোষণা থাকলেও এটার বাস্তবায়ন সেভাবে নেই। উচ্চ পর্যায়ের লোকদের বিচারের আওতায় আনার সেরকম উদাহরণ কম। ব্যাংক খাতে অবারিত দুর্নীতি, জালিয়াতি, ভূমি-নদী-জলাশয় দখল, সরকারি ক্রয় খাতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের কারণে দুর্নীতি এক ধরনের ছাড় পেয়ে যাচ্ছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুদক ও অন্যান্য জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল। গণমাধ্যম ও নাগরিক প্রতিষ্ঠানের কাজের ক্ষেত্রও সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ক্রমাগতভাবে অর্থ পাচার হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির ব্যবস্থাপনা কমিটির উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে, দুদক যাচ্ছে প্রাইমারি স্কুলে!


সরকারের অনুগত দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দিন দিন ব্যাপক সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছেন। দুর্নীতির অনুসন্ধানে তিনি সারাদেশ চষে বেড়াচ্ছেন। ছুটে চলছেন এক জেলা থেকে আরেক জেলা। তিনি এখন এমন ব্যক্তিদের পেছনে লাগছেন যাদের কাজে ফাঁকি দেয়ার কিছু সুযোগ আছে, কিন্তু দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক চাইলেও কোনো টাকা-পয়সা আত্মসাত করতে পারবেন না। কারণ, বেতন ছাড়াতো তাদের কাছে আর কোনো টাকা আসে না। তবে ক্লাস ফাঁকি দেয়ার একটা সুযোগ তাদের আছে। কিন্তু দুদক চেয়ারম্যান বিষয়টিকে এমনভাবে তুলে ধরছেন যেন রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম-দুর্নীতি শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই হচ্ছে।

রোববার চট্টগ্রামের ৩টি স্কুলে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। একটি স্কুলে ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭ জনই অনুপস্থিত ছিল। এটা অবশ্যই বড় ধরণের অন্যায় ও শিক্ষার জন্য খুবই ভয়ঙ্কর বিষয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসলে শিক্ষার নামে কি হচ্ছে সেটা বেরিয়ে এসেছে।

এখন প্রশ্ন হলো-শুধু প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের পেছনে দৌড়ানোই কি দুদকের মূল কাজ?

বিগত কয়েক বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের লাখ লাখ কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে। শেয়ারবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া দরবেশ নামে খ্যাত সেই সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লুটকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তির নির্দেশেই ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে। ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান সরাসরি এই রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত। অথচ এনিয়ে দুদক নীরব ভুমিকা পালন করছে।

রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় দুর্নীতির আখড়া হিসেবে খ্যাত। টিআইবির পক্ষ থেকে কয়েক মাস পর পরই রাষ্ট্রের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিভিন্ন অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজদের নিয়ে সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি দুদককে।

এছাড়া, প্রতিবছর দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টেগ্রিটির মতে, শুধু ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ২০১৬ সালেও সংস্থাটি এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তারপর পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতেও বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের নাম এসেছিল। কিন্তু এসব বিষয়েও দুদকের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলেও এসবের তদন্ত করার কোনো প্রয়োজনীয়তা মনে করছে না দুদক।

তবে, বিরোধীদলের কোনো নেতার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য পেলে সেটা নিয়ে আবার ডাকঢোল পিটিয়ে মাঠে নামে।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছে, সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি চাপা দিতেই দুদক চেয়ারম্যান এখন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের পেছনে লেগেছেন। প্রাইমারি স্কুলের তদারকির জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসই যথেষ্ট। দুর্নীতিবাজদের ধরার নামে দুদক চেয়ারম্যান আইওয়াশ করছেন।

কেউ কেউ বলছেন, দুদক চেয়ারম্যান এখন সরকারের দাসে পরিণত হয়েছেন। দাস যেমন মনিবের অন্যায়-অপকর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না, ইকবাল মাহমুদও ঠিক দাসের মতো সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছে না।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা


গত ১০ বছরে (২০০৬ থেকে ২০১৫) বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩০৯ কোটি ডলার বা ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সোমবার (২৮ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) এর বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জিএফআই’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫৯০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। ২০১৪ সালে দেশ থেকে পাচার হয়েছিল ৮৯৭ কোটি ডলার। এই হিসাবে ২০১৪ সালের চেয়ে ২০১৫ সালে পাচারের পরিমাণ কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে এক দশকে পাচারের পরিমাণ ৫ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা।

সংস্থাটি বলছে, উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ২০ ভাগই পাচার হয়েছে নানা কৌশলে। আর পাচারকৃত টাকার বড় অংশই গেছে আমদানি-রফতানির সময়ে পণ্যের প্রকৃত দাম গোপন করার মাধ্যমে।

বিশ্বজুড়ে অর্থপাচার নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি-জিএফআই। সোমবার প্রকাশিত সবশেষ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে ১৪৮ উন্নয়নশীল দেশের টাকা পাচারের চিত্র।

তবে জিএফআই এর দেওয়া অর্থ পাচারের তথ্যকে পুরোপুরি স্বীকার করতে নারাজ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান।

তিনি বলেন, ‘জিএফআই পাচারের যে তথ্য দেয় তা পুরোপুরি সত্য নয়। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রেটি বা জিএফআই অর্থ পাচারের যে তথ্য দেয় তা যে পুরোপুরি সত্য, তা আমরা স্বীকার করি না।’

জিএফআই এর প্রতিবেদন অনুসারে, টাকার অংকের দিক দিয়ে ২০১৫ সালে অর্থপাচারে শীর্ষ ৩০ দেশের একটি ছিল বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। জিএফআই বলছে, টাকা পাচারের এ প্রবণতা টেকসই উন্নয়নের বড় বাধা।

জিএফআই’র হিসাবে, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩০৯ কোটি ডলার বা ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট বাজেট ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এই অর্থবছরের মোট বাজেটের চেয়েও বেশি টাকা ১০ বছরে পাচার হয়েছে।

জিএফআই বলছে, এটি আনুমানিক হিসাব। প্রকৃত পাচারের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। পাচারের পাশাপাশি, ২০১৫ সালে অবৈধভাবে দেশে ২৮০ কোটি ডলার আসার তথ্যও দিয়েছে জিএফআই।

এর আগে গত জুনে প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৭’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জমানো অর্থের পরিমাণ কমেছে। সুইস ব্যাংকে ২০১৭ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জমার পরিমাণ ছিল ৪৮ কোটি ১৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা (১ সুইস ফ্রাঁ = সাড়ে ৮৪ টাকা হিসাবে)। আগের বছর ২০১৬ সালে এর পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ (৫ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা)। সুইস ব্যাংকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জমার পরিমাণ ছিল ৫৫ কোটি ৮ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

উৎসঃ ‌গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি

আরও পড়ুনঃ ৩০ ডিসেম্বরের কলঙ্কিত নির্বাচন নিয়ে টকশোতে বোমা ফাটালেন ড. আসিফ নজরুল (ভিডিওসহ)


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সরণকালের সেরা বিতর্কিত নির্বাচন বলে মনে করেন ড. আসিফ নজরুল। বিভিন্ন বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানকে ভিসা না দেয়া অনেক প্রতিষ্ঠানকে পর্যবেক্ষক থেকে বাদ দেয়াসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে ইনডিপেনডেন্ট টিভির টকশো আজকের বাংলাদেশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে সম্পূর্ণরুপে আন অবজার্ভ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টিভি।

নির্বাচনে অনিয়ম, বিএনপিকে রাস্তায় দাঁড়াতে না দেয়া, হাজার হাজার গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি, আওয়ামী সন্ত্রাসিদের ধারাবাহিক আক্রমন, প্রচারে বাধা ইত্যাদি কারণে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আজ্ঞাবহ, সরকারের কথামতো চলেছে, বিএনপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও কোন ব্যবস্থা না নেয়া, প্রশাসন সরকারের নিয়ন্ত্রনে থাকা অবস্থায় সুষ্ঠ নির্বাচন করা অসম্ভব, এবং সেটিই হয়েছে।

ভিডিওঃ  ‘কলঙ্কিত নির্বাচন নিয়ে বোমা ফাটালেন ড. আসিফ নজরুল’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ধর্ষিতা নারীর সাথে তুলনা করেছেন ড.আসিফ নজরুল। তিনি বলেন যে, ধর্ষণের বিচার দাবি বা ধর্ষকের শাস্তি দাবি না করে ধর্ষিতা নারীর কাপড় কত বড় ছিলো বা ছোট ছিলো সেটা নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তোলে একইভাবে কলঙ্কিত নির্বাচন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে কেউ কথা না বলে তারা বিএনপি নির্বাচনে প্রচার প্রচারণা নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলে।

এবারের নির্বাচনকে বিশিষ্টজনেরা ঠিকই কলঙ্কিত নির্বাচন বলে ধিক্কার জানাচ্ছে। এখন কি আওয়ামী পরিবারের লোকজনও যারা বিএনপিকে অপছন্দ করে তারাও বলছে যে এমন কলঙ্কিত নির্বাচন তারা এর আগে কখনও দেখে নি।

তিনি বলেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সাধারণ বিষয় অথচ সরকার অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাকে অনুমোদন দেয়নি, আবার অনুমোদন দিলেও সময় মতো ভিসা দেয়া হয়নি এতে তারা তাদের প্রোগ্রাম বাতিল করেছে। এদিকে নির্বাচনে এমনভাবে ভোট কাটা হয়েছে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি, রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা, পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়াসহ বিভিন্নভাবে বিএনপি কর্মিদের হয়রানি করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ৫৮ টি অনলাইন চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে, সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বিধি নিষেধ আরোপ করে নির্বাচনের অনিয়ম প্রকাশ না করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

কোনো কোনো কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পরেছে এবং শতভাগ ভোটই আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছে, এটা হতে পারে? এ নির্বাচনে জনগণ অংশ গ্রহণ করেনি। তার দাবি যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারে না সে নির্বাচন বৈধ হতে পারে না। আর যে সরকার অবৈধ, সংসদ অবৈধ সেই সংসদের কাছে জনগণের কোন আশা থাকতে পারে না।

উৎসঃ ‌amadershomoy

আরও পড়ুনঃ টিআইবির দুর্নীতির রিপোর্ট বিএনপি আমলে সঠিক ছিল, এখন মনগড়া : তথ্যমন্ত্রী


দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের দুর্নীতি বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় ২০১৮ সালে অবনতি হয়েছে ছয় ধাপ। এই কথা মানতে রাজি নন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির আমলে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। ওই সময় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) দুর্নীতির সূচক নিয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, তা সঠিক ও যথার্থ ছিল।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমানে দেশে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। কাজেই টিআইবির এখনকার প্রতিবেদনগুলো মনগড়া। আমরা এগুলো প্রত্যাখ্যান করছি।’

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবার প্রকাশিত রিপোর্টে ২০১৮ সালে দুর্নীতির ধারণা সূচকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তালিকার নিম্নক্রম অনুযায়ী ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১৩তম। যা ২০১৭ সালের তুলনায় চার ধাপ নিচে এবং ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী ১৪৯তম; যা ২০১৭ সালের তুলনায় ছয় ধাপ অবনতি হয়েছে। ওই বছর এ ক্রমমান ছিল ১৪৩তম।’ তিনি বলেন, ‘১০০-এর মধ্যে ৪৩ স্কোরকে গড় স্কোর হিসেবে বিবেচনায় বাংলাদেশের ২০১৮ সালের স্কোর ২৬ হয়েছে। এই হিসেবে বলা যায়, দুর্নীতির ব্যাপকতা এখনো উদ্বেগজনক।’

টিআইবির এ প্রতিবেদনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘টিআইবি মূলত বিরোধী দলের হাতে একটি অস্ত্র তুলে দেওয়ার জন্য মনগড়া এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাদের এ প্রতিবেদন প্রকাশের পদ্ধতি নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। তাদের নিজেরাই ট্রান্সপারেন্ট নয়। তারা মূলত বিদেশি ফান্ডের জন্যই এগুলো করে থাকে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ যখন দুর্নীতিমুক্ত হয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে এগিয়ে যাচ্ছে, সারা বিশ্ব বাংলাদেশের প্রশংসা করছে, তখন টিআইবির এ প্রতিবেদন জাতিকে হতবাক করেছে। টিআইবির এ প্রতিবেদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ বিরোধী দলের ইস্যু বানানোর জন্যই টিআইবি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলেও দাবি করেন তথ্যমন্ত্রী।

‘বিএনপির আমলেও টিআইবি এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর আপনারা তা লুফে নিয়ে দুর্নীতিবরোধী আন্দোলন করেছেন এবং সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। আপনাদের দৃষ্টিতে ওই সময়ের প্রতিবেদন সঠিক হলে এখনকারগুলোকে আপনারা প্রত্যাখ্যান করছেন কেন?’

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিএনপির আমলে দুর্নীতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ওই সময় দুর্নীতি হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানও কালো টাকা সাদা করেছেন। ওই সময়ের দুর্নীতি ছিল সর্বজনস্বীকৃত। বর্তমানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি দমনে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বের সৎ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রমাণ হয়নি। কাজেই টিআইবি এখন দুর্নীতির সূচক নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here